উচ্চশিক্ষার জন্য আগামী পাঁচ বছরে ৫০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করবে পাকিস্তান। এছাড়াও, দেশটি ১০০ জন সরকারি কর্মকর্তার জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে। রোববার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ তথ্য প্রকাশ করে। এতে জানানো হয়, উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ‘পাকিস্তান-বাংলাদেশ জ্ঞান করিডোর’ চালু করতে পেরে আনন্দিত। এই প্রকল্পের আওতায়, পাকিস্তানে উচ্চশিক্ষার জন্য আগামী পাঁচ বছরে ৫০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হবে, যার এক চতুর্থাংশ অর্থাৎ ১২৫টি বৃত্তি চিকিৎসা ক্ষেত্রেও দেওয়া হবে। একই সময়ে, ১০০ জন বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তার জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়াও, পাকিস্তান কারিগরি সহায়তা কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা ৫ থেকে বৃদ্ধি করে ২৫ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
Author: bangladiganta
-

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয় সমাধানে একমত
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানের জন্য একমত হয়েছে। উভয়পক্ষ আলোচনা ও পরস্পরের অবস্থান তুলে ধরার মাধ্যমে সমস্যাগুলো পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে চায়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আশাবাদ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান যে গণহত্যা ও অন্য অপকর্ম করেছে, তার জন্য তারা দুঃখ প্রকাশ করবে বলে প্রত্যাশা। এছাড়া, পাকিস্তান থেকে আটকেপড়া বাংলাদেশিরা দেশে ফিরে যাবেন—এ বিষয়েও বাংলাদেশ আশাবাদী। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও জানান, দুই দেশ অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানের জন্য একসঙ্গে কাজ করতে চায় এবং সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে এগুলো পেছনে ফেলতে সম্মত হয়েছে। তিনি বলেন, এই ভালো সম্পর্ক স্থাপন ও বজায় রাখতে নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সমাধান খুঁজে বের করতে উভয় পক্ষ একত্রে কাজ করবে।
রোববার, ঢাকা সফররত পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর, রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি আরও জানান, একে অন্যের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়ে, দুপক্ষে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর অগ্রগতি হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরো স্মুথলি ও সুসংহতভাবে এগিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, এই অগ্রগতি কার্যত সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব করতে উৎসাহ দেয়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আলোচনায় উঠে এসেছে, অর্থনৈতিক বিষয়গুলো যেমন হিসাব-পত্র ও টাকার ব্যাপারে সমাধান করতে হবে। এছাড়া, গণহত্যার জন্য পাকিস্তান যেন দুঃখ প্রকাশ করে এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে। পাশাপাশি, পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে আটকেপড়া মানুষজনকে ফেরত নেওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করা হয়েছে। তৌহিদ হোসেন আবার বলেন, ৫৪ বছর ধরে চলা এই সমস্যা একদিনে সমাধান হওয়ার আশা কেউ করে না, কেবল আলোচনা ও আন্তরিকতা দিয়ে এগুলো অতিক্রম করতে হবে। তিনি সাংবাদিকদের বলছিলেন, এই বিষয়ের জন্য একটি অগ্রগামী পদক্ষেপ হয়েছে, যেখানে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই পক্ষের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, একাত্তর ইস্যুতে ১৯৭৪ সালের ত্রিপक्षীয় চুক্তি ও ২০০২ সালে মোশাররফের দুঃখ প্রকাশের বিষয় আলোচনায় এসেছে। তবে, তৌহিদ হোসেন এর উত্তর দেন, এই চুক্তি বা দুঃখ প্রকাশের বিষয় আমাদের সমস্যা সমাধানে কোনো অবদান রাখে না; আমরা নিজেদের অবস্থান বলে দিয়েছি।
পররাষ্ট্র বিনিময়ের সময়, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান স্বাক্ষর করে একটি চুক্তি এবং পাঁচটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)। এর মধ্যে থাকছে: ভিসা মুক্ত চুক্তি (সরকারি ও কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের জন্য), বাণিজ্য বিষয়ক জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন, দুই দেশের ফরেন সার্ভিস একাডেমির সহযোগিতা, রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার মধ্যেকার পারস্পরিক সহযোগিতা ও, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ওপেন ইনস্টিটিউটের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা।
বৈঠকের আগে, সকাল ১০টায়, দুই নেতার মধ্যে একান্ত বৈঠক হয়। এরপর, আনুষ্ঠানিকভাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়, যেখানে ইসহাক দার পাকিস্তানের প্রতিনিধি দল নেতৃত্ব দেন এবং তৌহিদ হোসেন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন। আলোচনা শেষে, দেশ দুটির প্রতিনিধিরা বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন।
সন্ধ্যায়, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ইসহাক দার জন্য এক মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করে সরকার। এরপর তিনি বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ও সাক্ষাতের জন্য সরকারি বিভিন্ন দফতরে যান এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডঃ শফিকুর রহমানের বাসায় সাক্ষাৎ করেন।
উল্লেখ্য, এই সফর শুরু হয় গত শনিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইসহাক দার উপস্থিতিতে। এর আগে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রী ঢাকায় এসেছেন। এই সফর বাংলাদেশের মামলার মধ্যে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ এবং সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
-

বিএনপিসহ ২৩ দল জুলাই সনদ পর্যালোচনা করে মতামত দিয়েছে
জুলাই সনদ বিষয়ক পর্যালোচনা করে বাংলাদেশে ২৩টি রাজনৈতিক দল তাদের মতামত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কাছে জমা দিয়েছে। এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল যখন কমিশন পূর্ববর্তী খসড়াটির কিছু ত্রুটি শনাক্ত করে ১৬ আগস্ট রাতে সংশোধিত এবং নির্ভুল খসড়া পাঠায়। এরপর, ২০ আগস্ট বুধবার, কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, ২২ আগস্ট বিকেল তিনটা পর্যন্ত দলগুলো তাদের মতামত দাখিলের সময় দেওয়া হবে। আজ বিকেল তিনটা পর্যন্ত মোট ২৩টি রাজনৈতিক দল তাদের মতামত প্রতিনিধিরা জমা দিয়েছেন। এগুলো হলো বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), খেলাফত মজলিস, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম), বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, ১২ দলীয় জোট, আমজনতার দল, গণফোরাম, বাসদ (বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল), জাতীয় গণফ্রন্ট, মার্কসবাদী সমাজতান্ত্রিক দল, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাসদ, লেবার পার্টি, জাকের পার্টি, ভাসানী জনশক্তি পার্টি ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি। তবে, জানা গেছে যে, এখনও সাতটি দল তাদের মতামত দেয়নি। কমিশন জানিয়েছে, চূড়ান্ত খসড়ার উপর মতামত প্রদানের জন্য আর কোনও সময় বাড়ানো হবে না।
-

শেখ হাসিনার বিচার এই দেশের মাটিতেই হতে হবে: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজ প্রমাণিত হয়েছে যে শেখ হাসিনা এই বর্বর হত্যাকাণ্ড ও গুমের জন্য দায়ী। তার বিচার অবশ্যই এই দেশের মাটিতেই হবে এবং তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি পেতেই হবে। শুক্রবার (২২ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে গঠিত ভুক্তভোগী পরিবারের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর আয়োজনে মানববন্ধন ও প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
-

পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে জনগণের ভোটের সুযোগ থাকবেনা: রিজভী
বহুল আলোচিত সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) নির্বাচন পদ্ধতি সম্পর্কে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনে সাধারণ মানুষের হাতে প্রার্থী বাছাইয়ের কোনও সুযোগ থাকবে না। ভোট দিতে হবে নিজ নিজ দলের প্রতীককে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, পিআর পদ্ধতি চালু হলে রাজনৈতিক দলগুলো আরও বেশি কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠবে। রিজভী বলেন, দেশের মানুষ এখনও এই পদ্ধতির বিষয়ে সচেতন নয়, কারণ পূর্বে নির্বাচনী ব্যবস্থায় কখনো এই পদ্ধতির ব্যবহার দেখেনি দেশবাসী। হঠাৎ করেই কিছু রাজনৈতিক দল এই পদ্ধতির কথা বলছে। শনিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শহরের লোকনাথ ট্যাংকের পাড়ে জেলা বিএনপির সদস্য নবায়ণ ও প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহের উদ্যোগের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী অভিযোগ করেন, কিছু দল পিআর এবং নির্বাচনে সংস্কারের নামে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে নির্বাচন বিলম্বিত করতে চাইছে, যা বিএনপি বোঝে। তিনি আরও বলেন, দেশের শিক্ষিত, শ্রমিক ও ভদ্র সমাজের মানুষই বিএনপির সদস্য হবে। তবে যারা চাঁদাবাজি, দখলবাজি করে দলের সদস্য হতে চাইবে না। যারা গণতন্ত্রকে কণ্ঠরোদের মাধ্যমে দমন করে রেখেছিল, তারা বিএনপির সদস্য হতে পারবে না। আসল সদস্য হবে সমাজের গুণীজন এবং দেশপ্রেমিকরা। রিজভী উল্লেখ করেন, এ দেশটি কড়া ত্যাগের বিনিময়ে ৩০ লাখ মা-বোনের আবেগের সঙ্গে অর্জিত। তিনি বলেন, সাড়ে ৮ লাখ বছর আগে মানব সমাজে যে হিংস্রতা ছিল, শেখ হাসিনা সেই হিংস্রতা বাংলাদেশের ওপর চালিয়েছিল। তবে বাংলাদেশের মানুষ তাকে পরাজিত করে নতুন করে দেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। সভায় কেন্দ্রীয় বিএনপি’s অর্থনীতি বিষয়ক সম্পাদক খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সেলিম ভূঁইয়া, কুমিল্লা বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকন, সহ-সভাপতি এবিএম মোমিনুল হক, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল মনসুর মিশন, নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন দলের টিম লিডার আহসান উদ্দিন খান শিপন প্রমুখ। পরে তিনি নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচির জন্য ফর্ম বিতরণ করেন। পাশাপাশি, এই কর্মসূচির কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ মিছিলসহ সমাবেশে অংশ গ্রহণ করে।
-

সম্পর্ক উন্নয়নে ১৯৭১ সালের ইস্যু সমাধানের গুরুত্ব উসাইন করলেন এনসিপি
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের বেশ কিছু অমীমাংসিত ইস্যু এখনও সমাধান না হওয়ায় দুদেশের সম্পর্কের মধ্যে কিছুটা টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ের কিছু বিষয়, যা এখনও পুরোপুরি মিমাংসা হয়নি। এই সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশে সফররত পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী ইসহাক দারকে সঙ্গে নিয়ে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশি রাজনৈতিক দলগুলো।
শনিবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের কার্যালয়ে এনসিপির কমিটি এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অংশ নেন এনসিপির সাত সদস্যের প্রতিনিধিদল। বৈঠকের পরে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন জানান, তারা পাকিস্তান সম্পর্কে বাংলাদেশের জনগণের অভিজ্ঞতা ও ধারণাগুলি তাদের কাছে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, বিগত সময়ের মধ্যে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সম্পর্কের মধ্যে যে শত্রুতা ও বিভাজন ছিল, তা থেকে ইতিবাচক পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই, একাত্তরের যুদ্ধের মতো ইস্যুগুলিকে দ্রুত সমাধান করতে হবে, এই বিষয়টিতে সব পক্ষের ঐকমত্য থাকতে হবে।
আলোচনায় উঠে আসে শিক্ষা, অর্থনীতি ও সংস্কৃতি সহ বিভিন্ন খাতে সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা। এ জন্য বড় ভাই বা আধিপত্যবাদের মনোভাব একান্তই এড়িয়ে চলার ওপর জোর দেওয়া হয়। দেশগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক যেন ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
পক্ষে ইসহাক দার নিজেকে উপস্থাপন করেন, দাবি করেন, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে যদি পুনরায় যুদ্ধ দাঁড়ায়, তবে নদীসহ পানি বিষয়ক নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা হবে। পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা থেকে তারা শিখেছে কিভাবে সম্পর্ক উন্নয়ন করা যায়। সম্প্রতি তারা ওষুধ শিল্পে কিছু সহযোগিতা চালু করেছে, যার মাধ্যমে দুদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো গড়ে তোলা সম্ভব। এরপর সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয়, এভাবে পারস্পরিক বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সম্ভব বলে বিশ্বাস প্রকাশ করা হয়।
সার্ক বা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সংস্থা নিয়ে আলোচনা হয় এবং ভারতের কারণে এর কার্যকারিতা কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। পাকিস্তানের পরমাণু শক্তির অবস্থানেও আলোচনা হয়, যাতে করে এই অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
সবশেষে, ইসহাক দারকে বলে দেওয়া হয় যে, একাত্তরের সমস্যাগুলো তৎক্ষণিক সমাধান জরুরি। তারা জানান, পাকিস্তান এই বিষয়ে প্রস্তুত এবং দ্রুত সমাধানে সুবিধা হবে। এই আলোচনা থেকে বোঝা যায়, উভয় পক্ষই আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতের সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য সদয় ও বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করেছেন।
-

সবকিছু এক বছরে ঠিক হবে এমন ভাবা ভুল: মির্জা ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা এখন যে রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কারের কথা বলছি, সেখানে দীর্ঘদিনের অনাচার, অবিচার, নৈরাজ্য ও দুর্নীতি কাটিয়ে একদিনে সুন্দর রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এক বছরের মধ্যে সবকিছু ঠিক করে ফেলতে পারেন— এ ভাবনাও বাস্তবসম্মত নয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘গত ৫৩ বছরে আমরা ক্ষমতা পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় উপায় অবলম্বন করতে পারিনি। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুন একটি সময়ের সূচনা হয়েছে, যেখানে হঠাৎ করে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে—এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই।’ শনিবার (২৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘সামাজিক সুরক্ষা কতটা সুরক্ষিত’ বিষয়ক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
-

পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী বললেন, একাত্তরের অমীমাংসিত ইস্যু দুইবার সমাধান হয়েছে
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ১৯৭১ সালের অমীমাংসিত ইস্যু দুটি পৃথক সময়ে সমাধান হয়েছিল। রোববার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
সাংবাদিকেরা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যাসহ অমীমাংসিত কতিপয় ইস্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে, ইসহাক দার বললেন, ১৯৭৪ সালে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি ও ২০০২ সালে পারভেজ মুশাররফের সফরের মাধ্যমে এই বিষয়ে কিছুটা দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি সমাধান হয়েছিল। তিনি আরও বললেন, আপনারা আপনার হৃদয় পরিষ্কার করুন। আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
তথ্য অনুযায়ী, এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের শেষে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এক চুক্তি ও পাঁচটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এর মধ্যে রয়েছে:
– দুই দেশের সরকারি ও কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের ভিসা মওকুফের চুক্তি;
– দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের জন্য যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন;
– দুই দেশের ফরেন সার্ভিস একাডেমির মধ্যে সহযোগিতা;
– দুই দেশের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার (বাসস ও এপিপিসি) মধ্যে সহযোগিতা;
– বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এবং পাকিস্তানের ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ ইসলামাবাদ (আইএসএসআই) এর মধ্যে সহযোগিতা।পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই দুই দিনের সফরে শনিবার ঢাকায় পৌছেছেন। এটি এক যুগের মধ্যে পাকিস্তানের প্রথম কোনও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফর। সফরের প্রথম দিনই তিনি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি ও এনসিপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
অতীতে, ২৭ এপ্রিল ইসহাক দার ঢাকায় আসার কথা থাকলেও, ভারতের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে দেশের মধ্যে সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দিলে তার সফর স্থগিত হয়।
-

বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে চুক্তি ও চার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি ও চারটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। রোববার দুপুরে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের শেষে এসব চুক্তি ও স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার মধ্যে।
বৈঠকের আগে সকালে অনুষ্ঠিত হয় দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক বৈঠক, যেখানে বাংলাদেশের নেতৃত্বে ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এবং পাকিস্তানের নেতৃত্বে ছিলেন ইসহাক দার। এই বৈঠক সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরই মূল চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করার দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ভিসা বিলোপ চুক্তি, যা সরকারি ও কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকগুলোতে রয়েছে দুই দেশের বাণিজ্যবিষয়ক জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন, ফরেন সার্ভিস একাডেমির মধ্যে সহযোগিতা, দেশের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থাগুলোর (বাসস ও এপিপিসি) মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন, পাশাপাশি বাংলাদেশের ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ এর সঙ্গে পাকিস্তানের ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ ইস্লামাবাদের মধ্যে সহযোগিতা।
দুই দেশের কর্মকর্তারা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও করেছেন। সকাল ১০টায় দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র কর্মকর্তাদের মধ্যে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপরই তারা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হলো আনুষ্ঠানিক বৈঠক। ইসহাক দার তাঁর দলের নেতৃত্বে থাকলেও, ঢাকায় বেশ কিছু সরকারি ও ব্যক্তিগত সফর করেন। তিনি বাংলাদেশে মোটরশিল্প, বিনিয়োগ ও সম্পর্ক জোরদার সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাদের সফরকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও বৈঠক হয়, যেখানে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
সন্ধ্যায়, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসলামাবাদের জন্যে বিশেষ একটি সৌজন্যভোজে অংশ নেন। এরপর তিনি প্রধানমন্ত্রী ও বিভিন্ন উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পাকিস্তানের এই শীর্ষ কর্মকর্তা শুধু সরকারের বিভিন্ন দিক নিয়েই আলোচনায় থাকেননি, বরং তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা ডা. শফিকুর রহমানের বাসায় গোপন সাক্ষাতের পরিকল্পনাও করেছেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শনিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। এদিকে, ইসহাক দার গত বছর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরে ঢাকায় আসেন প্রথমবারের মতো। এর আগে, জুলাইয়ে ঢাকায় পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভী এবং গত বুধবার পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান ঢাকা সফরে আসেন। এ সময় তারা দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, অর্থনীতিবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সংক্ষেপে, এই সফর ও স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলি দুজন দেশের মধ্যে সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে।
-

ধর্ষণের মামলায় পুলিশ কনস্টেবল সাফিউর কারাগারে
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় এক নারীর সঙ্গে আপত্তিজনক সম্পর্ক ও ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের মামলায় পুলিশ কনস্টেবল সাফিউর রহমান (৩০) বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। আদালত আজ এই কনস্টেবলের কারাগারে পাঠের আদেশ দিয়েছেন এবং একই সঙ্গে পাঁচ দিনের রিমান্ডের জন্য আগামী রোববার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। শনিবার ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এটি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনাটি ঘটে গত ১৫ অগাস্ট রাত ২টা থেকে ৪টার মধ্যে, যখন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার নারী ব্যারাকের ভিতরে অন্য একজন সহকর্মীর সঙ্গে প্রেমের আড়ালে ভিকটিম নারীর শয়ন ঘরে প্রবেশ করে ধর্ষণ করে সাফিউর। অভিযোগ অনুযায়ী, সাফিউর তেরদিন আগে বিবাহের প্রলোভনে ওই নারীকে সাময়িকভাবে ঐছা করেন। এর আগে পেছের ৫ মাসে, সপ্তাহে দুইবার করে, ওই নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন তিনি। সেই সময়ের ঘটনাগুলোর ভিডিও চিত্র আইফোনে ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করেন।
গত ২২ আগস্ট এই ঘটনার বিরুদ্ধে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী নারী। মামলার বিবরণে দেখা যায়, সাফিউর তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে প্রথমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন, তারপর বিভিন্ন সময় নিরိত্তে তাকে ধর্ষণ করেন। স্পষ্টত তারা প্রেমের সম্পর্কের মধ্যে থাকলেও, ভিকটিমের সন্দেহ ছিল যে, তিনি অন্য কাউকে বিয়ে করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
আদালত বলেছেন, এ ব্যাপারে তিনি বিস্তারিত তদন্তের জন্য রিমান্ড অনুমোদন করবেন। তবে এই মুহূর্তে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে উপস্থিত না থাকায়, রিমান্ডের শুনানির জন্য আগামী রবিবার দিন ধার্য করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়টি গোপনীয়তা ও সততার সাথে তদন্তাধীন রয়েছে, যাতে আসল ঘটনার প্রকৃতি ও দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করা যায়।
