Category: সারাদেশ

  • গৃহবধূ থেকে গণতন্ত্রের অটল নেতা: বেগম খালেদার সংগ্রাম আলোকচিত্রে

    গৃহবধূ থেকে গণতন্ত্রের অটল নেতা: বেগম খালেদার সংগ্রাম আলোকচিত্রে

    সাধারণ এক গৃহবধূ হয়ে গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী হয়ে ওঠার সেই দীর্ঘ পথকে ফিরে দেখার জন্য খুলনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনী। শহীদ হাদিস পার্কে আয়োজন করা এ প্রদর্শনীতে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্থান, ব্যক্তিজীবন, আন্দোলন-সংগ্রাম, কারাবন্দি সময় ও রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন—এসব অধ্যায়ের প্রায় একশোর মতো স্থিরচিত্র স্থান পেয়েছে। প্রতিটি ছবি যেন সংগ্রাম আর ত্যাগের একেকটি জীবন্ত দলিল।

    প্রদর্শনীর উদ্বোধনকালে পার্কের মুক্তমঞ্চে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে নির্মিত একটি বিশেষ ভিডিও ডকুমেন্টারি দেখানো হয়, যা অনেক দর্শকের চোখে জল এনে দেয় এবং নতুন প্রজন্মকে তাঁর জীবনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়।

    উদ্বোধনী দিনে বেলা সাড়ে ১১টায় আয়োজিত আলোচনা সভার প্রধান আলোচক ছিলেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ। তিনি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন—তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের একটি প্রতীক। তাঁর জীবন ও সংগ্রাম নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হবে।”

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল হাসানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, তৎকালীন সংসদ সদস্য সৈয়দা নার্গিস আলী, বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি ঢাকার সভাপতি মারুফ রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সুজন মাহমুদ।

    বক্তারা মিলিতভাবে বলেন, দীর্ঘ স্বৈরাচার, নির্যাতন ও কারাবরণের মধ্যেও বেগম খালেদা জিয়া আপস করেননি; গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর আদর্শ ও সংগ্রাম বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবে।

    প্রদর্শনীতে বিভিন্ন পেশা ও বয়সের মানুষ—শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে বলছিলেন, এমন আয়োজন নতুন প্রজন্মকে দেশনেত্রীর জীবন ও আদর্শ জানতে এবং উপলব্ধি করতে সহায়ক হবে।

    আয়োজকরা জানান, দুই দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীর মূল লক্ষ্য বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রামী জীবনের গল্প মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে পৌঁছে দেওয়া। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেগম রেহানা ঈসা, এডভোকেট তছলিমা খাতুন ছন্দা, কে এম হুমায়ুন কবির, হাফিজুর রহমান মনি, শরিফুল ইসলাম টিপু, আশরাফুল ইসলাম নূর, জাকির ইকবাল বাপ্পি, নাসিরুদ্দিন, ইসহাক আসিফ, মো. রাকিবুল হাসান, মাসুদুল হক হারুন, নুরুল হুদা পলাশ, শেখ সরোয়ার ও শাহিন মল্লিক রাজু।

  • মানুষ ভোট দিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে: মঞ্জু

    মানুষ ভোট দিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে: মঞ্জু

    খুলনা-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, এবারের নির্বাচন নানা কারণে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। গত তিনটি নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি, ফলে এখন দলমত নির্বিশেষে সবাই ভোটে অংশগ্রহণের অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় আছে। তিনি বলেন, “আমরাও মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি। যেখানে যাই, মানুষ জোরালো উপস্থিতি দেখাচ্ছে — এত জনসমাগম, এত আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখে আমরা অবাক। তারা প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলতে আসে, তাদের অভিযোগ জানায় এবং যে পরিবর্তন চায়, সেটাই আমাদের জানায়।”

    মঞ্জু জানান, এবারের নির্বাচন উৎসবমুখর ও সুন্দর হবে। নির্বাচনী পরিবেশ বেশ ভালো আছে এবং নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন খোন্দে কাজ করছে; তিনি এভাবে সকলের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান, যাতে নির্বাচন পর্যন্ত সুষ্ঠু কার্যক্রম বজায় থাকে। তিনি আরও বলেন, “জনগণ উন্নয়ন ও নিরাপত্তা চায় — আমরা এসব নিয়ে কাজ করছি। শুধু ভোট দেওয়াই নয়, সবাইকে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসাটাই এখন সবচেয়ে জরুরি। দেশের সমস্যার সমাধান করতে হলে নির্বাচনে ধানের শীষকে জেতাতে হবে। দেশ আমাদের সকলের, সকল ধর্মের মানুষ একসঙ্গে দাঁড়িয়ে দেশকে গড়বে। এই দেশই আমাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা।”

    মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর শেরে বাংলা রোডের গল্লামারী এলাকায় এবং বেলা সাড়ে ১১টায় ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের বানরগাতি বাজার এলাকায় গণসংযোগ এবং লিফলেট বিতরণকালে তিনি এসব কথা জানান। সেখানে মানুষের ব্যাপক ভীড় ও উত্সাহ লক্ষ্য করা যায়।

    গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, নজরুল ইসলাম বাবু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, হাসানুর রশিদ মিরাজ, মাহবুব হাসান পিয়ারু, আল জামাল ভ‚ঁইয়া, একরামুল হক হেলাল, শের আলম সান্টু, মুজিবর রহমান, নিয়াজ আহমেদ তুহিন, মুজিবর রহমান ফয়েজ, শামসুজ্জামান চঞ্চল, শমসের আলী মিন্টু, মনিরুজ্জামান মনির, মোস্তফা কামাল, কামরুজ্জামান রুনু, শরিফুল ইসলাম বাবু, জামাল উদ্দিন, আব্দুল মতিন, আনিসুর রহমান আরজু, বাচ্চু মীর, খায়রুল ইসলাম লাল, সিদ্দিকুর রহমান, রিয়াজুর রহমান, মাহবুব হোসেন, শেখ আদনান, শরিফুল ইসলাম সাগর, মাজেদা খাতুন, আল বেলাল, জিএম ইব্রাহিম হাওলাদার, মনিরুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, মহিদুল হক টুকু, আবুল বাসার, সরদার শহিদুল ইসলাম, আব্দুস সালাম, মাহমুদ হাসান মুন্না, হুমায়ুন কবির, আবু বক্কার, শাহাবুদ্দিন আহমেদ, হেদায়েত হোসেন হেদু, ইমরান হোসেন, সোহরাব হোসেন, আশিকুর রহমান, ওহেদুজ্জামান, আব্দুর রহিম, শেখ বায়জিদ, কামরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, শামীম হাওলাদার, খায়রুল বাসার, কামাল হোসেন, মুন্সি হাসিবুর রহমান, জলিলুর রহমান, আবিদ আল রহাত, মাসুম বিল্লাহ, সাজ্জাদ হোসেন, মনিরুল ইসলাম হিরা, আফজাল হোসেনসহ বিএনপি থানা, ওয়ার্ড ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

  • চিতলমারীতে গণভোট ও ভোটার সচেতনতা বাড়াতে উঠান বৈঠক

    চিতলমারীতে গণভোট ও ভোটার সচেতনতা বাড়াতে উঠান বৈঠক

    বাগেরহাটের চিতলমারীতে জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে একটি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    রবিবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেল ৫টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সাজ্জাদ হোসেন।

    বাগেরহাট জেলা তথ্য অফিসের উপ-পরিচালক মুইনুল ইসলাম সভার সভাপতিত্ব করেন। অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে ছিলেন সহকারি তথ্য অফিসার বিশ্বজিৎ শিকদার এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবু তালেব শেখ।

    উঠান বৈঠকে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ৬৩টি ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি, গ্রামপুলিশ ও বিভিন্ন বয়স ও পেশার সাধারণ মানুষ অংশ নেন। সভায় বক্তারা ভোটারদের নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার গুরুত্ব বিবেচনায় আনতে বলেন। এছাড়া জনগণকে ভোটারের দায়িত্ব ও ভোটার তালিকা যাচাই করার ওপরও জরুরি অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

    আলোচনায় স্থানীয় মানুষদের প্রশ্ন-উত্তর ও মতামত বিনিময়ও করা হয় এবং সফল, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সকল স্তরের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া হয়।

  • লক্ষাধিক কর্মসংস্থান করে বেকারমুক্ত সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি

    লক্ষাধিক কর্মসংস্থান করে বেকারমুক্ত সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি

    বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল বলেছেন, নির্বাচিত হলে তিনি ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন। খুলনার শিল্পঐতিহ্যকে আধুনিকায়ন করে নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ গড়ে তুললেই এটি সম্ভব বলে তিনি মনে করেছেন।

    সোমবার খুলনা মহানগরের ৫ নম্বর ওয়ার্দের বিভিন্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত ধারাবাহিক পথসভা ও গণসংযোগে এসব কথা বলেন বকুল। গতকাল একই ওয়ার্ডে এলাকার উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা সভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

    বকুল খুলনার শিল্পাঞ্চল ও এর অর্থনৈতিক গুরুত্বের দিকে লক্ষ করে বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের সবচেয়ে বড় সংকট হলো বেকারত্ব। এটি একজন ব্যক্তির সমস্যা নয়; পুরো পরিবার ও সমাজকে প্রভাবিত করে। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে তার মেয়াদের শুরু থেকেই পরিকল্পিত শিল্পায়ন ও কারিগরি শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করার জন্য কাজ শুরু করবেন। তার এই সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি উপস্থিত হাজারো নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আশা জাগিয়েছে।

    বকুল ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন, ধানের শীষের বিজয় হলে খুলনার মেহনতি মানুষের ভাগ্য বদলে যাবে এবং উন্নয়নের সুফল প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রে এসে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

    দোয়া অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শেখ মোঃ আব্দুল মান্নান। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মোঃ চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, সাবেক চেয়ারম্যান মীর কায়ছেদ আলী, দৌলতপুর থানা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক শেখ মোশাররফ হোসেন, বিশিষ্ট শিল্পপতি সিআইপি শেখ ফারুক হোসেন ও বিজেএ চেয়ারম্যান খন্দকার আলমগীর কবির।

    আরও উপস্থিত ছিলেন দৌলতপুর থানা বিএনপির সভাপতি মুর্শিদি কামাল, সাধারণ সম্পাদক শেখ ইমাম হোসেন, ইমাম মুফতি নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আকুঞ্জি হারুন রশিদসহ দলের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থক।

  • যারা ‘না’ ভোটের পক্ষে কথা বলছে, তারা দুর্নীতি টিকিয়ে রাখতে চায়: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    যারা ‘না’ ভোটের পক্ষে কথা বলছে, তারা দুর্নীতি টিকিয়ে রাখতে চায়: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দাড়িপাল্লাকে বিজয়ী না করলে গত ৫৪ বছরে সৃষ্টি হওয়া দুর্ভোগ, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা চলতেই থাকবে। শনিবার ছাত্রসমাজ বিভিন্ন নির্বাচনে চাঁদাবাজদের পরাজিত করেছে—এ থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী জাতীয় নির্বাচনে দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের পরাস্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি দাবি করেন।

    আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ফুলতলা উপজেলার পটিয়াবান্দা, ধোপাখোলা, পিপরাইল, ডুমুরিয়া উপজেলার মান্দ্রা, দহখোলা, পাকুড়িয়া, রুদাঘরা ও শৈলগাতি এলাকায় নির্বাচনী জনসভা, মিছিল, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগের সময় এসব কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি ভোটারদের নৈতিক ও চরিত্রনির্ভর নেতৃত্বের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং দলমতকে ছাপিয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করার অনুরোধ করেন।

    তিনি বলেন, “ধানের শীষ, নৌকা, লাঙ্গল রাষ্ট্র চালাতে পারলে দাড়িপাল্লাও পারবে—এটা আমাদের অধিকার।” একই সঙ্গে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে শত্রুতা নয়, সৌহার্দ্য বজায় রেখে দেশপ্রীতির আহ্বান জানান তিনি। আগামী নির্বাচনকে গণভোট হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে ভোটে ‘হ্যাঁ’ দিতে হবে। যারা ‘না’ ভোটের পক্ষে কথা বলছে, তারা বর্তমান দুর্নীতি-চাঁদাবাজির ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে চায়—এ মন্তব্যও করেন তিনি।

    ভোটের দিন দ্রুত কেন্দ্র এসে আগেভাগে ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “আগে ভোট দিয়ে তারপর বাড়ি ফিরবেন। যুবকদের দায়িত্ব থাকবে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়া, যাতে কোনো ভোট ডাকাতি বা সন্ত্রাস না হয়।”

    এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামী সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মইনুল ইসলাম, এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, ফুলতলা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান প্রিন্সিপাল গাওসুল আযম হাদী, ফুলতলা উপজেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুল আলিম মোল্লা, ডুমুরিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা মোক্তার হোসেন, নায়েবে আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি আব্দুর রশীদ বিশ্বাস, আব্দুল কাইয়ুম আল ফয়সাল, ফুলতলা ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা সাইফুল হাসান, হিন্দু কমিটির নেতারা অমল মন্ডল, অসিত মন্ডলসহ স্থানীয় নেতারা ও কর্মীরা।

    নির্বাচিত হলে তাঁর প্রাথমিক অগ্রাধিকার হবে বিল ডাকাতিয়ার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন—এ কথা জানিয়ে সাবেক এমপি বলেন, “আমি নিজেও বিল ডাকাতিয়ার লোক। এখানেই আমাদের জমি-জমা, ফসল। এই বিল ডুবে গেলে আপনারা কষ্ট পান, আমিও কোন্দল পাই। তাই আল্লাহ যদি আমাকে ক্ষমতা দেন, প্রথম কাজ হবে পানির নিষ্কাশন।” তিনি আরও জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনের পরে ভাঙাচোরা রাস্তা, মসজিদ-মন্দিরসহ এলাকাভিত্তিক সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবেন। ফুলতলাকে নিজের জন্মস্থান হিসেবে উল্লেখ করে তিনি অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অঞ্চলটিকে সুন্দরভাবে গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

    দুর্নীতি প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ৫৪ বছরে যারা দেশ শাসন করেছে তাদের কেউই দুর্নীতিমুক্ত ছিল না। তিনি বলেন, প্রত্যেক সরকারের আমলেই দুর্নীতি, দলীয়করণ ও বিরোধী দমননীতি দেখা গেছে এবং তাই পুরনো রাজনৈতিক নেতৃত্বই পরিবর্তন করা প্রয়োজন।

    ভোট কেনার জন্য দেওয়া কালো টাকা প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, টাকা দিয়ে মানুষের বিবেক কেনা যায় না; ভোট বিক্রি করা মানে ভবিষ্যৎ বিক্রি করা। যারা ভোট কেনে, তাদের দেওয়া অর্থ সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করার পরামর্শও দেন তিনি।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আসন্ন নির্বাচন নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুবর্ণ সুযোগ। বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক রাষ্ট্র গড়তে পুরনো রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তন অপরিহার্য। ১০১ দলীয় জোট দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দুর্নীতি নির্মূল, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়া হবে—এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

  • ‘না’ ভোটের সমর্থকরা দুর্নীতি টিকিয়ে রাখতে চায়: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    ‘না’ ভোটের সমর্থকরা দুর্নীতি টিকিয়ে রাখতে চায়: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    জামায়াতে ইসলামী মনোনীত খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনের প্রার্থী ও সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, যদি দাড়িপাল্লাকে বিজয়ী করা না যায় তাহলে গত ৫৪ বছরে চলমান দুর্ভোগ, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা আবারও অব্যাহত থাকবে। তিনি স্বেচ্ছাসেবী ও ছাত্রসমাজ ইতোমধ্যে বিভিন্ন নির্বাচনে চাঁদাবাজদের পরাজিত করেছে, সুতরাং জাতীয় নির্বাচনে দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের হারানোও সম্ভব।

    আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ফুলতলা উপজেলার পটিয়াবান্দা, ধোপাখোলা, পিপরাইল ও ডুমুরিয়ার মান্দ্রা, দহখোলা, পাকুড়িয়া, রুদাঘরা, শৈলগাতি এলাকায় নির্বাচনী জনসভা, মিছিল ও উঠান বৈঠকে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

    তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে নৈতিকতা ও চরিত্রভিত্তিক নেতৃত্বের পক্ষে ভোট দিতে হবে। “ধানের শীষ, নৌকা, লাঙ্গল—যদি তারা রাষ্ট্র চালাতে পারে, তবে দাড়িপাল্লাও করতে পারবে, এটা আমাদের অধিকার,”—বলেন তিনি। পাশাপাশি তিনি বলেন, বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ সকল রাজনৈতিক বিরোধীদের সঙ্গে শত্রুতা নয়, সৌহার্দ্য বজায় রেখে দেশকে ভালোবাসার আহ্বান জানিয়েছেন।

    গণভোট প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে পরিষ্কার অবস্থান নেওয়ার জন্য ‘হ্যাঁ’ তে ভোট দিতে হবে। যারা ‘না’ ভোটের পক্ষে কথা বলছে, তাদের উদ্দেশ্যে তিনি মন্তব্য করেন যে তারা বর্তমান দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির ব্যবস্থাকেই টিকিয়ে রাখতে চায়।

    ভোটের দিন সকালেই কেন্দ্রে যাওয়ার অনুরোধ রেখে তিনি বলেন, “আগে ভোট দিয়ে তারপর ঘরে ফিরবেন। যুবকদের দায়িত্ব হবে ভোটকেন্দ্রের পাহারা দেয়া, যাতে কোনো ভোট ডাকাতি বা সন্ত্রাস না ঘটে।”

    এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামের সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মইনুল ইসলাম, এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, ফুলতলা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান প্রিন্সিপাল গাওসুল আজম হাদী, ফুলতলা উপজেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুল আলিম মোল্লা, ডুমুরিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা মোক্তার হোসেন, নায়েবে আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি আব্দুর রশীদ বিশ্বাস, আব্দুল কাইয়ুম আল ফয়সাল, ফুলতলা ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা সাইফুল হাসান, হিন্দু কমিটির নেতা অমল মন্ডল, অসিত মন্ডল, ইউপি সদস্য নব কুমার, বাবুল কুমার, সন্ধ্যা মন্ডল, অশীত বাবু, শুধারাম হালদার ও অধ্যক্ষ গাজী মারুফুল কবির প্রমুখ।

    নির্বাচিত হলে এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা কাটিয়ে তোলা তাঁর শীর্ষ অগ্রাধিকার হবে বলে উল্লেখ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, “আমি নিজেই বিল ডাকাতিয়ার মানুষ। এখানেই আমাদের জমি-জমা, ফসল হয়। বিল ডুবে গেলে যে কষ্ট আপনাদের হয়, সেটি আমারও হয়। তাই আল্লাহ যদি আমাকে ক্ষমা করেন এবং আমি নির্বাচিত হই, আমার প্রথম কাজ হবে বিল ডাকাতিয়ার পানি সরানো।” তিনি জানান, জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধানের পর ভাঙাচোরা রাস্তা, মসজিদ-মন্দিরসহ এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করা হবে এবং নিজের অতীত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ফুলতলাকে সুন্দর সম্মিলিতভাবে গড়ার চেষ্টা করবেন।

    দুর্নীতির প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ৫৪ বছরে যারা রাষ্ট্র শাসন করেছে, তারা কেউই দুর্নীতিমুক্ত শাসন প্রদানের দাবি করতে পারবে না। তিনি আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি—সকলকে একযোগে দায়ী করে বলেন, প্রত্যেক শাসনকালেই দুর্নীতি, দলীয়করণ ও বিরোধী দমননীতির উদ্ভব ঘটেছে।

    ভোট কেনার প্রচেষ্টাকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, টাকা দিয়ে মানুষের বিবেক কেনা যায় না; ভোট বিক্রি করা মানে নিজের ভবিষ্যৎ বিক্রি করা। ভোট কেনার উদ্দেশ্যে দেওয়া অর্থ সামাজিক কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করার পরামর্শও দেন তিনি।

    শেষে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আসন্ন নির্বাচন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ। বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক রাষ্ট্র গড়তে হলে পুরোনো রাজনৈতিক নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা অপরিহার্য। তিনি দাবি করেন, ১০১ দলীয় জোট দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দুর্নীতি নির্মূল, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করবে।

  • খুলনায় ৫০ বছরে সমুদ্রসদৃশ লবণাক্ততার আশঙ্কা, সুন্দরবন ও কৃষি ঝুঁকিতে

    খুলনায় ৫০ বছরে সমুদ্রসদৃশ লবণাক্ততার আশঙ্কা, সুন্দরবন ও কৃষি ঝুঁকিতে

    চলমান তৃতীয় উপকূলীয় পানি সম্মেলনে পানি ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, আগামী ৫০ বছরের মধ্যে খুলনা শহরের পানির লবণাক্ততা সমুদ্রের পানির কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি উৎপাদনে বিপুল ক্ষতি হতে পারে।

    রোববার খুলনার সিএসএস আভা সেন্টারে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে গবেষক, নীতিনির্ধারক, উন্নয়নকর্মী ও সাংবাদিকরা গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা আদানপ্রদান করেন। সম্মেলনের উদ্বোধনী প্লেনারি সেশনে বিশেষ অতিথি ড. আইনুন নিশাত এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন এবং লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে ঘটতে পারে এমন প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করেন।

    ড. নিশাত উল্লেখ করেন, লবণাক্ততা বাড়লে সুন্দরবনে সুন্দরী গাছ কমে গিয়ে গরান গাছের আধিপত্য বাড়বে। এছাড়া লবণসহিষ্ণু কীটপতঙ্গসহ বিভিন্ন প্রজাতির ধারা পরিবর্তিত হবে, যা অঞ্চলটির জৈববৈচিত্র্যে বড় ধরনের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনবে। একই সঙ্গে প্রচলিত কৃষি ফসলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে — সম্ভাব্যভাবে অর্ধেকের কাছাকাছি নেমে আসার আশঙ্কাও রয়েছে।

    তিনি বলেন, এই সংকট মোকাবিলায় দ্রুত উপকূল রক্ষা বাঁধ মেরামত করা এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পৃষ্ঠস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতেই হবে। পানির উৎসগুলোর সুরক্ষা না করলে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের মানুষকে টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

    সম্মেলনের বিভিন্ন সেশনে ডিস্যালিনেশন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, নিরাপদ পানির প্রযুক্তি, পানি দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস ঝুঁকি, জিআইএসভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ, নগর পানি ব্যবস্থাপনা এবং নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর পানি সংকটের বাড়তি প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    বক্তারা জানান, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নিরাপদ পানির সংকট ক্রমেই মানবিক ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিকল্প না থাকায় অনেক মানুষ লবণাক্ত পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক স্বাস্থ্যসমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

    একই সঙ্গে সম্মেলনে পানি ন্যায়বিচারকে মৌলিক মানবাধিকারের অংশ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলা হয়, সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায়ে নীতিগত দুর্বলতা কাটিয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

    তৃতীয় উপকূলীয় পানি সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয়-আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে উঠে এসেছে রাজনৈতিক সহযোগিতা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং স্থানীয় জ্ঞানকে একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে উপকূলীয় পানিসংকট মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তা।

  • রকিবুল বকুলের আহবান: ১২ ফেব্রুয়ারি সতর্ক থাকুন — খুলনার উন্নয়ন ও ভোটাধিক্য রক্ষায়

    রকিবুল বকুলের আহবান: ১২ ফেব্রুয়ারি সতর্ক থাকুন — খুলনার উন্নয়ন ও ভোটাধিক্য রক্ষায়

    কেন্দ্রীয় বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনে ‘ধানের শীষ’ প্রার্থীর সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সংসদ নির্বাচনের সময় স্থানীয় ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিগত দিনের মতো পবিত্র ভোটের অধিকার আর কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।

    রবিবার যোগীপোল ইউনিয়নের ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আয়োজিত ধারাবাহিক পথসভা ও গণসংযোগে এসব বক্তব্য দেন বকুল। একই দিনে খানজাহান আলী থানার আয়োজনে অনুষ্ঠিত দোয়া ও আলোচনা সভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন; সেখানে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাতের জন্য দোয়া করা হয়।

    বকুল বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি আমাদের জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা। কোনো অশুভ শক্তি বা স্বার্থান্বেষী মহল সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার হরণ করতে পারবে না—এ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পাড়া-পাড়া অতন্দ্র প্রহরীর মতো সতর্ক থাকতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল; এবার সেই অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার সময় এসেছে।

    খুলনার সার্বিক উন্নয়ন ও শান্তি-শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বকুল বলেন, খুলনা ঐতিহ্যবাহী শিল্প-ব্যবসায়িক শহর; এর সমৃদ্ধি স্থিতিশীল পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে খুলনার মানুষ নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতা থেকে মুক্তি চায়—তারা নিরাপদ পরিবেশে বসবাস, বিনিয়োগ ও জীবিকা নির্বাহে সক্ষম হতে চায়।

    তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফিরিয়ে আনার কাজ করা হবে। ‘শহর নিরাপদ থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে,’ বলেও মন্তব্য করেন বকুল। খুলনার খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানার শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য হবে। তিনি বলেন, তারা এমন এক খুলনা চান যেখানে কেউ কারো অধিকার হরণ করতে পারবে না এবং আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।

    অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন খানজাহান আলী থানা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মীর কায়ছেদ আলী। সভার সভাপতি ছিলেন ৮নং ওয়ার্ড নির্বাচন কমিটির আহ্বায়ক মোসাদ্দেক আলী বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মোঃ চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, খানজাহান আলী থানা বিএনপির সভাপতি কাজী মিজানুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ হাওলাদার আব্বাস।

    এর পাশাপাশি ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শেখ তৈয়েবুর রহমান, ইমাম হাফেজ মাওলানা মফিজুর রহমান, ৯নং ওয়ার্ড সদস্য সচিব মোঃ মাহবুব শেখ, ৮নং ওয়ার্ড সদস্য সচিব মোজাফ্‌ফর হোসেনসহ থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের অনেক নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত দোয়া-মাহফিল ও পথসভায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন; তারা ধানের শীষের পক্ষে স্লোগান দিয়ে এলাকাকে মুখরিত করে তোলে এবং ১২ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় পাহারা রেখে ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার করে।

  • ঝিনাইদহে মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা

    ঝিনাইদহে মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা

    ঝিনাইদহের একটি আদালতে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের জামায়াত প্রার্থী ও ইসলামিক বক্তা মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেছেন অ্যাডভোকেট আব্দুল আলীম। অভিযোগ সূত্রে বলা হয়েছে, আমির হামজা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তার সন্তান আরাফাত রহমান কোকোসহ কিছু ব্যক্তিকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।

    আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে ঝিনাইদহ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-সদর আমলি আদালতে মানহানির অভিযোগে মামলার আবেদন করে অভিযোগকারী আইনজীবী আব্দুল আলীম। আদালতের বিচারক মোখলেসুর রহমান অভিযোগ আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

    মামলার বাদী আব্দুল আলীম বলেন, মুফতি আমির হামজা বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তাদের সন্তান আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে আপত্তিকর, অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তার বক্তব্য জিয়া পরিবারের সম্মানসহ বিএনপি ও তাদের সমর্থকদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছে—এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং ন্যায়বিচার প্রত্যাশায় মামলাটি করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা চাই আইনগতভাবে আমির হামজার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

    প্রসঙ্গত, মুফতি আমির হামজার বিবাদিত মন্তব্যের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত ভাইরাল হয়। ক্লিপটি ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই বিব্রতবোধ করলে মুফতি আমির হামজা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দুঃখ প্রকাশ করে একটি স্ট্যাটাস দেন এবং একই সঙ্গে আরাফাত রহমান কোকোর জন্য জান্নাত কামনা করেন।

    মামলা দায়ের হওয়ায় পিবিআই এর তদন্ত এবং পরবর্তী স্তরে আদালতের কার্যক্রম কী হবে—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য ও তদন্তের ফল প্রাপ্ত হলে তা অনুসরণ করে জানা যাবে।

  • মানুষ আমাদের হাস্যোজ্জ্বল মুখে স্বাগত জানাচ্ছে: মঞ্জু

    মানুষ আমাদের হাস্যোজ্জ্বল মুখে স্বাগত জানাচ্ছে: মঞ্জু

    খুলনা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক ও সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল; মানুষের মনে দলের প্রতি আস্থা অটুট আছে। দীর্ঘদিন ভোট না হওয়ায় এবার নির্বাচনী পরিবেশকে কেন্দ্র করে ভোটারদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রচারণায় দল ব্যাপক সাড়া পাচ্ছে এবং মানুষ নেতাকেই হাস্যোজ্জ্বল মুখে গ্রহণ করছে — তারা চান জনবিচারে প্রমাণিত জনপ্রিয় দল বিএনপির প্রার্থীরা জিতুক।

    রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় নগরীর ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের রূপসা স্ট্যান্ড রোড, চানমারী বাজার, খ্রিস্টান পাড়া ও অন্যান্য স্থানে গণসংযোগকালে এসব কথা বলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেন, ‘‘বিএনপি ১৬ বছর ধরে জনগণের দাবি আদায়ের সংগ্রামে রাজপথে ছিল। এখনও আমরা উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পাশাপাশি মানুষের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছি।’’

    মঞ্জু আরও বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং তার অনুপস্থিতি নিয়ে এখনো জনগণের মধ্যে শোক कायम আছে। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের নেতা তারেক রহমান ১৭ বছর পর দেশে ফিরে এসেছেন এবং একটি সুপরিকল্পিত কর্মসূচি নিয়ে কাজ শুরু করেছেন।’’ মঞ্জু জানান এবারের নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে, উৎসবমুখর থাকবে এবং ভোট গ্রহণে নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ভাবনা থাকার কথা নয়।

    গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসুচীতে উপস্থিত ছিলেন— অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, মহিবুজ্জামান কচি, হাসানুর রশিদ মিরাজ, মাহবুব হাসান পিয়ারু, একরামুল হক হেলাল, শের আলম সান্টু, অ্যাডভোকেট মাসুম রশিদ, কেএম হুমায়ুন কবির, ইউসুফ হারুন মজনু, নিয়াজ আহমেদ তুহিন, শামসুজ্জামান চঞ্চল, কামরান হাসান, আলমগীর কবির, মীর কবির হোসেন, সালাউদ্দিন বুলবুল, সওগাতুল ইসলাম, আলম হাওলাদার, নূরুল ইসলাম লিটন, মেহেদী হাসান লিটন, হাসিনা আকরাম, সাইমুন ইসলাম রাজ্জাক, রোকেঢা ফারুক, সেলিম বড় মিয়া, স্বপন হাওলাদার, মাসুদ খান বাদল, সমির সাহা, আবু তালেব, এসএম আব্দুর রব, শাহআলম, ইয়াকুব আলী, মোহাম্মদ আলী, পারভেজ আলম খান, সিরাজ মোল্লা, মহিউদ্দিন মঈন, জাহান আলী, শাহাদাৎ গাজী, ফেরোজ আহমেদ, আল আমিন হক পাপ্পু, জিএম মুজিবর রহমান, মো. মুন্না, খালেক গাজী, খায়রুল আলম, হানিফ ফরাজী, শামসুর রহমান নিশান, মামুনুর রহমান, ফারুক হোসেন খান, ইউনুচ মোল্লা, আব্দুর রশিদ, আব্দুল করিম, আলাউদ্দিন আলম, শাহনাজ পারভীন রিক্তা, মামুন রেজা, নাজমা করিমসহ বিএনপি থানা, ওয়ার্ড ও অঙ্গদলের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষ।