তামিল মানুষজনের মধ্যে উত্তেজনা জাগিয়ে রাখা এবং রাজ্যটির রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হওয়ার পথে এখনো কিছুটা জটিলতা রয়ে গেছে। আজ বৃহস্পতিবার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজয় এর শপথ গ্রহণ হচ্ছে না। বিজয় দলের পক্ষে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়া সত্ত্বেও, টিভি দলই রাজ্যের সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তবে, তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল, অর্থাৎ গভর্নর রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকর, এখনো এই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেননি। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এই পরিস্থিতিতে, গোপন সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, কংগ্রেস দল বিজয় দলের কাছে সমর্থন প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিলেও, সরকার গঠনের জন্য আরও এক বা দুই দিন সময় লাগতে পারে, কারণ সমর্থন জোগাড়ে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। এরই মধ্যে রাজ্যপাল বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন এবং তিনি কেরালার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন, যেখানে তিনি বর্তমানে অতিরিক্ত দায়িত্বে কর্মরত। সূত্রের মতে, গতকাল বুধবার বিজয়ের নেতা তথা সাধারণ সম্পাদক আধভ অর্জুনের সঙ্গে রাজ্যপালের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেটি স্থগিত করেছে। কারণ, দুইটি বাম দল—সিপিআই এবং সিপিআই(এম)—অতिथि সময় চেয়ে ৮ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চেয়েছে। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে ১০৮টি আসনে জয় লাভ করে বিজয় টিভিকে ছিল বৃহত্তম দল। সরকার গঠনের জন্য তাদের আরও অন্তত ১০টি আসনের প্রয়োজন ছিল, যা পুরণ করতে হলে কংগ্রেসের পাঁচটি আসনের সমর্থন নিয়ে নয়, বরং এখনো ক্ষয়ক্ষতির দিকে এগোতে হচ্ছে। বর্তমানে, বিজয় শিবিরের আরেকটি প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ। যদিও নির্বাচনের ফলাফলে নির্দলীয় প্রার্থীদের সমর্থন থাকতে পারে, তবে এখনও স্পষ্ট নয় কে তারা হবে। বেশ কয়েকটি আলোচনায় জানা গেছে, দুটি আসনে জয়ী দলের নেতা ভি এস বাবুর সঙ্গে শুক্রবার পর্যন্ত বৈঠক হবে, যার মধ্যে দুজন—সিপিআই ও সিপিআই(এম)—আলাদা বৈঠক করেছেন। তবে, একই সঙ্গে একটি সম্ভাব্য জোটের গুঞ্জন পাওয়া গেছে—সেটি হলো টিভি দল ও এআইএডিএমকে জোট, যা এখনো থেকে বৃহত্তর সমর্থন পাবার সম্ভাবনা রয়েছে। এআইএডিএমকের অন্তত ৩০ জন বিধায়ক টিভিকেকে সমর্থন করতে ইচ্ছুক বলে মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় দল হিসেবে, তামিলনাড়ু কংগ্রেস স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, তারা টিভিকের সঙ্গে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে স্বাধিকারী। দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত গিরিশ চোদানকর ঘোষণা করেছেন, দক্ষিণ ভারতের বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতে তারা আপোস করবেন না এবং বরং একটি ধর্মনিরপেক্ষ সরকারকে সমর্থন করবেন। গতকাল বুধবার, কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারে যুক্ত হতে বিজ্ঞপ্তি দেয়, এবং এ সময় দলের কর্মীরা উল্লাসে ফেটে পড়ে। কংগ্রেসের দাবি, টিভিকেকে সমর্থনে তাদের একমাত্র শর্ত—সংবিধানে বিশ্বাস করে না এমন কোনও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে জোটের বাইরে রাখা। অন্যদিকে, ডিএমকে এই সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করে বলেছে, কংগ্রেস টিভিকেকে সমর্থনের জন্য ‘তামিলনাড়ুর মানুষের পিঠে ছুরি মারছে’। ডিএমকের মুখপাত্র সারাভানন আনাতুরাই বলছেন, টিভিকে মন্ত্রিসভায় দুটো পদ পাওয়ার লোভে কংগ্রেস নিজেদের ধ্বংস করছে। এই একতরফা সমর্থনের সিদ্ধান্ত বিরোধী জোটের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছে, যা ভারতের রাজনৈতিক জগতে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে। বিজেপির মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা মন্তব্য করেছেন, ‘কংগ্রেস কতজনের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, তা তো আর গোপন নয়। ডিএমকের সঙ্গে যারা এই কৌশলে জড়িয়েছে, তারা ভবিষ্যতে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গেও কী করতে যাচ্ছে, সেটিই ভাবা যায়।’ তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘এটি হলো ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে শেষ কৃত্য, এক ধরনের পতনের সূচনা।’ এই নির্বাচনে টিভির বিশাল বিজয় গেমচেঞ্জার হিসেবে দেখা দিয়েছে, যা ডিএমকে ও এআইএডিএমকের দীর্ঘদিনের দ্বিমেরু রাজনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। কোলাথুরে এম কে স্টালিনের পরাজয়ের পর, তিনি ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। আগামী দিনগুলোতে তামিলনাড়ুর নতুন সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জটিলতা ও পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকছে।
