সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনে চুড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ২০ প্রার্থীর মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মিজ আফরোজা আখতার তার সম্মেলন কক্ষে সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে প্রতীক বণ্টন করেন।
প্রতীক বরাদ্দের আগে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় রিটার্নিং কর্মকর্তা নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং আচরণবিধি লঙ্ঘিত হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে বলে সতর্ক করেন। এ সময় পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান, জেলার বিজিবি প্রধান ও আনসার কমান্ডান্টসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-গণও নির্বাচন সংক্রান্ত সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন।
বণ্টিত প্রতীকের মধ্যে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বীরা ‘ধানের শীষ’, জামায়াতের প্রার্থীরা ‘দাড়িপাল্লা’, জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা ‘লাঙ্গল’ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরা ‘হাতপাখা’ প্রতীক পেয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী ‘ডাব’, বাংলাদেশ জাসদের প্রার্থী ‘মটরগাড়ি’, স্বতন্ত্র প্রার্থী ‘ফুটবল’ এবং বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির প্রার্থী ‘রকেট’ প্রতীকে লড়বেন।
প্রতীক প্রাপ্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়নি বললে ভুল হবে—আসনভিত্তিক তালিকা হচ্ছে:
সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া): বিএনপির হাবিবুল ইসলাম হাবিব (ধানের শীষ), জামায়াতের মো. ইজ্জত উল্লাহ (দাড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের শেখ মো. রেজাউল করিম (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির জিয়াউর রহমান (লাঙ্গল) ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের ইয়ারুল ইসলাম (ডাব)।
সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা): বিএনপির আব্দুর রউফ (ধানের শীষ), জামায়াতের মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক (দাড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির আশরাফুজ্জামান (লাঙ্গল), বাংলাদেশ জাসদের ইদ্রিস আলী (মটরগাড়ি) এবং ইসলামী আন্দোলনের মুফতী রবিউল ইসলাম (হাতপাখা)।
সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ): স্বতন্ত্র প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ডা. শহিদুল আলম (ফুটবল), বিএনপির কাজী আলাউদ্দীন (ধানের শীষ), জামায়াতের হাফেজ রবিউল বাশার (দাড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির আলিপ হোসেন (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলনের ওয়েজ কুরনী (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির রুবেল হোসেন (রকেট)।
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর): বিএনপির ড. মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান (ধানের শীষ), জামায়াতের জিএম নজরুল ইসলাম (দাড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের এইচ এম মিজানুর রহমান (হাতপাখা) ও জাতীয় পার্টির আব্দুর রশিদ (লাঙ্গল)।
প্রসঙ্গত, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে। জাতীয় পর্যায়ে মনোনয়নপত্র দাখিলের প্রক্রিয়ায় সাতক্ষীরায় ২৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ১৯টি বৈধ ও ১০টি বাতিল ঘোষণা করেন। এরপর নির্বাচন কমিশনে আপীল করলে চারজনের মনোনয়ন বৈধ হিসেবে গৃহীত হয়ে মোট বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২৩। পরে তিনজন মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ২০ জন প্রার্থী নির্ধারিত হন এবং বুধবার তাদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়।
জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন সংক্রান্ত কর্মকর্তারা সব পক্ষকে শান্তিপূর্ণ, সুনামের সঙ্গে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনায় আহ্বান জানিয়েছেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা reiterated করেছেন।









