হাসনাত: বিসিবি এখন ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ে পরিণত

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিপীড়নমূলকভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে এবং এটি ক্রমেই ভয়াবহ মাত্রা নিচ্ছে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক দখল হয়েছে; এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আর স্বাধীন নেই—’বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ে পরিণত হয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১১ দিনের বিকেলের সেশনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬ উত্থাপনের পর দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, বিলটিতে ‘কমিশন’ বলতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি)কে বোঝানো হয়েছে এবং বিলের সংজ্ঞায় ‘বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার’ শব্দবন্ধটি রাখা হয়েছে। ওই সংজ্ঞার প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক প্রতিরোধকে সংকীর্ণ ও ব্যক্তিগত স্বার্থান্বেষণের নামে দমন করা হতে পারে, আবার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে সংগঠিত কার্যক্রমও অন্যভাবে ব্যাখ্যা করা হতে পারে।

হাসনাত প্রশ্ন করেন—সংকীর্ণ ও ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার সংজ্ঞা কে দিবে? ওই সংজ্ঞা নির্ধারণের ক্ষমতা থাকছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপরই, ফলে নির্দিষ্ট ধরনের ইন্ডেমনিটি (দায়মুক্তি) এনএইচআরসির কার্যকারিতার ওপর নির্ভরশীল হবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, কমিশনকে নিয়ন্ত্রণমূলকভাবে পরিচালনা করার প্রস্তাব ইতোমধ্যে এসেছে; যদি কমিশন ২০০৯ সালের নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হয় তবে তা সরকারে বিশদভাবে নিয়ন্ত্রিত—a ফলে স্বাধীন বিচার ও তদন্ত অসাধ্য হবে।

তিনি বলেন, যদি আমরা গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী তদন্ত ও নিরীক্ষার জন্য এনএইচআরসিকে মন্ত্রণালয়ের অধীনে, বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে রাখি, তাহলে সেখান থেকে সত্যনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধান কতটুকু আশা করা যাবে সেবিষয়ে সন্দেহ আছে। তিনি তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যারা সবচেয়ে বেশি নিপীড়িত হয়েছেন, তারাই এনএইচআরসি মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখতে চাচ্ছেন—এমন সিদ্ধান্ত কেন গ্রহণ করা হচ্ছে তা ভাবার বিষয়। আবার, যদি কমিশন পুরোপুরি স্বায়ত্তশাসিত করা হয়, তার জবাবদিহিতা কিভাবে নিশ্চিত করা হবে—তাও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

হাসনাত উদ্বেগ জানিয়েছে যে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে যেভাবে দলীয়করণ ঘটছে, সে পরিস্থিতিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনও রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে—অথবা ‘বাপের দোয়া’ বা বিরোধীদল দমনকারী কমিশন হিসেবে রূপ নিতে পারে—এতে তার আস্থা নেই। তিনি দাবী করেন, বিলটি পাসের আগে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত বিধান ও কাঠামো স্পষ্ট ও নিরপেক্ষভাবে চূড়ান্ত করা প্রয়োজন। নাহলে ভবিষ্যতে বিসিবির মতো প্রতিষ্ঠানে আবার দখল, বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো দলীয়করণ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ দেখা যেতে পারে।