বাগেরহাটের চিতলমারীর দড়িউমাজুড়ি গ্রামে বজ্রপাতে একযুগে তিলে তিলে গড়া আনন্দ মিস্ত্রি (৪০) ও লোপা হালদার (৩৩) দম্পতির সংসার এক মুহূর্তে ছাই হয়ে গেছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাত পোনে ১২ টার দিকে আগুন লাগার ঘটনায় পরনো কাপড় ছাড়া তাদের আর কিছুই রক্ষা পায়নি। সেই সময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ঘরে না থাকায় দম্পতি ও তাদের ১১ বছরের মেয়ে সংগীতা মতান্তরে মারা যাওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, আনন্দ ও লোপা দিনমজুরি করে সংসার চালান। প্রায় দশ বছর ধরে কষ্টে-করাটে নিজেদের ঘর সাজিয়ে তুলেছিলেন তারা। কিন্তু ওই রাতে বজ্রপাতের ফলে ঘরে হঠাৎ আগুন লেগে তাদের সব সঞ্চয়, জিনিসপত্র এবং ঘর-আসবাব পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এখন তাঁরা সম্পূর্ণ নিঃস্ব; মেয়েটির বিদ্যালয়ে যাওয়া সৃষ্টি স্থগিত হয়েছে। আনন্দ ও লোপা বলেন, ‘বার বছর ধরে কষ্ট করে যা করেছি সব ফুলকপি হয়ে গেল। যদি রাতের ওই সময়ে আমরা বা বাকি আত্মীয়রা ঘরে থাকতাম, হয়তো প্রাণও হারাতাম।’
ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০ টায় চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মশিউর রহমান খানের প্রতিনিধি ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা গাজী মুনিরুজ্জামানও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ইউএনও ক্ষতিগ্রস্থ দম্পতির মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করেন এবং জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পরবর্তী সহায়তার আশ্বাস দেন।
চিতলমারী ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের লিডার এস এম আব্দুর রহিম বলেন, খবর পেয়ে রাতে তারা ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে তখন পর্যন্ত দম্পতির অধিকাংশ সম্পদই পুড়ে গেছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজসেবকদের উদ্যোগে প্রাথমিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ভবিষ্যতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আর্থিক ও পুনর্বাসনমূলক সহায়তা দেয়া হবে বলে ইউএনও জানান। স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না গেলে এ পরিবার খুব দ্রুত দিনমজুরির ওপর নির্ভরশীল অবস্থায় আরও কষ্টে পড়বে।
