Category: সারাদেশ

  • চিকিৎসকের স্টিকারযুক্ত প্রাইভেট কারে ২৬টি সোনার বার উদ্ধার, ৩ জন আটক

    চিকিৎসকের স্টিকারযুক্ত প্রাইভেট কারে ২৬টি সোনার বার উদ্ধার, ৩ জন আটক

    যশোরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) একটি বিশেষ অভিযানে ২৬টি সোনার বার উদ্ধার করে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। উদ্ধার হওয়া সোনার বারের মোট ওজন ৩ কেজি ৪৮ গ্রাম এবং বিজিবি মূল্য হিসাব করে সেগুলোর মূল্য ধার্য করেছে প্রায় ৬ কোটি ৩৯ লাখ ৪৭ হাজার ৪০ টাকা।

    বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) এক বিশেষ টহল নিলগঞ্জ ব্রিজ (যশোর–নড়াইল মহাসড়ক) এলাকায় তল্লাশি পরিচালনা করে। সকালে সাড়ে চারটার দিকে ওই এলাকায় চিকিৎসকের স্টিকার লাগানো একটি প্রাইভেট কার থামিয়ে তল্লাশি করা হলে গাড়ির হেডরেস্টের ভেতর বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় ২৬টি সোনার বার পাওয়া যায়।

    ঘটনায় প্রাইভেট কারসহ আটক করা হয় শার্শার রাজনগর গ্রামের জহির উদ্দিনের ছেলে রনি (৩৬), চৌগাছার উত্তর কয়েরপাড়া গ্রামের ইসহাকের ছেলে আব্দুল গনি (৫৪) এবং যশোর সদর উপজেলার বাগডাঙ্গা গ্রামের ইব্রাহিম সরদারের ছেলে ইসরাইল (৪৬)।

    বিজিবি জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছেন যে ঢাকার আবদুল্লাহপুর ও উত্তরা এলাকায় থাকা চোরাকারবারিদের কাছ থেকে সোনাগুলো সংগ্রহ করে যশোরের চৌগাছা সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। অভিযানে সোনার বারের পাশাপাশি একটি প্রাইভেট কার, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৭ হাজার ৩২৭ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

    যশোর ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে সোনা পাচারের প্রবণতা বেড়েছে এবং এই ধরনের পাচার রোধে বিজিবির অভিযানগুলো অব্যাহত থাকবে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করে তাদের যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

  • চিতলমারীর পরিত্যক্ত হেলিপ্যাড হতে পারে ভবিষ্যতের মিনি স্টেডিয়াম

    চিতলমারীর পরিত্যক্ত হেলিপ্যাড হতে পারে ভবিষ্যতের মিনি স্টেডিয়াম

    বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের পরিত্যক্ত হেলিপ্যাড ভবিষ্যতে একটি আধুনিক মিনি স্টেডিয়ামে রূপান্তর হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর এই আবদার ছিল, এবং সম্প্রতি ক্রীড়া সচেতন নেতৃবৃন্দ এই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নের আশার বাতিসো করে তুলেছেন। জানানো হয়েছে, কাউন্সিল বা পরিকল্পনাকারীরা দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার জন্য একটি মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের চিন্তাভাবনা করছেন, কিন্তু উপযুক্ত স্থান না পাওয়ায় সেই পরিকল্পনা বারবার পিছিয়েছে। এখন সেই মনোভাবের প্রতিফলন ঘটতে পারে হেলিপ্যাডের পরিত্যক্ত জমিতেই, যেখানে খেলাধুলার জন্য সুবিধাজনক স্থান সৃষ্টি করে এলাকার যুবকদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে এক সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। মাঠের পাশাপাশি শিশুদের জন্য ছোটখাট রাইডার ও বিনোদনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করলেও এলাকার মানুষের প্রতিদিনের চাহিদা পূরণ হবে।

    চিতলমারী সদর ইউনিয়নের ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ সরকারের আমলে আড়–য়াবর্নী গ্রামে নির্মিত এই হেলিপ্যাডের নামানুসারে ৩ একর ৩৬ শতক জমি বিআরএস রেকর্ডে রয়েছে। বর্তমানে ওই স্থানটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে, যেখানে কিছু মৌজা মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন এবং বিভিন্ন সুস্থতা ও অপবিত্রতা দেখা দিয়েছে।

    অন্যদিকে বাজারের ব্যবসায়ী ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও পাশের বাসিন্দা শেখ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এখন আর হেলিকপ্টার ওঠানামা করে না। অনেক বছর ধরে এটি পরিত্যক্ত পড়ে আছে। কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সেখানে কলাগাছ ও পেঁপেঅগাছ লাগিয়ে জমি দখল করেছেন, আর পাশে ফেলা হয় ময়লা-আবর্জনা। এর ফলে দুর্গন্ধে সাধারণ মানুষ বসবাস করতে পারছেন না। রাতে মাদকসেবীদের আড্ডাও চলে এখানে। ফলে, এই জমিটিকে সচেতনতা ও পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবহার করলে এলাকার যুবসমাজ সুস্থ ধারায় ফিরবে।’

    বিশিষ্ট ক্রীড়া শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বিন্দু, ক্রীড়াবিদ সত্যজিৎ মন্ডল এবং যুব নেতারা জানান, এই অঞ্চলে খেলাধুলার জন্য উপযুক্ত মাঠের খুব অভাব। দীর্ঘদিনের এই প্রত্যাশা পূরণের জন্য হেলিপ্যাডের জায়গায় একটি আধুনিক মিনি স্টেডিয়াম বা খেলার মাঠ গড়ে তোলার প্রয়োজন। এতে করে যুব সমাজ আবারও খেলাধুলায় ফিরবে এবং সুস্থ জীবনধারায় অনুপ্রাণিত হবে।

    অঞ্চলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের নেতৃত্বে থাকা চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার বলেন, ‘প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য জেলা পর্যায় থেকে একটি খেলার মাঠের জন্য জায়গা নির্ধারণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে, জেলা প্রশাসক প্রত্যেক ইউনিয়নের জন্য নির্ধারিত জায়গাগুলোর তালিকা পাঠিয়েছেন। আমরা সেই অনুযায়ী কাজ করছি, এবং হেলিপ্যাডের পরিত্যক্ত জমি ক্ষেত্রবিশেষে বিকল্প পরিকল্পনা হিসেবে একটি বিখ্যাত খেলা মাঠের জন্য ব্যবহারের পরিকল্পনা করছি।’

  • বিশ্বকবির শ্বশুরবাড়ি দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্সের উন্নয়নে অর্ধযুগের বেশি সময়ের অপেক্ষা

    বিশ্বকবির শ্বশুরবাড়ি দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্সের উন্নয়নে অর্ধযুগের বেশি সময়ের অপেক্ষা

    বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিধন্য শ্বশুরবাড়ি খুলনার ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণডিহির ‘রবীন্দ্র কমপ্লেক্স’ দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত হয়নি। বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও এর উন্নয়ন এখনো অর্ধেকের বেশি অপ্রাপ্ত। ফলে, এই ঐতিহাসিক স্থানটি দর্শনার্থীদের জন্য বিরামহীন হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ ভবনগুলো দেখার সময় সেখানে যেতেও তেমন কোনও যোগাযোগ বা সংস্কার করা হয়নি। এর মধ্যেই আগামীকাল (৮ মে) থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী রবীন্দ্রনাথের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী ও লোকমেলা আয়োজন, যা দক্ষিণডিহি মহাশহরে উৎসবের রূপ নেবে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৯৫ সালে খুলনা জেলার তখনকার জেলা প্রশাসক কাজী রিয়াজুল হক এই স্থানে রবীন্দ্রনাথের শ্বশুরবাড়ির দখলমুক্তির উদ্যোগ নেন। অবৈধ দখল ও অবহেলা মুক্ত হয়ে স্থানটি সংরক্ষণ ও সংস্কারের জন্য ঠিক করা হয়। এরপর ২০০০ সালের ৮ আগস্ট প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এই বাড়ির দেখাশোনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। পরবর্তীতে, দক্ষিণডিহি এলাকায় পূর্ণাঙ্গ রবীন্দ্র কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ৪৯ লাখ টাকা চেয়ে চিঠি পাঠায়; এর মধ্যে ২২ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়।

    ২০১২ সালের মাঝামাঝি সময়ে এই তহবিলের অর্থ ব্যয়ে ভবন সংস্কার, বাউন্ডারি ওয়াল, বিদ্যুৎ সংযোগের পাশাপাশি কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন হয়। এর আগে, ভবনের সামনে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং তার পত্নী মৃণালিনী দেবীর বিশাল আক্ষরিক মূর্তি স্থাপন, পুরোনো ছবি দেওয়া ও মৃণালিনী মঞ্চের নির্মাণ হয়। তবে কবির কর্মময় জীবনের উপর সংগ্রহশালা, লাইব্রেরি, অডিটোরিয়াম, রবীন্দ্র চর্চা কেন্দ্র ও রেস্ট হাউসের মত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণের দাবি এখনও সম্পন্ন হয়নি। এ ছাড়াও পর্যটন কেন্দ্র, পিকনিক স্পট ও প্রবেশের রাস্তা প্রশস্ত করার কাজের অগ্রগতি খুব কম। একমাত্র সীমানা প্রাচীর, মূল ভবনের সংস্কার, লাইব্রেরি ও দর্শনার্থীদের জন্য নির্মিত ছাউনী ও টয়লেটের কাজ দৃশ্যমান।

    ফুলতলার সাবেক ইউএনও সাদিয়া আফরিনের সময় দৃষ্টিনন্দন পার্কের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। এর পাশাপাশি, ২০১৬ সালে এই স্থানটি ‘দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র স্মৃতি যাদুঘর’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এরপর থেকে দেশি-বিদেশি দর্শকদের জন্য টিকেটের মূল্যও নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে দেশের দর্শকদের জন্য ২০ টাকা এবং বিদেশীদের জন্য ৫০ টাকা নির্ধারিত।

    করোনা মহামারীর কারণে গত তিন বছর ভ্রুক্ষেপে অনুষ্ঠান হয়নি। তবে এখন, রবীন্দ্রনাথের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকীতে, ২৫ থেকে ২৭ বৈশাখ পর্যন্ত এই কমপ্লেক্সে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, লোকমেলা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় ও খুলনা জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই উদযাপন খুবই উৎসাহের সঙ্গে পালন করা হচ্ছে। বিশেষ করে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় কবি রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিধন্য এই কমপ্লেক্সকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে।

    আগামীকাল বিকেল ৩টায় এই তিন দিনের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন প্রধান অতিথি হিসেবে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান এমপি। এছাড়াও উপস্থিত থাকবেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিদ্য ইসলাম অমিত, জাতীয় সংসদ হুইপ রকিবুল ইসলাম এমপি, খুলনা-৫ ও ৪ আসনের সংসদ সদস্য মো: আলি আজগার ও এস কে আজিজুল বারী, খুলনা বিভাগের কমিশনার মোঃ আব্দুল্লাহ হারুন, ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক প্রমুখ। জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত এই বৃহৎ অনুষ্ঠানের সমন্বয় করবেন।

    ফুলতলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুচি রানা সাহা জানান, সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবাই সহযোগিতা করলে এই অনুষ্ঠান সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে। এ অনুষ্ঠানমেলায় সাধারণ মানুষের আগমন বেশি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • খুলনা মহিলার মানববন্ধনে মেলার প্রতিবাদ: খেলার মাঠের অবনতি রোধের আহ্বান

    খুলনা মহিলার মানববন্ধনে মেলার প্রতিবাদ: খেলার মাঠের অবনতি রোধের আহ্বান

    খুলনা বিভাগের মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে মেলার বিরুদ্ধে খুলনা ক্রীড়াঙ্গনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) এ কর্মসূচি পালিত হয়। অভিমত প্রকাশকারী বক্তারা বলেন, ‘খেলার মাঠে মেলা নয়’—এটাই এখন তাদের মূল প্রতিপাদ্য। তারা বলেন, যুব সমাজকে মোবাইলের বেশি আসক্তি ও মাদক থেকে রক্ষা করতে খেলার মাঠের গুরুত্ব অপরিসীম, যেখানে শিশু, কিশোর ও যুবকরা সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ পায়। কিন্তু সম্প্রতি এসব খেলার মাঠে মেলা বসানো শুরু হওয়ায় অবক্ষয় শুরু হয়েছে।
    বক্তারা আরও বলেন, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক একজন খেলোয়াড় ছিলেন। তিনি ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, জেলা পর্যায়ে খেলার মাঠে মেলা বসানো যাবে না। এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে খুলনায় ক্রীড়াঙ্গন এখন ব্যথিত এবং প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে।
    মানববন্ধনের নেতৃত্বে ছিলেন দক্ষ ক্রীড়া সংগঠক, সাবেক জেলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির সদস্য আরাফাত রহমান কোকো। তিনি বলেন, ‘খেলার মাঠকে অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।’ এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন খুলনা টাউন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও ক্রীড়াসংঘের সচিব মোঃ তরিকুল ইসলাম, অন্য দলের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন ক্লাবের কর্মকর্তারা ও খেলোয়াড়রা। বিভিন্ন স্কুল ও যুব সংগঠনের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নিয়েছেন। কর্মসূচি শেষে বক্তারা অবিলম্বে মাঠে মেলা বন্ধের দাবি তুলে পরিস্থিতির সচেতনতা বৃদ্ধিতে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান, যেন ভবিষ্যতে শিশুদের জন্য নিরাপদ ও সুস্থ খেলার পরিবেশ নিশ্চিত হয়।

  • চিতলমারীতে জামায়াত নেতা হত্যা: দোকানে ঝগড়া থেকে হত্যা

    চিতলমারীতে জামায়াত নেতা হত্যা: দোকানে ঝগড়া থেকে হত্যা

    বাগেরহাটের চিতলমারীতে জুস ক্রয়কে কেন্দ্র করে মোঃ মোজাহিদ মোল্লা (৪২) নামে এক মুদি দোকানীকে ক্রেতা কুপিয়ে হত্যা করেছে। বুধবার (৭ মে) ভোর ৭টার দিকে উপজেলার হিজলা ইউনিয়নের হিজলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত মোজাহিদ মোল্লা ওই এলাকার সরোয়ার মোল্লার ছেলে এবং বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর হিজলা ইউনিয়ন শাখার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান এবং স্থানীয় জামায়াত ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন, শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। অপ্রত্যাশিত এই হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি ঘটনার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিহতের স্বজনরা জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে মোজাহিদ বাড়ির সামনে একটি দোকানে বসে ছিলেন। সেই সময় বায়জিদ শেখ নামের একজন তার হাতে থাকা জুস ক্রয় করেন। জুস হাতে নিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা ভালো না।’ এই কথা শুনে মোজাহিদ জুসটি খেয়ে বলেন, ‘এটা খারাপ না।’ দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হলে উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে বায়জিদ তাঁর হাতে থাকা হাসুয়া (ঘাস কাটা কাস্তে) দিয়ে মোজাহিদ মোল্লার গলায় কোপ দেয়। এতে গুরুতর আহত হন মোজাহিদ, তাকে দ্রুত চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, ঘটনার সময় মোজাহিদ দোকানে বসে ছিলেন। বায়জিদ তার কাছে থেকে জুসটি নেওয়ার পর বলে, ‘এটা ভালো না।’ কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে, বায়জিদ হাসুয়া দিয়ে মোজাহিদকে কোপ দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বায়জিদ শেখকে গ্রেফতার করে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। নিহতের পরিবারে রয়েছে তার স্ত্রী ও তিন সন্তান—হাফিজ, ফারিয়া ও ফারহানা। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, হত্যাকাণ্ডের পরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় গণতান্ত্রিক শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

  • কেসিসি তেল চুরির বিরুদ্ধে তিন দফা কমিটি গঠন

    কেসিসি তেল চুরির বিরুদ্ধে তিন দফা কমিটি গঠন

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) কর্তৃপক্ষ তেল চুরির কারণে চক্রের তদন্তে আরও সক্রিয় হয়েছেন। এই লক্ষ্যে তারা তিন দফায় আলাদা কমিটি গঠন করেছে। সর্বশেষ, গত ৪ মে তিন সদস্যের একটি কমিটি তৈরি করা হয়, যার নেতৃত্বে রয়েছেন কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোঃ আনিসুজ্জামান। এর সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত আছেন কেসিসির কনজারভেন্সি অফিসার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান ও উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সেলিমুল আজাদ।

    প্রথম কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেয়া হয় ৪ মে, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরার স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে। এতে জানানো হয়, ১৯ মার্চ দুপুর সোয়া বারোটার দিকে খালিশপুরের এসটিএস এর ভিতর একটি ব্যাক হুইল লোডার জ্বালানি তেল চুরির অভিযোগ উঠলে, প্রশাসকের নির্দেশে ঘটনাস্থলে গিয়ে জব্দ করা হয় তেলসহ যানবাহনটি। দ্রুত তদন্তের জন্য তিন সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়, এবং পঞ্চাশির মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়।

    ঘটনার পর, কমিটিতে একজন সদস্যের উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি ওঠায়, ওই সদস্যকে বাদ দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। বাদ পড়েন কেসিসির এস্ট্রেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিন। পরিবর্তে, আবার সদস্য হিসেবে যোগ দেয়া হয় নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আনিসুজ্জামানকে।

    দ্বিতীয় দফায় গঠিত কমিটির প্রধান হন মোঃ আনিসুজ্জামান। তবে, কমিটির অন্য একজন সদস্য, কনজারভেন্সি অফিসার মোঃ অহেদুজ্জামান ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন। ফলে, তদন্তের সময়সীমা পাঁচ কর্মদিবস শেষ না হওয়ার আগেই আবার কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।

    উল্লেখ্য, এর পূর্বে, সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এর সময় দুই ড্রাম চোরাই তেলসহ দু’জনকে আটক করে কেসিসি। কিন্তু, সেই তদন্তের রিপোর্ট এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। অনেকে মনে করেন, যদি সেই তদন্ত রিপোর্ট পুনরায় খতিয়ে দেখা হয়, তবে চোরাই চক্রের মূল মুখোশ উন্মোচন সম্ভব হবে।

    নতুন কমিটির অন্যতম সদস্য কনজারভেন্সী অফিসার মোঃ আনিসুর রহমান এই ব্যাপারে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি এ ঘটনায় বাদী। কিন্তু আমাকে কীভাবে কমিটির সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সেটি আমাদের জন্য খুব অবাক বলেই মনে হয়েছে।’

  • এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ: যশোর বোর্ডে কেন্দ্র সচিবসহ তিনজনকে অব্যাহতি

    এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ: যশোর বোর্ডে কেন্দ্র সচিবসহ তিনজনকে অব্যাহতি

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ড কেন্দ্র সচিবসহ তিনজনকে গতিবরে অব্যাহতি দিয়েছে। বোর্ড আশ্বস্ত করেছে, ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীর ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়বে না।

    জানা গেছে, ৩০ এপ্রিল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলার সলিমুন্নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষার সময় এ দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে। কেন্দ্রের ২০৪ নম্বর কক্ষে নলডাঙ্গা ইব্রাহিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থী সাদিয়া খাতুন অংশ নিই। অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য পৃথক প্রশ্নপত্র থাকা সত্ত্বেও কক্ষ পরিদর্শকরা ভুলবশত তাকে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র বিতরণ করেন।

    পরীক্ষা শেষে বাড়িতে পৌঁছে পরিস্থিতি টের পেয়ে সাদিয়া বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানায়। পরে তদন্ত করে বিষয়টি সত্য প্রমাণিত হওয়ায় কক্ষ পরিদর্শক—সুন্দুরপুর চাঁদবা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম এবং কে.পি.কে.বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাসির উদ্দীনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

    ঘটনায় কেন্দ্র সচিব ও সলিমুন্নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিদৌরা আক্তারকেও স্থানে থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর জায়গায় সহকারী প্রধান শিক্ষক গৌতম তরফদারকে নতুন কেন্দ্র সচিব হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।

    বিদৌরা আক্তার অব্যাহতির বিষয়ে জানান, অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নপত্র তিনি সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের চিহ্নিত করে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন এবং এই বিষয়ে ভিডিও প্রমাণও আছে। তবুও কেন তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, তা তিনি বোধগম্য করেন না।

    কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা রয়েছে এবং যশোর শিক্ষাবোর্ড প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল আলিম জানান, কেন্দ্র সচিব পরিবর্তনের কথা তিনি শুনেছেন, তবে এখনো লিখিত কোনও নির্দেশনা পাননি।

    যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. আব্দুল মতিন বলেন, ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের দায়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে ওই পরীক্ষার্থীর কোনো ক্ষতি হবে না এবং সে প্রশ্নপত্র অনুযায়ী তার উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে।

    ঘটনাটি পরীক্ষাকেন্দ্রে তদারকি ও দায়িত্ব পালনের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য পৃথক প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আরও কঠোর সতর্কতা ও নির্ধারিত প্রটোকল অনুসরণের দাবি তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • নড়াইলে ঘুমন্ত স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামী গ্রেফতার

    নড়াইলে ঘুমন্ত স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামী গ্রেফতার

    নড়াইলের বাহিরগ্রাম মধ্যপাড়া এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে ঘুমন্ত স্ত্রীর উপর তলোয়ারنما বটিতে আঘাত করে হত্যার অভিযোগে স্বামী সাকিব শেখ (২৫)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রাত দেড়টার দিকে ঘটেছে এই নৃশংস ঘটনা।

    নিহত গৃহবধূ খাদিজা আক্তার চাঁদনী (২০) খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলার আলকা গ্রামের কালাম শেখের মেয়ে। অভিযুক্ত সাকিব শেখ একই উপজেলার দামোদার গ্রামের জাহিদ শেখের ছেলে। তাদের সংসারে সাড়ে তিন বছর বয়সী একটি ছেলে, তুফান, রয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত সোমবার (৪ মে) দুপুরে খুলনা থেকে সাকিব ও চাঁদনী নড়াইলের বাহিরগ্রাম মধ্যপাড়া এলাকায় সাকিবের খালুর বাড়িতে যেতে। রাতের খাবার শেষে সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। রাত দেড়টার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় সাকিব চাঁদনীকে বটি দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন। চাঁদনীর চিৎকারে স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    স্থানীয়দেরও অভিযোগ, সাকিব মাদকাসক্ত এবং কর্মবিমুখ হওয়ায় দম্পতির মাঝে প্রায়ই পারিবারিক কলহ থাকত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাকিবও পারিবারিক কলহের বিষয়টি স্বীকার করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    নড়াইল সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ কামরুজ্জামান জানান, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং সন্দেহভাজন সাকিবকে আটক করেছি। ঘটনার সঙ্গে ব্যবহৃত খড় কাটা বটি, বিছানার চাদরসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তদন্ত চলছে।

  • মুক্তিপণের দাবিতে সুন্দরবন থেকে ২২ জেলে অপহরণ

    মুক্তিপণের দাবিতে সুন্দরবন থেকে ২২ জেলে অপহরণ

    সাতক্ষীরা জেলার সুন্দরবন থেকে জলদস্যু আলিম ও নানাভাই বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মুক্তিপণের দাবিতে ২২ জন জেলে অপহরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার সকাল থেকে সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের চুনকুড়ি, মালঞ্চ নদীর আগা, চালতেবেড়, মাইটভাঙা ও পশুরতলা খাল থেকে অস্ত্রের মুখে এসব জেলেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

    জলদস্যুরা অপহৃতদের মধ্যে পাঁচজনকে মারধর করে মুক্তিপণ পাঠানোর শর্তে ছেড়ে দিয়েছে; বাকী ১৭ জন এখনও জিম্মি রয়েছেন। আহত ও ফিরে আসা জেলেরা জানিয়েছে, তারা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ, রমজাননগর ও ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

    এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত জিম্মি থাকা ১৭ জন জেলের নাম ও তথ্য (বয়সসহ) নিম্নরূপ:

    সিংহড়তলী গ্রামের আবুল ফকিরের ছেলে মোমনি ফকির (৩০), হরিনগর গ্রামের মুর্শিদ আলম (৪০), হরিনগর গ্রামের মিজানুর শেখের ছেলে ইসমাইল শেখ (২৮), মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে আব্দুল করিম (৪৮), সেন্ট্রাল কালিনগর গ্রামের ছাত্তার সানার ছেলে আব্দুস সামাদ (৪০), কুলতলি গ্রামের মনোহর সরকার (৩৪), চুনকুড়ি গ্রামের গোলাম মোস্তফারের ছেলে আল মামুন (১৬), রুহুল আমিনের ছেলে হুমায়ুন (২৬), খালেক মোল্যার ছেলে মনিরুল (২৫), আব্দুল হাইয়ের ছেলে রবিউল (৩০), গণেশ মন্ডলের ছেলে সঞ্জয় (৫২), বড় ভেটখালী গ্রামের আলমগীরের ছেলে আলআমিন (৩৭), ফরেজ গাজীর ছেলে শাহাজান (৫০), জুলফিকারের ছেলে আবুল বাসার বাবু (৩৫), কদমতলার ছাকাত গাজীর ছেলে রেজাউল (৩৫), দক্ষিন কদমতলার সাদেক সর্দারের ছেলে আব্দুস সালাম (৫৫) এবং ধুমঘাট গ্রামের কওছার গাজীর ছেলে আবুল কালাম (৪০)।

    মুক্তিপণ দাবীতে মারধর করে ছেড়ে দেয়া পাঁচ জেলের নাম হল: কুলতলি গ্রামের মৃত নিরাপদ সরকারের ছেলে ধ্রুবো সরকার (৩৮), দক্ষিন কদমতলা গ্রামের সুবোল মন্ডলের ছেলে হৃদয় মন্ডল (৫৩), হরিনগর গ্রামের বাবুর আলী গাইনের ছেলে সবুর গাইন (৫০), সিংহড়তলীর গোলদার পাড়ের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩২) এবং আনছার গাজীর ছেলে ইউনুস আলী (২৬)।

    অপহৃতদের আত্মীয়-স্বজন, মহাজন এবং ফিরে আসা জেলেরা জানান, তারা সুন্দরবনে অভিযান চালাতে আগে সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা ও কৈখালী স্টেশন থেকে অনুমতিপত্র নিয়ে গিয়েছিলেন। মৎস্যশিকারের সময় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অবস্থায় জলদস্যুদের সদস্যরা তাদের ধরে নিয়ে গেছে। পরিবারের এক পরিচিত সূত্র (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) বলেন, এখনো পর্যন্ত জলদস্যুরা কোনো নির্দিষ্ট মুক্তিপণের অংক জানাননি; মোবাইল নেটওয়ার্ক ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিপণ দাবি জানাতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। তারা সরকারের কাছে দ্রুত জেলেদের উদ্ধার করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

    ফিরে আসা জেলাদের বক্তব্য, জলদস্যুরা লোকালয়ের কাছাকাছি এলাকা থেকেও জেলেদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে এবং ব্যাপক মারধর করছে, ফলে সুন্দরবনের তীরবর্তী জেলেরা এখন ভীত ও অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে।

    সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মশিউর রহমান জানিয়েছেন, জেলেদের অপহরণের বিষয়টি তারা ইতিমধ্যে কোস্টগার্ডকে অবহিত করেছে এবং দ্রুত বড় আকারে অভিযান চালানো হবে। শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. খালেদুর রহমান বলেছেন, অপহরণের বিষয়টি এখনও পর্যন্ত জেলের কোনো পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জানানো হয়নি; আপনারা আমাদের মাধ্যমে জানানো হলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

    স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, নিরাপত্তা বাড়ানো না হলে সুন্দরবনের জেলে সম্প্রদায় আরও আক্রান্ত হতে পারে; তারা দ্রুত সরকারের হস্তক্ষেপ ও নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছে।

  • এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ: যশোর বোর্ডে কেন্দ্র সচিবসহ ৩ জনকে অব্যাহতি

    এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ: যশোর বোর্ডে কেন্দ্র সচিবসহ ৩ জনকে অব্যাহতি

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যশোর শিক্ষা বোর্ড বৃহস্পতিবার কেন্দ্র সচিবসহ তিনজনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে এবং বলেছে—ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীর ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়বে না।

    ঘটনাটি ঘটে ৩০ এপ্রিল, যখন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছিল। কালীগঞ্জ উপজেলার সলিমুন্নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রের ২০৪ নম্বর কক্ষে নলডাঙ্গা ইব্রাহিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থী সাদিয়া খাতুন অংশ নেন। নিয়ম অনুযায়ী অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর জন্য পৃথক প্রশ্নপত্র থাকলেও কক্ষ পরিদর্শকরা ভুলবশত তাকে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রই প্রদান করেন।

    পরীক্ষা শেষে বাড়ি গিয়ে বিষয়টি বুঝতে পেরে সাদিয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালে তদন্ত করে বিষয়টি নিশ্চিত হয়। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কেন্দ্রের দুই কক্ষ পরিদর্শক—সূন্দরপুর চাঁদবা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম ও ক.পি.কে.বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাসির উদ্দীন—কে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিব ও সলিমুন্নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিদৌরা আক্তারকেও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তার বদলে সহকারী প্রধান শিক্ষক গৌতম তরফদারকে নতুন কেন্দ্র সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

    বিদৌরা আক্তার বলেন, অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর জন্য যে বিশেষ প্রশ্নপত্র ছিল, তিনি তা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বুঝিয়ে চিহ্নিত করে দিয়েছিলেন এবং এর ভিডিও প্রমাণও আছে। তবুও কেন তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে তা তিনি মেনে নিতে পারছেন না।

    কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেছেন, বিষয়টি তার কাছে পরিচিত এবং যশোর শিক্ষাবোর্ড প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল আলিম বলেন, তিনি কেন্দ্র সচিব পরিবর্তনের খবর শুনেছেন, তবে এখনও লিখিত নির্দেশনা পাননি।

    যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. আব্দুল মতিন নিশ্চিত করেছেন যে ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের দায়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং ওই পরীক্ষার্থীর কোনো ক্ষতি হবে না—যে প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছে, তার অনুযায়ীই উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে।

    ঘটনাটি পরীক্ষাকেন্দ্রে তদারকি ও দায়িত্ব পালনের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর জন্য পৃথক প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনায় আরও সতর্কতা এবং দৃঢ় তদারকির প্রয়োজনীয়তা বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।