নেপালে বর্তমান পরিস্থিতি খানিকটা আলাদা রকমের উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে। প্রধানমন্ত্রীর কেপি শর্মা ওলির পদত্যাগের পরও দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসেনি। এখন দেশের শাসনক্ষমতা সেনাবাহিনীর হাতে চলে গেছে, তারা রাস্তায় রাস্তায় টহল দিচ্ছে যাতে অশান্তি রোধ হয়। অবিলম্বে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বুধবার সকালে বড় ধরনের কোনও অশান্তির ঘটনা না ঘটলেও স্থানীয় বেশ কিছু এলাকায় ছোটখাটো সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বাঁকে জেলার সংশোধনাগারে হামলায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি, দেশটির সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, যতক্ষণ না নতুন সরকার গঠন হচ্ছে, তারা দেশটির শাসন ব্যবস্থাপনা চালিয়ে যাবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। ছাত্র-যুবকদের আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে দেশজুড়ে, যা সোমবার এবং মঙ্গলবার দফায় দফায় উত্তেজনা সৃষ্টি করে। কাঠমান্ডু থেকে শুরু হওয়া এই বিদ্রোহ দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে নেপালের বিভিন্ন প্রান্তে। হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নামে, হাতে প্ল্যাকার্ড, মুখে স্লোগান, এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার সকাল থেকে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে থাকে। বিক্ষোভকারীদের আগুনে পুড়ে যায় নেপাল পার্লামেন্ট ভবন, ওলি ও তার মন্ত্রিসভার বাসভবন। এমনকি দেশের সুপ্রিম কোর্টেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নেন দুষ্কৃতকারীরা। অনেক জেলে হামলা চালিয়ে বিবদমান বন্দিরা পালানোর চেষ্টা করেন। নিরাপত্তারক্ষী এবং পালানোর চেষ্টাকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে গুলি চালানো হয়। বন্দিদের গুলিতে সাতজন আহত হন, তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিত্সাধীন অবস্থায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে বাঁকে জেলার পোখরার জেলেও হামলা চালানো হয়। এখন পর্যন্ত প্রায় ১৬০০ বন্দি বিভিন্ন জেল থেকে পালিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী নানা জায়গায় মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে সেনাপ্রধান অশোকরাজ সিগডেল বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল বিক্ষোভের দাবিপত্র জানা। বুধবার রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেলর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধিদলের আবারও বৈঠক হতে পারে। এই বৈঠকে মধ্যস্থতা করবেন সেনাবাহিনী, যা থেকে একসময় সমাধানের আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, দেশের প্রধান সচিবালয় ভবনের নিয়ন্ত্রণও সেনা গ্রহণ করেছে। লুটপাট বা ভাঙচুরের খবর পেলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। দেশের নাগরিকের সহযোগিতা চেয়েছে সেনাবাহিনী। অশোকরাজ সেনাপ্রধান সকলের উদ্দেশে বলেছেন, প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে বিরত থাকুন এবং আলোচনায় বসুন যাতে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তারা নিশ্চিত করেছে যে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিকের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখতে তারা বদ্ধপরিকর। তবে, কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অস্থির পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে—সেই জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
Author: bangladiganta
-

সুশাসন ও কার্যকর নীতি সংস্কার আদর্শের বিকল্প নয়, ড. দেবপ্রিয়
দেশের খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ ও পাবলিক পলিসি বিশ্লেষক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় সুশাসন, অর্থনীতি ও নীতিগত সংস্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধুমাত্র এসব সংস্কার ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে উপযুক্ত নীতি প্রণয়ন করা অপরিহার্য, যা দেশের উন্নয়ন ক্ষেত্রের অগ্রগতি and টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের (এসডিজি) সফল বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।
আজ বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউআরপি ডিসিপ্লিনের লেকচার থিয়েটারে ডিভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘Bangladesh in Transition: Governance, Economy and Policy Reforms’ শীর্ষক সেমিনারে মূল বক্তা হিসেবে তিনি এ কথা তুলে ধরেন।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সংস্কার কার্যকর করতে প্রথমে আমাদের মানসিকভাবে দৃঢ়তা অর্জন করতে হবে, যেখানে স্পষ্টভাবে সমস্যার দিকগুলো চিহ্নিত করতে হবে। ধারণাগুলোকে বাস্তবায়নে পর্যায়ে নামানোর জন্য কাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি নীতিগত সমন্বয় জরুরি। এই সময় বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবিলা করতে হবে এবং সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে নির্ধারণ করতে হবে। কিছু স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যা সুস্পষ্ট ও স্বচ্ছ হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, টেকসই সংস্কারের জন্য একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ, মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যম এবং সকল অংশীজনের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। বিনিয়োগের গতি বাড়াতে হবে এবং সংস্কার কার্যক্রমকে সর্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গিতে এগিয়ে নিতে হবে। এই প্রক্রিয়া একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়; এটি একটি মানসম্পন্ন এবং সামগ্রিক উদ্যোগ। এজন্য প্রয়োজন একটি শক্তিশালী ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ এবং সমাজের পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম, যিনি বলেন, বাংলাদেশের অগ্রগতি আরও গতিশীল করার জন্য সুশাসন ও নীতিগত সংস্কারকে যুগোপযোগী করে তুলতে হবে। তিনি উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে যোগ্য মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার গুরুত্বের উপর জোর দেন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী করে তুলতে এবং দেশের উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে উঠিয়ে রাখতে সবসময় সচেষ্ট রয়েছে।
সেমিনারটি প্রধানত সভাপতিত্ব করেন ডিভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ড. কাজী হুমায়ুন কবীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সমাজবিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর শেখ শারাফাত হোসেন এবং স্বাগত বক্তব্য দেন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ জোবায়ের হোসাইন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সহকারী অধ্যাপক ফারহানা হক এবং প্রভাষক আইরিন আজহার ঊর্মি।
সেমিনারে মূল বক্তা ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যকে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। উপস্থিত ছিলেন বিভাগের শিক্ষক ও বিভিন্ন বর্ষের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী।
এর আগের দিন সকালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউל করিমের সঙ্গে তাঁর সৌজন্য সাক্ষাৎ ঘটে, যেখানে উপাচার্য ড. দেবপ্রিয়কে স্বাগত জানিয়ে মনোগ্রাম খচিত একটি ক্রেস্ট উপহার দেন।
উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান, দি অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ আশিক উর রহমান, ডিভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ড. কাজী হুমায়ুন কবীর এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান।
-

খুলনার রূপসা খেয়াঘাটে ভোগান্তির অব্যাহত অবস্থা
খুলনার রূপসা খেয়াঘাটটি একদিকে যেমন নদী পারাপারে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, অন্যদিকে এটি ভোগান্তির এক নিত্যনৈমিত্তিক অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এই ঘাট দিয়ে নদী পাড়ি দেন, কিন্তু তাদের বেশিরভাগই অভিযোগ করেন ট্রলারে অতিরিক্ত যাত্রী পারাপার, অসাধু মনোভাব ও অনিয়মের কারণে দুর্ভোগে পড়েন। বিশেষ করে রাতে এই অনিয়মের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়। রাতে আগেভাগেই, অর্থাৎ নয়টায় যাওয়ার আগে, জনপ্রতি পারানি (প্রতি যাত্রীর জন্য নেওয়া অতিরিক্ত ভাড়া) পাঁচ টাকা করে আদায় করা হয়। এছাড়াও Sাড়ে ১১টার পর থেকে রাতের অন্ধকারে পুরুষ ও মহিলাদের কাছ থেকে দশ টাকা করে পারানী নেওয়া হয়। আইনি নিয়মের তোয়াক্কা না করেই মোটরসাইকেল ভাড়া হয় বিশ থেকে ত্রিশ টাকা। ট্রলারে সাধারণত ধারণের ক্ষমতার চেয়েও বেশি যাত্রী নেওয়া হয়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে মাঝিয়ারা দুর্ব্যবহার করে থাকেন। উপরন্তু গ্যাংওয়ে দিয়ে জনসাধারণের চলাচল ছিলো ঝুঁকিপূর্ণ, বিশেষ করে ভাটা অবস্থায় গোটা পদ্ধতিই মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে। প্রশাসনের কোন কার্যকর নজরদারি না থাকায় বিভিন্ন অনিয়ম এখন পর্যন্ত অব্যাহত। সম্প্রতি রূপসা ঘাট কর্তৃপক্ষ কিছু কাঠ বিছিয়ে দেওয়ায় কিছুটা স্বস্তি এসেছে। তবে স্থানীয়রা জোর দাবি জানিয়েছেন নতুন গ্যাংওয়ে স্থাপন ও পুরাতন গ্যাংওয়ের দ্রুত অপসারণের জন্য। বাইনতলা গ্রামের শফিকুল ইসলাম বলেন, “ট্রলার মাঝিরা অনিয়ম করছে, দেখার মতো কেউ নেই।” যাত্রী জাহিদুল ইসলাম জানান, অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে মাঝিদের অপমান ও হাততালি করা হয়। ট্রলার হয়তো ২০ জনের জন্য তৈরি, কিন্তু অতিরিক্ত যাত্রী উঠানো হচ্ছে অব্যাহতভাবে। এতে করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ভুক্তভোগীরা জানান, বিভিন্ন সময় নানা ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন তাঁরা। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সরকারি-বেসরকারি কর্মজীবী, ব্যবসায়ীসহ নানা পেশার মানুষ নিয়মিত এই ভোগান্তিতে পড়েন। বিগত সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা হলেও বর্তমানে তা আর হয় না, ফলে মাঝিয়ারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। খেয়াঘাটে পারাপার করতে সাহস পাওয়া যেকোনো যাত্রীর জন্য পারানী গুণতে হয় আট টাকা। এই সব অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষ জীবন বাজি রেখে নদী পার হচ্ছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।
-

সুন্দরবনের জলদস্যু কাজল-মুন্নার বাহিনীর তিন সদস্য গ্রেফতার
সাতক্ষীরা রেঞ্জের সুন্দরবনের নদ-নদীতে জলদস্যু কাজল-মুন্না বাহিনীর দাপট বেশই ছিল। মঙ্গলবার রাতে শ্যামনগর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে এই দস্যু দলের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। এই সময় তাদের কাছ থেকে ৭৪ হাজার টাকা মুক্তিপণ ও ব্যবহৃত মোবাইল ও সীম জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, শ্যামনগরের ছিত্তরঞ্জন মালিকের ছেলে সাহা সুব্রত মালিক (৪৩), পরিতোষ রায়ের ছেলে বিপ্লব রায় (৩২) এবং মৃত কৌতুক বিশ্বাসের ছেলে লক্ষণ বিশ্বাস (৭২)। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় সুন্দরবনে অপহৃত দুই জেলেও উদ্ধার করা হয়েছে। তারা হলো, শ্যামনগর উপজেলার কালেন্সি গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে আব্দুসালাম (২৫) ও ভেটখালী নতুনঘেরি গ্রামের হরে কৃষ্ট ধীবর (২৭)। এর আগে, সোমবার ভোরে এই জলদস্যু বাহিনী সুন্দরবনের পায়রাটুনি খাল থেকে জিম্মি করে দুই জেলেকে, পর পর মুক্তিপণ আদায় করে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলার আসামিরা জলদস্যু করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ওই সব জেলেদের অপহরণ করে বিকাশ নম্বরে মুক্তিপণ পাঠানোর নির্দেশ দেয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে পুলিশ এই তিন দস্যুকে আটকের পাশাপাশি জেলেদের মুক্তি ও উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রের টাকার অনেকাংশ হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে পাঠানো হয় বলে আটক ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন। ইতিমধ্যে এই দালালের সঙ্গে জড়িত বেশ কিছু ব্যক্তি ও সংগঠনের সন্ধান পাওয়া গেছে। পুলিশ বলেছে, গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং এই বিষয়ক তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
-

খুবিতে ‘রিসার্চ প্রসেস এন্ড টুলস’ শীর্ষক সেশন অনুষ্ঠিত
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সোসাইটি (কেইউআরএস) এর উদ্যোগে ‘রিসার্চ প্রসেস এন্ড টুলস’ শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ সেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গবেষণাভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ResearchMate এর সহযোগিতায় মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তৃতা দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম।তিনি বলেন, গবেষণা হতে হবে বিশ্বমানের ও প্রভাববিস্তারকারী। বিশ্বমানের গবেষণা করার জন্য গবেষণার কৌশল, ডাটা সংগ্রহের পদ্ধতি ও আধুনিক গবেষণা টুলসের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ গবেষকদের উন্নতির জন্য বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের মধ্যে যুক্ত হতে হবে, মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি সহযোগিতা চালিয়ে যেতে হবে এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় মনোযোগ দিতে হবে। তিনি আরও জানান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। ইতোমধ্যে প্রতিটি বিভাগে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যারা গবেষণামূলক কার্যক্রমে শিক্ষকদের সহায়তা করবেন এবং শিক্ষার্থীদের গবেষণায় সম্পৃক্ত করতে উৎসাহিত করবেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী এবং ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ নাজমুস সাদাত। কী-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের সহকারী অধ্যাপক মোঃ আজিম। তিনি গবেষণা প্রক্রিয়া, তথ্য বিশ্লেষণ ও আধুনিক গবেষণা টুলস ব্যবহারের গুরুত্ব নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। ResearchMate’র সভাপতি দেবাশীষ অধিকারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন সাবেক সভাপতি মিনহাজুল আবেদীন সম্পদ। সেশনের পরে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়, যার সভাপতি চয়ন বকশি এবং সাধারণ সম্পাদক গৌড় মুন্ডা। এ সময় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গবেষণার জন্য নতুন দিক নির্দেশনা ও প্রেরণা পাওয়া যায়, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের গবেষণা প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
-

মানবকল্যাণে বিশাল ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, বিভাগীয় কমিশনারের মন্তব্য
অন্ধত্ব নিরসন ও প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে স্বাস্থ্য সেবা অধিদপ্তর ও দেশের বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এর অংশ হিসেবে খুলনায় বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশন, চশমা বিতরণসহ ব্যাপক চক্ষু চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা সাইটসেভার্সের সহযোগিতায় ব্র্যাক এবং খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে এই বিশেষ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয় এবং ফজলুর রহমান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় এটি পরিচালিত হয়। এই ক্যাম্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয় মঙ্গলবার নগরীর নূরনগর পানি উন্নয়ন বোর্ড মিলনায়তনে, যেথায় সকাল ১০টায় শুরু হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফজলুর রহমান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক বিএফইউজের সহ-সভাপতি রাশিদুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ও কেসিসির প্রশাসক মোঃ ফিরোজ সরকার। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, দেশের হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণের জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর এগিয়ে আসা অপরিহার্য। সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা স্বাস্থ্যসেবা ও মানবকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি সবাইকে মানবসেবায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং বলেন, এ ধরনের সেবামূলক কাজের ক্ষেত্রে সরকার সর্বদা পাশে থাকবে। অনুষ্ঠানে অন্য অতিথিদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আশরাফুল আলম এবং ব্র্যাক খুলনা জেলা সমন্বয়ক মোঃ শফিকুল ইসলাম। এর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক (অ) আবুল হাসান হিমালয়, আন্তর্জাতিক সংস্থা সাইটসেভার্সের ডিস্ট্রিক্ট কো-অর্ডিনেটর বনফুল চুমকি, দৈনিক দিনকাল খুলনা ব্যুরোর প্রধান সোহরাব হোসেন, বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার খান নাহিদ মুরাদ অনিক, ব্র্যাকের প্রোগ্রাম অর্গানাইজার মোঃ মাহবুবুর রহমান, তরিকুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, শামসুজ্জামান মুক্তা, বাবা হোসেনসহ অনেকে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ২টা পর্যন্ত এই ক্যাম্পে বিনামূল্যে ৩৬ জনের ছানি অপারেশনের জন্য বাছাই করা হয়, যাঁদের চোখে এই অস্ত্রোপচার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। গ্রাহকদের মধ্যে ৫২ জনকে বিনামূল্যে রিডিং গ্লাস দেওয়া হয় এবং মোট ২৪৫ জনের চক্ষু চিকিৎসা হয়। এই ক্যাম্পে হতদরিদ্র রোগীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষণীয় ছিল। বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশনের সুযোগ পেয়ে অনেকের চোখে আনন্দের ঝলক দেখা যায় এবং তারা নতুন জীবনযাত্রার স্বপ্ন দেখছে।
-

আগস্টে সামান্য কমলেও খাদ্যে মূল্যস্ফীতি উদ্বেগের কারণ
সাম্প্রতিকdata অনুযায়ী, দেশের শতকের আগস্ট মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি জুলাই মাসের তুলনায় কিছুটা কমে ეროვნন ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে এসেছে। যদিও এই সময় অর্থনীতির সাধারণ পরিস্থিতির কিছুটা স্থিরতা দেখা দিলেও, খাদ্যবিশ্লেষণে বুঝা যাচ্ছে যে সেখানে এখনও অস্বস্তি বিরাজ করছে। আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে, যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ, যেখানে জুলাই মাসে এটি ছিল ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ২৬ শতাংশ কমে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ হয়েছে। এর আগে Juli মাসে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
অন্যদিকে, খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি জুলাই মাসে ছিল ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ, যা আগস্টে কমে ৮ দশমিক ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে, অর্থাৎ ০ দশমিক ৪৮ শতাংশের পতন।
প্রতিরক্ষামূলকভাবে, গ্রামাঞ্চলে আগস্ট মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশে নেমে এসেছে, যেখানে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ। শহরাঞ্চলে এই হার যথাক্রমে ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ, যেখানে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলছেন, ‘মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যেতে হবে, এটা একদিনের কাজ নয়, সময় দরকার। চালের দাম বাড়ায় আগস্টে কিছুটা মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, তবে আমাদের লক্ষ্য এই হার ৫ শতাংশের নিচে নামানো।’
-

স্বর্ণের দাম দ্রুত বেড়েই চলেছে, টানা তৃতীয় দিনের মতো skyrocketed
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বিন্দু প্রগতিতে বাড়ছে। মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর, বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ঘোষণা করেছে, ভরিতে ৩ হাজার ১৩৭ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এখন ১ লাখ ৮৫ হাজার ৯৪৭ টাকা। এটি যেন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি স্বর্ণের দাম।
বাজুসের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই দাম বাড়ির পেছনে মূল কারণ হলো তেজাবি স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি। এটি দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, ১১.৬৬৪ গ্ৰাম বা এক ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৯৪৭ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এক ভরি হিসেবে হবে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫০৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ ১ লাখ ৫২ হাজার ১৪৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে বিক্রির জন্য স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ১৪৬ টাকায়।
অতীতে, গতকালই বাজুস স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল। তখন ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮২ হাজার ৮১০ টাকা নির্ধারিত হয়, যা দেশের ইতিহাসে একদম সর্বোচ্চ। এর আগে, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫০৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৭ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ছিল ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৪২ টাকা।
প্রথমে, ৯ সেপ্টেম্বর, স্বর্ণের দাম বিখ্যাতভাবে বাড়ানো হয়েছিল ২৭১৮ টাকা করে। এই গিয়র স্বর্ণের দাম তখন ছিল ১ লাখ ৭৮ হাজার ৮৩২ টাকা। এরপর, চলতি বছর মোট ৫২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যেখানে দাম বাড়ানোর সংখ্যা ৩৬ এবং কমানোর সংখ্যা কেবল ১৬ বার।
তবে, অন্যদিকে রূপার দাম স্থিতিশীল রয়ে গেছে। দেশে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ২৮১১ টাকা। এই দামে অন্যান্য ক্যাটেগরিতেও ঠিকই স্থিরতা দেখা গেছে, যেমন ২১ ক্যারেটের রুপা ২৬৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ২২৯৮ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতিতে বিক্রি হচ্ছে ১৭২৬ টাকা। স্বর্ণের দামের এই ধারাবাহিক বাড়তি প্রভাব দেশের বাজারে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উপর স্পষ্টভাবে পড়ছে।
-

স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, নতুন রেকর্ড তৈরি
দেশের বাজারে স্বর্ণের মূল্য আবারও বেড়েছে, যার ফলে নতুন রেকর্ড গড়ে তুলেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ঘোষণা দেয়। এতে জানানো হয়, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর from মঙ্গলবার থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে।
নতুন দামে এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের সর্বোচ্চ ১ হাজার ২৬০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি হয়েছে। এর ফলে, সর্বোচ্চ মানের ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৮১০ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের দীর্ঘমেয়াদী মূল্য ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫০৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সনাতন পদ্ধতিতে চিরচেনা স্বর্ণের দাম এখন ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৪২ টাকা।
বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য বেড়েছে। এই প্রেক্ষিতে, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গতকাল ৭ সেপ্টেম্বর, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ হাজার ৭১৮ টাকা বাড়ানো হয়েছিল, যার ফলে সেটি দাঁড়িয়েছিল ১ লাখ ৮১ হাজার ৫৫০ টাকায়। এটাই ছিল তখন পর্যন্ত স্বর্ণের সর্বোচ্চ দাম। এই বৃদ্ধির ফলে স্বর্ণবাজারে নতুন দিক নির্দেশনা ও ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে।
-

অর্থ উপদেষ্টার আহ্বান: জলবায়ু অর্থায়নে ৩০ বিলিয়ন ডলার দরকার, তবে সমস্যা পাচ্ছেন আইএমএফ থেকে
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা ও কার্যক্রমের মধ্যে পার্থক্য থাকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য প্রয়োজন ৩০ বিলিয়ন ডলার, তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে এক থেকে দেড় বিলিয়ন ডলার আনতে গিয়ে আমরা যেন জানই বের হয়ে যায়। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) যৌথ আয়োজনে ‘নেভিগেটিং ক্লাইমেট ফাইন্যান্স: মিডিয়া রিপোর্টিং’ শীর্ষক তিন দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, জলবায়ু সংকটের মোকাবিলায় মানবসৃষ্ট দুর্যোগ কম নয়, বরং মানুষের কারণেই প্রকৃতির ক্ষতি বেশি হয়। সালেহউদ্দিন আহমেদ মনে করেন, এই সংকট মোকাবিলার জন্য পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ একসাথে থাকতে হবে: বিজ্ঞানী, নীতিনির্ধারক, প্রতিষ্ঠান, অর্থের সংস্থানকারী ও সাধারণ জনগণ। তিনি বাংলাদেশের মানুষের দুর্যোগ মোকাবিলায় অগ্রসর হওয়ার প্রশংসা করে বলেন, স্থানীয় উদ্যোগ আর নিজস্ব প্রচেষ্টায় দুর্যোগে মোকাবিলা হয়। এ জন্য বাইরে থেকে প্রত্যাশা করে অপেক্ষা না করাই ভালো। তিনি বলেন, আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীর আগে স্থানীয় লোকেরা এসে সাহায্য করে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, সেজন্য এই সচেতনতাকে আরও বাড়াতে হবে। সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। প্রাকৃতিক ও মানুষের তৈরি দুর্যোগ, উভয়ই আমাদের এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। তিনি উল্লেখ করেছেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় বছরে প্রয়োজন ৩০ বিলিয়ন ডলার, এবং আগামি সময়ে আইএমএফের সঙ্গে পাঁচ বিলিয়ন ডলার অর্থের নেগোশিয়েশন করা হবে। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ; জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক কার্যক্রমে তাঁরা সচেতনতা বাড়াতে হবে। জাপানের শিক্ষার্থীরা কিভাবে দুর্যোগের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, সে উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আমাদেরও শিশুদের ছোটবেলা থেকে সচেতন করতে হবে। অনুষ্ঠানে পিকেএসএফের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন এই শতাব্দীর সবচেয়ে বিপজ্জনক চ্যালেঞ্জ। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। বিশেষ অতিথির মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বলেন, ‘জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। এজন্য আমাদের ক্ষতির গল্পগুলো তুলে ধরতে হবে, যাতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা দরকার।’ আরেক বিশেষ অতিথি, প্রধান উপদেষ্ঠার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘ডেঙ্গু বাড়ছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই। সিলেটে পানি বাড়া, মাতৃমৃত্যু—এমন অনেক ক্ষেত্রেই জলবায়ুর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। তবে এ সব ঘটনাগুলোকে বৈশ্বিক পরিপ্রেক্ষিতে তুলে ধরতে পারছি না, তখনই অর্থের জন্য দরজা বন্ধ হয়ে যায়।’ তিন দিনের এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের ৬০ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেছেন।
