Author: bangladiganta

  • খুলনা যৌথ বাহিনীর অভিযান: দুই সন্ত্রাসী আটক, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার

    খুলনা যৌথ বাহিনীর অভিযান: দুই সন্ত্রাসী আটক, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার

    খুলনা coast guard এর অভিযানে দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে। এই অভিযানে বিদেশি অস্ত্র, তাজা গুলি ও বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল থেকে চালানো এই অভিযানের তথ্য জানান কোস্ট গার্ড এর মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক।

    অভিযানের ব্যাপারে কোস্ট গার্ড জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার (১৮ জানুয়ারি) ভোর ৭টার দিকে খুলনার বাগমারা এলাকার চেয়ারম্যান বাড়ির কাছাকাছি স্থানীয় নৌবাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই সময় সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে শাকিল আহমেদ (২০) ও তরিকুল ইসলাম তৌহিদ (২৫) নামে দুজনকে আটক করা হয়।

    আটককৃতদের কাছ থেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা আরও কিছু অস্ত্র ও গাঁজা লুকিয়ে রেখেছেন। এর ভিত্তিতে কাঠালতলা মোড়, মিস্ত্রিপাড়া ও টুটপাড়া সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে এক বিদেশি রিভলভার, একটি বিদেশি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল, সাতটি তাজা গুলি, একটি ম্যাগাজিন এবং ৩৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

    আটক করে রাখা ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া এসব অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য খুলনা থানায় হস্তান্তর করা হবে।

    কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের অপারেশন কর্মকর্তা লে. কমান্ডার আবরার হাসান জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এই ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চালিয়ে অস্ত্র, মাদক ও অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকবে কর্তৃপক্ষ।

  • সরকারের এডিপির বরাদ্দে কমতি, সংশোধিত অনুমোদন হলো ২ লাখ কোটি টাকা

    সরকারের এডিপির বরাদ্দে কমতি, সংশোধিত অনুমোদন হলো ২ লাখ কোটি টাকা

    চলতি অর্থবছরের জন্য সরকারের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় (এডিপি) বরাদ্দের পরিমাণ কমে গেছে। আগে যা ছিল বেশি, এখন তা হ্রাস পেয়ে মোট ২ লাখ কোটি টাকা মাত্রে এসে দাঁড়িয়েছে। এই ঘোষণা আজ সোমবার শেরেবাংলা নগরে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) সম্মেলনকক্ষে বৈঠকের মাধ্যমে জানানো হয়।

    বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, এবং এতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পরিকল্পনা কমিশনের উপদেষ্টা ও বৈঠকের সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস উল্লেখ করেন, এডিপির আনুমানিক বরাদ্দ থেকেই প্রায় ১৩ শতাংশ ছাটাই করে সংশোধিত পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানান, বাজেটের এই সংশোধনের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে চলতি বছর প্রকল্পের বাস্তবায়নের ধীরগতি। অনেক প্রকল্পের জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্প পরিচালক না থাকা, নিয়োগে বিলম্ব এবং কিছু প্রকল্পের পুনর্মূল্যায়ন চলছে—এসব কারণে প্রকল্পের ব্যয় কমানোর অনুরোধ জমা পড়ে।

    সংশোধিত এডিপিতে সরকারি অনুদান ও বিদেশি ঋণ—দুই ক্ষেত্রেই বরাদ্দ কমে গেছে। সরকারি অর্থায়নে ১৬ হাজার কোটি টাকা কাটা হয়েছে, যা প্রায় ১১ শতাংশের মতো, এবং বিদেশি ঋণ ও অনুদান থেকে কমানো হয়েছে ১৪ হাজার কোটি টাকা, যা প্রায় ১৬ শতাংশের বেশি। ফলে সরকারি অর্থায়ন এখন ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা এবং বিদেশি অর্থ godার পরিমাণ কমে হয়েছে ৭২ হাজার কোটি টাকা।

    খাত ভিত্তিক বরাদ্দগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি অর্থ বরাদ্দ পেয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত। এই খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৮ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির এক পঞ্চমাংশ। এরপর রয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, যেখানে বরাদ্দ হয়েছে ২৬ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা। শিক্ষাখাত, বাসস্থান ও কমিউনিটি উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার ইত্যাদি ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ হয়েছে।

    অন্যদিকে, স্বাস্থ্যখাতে হঠাৎ করে বেশ ধাক্কা লেগেছে। এই খাতে প্রকল্পের বাস্তবায়ন সক্ষমতা দুর্বল থাকায় বরাদ্দ প্রায় ৭৪ শতাংশ কমে গেছে। মূল এডিপিতে যেখানে স্বাস্থ্যসচিব বরাদ্দ ছিল ১৮ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা, সেখানে সংশোধনীতে তা নেমে এসে হয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা। একইভাবে শিক্ষাখাতেও বড় কাটা হয়েছে, যেখানে বরাদ্দ প্রায় ৩৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

    সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ থাকা পরিবহন ও যোগাযোগ খাতের বরাদ্দও সংশোধিত এডিপিতে প্রায় ৩৫ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি, সামাজিক সুরক্ষা খাতে, যেখানে মূল এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ১৮ কোটি টাকা, সেখানে এখন বরাদ্দ মাত্র ৫৪৫ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। বিদ্যুৎ ও কৃষি খাতে বরাদ্দও প্রায় ১৯ ও ২১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে, পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি সম্পদ খাতে বরাদ্দ বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ।

    মন্ত্রণালয় ও বিভাগভিত্তিক বরাদ্দে স্থানীয় সরকার বিভাগ পেয়েছে সর্বোচ্চ অর্থ, মোট ৩৭ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা, যা মূল এডিপির তুলনায় কিছুটা কম। এর পাশাপাশি রয়েছে সড়ক পরিবহন, মহাসড়ক, পানি সম্পদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষা ও অন্যান্য বিভাগ। উল্লেখ্য, বরাদ্দের মধ্যে বিশেষ উন্নয়নের জন্য আলাদা প্রকল্পও সংযুক্ত হয়েছে।

    সব মিলিয়ে, সংশোধিত এডিপিতে মোট ১ হাজার ৩৩০টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই বিনিয়োগ প্রকল্প। পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, এই অর্থবছরে এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে ২৮৬টি শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, যেখানে টাকা কম হলেও কার্যক্রমের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ধীর গতি দ্রুততার পথে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে।

  • সোনার দাম রেকর্ড ভেঙে ভরি ২ লাখ ৩২ হাজারে পৌঁছাল

    সোনার দাম রেকর্ড ভেঙে ভরি ২ লাখ ৩২ হাজারে পৌঁছাল

    বাংলাদেশের বাজারে আজ নতুন রেকর্ড স্থাপন করে সোনার দাম এসে পৌঁছেছে অতীতের সব রেকর্ডের ওপরে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে, দেশীয় বাজারে সোনার মূল্য ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে প্রতি ভরি সোনার দাম বেড়ে ভরি ২ লাখ ৩২ হাজার ৫৫ টাকায় পৌঁছেছে। এটি এখন পর্যন্ত দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামের রেকর্ড।রণাবলে, এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর দেশের বাজারে সোনার সর্বোচ্চ দাম ছিল ভরি ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা। চুক্তিনুযায়ী, নতুন এই দাম ১৩ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) থেকে কার্যকর হবে।বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, বৈশ্বিক বাজারে সোনার দাম বেড়ে যাওয়ায় এই দর বৃদ্ধি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্যে দেখা যায়, বিশ্বব্যাপী সোনার দাম এখন আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৬০০ ডলারের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর ফলে দেশের বাজারে ভরি ২২ ক্যারেটের শীর্ষ মানের সোনার মূল্য এখন ভরি ২ লাখ ৩২ হাজার ৫৫ টাকা। অন্য ক্যারেটের মূল্য যেমন, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২১ হাজার ৪৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৯ হাজার ৮৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮৮১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সোনা ও রুপার দামের এই বৃদ্ধির সাথে সাথে রুপার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম now ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৫ হাজার ৭১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম এখন ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে জুয়েলারী ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন বাজারের দ্বার উন্মোচন হয়েছে।

  • বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস: অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪.৬%

    বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস: অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪.৬%

    চলমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪.৬ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। তবে, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এটি আরও বৃদ্ধি পেয়ে ৬.১ শতাংশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এই তথ্যটি বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রোসপেক্টস’ জানুয়ারি সংস্করণে উল্লেখ করা হয়।

    বিশ্লেষকেরা বলছেন, মানুষের ভোগের ব্যয় বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির চাপ ধীরে ধীরে কমতে থাকায় দেশের অর্থনীতি সুগঠিত হয়ে উঠবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের শুরুর দিকে যদি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা কমে যাবে। এই সময়ে নতুন সরকার প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার কার্যকর করতে পারবে, যা শিল্পখাতের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে। এই চিত্রের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বব্যাংক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

    তবে, প্রতিবেদনটি কিছু ঝুঁকি যুক্ত করেছে। একটি মূল ঝুঁকি হলো— বাংলাদেশে বর্তমানে মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি থাকা। এটি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি কঠোর করার কারণে ঋণের প্রবাহ কমে গেছে, যা ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বাধা সৃষ্টি করছে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, সরকারি খরচ বৃদ্ধি ও বিনিয়োগের উন্নতি এসব ঝুঁকিকে মোকাবেলা করায় দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।

    বিশ্লেষকদের মতে, চলতি অর্থবছরে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দেখাবে ভুটান (৭.৩%)। অন্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে— ভারত (৬.৫%), বাংলাদেশ (৪.৬%), মালদ্বীপ (৩.৯%), শ্রীলঙ্কা (৩.৫%) এবং নেপাল (২.১%)। এর মধ্যে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের প্রবৃদ্ধির প্রারম্ভিক তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।

    অপর দিকে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) জিডিপি প্রবৃদ্ধির মৌসুমি হিসাব প্রকাশ করেছে। এই তিন মাসে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৪.৫ শতাংশ, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের ২.৫৮ শতাংশের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

    বিশ্বব্যাংক ভবিষ্যদ্বাণী করেছে, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক অর্থনীতি ক্রমশ কমে গিয়ে প্রবৃদ্ধি হবে ২.৬ শতাংশ, এরপর ২০২৭ সালে তা ২.৭ শতাংশে পৌঁছাবে। তবে, সে সময় বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি কমে ২.৬ শতাংশে নামতে পারে। পাশাপাশি, আগামী দশকে প্রায় ১২০ কোটির বেশি তরুণ কর্মক্ষম জনশক্তি বাজারে প্রবেশ করবে। এই যুব সমাজের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, টেকসই মানবসম্পদ উন্নয়ন, ডিজিটাল সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

  • সব রেকর্ড ভেঙে দেশের বাজারে সোনার দামে ইতিহাস সৃষ্টি

    সব রেকর্ড ভেঙে দেশের বাজারে সোনার দামে ইতিহাস সৃষ্টি

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) দেশের বাজারে সোনার দাম আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিলেন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ২,৬২৫ টাকা পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দেশের উচ্চমানের সোনার দাম দ্বিগুণের কাছাকাছি বেড়ে দুই লাখ ৩৪ হাজার টাকারও বেশি হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সোনার দামের রেকর্ড।

    বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই মূল্য পরিবর্তনের বিষয়ে জানানো হয়েছে এবং নতুন দাম ১৫ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। সংগঠনটি জানিয়েছে, বৈশ্বিক বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দামের বৃদ্ধি দেশের বাজারেও রফতানি ও বিক্রয়ে প্রভাব ফেলেছে।

    বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে জানা গেছে, গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি ওয়েবসাইটের তথ্যে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের গড় দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬২০ ডলার অতিক্রম করেছে।

    নতুন এই দাম অনুযায়ী, দেশের সবচেয়ে মানানসই ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকা, যেখানে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দামের বিবরণ ২ লাখ ২৪ হাজার ৭ টাকা। অন্যদিকে, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এক লাখ ৯১ হাজার ৯৮৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে তৈরি স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম বেড়ে হয়েছে এক লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকা।

    অপর দিকে, রুপার দামের কিছুটা স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৫ হাজার ৭১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতিতে রুপার প্রতি ভরি দাম ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা।

  • মোবাইল ফোনের শুল্ক কমানোর ফলে দাম কমতে পারে

    মোবাইল ফোনের শুল্ক কমানোর ফলে দাম কমতে পারে

    আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মোবাইল ফোন আমদানিতে শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিয়েছে, যাতে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য মোবাইল ফোনের দাম নাগালের মধ্যে থাকে। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মোবাইল ফোনের আমদানিতে প্রযোজ্য কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া, দেশীয় মোবাইল উৎপাদনকারীদের উপকরণ আমদানির জন্য ডিউটি ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারিত হয়েছে।

    এনবিআর এই সিদ্ধান্তের জন্য পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যার মাধ্যমে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ কর্মকর্তা আল আমিন শেখ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    মোবাইল ফোনের আমদানিতে বর্তমান শুল্ক কমানোর ফলে, শুল্কের পরিমাণ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। একইসঙ্গে, দেশের মোবাইল সংযোজনকারী কোম্পানিগুলোর জন্য উপকরণ আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে, উপকরণ আমদানিতে প্রযোজ্য বিদ্যমান শুল্ক ৫০ শতাংশ হ্রাস পাবে।

    এনবিআর জানায়, এই শ্রেণির প্রজ্ঞাপনের ফলে, ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের মোবাইল ফোনের দাম আনুমানিক ৫,৫০০ টাকা কমবে। এছাড়া, ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের দেশে তৈরি মোবাইল ফোনের দাম অনেকটাই কমবে, যা আনুমানিক দেড় হাজার টাকার মতো।

    সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে সব ধরনের মোবাইল ফোনের দাম সাধারণ জনগণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যেই থাকবে এবং দেশের নাগরিকরা সহজে ডিজিটাল সেবা গ্রহণ করতে পারবেন বলে আশা করছে। মোবাইল ফোনের দাম নাগরিকদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

  • এনসিপির ২৭ আসনে প্রার্থী ঘোষণা, কারা কোথায় লড়ছেন

    এনসিপির ২৭ আসনে প্রার্থী ঘোষণা, কারা কোথায় লড়ছেন

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে, তরুণ নেতৃত্বের গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি আসনের মধ্যে ২৭টিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তারা এই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলে থাকা অন্যান্য কোটার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। রোববার (১৮ জানুয়ারি) তাদের নিজস্ব ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রার্থীদের নাম ও ছবি সংবলিত পোস্টার আপলোড করে এনসিপি। এর পাশাপাশি তারা ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট চেয়েছে।

    প্রার্থীদের তালিকা থেকে জানা যায়, ঢাকা–১১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলের আহ্বায়ক ও সাবেক তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। রংপুর–৪ আসনে আছেন সদস্যসচিব আখতার হোসেন, কুমিল্লা–৪ আসনে দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, পঞ্চগড়–১ আসনে উত্তরের সংগঠক সারজিস আলম, ঢাকা–৮ আসনে মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও নোয়াখালী–৬ আসনে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ।

    আরও থাকছেন, ঢাকা–১৮ আসনে আরিফুল ইসলাম আদীব, লক্ষ্মীপুর–১ আসনে মাহবুব আলম, সিরাজগঞ্জ–৬ আসনে এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, নরসিংদী–২ আসনে সারোয়ার তুষার, নারায়ণগঞ্জ–৪ আসনে আবদুল্লাহ আল আমিন, পার্বত্য বান্দরবান আসনে এস এম সুজা উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে মাওলানা আশরাফ মাহদী, চট্টগ্রাম–৮ আসনে জোবাইরুল হাসান আরিফ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৩ আসনে মোহাম্মদ আতাউল্লাহ।

    অন্য আসনগুলো হলো, দিনাজপুর–৫, নোয়াখালী–২, ঢাকা–১৯, ঢাকা–২০, কুড়িগ্রাম–২, ময়মনসিংহ–১১, টাঙ্গাইল–৩, ঢাকা–৯, গাজীপুর–২, মুন্সিগঞ্জ–২, পিরোজপুর–৩ ও নাটোর–৩। এই সব আসনে বিভিন্ন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে এনসিপি।

    এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন জানান, এখনও বাকি তিন আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি, তবে খুব দ্রুত তা সম্পন্ন হবে।

    উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতসহ ১০ দলে লড়ার জন্য মোট ২৫৩টি আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে। বাকি ৪৭টি আসনের জন্য আলোচনা ও সমঝোতাধীন প্রক্রিয়া চলছে।

    এই জোটের মধ্যে জুনাইল বিপ্লবীরা গঠিত এনসিপি ৩০টি আসন পেয়েছে, যেখানে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে থাকা দলটি সবচেয়ে বেশি ১৭৯টি আসনে লড়বে। আর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি, খেলাফত মজলিস বিভিন্ন পর্যায় ১০টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৭টি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ৩টি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ও বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টি প্রতিটিতে ২টি করে আসনে নির্বাচন করবে।

    প্রাথমিকভাবে এই জোটে ছিল ১১ দল, তবে আসন ভাগাভাগি সমঝোতা না হওয়ায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সম্প্রতি দলটি থেকে বের হয়ে গেছে। এখন তারা এককভাবে ২৬৮ আসনে নির্বাচন করবে এবং বাকি ৩২ আসনে তারা সমর্থন দেবে।

  • বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোটার ঢাকায় স্থানান্তর করে ভোটারদের পরিবর্তন করা হচ্ছে দাবি বিএনপি’র

    বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোটার ঢাকায় স্থানান্তর করে ভোটারদের পরিবর্তন করা হচ্ছে দাবি বিএনপি’র

    দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভোটারদের ঢাকায় স্থানান্তর করে এনে তেলআবাদের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় আনুকূল্য লাভের জন্য একটি রাজনৈতিক দল কৌশলগত পরিকল্পনা করছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। বুধবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে উপস্থিত হয় এবং কমিশনের সদস্যদের সাথে আলোচনা করে।

    সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, ঢাকার বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার ভোটার তালিকা পরিবর্তন করে কিছু দল তাদের মনোনীত প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য বেআইনি কৌশল অবলম্বন করেছে। দেশের নানা স্থান থেকে ভোটারদের ঢাকায় স্থানান্তর করে তাদের নামে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যা ষড়যন্ত্রের অংশ বলে বিএনপি মনে করে।

    বিনীতভাবে তারা আমাদের কাছে জানতে চেয়েছে, কতজন ভোটার কোথা থেকে এসেছে, কোন এলাকাগুলি থেকে তাদের নাম বদলি করা হয়েছে এবং কেন এই পরিবর্তনগুলো করা হয়েছে। এই ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য দ্রুত সরবরাহ করার জন্য আমরা অনুরোধ জানিয়েছি।

    এছাড়াও বিএনপি আরও কিছু অসৌজন্য অভিযোগ তুলে ধরেছে। মহাসচিব জানিয়েছেন, জামায়াতের কিছু নির্বাচন কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিকাশ নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি সংগ্রহ করছে, যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও অপরাধমূলক কাজ। এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি।

    বিএনপি স্বচ্ছ ও ন্যায্য নির্বাচনের প্রতি অঙ্গীকার করে, এই কারণেই তাদের চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত সফর বাতিল করেছেন। তবে অন্য রাজনৈতিক দলের নেতারা বরং অভিযোগের তোয়াক্কা না করে প্রচার চালাচ্ছে বলে মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন।

    মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, পুলিশ সুপার এবং ওসিসহ কিছু কর্মকর্তারা একতরফা কাজ করছে বলে অভিযোগ করেছেন। এই কর্মকর্তাদের মধ্যে কিছুজনের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান।

    নির্বাচন কমিশনের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে hatua নেওয়ার জন্যও বিএনপি অনুরোধ জানিয়েছে।

    পোস্টাল ব্যালটের বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপির মার্কা ঠিকঠাকভাবে ছাপানো হয়নি এবং সেগুলোর বিতরণেও নৈর্ব্যক্তিকতা দেখা যাচ্ছে। নির্বাচনী বিভিন্ন পর্যায়ে এই ধরনের ব্যালট বিতরণে অসঙ্গতি থাকায়, প্রতীক অনুপযুক্ত বা ভুলভাবে মুদ্রিত ব্যালটের যথাযথ প্রতিকার দাবি জানান তিনি।

    সর্বশেষে, বিএনপি ভোটারদের নিকট পৌছানোর জন্য পাঠানো পোস্টাল ব্যালটগুলো ত্রুটিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তাদের উদ্দেশ্য হল নির্দিষ্ট কিছুলোকের জন্য সুবিধা সৃষ্টি করা, যা স্বচ্ছ ভোটের প্রক্রিয়াকে ক্ষুন্ন করে। এজন্য তিনি সঠিক ও স্বচ্ছ প্রতীক সংবলিত ব্যালট দ্রুত সরবরাহের দাবি জানান। পাশাপাশি, ভোটারদের এনআইডি, বিকাশ নম্বর ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহের পদ্ধতিক যুক্তিরও তীব্র সমালোচনা করেন, যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লঙ্ঘন এবং দুর্বৃত্তায়নের সম্ভাবনা সৃষ্টি করে।

  • নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দিল এনসিপি

    নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দিল এনসিপি

    নির্বাচন কমিশনের আপিলের রায়ে বিএনপি প্রার্থীদের অনৈতিক ও নিয়মবহির্ভূত সুবিধা দিচ্ছে বলে cáoит এনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আজ রোববার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

    সংবাদ সম্মেলনটি রাজধানীর বাংলামোটরের রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে (অস্থায়ী) নির্বাচন কমিশনের আপিলের রায় ও নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

    আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের সন্দেহ এখন আরও দৃঢ় হয়েছে। যদি এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে, তাহলে নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে আমাদের শঙ্কা শুরু হবে। আমাদের দল ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডাররা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হবে। তবে আমরা চাই নির্বাচন সময়মতো অনুষ্ঠিত হোক। আমরা ন্যায্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাই এবং বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক উত্তরণ যেন সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

    দলের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নিতে তারা রাজনৈতিক পর্ষদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবেন বলে জানান আসিফ। তিনি আরও বলেন, ‘আগামীকাল (সোমবার) আমরা আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য অন্তর্ভুক্ত সরকারের প্রধান ও অন্যান্য জোটসঙ্গীদের সঙ্গে বৈঠক করবো। ব্যবসায়িক নেতাকর্মী, নাগরিক সমাজের সদস্য এবং যারা গণআন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন, সবকিছুর উপস্থিতি ও আলোচনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’

    আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ও বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগের পাশাপাশি তারা নিজেদের প্রার্থীদের বৈধতা নিয়েও নানা প্রতিবাদ করছে। নির্বাচনের শেষ দিন বিএনপির পক্ষ থেকে বাইরে মিছিল ও ধোৱাধুড়ে পরিস্থিতি তৈরি করা হয়, যা নির্বাচন পরিবেশের জন্য হুমকি।’

    তিনি উল্লেখ করেন, রায় ঘোষণের মুহূর্তে নির্বাচন কমিশন ১৫ মিনিটের বিরতিতে বললেও তারা দেড় ঘণ্টা সময় নিয়ে বিএনপি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করে। যেসব প্রতিনিধির মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রাজনৈতিক স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ছিলেন, সেটিও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

    আসিফ মাহমুদ মন্তব্য করেন, নির্বাচন কমিশনের এই রায় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, এটি গণতন্ত্রের জন্য সন্দেহজনক সংকেত। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে কমপক্ষে ২০ জন দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রমাণ পরিপূর্ণভাবে মেনে না নিয়ে প্রার্থী হচ্ছেন, বিশেষ করে ঢাকা-১১ আসনের এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের ব্যাপারে ব্যাপক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে।

    তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন বিএনপির দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপি প্রার্থীদের বাধা না দিয়ে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করছে।’

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক्रেটারি মনিরা শারমিন, যুগ্ম সদস্যসচিব জহিরুল ইসলাম মুসা প্রমুখ।

  • জামায়াতের সিদ্ধান্ত: ফয়জুল করিমের সম্মানে বরিশাল-৫ আসনে প্রার্থী দেবে না জামায়াত

    জামায়াতের সিদ্ধান্ত: ফয়জুল করিমের সম্মানে বরিশাল-৫ আসনে প্রার্থী দেবে না জামায়াত

    নির্বাচনী রাজনীতিতে পারস্পরিক সৌজন্য এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচারের শক্তিশালী উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে এই সিদ্ধান্তকে। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করিমের সম্মান বজায় রাখতে এবং তার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের পক্ষ থেকে বরিশাল-৫ আসনে কোনো প্রার্থী দেওয়া হবেন না। এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হলো, শান্তিপূর্ণ এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখা, যা ইসলামী আন্দোলনের ঐক্য গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের।

    রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষ করে, রাত ৮টার দিকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই কথা জানান ডা. তাহের। তিনি বলেন, মূলত ১১টি রাজনৈতিক দল নিয়ে একটি ঐক্য গড়ে উঠলেও বর্তমানে একজন দল আলাদা হয়ে যাওয়ায় এখন বাকি ১০টি দল ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী মাঠে রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির (চরমোনাই পীর) এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। তবে তাদের নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করিম একটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই পরিস্থিতিতে, পারস্পরিক সম্মান ও ঐক্যের বিষয় বিবেচনা করে ওই আসনে দলের প্রার্থী প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    ডা. তাহের আরও জানান, আমরা নির্বাচন সফল করতে চাই। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ঐক্য কেবল আসন ভাগাভাগির বিষয় নয়, বরং এটি পারস্পরিক সম্মান, বিশ্বাস ও শুভেচ্ছার সম্পর্কেও।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অন্তত ১৫টি রাজনৈতিক দল এই জোটে যুক্ত হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে মনোনয়নপত্রের জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ায় তাদের জন্য কোনো আসন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে, এই দলগুলো অবদান রাখতে ও ঐক্যের সঙ্গে থাকতে আগ্রহী।

    অন্য দিকে, প্রশাসনিক বৈষম্যকে দেশপ্রেম ও স্বরাষ্টের বিষয় হিসেবে তুলে ধরে, ডা. তাহের বলেন, কোনো বিশেষ রাজনৈতিক নেতার জাতীয় পরিচয়পত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তৈরি হচ্ছে, তবে সাধারণ নাগরিকদের মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়, যা নাগরিক অধিকার ও প্রশাসনিক নীতি বিরোধী।

    নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, জামায়াত বা জোটের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে কোনও অতিরিক্ত নিরাপত্তা চাওয়া হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, আমরা আল্লাহর ওপর ভরসা করি। তবে, নির্বাচনের পরিস্থিতি ও জনসাধারণের ধারণার কারণে নিরাপত্তা বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

    ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে, ডা. তাহের বলছেন, যারা ক্ষমতায় গেলে, তারা নিশ্চিত করবেন যে, সব নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ, নিরাপত্তা এবং প্রশাসনের সমান আচরণ নিশ্চিত হবে।

    সূত্রের জানা যায়, বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ফয়জুল করিম। এর মধ্যে, বরিশাল-৬ আসনে জামায়াত প্রার্থী দেবে না।