Author: bangladiganta

  • নির্বাচনী প্রস্তুতিতে বিএনপি থেকে জামায়াত-এনসিপির জোট অনেক এগিয়ে: নাহিদ ইসলাম

    নির্বাচনী প্রস্তুতিতে বিএনপি থেকে জামায়াত-এনসিপির জোট অনেক এগিয়ে: নাহিদ ইসলাম

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে বিএনপির জোটের চেয়ে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জোট উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে রয়েছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ দলের সঙ্গে এক বৈঠকের পরে এসব কথা বলেন।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নকে জানানো হয়েছে, আমাদের নির্বাচনী পরিবেশে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ব্যাপারে এখনও আমাদের পুরোপুরি আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, বিশেষ একটি দলকে সুবিধা দেওয়ার জন্য নিয়ে সিগন্যালিং করা হচ্ছে, এবং অনেক ঋণখেলাপি ব্যক্তিদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি অমান্য করার ক্ষেত্রে নানা ধরনের অপরাধ হচ্ছে, যা নিয়ে নির্বাচন কমিশন কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    এছাড়া, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির খুনের বিচার না হওয়ায় দেশে নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়েই আমাদের মাঠে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। আমি মনে করি, বিএনপির জোটের তুলনায় জামায়াত ও এনসিপির জোট এখন অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে।’ তিনি সরকারের প্রতি প্রয়োজনীয় দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

  • নির্বাচনের অবস্থা বোঝা যাবে প্রচারণার পর, মির্জা ফখরুলের প্রতিশ্রুতি

    নির্বাচনের অবস্থা বোঝা যাবে প্রচারণার পর, মির্জা ফখরুলের প্রতিশ্রুতি

    বিএনপির মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখনই নির্বাচনের পরিবেশ ভালো মনে হচ্ছে। তবে আসল পরিস্থিতি বোঝা যাবে তখন, যখন প্রার্থিতা প্রচার শুরু হবে। এ পর্যন্ত কেউ পুরোপুরি পরিস্থিতি বুঝতে পারছে না, কারণ প্রচারণা শুরুর আগে সব কিছুই ধাপে ধাপে আঁচ করা সম্ভব নয়। এখন সবাই নিজের সংগঠনের প্রস্তুতিতে মনোযোগী, মনোনয়ন প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নির্বাচনের প্রকৃত চিত্র প্রচার শুরু হওয়ার পরই স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

    সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ির নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এই প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

    প্রচার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, আমি বহু আগে থেকে ক্রিকেট খেলি, ক্রিকেট বোর্ডের সদস্যও ছিলাম। এখন আমি আর ক্রিকেট খেলি না, কারণ আমার এখন মূল কাজ রাজনীতি। আন্তর্জাতিক রাজনীতির যোগসূত্র রয়েছে ক্রিকেটের সঙ্গে। আমাদের দেশের মানসম্মান রক্ষা করতে হয়, যখন আমাদের এক ক্রিকেটারকে অপমানিত করা হয়, তখন এটি দেশের জন্য অপমানের বিষয় মনে হয়। আমরা মনে করি, ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তের সাথে আমরা একমত, তবে স্বল্প ছোট ঘটনাগুলোর সমাধান নিজস্ব মধ্যস্থতায় করাই উত্তম।

    আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা খুব উদ্বিগ্ন। এটি সরকারের ব্যর্থতা, কারণ তারা এখনো অস্ত্র উদ্ধার করতে সক্ষম হয়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি তবে আমি আশাবাদী, নির্বাচন চলাকালীন পরিস্থিতি উন্নত হবে এবং স্বাভাবিক থাকবে।

    আওয়ামী লীগসহ বড় দুটি দলের ভোট জোগাড়ের চেষ্টা সম্পর্কে তিনি জিজ্ঞাসা করলে বলেন, কোন দুটি দল বোঝাচ্ছেন তা পরিষ্কার নয়। আমাদের হতেই পারে বড় দল বলতে আওয়ামী লীগ বা অন্য কিছু। তবে বিএনপি যেহেতু দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করে আসছে, জননেতার কাজে লিপ্ত, দেশের যে উন্নতি হয়েছে সবই বিএনপির অবদান। দেশাচার্য থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র, প্রেসিডেন্সি থেকে পার্লামেন্টary ব্যবস্থা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, বিচারব্যবস্থার স্বাধীকার—সবই বিএনপির দর্শন ও সংগ্রামের ফল। বিএনপি এর আগেও এককভাবে সরকার পরিচালনা করেছে এবং দরকারে আরও ভালো কাজ করতে সক্ষম।

    তরুণ নেতার উত্তরাঞ্চল সফর প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল জানিয়েছেন, তারা অবশ্যই উত্তরাঞ্চলে আসবেন। সেখানে তার পিতৃভূমি বগুড়া, দিনাজপুর, এবং নানীর বাসস্থানের সম্পর্ক রয়েছে। রংপুরে শহীদ আবু সাঈদ ও অন্যান্য শহীদদের কবর জিয়ারত করবেন।

    গণভোট প্রসঙ্গে বলেন, এটি বিএনপির দায়িত্ব নয়, দায়িত্ব জনগণের। ভোটে তারা যা সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই চূড়ান্ত। যারা সবসময় ফ্যাসিস্টদের ভয় দেখায়, নিজেরা মাঠে কিছু করে না, বিদেশি শক্তির পক্ষ থেকে বড় বড় কথা বলে—তাদের জন্য এগুলো গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমাদের লক্ষ্য, ফ্যাসিস্টদের তাড়ানো ও প্রতিরোধ করা।

    তিস্তা নদীর ইস্যুতে মির্জা ফখরুল জানান, তাদের অঙ্গীকার আছে, তিস্তা, পদ্মা ও অন্যান্য অবিচ্ছিন্ন নদীর পানির হিস্যা আদায়ের জন্য ভারতের সঙ্গে আলোচনায় বসবে। পারস্পারিক সম্মান ও মিউচুয়াল সুবিধার ভিত্তিতে সকল দাবি পূরণে সচেষ্ট থাকবেন। সঠিক কূটনৈতিক আচরণের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার প্রত্যাশা প্রকাশ করেন তিনি।

  • জামায়াতের আমিরের মতে দুই-একদিনের মধ্যে ১১ দলের আসন সমঝোতা হবে

    জামায়াতের আমিরের মতে দুই-একদিনের মধ্যে ১১ দলের আসন সমঝোতা হবে

    আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে বাংলাদেশের ১১দলীয় রাজনৈতিক জোটের মধ্যে আসন ও প্রার্থী বণ্টনের চূড়ান্ত সমঝোতা সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর বসুন্ধরা সহযোগিতা কেন্দ্র থেকে তিনি এ তথ্য দেন। তিনি বলেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য দলগুলো দীর্ঘ মাস ধরে বিভিন্ন ডাকে বৈঠক করেছে, যেখানে মূলত আটটি দল অংশগ্রহণ করে। পরে তাদের মধ্যে আরও তিনটি দল যুক্ত হয়। প্রধান দলগুলো হলো- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)। এই সমঝোতার ভিত্তিতে আরও তিনটি দল—জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)—ও যুক্ত হয়। ফলে মোট ১১ দল অংশগ্রহণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়। নির্বাচনের প্রাক্কালে, জামায়াত ২৭৬টি আসনে এবং ইসলামী আন্দোলন ২৬৮টি আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। একইসঙ্গে এনসিপি ৪৭টি, এবি পার্টি ৫৩টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯৪টি, খেলাফত মজলিস ৬৮টি, এলডিপি ২৪টি, খেলাফত আন্দোলন ১১টি, নেজামে ইসলাম পার্টি ৬টি, জাগপা ৩টি ও বিডিপি ২টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়। তবে আসন বণ্টনের বিষয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়, ফলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে বের হয়ে যাওয়ার গুঞ্জনও ওঠে। তবে শেষমেশ বিভিন্ন আলোচনার পর দলগুলো আসন সমঝোতা করতে রাজি হয়। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দুই-এক দিনের মধ্যেই দেওয়া হবে। জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলছেন, এই আসন সমঝোতা দৃশ্যমান হলে, ভবিষ্যতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বও আরও দৃঢ় হবে। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মাঝে দলের প্রতি আস্থা রয়েছে এবং তাদের আশা, আগামী নির্বাচনে জনগণ জামায়াতকে সমর্থন করবে। তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সবাই একজোট হয়ে কাজ করছে। জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা ও নির্বাচন সুষ্ঠু হলে, যারা সরকারে থাকতে চায় বা অন্য দলগুলো পছন্দ করে, তাদেরকেও সঙ্গে নেওয়া হবে। বেশ কিছু সময় ধরে গণমাধ্যমের একটি পক্ষের দিকমোড় নেয়া নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে তিনি বলেন, গণমাধ্যম যেন স্বাধীনভাবে কাজ করে। তারা যদি নিজেদের দায়িত্ব ভুলে যায় বা সরকারপন্থী হয়, তবে সেটি জনগণের জন্য ক্ষতিকর হবে। তারা মনে করেন, গণমাধ্যমের বৈচিত্র্য ও স্বাধীনতা জনগণের গুরুত্বপূর্ণ অধিকার। তিনি শেষ পর্যায়ে বলেছেন, জনগণ তাদের ভোটাধিকারে দখল দেওয়ার জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাবে, এবং যদি এই সুযোগ আরও দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে, তাহলে ভবিষ্যৎে তাদের ভোটের অধিকার হরণের অন্ধকারে ডুবতে পারে।

  • তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চলের সফর স্থগিত: মির্জা ফখরুল

    তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চলের সফর স্থগিত: মির্জা ফখরুল

    নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চলে সফর স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে গুলশানে দলের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    বাজেট আলোচনা ও দলীয় কর্মকাণ্ডের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান। সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। মহাসচিব বলেন, তারেক রহমান দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এই দায়িত্বে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তারা। তারা আশা করেন, দল পরিষদের আরও সফলতা আসবে।

    তিনি আরও জানিয়েছেন, নির্বাচনের একদিন আগে অর্থাৎ ১১ জানুয়ারি থেকে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় সফর করার পরিকল্পনা ছিল। এতে ছিলেন সাংগঠনিক কার্যক্রম, নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং শহীদদের কবর জিয়ারতের পরিকল্পনা। তবে, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধের কারণে ওই সফর এখন স্থগিত করেছে বিএনপি।

    সফরের মধ্যে ছিল টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী ও লালমনিরহাট—এমন মোট আট জেলার ইউনিটের বিভিন্ন কার্যক্রম। এই সফরে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা, সাংগঠনিক মিটিং ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করার পরিকল্পনা ছিল।

    মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারের অপপ্রচেষ্টা ও ষড়যন্ত্রের কারণে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর হয়রানি, দাঁড়ানো হয় হুলিয়ার জোটে—এসবই তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চল সফর বাতিলের কারণ। তিনি হত্যাকাণ্ডের দ্রুত তদন্ত ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

    উল্লেখ্য, এই সফরে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সংগঠনের শক্তি বৃদ্ধি, নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও শহীদ পরিবারের সঙ্গে দেখা করার উদ্দেশ্য ছিল। এর মধ্যে ছিল দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা like টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী ও লালমনিরহাট।

  • বনশ্রীর স্কুলছাত্রী ফাতেমাকে প্রেমের জেরে হত্যার রহস্য

    বনশ্রীর স্কুলছাত্রী ফাতেমাকে প্রেমের জেরে হত্যার রহস্য

    রাজধানী ঢাকার বনশ্রীর দক্ষিণ অংশে অবস্থিত একটি বাসা থেকে স্কুলছাত্রী ফাতেমা আক্তার এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের মূল আসামী হিসেবে রেস্তোরাঁ কর্মী মিলন মল্লিককে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। গ্রেফতারের পর সে স্বীকার করেছে যে, ফাতেমার সঙ্গে তার প্রেম ছিল, এবং এই প্রেমের কারণে ঘটনাটি ঘটেছে।

    প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল তাদের। সেই দিন ফাতেমার বাবা বাড়িতে থাকছেন না জানলে মিলন বাসায় প্রবেশ করে তাকে পালিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু ফাতেমা রাজি হয়নি। তার কারণ ছিল, সে জানিয়েছিল, মিলন তার বাবার রেস্তোরাঁর কর্মচারী আর সে মালিকের মেয়ে। সে তার সঙ্গে পালিয়ে যেতে চায়নি। এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে মিলন তার গলাকেটে হত্যা করে। এরপর তিনি পালিয়ে যান।

    পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিতে মিলন জানায়, হত্যার আগের রাতে ফাতেমা তাকে কথা দেয়, পরিবার গ্রামে গেলে তারা পালিয়ে যাবে। সেই অনুযায়ী, ঐ দিন সে বাসায় হাজির হয়। কালি সে তাকে তার সঙ্গে যেতে বলে, কিন্তু ফাতেমা রাজি হয়নি। তখন সে তাকে কটাক্ষ করে, জানিয়েছিল যে সে মালিকের মেয়ে, আর সে তার সাথে পালিয়ে যাবেনা। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে মিলন এই ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটানো হয়। পরে সে পালিয়ে যান বাগেরহাট জেলার বড় সিংগা এলাকায়। তবে শেষ পর্যন্ত তার রক্ষা হয়নি।

    অভিযোগে বলা হয়, শনিবার বিকেলে দক্ষিণ বনশ্রীয়ের এল ব্লকের ‘প্রীতম ভিলা’ থেকে স্কুলছাত্রী ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপরই রামপুরা থানায় একটি মামলা দায়ের হয়।

    ফাতেমা আক্তার ছিলেন বনশ্রী রেডিয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্রী। তার পরিবারের সাথে থাকতেন সেই বাসায়—মা, বাবা, ভাই ও বোন। তার গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের লাখাইয়ে।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তে এলপি গ্যাস আমদানিকারের সুখবর

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তে এলপি গ্যাস আমদানিকারের সুখবর

    দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এর সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে এবং আমদানির প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। রোববার (১১ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ (এফইপিডি) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।

    সার্কুলারে বলা হয়েছে, এলপিজি সাধারণত বাল্ক আকারে আমদানি করা হয় এবং পরে গৃহস্থালী ব্যবহারের জন্য সিলিন্ডারে বোতলজাত করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় স্থানীয় আমদানিকারকদের অনেক সময় লাগবে, কারণ সংরক্ষণ, বোতলজাতকরণ ও অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বেশ সময় লাগতে পারে।

    এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এলপিজি আমদানিকে এখন শিল্প কাঁচামাল হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর অর্থ এই যে, এলপিজি আমদানির জন্য সর্বোচ্চ ২৭০ দিনের ব্যবহারের শর্তে ঋণ নেওয়া যেতে পারে। এতে করে আমদানিকারকরা দীর্ঘ সময়ের জন্য অর্থনৈতিক সুবিধা পাবেন।

    আরও বলা হয়, সরবরাহকারীদের কাছ থেকে ট্রেড ক্রেডিট গ্রহণের পাশাপাশি, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে-প্রযোজ্য বৈদেশিক মুদ্রা বিধি ও বিচক্ষণ ঋণনীতির আওতায় বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রেডিট সুবিধা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে। একই সঙ্গে দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোর অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের (ওবিইউ) মাধ্যমে বিল ডিসকাউন্টিং সুবিধাও গ্রহণ করা সম্ভব।

    এর আগে, ২৯ ডিসেম্বর জারি করা এক সার্কুলারে শিল্প কাঁচামাল আমদানিতে ২৭০ দিনের ইউজান্স পিরিয়ড বা অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এলপিজি আমদানিকারকরাও এই সুবিধার গ্রহণ করতে পারবেন।

    সংক্রান্ত এই নির্দেশনা কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের সব অনুমোদিত ডিলারদের প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়েছে। এতে করে এলপিজি আমদানিতে সহজতা এবং খরচ কমানোর উপায় আরও সুদৃঢ় হবে।

  • তৃতীয় দিনে তিন ঘণ্টায় ৩৬ আপিল নিষ্পত্তি ইসির

    তৃতীয় দিনে তিন ঘণ্টায় ৩৬ আপিল নিষ্পত্তি ইসির

    তৃতীয় দিনের মতোই গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) নির্বাচনের আপিল শুনানি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই দিন সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে মোট তিন ঘণ্টায় ৩৬ জন প্রার্থীর আপিল নিষ্পত্তি করা হয়। এই শুনানি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অন্যান্য কমিশনারগণও উপস্থিত ছিলেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলা এই আপিলের মধ্যে, ২৬ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়, অন্যদিকে ৬ জনের আপিল খারিজ করা হয়। এছাড়াও, চার জন প্রার্থীর আপিলের সিদ্ধান্তের জন্য আরও কিছু প্রমাণপত্র দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • মিয়ানমার সংঘর্ষে নদীতে পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশি যুবকের পা বিচ্ছিন্ন

    মিয়ানমার সংঘর্ষে নদীতে পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশি যুবকের পা বিচ্ছিন্ন

    কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীতে পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে মো. হানিফ (২৮) নামে এক যুবকের বাম পা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এই দূর্ঘটনা ঘটে সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে সকালে, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল সংলগ্ন এলাকায়৷

    আহত হানিফ কক্সবাজারের হোয়াইক্যং এলাকাভিত্তিক ফজল করিমের ছেলে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হানিফ নাফ নদীতে মাছের প্রজেক্টে কাজ করতে গিয়ে এই দুর্ঘটনার শিকার হন। তখন নদীর তীরবর্তী মাটিতে পুঁতে রাখা মাইনের ওপর তাঁর পা পড়ে, এবং তার ফলে দ্রুত বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তার বাম পা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

    হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক খোকন কান্তি রুদ্র এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তারা এই ঘটনার ব্যাপারে তদন্ত চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, নদীতে মাছের প্রজেক্টে কাজ করার সময় এক যুবকের বাম পা বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবরে তারা নজরদারি চালাচ্ছেন এবং স্থানীয় সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে।

    অতিরিক্তভাবে, স্থানীয় জনগণ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, নাফ নদী ও এর আশেপাশে হয়তো আরো মাইন পুঁতে রাখা থাকতে পারে, যা যে কোনও সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তারা দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং জনগণকে সতর্ক করার দাবি জানিয়েছেন।

    উল্লেখ্য, এর আগে রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় গুলি চালিয়ে দুই বাংলাদেশি আহত হন। এর মধ্যে এক শিশুর জীবন ঝুঁকিতে থাকলেও অন্য একজনের অবস্থা কতটা গুরুতর সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বর্তমানে, নাইক্ষ্যংছড়ি, ঘুমধুমসহ বেশ কয়েকটি সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার থেকে মর্টার শেল ও গুলির ঘটনা বাংলাদেশে পড়ার ঘটনা নিয়মিত ঘটে চলেছে।

  • শাপলা চত্বরে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার প্রতিবেদন দাখিলে তিন সপ্তাহ সময় পেলো প্রসিকিউশন

    শাপলা চত্বরে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার প্রতিবেদন দাখিলে তিন সপ্তাহ সময় পেলো প্রসিকিউশন

    শাপলা চত্বরে হেফাজত ইসলামের মহা সমাবেশে সংঘটিত গণহত্যা, নির্যাতন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আরও তিন সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত আজ ১২ জানুয়ারি সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল থেকে আসেন।

    প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন সরকারি আইনজীবী গাজী এমএইচ তামিম। তিনি অভিযোগ করেন, মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য প্রয়োজন অতিরিক্ত সময়; তাই তারা তিন সপ্তাহের সময় আবেদন করেন। ট্রাইব্যুনাল তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরও তিন সপ্তাহ সময় বাড়িয়ে ৫ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

    এদিন সকালে মামলার পাঁচ জন আসামিকে পুলিশ ট্রাইব্যুনালে হাজির করে। তারা হলেন: সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক সেনা অতি:জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক, সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম এবং ১৯৭১ সালের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা শাহরিয়ার কবির।

    প্রায় আট বছর আগে, ২০১৩ সালের ৫ মে, শাপলা চত্বরে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে ওই মামলার অভিযোগ দায়ের করেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক। অভিযোগের পক্ষে ছিলেন হেফাজত নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মামুনুল হক। মামলায় মোট ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এটি জাতীয়ভাবে আলোচিত এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা মানুষের মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে।

  • গত তিন নির্বাচনে কেন ইইউ পর্যবেক্ষক পাঠায়নি, জানালেন প্রেস সচিব

    গত তিন নির্বাচনে কেন ইইউ পর্যবেক্ষক পাঠায়নি, জানালেন প্রেস সচিব

    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, হাসিনার আমলে তিন ‍নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি বলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কোনো পর্যবেক্ষক দল পাঠায়নি।

    রোববার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

    ইইউ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠক হয়েছে জানিয়ে শফিকুল আলম বলেন, আসন্ন নির্বাচনে বড় একটি পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে বলে জানিয়েছে ইইউ। এর আগে তারা কোনো পর্যবেক্ষক টিম পাঠায়নি। কারণ তারা মনে করেছে, আগের তিনটি নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি।

    প্রেস সচিব বলেন, নির্বাচন ঘিরে এখন পর্যন্ত ভালো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে। সরকার কোনো দলকে এক্সট্রা সুবিধা দিচ্ছে না।

    শফিকুল আলম বলেন, নির্বাচনে সোশ্যাল মিডিয়া সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। পতিত সরকারের লোকজন নির্বাচনে মিসইনফরমেশন ছড়াতে পারে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি প্রস্তুত।

    তিনি আরও বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) মনে করে নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভালো আছে। বাংলাদেশে প্রেক্ষাপটে দুয়েকটা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। সরকার প্রত্যেকটা ঘটানা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সব ঘটনাতেই আসামি ধরা পড়ছে।

    ইইউ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকে গণভোট নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে শফিকুল আলম বলেন, 

    অন্তর্বর্তী সরকার হ্যাঁ ভোট চাইতে পারে। প্রধান উপদেষ্টা তাদের জানিয়েছেন, ইসিসহ সবাই প্রস্তুত রয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করতে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

    ব্রিফিংয়ে সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে নরসিংদীর মনি চক্রবর্তী হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেও এটাকে সাম্প্রদায়িক হামলা হলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ নিয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বিবৃতি দিয়েছেন। কিন্তু যাচাই-বাছাইয়ের আগে এ ধরনের বিবৃতি জেনে বুঝে দেওয়ার আহ্বান জানাই।