Author: bangladiganta

  • অফগানিস্তান ঘোষণা করল বাংলাদেশ সিরিজের সূচি

    অফগানিস্তান ঘোষণা করল বাংলাদেশ সিরিজের সূচি

    এশিয়া কাপ ক্রিকেটের এই মৌসুমটি এখন অনেকটাই কাছেঅছে। আগামী মাসেই মাঠে গড়াবে এই প্রতিযোগিতা, যা এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানটি শুরু হবে ৯ সেপ্টেম্বর এবং চলবে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এদিকে, এশিয়া কাপ শেষ হয়ে গেলে বাংলাদেশের ক্রিকেট দল সংযুক্ত আরব আমিরাতেই অবস্থান করবে।

    এখানেই শেষ নয়, এশিয়া কাপের পর সংযুক্ত আরব আমিরাতেই বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান মুখোমুখি হবে সাদা বলের সিরিজে। আজ আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এই সিরিজের সম্পূর্ণ সূচি প্রকাশ করেছে। আফগানিস্তান দল উল্লেখযোগ্যভাবে এই দেশকেই নিজেদের “হোম” হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।

    প্রথমে, আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। এই তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথমটি অনুষ্ঠিত হবে ২ অক্টোবর, এরপর বাকিরা ৩ এবং ৫ অক্টোবর। এরপর, দুই দল ওয়ানডে ফরম্যাটে মুখোমুখি হবে। প্রথম ম্যাচ হবে ৮ অক্টোবর, আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচ হবে যথাক্রমে ১১ এবং ১৪ অক্টোবর।

    আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী নসীব খান এই সূচি ঘোষণা করে বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে এই বহুল প্রত্যাশিত সিরিজের আতিথেয়তা দিতে আমরা গর্বিত। এই সফর আমাদের সহযোগিতার দৃঢ়তা এবং নিরপক্ষ ভেন্যুতেও উচ্চমানের ক্রিকেট উপভোগের সুযোগ সৃষ্টি করবে। দর্শকরা রোমাঞ্চকর ম্যাচ দেখতে পাবেন এবং শীর্ষ স্তরের প্রতিযোগিতা উপভোগ করবেন।’

    অপর দিকে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘সিরিজটি আয়োজনে ও ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে। এই সিরিজের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে ক্রিকেটের বন্ধন আরো দৃঢ় হবে এবং একে অন্যের সঙ্গে ক্রিকেটের সম্পর্ক আরও গাঢ় হবে।’

  • জ্যোতিদের ৪৯ রানে গুঁড়িয়ে আবারো জয় অর্জন অনূর্ধ্ব-১৫ বালক দলের

    জ্যোতিদের ৪৯ রানে গুঁড়িয়ে আবারো জয় অর্জন অনূর্ধ্ব-১৫ বালক দলের

    বাংলাদেশ নারী দল বর্তমানে ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিচ্ছে দুই ভাগে ভাগ হয়ে অনূর্ধ্ব-১৫ দলের সঙ্গে একত্রে তিনটি সিরিজ খেলছে। গত মঙ্গলবার চতুর্থ ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলো অনূর্ধ্ব-১৫ বালক দলের বিরুদ্ধে, যা বিকেএসপিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ম্যাচটি শুরুতে ব্যাট করে বাংলাদেশ নারী লাল দল মাত্র ২০.৪ ওভারে ৪৯ রানেই অলআউট হয়। এর পরে, বালক দল সহজভাবে লক্ষ্যটা অতিক্রম করে সফল হয় আট উইকেটের ব্যবধানে, ফলে জয়টি নিশ্চিত হয়।

    প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বালকদের ওপেনিং জুটি দুর্দান্ত শুরু করেন, ৪৪ রান যোগ করেন। যখন জয় নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন তখনই অল্প রান করতে গিয়ে উইকেট হারায় তারা। ফুয়ারা বেগমের স্পিনে মিড অফে ক্যাচ দিয়ে ২৪ রান করে আউট হন খেয়াল রয় ওম। এরপর ফাইয়াজ খানকে লেগ বিফোর দিয়ে ফাহিমা খাতুন উইকেটের ফাঁদে ফেলেন। ১১.৫ ওভারে ৬ রান করতে সক্ষম ওই ব্যাটার।

    এরপর ওপেনার ইরফান হোসেন আলিফ, ২৮ বলে ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন, যখন দলের জয় নিশ্চিত করেন। তার সাথে থাকেন ফাইয়াজ খান।

    অপরদিকে, বাংলাদেশ নারী দলের নারীরা ব্যাট হাতে শুরুতেই পথে আঘাত হানেন। প্রথম আঘাত আসে মাহিন হোসাইন আলিফের মাধ্যমে, তিন বলে ৪ রান করে মাঠ ছাড়েন ইশমা তানজিম। এরপর সুমাইয়া আক্তার কিছুক্ষণ খেললেও বেশি দূর যেতে পারেননি। শারমিনের সাথে ২৭ রানের জুটির পর আলিমুল ইসলাম আদিব শারমিনকে ২১ বলে ১৮ রান করে আউট করেন। শারমিনের দুর্দান্ত ১৮ রান তাকে ম্যাচের সেরা ব্যাটার করে তোলে।

    অমিত কুমার শারমিনকে ইয়র্কারে বোল্ড করে মাঠের বাইরে পাঠান। সুবর্ণা রানের খাতায় কিছুই যোগ করতে পারেননি, কল্যাণে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। দলের নেতৃত্বে থাকা নিগার সুলতানা জ্যোতি ১৪ বলে মাত্র ১ রান করেন এবং আদিবের শিকার হন। এছাড়া রিতুমনিও বোল্ড হন, ফাহিমারও ব্যাটিং করার সুযোগ হয় না। শেষ পর্যন্ত, লাল দল মোট ৫ উইকেট হারিয়ে ৪৪ রান যোগ করে, সিরিজে তাদের প্রথম বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয়। এর আগে, ওই দলের আগের ম্যাচে নারী লাল দল অলআউট হয় ৯২ রানে।

  • ভারতের তারকা ব্যাটার চেতেশ্বর পূজারা অবসরের ঘোষণা দিলেন

    ভারতের তারকা ব্যাটার চেতেশ্বর পূজারা অবসরের ঘোষণা দিলেন

    ভারতের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চেতেশ্বর পূজারা এক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার ছিলেন। ধৈর্য, দৃঢ়তা এবং অটল মানসিক শক্তির মাধ্যমে তিনি নিজস্ব একটি পরিচিতি তৈরি করেছিলেন। অবশেষে, তিনি অবসরের ঘোষণা দেন, জানিয়ে থাকেন যে তিনি আর কখনো ভারতের জার্সি পরে মাঠে নামবেন না।

    ২০২৩ সালের জুনে ওভালে অস্ট্রেলিয়াদের বিপক্ষে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালই ছিল তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এরপর থেকে তিনি আর ভারতীয় জার্সি বলেই মাঠে দেখা যায়নি।

    অবসরের বার্তায় পূজারা লিখেছেন, “ভারতের জার্সি গায়ে চাপিয়ে জাতীয় সংগীত গেয়ে যখন মাঠে নেমেছি, তখন সর্বোচ্চ দিয়ে খেলার চেষ্টা করেছি। সেই মুহূর্তগুলো ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে বলতে পারেন, সব ভালো কিছু শেষ হয় একদিন। তাই আমি অফুরন্ত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানাচ্ছি, আমি ভারতীয় ক্রিকেটের সব সংস্করণ থেকে অবসর নিচ্ছি।”

    ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরু থেকে তিনি ভারতের ব্যাটিংয়ের ভরসা হয়ে উঠেছিলেন। বিশেষ করে ‘নাম্বার থ্রি’ পজিশন ছিল তার শক্ত ঘাঁটি। তার সংক্ষিপ্ত ক্যারিয়ারে ১০৩ টেস্টে ৭১৯৫ রান করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ১৯ সেঞ্চুরি এবং ৩৫ ফিফটি, গড় ৪৩.৬০। দেশের মাটিতে তার গড় ছিল আরও বেশি, ৫২.৫৮।

    পূজারার নাম এলেই আসে ২০১৮-১৯ সালের অস্ট্রেলিয়া সফরের কথা। অ্যাডিলেড, মেলবোর্ন ও সিডনিতে তার তিন সেঞ্চুরি ভারতকে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ে পৌঁছেছিল। এরপরই তিনি আবারও দেখিয়েছেন অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তা। কঠিন পরিস্থিতিতে ক্যামেরুন হ্যাজলউড, স্টার্ক ও কামিন্সের বিপরীতে চার টেস্টে ৯২৮ বল মোকাবিলা করে তিনি দলকে দৃঢ়তার সঙ্গে দাঁড় করিয়েছেন। প্রতিটি ডিফেন্স ও ব্লক যেন ভারতীয় ব্যাটিংয়ের ভরসার স্তম্ভ হয়ে উঠেছিল।

    তাদের জন্য ক্রিকেট বিশে’ তাকে ‘দ্য ওয়াল ২.০’ নামে ডাকতে শুরু করে। কারণ, রাহুল দ্রাবিড়ের পর থেকে তিনি ভারতের টেস্ট ব্যাটিংয়ের প্রাচীর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার গুণাবলীর মধ্যে গ্ল্যামারাস শট নয়, বরং কঠোর রক্ষণশীলতা এবং অটল মনোভাব ছিল তার অস্ত্র। দলকে কঠিন পরিস্থিতি থেকে বারবার উদ্ধার করে তিনি জাতীয়তাবাদের এক অনুপ্রেরণাদায়ক ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছিলেন।

  • স্টেডিয়ামের অবস্থা দেখেই কান্না পেয়ে গেল বিসিবি সভাপতি

    স্টেডিয়ামের অবস্থা দেখেই কান্না পেয়ে গেল বিসিবি সভাপতি

    বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল পাঁচ বছর ধরে ক্রিকেটের বিকেন্দ্রীকরণে উদ্যোগী হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে চলেছেন। আজ রোববার ২৪ আগস্ট তিনি নারায়ণগঞ্জে এসে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘ক্রিকেট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড আইডিয়া’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানের আগে তিনি ফতুল্লা স্টেডিয়ামও ঘুরে দেখেন। এই সময় তিনি বলেন, “নড়াইল বা খুলনা না হলেও নারায়ণগঞ্জ আমাদের জন্য অনেক প্রত্যাশার শহর। এই এলাকার ক্রিকেটের ইতিহাস খুব সমৃদ্ধ। যখন আমি নিজেই ক্রিকেট শেখার জন্য মরিয়া, তখন নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে আমার গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এখানকার বিভিন্ন লিগে খেলোয়াড়েরা দেশের অন্য প্রান্তে গিয়ে সফলতার স্বপ্ন দেখতেন।”

    তিনি আরও বলেন, “এখনও নারায়ণগঞ্জের মানুষের ক্রিকেট নিতান্তই হৃদয়ে চলে আসে, তাই দেখে আমি অত্যন্ত উৎসাহিত। কিন্তু মাঠের অবস্থা দেখে সত্যিই দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, এখানে এক সময় অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়েছে, অথচ আজ এই মাঠের অবস্থা খুবই করুণ।”

    বুলবুল বলেন, ফতুল্লা স্টেডিয়ামের উন্নয়নের জন্য আরও বেশি নজর দেয়া দরকার। তিনি বলেন, “আমাদের পরিকল্পনা এখানে অন্তত ২০টি উইকেট তৈরি করার। এখন এই মাঠে আমি তিনটি উইকেট দেখেছি, যেখানে আমরা আরও নতুন উইকেট তৈরির পরিকল্পনা করছি। আমাদের লক্ষ্য এই যে, নারায়ণগঞ্জের ক্রিকেটাররা যেন বছরে ১২ মাস খেলা চালিয়ে যেতে পারে, এর জন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকছে। এর পাশাপাশি কোচিং ও প্রশিক্ষণের সুবিধা বাড়ানো হবে। আশা করি, আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে নারায়ণগঞ্জে এমন উন্নয়ন ঘটবে যাতে এখানকার খেলোয়াড়েরা ঢাকায় যেতে না হয়। সবকিছু আমাদের পরিকল্পনায় রয়েছে। আমি আশাবাদী, এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে আপনি সকলের দোয়া ও সমর্থন কামনা করছি, কারণ আমি এই কাজগুলো করতে আত্মবিশ্বাসী। আইসিসির সদস্য থাকাকালীন আমি এসব কাজ নিজেও করেছি।”

    তিনি আরও বলেন, “ক্রিকেট জীবনের এই আধা-আনুষ্ঠানিক অংশটি শুধু শুরু। আমার সামনে ভবিষ্যতের ক্রিকেটাররা রয়েছেন। আমি জানি, এখানে অনেক সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় রয়েছে, যারা আগামী দিনগুলোতে তামিম বা সাকিব হয়ে উঠতে পারেন। আমি চাই নারায়ণগঞ্জে একটি ইনডোর স্টেডিয়াম তৈরি করতে, যাতে ক্রিকেটাররা সব সময় খেলার মধ্যে থাকতে পারেন।”

  • নেপালকে ৩ গোলে হারালো বাংলাদেশ

    নেপালকে ৩ গোলে হারালো বাংলাদেশ

    সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের মেয়েরা আবারও অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। পূর্বে ভারতের বিরুদ্ধে হারলেও রোববার নেপালের মুখোমুখি হয়ে তারা জয় ছিনিয়ে এনেছে। এই ম্যাচে বাংলাদেশ ৩-০ গোলের বিশাল জয় লাভ করে। ভুটানের চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে এই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তাদের দাপট দেখা গেছে। প্রথমেই বাংলাদেশ দলের দারুণ পরিকল্পনা ও দক্ষতা প্রমাণিত হয়। প্রথমার্ধে তারা দুটি গোল করেছে যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

  • যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন ভিসার ফি প্রায় দেড়শ শতাংশ বাড়ছে

    যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন ভিসার ফি প্রায় দেড়শ শতাংশ বাড়ছে

    আগামী ১ অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন ভিসার (বি১/বি২) ফি ব্যাপক বৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে। গত মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের কারণে মার্কিন কংগ্রেস এ সংক্রান্ত একটি আইন পাস করে, যার মাধ্যমে এই পরিবর্তন আনতে সম্মতি করা হয়। নতুন আইনের আওতায় পর্যটন ভিসার ফি আগে ছিল ১৮৫ ডলার, কিন্তু এখন থেকে সেটি বাড়িয়ে ৪৩৫ ডলার নির্ধারিত হয়েছে, যা গতিবেগে ১৩৫ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি। বাংলাদেশি টাকায় এর মান প্রায় ৫৩ হাজার টাকা।

  • রাহুল গান্ধী বললেন, মোদি সরকার দরিদ্রদের ভোট চুরি করছে

    রাহুল গান্ধী বললেন, মোদি সরকার দরিদ্রদের ভোট চুরি করছে

    ভারতের বিহার রাজ্যে নিভৃত পর্যবেক্ষণের নামে ভোটার তালিকা থেকে ৬৫ লক্ষের বেশি নাম অবৈধভাবে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো জোরালো প্রত্যাখ্যান জানিয়েছেন। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে এই ধরনের তালিকা হালনাগাদ ও সংশোধনের নামে ভোট চুরির অভিযোগ তুলেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সরকারের এই প্রচেষ্টা মূলত ভোট চুরি করার একটি প্রাতিষ্ঠানিক পন্থা, যা নির্বাচন কমিশনের কূটচালে পরিচালিত। রাহুল গান্ধী এই বিষয়ে বিহার জুড়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’ শুরু করেছেন। রোববার তিনি আরারিয়ায় এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ সব কথা বলেন। তিনি তীব্র সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের ওপর। তিনি দাবি করেন, মোদি সরকার বিহারে বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংষ্করণ (এসআইআর) এর মাধ্যমে দরিদ্রদের ভোট চুরি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। রাহুল গান্ধী এই প্রক্রিয়াকে বলে, ‘ভোট চুরির এক প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতি’, যা নির্বাচন কমিশনের অনুকূল চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে চলে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি খাতের বিভিন্ন সংস্থা বেসরকারিকরণের পর এখন এসআইআর এর মাধ্যমে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার হরণ করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। কংগ্রেসের এই নেতা নির্বাচন কমিশনকে ‘নির্বাচনী ওমিশন (ব্যর্থতা)’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, এই পদক্ষেপ অসাংবিধানিক ও বিহারের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের দিকে লক্ষ্য করে সমাজের ক্ষুদ্র প্রান্তিক অংশগুলোকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা। রাহুল গান্ধী বলেন, সংবিধান দেশের প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করেছে। তাই তিনি মনে করেন, এসআইআর আইনসভা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ব্যাহত করবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বিহারের মানুষ বিজেপি ও তার মিত্রদের উপযুক্ত জবাব দেবে এবং নির্বাচনে তাদের ভোট দিয়ে সচেতন ও শক্তিশালী প্রান্তিকে প্রাধান্য দেবে।

  • মিয়ানমারে বিস্ফোরণে ঐতিহাসিক রেলসেতু উড়িয়ে দেওয়া হলো বিদ্রোহীদের হামলায়

    মিয়ানমারে বিস্ফোরণে ঐতিহাসিক রেলসেতু উড়িয়ে দেওয়া হলো বিদ্রোহীদের হামলায়

    বোমা হামলা চালিয়ে মিয়ানমারের এক ঐতিহাসিক রেলসেতু ধ্বংস করেছে দেশটির সামরিকবিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহীরা। এই সেতুটি ঔপনিবেশিক যুগের অন্যতম ব্যতিক্রমী নির্মাণ এবং বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু রেলপথের সেতু হিসেবে পরিচিত। সামরিক জান্তার দাবি, তারা এই সেতুটি বিস্ফোরণের মাধ্যমে ধ্বংস করেছে।

    রোববার মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, প্রচুর সংখ্যক অভ্যুত্থানবিরোধী গোষ্ঠী বোমা হামলা চালিয়ে এই ঐতিহাসিক সেতুটি ধ্বংস করেছে। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটার পর থেকে দেশটি গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সশস্ত্র বিদ্রোহী দল ও গণতন্ত্রকামী প্রতিরোধ আন্দোলনের মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।

    জান্তা বাহিনীর একজন মুখপাত্র, জ্য মিন তুন, ভিডিও বার্তায় বলেছেন, ‘‘তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) ও পিপলস ডিফেন্স ফোর্স এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে এবং ঐতিহাসিক গোকটেইক রেলসেতু ধ্বংস করেছে।’’

    গোকটেইক রেলওয়ে সেতু মিয়ানমারের সবচেয়ে উঁচু অবকাঠামো, যা প্রায় ৩৩৪ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। এটি ১৯০১ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে নির্মিত হয় এবং তখন এটি বিশ্বের অন্যতম উঁচু রেলওয়ে ট্রেসেল বলা হতো। প্রকাশ্য ভিডিও ও ছবি থেকে দেখা যায়, দুর্ঘটনায় সেতুটি আংশিকভাবে ধসে পড়েছে ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    অপরদিকে, টিএনএলএর মুখপাত্র, লওয়ে ইয়াই, অভিযোগ করেছেন, জান্তার বোমা হামলায় এই সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘আজ সকালে মিয়ানমার সেনারা ড্রোন ব্যবহার করে আমাদের ঘাঁটিগুলিতে হামলার চেষ্টা করে। তারা আমাদের লক্ষ্য করে বোমা ফেলে, যার প্রভাব পড়েছে গোকটেইক সেতুতেও।’’

    সম্প্রতি নাওংকিও ও কিয়াউকমি শহরগুলোতে দেশটির জান্তা বাহিনী ও টিএনএলের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ চলছিল। যদিও জান্তা গত জুলাইয়ে এই শহরগুলো পুনর্দখলের দাবি করেছিল। এই পরিস্থিতি মিয়ানমারের চলমান অস্থিরতা ও সংঘর্ষের চিত্রটিকে আরও জটিল করে তোলে।

    সূত্র: এএফপি

  • যুক্তরাষ্ট্র প্রমানিত করছে বাংলাদেশ ও অন্য দেশগুলোর উদারতা

    যুক্তরাষ্ট্র প্রমানিত করছে বাংলাদেশ ও অন্য দেশগুলোর উদারতা

    বাংলাদেশের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রশংসা প্রকাশ করেছেন দেশটির উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। তারা particularly উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশের অসাধারণ মানবিকতা ও সাহসিকতার জন্য, যা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ব্যাপক সহায়তা ও আশ্রয় প্রদান করে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র এই প্রশংসা করেছে, কারণ বাংলাদেশ বহু বাধা ও চ্যালেঞ্জের মুখেও রোহিঙ্গাদের নিরাপদ আশ্রয় দিয়ে চলেছে।

    ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে রোববার (২৪ আগস্ট) এক প্রেস বিবৃতিতে, পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রিন্সিপাল ডেপুটি স্পোকসপারসন টমাস টমি পিগট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দুর্দশা দেখেছে এবং তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলটির অন্যান্য দেশও শরণার্থীদের জন্য উল্লেখযোগ্য নজির স্থাপন করেছে।

    বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারে চলমান সহিংসতা ও দমন-পীড়নের কারণে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এর ফলে, ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে সেনা অভিযানের পর থেকে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। এর আগে থেকেই বাংলাদেশে ছিল চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা।

    বর্তমানে, ক্যাম্পগুলোতে প্রতি বছর নতুন করে প্রায় ৩০ হাজার রোহিঙ্গা শিশু জন্ম নিচ্ছে। গত কয়েক বছরে, নতুন করে আসা হাজার হাজার রোহিঙ্গাসহ বর্তমানে বাংলাদেশে বসবাস করছেন মোট ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের মানবিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জকে আরও বৃদ্ধি করছে, তবে দেশের মানসিকতা ও উদারতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • পাকিস্তানে আকস্মিক বন্যায় আরও ১৩ জনের মৃত্যু, মোট মৃতের সংখ্যা ৪৬৬

    পাকিস্তানে আকস্মিক বন্যায় আরও ১৩ জনের মৃত্যু, মোট মৃতের সংখ্যা ৪৬৬

    পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলে মৌসুমি বর্ষণের ফলে শুরু হওয়া আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধসের কারণে রোববার কমপক্ষে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই হতাহতের খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যম। এর ফলে, দুই সপ্তাহের মধ্যেই দেশটিতে মৃতের সংখ্যা মোট ৪৬৬ জনে দাঁড়িয়েছে।

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নতুন করে হতাহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। চলমান বর্ষাকালে এই অঞ্চলটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    উদ্ধারকারীরা জানান, গত এক দিনে তীব্র বৃষ্টিপাত এবং ঝড়ো বাতাসের কারণে কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়েছেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৫ আগস্ট থেকে এই প্রদেশে প্রায় ৪০৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বুনের জেলায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ৩৩৭ জন।

    অপরদিকে, দক্ষিণ সিন্ধু, দক্ষিণ-পশ্চিম বেলুচিস্তান, উত্তর গিলগিট-বালতিস্তান এবং পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে মোট ৬০ জনেরও বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন।

    জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, জুনের শেষের দিকে থেকে শুরু হওয়া এই বৃষ্টিপাত এবং বন্যার কারণে দেশজুড়ে মোট প্রায় ৮০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে বিস্তৃত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং অনেকের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে।