Author: bangladiganta

  • প্রথমবার শহীদ মিনারে ফুল দিল জামায়াত, শহীদ বেদিতে দাঁড়িয়ে দোয়া

    প্রথমবার শহীদ মিনারে ফুল দিল জামায়াত, শহীদ বেদিতে দাঁড়িয়ে দোয়া

    আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলীয় জোট পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি শহীদ বেদিতে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় গভীর দোয়া করেন জামায়াত আমিরসহ ১১ দলের সংসদ সদস্যরা।

    রাত ১২টা ১ মিনিটের দিকে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পৌঁছান জামায়াত নেতারা, এবং ঠিক ১২টা ১০ মিনিটের সময় শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংসদে বিরোধীদলের হুইপ নাহিদ ইসলাম, সংসদ সদস্য হাসনাত, এটিএম আজহারসহ অন্যান্য জোট নেতা-কর্মীরা।

    শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সবাই কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করেন। এরপর তারা নগরীর আজিমপুর কবরস্থানে ভাষা শহীদদের কবর জিয়ারত করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দলটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও নবনির্বাচিত সাংসদরা।

    কবরস্থানে গিয়ে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে কিছুক্ষণ নীরবতা পালনের পাশাপাশি কোরআন তেলাওয়াত হয় এবং শহিদদের রুহের শান্তি কামনায় দোয়া পরিচালনা করেন জামায়াতের আমির নিজেই। জানা গেছে, আজকের এই আনুষ্ঠানিকতা জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো এভাবে শহীদ মিনারে ফুল উৎসর্গ ও শ্রদ্ধা নিবেদনের উদাহরণ।

    প্রথমে প্রধানমন্ত্রী শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর ধাপে ধাপে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান।

    একুশের প্রথম প্রহর থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন। দিবসটি রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালিত হচ্ছে, যাতে ভাষা শহীদদের স্বরণে বিভিন্ন ধরণের আনুষ্ঠানিকতা ও উৎসবের আয়োজন দেখা যায়।

  • একুশ অন্যতম মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নতুন প্রেরণা: স্থানীয় সরকার ও বিএনপি নেতা

    একুশ অন্যতম মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নতুন প্রেরণা: স্থানীয় সরকার ও বিএনপি নেতা

    স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘ দিন ধরেই একুশ ছিল ফ্যাসিস্ট শাসনের জাঁতাকলে আবদ্ধ। কিন্তু এবার সেই চেতনাকে মুক্ত করে আন্তরিকতার সঙ্গে উদযাপন করা হচ্ছে, যার ফলে এবারের একুশের অনুভূতি বেশ আলাদা ও উদ্দীপনাময়। এই কথা তিনি ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন উপলক্ষে শুক্রবার দিবাগত রাতে তাদের স্মৃতির প্রতি গভীর احترام জানাতে গিয়ে বলেন।

    মন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠন করেছে তারেক রহমানের নেতৃত্বে। এই সরকারের সামনে অসীম প্রত্যাশা রযেছে দেশের সাধারণ মানুষের। তারা চান, ভবিষ্যতে একটি সত্যিকার গণতান্ত্রিক ও সুবিচারভিত্তিক বাংলাদেশ রূপদান হবে।

    মির্জা ফখরুল বলেন, একুশের মূল চেতনা ছিল সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশে একটি বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই চেতনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তারা আগামী দিনে দেশকে আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করে তুলবেন। নতুন এই একুশের মধ্যে তারা পাবেন নতুন উৎসাহ ও প্রেরণা, যার মাধ্যমে তারা জনগণের কল্যাণে কাজ করতে সক্ষম হবেন।

    তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের মাতৃভাষা, সংস্কৃতি এবং স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে আরও শক্তিশালী করব। আমাদের লক্ষ্য, একটি মুক্ত, গণতান্ত্রিক ও সুবিচারভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে সবাই সমান অধিকার পাবে এবং দেশের উন্নয়ন হবে ধীর ও স্থির পথে।

  • আওয়ামী লীগের অফিসে ‘জয়বাংলা’ স্লোগানে পতাকা উত্তোলন ও অভিযান

    আওয়ামী লীগের অফিসে ‘জয়বাংলা’ স্লোগানে পতাকা উত্তোলন ও অভিযান

    মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের উপলক্ষে জামালপুরের বকশীগঞ্জে বগারচর ইউনিয়ন এলাকায় বিশেষ এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে স্থানীয় নেতাকর্মীরা জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া পরিচালনা করেছেন। সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে তারা আওয়ামী লীগের অঘোষিত কার্যালয়ের সামনে ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দিয়ে পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর এক মোনাজাতে ভাষা আন্দোলনে শহীদ ব্যক্তিদের জন্য শান্তি ও মাগফেরাত কামনা করা হয়। এই পতাকা উত্তোলন ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন সংবিধিবদ্ধভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা, যার মধ্যে ছিল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ কাদির সাজু, সদস্য রেজাউল করিম, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব আলী, তাঁতী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল, এবং নিষিদ্ধ দলের ছাত্রলীগ সভাপতি নিয়ামত উল্লাহসহ আরও কয়েকজন। তবে এই কর্মসূচির শেষের দিকে নেতাকর্মীরা দ্রুতই কার্যালয় থেকে বিদায় নেন। এই ঘটনার পর থেকে বগশীগঞ্জের বকশীগঞ্জ ইউনিয়নে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই এই ঘটনার নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করে থাকেন। বিশিষ্ট সমাজ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা বলেন, এটি কোনও অপ্রত্যাশিত ঘটনার অংশ নয়, বরং এক ধরনের অসাধু পদ্ধতি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন এখন তদন্ত শুরু করেছে। বকশীগঞ্জ থানার ওসি মকবুল হোসেন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর নেতাকর্মীরা পালিয়ে গেছে, যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর ফলে বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে এবং সঠিক তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করা হবে।

  • হৃদরোগে আক্রান্ত সেলিমা রহমান, হাসপাতালে ভর্তি

    হৃদরোগে আক্রান্ত সেলিমা রহমান, হাসপাতালে ভর্তি

    রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমান। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের সিসিইউয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়। ওই পোস্টে বলা হয়, তার দ্রুত আরোগ্যের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তার পরিবার ও বিএনপির পক্ষ থেকে। সেলিমা রহমান ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে তৎকালীন বিএনপি সরকারে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তাকে নানা ধরনের অত্যাচার ও নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে। বেশ কয়েকবার তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে, যা তাঁর রাজনৈতিক জীবনকে করে তোলে আরও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

  • আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলায় সরকারের অনুমতি নেই: মির্জা ফখরুল

    আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলায় সরকারের অনুমতি নেই: মির্জা ফখরুল

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে দলীয় কার্যালয় খুলে থাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সরকারের অনুমতি না থাকায় এই কার্যালয়গুলোর খোলার নীতিগত কোনো অনুমোদন নেই। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিষয়টি দেখবে।

    সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানী নয়াপল্টনের বিএনপি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর এটি তার প্রথমবারের মতো দলের কার্যালয় পরিদর্শন।

    এ সময় তিনি দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ করে বলেন, এই কার্যালয়ে তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেছেন। আপনার আত্মার শান্তি কামনা করে তার মাগফেরাতের জন্য দোয়া করেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের আইন অনুযায়ী আওয়ামী লীগের কার্যালয়গুলো কার্যত নিষিদ্ধ, তাই তারা এগুলো খোলেনি। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ যদি বিষয়টি দেখবে, তাহলে সমাধান সম্ভব।

    তিনি আরও বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তারেক রহমানের প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। তার নেতৃত্বে দেশ নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, দল ও সরকার তার নেতৃত্বে সুসংগঠিত হয়ে এগিয়ে যাবে।

    গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য সাংবাদিকদের ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

    অপর দিকে, স্থানীয় নির্বাচন বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে মির্জা ফখরুল বলেন, মন্ত্রণালয়ের কিছু প্রথা রয়েছে, সেটি শেষ হলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি, দলের নারীদের মনোনয়নও দেওয়া হবে।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা মুনির হোসেন, মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খানসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

  • নতুন চিফ প্রসিকিউটর দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে যাবেন তাজুল ইসলাম

    নতুন চিফ প্রসিকিউটর দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে যাবেন তাজুল ইসলাম

    অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পাওয়া তাজুল ইসলামকে সরকারের পক্ষ থেকে নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। তার স্থলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলামকে। তবে, আগামী বছরের জুলাই-আগস্টে সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকাজের অপূর্ণ অংশটি নতুন চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে সম্পন্ন করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সদ্য বিদায়ী তাজুল ইসলাম।

    সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    এর আগে সকালে, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলামকে চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেয় বিএনপি সরকার। এর মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যেখানে তিনি ২০১৭ সালে গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিচারের জন্য কাজ করেছেন।

    বিএনপি সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায়, তাজুল ইসলাম বলেছেন, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসে নিজেদের পছন্দের লোকদের বিভিন্ন পদে বসানো স্বাভাবिक বিষয়। এর মাধ্যমে তিনি বলেছেন, “এই সিদ্ধান্তে আমি কোনো আশ্চর্য হইনি।”

    তাজুল ইসলাম স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আমি নতুন চিফ প্রসিকিউটরকে স্বাগত জানাই। আমি আশা করি তিনি আমাদের রেখে যাওয়া অসমাপ্ত দায়িত্ব বাস্তবায়নে সফল হবেন।” তিনি আরও বললেন, তাঁর দায়িত্বকালে কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন তা বর্ণনা করে—প্রথমে ট্রাইব্যুনালের মূল ভবনটি অপ্রশস্ত ও অবহেলিত ছিল, যেখানে অফিসে প্রয়োজনীয় সব উপকরণও ছিল না।

    তিনি বলেন, প্রথম দিকে, সরকারের নির্দেশ ছিল যে, বর্তমান অবস্থায় কাজ চালিয়ে যেতে হবে। তবে, গতকাল তারা জানিয়েছে, কর্তৃপক্ষ নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। তখন তিনি সরাসরি প্রশ্ন করেন, “আমি কি পদত্যাগ করে চলে যাব?” সরকার বলেছে, “নাই, এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া”, কারণ নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া প্রাকৃতিকভাবেই হবে।

    বিজ্ঞানের এই দিকটির প্রতি আরও বিশদ আলোকপাত করে, তিনি বলেন, সাধারণত নির্বাচিত সরকার তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের স্থান-পরিবরত করে। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

    বিগত দেড় বছরে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমকে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা, এবং বাংলাদেশের গুম, হত্যা বা মানবতাবিরোধী অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে তিনি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে এমন কোনো মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনা আর ঘটবে না।

  • প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর ও তারেক রহমানের আমন্ত্রণ

    প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর ও তারেক রহমানের আমন্ত্রণ

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এই সাক্ষাৎকার সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে অনুষ্ঠিত হয়। এসময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানান, চীনের রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীর কাছে চীনের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন। পাশাপাশি, চীন থেকে বাংলাদেশের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসে—রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, চীন তার দেশের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চীন সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, এর আগে ২২ ফেব্রুয়ারি রোববার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার কোনও দেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনও তৃতীয় দেশের হস্তক্ষেপ মানবে না চীন। চীনের নয়া নীতিতে সক্রিয়ভাবে পাশে থাকবে দেশটি, যেখানে তাদের মূল লক্ষ্য হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। দেশটির এই আগ্রহ গভীরভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়াও, বাংলাদেশে নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পরপরই চীনের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বার্তা আসে। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং প্রথম বিশ্বনেতাদের মধ্যে একটিকে ছিলেন, যিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তদ্ব্যতীত, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে এক চিঠি পাঠিয়েছেন।

  • ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী হচ্ছেন নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল

    ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী হচ্ছেন নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল

    সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী দেশের নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে বলে জানা গেছে। আইনমন্ত্রীপ্তর সূত্রে জানা গেছে, 오는 সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারী) এই বিষয়টি নিশ্চিত করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

    ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী দীর্ঘকাল ধরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের একজন অভিজ্ঞ ও সম্মানিত আইনজীবী। সততা, পেশাদারিত্ব এবং ন্যায়ে প্রতিষ্ঠায় তাঁর অটুট অঙ্গীকারের জন্য তিনি ব্যাপক সম্মান লাভ করেছেন।

    তার পারিবারিক পটভূমিও সমাজ ও রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর পিতা, ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রয়াত আব্দুর রউফ চৌধুরী, একজন মনোযোগী ও দূরদর্শী রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত।

    শিক্ষাজীবনে রাগিব রউফ চৌধুরী কুষ্টিয়া জিলা স্কুল থেকে এসএসসি, এরপর ঢাকা নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি ভারতের ঐতিহ্যবাহী আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ডিগ্রি লাভ করেন। গ্রাজুয়েশনের পর ঢাকায় অবস্থান করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

    উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাজ্য যান এবং সেখানে দুটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি, লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে বার-অ্যাট-ল ডিগ্রি লাভ করেন।

    নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে শিগগিরই এই নিয়োগকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে, বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানান।

  • সরকারের উদ্যোগ: কৃষকদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের মতো কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু হবে

    সরকারের উদ্যোগ: কৃষকদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের মতো কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু হবে

    সরকার দেশব্যাপী কৃষকদের জন্য নতুন একটি উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডের মতোই, এবার কৃষকদের জন্য বিশেষ ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করা হবে যা তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ সুবিধার দ্বার খুলে দেবে। তবে, এটি এখনই ব্যাপক পরিসরে চালু না করে পরিক্ষামূলক ‘পাইলট প্রকল্প’ হিসেবে শুরু করা হবে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।  তথ্যমন্ত্রী জানান, এই কৃষক কার্ডের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এখন উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক চলছে। নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল কৃষকদের জন্য এই কার্ডের ব্যবস্থা করা। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে আজ প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। তিনি আরও বলেন, দ্রুত সম্ভব এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে যাতে কৃষকরা সুবিধা পেতে পারেন।  সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, এখনই কবে নাগাদ এই কার্ড বিতরণ শুরু হবে, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় কারণ প্রস্তুতির কাজ এখনও চলছে। তবে, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই কাজ সম্পন্ন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় এই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে।  নতুন এই কার্ডের মাধ্যমে একজন কৃষক তার উৎপাদন, বাজার ও অন্যান্য সুবিধা সহজে পেয়ে যাবেন। মন্ত্রী বলেন, কৃষি জ্ঞান, আধুনিক যন্ত্রপাতি, সার, কীটনাশক ও বীজসহ নানা উপকরণ সহজলভ্য হবে। এছাড়াও স্মার্ট পদ্ধতিতে বাজারের পরিস্থিতি, আবহাওয়া ও উৎপাদনের তথ্য পাওয়া যাবে, যা কৃষকদের উন্নত পরিকল্পনা করতে সাহায্য করবে।  সরকার এই উদ্যোগে স্মার্ট কার্ড প্রযুক্তির উপর জোর দিচ্ছে যাতে কোনোভাবেই কোনো প্রভাবশালী বা মধ্যস্বত্বভোগীর হস্তক্ষেপ না হয়। স্বপন বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষক সরাসরি ব্যাংকিং বা অন্য যেকোনো সরকারি সুবিধা পেয়ে যাবেন, ফলে তাদের স্বার্থের সুরক্ষা হবে।  সরকারের লক্ষ্য, দেশের সব কৃষককেই এই কার্ডের আওতায় আনা। তবে, প্রথমে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল বা জনগোষ্ঠীর জন্য এই প্রকল্পের পরীক্ষা চালানো হবে, এরপর ধীরে ধীরে তা সারাদেশে বিস্তৃত করা হবে।

  • সরকার হজ যাত্রীদের দুর্ভোগ কমানোর জন্য কাজ করছে: বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী

    সরকার হজ যাত্রীদের দুর্ভোগ কমানোর জন্য কাজ করছে: বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী

    বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের সংস্কার কাজ শেষ করে দ্রুত চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই উদ্যোগের মাধ্যমে হজযাত্রী ও প্রবাসীদের দুর্ভোগ কমানো এবং তাদের হয়রানি বন্ধের উদ্দেশ্য রয়েছে। মোঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় মানিকগঞ্জের সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক জরুরী সভায় তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন।

    মন্ত্রী আফরোজা খানম উল্লেখ করেন, পবিত্র হজ আসছে, তাই হজযাত্রীদের ভোগান্তি থেকে রেহাই দিতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের জন্য বিমানবন্দরে একটি কমফোর্ট জোন তৈরি করা হবে, যেখানে তারা ঢোকার পর আর কোনো সমস্যা হবে না। যেন তারা বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের আর কোন অসুবিধার সম্মুখীন হতে না হয়, এই লক্ষ্যে কাজ চলছে।

    তিনি যোগ করেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পরে দেখা গেলো দপ্তরে অনেক কাজ পেঁচিয়ে রয়েছে। আমাদের আরও কার্যকরভাবে কাজ সম্পন্ন করতে হবে, তারেক রহমানের পরামর্শে ধীরে ধীরে জমে থাকা কাজগুলো সারাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    অতিরিক্তভাবে, আফরোজা খানম বলেন, সরকারের শ্বেতপত্র অনুযায়ী, দুর্নীতির ব্যাপারে আমাদের জিরো টলারেন্স রয়েছে। বিমানবন্দর সহ সব দপ্তরে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দুর্নীতির ব্যাপারে বারবার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন আমরা সততার সঙ্গে কাজ করি। বিশেষ করে, বিমানবন্দর টিকিট সিন্ডিকেটের ক্ষেত্রে আমরা সজাগ রয়েছি, এবং অনিয়ম রোধে কঠোর অবস্থানে আছি।