Category: সারাদেশ

  • জিয়াউর রহমানের নাম উঠবে ভয়ে পূর্বের সরকার খাল খনন বন্ধ রেখেছিল: প্রতিমন্ত্রী

    জিয়াউর রহমানের নাম উঠবে ভয়ে পূর্বের সরকার খাল খনন বন্ধ রেখেছিল: প্রতিমন্ত্রী

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান; এই কর্মসূচি পরবর্তীতে কৃষিতে বিপ্লব সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু পরে রাষ্ট্রনায়ক জিয়ার নাম উঠে আসবে — এমন রাজনৈতিক সংকীর্ণতার কারণে পরবর্তী সরকারগুলো খাল খনন চালিয়ে রাখতে রাজি হননি এবং এর ফলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ‘‘শুধু সেই ক্ষুদ্র চিন্তার কারণে খাল খনন বন্ধ রাখার ফলেই জনগণ বঞ্চিত হয়েছে,’’ তিনি বলেন।

    আজ শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে যশোরের কেশবপুর উপজেলার বুরুলি খালের তিন কিলোমিটার পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি আরও জানান, ‘‘বিগত সময়গুলোতে রাজনৈতিক পার্থক্যের কারণে খাল পুনঃখনন কর্মসূচি স্থগিত থাকায় বহু এলাকার কৃষি ও জীবনযাত্রা প্রভাবিত হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর—প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায়—জনগণের利益ে পুনরায় খনন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।’’

    অমিত বলেন, সরকার এই অঞ্চলের মানুষের দুঃখ-কষ্টের স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জলাবদ্ধতা কমাতে বর্তমানে ৮১.৫০ কিলোমিটার নদ-নদী পুনঃখননের কাজ চলছে। পাশাপাশি ভবদহ এলাকায় ২১টি অভ্যন্তরীণ খাল পুনঃখননের কর্মকাণ্ডও দ্রুত এগোচ্ছে। বর্ষা আসার আগে ভবদহে মোট ২১টি ভেন্ট-স্লুইসগেটের মধ্যে ১৭টিতে কপাট খুলে পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

    তিনি স্থানীয় প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) বর্ষার আগেই বাঁধ অপসারণ ও স্লুইসগেট সচল করতে তৎপর হওয়ার নির্দেশ দেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে গতবারের তুলনায় এবারের জলাবদ্ধতা অন্তত ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তিনি সেনাবাহিনী পরিচালিত খননকাজে তরুণ সমাজকে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে অংশগ্রহণের অনুরোধ জানান।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যশোর জেলা প্রশাসক আশেক হাসানের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মামুনুর রশিদ, যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জী, প্রভাষক জুলমত আলী, এম এ আলিম প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানের পর প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বুরুলি খালের মাটি কাটার মাধ্যমে পুনঃখনন কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। খালটি পুনঃখনন সম্পন্ন হলে উপজেলার বুরুলি, পাথরা, পাঁজিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও কৃষ্ণনগর বিলের পানি সহজেই উপার ভদ্রা নদীতে নিষ্কাশিত হবে। বর্তমানে খালটি পলিতে ভরাট হওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে এই এলাকার কৃষকরা ফসল উৎপাদনে হোঁচট খাচ্ছিলেন—এই সমস্যার সমাধানেই পুনঃখনন কাজ করা হচ্ছে।

  • টানা ১০ দিন বন্ধ থাকার পর ভোমরা স্থলবন্দর পুনরায় চালু

    টানা ১০ দিন বন্ধ থাকার পর ভোমরা স্থলবন্দর পুনরায় চালু

    সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর টানা ১০ দিন বন্ধ থাকার পর শনিবার (২৮ মার্চ) থেকে আবারও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পবিত্র ঈদুল ফিতর এবং সাপ্তাহিক ছুটির কারণে গত ১৮ মার্চ (বুধবার) সকাল থেকে ২৭ মার্চ (শুক্রবার) পর্যন্ত বন্দরের সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থগিত ছিল।

    এইভাবে এত দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সরকার মোটা অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেছেন। তবে বন্ধ থাকা সময়েও পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক থাকে, যদিও সংখ্যাটি ছিল অপেক্ষাকৃত কম।

    ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুসা জানিয়েছেন, ঈদ উপলক্ষে দুই দেশের ব্যবসায়ি নেতৃবৃন্দের আলোচনার পরে গত ১৮ মার্চ থেকে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। শনিবার সকাল থেকেই বন্দরে পুনরায় কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ধীরে ধীরে পুরোদমে চালু হয়েছে।

    ভোমরা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক রাশেদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঈদের দীর্ঘ ছুটির সময়ও পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত সুবিধাভোগী ছিল, তবে ছুটির দিনে যাত্রীসংখ্যা ছিল খুবই কম।

    ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা মিজানুর রহামন জানান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ঘোজাডাঙা স্থলবন্দর ও ভোমরা স্থলবন্দরের ব্যবসায়ি সমিতির নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্ত মোতাবেক গত ১৮ মার্চ থেকে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রাখা হয়। শনিবার থেকে আবারও বন্দরের সব ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, জেলার শহর থেকে মাত্র ১৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই স্থলবন্দরটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক করিডোর হিসেবে বিবেচিত। ভারতের ঘোজাডাঙা থেকে কলকাতার দূরত্ব মাত্র ৬০ কিলোমিটার হওয়ায় ভোমরা বন্দর ব্যবসায়িকভাবে কৌশলগত গুরুত্ব রাখে। গত ঈদের ছুটি ও সরকারি ছুটির কারণে সর্বোচ্চ ১০ দিন বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এখানকার রাজস্ব আহরণে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।

    বন্দর চালুর সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেন ও পণ্য আমদানি-রপ্তানি ধীরে ধীরে গতিতে ফিরছে এবং বন্দরে কর্মরত ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মধ্যে উৎসাহ দেখায়।

  • চিতলমারীতে সংঘর্ষের পর হামলা-অগ্নিসংযোগ: প্রায় ৪০ বসতবাড়ি ধ্বংস, নিহত ১

    চিতলমারীতে সংঘর্ষের পর হামলা-অগ্নিসংযোগ: প্রায় ৪০ বসতবাড়ি ধ্বংস, নিহত ১

    বাগেরহাটের চিতলমারী থানা এলাকার চিংগড়ী গ্রামে জমি-আধিপত্য বিরোধকে ঘিরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রাতে স্বল্প তরঙ্গের সংঘর্ষে পরিণত হয়ে ব্যাপক হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত এক যুবক নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন; স্থানীয়রা জানাচ্ছেন প্রায় ৪০টি বাড়িঘর ও দোকান ভাঙচুর-লুটপাট ও অগ্নিদগ্ধ হয়ে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে।

    স্থানীয় তথ্যের বরাতে জানা যায়, সংঘর্ষের মূল সূত্রপাত ছিল মধুমতি নদীর চর জমি নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিশ্বাস গ্রুপ ও শেখ গ্রুপের পুরোনো বিদ্বেষ থেকে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চিংগড়ী গ্রামে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষের পর এক দফায় সশস্ত্র ও সংগঠিত হামলায় অনেক বাড়িতে petrol ও পিচ ঢেলে আগুন দেওয়ার, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

    এই সহিংসতায় নিহত হয়েছেন রাজিব শেখ (২৫)। আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন বলে সূত্রে জানা গেছে। শনিবার সকাল পর্যন্ত এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে; স্থানীয়রা বলছেন যেকোনো সময় উত্তেজনা আবার ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    ভেতরের দিকে গিয়ে দেখা গেছে, চিতলমারী-পাটগাতি সড়কের চিংগড়ী ও মচন্দপুর গ্রামের মাঝামাঝি এলাকায় সড়কজুড়ে ইটখোড়া ছড়িয়ে আছে। শেখ বাড়ির দিকে গেলে পোড়ার গন্ধ ছড়িয়ে, ধ্বংসস্তূপ আর অর্ধদগ্ধ বসতবাড়ি চোখে পড়ে। অনেক পরিবারের শেষ সম্বলকেও পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে; অনেকের একবেলা খাবারের জোগাড় নেই। নিহত রাজিবের বাড়ির পেছনে দুই ডেক্সিতে একসঙ্গে সবাই মিলে খাবার রান্না করা হচ্ছিল।

    ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করেছেন, ঘটনার দিন বিকেলে আরিফ শেঠ নামে এক যুবক মোটরসাইকেলে গেলে বিশ্বাস পরিবারের কিছু লোক দায়ের করে তাকে ফুলকুচি দিয়ে আঘাত করে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে শেখ ও বিশ্বাস পরিবারের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়ে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। স্থানীয়দের দাবি অনুসারে সাইদ বিশ্বাস ও সোহাগের নেতৃত্বে একদল লোক শেখ বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালায়।

    ক্ষতিগ্রস্ত লিয়াকত শেখ বলেন, “আগুন দিয়ে আমার সব শেষ করে দিয়েছে, কি খাবো জানি না। আমরা তো কারও সঙ্গে মারামারি করিনি।” মনোয়ারা বেগম জানিয়েছেন, স্ত্রী-স্বামীর অসুস্থতার মধ্যেও তাদের ধান ও অন্যান্য জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। জয়নব বেগম বলেন, বাড়ি মেরামত করতে নেওয়া ৫০ হাজার টাকার ঋণ আর কিছু পশু ছিল, তা পুড়ে গেছে; প্রাণভয়ে আইনের আশায় আছেন।

    আবার কিছু স্থানীয়রা পুলিশ কর্তাদের আচরণকে নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। মোবাইল ফোনে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় পুলিশ ও কিছু দুর্বৃত্তের সঙ্গে সংঘর্ষে তাদের ওপরও নির্যাতন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে; তারা পুলিশের বিরুদ্ধে নুরে আলম দারগা (এসআই) নামের এক কর্মকর্তার নেতৃত্বে তাঁরা সহায়ক ভূমিকা নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। এসব অভিযোগ পুলিশ অস্বীকার করেছে না-এমনভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

    পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের ঘটনাস্থলে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযোগের কারণে সৌরভ বিশ্বাস (১৯) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহত রাজিবের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাগেরহাট অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শামীম হোসেন বলেছেন, কয়েকটি বসতবাড়ি ও দোকানে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট হয়েছে; অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।

    চিতলমারী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আব্দুল ওয়াদুদ জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছানোর চেষ্টা করা হলেও আগুন নেভাতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে; তাদের হিসাব অনুসারে আনুমানিক ২০-২৫টি বসতঘর পুড়েছে। একযোগে চারটি ইউনিট কাজ করে প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

    স্থানীয়দের অনেকে তাদের মূল্যবান জিনিসপত্র নিকটাত্মীয়দের বাড়িতে পাঠাচ্ছেন; তাতে করে অস্থায়ীভাবে অনেকেই নিরাপত্তা সংকটে পড়েছেন। পুরোনো জমি-সংক্রান্ত বিরোধ ও হত্যা-ঘটনার কারণে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা ছিল বলে স্থানীয়রা জানান। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও জনজীবন অস্বস্তিতে আছে এবং দ্রুত আইনি তদন্ত ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানাচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

  • বাগেরহাটে কিশোরী রিয়া মনি হত্যায় গ্রেপ্তার ৩; এক আসামি আদালতে দায় স্বীকার

    বাগেরহাটে কিশোরী রিয়া মনি হত্যায় গ্রেপ্তার ৩; এক আসামি আদালতে দায় স্বীকার

    বাগেরহাটের শরণখোলায় কিশোরী রিয়া মনি হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ; এর আগে একজনকে আটক করার ফলে মোট গ্রেপ্তার হল ৩ জন।

    গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন শরণখোলা উপজেলার রাজৈর গ্রামের মাসুম হাওলাদারের ছেলে ও রায়েন্দা বাজারের কসমেটিক ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম রুবেল (৪০) এবং কদমতলা গ্রামের আউয়াল সরদারের ছেলে মিজানুর রহমান সরদার (২৩)। আগে রাজাপুর এলাকার তুহিন (২৫)কে আটক করে পুলিশ।

    পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার মিজানুর রহমান রিয়া মনি হত্যা কাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকা স্বীকার করেছেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যায় বাগেরহাট জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জেবুন্নেছার আদালতে ১৬৪ ধারায় তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। মিজানুরের দাবি, মাদককে কেন্দ্র করে রিয়া মনির সঙ্গে বিরোধ চলছিল। বিরোধের জেরে তিনি ও তার কয়েকজন সহযোগী পরিকল্পিতভাবে রিয়া মনিকে গলাকেটে হত্যা করেছেন।

    শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সামিনুল হক বলেন, কিশোরী রিয়া মনি হত্যা মামলায় সরাসরি জড়িত থাকার কারণে এ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মিজানুর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। অন্য অভিযোগপ্রাপ্তদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম অভিযান চালাচ্ছে।

    ঘটনায় তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, (২৪ মার্চ) ভোরে শরণখোলার রাজৈর গ্রামে রিয়া মনি (১৫) নামের ওই কিশোরীর গলাকেটে মারা যাওয়া অবস্থায় লাশ উদ্ধার করা হয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।翌দিন নিহত কিশোরীর বাবা আজিম শেখ শরণখোলা থানায় অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনকে আসামী করে এক হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    পুলিশ ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে এবং শীঘ্রই অন্যান্য অভিযুক্তদেরও গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করছে।

  • খুলনায় ছিনতাইয়ের ঘটনায় এক ছিনতাইকারী নিহত, ব্যবসায়ী আহত

    খুলনায় ছিনতাইয়ের ঘটনায় এক ছিনতাইকারী নিহত, ব্যবসায়ী আহত

    খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় ছিনতাইকারী দলের নিজেই ছোঁড়া গুলিতে এক ছিনতাইকারী নিহত এবং এক ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন। নিহত ছিনতাইকারীর নাম সাগর (৩০) বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

    ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দিবাগত গভীর রাতে স্টিমার ঘাট সংলগ্ন পপুলার জুটের পাটগুদাম এলাকায়। পুলিশের ও স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, দেয়াড়া কলোনী এলাকায় দোকান-ঘাট থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তৌহিদুল ইসলাম—যিনি খুলনা পাড়ে মুদি ও ফ্লাক্সিলোড ব্যবসা করেন। চার শিশস্ত্র সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারী তাকে পথরোধ করে টাকা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে।

    ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ছিনতাইকারীরা গুলি ছোঁড়লে সেই গুলি লক্ষভ্রস্ত হয়ে দলের এক সদস্যের গায়ে লাগে। গুলিবিদ্ধ সাগরকে পাশে থাকা সহযোগীরা ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। সেই সময় গুলিতে আহত হন ব্যবসায়ী তৌহিদও। এলাকাবাসীর চিৎকারে অনেকেই ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে দিঘলিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। সেখান থেকে উভয়কে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাগরকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের বক্তব্যে ধারণা করা হচ্ছে, হাসপাতালে নেওয়ার পথে বা হাসপাতালে আনার পরেই তার মৃত্যু হয়েছে। আহত তৌহিদুল ইসলাম বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা বলেন, নিহত সাগরকে দেয়াড়া কলোনী এলাকার চিহ্নিত সশস্ত্র সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যরা পালিয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মরিগে পাঠানো হয়েছে।

    দিঘলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্তের জন্য সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেছেন। পুলিশ পলাতক remaining সন্দেহভাজনদের ধরার চেষ্টা করছে এবং ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত চালাচ্ছে।

  • চিটলমারীতে সংঘর্ষ পরবর্তী সন্ত্রাস: অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটে ৪০ ঘর-দোকান ধ্বংস, নিহত ১

    চিটলমারীতে সংঘর্ষ পরবর্তী সন্ত্রাস: অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটে ৪০ ঘর-দোকান ধ্বংস, নিহত ১

    বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চিংগড়ী গ্রামে জমি ও আধিপত্য নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিশ্বাস ও শেখ নামের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের পর গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত নিয়ন্ত্রিত হামলা-অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় অন্তত ৪০টি বসতবাড়ি ও দোকান ভস্মীভূত হয়েছে। ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন রাজিব শেখ (২৫), আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত ২৬ মার্চ বিকেল সাড়ে ৬টার পর চিতলমারী-পাটগাতি সড়কের চিংগড়ী ও মচন্দপুর এলাকার মাঝে তখনই উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। সন্ধ্যার দিকে এক যুবক আরিফ শেথকে (স্থানীয়) বিশ্বাস পরিবারের লোকজন ‘ফুলকুচি’ দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ ওঠে। ফুলকুচি বলতে এখানে লোকালভাবে ব্যবহৃত লোহার হ্যান্ডেলযুক্ত মাছ ধরার অস্ত্র বোঝানো হয়েছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুইপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয় এবং রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, পুলিশ পাশে থাকা অবস্থায় কাজে লাগিয়ে সাইদ বিশ্বাস ও সোহাগ মেম্বরের নেতৃত্বে সয়লাব সশস্ত্র গ্রুপ সেখানে ঢুকে ২০০-র বেশি লোককে সামনে রেখে শেখ পরিবারকে লক্ষ্য করে লুটপাট, ভাঙচুর ও বনভূমি কাঁচামাল-ভিত্তিক পেট্রোল ও পিচ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। একাধিক বাড়ি একে একে পুড়ে যায়; অনেক বাড়ি সম্পূর্ণ জমি ঝড়ে বিলীন হয়েছে, আবার অনেকে আংশিকভাবে পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুপুর পর্যন্ত এলাকায় থেমে থেমে গুমোট শব্দ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে, স্থানীয়রা আবারও নতুন হামলার ভয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে শুরু করেছেন।

    ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় ঝাঁঝালো পোড়ার গন্ধ, ইট-ফোটা এবং ছাই মিশ্রিত ময়লা। শহরের বাইরে থাকা অনেক মানুষ ছুটে এসে নিজেরা পুড়ে যাওয়া বাড়িঘরের ধ্বংসাবশেষ দেখছেন; কেউ কেউ হাতের উপর মাথা তুলে বসে কাঁদছেন। নিহত রাজিব শেখের পরিবারের পাশে দুটি বড় চৌকি বসিয়ে সবাই মিলে রান্না করে খাচ্ছেন। বেশিরভাগ পরিবারের শেষ সম্বলও নষ্ট হয়েছে; ঘরে চাল-আটা, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার পুড়ে বা লুটপাটে চলে গেছে বলে অভিযোগ আসে। অনেক বাড়িতে বৈদ্যুতিক খুঁটি পুড়ে যাওয়ার কারণে বিদ্যুৎও বিচ্ছিন্ন।

    ক্ষতিগ্রস্ত লিয়াকত শেখ বলেন, “আমার সব শেষ করে দিয়েছে, কী খাবো বা কী করবো জানি না। আমাদের কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ নেই। আমার ছেলে-কে বা আমায় কোনো কাউকে কেন এমন করার দরকার?” মনোয়ারা বেগম বলেন, “স্বামী প্যারালাইজড অবস্থায় শুয়ে আছেন। ছোট ছেলে ঢাকায় পাঠিয়ে দিয়েছি। ঘরে ঋণে কেনা ছয় মাসের ধানও পুড়ে গেছে।” জয়নব বেগম নামে এক নারী বলেন, ঘর ঠিক করার জন্য করা ৫০ হাজার টাকার ঋণ এখন হাতছাড়া, এক ছাগল ও কিছু হাঁস-ভরে ছিল, সেগুলোও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে; হামলাকারীদের বিচার ও ঘরাবাড়ি ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন তিনি।

    অন্যদিকে হামলাকারীর সংখ্যা ও সংগঠিত কাজের বিষয়েও ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করেন; মোঃ বাবলু শেখ বলেন, “ওরা অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে একযোগে এসে আমাদের ঘরে আগুন দিয়েছে। পুলিশ এসআই নুরে আলম দাবি করে আমাদের লোকজনকে পিটিয়ে ছত্রভঙ্গ করেছে এবং পুলিশের সামনেই আগুন ছুঁড়েছে।” এ দাবির বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে অবস্থানকারী একাধিক সদস্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছেন; অভিযোগের তদন্ত চলছে।

    ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতের নাম সৌরভ বিশ্বাস (১৯), তিনি মচন্দপুর গ্রামের সোহেল বিশ্বাসের ছেলে। নিহত রাজিব শেখ চিংগড়ী গ্রামের ফারুক শেখের ছেলে। বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ শামীম হোসেন বলেন, অনেক বসতবাড়ি ও দোকানে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট হয়েছে; নিহত রাজিবের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযান জোরদার করে অপরাধীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।

    চিতলমারী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার আব্দুল ওয়াদুদ জানান, খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও বাধার মুখে আগুন নেভাতে কিছুটা দেরি হয়েছে। আনুমানিক ২০-২৫টি বসতঘর পুড়ে গেছে বলে তারা ধারণা করছেন; ফায়ার ইউনিট চারটি একযোগে কাজ করে প্রায় তিন ঘণ্টা লড়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

    স্থানীয়রা বলছেন, মধুমতী নদীর চরভূমি দখল ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই শেখ-মানুষ ও বিশ্বাস পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছে; পূর্বে এই বিরোধে তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ দুই পরিবারের বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে শান্তি ফেরাতে প্রশাসনকে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এখন পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ ও অনিশ্চিত; স্থানীয়রা দ্রুত বিচারের দাবি করছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছেন।

  • খুলনায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত

    খুলনায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত

    মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে খুলনায় বৃহস্পতিবার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। শতকরা নম্বর শ্রদ্ধা-ভঙ্গিমায় শহরজুড়ে জাতীয় অনুভূতি ঝুঁকে পড়েন সাধারণ মানুষ부터 প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলো পর্যন্ত।

    সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে গল্লামারী শহিদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে সূচনা হয় উৎসবের। এ সময় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘোষণা করা হয়। সরকারি, আধাসরকারি, স্বশাসিত ও বেসরকারি ভবনগুলো জাতীয় পতাকা হাতে তুলে নেয়া হয় এবং শহরের প্রধান সড়ক ও দিগন্তরেখা জাতীয় পতাকা দিয়ে সজ্জিত করা হয়।

    গল্লামারী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের আয়োজনেও উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ, কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক, কেএমপি কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকার, পুলিশ সুপারসহ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, আনসার-ভিডিপি, কেডিএ, নৌপুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, রাজনৈতিক ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

    সকাল সাড়ে আটটায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ। একই স্থানে পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, বিএনসিসি, ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য বাহিনীর কুচকাওয়াজ ও সমবেত মর্যাদাপূর্ণ প্রদর্শন অনুষ্ঠিত হয় এবং তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ উপস্থিতি ও কুচকাওয়াজকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসেবে বিভাগীয় কমিশনার সালাম গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে রেঞ্জ ডিআইজি, কেএমপি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    নগর ভবনে কেসিসি আয়োজিত শিশুদের চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। কেসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান ও প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা সহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

    খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিস ও পিআইডির উদ্যোগে শহিদ হাদিস পার্কে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডিটোরিয়ামে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ‘জাতির সূর্য সন্তান’ বলে অভিহিত করে তাদের ত্যাগ ও আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করছি, সরকারের দোরগোড়ায় তাদের সবসময় সেবা ও সহায়তা নিশ্চিত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।

    জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকারের সভাপতিত্বে আয়োজনিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কেএমপি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান, পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি তফায়েল আহমেদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, বাংলাাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মহানগর ও জেলা ইউনিটের নেতারা এবং শহিদ সাকিব রায়হানের মাতাসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

    দিবসটি উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন সিনেমা হল এবং উন্মুক্ত স্থানে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, পথশিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র, শিশু দিবাযতœ কেন্দ্র এবং অন্যান্য সামাজিক প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের মাধ্যমে সেবা নিশ্চিত করা হয়। জাতির শান্তি ও অগ্রগতির জন্য মসজিদে, মন্দিরে, গীর্জায় ও অন্যান্য পূজা স্থানে বিশেষ প্রার্থনা ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

    বিআইডব্লিউটিএ রকেট ঘাটে সকাল ৯টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নৌবাহিনীর জাহাজ সাধারণ জনতার দর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি ভবন ও স্থাপনায় আলোকসজ্জা করা হয়। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা (টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, ফুটবল ও কাবাডি) অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সকল পার্ক ও বিভাগীয় জাদুঘর শিশুদের জন্য বিনামূল্যে খোলা রাখা হয়।

    প্রতিদিনের মতো খুলনা বেতার বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করে এবং স্থানীয় পত্রিকাগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশের মাধ্যমে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে। রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও নানা কর্মসূচি দিয়ে দিবসটি পালনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে দেশের স্বাধীনতার শিক্ষা ও স্মৃতিকে নতুন করে জীবন্ত রেখেছে।

  • খুলনায় ছিনতাই চলাকালে এক ছিনতাইকারীর গুলিতে অপর ছিনতাইকারী নিহত

    খুলনায় ছিনতাই চলাকালে এক ছিনতাইকারীর গুলিতে অপর ছিনতাইকারী নিহত

    খুলনায় ছিনতাইয়ের সময় একজন ছিনতাইকারীর গুলিতে অপর এক ছিনতাইকারী নিহত হয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে দিঘলিয়া উপজেলার স্টিমার ঘাট সংলগ্ন পপুলার জুট মিল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয়রা জানান, দৌলতপুরের দেয়াড়া এলাকার মোবাইল রিচার্জ ও মুদি ব্যবসায়ী তাহিদুল ইসলাম (২৮) সাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে দেয়াড়া স্টিমার ঘাটের কাছে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা ৩-৪ জন ছিনতাইকারী তাকে থামিয়ে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

    বাধা দিলে ধস্তাধস্তি শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে ছিনতাইকারীরা গুলির শব্দ করে। গুলিতে তাদের নিজ দলের এক সদস্য সাগর গুলিবিদ্ধ হন। পরে ঘটনাস্থল থেকে বাকিরা পালিয়ে যায়।

    স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধ সাগরকে উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সাগরের বাড়ি দিঘলিয়া উপজেলার দেয়াড়া এলাকায়।

    আহত ব্যবসায়ী তাহিদুল ইসলাম বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম জানান, গুলিতে নিহত ব্যক্তির মরদেহ হাসপাতালে মর্গে রাখা হয়েছে এবং আহত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন আছেন। এখনও কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি; পুলিশ ঘটনায় জড়িত আসামিদের ধরতে কাজ করছে।

  • বাগেরহাটে বাড়ির ভিতরে ঢুকে কলেজছাত্রকে গুলি করে হত্যা

    বাগেরহাটে বাড়ির ভিতরে ঢুকে কলেজছাত্রকে গুলি করে হত্যা

    বাগেরহাটের চিতলমারীতে বাড়ির ভিতরে ঢুকিয়ে ২৩ বছর বয়সী কলেজছাত্রী আমির হামজা মুন্সাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেল চারটার পর শিবপুর গ্রামে এই নির্মম ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে প্রেরণের প্রস্তুতি নিয়েছে।

    পুলিশ ও বিষয়ে উপস্থিত স্থানীয়রা বলেছেন, বিকেল চারটার দিকে বাড়ির উঠানে বাবা ও চাচার সঙ্গে কথাবার্তা বলছিলেন আমির হামজা। তখন তিনটি মোটরসাইকেলে করে ছয়জন হেলমেট পরিহিত যুবক বাড়ির ভেতরে ঢুকে প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে হামজাকে ধাওয়া করে। সে পালাতে শুরু করলে বাড়ির পাশে খালের পাড়ে গিয়ে ছয়জনের মধ্যে একজন তার মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    নিহত আমির হামজা শিবপুর গ্রামের রুহুল আমিন মুন্সির ছেলে। তিনি খুলনার সরকারি সুন্দরবন কলেজে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন এবং পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কাজ করতেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, দুই মাস আগে তিনি তন্বী আক্তার নামে খুলনার এক কলেজছাত্রীকে বিয়ে করেছিলেন। পরিবার নিয়ে খুলনাতেই থাকতেন; ঈদ উপলক্ষে গ্রামের বাড়ি শিবপুরে এসেছিলেন।

    বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শামীম হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জেলা পুলিশ, সিআইডি, পিবিআই ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা সন্ত্রাসীদের শনাক্ত এবং গ্রেফতারের জন্য কাজ শুরু করেছে।’ তিনি আরও জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং সেসব সহযোগিতামূলক তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

    স্থানীয়রা হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি এবং সন্ত্রাসীদের পরিচয় ও হত্যার উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখতে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ জোরদার করেছে।

  • খুলনায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

    খুলনায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

    মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের স্মরণে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে খুলনায় আজ (বৃহস্পতিবার) যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে।

    দিবসটি উপলক্ষে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই গল্লামারী শহিদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয় এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের শুভ সূচনা ঘটে। সকালে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং শহরের প্রধান সড়ক ও جزুকল্পক সড়কদ্বীপগুলোতে জাতীয় পতাকা দিয়ে সাজানো হয়।

    গল্লামারী শহিদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মহানগর ও জেলা ইউনিট, বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ, কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক, কেএমপি কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকার সহ পুলিশ, আনসার, গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, উপজেলা প্রশাসন, খুলনা প্রেসক্লাব, নৌপুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, বিভিন্ন সরকারি-অর্ধসরকারি দপ্তর ও সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

    সকাল সাড়ে আটটায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ। পরবর্তীতে সেখানে পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, বি.এন.সি.সি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, কারারক্ষী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে কুচকাওয়াজ, সমাবেশ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগীয় কমিশনার কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক, কেএমপি অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান, জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    নগরভবনে সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে শিশুদের চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়; প্রধান অতিথি ছিলেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবং অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কেসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ। প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান ও প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিস ও পিআইডির আয়োজনে শহিদ হাদিস পার্কে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জাতির সোনার সন্তান হিসেবে অভিহিত করে তাদের ত্যাগ ও অবদান স্মরণ করে বলেন, ‘‘আপনাদের:YES আপনার প্রয়োজনে আমাদের সেবার দরজা সবসময় খুলে থাকবে; রাষ্ট্র আপনাদের সম্মান প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’’

    জেলার অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে বিশেষ বক্তৃতা করেছেন কেএমপি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান, পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি তোফায়েল আহমেদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবু জাফর। অনুষ্ঠানে নিহত শহিদ সাকিব রায়হানের মা বেগম নুর নাহারও উপস্থিত ছিলেন।

    দিবসটি উপলক্ষে সিনেমা হলে ও উন্মুক্ত স্থানে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, পথশিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র এবং শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়েছে। জাতির শান্তি ও অগ্রগতির জন্য মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা আয়োজন করা হয়।

    বিআইডব্লিউটিএ রকেট ঘাটে সকাল ৯টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নৌবাহিনীর জাহাজগুলো জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি ভবনগুলো আলো-সজ্জা করা হয়। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, ফুটবল ও কাবাডি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। খুলনার সব পার্ক ও বিভাগীয় জাদুঘর শিশুদের জন্য বিনামূল্যে উন্মুক্ত রাখা হয়।

    দিবসটি উপলক্ষে খুলনা বেতার থেকে বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয় এবং স্থানীয় সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি ও আলোচনা সেশন পরিচালনা করেছে। সব মিলিয়ে খুলনায় স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উৎসব-মুখর পরিবেশে স্মরণীয়ভাবে উদযাপিত হয়েছে।