সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন সুন্দরবনে গত রোববার (৩ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অস্ত্রের মুখে এক মৌয়াল ও এক জেলেকে অপহরণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের সংবাদে জানা যায়, মাহমুদা নদীর মাইটভাঙা খাল এলাকায় ওই সময় বনদস্যু আলিফের সদস্যরা তাদের তুলে নিয়ে যায়।
অপহৃতরা হলেন শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের হরিনগর গ্রামের মৌয়াল আব্দুল করিম (৪৮) এবং একই এলাকার জেলে ইসমাইল হোসেন (২৮)। তাদের সহকর্মীরা দাবি করেছেন, অপহরণকারীরা তাদের হাত-পা বেঁধে গভীর বনের দিকে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর যারা ফিরে এসেছেন—জেলে আব্দুল আলিম ও শামীম হোসেন—তারা জানান, অপহরণকারীরা ইসমাইলকে ছাড়া গেলে ৬০ হাজার টাকার মুক্তিপণ দাবি করেছে। আব্দুল করিমের বিষয়ে ওই দল এখনও কোনো দাবি জানায়নি বলে ফিরে আসা জেলেরা জানিয়েছেন।
পরিপ্রেক্ষিত জানা গেছে, গত ২৬ ও ২৮ এপ্রিল আলাদা দুটি নৌকায় এসব বনজীবী তাদের দলের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কদমতলা স্টেশন থেকে প্রয়োজনীয় পাস নিয়ে পশ্চিম সুন্দরবনে প্রবেশ করেন। তারা মধু আহরণ ও মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান করছিলেন।
এ ঘটনায় সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মশিউর রহমান জানান, তাদের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আসেনি; তবে বিষয়টি তদন্ত করা হবে এবং খোঁজাখবর নেয়া হবে। শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ খালেদুর রহমান বলেন, সাধারণত অপহৃতদের আত্মীয়রা নিরাপত্তার স্বার্থে কথা প্রকাশ করেন না, তবে যদি কোনো ভুক্তভোগীর স্বজন কিংবা নগদ ধারদেনকারীদের কাছে থেকে অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে আইনগত কর্মপদ্ধতি নেয়া হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, সুন্দরবনে মধু আহরণ ও মাছ শিকার নিয়ে ঢুকতে হলে পাস থাকা সত্ত্বেও নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকে। এলাকাবাসী ও বনকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে; তারা দ্রুত উদ্ধারের পাশাপাশি বনাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। কর্তৃপক্ষের তৎপরতা ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় আশা করা হচ্ছে অপহৃতরা শিগগিরই ফিরে আসবেন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
