বঙ্গোপসাগরে আবারও একটি লঘুচাপক সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণের কারণ হতে পারে। শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রাকৃতিক আবহাওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। জানা যায়, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বিস্তৃতি রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল এবং আসাম পর্যন্ত। এর একটি অংশ উত্তর বঙ্গোপসাগরে বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২৫ আগস্টের মধ্যে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তার সংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এই অবস্থায় শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের বেশ কিছু এলাকায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জায়গায় বজ্রসহ ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকাসহ উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কিছু স্থানেও ভারী বর্ষণের আভাস দেখানো হচ্ছে। একইভাবে রোববার সন্ধ্যার পর আরও কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। সারাদেশে সব পর্যায়ে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য কিছু ক্ষণিকের সতর্কতা প্রয়োজন।
Author: bangladiganta
-

উপকূলে ঝড়ের আশঙ্কা, সতর্কতা জারি
সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে ক্রমাগত সৃষ্টি হচ্ছে আবহাওয়া-বৈচিত্র্যপূর্ণ মেঘমালা। এর ফলে এই অঞ্চলের উপকূলে ও সমুদ্রের দিকে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বেড়ে গেছে, এবং এই পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করতে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর সতর্কতা জারি করেছে।
আজ শনিবার (২৩ আগস্ট) প্রকাশিত আপডেট আধিকারিক সতর্কবার্তায় এই তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেছেন, সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর কারণেই উত্তর বঙ্গোপসাগরে নতুন করে তৈরি হচ্ছে মাঝারি থেকে ভারী মেঘমালা। এর ফলে, উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া প্রবনতা দেখা দিতে পারে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঝড়ের আশঙ্কায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরগুলোকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া, উপকূলের কাছাকাছি অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশনা পর্যন্ত সতর্কভাবে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
অপরদিকে, আবহাওয়া অধিদফতর পূর্বাভাসে জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন সারাদেশে কোথাও কোথাও অস্থায়ী দমকা ঝোড়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
-

বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত চাল আমদানির ঘোষণা ভারতে চালের দাম দ্রুত বৃদ্ধি করলো
বাংলাদেশের শুল্ক প্রত্যাহারের মূল উদ্দেশ্য হলো অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি থেকে ভোক্তাদের রক্ষা করা। গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) বাংলাদেশে চালের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ বেড়েছিল, যেখানে দেশের দরকার ছিল ১৩ লাখ টন চাল আমদানি। চাল রপ্তানিকারক সংস্থা হালদার ভেঞ্চার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেশব কুমার হালদার বলেন, বিশ্ববাজারে চালের সরবরাহ জোগান উদ্বৃত্ত থাকায় এবং ভারতের গুদামে পর্যাপ্ত মজুদ থাকায়, চালের দাম বিশ্ব বাজারে বেশিতেই কম ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশের এই রপ্তানি অর্ডার ভারতের বাজারে মন্দা কাটিয়ে ওঠার জন্য সহায়ক হবে কারণ এটি বাজারে নতুন চাহিদা তৈরি করেছে এবং বৈশ্বিক মূল্য হ্রাসের অর্ধেকটাই এই রপ্তানির মাধ্যমে কাটিয়ে দেওয়া সম্ভব।’
-

সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য করমুক্ত ৪২ ধরনের আয়ে ঘোষণা
সরকারী কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক হলেও, তাদের জন্য কিছু আয়ের উপর কর দেয়া থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর নির্দেশিকা অনুযায়ী, মোট ৪২ ধরনের আয়ের উপর কর আরোপ করা হবে না। এই আয়ের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রকৃত ভাতা ও সুবিধা, যার মাধ্যমে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাদের বিভিন্ন প্রকার সুবিধা পেয়ে থাকেন। উল্লেখযোগ্য এই আয়ের মধ্যে রয়েছে চিকিৎসা ভাতা, নববর্ষ ভাতা, বাড়িভাড়া ভাতা, শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা, শিক্ষাসহায়ক ভাতা, কর্মভার ভাতা, পাহাড়ি ভাতা, ভ্রমণ ও যাতায়াত ভাতা, টিফিন ও পোশাক ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা, ধোলাই ভাতা, বিশেষ ও প্রেষণ ভাতা, প্রশিক্ষণ ও জুডিশিয়াল ভাতা, চৌকি ভাতা, ডোমেস্টিক অ্যালাউয়েন্স, ঝুঁকি ভাতা, অ্যাকটিং অ্যালাউয়েন্স, মোটরসাইকেল ভাতা, আর্মরার অ্যালাউয়েন্স, নিঃশর্ত যাতায়াত ভাতা, টেলিকম অ্যালাউয়েন্স, ক্লিনার অ্যালাউয়েন্স, ড্রাইভার ভাতা, মাউন্টেড পুলিশ ও পিবিএক্স ভাতা, সশস্ত্র শাখা ভাতা, বিউগলার অ্যালাউয়েন্স, নার্সিং অ্যালাউয়েন্স, দৈনিক বা খোরাকি ভাতা, ট্রাফিক অ্যালাউয়েন্স, রেশন মানি, সীমান্ত ভাতা, ব্যাটম্যান ভাতা, ইন্সট্রাকশনাল অ্যালাউয়েন্স, নিযুক্তি ভাতা, আউটফিট ও গার্ড পুলিশ ভাতা।
তবে, উল্লেখ্য, মূল বেতন, উৎসব ভাতা ও বোনাস করযোগ্য আয় হিসেবে গণ্য করা হবে এবং এই আয়ের উপর নির্ধারিত হারে আয়কর দিতে হবে।
এছাড়াও, গত বৃহস্পতিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর জানায় যে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কর বর্ষের জন্য ৪ আগস্ট থেকে অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিলের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম ১০ দিনে, ইতিমধ্যে ৯৬,৯৪৫ জন করদাতা ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন। গত বছরের তুলনায় এবারের ই-রিটার্ন দাখিলের দৈনিক গড় সংখ্যা প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। এর মাধ্যমে দেশের করদাতাদের জন্য এই প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত হয়েছি, যা কর আদায় প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
-

বাধ্যতামূলক ছুটিতে বিএফআইইউ প্রধান
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রণাধীন অর্থনৈতিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান এ এফ এম শাহীনুল ইসলামকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হলো। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
গভর্নর জানান, তদন্তের প্রক্রিয়া চলমান থাকায় শাহীনুল ইসলাম আপাতত ছুটিতে থাকবেন। তদন্তের ফলাফল বা প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এছাড়া, একইদিনে বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা গভর্নরের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়ে শাহীনুল ইসলামকে অবিলম্বে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর দাবি জানান। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে শাহীনুল ইসলামের একাধিক আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশিত হওয়ায় ব্যাংক ও জাতীয় আর্থিক খাতের ভাবমূর্তি মারাত্মক ক্ষুণ্ন হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বিএফআইইউর এই প্রধানের আলোচিত ভিডিওগুলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। এই বিষয়টি কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের তদন্ত চালু হয়। মঙ্গলবার গভর্নরের কাছে এই বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে।
এ ঘটনার সময়টিতে উঠে এল আরও এক বড় নাটক — সম্প্রতি এনা পরিবহনের মালিক খন্দকার এনায়েত উল্লাহর ফ্রিজ করা ব্যাংক হিসাব থেকে ১৯ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদনের ঘটনা। এর কারণে শাহীনুল ইসলাম ব্যাপক সমালোচনায় পড়েছেন। গত বছর নভেম্বরে এনায়েত উল্লাহ ও তার পরিবারের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ৫০টি ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় ১২০ কোটি টাকা ফ্রিজ করেছিল বিএফআইইউ। তবে এপ্রিলে ব্যাংক আল-ফালাহর চারটি হিসাব পুনরায় ফ্রিজ না করে ওই ১৯ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দেয়, যা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নজরে আসে।
দুদকের অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস থেকে প্রত্যক্ষভাবে দৈনিক প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা চাঁদা তুলতেন। এ বিষয়ে আদালত ২৭ মে সেই ১২০ কোটি টাকার ফ্রিজের আদেশ দেন। কিন্তু এখন জানা গেছে, এই অংকের মোট অর্থের মধ্যে প্রায় ১০১ কোটি টাকা রয়েছে, বাকি অর্থ উত্তোলনের জন্য অনৈতিক সুবিধার চেষ্টা চালানো হয়েছে। ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে এই ঘটনা দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
-

বাংলাদেশ আগামী ৭-৮ বছরের মধ্যে ক্যাশলেস অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে: গভর্নর
বাংলাদেশে ক্যাশলেস অর্থনীতির ভিত্তি ন فقط শক্তিশালী হয়ে উঠছে, বরং দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হওয়ার পথে এখনই দৃশ্যমান। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এই মন্তব্য করেন, বলেছেন, আগামী সাত থেকে আট বছর内 দেশটি ক্যাশলেস অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। এই পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে হবে।
বুধবার (২০ আগস্ট) সকালে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত একটি উন্নয়ন কৌশল বিষয়ক সেমিনারে তিনি এই বিষয়টি তুলে ধরেন। গভর্নর উল্লেখ করেন, নগদ লেনদেনের কারণে দুর্নীতি বেড়ে যায় এবং এর ফলে নানা ধরনের অর্হনৈতিক সুবিধা হাতের বাইরে চলে যায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই ধরনের অর্থ লেনদেনের প্রবণতা বন্ধ করতে হবে, যাতে দেশের আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা যায়।
গভর্নর আরও বলেন, অর্থনৈতিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে, এটি সফল হলে সমগ্র অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি, নতুন ধরনের অর্থলেনদেনের ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী উদ্যোগ নেওয়া দরকার যাতে সমাজের সব স্তর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
ড. আহসান মনসুর মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের ‘ন্যানো লোন’ বা ক্ষুদ্র ঋণের কথা উল্লেখ করে বলেন, দিনদিন এই সেবা গ্রহণকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার মানুষ প্রতিদিন এই ঋণ সুবিধা নিচ্ছে। এ ধরনের ঋণের মোট পরিমাণ এখন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
-

প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা, ১৭ দিনে আড়াই বিলিয়ন ডলার অর্জন
চলতি আগস্ট মাসে দেশে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ে এক সমৃদ্ধিশালী ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মাসের প্রথম ১৭ দিনে দেশ জুড়ে প্রবাসীরা বিভিন্ন মাধ্যমে মোট দেড় বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৬১ কোটি ৯০ লাখ ডলার) পাঠিয়েছেন। এর ফলে স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ১৯ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা জমা হয়েছে, যেখানে প্রতি ডলার প্রায় ১২২ টাকার হার ধরানো হয়েছে। এই ধারাটি অব্যাহত থাকলে আগস্ট মাসটি গত জুলাই মাসের রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। জুলাই মাসে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৪৭ কোটি ৭৯ লাখ ডলার, যা এক অর্থবছরের সর্বোচ্চ রেকর্ড। বর্তমানে অ্যানালিস্টরা বলছেন, সরকার কর্তৃক ঘোষিত বিভিন্ন প্রণোদনা এবং প্রবাসীদের জন্য সহজ প্রবাসী আয়ের পথ তৈরি করায় দেশের এই অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, আগস্টের প্রথম ১৭ দিনে সরকারি ব্যাংকগুলো মোট ৪৯ কোটি ৩৩ লাখ ডলার পাঠিয়েছে। এর মধ্যে কৃষি ব্যাংক সহ দুইটি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১৫ কোটি ডলার, আর বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৯৬ কোটি ২৭ লাখ ডলার। পাশাপাশি বিদেশি ব্যাংকগুলো থেকে প্রায় ৩১ লাখ ৩০ হাজার ডলার পাঠানো হয়েছে। এর আগে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মার্চ মাসে উঠে আসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলার, যা ছিল এ বছরের রেকর্ড। পুরো অর্থবছরে প্রবাসীর আয় ছিল প্রায় ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২৬.৮ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশের সামগ্রীিক অর্থনীতি এই ইতিবাচক প্রবাহের ফলে কিছুটা সুরোধায়। বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের প্রণোদনা এবং সহজতর প্রবাসী আয়ের সুযোগ তৈরি হওয়ায় এই প্রবাহ আরও জোরদার হতে পারে।
-

জামায়াতের হুঁশিয়ারি: উভয় কক্ষে পিআরের দাবিতে আন্দোলন সম্ভব
নতুন বাংলাদেশের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ইতোমধ্যে জুলাই সনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে এবং সেটি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠিয়েছে। তবে সংবিধানে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি (পিআর) এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলোর ব্যাপারে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতৈক্য নেই। বিশেষ করে, দেশের অন্যতম প্রধান দল জামায়াতে ইসলামী সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি (পিআর) অনুসারে সংসদের উভয় কক্ষে নির্বাচন চান। তারা মনে করে, পিআর ছাড়া নির্বাচনের ফলাফল স্বচ্ছতা ও জনগণের প্রতিনিধিত্বের জন্য ক্ষতিকর হবে। অনায়াসে এই পদ্ধতিটি চালু হলে, জনগণের ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি পাবে এবং দুর্নীতি কমে আসবে বলে তাদের ধারণা। জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, পিআর পদ্ধতি ছাড়া নির্বাচন কার্যকর হবে না। তিনি ঘোষণা দেন, তারা যথাসাধ্য এই পদ্ধতিটি বাস্তবায়নের জন্য কাজ করবেন। অন্যদিকে, দলের আরেক নেতা ডাঃ সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, মধ্যবর্তী সরকারের সময়ে উচ্চকক্ষের কয়েকটি প্রস্তাবে সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন প্রস্তাব এসেছে, তবে তারা উচ্চ কক্ষের পাশাপাশি নিম্নকক্ষেও পিআর দেখতে চান। কারণ, শুধুমাত্র উচ্চকক্ষে পিআর থাকলে এর প্রভাব কম হবে। জামায়াতের শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, জনগণের স্বার্থে গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে নির্বাচন আগে সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সবাই একমত হলে, জুলাই সনের পরিকল্পনা অনুযায়ী এই সংস্কারগুলো কার্যকর করতে হবে এবং গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে সেটি বাস্তবায়িত হবে। সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলছেন, সংখ্যানুপাতিক সংস্কার বা পরিবর্তন ছাড়া নির্বাচন যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য নয়। তিনিWarning দেন, এমন নির্বাচন হলে দেশ আগের মতো জাহিলিয়াতের দিকে ফেরত যাবে। অন্যদিকে, মুজিবুর রহমান জানান, যদি নির্বাচন আগের মতো হয় এবং সংস্কার হয় না, তবে জুলাই আন্দোলন ও ছাত্রপরিষদের রক্ত বৃথা যাবে। সে কারণেই, তিনি বলছেন, সংস্কার ও পরিবর্তনের পরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উত্তম। প্রতিপক্ষের মতে, সংস্কার না থাকলে নির্বাচন হবে অনির্দিষ্ট ও অকার্যকর, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর।
-

জামায়াতের দাবি, এনসিওর করে আইনগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে
ফেব্রুয়ারিতে যদি নির্বাচন হয়, তাহলে এ বিষয়ে কোনো সমস্যা থাকবে না। তবে, নির্বাচন পূর্বকালীন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অংশগ্রহণের জন্য সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এই মন্তব্য করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের নায়েবে আমির এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুর রহমান মূসাও উপস্থিত ছিলেন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সংসদীয় আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণের বিষয়ে সবাই যাতে মতামত দিতে পারে, এ জন্য সিইসিকে অনুরোধ জানিয়েছেন জামায়াত। নির্বাচন বিঘ্নিত করতে সন্ত্রাস ও অনিয়ম রোধে ভোট পদ্ধতিতে সাধারণতঃ প্রোপোরশনাল রিটেনশন (পিআর) বা সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি গ্রহণের কথা ভাবছে তারা। তিনি আরও বলেন, সবাই যদি চাই, তাহলে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই পদ্ধতিতে ভোটের ফলাফল বেশি গ্রহণযোগ্য এবং সংবেদনশীল থাকবে। ফলে, জনগণের ইচ্ছার সঠিক প্রতিফলন হবে বলে তারা বিশ্বাস করেন। জামায়াত এই ধরণের একটি নির্বাচনের জন্য মাঠে থাকবে, পাশাপাশি তারা প্রস্তুতি নিবে।
এক প্রশ্নে, অন্য কোনো আসনে তারা পর্যবেক্ষণ দিচ্ছে কি-না, জবাবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে আমরা বিষয়টি আলোচনা করেছি।’
পিআর পদ্ধতি ছাড়া জামায়াত কি নির্বাচন করবে কি না, এই প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট কিছু বলেননি। তবে, তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময়ই ফেয়ার ইলেকশনের প্রতি উদার মনোভাব পোষণ করেছি। এই পদ্ধতিটিও আমরা দেশের জন্য উপকারী মনে করি এবং মনে করি এটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এক উত্তম পদ্ধতি। পিআর পদ্ধতিতে ভোটের মাধ্যমে ভোটারদের সঠিক মূল্যায়ন হবে, যা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করবে।
জামায়াতের এই প্রতিনিধি দল যোগ করেছেন, তারা এমন সব নির্বাচনেই অংশ নিয়েছে যা আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করার মাধ্যমে তারা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ। বর্তমানে তারা তিনশো আসনের প্রার্থী দিয়ে মাঠে অবস্থান করছে ও সাধারণ মানুষের মতামত গ্রহণে সক্রিয়।
এর আগে, রোববার নির্বাচনীয় প্রস্তুতি ও অগ্রগতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিএনপি প্রতিনিধিদলের এক বৈঠক হয়েছে।
-

উমামা-সাদীর নেতৃত্বে ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেল ঘোষণা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে উমামা ফাতেমা ও আল সাদী ভূঁইয়ার নেতৃত্বে নতুন একটি ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে এক সর্ম্মেলনে এই প্যানেল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
এই প্যানেলের প্রার্থী নেতাদের মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে দাঁড়াবেন উমামা ফাতেমা, যিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র এবং বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি আল সাদী ভূঁইয়া। তিনিও ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে লড়বেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী ও পাঠচক্র ‘গুরুবার আড্ডা’ সংগঠক জাহেদ আহমদ।
অন্যান্য পদে মনোনীত প্রার্থীরা হলেন: মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক পদে নূমান আহমাদ চৌধুরী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে মমিনুল ইসলাম (বিধান), আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাফিজ বাশার আলিফ, কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক সুর্মী চাকমা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অনিদ হাসান, গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সিয়াম ফেরদৌস ইমন, ক্রীড়া সম্পাদক মো. সাদিকুজ্জামান সরকার, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক মো. রাফিজ খান, সমাজসেবা সম্পাদক তানভীর সামাদ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক রুপাইয়া শ্রেষ্ঠা তঞ্চঙ্গ্যা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক ইসরাত জাহান নিঝুম, এবং মানবাধিকার ও আইন বিষয়ক সম্পাদক নুসরাত জাহান নিসু।
সদস্য পদে রয়েছেন নওরীন সুলতানা তমা, আবিদ আব্দুলাহ, ববি বিশ্বাস, মো. শাকিল, মো. হাসান জুবায়ের (তুফান), আব্দুল্লাহ আল মুবিন (রিফাত), অর্ক বড়ুয়া, আবির হাসান, নেওয়াজ শরীফ আরমান, মো. মুকতারুল ইসলাম (রিদয়), হাসিবুর রহমান, রাফিউল হক রাফি, মো. সজিব হোসেন ও সাদেকুর রহমান সানি।
উমামা ফাতেমা এ প্যানেল ঘোষণা করেন। এতে প্যানেলে পাঁচজন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী, দু’জন আদিবাসী এবং ছয়জন নারী রয়েছেন।
উমামা ফাতেমা বলেন, ‘নানান চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে আজ আমি একটি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভিপির দায়িত্ব গ্রহণ করলাম। ক্যাম্পাসে আমি বিভিন্ন বছর অতিবাহিত করেছি। প্রথম বর্ষেই আমি ডাকসুতে নির্বাচনী প্রার্থী হিসাবে অংশ নিই। প্রথমে কবি সুফিয়া কামাল হলে পাঠচক্রের জন্য দাঁড়াই, কিন্তু ফলাফল হয়নি। তবে এই অভিজ্ঞতা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। এর পরে আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনাসহ আন্দোলনের মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে নিরাপদ করার চেষ্টা করেছি। আমার গণরুম ও গেস্টরুমের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের এই প্রচেষ্টা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমরা তাদের বোঝাতে চাই যে, তাদের কণ্ঠস্বর আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং আমরা তাদের ভোটে যেন মানসম্মত পরিবর্তন আনতে পারি।’
