প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একাধিক বার বলেছেন, একটি সম্ভাবাময় ও শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যত গড়তে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ঐক্য এবং সহনশীলতা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশের রূপে গড়ে তুলতে হলে প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা বা অযথা বিতর্কের জায়গা নেই। বরং আমাদের সবাইকে একসঙ্গে এসে দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে। বিরোধিতা থাকলেও সেটাকে যেন কখনো শত্রুতা রূপ না দেয়, এটা আমাদের মানতে হবে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, দুর্নীতির কঠোর মোকাবিলা এবং জনজীবনে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, দেশের স্বার্থে এখনো নানান চক্র সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। এ জন্য আমাদের সবাইকে একত্রিত হয়ে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উক্তি তুলে ধরে বিস্তারিতভাবে বলেন, “জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।” এ বিতর্ক ও বিরোধ থাকলেও, সেটাকে যেন কখনো শত্রুতা রূপ না দেয়—এটাই আমাদের নীতির মূলমন্ত্র।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ এর মর্যাদাপূর্ণ বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী এসব কথাগুলো বলেন। এই অনুষ্ঠানে দেশের গৌরবময় স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে নিজেদের উৎসাহ ও গৌরবের কথা ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের আনুগত্যে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, আহত হয়েছেন বা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের এই দীর্ঘ পথে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সবার অবদান অসামান্য। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে গৌরবময় পুরস্কার ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ প্রবর্তন করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, যা দেশের স্বাধীনতা ও স্বীকৃতির জন্য অনন্য। এ বছর ১৫ জন ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়, যারা দেশের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন।
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, সত্যের প্রতি অটুট থাকলে ভবিষ্যতের ইতিহাস আমাদের ভুলাবে না। আমাদের সার্বজনীন ইতিহাসের অবদানশীল নেতাদের সম্মান জানাতে হবে, তা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এটা অনুচিত হবে। আগামীর জন্যও আমাদের আদর্শ ও ইতিহাসের স্বীকৃতি প্রয়োজন।
তিনি মন্তব্য করেন, স্বাধীনতা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিক্ষার উন্নয়ন থেকে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি—সবক্ষেত্রেই যারা কৃতিত্ব দেখিয়েছেন—তাদের প্রতি সম্মান ও পুরস্কার। এ বছর শহীদ প্রেসিডেন্টের স্মরণে, আশেপাশের ব্যক্তিবর্গ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে তিনি অভিনন্দন জানান। দেশের স্বনির্ভরতা, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য তাদের অবদান অনস্বীকার্য।
প্রধানমন্ত্রী দেশপ্রেম ও দেশের স্বার্থে সবাইকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের স্বপ্ন এক উন্নত, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার। তার মূল বার্তা, প্রতিশোধ বা অযথা বিতর্কের দরকার নেই। বরং একতাবদ্ধ হয়ে এগিয়ে যেতে হবে। বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরে দুর্নীতি, দুঃশাসন ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা মোকাবেলাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। শেখার মানোন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাও আমাদের লক্ষ্য।
নারীর নিরাপত্তা ও সমতা নিশ্চিত করাও আমাদের অঙ্গীকার। তিনি বলেন, নারীরা বাংলাদেশের অর্ধেক জনসংখ্যা, তাদের নিরাপদ পরিবেশ ছাড়া দেশের উন্নয়ন অনির্বাচ্য। সব ক্ষেত্রেই নারীর প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।
উন্নত দেশ গড়ার জন্য শিক্ষার আধুনিকায়ন, কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা ও জনগণের সচেতনতাই মূল চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য অনেক প্রাণ বলিদান করেছি, এখন সেই দেশের গর্বের পতাকা উঁচু রাখতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আমাদের প্রত্যাশা, স্ব-স্ব ক্ষেত্রের সফল অবদান বিশ্বজোড়ে স্বীকৃতি পাবে।
তিনি রাষ্ট্র পরিচালনায় দেশের উন্নয়ন ও জনগণের সুবিধা নিশ্চিত করতে সব কিছু করতে প্রস্তুত বলে উল্লেখ করেন। সরকারের অগ্রাধিকার গুরুত্ব দিয়ে বলেন, দুর্নীতি, দুর্বল শাসন কাঠামো ও আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য। জনগণের প্রতি সবসময় দায়বদ্ধ থাকার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ ব্যয় কমিয়ে অপচয় বন্ধ করে, সামঞ্জস্যপূর্ণ সরকার চালু রাখতে হবে। তিনি আগামীর প্রজন্মের জন্য দেশের উন্নয়ন ও শান্তি কামনা করেন।
