Author: bangladiganta

  • বিদ্যুৎ বিল বাবদ বাংলাদেশ সরকারের কাছে বকেয়া ১৩৫ কোটি টাকা চাইলো ত্রিপুরা সরকার

    বিদ্যুৎ বিল বাবদ বাংলাদেশ সরকারের কাছে বকেয়া ১৩৫ কোটি টাকা চাইলো ত্রিপুরা সরকার

    আদানি গোষ্ঠীর পর এবার বকেয়া ঋণ শোধের জন্য ইউনূস সরকারের উপর চাপ বাড়ালো ত্রিপুরাও। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে অনুরোধ করেছে অবিলম্বে তারা যেন ১৩৫ কোটি টাকার বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে। ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কর্পোরেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্যিক চুক্তি হয়েছিল ত্রিপুরা সরকারের। এই চুক্তির মাধ্যমে ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশে পাঠানো হত বিদ্যুৎ। ত্রিপুরার বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন নাথ বাংলাদেশের বকেয়া নিয়ে মুখ খুলেছেন। তবে তিনি এ-ও জানিয়েছেন, নিয়মিত বকেয়া মিটিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, ‘‘যদিও ১৩৫ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে, তবে বাংলাদেশ নিয়মিত ভাবে বকেয়া মেটাচ্ছে।’’

    বিদ্যুৎমন্ত্রী আরও মনে করিয়ে দেন, বিদ্যুৎ বাবদ প্রতি ইউনিট হিসাবে ছ’টাকা ৬৫ পয়সা করে নেয় ত্রিপুরা সরকার। ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন লিমিটেড (টিএসইসিএল) বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভলপমেন্ট বোর্ডকে (বিপিডিবি)। কিন্তু বকেয়া টাকা ১০০ কোটি ছাড়িয়ে যেতেই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করেছিল টিএসইসিএল। চলতি বছরের মে মাসে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে গত এক বছর ধরে সময়মতো টাকা শোধ দেয়নি বাংলাদেশ। ফলে বেড়েছে বকেয়া। এর মধ্যে  বাংলাদেশে চলতে থাকা ভারতবিরোধী কার্যকলাপ ও ‘সংখ্যালঘু নির্যাতনে’র ঘটনার জেরে ইউনূস সরকারকে দ্রুত এই বকেয়া পরিশোধে  অবিহিত করা হয়েছে ত্রিপুরার তরফে। বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন ‘‘আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি বকেয়া টাকা ফিরিয়ে আনার জন্য। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে চিঠিও লিখেছি, আমি ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করেছি।’’

    এদিকে আদানিদের সঙ্গে বিদ্যুৎ নিয়ে সমস্যা চলছে বাংলাদেশ সরকারের। ২০১৭ সালে শেখ হাসিনার আমলে আদানি গোষ্ঠীর বিদ্যুৎচুক্তির বিষয়ে হাইকোর্ট তদন্তের নির্দেশ দেন। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারও আদানিসহ ছ’টি সংস্থার সঙ্গে হওয়া বিদ্যুৎচুক্তি খতিয়ে দেখছে।

    সূত্র : টাইমস অফ ইন্ডিয়া

  • সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতের হিন্দু মঞ্চের কয়েকশ’ নেতাকর্মীর বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা

    সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতের হিন্দু মঞ্চের কয়েকশ’ নেতাকর্মীর বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা

    সিলেটের সুতারকান্দি স্থলবন্দরের ওপারে ভারতের আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জ এলাকায় বাংলাদেশ অভিমুখে মার্চ করেছে হিন্দু ঐক্যমঞ্চের কয়েকশ নেতাকর্মী। এক পর্যায়ে তারা বাংলাদেশে প্রবেশেরও চেষ্টা চালায়। এ সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ও করিমগঞ্জ পুলিশের সদস্যরা কাঁটাতারের ব্যারিকেড দিয়ে তাদের বাধা দেয়।

    বাংলাদেশে কথিত সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে হিন্দু ঐক্যমঞ্চের ব্যানারে ভারতের কয়েকশ নাগরিক বাংলাদেশ অভিমুখে এ মার্চে অংশ নেন। ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশ অভিমুখে এ মুভমেন্টের একাধিক ভিডিও রোববার সন্ধ্যার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে সিলেটসহ সীমান্ত এলাকাগুলোতে তোলপাড় শুরু হয়।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, সুতারকান্দি সীমান্ত চেকপোস্টের অদূরে ভারতের আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জে একটি রাস্তায় বিএসএফ জওয়ানরা সড়কে কাঁটাতারের ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছেন। ব্যারিকেডের পাশেই কয়েকশ ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে আসার জন্য পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করছিলো। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে বিএসএফ জওয়ানরাও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যোগ দেন।

    এদিকে বিএসএফ ও ভারতীয় পুলিশের ব্যারিকেডের কারণে বিক্ষোভকারী ভারতীয় হিন্দু মঞ্চের নেতারা সুতারকান্দি স্থলবন্দর পর্যন্ত আসতে পারেনি। ওখানেই তাদের আটকে দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আসামের বরাক ভ্যালীর এক হিন্দু নেতা ক্ষোভের সঙ্গে বলতে থাকেন, জীবন গেলে যাবে, তবুও তারা বাংলাদেশে যাবেন। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে তারা এই মার্চ করছেন বলে জানান।

    এ ঘটনায় সিলেটের বিয়ানীবাজার ও জকিগঞ্জ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৫২ ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী হাসান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সীমান্তের অন্তত দুই কিলোমিটার দূরে ভারতের ভেতরে বিক্ষোভকারীরা প্রতিবাদ করেছে। এটা শেওলা সীমান্তের ওপারে। তবে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম মস্তুফা মুন্না এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।

    এদিকে, সীমান্তের ওপারে ভারতে এ নিয়ে কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে খবর আসছিলো সিলেটে। এ কারণে সিলেটের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তরফ থেকে সীমান্ত এলাকা থেকে সিলেটে আসা সড়কগুলোতে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে যানবাহনে তল্লাশি ছাড়াও নাশকতাকারীদের ধরতে অভিযানও চালানো হচ্ছে।

  • ভূমি উপদেষ্টার ছেলের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা

    ভূমি উপদেষ্টার ছেলের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা

    নারী নির্যাতনের অভিযোগে অর্ন্তবর্তী সরকারের ভূমি উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফের ছেলে মুয়াজ আরিফের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সোমবার দুপুরে মুয়াজের সাবেক স্ত্রী মাধবী আক্তার নীলা নিজে বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদ আলম। তিনি বলেন, নির্যাতনের অভিযোগে রমনা থানায় একজন ভুক্তভোগী নারী মুয়াজ আরিফের বিরুদ্ধে একটি মামলার আবেদন করেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে নারী নির্যাতন আইনে মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। মামলাটিতে ওই নারী মুয়াজ আরিফকে একমাত্র আসামি বলে উল্লেখ করেছেন। আমরা ইতিমধ্যে জানতে পেরেছি মুয়াজ আরিফ আমাদের বর্তমান সরকারের ভূমি উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফের ছেলে। ও নির্যাতনের স্বীকার হয়ে মামলা করা নারী মাধবী আক্তার নীলা তার সাবেক স্ত্রী। আমরা পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছি। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

    নীলা বলেন, গত ২৯শে নভেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকা ক্লাবে নিয়ে আমাকে মেরে ফেলতে চেয়েছে মুয়াজ। সাবেক স্ত্রী হয়া সত্ত্বেও আমাকে সেক্সুয়ালি হ্যারাসমেন্ট, ব্যাড টাচ করেছে সে। আমার পেটে চাকু মেরেছে। আমার মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত করেছে। এরই প্রেক্ষিতে রোববার রাতে আমাকে নির্যাতনের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার পর পুলিশ যখন দেখে অভিযুক্ত ব্যক্তি মুয়াজ আরিফ উপদেষ্টা হাসান আরিফের ছেলে, তখন সবাই উঠে চলে যায়। সারা রাত রমনা থানায় অবস্থান করলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। সকালেও নেয়নি। পরে গণমাধ্যম কর্মীদের তোপের মুখে মামলা নিতে বাধ্য হয় পুলিশ। তিনি বলেন, মুয়াজ আরিফের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছয় বছরের। আমাদের বিয়ে হয় ২০১৮ সালে। ২০২১ সালে ২৯শে এপ্রিল আমাদের ডিভোর্স হয়েছে। ডিভোর্সের পর আমাকে কারাগারে যেতে হয়। কারাগার থেকে বের হয়ে আমি ২০২১ সালে বড় মেয়েকে আটকে রাখার অভিযোগে রিট করছিলাম। সেই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের আদেশ ছিল বাচ্চা ছেলেটা আমার কাছে থাকবে। মাসিক ১ লাখ টাকা খরচা দেবে। কিন্তু বাচ্চাও পাইনি, খরচাও পাইনি। বড় মেয়েটা আমার কাছে থাকে। সে মানসিকভাবে অসুস্থ। সাইকিয়াট্রিস্ট চিকিৎসক বলেছেন তার সুস্থতার জন্য পারিবারিক আবহ দরকার। সেজন্য গত ২৯শে নভেম্বর সুইমিং করাতে ঢাকা ক্লাবে গিয়েছিলাম। সেখানে আমার সাবেক স্বামী মুয়াজ তার এক বন্ধুর টোকেনে মেয়েকে সুইমিংয়ের ব্যবস্থা করে দেয়। আর হোটেলে রুম বুকিং করে। আমাকে সেই রুমে নিতে প্ররোচিত করে। আমি যেতে আগ্রহী ছিলাম না। এরই জেরে আমাকে এমন নির্যাতনের স্বীকার হতে হয়েছে। এখন আমাকে অফার করা হচ্ছে মীমাংসার জন্য। আমি ন্যায়বিচার চাই। এ জন্য হাসান আরিফের সঙ্গে মীমাংসায় বসতেও রাজি। কিন্তু প্রতিটি অন্যায়, অবিচার ও নির্যাতনের বিচার হতে হবে। ২০১৮ সালের পর থেকে আজ পর্যন্ত যে সময় গেছে সেটা ফিরিয়ে দিতে হবে।

  • ভারতের করিমগঞ্জে বিক্ষোভকারীদের বাধায় জকিগঞ্জ দিয়ে পণ্য আসা বন্ধ

    ভারতের করিমগঞ্জে বিক্ষোভকারীদের বাধায় জকিগঞ্জ দিয়ে পণ্য আসা বন্ধ

    ভারতের শ্রীভূমির (করিমগঞ্জ) সীমান্তে সনাতনী ঐক্য মঞ্চ নামের একটি সংগঠনের বাধার মুখে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা আমদানি করা পণ্য দেশে নিয়ে আসতে পারছেন না। 

    সোমবার সকালে কিছু কমলা সিলেটের জকিগঞ্জ শুল্ক স্টেশন দিয়ে বাংলাদেশে এলেও পরে আন্দোলনকারী সংগঠনটির বাধার মুখে আর কোনো পণ্য আসেনি।

    কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট সিলেটের জকিগঞ্জ শুল্ক স্টেশনের সহকারী কমিশনার অসিত কুমার আচার্য্য রাত আটটার দিকে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, জকিগঞ্জ স্টেশন দিয়ে কেবল ভারত থেকে মালামাল আমদানি করা হয়। কোনো পণ্য রপ্তানি হয় না। আজ সকালের দিকে কিছু কমলা বাংলাদেশে এসেছে। পরে ওই পাশের (করিমগঞ্জ) একটি পক্ষের বাধার মুখে আর কোনো পণ্য বাংলাদেশে আসেনি।

    এ সময় আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের এলসি করা মালামালের গাড়ি ভারতের শ্রীভূমি (করিমগঞ্জ) শুল্ক স্টেশন থেকে ফেরত গেছে। এতে সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে থাকা সিলেটের জকিগঞ্জ শুল্ক স্টেশন দিয়ে কোনো পণ্য দুপুরের পর থেকে সিলেটে আসেনি। বিক্ষোভ চলাকালে আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশি পণ্য বয়কটের ঘোষণাও দেন।

    এদিকে সোমবার বেলা তিনটায় জকিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সামাজিক-সম্প্রীতিবিষয়ক এক সভা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফসানা তাসলিমের সভাপতিত্বে ওই সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, ধর্মীয় নেতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সরকারি কর্মকর্তাসহ নানা শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    সভা শেষে রাত সোয়া আটটার দিকে ইউএনও আফসানা তাসলিম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ওই পাশে (ভারত অংশের করিমগঞ্জ) কিছুটা অস্থিরতা থাকায় সভায় আমরা বিজিবিকে (বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড) পরামর্শ দিয়েছি টহল বাড়ানোর জন্য আর সতর্ক থাকার জন্য।’

    এদিকে ভারতের গণমাধ্যমকর্মী, সীমান্ত এলাকার মানুষ এবং কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, রোববার সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা শুল্ক স্টেশনের ওপারে ভারত অংশের শ্রীভূমির (করিমগঞ্জ) সুতারকান্দি শুল্ক স্টেশন এলাকায় সনাতনী ঐক্য মঞ্চ ‘বাংলাদেশ চলো’ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। এ সময় আন্দোলনকারীরা আসাম পুলিশ ও বিএসএফের ব্যারিকেড ভেঙে বাংলাদেশ সীমান্তে ঢোকার চেষ্টা চালায়। পরে অবশ্য পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা সুতারকান্দি দিয়ে বাংলাদেশ থেকে আমদানি-রপ্তানি বন্ধের দাবিও জানান।

    এরপর থেকে পণ্য আমদানি-রপ্তানি সীমিত হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন শেওলা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন।

  • বাংলাদেশিদের জন্য বন্ধ হলো ভারতের হোটেল

    বাংলাদেশিদের জন্য বন্ধ হলো ভারতের হোটেল

    ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সব হোটেল বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হোটেল মালিকরা।

    রোববার (২ ডিসেম্বর) ত্রিপুরার হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ত্রিপুরার সংবাদমাধ্যম জাগরণ ত্রিপুরা জানিয়েছে, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর কথিত নির্যাতন এবং বাংলাদেশে ভারতের জাতীয় পতাকার অবমাননার প্রতিবাদে এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে হোটেল অ্যাসোসিয়েশন।

    এ বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশনের সচিব সৈকত ব্যান্যার্জী বলেন, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন এবং সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্যের সব হোটেল ও রেস্তোরাঁয় বাংলাদেশি নাগরিকদের পরিষেবা বন্ধ রাখা হবে। তবে যারা পূর্বে থেকে হোটেলের পরিষেবা নিচ্ছেন, তাদের শুধু থাকতে দেওয়া হবে। অন্যদের পরিষেবা দেওয়া হবে না।

    এছাড়া, সাময়িক সময়ের জন্য প্রত্যেক রেস্তোরাঁর সামনে স্টিকার লাগানো হবে। বাংলাদেশিদের ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।

  • বিলোনিয়া সীমান্তে ভারতীয়দের বাংলাদেশবিরোধী বিক্ষোভ, বিজিবির প্রতিবাদ

    বিলোনিয়া সীমান্তে ভারতীয়দের বাংলাদেশবিরোধী বিক্ষোভ, বিজিবির প্রতিবাদ

    ফেনীর সীমান্তবর্তী পরশুরামের বিলোনিয়া স্থলবন্দরের ভারত অংশে বাংলাদেশবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। সনাতনী হিন্দু সমাজের ব্যানারে কিছু ভারতীয় নাগরিক গতকাল রোববার বিকেলে বিক্ষোভ করেন। 

    সোমবার এ বিষয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবি ৪ ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    গতকাল রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে বিলোনিয়া সীমান্তেও ওই বিক্ষোভের ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত রোববার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিলোনিয়া স্থলবন্দরের ওপারে ৫০ থেকে ৬০ জন ভারতীয় নাগরিক জড়ো হয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন। তাঁরা ইসকনের পক্ষে এবং বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন। এ ছাড়া বাংলাদেশে ভারতীয় পণ্য ও বিদ্যুৎ রপ্তানি বন্ধের দাবিতে স্লোগান দেন। এ সময় ভারতের নো ম্যানস ল্যান্ড অংশে ঢুকে বাংলাদেশের দিকে মাইক তাক করে উচ্চ শব্দে প্রায় আধা ঘণ্টা নানা স্লোগান দেন। পরে বিএসএফ সদস্যরা তাঁদের সরিয়ে দেন।

    বিলোনিয়ার বাসিন্দা এম এ হাসান বলেন, বাংলাদেশ ও বর্তমান সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে কটাক্ষ করে দেওয়া বক্তব্য ও নানা স্লোগান নিন্দনীয়। দ্রুত এসবের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

    বিলোনিয়া স্থলবন্দরের কাস্টমস এসআই আমিনুল হক বলেন, সীমান্তের শূন্য রেখায় বাংলাদেশকে কটাক্ষ করে এমন আন্দোলন অস্বাভাবিক। বিজিবির পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

    বিলোনিয়া ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম বলেন, সীমান্তের অপর প্রান্ত থেকে উচ্চ শব্দে মাইক বাজিয়ে বাংলাদেশকে কটাক্ষ করে স্লোগান দেওয়ার বিষয়টি জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

    বিজিবির মজুমদারহাট বিওপির কোম্পানি কমান্ডার সৈয়দ কামরুল আলম মজুমদার বলেন, ঘটনার পর বিলোনিয়া স্থলবন্দরে বিজিবির সদস্যরা অবস্থান নেন। বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডারকে ডেকে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

    বিজিবি ৪ ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, বিজিবির পক্ষ থেকে প্রথমে মৌখিক ও পরে লিখিতভাবে বিএসএফকে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে বিএসএফ সচেষ্ট রয়েছে বলে বিজিবিকে আশ্বস্ত করেছে।

  • তারেক রহমানের দেশে ফিরতে বাধা কোথায়?

    তারেক রহমানের দেশে ফিরতে বাধা কোথায়?

    ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের দুই মামলায় হাইকোর্টের রায়ে গত রোববার খালাস পেয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই দুই মামলায় খালাস পেলেও এখনো কয়েকটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত তিনি। আইনজীবীদের প্রত্যাশা, বাকি মামলাগুলোতেও ন্যায়বিচার পাবেন তিনি।

    তারেক রহমানের আইনজীবী ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম নেতা ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আরও চারটি মিথ্যা মামলায় তারেক রহমান সাজাপ্রাপ্ত। তিনি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যেমন ন্যায়বিচার পেয়েছেন, আশা করি সাজাপ্রাপ্ত ওই চারটি মামলায়ও ন্যায়বিচার পাবেন।’

    যে চার মামলায় সাজা ঝুলছে

    অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলায় তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানকে ২০২৩ সালের ২ আগস্ট সাজা দেন ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত ও মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান। রায়ে তারেককে ৯ বছর ও জোবাইদাকে ৩ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

    তারেক রহমানকে পলাতক ঘোষণা করে ওই মামলার বিচারকাজ শেষ করা হয়। পলাতক থাকায় এই মামলায় আপিল হয়নি।

    ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর সিঙ্গাপুরে অর্থ পাচারের মামলায় ঢাকার একটি বিশেষ জজ আদালত তারেক রহমানকে খালাস দেন। ওই মামলায় তারেকের বন্ধু ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে দুদক তারেক রহমানকে খালাস দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে। ওই আপিল শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০১৬ সালের ২১ জুলাই বিচারিক আদালতের খালাসের রায় বাতিল করে তারেক রহমানকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি ২০ কোটি টাকা জরিমানা করেন।

    ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় তারেকের ১০ বছরের দণ্ড হয়। এই মামলায় সাজা হয় তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ারও।

    ২০২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানকে নড়াইলের একটি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২ বছরের কারাদণ্ড দেন। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করায় নড়াইলে তারেকের বিরুদ্ধে মানহানির এ মামলা করেছিলেন এক বীর মুক্তিযোদ্ধা।

    ২০১৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর লন্ডনে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত এক সমাবেশে বঙ্গবন্ধুকে রাজাকার ও পাকবন্ধু আখ্যা দিয়ে বেশ কিছু বক্তব্য দেন তারেক রহমান। সেই খবর প্রকাশিত হয় দেশের একটি জাতীয় দৈনিকে। এতে বঙ্গবন্ধুর সম্মানহানি হয়েছে জানিয়ে সে সময় নড়াইলের বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান বিশ্বাস নড়াইল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তারেকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন।

    সিলেটের দুটি মামলা খারিজ

    সিলেটে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুই ছাত্রলীগ নেতার দায়েরকৃত দুটি মামলা খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। বাদী উপস্থিত না হওয়ায় রোববার (১ ডিসেম্বর) সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতের বিচারক ছগির আহমদ মামলা দুটি খারিজের রায় দেন।

    আদালতের অতিরিক্ত পিপি আবু ফাহাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ২০১৪ সালে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুই ছাত্রলীগ নেতার দায়েরকৃত দুটি মামলা বাদী উপস্থিত না হওয়ায় গতকাল খারিজ করেছেন আদালত।

    ২০১৪ সালে সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরান (রহ.) থানায় মামলা দুটি করেন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক এম রায়হান চৌধুরী ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি শামীম মোল্লা।

  • ভারতে বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে হামলার প্রতিবাদে উত্তাল ঢাবি

    ভারতে বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে হামলার প্রতিবাদে উত্তাল ঢাবি

    ভারতের আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন প্রাঙ্গণে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা।

    সোমবার (২ ডিসেম্বর) রাত সোয়া ৯টার দিকে ঢাবির শিক্ষার্থীরা রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এরপর একটি মিছিল বের করা হয়। এ সময় বিভিন্ন হল থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিলে যোগ দেন। পরে মিছিলটি ভিসি চত্বর হয়ে পুনরায় রাজু ভাস্কর্যের সামনে এক সমাবেশে মিলিত হয়।

    এ সময় শিক্ষার্থীরারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। স্লোগানগুলোর মধ্যে রয়েছে, ‘গোলামী না আজাদি, আজাদি আজাদি’, ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘ভারতীয় আগ্রাসন, রুখে দাও জনগণ’, ‘হাইকমিশনে/আগরতলায় হামলা কেন, দিল্লি তুই জবাব দে’, ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’, ‘আমরা কী চাই, আজাদি আজাদি’, ‘অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ ইত্যাদি।

    বিক্ষোভ সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, ভারত আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ। তাদের সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকবে, প্রতিবেশী হিসেবে ভালো সম্পর্ক থাকবে। কিন্তু কোনোভাবেই তাদের সঙ্গে আমাদের রাজা-প্রজার সম্পর্ক হতে পারে না। ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের হাইকমিশনে হামলার জন্য অবশ্যই ভারতকে ক্ষমা চাইতে হবে।

    তারা বলেন, ভারতকে বলতে চাই— এ দেশে আর আওয়ামী লীগের ক্ষমতা নেই। সুতরাং তারা যেন আওয়ামী লীগের আমলের মতো করে এ দেশে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা না করে। দিল্লিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই, শরীরে এক ফোটা রক্ত থাকা পর্যন্ত আমরা ভারতের আধিপত্য মেনে নেব না। যেভাবে আমরা হাসিনাকে পালাতে বাধ্য করেছি সেভাবেই আমরা দিল্লির আগ্রাসনও রুখে দেব।

    এ সময় বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, ভারত বাংলাদেশের দূতাবাসে হামলা করে এক নগ্ন ইতিহাস রচনা করেছে। ভিয়েনা কনভেনশনের বিপরীতে গিয়ে তারা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। ভারত তাদের আচরণের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে তারা বিশ্বসভ্যতা এবং ভদ্রতাকে ধারণ করে না। ভারত সরকারকে তাদের এমন নির্লজ্জ আচরণের জন্য বাংলাদেশের মানুষ এবং আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

    তিনি বলেন, ভারতের ষড়যন্ত্র বাংলাদেশের সর্বত্র বিদ্যমান। ভারতের তৈরি মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চ আমাদেরকে হত্যা করার জন্য ডাকসুতে হামলা করেছে। গণঅভ্যুত্থানের সময় দেখা যায় সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালানো অনেক সামরিক লোক হিন্দিতে কথা বলছে। ভারতের অনুগত হাসিনাকে রক্ষা করতে বিজেপি সরকার তাদেরকে এদেশে পাঠিয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যদি না খেয়েও মারা যায়, তবু দেশকে বিক্রি করব না। ভারত বাংলাদেশে নিয়ে খেললে আমরা সেভেন সিস্টার নিয়ে খেলব। আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হামলায় সেভেন সিস্টার চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে।

  • আগরতলায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে ভাঙচুর-পতাকা অবমাননা, ভারতের দুঃখ প্রকাশ

    আগরতলায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে ভাঙচুর-পতাকা অবমাননা, ভারতের দুঃখ প্রকাশ

    ভারতের আগরতলার কুঞ্জবনে বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন প্রাঙ্গণে হামলা, ভাঙচুর ও জাতীয় পতাকা অবমাননার ঘটনা ঘটেছে। সোমবারের এই হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    সোমবার (২ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আগরতলায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের প্রাঙ্গণ ভাঙার ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। কোনও অবস্থাতেই কূটনৈতিক এবং কনস্যুলার সম্পত্তি লক্ষ্যবস্তু করা উচিত নয়।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের ডেপুটি/সহকারী হাইকমিশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে।

    বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর কথিত নির্যাতন ইস্যুতে ভারতে একের পর এক বিক্ষোভের ঘটনা ঘটছে। এরই মধ্যে এবার আগরতলার ত্রিপুরায় অবস্থিত বাংলাদেশি সহকারী হাই কমিশনে হামলা চালিয়েছে উগ্র ভারতীয়রা। ইসকনের সাবেক সদস্য চিন্ময় দাস প্রভুকে অবৈধভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে ভারতের ডানপপন্থী সংস্থা ‘হিন্দু সংগ্রাম স্মৃতি’ ত্রিপুরায় বাংলাদেশি সহকারী হাই কমিশনে হামলা চালায়।

    ভারতের দুঃখ প্রকাশ

    কোলকাতা ২৪ এর খবরে বলা হয়, বিজেপি শাসিত রাজ্য ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় থাকা বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে আন্দোলনকারীরা আচমকা নিরাপত্তা বলয় ভেঙে ঢুকে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা খুলে নিয়ে গিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।

    আরও বলা হয়েছে, বিক্ষোভটি সার্কিট হাউসের মহাত্মা গান্ধীর ভাস্কর্যের সামনে পৌঁছালে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এক পর্যায়ে তার পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে বাংলাদেশি সহকারী হাইকমিশনারের অফিসে প্রবেশ করে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে যায়। পশ্চিম ত্রিপুরার এসপি ড. কিরান কুমা এবং ডিজিপি অনুরাগ ধানকার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

  • সাড়ে ১৫ বছর এ জাতি জিম্মি দশায় ছিল: জামায়াত আমির

    সাড়ে ১৫ বছর এ জাতি জিম্মি দশায় ছিল: জামায়াত আমির

    জামায়েত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গত সাড়ে ১৫ বছর এ জাতি জিম্মি দশায় ছিল। মানুষ খুন হয়েছে, গুম হয়েছে, মানুষের ইজ্জত নষ্ট হয়েছে, সম্পদ লুণ্ঠন হয়েছে, দেশের টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এগুলো কারা করেছে? আমার দেশের কৃষক শ্রমিক তারা করেছে? করেছেন যারা উঁচু তলায় থাকেন, তারা। যারা করেছেন তাদের মানুষ শাসক বানায়নি, তারা নিজে নিজেই শাসক হয়েছে।

    সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭ টায় মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর বাসস্টান্ডে এক পথসভায় তিনি মন্তব্য করেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে যদি দেশ গড়তে পারি তাহলে আর এদেশে কেউ ঘুষ খেতে সাহস করবে না, দুর্নীতি করবে না, মা-বোনদের ইজ্জত নষ্ট করবে না এবং মানুষের মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকবে না। যদি ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে সেই সমাজে আল্লাহর রহমত বর্ষণ হয়। আর যেই সমাজের মানুষ ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত থাকে অথবা মানুষ অন্যায়কে নীরবে হজম করে, সেই সমাজ থেকে আল্লাহ তাআলা তার রহমত উঠিয়ে নেন।

    এ সময় ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাদারীপুর জেলা শাখার আমির মাওলানা মোখলেসুর রহমান, সাবেক জেলা আমির আবদুস সোবাহান, সেক্রেটারি হাফেজ এনায়েত হোসেন, সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, সদর উপজেলা আমির মাওলানা হুমায়ুন কবির, সেক্রেটারি মাওলানা মনিরুজ্জামান, পৌর আমির মাওলানা আলমগীর হোসেন, পৌর নায়েবে আমির আঃ রহিম মোল্লা, সেক্রেটারি মাওলানা নজরুল ইসলাম, জেলা ছাত্র শিবির সভাপতি সাইফ হাসান প্রমুখ।