সাতক্ষীরা জেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্রীড়াদলের নবগঠিত কমিটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমেছেন সেখানে অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতারা। তারা মনোভাব প্রকাশ করেছেন, এই কমিটি গঠনে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা থাকেনি, বরং সুবিধাভোগী ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত ও আয়োজকরা স্থানীয় খেলোয়াড় ও সংগঠকদের মতামত উপেক্ষা করে এই কমিটি তৈরি করায় তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
প্রথমত, কেন্দ্রীয় আহবায়ক নিযাজ মোর্শেদ এবং সদস্য সচিব মো: জাহেদ পারভেজ চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এই কমিটিতে প্রকৃত মাঠপর্যায়ের খেলোয়াড় ও যোগ্য সংগঠকদের বদলে সুবিধাভোগীর স্থান দেওয়া হয়েছে বলে নেতাদের যুক্তি। বিশেষ করে, খুলনা কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্রীড়াদলের কেন্দ্রীয় সদস্য মো: হুমায়ুন কবির ডাবলুসহ কোনো পরামর্শ নেওয়া হয়নি। বরং এত দিন ক্ষমতার সুবিধা নেওয়া কিছু বিতর্কিত ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ পদ পান।
স্বেচ্ছায় ও স্বজ্ঞানে পদত্যাগকার নেতৃবৃন্দের মধ্যে রয়েছেন মো: অহিদুজ্জামান আকাম্য, ইকবাল কবির খান, মো: মাসুদ, তাপস কুমার সরকার, মো: আরিফুল ইসলাম রিপন, মো: মহাসিন, জি এম মাহমুদুল হক লালটু, মো: হযরত আলী, মো: শামীম হাসান সাঈদ, সুকুমার দাশ বাচ্চু, মো: শরিফুল ইসলাম, মো: অজিয়র রহমান ও মো: সাইফ হাসান মুকুল।
বলেন তারা, এই দুর্নীতিগ্রস্ত কমিটির মাধ্যমে দলের স্বার্থ ও কার্যক্রম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দলের নেতাকর্মীরা রাজপথে থেকে দলের দুর্দিনে সংগ্রাম করে গেছেন, তবে এই বিতর্কিত কমিটির কারণে তাদের কাজে অংশগ্রহণে অনিচ্ছুক মনে করছে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতার অভাবে। নেতারা তাদেনি অবিলম্বে এই কমিটি বাতিল করে, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের দ্বারা নতুন একটি কার্যকরী কমিটি গঠন করার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি গুলাম ফারুক বাবুকে আহবায়ক ও মীর তাজুল ইসলাম রিপনকে সদস্য সচিব করে ৭১ সদস্যের কমিটি প্রকাশের পর থেকে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা আলোচনা ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
একদিকে, জেলাযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্ত করেছেন ক্ষোভ, তারা লিখেছেন, ‘যারা অতীতের দিনগুলোতে আওয়ামী লীগ থেকে সুবিধা নিয়েছেন, সেই বলেই এখন সাতক্ষীরায় সব কমিটির নেতৃত্ব যেন তারা’। অন্যদিকে, ‘বিএনপি নেটওয়ার্ক সাতক্ষীরা’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট করা হয়েছে, যেখানে বিতর্কিত ব্যক্তিদের ছবি দিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ‘এটা যদি হয় নেতৃত্ব, তাহলে ত্যাগীদের কোথায় ঠাঁই?’ এই বিষয়গুলো স্থানীয় ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
