Author: bangladiganta

  • চিন্ময় কৃষ্ণের প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রবেশের চেষ্টায় ৭ জনকে আটক

    চিন্ময় কৃষ্ণের প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রবেশের চেষ্টায় ৭ জনকে আটক

    চট্টগ্রাম নগরীতে বর্ণাঢ্য ও সাংস্কৃতিকভাবে উৎসবমুখর আয়োজনে উদ্‌যাপিত হয়েছে জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা। বিশাল অংকের মানুষ, তরুণ-তরুণী এবং বয়স্করা এই উপলক্ষে অংশ নেয়। তবে, শোভাযাত্রার মাঝপথে একটি বিশেষ ঘটনা ঘটেছে যখন কিছু ব্যক্তি চিন্ময় কৃষ্ণের প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সাতজনকে আটক করে।

    শনিবার (১৬ আগস্ট) ভোর সাড়ে ১০টার সময় নগরীর আন্দরকিল্লা থেকে এই শোভাযাত্রা শুরু হয়। এটি ধীরে ধীরে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান লালদিঘি, কোতোয়ালি, নিউ মার্কেট, রাইফেলস ক্লাব, নন্দনকানন ও চেরাগি মোড় দিয়ে প্রদক্ষিণ করে শেষ হয় আন্দরকিল্লার জেএম সেন হলে।

    পুলিশ ও আয়োজকদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শোভাযাত্রার মধ্যে কিছু ব্যক্তি চিন্ময় কৃষ্ণের প্ল্যাকার্ড নিয়ে অংশগ্রহণের চেষ্টা করেন। আয়োজকরা বিষয়টি নজরে আনলে পুলিশকে সতর্ক করে দেন। কোতোয়ালি থানার ওসি আব্দুল করিম এই বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তারা জানান, পুলিশ দ্রুত নির্দেশনা অনুযায়ী ওই ব্যক্তিদের হেফাজত করে। বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিস্তারিত জানার জন্য পরে আরও তথ্য দেয়া হবে।

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শাকিব-জয়াদের প্রতীকী জুতাপেটা উদ্বেগের ঝড় তুলল

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শাকিব-জয়াদের প্রতীকী জুতাপেটা উদ্বেগের ঝড় তুলল

    ১৫ আগস্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে ‘শোকগাথা’ লিখে দেশের বিনোদন অঙ্গনের বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ পরিস্থিতির উত্তেজনাকর মোড় নিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে সংস্কৃতি ও ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসনের অভিযোগ ওঠায় উচ্ছ্বসিত ছাত্র-জনতা। এই ঘটনা নিয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এই তারকারা ফ্যাসিস্ট শাসনের পক্ষে সোচ্চার হয়ে তাদের ছবি দিয়ে প্রতীকী জুতাপেটা করেছেন।

    শনিবার (১৬ আগস্ট) বিকাল ৫টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে এক কর্মসূচি পালিত হয়, যেখানে একটি ব্যানারে ফ্যাসিজমের পক্ষে থাকা বিনোদন অঙ্গনের তারকা, সাংবাদিক ও চিত্র নির্মাতাদের ছবি দিয়ে প্রতীকী জুতাপেটা করা হয়। এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিভিন্ন জনপ্রিয় তারকা, সাংবাদিক এবং শিল্পীরা, যারা একাত্ম হয়ে এই কর্মসূচিকে সমর্থন জানান।

    ব্যানারে উল্লেখিত ব্যক্তিদের মধ্যে থাকছেন আওয়ামী সুবিধাভোগী অভিনেতা সঞ্চল চৌধুরী, অভিনেত্রী শমি কায়সার, শম্পা রেজা, জয়া আহসান, শামিম (মনা), জাহের আলভি, অরুণা বিশ্বাস, নাজিফা তুষি, সাজু খাঁদেম, মুমতাহিনা টয়া, সুনেরাহ বিনতে কামাল, পিয়া জান্নাতুল, আরশ খান, খায়রুল বাশার, ইরফান সাজ্জাদ, চিত্রনায়ক শাকিব খান, স্বাধীন খসরু, কচি খন্দকার এবং মেহের আফরোজ শাওন। এ তালিকায় আরও রয়েছেন সাংবাদিক শাহেদ আলম, আব্দুন নূর তুষার, জ. ই মামুন, আনিস আলমগীর, ফারাবী হাফিজ, লেখক সাদাত হোসাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কামরুল হাসান মামুন, ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, সংগীতশিল্পী রাহুল আনন্দ, ব্যান্ডআরমসেলার লিংকন, এবং নাট্যকার সুমন আনোয়ার।

    অন্যদিকে, এই বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই সম্মিলিতভাবে সবকিছু শুরু করেছিলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়। তখন তারা বিপ্লবের পক্ষে কিছুদিনের জন্য অবস্থান নিলেও, এখন তারা নানা প্রচেষ্টায় আওয়ামী লীগ সরকারের স্বৈরতন্ত্রের পুনর্বাসনে সহায়তা করছে বলে প্রশ্ন উঠছে। ১৫ আগস্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের এই প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে।

    সামাজিক মাধ্যমে তারা সক্রিয় হয়ে ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রতি নীরব সমর্থন জানিয়ে ছবি ও ক্যাপশন পোস্ট করছেন। এই সব প্রকাশ্যে আসার ফলে বিপ্লবের পক্ষের শক্তির কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছেন তারা। সাম্প্রতিক এক ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর যারা আজ শোক দিবস পালন করেছেন, তাদের উত্তরায় অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হলো। উত্তরার ছাত্র-জনতা তাদের শুটিং করতে দেবে না এবং এ ব্যাপারে কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।’

    প্রসঙ্গত, রাজধানীর উত্তরায় অনেক শুটিং হাউস রয়েছে, যেখানে দেশের বড় সংখ্যক টিভি নাটকের শুটিং হয়। এই ঘটনা এখন সামাজিক আলোচনায় এসে দাঁড়িয়েছে এবং শুটিং নির্মাণ সংস্থা ও প্রকৌশলীদের মধ্যেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

  • মধ্যরাতে শিবির-ছাত্রদলের সংঘর্ষ

    মধ্যরাতে শিবির-ছাত্রদলের সংঘর্ষ

    চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার থানা এলাকায় ছাত্রশিবিরের সঙ্গে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২১ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

    এরপর সংঘর্ষে ছড়িয়ে পড়ে চকবাজার থানা ও আশেপাশের এলাকা। সংঘর্ষে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। রাত ১টার দিকে শেষখবর পাওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষ আলাদাভাবে অবস্থান নিয়ে থেমে থেমে স্লোগান দিচ্ছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উভয়পক্ষকে নির্বৃত্ত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।

    ঘটনার বিষয়ে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের দাবি, কয়েকদিন আগে যুবদলের কয়েকজন অনুসারী চাঁদাবাজি করতে গেলে মহসিন কলেজের শিবির নেতা আরিফসহ কয়েকজন তাদের ধরে পুলিশে দেয়। এ ঘটনার ক্ষোভে আরিফকে একা পেয়ে ছাত্রলীগ বলে থানায় নিয়ে যায় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতারা। খবর পেয়ে তাকে ছাড়াতে যায় শিবিরের নেতারা।

    অন্যদিকে ছাত্রদলের নেতাদের দাবি, ছাত্রলীগের একজনকে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। শিবিরের নেতারা তাকে ছাড়াতে যায়।

    চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির বলেন, এক ছাত্রকে মারধর করে থানায় সোপর্দ করার ঘটনায় ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আমরা উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করছি। 
     
    চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর শিবিরের প্রচার সম্পাদক সিরাজী মানিক বলেন, চকবাজারে ছাত্রদল-যুবদলের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে।
     
    মহানগর উত্তর শাখা শিবিরের সভাপতি তানজির হোসেন জুয়েল বলেন, আরিফুল ইসলাম নামে আমাদের একজনকে মারধর করে পুলিশে দিয়েছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ বিষয়ে চকবাজার থানায় গেলে যুবদলের বহিস্কৃত নেতা এমদাদুল হক বাদশার নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা থানায় আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালায়।
    নগর ছাত্রদলের সভাপতি সাইফুল আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি থানায় বৈঠকে রয়েছেন বলে জানান।

  • ফেনীতে বন্যার ত্রাণ নিয়ে প্রশ্ন, উপদেষ্টার থেকে হিসাব জানতে বললেন সারজিস

    ফেনীতে বন্যার ত্রাণ নিয়ে প্রশ্ন, উপদেষ্টার থেকে হিসাব জানতে বললেন সারজিস

    ফেনীতে ২০২৪ সালের স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার সময় দুর্গত মানুষের সহায়তায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসিতে তোলা ত্রাণের টাকা যথাযথভাবে ব্যয় হয়নি, এমন অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

    সোমবার (২১ জুলাই) রাতে ফেনী সফরে গেলে এ নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের তৎকালীন সমন্বয়ক ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তর অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

    শুরুতে সারজিস গণমাধ্যমের সঙ্গে রাজধানীর উত্তরায় বিমান ট্র্যাজেডির কারণে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে সার্কিট হাউসের প্রবেশমুখে গাড়ি থেকে নেমে এ বিষয়ে মন্তব্য করেন। সারজিস আলম বলেন, মিডিয়া কখনো ব্যক্তি, দল, গোষ্ঠী বা কারো পক্ষের হয়েই কথা বলবেন না। পেশাদারিত্ব বজায় রাখবেন। বাংলাদেশে আপনি যদি ফেরেশতাও হন, তারপরও কিছু লোক আছে, যারা আপনাকে শয়তানের তকমা দিবে। কারণ এখানে তার ব্যক্তিস্বার্থ ও ব্যক্তি উদ্দেশ্য রয়েছে।

    টিএসসির গণ-ত্রাণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি এক বছর আগের আলাপ। টিএসসিতে আমাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণের যত টাকা উঠানো হয়েছিল, তা আন্তর্জাতিক একটি ফার্মের মাধ্যমে অডিট করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল। পাই টু পাই টাকা ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যে ফান্ড রয়েছে সেখানে জমা দিয়েছি। কারণ এখানে কাজ করার মতো আমাদের সেই লজিস্টিক ও জনবল ছিল না।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এগুলো গত আগস্ট-সেপ্টেম্বরের কথা। এর আগে এমন কাজ করার অভিজ্ঞতাও আমাদের নেই। এতে টাকাগুলোর অপব্যবহার হতে পারতো। এ টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতের জন্য সরকারের ফান্ডে দেওয়া হয়েছে। কারণ তাদের জনবল, দপ্তর ও নির্দেশনার ধারাবাহিকতা রয়েছে।’

    ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করার কথা বলে সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা যদি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি মন্ত্রণালয়ের ওপর আস্থা না রাখি, তাহলে কার ওপরে রাখব? এটি তো আওয়ামী লীগের মন্ত্রণালয় না। এটি অভ্যুত্থান পরবর্তী ড. ইউনূসের মন্ত্রণালয়। এখন প্রশ্নটি কাকে করবেন।’

    তিনি বলেন, ‘এই প্রশ্ন করবেন ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের যে উপদেষ্টা রয়েছে, তাকে। জিজ্ঞেস করবেন, আপনাদের অভ্যুত্থান পরবর্তী যে ছাত্ররা নেতৃত্ব দিয়ে আন্দোলন করেছে, তারা ৯ কোটি বা যে টাকা দিয়েছে সেখান থেকে আপনি ফেনীর জন্য কত টাকা খরচ করেছেন, কত টাকা করেননি এটির হিসাব দেন।’

    এনসিপির কেন্দ্রীয় এ নেতা আরও বলেন, ‘সামনে আরও বেশি পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে। এটির জন্য লজিস্টিক সাপোর্টসহ যা যা তৈরি করা প্রয়োজন, সেটি আপনারা আপনাদের জায়গা থেকে বুঝে নেবেন। আমরা ফেনীর সচেতন নাগরিক সমাজকে অনুরোধ করব, আপনারা ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে এটি জানতে চাইবেন।’

    তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমাদের পক্ষ থেকে ফেনীর যারা কেন্দ্রীয় কমিটিতে রয়েছে তাদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের যিনি উপদেষ্টা তার সঙ্গে কথা বলে এ টাকা খরচ করা হয়েছে কিনা খবর নেবেন। যদি না হয়, কেন হয়নি বা যদি এর বেশি হয় তাহলে সেই খরচের বিস্তারিত বিবরণ যেন ফেনীর মানুষের কাছে উপস্থাপন করেন, সেই বিষয়ে বলবেন।’

    এ সময় এনসিপির দপ্তর সম্পাদক সালেহ উদ্দিন সিফাত, কেন্দ্রীয় সংগঠক আজিজুর রহমান রিজভী, জাহিদুল ইসলাম সৈকতসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    প্রসঙ্গত, গেল বছর ফেনীর ভয়াবহ বন্যার সময়ে টিএসসিতে তোলা গণ-ত্রাণ কর্মসূচির টাকা যথাযথভাবে খরচ না হওয়ার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মানুষ। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা ধরনের আলোচনা-সমালোচনা করছেন নেটিজেনরা।

  • সকাল থেকেই বার্ন ইনস্টিটিউটে রক্তদাতাদের ঢল

    সকাল থেকেই বার্ন ইনস্টিটিউটে রক্তদাতাদের ঢল

    উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনার পর আহতদের সহায়তার জন্য রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। অনলাইনের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল রক্তদানসহ বিভিন্ন সহায়তার আহ্বান।

    রাতের পর আহতদের রক্ত দিতে মঙ্গলবার সকালেও জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভিড় জমাচ্ছেন শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষ।

    মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।

    সরেজমিনে দেখা যায়, ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে রোভার স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা রক্তদাতাদের নাম ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করছেন। জানা গেছে, ঢাকার বাইরে থেকে যারা রক্ত দিতে এসেছেন তাদের বেশিরভারেই রক্তের গ্রুপ নেগেটিভ। নেগেটিভ গ্রুপের রক্তের সংকট থাকায় নিজ তাগিদে তারা ঢাকায় ছুটে এসেছেন বলে জানিয়েছেন।

    রোভার স্কাউটের সদস্য মো. হাসান বলেন, আমরা এখন নাম এন্ট্রি করছি। ৮ম তলা থেকে সংকেত এলে একে একে ব্লাড নেওয়া হবে। কিছুক্ষণের মধ্যে বুথ প্রস্তুত হবে।

    মৌলভীবাজার থেকে ঢাকায় ছুটে এসেছেন খালেদ আহমেদ নামে এক ডেইরি ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, আমার রক্তের গ্রুপ ‘ও’ নেগেটিভ। শুনলাম এই গ্রুপের রক্ত বেশি দরকার। তাই দেরি না করে চলে এসেছি। শিশুগুলো যেন সুস্থ হয়ে ওঠে, এই প্রার্থনায় রক্ত দিতে এসেছি।

    কেরানিগঞ্জের একটি মাদরাসা থেকে বন্ধুদের নিয়ে এসেছেন সালমান। তিনি বলেন, আমরা কয়েকজন মিলে এসেছি। নাম এন্ট্রি হয়ে গেছে। ডাক পেলেই রক্ত দেবো। কোনো শিশু যেন রক্তের অভাবে মারা না যায়।

    যাত্রাবাড়ী থেকে আসা বিন ইয়ামিন বলেন, রক্ত না পেয়ে কেউ কষ্টে থাকবে আর আমরা বসে থাকবো—এটা হতে পারে না। তাই ছুটে এসেছি।

    নারীরাও এসেছেন রক্ত দিতে। কেরানীগঞ্জের নজরগঞ্জ থেকে আসা আজিজা বলেন, আমি ও আমার এক আত্মীয় এসেছি রক্ত দিতে। আরও কয়েকজন রওনা দিয়েছেন। আমরা চাই, শিশুরা বাঁচুক, সুস্থ হয়ে উঠুক।

  • বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় খালেদা জিয়ার শোক

    বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় খালেদা জিয়ার শোক

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

    বেগম জিয়া নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন এবং মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেন সেইসব শোকার্ত পরিবারগুলোকে সন্তান হারানো কিংবা আহত হওয়ার ঘটনায় ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা দান করেন এই দোয়া করেন তিনি।

    বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনাসহ আগুনে দগ্ধ হয়ে মূমুর্ষু অবস্থায় যারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাদের আশু সুস্থতা কামনা করেন।

    বিএনপি’র চেয়ারপার্সন দলের সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উত্তরার মাইলস্টোনে দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত পরিবারের পাশে থাকার নির্দেশ দেন। একই সাথে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের রক্ত দানের জন্যেও দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন।

  • মঙ্গলবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

    মঙ্গলবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

    আজ মঙ্গলবারের (২২ জুলাই) এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। মঙ্গলবার মধ্যরাতে তার ফেসবুক আইডি থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, “শিক্ষা উপদেষ্টা মহোদয়ের সাথে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা জনাব মাহফুজ আলমের সাক্ষাত হয়েছে। আজকের (মঙ্গলবার) এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন মাননীয় শিক্ষা উপদেষ্টা। এডমিন।”

  • উত্তরায় বিমান বিধ্বস্ত: পালিত হচ্ছে রাষ্ট্রীয় শোক

    উত্তরায় বিমান বিধ্বস্ত: পালিত হচ্ছে রাষ্ট্রীয় শোক

    রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন কলেজ ক্যাম্পাসে বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় মঙ্গলবার(২২ জুলাই) রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং দেশের এই শোকাবহ মুহূর্তে সংহতি প্রকাশে অন্তর্বর্তী সরকার এই  সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার (২১ জুলাই) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোমলমতি শিশু ও সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় সরকার গভীরভাবে শোকাহত। এই প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালন করা হবে। শোক দিবসে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

    এছাড়া, নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য মঙ্গলবার দেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

    এর আগে, সোমবার দুপুর ১টার কিছুক্ষণ পর বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয়। সঙ্গে সঙ্গে ভবনে আগুন ধরে যায়। তখন ভবনটিতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। এতে ঘটনাস্থলেই বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে।

    দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উদ্ধার কাজ শুরু করে। পরে সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরাও উদ্ধার তৎপরতায় যোগ দেয়। আহতদের দ্রুত হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

    শেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে। আহত হয়ে শতাধিক ব্যক্তি এখনও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

  • আজ রাষ্ট্রীয় শোক, সারাদেশে বিশেষ প্রার্থনা

    আজ রাষ্ট্রীয় শোক, সারাদেশে বিশেষ প্রার্থনা

    রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের ঘটনায় আজ মঙ্গলবার এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার। গতকাল সোমবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় রাষ্ট্রীয় শোক পালনের বিষয়টি জানানো হয়।

    বার্তায় বলা হয়, শোক পালনের উদ্দেশ্যে দেশের সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। পাশাপাশি সব সরকারি, বেসরকারি ভবন ও বিদেশে বাংলাদেশি মিশনেও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। এছাড়া আহত ও নিহতদের জন্য দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

    রাষ্ট্রপতি-প্রধান উপদেষ্টার শোক :রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বিমান বিধ্বস্তে হতাহতের ঘটনায় শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। গতকাল সোমবার পৃথক শোকবার্তায় তারা নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

    শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বিমান বিধ্বস্তে হতাহতের ঘটনায় আমি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি। এ দুর্ঘটনায় বিমানসেনা ও মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষক-কর্মচারীসহ অন্যদের যে ক্ষতি হয়েছে তা অপূরণীয়। জাতির জন্য এটি একটি গভীর বেদনার ক্ষণ। তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালসহ সব কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার নির্দেশ দেন। সরকার দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সকল ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করবে বলে জানান।’

    বিভিন্ন দল ও সংগঠনের শোক :বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘মাইলস্টোন কলেজে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় আমরা শোকাহত। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেখানে একটি শিশু, কিশোর কিংবা তরুণ তার শিক্ষা, বিকাশ ও নিরাপত্তা নিয়ে আশাবাদী হয়ে ওঠে, সেই পরিবেশে এমন ভয়াবহতা কখনো কাম্য নয়। এ ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীর আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।’ এ সময় তিনি বিএনপির নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তারেক রহমান আরও বলেন, ‘এই দুঃসময়ে আমাদের জাতি হিসেবে ঐক্যবদ্ধভাবে এই সংকট মোকাবিলা করতে হবে।’

    শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার, ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। তারা নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত ও তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

    জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম বিমান বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণহানির ঘটনায় শোক জানিয়েছেন।

    এক শোক বিবৃতিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক এ দুর্ঘটনায় শোক জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। আমি নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জ্ঞাপন করছি, আল্লাহ যেন তাদের এই বিশাল শোক সহ্য করার ক্ষমতা দান করেন।’ বিবৃতিতে তিনি বিমান দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

    গতকাল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রীয় শোক দিবস উপলক্ষে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়গুলোতে কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। এছাড়া আজ বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

    এদিকে জামায়াত ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিস, নেজামে ইসলামসহ কয়েকটি দল থেকে পৃথক শোকবার্তা দেওয়া হয়। গতকাল দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে চলমান জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় পর্বের আলোচনা বিমান দুর্ঘটনার পরপরই মুলতুবি ঘোষণা করা হয়।

    জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘আহত ব্যক্তিদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে সরকারকে আহত ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য বলেন। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন।’

    শোক প্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম হতাহতদের উদ্ধার ও চিকিৎসায় দলের নেতাকর্মীদের সহায়তার নির্দেশ দেন। গতকাল এনসিপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, এনসিপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের হতাহতদের চিকিৎসায় সহায়তা, রক্তদান, অ্যাম্বুলেন্স যাতায়াত এবং উদ্ধার কাজে নিয়োজিত সব বাহিনীকে সহায়তার নির্দেশ দিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। এছাড়া জাতীয় যুবশক্তি ও এনসিপির ডক্টরস উইংকে আহতদের সহায়তায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ‘আহত ব্যক্তিদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় যুদ্ধবিমানের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পুনর্বিবেচনা করতে হবে, না হওয়াটাই বাঞ্ছনীয়।’ অতীতে প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনার কথা জানিয়ে ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন বলেন, বিমানগুলোর পরীক্ষানিরীক্ষা করে যেন প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হয়।

    এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে শোক জানিয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল অলি আহমদ বীরবিক্রম (অব.), জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের, জাতীয় পার্টির (জাপা) জ্যেষ্ঠ নেতা ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার ও মুজিবুল হক চুন্নু, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, জনতা পার্টি বাংলাদেশ-জেপিবির নির্বাহী চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ার মিলন ও মহাসচিব শওকত মাহমুদ,  জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান ও ১২ দলীয় জোটের প্রধান মোস্তফা জামাল হায়দার, জাকের পার্টি চেয়ারম্যান মোস্তফা আমীর ফয়সল এবং এফবিসিসিআইর প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান।

    ফেসবুক জুড়ে ‘প্রে ফর মেইলস্টোন’: প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের শোক ও সমবেদনা জানান। অনেকেই নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আবেগঘন স্ট্যাটাস ও প্রোফাইল ছবি পরিবর্তন করেছেন।  ‘প্রে ফর মাইলস্টোন’ শিরোনামে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় হাজার হাজার পোস্ট শেয়ার করা হয়। আবার অনেকে শোক প্রকাশের পাশাপাশি আহদের জন্য প্রয়োজনীয় রক্তসহায়তা চেয়ে পোস্ট দেন।

  • ‘নিহত ২৭ জনের মধ্যে ২৫ জন শিশু’

    ‘নিহত ২৭ জনের মধ্যে ২৫ জন শিশু’

    রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহত ২৭ জনের মধ্যে ২৫ জন শিশু বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান।

    মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকালে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

    নিহত বাকি দুইজনের মধ্যে একজন পাইলট, অপরজন শিক্ষিকা বলে জানান তিনি।

    চিকিৎসার সব রকমের প্রস্তুতি আমাদের আছে জানিয়ে অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনায় আহত হয়ে এখন পর্যন্ত ৭৮ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছে। তাদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

    বার্ন ইউনিটে দুইজন ভেন্টিলেশনে আছে বলেও জানান তিনি।