বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ ও বৈশাখী মৌসুমি বায়ুর জোরে মোংলা সমুদ্রবন্দরসহ সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে। গত দুদিন ধরে চলা টানা মাঝারি ও ভারী বর্ষণের ফলেই উপকূলীয় জনপদে জীবনযাত্রা স্তব্ধের উপক্রম; সাগর উত্তাল ও দমকা হাওয়ায় পুণরায় ব্যবসা-বাণিজ্য ও জেলে-কালজারদের কাজ প্রায় বন্ধের পথে।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, হারবাড়িয়া ও ফেয়ারওয়ে এলাকায় থাকা বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে পণ্য খালাস ও পরিবহন প্রকৃতিই মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। প্রধানত সার, কয়লা ও সিমেন্ট ক্লিংকারবাহী জাহাজে কাজ বন্ধ বা বিলম্ব হচ্ছে; অনেক ক্ষেত্রে খাদ্যবাহী জাহাজেরও কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। বৃষ্টির ফলে পণ্যের ভেজে যাওয়ার আশঙ্কায় কার্গো বা লাইটার জাহাজে লোডিং-আনলোডিং থমকে যাচ্ছে, ফলে বন্দরের বাণিজ্যিক কাজ কাঁপছে।
সুন্দরবন সংলগ্ন দুবলার চর, কানাইনগর ও জয়মনি এলাকায় ছলনা জেলে ও চরাঞ্চলের মানুষ জানিয়েছেন, সাগর উত্তাল হওয়ায় এবং ভারী বৃষ্টির কারণে তারা নদীতে জাল ফেলতে পারছেন না। বনভিত্তিক কার্যক্রমেও খণ্ডকালীন বিঘ্ন: গোলপাতা সংগ্রহকারী বাওয়ালি ও মৌয়ালরা বন থেকে বের হতে পারছেন না, ফলে তাদের আয়ের উৎসও ব্যাহত হয়েছে।
টানা বৃষ্টির প্রভাবে মোংলা পৌরসভার নিম্নাঞ্চলগুলোতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। অপর্যাপ্ত ড্রেনেজের কারণে রাস্তাঘাটে পানি জমে সাধারণ মানুষের চলাচলে ব্যাপক কষ্ট হচ্ছে; দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষদের কাজের সন্ধানও মিলছে না, যা এলাকায় সামাজিক ও অর্থনৈতিক কষ্ট বাড়িয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, উপকূলে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে; তাই মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। অধিদফতর ও বন্দর কর্তৃপক্ষ সাগর এলাকায় থাকা সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করার পরামর্শ দিয়েছেন।
মৎস্যচাষিরা জানান, যদি টানা বৃষ্টি চালিয়ে যায় তবে চিংড়ি ঘের ডুবি কিংবা ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি সুন্দরবন সংলগ্ন বেড়িবাঁধগুলোর স্থায়িত্ব নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পশুর নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বাড়ায় চরাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা প্রদান করার ব্যবস্থাও রয়েছ। বন্দর কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক মোঃ মাকরুজ্জামান বলেন, হারবাড়িয়ায় সার, কয়লা ও ক্লিঙ্কারসহ বেশ কয়েকটি জাহাজ পণ্য খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে; বৃষ্টি ও খারাপ আবহাওয়া শিথিল হলে বন্দরের কাজ পুনরায় স্বাভাবিকভাবে শুরু হবে।
আবহাওয়া ও সমুদ্রসতর্কতা মিলে স্থানীয়দের সচেতন থাকার উপদেশ দিয়েছেন। নিরাপদ স্থানে অবস্থান, প্রয়োজন ছাড়া নয়েজান করা এবং মৎস্যজীবী ও পর্যটনসংক্রান্ত নৌযানগুলোকে অনতিবিলম্বে উপকূলীয় নিরাপদ এলাকায় অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
