Author: bangladiganta

  • সরকার চুপিসারে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে চায়: রেজাউল করীম

    সরকার চুপিসারে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে চায়: রেজাউল করীম

    অন্তর্র্বর্তী সরকার বিএনপিকে গোপনে ক্ষমতায় বসানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। তিনি শুক্রবার ঢাকা রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের এক সমাবেশে এ কথা বলেন।

    রেজাউল করীম বলেন, ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার পাশাপাশি শ্রমিকরাও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে। তিনি আরও জানান, এই অভ্যুত্থানের ফলে দেশে ইসলামপন্থিদের ক্ষমতায় যাওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, ৫৪ বছর ধরে চলে আসা নির্বাচনী অপসংস্কৃতি বন্ধ করতে হলে আগামীতে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। সাধারণ জনগণ বর্তমানে সরকারের এই স্ববিরোধী ধারা কঠোরভাবে সমালোচনা করছে। রেজাউল করীম আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার চুপিসারে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানোর চক্রান্ত করছে। তবে জনগণ এ ধরনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক এবং এগিয়ে এসে তা প্রতিরোধ করবে।

    এছাড়াও, সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির সৈয়দ ফয়জুল করীম বলেন, সমাজে এক শ্রেণির অতি ধনী হবে এবং অন্য দলটি গাছতলায় বসবাস করবে—এটাই কেউ চায় না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইসলামের পক্ষের শক্তি বনাম ইসলামের বিপক্ষের শক্তির মধ্যে সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • নির্বাচন না হলে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হতে পারে: দুদু

    নির্বাচন না হলে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হতে পারে: দুদু

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে, যদি এই সময়ে নির্বাচনে না দেখা যায়, তাহলে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জাতীয়তাবাদী নাগরিক পরিষদের চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উৎসবে তিনি এ কথা বলেন।

    শামসুজ্জামান দুদু বলেন, বিএনপি, জামায়াতসহ সব রাজনৈতিক দল তাদের নিজ নিজ অবস্থান তুলে ধরবে। তবে, এক বিষয়ের প্রতি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, তা হলো জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা। বর্তমান সময়ে মানুষ তিনটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি; তাদের ভোটের অধিকার অনেকটাই কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং প্রত্যেকবারই ভোটের নামে তামাশা দেখানো হয়েছে। তাই, আসন্ন নির্বাচনটি স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও অবাধ হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

    ভারতের ভূমিকা সমালোচনা করে বিএনপি’র এই নেতা বলেন, ভারতের কখনোই গণতন্ত্রের বা স্বাধীনতার পক্ষে নয়। তারা নিজের স্বার্থের জন্য সবসময় বাংলাদেশকে ব্যবহার করে এসেছে। দেশের মানুষকে তারা শোষণের ক্ষেত্র হিসেবে দেখে। পাশাপাশি, তারা প্রচার চালাচ্ছে যে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। অনেক হিন্দু নাগরিকই নিজস্ব সংবাদ সম্মেলন করে বলছেন, ভারতের এই অভিযোগের সত্যতা নেই। এজন্য আমাদের অবশ্যই সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে।

    শামসুজ্জামান দুদু জানান, দেশবিরোধী শক্তি এবং পার্শ্ববর্তী দেশের এক ভয়ঙ্কর প্রভাবশালী গোষ্ঠী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে, যেখানে শেখ হাসিনা আশ্রয় নিচ্ছেন। তাঁর মতে, বাংলাদেশ যেভাবে চলার কথা, সেটি হলো তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করা। তবে, সেটি এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। সরকার ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকলেও, আমরা বিশ্বাস করি, এই ফেব্রুয়ারি নাগাদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অন্যথায়, বাংলাদেশে বিরোধী ষড়যন্ত্র জোরদার হচ্ছে, যেখানে পরস্পরশক্তি কাজে লাগাচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশের এক ভয়ঙ্কর শক্তি; যেখানে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনাও আশ্রয় খুঁজে নিচ্ছেন।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী নাগরিক পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ মাইনুল ইসলাম তালুকদার (বাদল)। এ ছাড়া আরও বক্তব্য দেন বিএনপি’র চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, তাঁতি দলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক ড. কাজী মনিরুজ্জামান (মনির), দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, তাঁতি দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক এড. মোঃ মজিবুর রহমান টোটন প্রমুখ।

  • তারেক রহমানের আশ্বাস: প্রতিটি কন্যাশিশুর স্বপ্নের পাশে থাকবে রাষ্ট্র

    তারেক রহমানের আশ্বাস: প্রতিটি কন্যাশিশুর স্বপ্নের পাশে থাকবে রাষ্ট্র

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, প্রতিটি কন্যাশিশুর স্বপ্নের সঙ্গে থাকবে রাষ্ট্রের সহায়তা, বাধা নয়। শনিবার (১১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, আজ আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসে আমরা আনন্দে উদযাপন করছি সব কন্যাশিশুর স্বপ্ন দেখার, শিখার, নেতৃত্ব দেওয়ার এবং মর্যাদার সঙ্গে জীবন যাপনের অধিকার।

    তারেক রহমান ব্যাখ্যা করেন, একজন বাবার দৃষ্টিকোণে মেয়েদের ক্ষমতায়ন কেবল একটি নীতির বিষয় নয়, এটি ব্যক্তিগত দায়িত্ব ও অঙ্গীকার। তিনি স্বপ্ন দেখেন এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে প্রতিটি মেয়ের জন্য একই স্বাধীনতা, সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে—এমন প্রত্যাশা যা একজন বাবা-মা তার সন্তানদের জন্য চায়।

    তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি সরকার সব সময় মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য ঐতিহ্যবাহী কাজ করে এসেছে, এবং ভবিষ্যতেও সেই উন্নয়ন ধারাবাহিক রাখার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় আমরা দেখেছি, তিনি কেমনভাবে তৈরি পোশাক শিল্পকে শুধু একটি শিল্প হিসেবে নয়, বরং আশার প্রতীক করে তুলেছিলেন। এতে লক্ষ লক্ষ নারী আনুষ্ঠানিক কাজে যোগদান করে অার্জন, সম্মান ও স্বাধীনতা লাভের সুযোগ পান। সেই সময়ের নেতৃত্বে নারী কল্যাণ ও উন্নয়নকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়, যেখানে নারী বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

    তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারের অধীনে মেয়েদের শিক্ষা একটি অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, যা কেবল সুবিধা নয়, বরং সকলের জন্য আবশ্যক। নবম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার ঘোষণা এবং বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মেয়েকে বিদ্যালয়ে রাখতে সহায়তা করে, যার ফলশ্রুতিতে পরিবেশের পরিবর্তন, শক্তিশালী সমাজ তৈরি ও নারীর ক্ষমতায়নের নতুন দিগন্ত উম্মোচন হয়।{

    তারিসহ বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহায়তা প্রকল্পের মাধ্যমে মেয়েদের স্কুলে অংশগ্রহণের পরিমাণ সমান হয় ছেলে মেয়েদের, যা বাল্যবিবাহ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং বিশ্বের স্বীকৃতি পায়। এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, যখন শাসনব্যবস্থা মেয়েদের মর্যাদা ও ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করে, তখন অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়।

    বিএনপি ভবিষ্যৎ নীতিমালায় এ ধরনের ঐতিহ্য ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। এর মাধ্যমে কিছু মৌলিক উদ্যোগ গ্রহণের কথা তুলে ধরেন:

    ১. পরিবারের নারী প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু, যাতে সহায়তা সরাসরি পরিবারের মূল স্তম্ভের হাতে পৌঁছায়।
    2. নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এসএমই ঋণ, ব্যবসায় প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা।
    3. শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্প্রসারণ, যাতে শহর বা গ্রামে থাকা প্রতিটি মেয়ে দক্ষতা অর্জন করে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে।
    4. নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের দলে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, রাজনীতি ও শাসনে তাদের উপস্থিতি বাড়ানো।
    5. মর্যাদা ও স্বাধীনতার সুরক্ষা নিশ্চিত করে মেয়েদের ভয়মুক্ত জীবন গড়ার ব্যবস্থা।
    6. পরিবারের কল্যাণ, স্বাস্থ্য, গ্রামীণ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে নারীর অংশগ্রহণে কেন্দ্রীয় গুরুত্ব দেওয়া।

    শেষে তিনি বলেন, আমরা শূন্য শব্দে বিশ্বাস করি না, বরং বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও অঙ্গীকারের ভিত্তিতে কাজ করি। প্রতিটি কন্যাশিশুর স্বপ্নের সঙ্গে দেশের রাষ্ট্রের অংশীদারিত্ব থাকবে, বাধা হয়ে না।

  • আমাদের নয়, সেফ এক্সিট দরকার এই রাষ্ট্রকাঠামোর: আসিফ নজরুল

    আমাদের নয়, সেফ এক্সিট দরকার এই রাষ্ট্রকাঠামোর: আসিফ নজরুল

    সেফ এক্সিট নিয়ে চলমান আলোচনা ও বিতর্কের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে আইন ও সাংবিধানিক সংশ্লিষ্টতা ব্যক্ত করে ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, উপদেষ্টা বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য কোনো সেফ এক্সিটের প্রয়োজন নয়। বরং আমাদের উচিত এই ভয়াবহ, অবিচারপূর্ণ এবং আত্মতাছে নির্মম রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া।শনিবার (১১ অক্টোবর) ঢাকা শহরের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের অধ্যাদেশ–২০২৫ বিষয়ক এক বিশেষ পরামর্শ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এই সভায় দেশের শীর্ষমানের আইনবিদ, সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টা, এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।ড. আসিফ নজরুল বলেন, বর্তমানে ‘সেফ এক্সিট’ শব্দটি প্রচুর আলোচনায় উঠছে। কিন্তু আমি স্পষ্ট করতে চাই—আমরা যারা এই কর্মের সঙ্গে জড়িত, তারা কেউই এই ধরনের সেফ এক্সিটের প্রয়োজন মনে করছি না। আমরা নিশ্চিত যে, আমরা কেউ কোনো অপরাধ করেছি না।তবে তিনি মনে করেন, যেসব রাষ্ট্রমাত্র কয়েক দশক ধরে দুঃশাসন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, ব্যাংক থেকে টাকা চুরি, এবং সাধারণ মানুষের সম্পদ লুটের অপকর্মে লিপ্ত, সেই রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে আমাদের মুক্তি দরকার।তার মতে, গত ৫৫ বছরে যা কিছু দেখার, তা অত্যন্ত ভয়াবহ। মানুষকে বিচারবিহীন হত্যা, দুর্নীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন করা, এবং রাষ্ট্রীয় দুর্নীতির কারণে দেশের দশা ভয়ঙ্কর। এই অসুস্থ রাষ্ট্র কাঠামো থেকে জাতির নিরাপদ সেফ এক্সিট দাবি করছেন তিনি।সভায় আরও বক্তব্য দেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত, শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, পরিবেশ ও পানি সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এবং সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। তাঁরা সবাই মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ–২০২৫ নিয়ে নিজেদের মতামত পেশ করেন এবং মানবাধিকার সংরক্ষণে কার্যকর কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বআরোপ করেন। এছাড়াও, এই সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা, যারা বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ঠিকঠাকভাবে উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান করবেন।

  • ইসরায়েলি সেনারা বাংলাদেশি পাসপোর্ট মাটিতে ছুড়ে ফেলেছে: শহিদুল আলম

    ইসরায়েলি সেনারা বাংলাদেশি পাসপোর্ট মাটিতে ছুড়ে ফেলেছে: শহিদুল আলম

    আন্তর্জাতিক ফ্লোটিলা অভিযানে গাজার মানুষের দুর্ভোগ তুলে ধরতে গিয়ে গ্রেফতার হন আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। ফিরে এসে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ইসরায়েলি সেনারা তার সাথে অমানবিক আচরণ করেছে এবং তার জাতীয় পরিচয়পত্র অপমানের সঙ্গে মাটিতে ছুড়ে ফেলেছে।

    শহিদুল আলম গণমাধ্যমকে জানান, যখন তারা তাকে আটক করে, তখন তাদের লক্ষ্য ছিল তার পাসপোর্ট। তারা ক্ষিপ্ত হয়ে সেটি দেখে এবং সেটি অপমানজনকভাবে মাটিতে ফেলে দেয়। তিনি বলেন, ‘আমার পাসপোর্ট দেখে তারা খুব ক্ষেপে গিয়েছিল আর এরপর তা এভাবে মাটিতে ফেলে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

    তিনি আরও বলেন, ‘গাজা এখনো মুক্ত হয়নি। গাজার মানুষ আজও ইসরায়েলীর আক্রমণের শিকার। তাদের উপর বর্তমানে নির্যাতন চলছে। এই নির্যাতন বন্ধ না হলে আমাদের সংগ্রামও শেষ হবে না।’

    দেশে ফিরে শনিবার (১১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এ কথা বলেছিলেন শহিদুল আলম।

    তিনি বলেন, ‘আজ আমি ফিরে এসেছি, কিন্তু অনেক কেউ যেতে পারেনি। অনেক যোগ্য ব্যক্তিও ছিল जिन्होंने আমাদের সাথে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু আমরা তাদের নিতে পারিনি। আমি দৃঢ়ভাবে বলছি, ভবিষ্যতেও আমরা হাজারো ফ্লোটিলা নিয়ে গাজায় পৌঁছানোর পরিকল্পনা করেছি। যতক্ষণ না পর্যন্ত ফিলিস্তিনের মুক্তি না আসে, আমাদের এই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।’

    শহিদুল আলম বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসাই তাকে ফিরিয়ে এনেছে। পাশাপাশি, তুরস্কের সরকার এবং তাদের এয়ারলাইন্সের সহযোগিতাই তার ফিরে আসার সুযোগ করে দিয়েছে—এ জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

    তিনি আরও বলেন, বিপদজনক পরিস্থিতিতে কী ধরনের বাধার মুখে পড়েছেন, তা জানতে চাইলে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে থাকা ফ্লোটিলাটি ছিল সবচেয়ে বড়। এটি মূলত সংবাদকর্মী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বরাদ্দ ছিল। কারণ, ইসরায়েলি আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে এই দুই দল ছিল। তাই, তাদের নিরাপত্তার জন্য এই বড় ফ্লোটিলা প্রস্তুত করা হয়েছিল।’

    শহিদুল আলম উল্লেখ করেন, ‘আমার শরীরের ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছে, তার চেয়েও বেশি কষ্টের ছিল যখন আমাদের দেশের পাসপোর্ট মাটিতে ছুঁড়ে ফেলেছিল। এই অপমানের যথাযথ বিচার আমাদের একান্তই চাই। যেন কেউ এইভাবে আমাদের অপমান করে যেতে না পারে, এ জন্য আমাদের সচেতন হতে হবে।’

    শুক্রবার রাত ৪টা ৫৫ মিনিটে, টার্কিশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এর আগে, শুক্রবার বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় ৫টা ২৫ মিনিট) তার বহনকারী ফ্লাইট ইসরায়েল থেকে ইস্তাম্বুলে নামলে, ইস্তাম্বুলে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. মিজানুর রহমান তাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। পরে, সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে আবার টার্কিশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে তিনি ঢাকা উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন।

    গাজায় ইসরায়েলি নৃশংসতাকে রোধের এবং গাজায় ইসরায়েলি নৌ অবরোধ ভাঙার প্রত্যয় নিয়ে গাজা অভিমুখে ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন’ নামক একটি আন্তর্জাতিক আন্দোলন শুরু হয়েছিল। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, ‘থাউজেন্ড ম্যাডলিনস টু গাজার’ নামের আরও আটটি নৌযানও ওই অভিযানে অংশগ্রহণ করেছিল। মোট নয়টি নৌযানের এই দলে বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, চিকিৎসক এবং অধিকারকর্মীরা ছিল।

    অভিযানের সময়, গত বুধবার, ইসরায়েলি সেনারা আক্রমণ করে সব অধিকারকর্মী ও নাবিককে আটক করে। পরে অনেককে, সহ শহিদুল আলমসহ, ইসরায়েলের কাঠগড়ার কেফজিয়েত কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনার পর থেকে তিনি এবং অন্যান্য আটক ব্যক্তিদের মুক্তির জন্য বাংলাদেশের সরকার দীর্ঘ দিন থেকে জেনের, মিসর ও তুরস্কের মাধ্যমে কূটনৈতিক প্রয়াস চালিয়ে আসছে।

    আটক শেষে, শহিদুল আলম মুক্তি লাভ করে, এবং তিনি ইসরায়েল থেকে তুরস্কের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। তার মুক্তি ও ফেরার জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

  • সিইসি বললেন, ‘আইনের শাসন কাকে বলে—আগামী নির্বাচনে দেখাতে চাই’

    সিইসি বললেন, ‘আইনের শাসন কাকে বলে—আগামী নির্বাচনে দেখাতে চাই’

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ. এম. এম. নাসির উদ্দিন বলেছেন, এবারের নির্বাচনে তিনি स्पष्टভাবে দেখাতে চান কি সত্যিকার অর্থে আইনের শাসন কাকে বলে। তিনি জানান, নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা ও ন্যায্যতা বজায় রেখে সবাই মিলে একটি সুন্দর, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে চান, ইনশাআল্লাহ।

    শনিবার (১১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় চট্টগ্রামে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচন প্রক্রিয়া বিষয়ক এক কর্মশালায় এ মন্তব্য করেন তিনি। সিইসি বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য হলো একটি স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করা। এর জন্য প্রশিক্ষিত, দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু এমনভাবে তৈরি করতে হবে যা বিভিন্ন পেশার মানুষ, যারা আগে ভোটদানে অভিজ্ঞ নন, তাদের দক্ষ করে তুলবে। সাধারণ ‘ওয়ান সাইজ ফিটস অল’ পদ্ধতির পরিবর্তে, পটভূমি বিবেচনায় বিভিন্ন প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরি করতে হবে।

    সিইসি বলেন, ভোট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসারই কেন্দ্রের ‘চিফ ইলেকশন অফিসার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। আইন অনুযায়ী, সব ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগের দায়িত্ব তারই হবে। প্রয়োজনে ভোট কেন্দ্র বন্ধ করতে বা আইন প্রয়োগ করতে নির্দেশ দিতে পারেন তিনি, তবে যেন সব সময় নিরপেক্ষতা বজায় থাকে সেটাই মূল লক্ষ্য।

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনের মূল চ্যালেঞ্জ হলো নিরাপত্তা। প্রশাসনিক, আইনগত ও প্রযুক্তিগত নানা বাধা থাকলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য তিনি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।

    সিইসি জানান, নির্বাচন কমিশন একটি ‘সেন্ট্রাল কো-অর্ডিনেশন সেল’ ও ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স ইউনিট’ গঠন করছে, যাতে দেশের যেকোনো স্থান থেকে দ্রুত যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়। তিনি বলেন, সফল নির্বাচন পরিচালনার মূল চাবিকাঠি হলো কার্যকর সমন্বয়; প্রিসাইডিং অফিসার, রিটার্নিং অফিসার, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সম্মিলিত কাজই নির্বাচনকে সুন্দর ও সফল করে তুলবে।

    তিনি আরও জানান, ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়া তথ্য ও এআই-ভিত্তিক অপপ্রচারের মোকাবিলার জন্য নির্বাচন কমিশন একটি বিশেষ সেল গঠন করেছে। তবে এ নিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এখনো যথেষ্ট প্রচার হয়নি বলে স্বীকার করেন।

    সিইসি অনুষ্ঠানে শেষ করে বলেন, নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করবে সবাই আইনের মধ্যে থেকে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। তবে ক্ষমতা প্রয়োগে গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলার জন্য কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি অবশেষে বলেন, এটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য যেন আমরা সত্যিকার অর্থে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারি এবং একটি সুন্দর, সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করি।

  • এই বছরে এলপিজি দুর্ঘটনায় ক্ষতি ২০ কোটি টাকার বেশি

    এই বছরে এলপিজি দুর্ঘটনায় ক্ষতি ২০ কোটি টাকার বেশি

    ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডীয় জেনারেল মোহাম্মদ জাহেদ কামাল জানিয়েছেন, চলতি বছর দেশে এলপিজি সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ও গ্যাসজনিত অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা হয়েছে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে, যার সংখ্যা এখন ৫৮০টির বেশি। এসব দুর্ঘটনায় আনুমানিক ২০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও, গ্যাসজনিত অগ্নিকাণ্ডের মোট সংখ্যা প্রায় এক হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৬০০টির কাছাকাছি পৌঁছেছে। শনিবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে এলপিজি: অর্থনীতি, পরিবেশ ও নিরাপত্তা’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।

    ডিজি মোহাম্মদ জাহেদ কামাল আরও জানান, উদ্ধারকাজের মাধ্যমে প্রায় ৯৫ কোটি টাকার সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। তবে এ সময় অনেক ফায়ারফাইটার আহতও হয়েছেন। সম্প্রতি একটি কেমিক্যাল কারখানার দুর্ঘটনায় তিনজন সহকর্মী শাহাদতবরণ করেছেন, যা আমাদের আরও সতর্ক হওয়ার প্রেরণা দিয়েছে।

    তিনি এও বলেন, এলপিজি খাতটি ক্রমশ বিস্তার লাভ করছে এবং এর ব্যবহার ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। তাই নিরাপত্তার বিষয়টি এখনই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার। যেহেতু ব্যবহার বাড়বে, দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়বে, তাই সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলাই একান্ত দরকার।

    ডিজি জানান, ফায়ার সার্ভিস ইতোমধ্যে স্কুলের শিশুদের অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়টি অবগত করার জন্য পাঠ্যপুস্তকে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ক্লাস ওয়ান থেকে ফাইভ পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকে অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ক পাঠ অন্তর্ভুক্ত করতে একটি লেসন প্ল্যান জমা দেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের বইগুলোতে এটি অন্তর্ভুক্ত হবে।

    এছাড়াও, তৈরি পোশাক খাতের মতো অন্যান্য খাতে সমন্বিত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের কারণে আগের তুলনায় অগ্নিদুর্ঘটনা কমেছে। এলপিজি খাতেও বর্তমানে ৫৩৭টি স্টেশনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যা পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পেয়ে ৯৯৭টি স্টেশনে পৌঁছাবে। ব্যবসায়ী ও অপারেটররা সহজেই এই স্টেশনে গিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারবেন।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ এবং অনেকে।

  • র‍্যাবের পিকনিকের গাড়ির সঙ্গে বাসের সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ২২

    র‍্যাবের পিকনিকের গাড়ির সঙ্গে বাসের সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ২২

    পটুয়াখালী সদরে র‍্যাব সদস্যদের পিকনিকের গাড়ি ও যাত্রীবাহী বাসের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন শিশু দুই বছর বয়সী। এছাড়া, এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২২ জন। হতাহত সবাই র‍্যাবের গাড়িতে ছিলেন।

    ঘটনা ঘটেছে আজ শনিবার (১১ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে পটুয়াখালী জেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ফতুল্লার পক্ষিয়া এলাকায়, পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের একটি ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনায়।

    পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক বেলাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, র‍্যাব-৮ এর একটি গাড়ি বরিশাল থেকে কুয়াকাটায় পর্যটনে যাচ্ছিল। অন্যদিকে, কুয়াকাটা থেকে বরিশালগামী ধানসিঁড়ি ক্লাসিক পরিবহনের একটি বাস একই সড়ক দিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসছিল। উভয়ের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই দুই বছর বয়সী এক শিশু নিহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও দুজনের মৃত্যু হয়। এ দুর্ঘটনায় র‍্যাবের সহকারে অন্তত ২২ জন আহত হন। আহতদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, র‍্যাবের গাড়িতে প্রায় ৩০ জন সদস্য ছিলেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা উদ্ধারকাজ চালায় এবং ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

    পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক বেলাল উদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনাস্থল থেকে আমরা ১৩ জনকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছি। সেখানে একজন দুই বছরের শিশুর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

    পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তামান্না রহমান বলেন, দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে ২০-২২ জন আহতকে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি দুই বছরের শিশু নিহত হয়েছে। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালসহ বিভিন্ন হাসাপাতালে পাঠানো হয়েছে।

  • সোনার দামে রেকর্ড, ভরি ২ লাখ টাকার বেশি

    সোনার দামে রেকর্ড, ভরি ২ লাখ টাকার বেশি

    দেশের বাজারে স্বর্ণের মূল্য উর্ধ্বমুখী হয়েই চলেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আবারও স্বর্ণের দাম ঝাঁকুনি খেয়েছে। সোমবার থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হবে।

  • সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.৩৬ শতাংশ

    সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.৩৬ শতাংশ

    সেপ্টেম্বরে দেশের মোট মূল্যস্ফীতি কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়া Light , যেখানে এই হার ছিল আগের মাস আগস্টে ৮.২৯ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সোমবার প্রকাশিত মাসিক ভোক্তা মূল্য সূচকের (সিপিআই) প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এ মাসে দুটোই অর্থাৎ খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ও সরকারের নানা উদ্যোগের পরও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টাগুলো অকার্যকর साबित হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

    সিপিআই অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৩৬ শতাংশ। এর অর্থ, যা পণ্য একবছর আগে যদি ১০০ টাকায় কেনা হতো, তাহলে এখন তা কিনতে গিয়ে লাগছে ১০৮ টাকা ৩৬ পয়সা। এই বৃদ্ধি আগের মাসের তুলনায় বেশিই।

    মূল্যস্ফীতি একটি অর্থনৈতিক করের মতো, যা সাধারণ মানুষের জন্য 부담ের কারণ। ধরা যাক, একজনের মাসিক আয় যদি পুরোপুরি খরচ হয়ে যায় এবং জিনিসপত্রের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়, তবে তাকে ধারদেনা করতে হয় বা খরচ কমাতে হয়। এতে করে জীবনযাত্রার মান কমে যায়। মূল আয়ে যদি মজুরি বা আয় বাড়ে না, তবে সাধারণ মানুষের জীবন আরও কষ্টদায়ক হয়ে উঠে।

    অর্থ বছর ২০২৩-২৪ এর গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ শতাংশের বেশি। চলমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারের লক্ষ্য হলো এই হার ৬.৫ শতাংশের মধ্যে রাখা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ জন্য সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ করেছে।

    বিশ্লেষণে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর মাসে খাদ্যপণ্য ও সেবা সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। খাদ্যবইভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি ৭.৬৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের মাস আগস্টেও ছিল প্রায় একই। পাশাপাশি, খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগস্টে ছিল ৮.৯ শতাংশ।

    বাংলাদেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে এবং এটি এখন দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ। অন্য দেশগুলোর মধ্যে ভারত ২.০৭%, পাকিস্তান ৫.৬%, শ্রীলঙ্কা ১.৫%, নেপাল ১.৬৮%, আফগানিস্তান ২.২%, মালদ্বীপ ৪.৬% এবং ভূটান ৩.৬% হারে মূল্যস্ফীতি নিয়ে এগোচ্ছে।

    বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শহরের তুলনায় গ্রামে জীবনযাত্রার খরচ বেশি। এ মাসে গ্রামাঞ্চলে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.৪৭% এ দাঁড়িয়েছে, যা শহরে ৮.২৮ শতাংশ।

    এডিবি (আঞ্চলিক উন্নয়ন ব্যাংক) পূর্বাভাস দিয়েছে, চলমান অর্থবছরে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের কাছাকাছি থাকতে পারে। তবে এটি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ হার হবে বলে সতর্ক করেছে।

    সামগ্রিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার পথে এগোচ্ছে। তবে বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ কিছু দেশ এখনও খাদ্য ও জ্বালানি খাতে মূল্যস্ফীতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। অন্যদিকে, ভারতে ও শ্রীলঙ্কায় দৃঢ় মুদ্রানীতি ও কার্যকর বাজার তদারকির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে মনে করছে বিশ্লেষকরা।