Author: bangladiganta

  • খাল দখল নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৫

    খাল দখল নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৫

    নাটোরের নলডাঙ্গায় খালের দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

    রোববার (৮ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার বাশিলা গ্রামে এ সংঘর্ষ হয়।

    সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিরা হচ্ছেন নলডাঙ্গা উপজেলার মাধনগর ইউনিয়নের বাশিলা গ্রামের বাসিন্দা ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এন্তাজ আলী (৫২), ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক (৩২), মৎস্যজীবী হাবিবুর রহান (৪৫) এবং হালতি গ্রামের মো. সেলিম (২৩) ও মো.উজ্জল (২২)। আহত ব্যক্তিদের নাটোর সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হালতি বিলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত জিয়া খালের কিছু অংশ বাশিলা গ্রামের এবং কিছু অংশ হালতি গ্রামের অন্তর্গত। বিলের পানি শুকিয়ে গেলে খালে মাছ ধরা শুরু হয়েছে। মাছ ধরার জন্য খালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উভয় গ্রামের বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলে।

    আরও জানা যায়, খাল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা থেকেই আজ সকাল ১০টার দিকে হালতি গ্রামের বিএনপি কর্মী মো. ফলেনের (৫২) নেতৃত্বে কিছু লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে বাশিলা গ্রামে খাল দখল করতে আসেন। এ সময় বাশিলা গ্রামের বিএনপি নেতা-কর্মীরা তাদের প্রতিহত করতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে পাঁচজন আহত হন এবং  তিনটি বসত-বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

    নাটোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাশিলা গ্রামের এন্তাজ আলী সংঘর্ষের জন্য হালতি গ্রামের মো. ফলেনের ছেলে মো. সেলিক ও তার সমর্থকদের দায়ী করেন। তবে মো. সেলিম এ ঘটনার জন্য বাশিলা গ্রামের লোকজনকে দায়ী করেছেন।

    নলডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন জানান, উভয় গ্রামের সংশ্লিষ্টরা বিএনপি নেতা-কর্মী। তবে ঘটনাটি দলীয় বিষয় নিয়ে ঘটেনি।

    নলডাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনোয়ার হোসেন বলেন, খালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাশিলা ও হালতি গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। তবে তখন কাউকে সেখানে আহত অবস্থায় পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় বিকেল পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ জমা দেননি।

  • ‘চাঁদাবাজি’ নিয়ে সমালোচনা, বিএনপির রোষানলে কাদের সিদ্দিকী

    কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে শেখ হাসিনার প্রেতাত্মা আখ্যায়িত করে প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছে টাঙ্গাইল বিএনপির নেতাকর্মীরা। এসময় কাদের সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন তারা। এ ঘটনাকে  কেন্দ্র করে স্থানীয় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

    শনিবার (৮ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে পৌর শহরের তালতলা চত্বরে সমাবেশ করে।

    এর আগে শনিবার বিকেলে সখীপুরের বাসভবনে উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ বর্ধিত সভায় বক্তব্য রাখেন কাদের সিদ্দিকী। এসময় ‘চাঁদাবাজি’ ইস্যুতে বিএনপির নেতাকর্মীদের কড়া সমালোচনা করেন তিনি। এসময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রশংসা করে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, আওয়ামী লীগ যে দোষে সর্বহারা হয়েছে, সরকার পতনের পর বিএনপি কিন্তু ওই দোষই করছে। জামায়াতেরা বেবি—ট্যাক্সি স্ট্যান্ড দখল করে নাই, বাজার দখল করে চাঁদা নেয় নাই। বিএনপি কিন্তু এমন করছে। আগে আওয়ামী লীগ যেখান থেকে চাঁদা নিত, এখন বিএনপি সেখান থেকেই চাঁদা নেয়। হয়তো চাঁদার রেট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। যেখানে যেভাবে ভাগ নেওয়া যায় সব নেয়। এটা কিন্তু জামায়াত নেয় নাই।

    মূলত বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর এই বক্তব্যর জের ধরেই বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিক্ষোভ মিছিল করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। পৌর শহরের তালতলা চত্বরে জড়ো হয়ে অনুষ্ঠিত হয় সমাবেশ।

    সমাবেশে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান সাজু বিলেন, কাদের সিদ্দিকী বিশ্বাসঘাতক ও মীরজাফর, এটা বাংলার মানুষ আগে বুঝতে পারে নাই। এটা প্রথমে বুঝতে পেরেছিল শেখ হাসিনা। তাই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছিল। তাকে বাংলাদেশে আসতে দেয় নাই। পরে জিয়াউর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাকে (কাদের সিদ্দিকী) দেশে আসার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। গত ৭ জানুয়ারি যে নির্বাচন হয়েছিল, সেই নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনার কাছ থেকে কাদের সিদ্দিকী ঢাকা—টাঙ্গাইলের বাড়ি এবং ১০০ কোটি টাকারও বেশি সুদ—ব্যাংক ঋণ মওকুফ করে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। বাঙালি জাতির সঙ্গে মুনাফেকি করেছিলেন। তার আর বাংলাদেশের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নাই।

    ওই বক্তব্যের জেরে কাদের সিদ্দিকী ক্ষমা না চাইলে সখীপুরে কোথাও সভা—সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে শাজাহান সাজু আরও বলেন, কাদের সিদ্দিকীকে প্রতিহত করা হবে। ছাত্রদল, যুবদল, শ্রমিক দল, কৃষক দলকে প্রস্তুত থাকতে হবে। যেকোনো সময় নির্দেশ আসতে পারে কাদের সিদ্দিকীকে প্রতিহত করার। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মীর আবুল হাশেম, যুবদল নেতা নাসির উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

  • হত্যাচেষ্টা মামলায় খালেদা জিয়াসহ ২৬ জনকে অব্যাহতি

    হত্যাচেষ্টা মামলায় খালেদা জিয়াসহ ২৬ জনকে অব্যাহতি

    সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের মিছিলে হামলা ও হত্যাচেষ্টার মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ ২৬ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    বুধবার (৪ ডিসেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শরীফুর রহমান মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে তাদের অব্যাহতি দেন।

    অব্যাহতিপ্রাপ্ত উল্লেখযোগ্যরা হলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন উদ্দিন, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা শিরিন সুলতানা, বিএনপি নেতা খন্দকার মাহবুবুর রহমান (মৃত) ও অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস প্রমুখ।

    তদন্তে ঘটনায় সম্পৃক্ততার কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় খালেদা জিয়াসহ ২৬ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সোবহান।

    মামলার অভিযোগে বলা হয়েছিলো, ২০১৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালনের জন্য গুলশানে সমবেত হয়। সমাবেশ শেষে সেখানে ২০ থেকে ৩০ হাজার সাধারণ মানুষ সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের নেতৃত্বে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় ঘেরাও করার জন্য রওনা হলে আসামিরা হত্যার উদ্দেশ্যে তাদের ওপর বোমা নিক্ষেপ করে।

    ওই ঘটনায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন ঢাকা যানবাহন ইউনিয়নের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বাচ্চু।

  • এসপি বাবুল আক্তারের জামিন বহাল, মুক্তিতে বাধা নেই

    এসপি বাবুল আক্তারের জামিন বহাল, মুক্তিতে বাধা নেই

    স্ত্রী মাহমুদা খানম (মিতু) হত্যা মামলায় সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন চেম্বার আদালত। এর ফলে তার কারামুক্তিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

    বুধবার (৪ ডিসেম্বর) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত এ আদেশ দেন।

    এর আগে গত ২৭ নভেম্বর বাবুল আক্তারকে জামিন দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি আলী রেজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে বাবুলের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

    এর আগে গত ১৪ আগস্ট চট্টগ্রামের তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জসিম উদ্দিনের আদালতে জামিন আবেদন করেছিলেন বাবুল আক্তার। পরে ১৮ আগস্ট চট্টগ্রাম তৃতীয় অতি‌রিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. জসিম উদ্দিন জামিন নামঞ্জুর করেন।

    ২০১৬ সালের ৫ জুন নগরীর জিইসি এলাকায় ছেলেকে স্কুলের বাসে তুলে দিতে গিয়ে নৃশংসভাবে খুন হন বাবুলের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনায় বাবুল আক্তার বাদী হয়ে নগরের পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্তে বাবুল আক্তার সেই মামলায় আসামি হন। গত ২৭ নভেম্বর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ বাবুল আক্তারকে জামিন দেন।

  • চিন্ময়ের পক্ষে দাঁড়াননি কোনো আইনজীবী, জামিন শুনানি ২ জানুয়ারি

    চিন্ময়ের পক্ষে দাঁড়াননি কোনো আইনজীবী, জামিন শুনানি ২ জানুয়ারি

    বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ও চট্টগ্রামের পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন শুনানি হয়নি। মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মো. সাইফুল ইসলামের আদালতে তার পক্ষে কোনো আইনজীবী শুনানিতে দাঁড়াননি। পাশাপাশি রাষ্ট্রপক্ষও মামলাটি শুনানি না করে সময়ের আবেদন করেন। সব মিলিয়ে আদালত পরবর্তী জামিন শুনানির জন্য ২ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন।

    চট্টগ্রাম আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট এনামুল হক বলেন, আজ চিন্ময় দাসের পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। পাশাপাশি রাষ্ট্রপক্ষও শুনানির জন্য সময়ের আবেদন করেন। আদালত জামিন শুনানির জন্য ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি ধার্য করেছেন। যেহেতু শুনানি হয়নি এ কারণে আসামিপক্ষের উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ নেই। আবার দায়রা জজ আদালতে অপেক্ষমাণ থাকার কারণে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেও জামিন শুনানি করার সুযোগ নেই।

    চিন্ময়ের জামিন শুনানির তারিখ থাকায় এদিন সকাল থেকে চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় ছিল কঠোর নিরাপত্তা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য আদালত এলাকার বিভিন্ন অংশে অবস্থান নেন। তবে চিন্ময় দাসকে এদিন আদালতে হাজির করা হয়নি। আইনজীবী সমিতির নেতা ও সাধারণ আইনজীবীদের একাংশকে সকালে আদালত প্রাঙ্গণে মিছিল করতে দেখা যায়।

    এর আগে ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহের এ মামলায় জামিন নাকচ করে চিন্ময় দাসকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন চট্টগ্রামের ষষ্ঠ মহানগর হাকিম কাজী শরীফুল ইসলাম।

    ওই আদেশের পর আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ করে সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন। আড়াই ঘণ্টা পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে চিন্ময় দাসকে কারাগারে নিয়ে যায়। বিক্ষোভকারীরা আদালত সড়কে রাখা বেশ কিছু মোটরসাইকেল ও যানবাহন ভাঙচুর করে। এরপর ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে রঙ্গম কনভেনশন হল সড়কে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে হত্যা করা হয়।

    জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর সেদিনই চিন্ময় দাসের আইনজীবীরা ওই আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন চেয়ে আবার জামিন আবেদন করেছিলেন। তবে সেদিন আর শুনানি হয়নি।

    গত ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশব্যাপী সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আট দফা দাবিতে সনাতনী সম্প্রদায়ের মুখপাত্র হিসেবে বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন চট্টগ্রামের ইসকন পরিচালিত মন্দির পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী।

    গত ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামের লালদিঘী মাঠে জনসভার পর ৩০ অক্টোবর চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয়, সেখানে চিন্ময় দাসকেও আসামি করা হয়।

    মামলা হওয়ার এক মাসের মাথায় ২৫ নভেম্বর বিকালে ঢাকার শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে জানানো হয়, কোতোয়ালি থানার ওই মামলায় চিন্ময় দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    ২৬ নভেম্বর আদালত এলাকায় সংঘর্ষ, ভাংচুর ও পুলিশের কাজে বাধাদানের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি মামলা করেছে। ওই তিন মামলায় মোট ৭৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো মোট ১৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

    এছাড়া আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে হত্যার ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেছেন। এতে অজ্ঞাতনামা আরো ১৫/১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি আলিফের ভাই খানে আলম বাদী হয়ে যানবাহন ভাংচুর ও জনসাধারণের ওপর হামলার ঘটনায় ১১৬ জনকে আসামি করে আরেকটি মামলা করেছেন নগরীর কোতোয়ালি থানায়। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ৩৯জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

    আলিফ হত্যার প্রতিবাদে বুধ ও বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম আদালতে বর্জন ও কর্ম বিরতি পালন করেন আইনজীবীরা। বৃহস্পতিবার ও রোববার প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এ সংক্রান্ত মামলায় আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী না দাঁড়াতে আহ্বান জানানো হয় আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে। পাশাপাশি সব মামলায় চিন্ময় দাসকে আসামি করার দাবি জানান চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ।

  • খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে ডিজিটাল কমিউনিকেশন চ্যানেল

    খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে ডিজিটাল কমিউনিকেশন চ্যানেল

    কৃষি উৎপাদন বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) কৃষিখাতের অবদান প্রায় ১৪ শতাংশ। পাশাপাশি, শ্রমশক্তির ৪১ শতাংশ মানুষের জীবিকা এ খাতের ওপর নির্ভরশীল । কৃষিপ্ৰধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও, বাংলাদেশ তৈরি পোশাক খাত ও প্রবাসী আয়ের ওপর অনেকাংশেই নির্ভরশীল।

    পরিণতিতে দেশে খাদ্যদ্রব্য আমদানির প্রবণতা ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ নির্ভরতা কমিয়ে আনতে ভূমিকা রাখবে কার্যকরী খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল। আর এক্ষেত্রে সময়োপযোগী কৌশল গ্রহণ করে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে প্রয়োজন শক্তিশালী যোগাযোগ চ্যানেল স্থাপন করা। সঠিক যোগাযোগ চ্যানেলের অভাবে খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল কী ধরনের প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে পারে? খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল একটি বিস্তৃত ও জটিল নেটওয়ার্ক, যেখানে গ্রামীণ কৃষক, জেলে, খামারি ও মধ্যস্বত্বভোগী এবং শহুরে খুচরা বিক্রেতারা পরস্পর নির্ভরশীল উপায়ে কাজ করার মাধ্যমে গ্রাম থেকে তাজা শস্য ও মাছ-মাংস শহরের বাজারে নিয়ে আসে। 
    এক্ষেত্রে, সবগুলো পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা থাকা সত্ত্বেও, যোগাযোগের ক্ষেত্রে যথেষ্ট দূরত্ব রয়েছে, যা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে দক্ষ সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এবং অদক্ষ সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রান্তিক কৃষকেরা কম মুনাফা পাচ্ছেন এবং খাদ্যপণ্যের অপচয়ও ঘটছে।

    এক্ষেত্রে, সঠিক সময়ে সঠিক তথ্যের আদান-প্রদান নিশ্চিত করার মাধ্যমে শক্তিশালী যোগাযোগ ব্যবস্থা ইতিবাচকভাবে পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলের গতিপ্রকৃতি বদলে দিতে পারে। যা একই সঙ্গে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাপনার সকল অংশীজনদের মুনাফা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে। কার্যকরী যোগাযোগ ব্যবস্থা অংশীদারদের মধ্যে কার্যক্রম পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে। নিজেদের মধ্যে যোগাযোগে কার্যকরী চ্যানেলের মাধ্যমে কৃষক, জেলে, মধ্যস্বত্বভোগী এবং খুচরা বিক্রেতারা বাজারের চাহিদা, লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ এবং আবহাওয়ার সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে সক্ষম হবেন। এখানে জনপ্রিয় ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ইমোর কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। যেখানে রয়েছে হাই-কোয়ালিটি ভিডিও কলের সুবিধা। বর্তমানের ইন্টারনেটের যুগে এ ধরনের ডিজিটাল চ্যানেলে সহজেই যোগাযোগ করা যায়। পচনশীল পণ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবহন, রিয়েল-টাইমে বাজারমূল্য এবং চাহিদা সম্পর্কে সঠিক ও সময়োপযোগী তথ্যের আদান-প্ৰদান অত্যন্ত জরুরি। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো কৃষক সময়মতো জানতে পারেন যে নির্দিষ্ট একটি খাদ্যপণ্যের চাহিদা বাড়ছে, তবে তিনি তার উৎপাদিত প্যণের মূল্য নির্ধারণে এবং সেই পণ্য সরবরাহে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে পারবেন।

    ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের সাহায্যে কৃষক, জেলে, ও খামারিরা সহজেই মধ্যস্বত্বভোগী বা খুচরা বিক্রেতাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন। যা পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করবে। ইতিমধ্যেই কিছু প্রতিষ্ঠান আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষকদের বাজারমূল্য, আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং ফসল ব্যবস্থাপনার বিষয়ে রিয়েল- টাইম তথ্য দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাপনার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।

    জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকেরা তাদের ফসলের উৎপাদন ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। একইভাবে, ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কৃষক, জেলে, খামারি, মধ্যস্বত্বভোগী ও খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে সময়মতো যোগাযোগ নিশ্চিত করে খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। হাই-কোয়ালিটি ভিডিও কল ও ছবি আদান-প্রদানের মাধ্যমে স্বচ্ছতা যেমন নিশ্চিত করা যাবে, তেমনি ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে পারস্পরিক আস্থাও বৃদ্ধি পাবে; পাশাপাশি, গ্রামীণ কৃষক, জেলে ও খামারিদের যোগাযোগ খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।

    দেশের কার্যকরী খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল সার্বিকভাবে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। গ্রামীণ পর্যায়ে কৃষক, খামারি ও জেলেরা এবং শহরের খুচরা বিক্রেতারা দেশের খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের মধ্যে রিয়েল-টাইম এবং স্বচ্ছ যোগাযোগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে খাদ্য অপচয় যেমন হ্রাস করা যাবে, তেমনি তাদের মুনাফা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখা সম্ভব। ডিজিটাল যোগাযোগ এক্ষেত্রে অংশীদারদের মধ্যে কার্যকরী যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে দেশজুড়ে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা বাড়াতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।

  • ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ ফাঁদে পড়ে যা হারালেন তরুণী

    ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ ফাঁদে পড়ে যা হারালেন তরুণী

    আতঙ্কের প্রতীক হয়ে উঠছে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’। থাইল্যান্ড, হংকং, লাওসের মতো একাধিক দেশের মাধ্যমে এই প্রতারণা ভারতে চলছে। গত ১০ মাসে এই প্রতারণার মাধ্যমে ২,১৪০ কোটি টাকা হারিয়েছেন ভারতের সাধারণ মানুষ। 

    এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবার সামনে এলো মুম্বাইয়ের এক ২৬ বছরের তরুণীর ঘটনা। অভিযোগে জানা গেছে, ভিডিও কলে তাকে জোর করে পোশাক খুলতে বাধ্য করে প্রতারক এবং তার থেকে প্রায় ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।

    পুলিশের এফআইআর অনুযায়ী, গত ১৯ নভেম্বর রাতে একটি ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থায় কাজ করা ওই তরুণী একটি ফোন কল পান। প্রতারক নিজেকে দিল্লির পুলিশ অফিসার পরিচয় দিয়ে জানান যে, ওই তরুণীর বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী নরেশ গোয়েলের আর্থিক দুর্নীতির মামলায় যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে তাকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখানো হয়।

    প্রতারকের নির্দেশে তরুণীকে একটি হোটেল রুম বুক করতে বাধ্য করা হয় এবং সেখানে একটি ‘ভার্চুয়াল শুনানি’র নাটক তৈরি করা হয়। এরপর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যাচাইয়ের নামে তার অ্যাকাউন্ট থেকে  প্রায় ২ লাখ টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি ‘বডি ভেরিফিকেশন’-এর অজুহাতে ভিডিও কলে তাকে পোশাক খুলতে বাধ্য করা হয়।

    গত ২৮ নভেম্বর পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন ওই তরুণী। তার অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তকে শনাক্ত করার কাজ চলছে।

    সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে ডিজিটাল অ্যারেস্টের মতো প্রতারণার বিষয়ে জনগণকে সতর্ক করেন। তিনি জানান, কোনও সরকারি তদন্তকারী সংস্থা অনলাইনে কাউকে ভয় দেখিয়ে বা হুমকি দিয়ে কাজ করে না। এ ধরনের ফোন পেলে দ্রুত ন্যাশনাল সাইবার হেল্পলাইনে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

  • রোববার ৩ ঘণ্টা বিঘ্নিত হবে ইন্টারনেট সেবা

    রোববার ৩ ঘণ্টা বিঘ্নিত হবে ইন্টারনেট সেবা

    দেশের প্রথম সাবমেরিন ক্যাবলের (এসএমডব্লিউ-৪) রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য রোববার (১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ৩টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত মোট ৩ ঘণ্টা ক্যাবলটির মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ পরিষেবা বন্ধ থাকবে। শনিবার (৩০ নভেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি)।

    সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রোববার (১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ৩টা থেকে ভোর ৫টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত (মোট ২ ঘণ্টা ৫৯ মিনিট) কক্সবাজারে স্থাপিত দেশের প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল সিস্টেমের সিমিইউ-৪ এর চেন্নাই প্রান্তে চেন্নাই ল্যান্ডিং স্টেশনের কাছে এবং সিঙ্গাপুর প্রান্তে টুয়াস ল্যান্ডিং স্টেশনের কাছে কনসোর্টিয়াম কর্তৃক ক্যাবলের ত্রুটি নিরসনের লক্ষ্যে রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। তাই এই সময়ে সিমিইউ-৪ এর মাধ্যমে কক্সবাজার থেকে চেন্নাই রুটে এবং সিঙ্গাপুর রুটে যুক্ত সার্কিটগুলোর মাধ্যমে সেবা সাময়িকভাবে ব্যাহত হবে। এমন পরিস্থিতিতে সাময়িক অসুবিধার জন্য বিএসসিপিএলসি কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।

    বিএসসিপিএলসি সিমিউই-৪ এবং সিমিউই-৫ নামের দুটি আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ক্যাবল কনসোর্টিয়ামের (কোম্পানি) সদস্য। যেটি বাংলাদেশে সাবমেরিন কেবলসের অধিক ক্ষমতা ও পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করে। বর্তমানে সিমিউই-৪ এবং সিমিউই-৫ ক্যাবল দুটির মাধ্যমে বাংলাদেশের ইন্টারনেট এবং আন্তর্জাতিক ভয়েস ট্র্যাফিক চলছে। সিমিউই-৪ এর জন্য বিএসসিসিএল এর কেবল ল্যান্ডিং স্টেশন রয়েছে কক্সবাজারে। আর সিমি-দউই-৫ এর জন্য বিএসসিসিএলের ল্যান্ডিং স্টেশন চালু হয়েছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটাতে।

  • পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে টেলিটক অনলাইন সিম সেবা

    পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে টেলিটক অনলাইন সিম সেবা

    পরীক্ষামূলকভাবে টেলিটক অনলাইন সিম সেবা চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বুধবার (২৭ নভেম্বর) বিকেল থেকে কমার্শিয়াল পাইলটিং হিসেবে রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী, নওগাঁ, চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার ১১টি পোস্ট অফিসে এই সেবা শুরু করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সব জেলার পোস্ট অফিসের মাধ্যমে সেবাটি পাওয়া যাবে।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত্ব মোবাইল অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড টেলিটকের সিম গ্রাহকের দরজায় পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের পোস্ট অফিস এবং তাদের বিলি বন্টন সেবাকে একীভূত করেছে।

    যার ফলে অনলাইনে গ্রাহক তার সিম নম্বর পছন্দ ও অর্ডার করে তার সুবিধাজনক ডাকঘর থেকে অথবা বাসায় বসেও সংগ্রহ করতে পারবেন।

    এখন থেকে গ্রাহক তার টেলিটকের পছন্দের সিমটি নিতে নির্দিষ্ট ডাকঘর থেকে ২৫০ টাকা এবং ঘরে বসে সংগ্রহ করতে ৩০০ টাকা মোবাইল ওয়ালেটের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।

    অটোমেটেড ট্রাকিং নম্বরের মাধ্যমে গ্রাহক সিমের ডেলিভারি অবস্থান জানতে পারবেন। টেলিটকের ওয়েবসাইট teletalk.com.bd এই address এ ‘অনলাইন সিম’ মেন্যুতে গিয়ে অনলাইনে অর্ডার করতে পারবে।

    টেলিটক অনলাইন সিম সেবা চালুর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম ও বিশেষ অতিথি হিসেবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ড. মো. মুশফিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

    এছাড়া টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মহাপরিচালক এস এম শাহাব উদ্দীনসহ টেলিটক ও ডাক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এসময় উপস্থিত ছিলেন।

  • ঐক্যের ডাক হাসনাত আব্দুল্লাহর

    ঐক্যের ডাক হাসনাত আব্দুল্লাহর

    দলমত নির্বিশেষে দেশের অখন্ডতা, বিদেশি আগ্রাসন ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

    হাসনাত বলেন, বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে নীতিগত মতপার্থক্য থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই দেশের অখন্ডতা, বিদেশি আগ্রাসন, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস চলবে না। সামনের পথ অতিক্রমের জন্য আমাদের মধ্যে ঐক্য ধরে রাখতে হবে।

    বুধবার বিকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক জোট আয়োজিত ‘বিপ্লবোত্তর ছাত্র ঐক্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এই ঐক্যের কথা বলেন।

    অনুষ্ঠানে জবি সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও প্রেসক্লাবের সভাপতি সুবর্ণ আসসাইফের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন জবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মাহমুদুল হাসান তানভীর।

    হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ফ্যাসিস্টদের আর কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া যাবে না। এবার যদি আমরা ব্যর্থ হই, তাহলে বাংলাদেশ আর কোনোদিন ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। জুলাই থেকে আজ পর্যন্ত আমরা সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছি।

    অনুষ্ঠানে উদ্বোধকের বক্তব্যে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, এই জাতি যতদিন টিকে থাকবে, ততদিন জুলাই অভ্যুত্থানের কথা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই বিজয় যেন চিরঞ্জীব থাকে, সেই দোয়া আল্লাহ তায়ালার কাছে করছি। শহিদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি।

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত জবি শিক্ষার্থী শহিদ একরামুল হক সাজিদদের বোন ফারজানা হক বলেন, আমার মা এখনও সাজিদের কাপড় বুকে নিয়ে ঘুমায়। আমি আমার ভাই হারিয়েছি, আমার মতো অনেকে তাদের পরিবারের মানুষকে হারিয়েছে। যাদের হারিয়ে এই স্বাধীনতা সেটা যেন বৃথা না যায়। তার জন্য সবাইকে একতা ধরে রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।

    জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, যারা গুম-খুনের শিকার হয়েছেন, তাদের ভুলে যাবেন না। বিশ্বজিৎকে যারা হত্যা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। জগন্নাথ যতদিন থাকবে, ততদিন বাংলাদেশে বিশ্বজিৎ, সাজিদকে মনে রাখবে। তাদের জন্য আজ আমাদের প্রতিজ্ঞা নিতে হবে, ছাত্রদের নিয়ে কাজ করতে হবে।

    রাকিবুল ইসলাম বলেন, আপনারা আদর্শের বক্তব্য রাখেন- কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়াতে অপপ্রচার চালাবেন না। তাহলে আপনারা ছাত্রলীগের মতো হবেন। আপনাদের সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। ছাত্রদলের দ্বারা সামান্য কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ছাত্রদল অনেক বিসর্জন দিয়েছে।

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ছাত্ররাজনীতির এজেন্ডা হওয়া উচিত ছাত্রদের নিয়ে কাজ করা। যারা করবে না তাদের ছাত্ররা গ্রহণ করবে না। ছাত্রলীগের মতো কেউ আচরণ করলে তাদের মতো পরিণতি হবে। আমাদের দাসত্বের শৃঙ্খল ভাঙতে হবে। আমাদের বর্তমান বড় সংকট হলো শিক্ষা। শিক্ষার যদি সংস্কার না হয়, তাহলে বারবার দিল্লির দাসত্ব করতে হবে। এদেশের জনগণ এবার দিল্লি আধিপত্য রুখে দাঁড়িয়েছে, আগামীতেও করবে। এজন্য দিল্লির সাংস্কৃতিক আগ্রাসন দূর করতে হবে।

    তিনি বলেন, ছাত্রদের সঙ্কট কিভাবে সমাধান হবে, যদি ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হয়। এজন্য ছাত্র নির্বাচন করতে হবে। এখন সময় এসেছে ছাত্র রাজনীতির সংস্কার করা। তাই ছাত্র সংসদ নির্বাচন প্রয়োজন। ক্যাম্পাসগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহাবস্থান প্রয়োজন।

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উদ্দেশ করে ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, আপনারা কাজ করেন। আমরা সঙ্গে আছি। দরকার হলে আপনাদের জন্য আমরা আবার জীবন দেব। আবার রক্ত দেব। এখন আমাদের ঐক্যের দিকে এগোতে হবে। কাউকে পেছনে ফেলে রাখবেন না।

    বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফন্টের সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ বলেন, ভারতীয় মিডিয়া নির্লজ্জ মিথ্যাচার করেছে, তার নিন্দা জানাই। আমরা ভারতের দাসত্ব করার জন্য লড়াই করি নাই। আমরা ন্যায়বিচার, সাম্য ও মানবিকতার জন্য লড়াই করেছি। মওলানা ভাসানীর ‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগান আমরা দিচ্ছি। তার আদর্শের ভিত্তিতে আমরা ঐক্যে আসতে পারি।

    জবি ছাত্রদলের সভাপতি আসাদুজ্জামান আসলাম বলেন, গত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলনে গত ১৫ বছরে ছাত্রদল মাঠে ময়দানে ছিল। ভবিষ্যতেও থাকবে। এ সময় তিনি আওয়ামী দুঃশাসনে নির্যাতন হওয়া সব নেতাকর্মীদের স্মরণ করেন।

    জবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইকবাল হোসেন শিকদার বলেন, আমাদের ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা অনৈতিকতার দিকে চলে যাচ্ছে। জগন্নাথসহ সব বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা নৈতিকতার উন্নতির জন্য কোর্স চালু করার দাবি জানাচ্ছি।

    সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদুল হাসান তানভীর বলেন, প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করে এতক্ষণ ধৈর্য ধরে বক্তব্য শোনার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। এই ঐক্য যেন অটুট থাকে, আমাদের সবাইকে প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

    এর আগে বিকাল সাড়ে তিনটায় কুরআন তিলাওয়াত, গীতা পাঠ ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।