টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নতুন মোড় — পাকিস্তান না খেললে ডাক পেতে পারে বাংলাদেশ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই ক্রিকেট মহলে নতুন এক নাটক চলছে — বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার পর এবার ফের বিশ্বকাপে সাময়িকভাবে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা উঠেছে। ভারতীয় পত্রিকা হিন্দুস্তান টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি পাকিস্তান বিশ্বকাপ বর্জন করে, তাহলে তাদের জায়গায় যোগাযোগ করে বাংলাদেশকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

প্রতিবেদনে আইসিসির এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতিও আছে, যেখানে বলা হয়েছে পাকিস্তান না খেললে বাংলাদেশকে ‘এ’ গ্রুপে রাখা হতে পারে এবং অনুষঙ্গ হিসেবে সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হবে। সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় হলে আয়োজনে জটিলতা কমে যাবে—এটিই মূলত বিসিবার অনুরোধ ছিল।

এর আগেই, ২৪ জানুয়ারি আইসিসি বাংলাদেশের বদলে স্কটল্যান্ডকে রেখে নতুন সূচি প্রকাশ করে। একই দিন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) প্রধান মোহসিন নাকভি দাবি করেন যে আইসিসি বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় করেছে। নাকভির কথায়, বাংলাদেশ চেয়েছিল তাদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় নেওয়া হোক, কিন্তু আইসিসি সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি—আর ঠিক এই সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বকাপের বাইরে পড়ে।

বাংলাদেশ বাদ পড়ার দিনেই নাকভি বলেছেন, সরকার নির্দেশ দিলে পাকিস্তান বিশ্বকাপে অংশ নাও নিতে পারে। এরপরের দিনগুলোতে পাকিস্তানি মিডিয়ায় নানা খবর আসে: কেউ বলছে তারা শুধুমাত্র ভারতের বিরুদ্ধে খেলাটি বয়কট করতে পারে, আবার কেউ বলছে পুরো টুর্নামেন্টই বর্জনের কথা ভাবা হচ্ছে। নাকভি পরে সাংবাদিকদের দেখাতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে একটি বৈঠকের ছবি পোস্ট করে জানান যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সব সম্ভাব্য বিকল্প খোলা রাখা হচ্ছে। পিসিবি শীঘ্রই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে—সম্ভবত শুক্রবার বা আগামী সোমবার।

আইসিসির নিয়ম অনুসারে, কোনো দল বিশ্বকাপ থেকে সরে গেলে তাদের কাছাকাছি অবস্থান করা দেশের প্রতি সুযোগের অফার যায়। বর্তমানে টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে পাকিস্তান আছে ৭ নম্বরে এবং বাংলাদেশ ৯ নম্বরে, তাই পাকিস্তান সরে গেলে বাংলাদেশের নাম উঠে আসার সম্ভাবনা বেশি। আগে বাংলাদেশ নিজে নাম প্রত্যাহার করলে ১৪ নম্বরে থাকা স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

সব মিলিয়ে, যদি পাকিস্তান শেষ মুহূর্তে বিশ্বকাপ বর্জন করে, তাহলে আবারও বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে ফিরিয়ে আনার পথে আইসিসির সিদ্ধান্তে নির্ভর করতে হবে। এমন হলে ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের সম্ভাবনাও রয়েছে—যা আয়োজকদের জন্য সুবিধাজনক বলে মনে করা হচ্ছে। এখন অপেক্ষা আইসিসি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত পদক্ষেপের দিকে।