Category: সারাদেশ

  • খুলনায় অস্ত্র মামলায় যুবকের ১৭ বছরের কারাদণ্ড

    খুলনায় অস্ত্র মামলায় যুবকের ১৭ বছরের কারাদণ্ড

    খুলনায় অস্ত্র মামলার পৃথক দু’টি ধারায় মোঃ মেহেদী হাসান মমি জমাদ্দার (২০) নামে এক যুবককে আদালত ১৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। এই রায় বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধদমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক সাবেরা সুলতানা খানম ঘোষণা করেন। রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিল না। তিনি দৌলতপুর থানাধীন পবলা হাস খামার এলাকার বাসিন্দা এবং শামীম জমাদ্দারের ছেলে।

    মামলার তথ্য অনুসারে, ২০২৩ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ১১টার দিকে দৌলতপুর থানার এসআই আলিমুজ্জামان বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, দৌলতপুর থানার বিভিন্ন মামলার সন্দেহভাজন আসামি মোঃ মেহেদী হাসান মমি পাবলা ফকিরপাড়ার হক সাহেবের বাড়ির সামনে অবস্থান করছে। এই সংবাদ পাওয়ার পরে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

    জিজ্ঞাসাবাদে মমি পুলিশকে জানায়, তার কাছে দৌলতপুর থানাধীন কল্পতরু মার্কেটে একটি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ‘নাজ এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি পরিত্যক্ত দোকানের ছাদ থেকে দেশের তৈরি একটি ওয়ান শুটার গান ও ৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে।

    অস্ত্র উদ্ধার এবং মামলার বিষয়ে, ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর এসআই মোঃ আলিমুজ্জামান বাদী হয়ে থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেন। পরে, ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মুকুল খান আসামি মমির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালতে মোট ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়, এর মধ্যে ৭ জন সাক্ষ্য দেন। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন এবং তাকে ১৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন।

  • সাতক্ষীরার সীমান্তে বিজিবির জনবল বৃদ্ধি ও টহল জোরদার

    সাতক্ষীরার সীমান্তে বিজিবির জনবল বৃদ্ধি ও টহল জোরদার

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন শেষে ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই সাতক্ষীরার সীমান্তে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এড়াতে কঠোর সতর্কতা ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধ এবং সীমান্তের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত বলেন, সত্যিকার অর্থে, সাতক্ষীরা জেলার পার্শ্ববর্তী এলাকা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে সীমান্ত। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন-২০২৬ এর ভোট পর্যবেক্ষণ শেষে ৪ মে ফলাফলের ঘোষণা হয়। এরপর থেকে সীমান্তে কিছু অশান্তির খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা সতর্ক রয়েছি এবং সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছি। জেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায়, বিশেষ করে ভোমরা স্থলবন্দরসহ আশপাশের স্থানে, বর্ডার গার্ডসের কর্মকর্তারা সজাগ হিসেবে কাজ করছেন। তারা নিশ্চিত করেছেন যে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে আমার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে—সীমান্তে বিজিবির জনবল বাড়ানো হয়েছে এবং টহল কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। যার মাধ্যমে সীমান্তের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা বা পুশইনের ঘটনা ঘটেনি; পরিস্থিতি নির্বিঘ্ন ও শান্ত। উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, সীমান্তের শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে আইনশৃṅখলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন একযোগে কাজ করছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নিরাপত্তা জোরদারকাজ চলমান থাকবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে।

  • তাঁতি দল নেতা সোনামিয়া হত্যা মামলার আসামি অহিদুল গ্রেফতার

    তাঁতি দল নেতা সোনামিয়া হত্যা মামলার আসামি অহিদুল গ্রেফতার

    খুলনার খালিশপুরে চাঞ্চল্যকর তাঁতি দল নেতা ও সোনামিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোঃ অহিদুল ইসলাম (৪৫) কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৬ এর বিশেষ অভিযানিক দল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় র‌্যাবের এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিয়মিত মামলার আসামি, বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের গ্রেফতার এবং বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা র‌্যাবের গুরুত্বপূর্ণ অবদান। এই ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে, র‌্যাব-৬ এর সিপিসি স্পেশাল কোম্পানির একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলনার কলারোয়া থানাধীন তুলসী ডাঙ্গা তানিপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে, গত ১২ এপ্রিল খালিশপুরের পুলিশ স্টেশনে সংঘটিত তাঁতি দলের নেতা সোনামিয়া হত্যার মূল আসামি এবং পুলিশী অভিযান দিয়ে গ্রেফতার করে অহিদুলকে। সে খুলনা মহানগরের খালিশপুর গোয়ালখালি এলাকার খন্দকার সুলতান আহমেদের ছেলে। তদন্তে দেখা যায়, অহিদুলের বিরুদ্ধে খুলনা মহানগরীর খালিশপুর, সোনাডাঙ্গা ও সদর থানায় একটি হত্যা চেষ্টা, একটি জুয়ার, এবং আটটি মাদক মামলাসহ মোট ১০টি মামলা রয়েছে। তিনি খালিশপুরের একজন পরিচিত মাদক ব্যবসায়ী। ধৃত আসামিকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র‌্যাবের এই সফল অভিযানের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে।

  • পারস্পরিক সহযোগিতায় মানবতার জন্য নিরাপদ ও সুস্থ খুলনা গড়ে তোলার অঙ্গীকার

    পারস্পরিক সহযোগিতায় মানবতার জন্য নিরাপদ ও সুস্থ খুলনা গড়ে তোলার অঙ্গীকার

    খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি-খুলনা সিটি ইউনিটের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, স্বাধীন বাংলাদেশের পর থেকে ১৯৭৩ সাল থেকে রেড ক্রিসেন্টের অভিযান শুরু হয়। এই সংস্থা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও মানবতার সাথে গভীর সম্পর্কযুক্ত। তিনি আরও বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য—”ইউনাইটেড ইন হিউম্যানিটি”—আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আমরা সবাই জাতি, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে মানবতার প্রতি দায়বদ্ধ। দুর্যোগ, সংঘাত বা কঠিন সময়েও রেড ক্রিসেন্ট মানবতার জন্য কাজ করে যায়, যা আমাদের ঐক্যবদ্ধ করে। পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়িয়ে, মানবতার কল্যাণে একত্রে কাজ করার মধ্য দিয়ে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও সুস্থ নগরী গড়ার গুরুত্ব তিনি উল্লেখ করেন।

    বৃহস্পতিবার সকালে নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। এই দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘‘ইউনাইটেড ইন হিউম্যানিটি’’।

    আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা সিটি ইউনিটের সাবেক সহসভাপতি শেখ সাদিকুল ইসলাম সাদি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন রেড ক্রিসেন্টের আজীবন সদস্য ও মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এ্যাড. শফিকুল আলম মনা। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিটের উপসহকারী পরিচালক রেক্সোনা খাতুন, থ্রি-সি প্রকল্পের এ্যাসিসট্যান্ট প্রোজেক্ট ম্যানেজার মো. আব্দুল মজিদ, এ্যাসিসট্যান্ট প্রোজেক্ট অফিসার সাকিবুল হাসানসহ সংস্থার বিভিন্ন সদস্য, যুবকর্মী, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ।

    আলোচনাসভার আগে মহানগরটির বিভিন্ন স্থান থেকে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে মানববন্ধনের শুভ সূচনা করেন।

    উল্লেখ্য, খুলনা মহানগরে রেড ক্রিসেন্টের অর্থায়নে চলমান রয়েছে ‘ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ক্লিন সিটিস (থ্রিসি)’ প্রকল্প। এর আওতায় নগরীর ২১ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ডের স্লাম এরিয়া ছোট সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ, সোলার লাইট স্থাপন, প্রাকৃতিক জলাশয় পরিষ্কার, পারিবারিক টয়লেট নির্মাণ ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ক্লাইমেট রেসপনসিভ যাত্রির ছাউনি স্থাপনের কাজ চলছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং নগরীকে আরো স্থায়ী ও টেকসই করে তোলার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

  • শ্রম আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ঢাকা শ্রম ট্রাইব্যুনালের আপীল খারিজ

    শ্রম আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ঢাকা শ্রম ট্রাইব্যুনালের আপীল খারিজ

    খুলনা মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের বিরুদ্ধে শ্রম আদালত কর্তৃক দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা ঢাকাস্থ শ্রম ট্রাইব্যুনালের আপীল খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। বিচারপতি এস এম দস্তগীর হুসেনের নেতৃত্বে চেয়ারম্যান এবং মোঃ তারেক মুর্শিদ সিদ্দিকীর সদস্য যুগ্ম আদালত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। ফলে, ২০২০ সালের ২২ ডিসেম্বর শ্রম আদালত কর্তৃক নির্বাহী চেয়ারম্যান সৈয়দ আরাফাত হোসেনের দেয়া রায় অর্থাৎ, খারিজের সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকছে। ওই সময়, আদালত উল্লেখ করেছিল যে, এই মামলাটি দোতরফা মঞ্জুর না হওয়ায় খারিজ করা হয়েছে। পাশাপাশি, নির্দেশ দেয়া হয়েছিল যে, খুলনা মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যকরী কমিটি নির্বাচন, ইউনিয়নের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিটি গঠন করে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সেক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও অফিসের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনাও দেয়া হয়। এই রায়ের অনুলিপি আগামী দিনগুলোতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সরবরাহ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ইউনিয়নের সাধারণ নির্বাচনের পর, রফিউল ইসলাম টুটুল একটি মামলা করেন শ্রম আদালতে। সেই মামলার ৬ বছর পর ২০২০ সালে রায় হয়, যে মামলার কিছু সময় পরে একই ব্যক্তি শ্রম আপীল ট্রাইব্যুনালে আপীল করেছিলেন, যা পরে খারিজ হয়। এই সিদ্ধান্তের পরে প্রায় পাঁচ বছর পর ইউনিয়নের কার্যক্রম আবার সচল হয়েছে। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আতিয়ার পারভেজ ও সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ মোল্লা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, আদালতের রায় অনুযায়ী আগামী ৬০ দিনের মধ্যেই ইউনিয়নের নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হবে।

  • চিতলমারীতে জুস নিয়ে তর্ক: জামায়াত নেতা মোজাহিদকে কুপিয়ে হত্যা

    চিতলমারীতে জুস নিয়ে তর্ক: জামায়াত নেতা মোজাহিদকে কুপিয়ে হত্যা

    বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় জুস কেনাকে কেন্দ্র করে সড়াসড়ি কাটা কথাকাটির পর মোঃ মোজাহিদ মোল্লা (৪২) নামে এক মুদি দোকানীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার হিজলা ইউনিয়নের হিজলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

    নিহত মোজাহিদ মোল্লা ওই গ্রামের সরোয়ার মোল্লার ছেলে এবং বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামের হিজলা ইউনিয়ন শাখার ৩নং ওয়ার্ডের সভাপতি ছিলেন। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে স্থানীয় ও দৃষ্টান্তশীল রাজনৈতিক নেতারা শোক জানিয়েছেন; এগুচ্ছে বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান ও উপজেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দের সমবেদনার কথা।

    পুলিশ, হাসপাতালে অনলাইন খবর ও এলাকাবাসী জানান, বৃহস্পতিবার সকালে মোজাহিদ দোকানের সামনে বসে ছিলেন। তখন বায়জিদ শেখ (৪০) নামে এক ব্যক্তি তার কাছ থেকে একটি জুস কিনে এক কস ঢালি নিয়ে বলেন জুসটি ভালো লাগছে না। দোকানদার মোজাহিদ জুসটি চেখে জানায় এটা খারাপ না—এমনই কথাকাটাকাটির সূত্র ধরে উভয়ের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়।

    এক পর্যায়ে বায়জিদ হাতে থাকা হাসুয়া (ঘাস কাটার ধরনের কাস্তে) দিয়ে মোজাহিদের গলার কাছে কোপ দেন। কোপ লেগে মোজাহিদ গুরুতর আহত হন। উত্তেজিত জনতা পরে বায়জিদের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে তাকে পিটিয়ে আহত করে। স্থানীয়রা আহত মোজাহিদকে দ্রুত চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে আহত বায়জিদকে পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

    ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চিতলমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম। তিনি জানান, ঘটনার পর পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রতিযোগিতা বিধিতে বায়জিদ শেখকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মামলা দায়ের ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    অপরদিকে, বায়জিদ খাপাড়া গ্রামের বাদশা শেখের ছেলে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সংঘটিত ঘটনায় এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করায় পুলিশ অতিরিক্ত সতর্ক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

    নিহত মোজাহিদ মোল্লার একজন স্ত্রী এবং তিনটি কন্যাসহ—হাফিজ, ফারিয়া ও ফারহানা—নামে তিনটি শিশু সন্তান রয়েছে। স্থানীয় সমাজ ও রাজনৈতিক নেতারা পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে এবং দ্রুত ন্যায়বিচার দাবি করেছে। কর্তৃপক্ষ ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধান করছে এবং তদন্ত চলমান আছে।

  • বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও রূপসার পিঠাভোগ: ঠাকুর বংশের ঐতিহ্য

    বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও রূপসার পিঠাভোগ: ঠাকুর বংশের ঐতিহ্য

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল বাংলা সাহিত্যের প্রতিস্ঠিত কবি ছিলেন না—তিনি বাঙালি জাতির সাংস্কৃতিক ও মানসিক পরিচয়ের এক অনিবার্য প্রতীক। তাঁর পরিবারগত শিকড় খুঁজলে রূপসার পিঠাভোগ গ্রামের সাথে জোড়া ইতিহাসটি চলে আসে। রূপসা উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়নের পিঠাভোগ পল্লী ঠাকুর বংশের পৈতৃক স্মৃতিবাহী স্থান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    পিঠাভোগ-ঘাটভোগ ভৈরব নদীর তীরভূমিতে গড়ে ওঠা প্রাচীন জনপদ। ভৈরব অববাহিকার স্রোতের ধারায় বহু প্রাচীন বসতি গড়ে উঠেছিল; ইতিহাসে জানা যায়, হযরত খানজাহান আলীর আগমনেরও আগে এখানেই জনপদ গড়ে উঠেছিল। পিঠাভোগের প্রাচীন গোত্রীয় ব্রাহ্মণ পরিবারগুলোর মধ্যে কুশারী গোত্র বিশেষভাবে পরিচিত।

    কুশারী বংশের উত্‍পত্তি কন্যাকুঞ্জ (কান্যকুব্জ) থেকে আগত শাণ্ডিল্য গোত্রীয় ব্রাহ্মণদের সঙ্গে যুক্ত। বংশগাথায় বলা হয়, খিতীশ নামক এক শাণ্ডিল্য বংশীয় পুরুষের বংশধর বঙ্গদেশে সারি জুড়ে বসতি গড়েন এবং বর্ধমানের ‘কুশ’ গ্রাম থেকে কুশারী গোত্রের উৎপত্তি ঘটে। মধ্যযুগে কুশারী বংশের বিভিন্ন শাখা ঢাকা, বাকুড়া ও খুলনার দিকে ছড়িয়ে পড়ে। খুলনার পিঠাভোগে উত্তর পার্শ্বে রামগোপাল কুশারী বসতি স্থাপন করেন; তাঁর পুত্র জগন্নাথ কুশারীই পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতৃকূলের মূল পুরুষ বলে পরিচিত।

    পিরালী জাতের সংক্ষিপ্ত কাহিনি ঐ অঞ্চলের সামাজিক ইতিহাসের একটি অদ্ভুত অধ্যায়। খুলনা জেলার দক্ষিণ ডিহি গ্রামের রায়-চৌধুরী পরিবার থেকে সৃষ্ট পিরালী ব্রাহ্মণের উত্পত্তি সম্পর্কিত কথারা এলাকায় প্রচলিত। ঐ সময়ের প্রশাসনিক পরিবেশ, স্থানীয় সম্পর্ক ও ধর্মান্তরের ঘটনাবলি মিশে গিয়ে পিরালী শাখার আবির্ভাব ঘটে। ইতিহাসে উল্লেখিত এক বিবরণের সূত্রে জানা যায়, প্রশাসনিক পরিস্থিতি ও ব্যক্তিগত সংঘর্ষের ফলে কিছু পরিবার ইসলাম গ্রহন করলে অন্য কিছুকে পিরালী নামে ডাকা হয়; এই বংশেই পরবর্তীতে পিঠাভোগের জগন্নাথ কুশারীর সঙ্গে বিবাহসূত্র ঘটে।

    কুশারী থেকে ‘ঠাকুর’ উপাধি উদ্ভবের কথাও লোকজ এসেছে। পঞ্চানন কুশারী নামে এক ব্যক্তি ভাগীরথীর তীরবর্তী গোবিন্দপুরে (কলকাতা-অঞ্চলের কাছে) বসতি স্থাপন করেন। তিনি নৌ-সংক্রান্ত ব্যবসা ও খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের কাজ করায় স্থানীয় নাবিক ও শ্রমিকরা তাঁকে আনৈতিক সম্মানসূচকভাবে ‘ঠাকুর’ বলে ডাকা শুরু করেন; সময়ের ধারায় সেই ডাকটি উপাধি হয়ে যায়। পঞ্চাননের সেই বংশধর নীলমণি ঠাকুর জোড়াসাঁকোতে বসতি স্থাপন করেন। ঐ বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে ১৮৬১ সালে জন্ম নেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

    রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিকর্ম বিস্তৃতি ও বৈচিত্র্য অনন্য—কবিতা, গান, উপন্যাস, ছোটগল্প, প্রবন্ধ ও নাটকসহ বহু শৈলীর মধ্যে তিনি কাজ করেছেন। তাঁর রচনাবলি ব্যাপক: প্রায় ৫২টি কব্যগ্রন্থ, আনুমানিক ২০০০ গান, কুড়ি-প্লাস উপন্যাস ও অচিন্ত্যনীয় সংখ্যক ছোটগল্প ও প্রবন্ধ—এক কথায় সমগ্র জীবন জুড়ে সাহিত্যচর্চা ছিল তাঁর মূল আকর্ষণ। তাঁর সমগ্র রচনা ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’ হিসেবে ৩২ খন্ডে সংকলিত হয়েছে; চিঠিপত্র পৃথকভাবে ১৯ খন্ডে প্রকাশিত আছে। রবীন্দ্রনাথ রবীন্দ্রনৃত্যের প্রবর্তক; আর শিল্পচর্চায় তিনি সত্তর পেরিয়ে চিত্রাঙ্কনে মন দেন—প্রায় ২৫০০-এরও বেশি স্কেচ ও ছবি আঁকা রেকর্ড করা আছে, যার একটি বড় অংশ শান্তিনিকেতনেই সংরক্ষিত। ১৯২৬ সালে তাঁর চিত্র প্রদর্শনী প্যারিসে অনুষ্ঠিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক দিক থেকেও তা প্রশংসিত হয়।

    কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্য ও সাহিত্যকর্ম — ‘কবি কাহিনী’, ‘বনফুল’, ‘মানসী’, ‘সোনার তরী’, ‘চিত্রা’, ‘গীতাঞ্জলি’— এবং উপন্যাসের মধ্যে ‘গোরা’, ‘ঘরে বাইরে’, ‘চতুরঙ্গ’, ‘নৌকাডুবি’ ইত্যাদি জাতীয় ও আঞ্চলিক পাঠকপ্রিয়। নাটক, প্রবন্ধ ও অনুবাদ-রচনাতে তাঁর অবদান সমসাময়িক বিষয় ও সাংস্কৃতিক প্রশ্নে গভীর প্রভাব ফেলে।

    শেষ কথা—পিঠাভোগ কেবল একটি গ্রাম নয়; এটি রবীন্দ্রনাথের পূর্বপুরুষদের স্মৃতি ও কুশারী-ঠাকুর বংশের ইতিহাস সংরক্ষিত একটি ঐতিহ্যভূমি। যদিও বংশের কিছু শাখা বাড়তি সম্পদ ও সামাজিক অবস্থান লাভ করলেও সময়ের সাথে বিচার-বিবাদ ও বিভাজন তাদের জীবিকা ও সম্পত্তি প্রভাবিত করেছে। তবু পিঠাভোগের কুশারী বাড়ি বাঙালি ইতিহাসে একটি স্মরণীয় স্থান হিসাবে থেকে যায়—রবীন্দ্রনাথকে ব্যক্তিগত ও ঐতিহাসিক প্রসঙ্গে বোঝার এক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র।

    সূত্র: যশোর–খুলনার ইতিহাস

  • চিতলমারীতে জামায়াত নেতা মোজাহিদ মোল্লা কুপিয়ে নিহত

    চিতলমারীতে জামায়াত নেতা মোজাহিদ মোল্লা কুপিয়ে নিহত

    বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় জুস কেনাকে কেন্দ্র করে জামায়াত নেতা ও মুদি দোকানী মোঃ মোজাহিদ মোল্লা (৪২)কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে হিজলা ইউনিয়নের হিজলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত মোজাহিদ মোল্লা একই গ্রামের সরোয়ার মোল্লার ছেলে এবং বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী হিজলা ইউনিয়ন শাখার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনের মতো বাড়ির সামনে দোকানে বসে থাকা অবস্থায় ওই সময় বায়জিদ শেখ (৪০) নামে এক ব্যক্তি জুস কিনেন। বায়জিদ জুসটি এনে বলেন এটি ভালো নয়—এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

    পরে বায়জিদ হাতে থাকা হাসুয়া দিয়ে মোজাহিদের গলায় কোপ দেন। গুরুতর রক্তক্ষরণে স্থানীয়রা তাকে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এই ঘটনার পর এলাকার লোকজন ক্ষোভে বায়জিদের বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর এবং বায়জিদকে পিটিয়ে আহত করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং আহত বায়জিদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। বায়জিদ হিজলা খাপাড়া গ্রামের বাদশা শেখের ছেলে বলে জানানো হয়েছে।

    চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং বায়জিদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।

    নিহতের মৃত্যু সংবাদ ছড়ালে স্থানীয় জামায়াত ও এলাকার নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান ও উপজেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

    নিহত মোজাহিদের পরিবারে স্ত্রী এবং তিন সন্তানের মধ্যে আছে—হাফিজ, ফারিয়া ও ফারহানা। পুলিশ ও স্থানীয়রা আরও জানিয়েছে, ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত চলছে।

  • শার্শায় জমিজমা বিবাদের জেরে ককটেল বিস্ফোরণ ও মোটরসাইকেল ছিনতাই, একজন আটক

    শার্শায় জমিজমা বিবাদের জেরে ককটেল বিস্ফোরণ ও মোটরসাইকেল ছিনতাই, একজন আটক

    যশোরের শার্শায় জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘ দিনের বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এক বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয় এবং দুটি মোটরসাইকেল ছিনতাই করে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

    ঘটনাটি উপজেলার উলাশী ইউনিয়নের মাটিপুকুরিয়া গ্রামে ঘটে। স্থানীয় ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে ওই গ্রামের রবি হোসেনসহ অজ্ঞাত আরো ২–৩ জন ওই এলাকার ইয়াকুব আলীর বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা বাড়ির সদস্যদের গালিগালাজ ও হুমকি দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

    একপর্যায়ে অভিযুক্তরা ইয়াকুব আলীর একতলা পাকা বাড়ির দেয়ালে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণের ভয়াবহ শব্দে আশপাশের মানুষ দৌড়ে এসে ছুটেন এবং পুরো এলাকায় ভয়ে কাপতে থাকে। পরে দুর্বৃত্তরা বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে একটি লাল-কালো পালসার এবং একটি হিরো স্প্লেন্ডার মোটরসাইকেল জোরপূর্বক নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তৎপর হয়ে বেনাপোল এলাকা থেকে রবি হোসেনকে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে লুট হওয়া দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, ইয়াকুব আলী ও প্রতিবেশী রবি হোসেনের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকেই বাড়ির পাশের জমিতে পুকুর খননকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিল। তারা বলেন, অতিরিক্ত গভীরতা দিয়ে পুকুর খননের ফলে ইয়াকুব আলীর বাড়ি ও আশপাশের স্থাপনার ভাঙার আশঙ্কা দেখা দেয় এবং এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বহুবার তর্কবিতর্ক হয়েছে।

    এছাড়া স্থানীয়রা আরো জানান, রবি হোসেন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা পাওনা দাবিও করছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

    শার্শা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, ঘটনাটি তদন্তাধীন এবং সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তদন্তের পরে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

  • কেসিসির তেল চোর চক্র ধরতে তিন দফায় তদন্ত কমিটি গঠন

    কেসিসির তেল চোর চক্র ধরতে তিন দফায় তদন্ত কমিটি গঠন

    খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) তেল চোর চক্রের ঘটনার তদন্ত করতে তিন দফায় কমিটি গঠন করেছে। কেসিসি প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা সাক্ষরিত অফিস আদেশে সর্বশেষ ৪ মে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আদেশে কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোঃ আনিসুজ্জামানকে। অন্য দুই সদস্য হলেন কনজারভেন্সি অফিসার মোঃ আনিসুর রহমান ও উপসহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোঃ সেলিমুল আজাদ।

    ঘটনাটি ঘটেছিল গত ১৯ মার্চ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে। খালিশপুর বি-অঞ্চলের এসটিএস সুপারভাইজার নুরুজ্জামান সুমন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে ফোন করে জানায় যে, খালিশপুর নিউমার্কেটের এসটিএস এর এলাকায় এক ব্যাকহুইল লোডারের জ্বালানি ট্যাংকের মুখ খুলে তেল চুরি হচ্ছে। প্রশাসকের নির্দেশনায় সেখানে গেলে একটি তেলের ক্যান এবং কয়েক লিটার তেল জব্দ করা হয় এবং ওই ব্যাকহুইল লোডারের চালক এনায়েত হোসেন বাবলুকে গাড়ি চালানো থেকে বিরত রাখা হয়। ঘটনার প্রাথমিক দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা অভিযোগ পেয়ে তদন্ত সাপেক্ষে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ দেন।

    তবে তদন্ত শুরু থেকেই সদস্য জাতীয় পরিবর্তন দেখা দেয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রথমে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হলেও কমিটির একজন সদস্যকে নিয়ে আপত্তি উঠায় প্রশাসকের নির্দেশে তিনি কমিটি থেকে সরিয়ে নতুন করে গঠন করা হয়। বাদ দেওয়া সদস্য ছিলেন কেসিসি এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিন; তাঁর স্থলে নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোঃ আনিসুজ্জামানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    পরে পুনরায় গঠিত দ্বিতীয় দফার কমিটিতে আহবায়ক করা হয় মোঃ আনিসুজ্জামানকে। ওই সময়ে কমিটির এক সদস্য, কনজারজেন্সি অফিসার মোঃ অহেদুজ্জামান ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করলে তদন্ত চলাকালীন আবারও তৃতীয় দফায় কমিটি গঠন করা হয়।

    এই ঘটনায় আগে থেকেই ইতিহাসও আছে। সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের সময়ে কেসিসি কর্তৃপক্ষ দুই ড্রাম চোরাই তেলসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করেছিল; সেই ঘটনার তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছিল কিন্তু এখনও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ পায়নি। স্থানীয় চালক ও কর্মচারীরা আশা করছেন, পুরনো তদন্ত রিপোর্ট খতিয়ে দেখলে কিংবা নতুন তদন্তে সর্তকভাবে যাচাই-বাছাই করলে তেল চুরির সম্ভাব্য চক্রের পরিচয় উঠে আসবে।

    নতুন গঠিত কমিটির সদস্য কনজারভেন্সি অফিসার মোঃ আনিসুর রহমান প্রথমে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “আমি এ ঘটনার বাদী। আমাকে কীভাবে ও কোন নিয়মে কমিটির সদস্য করা হলো—এটার ব্যাখ্যা চাই।” কেসিসি প্রশাসন কমিটির পুনর্গঠন এবং তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে প্রতিবেদন প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে।