খুলনায় ১১ বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। এর পাশাপাশি তাঁকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং জরিমানা না পরিলে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে রাখা হবে। অভিযুক্ত যুবক সিয়াম হোসেন কাজল (২০), যিনি নগরীর শিববাড়ি মোড় পালপাড়া এলাকার বাসিন্দা শেখ আবুল ফজল বাবলুর ছেলে। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এই মামলার রায় বৃহস্পতিবার খুলনা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ আকরাম হোসেন প্রদান করেন। আদালতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার নিশ্চিতকরণে জানা গেছে, রায় কার্যকর হয়।
Category: সারাদেশ
-

নড়াইলে তিন মাসের শিশু হত্যার অভিযোগ, মা আরিফা জিজ্ঞাসাবাদে আটক
নড়াইল সদর উপজেলার শাহাবাদ ইউনিয়নের আলোকদিয়া এলাকায় এক তিন মাস বয়সী কন্যা শিশু তাবাসসুমকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিহত শিশুর মা আরিফা বেগকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ওই এলাকায় আটক করেছে।
ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে ঘটে বলে জানিয়েছেন নড়াইল সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ওলি মিয়া। পুলিশ বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তাবাসসুমের বাবা প্রবাসী মানিক চান মোল্যার বাড়ি নড়াইল সদর উপজেলার আড়ংগাছা গ্রামে। প্রায় দেড় বছর আগে আলোকদিয়ার খায়রুল বিশ্বাসের মেয়ে আরিফা খাতুনকে ওই গ্রাম থেকেই মানিক চান মোল্যা বিয়ে করেন। সন্তান জন্মের পর আরিফা সাধারনত শশুরবাড়িতেই ছিলেন। কিছু দিন আগে তিনি মেয়ে তাবাসসুমকে নিয়ে বাবার বাড়ি আলোকদিয়ায় বেড়াতে আসেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার ভোরে স্থানীয় একটি সংবাদ পেয়ে সবাই ছুটে গিয়ে জানতে পারে তাবাসসুমকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে এবং নিহতের মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।
নিহতের চাচা শামিম মোল্যা বলেন, ‘‘গতকাল আমার ভাই কুয়েত থেকে ফোন করে বলেছিল আজ ওরা বাড়ি যাবে। কিন্তু আজ ভোরে আলোকদিয়া থেকে ফোন করে বলল আপনার ভাতিজিকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এসে দেখি তার গলার দুইপাশে দাগ আছে।’’
নড়াইল সদর থানা পুলিশ কর্মকর্তা মো. ওলি মিয়া বলেন, ‘‘জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত শিশুর মাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা সম্পর্কে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ চলছে, পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’’
এ ঘটনায় স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন; পুলিশ আরও তদন্ত চালাচ্ছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে।
-

খুলনায় হামের উপসর্গে নয় মাসের শিশুর মৃত্যু
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নয় মাস বয়সী শামীমের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল পরিচালক আইনুল ইসলাম এই তথ্য বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) নিশ্চিত করেছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার (৮ এপ্রিল) ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে শামীমকে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের অভিযোগ, শিশুটি হামের লক্ষণ দেখাচ্ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে একটু সুস্থভাবে দেখায় ভেবে তাকে নিয়ে পুনরায় ঝিনাইদহের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
পথিমধ্যে শিশুটির শ্বাসকষ্ট তীব্র হয়ে ওঠায় তারা দ্রুত যুক্ত করে শিশুটিকে আবার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন এবং ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল পরিচালক আইনুল ইসলাম বলেন, হামের কারণে শামীমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। শিশুটির টনসিল ও ব্রংকাইটিসের উপসর্গও ছিল। বাসায় ফেরার পথে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে পরিবারের লোকজন তাকে পুনরায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন, সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।
ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত্যু সংক্রান্ত আইনি ও চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে এবং ঘটনার বিস্তারিত পরীক্ষার তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে বলে তারা জানিয়েছে।
-

নড়াইলে ৩ মাসের কন্যা শিশুকে হত্যা, মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ
নড়াইল সদর উপজেলার শাহাবাদ ইউনিয়নের আলোকদিয়া এলাকায় বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল থেকে বেলায় সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে যে তাবাসসুম নামে তিন মাসের এক কন্যা শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে শিশুটির মা আরিফা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ওলি মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সকাল সারে জরুরি সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের মা আরিফাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। এই ঘটনার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তাবাসসুমের বাবা নড়াইল সদর উপজেলার আড়ংগাছা গ্রামের প্রবাসী মানিক চান মোল্যা। ওই পরিবার আগে আড়ংগাছায় ছিল; দেড় বছর আগে আরিফা খাতুনকে ওই প্রবাসীকে বিয়ে করেন। সন্তান জন্মের পর আরিফা শশুরবাড়িতেই ছিলেন। কয়েক দিন আগে আরিফা ও তার কন্যাকে নিয়ে তারা আলোকদিয়ার বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।
নিহত শিশুর চাচা শামিম মোল্যা বলেন, ‘‘গতকাল আমার ভাই কুয়েত থেকে ফোন দিয়ে বলেছিল তারা আজ বাড়ি আসছে। কিন্তু আজ ভোরে ঘরে ফোন দিয়ে জানালেন আপনার ভাতিজিকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এসে দেখি তার গলার দুই পাশে দাগ রয়েছে।’’
স্থানীয়রা ও পুলিশ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের ওপর জোর দিয়েছেন। তদন্তকারীরা মৃতু্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণের জন্য আরও অনুসন্ধান চালাচ্ছেন এবং ময়নাতদন্তসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে জানানো হয়েছে।
-

খুলনায় হামের উপসর্গে নয় মাসের শিশুর মৃত্যু
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নয় মাস বয়সী শামীম নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক আইনুল ইসলাম বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে এ তথ্য জানান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৮ এপ্রিল) ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে শামীমকে তার বাবা-মা নিয়ে এসেছে। শিশু হামের উপসর্গ দেখা দেয়ায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত শিশুটি কিছুটা সুস্থ থাকায় তার পরিবার তাকে নিয়ে ফের ঝিনাইদহের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
কিন্তু পথিমধ্যে শ্বাসকষ্ট তীব্র হলে পরিবার আবার শিশুটিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেখানে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল পরিচালক আইনুল ইসলাম জানান, ‘‘হামের কারণে শামীমের মৃত্যু হয়েছে, এমনটা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। শিশুটির টনসিল ও ব্রংকাইটিসের উপসর্গও ছিল।’’
-

খুলনায় পহেলা বৈশাখ উদযাপন: শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলা
পহেলা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন করে খুলনায় নানা সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। খুলনা জেলা প্রশাসন আনন্দঘন ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে দিবসটি পালনের জন্য পৃথক–পৃথক আয়োজন করেছে।
উৎসবের সূচনা হবে সকাল আটটায় খুলনা রেলওয়ে স্টেশন প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়া বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা দিয়ে। শোভাযাত্রাটি শহিদ হাদিস পার্কে এসে শেষ হবে। শোভাযাত্রার পরে সকাল সাড়ে নয়টায় শহিদ হাদিস পার্কে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুরস্কার বিতরণ ও দিনব্যাপী লোকজ মেলার আয়োজন করা হবে, যেখানে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী শৈল্পিক পরিবেশ ও পারফরম্যান্স দেখা যাবে।
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগার এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর যৌথভাবে শিশুদের জন্য চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে। প্রতিযোগিতা ও অনুষ্ঠানগুলোর নির্দিষ্ট সময়সূচি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘোষণা অনুসারে সম্পন্ন করা হবে।
ঐদিন খুলনা জেলা কারাগার, হাসপাতাল ও শিশু পরিবারসমূহে দেশীয় ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন করা হবে এবং শিশু পরিবারগুলোর শিশুদের নিয়ে ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক আয়োজন থাকবে। কারাগারে বন্দিদের তৈরি বিভিন্ন দ্রব্যের প্রদর্শনী, কারাবন্দীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশন ও নাট্য প্রদর্শনীও হবে। এগুলো সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির সঙ্গে ঐতিহ্য ও সৃজনশীলতার সংযোগ ঘটায়।
সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজেদের ব্যবস্থাপনায় উৎসবমুখর পরিবেশে নববর্ষ উদযাপন করবে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে বৈশাখের বিভিন্ন বিষয়ে রচনা প্রতিযোগিতা, গল্পবলা, ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা দেশীয় সংস্কৃতি ও রীতিনীতি সম্পর্কে জানার সুযোগ পায়।
খুলনা বিভাগীয় জাদুঘর পালনের দিন জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। ১৩ এপ্রিল বিভাগ ও জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে—শিববাড়ি মোড়, রেলওয়ে স্টেশন, শহিদ হাদিস পার্কসহ—ঐতিহ্যবাহী আলপনা আঁকা হবে, যা শহরের উৎসবমুখর রূপকে আরও উজ্জ্বল করবে।
অঞ্চলভিত্তিকভাবে সকল উপজেলা ও ইউনিয়নেও স্থানীয়ভাবে অনুরূপ কর্মসূচি পালিত হবে, যাতে নববর্ষের আনন্দ সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছায়। জেলা প্রশাসন আমজনতাকে নিরাপদ ও আনন্দময়ভাবে উৎসব উদযাপনে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
-

সাতক্ষীরায় ভোজ্য তেল মজুদ রেখে মূল্য বৃদ্ধি 돼, দুই ব্যবসায়ীর জরিমানা
সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বড় বাজারে ভোজ্য তেল মজুদ রাখার মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে বাজারে দামের বৃদ্ধি করার অভিযোগে দুইটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহেদ হোসেনের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে তারা শহরের সুলতানপুর বড় বাজারে অবস্থিত মেসার্স হাজী ট্রেডার্সে ৪২১ ব্যারেল এবং মেসার্স সাধু স্টোরে ২০৪ ব্যারেল বিপুল পরিমাণ ভোজ্য তেলের উপস্থিতি দেখতে পান। মনে করা হচ্ছে, এই সংরক্ষণাগারে রাখা তেল বাজারে দ্রুত সরবরাহ না করে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানোর জন্য রাখা হয়েছিল।
এসময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহেদ হোসেন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মেসার্স হাজী ট্রেডার্সকে ২০ হাজার এবং মেসার্স সাধু স্টোরকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। পাশাপাশি তারা দোকানগুলোতে থাকা বিপুল পরিমাণ তেল দ্রুত বাজারে ছাড়ার নির্দেশ দেন।
র্যাব-৬ এর সাতক্ষীরা ক্যাম্প কমান্ডার জায়েন উদ্দিন মুহাম্মদ যিয়াদ বলেন, এই দুই প্রতিষ্ঠানে বিপুল পরিমাণ ভোজ্য তেল গোডাউনে জমা রেখে কৃত্রিমভাবে বাজারে দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এতে গড়ে লিটার প্রতি পাইকারি থেকে খুচরা মূল্য পর্যন্ত ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তিনি আরও জানান, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও প্রতারক ও অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। -

খুলনা অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নতুন সদস্য পরিচিতি সভা
খুলনা অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নতুন সদস্যদের পরিচয় ও স্বাগত সভা গতকাল বুধবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মাহাবুবুর রহমান মুন্না, এবং পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মিলন। সভার শুরুতেই তেলাওয়াত হয় কোরআন থেকে, যা শোভা বাড়ায় অনুষ্ঠানের পরিবেশকে। এরপর নতুন সদস্যদের পরিচিতি পর্ব চলতে থাকে, যেখানে তারা নিজেরা নিজেদের পরিচয় দিয়ে সংগঠনের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের কথা ব্যক্ত করেন। সভায় সাংগঠনিক বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার মধ্যে রয়েছে বৈশাখী উৎসবের আয়োজনসহ সংগঠনের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা। এছাড়াও বক্তৃতা করেন কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি মাহমুদ সোহেল, কোষাধ্যক্ষ একরামুল হোসেন লিপু, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক তানজিম আহমেদ, নির্বাহী সদস্য সোহেল মাহমুদ, হুমায়ুন কবীর, এস এম মাহবুবুর রহমান। নতুন সদস্যরা তাদের বক্তব্য রাখেন কামাল মোস্তফা, মাসুম বিল্লাহ, জিএম রাসেল, শাহরিয়ার হোসেন মানিকসহ আরও অনেকেই। এই সভা সংগঠনের ভবিষ্যতকে সমৃদ্ধ করে তুলবে বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে।
-

নড়াইলে ৩ মাসের শিশুকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
নড়াইল সদর উপজেলার শাহাবাদ ইউনিয়নের আলোকদিয়ায় তিন মাস বয়সী এক শিশु কন্যা তাবাসসুমকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মা, আরিফা বেগের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশ ওই শিশুর মা আরিফাকে আটক করেছে এবং তার জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে, উপজেলার আলোকদিয়া এলাকায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নড়াইল সদর থানার ওসি মো. ওলি মিয়া।
সূত্রে জানা গেছে, তাবাসসুমের বাবা-মা উপজেলার আড়ংগাছা গ্রামে থাকেন। তার বাবা কুয়েত প্রবাসী মানিক চান মোল্যা। প্রবাসী হওয়ার সুবাদে মূলত বিয়ের পর থেকেই সন্তান বাংলাদেশের বাড়িতে থাকতেন। গত কয়েকদিন আগে আরিফা তার মেয়েকে নিয়ে শশুর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে এলাকাবাসীর মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, আরিফা নিজের মেয়েকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেছে। এরপর স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয় এবং সকাল ১১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ একই সঙ্গে মা আরিফাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।
নিহত শিশুর চাচা শামীম মোল্যা বলেন, ‘গতকাল আমার ভাই কুয়েত থেকে ফোন করে জানিয়েছিল ওরা বাড়িতে আসবে। কিন্তু আজ ভোরে আলোকদিয়া থেকে ফোন করে জানানো হয়, আমার ভাগ্নিকে হত্যা করেছে। আমি এসে দেখেছি, গলার দুই পাশে দাগ পড়ে আছে।’
পুলিশের ওসি মো. ওলি মিয়া জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত শিশুর মা আরিফাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী, এবং বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে প্রক্রিয়াধীন।
-

কয়রায় ৯৭% পরিবার জলবায়ু ঝুঁকিতে, দক্ষিণ বেদকাশী সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ
জেলার কয়রা উপজেলায় জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপক প্রভাবের কারণে পুরো কমিউনিটি এখন গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছে। ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং লবণাক্ততার কারণে প্রায় ৯৭ শতাংশ পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি আরও নানা চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে, যার মধ্যে দুর্বল অবকাঠামো, লিঙ্গ বৈষম্য এবং অর্থনৈতিক অসামঞ্জস্যই অন্যতম।
জাগ্রতা যুব সংঘ (জেজেএস), জাপানের শাপলা নীড়ের সহযোগিতা এবং জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে পরিচালিত কমিউনিটি রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট (সিআরএ) প্রতিবেদন থেকে এই দুর্যোগের প্রকৃতি সম্পর্কে স্পষ্ট ছবি উঠে এসেছে।
গতকাল বুধবার নগরীর সিএসএস আভা সেন্টারে অনুষ্ঠিত মিডিয়া সংলাপে এই গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। এতে মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন এবং প্রভাষক মোঃ রিমু মিয়া।
সংলাপে সক্রিয় ছিলেন খুলনা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক এনামুল হক, সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ আশরাফুল ইসলাম নূর, সংবাদকর্মী এইচএম আলাউদ্দিন, মোসাদ্দেকুর রহমান, মুহাম্মদ নূরুজ্জামান, আবু হেনা মোস্তফাজামাল পপলু, শেখ আল এহসান, দিপংকর রায় ও আয়শা আক্তার জ্যোতি।
সংলাপে গাছ লাগানো, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের উপর জোর দেওয়া হয় যেন পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা যায়। গবেষকদের মতে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ দল মিশ্র পদ্ধতিতে এই জরিপ চালানো হয়েছে। এর মধ্যে উত্তর বেদকাশী, দক্ষিণ বেদকাশী ও সদর ইউনিয়নের মোট ৩৮৩ পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করে জরিপ, পাশাপাশি ১২টি ফোকাস গ্রুপ আলোচনা এবং ১২টি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, কয়রার মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো লবণাক্ততা (৮৪.৯%) এবং ঘূর্ণিঝড় (৭৪.৭%)। বিশেষ করে মে ও নভেম্বর মাসে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। জরিপে দেখা গেছে, ৯৫ শতাংশ পরিবার এখনো ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করে এবং ৬০.৩ শতাংশের কোন উঁচু ভিত্তি নেই, যা বন্যার সময় বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করে। দুর্ঘটনার সময় ৮২.৮ শতাংশ মানুষ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, ফলে জরুরি সেবা পৌঁছাতে সময় লাগে।
লিঙ্গভিত্তিক তফাৎও স্পষ্ট, যেখানে ৮৯.৩ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন যে, সাইক্লোন শেল্টারে নারীদের জন্য নিরাপদ ও আলাদা স্যানিটেশন ব্যবস্থা নেই। এর ফলে অনেক নারী আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ায় অনিহা প্রকাশ করেন এবং হয়রানির আশঙ্কায় তারা উপেক্ষা করেন।
আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আগে বা পরেই অনেক পরিবার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে। জরিপে দেখা গেছে, এক সপ্তাহের মধ্যেই প্রায় ২৫ শতাংশ পরিবার খাদ্য সংকটে পড়েছে। জীবিকা হারিয়ে ৭৫ শতাংশ পরিবার ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যার বড় অংশ উচ্চ সুদের ঋণ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ৭৫.৭ শতাংশ মানুষ ইউএডিসি (ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি) সম্পর্কে জানে না, যা দুর্যোগ মোকাবিলায় বড় ধরনের পরিকল্পনাগত ঘাটতি প্রকাশ করে।
জনপ্রিয় এই সূচক অনুযায়ী, দক্ষিণ বেদকাশী (৪৭.২৪) এলাকাটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে কয়রা সদর তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ (৩৮.৭৪)।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সংকট মোকাবিলায় দ্রুত সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার প্রয়োজন। জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, ম্যানগ্রোভ বনায়ন, লবণমুক্ত পানির সরবরাহ, নারীবান্ধব আশ্রয়কেন্দ্র এবং সম্প্রদায় ভিত্তিক অর্থনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করতে হবে।
অতিরিক্ত, ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যক্রম সক্রিয় করা, নিয়মিত জনসম্পৃক্তি সভা আয়োজন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রশিক্ষণ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যাপ্ত পরিকল্পনা না থাকলে কয়রার মানুষ জলবায়ু সংকট আরও দীর্ঘমেয়াদি ও গভীর হতে পারে। যুদ্ধকালীন তীব্রতার সাথে তাদের জন্য টেকসই ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে যেন এই ঝুঁকি কমানো যায় এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত থাকা সম্ভব হয়।
