বাংলাদেশের বাজারে সোনা ও রুপার দাম বর্ধিত ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এ ঘোষণা অনুযায়ী, বুধবার (১৫ এপ্রিল) থেকে প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ২,২১৬ টাকা পর্যন্ত বেড়ে বর্তমানে ২,৫০,১৯৩ টাকা বা তার বেশি হয়েছে। এর আগে, মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এই দাম ছিল ২,৪৭,৯৭৭ টাকা। এই মূল্যবৃদ্ধির খবর সকাল ১০টার দিকে সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে, যা এখন থেকে কার্যকর।
সংগঠনটি জানিয়েছে, তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বাজারে এই দাম বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে, ২২ ক্যারেট মানের সোনার এক ভরি এখন ২,৫০,১৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ক্যারেটের দামের তথ্য হলো: ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২,৩৮,৮২০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২,৪,০৭৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার জন্য এক ভরি দাম ১,৬৬,৭৩৭ টাকা।
তালিকা অনুযায়ী, রুপার দামের ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়, ২২ ক্যারেটের রুপার এক ভরি এখন ৬,০৬৫ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৫,৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪,৯৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ৩,৭৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবশালী কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম সাম্প্রতিক সপ্তাহে ক্রমাগত বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্র মতে, বর্তমানে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪,৮২৩ ডলার পার হয়ে গেছে। এর আগে, ৩০ জানুয়ারি এই দাম ছিল প্রায় ৫,২০০ ডলার, এবং ২৯ জানুয়ারি তা বেড়ে ৫,৫৫০ ডলার হয়েছিল।
পাশাপাশি, গত মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে সোনার দামে দ্রুত উর্ধ্বগতি দেখা দেয়, যার প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। ২৯ জানুয়ারি সকালেই এক ভরি সোনার দাম এক লাফে ১৬ হাজার ২১০ টাকা বাড়িয়ে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়, যার ফলে সোনার এক ভরি দাম দাঁড়ায় ২,৮৬,০০০ টাকার বেশি। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে বিক্রয় হওয়ার রেকর্ড। এই মহাকাব্যিক মূল্যবৃদ্ধি প্রভাব ফেলেছে পুরো দেশের স্বর্ণশিল্পে, এবং ভবিষ্যতেও দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকার আশঙ্কা সামনে এসেছে।
