Author: bangladiganta

  • তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে: হুমায়ুন কবীর

    তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে: হুমায়ুন কবীর

    পররাষ্ট্র বিষয়ক তার উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর আজ বৃহস্পতিবার (২ أكتوبر) সাংবাদিকদের জানান, ফেব্রুয়ারির মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নির্ধারিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন দলটি তারেক রহমানের নেতৃত্বে অংশ নেবে। তিনি জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এই ষষ্ঠ নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘তারেক রহমান খুব শিগগিরই দেশে ফিরবেন এবং তার ফেরার বিষয়ে কোন শঙ্কা নেই।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘নির্বাচনের জন্য নেতৃস্থানীয় প্রস্তুতি চলছে এবং ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘নিউইয়র্কে এনসিপির উপর হামলার ঘটনায় প্রমাণ হয়েছে, যারা এই হামলা চালিয়েছেন তারা একদমই সন্ত্রাসী। এটি আবারও প্রমাণ করল যে, আওয়ামী লীগ একটি সন্ত্রাসী সংগঠন।’

  • নির্বাচন নিয়ে জনমনে শঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে উপদেষ্টার মন্তব্য

    নির্বাচন নিয়ে জনমনে শঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে উপদেষ্টার মন্তব্য

    বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, জাতিসংঘে প্রধান উপদেষ্টার আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তার যে মন্তব্য করেছেন, তা দেশের আগামী জাতীয় নির্বাচনের ব্যাপারে মানুষের মনে অস্থিরতা এবং শঙ্কা আরও বৃদ্ধি করছে। আজ বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকাস্থ সেনবাগ ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ফারুক উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে সামনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে গভীর শঙ্কা। জাতিসংঘের মুখপাত্র আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, অনেকের কাছ থেকে আরও পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার পরামর্শ তিনি গ্রহণ করেছেন। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি আসলে কি বার্তা দিতে চাচ্ছেন, সেটিই এখন প্রশ্নের মুখে। তার এই মন্তব্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, যারা পাহাড়ে অশান্তি সৃষ্টি করছে, দেশের মানুষের মধ্যে বিভেদ ও অস্থিতিশীলতা তৈরি করার চেষ্টা চালাচ্ছে, তারা মূলত দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্যই এই কৌশল অবলম্বন করছে। একজন জনতা বলছেন, ‘আওয়ামী লীগ তো নিষিদ্ধ—তারা কি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে?’ ব্যক্তিরা এই ধরনের প্রশ্ন তুললেও, সরকারের আইন উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেছে, তাঁরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে। এর ফলে পরিস্থিতি জটিলতাময় হয়ে উঠছে।

    ফারুক প্রশ্ন করেন, পাহাড়ি অঞ্চলে এই অশান্তি কারা সৃষ্টি করছে—তা খুঁজে বের করতে হবে। তিনি বলেন, পাঁচ বছর নয়, আরও ২৫ বছর ক্ষমতায় থাকাই বড় কথা নয়। শেখ হাসিনা দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর ধরে দেশের শাসন করছে, এ সময়ের মধ্যে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কেমন, তা বিবেচনা করতে হবে। তাঁদের ক্রয়ক্ষমতা, অর্থনীতি, আইন-শৃঙ্খলা ও ব্যাংকখাতের অবস্থা সবই গুরুত্বের বিষয়।

    আমার মনে রাখতে হবে, শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও স্বৈরাচারী শাসনের অভিযোগ উঠেছে। এখন আমাদের জন্য সবচেয়ে জরুরি দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতি প্রতিষ্ঠা।

    ফারুক বলেন, উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে— আপনি এক বছর তিন মাস ধরে ক্ষমতায় আছেন। এই সময়কালে সরকার বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে, সেই অর্থের কী অবস্থা, এই প্রশ্ন উঠছে। ব্যাংকগুলোর অসহনীয় অবস্থা কেনা, এইসব বিষয় সমাধান করতে পারছেন না—এগুলো দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, আপনি একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি, আমাদের দলের প্রতি আমাদের বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে, জনগণ যদি আপনাকে আগামী পাঁচ বছর ক্ষমতায় রাখতে চান, তাহলে প্রশ্ন উঠে, কি সেই পাঁচ বছর? যেহেতু এটি নির্বাচনের খুব কাছে, এমন সময় এই ধরনের বক্তব্য দেওয়া ঠিক না।

    ফারুক আরও উল্লেখ করেন, পাহাড়ে অশান্তি চলমান, দুর্গাপূজার সময় অশান্তির ষড়যন্ত্র ছিল—এসব বিষয়কে অগ্রাহ্য করা যায় না। তবে তিনি মনে করেন, বাংলাদেশে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে কেউ সফল হয়নি। তিনি দাবি করেন, দেশের অশান্তির মূল শক্তি হলো আওয়ামী লীগ এবং ভারতের প্রভাব।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, আসন্ন নির্বাচন সব দিক থেকে একটি কঠিন পরীক্ষা হবে। উপদেষ্টার আশেপাশে অনেক ষড়যন্ত্রকারী আছে। এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো মুশকিল নয়, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

    প্রথম আলোচনায় ঢাকাস্থ সেনবাগ ফোরামের সভাপতি এবি এম ফারুকের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হোসেন সেলিম।

  • নির্বাচন পেছানোর চক্রান্তে এনসিপি নেই: সারজিস আলম

    নির্বাচন পেছানোর চক্রান্তে এনসিপি নেই: সারজিস আলম

    নির্বাচন পেছানোর কোনো চক্রান্তে এনসিপি জড়িত নেই বলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের প্রধান সংগঠক সারজিস আলম। তিনি বলেন, দলটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায় এবং এই লক্ষ্যেই কাজ করছে। মঙ্গলবার পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিভিন্ন দুর্গামন্দির পরিদর্শন শেষে হাফিজাবাদ ইউনিয়নের হুদুপাড়া দুর্গামন্দির প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সাথে আলাপে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি স্থানীয় বেশ কয়েকটি দুর্গামন্দিরে আর্থিক সাহায্যও প্রদান করেন।
    সারজিস আলম এসময় আরও বলেন, ‘আগামী ফেব্রুয়ারির শুরুতে যদি অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন আয়োজন করে, তাহলে আমাদের কোনো আপত্তি থাকবে না। তবে আমরা চাই, নির্ধারিত বিচার ও জুলাই সনদের ভিত্তিতে মৌলিক সংস্কার কার্যকর করা হোক, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
    শাপলা প্রতীক সম্পর্কেও তিনি স্পষ্ট করেন, প্রতীক পাওয়ার বা না পাওয়ার বিষয়টি নির্বাচন পেছানোর সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বলেন, ‘আমরা আইনগতভাবে শাপলা প্রতীক পাওয়ার জন্য যোগ্য। নির্বাচন কমিশনের উচিত বাইরের চাপ উপেক্ষা করে আইন অনুযায়ী আমাদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া।’
    সারজিস আলম অতীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের খাস জমি ও ধর্মীয় সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলের বিভিন্ন চেষ্টার কথাও উঠে বলেন। এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের কাছে একটি কমিশন গঠনের দাবি জানানো হবে বলে তিনি জানান।
    অন্যদিকে, প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের যথাযথ শাস্তি না পাওয়ায় ষড়যন্ত্রকারীদের সুযোগ নেওয়ার বিষয়েও তিনি তীব্র সমালোচনা করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান তিনি।
    অন্তর্জাতিক বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন, বলেন, প্রতিবেশী এক দেশের কিছু গণমাধ্যম আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স(এআই) ব্যবহারে বিকৃত ছবি প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে, যা ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করার অপপ্রয়াস। তবে, তিনি আশ্বস্ত করেন যে, পূজামণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি সন্তোষজনক এবং পুরো পরিবেশ শান্তিপূর্ণ। সমাজে ধর্মীয় সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন অটুট থাকবে বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন।

  • কাপ্তাইয়ে দু’টি নৌকাডুবি: শিশুসহ ৩ মরদেহ উদ্ধার

    কাপ্তাইয়ে দু’টি নৌকাডুবি: শিশুসহ ৩ মরদেহ উদ্ধার

    রাঙামাটির লংগদু ও নানিয়ারচর এলাকার কাপ্তাই হ্রদে এক দিনের মধ্যে দুটি নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটেছে ঝড়ের কারণে। ঘটনার সময় উপস্থিত ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে শিশুসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। জানা গেছে, এখনও উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে এবং দুই জনের সন্ধান চলছে।

    বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর, আইএসপিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে আকস্মিক ঝোড়ো হাওয়ার কারণে রাঙামাটির লংগদু এলাকার বিএফডিসি ঘাট, ভাইবোনছড়া, লংগদু লঞ্চঘাট, গুইলশাখালি বিল ও ভাসান্যাদমে একাধিক নৌকা ডুবে যায়। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী দ্রুত মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যৌথ উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ওই রাতে উদ্ধারকাজে মোট ৫ জন নিখোঁজের মধ্যে ২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয় এবং একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরের দিন, ১ অক্টোবর, সকালে আরও দুইজনের মরদেহ উদ্ধার হয়।

    অপরদিকে, একই রাতে নানিয়ারচর উপজেলার মহাজনপাড়ায় আরও একটি নৌকা ডুবে যায়। সেই নৌকায় ৬জন যাত্রী ছিলেন, তবে ৪ জন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও ডেনিজেন চাকমা ও জিতেশ চাকমা নিখোঁজ রয়েছেন। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয়রা নৌকাটি উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, তবে এখনও দুজনের সন্ধান মেলেনি। ডুবুরি দল ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত ও সাহাসীক পদক্ষেপের ফলে দুর্ঘটনার পর স্বল্প সময়ের মধ্যেই উদ্ধার কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সেনাবাহিনী শুধুমাত্র নিরাপত্তা নয়, মানবিক দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও সচেষ্ট।

  • ইসি বলল, লাউ-চিংড়িসহ ৫০ প্রতীক থেকে অনুকূলে প্রতীক বাছাই করতে হবে এনসিপিকে

    ইসি বলল, লাউ-চিংড়িসহ ৫০ প্রতীক থেকে অনুকূলে প্রতীক বাছাই করতে হবে এনসিপিকে

    নতুন নির্বাচনী নির্দেশনা অনুযায়ী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) উচিত লাউ ও চিংড়িসহ মোট ৫০টি প্রতীকের তালিকা থেকে নিজের পছন্দের প্রতীক নির্ধারণ করে নিতে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাদের এ ব্যাপারে অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে আগামী ৭ অক্টোবরের মধ্যে দলটি দাখিল করতে পারে।

    গত মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর), ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, তারা এনসিপিকে চিঠি দিয়ে এই নির্দেশ দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে, ইসির উপ-সচিব মো. রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দলটির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলামের কাছে পাঠানো হয়।

    চিঠিতে জানানো হয়, এনসিপি জাতীয় নাগরিক পার্টি হিসেবে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে, যা প্রাথমিকভাবে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। দলটির আবেদনপত্রে শাপলা, কলম এবং মোবাইল ফোনের প্রতীকগুলো তালিকাভুক্ত ছিল। তবে বর্তমান নির্বাচন আইন অনুযায়ী, ‘শাপলা’ প্রতীকটি দলটির জন্য বরাদ্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয়।

    অতএব, দলটিকে জানানো হয় যে, দেশের প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত প্রতীকের তালিকা থেকে যে কোন একটি প্রতীক পছন্দ করে নিতে, যা দলটির জন্য সংরক্ষিত থাকবে। তবে যদি দলটি পরবর্তীতে অন্য কোন প্রতীক পেতে চায়, তাহলে তা প্রকাশ করতে হবে।

    এমতাবস্থায়, ইসি তাদের নির্দেশ দেয় যে, এই জটিলতা নিরসনে এবারে দলটি নতুন করে প্রতীক নির্বাচন করে নিক। এছাড়া, দলটির নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার জন্য, এই পছন্দটি আগামী ৭ অক্টোবরের মধ্যে লিখিতভাবে ইসিকে জানাতে বলা হয়েছে।

    নির্বাচনী প্রতীকের তালিকায় থাকা ৫০টি প্রতীক হলো- আলমিরা, খাট, উটপাখি, ঘুড়ি, কাঁপ-পিরিচ, চশমা, দালান, বেগুন, চার্জার লাইট, কম্পিউটার, জগ, জাহাজ, টিউবওয়েল, টিফিন ক্যারিয়ার, টেবিল, টেবিল ঘড়ি, টেলিফোন, ফ্রিজ, তবলা, বক, মোরগ, কলম, তরমুজ, বাঁশি, লাউ, কলস, চিংড়ি, থালা, বেঞ্চ, লিচু, দোলনা, প্রজাপতি, বেলুন, ফুটবল, ফুলের টব, মোড়া, বালতি, কলা, বৈদ্যুতিক পাখা, মগ, মাইক, ময়ূর, মোবাইল ফোন, শঙ্খ, সেলাই মেশিন, সোফা, স্যুটকেস, হরিণ, হাঁস ও হেলিকপ্টার।

    ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথমে এনসিপি শাপলা, কলম ও মোবাইল ফোনের যেকোনো একটি প্রতীক গ্রহণের জন্য আবেদন জানায়। কিছুদিন পরে, তারা শাপলা অনুষ্ঠানে সংশোধন করে শাখা, সাদা শাপলা বা লাল শাপলা চায় বলে জানায়।

    একই সময়ে, ইসি সচিব গণমাধ্যমকে বলেন, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার তালিকায় শাপলা বা সংশ্লিষ্ট প্রতীকগুলো না থাকায়, এনসিপি এই প্রতীক পাবে না।

    এমন পরিস্থিতিতে, একটি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে এনসিপি ইসিতে এসে শাপলা প্রতীক না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়। তবে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেন, রাজনীতিবিদরা অনেক কথা বলেন, তাদের অধিকার আছে বলেই জানান, আমরা কোনো জবাব দিতে পারব না।

    বর্তমানে ইসিতে নিবন্ধিত দলের সংখ্যা ৫২টি, যার মধ্যে আওয়ামী লীগসহ। ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনের আগে নিবন্ধনের ব্যবস্থা চালু হয়। এখন পর্যন্ত ৫৬টি দল নিবন্ধন পেলেও, অনেকের শর্ত পূরণে ব্যর্থতা কিংবা আদালতের সিদ্ধান্তে নিবন্ধন বাতিল হয়েছে বলে জানানো হয়।

    এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ও জাগপা আবার ফিরে পেয়েছে তাদের নিবন্ধন। ফলে, মোট ৫৬টি দলের জন্য নিবন্ধিত প্রতীকগুলো বরাদ্দ হয়েছে। অন্যান্য প্রতীকগুলো এখন থেকে নতুনদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হবে, যারা নির্বাচনী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন।

  • ভাষাসৈনিক, কবি ও প্রাবন্ধিক আহমদ রফিক আর নেই

    ভাষাসৈনিক, কবি ও প্রাবন্ধিক আহমদ রফিক আর নেই

    ভাষাসৈনিক, প্রাবন্ধিক, কবি এবং রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞ আহমদ রফিক আজকাল নেই। তিনি রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ১২ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যाग করেন। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর বিশেষ সহকারী মো. রাসেল। চিকিৎসকদের মতে, মৃত্যুর সাত মিনিট আগে তার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। বর্তমান বয়স ৯৬ বছর।

    অ আহমদ রফিকের শারীরিক অবস্থা অবনতি হওয়ায় বুধবার বিকেলে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। বারডেম হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধান ডা. কানিজ ফাতেমার তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। তার পাশাপাশি কিডনির সমস্যায় ও সম্প্রতি বেশ কয়েকবার শোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

    এর আগের দিন, ১১ সেপ্টেম্বর, ল্যাবএইড হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাঁকে পান্থপথের হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা না থাকায়, গত রোববার তাকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

    আহমদ রফিক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গাউসনগরে এক ভাড়া বাড়িতে একাই বাস করতেন। ১৯২৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করে তিনি ভাষাসৈনিক, কবি ও প্রাবন্ধিক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। তাঁর জীবনে ২০০৬ সালে স্ত্রীর মৃত্যু হয় এবং তিনি নিঃসন্তান। তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহে বিপুল সংখ্যক বই রয়েছে, যা তার জীবদ্দশায় গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।

    তিনি শতাধিক গ্রন্থ রচনা ও সম্পাদনা করেছেন। ভাষা আন্দোলনের অন্যতম প্রাবন্ধিক ও ইতিহাসবিদ হিসেবে তার ভূমিকা অপরিসীম। তিনি একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন। দুই বাংলাতেই তার রবীন্দ্রচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে; কলকাতা র টেগর রিসার্চ ইন্সটিটিউট থেকে তাকে ‘রবীন্দ্রতত্ত্বাচার্য’ উপাধি দেওয়া হয়।

    ২০১৯ সাল থেকে তার দৃষ্টিশক্তি কমতে শুরু করে। অস্ত্রোপচার হলেও ফল প্রত্যাশামাফিক হয়নি। ২০২৩ সালে তিনি প্রায় দৃষ্টিহীন অবস্থায় চলে আসেন। এর আগে ২০২১ সালে পা ভেঙে যাওয়ার পর থেকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ভাষা আন্দোলনে তার অবদানের জন্য দেশের বুদ্ধিজীবী মহলের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসা ও রাষ্ট্রীয় সহায়তার দাবি জানানো হয়।

    শেষে জানা গেছে, মৃত্যুর আগে তিনি তার দেহ ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের মেডিকেল কলেজে দান করে গেছেন।

  • খাগড়াছড়ির দু’টি উপজেলায় সহিংসতার ঘটনায় ৩ মামলা, পুলিশের বাদী, আসামির সংখ্যা ১,২০০

    খাগড়াছড়ির দু’টি উপজেলায় সহিংসতার ঘটনায় ৩ মামলা, পুলিশের বাদী, আসামির সংখ্যা ১,২০০

    খাগড়াছড়ির সদর ও গুইমারা উপজেলার সংঘর্ষের ফলে সৃষ্টি হয়েছে অশান্তির পরিস্থিতি, যার সূত্রপাত কিশোরী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের প্রতিবাদে। এই ঘটনার জেরে বুধবার রাতেই পুলিশ তিনটি মামলা দায়ের করেছে। প্রথম মামলাটি খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ১৪৪ ধারা তেড়ে হামলা, ভাঙচুর ও সহিংসতার অভিযোগে দায়ের হয়েছে। অন্যদিকে গুইমারা উপজেলায় তিনজনের হত্যাকাণ্ড এবং ১৪৪ ধারা অমান্য করে সংঘর্ষের জন্য আরেকটি মামলা করা হয়েছে। এ মামলায় প্রায় ১,২০০ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

    অপরদিকে, ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠছে খাগড়াছড়িতে। শহর ও উপশহরগুলোতে মানুষের আনাগোনা ও যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে। সব ধরনের যানবাহন শান্তিপূর্ণভাবে চলাচল করছে। তবে এখনো খাগড়াছড়ি সদর ও গুইমারা উপজেলায় ১৪৪ ধারা কার্যকর রয়েছে।

    নাশকতা রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অস্থায়ী নিরাপত্তা চৌকি বসানো হয়েছে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্তে চেকিং চলছে। পুলিশ সুপার মোঃ আরেফিন জুয়েল জানান, এসব ঘটনার তদন্তে পুলিশ কাজ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত যে কেউ মামলা করতে চাইলে তারা মামলা করবেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে।

    জেলা প্রশাসক এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার বলেন, পরিস্থিতি এখনো কিছুটা উদ্বেগজনক থাকায় ১৪৪ ধারা জারি রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে তা প্রত্যাহার করা হবে। পর্যাপ্ত স্বাভাবিকতা ফিরতে সময় লাগবে।

    ঘটনার প্রেক্ষাপটে জানা গেছে, ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সদর থানার সিঙ্গিনালা এলাকায় কিশোরী প্রাইভেট পড়া শেষে ফেরার পথে কয়েকজন যুবক তার উপর হামলা চালিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটায়। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীর বাবা থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্তে সন্দেহভাজন হিসেবে শয়ন শীল (১৯) নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    ধর্ষণের অভিযোগের কারণে ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’ নামে একটি সংগঠন তিন পার্বত্য জেলায় অবরোধের ডাক দেয়, যা দীর্ঘদিন চলে। তবে সম্প্রতি তারা অবরোধ তুলে নিয়েছেন। ডাক্তারি পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায়নি যে, ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে, বলে জানিয়েছেন খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের।

  • বৃষ্টির মধ্যেও সূক্ষ্মভাবে তাপমাত্রা বাড়ছে দিন দিন

    বৃষ্টির মধ্যেও সূক্ষ্মভাবে তাপমাত্রা বাড়ছে দিন দিন

    দেশের সব বিভাগে অতিভারী বৃষ্টির আভাস থাকলেও খুশির খবর হলো, দিনের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে সামান্য বাড়ছে। তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। বৃহস্পতিবার আবহাওয়া অফিস এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টি হলেও এ সময় তাপমাত্রার পরিবর্তন আসতে পারে।

    আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ ওমর ফারুক জানিয়েছেন, পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তার সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে সকালেই গভীর নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে। বর্তমানে এটি উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। সন্ধ্যায় এটি গোপালপুর ও পারাদ্বীপের মধ্যে দিয়ে অতিক্রম করে উড়িষ্যা এবং তৎসংলগ্ন অন্ধ্র রাজ্যের উপকূলে চলে যায়।

    উল্লেখ্য, লঘুচাপের বিস্তার পূর্ব উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। মৌসুমি বাতাস বাংলাদেশে সক্রিয় অবস্থানে রয়েছে এবং প্রবল অবস্থায় রয়েছে উত্তর বঙ্গোপসাগরে।

    আজ শুক্রবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা পর্যন্ত পূর্বাভাসের অনুযায়ী, খুলনা, রংপুর, রাজশাহীর অধিকাংশ অঞ্চল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বেশিরভাগ স্থানে স্বল্প মেয়াদে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একইসাথে, সারাদেশে কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। তাপমাত্রা এখনও অনেক এলাকায় কিছুটা বাড়তে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানা গেছে, রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক জায়গায় এবং অন্যান্য বিভাগে অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বর্ষণ হতে পারে। সেই সঙ্গে কিছু জায়গায় মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্থিতিশীল থাকতে পারে।

    সোমবার (৬ অক্টোবর) পর্যন্ত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি বর্ষণ হবে, তবে আবহাওয়ার পরিবর্তনLI সম্ভব, যেখানে কিছু কিছু এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বিশেষ করে রংপুর, খুলনা, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেটে বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া কিছুটা উষ্ণ থাকতে পারে, তবে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সামগ্রিকভাবে, আগামী পাঁচ দিনে আবহাওয়ায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমতে পারে।

  • অসাধারণ শর্তে ভারতকে ট্রফি দেওয়ার ঘোষণা এসিসি সভাপতির

    অসাধারণ শর্তে ভারতকে ট্রফি দেওয়ার ঘোষণা এসিসি সভাপতির

    সাম্প্রতিক এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরেও ভারতের ক্রিকেটাররা ট্রফি হাতে দেখার সুযোগ পাননি। ভবিষ্যতেও কি তাঁরা ট্রফি পাবেন, এটি নিয়ে যেমন অনিশ্চয়তা রয়েছে, তেমনি ট্রফির জটিলতা আরও গেঁথে গেছে। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সভাপতি মহসিন নাকভি ট্রফি বিতরণে নতুন শর্ত আরোপ করেছেন। তিনি বলছেন, ভারতের পক্ষ থেকে ট্রফি নিতে হলে সূর্যকুমার যাদবকে আসতে হবে। অন্য কাউকে ট্রফি নেওয়া যাবে না। যদি ভারতীয় বোর্ড কোনও প্রতিনিধি পাঠায়, তবে ট্রফি দেওয়া হবে না। শুধু তাই নয়, ভারতের অধিনায়ককে ট্রফি নিতে থাকলে, দুবাইয়ে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সদর দপ্তরে এসে ট্রফি গ্রহণ করতে হবে।

    তীব্র আলোচনা চলাকালীন মঙ্গলবারের বৈঠকে ভারতের পক্ষ থেকে বোর্ডের সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা নাকভিকে বলেছেন, এশিয়া কাপের ট্রফি যেন দ্রুত ভারতের হাতে দেওয়া হয়। এ নিয়ে প্রথমে নাকভি বলেন, এটি বিষয় নয়, কোনও আলোচনা হবে না। এরপর ভারতীয় প্রতিনিধিরা চাপ দিতে থাকলে, তিনি জানান, সূর্যকুমার যাদবকে নিজে দুবাইয়ে হাজির হয়ে ট্রফি নিতে হবে।

    বৈঠকে এই পরিস্থিতিতে কোনও সমাধান হয়নি। ভারত চেয়েছিল, দ্রুত ট্রফি ও মেডেল পেয়ে যাবেন। ভারতীয় বোর্ডের কঠোর অভিযোগের মুখেও ট্রফির সমস্যা ব্যক্তিগত পছন্দের নয় বলে জানিয়ে দেন নাকভি। শুক্লা ও শেলার বৈঠক শেষে তাৎক্ষণিকভাবে উঠোনে চলে যান।

    বৈঠকের শুরু থেকেই শুক্লা নাকভিকে প্রশ্নous করেন, কেন ট্রফি দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, ট্রফি ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এর অর্থ এই যে, নাকভি তা নিজের সঙ্গে হোটেলে নিতে পারেন না। এই বিষয়ে সম্মতি প্রকাশ করে বোর্ডের সচিবও চেয়েছিলেন, দ্রুত ট্রফি ও মেডেল ভারতের হাতে তুলে দিতে।

    বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে। নাকভি তখন অভিযোগ করেন, তাঁকে দীর্ঘক্ষণ পুরস্কার বিতরণের অনুষ্ঠানে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল, যেন তিনি কার্টুনের মতো দেখাচ্ছিলেন। টিমের পক্ষ থেকে ট্রফি নেওয়ার মৌখিক অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু লিখিত কিছু হয়নি। তাই তিনি তখনও পুরস্কার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    অপরদিকে, ক্রিকবাজের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিনিধিরা দ্রুত একটি বৈঠক করবেন, যেখানে এই ট্রফির সমস্যা সমাধানের চেষ্টা হবে।

  • বিসিবি নির্বাচনে সরকারের অনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ

    বিসিবি নির্বাচনে সরকারের অনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠছে। গতকাল রাতে ১৫টি ক্লাবের নির্বাচন বয়কটের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। আজ সেই গুঞ্জন সত্যি হয়েছে, কারণ সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালসহ ১৫ জন প্রভাবশালী প্রার্থী নিজেদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।

    আজ সকালে প্রার্থীরা বিসিবির কার্যালয়ে এসে নিজেদের আবেদন জমা দেন। দুপুর ১২টা ছিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়। তাদের সরে দাঁড়ানোর কারণে সকাল ও দুপুরের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়।

    প্রার্থীতা প্রত্যাহারের পেছনে মূলত সরকারের হস্তক্ষেপকে দায়ী করেছেন সাবেক ক্রিকেটার ও প্রার্থী ইসরাফিল খসরু। তিনি বলেন, ‘সরকারের একটি গোষ্ঠী এখানে স্পষ্টভাবে হস্তক্ষেপ করছে। এই বিষয়টি আমাদের জন্য দুঃখজনক। শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করে এই বিষয় বিস্তারিত জানানো হবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচনের পরিবেশ মোটেও স্বাভাবিক নয়। বিসিবির নির্বাচনে এই ধরনের অস্বচ্ছতা অপ্রত্যাশিত। বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় কাউন্সিলরদের ফোন করে প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে। এছাড়াও ১৫টি ক্লাবের স্বেচ্ছাচারিতা মনোযোগযোগ্য।’

    ইসরাফিল খসরু বলেন, ‘এটি একটি স্বাভাবিক নির্বাচন প্রক্রিয়া নয়। সত্যি বলতে, আমরা নতুন বাংলাদেশে এই ধরনের নির্বাচন দেখতে পারছি না। নির্বাচন প্রক্রিয়াটি ম্যানুফেকচার করা হয়েছে বলে আমার মনে হয়। নৈতিক দিক থেকে আমি এই অবস্থানে রয়েছি।’

    সরকারের সঙ্গে সমঝোতার গুঞ্জনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ফেয়ারনেস, যৌক্তিকতা ও সমতার ভিত্তিতে সমঝোতা হয়। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না তৈরি হয়, ততক্ষণ এই বিষয়ে কোনও আলোচনা হবে না। পুরো বিষয়টাই প্রভাবিত হয়েছে।’

    তামিম ছাড়াও সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ, রফিকুল ইসলাম বাবু, সৈয়দ বোরহানুল ইসলামসহ আরও অনেক প্রভাবশালী প্রার্থী ভোট থেকে সরে দাঁড়ান। এতে ৬ অক্টোবর নির্ধারিত বিসিবি নির্বাচনের পরিস্থিতি এখন অজান্তার মধ্যে থাকে, যা ভবিষ্যত নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলে ধরছে।