যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসভার কাটাখাল এলাকার বিদ্যুৎ সংকট চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিদিনের আলো থেকে মাত্র দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, যা মানুষের জীবনযাত্রা খুবই ব্যাহত করে তুলেছে। এসব সমস্যার বিরুদ্ধে মঙ্গলবারের মধ্যে অবিলম্বে শান্তিপূর্ণ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং পৌরসভার লাইনের সঙ্গে সংযোগের দাবি জানিয়ে ঝিকরগাছা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে বিক্ষোভ করে এলাকাবাসী। শতাধিক নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে এই প্রতিবাদ হয়, যেখানে তারা নানা স্লোগান দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ, যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকাবাসীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ফিডার পরিবর্তনের পর থেকেই ভুগতে হচ্ছে। ফেজের সমস্যা থাকায় হালকা বাতাস বা ঝড়-ঝাপে বিদ্যুৎ চলে যায়, এবং নতুন করে আর ফিরে আসে না। দ্রুত ফিডার বা ফেজ পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে তারা অভিযোগ করেন, তিন-চার বছর ধরে এই সমস্যা চলছে। কাটাখাল কলোনির বাসিন্দা মোঃ জালাল হোসেন বলেন, ‘২৪ ঘণ্টায় মাত্র দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাই, কখন আসে, কখন যায় ঠিক নেই। এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েছে প্রতিবাদে নামতে।’ তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে বিদ্যুৎ গেলে সকাল ১১টার মধ্যে বিদ্যুৎ এসেছিল মাত্র দুই মিনিট, এরপর আবার দুপুর ২টার দিকে আসে, তারপর আবার চলে যায়। রাতের সময়ও এই অবস্থা চলমান। এসএসসি পরীক্ষার্থিনী সোহানা খাতুন বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনায় খুব বিপর্যয় হচ্ছে, এর ফলে ফলাফলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।’ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গাছের পাতা নড়লেই বিদ্যুৎ চলে যায়, যা তারা অবহেলা হিসাবে দেখছেন। ঝিকরগাছা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম বলেন, এই এলাকার বিদ্যুৎ সমস্যা দীর্ঘদিনের। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বহুবার যোগাযোগ করেও সমাধানসূত্র বের হয়নি। ঝিকরগাছা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু সাঈদ বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। এলাকাবাসী বিদ্যুৎ সমস্যায় ক্ষুব্ধ থাকায় পরিস্থিতি বুঝে আলোচনা করি ও পরিস্থিতি শান্ত করি। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ তুলে নেন।’ যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ঝিকরগাছা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার গোলাম কাদির জানান, ‘সমস্যাটি মূলত টেকনিক্যাল। দ্রুত একটি টেকনিশিয়ান টিম পাঠানো হবে ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে সার্বিক বিদ্যুৎ সংকট কিছুটা বেড়ে গেছে, সবাইকে ধৈর্য্য ধরে থাকতে হবে।’
