Author: bangladiganta

  • খুলনায় মাসব্যাপী ফুটবল প্রশিক্ষণের উদ্বোধন

    খুলনায় মাসব্যাপী ফুটবল প্রশিক্ষণের উদ্বোধন

    খুলনা জেলা ক্রীড়া অফিসের আয়োজনে এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও ক্রীড়া পরিদপ্তরের বার্ষিক ক্রীড়া কর্মসূচির অংশ হিসেবে, গতকাল বুধবার খুলনায় মাসব্যাপী ফুটবল প্রশিক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-পরিচালক মহান মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মোস্তাক উদ্দিন, যিনি খুলনা বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের মাঠে এই প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মোঃ আলীমুজ্জামান। দেশের বিভিন্ন উপজেলাখúলে ইউনিয়ন পর্যায়ের ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান, স্কুল ও মাদ্রাসা থেকে খেলোয়াড়দের বাছাই করে এই প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় যুবকদের ক্রীড়া সচেতনতা ও ফুটবলের দক্ষতা বেড়ে যাবে এবং ভবিষ্যতে তারা জাতীয় পর্যায়ে প্রমানিত হওয়ার সুযোগ পাবে।

  • অ্যাশেজের শেষ দিনে উত্তেজনা, খাজার বিদায়ী টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার জয়

    অ্যাশেজের শেষ দিনে উত্তেজনা, খাজার বিদায়ী টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার জয়

    ১৫ বছর আগে সিডনিতে তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সূচনা করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ান তারকা উসমান খাজার। অবশেষে সেই সিডনিতেই তিনি তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি খেলে ফেললেন। যদিও তার ব্যাটে এই ম্যাচটি রাঙাতে পারলেন না, তবে অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে এই ম্যাচটি বিশেষ হয়ে উঠেছে। খাজার বিদায়ের ম্যাচটি ড্রামাটিক এবং উত্তেজনাপূর্ণভাবে শেষ হয়, যেখানে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া ৫ উইকেটের জয় অর্জন করে সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে বিজয়ী হয়।

    অ্যাশেজ সিরিজের ফল আগেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল, কারণ অস্ট্রেলিয়ানরা টানা তিনটি ম্যাচ জিতে সিরিজের ট্রফি নিজেদের করে নিয়েছে। মেলবোর্নে চতুর্থ টেস্ট জিততে না পারায় ইংল্যান্ড কেবল হোয়াইটওয়াশ এড়াতে সক্ষম হয়। তবে এই চতুর্থ ম্যাচটি বিশেষ করে খাজার পারফরম্যান্সের জন্য উল্লেখযোগ্য, কারণ এটি সিরিজের শেষ টেস্ট হিসেবে আরেকটি দৃষ্টিশীল ও উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছে।

    সিডনি টেস্টে ইংল্যান্ডের জন্য পরিস্থিতি প্রাথমিকভাবে সুবিধাজনক ছিল। দ্বিতীয় দিন শেষে তাদের লিড ছিল মাত্র ১১৯ রান, যদিও মাঠে ব্যাটিং করতে থাকা সেঞ্চুরিয়ান জ্যাকব বেথেল থাকায় ম্যাচের ভাগ্য বদলে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। ইংলিশরা অস্ট্রেলিয়াকে ১৬০ রানের লক্ষ্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, যা ট্রাভিস হেড ও জ্যাক ওয়েদারল্ডের ওপেনিং জুটির সুবাদে বড় হতে পারতো। তবে অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে দ্রুত উইকেট পড়াতে শুরু করে, ফলে খেলায় উত্তেজনা বাড়ে। অস্ট্রেলিয়া এর পরও বিপদে পড়ে ৫ উইকেট হারানো সত্ত্বেও শেষমেশ ম্যাচটি জিতে যায়।

    ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসটা কেবল মাত্র ১৩.২ ওভার লম্বা হতে পেরেছিল, যেখানে তারা ৩৪২ রানে অলআউট হয়। বেথেল ১২ রান যোগ করতেই দিন শেষ করে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে এই ইনিংসে ব্যু ওয়েবস্টার ও মিচেল স্টার্ক ৩টি করে উইকেট নেন। দলে আরও উইকেট পান স্কট বোল্যান্ড ও মাইকেল নেসার। এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া লক্ষ্য সহজেই পৌঁছে যায়।

    বিশেষ করে এই ম্যাচে বিদায়ী ম্যাচ খেলতে নেমে উসমান খাজার পারফরম্যান্স চোখে পড়ার মতো ছিল না। তিনি প্রথম ইনিংসে ১৪ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ রান করে খুব একটা সফল হতে না পারলেও, তার ক্রিকেট জীবনের উৎসব আর অনুভূতি ছিল অনন্য। ম্যাচের শেষে গার্ড অব অনার পেয়ে গ্যালারির করতালিতে বিদায় নেন খাজার। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার মোট রান ৮০২৪, যাকেই তিনি ৮৮ টেস্ট, ৪০ ওয়ানডে এবং ৯ টি টি-টোয়েন্টিতে খেলেছেন। তার ক্যারিয়ারে রয়েছে ১ ডাবল সেঞ্চুরি, ১৮ টি সেঞ্চুরি এবং ৪১টি হাফসেঞ্চুরি। এই ম্যাচ তার জন্য ছিল একটি বিশেষ স্মৃতি, যেখানে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের যাত্রা শেষ করলেও তার অবদান ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।

  • যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার রণতরিকে উপেক্ষা করে জব্দ করল তেলের জাহাজ

    যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার রণতরিকে উপেক্ষা করে জব্দ করল তেলের জাহাজ

    আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটলান্টিক মহাসাগরে রাশিয়ার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজকে জব্দ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই জাহাজের নাম ছিল ‘বেলা-১’, যাকে অনেকে ‘মেরিনেরা’ নামে পরিচিত। উল্লেখ্য, এই জাহাজটি রক্ষায় রাশিয়া গভীর নৌবহর পাঠিয়েছিল, যার মধ্যে সাবমেরিনসহ বিভিন্ন বৈচিত্র্যপূর্ণ যুদ্ধজাহাজ ছিল। মার্কিন কমান্ডোরা সাহসিকতার সঙ্গে এই অভিযান পরিচালনা করে। বুধবার মার্কিন ইউরোপীয় কমান্ডের এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট থেকে এই তথ্য জানানো হয়, যা এজেন্সিগুলোর খবরে তুলে ধরা হয়েছে।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই জাহাজটি অসংখ্য নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করায় স্কটল্যান্ডের উত্তরে আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে জব্দ করা হয়েছে। সতর্কতাসর্বস্ব অভিযান শুরুর আগে এই জাহাজটিকে ক্যারিবীয় সাগর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে অনুসরণ করা হয়। এই সফল অভিযান পরিচালনার জন্য মার্কিন কোস্ট গার্ড ও সামরিক বাহিনী সরাসরি অংশ নিয়েছে বলে জানায় তদন্তকারীরা। গত কয়েক দিন ধরে আশপাশের এলাকা ঘিরে মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি বৃদ্ধি করেছিল।

    আটলান্টিকের এই ক্ষেত্রে রুশ জাহাজ জব্দের ঠিক পরপরই, মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড ক্যারিবীয় সাগর থেকে আরও একটি তেলবাহী জাহাজ ‘এম/টি সোফিয়া’ আটক করার ঘোষণা দেয়। এই জাহাজকে যুক্তরাষ্ট্র ‘রাষ্ট্রহীন’ এবং ‘ডার্ক ফ্লিট’-এর অংশ হিসেবে উল্লেখ করে ক্ষমতার অপব্যবহার ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তেল পাচার চালানোর জন্য অভিযুক্ত করেছে। মাত্র এক ঘণ্টা পার হতেই দু’টি গুরুত্বপূর্ণ জলপথে মার্কিন সেনাদের এই বিজয় ও শক্তির প্রকাশ হয়েছে।

    রুশ পতাকাবাহী জাহাজের জব্দের ঘটনাকে ভেনেজুয়েলা সরকার ‘আন্তর্জাতিক লুটতরাজ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে, রাশিয়া, তাদের নৌবহর সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও এই জাহাজ রক্ষা করতে অক্ষম হওয়ায় এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। মার্কিন ফেডারেল আদালতের পরোয়ানার ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়, যেখানে বিচার বিভাগ, স্বরাষ্ট্র বিভাগ ও ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ারের সমন্বয় ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ‘শিপিং ব্লকড’ নীতি মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।

    এ ঘটনাটি ঘটে এমন সময়, যখন কিছু দিন আগে শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেস। তাকে ইতিমধ্যে মাদক পাচারের অভিযোগে ফেডারেল আদালতের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই সব ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে উঠছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি এখনো বিশ্বজুড়ে তার প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

  • মধ্যবর্তী নির্বাচনে হেরে গেলে অভিশংসনের আশঙ্কা, উদ্বিগ্ন ট্রাম্প

    মধ্যবর্তী নির্বাচনে হেরে গেলে অভিশংসনের আশঙ্কা, উদ্বিগ্ন ট্রাম্প

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ষোড়শ শতাব্দীর পর থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী মূহুর্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন, যেখানে তার ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের উপর। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, এই নির্বাচনে রিপাবলিকানদের অবশ্যই সফলতা অর্জন করতে হবে। না হয়, ডেমোক্র্যাটরা তার বিরুদ্ধে অভিশংসনের পথে হাঁটতে পারেন। মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের রাজধানীতে রিপাবলিকান সদস্যদের একটি সম্মেলনে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আপনাদের কঠোর মনোযোগ দিয়ে জিততে হবে। যদি ব্যর্থ হন, তবে ওরা (ডেমোক্র্যাটরা) আমাকে অভিশংসিত করার জন্য কারণ খুঁজে নেবে।” এর ফলে তার জন্য বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। রয়টার্স ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, মধ্যবর্তী নির্বাচনে হেরে গেলে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে বড় ধরনের বাধা আসতে পারে, এমনকি কংগ্রেসে তদন্তের মুখোমুখিও হতে পারেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প তার দলের সদস্যদের সঙ্গে আগেভাগেই যোগাযোগ রাখছেন যাতে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা ঠিক মতো বাস্তবায়ন হয়। ভবিষ্যৎ উন্নতির জন্য, তিনি চান ভোটারের মধ্যে থাকা জীবনযাত্রার খরচের চাপ কমানোর দিকে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত হোক।

    তবে, ট্রাম্পের আশাবাদী মনোভাব আকাশচুম্বী—তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি মধ্যবর্তী নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য জয় নিয়ে আসবেন এবং ইতিহাসের নতুন রেকর্ড গড়বেন। বলছেন, “আমরা মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয় নিশ্চিতে এগিয়ে যাচ্ছি।” তবে এই দৌড়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ৪৩৫ আসন ও সিনেটের ৩৩টি আসন মোটেই কম নয়, যা জিততে হলে দরকার ঠিকঠাক পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টা।

    এদিকে, সমাজের জীবনযাত্রার খরচ নিয়ে আলোচনা ইতিমধ্যেই বেশ মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গে ট্রাম্পের ছবি তুলে এড়িয়ে যেতে চান ভোটারদের। দেশটির অভ্যন্তরীণ সমস্যা, যেমন মূল্যস্ফীতি, ও অন্যান্য অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জে ট্রাম্পের দৃষ্টি এখন কেন্দ্রীভূত। তবে, ট্রাম্প দাবি করেন, এসব সমস্যা ডেমোক্র্যাটগুলোর সৃষ্টি এবং এখন তাদের জন্যই তার বিরুদ্ধে চাপ বাড়ছে।

    ৮৪ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে আলোচনায় অংশ নেন ট্রাম্প, যেখানে তিনি অনেক অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ও উত্থাপন করেন। যেমন, তিনি বলেন, “স্ত্রীর উপদেশে জনসম্মুখে নাচা বন্ধ করেছি।” এছাড়াও, নানা ধরনের মিথ্যা তথ্য ও অভিযোগ আনেন তিনি। একদিকে তিনি দাবি করেন, গত সাত মাসে ওয়াশিংটনে কোনও হত্যাকাণ্ড হয়নি, যদিও প্রতিদিনের হতাহতের খবর আসছে। আবার, দাবি করেন, তিনি গলফ খেলেন না, কিন্তু সম্প্রতি তিনি গলফ মাঠে দেখা গেছে।

    তিনি আরও বলেন, মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানরা জিতবে, কিন্তু কিছু দলের সদস্য ঠিকভাবে কাজ করছেন না বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন। ইতিহাসও বলছে, ২০০৬ সাল থেকে প্রতিটি মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টরা তাদের আসন হারিয়েছে। ফলে, ট্রাম্প এখন থেকেই স্বাস্থ্য খাতে মনোযোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাহলে যেন তার দল আরও শক্তিশালী হয়।

    প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথমবার যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন তিনি দুইবারই অভিশংসনের মুখোমুখি হন। এখনো অনেক ডেমোক্র্যাট তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অন্যায়ের অভিযোগ আনেন, তবে হোয়াইট হাউজের দাবি, সব অভিযোগই ভিত্তিহীন। বর্তমানে, তার দলের কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে, তবে খুবই অল্প ভোটের ব্যবধান; তাই তাঁর ক্ষমতা আরও বাড়ানোর জন্য নানা আইনি ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নিচ্ছেন তিনি। কিছু রিপাবলিকান এখনও ট্রাম্পের প্রতি বিশ্বাস ও আনুগত্য দেখাচ্ছেন, তবে কিছুটা ক্ষোভও দেখা যাচ্ছে। চলতি মাসে কলোরাডো ও ফ্লোরিডার বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্তে ভেটো দেন ট্রাম্প, আর সম্ভবত এই সিদ্ধান্তে তার বিরুদ্ধে একটি ভেটো বাতিলের ভোট হতে পারে, যেখানে অনেক রিপাবলিকান তার পক্ষে ভোট দেবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

  • ভারতে মেডিকেল কলেজের লাইসেন্স বাতিলেরциялар পড়তি মুসলিম শিক্ষার্থীদের বেশি ভর্তির নেই অভিযোগ

    ভারতে মেডিকেল কলেজের লাইসেন্স বাতিলেরциялар পড়তি মুসলিম শিক্ষার্থীদের বেশি ভর্তির নেই অভিযোগ

    ভারত-শাসিত কাশ্মীরের রিয়াসি জেলায় অবস্থিত মাতা বৈষ্ণদেবী ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল এক্সেলেন্সে (এসএমভিডিআইএমই) এমবিবিএস কোর্সে বেশিরভাগ মুসলিম শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার খবর পেয়ে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা বিক্ষোভ শুরু করে। এই পরিস্থিতিতে, বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন (এনএমসি) কলেজটির লাইসেন্স বা অনুমোদন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। দুই মাস ধরে চলা তীব্র বিরোধিতা ও আন্দোলনের পর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আসে তারা। হিন্দুস্তান টাইমস, এনডিটিভিসহ বেশ কিছু ভারতীয় গণমাধ্যম বুধবার এই খবর প্রকাশ করেছে।

    খবরে জানানো হয়, রিয়াসির কাটরা শহরে অবস্থিত এই মেডিকেল কলেজে এমবিবিএসের প্রথম ব্যাচে ভর্তি হওয়া ৫০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪২ জনই মুসলিম, আর আটজন হিন্দু। কলেজের কর্তৃপক্ষের দাবি, ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী। তবে, আসন বণ্টনে ‘অন্যায্যতা’ এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম শিক্ষার্থী ভর্তির কারণে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা বিক্ষোভের আয়োজন করে। তারা আরও দাবি জানায় যে, হিন্দু শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বেশি আসন সংরক্ষণ করা হোক।

    গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে এই কলেজে ৫০টি এমবিবিএস আসনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। নভেম্বরে ‘রাষ্ট্রীয় বজরং দল’ (আরবিডি) নামের এক উগ্রপন্থী সংগঠন ভর্তির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং হিন্দু শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সংরক্ষণ দেওয়ার দাবি জানায়।

    কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভর্তির সবটুকু ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (নিট) অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে। মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যার বাড়তির কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করে, দেশের অন্যান্য অংশের মতো এ অঞ্চলেও ভালো পরীক্ষার ফল এবং ৮৫ শতাংশ ডোমিসাইল কোটার প্রভাব রয়েছে— যেখানে মুসলিম জনসংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৬৫ শতাংশের বেশি।

    তবে, এই ব্যাখ্যার পরও উগ্রপন্থী কয়েকটি সংগঠনের জোট ‘মাতা বৈষ্ণদেবী সংগ্রাম সমিতি’ প্রথমে কলেজের মেধাতালিকা বাতিলের জন্য দাবি জানায়। আইনগত কারণে সেটি সম্ভব না হওয়ায় পরে তারা কলেজটি পুরোপুরি বন্ধের দাবিও তোলে।

  • ট্রাম্পের অনুমোদন: ভারতসহ ৩ দেশের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব অনুমোদন

    ট্রাম্পের অনুমোদন: ভারতসহ ৩ দেশের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব অনুমোদন

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত, চীন এবং ব্রাজিলের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব সংবলিত একটি বিলের ওপর সম্মতি দিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার মার্কিন পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    বর্তমানে, ভারত ও ব্রাজিলের ওপর ৫০ শতাংশ এবং চীনের ওপর ৩০ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক কার্যকর রয়েছে। কিন্তু যদি ‘গ্রাহাম-ব্লুমেন্টাল নিষেধাজ্ঞা বিল’ নামে এই আইন পাস হয়, তাহলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে এই তিন দেশের উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা থাকবে। এর লক্ষ্য হলো, যারা জেনেশুনে রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি তেল বা ইউরেনিয়াম কিনে রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্রে সহায়তা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। এই বিলের আরেক উদ্দেশ্য হলো রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করে দেওয়া।

    সিনেটর গ্রাহাম ও ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল যৌথভাবে এই বিলটি প্রণয়ন করেন। বলা হয়, যারা রাশিয়া থেকে নিয়মিত এবং বড় পরিমাণে তেল, গ্যাস, ইউরেনিয়াম বা অন্যান্য পণ্য কিনছে, তাদের ওপর দ্বিতীয়স্তরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে, সঙ্গে সাথে তাদের পণ্যের ওপর কমপক্ষে ৫০০ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হবে।

    বৃহস্পতিবার গ্রাহাম বলেন, তিনি তার সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, গতকাল বুধবার তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে আলোচনা করেছিলেন। ট্রাম্প এই বিলের পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। গ্রাহাম মনে করেন, এই বিলটি সঠিক সময়ে পাস হতে যাচ্ছে। কারণ, ইউক্রেনের জন্য শান্তির সময় অন্যদিকে পুতিন কেবল কথা বলছেন, আর রুশ সেনা এখনও নিরীহ লোকজনকে হত্যা করছে—এই অপ্রিয় বাস্তবতা উল্লেখ করেন তিনি।

    তারা আরো জানান, আগামী সপ্তাহে মার্কিন এমপিরা এই বিলের ওপর ভোটাভুটি শুরু করবেন। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, প্রথমে বিলটি হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে গিয়ে পাস হলে সেটি সিনেটে যাবার পালা। সিনেট থেকে স্বাক্ষর পেলে শেষে প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো হবে, যেখানে তিনি স্বাক্ষর করলে এই আইনের কার্যকরীতা শুরু হবে।

  • ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমে ৩,০০০ এর বেশি সেটলার বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা

    ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমে ৩,০০০ এর বেশি সেটলার বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা

    ইসরায়েল এবার পূর্ব জেরুজালেমে আরও ৩ হাজার ৪০১টি নতুন বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে, যেখানে মূলত প্রস্তাবিত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে নির্ধারিত এই শহরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের জন্য এই বাড়িগুলো নির্মিত হবে। ইতোমধ্যেই ইসরায়েলের সরকার এই নির্মাণকাজের জন্য টেন্ডার আহ্বান করেছে।

    ফিলিস্তিনের সরকারি সংস্থা ওয়াল অ্যান্ড সেটলমেন্ট কমিশনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এই নির্মাণ কাজটি পূর্ব জেরুজালেমের ই-ওয়ান এলাকায় হবে। এই এলাকার গুরুত্ব অনেকটাই কৌশলগত কারণেই, কারণ এটি ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ড থেকে পশ্চিম তীরের শহর মারে আদুমিমে যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক করিডোর হিসেবে কাজ করে। বসতি স্থাপনকরণে এই এলাকা আরো দৃঢ় হবে, ফলে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

    ইসরায়েলের ভূমি অধিগ্রহণের সংস্থাটি এই টেন্ডার প্রকাশ করেছে। ওয়াল অ্যান্ড সেটলমেন্ট কমিশনের প্রধান মুআয়াদ শাবান দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আন্তর্জাতিক চাপের কারণে কমপক্ষে তিন দশক ধরে পূর্ব জেরুজালেমে দখলের কাজ কিছুটা বন্ধ ছিল। তবে গ্রাউন্ডে পরিবর্তনের মাঝে গাজা যুদ্ধ এই দখলদারির ক্ষেৎ্রকে আবার উজ্জীবিত করেছে। এই বাড়ি নির্মাণ প্রকল্পটি ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়।

    ইতিহাসে জানা যায়, ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার সময় জাতিসংঘ এক ঘোষণা দেয় যে, মধ্যপ্রাচ্যের আল আকসা অঞ্চলে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে—একটি ইসরায়েল, আরেকটি ফিলিস্তিন। এর মধ্যে গাজা, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম মিলিয়ে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হওয়ার কথা ছিল, যার রাজধানী হবে পূর্ব জেরুজালেম।

    সেই শহরটি দুই ভাগে বিভক্ত—পূর্ব অংশটি পায় ফিলিস্তিনের অংশ হিসেবে পরিচিতি, আর পশ্চিম অংশটি পায় ইসরায়েল। ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় পূর্ব জেরুজালেম দখল করে ইসরায়েল। তারপর থেকে শহরটি ইসরায়েলের দখলেই রয়েছে।

    মুআয়াদ শাবান বলেন, ‘পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিরা যেন অচিরে সংখ্যায় বৃদ্ধি না পায়, সেজন্য শহরটিকে ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে পশ্চিম জেরুজালেমের সাথে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা তারা করছে। এই নতুন বসতি নির্মাণ প্রকল্প এই পরিকল্পনারই অংশ।’

    অতীতে, গত তিন দশকের বেশি সময় ধরে ইসরায়েল আস্তে আস্তে ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড দখল করছে, যেখানে গাজার হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ দখলের এই কার্যক্রমে নতুন উত্থান ঘটিয়েছে। ওয়াল অ্যান্ড সেটলমেন্ট কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে অক্টোবরের মধ্যে পশ্চিম তীরে ১০ হাজারের বেশি বাড়ি নির্মাণের জন্য টেন্ডার পাস করেছে ইসরায়েল।

  • দৌলতপুরকে ইনসাফ ও উন্নয়নের আদর্শ মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই

    দৌলতপুরকে ইনসাফ ও উন্নয়নের আদর্শ মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই

    জামায়াতের মহানগর আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেছেন, দীর্ঘকাল থেকে মানুষ সঠিক সুশাসন ও বাস্তব উন্নয়নের অভাবে পড়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং দৌলতপুরকে একটি ইনসাফ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠাকারী মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। মানুষের ভোটাধিকার যখন নিশ্চিত হবে, তখন ইনশাআল্লাহ দৌলতপুরের জনগণ সৎ, দক্ষ, যোগ্য ও মানবিক নেতৃবৃন্দকে নির্বাচিত করবেন। মাহফুজুর রহমান আরও বলেন, আমাদের দল দৌলতপুরের কৃষি, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যের আধুনিকায়নে স্পষ্ট ও পরিকল্পিত উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং চাঁদাবাজি, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলাই আমাদের মূল অগ্রাধিকার। গতকাল বুধবার নগরীর ৩নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় গনসংযোগের সময় তিনি এসব কথা বলেন। এই সভায় উপস্থিত ছিলেন মহানগরী ছাত্রশিবিরের সভাপতি আরাফাত হোসেন মিলন, বিএল কলেজের সাবেক ভিপি জাহাঙ্গীর কবির, জামায়াত নেতা আজিজুর রহমান স্বপন, ডাঃ সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া, মাওলানা সেলিম রেজা, হাসিবুর রহমান, মাওলানা হাবিবুর রহমান, আবরার জিহাদ ও শরীফ আল নাঈম প্রমুখ।

  • যশোরে ঘুষের লাখ টাকাসহ প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আটক

    যশোরে ঘুষের লাখ টাকাসহ প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আটক

    দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যশোরে এক অভিযানে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দপ্তর থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষসহ তাকে আটক করে। ঘটনাটি ঘটে বুধবার সন্ধ্যায় যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে, যখন দুদকের একটি দল আসামির বিরুদ্ধে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায়। পরে, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে থানায় সোপর্দ করা হয়। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৬১ ধারার এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ নিশ্চিত করেছেন যে, ঘটনাটি তদন্তাধীন।

    অভিযোগের সূত্রে জানা গেছে, ঝিকরগাছা উপজেলার কাউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শিরিনা আক্তার মৃত্যুবরণ করেন ২০২৫ সালের ২৩ আগস্ট। মৃত্যুর পর, তার স্বামী মোহাম্মদ নুরুনবী প্রাক্তন শিক্ষক, গত বছর ৩০ অক্টোবর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে তার স্ত্রীর পেনশনের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু, আবেদন দেওয়ার পরে থেকেই জেলা শিক্ষা অফিসের আ techniকাররা তাকে হয়রানি করতে থাকেন। দীর্ঘ সময় ধরে তার পেনশনের ফাইলে স্বাক্ষর না করে গড়িমসি করেন, আর অবশেষে তিনি দাবি করেন এক লাখ ২০ হাজার টাকার ঘুষ। নুরুনবী অভিযোগ করেন, এই টাকা না দিলে তার স্ত্রীর পেনশনের কাজ দেরি হবে। তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ করলে, দুদকের একটি দল বুধবার বিকেলে অভিযানে এসে তার কাছ থেকে ঘুষের টাকা গ্রহণ এবং কোর্টে ধরা যায়।

    অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন দুদকের যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোঃ সালাহউদ্দিন ও অন্যান্য কর্মকর্তারা। নুরুনবী বলেন, তার স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকে তার পেনশনের জন্য নানা ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন। বাধ্য হয়ে টাকা দিতে থাকলেও, আরও বেশি ঘুষের দাবি করে শিক্ষা কর্মকর্তা। টাকা না দিলে পেনশনের কাজটি বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেন তিনি। এর ফলে, বাধ্য হয়ে তিনি ঘুষের টাকা সহ অফিসে যান, যেখানে দুদক তাকে আটক করে।

    দুদকের সহকারী পরিচালক মোঃ আল-আমিন জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি দুদক প্রধান কার্যালয়ে অবহিত করা হয়। অনুমোদনের পর, অভিযানে গিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তার কাছ থেকে টাকাসহ তাকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে ও অনুসন্ধান চলমান রয়েছে, যেখানে অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • ১৭ বছর পর ভোটের বিজয় নিশ্চিত করতে ব্যালটের মাধ্যমে

    ১৭ বছর পর ভোটের বিজয় নিশ্চিত করতে ব্যালটের মাধ্যমে

    খুলনা-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদকের কার্যালয় থেকে আজিজুল বারী হেলাল জানিয়েছেন, গত ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশের জনগণ তাদের পবিত্র ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছিল। সরকারের নানা অপকর্মের কারণে হাজারো মানুষের জীবনহানি, গুম এবং হত্যার শিকার হয়েছেন। তবে এখন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ সুগম হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে প্রতিযোগিতা অবিচ্ছিন্নভাবে চলবে এবং ব্যালটের মাধ্যমে বিজয়কে চূড়ান্ত রূপ দিতে হবে। এই নির্বাচনী লড়াইয়ে সকল আস্ফালন ন্যায্য এবং শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে আহ্বান জানান তিনি।

    বুধবার দুপুরে রূপসার উত্তর খাজাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে টিএসবি নাগরিক সমাজের আয়োজনে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী ব্যারেস্তা খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও সাধারণ সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আজিজুল বারী হেলাল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অবসরপ্রাপ্ত মাস্টার আঃ আজিজ মোড়ল এবং পরিচালনা করেন মোঃ কামরুজ্জামান। বিকেলে তিনি তালতলা মন্দিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার জন্য প্রার্থনায় অংশ নেন। তবে রাতের অংশে সেনের বাজার ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে এক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

    সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হাফেজ মাওলানা তারেক মাহমুদ, জিএম আসাদুজ্জামান, সরদার সিরাজুল ইসলাম, আরশাদ আলী, আঃ আজিজ শেখ, পরিতোষ কুমার দত্ত, টিএসবি ইউনিয়নের পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রবীর কুমার নন্দী, পাথরঘাটা দীপক কুমার রায়, শেখ জালাল উদ্দীন, সুধীর দাস, এসকে হারুনার রশিদ, আঃ মান্নান মাস্টার, দেবপ্রসাদ পাল, সৈয়দ আহম্মদ আলী, মাস্টার শেখ শাহাজাহান আলী, গৌতম ভদ্র ও আরও অনেক সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।

    অতিরিক্ত হিসেবে জানা যায়, উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক মোল্লা খায়রুল ইসলাম, জিএম কামরুজ্জামান টুকু, শেখ আব্দুর রশিদ, আব্দুস সালাম মল্লিক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আতাউর রহমান রুনু, গোলাম মোস্তফা তুহিন, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান সাইফ, জেলা বিএনপির সদস্য আছাফুর রহমানসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।

    এছাড়াও, সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। শেষপর্যায়ে, খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা, দীর্ঘ জীবন ও দেশের সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষভাবে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।