নির্বাচনের পর থেকে সহিংসতা অব্যাহত: ঝিনাইদহের দুটি গ্রামে পুরুষ Shূন্য আতঙ্কে নারী ও শিশুরা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ঝিনাইদহে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনা עדיין থামছে না। সদর উপজেলার ফুরসন্দি ইউনিয়নের কিছু গ্রামে বিএনপি’র দুই গ্র“পের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর ও প잘্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে এলাকা জুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে, যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার দাবি করলেও সেই বাস্তবতা অনেকের অভিযোগের সাথে সঙ্গতি রাখে না।

জানা গেছে, আসনপ্রার্থীদের মধ্যে এক পক্ষ ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক, ইউনিয়ন বিএনপির আহŸায়ক জাহিদ বিশ্বাস, এবং অন্য পক্ষ স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাপ-পিরিচ প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। ভোটের পর প্রভাবশালী বিরোধের জের ধরে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় অনেকের অভিযোগ, বিরোধের জেরে অন্তত ৫০ পরিবারের পুরুষ সদস্য গ্রামত্যাগ করে গেছেন। নারী ও শিশুরা এই পরিস্থিতিতে তীব্র আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

সদর উপজেলার ফুরসন্দি ইউনিয়নের মাড়ুন্দি বনকুমড়াপাড়া ও ল²ীপুর গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে আলাপচারিতায় জানা যায়, এই দুই গ্রামের প্রায় সব বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ক্ষত হয়েছে। গ্রামের অন্তত ৫০টি পরিবারের পুরুষেরা গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। রাতের বেলায় প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছে, ভয়ংকরভাবে মারধর করছে এবং জনগণের চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করছে। নারী ও শিশুদের ঘর থেকে বাহিরে যেতে পারছে না।

স্থানীয়রা বলছেন, ২২ ফেব্রুয়ারি ভোরের দিকে বিএনপি’র সমর্থক, ইউপি সদস্য হায়দার আলীর নেতৃত্বে কিছুদলের লোকজন ঢাল-সড়কি ও ককটেল নিয়ে হামলা চালায়। হামলায় অনেকেই আহত হন। মাজেদা খাতুন, তার স্বামী ১০ বছর ধরে হার্টের রোগী, হামলার ভয়ে পালিয়ে গেছেন। অন্যদিকে রাবেয়া খাতুন বলছেন, বাড়ির পুরুষরা বাইরে থাকায় তিনি নিজে ধান ক্ষেত সেচ দিতে যেতে বাধ্য হন, যেখানে হামলার ভয় কাজ করছে।

শাহানাজ পারভীন ও আলী হাসানের স্ত্রী শর্মিলা খাতুনের অভিজ্ঞতাও পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। তাদের অভিযোগ, সকালে অন্য গ্রাম থেকে শতাধিক লোক এসে হামলা ও বোমাবিস্ফোরণ চালিয়েছে। গ্রামবাসীরা বলছেন, ভোটের দিন থেকে এখন পর্যন্ত পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, হামলার ভয় ই তাদের অবস্থার অবনতি ঘটিয়েছে।

এ বিষয় নিয়ে সম্প্রতি জাহাঙ্গীর মন্ডল ও অন্যরা জানিয়েছেন, এই হামলার স্বীকৃতি ও দায় চাপানো হচ্ছে। ইউনিয়ন বিএনপি’র নেতা জাহিদ বিশ্বাস, ঘটনাকে সামাজিক দ্ব›দ্ব হিসেবে অভিহিত করে বলেন, উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বেশ কিছু অভিযোগ তাদের ওপর আনা হলেও সত্য নয়, এবং হায়দার মেম্বার একজন ভালো মানুষ।

ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জোরদার টহল ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, কয়েকটি ক্যাম্পে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে, জনসাধারণকে আর সহিংসতায় জড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে, যারা বাড়িতে থাকতে পারছেন না, তাদের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ- ৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ছিলেন গণঅধিকার পরিষদ ছেড়ে দলের মনোনয়নপ্রাপ্ত মোঃ রাশেদ খান। তবে, দলের মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, যার ফলস্বরূপ এই নির্বাচনী পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।