Author: bangladiganta

  • মায়ের সামনে যমুনার স্রোতে ভেসে গেল স্কুলছাত্র

    মায়ের সামনে যমুনার স্রোতে ভেসে গেল স্কুলছাত্র

    পাবনার বেড়া উপজেলায় মা–সহ পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে যমুনা নদীতে গোসলে নেমে এক স্কুলছাত্র নিখোঁজ হয়েছে। আজ সোমবার বেলা দেড়টার দিকে হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়নের নতুন পেঁচাকোলা গ্রামের পেঁচাকোলা ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, স্রোতের টানে ভেসে গেছে সে।

    নিখোঁজ উৎসব কর্মকার উপজেলার হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়নের নতুন পেঁচাকোলা গ্রামের উত্তম কর্মকারের ছেলে এবং রাজধানীর একটি স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে ঢাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকত। ঈদের ছুটিতে সম্প্রতি গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল সে।

    স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, আজ বেলা দেড়টার দিকে বাড়ির পাশের যমুনা নদীতে মা–সহ পরিবারের আরও কয়েকজনের সঙ্গে গোসল করতে যায় উৎসব। সে কিছুদিন ধরে সাঁতার শিখেছিল। গোসলের একপর্যায়ে মায়ের চোখের সামনে হঠাৎ সে স্রোতের টানে নদীর কিছুটা ভেতরের দিকে চলে যায়। এ সময় লোকজন তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে সে স্রোতের টানে তলিয়ে যায়।

    খবর পেয়ে কাশিনাথপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল আজ বেলা আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিকেল পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল হান্নান বলেন, নদীতে প্রবল স্রোত আছে। তাই তাঁকে আশপাশে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা কম। আপাতত উদ্ধার অভিযান স্থগিত হলেও পরে অবস্থা বুঝে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • প্রধান উপদেষ্টা দুটি রাজনৈতিক দলের কথায় এপ্রিল মাসে নির্বাচন ঘোষণা করেছেন

    প্রধান উপদেষ্টা দুটি রাজনৈতিক দলের কথায় এপ্রিল মাসে নির্বাচন ঘোষণা করেছেন

    নাছির উদ্দিন আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পরে আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এই সরকার আমাদের সরকার। এই সরকারকে কোনোভাবে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। কিন্তু আমরা লক্ষ করছি, এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে একটি রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যে গঠিত হয়েছে, সেই রাজনৈতিক দলকে কীভাবে প্রয়োরেটি দেওয়া যায়, অথবা কীভাবে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া যায়, সে বিষয়ে তারা ব্যস্ত রয়েছে।’

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল কাইয়ুম মাসুদ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আয়োজক কমিটির কমিটির সদস্য সচিব বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল আলিম বাছির, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর, সদস্যসচিব হারুনুর রশিদ আজাদ, জেলা বিএনপির নেতা সহিদুল ইসলাম কিরণ। সঞ্চালনা করেন কৃষক দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল হাসান।

  • নির্বাচন অহেতুক বিলম্বে জনগণকে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছে : বিএনপি

    নির্বাচন অহেতুক বিলম্বে জনগণকে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছে : বিএনপি

    প্রায় দেড় যুগ ধরে মৌলিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত এদেশের জনগণ ভোটের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠার জন্য গুম, খুন, জেল-জুলুম, আহত ও নির্যাতিত হয়েও অব্যহত লড়াই চালিয়ে গেছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগষ্টের ছাত্র-জনতার বিপুল আত্মত্যাগের মাধ্যমে তার বিজয় অর্জিত হলেও নির্বাচন অনুষ্ঠানে অহেতুক বিলম্বে জনগণকে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছে বলে জানিয়েছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটি রমজান, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমপর্যায়ের পরীক্ষা এবং আবহাওয়া ইত্যাদি বিবেচনায় ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করছে।
    শুক্রবার (০৬ জুন) ভার্চুয়ালি দলের স্থায়ী কমিটির জরুরি সভায় এসব কথা বলা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণের বিষয়ে আলোচনা করতেই এই বৈঠক ডাকা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
    সভা শেষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থায়ী কমিটির সভায় প্রধান উপদেষ্টার জাতির উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণ পর্যালোচনা করে সর্বসম্মতভাবে এই অভিমত ব্যক্ত করা হয়েছে যে, পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে প্রদত্ত তাঁর বক্তব্য প্রসঙ্গকে অতিক্রম করে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে পরিনত হয়েছে। এই দীর্ঘ ভাষণে তিনি বন্দর, করিডোর ইত্যাদি এমন সব বিষয়ে অবতারনা করেছেন যা তাঁরই ভাষায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ৩টি ‘ম্যান্ডেটের’ মধ্যে পড়েনা। ভাষণে তিনি শব্দ চয়নে রাজনৈতিক ভব্যতার সীমা অতিক্রম করায় সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

    সভায় প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যে সময়সীমা প্রস্তাব করেছেন তা পর্যালোচনা করে সভা মনে করে যে, এপ্রিলের প্রথমার্ধে নির্বাচন হলে একদিকে আবহাওয়ার সংকট এবং অন্যদিকে রমজানের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারনা ও কার্যক্রম এমন এক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে যা নির্বাচনকে পিছিয়ে দেয়ার কারণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। অধিকন্তু কেন ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়,এমন কোন সুনির্দিষ্ট কারণ তাঁর ভাষণে উল্লেখ করা হয়নি।
    বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, নির্দলীয়-নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি ঐক্যমত প্রতিষ্ঠার কথা বললেও একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সিংহভাগ রাজনৈতিক দলের মতামত অগ্রাহ্য করে নিজেদের নিরপেক্ষতাকেই যেভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে, তাতে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে দেশের জনগণ সঙ্গতভাবেই শংকিত হতে পারে বলে সভা মনে করে।

  • ২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন: প্রধান উপদেষ্টা

    ২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন: প্রধান উপদেষ্টা

    ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

    শুক্রবার (৬ জুন) সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু, প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য সকল পক্ষের সঙ্গে আমরা আলোচনা করেছি। পাশাপাশি, বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন সংক্রান্ত চলমান সংস্কার কার্যক্রম পর্যালোচনা করে আমি আজ দেশবাসীর কাছে ঘোষণা করছি, আগামী জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধের যেকোনো একটি দিনে অনুষ্ঠিত হবে। এই ঘোষণার ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন উপযুক্ত সময়ে আপনাদের কাছে নির্বাচনের বিস্তারিত রোডম্যাপ প্রদান করবে।

    তিনি বলেন, আমরা এমন নির্বাচন চাই যা দেখে অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মা তৃপ্তি পাবে, তাদের আত্মা শান্তি পাবে। আমরা চাই আগামী নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোটার, সবচেয়ে বেশি প্রার্থী ও দল অংশ নিক। এটা সবচেয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হিসেবে জাতির কাছে স্মরনীয় থাকুক।

    ড. ইউনূস বলেন, দেড়যুগ পরে দেশে সত্যিকারের একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল সংসদ গঠিত হবে। বিপুল তরুণ গোষ্ঠী এবার জীবনে প্রথম ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবে। এসব লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আমরা জাতির কাছে অঙ্গীকারাবদ্ধ।

    তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা সকল রাজনৈতিক দল এবং আপনাদের এলাকার প্রার্থীদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার আদায় করে নেবেন যেন আগামী সংসদের প্রথম অধিবেশনেই যেসব সংস্কার প্রশ্নে ঐকমত্য অর্জিত হয়েছে তা কোনো প্রকার কাটাছেঁড়া ছাড়াই যেন তারা অনুমোদন করেন।‌

    ‘আপনারা ওয়াদা আদায় করে নেবেন যে তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় মর্যাদার প্রশ্নে কখনও কোনো প্রকার আপোষ করবেন না এবং দেশের বাইরের কোনো শক্তির কাছে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেবেন না। আপনারা তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি আদায় করে নেবেন এই মর্মে যে তারা কখনই, কোনো অবস্থাতেই আপনাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদা ক্ষুন্ন করবেন না।’

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আপনারা তাদের (নির্বাচনী প্রার্থী) কাছে অঙ্গীকার আদায় করে নেবেন যে তারা সম্পূর্ণ সততা ও স্বচ্ছতার সাথে দেশ পরিচালনা করবেন এবং সকল প্রকার দুর্নীতি, দলীয়করণ, টেন্ডারবাজি, সিন্ডিকেটবাজি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ইত্যাদি গণবিরোধী কাজ থেকে নিজেদেরকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত রাখবেন।

    তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করার বিষয় নয়। এটা ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার নির্বাচন। এই নির্বাচনে পরিচিত দলগুলোই থাকবে। তাদের পরিচিত মার্কাগুলোই থাকবে। কিন্তু ভোটারকে বের করে আনতে হবে যে এই মার্কার পেছনে আপনার কাছে ভোটপ্রার্থীরা কে কতটুকু ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার জন্য প্রস্তুত। কে কতটা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

  • ইশরাকের শপথের গেজেট স্থগিত চেয়ে লিভ টু আপিলের শুনানি বৃহস্পতিবার

    ইশরাকের শপথের গেজেট স্থগিত চেয়ে লিভ টু আপিলের শুনানি বৃহস্পতিবার

    বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করে নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের রায় ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গেজেটের কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে করা লিভ টু আপিল শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার (২৯ মে) দিন ঠিক করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য শোনার জন্য রেখেছেন আপিল বিভাগ।

    এ সংক্রান্ত বিষয়ে দায়ের করা আপিল আবেদন মঞ্জুর করে বুধবার (২৮ মে) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

    আদালতে লিভ টু আপিলকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন। ইশরাকের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তাকে সহযোগিতা করেন ব্যারিস্টার একেএম আহসানুর রহমান।

    এর আগে ইশরাকের ট্রাকের মেয়র পদ ঘোষণা ও শপথ নিয়ে প্রকাশিত গেজেটের বিরুদ্ধে দায়ের করা লিভ টু আপিল শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠান আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত।

    মঙ্গলবার (২৭ মে) সুপ্রিম বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হক এর চেম্বার জজ আদালত শুনানির এই দিন নির্ধারণ করে আদেশ দেন।

    এর আগে ইশরাককে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণা করে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায় এবং ইসির গেজেটের কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে করা রিট সরাসরি খারিজ করে ২২ মে আদেশ দেন হাইকোর্ট। সেদিনই পূর্ণাঙ্গ আদেশ প্রকাশিত হয়। ওই আদেশের বিরুদ্ধে মেয়র ঘোষণা ও গেজেটের কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে গত সোমবার (২৫ মে) লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন রিট আবেদনকারী।

    এটি লিভ টু আপিলটি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের মঙ্গলবারের কার্যতালিকায় ১২৫ নম্বর ক্রমিকে ওঠে।

    এ সংক্রান্ত বিষয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন বলেন, হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের রায় এবং ইসির গেজেটের কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে করা লিভ টু আপিলটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার নির্ধারণ করা হয়েছে।

    ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হয়। আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস মেয়র নির্বাচিত হন। একই বছরের ২ ফেব্রুয়ারি ভোটের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। শপথ নিয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তাপস।

    নির্বাচনে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ফলাফল বাতিল চেয়ে ২০২০ সালের ৩ মার্চ মামলা করেন ইশরাক। এর গত বছরের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। একই বছরের ১৯ আগস্ট ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ সিটি করপোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করা হয়। এর মধ্যে ইশরাকের করা নির্বাচনী মামলায় চলতি বছরের ২৭ মার্চ রায় দেন ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল।

    ইশরাককে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণা করা হয়। আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণা করে গত ২৭ এপ্রিল গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

  • সব মামলা থেকে খালাস তারেক রহমান

    সব মামলা থেকে খালাস তারেক রহমান

    আওয়ামী লীগ আমলে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করা হয়। এতে যুক্ত ছিলেন গণঅভ্যুত্থানের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা। তাদের পাচার করা সম্পদ শনাক্তে তথ্য সংগ্রহ করছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। পাচার করা এসব অর্থ উদ্ধারে আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিমান চারটি প্রভাবশালী সংস্থার সহায়তা নিচ্ছে সরকার।

    সংস্থাগুলো হচ্ছে- দ্য স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি (এসটিএআর), ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্টি করাপশন কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (আইএসিসিসি), যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস এবং ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর অ্যাসেট রিকভারি (আইসিএআর)।

    শেখ হাসিনা পরিবারের পাচার করা সম্পদ উদ্ধার কার্যক্রমে এ সংস্থাগুলোও সরকারকে সহযোগিতা করছে। পাশাপাশি তদন্তও চালাচ্ছে সংস্থাগুলো। তাদের তদন্তে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং এবং কেইম্যান দ্বীপপুঞ্জে সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আরও বিশদ অনুসন্ধান চলছে। এ প্রক্রিয়ায় সম্পদের তথ্য সুনর্দিষ্টভাবে শনাক্ত করে ওইসব সম্পদের আরও তথ্য চাওয়া এবং সম্পদ জব্দ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে মিচুয়্যাল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট বা এমএলএআর পাঠানো হবে।

    বিএফআইইউ এবং ওই চারটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রাথমিক তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এক লাখ ২১ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে শেখ হাসিনা পরিবারের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে দেশে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। প্রকল্পের নামে বিদেশে এক লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা পাচার বা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। একাধিক তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

    ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত পাঁচটি দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচলে রাজউকের ছয়টি প্লট দখল, সূচনা ফাউন্ডেশন, সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন বা সিআরআই ও বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের দুর্নীতি, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে ৪৮৩ কোটি ৮৪ লাখ ডলার বা প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রে ৩০০ কোটি ডলার বা ৩৭ হাজার কোটি টাকা পাচার এবং আটটি সরকারি প্রকল্প থেকে ১৭৭ কোটি ২০ লাখ ডলার বা ২২ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

    এসব অভিযোগে কয়েকটি মামলা হয়েছে। মামলাগুলোয় এখন পর্যন্ত আদালতের মাধ্যমে দেশের ভেতরে ৮৮৭ কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তি এবং এক হাজার ৪৫ কোটি ২৫ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে। অবরুদ্ধ করা হয়েছে এক হাজার ৯৩২ কোটি ২৫ লাখ টাকার সম্পদ। এসব দুর্নীতির সপক্ষে সব ধরণের তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছে তদন্ত সংস্থাগুলো।

    আদালত কর্তৃক স্থাবর সম্পত্তি সংযুক্তকরণের মধ্যে রয়েছে, পূর্বাচলে ৬০ কাঠা জমি বা ছয়টি প্লট। দলিল মূল্যে যার দাম এক কোটি ৮০ লাখ টাকা। তবে বাজার মূল্যে এসব জমির দাম ১২০ কোটি টাকা। গুলশান ও সেগুনবাগিচায় ৯টি ফ্ল্যাট, গুলশানে একটি বাড়ি ও খুলনার দিঘলিয়ায় দুই দশমিক ০৪ একর জমি। দলিল মূল্যে যার দাম ১৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, বাজারমূল্যে ৭৬৭ কোটি টাকা। অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে ১৫৬টি ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। এগুলোয় স্থিতি হিসাবে আছে এক হাজার ৪৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

    শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের সূচনা ফাউন্ডেশনের ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে ৫৩২ কোটি টাকা। এর মধ্যে উত্তোলন করা হয়েছে ৪৬৫ কোটি টাকা। এখন স্থিতি আছে ৬৭ কোটি টাকা।

    প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, ব্যাংকের করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি বা সিএসআর তহবিলের টাকা থেকে সূচনা ফাউন্ডেশনে প্রায় ৩৩ কোটি টাকার জোগান দেওয়া হয়েছে। এক্সিম ব্যাংক ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার প্রভাব খাটিয়ে ব্যাংকগুলো থেকে এসব অর্থ সূচনা ফাউন্ডেশনের হিসাবে জমা করতে সহায়তা করেন। ব্যাংকগুলোর সিএসআর ফান্ডের টাকা সূচনা ফাউন্ডেশনে দিতে বিএবি থেকে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। আওয়ামী লীগের দলীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) নামে ৩৫ কোটি ২১ লাখ টাকার এফডিআর রয়েছে। সংস্থাটির লেনদেন সম্পর্কে আরও তদন্ত হচ্ছে। এ প্রতিষ্ঠানের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসাবে আছেন শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ভাইস চেয়ারম্যান এবং শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি এর ট্রাস্টি।

    জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সঙ্গে রয়েছেন শেখ হাসিনা, বোন শেখ রেহানা, শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক হিসাবে স্থিতি ১৬ কোটি ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর লেনদেন নিয়ে আরও তদন্ত চলছে।

    এদিকে, গত সোমবার রাতে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার বোন ও যুক্তরাজ্যের সাবেক সিটি মিনিস্টার টিউলিপ সিদ্দিকের মা শেখ রেহানার মালিকানাধীন লন্ডনের একটি বাড়ি ফ্রিজ করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) এটি জব্দ করেছে। ভবিষ্যতে যাতে বাড়িটি বিক্রি করতে না পারে, সেজন্য প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ১৪ বছর ধরে এটি টিউলিপ পরিবারের প্রধান বাড়ি হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। শেখ রেহানা ২০১১ সালে ১২ লাখ পাউন্ডে এটি কিনেছিলেন। পাউন্ডের বর্তমান বাজার দর ১৬৯ টাকা হিসাবে ১২ লাখ পাউন্ড বাংলাদেশি মুদ্রায় দাঁড়াচ্ছে ২০ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

    গত ১৭ থেকে ২১ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর লন্ডন সফর করে এসেছেন। ওই সময়ে তিনি দেশটির মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ কর্তৃপক্ষ, দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করেন। ওইসব বৈঠকের পর লন্ডনে বাংলাদেশিদের পাচার করা সম্পদের একটি তালিকা পাঠানো হয়। সেগুলোর বিষয়ে দেশটির সরকার এখন অনুসন্ধান করছে বলে জানা গেছে।

  • ইশরাকের মেয়র পদ নিয়ে বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগে শুনানি

    ইশরাকের মেয়র পদ নিয়ে বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগে শুনানি

    বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট জারির বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২৯ মে) শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। ওইদিন নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য শুনবেন আপিল বিভাগ।

    বুধবার (২৮ মে) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ৭ বিচারপতির বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এছাড়া ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে শপথ না পড়ানোর নির্দেশনা চেয়ে করা রিট খারিজের আদেশের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিলও শুনানির জন্য গ্রহণ করা হয়েছে।

    আদালতে ইশরাকের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন। অন্যদিকে রিটকারী পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন।

  • নয়াপল্টনে বিএনপির ‘তারুণ্যের সমাবেশ’ শুরু

    নয়াপল্টনে বিএনপির ‘তারুণ্যের সমাবেশ’ শুরু

    জাতীয় সংগীত ও দলীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে নয়াপল্টনে শুরু হয়েছে বিএনপির তিন সহযোগী সংগঠনের আয়োজিত ‘তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সমাবেশ’।

    বুধবার (২৮ মে) বেলা দুইটার কিছু আগে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে এই সমাবেশ শুরু হয়। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, ঢাকা, সিলেট, ফরিদপুর ও ময়মনসিংহসহ আশপাশের জেলা থেকে প্রায় ১৫ লাখ তরুণের জমায়েতের প্রত্যাশা তাদের।

    সমাবেশকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকায় ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীরা মিছিলসহ জড়ো হয়েছেন। এতে করে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং আশেপাশের সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।

    বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের বিপরীতে মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। মিছিলকারীরা সবুজ, হলুদ ও লাল রঙের ক্যাপ ও টি-শার্ট পরে স্লোগান দিতে দিতে সমাবেশস্থলে আসছেন।

    তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন বলেন, ‘চট্টগ্রাম, খুলনা ও বগুড়ায় এর আগে আমরা তারুণ্যের সমাবেশ করেছি। ঢাকার সমাবেশ তারই ধারাবাহিকতা। এটি শুধু একটি সমাবেশ নয়, বরং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি অঙ্গীকার। আমরা গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছি।’

    মে মাসজুড়ে তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতে বিএনপির এই তিন সংগঠন আট দিনের সেমিনার ও সমাবেশের কর্মসূচি গ্রহণ করে। ঢাকার এই আয়োজন ছিল শেষ পর্ব। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, এটি কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রচিন্তায় তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি নীতিগত প্রয়াস।

    আজকের সমাবেশে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। তিনি তরুণদের উদ্দেশে দলের রাষ্ট্রদর্শন, ভবিষ্যৎ কৌশল ও রাজনৈতিক রূপরেখা তুলে ধরবেন বলে জানানো হয়েছে।

    এ ছাড়া সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমদসহ দলের শীর্ষ নেতারা।

  • আতঙ্কে মুম্বাই ছাড়লেন সালমান

    আতঙ্কে মুম্বাই ছাড়লেন সালমান

    কঠিন সময় পার করছেন বলিউড সুপারস্টার সালমান খান। বাবা সিদ্দিকীর মৃত্যুর পর একের পর এক প্রাণনাশের হুমকি। কখনো ফোনে, কখনো চিঠিতে, আবার কখনো সরাসরি শুটিং ফ্লোরে ঢুকে হুমকি। লরেন্স বিষ্ণোই দলের নিশানায় অভিনেতা। সালমানের চারপাশে এখন ২৪ ঘণ্টাই কড়া নিরাপত্তা। সব মিলিয়ে এক ধরনের আতঙ্কেই দিন কাটছে বলিউড ভাইজানের।

    এসবের মাঝেই হঠাৎ করে বাবা সিদ্দিকীর ছেলের সঙ্গে মুম্বাই ছাড়লেন ভাইজান। শুক্রবার মুম্বাই বিমানবন্দরে দেখা যায় সালমানকে। সঙ্গে বাবা সিদ্দিকীর ছেলে জিশান সিদ্দিকী। ছিলেন সালমানের দেহরক্ষী শেরাও। তা কোথায় গেলেন অভিনেতা? বিমানবন্দরে পাপারাজ্জিরা সালমানের ছবি তুললেও তিনি কোথায় যাচ্ছেন, তা ফাঁস করেননি। হঠাৎ শহর ছাড়ার কারণে এই সপ্তাহান্তে ‘বিগ বস’-এর ‘উইকেন্ড কা ওয়ার’-এও থাকবেন না সালমান। তার পরিবর্তে সঞ্চালনা করবেন কোরিওগ্রাফার ফারাহ খান।

    উল্লেখ্য, প্রথমে বন্ধু বাবা সিদ্দিকীর হত্যা। এরপর একের পর এক খুনের হুমকি। কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা মামলায় নাম জড়ানোর পর থেকেই লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নেতৃত্বাধীন বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নিশানায় সালমান খান। আতঙ্ক বাড়ে বাবা সিদ্দিকীর হত্যাকাণ্ডের পর থেকে। দশেরার দিন বাবা সিদ্দিকীকে হত্যা করা হয়।

    এর আগে পূর্ব বান্দ্রায় বাজি ফাটাচ্ছিলেন এনসিপি (অজিত) নেতা। সেই সময় তার ওপরে দুষ্কৃতদের হামলা হয়। আচমকাই সেখানে হাজির হয় তিন দুষ্কৃতকারী। তারা লাগাতার গুলি চালাতে থাকে। গুলি দেহ ভেদ করে সিদ্দিকীর শরীর। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন বাবা। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় মৃত্যু হয় সিদ্দিকীর। এ ঘটনায় একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বন্ধুর মৃত্যু সংবাদ পেয়ে হাসপাতালেও ছুটে গিয়েছিলেন সালমান খান।

    শোনা যাচ্ছে অত্যন্ত ভেঙে পড়েছেন তিনি। কিন্তু হুমকির শেষ নেই। এর আগে হুমকি বার্তায় পাঁচ কোটি টাকার দাবি করা হয়েছিল। সেই ঘটনার অভিযুক্ত হিসেবে জামশেদপুরের এক সবজি বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যেই আবার কিছু দিন আগে সালমান খান ও বাবা সিদ্দিকীর ছেলে তথা মুম্বাইয়ের বান্দ্রা-পূর্ব আসনের বিধায়ক জিশান সিদ্দিকীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে নয়ডা থেকে ২০ বছরের এক যুবককে পাকড়াও করা হয়েছে। কিন্তু তার পরও হুমকির পালা অব্যাহত।

  • দেশের রিজার্ভ বেড়ে ১৯ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার

    দেশের রিজার্ভ বেড়ে ১৯ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার

    বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে এখন ১৯ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার বা এক হাজার ৯২০ কোটি ৪৪ লাখ ৭০ হাজার ডলার হয়েছে। এ রিজার্ভ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি (বিপিএম৬) অনুসারে করা।

    আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য প্রকাশ করে।

    তথ্যমতে, এখন বৈদেশিক মুদ্রায় গঠিত বিভিন্ন তহবিলসহ মোট রিজার্ভের পরিমাণ ২৪ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার বা দুই হাজার ৪৭৫ কোটি ১৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

    গত ১১ নভেম্বর এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মাধ্যমে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে আমদানি পণ্যের বিল বাবদ ১.৫০ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করে বাংলাদেশ। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে দাঁড়ায় ১৮.৪৫ বিলিয়ন ডলার (বিপিএম৬)। গত এক মাসে বিদেশি মুদ্রার এ সঞ্চয় বাড়তে বাড়তে আবার ১৯ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে।

    রিজার্ভের তিনটি হিসাব সংরক্ষণ করে থাকে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রথমটি হলো বৈদেশিক মুদ্রায় গঠিত বিভিন্ন তহবিলসহ মোট রিজার্ভ। মোট রিজার্ভের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তাদের জন্য একটি সহজ শর্তের ঋণ, বিমান কেনায় সোনালী ব্যাংককে দেওয়া ঋণসহ বেশ কয়েকটি তহবিল। দ্বিতীয়টি হলো আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবায়ন পদ্ধতি, অর্থাৎ বৈদেশিক মুদ্রায় গঠিত তহবিল বা ঋণের অর্থ বাদ দিয়ে একটি তহবিল।

    এর বাইরে রয়েছে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ। বর্তমানে যা ১৪ বিলিয়ন ডলারের কিছুটা ওপরে রয়েছে।

    দেশের ন্যূনতম তিন মাসের আমদানি খরচের সমান রিজার্ভ থাকতে হয়। সেই মানদণ্ডে বাংলাদেশ এখন শেষ প্রান্তে রয়েছে।

    সে সময় বৈদেশিক ঋণ ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ডলার ক্রয়ের মাধ্যমে আবার রিজার্ভ বাড়ায়। বর্তমান সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সোর্স থেকে ডলার যোগ হচ্ছে প্রতিদিনই। এর ধারাবাহিকতায় ক্রমেই বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ।