ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা ১৪ দফা শান্তি প্রস্তাব দিল, ট্রাম্প কী বললেন?

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ৯ দফা শান্তি প্রস্তাবের জবাবে পাল্টা ১৪ দফার একটি বিশদ শান্তি পরিকল্পনা দিয়েছে। তেহরান বলছে, এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য চিরস্থায়ী সংঘাত বন্ধ করা এবং দ্বিপক্ষীয় কূটনীতিক সেন্স গঠন করার লক্ষ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

ইরান জানিয়েছে, তারা যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি রোধ করে স্থায়ী সমাধান খুঁজে পেতে পাকিস্তানের মাধ্যমে মধ্যস্থতাভিত্তিক একটি পরিকল্পনা পৌঁছে দিয়েছে। এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে যুক্তরাষ্ট্র—সংঘাত বজায় রাখবে নাকি কূটনীতিকভাবে সমাধান করবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি শান্তি প্রস্তাবগুলো শিগগিরই মূল্যায়ন করবেন। তবে ট্রাম্প জানিয়েছে, তেহরানের যে প্রস্তাবগুলো এসেছে সেগুলোর মধ্যে অনেকটাই তার দৃষ্টিতে ‘গ্রহণযোগ্য’ নয়।

সংকট কেবল সামরিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই—ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক চাপ, সমুদ্রপথে নাভিক অবরোধসহ বিভিন্ন কৌশলগত টানাপোড়েনও চলছে। তেহরান দাবি করেছে, বড় ব্রহ্মান্ডের কিছু স্থাপনা ও সেন্ট্রাল ন্যাভাল রুটে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা পদক্ষেপ নিয়েছে; যার প্রভাব বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও পণ্যবাহীতে দেখা গেছে। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক বিবৃতি ও গণমাধ্যম প্রতিবেদনে ভিন্ন ভিন্ন দাবি প্রকাশ পেয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লম্বা সংঘর্ষকালে উভয়পক্ষের অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন—সামরিক ও বেসামরিক দিক উভয়েই মানবিক ও অবকাঠামোগত লোকসান হয়েছে, দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট পক্ষরা। সংঘাতের জেরে হর্মুজ প্রণালীসহ গুরুত্বপূর্ণ জলপথে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি তেলের বাজারেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক স্তরে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ঘাটতি ও কূটনৈতিক চাপের কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। দাবি করা হয়, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল প্রথমে সাময়িক এবং পরে অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে।

তবে তেহরান বলছে, তারা স্থায়ী শান্তির জন্য বেশ কিছু শর্ত রেখেছে—আর সেইই শর্তগুলোর বেশির ভাগই যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় বলে দুইপক্ষই মন্তব্য করেছে। ফলম্বরূপ এখনো কড়া শর্ত ও আস্থাহীনতার ফাঁকে পড়ে আছে এই সংঘাতের ভবিষ্যৎ।

কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে; কিন্তু চূড়ান্ত পথে নামতে হলে দুইপক্ষকেই আপস ও বিশ্বাসঘটনের দিকে এগোতেই হবে, এমনই বিশ্লেষকদের মত।