বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একেভাবে স্পষ্ট করেন যে, তারা কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধের পক্ষে নয়। তিনি বলেন, দলের পক্ষ থেকে তাদের অবস্থান এমনই যে, যদি কোনো রাজনৈতিক দল গণহত্যা বা দেশের সংবিধানের ভিত্তিকে নষ্ট করার মতো জঘন্য কাজে জড়িত থাকে, তাহলে অবশ্যই তাদের বিচার করতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দণ্ডও প্রয়োগ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। ম্যাগাজিনে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বর্তমানে নিজেরাই নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে এবং একটি ফ্যাসিস্ট দলে পরিণত হয়েছে। তাদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা এখন অনেকটাই কমে গেছে। তবে, আওয়ামী লীগের গণহত্যার সঙ্গে জড়িত যারা ইনস্টিটিউশন ধ্বংসে সহায়তা করেছে, তাদের সব বিচার হওয়া উচিত এবং তাদের উপযুক্ত শাস্তি পাওয়াও জরুরি।
ফখরুল আরও বলেন, বিএনপি কোনো রাজনৈতিক দলকে ‘ব্যান’ বা নিষিদ্ধ করতে চায় না। তবে, যদি সেই দল গণহত্যার মতো অমানবিক কাজে জড়িত হয়, দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেঙে দেয় বা দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করে, তাহলে অবশ্যই তাদের বিচার করা হবে। তিনি স্পষ্ট করেন, রাজনৈতিক পার্টি হিসেবে অন্য রাজনীতির সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান, কিন্তু যদি কোনও দল দেশ ও জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে, প্রতারণা করে বা গণহত্যায় জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তাদের শাস্তি নিশ্চিতভাবেই পেতে হবে।
নির্বাচন সম্পর্কেও ফখরুল জানান, ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন হবে, এতে কোন সন্দেহ নেই। তিনি বলেন, জনগণের মধ্যে এখন অকার্যকর আস্থা তৈরি হয়েছে, যা দূর করে নতুন বিশ্বাস সৃষ্টি করতে হবে। সবাইকে সচেষ্ট হওয়া দরকার যেন নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ড. ইউনূসের সঙ্গে সরকারের বৈঠকগুলো ও তার নির্বাচনী সহযোগিতা সম্পর্কেও তিনি জানান, এগুলো দৃষ্টিভঙ্গিরা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সরকার ও সেনাবাহিনী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে, বাংলাদেশে পরিস্থিতি সব সময়ই জটিলতায় ভরা, আর শত্রুরা দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চাচ্ছে।
ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ বিভাজনের রাজনীতি করে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘদিন থেকে, যা সাধারণ মানুষ ও মিডিয়ায় আস্থা কমিয়ে দিয়েছে। তার মতে, এই অবিশ্বাস দূর করতে হবে এবং দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও নেতাদের মধ্যে আস্থা পুনঃস্থাপন করতে হবে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো সেরাটা অর্জনের জন্য বার্গেনিং করে থাকে, যা স্বাভাবিক। দলগুলো আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে নিজেদের দাবিপূরণ করে, এটি অপরাধ নয়। অনেকটা আলোচনার মাধ্যমে বিষয়গুলো সমাধান সম্ভব, এবং বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
সম্প্রতি ড. ইউনূসের সফর ও বক্তব্যে দেখা যায়, তিনি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। তবে, বিএনপি মহাসচিব জানিয়ে দেন, ব্যক্তিগতভাবে কোনও প্রেম বা আলোচনায় তিনি ড. ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি। তিনি আরও বলেন, বিএনপি ও জামায়াতের সম্পর্ক বর্তমানে খারাপ হওয়ার কোনও বিষয় নেই। দলগুলো একসঙ্গে থাকতে পারে, তবে সম্পর্কের ধরণ সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে।
প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সাক্ষাৎকারে অনেকের মনোভাব ও অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে বলে জানান, বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, দল আরেকটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে কোনও অপ্রয়োজনীয় নিষেধাজ্ঞা বা ব্যান্ডিং চায় না। তার মতে, রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনায় সব দলই নিজস্ব নীতিমালা অনুসরণ করে। তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়টি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে; সমস্ত আইনী ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হলে তিনি ফিরে আসবেন। এখন পর্যন্ত, তিনি দেশের আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করছেন।
Author: bangladiganta
-

গণহত্যা ও ইনস্টিটিউশন নষ্টে জড়িতদের বিচার ও দণ্ডের দাবি
-

রিজভীর অভিযোগ: ইসলামপন্থী একটি দল আওয়ামী লীগকে সন্তুষ্ট করতে কাজ করছে
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দেশের একটি ইসলামপন্থী দল আবাহম লীগকে সন্তুষ্ট করার জন্য প্রবল পরিশ্রম করছে। তিনি অভিযোগ করেন, এই দলটি সব সময়ই যেনো আরেকটি উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছে—আওয়ামী লীগকে খুশি রাখার জন্য। রিজভী জানান, এদেশে ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম অনেক সময়ই মূলত আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করে চলে। তিনি বলেন, শহিদ জিয়াউর রহমানের স্বীয় দেওয়া সুযোগ নিয়ে এই দলটি এখনো নানা কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
-

নীলক্ষেত্রে আলোকপাত: অরক্ষিত পরিবেশে ডাকসুর ব্যালট ছাপা, গরমিল ও সংশয়
নিলক্ষেতের একটি অরক্ষিত পরিবেশে বহুল আলোচিত ও সমালোচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ব্যালট পেপার ছাপা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে নিউজ২৪। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই গুরুতর সত্যতা সত্যও। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ব্যালটগুলি গোপনীয় ও উচ্চ মানের ছাপাখানায় তৈরি হয়েছে, যা নীলক্ষেতের নয়। ঘটনার ধারাবাহিকতা ও সংশ্লিষ্টদের জবানবন্দি অনুযায়ী, ডাকসু নির্বাচনের ব্যালট পেপার অকার্যকরভাবে ও অবহেলায় নীলক্ষেতে ছাপানো হয়েছে। এর পাশাপাশি, ছাপানোর সংখ্যা ও সরবরাহের তথ্যে ব্যাপক গরমিল দেখতে পাওয়া গেছে। নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, গাউসুল আজম মার্কেটে এই ব্যালট ছাপানোর কোনো সুযোগ নেই, কারণ সেখানে এমন মেশিন থাকা অসম্ভব। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঢাকার গাজীপুরের একটি প্রেস জালাল প্রেস নামে একই প্রতিষ্ঠানের পরিচিত, যেখানে ব্যালট ছাপার কাজ হয়েছে। প্রেসের মালিক মোঃ জালাল জানান, তিনি নিশ্চিত করেছেন, তার প্রেস থেকে ডাকসু নির্বাচনের ব্যালট ছাপা হয়েছে। তিনি বলছিলেন, দায়িত্বরত কাজের জন্য তার সহকর্মী মোঃ ফেরদৌসকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যারা তিন দিন সময়ে কাজ শেষ করেন। এইভাবে, তিনি বলছেন, তার প্রেসের পরিবেশ ছিল স্বাভাবিক, কোনো অরক্ষিত পরিস্থিতি ছিল না। এদিকে, মোঃ জালালের কাছ থেকে ৪৮,৬০০ পিস ব্যালটের খসড়া নেওয়া হয়েছে, যা দুইটি ব্যালটের প্রতিটি কাগজে ছাপা ছিল মোট ৯৬,০০০ ব্যালট। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভোটার তালিকা অনুযায়ী, মোট ভোটার ছিল ৩৯,৭৭৫ জন এবং ওই ভোটে ৭৮.৩৩% ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। অন্যদিকে, ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় কাটিংকৃত ব্যালটের বিষয়েও অনুসন্ধান চালায় নিউজ২৪। সেই সময়, ‘মাক্কা পেপার কাটিং হাউস’ নামে একটি দোকানে ফেরদৌস ভাই নামে একজন ব্যক্তির মাধ্যমে এই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এই দোকানের কর্মচারীরা জানিয়েছেন, রাতের অন্ধকারে কাগজ কাটার কাজ হয়েছিল। তারা প্রায় ২২ রিম কাগজ কাটেছেন, যার ফলে মোট ব্যালটের সংখ্যা ছিল প্রায় ৮৮,০০০। এরপর, জালাল প্রেস থেকে বলা হয়, তারা ছাপিয়েছে ৯৬,০০০ ব্যালট, যেখানে কাটিং হয়েছে ৮৮,০০০। এতে দেখা যায় দুই দোকানের মধ্যে ৮,০০০টির গরমিল। এই সব রসদ পেয়েও প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব হয়নি, কারণ প্রত্যক্ষভাবে মেশিনের মূল্য ও স্বাভাবিকতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন আঞ্জা কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ব্যালট ছাপানোর জন্য ব্যবহৃত মেশিনের দাম কম নয়, এর মূল্য কমপক্ষে ৫০ থেকে ৭০ লাখের মধ্যে। তবে, জাহিদ হোসেন দাবি করেন, তার ব্যক্তিগত প্রেস থেকে ছাপা হয়েছে ব্যালট, যার সংখ্যা অন্তত এক লাখ পঞ্চাশ হাজার। তিনি জানান, এই কাজ তাদের নিজের সক্ষমতায়, এবং তারা তা সম্পন্ন করেছে কেরানীগঞ্জের একটি প্রেস থেকে। এই তথ্যের ভিত্তিতে গবেষকরা বিশ্লেষণ করছেন, আসল পরিস্থিতি কতটা জটিল ও সংশয়পূর্ণ। মূলত, এই ঘটনাগুলোর সপক্ষে প্রমাণ ও তথ্যের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তদন্ত চালানো হবে, যেন এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
-

পিআর পদ্ধতিতে দুর্বল বা ফ্যাসিস্ট সরকার গঠনের শঙ্কা: সালাহউদ্দিন
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে দেশের জন্য খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এই পদ্ধতিতে যদি একটি সরকার গঠিত হয়, তাহলে সেটি সত্যিই ফ্যাসিস্ট বা দুর্বলভাবে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা সরকার হয়ে উঠতে পারে। এর ফলে দেশ দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা হারাতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তিনি শুক্রবার দুপুরে ঢাকার সুপ্রিম কোর্টের এক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন।
সালাহউদ্দিন প্রকাশ করেছেন, পিআর পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য একদিকে বেশি আসন পাওয়া, অন্যদিকে দেশের মধ্যে অসঙ্গতি এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা, যাতে বেশিরভাগ মানুষের ভোটে নির্বাচিত সরকার না গঠিত হয়। বিশেষ করে, যারা সাধারণত কম জনপ্রিয়, তাদের জন্য এই পদ্ধতি সুবিধাজনক বলে ধারণা করেন তিনি।
অতীতে তিনি বলেন, সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, পদ্ধতি যেকোনো ভোটের জন্য অনুসরণ করা হবে, তা প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে হোক। দেশের সংবিধান অনুযায়ী, সরাসরি ভোটের মাধ্যমে মানুষ তাদের প্রতিনিধিদের নির্বাচন করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জামায়াতের মত দলগুলো সংবিধান পরিবর্তনের নামে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে, তাই এই বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি।
আলোচনায় এক জরিপের তথ্য তুলে ধরে সালাহউদ্দিন জানান, দেশের মোট ৫৬ শতাংশ মানুষ পিআর পদ্ধতি সম্পর্কে ভিন্ন ধরনের ধারণা রাখে। তবে, জামায়াত ইসলামী বলছে, ৭০ শতাংশ মানুষ এই পদ্ধতিটি চায়। এইসব বিভ্রান্তিকর যুক্তি দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব নয়, বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
-

চট্টগ্রামে জুলাই হত্যাকাণ্ডে প্রথম চার্জশিট গ্রহণ, ২৩১ আসামির বিচার শুরু
চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় নিহত শহীদুল ইসলাম শহীদ হত্যার মামলায় আদালত প্রথমবারের মতো ২৩১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন। এই তালিকায় সাবেক তিন মন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা রয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালেও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফা এই অভিযোগপত্র গ্রহণ করে বিচার কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দেন। পুলিশ থেকে প্রাপ্ত অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, শহীদুল ইসলাম শহীদ হত্যা মামলার বাদী শফিকুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তা কর্তৃক দাখিলিত চার্জশিটে ২৩১ জনের নাম রয়েছে। এর মধ্যে ৮৪ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
১৬ আগস্ট ২০২৪ সালের সন্ধ্যায় নগরীর বহদ্দারহাটে অনুষ্ঠিত ওই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়। আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে পিস্তল, শটগানসহ বিভিন্ন বন্দুক দিয়ে গুলি ছোড়া হয়, যার ফলে মৃত্যু হয় শহীদুল ইসলাম শহীদ নামে এক যুবকের। গুরুতর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন থেকে তিনি মারা যান। নিহতের ভাই শফিকুল ইসলাম চান্দগাঁও থানায় এই হত্যাকাণ্ডের জন্য মামলা করেন।
অভিযুক্তরা মধ্যে সাবেক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী ও আ জ ম নাছির উদ্দিন, সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, এম এ লতিফ, আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী, মহিউদ্দিন বাচ্চু, আব্দুস ছালাম, দিদারুল আলম দিদার, এস এম আল মামুনসহ চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা রয়েছেন। মূল তদন্তে যুক্ত আরও অনেক জনপ্রতিনিধি, নেতাকর্মী ও অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা এই মামলার মূল আসামি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
-

সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদের অর্থ পাচার, দুই সহযোগী গ্রেফতার
আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অর্থ পাচারের অভিযোগে দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃংখলা বাহিনী। দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন সম্পদ সাবেক এই মন্ত্রীর হাতে থাকার সন্দেহে এ ঘটনায় তাঁদেরকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করা হয়।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগর স্পেশাল জজ আদালত (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আবদুর রহমান এই গ্রেফতার নির্দেশ দেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের ভিত্তিতে। আদালত জানায়, এজেন্ট হিসেবে কাজ করা আরামিট পিএলসির এজিএম উৎপল পাল ও আরও একজনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের এই মামলা দায়ের হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতাররা হলো, ইম্পেরিয়াল ট্রেডিং নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক মোঃ আব্দুল আজিজ, যিনি সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন। অন্যদিকে, উৎপল পাল সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিদেশের সম্পদ ও অর্থের দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা দু’টি ল্যাপটপ ও দু’টি মোবাইলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
অভিযোগের তথ্য মতে, ১৭ সেপ্টেম্বর উৎপল ও আব্দুল আজিজকে গ্রেফতার করা হয়। পর দিন, ১৮ সেপ্টেম্বর, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল তাঁদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর, গত সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর, এই দুজন আসামি ২৫ কোটি টাকা অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে জবানবন্দি দেন, যেখানে তারা টাকা পাচারের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
এই ব্যাপারে দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর এড. মোকাররম হোসাইন জানিয়েছেন, সাবেক এই ভূমিমন্ত্রীসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচার ও অপ্রত্যাশিত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বেশ কিছু মামলা হয়েছে। বর্তমান তদন্তে তাদের সংশ্লিষ্টতা আরও স্পষ্ট হওয়ার আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।
-

নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আখতার হোসেনের মামলা
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ডিম নিক্ষেপের ঘটনায় বাংলাদেশী যুবসমাজের এক নেতা ও এনসিপি সদস্য সচিব আখতার হোসেন ঐ ঘটনায় দায়ের করেছেন একটি মামলা। বুধবার বাংলাদেশের সময় বেলা ১১টায় তিনি নিউইয়র্কের জ্যোথ এফ কেনেডি বিমানবন্দরের সংলগ্ন থানায় এই মামলা করেন। তার এ ঘোষণা তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও বার্তায় দেন।
ভিডিওতে আখতার হোসেন বলছেন, ‘এয়ারপোর্টে হামলার পর রাতের আঁধারে আবারও আওয়ামী লীগের স্থানীয় সন্ত্রাসীরা হোটেলের লবিতে উপস্থিত হয় ভয়ঙ্কর হামলার উদ্দেশ্যে। তখনই যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এনসিপি সদস্যরা ও আমি তাদের প্রতিরোধ করি এবং সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত পুলিশকে খবর দিই। পরে পুলিশ এসে আমাদের জানান যে, আমাদের মামলা নিতে পারেন। আমি সেই সূত্রে কাছের থানায় গিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেছি।’ তিনি আরো জানান, ‘সেদিন যারা আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে হত্যার চেষ্টা ও হুমকি দিয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধেও আমরা কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
আখতার হোসেন দাবি করেছেন, তিনি সচেতনভাবে মার্কিন পুলিশকে জানান, এই অপরাধকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বাংলাদেশে নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকা সন্ত্রাসীদের। তারা গত বছর বাংলাদেশে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ চালিয়েছে বলে তিনি তুলে ধরেন। জাতিসংঘের রিপোর্টের প্রসঙ্গেও তিনি মার্কিন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন।
তিনি দৃঢ় প্রত্যয় প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি যে, বাংলাদেশে কিংবা বিদেশে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের অপরাধগুলো আইনের আওতায় আন institutionalize করা সম্ভব। তারা যতই অপরাধ করুক, আমরা তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেব। আওয়ামী লীগ যেনো আর কখনো দেশে বা দেশের বাইরে সন্ত্রাসের জন্য সুযোগ পায় না, সেটিই আমাদের অঙ্গীকার।’
-

খুলনায় দিনমজুর নারী সুপ্তির গলা কাটা লাশ উদ্ধার, চারজন গ্রেফতার
খুলনায় দিনমজুর নারী মনোয়ারা বেগম সুপ্তির মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করেছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কেডিএ ময়ূরী আবাসিক এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনের বাথরুম থেকে তার পচা লাশ পাওয়া যায়। এই ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করেছে। নিহত নারী ডুমুরিয়া উপজেলার শোভনা ইউনিয়নের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে মোস্তার মোড়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন ইউসুফ, হুমায়ুন কবির, জয়হীরা এবং শিল্পী। স্থানীয়রা জানায়, মাদক ও বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ইউসুফকে ধরতে মঙ্গলবার পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় ইউসুফের বাড়ির পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনের বাথরুম থেকে দুর্গন্ধ বের হতে দেখা যায়। সন্দেহ হলে পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে সুপ্তির মরদেহ উদ্ধার করে। এরপরই অভিযানের মাধ্যমে প্রথমে ইউসুফ এবং পরে অন্যদের গ্রেফতার করা হয়। হরিণটানা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তৌহিদুর রহমান বলেন, মাদক ব্যবসায়ী ইউসুফকে গ্রেফতারের সময় ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকারোক্তি দেয়। নিহত নারী জীবনযাত্রার সুবিধার জন্য মোস্তার মোড়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। কেন তাকে হত্যা করা হলো, তা এখনও নিশ্চিত নয়, তবে ধারণ করা হচ্ছে টাকা বা ধর্ষণকে বাধা দেওয়ায় তাঁর ওপর আঘাত হানা হতে পারে। নিহতের ছেলে শাহ জামাল সর্দার সজল এই ঘটনায় থানায় মামলা করেছেন। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে শিল্পী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে পারেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। অন্যদের রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আবেদনও প্রক্রিয়াধীন।
-

খুলনায় ট্রেনের ধাক্কায় শিক্ষার্থী শাকিলের মৃত্যু
খুলনায় ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে খুলনা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের পাওয়ার বিভাগের একজন শিক্ষার্থী মারা গেছেন। এই tragédieটি ঘটে গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় জংশন রেলওয়ে স্টেশনে। নিহতের নাম শাকিল, তিনি দিনাজপুরের বাসিন্দা রফিকুল ইসলামের ছেলে এবং নগরীর বৈকালী এলাকার একটি মেসে থাকতেন।
দৌলতপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আজাদ রহমান জানিয়েছেন, বুধবার সন্ধ্যার ঠিক সময় বেতনা কমিউটার ট্রেনটি বেনাপোল থেকে খুলনার দিকে আসছিল। তখন শাকিল রেললাইনের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ ট্রেনের ধাক্কায় তিনি ছিটকে পড়েন এবং মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।
খবর পেয়ে জংশন স্টেশনের স্টেশন মাস্টার পুলিশকে অবগত করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর পর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই দুর্ঘটনা নিহতের পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে।
-

টাইফয়েডের প্রতিরোধে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা প্রয়োজন: ফিরোজ সরকার
বাংলাদেশ সরকার সম্প্রসারিত টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় শিশুদের টাইফয়েড থেকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে আগামী ১২ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী এক বিশাল ক্যাম্পেইন শুরু হবে। খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকাতেও এ অভিযানের সফলতা নিশ্চিত করতে গত বুধবার দুপুরে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের সভাকক্ষে এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ ফিরোজ সরকার।
সভায় বলা হয়, টাইফয়েড একটি স্পর্শকাতর ও প্রতিরোধযোগ্য রোগ। বর্তমান পরিস্থিতিতে এ রোগের বিরুদ্ধে আমাদের সচেতনতা বাড়ানো ও টিকাদানের ব্যাপারে তৃণমূল পর্যায়ে মানুষকে গভীরভাবে অবহিত করা জরুরি। অন্যতম লক্ষ্য হলো, সাধারণ মানুষ যাতে দ্রুত এবং সহজে এই টিকা গ্রহণে উৎসাহিত হয়।
কর্মসূচির প্রথম দুই সপ্তাহ (১২-৩০ অক্টোবর) এর মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে, আর পরের দুই সপ্তাহ (১-১৩ নভেম্বর) এ কমিউনিটিতেও নিয়মিতভাবে এই টিকা প্রদান চালু থাকবে। ক্যাম্পেইনের আওতায় মূলত নয় মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী সব শিশু বাসিন্দাদের এক ডোজ টাইফয়েডের টিকা দেওয়া হবে। এই টিকা জন্য অনলাইনে নিবন্ধন করতে হবে, যেখানে জন্মনিবন্ধন সনদের ১৭ ডিজিটের তথ্য ব্যবহার করতে হবে। www.vaxepi.gov.bd এই ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। উল্লেখ্য, টাইফয়েডের এই টিকা হালাল সনদপ্রাপ্ত।
সমন্বয় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শরীফ আসিফ রহমান, কেএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার আব্দুল্লাহ-আল-মাসুম, কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শরীফ শাম্মীউল ইসলামসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা, স্কুলের শিক্ষক ও কমিটির সদস্যরা। সভায় উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুর রহমান সজিব একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে টিকাদান কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন। এ অভিযানটি যাতে পর্যাপ্ত ও কার্যকরভাবে পরিচালিত হয়, সে জন্য সূক্ষ্ম সমন্বয় ও দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মোট মিলিয়ে, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের শিশুদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা রোগের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরক্ষা জোরদার করবে।