বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর পঞ্চকরণ ইউনিয়নের দেবরাজ এলাকায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে শুক্রবার (৮ মে) স্থানীয় মানুষ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে। তারা অভিযোগ করেছে যে চলমান ভেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং কিছুকিছুতেই ফসলি জমিতে লবণাক্ত পানি প্রবাহ করে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
সকালে ভেড়িবাঁধের ধারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে স্থানীয়রা দাবি করেন—“স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে এবং চলমান সংস্কার কাজ বন্ধ করা যাবে না।” আয়োজকদের অভিযোগ, আকরাম তালুকদার, জরুল শেখ, সালাম মোল্লা ও আকবর তালুকদার বাহিনীসহ কিছু গোষ্ঠী চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রস্ত করছে।
বক্তারা বলেন, পঞ্চকরণ ইউনিয়নের দেবরাজ এলাকার টেকসই ভেড়িবাঁধ না থাকায় প্রতিবার জোয়ার ও লবণাক্ত পানি প্রবেশের ফলে বিস্তৃত ফসলি জমি নষ্ট হয়। তারা স্মরণ করান, ঘূর্ণিঝড় আইলা ও সিডরের সময় পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতি হয়েছিল।
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন যে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য জোর করে লবণ পানি প্রবেশ করাচ্ছে এবং ফলে কৃষিজমি ধ্বংসের পথ তৈরি হচ্ছে। এ কারণে যারা নিরাপদ, স্থায়ী বাঁধ চান তারাই বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে তারা দাবি করেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা জানান, যদিও ভেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে, তবে কিছু চক্র নানা ষড়যন্ত্র করে কাজ থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের একটাই দাবি—যে কোনো অবস্থায় ভেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ বন্ধ করা হবে না।
এ সময় এলাকার গণ্যমান্যরা বলেন, বাঁধ নির্মাণের জন্য যদি কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি অধিগ্রহণ করা লাগে তাহলে সরকারকে অবশ্যই ন্যায্য ও যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পাশাপাশি দ্রুত স্থায়ী ভেড়িবাঁধ করা না হলে জনস্বাস্থ্যে ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তায় হুমকি থাকবে বলে তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে পঞ্চকরণ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিন তালুকদার, অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম খান, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শামীমুল হাসান, খলিলুর রহমান, মাইনুল ইসলাম, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও জামায়াত নেতা মশিউর রহমানসহ বহু স্থানীয় গণ্যমান্য উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে এলাকাবাসী দাবি আদায়ে একটি বিক্ষোভ মিছিলও প্রদর্শন করে।









