২০২৬ বিশ্বকাপ: ১৪টি মুসলিম-সংখ্যার দেশের অংশগ্রহণ

ফুটবল আবারও বিশ্বকে এক ছাদের নিচে বাঁধার শক্তি দেখাতে যাচ্ছে। ধর্ম, ভাষা বা সীমান্তকে পার করে মানুষকে একত্রিত করার ক্ষমতা নিয়ে মাঠে নামবে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ — যেখানে এবারে মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি বিশেষ অধ্যায় লেখা হতে চলেছে।

রেকর্ড ১৪টি মুসলিম-সংখ্যার দেশ এই আসরে অংশ নিচ্ছে। বেশির ভাগ দল এশিয়া ও আফ্রিকা থেকে এসেছে — প্রত্যেক অঞ্চল থেকে ছয়টি করে দল নামিয়েছে— এবং বাকি দলগুলো ইউরোপ ও সেন্ট্রাল এশিয়ার মধ্যেই রয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা থেকে কোনো মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ এবারের টুর্নামেন্টে নেই।

অংশগ্রহণকারী পরিচিত নামগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, ইরান, কাতার, জর্ডান, তুরস্ক, মরক্কো, আলজেরিয়া, ইরাক, মিশর, সেনেগাল, তিউনিসিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, উজবেকিস্তান সহ আরও অনেকে। কিছু দল বহু বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে আসছে, আবার কারো জন্য এটি প্রথমবারের অভিজ্ঞতাও হতে পারে।

শুধু খেলোয়াড় নয়, কোচিং স্টাফে থেকেও মুসলিম উপস্থিতি চোখে পড়বে — অন্তত চারটি জাতীয় দলের দায়িত্বে আছেন মুসলিম কোচ। বিশ্বজোড়া তারকা মুসলিম ফুটবলারদের পারফরম্যান্সও অনুশীলন কক্ষ থেকে মাঠ পর্যন্ত আলো ছড়াবে।

এই অংশগ্রহণ কেবল সংখ্যার বৃদ্ধি নয়, বরং মুসলিম ফুটবলের ক্রমবর্ধমান মান ও প্রভাবের প্রতিফলন। শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও নজরকাড়া খেলা হলে ২০২৬ বিশ্বকাপ হবে কেবল দেশের নয়, সমগ্র মুসলিম বিশ্বের গৌরবের উৎসও।

ফুটবল যে মানুষের মধ্যে সংযোগ ঘটায় — সেই বার্তাই এই টুর্নামেন্টে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে। এই বিশ্বকাপ হবে একটি বড় প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মুসলিম দেশগুলো তাদের উন্নতি ও ঐতিহ্যকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার সুযোগ পাবে।