বাংলাদেশের উঠতি পেসার নাহিদ রানা তাঁর কঠোর পরিশ্রম এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে আইসিসির এপ্রিল মাসের ‘পুরুষ ক্রিকেটার অফ দ্য মান্থ’ নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মানের খবর নিশ্চিত করে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাম্প্রতিক তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে নাহিদের বোলিং ছিল সর্বোচ্চ আকর্ষণীয়। মিরপুরে প্রথম ওয়ানডেতে ভালো করতে না পারলেও (ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বেশি ৬৫ রান খরচ করে এক উইকেট), চট্টগ্রামে তিনি তোপের মত ফিরে আসেন। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৩২ রানে ৫ উইকেট এনে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো ফাইফার করেন। সিরিজের শেষ ম্যাচেও তিনি ২ উইকেট নিয়ে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এই তিন ম্যাচে নাহিদের সংগ্রহ ৮ উইকেট; গড় ১৬.৭৫ ও ইকোনমি মাত্র ৪.৪৬। সিরিজে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী হয় এবং নাহিদকে সিরিজসেরা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
এই পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই নাহিদকে জুলাইয়ে নয়—এপ্রিলের মাসের সেরা হিসেবে মনোনীত করা হয়, যেখানে তিনি ওমানের জাতিন্দর সিং ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অজয় কুমারকে পেছনে ফেলেন। গত বছরে এপ্রিলে মেহেদী হাসান মিরাজ এই সম্মান পেয়ে থাকায় এবার নাহিদের জন্য এটা বিশেষ একটি মাইলফলক।
নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে নাহিদও ৮ উইকেট নিয়েছিলেন ও প্রথমবার ফাইফার অর্জন করেছিলেন। এছাড়া সিরিজের পরে মিরপুরে অধিনায়কত্বাধীন টেস্ট ম্যাচে তিনি ফাইফার নিয়ে বাংলাদেশকে ১০৪ রানের জয়ের পথে এগিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
পুরস্কারজয়ের পর নাহিদ আইসিসিকে বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডের মত শক্ত প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ভালো করার পর মাসসেরা নির্বাচিত হওয়া সত্যিই অসাধারণ অনুভূতি। নিজের মাঠে এমন সাফল্য পাওয়ায় সিরিজটা আমার কাছে আরও বিশেষ। এটা আমি সারাজীবন মনে রাখব।’ তিনি teammatesদেরও ধন্যবাদ জানান, ‘পুরো সময় আমার সতীর্থরা আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছে এবং অটল সমর্থন দিয়েছে। তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আশা করি ভবিষ্যতেও দলের জন্য আরও জয় ও স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিতে পারব।’
নাহিদের এই অর্জন শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বাংলাদেশের পেস বোলিং তালিকায় নতুন উদ্যম যোগ করার প্রতীক; এই বয়সে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতে আরও বড় ভূমিকার ইঙ্গিত দেয়।
