Author: bangladiganta

  • জামায়াতের বিরুদ্ধে হেফাজতের ইসলামী আমিরের বক্তৃতার প্রতিবাদ

    জামায়াতের বিরুদ্ধে হেফাজতের ইসলামী আমিরের বক্তৃতার প্রতিবাদ

    জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সাধারণ সম্পাদক এড. এহসানুল মাহবুব জুবায়ের হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির মাওলানা মুহিব্বুল­াহ বাবুনগরীর বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সোমবার এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, একটি দৈনিকে ১৫ সেপ্টেম্বরের সংখ্যার প্রথম পাতায় প্রকাশিত শিরোনাম—’জামায়াত সরকারে আসলে কওমি, দেওবন্দি ও সুন্নিয়াত মাদ্রাসার অস্তিত্ব থাকবে না’—সম্পর্কে তার বক্তব্য আদর্শ ও সত্যের কাছ থেকে বিচ্যুত। এ বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মনগড়া ও অসত্য। একজন বরেণ্য আলেমের মুখ থেকে এমন ভিত্তিহীন মন্তব্য শোভা পায় না, বলে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে প্রকাশ করেন। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি নিয়মতান্ত্রিক ও ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে পরিচালিত রাজনৈতিক দল। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে বহু মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করে ইসলামি খেদমত করে আসছে। জামায়াতের বহু নেতা-কর্মী কওমি, দেওবন্দি এবং সুন্নিয়াত মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত, এবং এ সকল ধারার বিরোধিতা বা ক্ষতি করার কোন নজির নেই। অতীতে, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জামায়াতের দুইজন মন্ত্রী ক্ষমতায় ছিলেন, তারা কওমি বা দেওবন্দি মাদ্রাসার বিরোধিতা করেনি বরং তাদের সহযোগিতা করেছে। তাই মাওলানা মুহিব্বুল­াহ বাবুনগরীর এ অমূলক ভয়ের ভাষ্য নিরসন এবং জনগণকে বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত করতে তিনি আহ্বান জানান। এড. এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট সকলকে আহ্বান জানাচ্ছি যে, জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে এই ধরনের অবান্তর ও মিথ্যা आरोप থেকে বিরত থাকুন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদকও যথাযথভাবে এই প্রতিবাদ প্রকাশ করে জনগণের বিভ্রান্তি দূর করবেন।

  • বিএনপি পিআর পদ্ধতি চাইছে না: সালাহউদ্দিন আহমেদ

    বিএনপি পিআর পদ্ধতি চাইছে না: সালাহউদ্দিন আহমেদ

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বিএনপি উচ্চ কক্ষ বা নিম্ন কক্ষে যে কোনও ধরনের পিআর পদ্ধতি চায় না। তিনি মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এই মন্তব্য করেন। সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিএনপি কোনও কক্ষেই পিআর পদ্ধতি শর্ত হিসেবে চাইছে না। তিনি আরও বলেন, কিছু দল বেশি আসন পাওয়ার লোভে দেশের জাতীয় স্বার্থের বিকল্প কিছু ভাবতে পারে, যা খুবই বিপজ্জনক। তাদের এই চিন্তা-ভাবনা যদি বাস্তবে রূপ পায়, তবে এর ভবিষ্যতে ভয়ঙ্কর পরিণতি হতে পারে। উল্লেখ্য, ঐকমত্য কমিশনের তালিকায় নিম্নকক্ষে পিআর পদ্ধতির কোনো উল্লেখ ছিল না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের চর্চা এক ধরনের ভয়ঙ্কর অপচেষ্টা, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য হুমকি স্বরূপ।

  • জামায়াতের কর্মসূচির সময় পরিবর্তন

    জামায়াতের কর্মসূচির সময় পরিবর্তন

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও নাগরিক স্বার্থের কথা думা করে কর্মসূচির সময়ে পরিবর্তন ঘোষণা করেছে। পূর্বে নির্ধারিত বারো-দফা দাবির স্মারক অনুযায়ী, আগামী ১৮ এবং ১৯ সেপ্টেম্বর জামায়াতের কর্মসূচি সকালবেলা অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই দুই দিনকার কর্মসূচি সকাল বাদ দিয়ে বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে। এটি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে বিসিএস পরীক্ষার্থীরা কোনো ভোগান্তিতে না পড়েন।

  • জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণপরিষদ নির্বাচনের প্রস্তাব এনসিপির

    জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণপরিষদ নির্বাচনের প্রস্তাব এনসিপির

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, আমাদের দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে জাতীয় ঐক্য কমিটির সঙ্গে। আলোচনায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথমটি হলো, কিছু কাজ সংবিধান পরিবর্তন না করে অর্ডিন্যান্স বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে পালন করা যেতে পারে। তবে, এমন অনেক বিষয় আছে যেগুলো সংবিধানের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত, যেখানে বড় ধরনের পরিবর্তন দরকার। এই পরিবর্তনগুলো শুধুমাত্র সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সম্ভব কি না, সে ব্যাপারে আমাদের মধ্যে কিছু আশঙ্কা রয়েছে। রোববার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐক্য কমিটির সঙ্গে রাজনৈতিক দলের আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। এই বৈঠকে কমিটির সভাপতি এবং সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত ছিলেন। আখতার হোসেন জানান, ইতোমধ্যে বাংলাদেশের হাইকোর্টে সংশোধনীর চ্যালেঞ্জ দিয়ে বিভিন্ন পরিবর্তন বাতিল হয়েছে। তাই, আমরা যারা সংবিধানে মৌলিক পরিবর্তন এনেছি, সেগুলোর টেকসইতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছি। তিনি উল্লেখ করেন, একত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া গেলে একটি গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংবিধান ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব। এই জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলো ইতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। এনসিপির এই নেতা বলেছিলেন, এর জন্য তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে আবেদন করেছেন, যাতে কমিশনের মেয়াদ বাড়ানো হয় এবং কার্যক্রমের সফলতা নিশ্চিত করতে পারি।

  • টেকনিক্যাল শিক্ষার্থীদের ৬ থেকে ৩ দফা দাবিতে হুঁশিয়ারি, সড়ক অবরোধ অব্যাহত

    টেকনিক্যাল শিক্ষার্থীদের ৬ থেকে ৩ দফা দাবিতে হুঁশিয়ারি, সড়ক অবরোধ অব্যাহত

    তেজগাঁও সাত রাস্তা মোড়ে সড়ক অবরোধ করে চলমান আন্দোলন আরও জোরদার করেছে টেকনিক্যাল শিক্ষার্থীরা। শুরুতে তাঁদের ছয়দফা দাবি থাকলেও আজ (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে তারা তা থেকে সংকুচিত হয়ে তিন দফা দাবির ওপর গুরুত্বারোপ করে নতুন জোটবদ্ধ আন্দোলন শুরু করেছেন। তাদের দাবি জানাতে আছেন সড়ক অবরোধের মাধ্যমে, যা ইতিমধ্যে আশপাশের এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষজনের চলাচলে বড় ধরনের অসুবিধা দেখা দিয়েছে।

    মূল উদ্বেগের বিষয় হলো, ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে গুলি চালানো ও হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনায় দ্রুত বিচার দাবি করছে শিক্ষার্থীরা। তাদের তিন দফার প্রথমে রয়েছে, সেইসব হেলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত থেকে দ্রুত কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা। দ্বিতীয় দফা হিসেবে তারা সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের অযৌক্তিক দাবি ও তপস্যা চালানোর কিছু কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, কারণ এসব দাবি ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে এবং সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

    তৃতীয় দফায় শিক্ষার্থীরা কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের ছয় দফা দাবির রূপরেখা ও সুপারিশ অনুযায়ী সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবি তুলেছেন। তাদের বক্তব্য, এখনও যেসব দাবির বাস্তবায়ন হয়নি, সেগুলোর দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

    সড়ক অবরোধের কারণে তেজগাঁও এলাকায় যানজট সৃষ্টি হওয়ায় সাধারণ মানুষ ও যানবাহনচালকদের ভোগান্তি হয়। তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাদের আন্দোলন চলমান থাকবে এবং দাবি পূরণের জন্য এই প্রতিবাদ অব্যাহত রাখতে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ। এই আন্দোলন ও দাবিগুলোর বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

  • আনিসুল হকসহ ৮ জনকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার

    আনিসুল হকসহ ৮ জনকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর দুটি থানায় পৃথক তিনটি মামলায় সাবেক মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যসহ আটজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি নির্দেশনা জারি হয়েছে। আজ বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর), ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নজরুল ইসলাম তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন।

    অভিযুক্তরা হলেন: সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, মো. আব্দুর রাজ্জাক, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, সাবেক সংসদ সদস্য সায়েদুল হক সুমন, কাজী মনিরুল ইসলাম মনু এবং নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার।

    প্রথমে, যাত্রাবাড়ী থানার রিয়াজ হত্যা মামলায় আনিসুল হক, আমির হোসেন আমু, আব্দুর রাজ্জাক, রাশেদ খান মেনন, ইনু, সুমন ও মনুকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তাছাড়া, একই থানায় জুবাইদ ইসলাম হত্যা মামলায় মনু এবং ভাটারা থানার নাঈম হাসান নিলয় হত্যাচেষ্টা মামলায় নজরুল ইসলামকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    আজ তাদের আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করলে আদালত সেটি গ্রহণ করেন।

    অভিযোগের বিবরণে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গত বছর ৫ আগস্ট, যাত্রাবাড়ী থানার শহীদ ফারুক রোডে আন্দোলনে অংশগ্রহণের সময় মো. রিয়াজ নামে এক ছাত্র গুলিবিদ্ধ হন। তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের বোন ফারজানা বেগম এ বিষয়ে ওই বছর ২২ জুলাই যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন।

    নজরুল ইসলাম উল্লেখ করেন, এই বছরের ১৯ জুলাই বিকেলে ভাটারার নতুন বাজারের ফরাজী হাসপাতালে অনুষ্ঠিত এক মিছিলে অংশ নেন নাঈম হাসান নিলয়, যেখানে হামলার শিকার হয়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। দীর্ঘ চিকিৎসার পরে ১৪ অক্টোবর তিনি শেখ হাসিনাসহ ৭৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

    এছাড়া, মনুর মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ী থানার শনির আখড়া এলাকায় বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময় জুবাইদ ইসলাম গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। সেই ঘটনায় ২৩ ফেব্রুয়ারি মামলা দায়ের করা হয়।

  • চট্টগ্রামে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ১০ শ্রমিক দগ্ধ

    চট্টগ্রামে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ১০ শ্রমিক দগ্ধ

    চট্টগ্রামের চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী চরপাড়া এলাকায় গভীর দুঃখজনক দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। আজ বুধবার ভোর ৬টার দিকে চন্দনাইশের বৈলতলী ইউনিয়নের দক্ষিণ বৈলতলী আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাশে অবস্থিত চরপাড়া এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ১০ জন শ্রমিক দগ্ধ হন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চমেকে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে, কেউ কেউ শরীরের ৪০ শতাংশ, কেউ আবার ৭০ শতাংশের বেশি দগ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে। দগ্ধ শ্রমিকরা হলেন- মাহবুবুর রহমান (৪৫), মো. সৌরভ রহমান (২৫), মোহাম্মদ কফিল (২২), মোহাম্মদ রিয়াজ (১৭), মোহাম্মদ ইউনুস (২৬), মোহাম্মদ আকিব (১৭), মো. হারুন (২৯), মোহাম্মদ ইদ্রিস (৩০), মোহাম্মদ লিটন (২৮) এবং মোহাম্মদ ছালেহ (৩৩)।সূत्रের আরও জানা গেছে, চন্দনাইশ থানাধীন বৈলতলী এলাকায় মাহববুর রহমানের গ্যাসের দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার আনলোডের সময় শ্রমিক চেতনায় সিগারেট ধরানোর ফলে হঠাৎ এক বিস্ফোরণ ঘটে। এতে মুহূর্তেই ব্যাপক ধোঁয়া এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে, ফলে ১০ জন শ্রমিক দগ্ধ হন। ডা. মোহাম্মদ খালেদ, চমেক হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক, জানান, দগ্ধ ১০ জনকে এখানে আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর, কারণ বেশিরভাগের শ্বাসনালী পুড়ে গেছে এবং শরীরের অনেক অংশ দগ্ধ হয়েছে। এদিকে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মো. আলাউদ্দিন বলেন, আহত শ্রমিকদের মধ্যে তিন থেকে চারজনের অবস্থা বিশেষভাবে আশঙ্কাজনক। তিনি জানিয়েছেন, তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এক শ্রমিকের জ্বালানো সিগারেট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে, যার ফলে গুদামের ভিতরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। চন্দনাইশের ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার সাবের আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং প্রায় ঘণ্টাখানেকের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত শ্রমিকদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই দুর্ঘটনার মূল কারণ তে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ শিক্ষক ও ২০ কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

    নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ শিক্ষক ও ২০ কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

    জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগ অনুসারে ১৯ জন শিক্ষক ও ২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এই পদক্ষেপটি ঘটে যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কমিটি তদন্তের অংশ হিসেবে এই নোটিশ জারি করে। শিক্ষকদের কাছে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের উত্তরের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে।

    নোটিশ পেয়েছেন বিভিন্ন বিভাগের অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপক। এর মধ্যে রয়েছেন বাংলা, দর্শন, সংগীত, কম্পিউটার সায়েন্স, ইংরেজি ও অন্যান্য বিষয়ে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষকরা। যেমন— ফোকলোর বিভাগের ড. মুহাম্মদ মেহেদী উল্লাহ, থিয়েটার ও পারফরম্যান্স বিভাগের মো. মুনফিজুর রহমান (হিরক মুশফিক), সংগীত বিভাগের ড. জাহিদুল কবীর, ড. মুশাররাত শবনম, থিয়েটার বিভাগের নুসরাত শারমিন তানিয়া, এমতান আরও অনেকে।

    বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা শিক্ষকদের বক্তব্য নেওয়ার জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি উত্তর সন্তোষজনক না হয়, তবে পরবর্তী আইনগত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    প্রশাসনের সূত্র বলছে, গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে তদন্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তিনটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে—অনারা চেয়েছিলেন সিন্ডিকেটের সদস্যরা। এই কমিটিগুলোর নেতৃত্বে আছেন সিন্ডিকেট সদস্যরা, যেমন মাহবুবুর রহমান, জাকির হোসেন খান ও অধ্যাপক আকতার হোসেন মজুমদার। এসব কমিটিকে বিভিন্ন অভিযোগ ও ঘটনাপ্রমাণ অনুসন্ধানের জন্য সরাসরি কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

    রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান জানান, তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধে শোকজ করা হয়েছে। এখন তারা তাদের জবাব দিচ্ছেন এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, তদন্ত কমিটিগুলোর কাছ থেকে প্রাথমিক রিপোর্ট পাওয়ার পর, পরিস্থিতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    নোটিশ প্রাপ্ত শিক্ষকদের নাম বা বিস্তারিত জানানো হয়নি বলে উল্লেখ করেছেন রেজিস্ট্রার।

  • নির্বাচনের পরেও বিচার কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ও রোডম্যাপ চান নাহিদ

    নির্বাচনের পরেও বিচার কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ও রোডম্যাপ চান নাহিদ

    নাহিদ ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক, নির্বাচনের পরও জুলাই হত্যা মামলাসহ গত ১৫ বছরের বিভিন্ন হত্যা, নির্যাতন ও গুমের মামলার বিচার অব্যাহত রাখার জন্য সরকারের কাছে স্পষ্ট করে প্রতিশ্রুতি ও একটি রোডম্যাপ চেয়েছেন। এই দাবির মাধ্যমে তিনি নিশ্চিত করতে চান যে, গণতন্ত্রের প্রতিশ্রুতি রক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এখনও তার মূল লক্ষ্য।

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশে এক সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে মঙ্গলবার হাজির হয়েছিলেন নাহিদ ইসলাম। তবে অন্য একজন সাক্ষীর জেরায় সময় বেশি লাগার কারণে তিনি ফিরে যান, কারণ আদালতে সাক্ষ্য দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ছিল। নিজের উপস্থিতিতে সাক্ষ্য না দিয়ে তিনি ফিরে যাওয়ার কারণ হিসেবে বলেন, তার লক্ষ্য হলো এর থেকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করা।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এই মামলার রায় হলে আমি রাজনৈতিকভাবে ন্যায়বিচার পাবো। তবে এর পাশাপাশি গত ১৫ বছরে সারাদেশে ঘটে যাওয়া গণহত্যা, নির্যাতন, গুমের সব মামলা অব্যাহত রাখতে হবে। নির্বাচনের পরেও যেন বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা না আসে, সেটাও আমাদের দাবি। এই দায়িত্ব আমাদের এই সরকারের।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘ট্রাইব্যুনালের বিচার কাজে আমি সন্তুষ্ট। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।’

    অভিযোগকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক ও জনমত গড়ে তুলতে হবে বলেও জানান নাহিদ। তিনি বলেন, ‘রায়ের পরে অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে এনে খোদ সরকারই শাস্তি নিশ্চিত করবে, এটা অবশ্যই আইনসঙ্গত।’

    আজকের আদালতে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের জেরা চলছিল। দেখা যায়, শেখ হাসিনা ও কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন জেরার অংশ হিসেবে এই সাক্ষ্য নিচ্ছিলেন।

    উল্লেখ্য, গত ১০ জুলাই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন স্বীকার করেছেন, আন্দোলনের সময় তিনি যে হত্যা, গণহত্যার অভিযোগের স্বীকার, তা সত্য। তিনি জানান, তিনি এই বিষয়ে আদালতে বিস্তারিত তুলে ধরতে প্রস্তুত।

    বিচারপতি মোঃ গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ এই অভিযোগ গঠনের সময় মামুনের স্বীকারোক্তি গ্রহণ করে। একই দিন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অন্যান্য আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন হয়। এছাড়াও, অভিযোগ থেকে আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ হয়।

    প্রসিকিউটর গাজি মনোয়ার হোসেন জানান, মাহমুদুর রহমানের জেরা শেষ না হওয়ার কারণে আজ তিনি তার সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন না। তবে, আঞ্চলিক ক্ষোভ, রাজনৈতিক পার্শ্বচরিত্র ও প্রমাণের ভিত্তিতে মামলার আনুষাঙ্গিক কাজ চলমান থাকবে।

    ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট, কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শেখ হাসিনার পতনের ঘোষণা দেন নাহিদ ইসলাম। এরপর, ৫ আগস্ট তিনি ক্ষমতা থেকে অপসারিত হন। এই মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন। এর অভিযোগপত্র মোট আট হাজার সাতশত চুরাশি পৃষ্ঠার, যেখানে তথ্যসূত্র দুই হাজার আড়াই পৃষ্ঠা, দালিলিক প্রমাণাদি চার হাজার পঞ্চাশ পৃষ্ঠা এবং শহিদদের তালিকার বিবরণ দুই হাজার সাতশ চুরাশি পৃষ্ঠার। এই মামলায় মোট ৮১ জন সাক্ষী রয়েছেন।

  • ভারত জাহাজ ভাঙা শিল্পে বাংলাদেশের ওপর আধিপত্য হারাতে চায়

    ভারত জাহাজ ভাঙা শিল্পে বাংলাদেশের ওপর আধিপত্য হারাতে চায়

    বৈশ্বিক জাহাজ ভাঙা শিল্পে শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখার লড়াইয়ে এগিয়ে এসেছে ভারত। বাংলাদেশকে এই খাতে আমাদের বৃহৎ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মনে করে ভারতের সরকার সম্প্রতি এক নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করছে, যা দেশের বাজার দখলে আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ নেবে।

    বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তানের কাছ থেকেও বাজারের অংশ ফিরে পেতে ভারতের এই উদ্যোগ বিশেষ লক্ষ্যপূরণে সহায়ক হবে। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সাল থেকে সারা দশ বছর ধরে দেশের জাহাজ ভাঙা শিল্পে দারুণ বিপ্লব আনার জন্য বিপুল অঙ্কের প্রণোদনা দেওয়া হবে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভারত তাদের জাহাজ ভাঙার খাতের অবকাঠামো ও ব্যবসা আরও তরতাজা করতে প্রায় ৪০ বিলিয়ন বা চার হাজার কোটি রুপি অর্থ সাহায্য ঘোষণা করতে যাচ্ছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশটি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের কাছ থেকে বাজারের দখল ফিরিয়ে আনতে চাইছে বলে সূত্রগুলি জানিয়েছে।

    প্রস্তাবিত এই প্রণোদনা ২০২৬ সাল থেকে শুরু হয়ে পরবর্তী দশ বছর অব্যাহত থাকবে, এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রিসভা চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে এই প্রস্তাবে অনুমোদন দিতে পারে।

    প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায়, জাহাজ মালিকরা যদি পুরোনো জাহাজ ভারতে নিয়ে আসেন, তবে স্ক্র্যাপ মূল্যের প্রায় ৪০ শতাংশের সমপরিমাণ ক্রেডিট নোট পাবেন। এই নোট তিন বছর পর্যন্ত বৈধ থাকবে এবং মালিকরা ভারতে নির্মিত নতুন জাহাজ কিনতেও এটি ব্যবহার করতে পারবেন। একাধিক নোট একসাথে ব্যবহার বা বিক্রির সুবিধাও থাকছে।

    এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ভারতের জাহাজ পুনর্ব্যবহার খাতে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করা। সরকারী তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী ভাঙা জাহাজের এক-তৃতীয়াংশ ভারত থেকে এসেছে, যেখানে বাংলাদেশ এককভাবে ৪৬ শতাংশ দখল করে রেখেছে।

    তবে, ভারতের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় বা প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

    এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে ভারতের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত আলাং শিপইয়ার্ড বিশ্বে সবচেয়ে বড় জাহাজ ভাঙার কেন্দ্র। এই শিপইয়ার্ড থেকে ভারতের জাহাজ ভাঙার মোট ব্যবসার ৯৮ শতাংশ আসে। তবে, সস্তা শ্রম ও পর্যাপ্ত শ্রমশক্তির কারণে প্রতিবেশী দেশগুলো—বিশেষ করে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান—এই বাজারের বড় অংশ দখল করে নিয়েছে।

    কিন্তু সম্প্রতি এই খাতটি কিছুটা ঘুরে দাড়ানোর পথে। রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে তেল ট্যাঙ্কার ভাঙার কাজ কমে গিয়েছিল, তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক সংকট ও পরিবর্তিত জাহাজ রুটের কারণে ভাড়া বাড়ছে। এর ফলে মালিকরা পুরোনো জাহাজের জীবনকাল দীর্ঘায়িত করতে সচেষ্ট হয়েছেন।

    সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে ব্যবসা সরিয়ে আনতে ভারতের পূর্ব উপকূলে নতুন জাহাজ ভাঙার কল, বা ঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনাও চলছে।

    এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার এই মাসে ২৫০ বিলিয়ন রুপি সমপরিমাণ সমুদ্রসংশ্লিষ্ট উন্নয়ন তহবিল অনুমোদন করতে যাচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হলো দেশীয় জাহাজ নির্মাণে উৎসাহ দেওয়া ও বিদেশি জাহাজের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো। এই তহবিলটি ২০২৬ সালের মার্চ মাসে শেষ হওয়া বাজেটবর্ষের জন্য নির্ধারিত, যা দেশের সমুদ্রশিল্পের উন্নতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।