Author: bangladiganta

  • এক দফা কমার পরে আবারও বেড়ে গেল সোনার দাম

    এক দফা কমার পরে আবারও বেড়ে গেল সোনার দাম

    দেশের বাজারে সোনার মূল্য আবারও বৃদ্ধির ধারায় ফিরে এসেছে। এক দফা মূল্য কমানোর পর, শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে, ভরিতে ১০৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে সোনার দাম। এই নতুন মূল্যকাল থেকে রোববার (১১ জানুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।

    বাজুসের তাজা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। তারই ফলস্বরূপ, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বাজারের চাহিদার কথা বিবেচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন দামে, ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) মূল্য ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, অন্যান্য ক্যানের দাম হলো— ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা।

    বাজুস আরও জানিয়েছে, এই দামের সাথে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যোগ করতে হবে। তবে, গহনার ডিজাইন, মান ও শৈলী অনুযায়ী মজুরির পার্থক্য থাকতে পারে।

    অগ্রগতির তথ্য অনুযায়ী, এর আগে সবশেষ ৮ জানুয়ারি দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ৮০৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের দামে ছিল ২ লাখ ১৬ হাজার ৪৮৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি বিক্রি হত ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬৬৫ টাকায়। এটি কার্যকর হয় ৯ জানুয়ারি থেকে।

    এভাবেই এই বছর দেশের বাজারে সোনার দামের মধ্যে পঞ্চম বার সমন্বয় করা হলো। এর মধ্যে তিন দফা দামে বৃদ্ধি হয়েছে এবং দু’দফা কমেছে।

  • সরকারের প্রকল্প বরাদ্দ কমে ২ লাখ কোটি টাকায় পুনর্নিযুক্ত

    সরকারের প্রকল্প বরাদ্দ কমে ২ লাখ কোটি টাকায় পুনর্নিযুক্ত

    চলতি অর্থবছরের জন্য সরকারের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দ আকারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর ফলে মোট বরাদ্দ কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ কোটি টাকায়, যা আগে ছিল এর চেয়ে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা কম। আজ সোমবার শেরেবাংলা নগরে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) সভায় এই সংশোধিত এডিপির অনুমোদন দেওয়া হয়।

    সভায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন، বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরকারি ও বিদেশি অর্থায়নে প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ কমানো হয়েছে। সরকারি বরাদ্দের পরিমাণ কমে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা এবং বিদেশি ঋণ ও অনুদানের ক্ষেত্রে কাটছাঁট হয়েছে মোট ৭২ হাজার কোটি টাকা, যার ফলে এই খাতে বরাদ্দ হয়েছে যথাক্রমে ১৬৮ হাজার কোটি এবং ৭২ হাজার কোটি টাকা।

    তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীর গতির কারণে মোট চাহিদা ছিল প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্প পরিচালক না থাকার, নিয়োগে দেরি ও পুনর্মূল্যায়নের কারণে এই কম চাওয়া হয়েছে।

    খাতভিত্তিক বরাদ্দের দিকে দেখা গেলে, সবচেয়ে বেশি অর্থ বরাদ্দ পেয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত, যেখানে বরাদ্দ হয়েছে প্রায় ৩৮ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির এক-পঞ্চমাংশ। এরপর রয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত, যার জন্য বরাদ্দ হয়েছে ২৬ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা। পাশাপাশি বাসস্থান ও কমিউনিটি সুবিধা, শিক্ষা ও স্থানীয় সরকার ও গ্রামীণ উন্নয়ন খাতেও যথেষ্ট অর্থ বরাদ্দ হয়েছে।

    তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে স্বাস্থ্য খাতে কারণ এটি দুর্বল বাস্তবায়ন ক্ষমতার কারণে বরাদ্দের প্রায় ৭৪ শতাংশ সংক্ষিপ্ত করে দেওয়া হয়েছে। মূল এডিপিতে যেখানে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ১৮ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা, সেখানে সংশোধিত এডিপিতে তা কমে হয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৭১৮ কোটি। শিক্ষা খাতেও ব্যাপক কাটছাঁট হয়েছে, যেখানে বরাদ্দ প্রায় ৩৫ শতাংশ কমে গেছে।

    পরিবহন ও যোগাযোগ খাতের আগের বরাদ্দ থাকলেও এখন এই খাতেও প্রায় ৩৫ শতাংশ অর্থ কমেছে। একইভাবে সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দে উল্লেখযোগ্য প্রথমে বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ১৮ কোটি টাকা, যা এখন কমে ৫৪৫ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে।

    এছাড়া, বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দ সরাসরি প্রায় ১৯ শতাংশ কমে গেছে, এবং কৃষি খাতে কমেছে প্রায় ২১ শতাংশ। তবে পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি সম্পদ খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে প্রায় ২০ শতাংশ।

    মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ পেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ, যেখানে নতুন বরাদ্দ হয়েছে ৩৭ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা। এছাড়া সড়ক ও মহাসড়ক এবং বিদ্যুৎ বিভাগের বরাদ্দও উল্লেখযোগ্য। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, পানি সম্পদ ও শিক্ষা বিভাগেরাও বেশ কিছু অর্থ পেয়েছে। সংশোধিত এডিপিতে উন্নয়নের জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনগুলোর উদ্যোগে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোও যুক্ত করা হয়েছে।

    সব মিলিয়ে, এই সংশোধিত এডিপির মোট আকার দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা, যেখানে মোট ১৩৩০টির প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে বেশিরভাগই বিনিয়োগ প্রকল্প। পরিকল্পনামন্ত্রী জানিয়েছেন, চলতি বছরের মধ্যে এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে ২৮৬টি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে।

  • সোনার দাম রেকর্ড ভেঙে ভরি ২ লাখ ৩২ হাজারের বেশি

    সোনার দাম রেকর্ড ভেঙে ভরি ২ লাখ ৩২ হাজারের বেশি

    দেশের স্বর্ণখাতে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হলো, যখন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এই নতুন মূল্যপ্রস্তাবে প্রতি ভরির দাম সর্বোচ্চ ৪ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে, ফলে সাধারণের ক্রয়ক্ষমতা ও কেনাকাটার মানদণ্ডের ওপর প্রভাব পড়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, দেশজুড়ে মানসম্পন্ন সোনার দাম এখন ভরি ২ লাখ ৩২ হাজার ৫৫ টাকায় পৌঁছেছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই আশ্চর্য দামের রেকর্ড পূর্বে ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর ছিল, যখন সোনার দাম সর্বোচ্চ ভরি ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকায় উঠে যায়। সোমবার (১২ জানুয়ারি) বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়, এবং নতুন এই দাম ১৩ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) থেকে কার্যকর হবে। সংগঠনের মতে, বৈশ্বিক বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধির কারণে এই মূল্যবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা ও রুপার দাম বিশ্লেষণ করে জানা যায়, প্রতি আউন্সের সোনার দাম ৪ হাজার ৬০০ ডলার ছাড়িয়েছে। এই দাম বৃদ্ধির ফলে দেশের বাজারে সোনার বিভিন্ন ক্যারেটের মূল্য পরিবর্তিত হয়েছে। এখন, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৩২ হাজার ৫৫ টাকা, ২১ ক্যারেটের এক ভরি ২ লক্ষ ২১ হাজার ৪৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লক্ষ ৮৯ হাজার ৮৯০ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম এক লাখ ৫৬ হাজার ৮৮১ টাকা। একই সঙ্গে, রুপার দামও বেড়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম হয়েছে ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা, ২১ ক্যারেটে ৫ হাজার ৭১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম মেপে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬৭৪ টাকায়। এই মূল্যবৃদ্ধি দেশের স্বর্ণখাত ও ভোক্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবর্তন সূচিত করছে।

  • মোবাইল ফোন আমদানির উপর শুল্ক কমছে, ফলে দাম কমবে মোবাইলের

    মোবাইল ফোন আমদানির উপর শুল্ক কমছে, ফলে দাম কমবে মোবাইলের

    মোবাইল ফোনের দাম সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে কেন্দ্রীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা মোবাইল ফোন আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করেছে। পাশাপাশি, দেশীয় মোবাইল উৎপাদনকারীদের জন্য ব্যবহৃত উপকরণের আমদানিতে শুল্ক হ্রাস করে এটি ১০ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নামানো হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে এনবিআর। প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ কর্মকর্তা আল আমিন শেখ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    এনবিআর জানায়, মোবাইল ফোন আমদানিতে বিদ্যমান শুল্কের হ্রাসের ফলে শুল্কের হার ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এর পাশাপাশি, মোবাইল সংযোজনকারী দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে প্রতিযোগিতায় থাকাটা কঠিন না হয়, সে জন্য উপকরণের আমদানি করতে গিয়ে কাস্টমস ডিউটি ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে, উপকরণ আমদানির ওপর শুল্ক ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে এসেছে।

    এতে করে, ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের প্রতিটি মোবাইল ফোনের দাম আনুমানিক ৫,৫০০ টাকা এবং একই সময়ে, দেশের বাজারে বিক্রিত ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের মোবাইলের দাম প্রায় দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত কমে যাবে।

    এসব শুল্ক হ্রাসের ফলে মোবাইল ফোনের দাম সাধারণ জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে এবং ডিজিটাল সেবা গ্রহণের সুবিধা বৃদ্ধি পাবে বলে সরকারের আশা। সরকার বলছে, মোবাইল ফোনের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে তারা এই ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

  • নির্বাচনের истин অবস্থা বোঝা যাবে প্রচারণা শুরুর পর: মির্জা ফখরুল

    নির্বাচনের истин অবস্থা বোঝা যাবে প্রচারণা শুরুর পর: মির্জা ফখরুল

    বিএনপির মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখনো পর্যন্ত নির্বাচন পরিস্থিতি মোটামুটি ভালো মনে হচ্ছে। তবে আসল চিত্র তখনই বোঝা যাবে যখন প্রচারণা শুরু হবে। এর আগে পরিস্থিতি সম্পর্কে চূড়ান্ত ধারণা পাওয়া কঠিন। তিনি বলেন, সবাই এখন নিজেদের সাংগঠনিক প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিচ্ছেন, মনোনয়নের কাজ সম্পন্ন করছেন। তবে নির্বাচনের প্রকৃত অবস্থা ও পরিস্থিতি বুঝতে হলে প্রচারণা শুরু হওয়ার অপেক্ষা করতে হবে।

  • জোটের আসন সমঝোতা দু-একদিনের মধ্যে: জামায়াত আমির

    জোটের আসন সমঝোতা দু-একদিনের মধ্যে: জামায়াত আমির

    আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে ১১ দলে গঠিত নির্বাচনী জোটের আসন সমঝোতা সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশের আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর বসুন্ধরা খন্দকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান প্রতিনিধি ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস আইজাবসের সঙ্গে এক সভার শেষে তিনি এ কথা জানান।

    নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য দলগুলো বেশ কিছু মাস ধরে দফায় দফায় বৈঠক করে আসছে। এই বৈঠকগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মতো কয়েকটি বড় দল রয়েছে, যেখানে তারা আসন সমঝোতার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ ছাড়া অন্যান্য দলের মধ্যে রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, আওয়ামী মুসলিম লীগ এর মতো আরও কিছু দল। এই সব দলগুলো একত্রিত হয়ে মোট ১১টি দলে পরিণত হয়েছে।

    আলোচনার চলাকালীন সময়ই জামায়াত ইতিমধ্যে ২৭৬টি আসনে মনোনয়ন দিয়েছে, একইভাবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৬৮টি আসনের জন্য প্রার্থী দিয়েছে। অন্যদিকে, এনসিপি ৪৭টি, এবি পার্টি ৫৩টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯৪টি, খেলাফত মজলিস ৬৮টি, এলডিপি ২৪টি, খেলাফত আন্দোলন ১১টি, নেজামে ইসলাম পার্টি ৬টি, জাগপা ৩টি এবং বিডিপি ২টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা করেছে। দলের এই বিভাজনের কারণে কিছু সমালোচনা হলেও, দলগুলো সবার মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে মতৈক্য স্থাপনের জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত দু-এক দিনের মধ্যে আসন সমঝোতার ঘোষণা দেওয়া হবে বলে আশা করছে জামায়াত।

    জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান আরও জানিয়েছেন, ওই আসন সমঝোতার ভিত্তিতে প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, “প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সবার সঙ্গে সমতার ভিত্তিতে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখা হবে।” তিনি আরও যুক্ত করেন যে, দেশের জন্য জনগণের আস্থা অত্যন্ত জরুরি, এবং দেশের মা-বোনেরা আগামী নির্বাচনেও জামায়াতের পক্ষেই ভোট দেবেন বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস রাখছেন।

    শফিকুর রহমান বলেন, “আমাদের লক্ষ্য সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। জনগণের প্রতি আমাদের শতভাগ আস্থা রয়েছে। আমরা চাই, এই নির্বাচনে কোনও ধরনের অসঙ্গতি ঘটুক না। যদি জনগণ অন্য কোনও দলকেই পছন্দ করে, তবে আমরা তাদের পাশে থাকব। দুর্নীতি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও দেশের সংস্কার সবার আগে। আমি মনে করি, যদি এই নির্বাচন ফলপ্রসূ না হয়, তবে ভবিষ্যতেও জনগণ their ভোটাধিকার ফিরে পাবেন কিনা, এ বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে।”

    অন্তর্বর্তী সময়ে গণমাধ্যমের এক পক্ষপাতি প্রবণতা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বলেন, “গণমাধ্যম বিভিন্ন সময় এক দলের পক্ষে偏ে গেছে। আমরা চাই, গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করুক। তারা যদি নিজের ইচ্ছেমতো সিদ্ধান্ত নেয়, তবে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা হবে। প্রশাসন বা গণমাধ্যম যেভাবে দায়িত্ব পালন করছে, সেটি জনগণ সবই মনে রাখবে। জনগণকে ভাবার কোনও কারণ নেই।”

  • জামায়াতের নির্বাচন ও প্রতিবেশী সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা

    জামায়াতের নির্বাচন ও প্রতিবেশী সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা

    জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আগামীকাল মঙ্গলবার দলটির নির্বাচনী আসনের সমঝোতার ঘোষণা দেওয়া হতে পারে। এ বিষয়ে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, আগামীকাল বা পরশু দিন এর চূড়ান্ত বিষয়ে জানানো হবে। সব দল একসঙ্গে গণমাধ্যমের সামনে আসবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

    সোমবার দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরায় জামায়াতের কার্যালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবসের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শফিকুর রহমান জানান, ইইউ প্রতিনিধিদের কাছ থেকে সব দলের জন্য সমান সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ কী-না, তা জানতে চাওয়া হয়। জামায়াত অভিযোগ থাকলেও এখনই তা প্রকাশ করবে না বলে জানানো হয়েছে, বরং আগে নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে এর সব বিষয় তুলে ধরা হবে। কোনো সমাধান না হলে, জনগণের কাছে জানানো হবে।

    জামায়াতের আমির আরও বলেছেন, যদি সরকার গঠন হয়, তাহলে প্রতিবেশীসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হবে—তা তারা নিশ্চিত করে দিয়েছে। তাঁরা আশা করেন, জামায়াতের সঙ্গে অন্যান্য দেশের শান্তিপূর্ণ ও সভ্য রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্ক বজায় থাকবে। বিশেষ করে প্রতিবেশীদের সঙ্গে প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চান, যেখানে পারস্পরিক সম্মান আর সমতার ভিত্তিতে আচরণ হবে। তারা দেশের সার্বভৌমত্ব ও সার্বজনীন বন্ধুত্ব বজায় রাখতে চান, কোনো একটি রাষ্ট্রের প্রতি ঝুঁকে না থেকে।

    নারী নিরাপত্তা নিয়েও জামায়াতের গুরুত্ব রয়েছে। শফিকুর রহমান জানান, তারা বিশ্বাস করেন, মা-বোনেরা এবার জামায়াতকে ভোট দেবেন। তাঁদের মধ্যে ইতোমধ্যে এই বার্তা পৌঁছে গেছে। তবে জামায়াতের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেওয়া নারীদের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়া, হিজাব খুলে নেওয়া কিংবা তাড়ানোর মতো ঘটনাও ঘটে গেছে। তিনি বলেন, সব শ্রেণি-পেশার, বয়সের ও লিঙ্গের মানুষকে সম্মান দেওয়া রাজনৈতিক দায়িত্ব, কারও অপমান বা অপপ্রচার তার জন্য জায়গা নেই।

    শফিকুর রহমান আরও বলেন, তারা আশাবাদী, আগামী নির্বাচনে জনগণ সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। জামায়াত এক সুস্থ, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের ভোটে পরিবর্তন আসবে, এই প্রত্যাশা রাখছেন তারা। পাশাপাশি বলেন, নির্বাচন চলে গেলে কোনো পক্ষ বা দল হস্তক্ষেপ করতে পারবে না, বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করবে, তবে ট্রাইব্যুনালগুলোও জবাবদিহি ও দায়শীল থাকবে।

    গত ৫৪ বছর রাজনীতি দেখে জনগণ অনেক হতাশ। তাদের মতে, নতুন কিছু দেখতে চায় এখন। এজন্য বিভিন্ন কমিশন দীর্ঘ সময় ধরে বৈঠক চালিয়ে গেছে। দায়িত্বশীল ও সংস্কারমূলক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সকল দলের মধ্যে ঐকমত্য গড়ে তুলতে হবে। দুর্নীতি বিরোধী পদক্ষেপ, ন্যায়বিচার ও নানা পরিবর্তন সাধনে সবাই এগিয়ে আসুক।

    জামায়াত জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের উন্নয়নে তাদের পাশে থাকুক। তারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে, কারণ মনে করে, দেশ সাধারণ জনগণের পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছে। তাঁদের বিশ্বাস, দেশের স্বার্থে সবাই যাতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’= ভোট দেন, সেটাই জরুরি।

    শফিকুর রহমান সতর্ক করে বলেন, ‘এবারের নির্বাচন হাতছাড়া হলে জাতিকে তার জন্য মূল্য দিতে হবে।’ তিনি বলেন, দেশের সবার জন্য গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে জামায়াত একেবারেই আশাবাদী। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত মিডনাইট ইলেকশনে অংশ নেয়নি তারা। এবার এ ধরনের পরিবেশ তৈরি হলে তা ছেড়ে দিতে লজ্জাজনক হবে বলেও উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচনের জন্য সকলের সচেতন হওয়া প্রয়োজন, যাতে কেউ যেনো নির্বাচন বিকৃত বা বিলম্বিত করতে না পারে।

    প্রশ্নের জবাবে তিনি জানিয়ে বলেন, বর্তমান সরকারি দলে অনেকেই আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে কাজ করছেন। তবে তারা বলছেন, সেসব পরিবর্তন হবে, অন্যথায় তাদের বদলাতে বাধ্য করা হবে।

    গণমাধ্যমের এক পক্ষের পক্ষে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, আমরা চাই, জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে। দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ দলের প্রধান হিসেবে তারা বলছেন, গণমাধ্যম যেন নিরপেক্ষ হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমের রোল একেবারে নিরপেক্ষ হওয়া দরকার। আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী, সব গণমাধ্যমের উচিত সত্যনিষ্ঠ ও অকপট প্রকাশ করা।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে কিছু গণমাধ্যমের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, জনগণ যথেষ্ট সচেতন। সাংবাদিকরা দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখলে, তাদের মূল্যায়ন করবে। গণমাধ্যমকে পরিষ্কারভাবে সত্যের পক্ষে থাকতে হবে, সাদাকে সাদাক্রান্তেম বলে জেনে নেওয়া উচিত।

    ইইউ এবার বাংলাদেশে কোনো প্রতিনিধিদল পাঠাবে কি না, এমন প্রশ্নে শফিকুর রহমান জানায়, তারা ২০০ প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে, যাতে তারা সব জেলা ও সিটি করপোরেশন পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করবে।

    উল্লেখ্য, এর আগে বিভিন্ন আলোচনায় জামায়াতের সাথে আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন দলের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, শিক্ষাবিদ যুবায়ের আহমেদ, জামায়াতের পররাষ্ট্রউপদেষ্টা মাহমুদুল হাসানসহ অন্যান্য সদস্য।

  • জামায়াতের আমিরের সতর্কবার্তা: নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মেকানিজম হলে পালাতে হবে বাধ্য হয়ে

    জামায়াতের আমিরের সতর্কবার্তা: নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মেকানিজম হলে পালাতে হবে বাধ্য হয়ে

    আগামী নির্বাচনে কেউ যদি কোনো ধরনের ‘মেকানিজম’ বা কারসাজি করার চিন্তা করে, তাহলে তারা পালাতে বাধ্য হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। এই অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির এক ভাষণে বলেন, নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে কলুষিত করার চিন্তা যারা করবে, তাদের আড়ালে থাকতে হবে না; বরং তাদের জন্য পরিণতি কঠিন হবে এবং তারা পালাতে বাধ্য হবে ইনশাআল্লাহ।

    শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমরা ওই পুরনো তিন বা চারটি নির্বাচনের মতো নির্বাচন আর দেখতে চাই না। যে নির্বাচন আসুক না কেন, আসলে তা যেন অন্তর থেকে গ্রহণযোগ্য হয়, এর জন্য সবাই সচেতন থাকতে হবে। তিনি বলেন, নয়টি বা অন্য কোন ধরনের শুঁড়ি থেকে মুক্ত, এমন একটি নির্বাচন চাই, যেখানে প্রতিটি ভোটার স্বাচ্ছন্দ্য ও বিশ্বাসের সঙ্গে ভোট দিতে পারবে। যদি সেই পরিবেশ তৈরি হয়, তবে নির্বাচন হবে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য।

    তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের আন্তরিকতা এই ব্যাপারে কম, যার ফলে সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হচ্ছে না। জামায়াতের আমির বলেন, প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে নিরাপত্তার জন্য অবকাঠামো উন্নত করতে হবে, এর মধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরার সুবিধাও গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের উদাসীনতা উদ্বেগের কারণ বলে মনে করেন তিনি।

    শফিকুর রহমান বলেন, দেশের ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে এবং এর বাইরে আরও লাখ লাখ টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট হয়েছে। দুর্নীতি ও চুরি বন্ধ হলে দেশের অর্থনীতি আবার ঘূroffব বেগে এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, প্রতিটি বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো উচিত—যদিও এ পরিকল্পনায় সরকারের অঙ্গীকার বা আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।

    বক্তব্যের শেষের দিকে তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে একটি স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের দায়িত্ব রয়েছেন। জনগণ যেন তাদের পছন্দের প্রার্থীকে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য সরকারের কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে, অন্যথায় দায়িত্ব এড়ানো হবে না।

    এছাড়াও, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক কর্মপ্রয়াস ও মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক তথ্য উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতা ঘোষণার মূল বার্তা ছিল গণতান্ত্রিক শক্তির। স্বাধীনতার মানসপটে বিকৃতির চেষ্টাকারীদের তিনি কড়া ভাষায় ভাষ্য দিয়ে বলেন, এই ইতিহাস অমোচনীয়, এবং যারা এ জন্য চেষ্টা করেন, তারা জাতির সাথে বিশ্বাসघাতার করছেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ অক্ষুণ্ণ রাখতে ও জাতির সম্মান বজায় রাখতে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি।

    অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন কর্নেল (অব.) মো. জাকারিয়া হোসেন। স্বাগত বক্তব্যে দেন জামায়াতের ঢাকা-১৬ আসনের প্রার্থী আবদুল বাতেন। উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইনসহ অন্যরা। এছাড়াও, অনুষ্ঠানে ছিলেন কয়েক শ’ ব্যক্তির উপস্থি।

  • বিএনপি প্রার্থী আন্দালিভ পার্থের কাছে আসন ছাড়ল বিএনপি

    বিএনপি প্রার্থী আন্দালিভ পার্থের কাছে আসন ছাড়ল বিএনপি

    ভোলা-১ (ভোলা সদর) আসনের জন্য বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী আলমগীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। সোমবার বিকেলে তিনি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে এই আবেদন জানান, যা গ্রহণ করা হয়। এই আসনে বিএনপি ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের সিদ্ধান্তে প্রার্থী না থাকায় বিএনপি নিজের প্রার্থী যুক্ত করতে চায়নি। বিএনপির সূত্রের খবর, দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে গোলাম নবীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্দেশ আসার পর তিনি তা মেনে নেন। তিনি জানান, আজ বিকেলে তাঁর আইনজীবী আমিরুল ইসলামের মাধ্যমে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শামীম রহমানের কাছে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, শেষ সময় ছিল ২০ জানুয়ারি, কিন্তু আজ সোমবার তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। এবারের নির্বাচনে বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিএনপির এই সিদ্ধান্তে ভোলা জেলা ও দলের মধ্যে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, আন্দালিভ রহমান পার্থ ঢাকা-১৭ আসনে (গুলশান, বনানী, বারিধারা, ক্যান্টনমেন্ট) নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিএনপি নেতারা তাঁকে উৎসাহিত করে বলেছিলেন, তারেক রহমানের আসনেও উন্নয়ন ও নির্বাচনী ক্ষমতা রয়েছে। বিষয়টি বোঝার পর তিনি ভোলা-১ আসন থেকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেন। বিএনপি এই আসনে প্রার্থী না রাখার ঘোষণা দেয়। প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহারের খবর পেয়ে বিজেপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা ব্যাপক উৎফুল্ল হয়ে উঠেছেন। তারা নতুন উদ্দীপনায় মাঠে নামার প্রস্তুতিও শুরু করেছেন। ধনিয়া ইউনিয়নের বিজেপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. এরশাদ আলী বললেন, ‘আন্দালিভ পার্থ জোটের প্রার্থী নিশ্চিত হওয়ায় আমরা সংগঠিতভাবে কাজ শুরু করেছি। আমাদের ভোটের ধরণ ও ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য।’ গোলাম নবীর মনোনয়ন প্রত্যাহার হওয়ায় জেলা বিএনপির কার্যালয় বেশ শান্তত্ব দেখা যায়। অপরদিকে, ভোলার নতুনবাজারে বিজেপির জেলা কার্যালয়ে সক্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। মোতাসিম বিল্লাহ বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা সীমিত পরিসরে প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং জোটের অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষায় কাজ করছেন। এই পরিবর্তনের ফলে স্থানীয় রাজনৈতি এজেন্সিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

  • সুজনের দাবি: নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত হবে ১৫টি রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাব

    সুজনের দাবি: নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত হবে ১৫টি রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাব

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নাগরিক সমাজ শুধু ক্ষমতা পরিবর্তনের কথা না বলেই بلکہ রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তনের সুস্পষ্ট রূপরেখা দেখানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। সংগঠনের মতে, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে বিচার, সংস্কার ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি হয়েছে, তা রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে স্পষ্টভাবে থাকা দরকার। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য সংগঠনটি ১৫টি মূল সংস্কার প্রস্তাব ও প্রতিশ্রুতি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার’ শীর্ষক সংলাপে এসব মত প্রকাশ করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদার। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও উপস্থিত ছিলেন।

    ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের পরও গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশে একটি দীর্ঘস্থায়ী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। বরং, গত ১৫ বছরে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ভঙ্গুর হয়ে পড়ায় দেশে এক ধরনের ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ঐতিহাসিকভাবে জনগণের প্রতিরোধ এবং রাষ্ট্রের মেরামতের পথ সম্প্রসারিত করবে বলে তিনি মনে করেন।

    তিনি আরও বলেন, এই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সামনে তিনটি মূল উদ্দেশ্য নির্ধারিত হয়— বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন। জুলাই মাসে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং একই সঙ্গে রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কারের জন্য ১১টি কমিশন গঠন করা হয়।

    সংগঠনটি জানায়, এই সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি জনতার দীর্ঘদিনের আন্দোলন, আত্মোৎসর্গ ও বঞ্চনার পরিপ্রেক্ষিতে এক সামাজিক চুক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে, রাজনৈতিক দলগুলোকে ইশতেহারে এই সনদ ও সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য স্পষ্ট ও সক্রিয় অঙ্গীকার রাখতে হবে।

    প্রস্তাবিত ১৫ সংস্কার ও প্রতিশ্রুতি তালিকায় প্রথমে এসেছে এই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং সংবিধানে তফসিল হিসেবে বা উপযুক্ত স্থানে এর সংযুক্তি। পাশাপাশি, এর বৈধতা নিয়ে ভবিষ্যতে কোনও আইনি জটিলতা সৃষ্টি না করতে সরকার ও সংসদকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

    আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো রাষ্ট্রযন্ত্র ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করা। ড. বদিউল আলম বলেন, অতীতে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও রাজনৈতিক দমন–পীড়নের সংস্কৃতি রোধে প্রাতিষ্ঠানিক ও টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মানবাধিকারসম্মত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কার্যক্রমের জন্য ইশতেহারে সুস্পষ্ট রূপরেখা থাকতে হবে।

    সুজন আরও বলেছে, গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে শক্তিশালী ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য। বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, মহা হিসাব নিরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রকসহ অন্যান্য সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শক্তিশালী করতেও গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

    সংলাপে আরও বলা হয়, সংবিধান সংস্কারে প্রস্তাবিত জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠনের বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়া রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়। ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা, নির্বাহী, সংসদ ও বিচার বিভাগের মধ্যে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স প্রতিষ্ঠা ছাড়াও রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতার সীমা স্পষ্ট করা এবং সংসদের কার্যক্রমে কার্যকর নজরদারি হওয়া জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়।

    নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য সুজন স্পষ্ট করে বলেছে, সংরক্ষিত নারী আসন সংখ্যা বাড়ানো ও সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো, নারী নির্যাতন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং নারী নেতৃত্বের প্রসার নিশ্চিত করতে হবে।

    এছাড়া, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে বলা হয়, যাতে ক্ষমতা ও আর্থিক বিকেন্দ্রীকরণে স্থানীয় সরকারের কার্যক্রম জোরদার হয়। নিয়মিত স্থানীয় নির্বাচনের আয়োজন, সংবিধান ও দেশের প্রভাবমুক্ত উন্নয়ন কার্যক্রমে সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণের উপরও জোর দেওয়া হয়।

    স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার ঘোষণা, মানসম্পন্ন ও সহজলভ্য চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা, পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা, পরিচ্ছন্ন পানি ও বায়ু সংরক্ষণ, পাশাপাশি জাতির স্বার্থে পররাষ্ট্রনীতির পরিকল্পনাও ইশতেহারে উল্লিখিত হয়েছে। বাংলাদেশকেঅন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্বাভাবিক স্বাভাবিক ও স্বতন্ত্র মানসিকতা বজায় রাখতে চায় সুজন।

    ড. বদিউল আলম বলেন, দেশের রাজনীতি যে অবক্ষয়ের শিকার, তা শুধরে না নেওয়া হলে গণতন্ত্র আরও দুর্বল হবে। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ও লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হওয়া রাজনীতি বন্ধ করতে না পারলে নির্বাচনী সহিংসতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার চলতেই থাকবে।

    তিনি পরবর্তীতে বলেন, জনগণ এখন আর কেবল আশ্বাসে বিশ্বাস করে না, তারা দেখতে চায় কাদের কত দ্রুত ও কত কার্যকরভাবে এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করবে। এই ইশতেহারই আসল স্পষ্টতা দেয়—কারা গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে সম্মান জানাতে প্রস্তুত।