Author: bangladiganta

  • শেষ কার্যদিবসে বিরোধীদের ওয়াকআউট যৌক্তিকতা ছিল না: সালাহউদ্দিন

    শেষ কার্যদিবসে বিরোধীদের ওয়াকআউট যৌক্তিকতা ছিল না: সালাহউদ্দিন

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জাতীয় সংসদের শেষ কার্যদিবসে বিরোধী দলের ওয়াকআউটের কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ ছিল না। রোববার (১২ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    তিনি জানান, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর পর ঈদসহ নানা ছুটির কারণে কার্যক্রম পরিচালনায় সময় সংকট ছিল। বিধি অনুযায়ী অধ্যাদেশগুলি ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদে উপস্থাপন করতে হয়, তাই সময়ের চাপ আরও বেড়ে যায়। এই কারণেই শুক্রবারও সংসদের অধিবেশন চালানো হয়েছে। স্বল্প সময়ের মধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা সহজ ছিল না এবং এজন্য কিছু অধ্যাদেশ আগে থেকে টেবিলে আনা সম্ভব হয়নি।

    বিরোধী দলের আচরণ নিয়ে তিনি বলেন, তারা একাধিকবার ওয়াকআউট করেছে। যে ইস্যুগুলোতে তারা এসব কর্মসূচি নিয়েছে, সেখানে কিছু তথ্য সঠিক ছিল না এবং গণমাধ্যমের সামনে বিভ্রান্তিকর মন্তব্যও করেছেন। বিশেষ করে জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর–সংক্রান্ত অধ্যাদেশটিকে কেন্দ্র করে তাদের ওয়াকআউটের কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

    আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে জানান, মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৭টি অপরিবর্তিত অবস্থায় পাস হয়েছে। ১৩টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে পাস করা হয়েছে, ৭টি অধ্যাদেশ রহিতকরণ বা সংশ্লিষ্ট বিলের মাধ্যমে অনুমোদন পেয়েছে এবং ১৬টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা হয়নি। সব মিলিয়ে ৯১টি বিলের মাধ্যমে ১১০টি আইন পাস হয়েছে।

    মন্ত্রী আরও বলেন, মানবাধিকার কমিশন আইন, সুপ্রিম বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত আইন ও সুপ্রিম সচিবালয়–সংক্রান্ত বিল প্রস্তাবের সময় প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা ও অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের কথা বলা হয়েছে। এসব বিষয়ে কোনো অস্পষ্টতা নেই; যারা ভিন্ন দাবি করছেন তারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।

    গুম কমিশন সম্পর্কেও আইনমন্ত্রী বলেন, আইসিটি আইনে গুমের সংজ্ঞা থাকলেও গুম কমিশন সংক্রান্ত আইনে তা স্পষ্টভাবে আলাদা করা হয়নি। ফলে মানবাধিকার সংক্রান্ত অন্যান্য আইনগুলোর সঙ্গে কিছু অসামঞ্জস্য দেখা দিতে পারে—এই কারণেই বিষয়টি আরও বিশদভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি।

    মানবাধিকার কমিশনের কার্যক্রমের কৌশল নিয়ে তিনি জানালেন, কমিশনের তদন্ত সম্পন্ন করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। কমিশন উভয় পক্ষকে ডেকেতে পারে, জরিমানা, ক্ষতিপূরণ বা আইনগত পদক্ষেপের পরামর্শ দিতে পারে এবং প্রয়োজন হলে নিজে বাদী হয়ে মামলা করতে পারে। তবে জরিমানা বা ক্ষতিপূরণ নিরূপণের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণের বিধান নেই।

    শেষে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, অতীতেও বিভিন্ন সময় বেশ কিছু অধ্যাদেশ আইন হিসেবে গৃহীত হয়েছিল; বর্তমান সরকারের সময়ও এ পর্যন্ত অনেক অধ্যাদেশকে আইন রূপ দেওয়া হয়েছে।

  • ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণকে ভুলে গেছে: নাহিদ ইসলাম

    ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণকে ভুলে গেছে: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে। তিনি এই অভিযোগ করেন শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশের শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে।

    নাহিদ বলেন, এ দেশের জাতীয় ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে শ্রমিকরা এই দেশের জন্য রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে। ১৯৪৭-এর স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বিভিন্ন গণ-অভ্যুত্থানে—শ্রমিকরাই সামনে ছিল। তিনি বিশেষ করে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে কর্মজীবী মানুষের ভূমিকা স্মরণ করান।

    নাহিদ ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, ‘‘শ্রমিকদের রক্তের ঘাম আর ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতায় ওঠা বিএনপি এখন এক মাসের মধ্যেই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। নতুনভাবে গঠিত সরকার গণভোট ও গণ-রায়ের প্রতি অবজ্ঞা করছে—এগুলোই তাদের গণবিরোধী হওয়ার প্রমাণ। ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে তারা শ্রমজীবী মানুষের কথা ভুলে গেছে।’’

    তিনি আরও বললেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশগুলো আইন করে সংস্কার বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি ছিল, সেটি বিএনপি ভঙ্গ করেছে। এর ফল ভালো হবে না—জোর দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, ওয়াদা ভঙ্গের বিরুদ্ধে সংগঠিত গণআন্দোলন করে শ্রমিকদের অধিকার ও সংস্কার বাস্তবায়নে বাধ্য করা হবে।

    নাহিদ বলেন, ‘‘আমরা এখন একটি নতুন জাতীয় ঐক্যের ব্যাক বিস্তার করছি, যেখানে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে শ্রমিকদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি—একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার—বাস্তবায়ন করাই আমাদের লক্ষ্য। রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজ সবখানেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং নতুন বন্দোবস্তে শ্রমিকদের অংশ নিশ্চিত করা হবে।’’

    তিনি জানান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি সেই ঐক্যের পথে রয়েছে এবং একযোগে কাজ করবে।

    নাহিদ শ্রমিকদের উদ্দেশ্য করে ডেকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। নতুন বাংলাদেশের পথে পদচারণা চালানোর জন্য, জুলাইয়ের আন্দোলনের মূল ভাবনাকে সামনে রেখে দেশকে এগিয়ে নিতে শ্রমিকরা একসঙ্গে কাজ করবে—এটাই তার আহ্বান।

    শেষে তিনি সতর্ক করেন যে এখন শুধু জাতীয় সংসদেই সীমাবদ্ধ থাকা যায় না; রাজপথের প্রস্তুতির প্রয়োজন। গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে চাপ দিয়ে জুলাই সনদ, গণভোটসহ শ্রমিকদের সব দাবি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে—এই প্রতিজ্ঞা নিয়েই তাদের আন্দোলন চলবে।

  • ৮ মাসে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি ছাড়াল ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি

    ৮ মাসে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি ছাড়াল ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি

    রপ্তানির তুলনায় আমদানি দ্রুত বাড়ায় এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির ফলে চলতি অর্থবছর (২০২৫-২৬) প্রথম আট মাসে দেশের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি এক হাজার ৬৯১ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটি বাংলাদেশি টাকায় প্রায় দুই লাখ সাত হাজার কোটি টাকারও বেশি। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ঘাটতি ছিল এক হাজার ৩৭১ কোটি ডলার।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক লেনদেনের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য ধরা হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের বক্তব্য, ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল ও খেজুরসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি গেল ফেব্রুয়ারিতে রমজানকে সামনে রেখে বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক আমদানির পরিমাণ বেড়ে গেছে। একই সময়ে রপ্তানি আয়ে অপ্রত্যাশিত ধীরগতি দেখা যাওয়ায় পণ্য বাণিজ্যের ঘাটতি আরও বাড়েছে। খাতগুলো বলছে—অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে আমদানি বিধির কঠোর প্রয়োগ ও রপ্তানি বাড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের বিস্তারিত তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়জুড়ে দেশি ব্যবসায়ীরা মোট পণ্য আমদানি করেছেন ৪৬.১৪ বিলিয়ন ডলার (প্রায় চার হাজার ৬১৭ কোটি ডলার), যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫.৬ শতাংশ বেশি। তুলনায় গত অর্থবছরে একই সময়ে আমদানি ছিল ৪৩.৭৪ বিলিয়ন ডলার।

    অন্যদিকে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩০.০৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে পাওয়া ২৯.২৬ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় ২.৬ শতাংশ বেশি। আমদানি ও রপ্তানির এ ব্যবধানেই চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি বেড়েছে।

    খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি থাকায় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও বিভিন্ন পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি থাকায় বাংলাদেশ বাণিজ্য ঘাটতিতে পড়ছে।

    চলতি হিসাব (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট) সম্পর্কে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, চলতি হিসাব বর্তমানে সামান্য ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে। ফেব্রুয়ারি শেষে চলতি হিসাবের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১০০ কোটি ডলার; আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ১৪৭ কোটি ডলার।

    অন্যদিকে সামগ্রিক ব্যালান্স ভালো অবস্থায় আছে; আলোচিত সময়ে সামগ্রিক লেনদেনের ব্যালান্স ৩৪৩ কোটি ডলার সঙ্কলিত হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ঋণাত্মক ১১৫ কোটি ডলারের অবস্থানের তুলনায় অনেক ভালো।

    রেমিট্যান্স ক্ষেত্রেও ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে—অর্থবছরের প্রথম আট মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ২২.৪৫ বিলিয়ন ডলার (দুই হাজার ২৪৫ কোটি ডলার) রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন; আগের বছরে একই সময়ে ছিল ১৮.৮৭ বিলিয়ন ডলার। ফলে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২১.৪ শতাংশ।

    পর্তুক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কমেছে; গত অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে এফডিআই ছিল ১০৬ কোটি ডলার, চলতি অর্থবছরে তা প্রায় ৮৭ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। শেয়ারবাজারে পোর্টফোলিও বিনিয়োগও নেতিবাচক অবস্থায় রয়ে গেছে—অর্থবছরের প্রথম আট মাসে শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ (নিট) থেকে প্রায় ৮ কোটি ডলার বেরিয়ে গেছে, যা আগের বছরও একই রকমভাবে ছিল।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, বহির্বিশ্বের মূল্যউদ্রেক ও ভোগ্যপণ্যের ভলিউম বাড়ায় আমদানির উপর নজরদারি শক্ত করলে এবং রপ্তানি বিস্তারে নীতিগত সহায়তা বাড়ালে দ্রুত ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে। নতুবা জ্বালানি-সহ মূল্যস্ফীতির প্রভাবে দেশের অর্থনীতির সংকট আরও বাড়তে পারে।

  • ১৭ ব্যাংক লোকসানে; সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধে নামল

    ১৭ ব্যাংক লোকসানে; সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধে নামল

    ২০২৪ সালের আর্থিক আচড়ের ছায়ায় দেশের ব্যাংকখাত বড় রকমের ধাক্কা খেয়েছে। চলতি বিবরণে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা অর্জন করতে পারেনি এবং বাকি ব্যাংকগুলোর আয়ও প্রত্যাশিত স্তরে পৌঁছায়নি। এর প্রকৰ্ফণে ২০২৫ সালে (জানুয়ারি–ডিসেম্বর) ব্যাংকগুলোর কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ব্যয় প্রায় অর্ধে নেমে এসেছে — বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ রিপোর্টে এমনই তথ্য ধরা পড়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক মিলিয়ে সিএসআর খাতে ব্যয় করেছে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা। আগের বছরের তুলনায় এটি ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা কম, যা প্রায় ৪২ শতাংশের সমান। গত এক দশকে এটিই সিএসআর খাতে সর্বনিম্ন ব্যয়; ২০১৫ সালের সর্বনিম্ন রেকর্ড ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, সেই তুলনায় এবার খরচ প্রায় ১৮২ কোটি টাকা (প্রায় ৩৪.৫৭ শতাংশ) কমেছে।

    তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালে সিএসআর খাতে ব্যয় ছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা; ২০২৩ সালে এটি ছিল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ এবং ২০২২ সালে ১,১২৯ কোটি টাকা। দুই বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় কমেছে প্রায় ৫১৩ কোটি টাকা, যা শতকরা হিসেবে ৪৫ শতাংশের বেশি।

    শাখা-প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকারদের তথ্য মতে, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পরবর্তী সরকার পরিবর্তন ব্যাংকিং খাতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। সূত্র ফাঁস, অনিয়ম ও অর্থপাচারের খবর প্রকাশ পেলে কাগজে-কলমে দেখানো মুনাফার তুলনায় প্রকৃত আর্থিক চিত্র সামনে আসে; খেলাপি ঋণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাস্তব লোকসানও স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে শরিয়াভিত্তিক কিছু ব্যাংক বড় চাপের মধ্যে পড়ে; অনেক ক্ষেত্রে কিছু শিল্পগোষ্ঠীর ঋণ অনিয়ম ও অর্থপাচারের প্রভাব পরিষ্কার হয়েছে। দুর্বল ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকার কয়েকটি ব্যাংক একীভূত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    ব্যাংকারদের বক্তব্য, সিএসআর ব্যয় কমার আরেকটি কারণ রাজনৈতিক পটপরিবর্তন। রাজনৈতিক সরকারের সময় বিভিন্ন স্তর থেকে অনুদান বা সহায়তার দাবি থাকায় ব্যাংকগুলো প্রচণ্ড চাপ অনুভব করত; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অনুষ্ঠান কিংবা বিভিন্ন প্রকল্পে চাপের ফলেই অনেক সময় সিএসআর অর্থ অনুচিতভাবে ব্যবহার হতো। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন ও আগের সরকার বদলের পর এই চাপ অনেকটাই কমেছে, ফলে ব্যাংকগুলো এখন তুলনামূলকভাবে সংযতভাবে সিএসআর ব্যয় করছে।

    অর্থনীতিবিদরা মনে করান, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক প্রভাব বা চাপের কারণে যদি এই অর্থ অনুৎপাদনশীল কাজে ব্যয় হয়, তবে সামাজিক দায়বদ্ধতার মূল উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে হয়: তার মধ্যে ৩০ শতাংশ শিক্ষায়, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্যখাতে, ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এবং বাকি ২০ শতাংশ অন্যান্য খাতে ব্যয় করার কথা বলা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে নির্দেশনা মানা হচ্ছে না—২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি (৩৬ শতাংশ) ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ শিরোনামের কাজে, শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩ শতাংশ, পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০ শতাংশ।

    রিপোর্ট অনুযায়ী ওই সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে একটাও অর্থ ব্যয় করেনি। সেই ব্যাংকগুলো হল: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    আর ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকের তালিকায় রয়েছে: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    তথ্য অনুযায়ী, এই লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে ছয়টি প্রতিষ্ঠান মুনাফা না করেও সিএসআর খাতে কিছু অর্থ ব্যয় করেছে; তারা হলেন: এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।

    সংক্ষেপে, আর্থিক ক্ষত ও রাজনৈতিক পরিবর্তন ব্যাংকগুলোর CSR নীতি ও ব্যয়ের ধরনে গুরুত্বপুর্ণ প্রভাব ফেলেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সিএসআর কার্যক্রমকে পুনর্সংগঠিত করা, স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং প্রকৃত সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় নিশ্চিত করাই ভবিষ্যতে খাতের সুস্থতার জন্য জরুরি।

  • ইরানের স্পিকার: যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আমাদের বিশ্বাস নেই, তারা আস্থা অর্জনে ব্যর্থ

    ইরানের স্পিকার: যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আমাদের বিশ্বাস নেই, তারা আস্থা অর্জনে ব্যর্থ

    ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ব্যর্থতার পরে। তিনি বলেন, মার্কিনিদের ওপর তাদের বিশ্বাস নেই এবং নতুন আলোচনায় তারা ইরানিদের আস্থা জিততে পারেনি।

    গালিবাফ রোববার (১২ এপ্রিল) মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্সে লিখেছেন, “আমাদের প্রয়োজনীয় মনোভাব এবং সদিচ্ছা আছে। কিন্তু আগের দুই যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে, মার্কিনিদের ওপর আমাদের কোনো বিশ্বাস নেই।” তিনি আরও বলছেন, “মার্কিনিরা এই পর্বের আলোচনায় ইরানি প্রতিনিধিদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।”

    স্পিকার পাকিস্তানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা ভাতৃপ্রতীম দেশ পাকিস্তানের ওপর কৃতজ্ঞ — এই আলোচনার ব্যবস্থা করার জন্য। পাকিস্তানের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।”

    গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বসেছিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল। দীর্ঘ সময় কথোপকথন হওয়া সত্ত্বেও দুই দেশ কোনো চুক্তি অনুসূচিতে পৌঁছাতে পারেনি। বর্তমানে ওই অঞ্চলে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি বলবৎ রয়েছে।

    ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত দাবি-দাওয়া এনেছে, যা তাদের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে কোনো চুক্তি ছাড়াই আলোচনায় বিরতি ঘোষণা করা হয়েছে। সূত্র বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকা জে.ডি. ভ্যান্স তার দলসহ দেশে ফিরে গেছেন।

    সূত্র: আলজাজিরা

  • তেল আবিবে ইরান যুদ্ধবিরোধী সমাবেশ আদালতের সীমা ছাড়ালো

    তেল আবিবে ইরান যুদ্ধবিরোধী সমাবেশ আদালতের সীমা ছাড়ালো

    তেল আবিবের হাবিমা স্কোয়ারে শনিবার (১১ এপ্রিল) সরকারবিরোধী ও ইরান যুদ্ধবিরোধী একটি বৃহৎ সমাবেশে শত শত নয়, হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়—বিবিসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বলছে অন্তত ২ হাজারজন উপস্থিত ছিল, যা সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত ১ হাজারজনের সীমা ছাড়িয়েছে।

    সুপ্রিম কোর্ট জননিরাপত্তার লক্ষ্যে ওই সীমা আরোপ করেছিল—পরিবর্তিত নিরাপত্তা অবস্থা, বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রতি কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটকে উল্লেখ করে। তবুও সমাবেশে পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও গত কয়েক সপ্তাহের মতো তীব্রভাবে লাঠিচার্জ বা ব্যাপক গ্রেপ্তার হয়নি।

    বিক্ষোভে মূলত বামপন্থী দল ও বিভিন্ন সরকারবিরোধী সংগঠন অংশ নিয়েছিল। তাদের মুখ্য দাবি—ইরান-বিগ্রস্ত লড়াই বন্ধ করা, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিচারের দাবী, এবং অতি-অর্থোডক্স ছাত্রদের সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতির পদক্ষেপের প্রতিবাদ।

    সমাবেশের এক অন্যতম সংগঠক অ্যালন লি গ্রিন বলেন, হাবিমা থেকে শহরের রাস্তায় সমবেত হয়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছেন—তিনি অভিযোগ করেন সরকার একটি দীর্ঘস্থায়ী জরুরি পরিস্থিতি তৈরি করে নাগরিকদের মৌলিক স্বাধীনতা দমন করছে এবং সুযোগ পেলে বিচারব্যবস্থাকে দুর্বল করার মতো আইন পাশ করছে।

    আরব-সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হাদাশের প্রধান আয়মান ওদেহ বিরোধী দলগুলোর সমালোচনা করে বলেন, তারা সরকারের বিরুদ্ধে কার্যকর ও নৈতিক কোনো বিকল্প উপস্থাপন করতে পারেনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘‘যুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য তাদের সঙ্গে অংশীদারিত্ব প্রয়োজন নাও হতে পারে, কিন্তু শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য জহুদি ও আরব জনগণের ঐক্য অপরিহার্য।’’

    সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ‘‘শান্তি, স্বাধীনতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার’’ স্লোগান তুলেছেন। তেল আবিবের বাইরে জেরুজালেমের প্যারিস স্কোয়ার ও হাইফাতেও প্রতিবাদী প্রর্দশন ছিল—জেরুজালেমে পুলিশি ব্যারিকেড ভাঙার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো, পরে জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবারে তেল আবিবে জমায়েতের সীমা ১ হাজার ও হাইফাতে ১৫০ জন নির্ধারণ করেছিল। গত সপ্তাহে পুলিশ অবৈধ জমায়েতের অজুহাতে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করলেও এই সপ্তাহে তারা তুলনামূলকভাবে নমনীয় ছিল। আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে যে কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিকভাবে সীমা ছাড়ালে পুলিশই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিক্ষোভ ভাঙতে পারে না—বিশেষ করে হাবিমা স্কোয়ারটির নিচে একটি বড় বোমা আশ্রয়কেন্দ্র থাকায় নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি কমে যায়।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় অনেক জায়গায়—স্কুল ও কর্মক্ষেত্রে—নিয়ন্ত্রন শিথিল করা হয়েছে, তবে লেবাননের সীমান্ত হয়ে হিজবুল্লাহর সঙ্গে চলমান সংঘর্ষের কারণে উত্তর ইসরায়েলসহ কয়েকটি এলাকায় এখনো কড়া বিধিনিষেধ বলবৎ রয়েছে।

    সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

  • কালীগঞ্জে দুই বাসের প্রতিযোগিতায় হকার ওসমান আলীর মর্মান্তিক মৃত্যু

    কালীগঞ্জে দুই বাসের প্রতিযোগিতায় হকার ওসমান আলীর মর্মান্তিক মৃত্যু

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে দুই যাত্রীবাহী বাসের প্রতিযোগিতার মতো গতির মধ্যে পড়ে ওসমান আলী (৪০) নামের এক হকারের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (১২ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে কালীগঞ্জ শহরের মেইন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত ওসমান আলী কালীগঞ্জ পৌরসভার হেলাই গ্রামের বাসিন্দা; তার আদি বাড়ি মাহেশপুর উপজেলায়। বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিভিন্ন যানবাহনে উঠে-ফেরে পণ্য বিক্রি করতেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে শহরের মেইন স্ট্যান্ডে শাপলা পরিবহনের দুটি বাসের মধ্যে একটি দ্রুতগতিতে পাশ কাটাতে গেলে সামনের ও পিছনের বাসের ফাঁকে আটকে পড়েন ওসমান আলী। তিনি চিৎকার করলে ও সাহায্য চাইলেও বাস দুটি দ্রুতগতি কমায়নি এবং আগে যাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিল। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হয়ে মারা যান।

    কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ জান্নাতুল নাঈম লাজুক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওসমান আলীর মৃত্যু হয়েছে। তার বুকে ও মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং নাক থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল।

    কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের বরাতে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন এবং তদন্ত চলছে।

  • খুলনায় হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু; ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ৯০

    খুলনায় হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু; ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ৯০

    খুলনা বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং সহস্রাধিক নয়, নতুন করে ৯০ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) বিকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মুজিবর রহমান।

    দপ্তরীয় তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেল পর্যন্ত খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৮৮৯ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ে ৫১ জনে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং মোট ১০ জনের মৃত্যু ঘটেছে। বিভাগভিত্তিকভাবে সবচেয়ে কঠিন অবস্থার মুখে রয়েছে কুষ্টিয়া জেলা, যেখানে এখন পর্যন্ত ৩৯৯ শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

    অন্য জেলায় চিকিৎসাধীন শিশুদের সংখ্যা হলো: যশোর ১১০, খুলনা ৯৪, বাগেরহাট ৩৫, চুয়াডাঙ্গা ১৬, ঝিনাইদহ ৪৫, মাগুরা ৬৪, মেহেরপুর ৬৪, নড়াইল ৩০ ও সাতক্ষীরা ৫৯।

    গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি ৯০ শিশুর জেলা অনুযায়ী বিভাজন—কুষ্টিয়া ২৩, যশোর ১৮, ঝিনাইদহ ১২, সাতক্ষীরা ৭, খুলনা ৭, মাগুরা ৭, বাগেরহাট ৫, নড়াইল ৪ ও চুয়াডাঙ্গা ৩। একই সময়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর পরিস্থিতি লক্ষ্য রাখছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দিতে এগিয়ে চলছে।

  • আর্জেন্টিনার ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা, ২৬ জনের ২২ জন প্রায় চূড়ান্ত

    আর্জেন্টিনার ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা, ২৬ জনের ২২ জন প্রায় চূড়ান্ত

    মাত্র দু’মাস পর শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ। এই বড় মঞ্চের জন্য আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচ লিওনেল স্কালোনি তার পরিকল্পনা কার্যত চূড়ান্তমুখী রেখে দিয়েছেন। স্থানীয় সময় মে মাসের ১১ তারিখে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)-কে ৫৫ জনের একটি প্রাথমিক তালিকা জমা দেয়া বাধ্যতামূলক ছিল এবং টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে স্কালোনি সেই তালিকাটি ইতিমধ্যে জমা দিয়েছেন।

    টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াডের মধ্যে প্রায় ২২ জনের নাম প্রায় নিশ্চিত। কোচ স্কালোনি কেবল বর্তমান তারকাদের ওপর ভরসা রাখছেন না, তরুণ উজ্জ্বল প্রতিভাদেরও সুযোগ দিচ্ছেন—তাতে দলের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখিত বহু পরিচিত নাম থেকে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য: এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, গেরোনিমো রুল্লি, নাহুয়েল মলিনা, গনজালো মন্টিয়েল, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, নিকোলাস ওতামেন্দি, নিকোলাস ট্যাগলিয়াফিকো, রদ্রিগো ডি পল, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, লিওনেল মেসি, লাউতারো মার্টিনেজ, জুলিয়ান আলভারেজ ও নিকোলাস গনজালেজ।

    চূড়ান্ত ২৬ জনের মধ্যে যে ৪টি জায়গা এখনও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, সেগুলোতে কারা লড়ছেন তা নিয়েও প্রতিবেদনে বিস্তারিত ছিল। তৃতীয় গোলরক্ষকের পদে বর্তমানে জুয়ান মুসো (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ) ওয়াল্টার বেনিতেজের চেয়ে এগিয়ে আছেন। ব্যাকআপ লেফট-ব্যাকের দাবিদার হিসেবে মার্কোস অ্যাকুনা ও গ্যাব্রিয়েল রোজাসের নাম সামনে; কোলো বার্কোও বিবেচনায় আছেন। চতুর্থ সেন্টার-ব্যাকের লড়াইয়ে মার্কোস সেনেসি ও ফ্যাকুন্ডো মেদিনার নাম উঠে এসেছে। আর শেষ একটিমাত্র খালি হয়ে থাকা স্পটের জন্য জিওভানি লো সেলসো (ফিটনেস বিবেচ্য), ভ্যালেন্টিন বার্কো, ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুয়োনো, জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ান্নি ও ম্যাক্সিমো পেরোনি প্রভৃতি খেলোয়াড় লড়ছেন।

    প্রাথমিক তালিকায় অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড় রয়েছে যাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স কিছুটা অনিয়মিত বা কমও থাকতে পারে; আবার তরুণরা সুযোগ পেতে পারে—কিন্তু চোট বা খারাপ ফর্ম দেখা দিলে প্রাথমিক তালিকার মধ্য থেকেও পরিবর্তন আসতে পারে। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও রিফর্ম দেখে স্কালোনিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। দুইবারের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আর্জেন্টিনা ট্রফি ধরে রাখার স্বপ্নের সঙ্গে মর্যাদা রক্ষার লক্ষ্যে জোরাত্মক প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে।

  • পিএসএলে খেলতে শরিফুল-রানার এনওসি একদিন বাড়াল বিসিবি

    পিএসএলে খেলতে শরিফুল-রানার এনওসি একদিন বাড়াল বিসিবি

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) খেলতে থাকা দুই পেসার শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানার জন্য দেওয়া অনাপত্তি পত্র (এনওসি) একদিন বাড়িয়েছে। পেশোয়ার জালমি ফ্র্যাঞ্চাইজি ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের অনুরোধে এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যাতে তাদের পেশোয়ারের পরবর্তী ম্যাচ খেলতে আরও এক দিন পাকিস্তানে থাকা সম্ভব হয়।

    বিসিবি আগে দেশের সব ক্রিকেটারকে পিএসএল খেলতে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত এনওসি দিয়েছিল। কিন্তু পেশোয়ারের আগামী ম্যাচকে সামনে রেখে পাকিস্তান থেকে আরেকদিন থাকা অনুরোধ আসায় বিসিবি সেই অনুরোধ মেনে এনওসির মেয়াদ বাড়িয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে শরিফুল ও রানা ১৪ এপ্রিল দেশে ফিরে জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেবেন।

    অন্যদিকে, একইভাবে এনওসি পেয়েও খেলা ছেড়ে দেশে ফিরে এসেছেন পারভেজ হোসেন ইমন। তার মেয়াদ সাধারণত ২১ এপ্রিল পর্যন্ত থাকলেও কাঁধের লিগামেন্টের চোট পাওয়ায় আগেভাগেই দেশে ফিরতে হয়েছে তাকে। পিএসএল দলের ফিজিও বিসিবিকে জানিয়েছেন, এই চোট থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। আজ (রোববার) বিসিবির ফিজিওরা পরীক্ষা করে দেখবেন; এরপরই পরিষ্কার হবে– নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজে ইমন খেলতে পারবেন কি না।

    ফ্র্যাঞ্চাইজি পর্যায়ের পারফরম্যান্স নিয়ে বললে, শুরুর দুই ম্যাচে উইকেট না পেলেও পরের দুই ম্যাচে দুটি উইকেট তুলেছেন শরিফুল। নাহিদের শুরুটা কিছুটা হতাশাজনক ছিল—প্রথম ম্যাচে তিন ওভারে ৩০ রানের বেশি দিয়েছেন—তবে পরের দুই ম্যাচে কার্যকর বোলিং করে পাঁচটি উইকেট নিয়েছেন তিনি। রিশাদ হোসেন এবারের আসরে চার ম্যাচে মাত্র দুই উইকেট নিয়েছেন। তানজিদ হাসান তামিমও পেশোয়ার জালমির ঠিকানায় ছিলেন, কিন্তু বিদেশি কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে গিয়ে এখনও কোনো ম্যাচের একাদশে সুযোগ পাননি।

    ইমন পেশোলে ভালো কিছু ইনিংস খেলেছিলেন—প্রথম দুই ম্যাচে যথাক্রমে ১২ ও ১৪ রানে আউট হলেও তৃতীয় ম্যাচে ১৯ বলে ৪৫ রানের ঝটিকা ইনিংস খেলেছিলেন, যার মধ্যে ছিল পাঁচটি ছক্কা। তবে চোটের কারণে তিনি আগেভাগেই দেশে ফিরে আসতে হয়েছে।

    বিসিবি-র এই নিষ্পত্তি দেখিয়ে দিচ্ছে— দেশে থাকা জাতীয় টিমের প্রস্তুতি ও বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের দাবির মধ্যে সমন্বয় করার চেষ্টা চলছে যাতে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও জাতীয় দায়িত্ব দুটোই বিবেচনায় আসে।