টয়লেটে দুর্নীতি: পরিচ্ছন্নকর্মীদের বেতন কাটা দেখে ক্ষুব্ধ তামিম

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল সম্প্রতি মিরপুরের গ্যালারি ও ওয়াশরুম পরিদর্শন করে টয়লেটে চলমান অনিয়ম দেখে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, স্ত্রী-পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা তাদের নির্ধারিত পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না — একেবারে দিনের শেষে ৩০০-৪০০ টাকা মাত্র হাতে আসে।

সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপে তামিম বলেন, তিনি বিসিবি থেকে জানতে চান ক্লিনিং সার্ভিসের জন্য জনপ্রতি কত টাকা দেওয়া হয়। শুনে তিনি আশ্চর্য হন যে টাকার পরিমাণ ৬৫০ টাকা। এরপরই প্রশ্ন ওঠে, ৬৫০ টাকা গেলে এসব নারীরা কেন ৩০০ টাকা পাচ্ছেন? তামিম বলেন, ‘‘এই নারীদের থেকেও টাকা খাওয়া হচ্ছে—এটা একেবারেই জঘন্য এবং কষ্টের।’’

তামিম বলেন, মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম ২০০৭ সালে তৈরি হওয়া থেকে টয়লেটের কোনো সংস্কার হয়নি। তিনি নিজেও খালা আম্মাদের একটি বক্তব্য ভিডিওতে দেখেছেন যেখানে একজন পরিচ্ছন্নকর্মী বলেন তারা দিনে ৩০০ টাকা পান এবং এ বিষয়ে কেউ কিছু করছেন না।

একটি প্রবাসী দর্শকের ওয়াশরুম নিয়ে অভিযোগও তামিমকে ভিন্নভাবে বিব্রত করে। তিনি জানান, ফিনল্যান্ড থেকে আসা এক নারী সকালেই বিমানবন্দর থেকে সরাসরি মাঠে এসে উইশ করছিলেন এবং টয়লেটের অবস্থা দেখিয়ে অনুরোধ করেন যে ওয়াশরুম গুলো ঠিক করা উচিত।

বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হয়; ম্যাচগুলো মিরপুর ও চট্টগ্রামের স্টেডিয়ামে ভাগাভাগি করে হয়েছে। তামিম সতর্ক করে বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বেতন ঠিকমতো বোঝানো না হলে ওই কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি বাতিলসহ বিসিবিতে তাদের নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবও করবেন তিনি।

অবশেষে তামিম দাবি করেছেন, তিনি কোম্পানিকে নির্দেশ দিয়েছেন এই সিরিজের বিল জমা দিতে এবং সামনে ৩০ জন পরিচ্ছন্নকর্মী ডেকে তাদের প্রত্যেককে ৫০০ টাকাভিত্তিক পারিশ্রমিক দেখাতে। তিনি বলছেন, কোম্পানির জন্য ১০০‑১৫০ টাকা লাভ রাখা যায়, কারণ তাদের কার্যক্রম চালাতে কিছু খরচ থাকবে। তবে যদি কোম্পানি প্রতিশ্রুতি মেনে চলতে না চায়, তাহলে চুক্তি বাতিল এবং ভবিষ্যতে বিসিবিতে কাজের জন্য ব্ল্যাকলিস্ট করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তামিম।