Author: bangladiganta

  • অপহৃত ২০ জেলের মুক্তি এখনো সম্ভব হয়নি এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়েও

    অপহৃত ২০ জেলের মুক্তি এখনো সম্ভব হয়নি এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়েও

    প্রায় এক সপ্তাহ পার হলেও বঙ্গোপসাগরে অপহৃত ২০ জেলেকে মুক্তি মিলছে না। দস্যু বাহিনীর হাতে বন্দি থাকা এসব জেলেদের মুক্তিপণ হিসেবে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মহাজনদের কাছে সাড়ে তিন লাখ টাকা করে মোট ৭০ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে। তবে, মুক্তিপণের পরিমাণ নিয়ে দস্যুদের সাথে মহাজন ও স্থানীয় জেলেদের মধ্যে দর কষাকষি চলাচ্ছে বলে বনবিভাগ নিশ্চিত করেছে।

    বিশেষ করে দস্যু আতঙ্কের কারণে প্রায় চার দিন ধরে মাছধরা বন্ধ ছিল। শনিবার সকাল থেকে কিছু কিছু ট্রলার আবার ঝুঁকি নিয়ে সাগরে প্রবেশ করেছে। বনবিভাগের নির্দেশনায় জেলেরা চরের কাছাকাছি নিরাপদ দূরত্বে থেকে মাছ ধরার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং দিনে দিনে ফিরে আসারর জন্য সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

    গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় ২০টি ট্রলারকে দস্যু বাহিনী, যার নেতৃত্বে ছিলেন বন ও জলদস্যু জাহাঙ্গীর ও সুমন, অপহরণ করে। তাদের অবরুদ্ধ করার পরপরই অপহরণের আতঙ্কে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের জেলেরা সাগর ও বনে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছেন। এর ফলে দেশের বিশাল শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে, যেখানে মাছের সংকট দেখা দিয়েছে কালেভদ্রে। অন্যদিকে, মাছ না পেয়ে লক্ষ লাখ টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা এবং আর্থিক সংকটে হুমকির মুখে পড়েছেন হাজার হাজার দরিদ্র জেলে।

    পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা শুঁটকি কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা ফরেস্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় জানান, অপহৃত জেলেদের মহাজনদের কাছ থেকে জানা গেছে, দস্যুরা ট্রলার প্রতি তিন লাখ৫০ হাজার করে চাঁদা দাবি করেছে। মহাজনরা দস্যুদের সঙ্গে কথা বলে চাঁদার পরিমাণ কমানোর চেষ্টা করছেন, কিন্তু দস্যুরা চাঁদা পরিশোধের সময়সীমা নির্ধারণ করেনি। দ্রুত পরিশোধ না করলে জেলেদের জীবন হুমকির মুখে পড়বে এবং পরবর্তীতে মাছ ধরতে গেলে আগাম চাঁদা দিয়ে নামতে হবে বলে মহাজনদের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

    শনিবার সকাল থেকে কিছু জেলে ঝুঁকি নিয়ে সাগরে ফিরেছেন। তাদেরকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করে মাছ ধরা এবং দ্রুত ঘাটে ফিরে আসার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতি দেশজুড়ে এক গভীর আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।

  • নজরুল ইসলাম মঞ্জু খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিযুক্ত

    নজরুল ইসলাম মঞ্জু খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিযুক্ত

    খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে খুলনা সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে এই পদে নিয়োগের নির্দেশনা দিয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যা পর্যন্ত কোনও নতুন নির্দেশনা না আসে, তত পর্যন্ত খুলনা সিটি করপোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে দায়িত্ব দেওয়া হলো।স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মাহাবুবা আইরিন স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ এর ধারা ২৫ক এর উপধারা (১) অনুসারে, করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত বা পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন। প্রশাসকগণ সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী মেয়রের সব ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া, এই নিয়োগের মাধ্যমে তারা বিপি অনুযায়ী ভাতা পাবেন।এছাড়াও ঢাকাসহ অন্যান্য শহরের জন্য নিয়োগ পেয়েছেন যথাক্রমে মো. আব্দুস সালাম (ঢাকা দক্ষিণ), মো. শফিকুল ইসলাম খান (ঢাকা উত্তর), আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী (সিলেট), মো. সাখাওয়াত হোসেন খান (নরায়ণগঞ্জ), এবং মো. শওকত হোসেন সরকার (গাজীপুর)।

  • নড়াইলে আধিপত্য দ্বন্দ্বে সংঘর্ষ, বাবা-ছেলেসহ চার নিহত

    নড়াইলে আধিপত্য দ্বন্দ্বে সংঘর্ষ, বাবা-ছেলেসহ চার নিহত

    নড়াইল সদর উপজেলার সিংগোশোলপুর ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে বাবা-ছেলেসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ছয় থেকে সাতজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এই সংঘর্ষ হয়েছে গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৫টার সময়ে বড়কুলা গ্রামে। ঘটনাস্থলে উত্তরীয় পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের গ্রুপ এবং খলিল গ্রুপের মধ্যে পারস্পরিক বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরে ওই দিন ভোরে বড়কুলা এলাকায় দু’পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে খলিল গ্রুপের রহমান খলিল, তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন ও ফেরদৌস হোসেন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। একই সময়ে আহত হন সাবেক চেয়ারম্যান খেয়ার গ্রুপের ওসিবুর মিয়া, যাকে及时 হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সতর্ক ও সজাগ অবস্থানে রয়েছেন।

  • নড়াইলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫

    নড়াইলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫

    নড়াইল সদর উপজেলার সিংগোশোলপুর ইউনিয়নের বড়কুলা গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দু’টি রাজনৈতিক গ্রুপের মধ্যে সর্ম্পকিত সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা আজ বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচজন। আহত হয়েছেন অন্তত ৭ থেকে ৮ জন। এই মারপিটের ঘটনাটি ঘটেছে ভোর সাড়ে ৫টায়, যা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

    প্রাথমিক সূত্রে জানা গেছে, নামের তালিকায় রয়েছেন উজ্জ্বল শেখ গ্রুপের রহমান খলিল এবং তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন, এর পাশাপাশি ফেরদৌস হোসেন ও তার ছেলে মুন্না শেখ। অন্যদিকে, প্রবীণ সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের মোল্যা গ্রুপের ওসিবুর মিয়া ঘটনাস্থলে নিহত হন।

    পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সদরের সিংগোশোলপুর ইউনিয়নের দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। সেই বিবাদের ফলাফলস্বরূপ, সোমবার ভোরে বড়কুলা গ্রামে দু’পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে উজ্জ্বল শেখ গ্রুপের ব্যক্তিরা—রহমান খলিল, তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন, ফেরদৌস হোসেন ও তার ছেলেও মারা যান। এতে আহত হন সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের মোল্যা গ্রুপের ওসিবুর মিয়া, যাকে দ্রুত নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। দুপুরের দিকে আহত মুন্না শেখ নামের আরও এক ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

    নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওলি মিয়া জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। এলাকায় বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

  • সরকারের উদ্যোগে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার আশ্বাস

    সরকারের উদ্যোগে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার আশ্বাস

    পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, সুন্দরবনের অর্থনৈতিক বিকাশ ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে জলদস্যুরা নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি। তিনি জানান, বনকে দস্যুমুক্ত করার জন্য সরকার প্রতিটি সম্ভাব্য পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খুলনা সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে সুন্দরবন অঞ্চলে জলদস্যুতা দমন নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন তিনি। সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, এক সময় সুন্দরবন দস্যুমুক্ত ছিল, কিন্তু পুনরায় এসব অপরাধীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এর ফলে অনেক জেলে মাছ ধরতে যেতে সাহস পাচ্ছে না, যা সুন্দরবনের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর। তিনি এও বলেন, পরিস্থিতি এলে ইকো-ট্যুরিজম ও ব্লু-ইকোনমির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এজন্য সব ধরনের শক্তিশালী ব্যবস্থা ও বনবিভাগের সমন্বিত অভিযানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আশ্বাস দেন, আগামী দু-এক দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে এই সমস্যা সমাধানে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, বনজীবীদের নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বাহিনী এই কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে। তিনি আরও জানান, সরকার জলদস্যুরা সক্রিয়তা কমাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দেশের অর্থনৈতিক বর্ধন ও সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষার জন্য জলদস্যু নিশ্চিহ্ন করতেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার। এছাড়াও, নির্বাচনজনিত বিভ্রান্তির কারণে জলদস্যুরা সুযোগ নিতে চেয়েছিল, তবে এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জলদস্যু বিরোধী অভিযানে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন, যেন সুন্দরবন ও তার জলসীমা নিরাপদ থাকে। বনবিভাগের বিভিন্ন সমস্যার দ্রুত সমাধানে ও আরও কার্যকরী করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানান তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আ স ম জামশেদ খোন্দকার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদ, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, র‌্যাব-৬ ও নৌ-পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা, যারা সুসংগঠিতভাবে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন।

  • নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর উদ্যোগ নেবে, বাণিজ্যমন্ত্রীর ঘোষণা

    নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর উদ্যোগ নেবে, বাণিজ্যমন্ত্রীর ঘোষণা

    নতুন বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার জন্য নতুন সরকার কার্যকরী উদ্যোগ নেবে। তিনি জানান, এলডিসি গ্র্যুজুয়েশন ডেফার করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রথম দিনের অফিস পরিচালনার সময় সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ কথা জানান।

    বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার এলডিসি উত্তরণে দেরি করার পরিকল্পনা করছে এবং এই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। তিনি বলেন, বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকেই শুরু হয়েছে এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত যোগাযোগ ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

    বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট কিছু সংগঠনের দীর্ঘদিনের দাবি তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, এলডিসি উত্তরণ পেছানোর বিষয়টিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ মাসের মধ্যে চিঠি দেওয়ার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যদিও এ ধরনের কোনো বাধ্যবাধকতা এখনও আরোপিত হয়নি।

    বাংলাদেশের রপ্তানি পরিস্থিতির বিষয়টি বোঝাতে গিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের রপ্তানি কাঠামো এখনও বেশ সংকীর্ণ। বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশই একটি বা একাধিক পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে রপ্তানি পণ্য বৈচিত্র্য আনতে হবে, নতুন নতুন পণ্য ও বাজার খোঁজে বেরোতে হবে। পাশাপাশি, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী ব্যবসায়ীদের জন্য সহায়তা দেওয়া সরকারের অঙ্গীকার বলে জানানো হয়।

    বিশ্ব বাণিজ্যের চলমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতিতে পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশের জন্য এই পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশের মার্জিন অব এরور খুবই সীমিত, ভুলের সুযোগ কম। তাই, চলতি মাসগুলোতে ধীর গতির অর্থনৈতিক গতি থেকে দ্রুত উত্তরণের জন্য সরকার জোর করে কাজ চালিয়ে যাবে।

    রমজানের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি জানান, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। সরকারের কাছে পর্যাপ্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুদ রয়েছে এবং পাইপলাইনেও যথেষ্ট পণ্য আছে, ফলে বাজারে আতঙ্কের কোনও কারণ নেই।

    সিন্ডিকেটের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি বলেন, কাজের মাধ্যমে ফল দেখাতে চান, বক্তব্য দিয়ে নয়। রমজানে কিছু পণ্যের দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধির বিষয়টি অনেক সময়ের জন্য হয়, কিন্তু তা সাময়িক এবং বাজারে বেশি দিন স্থায়ী হয় না বলে তিনি আশ্বাস দেন।

    বৈদেশিক ও দেশীয় বিনিয়োগের পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, অনিশ্চিত পরিবেশেই বিনিয়োগ হয় না। স্থিতিশীল পরিবেশ ছাড়া বিনিয়োগের আশা ফসকে যায়। তিনি বলেন, দেশে তরুণ শ্রমশক্তির পরিমাণ খুবই বেশি, প্রতি বছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে যোগদান করছে। তবে, গত কয়েক বছর ধরে বিনিয়োগের অচলাবস্থা অব্যাহত থাকায় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেন।

    নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর রমজান মাসে আসাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন কি না— এ প্রশ্নে তিনি বলেন, রমজান মোকাবেলায় এটা সরকারি জন্য বড় পরীক্ষা। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সফল হতে হবে এবং এ জন্য কোনো বিকল্প নেই।

    তিনি বলেন, এটা ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং দেশের স্বার্থের বিষয়। এ জন্য সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান, বিশেষ করে গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে। ভুল হলে তা যেন দ্রুত সংশোধন হয়, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সবাই মিলেও একসঙ্গে কাজ করলে বাংলাদেশের অগ্রগতি সম্ভব।

  • কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দামের কারণে খুলনা অঞ্চলের পাটকলগুলি উৎপাদন বন্ধের পথে

    কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দামের কারণে খুলনা অঞ্চলের পাটকলগুলি উৎপাদন বন্ধের পথে

    খুলনা অঞ্চলের ইজারা দেয়া ও বেসরকারি পাটকলগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণেই। বর্তমান সময়ে কাঁচা পাটের খুচরা দাম প্রায় দ্বিগুণের বেশি বেড়ে গেছে, যার ফলে উৎপাদন খরচ অনেকটাই বেড়ে গেছে। এর ফলে অনেক মিল পাটপণ্য উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন, যা শ্রমিকদের জন্য ভাবিয়ে তুলেছে এবং তারা কাজ হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে মিলগুলোর অর্থনৈতিক ক্ষতি ছাড়াও অনেক শ্রমিকই ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন, কারণ তাদের জীবিকা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

  • ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে রেমিট্যান্স ছাড়িয়েছে দুই বিলিয়ন ডলার

    ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে রেমিট্যান্স ছাড়িয়েছে দুই বিলিয়ন ডলার

    প্রবাসীরা জাতীয় নির্বাচন ও আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে দেশের জন্য বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর উৎসাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলস্বরূপ, ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১৮ দিনের মধ্যে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে মাস শেষে এটি ৩ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন ও রমজানের কারণে বাড়তি পরিবারের খরচের প্রয়োজনীয়তা পূরণে প্রবাসীরা বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন। এই প্রবণতা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, জানুয়ারিতে প্রবাসীরা মোট ৩১৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা রেকর্ডের তৃতীয় স্থান। এর আগে গত ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার এবং মার্চে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এসেছিল।

    অর্থবছর ২০২৫ সালে দেশের মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার। মাসভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই সময়ের মধ্যে প্রবাসীরা মোট ২ হাজার ১৫৬ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৪.৫৪ বিলিয়ন ডলার। তবে আইএমএফের অনুপাতে প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ ২৯.৮৬ বিলিয়ন ডলার।

    সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে প্রবাসী আয় ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হচ্ছে। ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থ পাচার কমে যাওয়ায় ও অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার প্রভাব কমায় প্রবাসীরাও বৈধ পথেই অর্থ পাঠাতে আগ্রহী হচ্ছেন, যা দেশের অর্থনীতি জন্য খুবই শুভ সংকেত।

  • বাংলাদেশে ভরিতে সোনার দাম আবার ৩ হাজার টাকা বাড়ল

    বাংলাদেশে ভরিতে সোনার দাম আবার ৩ হাজার টাকা বাড়ল

    বাংলাদেশের জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) নতুন করে সোনার মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন। আজ সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে কার্যকর এই নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে, উচ্চ মানের (২২ ক্যারেট) সোনার ভরির মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকায়, যা আগের তুলনায় ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বেশি। গতকাল ছিল এই দাম ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকা।

    বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, উচ্চ মানের তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম বৃদ্ধির কারণে স্থানীয় বাজারে দাম বাড়ানো হয়েছে। নতুন দামের ভিত্তিতে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৪৭ হাজার ১০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম দেড় লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা করা হয়েছে।

    সোনার দাম বাড়ার পাশাপাশি রুপার দামও বেড়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার মূল্য এখন ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ৪ হাজার ৮২ টাকা।

    আন্তর্জাতিক বাজারেও স্বর্ণ ও রুপার দাম ঊর্ধ্বমুখী। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি নামে বিশিষ্ট ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ১০৬ ডলার, যা আগের দিন ছিল ৪ হাজার ৯৭৮ ডলার। এর আগে ৩০ জানুয়ারি এই দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার, এবং ২৯ জানুয়ারি ছিল ৫ হাজার ৫৫০ ডলার।

    গত মাসেরশেষের দিকে, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ব্যাপক হারে বাড়তে থাকায় বাংলাদেশে তার প্রভাব পড়ে। ২৯ জানুয়ারি সকালে একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়, যেখানে এক ভরি স্বর্ণের দাম বেড়ে যায় ১৬ হাজার ২১৩ টাকা, এতে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্যে পৌঁছায়। উচ্চমানের সোনার দাম এক ভরিতে তখন দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। এর আগে কখনো এত দাম বেড়ানো হয়নি, যা দেশের স্বর্ণবাজারের ইতিহাসে রেকর্ড।

  • দুই দিনের ব্যবধানে ফের বাড়ল সোনার দাম

    দুই দিনের ব্যবধানে ফের বাড়ল সোনার দাম

    দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দাম অনুযায়ী, এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম এখন ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। এই মূল্য গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়, এবং তা সেই দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে।

    বাজুস জানিয়েছে, দেশের বাজারে তেজাবি সোনা বা পিওর গোল্ডের দাম বাড়ার কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সোনার মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, অন্যান্য ক্যারেটের সোনার দামও সম্প্রতি বাড়ানো হয়েছে। যেমন, ২১ ক্যারেটের ভরি মূল্য ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    তবে সেই সঙ্গে জানা গেছে, এসব মূল্যের ওপর সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করা হবে। গহনার নকশা ও মান অনুযায়ী মজুরির পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

    প্রসঙ্গত, এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি বাজুস একদফা সোনার দাম সমন্বয় করেছিল। তখন ২২ ক্যারেটের ভরি দামে ৩,২৬৬ টাকা বৃদ্ধির মাধ্যমে দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।

    বর্তমানে, চলতি বছর মোট ৩২ বার সোনার দাম পরিবর্তিত হয়েছে। এর মধ্যে ২০ দফায় দাম বেড়েছে এবং ১২ দফায় কমেছে। ২০২৫ সালেও মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছে, এর মধ্যে ৬৪ দফায় দাম বেড়েছে এবং ২৯ দফায় কমেছে।

    অপর দিকে, এক ভালো খবর হলো, রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেট রুপার ভরি বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৭০৭ টাকায়। অন্য ক্যারেটগুলো হলো, ২১ ক্যারেটের ভরি ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৪ হাজার ৮২ টাকায় বিক্রির জন্য উপলব্ধ।

    চলতি বছরে রুপার দাম ১৮ দফা পরিবর্তিত হয়েছে। এর মধ্যে ১১ বার দাম বেড়েছে ও ৭ বার কমেছে। গত বছর মোট ১৩ বার সমন্বয় হয়েছিল, যার মধ্যে ১০ বার দাম বেড়েছিল এবং ৩ বার কমেছিল।