প্রথম নির্বাচনে থালাপতি বিজয়: বুথফেরত জরিপে ১২০ আসনের সম্ভাবনা

তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর সবার নজর এখন বুথফেরত জরিপের দিকে। রাজ্যে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে উঠে এসেছে দক্ষিণী সুপারস্টার থালাপতি বিজয় ও 그의 দল ‘তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম’ (টিভিকে)। তিনি রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্টালিনের সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নির্বাচনের আগে বিজয়ের জনসভা ও র‌্যালিতে সমর্থকদের বড় উপস্থিতি রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রকে ঝটপট বদলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করছেন অ্যানালিস্টরা। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার পালাবদল চলছে—এবারও সেই ধারা ভাঙতে পারে; বুথফেরত জরিপে তারই আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

বিভিন্ন সংস্থার জরিপ অনুযায়ী প্রথমবার ভোটে অংশ নিয়ে বিজয়ের দল ৯৮ থেকে ১২০টি আসন পেতে পারে বলে দেখা যাচ্ছে। যদি এই পূর্বাভাস বাস্তবে মিলবে, তাহলে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে এবং টিভিকে রাজ্যে শক্তভাবে অভিহিত হবে।

কিন্তু সব সংস্থাই এক মত নয়। পিপলস পালস ও পিপলস ইনসাইট বলছে, বিজয়ের প্রতিপক্ষ ডিএমকে ও তাদের জোট ১২০ থেকে ১৪৫টি আসনে এগিয়ে থাকতে পারে, আর এআইএডিএমকে জোট পেতে পারে ৬০ থেকে ৮০টি আসন।

প্রজা পোল ও পি-মার্কের জরিপে স্বাভাবিকভাবেই ডিএমকে সমর্থিত জোটকে অগ্রগণ্য দেখানো হয়েছে। প্রজা পোল বিজয়ের দলের পক্ষে মাত্র ১ থেকে ৯টি আসন অনুমান করলেও, পি-মার্ক বলছে তারা ১৬ থেকে ২৬টির মধ্যে আসন পেতে পারে। অন্যদিকে ম্যাট্রিজ ও জেভিসি-র রিপোর্টে ডিএমকে ও এআইএডিএমকে জোটের মধ্যে কড়া লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

কামাখ্যা অ্যানালিটিক্সের জরিপ বিজয়ের সমর্থকদের একটু আশাবাদী করেছে—তাদের হিসেবে টিভিকে যদি ৬৭ থেকে ৮১টি আসন পায়, তাহলে তারা সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। এই ভিন্নমতাও দেখাচ্ছে যে রাজ্যের কোনও একপক্ষীয় ফলাফল না-ও আসতে পারে এবং সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতামূলক তথ্য অনুযায়ী, ২৩ এপ্রিল তামিলনাড়ুর ২৩৪টি আসনে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। বিকেল ৫টা পর্যন্ত মোট ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৮২.২৪ শতাংশ—এই সংখ্যাও রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নাগরিক অংশগ্রহণের প্রতিচ্ছবি। এখন দলগুলো ও জনতা উভয়েই প্রতীক্ষায় রয়েছেন চেয়ারপদে কে বসবে—বুথফেরত জরিপ ও চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রাজ্যের ভবিষ্য্য নির্ধারিত হবে।