খুলনা রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) বলছেন — পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে ঘুষ, তদবির বা দালালচক্রকে একেবারেই গ্রহণ করা হবে না। বুধবার (১৫ এপ্রিল) কনফারেন্স রুমে আয়োজিত প্রেসব্রিফিংয়ে তিনি এই কঠোর বার্তা দেন।
ডিআইজি বলেন, ‘‘পুলিশে চাকরি পেতে টাকা লাগে—এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। জমিজমা বিক্রি করে বা ধার করে কোনো দালালের হাতে টাকা দেবেন না।’’ তিনি আবেদনকারীদের সতর্ক করে জানান, নিয়োগ পুরোপুরি স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক রাখা হবে—পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতিই নির্দেশক।
দালালদের দৌড়ঝাঁপ বন্ধে পুলিশের নিজস্ব গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানান ডিআইজি। তিনি আরও বলেন, যদি কেউ অর্থের বিনিময়ে চাকরি নেবে এবং সেটি পরবর্তীতে তিন বছরের মধ্যে প্রমাণিত হয়, তাহলে তার নিয়োগ বাতিল এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে প্রতারণার অভিযোগে কয়েকজন দালালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
ডিআইজি সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও এতিম প্রার্থীদের স্বার্থে বিশেষ জোর দেন—যোগ্যতা থাকলে তারা অগ্রাধিকারে নিয়োজিত হবেন। ‘‘তাদের জন্য কোনো তদবিরের প্রয়োজন নেই; মেধাই একমাত্র যোগ্যতা হবে,’’ তিনি বলেন।
এবারকার নিয়োগে প্রবল প্রতিযোগিতার চিত্র তুলে ধরে ডিআইজি জানান, খুলনা রেঞ্জে প্রতিটি পদের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৪ হাজার ৬৬৫ জন প্রার্থী আবেদন করেছেন। কোটাভিত্তিক পদে যদি উপযুক্ত প্রার্থী না পাওয়া যায়, তাহলে সাধারণ মেধাতালিকা থেকে শূন্যপদ পূরণ করা হবে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিনি গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন এবং জনসাধারণকে সচেতন করার অনুরোধ জানান—পুলিশে চাকরিতে কোনো টাকা লাগে না। কোথাও অনিয়মের তথ্য পান তৎক্ষণাৎ জানাতে বলেও তিনি অনুরোধ করেন; পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।
সংবাদ সম্মেলনে খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
