Author: bangladiganta

  • তিন বছরে দারিদ্র্য হার বেড়ে ২৮ শতাংশে; খাবারের জন্য খরচ ৫৫ শতাংশে পৌঁছেছে

    তিন বছরে দারিদ্র্য হার বেড়ে ২৮ শতাংশে; খাবারের জন্য খরচ ৫৫ শতাংশে পৌঁছেছে

    তিন বছর আগের তুলনায় দেশের দারিদ্র্য হার বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে, যা বর্তমানে প্রায় ২৮ শতাংশে পৌঁছেছে। এই তথ্য প্রকাশ করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিশিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি), যা জানিয়েছে, ২০২২ সালে দারিদ্র্য হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। সম্প্রতি, রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি মিলনায়তনে এক গবেষণা ফলাফল প্রকাশের অনুষ্ঠানে এই তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিলুর রহমান দারিদ্র্য, অতি দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব বিষদভাবে বিশ্লেষণ করেন।

    গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, অতি দারিদ্র্যের হারও বাড়ছে, যা ২০২২ সালে ছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে ২০২৫ সালে এটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশে। অর্থাৎ, গত তিন বছরে দেশের দারিদ্র্যপ্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময়কালে চলমান ৮ হাজার ৬৭টি পরিবারের মতামতের ভিত্তিতে এই গবেষণা চালানো হয়, যেখানে প্রায় ৩৩ হাজার ব্যক্তির জীবনমানের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

    বিশেষ করে, বর্তমান সময়ে কোভিড-১৯ মহামারি, মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এই সংকটগুলোকে আরও জটিল করে তোলে। পিপিআরসি বলেছে, গত আগস্টের আগে মানুষের মধ্যে ঘুষ দেওয়ার প্রবণতা ৮.৫৪ শতাংশ হলেও সে হার এখন কমে ৩.၆৯ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে, সবচেয়ে বেশি ঘুষের কার্যক্রম হচ্ছে সরকারি অফিসে, এরপর পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছে।

    অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অনুসারে, শহরের পরিবারের মাসিক গড় আয় কমে যাচ্ছে, তবে খরচ বাড়ছে। শহরের গড় আয় এখন ৪০,৫৭৮ টাকা, যা ২০২২ সালে ছিল ৪৫,৫৭৮ টাকা। অন্যদিকে, গ্রামে পরিবারগুলোর গড় আয় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ২৯,০২০৫ টাকা, খরচ ২৭,১৬২ টাকা। সামগ্রিকভাবে জাতীয় স্তরে, গড় আয় ৩২,৬৮৫ টাকা, আর খরচ ৩২,৬১৫ টাকা, অর্থাৎ সামান্য সঞ্চয় বা অবশিষ্টাংশ থাকছে না।

    উল্লেখ্য, এক পরিবারের মাসিক খরচের প্রায় ৫৫ শতাংশ অর্থ খরচ হয় খাবার পূরণের জন্য। মাসে গড়ে এই পরিবারের খাবারে খরচ হয় ১০,৬১৪ টাকা। এছাড়া শিক্ষায় ১,৮২২ টাকা, চিকিৎসায় ১,৫৫৬ টাকা, যাতায়াতে ১,৪৭৮ টাকা ও আবাসন খাতে ১,০৮৯ টাকা করে খরচ হয়।

    নেতৃত্ববলে, হোসেন জিলুর রহমান বলেন, বর্তমানে সরকার ক্ষুদ্র অর্থনীতির তুলনায় সামষ্টিক অর্থনীতির গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শুধু জিডিপির দিকে তাকিয়ে না থেকে সমতা, ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীনতা এবং নাগরিকের কল্যাণের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পাঁচটি ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রের গুরুত্বও তুলে ধরেন, যেমন দীর্ঘস্থায়ী রোগের বৃদ্ধি, নারী প্রধান পরিবারের দুর্বলতা, ঋণের বোঝা, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা এবং স্যানিটেশন সংকট।

    বিশেষ করে, দেশের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি বিবেচনায়, বেকারত্বের হার বেড়ে যাওয়ায় নতুন পরিকল্পনা ও দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি উচ্চারণ করেন, এই সমস্যাগুলোর সমাধানে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে যেন দেশের অর্থনীতি ও জনগণের জীবন মান উন্নত হয়।

  • ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত, আমানতকারীরা টাকা ফেরত পাবেন

    ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত, আমানতকারীরা টাকা ফেরত পাবেন

    বাংলাদেশ ব্যাংক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন্ধ করতে নয়টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যাতে আমানতকারীরা তাদের টাকা ফেরত পাবেন। মূল কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠানগুলোর অনিয়ম, লুটপাট এবং অব্যবস্থাপনা জানা গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে ‘অপরিচালনযোগ্য’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, কারণ তারা উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং মূলধনের ঘাটতি নিয়ে আটকে আছে। তাদের লাইসেন্স বাতিলের এই প্রক্রিয়া আগামী দিনগুলোতে শুরু হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ, অর্থাৎ রেজুলেশন ডিপার্টমেন্ট, ইতিমধ্যেই এই লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে এবং প্রয়োজনীয় সব তথ্য কেন্দ্রের গవర্নরের সম্মতিতে পাঠানো হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো ক্ষুদ্র আমানতকারীদের অর্থ দ্রুত ফেরত দেওয়া, পাশাপাশি তাদের চাকুরির বিষয়েও সকল সুবিধা নিশ্চিত করা।

  • সম্পর্ক উন্নয়নে একাত্তরের ইস্যু সমাধান জরুরি: এনসিপি

    সম্পর্ক উন্নয়নে একাত্তরের ইস্যু সমাধান জরুরি: এনসিপি

    বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের গভীরতর উন্নতি করতে গেলে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের অমীমাংসিত ইস্যুগুলো গুরুত্ব সহকারে সমাধান করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ঢাকা সফরে থাকা পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা তুলে ধরা হয়। এই বিরোধপূর্ণ ইস্যুগুলোর সমাধান ছাড়াই দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের পূর্ণ উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মনে করেন এনসিপির নেতারা।

    শনিবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এতে এনসিপির সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নিয়েছিল। বৈঠকের পরে আখতার হোসেন বলেন, আমরা বাংলাদেশের জনগণের ঢাকা ও পাকিস্তানের মধ্যে নানা গোঁড়া ধারণার ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা দিয়েছি। এনসিপি বিশ্বাস করে, অতীতের শত্রুতা কাটিয়ে আমরা সম্পর্কের ইতিবাচক দিকগুলো উন্নয়ন করতে পারি। তবে এর জন্য একাত্তর নিয়ে বিবাদগুলো অবশ্যই সমাধান করতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, দেশের শিক্ষা, অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে সম্পর্ক জোরদার করার জন্য অনেক সুযোগ রয়েছে। সেই সঙ্গে কোনো বড় ভাইসুলভ বা আক্রমণাত্মক মনোভাব যেন সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সেটাও আমাদের আলোচনায় এসেছিল। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যে ভাইচার্য্য ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    ইসহাক দারের সাথে বৈঠকে পাকিস্তানের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু আলোচনা হয়েছে। দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারী জানিয়েছেন, দুই দেশের নদী ও পানি সমস্যা, ঐতিহ্যগত সহঅভিযোগ, ওষুধ শিল্পে সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক বিনিময়, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম এবং প্রতিরক্ষা খাতে উন্নয়নের মতো বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে। এর পাশাপাশি, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও বিগত গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তীতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    সার্ক সংকট নিয়ে ও সম্মেলনকে সক্রিয় করতে ধর্ম ইসরায়েলি সম্পর্কগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নাসিরউদ্দীন বলেন, ভারতের কারণে সার্কের কার্যকলাপ বন্ধ হয়ে গেছে। আমাদের লক্ষ্য, এই সংস্থার কার্যকারিতা বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করা। পাকিস্তানও পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    অবশেষে, একাত্তরের বিরোধ সমাধানে ইসহাক দার কি বলেছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, আমরা তাদের বলেছি, এই বিষয়ে দ্রুত সমাধান জরুরি। তারা বলেছেন, তারা এ ব্যাপারে প্রস্তুত। এনসিপি মনে করে, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের বিষয়গুলো বিবেচনা করে এই ইস্যুগুলোর নির্মূল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে ভবিষ্যতে সুসম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে।

  • মির্জা ফখরুল জানিয়েছেন, এক বছরে সব কিছু সোজা হবে না

    মির্জা ফখরুল জানিয়েছেন, এক বছরে সব কিছু সোজা হবে না

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা এখন যেসব পরিবর্তনের কথা ভাবছি, সেটি একদিনে হবে না। দীর্ঘদিনের অনাচার, অবিচার, নৈরাজ্য ও দুর্নীতির মতো সমস্যা দ্রুত সারানো সম্ভব নয়। এক বছরের মধ্যে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে—এমন আশা করা বাস্তবসম্মত নয়।

    সাবেক এই নেতা বলেন, বিগত ৫৩ বছর আমাদের ক্ষমতা বদলের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি করতে পারেনি। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুন যুগের সূচনা হয়েছে, তবে হঠাৎ করে সবকিছু সুসংগঠিত হয়ে যাবে—এটা আমি মনে করি না। এই মতবাদ আজ শনিবার (২৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘সামাজিক সুরক্ষা কতটা সুরক্ষিত’ বিষয়ে আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, রাজনীতি হল বিচ্ছিন্নভাবে বা জোড়াতালি দিয়ে কাজ করা নয়। সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ ও দলের নেতাকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতার প্রয়োজন। বাংলাদেশে রাজনৈতিক দুর্নীতির অবনতির বিষয়টি তিনি তুলে ধরে বলেন, এই দুর্নীতি দেশের সংকটের অন্যতম কারণ। সবকিছুই নির্ভর করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ওপর, যারা ক্ষমতায় এসে দেশের পরিবর্তন নিয়ে ভাববে।

    বিএনপি মহাসচিব আরও জানান, ২০০৮ সালে জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছিল, কিন্তু গত ১৫ বছরে দলের নেতা-কর্মীরা দেশকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছেন। এক বছরে সব কিছু ঠিক করার জন্য এটা বাস্তবের নয়।

    তিনি বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করে আমলারা। খুবই দুঃখের বিষয়, একজন স্কুলশিক্ষকের সমস্যা সমাধানে তাকে ঢাকায় যেতে হয়—এটি অপ্রয়োজনীয়। যদি সিস্টেমের কেন্দ্রীভূত অংশ সঠিকভাবে কাজ করে তবে ঘুষের মতো দুর্ব্যবহার বন্ধ হবে।

    মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, খুব খারাপ লাগলেও বাস্তবতা হলো, বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল ও নার্সিং মুহুর্তে নিয়োগ হয় দুর্নীতির মাধ্যমে। এই ধরনের অনিয়ম ও বৈষম্যের কারণে দ্রুত কিছু ফলাফল প্রত্যাশা করা কঠিন।

    বিপ্লবের স্বপ্ন দেখা এখন আমাদের জন্য বাস্তব নয়—এমন কথা জানান এই নেতারা। তিনি বলেন, একমাত্র কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের দিকে এগিয়ে যেতে হবে, যেখানে আমাদের জনপ্রতিনিধিরা ন্যূনতম ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে। সেই ন্যায়বিচারই হবে প্রকৃত সমাজের ভিত্তি।

  • বিএনপি ও আরও ২২ দলের জুলাই সনদ পর্যালোচনা শেষে মতামত জমা

    বিএনপি ও আরও ২২ দলের জুলাই সনদ পর্যালোচনা শেষে মতামত জমা

    জুলাই সনদের ব্যাপারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতামত নেওয়ার জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। এই বিষয়টি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হওয়ায় বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা করে শেষমেশ তারা নিজেদের মতামত জমা দিয়েছে। গত ১৬ আগস্ট রাতে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য প্রেরিত প্রথম খসড়ার মধ্যে কিছু ত্রুটি থাকায় তা সংশোধন করা হয় এবং সংশোধিত খসড়া আবার সকলের কাছে পাঠানো হয়। এরপর, গত ২০ আগস্ট কমিশনের পক্ষ থেকে নির্ধারিত সময়เพิ่มเติม করে ২২ আগস্ট বিকেল ৩টা পর্যন্ত মতামত জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে, মোট ২৩টি দল তাদের মতামত জমা দিয়েছে। দলগুলো হলো বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), খেলাফত মজলিস, আমার বাংলাদেশ পার্টি, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, ১২ দলীয় জোট, আমজনতার দল, গণফোরাম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), জাতীয় গণফ্রন্ট, মার্কসবাদী সমাজতান্ত্রিক দল, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), বাংলাদেশ লেবার পার্টি, জাকের পার্টি, ভাসানী জনশক্তি পার্টি এবং বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি। তবে, জানা গেছে যে এখনও পর্যন্ত সাতটি রাজনৈতিক দল তাদের মতামত দেয়নি। কমিটি পরিষ্কার করেছে যে, জুলাই সনদের চূড়ান্ত খসড়ার জন্য আর কোনো সময় বাড়ানো হবে না। অর্থাৎ, এবারে সময় সীমা শেষ হলো। ফলে আশা করা হয়, শিগগিরই এই খসড়ার উপর সব দল মতামত পূর্ণাঙ্গভাবে জানিয়ে দেবে।

  • জনগণের হাতে প্রার্থী নির্বাচনের সুযোগ থাকবে না: রিজভী

    জনগণের হাতে প্রার্থী নির্বাচনের সুযোগ থাকবে না: রিজভী

    বহুল আলোচিত সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি নিয়ে বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্পষ্ট করে বলেছেন, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া হলে সাধারণ মানুষের জন্য প্রার্থী নির্বাচনের সুযোগ থাকবে না। ভোট দিতে হবে দলীয় প্রতীক অনুযায়ী। তিনি মনে করেন, পিআর পদ্ধতির নাম করে যদি কোনও রাজনৈতিক দল নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করে, তাহলে তা আরও কর্তৃত্ববাদী রাজনীতির পথে ধাবিত হবে। রিজভী জানান, দেশের জনগণ এই পদ্ধতি সম্পর্কে খুব বেশি সচেতন নয় কারণ, আগে কখনো তারা এর ব্যবহার বা প্রক্রিয়া দেখেননি। এখন হঠাৎ করে কিছু রাজনৈতিক দল এই পদ্ধতির কথাবার্তা বলছে, যা দেশের স্বাভাবিক নির্বাচনি প্রক্রিয়ার জন্য আতঙ্কের বিষয়।

    শনিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের লোকনাথ ট্যাংকের পাশে জেলা বিএনপি’র নবায়ন ও প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, কিছু কিছু দল পিআর ও সংশোধনের কথা বলে নির্বাচনের জন্য দেরি করানোর অপচেষ্টা করছে, যাদের উদ্দেশ্য বিএনপি গভীরভাবে বুঝতে পারে। তিনি আরো বলেন, দেশের শিক্ষিত ও ভদ্র সমাজের মানুষই বিএনপির সদস্য হবে, কোনো চাঁদাবাজ বা দখলকারী দলীয় সদস্য নয়। যারা গণতন্ত্রের নামে হিংস্রতা চালিয়ে দেশের সুবর্ণ ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে, তারা বিএনপি’তে যোগ দিতে পারবে না। বরং সমাজের প্রগতিশীল গুণীজনেরা এই দলে যোগ দেবে।

    রিজভী বলেন, এই দেশের জন্ম ৩০ লাখ মা-বোনের বিনিময়ে। সারা পৃথিবীতে হাজারো বছর ধরে মানবতার বিরুদ্ধে নানা অত্যাচার চালিয়ে গেছে। শেখ হাসিনার আমলে এই রক্তচক্ষু চালাচ্ছিল, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ তাকে পরাস্ত করে নতুন স্বপ্ন দেখিয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে আবারো গড়ে তোলার জন্য সকলের একসঙ্গে প্রতিজ্ঞা নিতে হবে।

    সভায় কেন্দ্রীয় বিএনপি’র অর্থনীতি বিষয়ক সম্পাদক খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন কুমিল­া বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সেলিম ভূঁইয়া, কুমিল­া বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, জেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকন, সহ-সভাপতি এ বি এম মোমিনুল হক, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল মনসুর মিশন ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

    প্রথমে প্রধান অতিথি নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রমের জন্য ফর্ম বিতরণ করেন। এই কর্মসূচি কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিপুল সংখ্যক দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ সমাবেশে যোগ দেয় এবং উৎসাহের সাথে অংশগ্রহণ করে।

  • বিএনপির শোকজে ফজলুর রহমানের লাগামহীন বক্তব্যের প্রতিবাদ

    বিএনপির শোকজে ফজলুর রহমানের লাগামহীন বক্তব্যের প্রতিবাদ

    বিএনপি রাজনৈতিক নেত্রী ও দলীয় নেতা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের বেপরোয়া ও আড়াআড়ি মন্তব্যের প্রতিবাদে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে দলটি। সম্প্রতি তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, উপদেষ্টা পরিষদ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ইসলামপন্থী দলসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে অপ্রতিক্রিয়ামূলক ও বিভ্রান্তিকর কথা বলে সমালোচনার মুখে পড়েন। এরপরই রোববার (২৪ আগস্ট) বিকেলে বিএনপির প্রেস উইং এই শোকজ নোটিশ পাঠায়।

    নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ফজলুর রহমান সমাজের প্রতি আহতকর বক্তব্য দিয়ে গণঅভ্যুত্থান ও শহীদে সম্মানও লংঘন করেছেন। দলের বিরুদ্ধে ক্ষতিকর ও বিভ্রান্তিকর এই মন্তব্য যে কীভাবে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে, তা তুলে ধরে, দলের নেতাদের নির্দেশে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

    বিএনপির দপ্তর থেকে পাঠানো শোকজ নোটিশে বলা হয়, আপনি জুলাই-আগস্ট期间 অনুষ্ঠিত গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী ছাত্র-জনতার প্রতি অসম্মানজনক বক্তব্য দিয়ে আসছেন। এইবিষয়ে আপনার উক্তি সম্পূর্ণভাবে দলের আদর্শ ও গণঅভ্যুত্থানের চেতনাবিরুদ্ধ। গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের মর্যাদা অমান্য করা এই মতবাদের মাধ্যমে আপনি নীতি পরিপন্থী বক্তব্য প্রকাশ করেছেন। এতে সবার আন্দোলন ও শহীদদের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ পেয়েছে বলে দল মনে করে।

    নোটিশে আরও বলা হয়েছে, এই গণঅভ্যুত্থানে সাড়ে চারশোরও বেশি নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন এবং দেড় হাজারের বেশি সাধারণ মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ঐতিহাসিক আন্দোলনের বীরোচিত ভূমিকা অস্বীকার বা অবজ্ঞা করা সম্পূর্ণ অন্যায়। দল এই অবস্থায়, এই ধরনের মন্তব্যের জন্য আপনি কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব না, তার কারণ দেখতে দল আপনাকে লিখিত জবাব দিতে বলেন।

    আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে আশ্রয় নেওয়া অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান গত বছর ৫ আগস্টের পর থেকে বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে চলেছেন। সর্বশেষ তিনি বলেছেন, ৫ আগস্টের আন্দোলনের মূল চালিকা শক্তি ছিলেন বাংলাদেশের ইসলামী ছাত্রশিবির, যারা দীর্ঘদিন ধরেই দেশের স্থিতিশীলতা নষ্টের ষড়যন্ত্র করছে। তিনি মন্তব্য করেন, এই সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে বিভ্রান্তিকর ও destructive কৌশল অবলম্বন করে আসছে।

    তার ভাষ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্টের আন্দোলনে শীর্ষ ভূমিকা ছিল ইসলামপন্থী ওই সংগঠনের। তিনি সাধারণ মানুষকে বলছেন, যারা এই ঘটনার জন্য দায়ী, তারা কেবল নাটক pilotos, তাদের আসল স্বার্থ কিছু নয়; তারা এখনো দেশের রাজনীতিতে অন্ধকার ছায়া ফেলছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশের পরিশুদ্ধ নির্বাচন হলে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে ক্ষমতায় ফিরবে।

    ফজলুর রহমান অভিযোগ করেন, জামায়াত ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলি এখনো শক্তিশালী রকমের সংগঠিত; তাদের সাংগঠনিক শক্তি, অর্থনৈতিক অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি দাবি করেন, তারা সরকারী বিভিন্ন দপ্তর—প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সংস্থা থেকে ব্যাংক, বাজার, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার করছে।

    অবশেষে তিনি বলেন, জামায়াতের জনপ্রিয়তা এখন আরও কমে গেছে, প্রায় ৭ শতাংশের নিচে। তবে তারা নিজেদের ছায়া-প্রভাব শক্তিশালী করে রাখতে সচেষ্ট, যা বর্তমানে দেশের রাজনীতিতে এক নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

  • শাহজালালে ১৩০ কোটি টাকা কোকেন জব্দ, গায়ানার নারীর আটক

    শাহজালালে ১৩০ কোটি টাকা কোকেন জব্দ, গায়ানার নারীর আটক

    ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুল্ক গোয়েন্দা সদস্যরা ১৩০ কোটি টাকা মূল্যমানের বিপুল পরিমাণ কোকেনসহ গায়ানার এক নারীকে আটক করেছে। ওই নারীর নাম কারেন পিটুলা স্টাফলি।

    মঙ্গলবার শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্তের (শাহজালাল বিমানবন্দর) উপ-পরিচালক সেলিনা আক্তার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ওই নারী গত সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে আটক হন।

    প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনি কাতার দোহা থেকে একটি ফ্লাইটে বাংলাদেশে আসছিলেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে সতর্কতা জারি করা হয়। כשה তিনি অন অ্যারাইভাল ভিসা নিয়ে গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করেন, তখনই তার উপর নজরদারি বাড়ানো হয়। পরে তল্লাশিতে প্লাস্টিকের তিনটি বাক্সে থাকা একে একে ২২টি ডিম্বাকৃতি ফয়েল পেপারে মোড়ানো পণ্য পাওয়া যায়।

    তল্লাশি ও ইনভেন্টরির সময় পুলিশ, এসআইসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। শনিবারের এই অপারেশনে পাওয়া কোকেনের ওজন ৮ দশমিক ৬ কেজি, যার বাজার মূল্য আনুমানিক ১৩০ কোটি টাকা। ধৃত নারী ও অবৈধ তেল-শস্য উদ্ধার করা হয়েছে।

    শুল্ক গোয়েন্দাদের মতে, এই বিষয়ে চোরাচালানের অভিযোগে ফৌজদারি ও কাস্টমস আইন অনুসারে বিভাগীয় মামলা দায়েরের কার্যক্রম শিগগিরই সম্পন্ন করা হবে।

  • ডাকসু নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা

    ডাকসু নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনেরιο নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোটের দিন সেনাবাহিনীকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল প্রবেশপথগুলোতেও সেনা সদস্যরা অবস্থান করবে। এর পাশাপাশি, ভোট গণনার সময় কেন্দ্রগুলো ঘিরে রাখবে সেনা জওয়ানরা, যাতে কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে এবং ভোটের ফলাফল প্রকাশের সময় সম্পূর্ণ সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকে।

    নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এক সভার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নির্বাচনটির চূড়ান্ত প্রস্তুতিপর্বের আলাপে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি ও প্রধান রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন। তিনি বলেছেন, ভোটের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি মূল গেটের সমস্ত প্রবেশপথে সেনাবাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন থাকবেন এবং ভোটের ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত কেন্দ্রগুলো কড়া প্রহরায় থাকবে। মূল উদ্দেশ্য হলো, বাইরের কেউ যেন ভোট গণনার সময় কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না পারে।

    অতিরিক্তভাবে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে ভোটের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে, ভোটের সাত দিন আগে থেকে হলগুলোতে বাইরের কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।

    এদিকে, ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রচার কার্যক্রম আগামী মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) থেকে শুরু হবে। প্রার্থীরা পোস্টার, লিফলেট ও হ্যান্ডবিল বিতরণের মাধ্যমে ভোটের প্রচারে অংশ নেবেন। তবে, এ বিষয়ে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা। তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রচার কার্যক্রম নির্দিষ্ট সময়ে সম্পন্ন করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মাবলী মেনে চলতে হবে।

  • বেশির ভাগ দল নারীর প্রতিনিধিত্ব ১০০ আসনে উন্নীতের প্রস্তাবে একমত

    বেশির ভাগ দল নারীর প্রতিনিধিত্ব ১০০ আসনে উন্নীতের প্রস্তাবে একমত

    নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য বর্তমান ৫০টি সংরক্ষিত আসন বজায় রাখতে হবে বলে মত থাকলেও, নারীর প্রতিনিধিত্ব ১০০ আসনে উন্নীত করার প্রস্তাবে বেশির ভাগ দল একমত হয়েছে। তবে সরাসরি নির্বাচনের পদ্ধতি সংক্রান্ত মতভেদ থেকে গেছে। সুজনের পক্ষ থেকে হতাশা প্রকাশ করে বলা হয়, পুরুষতান্ত্রিক রাজনীতির আধিপত্য বজায় রাখতে সরাসরি নির্বাচনের সুযোগ না দিয়ে কেবলমাত্র কূটনৈতিক পথে এগোনো হচ্ছে।

    আজ মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট), রাজধানীর সিরডাপের এটিএম শামসুল হক মিলনায়তনে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কর্তৃক আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত জুলাই জাতীয় সনদ ও নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে এসব বিষয় উঠে আসে। সুজনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এম এ মতিনের সভাপতিত্বে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা উপস্থাপন করেন জাতীয় কমিটির সদস্য মো. একরাম হোসেন।

    আলোচনায় জানানো হয়, দেশের ৬৪ জেলায় ১৫টি নাগরিক সংলাপ ও বিস্তৃত জনমত জরিপের মাধ্যমে সনদের খসড়া প্রস্তুত করা হয়। এর পরে বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বেশ কিছু বৈঠক শেষে ২০২৫ সালের জুলাইয়ের সংস্করণটি চূড়ান্ত করা হয়। এতে মোট ৯৫টি প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৮৪টিতে সর্বসম্মত সমর্থন পাওয়া গেছে এবং ১১টিতে রয়েছে ‘নোট অব ডিসেন্ট’।

    সংলাপে বলা হয়, সনদে বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিচারকদের নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত একটি স্বতন্ত্র কমিশন গঠন করার কথা বলা হয়। সুপ্রিম কোর্টের বিকেন্দ্রীকরণ এবং উচ্চ আদালতের ফ্লোর বিভাগ পর্যায়ে স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, বিচারপরিষদের নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জবাবদিহুল্য করতে নিরপেক্ষ ও স্বার্থান্বেষহীন নিয়মাবলী চালুর ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

    রাজনৈতিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের অংশ হিসেবে, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর দায়িত্ব পালনের বিধান প্রস্তাব করা হয়। একইসঙ্গে, দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী পদে এক ব্যক্তির থাকা যাবে না বলেও উল্লেখ করা হয়। সংবিধানের ৭০ ধারা সংশোধন করে সংসদ সদস্যদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

    নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলো সাজানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বে এক উচ্চকক্ষ গঠন এবং বর্তমান একক সদস্যভিত্তিক আসনের পাশাপাশি সাধারণ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ বাড়ানো। জরুরি অবস্থার সময়, মন্ত্রিসভার অনুমোদন বাধ্যতামূলক করার বিষয়টিও এসেছেম সনদে।

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়েও বড় আকারের সংস্কারের প্রস্তাব থাকলেও, বাস্তবায়নে ঐকমত্য হয়নি। প্রস্তাব ছিল, সংসদ ও স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের ভোটাধিকার দিয়ে জরুরি অবস্থা নির্বাচন প্রণালি পরিবর্তন করা। পাশাপাশি, সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) বাতিলের প্রস্তাবকে অনেকের দ্বারা ‘যুগান্তকারী সুযোগ হারানো’ বলে অভিহিত করা হয়।

    সংলাপে প্রস্তাবিত সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হয়। সুজনের পক্ষ থেকে চারটি বিকল্প পথ সুপারিশ করা হয়: সংবিধান সংশোধন, গণভোট, রাষ্ট্রপতির প্রোক্লেমেশন এবং নতুন গণপরিষদ গঠন। এর উপর ভিত্তি করেই বাস্তবায়নের রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে।

    সুজন জানিয়েছে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে এই প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করা হবে এবং ধারাবাহিক বিকল্প সংলাপ চালানো হবে, যেন দেশের সাধারণ মানুষ চায় এমন পরিবর্তন বাস্তবায়িত হয়। দীর্ঘ আলোচনা, জেলা পর্যায়ের সংলাপ ও জনমত জরিপের ভিত্তিতে সনদের খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। এতে বিচার বিভাগ ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্যময় পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক-প্রশাসনিক কাঠামোর গুরুত্বপুর্ণ বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত।