নানা ষড়যন্ত্র চলছে, ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দেওয়ার আহ্বান — বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন, দেশে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। দেশবিরোধী সব অপতৎপরতা ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দেওয়ার জন্য সবাইকে সক্রিয় থাকার আহ্বানও জানান তিনি।

শুক্রবার (১ মে) মহান মে দিবসের উপলক্ষে নয়াপল্টনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যখনই বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে এগিয়েছে, কিছু মহল তা মেনে নিতে চাননি। অতীতে ষড়যন্ত্র হয়েছে এবং ১২ তারিখের নির্বাচনের পরও যখন তাদের চোখে পড়ল যে দেশ জনগণের সিদ্ধান্ত মোতাবেক চলছে, তখন থেকেই নতুনভাবে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।

ষড়যন্ত্রীদের বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ করে বলেন, তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশকে বিতর্কিত ও বন্ধুহীন করে তুলতে চায়। তারা চান না দেশের মানুষ পরিশ্রম করে ভাগ্য পরিবর্তন করুক বা বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাক।

তবে বিশ্বদরবারে এখন দেশের পেছনে জনগণের ব্যাপক সমর্থন দেখা যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। ষড়যন্ত্রকারীদের কথায় বিশ্বের বন্ধুরা আর কর্ণপাত করছে না; বরং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে কিভাবে বিনিয়োগ বাড়ানো যায় এবং মানুষের ভাগ্য ভালো করা যায়—এই বিষয়ে আলোচনা করছে।

তারেক রহমান স্মৃতিচারণ করে বলেন, দেশে গণতন্ত্র থাকলে অর্থনীতি শক্তিশালী হয় এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় উন্নতি আসে। গণতন্ত্রের পথেই এক সময় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ‘ইমার্জিং টাইগার’ হিসেবে খ্যাতি পেয়েছিল।

দেশের স্বার্থে ও শ্রমিক-শ্রমজীবীর ভাগ্য উন্নয়নে বিশ্ব দরবারের সুযোগগুলো গ্রহণে জোর দেন তিনি। সবাইকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে বললেন—যারা অরাজকতা সৃষ্টির মাধ্যমে দেশকে বিতর্কিত করতে চায় তাদের ভ্রুকুটি ঠেকাতে শ্রমিকসহ সকল সচেতন নাগরিককে একসঙ্গে এগুতে হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্বৈরাচারের সময়ে স্বাস্থ্য, শিক্ষা সহ বিভিন্ন খাতে ক্ষতি হয়েছে এবং শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়েই ছিনিমিনি চলেছিল। ২০২৪ সালে মানুষ সেই স্বৈরাচারকে বিদায় জানিয়েছে, এখন দেশের গড়ার পালা—এই প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

অর্থনীতি পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত উদ্যোগেও তারেক রহমানের ভাবনা স্পষ্ট: কয়টি কলকারখানা দ্রুত চালু করার নির্দেশ আগে দেওয়া হয়েছে এবং এই সপ্তাহে পুনরায় মিটিং করে ধাপে ধাপে বন্ধ থাকা কলকারখানা চালু করা হবে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ ও বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েই কাজ চলছে।

শ্রমিক ও কৃষকদের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘‘শ্রমিক-কৃষকরা ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জীবনমান উন্নত না হলে দেশ উন্নত হবে না।’’

যানজট ও দুর্ভোগের কারণে কিছু হকার উচ্ছেদ করা হলেও হকাররা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা করতে পারে সে উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, আড়াই থেকে তিন বছর আগে ঘোষিত ৩১ দফায় দেশের মেরামত ও উন্নয়নের রূপরেখা দেয়া আছে এবং সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গেই নির্ধারিত প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। কৃষি ঋণ মওকুফ ও কৃষক কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে, এবং খাল খনন করে সেচ ও পানির চাহিদা মেটানোর কাজ শুরু হয়েছে।

শেষে তিনি আবারও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন—যদি আমরা দেশকে এগিয়ে নিতে পারি, তা হলে দেশের ভাগ্য বদলায়।