Category: সারাদেশ

  • খুলনায় নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন নিয়ে বিভাগীয় প্রেসব্রিফিং

    খুলনায় নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন নিয়ে বিভাগীয় প্রেসব্রিফিং

    খুলনা বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন ও প্রচার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে একটি ব্যাপক প্রেসব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (১৩ মে) খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে সংগঠিত এই ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন খুলনা বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক গাজী জাকির হোসেন। সভায় ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, נשיםদের জন্য গাড়ি, কৃষক কার্ড ও কৃষি ঋণ মওকুফসহ প্রধান অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।

    ফ্যামিলি কার্ড: সামাজিক নিরাপত্তার নতুন উদ্যোগ

    প্রেসব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ফ্যামিলি কার্ড হলো বর্তমান সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় প্রবর্তিত একটি স্মার্ট কার্ড। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ মার্চ রাজধানীর কড়াইল বস্তি সংলগ্ন টিএন্ডটি মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্ড উদ্বোধন করেন। প্রথম ধাপে দেশের ১৪টি উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মোট ৩৭,৫৬৭টি দরিদ্র পরিবার মাসে ২,৫০০ টাকা করে সুবিধা পাচ্ছে। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে ৫,২৭৫জন উপকারভোগীর মধ্যে ৪,১৫৮ জনকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। ধীরে ধীরে দেশের প্রায় ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারকে এই কার্ড সুবিধার আওতায় আনা হবে।

    খাল খনন ও পুনঃখনন: জলসম্পদ উদ্ধারে বৃহৎ পরিকল্পনা

    খনন ও পুনরুদ্ধার কর্মসূচির অধীনে আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে মোট ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল খনন ও পুনঃখনন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া খাল খননের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এর ধারাবাহিকতায় যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী খালসহ খুলনার ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা, দাকোপ, দিঘলিয়া, তেরখাদা, রূপসা, পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলায় খনন কার্যক্রম চলছে।

    বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ: সবুজ কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি

    সরকার আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই উদ্যোগ সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৩.৫ লক্ষ (৩৫০,০০০) সবুজ কর্মসংস্থান তৈরি করবে এবং নারী, যুবক-যুবতী ও গ্রামীণ জনগণ সমানভাবে এতে অংশ নেবে। পাশাপাশি ১০,০০০ নতুন উদ্যোক্তা গড়ে তোলা হবে, যা আনুমানিক ২৫০,০০০-এর বেশি অতিরিক্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। নারী চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিআরটিসি মহিলা বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।

    কৃষক কার্ড ও কৃষি সহায়তা

    কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ভর্তুকি, সহজ কিস্তিতে ঋণ, বীজ ও সারসহ মোট ১০ ধরণের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইলের শহিদ মারুফ স্টেডিয়ামে প্রথম পর্যায়ের কৃষক কার্ড কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। কার্ডধারীরা বার্ষিক ২,৫০০ টাকা নগদ সুবিধা পাবেন। পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম ধাপে ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় ২২,০৬৫ জন ভূমিহীন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে কার্ড প্রদান করা হয়েছে। ভবিষ্যতে লক্ষ্যমাত্রা ১৬.৫ মিলিয়ন (১১৬৫ লাখ?) কৃষককে এই সুবিধার আওতায় আনা।

    জনসংযোগ কার্যক্রম: মাঠ পর্যায়ে প্রচারণা

    গণযোগাযোগ অধিদপ্তর জানায়, গত ১৮০ দিনে তারা মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক জনসংযোগ কার্যক্রম চালিয়েছে: ১,০২১টি উঠান বৈঠক/কমিউনিটি সভা, ২০২টি নারী সমাবেশ, ১১,০৬০টি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, ৩,২৪৮ ইউনিট সড়ক প্রচার, ১৪টি কৃষক সমাবেশ, ২২টি ফ্যামিলি সমাবেশ, ৩৪০টি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত অগ্রাধিকার মূলক কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের লাইভ সম্প্রচার এবং ২,৩৬১টি অনলাইন প্রচারণা। খুলনা বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসও ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ১৫২টি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, ৬৫টি সড়ক প্রচার, ১০টি উঠান বৈঠক, ২টি নারী সমাবেশ, ১টি ফ্যামিলি সমাবেশ এবং ৪টি লাইভ ব্রডকাস্ট বাস্তবায়ন করেছে। এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।

    অনুষ্ঠান ও উপস্থিতি

    প্রেসব্রিফিংয়ে খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তফা সরোয়ার এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ তরিকুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। খুলনার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সরকারি নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন সংক্রান্ত ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক মোঃ ইব্রাহিম-আল-মামুন।

    উল্লেখ্য, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় দেশের ৬৪টি জেলা ও ৪টি উপজেলা তথ্য অফিসে একযোগে বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে প্রচার কার্যক্রম ও প্রেসব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।

  • দেবহাটায় অনুমতি ছাড়াই বালু উত্তোলন, সবুজ ইসলামকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

    দেবহাটায় অনুমতি ছাড়াই বালু উত্তোলন, সবুজ ইসলামকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

    দেবহাটায় অবৈধভাবে ড্রেজিং করে বালু উত্তোলনের দায়ে সবুজ ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। এ অভিযান বুধবার (১৩ মে) দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলন সাহার নেতৃত্বে পরিচালিত হয়।

    সাজাপ্রাপ্ত সবুজ ইসলাম আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা এলাকার মাছুম্মেল হকের ছেলে। তদন্তে জানা যায়, তিনি আন্দুলপোতা এলাকার একটি মাছের ঘর থেকে অনুমতি ছাড়াই ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে বালু উত্তোলন করছিলেন, যা স্থানীয় পরিবেশ ও জলজ বাসস্থানের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ছিল।

    অভিযানকারীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী জরিমানা আদায় করে। দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলন সাহা বলেন, পরিবেশ নষ্টকারী এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম toler করা হবে না এবং ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন: খুলনায় প্রেসব্রিফিং

    নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন: খুলনায় প্রেসব্রিফিং

    খুলনা প্রেসক্লাবে খুলনা বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনেও বুধবার (১৩ মে) সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন সংক্রান্ত প্রেসব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ূন কবির বালু মিলনায়তনে আয়োজিত ওই বৈঠকে প্রেসব্রিফিং করেন বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক গাজী জাকির হোসেন।

    প্রেসব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ‘‘ফ্যামিলি কার্ড’’ দেশের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত একটি স্মার্ট কার্ড। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ মার্চ রাজধানীর কড়াইল বস্তি সংলগ্ন টিএন্ডটি মাঠে ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন করেন। প্রথম ধাপে দেশের ১৪টি উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মোট ৩৭,৫৬৭টি হতদরিদ্র পরিবার প্রতি মাসে দুই হাজার পাঁচশত টাকা করে প্রাপ্ত হচ্ছে। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে প্রথম ধাপে ৫,২৭৫ জনের মধ্যে ৪,১৫৮ জনকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে সারাদেশে প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারকে কার্ড দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

    খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি সরকারি অগ্রাধিকার তালিকার একটি বড় প্রকল্প। সরকারের পরিকল্পনা আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে মোট ২০ হাজার কিলোমিটার নদি-খাল খনন, পুনঃখনন ও উদ্ধার করার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া খাল খননের মাধ্যমে দেশের ৫৪টি জেলায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। খুলনা অঞ্চলের মধ্যে যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী খালসহ খুলনা জেলার ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা, দাকোপ, দিঘলিয়া, তেরখাদা, রূপসা, পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলায় খাল খননের কাজ চলমান রয়েছে।

    পরিবেশ রক্ষা ও ভোক্তাশীলতা বাড়াতে সরকার আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি নিয়েছে। এই উদ্যোগে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৩.৫ লক্ষের বেশি সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। নারী, যুবক-যুবতী ও গ্রামীণ জনগণ সমানভাবে এতে অংশ নেবে। পাশাপাশি ১০ হাজার নতুন উদ্যোক্তা গড়ে তোলা হবে, যা আনুমানিক আড়াই লক্ষাধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। নারীদের চলাচল ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তায় বিআরটিসির মাধ্যমে মহিলা বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগও নেয়া হয়েছে।

    কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ভর্তুকি, সহজ শর্তে লোন, বীজ ও সারসহ মোট ১০ ধরনের বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইলের শহিদ মারুফ স্টেডিয়ামে প্রথম ধাপে কৃষক কার্ডের সুবিধার উদ্বোধন করেন। এই কার্ডে বার্ষিক দুই হাজার পাঁচশত টাকা নগদ সুবিধা রাখা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম ধাপে ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার মোট ২২,০৬৫ জন ভূমিহীন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে কার্ড দেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে দেশের ১৬.৫ মিলিয়ন (একশত ৬৫ লাখ) কৃষক এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

    প্রচার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের গণযোগাযোগ অধিদপ্তর গত ১৮০ দিনে ব্যাপক মাঠ পর্যায়ের কাজ করেছে। তারা এক হাজার ২১টি উঠান বৈঠক/কমিউনিটি সভা, ২০২টি নারী সমাবেশ, ১১,০৬০টি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, ৩,২৪৮ ইউনিট সড়ক প্রচার, ১৪টি কৃষক সমাবেশ, ২২টি ফ্যামিলি সমাবেশ, ৩৪০টি প্রধান ঘোষিত অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির উদ্বোধনের লাইভ সম্প্রচার ও ২,৩৬১টি অনলাইন প্রচারণা বাস্তবায়ন করেছে। খুলনা বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিস ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১৫২টি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, ৬৫টি সড়ক প্রচার, ১০টি উঠান বৈঠক, ২টি নারী সমাবেশ, ১টি ফ্যামিলি সমাবেশ ও ৪টি লাইভ সম্প্রচার করেছে। প্রেসব্রিফিংয়ে বলা হয়, এগুলো নিয়মিতভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে।

    প্রেসব্রিফিংয়ে খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তফা সরোয়ার ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ তারিকুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। খুলনার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে সংবাদ সংগ্রহ করেন। বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক মোঃ ইব্রাহিম-আল-মামুন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন বিষয়ে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন।

    উল্লেখ্য, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের অধীনে থাকা ৬৪টি জেলা ও ৪টি উপজেলা তথ্য অফিসে সমন্বিতভাবে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন সম্পর্কিত একই ধাঁচের প্রেসব্রিফিং একযোগে অনুষ্ঠিত হয়।

  • খুলনায় নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রেস ব্রিফিং

    খুলনায় নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রেস ব্রিফিং

    খুলনা: খুলনা বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে বুধবার (১৩ মে) খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন সংক্রান্ত একটি প্রেসব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। ব্রিফিং করেন খুলনা বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক গাজী জাকির হোসেন।

    প্রেসব্রিফিংয়ে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার কর্মসূচি–ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন ও পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ, নারী সাশ্রয়ী পরিবহন, কৃষক কার্ড এবং কৃষি ঋণ মওকুফের ওপর প্রস্তুতকৃত পরিকল্পনা ও প্রচারণা কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।

    ফ্যামিলি কার্ড সম্পর্কে প্রেসব্রিফিংয়ে বলা হয়, এটি বর্তমান সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় চালু করা একটি স্মার্ট কার্ড। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ মার্চ রাজধানীর কড়াইল বস্তি সংলগ্ন টিএন্ডটি মাঠে ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন করেন। প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৪টি উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ৩৭,৫৬৭টি হতদরিদ্র পরিবার মাসিক দুই হাজার পাঁচশত টাকা ভাতা পাচ্ছে। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে প্রথম ধাপে ৫,২৭৫ জন উপকারভোগীর মধ্যে ৪,১৫৮ জনকে কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে প্রাথমিকভাবে সারাদেশে ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে।

    খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় সরকার আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল খনন, পুনঃখনন ও উদ্ধার করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া খাল খননের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ৫৪টি জেলায় ওই কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। এর ধারাবাহিকতায় যশোর-শার্শা উপজেলার উলাশী খালসহ খুলনার ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা, দাকোপ, দিঘলিয়া, তেরখাদা, রূপসা, পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলায় খাল খননের কাজ চলমান রয়েছে।

    বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য বলা হয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৩.৫ লক্ষাধিক সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, যেখানে নারী, যুবক-যুবতী ও গ্রামীণ জনগণ সমানভাবে অংশগ্রহণ করবে। পাশাপাশি ১০ হাজার নতুন উদ্যোক্তা গড়ে তোলা হবে, যা আনুমানিক আড়াই লক্ষাধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে। নারী চলাচলে স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে বিআরটিসির মাধ্যমে মহিলা বাস সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    কৃষক কার্ড নিয়ে জানানো হয়, ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকরা ওই কার্ডের মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজঋণ, বীজ ও সারসহ মোট ১০ ধরনের বিশেষ সুবিধা পাবেন। প্রধানমন্ত্রী ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইলের শহিদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষক কার্ডের প্রথম পর্যায়ের উদ্বোধন করেন। কার্ডধারীরা বার্ষিক দুই হাজার পাঁচশত টাকা নগদ সুবিধা পাবেন। পরীক্ষামূলকভাবে ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় মোট ২২,০৬৫ জন ভূমিহীন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে কার্ড প্রদান করা হয়েছে। ভবিষ্যতে দেশের একশত ৬৫ লাখ কৃষক এই সুবিধার আওতায় আসবে।

    গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের কার্যক্রম হিসেবে গত ১৮০ দিনে এক হাজার ২১টি উঠান বৈঠক/কমিউনিটি সভা, ২০২টি নারী সমাবেশ, ১১,০৬০টি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, ৩,২৪৮ ইউনিট সড়ক প্রচার, ১৪টি কৃষক সমাবেশ, ২২টি ফ্যামিলি সমাবেশ, ৩৪০টি প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত অগ্রাধিকার কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠান লাইভ সম্প্রচার এবং ২,৩৬১টি অনলাইন প্রচারণা পরিচালনা করা হয়েছে। খুলনা বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিস ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ১৫২টি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, ৬৫টি সড়ক প্রচার, ১০টি উঠান বৈঠক, ২টি নারী সমাবেশ, ১টি ফ্যামিলি সমাবেশ ও ৪টি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের লাইভ প্রচার বাস্তবায়ন করেছে। এই প্রচারণা চলমান থাকবে বলা হয়।

    প্রেসব্রিফিংয়ে খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তফা সরোয়ার ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ তারিকুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। খুলনার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক মোঃ ইব্রাহিম-আল-মামুন সরকারি নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন সম্পর্কে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন।

    উল্লেখ্য, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের গণযোগাযোগ অধিদপ্তরাধীন ৬৪টি জেলা ও ৪টি উপজেলা তথ্য অফিসে সমন্বিতভাবে নিয়মিতভাবে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন সংক্রান্ত প্রচার কার্যক্রম চলছে এবং একযোগে প্রেসব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।

  • খুলনা জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক ফিরোজ আহমেদকে অব্যাহতি; আবু জাফরকে ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক

    খুলনা জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক ফিরোজ আহমেদকে অব্যাহতি; আবু জাফরকে ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্তে খুলনা জেলা শাখার আহবায়ক ফিরোজ আহমেদকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আবু জাফরকে ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক করে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ ঘটনা ঘটে জেলা কমিটি ঘোষণার মাত্র ১৫ ঘন্টার মধ্যে।

    কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বুধবার (১৩ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সংসদ এই পরিবর্তন করেছে এবং সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সংগঠনের ধারাবাহিকতা ও গতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে এমন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আশা করে যে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তরা জেলার কার্যক্রমকে গতিশীল রাখবেন।

    গতকাল মঙ্গলবার রাতে খুলনা মহানগর ও জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই অনুমোদিত তালিকায় খুলনা মহানগর আহবায়ক কমিটিতে তাজিম বিশ্বাসকে আহবায়ক, আরিফুর রহমান আরিফকে সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও হাবিবুর রহমান খান বিপ্লবকে সদস্য সচিব করে ৪৩ সদস্যের কমিটি রাখা হয়েছিল।

    একইভাবে খুলনা জেলা আহবায়ক কমিটিতে ফিরোজ আহমেদকে আহবায়ক, আবু জাফরকে সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও খান ইসমাইল হোসেনকে সদস্য সচিব করে ৩০ সদস্যের কমিটি অনুমোদিত হয়েছিল। তবে কেন্দ্রীয় সংসদের সাম্প্রতিক নির্দেশনায় ফিরোজকে অব্যাহতি দিয়ে আবু জাফরকে প্রশাসনিকভাবে ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক করে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জানায়, এই পরিবর্তন থেকে জেলা সংগঠনের কার্যক্রমে কোনও বিকৃতি না ঘটিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম বজায় রাখা লক্ষ্য।

  • বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের নতুন সভাপতি রাসেল, সাধারণ সম্পাদক রাহুল

    বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের নতুন সভাপতি রাসেল, সাধারণ সম্পাদক রাহুল

    দীর্ঘ আট বছর পর বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘোষণা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, মো্ল্লা আকিতুর রহমান রাসেল হচ্ছেন কমিটির নতুন সভাপতি, আর নিয়ামুল কবির রাহুল মনোনীত হয়েছেন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। এ ছাড়া শেখ আল মামুনকে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১২ মে) মধ্যরাতে ছাত্রদলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির কর্তৃক অফিসিয়াল পত্রে এর অনুমোদন প্রদান করা হয়।

    নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, সভাপতি হিসেবে আতিকুর রহমান রাসেল এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিয়ামুল কবির রাহুল নির্বাচিত হয়েছেন। পাশাপাশি সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন শেখ আল মামুন। এছাড়া সাবেক সহ-সভাপতি শামিম শিকদার এবং সহ-সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন শেখ মাইদুল ইসলাম মিন্টু ও রানা দিদার। আরও রয়েছে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ফকির মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ওয়াহেদ হাবিব ও শেখ ফাহিম শাহরিয়ার রাব্বি।

    প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পুরোপুরি নতুন কমিটি গড়ে তোলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    উল্লেখ্য, বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের সর্বশেষ কমিটি গঠিত হয়েছিল প্রায় আট বছর আগে। দীর্ঘ এই সময়ের মধ্যে নতুন নেতৃত্ব না আসায় সংগঠনের কার্যক্রম ধীরে ধীরেধীরে স্থবির হয়ে পড়েছিল। তবে নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে সংগঠনে নতুন গতি আসবে এবং কার্যক্রম আরও বেশি এগিয়ে যাবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।

  • নগরীতে কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্য গ্রেফতার

    নগরীতে কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্য গ্রেফতার

    নগরীর সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ নগরীতে কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। এই সময় তাদের কাছ থেকে একটি চীনা কুড়াল, একটি ধাতব পাঞ্চ ও একটি স্কুলব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো মোঃ আকাশ আহম্মেদ জনি (১৯), শাহরিয়ার ইমন (১৯) এবং মোঃ নাফিজুল ইসলাম (১৯)। পশ্চিম বানিয়াখামার পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মোঃ ফারুক আলম জানান, সোমবার রাতে ডিউটি পালনকালে তিনি বসুপাড়া মেইন রোডের বসুপাড়া নার্সারির ভেতরে অভিযান চালান। সেখানে তারা সেগুন বাগানের একটি স্থান থেকে এসব অস্ত্র ও মালামালসহ তাদের আটক করেন। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় মঙ্গলবার সোনাডাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

  • দুই বছরেও উদঘাটন হয়নি এমপি আনার হত্যার রহস্য

    দুই বছরেও উদঘাটন হয়নি এমপি আনার হত্যার রহস্য

    ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনের তিনবারের সাবেক এমপি আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যাকাণ্ডের দু’বছর পূর্ণ হলো। ২০২৪ সালের ১২ মে ভারতে চিকিৎসার জন্য যান তিনি, এরপর কলকাতার নিউটাউনের একটি ফ্ল্যাটে তাকে হত্যাকাণ্ডের শিকার করা হয় বলে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলে। তবে এই আলোচিত হত্যাকাণ্ডের দুটি বছর পার হলেও এখনো চলমান তদন্তে কোনও চূড়ান্ত রহস্য উন্মোচিত হয়নি এবং পরিবার তার মরদেহ বা নিশ্চিত কোনও ফরেনসিক প্রতিবেদনও পেয়েছেন না।

    প্রাপ্ত তথ্য ও বিভিন্ন সূত্রের মতে, হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহ গুমের জন্য তা খণ্ড-বিখণ্ড করে ছিন্নভিন্ন করা হয়। পরে বাংলাদেশ পুলিশের ডিবি এই ঘটনার তদন্তে কলকাতায় গিয়ে কিছু খণ্ডাংশ উদ্ধার করে। একই সময়ে ভারতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাংলাদেশি নাগরিক কসাই জেহাদসহ তিনজনকে আটক করে। তাদের দেয়া তথ্য ভিত্তিতে কলকাতার একটি পুকুর থেকে অনেক টুকরো হাড় উদ্ধার হয়, যেগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা চলে যাচ্ছে। তবে দুই বছর পেরিয়ে গেলেও পরিবারের কাছে চূড়ান্ত রিপোর্ট বা মরদেহের কোনো অংশই পৌঁছায়নি। ফলে, ইসলামি শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী জানাজা ও দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারছেন না তারা।

    এমন পরিস্থিতিতে আনোয়ারুল আজিম আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন বলেন, ‘আমরা বাবার হত্যাকাণ্ডের খবর বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে জেনেছি, কিন্তু এখনো একটীও দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাইনি। হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিসহ অন্যান্যদের জামিন পাওয়ায় আমাদের সন্দেহ রয়েছে। আমি প্রশ্ন করি, আমি কি আমার বাবার হত্যার বিচার পেতে পারব?’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।’

    ডরিন জানান, ভারতের প্রশাসনের অনুরোধে তারা ডিএনএ নমুনা ও অন্যান্য পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক নমুনা জমা দেন। কিন্তু অনেক সময় পার হলেও এখনো কোনও চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাননি। মরদেহের খণ্ডাংশ না পাওয়ায় এখনো জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করতে পারেননি। উপরন্তু, মৃত্যুসনদ না পাওয়ায় আইনি ও পারিবারিক কাজে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল, কিন্তু দুই বছরের বেশি সময় পার হলো, তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া ধীরগতি হওয়ায় পরিবার হতাশা প্রকাশ করছে।

  • মুক্তিপণের সাত লাখ টাকায় জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্তি পেলেন ১৮ জলপরিজন

    মুক্তিপণের সাত লাখ টাকায় জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্তি পেলেন ১৮ জলপরিজন

    সুন্দরবনের নদীতে জলদস্যুদের হাত থেকে অপহরণের শিকার ২০ জন জেলে ও মৌয়াল থেকে ১৮ জনকে প্রায় ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়েছে। এ টাকা দিয়ে তারা ধাপে ধাপে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন, তবে এখনও দুজন জেলের মুক্তি মেলেনি। তাদের পরিবারের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বেড়েই চলেছে। সোমবার বিকেল পর্যন্ত মুক্তিপেপ্রাপ্ত জেলেরা প্রত্যেকে নিজ নিজ গ্রামে ফিরে আসতে সক্ষম হন।

    নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, ৪ ও ৫ মে দুর্বৃত্তরা ‘আলিফ’ বা ‘আলিম বাহিনী’ ও ‘নানাভাই/ডন বাহিনী’ পরিচয়ে অস্ত্রধারী জলদস্যুরা সাতক্ষীরা রেঞ্জের বিভিন্ন নদী এলাকা থেকে ২০ জন জেলে ও মৌয়ালকে অপহরণ করে। এর মধ্যে চুনকুড়ি নদীর গোয়াল বুনিয়া দুন, ধানোখালী খাল, মামুন্দো নদীর মাধভাঙা খাল ও মালঞ্চ নদীর চালতে বেড়ের খালে তাদের অপহরণ করা হয়। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মহাজন, পরিবারের সদস্য ও সহযোগীদের কাছে মুক্তিপণের জন্য যোগাযোগ করা হয়।

    অপহরণকারীরা দর-কষাকষির মাধ্যমে দাবিকৃত ঋণের অংক কিছুটা কমিয়ে আনেন। পরে নির্ধারিত মোবাইল নম্বরে টাকা পৌঁছে দেওয়ার পর দস্যুরা ধীরে ধীরে জেলেদের ছাড়তে আরম্ভ করেন।

    ফেরার সময়ে মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরলেন বিভিন্ন জেলে ও মৌয়ালরা। তাদের মধ্যে মুরশিদ আলম ৭০ হাজার, করিম শেখ ১ লাখ ২০ হাজার, আবু ইসা ৫৫ হাজার, মমিন ফকির ৪৫ হাজার, আল-আমিন ২৫ হাজার, আবুল বাসার বাবু ৩০ হাজার, আবুল কালাম ৩০ হাজার, শাহাজান গাজী ৪০ হাজার, সিরাজ গাজী ৪০ হাজার, রবিউল ইসলাম বাবু ২০ হাজার, সঞ্জয় ২০ হাজার, আল-মামুন ২০ হাজার, হুমায়ুন ২০ হাজার, মনিরুল মোল্লা ২০ হাজার, রবিউল ইসলাম ২০ হাজার, হৃদয় মন্ডল ২০ হাজার, আব্দুল সালাম ৪০ হাজার এবং ইব্রাহিম গাজী ৫৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

    অন্যদিকে, শুকুর আলী গাজী ও রেজাউল করিম নামে দুজন জেলের পরিবারের পক্ষ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে বিনিময় হলেও তারা এখনও বাড়ি ফিরেননি বলে জানা গেছে।

    পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. মশিউর রহমান জানান, জলদস্যু দমন অভিযানে কোস্টগার্ডের সাথে যৌথভাবে কাজ চলছে। তবে অপহৃতদের পরিবারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য ও সহযোগিতা না পাওয়ায় দস্যু দমনে খুব একটা কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণে অসুবিধা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে সুন্দরবনের জলদস্যু দমন সম্ভব হবে।

  • নিখোঁজ মিরাজের পরিবার সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণে ব্যাকুল

    নিখোঁজ মিরাজের পরিবার সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণে ব্যাকুল

    এক মাস তিন দিন হলো মোংলা চিলা উপজেলার জয়মনির ঘোল এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে রয়েছে মা তাছলিমা বেগমের বুকফাটা কান্নায়। ১০ এপ্রিল, সকাল থেকেই নিখোঁজ তার একমাত্র ছেলে, মিরাজ শেখ (৩০), কে তুলে নিয়ে যায় অজ্ঞাত অপরিচিত কিছু ব্যক্তি। এরপর থেকে তিনি তার সন্তানকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন, কিন্তু এখনও কোনো সন্ধান মেলেনি। বারবার থানায় জিডি, প্রতিমন্ত্রী ও সরকারের অন্যান্য দফতরে আবেদন করেও কিছু ফল হয়নি। এই সন্তানের জন্য একটি অসহনীয় অপেক্ষা চলেছে, মা বলতে চান, তার ছেলে যেন জীবিত বা মৃত—কোনোটাই অবিচলভাবে জানতে চান। পরিবারের জন্য এই নিখোঁজের কান্না শুধু হৃদয় বিদারক নয়, বরং মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণেও পরিণত হয়েছে। তারা এখন কেবল একটাই প্রত্যাশা করছেন— যেন তাদের সন্তানকে দ্রুত ফিরে পায় এবং সত্যতা নিশ্চিত হয়। পরিবারের সদস্যরা জানাচ্ছেন, তার স্বামী সুন্দরবনের জেলে ও মাছধরা জেলায় মোটরসাইকেল চালক হিসেবে কাজ করতেন। গত ৬ এপ্রিল বন্ধু বাচ্চু ও রফিকুলের সঙ্গে মিলিত হয়ে সুন্দরবনে মাছ ধরতে যান। চার দিনের পরিশ্রমের পরে ১০ এপ্রিল সন্ধ্যায় তারা ফিরে আসেন। তখনই স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সন্ধ্যা ৭টার দিকে জয়মনির ঘোলের একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সময় মিরাজকে অজ্ঞাত পরিচিত কিছু ব্যক্তি জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে একজনের সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয়রা আন্দাজে দেখেন, একটি নৌযানে করে দ্রুত তাকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি। মা তাছলিমা কেঁদে কেঁদে বলেন, ‘আমার পোলার জন্য আমার বুকের টুকরো যে এক মাস ধরে হারিয়ে গেছে, কেউ কেউ বলতে পারে না ও কই আছে। যদি ও কোনো অপরাধে জড়িত হয়, তবে দেশের আইন আছে, বিচার হবে। কিন্তু ওকে কেন লুকানো হচ্ছে? আমার মনে হচ্ছে, ওর ওগো কিছু করেছে, ও কি সাগরে ভাসিয়্যা ফেলছে?’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে আরও বলেন, ‘আমি চাই ও ফিরুক—আমি তার মুখটা একবার দেখবো। ও কি খাচ্ছে? ও কি মার খাচ্ছে? আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি, ও যেন আমার কোল ফিরে আসে।’ Although তার পরিবার নিঃসন্দেহে উদ্বিগ্ন, একটু অন্যরকম ঘটনা ঘটে গেলো ২২ এপ্রিল, মিরাজের বন্ধু বাচ্চুকে মোংলা কোস্ট গার্ডের একটি দল তুলে নিয়ে যায়। রাতে তাকে থানায় সোপর্দ করা হলেও মিরাজের খোঁজে কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। স্থানীয়রা সন্দেহ করছেন, হয়তো অভিযানের সময়ই তাকে তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে এই ব্যাপারে সরকারি পক্ষ কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি। নিখোঁজের পর থেকে তার স্ত্রীর দায়িত্ব ভর করে, তিনি মোংলা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এছাড়া, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদনও জানানো হয়েছে, কিন্তু তৎপরতা কম থাকায় পরিবারের আতঙ্ক আরও বাড়ছে। মিরাজ পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস ছিলেন, তাঁর হারিয়ে যাওয়ার পর সংসারে অস্থিরতা শুরু হয়। মা শোকে কাতর, স্ত্রী ভয় পাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই রহস্যজনক নিখোঁজের ঘটনার জন্য উদ্বিগ্ন। যখন সুন্দরবনে দস্যুমুক্ত অভিযানের খবর আসছে, তখনই এই অন্তর্ধান অন্য এক প্রশ্ন তুলে ধরছে— বিষয়টি কি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে? পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত তাকে উদ্ধার করে জনসম্মুখে আনা হোক। মোংলা সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ রেফাতুল ইসলাম বলেন, ‘মিরাজ শেখের নিখোঁজের ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়েছে। আমরা তদন্তে আন্তরিক, তার সন্ধানে গোয়েন্দা ও অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছি। তাকে কোথায় কোথায় রাখা হয়েছে বা আটক করেছেন কি-না, সে বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করছি। পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে আশ্বাস দেন।’ প্রত্যাশা, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেন দ্রুত সমাধান হয় এবং নিখোঁজের পরিবারের মনোবাসনা পূরণ হয়। মা তাছলিমার চোখের জল যেন অবহেলা না হয়, এবং তার সন্তানকে ফিরিয়ে ফিরিয়ে আনা হয়—এটাই এখন বড় প্রত্যাশা।