Author: bangladiganta

  • দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সবাইকে সম্মিলিত কাজ করতে হবে: মঞ্জু

    দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সবাইকে সম্মিলিত কাজ করতে হবে: মঞ্জু

    ১৯৭১ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম দেশের পতাকা উত্তোলন করে স্বাধীনতার মানচিত্র সেখানে আনেন। তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রথম দিকে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছিলেন। তবে বর্তমানে দেশ এখনও সেই স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পথে বাধা সৃষ্টি করছে কিছু অন্ধকার শক্তি। খুনী হাসিনা এবং তার দোসররা বিদেশে পালিয়ে গিয়ে এখনও দেশের শান্তি-শান্তির পথে বাধা সৃষ্টি করছে। এরা সবসময় রাষ্ট্রের ক্ষতি চাইছে আর দেশে আর যেনো কোন স্বৈরাচার সরকার না আসে, এ বিষয়ে সকলের সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। দেশের গণতন্ত্র ফিরে আসতে চাইলে সবাই একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

    রোববার বিকেলে নগরীর কেডিএ এভিনিউস্থ তেঁতুলতলা মোড়ে সোনাডাঙ্গা থানার বিএনপি কার্যালয়ে খুলনা বিএনপি-এর উদ্যোগে আগামী ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি’র ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের জন্য একটি প্রস্তুতি সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভার সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি আরও বলেন, ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে যাত্রা শুরু করে। তিনি দলটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য তুলে ধরেন, যাতে দেশের জাতীয়তাবাদী শক্তি সকলের কাছে পৌঁছে যায়। তিনি জনগণের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে সকলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

    সভায় তিনদিনের জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ১ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টায় নগরীর কেডিএ এভিনিউস্থ তেঁতুলতলা মোড়ে বিএনপি কার্যালয়ে আলোচনা সভা, বর্ণাঢ্য র‌্যালি, সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ২ সেপ্টেম্বর বৃক্ষরোপণ ও মাছের অবমুক্তকরণ সকল থানা এলাকায় এবং ৩ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় পলিমঙ্গল স্কুল মাঠে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। এই কর্মসূচি সফলভাবে পালন করতে বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    আসাদুজ্জামান মুরাদের পরিচালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মনির, শেখ মোশাররফ হোসেন, জাফরউলাহ খান সাচ্চু, এডভোকেট ফজলে হালিম লিটন, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, আরিফুজ্জামান অপু, মাহবুব কায়সার, নজরুল ইসলাম বাবু, ইকবাল হোসেন খোকন, মেহেদী হাসান দিপু, নিজাম উর রহমান লালু, এডভোকেট গোলাম মওলা, আনোয়ার হোসেন, ইউসুফ হারুন মজনু, মজিবর রহমান ফয়েজ, নিয়াজ আহমেদ তুহিন ও অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ও নেতৃবৃন্দ। তারা প্রত্যেকেই কর্মসূচি সফল করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

  • ডুমুরিয়ায় উন্নয়নে সবাইকে একত্রে কাজ করতে হবে : আলি আসগার লবি

    ডুমুরিয়ায় উন্নয়নে সবাইকে একত্রে কাজ করতে হবে : আলি আসগার লবি

    খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আলি আসগার লবি বলেছেন, ডুমুরিয়ার অবকাঠামো উন্নয়ন দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। বিশেষ করে অবহেলিত এলাকার রাস্তা-ঘাট, গ্রাম্য অবকাঠামো এবং জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের দিকে নজর দিতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ চলছে। জলাবদ্ধতা দূর করতে ঝুঁকিপূর্ণ সব নদী এবং খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাত শক্তিশালী হবে। তার primo উদ্দেশ্য হলো, সকলের একত্রীকরণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা। এই কথাগুলো তিনি ছিলেন রোববার বিকেলে ডুমুরিয়া উপজেলার সাহস ইউনিয়ন বিএনপি উদ্যোগে আয়োজিত নোয়াকাটি বাজার চত্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায়। কল্যাণময় ডুমুরিয়াকে উন্নয়নের মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। লবি আরও বলেন, খুলনা জিরো পয়েন্ট থেকে চুকনগর পর্যন্ত হাইওয়ের জরাজীর্ণ রাস্তার সংস্কার কাজ দ্রুত শুরু করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল এবং আগামী নির্বাচনে সবাই মিলেমিশে কাজ করতে হবে। যদি বিজয় হয়, তাহলে অবহেলিত এই ডুমুরিয়াকে একটি উন্নত ও মডেল উপজেলা হিসেবে রূপান্তরিত করার সংকল্প ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে সম্মানিত বক্তৃতা দেন মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. এস এম শফিকুল আলম মনা। এই জনসভা আয়োজিত হয় স্থানীয় সাহস, ভান্ডারপাড়া, মাগুরখালি ও শরাফপুর চার ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে। সভাপতিত্ব করেন বিএনপি নেতা মোঃ মশিউর রহমান লিটন এবং সঞ্চালনা করেন শেখ ফরহাদ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পি, মোল্লা মোশাররফ হোসেন মফিজ, বদরুল আনাম খান, চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজ, সাবেক এমপি সৈয়দা নার্গিস আলি, শেখ আব্দুর রশিদ সহ অনেকে। আরও বক্তব্য রাখেন কে এম আশরাফুল আলম নান্নু, মিরাজুর রহমান মিরাজ, উজ্জ্বল কুমার সাহা, এড. তছলিমা খাতুন ছন্দা, কেন্দ্রীয় জাসাস নেত্রী রুখসান রহমান, রোকসা রহমান, নাদিমুজ্জামান জনি, আবদুল মান্নান মিস্ত্রি, সরদার আব্দুল মালেক, এড. মোনিমুর রহমান নয়ন, নিত্যানন্দ মন্ডল, অরুন কুমার গোলদার, প্রফেসর আইয়ুব হোসেন, শেখ শাহীনেরুর রহমান, মোল্লা একরামুল ইসলাম, শেখ জামিনুর রহমান, শেখ মুস্তাইন, আব্দুর রব আকুঞ্জি, শাহাদাত হারদার, আজমল হুদা মিঠু, খান আফজাল হোসেন, অরুণ গোলদার, শাহানুর রহমান, যুবদল নেতা মোঃ মশিউর রহমান, ওলামাদল নেতা মাওলানা আব্দুস সালাম আজাদ, ও অন্যান্যরা। এর আগে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে জনসমাবেশস্থলে উপস্থিত হন।

  • খুলনা মহানগর বিএনপির চার দিনের কর্মসূচি ও উপ-কমিটি গঠন

    খুলনা মহানগর বিএনপির চার দিনের কর্মসূচি ও উপ-কমিটি গঠন

    খুলনা মহানগর বিএনপি আগামী ১ সেপ্টেম্বর তাদের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে চার দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। রোববার রাতে কেডি ঘোষ রোডস্থ বিএনপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির সভায় এই উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এই চার দিনের কার্যক্রমকে সফল করতে sixটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির আহবায়ক শফিকুল আলম তুহিন। তিনি ছাড়াও বক্তৃতা দেন দলের নেতৃবৃন্দ শেখ সাদী, মাসুদ পারভেজ বাবু, কে এম হুমায়ুন কবীর, মুর্শিদ কামাল, মজিবর রহমান, আব্দুল আজিজ সুমন, মিরাজুর রহমান মিরাজ, রবিউল ইসলাম রুবেল, এডভোকেট হালিমা আক্তার খানম ও কে এম জলিল। সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনকে আরও দু’টি হিসেবে সফল করতে মোট ছয়টি উপ-কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটিগুলোর মধ্যে রয়েছে:

    – ৫১ সদস্যের শৃঙ্খলা উপ-কমিটি, যার আহবায়ক শেখ সাদী ও সদস্য সচিব মিরাজুর রহমান মিরাজ।
    – ৩১ সদস্যের সাজসজ্জা উপ-কমিটি, আহবায়ক কে এম হুমায়ুন কবীর ও সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ।
    – যোগাযোগ উপ-কমিটি, চৌধুরী হাসানুর রশীদ মিরাজকে আহবায়ক ও মজিবর রহমানকে সদস্য সচিব।
    – ব্যবস্থাপনা উপ-কমিটি, মাসুদ পারভেজ বাবুকে আহবায়ক ও আব্দুল আজিজ সুমনকে সদস্য সচিব।
    – মিডিয়া উপ-কমিটি, আহবায়ক মিজানুর রহমান মিলটন ও সদস্য সচিব রকিবুল ইসলাম মতি।
    – সাংস্কৃতিক উপ-কমিটি, শৈল্পিক নেতৃত্বে থাকবেন শেখ ইমাম হোসেন ও কো-আহবায়ক হিসেবে থাকবেন কে এম এ জলিল, সঙ্গে ইঞ্জিনিয়ার নুরুল ইসলাম বাচ্চু।

    এছাড়াও, ১ সেপ্টেম্বর, সামনের প্রথম দিন, সূর্যোদয়ের সাথে সাথে মহানগরীর সকল কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ ও মহানগর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম এম নুরুল ইসলাম দাদু ভাইয়ের কবর জিয়ারত ও প্রয়াত নেতাদের মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। এই দিনে মহানগরীর সকল কার্যালয়ে আলোকসজ্জা, বিকেল ৩টায় জিয়াহল চত্বরে সমাবেশ এবং নগরীতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হবে।

    দ্বিতীয় দিন ২ সেপ্টেম্বর, খুলনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আলোচনা সভা।

    তৃতীয় দিন ৩ সেপ্টেম্বর, শহিদ হাদিস পার্ক ও ঝিলপুকুরসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।

    অতঃপর, ৪ সেপ্টেম্বর মহানগরীর পাঁচটি থানায় বিএনপি উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প চালু এবং সন্ধ্যায় শহিদ হাদিস পার্কে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এই চার দিনব্যাপী কর্মসূচির মাধ্যমে মহানগর বিএনপি তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যথাযথভাবে পালন করবে এবং দলের নেতাকর্মীরা একত্রিত হবে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দৃঢ় ধারায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে।

  • খুলনায় ট্রাক-ইজিবাইক মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩

    খুলনায় ট্রাক-ইজিবাইক মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩

    খুলনায় ইজিবাইক ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার স্থান হয়েছে ডুমুরিয়ার খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের জিলেরডাঙ্গা এলাকায়, যা সোমবার (২৫ আগস্ট) সকালে ঘটে।

    ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নুরুজ্জামান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনায় দুইটি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। নিহত ইজিবাইক চালক মোজাহিদুল মোড়ল (খরসন্ডা, ডুমুরিয়া) ও যাত্রী রিনা খাতুন (উত্তর কালিকাপুর, ডুমুরিয়া)। এ ছাড়াও, এক ব্যক্তির পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, একটি ইজিবাইকয়ে সাতজন যাত্রীসহ ডুমুরিয়া বাজার থেকে খুলনা নগরীর গল্লামারির দিকে যাচ্ছিল। যখন তারা জিলেরডাঙায় পৌঁছায়, তখন দ্রুতগামী ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষে ইজিবাইকটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে চালক মোজাহিদুল ও যাত্রী রিনা ঘটনাস্থলেই মারা যান, তবে অন্য একজনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

    অন্য যাত্রীরা গুরুতর আহত হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। দুর্ঘটনার ফলে মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, পরে পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দুর্ঘটনাকবলিত ইজিবাইকটি উদ্ধার করে। ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়।

    ডুমুরিয়া উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের আবু রায়হান জানান, এই দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে এবং আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করে।

  • গণঅভ্যুত্থানের স্বপক্ষের শক্তিগুলো একযোগে দেশের সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করবে

    গণঅভ্যুত্থানের স্বপক্ষের শক্তিগুলো একযোগে দেশের সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করবে

    মহানগর বিএনপি সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা বলেছেন, গত ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বৈষম্য ও অন্যায্যতার জাঁতাকলে জনগণ যেন জর্জরিত হয়ে পড়েছে। কোটাবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে শুরু হওয়া গণঅভ্যুত্থানে সেই আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন সম্ভব হয়। তিনি আরও বলেন, এখন যারা পিআর (প্রচারণা) পদ্ধতিতে নির্বাচন করতে চাইছে, তারা মূলত পেছনের রাস্তা দিয়ে ক্ষমতা গ্রহণের চেষ্টা করছে। এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অন্যোমতই। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণঅভ্যুত্থানের মূল ভাবনাকে বিপন্ন করে। এই পদ্ধতিতে আওয়ামী লীগের পুনর্বসতি ও ভারতের প্রভাবে দেশের সার্বভৌমত্বক্ষুণ্ন করার অপশক্তি সক্রিয় হয়েছে। এজন্য বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের স্বপক্ষের শক্তিগুলো শক্তি সমন্বয় করে সব দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মোকাবেলার জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। গতকাল রবিবার সকালে খুলনা টাউন জামে মসজিদ চত্বরে এবং পাইওনিয়ার স্কুল প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণের আগে、র উপস্থিত দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে এই কথা তিনি বলেছেন। বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য শফিকুল আলম মনা বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ পতনের মুখে থাকলেও তারা বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। তারা উস্কানি দিচ্ছে। আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র রুখে দিতেপ্রয়োজন সচেতন, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নেতৃত্বে একটি স্বাধীনতাবিরোধী অশুভ শক্তি ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যাতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়। এই বক্তৃতা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ২২নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি এস এম নুরুল আলম দিপু, পাশাপাশি অন্যদের মধ্যে ছিলেন বিএনপি নেতা বদরুল আনাম, মো. খায়রুল ইসলাম, আশরাফুল আলম নান্নু, ওয়ার্ড বিএনপি সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম খান জুয়েল, মোফিজুল সরদার, শহিদুল ইসলাম, সাহারুজ্জামান মুকুল ও জিয়াউর রহমান প্রমুখ।

  • প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা চলমান, ১৭ দিনে দেড় বিলিয়ন ডলার এসেছে

    প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা চলমান, ১৭ দিনে দেড় বিলিয়ন ডলার এসেছে

    চলতি আগস্ট মাসে বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ে দেখা যাচ্ছে একটি উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন। মাসের প্রথম ১৭ দিনের মধ্যে দেশকে পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ দেড় বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৯,৬৪২ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকার হারে গণনা করে)। এই ধারা অব্যাহত থাকলে, গত বছরের জুলাই মাসের রেকর্ডের কাছাকাছি বা তারও বেশি রেমিট্যান্স আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। জুলাই মাসে এই অর্থনীতিতে সর্বশেষ রেকর্ড হয়েছিল ২৪৭ কোটি ৭৯ লাখ ১০ হাজার ডলারের রেমিট্যান্স, যা প্রায় ৩০,০২৩ কোটি টাকা। তবে, আগস্টের এই প্রথম আড়াই সপ্তাহে এসেছে আরও অর্ধশতাধিক কোটি ডলার, যা দেশীয় অর্থনীতিতে স্বস্তি বাড়াচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, এই সময়ে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো মাধ্যমে এসেছে মোট ৪৯ কোটি ৩৩ লাখ ডলার। তার মধ্যে কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১৫ কোটি ডলার, আর বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে চলে এসেছে উল্লেখযোগ্য ৯৬ কোটি ২৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার। এছাড়া বিদেশি ব্যাংকগুলো থেকেও প্রবাসীদের পাঠানো ৩১ লাখ ৩০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এর আগে, অর্থবছর ২০২৪-২৫ সালে মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২৬.৮ শতাংশ বেশি। এই অর্থবছরে মাসভিত্তিক প্রবাহের দিকে নজর দিলে দেখা যায় জুলাইয়ে ১৯১.৩৭ কোটি ডলার, আগস্টে ২২২.১৩ কোটি ডলার, সেপ্টেম্বর ২৪০.৪১ কোটি ডলার, অক্টোবর ২৩৯.৫০ কোটি ডলার, নভেম্বরে ২২০ কোটি ডলার, ডিসেম্বর ২৬৪ কোটি ডলার, জানুয়ারিতে ২১৯ কোটি ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ২৫৩ কোটি ডলার, এবং মার্চে রেকর্ড ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার ঘোষিত প্রণোদনা এবং প্রবাসীদের জন্য রেমিট্যান্স পাঠানো সহজ করার সুবিধা প্রবর্তনের ফলে এই প্রবাহ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ সব কারণেই দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে বেশ উন্নতি করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে বিএফআইইউ প্রধান

    বাংলাদেশ ব্যাংকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে বিএফআইইউ প্রধান

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীন আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান এ এফ এম শাহীনুল ইসলামকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

    গভর্নর জানান, তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকায় শাহীনুল ইসলাম আপাতত ছুটিতে থাকবেন। তদন্তের ফলাফল ও প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    এর আগে, বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তামুখর একটি স্মারকলিপি জমা দেন গভর্নরের কাছে। সেখানে তারা দাবি করেছেন, শাহীনুল ইসলামের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক আপত্তিকর ভিডিওর জন্ম দিয়েছে ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভ, যা বাংলাদেশ ব্যাংকসহ দেশের আর্থিক খাতের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে।

    শাহীনুল ইসলামের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা বেশ দ্রুত Spread হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ এই ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ইতোমধ্যে, গভর্নর এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

    বিশেষ করে, সম্প্রতি এনা পরিবহনের মালিক খন্দকার এনায়েত উল্লাহর ফ্রিজ করা ব্যাংক হিসাব থেকে ১৯ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদন ও সংঘটিত অপরাধের বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। গত বছর নভেম্বরে, এনায়েত উল্লাহ ও তার পরিবারের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ৫০ টি ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় ১২০ কোটি টাকা ফ্রিজ করা হয়। তবে চলতি বছরের এপ্রিলের দিকে, আল-ফালাহ ব্যাংকের চারটি হিসাব সেখানে আর ফ্রিজ না করে সেই টাকা উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়, যা এখন দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তের নিহিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

    তদন্তে জানা গেছে, সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস থেকে দৈনিক প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা চাঁদা তুলতেন। এ বিষয়ে আদালত ২৭ মে ২০১১২ সালে নির্দেশ দেন বিএফআইইউকে ওই ১২০ কোটি টাকা ফ্রিজ করার। কিন্তু জানা গেছে, কার্যত এখন অবধি প্রায় ১০১ কোটি টাকা আসলে ফ্রিজের মধ্যে রয়েছে এবং বাকির অর্থ উত্তোলনের পেছনে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

  • গভর্নর বললেন, ৭-৮ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ হবে ক্যাশলেস অর্থনীতির কেন্দ্র

    গভর্নর বললেন, ৭-৮ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ হবে ক্যাশলেস অর্থনীতির কেন্দ্র

    বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠছে ক্যাশলেস অর্থনীতির ভিত্তি, জানিয়েছেন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, আগামী ৭ থেকে ৮ বছরের মধ্যে দেশটি আন্তর্জাতিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাশলেস অর্থনীতি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাবে।

    বুধবার (২০ আগস্ট) সকালে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত একটি উন্নয়ন কৌশল সংক্রান্ত সেমিনারে অংশ নিয়ে গভর্নর এই মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, নগদ লেনদেনের প্রবণতা দুর্নীতির উৎসাহ দেয় এবং এতে কর ফাঁকির ঘটনাও বাড়ে। এর ফলে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এ ধরনের অব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে।

    গভর্নর জানান, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগই অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। তবে সচেতনতা ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে এটি সম্ভব হলে সামষ্টিক অর্থনীতি আরও বেশি শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক কার্যক্রমের জন্য নতুন ধরনের লেনদেন পদ্ধতি চালু করার পরামর্শ দেন, যাতে সমাজের সর্বস্তরই এই সুবিধা ভোগ করতে পারে।

    বিশেষ করে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে ন্যানো লোনের ধারণা ভবিষ্যতেও বিস্তার পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। ড. মনসুর জানান, দৈনিক গড়ে প্রায় চার হাজার মানুষ এই ধরনের ঋণ সুবিধা গ্রহণ করছে, এবং এখন পর্যন্ত এর মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় সাত হাজার কোটি টাকারও বেশি।

  • ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বন্ধের উদ্যোগ, আমানতকারীদের টাকা ফেরত পাবেন

    ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বন্ধের উদ্যোগ, আমানতকারীদের টাকা ফেরত পাবেন

    বাংলাদেশ ব্যাংক এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন্ধ করতে ৯টি ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়ম, লুটপাট ও অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত হয়ে পড়েছিল। বিভিন্ন সূচক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যেখানে আমানতকারীর টাকা ফেরত দিতে না পারা, উচ্চ খেলাপি ঋণ থাকা এবং মূলধন ঘাটতির বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। এখন থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল হবে এবং তারা অবসায়নের মধ্যে পড়বে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের নেতৃত্বে এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, যেখানে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের আইন অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিলের মাধ্যমে অবসায়নের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সব তথ্য ব্যাংকের রেজুলেশন বিভাগে পাঠানো হয়েছে, যাতে ক্ষুদ্র আমানতকারীরা তাদের জমা টাকা নিরাপদে ফেরত পান। একইসঙ্গে, কাজের জন্য নিয়োজিত কর্মীদের চাকরি, সুযোগ-সুবিধা যথাযথ নিয়মে নিশ্চিত করা হবে। এ উদ্যোগের আওতায় রয়েছে পিপলস লিজিং ও ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, আভিভা ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি, প্রিমিয়ার লিজিং, জিএসপি ফাইন্যান্স ও প্রাইম ফাইন্যান্স। জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধে সরকারের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা, যেখানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের ফেরত দেওয়ার বিষয়টিতে। ইতোমধ্যে ব্যাংকের রেজুলেশন বিভাগ এই অবসায়নের প্রস্তুতি শুরু করেছে।

  • ২৩ দিনে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ পৌঁছেছে পৌনে ২ বিলিয়ন ডলার

    ২৩ দিনে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ পৌঁছেছে পৌনে ২ বিলিয়ন ডলার

    গত আগস্ট মাসের প্রথম ২৩ দিনে প্রবাসীরা বাংলাদেশে মোট ১৭৪ কোটি ৮৬ লাখ ডলার বা প্রায় পৌনে দুই বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এর ফলে স্থানীয় মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২১ হাজার ৩৩২ কোটি ৯২ লাখ টাকা, যেখানে প্রতি ডলার এর মান নেওয়া হয়েছে ১২২ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে জানা গেছে, আগস্টের প্রথম ২৩ দিনে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে মোট ১৭৪ কোটি ৮৬ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এর মধ্যে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো থেকে এসেছে ৩৯ কোটি ২৯ লাখ ডলার। বিশেষভাবে চালু দুটি ব্যাংকের মধ্যে একটি (কৃষি ব্যাংক) থেকে পাঠানো হয়েছে ২৪ কোটি ৯৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার।

    বেসরকারি ব্যাংকগুলো এই সময়ে পাঠিয়েছে ১০৯ কোটি ৭১ লাখ ৬০ হাজার ডলার, আর বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৮৭ লাখ ৯০ হাজার ডলার। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই সময়ের মধ্যে নয়টি ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি। এই ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল), রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব), কমিউনিটি ব্যাংক, সিটিজেনস ব্যাংক, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইসিডি), পদ্মা ব্যাংক, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।

    প্রসঙ্গত, এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২৪৭ কোটি ৭৯ লাখ ১০ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩০ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা। ওই মাসে অবশ্য কোনো ব্যাংক থেকে রেমিট্যান্স আসেনি।

    অতীতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল, যা এক বছরে সর্বোচ্চ রেকর্ড। পুরো অর্থবছর (২০২৪-২৫) জুড়ে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের মোট পরিমাণ ছিল ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২৬.৮ শতাংশ বেশি।

    অর্থাৎ, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। এর মাসভিত্তিক প্রবাহ ছিল নিম্নরূপ: জুলাই – ১৯১.৩৭ কোটি ডলার, আগস্ট – ২২২.১৩ কোটি ডলার, সেপ্টেম্বর – ২৪০.৪১ কোটি ডলার, অক্টোবর – ২৩৯.৫০ কোটি ডলার, নভেম্বর – ২২০ কোটি ডলার, ডিসেম্বর – ২৬৪ কোটি ডলার, জানুয়ারি – ২১৯ কোটি ডলার, ফেব্রুয়ারি – ২৫৩ কোটি ডলার, মার্চ – ৩২৯ কোটি ডলার, এপ্রিল – ২৭৫ কোটি ডলার, মে – ২৯৭ কোটি ডলার এবং জুন – ২৮২ কোটি ডলার।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজ ও প্রবাসীদের আয়ের উত্তরণের জন্য নিবন্ধনের সুবিধা দেয়ার ফলে রেমিট্যান্সের প্রবাহ ইতিবাচক ধারায় রয়েছে।