পবিত্র মাহে রমজানের সমাপ্তি ঘটেছে। শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে, তাই শনিবার (২১ মার্চ) দেশজুড়ে উদযাপিত হবে ঈদুল ফিতর। কক্সবাজারে শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে শাওয়ালের চাঁদ দেখার খবর পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু সার্কিট হাউস ময়দানের প্রস্তুতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, সার্কিট হাউস ময়দান একটি ঐতিহ্যবাহী মাঠ যেখানে প্রতিবারই হাজারো মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেন। মুসল্লিদের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য মাঠের প্রস্তুতি ত্বরান্বিতভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে এবং প্রযোজ্য সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
জেলা ও নগরীর বিভিন্ন কেন্দ্রে নির্ধারিত জামাতের সময়সূচি মেলে—
– খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে প্রধান জামাতসকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে।
– দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯টায় ও তৃতীয় জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে খুলনা টাউন জামে মসজিদে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে তিনটি জামাতই খুলনা টাউন জামে মসজিদে সকাল ৮টা, ৯টা ও ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে।
– সকাল সাড়ে ৮টায় খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন মডেল মসজিদ ও বয়রা মডেল মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
– খালিশপুর ঈদগাহ ময়দান ও বসুপাড়া ইসলামাবাদ ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
– বায়তুন নূর জামে মসজিদে দুটি জামায়াত—প্রথম সকাল ৮টায়, ইমামত করবেন খতিব হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ ইমরান উল্লাহ; দ্বিতীয় সকাল ৯টায় ইমামত করবেন হাফেজ মাওলানা মো. জাকির হোসেন।
বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে আলাদা ব্যবস্থাপনা রাখা হয়েছে—
– খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে; এই জামাতে মহিলাদের জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
– খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে।
নগরের অন্যান্য নামাজের সময়—
– শান্তিধাম মোড়ের আল-হেরা জামে মসজিদে সকাল ৮টায় জামাত।
– জাতিসংঘ শিশু পার্কে সকাল সাড়ে ৮টায় নামাজ।
– আব্দুর রাজ্জাক জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় জামাত।
– ময়লাপোতা মোড়ের বায়তুল আমান জামে মসজিদে প্রথম জামাত সকাল ৮টায় ও দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯টায়।
– মোল্লাপাড়া জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
খুলনা সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় এবং ওয়ার্ডভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবকদের তত্ত্বাবধানে নগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে আলাদা আলাদা স্থানে জামাতের আয়োজন করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়েও সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো স্থানভিত্তিক সুবিধা অনুযায়ী জামাতের সময় নির্ধারণ করবে।
ঈদ-উৎসবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মহানগর ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় intensified টহল দেবে। নিয়ম ভঙ্গ রোধে আতশবাজি ও পটকা ফোটানো, সড়ক বন্ধ করে স্টল বসানো, উচ্চস্বরে মাইক বা ড্রাম বাজানো, রঙিন পানি ছুটানো এবং বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে। সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপন এবং নির্ধারিত নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ করা হয়েছে।
সবশেষে, সকলকে ঈদ মোবারক—স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তার নিয়ম মেনে শান্তিপূর্ণ ও সজাগভাবে উল্লাস করার আহ্বান রইল।









