অদিতা হত্যায় গৃহশিক্ষক আব্দুর রহিম রনির মৃত্যুদণ্ড

নোয়াখালীর বহুল আলোচিত স্কুলছাত্রী তাসনিয়া হোসেন ‘অদিতা’ হত্যা মামলায় একমাত্র আসামী গৃহশিক্ষক আব্দুর রহিম রনিকে আদালত মৃত্যুদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম শিকদার এ রায় ঘোষণা করেন। পাবলিক প্রসিকিউটর মো. সেলিম শাহী রায়টি নিশ্চিত করেছেন। রায় ঘোষণার আগের দিন ধার্য ছিল ১৫ এপ্রিল, তবে তা পিছিয়ে আজকের দিন ধার্য করা হয়। রায় ঘোষণার সময় আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার জাহান মঞ্জিল থেকে অদিতার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহে গলা ও হাত-পায়ের রগ কাটা ছিল, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। ঘটনার রাতেই অদিতার সাবেক গৃহশিক্ষক আব্দুর রহিম রনিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রনি হত্যার দায় স্বীকার করেন। তাঁর দেয়া তথ্য অনুসারে হত্যায় ব্যবহৃত ছোরা, বালিশসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়। আদালতে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

নিহত অদিতা (১৪) নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার মৃত রিয়াজ হোসেন সরকারের কন্যা। তার মা রাজিয়া সুলতানা বেগমগঞ্জ উপজেলার একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

পরিবার ও তদন্তকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, অদিতা কিছুদিন আগে রনির কাছে পড়া বন্ধ করে অন্যত্র কোচিংয়ে ভর্তি হলে রনি ক্ষুব্ধ হন। ঘটনার দিন দুপুরে অদিতার মা বাড়িতে না থাকায় রনি বাসায় ঢুকে তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন; ব্যর্থ হয়ে বিষয়টি গোপন রাখতে অদিতাকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করে এবং ঘটনাস্থল অগোছালো করে ধরতে চেষ্টা করেন।

অভিযানকারীরা জানান, গ্রেপ্তারের সময় রনির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঁচড়ের চিহ্ন ও তার পোশাকে রক্তের দাগ পাওয়া যায়। মামলার বিচারিক কার্যক্রমে বাদীপক্ষের ৪১ জন এবং আসামিপক্ষের ৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেন।

নিহতের পরিবার রায়ের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, ‘‘আমার মেয়ে হত্যার ন্যায়বিচার পেয়েছেন। খুনির রায় কার্যকর হোক, যেন ভবিষ্যতে কেউ এমন বর্বরতা করার সাহস না পায়।’’

এ হত্যাকাণ্ডের পর নোয়াখালী ও আশপাশের এলাকায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে; বিচার দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।