Category: সারাদেশ

  • মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব: বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ নতুন দরিদ্র হওয়ার ঝুঁকি

    মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব: বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ নতুন দরিদ্র হওয়ার ঝুঁকি

    বিশ্বব্যাংকের এপ্রিল মাসের ডেভেলপমেন্ট আপডেটে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে এবছর বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ মানুষ নতুন করে দরিদ্র হতে পারেন। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রভাবে তাদের বাস্তব আয় কমে যাওয়ায় অনেকেই দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠতে পারছেন না।

    রিপোর্টে poverty লাইন হিসেবে ধরা হয়েছে কর্মক্ষম ব্যক্তির দৈনিক আয় তিন ডলারের কম হলে তাকে দরিদ্র ধরা হবে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে বুধবার (৮ এপ্রিল) প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সিনিয়র অর্থনীতিবিদ ধ্রুব শর্মা প্রতিবেদনের প্রধান দিকগুলো উপস্থাপন করেন।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালে দেশের দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮.৭ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ২১.৪ শতাংশে পৌঁছেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামগ্রিকভাবে এই বৃদ্ধি সরাসরি লক্ষ লক্ষ মানুষের ওপর اثر ফেলেছে। ওই সময়কালে আনুমানিক অতিরিক্ত মানুষ দারিদ্র্যসীমার মধ্যে পড়েছেন।

    বিশ্বব্যাংক আরও জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ না থাকলে চলতি বছরে ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের বাইরে আসার আশা ছিল। কিন্তু সংঘটিত পরিস্থিতির কারণে এখন কেবলমাত্র প্রায় ৫ লাখ মানুষই সীমার ওপরে উঠতে পারছেন। এর ফল হিসেবে প্রায় ১২ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে ধরা পড়ছেন—এই হিসাব রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে।

    রিপোর্টে অনুমান করা হয়েছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও চাপের কারণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩.৯ শতাংশে নেমে যেতে পারে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, শ্রমের বাস্তব মজুরি কমে যাওয়া এবং কর্মসংস্থানের ধীর গতি—এসবই দারিদ্র্য বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি বৈষম্য বাড়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে।

    বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেম বলেন, রাজস্ব আদায়ে কাঙ্ক্ষিত ফল হচ্ছে না এবং কিছু আন্তর্জাতিক নীতিমালার পাল্টা প্রভাবের ফলে বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, কয়েক বছর ধরে দারিদ্র্য হ্রাসের গতি ধীর হচ্ছে—এ পরিস্থিতি কাটাতে বিনিয়োগ-আকর্ষণ সহজ করা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, পূর্বে শুরু করা অর্থনৈতিক সংস্কারগুলো অব্যাহত রাখা জরুরি, যদিও বাস্তবায়ন কঠিন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য সংকট বিবেচনা করে দ্রুত স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগ নেয়াও দরকার।

    রিপোর্টে বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রভাব অন্তত ছয়টি মূল খাতে পড়তে পারে—হিসাবের ভারসাম্য দুর্বল হওয়া, আমদানি-রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, প্রবাসী আয় কমে যাওয়া, টাকার অবমূল্যায়ন, ভোগব্যয় ও বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব এবং জ্বালানি-পরিবহন খরচ বৃদ্ধির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়া। এসবের সমন্বয়ে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বাড়তে পারে এবং সরকারের ভর্তুকির ব্যয়ও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখ আছে, এসব প্রভাবে গিনি সূচক ২০২৬ সালে প্রায় ০.২ শতাংশ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে—অর্থাৎ বৈষম্য আরও বাড়তে পারে।

    বিশ্বব্যাংক ও প্রতিবেদকরা সতর্ক করেছেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত নীতিগত কর্মপরিকল্পনা এবং স্বল্পমেয়াদি সোশ্যাল সুরক্ষা ব্যবস্থার প্রসার জরুরি যাতে সবচেয়ে দুর্বল জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করা যায় এবং দারিদ্র্য পুনরায় বাড়ার ধারা মেনে করা যায় না।

  • খুলনা সিটি গ্রীন, ক্লিন ও ধূলামুক্ত করার উদ্যোগ চলছে: প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু

    খুলনা সিটি গ্রীন, ক্লিন ও ধূলামুক্ত করার উদ্যোগ চলছে: প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু

    জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিবাসী ও অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা বাড়ানোর লক্ষ্যে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠক আজ বুধবার (০৮ এপ্রিল) খুলনা কারিতাস আঞ্চলিক কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কারিতাস আয়োজন করা এ আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, খুলনা সিটিকে গ্রীন, ক্লিন ও ধূলামুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং এ কাজে নগরবাসীর সহযোগিতা অপরিহার্য। শহরের বড় সমস্যা হিসেবে তিনি জলাবদ্ধতা কমানো ও বস্তিবাসীর জীবনমান উন্নয়নের ওপর জোর দেন। বস্তি উন্নয়নের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তুত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

    প্রশাসক আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে শুধু সভা-সেমিনার করলেই হবে না; প্রতিটি স্তরে বাস্তব কাজ করতে হবে। শহরে ইজিবাইকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ চলমান আছে। সাইক্লোন ও নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা জরুরি উল্লেখ করে তিনি খুলনার সার্বিক উন্নয়নে কাজ শুরু করা হয়েছে বলে জানান।

    গোলটেবিল অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহম্মেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন খুলনা কারিতাসের আঞ্চলিক পরিচালক আলবিনো নাথ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কুয়েটের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন। কারিতাসের টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞ ইম্মানুয়েল চয়ন বিশ্বাসও সভায় বক্তব্য রাখেন।

    আলোচনায় বলা হয়, বাংলাদেশে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস (DRR) ও জলবায়ু অভিযোজন (CCA) বিষয়ে নীতি ও পরিকল্পনায় গুরুত্ব থাকলেও বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গির ঘাটতি রয়েছে। এই গোলটেবিলের উদ্দেশ্য ছিল সরকার, উন্নয়ন সংস্থা, গবেষক ও নাগরিক সমাজের মধ্যে নীতিগত সংলাপ সৃষ্টি করা, সম্ভাব্য সমাধান চিহ্নিত করা এবং বাস্তুচ্যুতদের সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা ও কার্যক্রম বাড়ানোর উপায় নির্ধারণ করা। এছাড়া জাতীয় و আঞ্চলিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়, DRR-CCA-Social Protection সমন্বয় বাড়ানোর পথ খোঁজা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু-সহনশীল সামাজিক নিরাপত্তা নীতি প্রণয়নের জন্য সুপারিশমালা তৈরি করাও এ বৈঠকের লক্ষ্য ছিল।

    বৈঠকে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মী, এনজিও প্রতিনিধি ও কমিউনিটি লিডাররা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা বাস্তব সমস্যা, नीति বাঞ্চিত সমন্বয় ও স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য পন্থাসমূহ নিয়ে তীব্র আলোচনা করেন।

  • চিতলমারীতে মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত

    চিতলমারীতে মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত

    বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বড়বাড়িয়া রহমানীয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মোঃ রফিকুল ইসলাম (৪৫)কে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাদ্রাসার অফিস কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

    আহতকে সহকর্মীরা উদ্ধার করে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন। বর্তমানে তিনি ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের তৃতীয় তলায় ১ নং বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটির পর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ মাশুকুর রহমান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে মৈজোড়া গ্রামের আবুল কালাম শেখের ছেলে মোঃ রাসেল শেখকে বিবাদী করা হয়েছে।

    অধ্যক্ষ মোঃ মাশুকুর রহমান জানান, ‘মৈজোড়া গ্রামের আবুল কালাম শেখের ছেলে মোঃ রাসেল শেখ দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসার অস্থাবর জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তাকে নিষেধ করলেও সে হুমকি দিত। বুধবার অফিস কক্ষে ঢুকে মাদ্রাসার কাগজপত্র ও মালামাল এলোমেলো করতে থাকে। তাকে বাধা দিলে রাসেল হাতে থাকা হাতুড়ি দিয়ে সহকারী অধ্যাপক মোঃ রফিকুল ইসলামকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এগিয়ে আসলে সে হুমকি দিয়ে চলে যায়।’

    অভিযোগের বিপরীতে রাসেল শেখের বাবা আবুল কালাম শেখ হাতুড়ি পেটার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘সম্প্রতি মাদ্রাসায় কয়েকটি পদে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আমার ছেলের সঙ্গে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বিরোধ ছিল। সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে অফিস কক্ষে তর্কবিতর্ক হয়েছে, কিন্তু ছেলেকে হাতুড়ি দিয়ে মারার কথা সত্য নয়।’

    চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • খুলনা সিটি গ্রীন, ক্লিন ও ধুলামুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: নজরুল ইসলাম মঞ্জু

    খুলনা সিটি গ্রীন, ক্লিন ও ধুলামুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: নজরুল ইসলাম মঞ্জু

    খুলনায় ‘‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিবাসী ও অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি শক্তিশালীকরণ’’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক বুধবার (৮ এপ্রিল) খুলনা কারিতাস আঞ্চলিক কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। এ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, খুলনা সিটিকে গ্রীন, ক্লিন ও ধুলামুক্ত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে নগরবাসীর সক্রিয় সহযোগিতা জরুরি। শহরের জলাবদ্ধতা নির্মূলের জন্য পরিকল্পিত কাজ করা হচ্ছে এবং বস্তিবাসীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য আলাদা একটি প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা শুধু সভা-সেমিনার করে সমাধান হবে না, এর মোকাবিলায় সবাইকে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে হবে।

    তিনি আরও প্রতিক্রিয়া দেন যে, শহরে ইজিবাইকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ চলছে। পাশাপাশি সাইক্লোন ও নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য পরিকল্পনা গঠন করা দরকার। তিনি জানান, খুলনার উন্নয়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু করা হয়েছে।

    গোলটেবিলে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহম্মেদ। স্বাগত বক্তৃতা করেন খুলনা কারিতাসের আঞ্চলিক পরিচালক আলবিনো নাথ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট (কুয়েট)-এর সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন। অনুষ্ঠানে কারিতাসের টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞ ইম্মানুয়েল চয়ন বিশ্বাসও বক্তৃতা করেন।

    বৈঠকে এও উঠে আসে যে, বাংলাদেশে দুর্ঘটনা ঝুঁকি হ্রাস (DRR) ও জলবায়ু অভিযোজন (CCA) সংক্রান্ত বিভিন্ন নীতিমালা ও পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষায় সমন্বিত ও লক্ষ্যভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির ঘাটতি রয়েছে। তাই এই গোলটেবিলের মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকার, উন্নয়ন সংস্থা, গবেষক ও নাগরিক সমাজের মধ্যে নীতিগত সংলাপ সৃষ্টি করা, বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা ও তা সম্প্রসারণের উপায় চিহ্নিত করা, জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা এবং DRR-CCA-Social Protection ক্ষেত্রে সমন্বয় বৃদ্ধির মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু-সহনশীল সামাজিক সুরক্ষার জন্য সুপারিশমালা তৈরি করা।

    অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা, গণমাধ্যমকর্মী, এনজিও প্রতিনিধিসহ স্থানীয় কমিউনিটি লিডাররা অংশ নেন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন।

  • সাতক্ষীরায় তেল কেলেঙ্কারি: পাম্প থেকেই কালোবাজার, সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে

    সাতক্ষীরায় তেল কেলেঙ্কারি: পাম্প থেকেই কালোবাজার, সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে

    সাতক্ষীরা জেলায় পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও পেট্রোল ও অকটেনের কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়ে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। অভিযোগ আছে, কিছু অসাধু চালক পাম্প থেকে তেল তোলার পর বাইরের বাজারে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করছেন, ফলে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা নীতিগত গ্রাহকরা তেল পাননি বা অনেক বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে সরবরাহ নিয়মিত থাকলেও একটি সিন্ডিকেট একাধিক পাম্প থেকে প্রতিদিন তেল সংগ্রহ করছে। তারা পাম্প থেকে স্বাভাবিক দামে তেল ভরে বাইরে নিয়ে এসে ড্রাম বা বোতলে ঢেলে লিটারে উচ্চ মূল্য ধার্য করে বিক্রি করছে। অভিযোগ অনুযায়ী ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকদের একটি বড় অংশ ও কিছু প্রাইভেটকার চালক এই অবৈধ ব্যবসায় জড়িত।

    সাক্ষ্য ও অভিযোগে বলা হয় তারা পাম্পে রাতক্ষণে বা সরবরাহের আগেই সারিবদ্ধ হয়ে লাগাতার লাইন দিয়ে তেল মজুদ করছে। সকাল বেলা গ্রাহকরা এসে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাচ্ছেন না। ফলে কর্মজীবী, জরুরি সেবাগ্রহী ও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। জেলা জুড়ে এ চিত্র বেশ কয়েকটি পাম্পেই লক্ষণীয়।

    স্থানীয়দের ভাষায়, বিভিন্ন উপজেলায় ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা পাঁচ হাজারের বেশি। অনেক চালক এখন যাত্রী পরিবহনের বদলে পাম্প থেকে তেল নিয়ে বাইরের বাজারে বেশি দামে বিক্রি করে উপার্জন করছেন। এক ব্যক্তি জানান তিনি একইবারে ৫ লিটার পেট্রোল ক্রয় করেছিলেন ২২০ টাকায়; অন্যদিকে বাজারের কিছু স্থানে লিটারপ্রতি দাম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত উঠছে—যার ফলে সাধারণ ক্রেতারা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ব্যয় করছেন।

    সাতক্ষীরা শহরের ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক আব্দুস সামাদ জানান, তিনি একটি প্রাইভেটকার ভাড়া নিয়ে খুলনায় গিয়েছিলেন; চালকের আচরণ ও ফোনালাপে সন্দেহ হয় যে চালক পাম্প থেকে তেল নিয়ে বাইরে বিক্রি করছে। এমনই আরো অভিযোগ জেলা জুড়ে পাওয়া যাচ্ছে।

    অন্যদিকে লোকজনের উদ্যোগে জনৈক মোঃ হাবিবুল্লাহ বাহার হাব জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন যাতে পাম্প থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে চোরাপথে বিক্রি বন্ধ করা এবং সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটকে খুঁজে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তিনি আবেদনপত্রে দেশের পর্যাপ্ত মজুদের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, তবু একটি চক্র পাম্পের তেল চুরি করে খোলা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করে সংযোগ করে ফেলেছে এবং এর সঙ্গে পাম্প কর্তৃপক্ষের যোগসূত্রও থাকতে পারে।

    স্থানীয় মানুষের দাবি—পাম্পে তেল সরবরাহের নির্দিষ্ট সময়সূচি ও একক ক্রেতার জন্য উত্তোলন সীমা নির্ধারণ করা হোক, প্রশাসনিক মনিটরিং জোরদার করা হোক এবং অসাধুদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তারা বলছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মজুদ থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট আর বাড়বে।

    জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অভাবনীয় নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থাপনা ছাড়া সমস্যার স্থায়ী সমাধান কঠিন বলে এলাকাবাসী মনে করেন। সাধারণ গ্রাহকরা আশা করছেন দ্রুত তদন্ত করে সিন্ডিকেট ভেঙে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে, যাতে দিনের পর দিন লাইনে দাঁড়ানো ও অতিরিক্ত মূল্যকরণের কারণে ভোগান্তি কমে।

  • অব্যবহৃত সরকারি জমিতে বিনোদনকেন্দ্র গড়ার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠাবেন

    অব্যবহৃত সরকারি জমিতে বিনোদনকেন্দ্র গড়ার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠাবেন

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, নগরবাসী যেন বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর পূর্ণ সুফল ভোগ করতে পারে। তিনি বলেন, খুলনায় বোটানিক্যাল গার্ডেন, খেলার মাঠসহ মানসম্মত বিনোদনকেন্দ্রের অভাব লক্ষণীয়। অনেক সরকারি জমি বর্তমানে অব্যবহৃত থাকা অবস্থায় সেগুলোকে বিনোদনের অনুকূল পরিবেশে রূপান্তর করার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

    গতকাল মঙ্গলবার সকালে নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে ৭নং ঘাট এলাকা সরেজমিন পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন কেসিসি প্রশাসক। তিনি জানান, শহরের অভ্যন্তরে ছেলেমেয়েরা, পরিবার ও পর্যটকরা যে মানের বিনোদন ও বিশ্রামের সুযোগ পাক, সেই দিকটি বিবেচনায় রেখে অব্যবহৃত সরকারি জমি কার্যকরভাবে ব্যবহার করার প্রস্তাব তৈরি করা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, ৭নং ঘাট এলাকার পূর্ববর্তী উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন জার্মান সরকারের আর্থিক সহায়তায় করা হয়েছিল। আগামী ৯ এপ্রিল জার্মান সরকারের সাতজন পার্লামেন্ট সদস্য ও জার্মান দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত খুলনা সফর করার কথা রয়েছে। সফরের সময় তারা জার্মান সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো সরেজমিন দেখতে আসবেন। এ প্রতিনিধিদলের সফরের আগেই প্রকল্প এলাকাগুলোর প্রাক-প্রস্তুতি নিশ্চিতে প্রশাসক সংশ্লিষ্ট স্থান পরিদর্শন করেছেন।

    পরিদর্শনে কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির উল জব্বার, কঞ্জারভেন্সী অফিসার প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান, সিসিএইউডি-এএমসি প্রকল্পের টিম লিডার মেহেদী হাসান, কেসিসি’র প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশীদ, এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, উপসহকারী প্রকৌশলী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

    পরিদর্শন শেষে প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু রূপসা ঘাটের পাশাপাশি ঘাট সংলগ্ন পন্টুন ও গ্যাংওয়ের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজের জন্য নির্দেশনা দেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও সুশাসনের মাধ্যমে খুলনাবাসী আরও সুন্দর, নিরাপদ ও সংস্কৃতিবান্ধব বিনোদনালয় পাবে।

  • সাতক্ষীরায় জ্বালানি তেলের সংকট নেই বললেও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চলছে

    সাতক্ষীরায় জ্বালানি তেলের সংকট নেই বললেও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চলছে

    সাতক্ষীরা জেলায় পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল থাকাকেও দেখা যাচ্ছে না এর উপযুক্ত সরবরাহ ও পৌঁছানোর সুবিধা। ফলে পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহের অভাবে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, একত্রিত কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বা চক্র পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে তা বাইরে উচ্চ দামে বিক্রি করছে, বিধায় কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ গোটা জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে ও অর্থের ক্ষতি হচ্ছে।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে প্রতিদিন নিয়মিতভাবে তেল সরবরাহ হলেও কিছু চক্র এসব পাম্প থেকে অনেক বেশি পরিমাণে তেল সংগ্রহ করে থাকে। তারা স্বাভাবিক দামে তেল কিনে বাইরে দুই থেকে তিনগুণ বেশি দামে বিক্রি করছে। বিশেষ করে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকদের একটি বড় অংশ এই দপ্তর কাজে জড়িয়ে পড়েছে। এছাড়াও কিছু প্রাইভেটকার চালকও অবৈধ ব্যবসায় যুক্ত হয়ে পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে বাইরে থেকেও ড্রাম বা বোতলে করে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করছে। কোথাও কোথাও এ তেল ৩০০ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছে। ফলে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে না পারায় অনেক গ্রাহক বাধ্য হয়ে অধিক দামে তেল কিনছেন।

    সূত্র জানায়, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পাঁচ হাজারের বেশি ভাড়া চালিত মোটরসাইকেল রয়েছে। এদের অনেকেই এখন গতিশীল পরিবহনের পরিবর্তে তেল বিক্রির কাজে জড়িয়ে পড়েছে। তারা প্রতিদিন সন্ধ্যা বা আগের দিন রাত থেকে পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করে, পরের দিন তা বাইরে বিক্রি করছে। এতে করে লাইন আর দীর্ঘ হচ্ছে, এবং সাধারণ গ্রাহকদের জন্য তেল প্রাপ্তি অনেক কঠিন হয়ে পড়ছে। কর্মজীবী মানুষ ও জরুরি প্রয়োজনে যারা যানবাহন ব্যবহার করেন, তারা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। ঘণ্টাকরণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় তেল না পেয়ে ফিরতে হচ্ছে।

    আশাশুনির বড়দল এলাকার আলি হোসেন বলছেন, পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সময় তেল পাওয়া যায় না। ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকদের কারণে কাছাকাছি জায়গায় তেল পাওয়া খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি তিনি অভিযোগ করেছেন, একটি ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকের কাছ থেকে ৫ লিটার পেট্রোল ২২০ টাকায় কিনেছেন, যা স্থানীয় বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা লিটারে।

    সাতক্ষীরা শহরের একজন ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক আব্দুস সামাদ বলেন, কিছুদিন আগে তিনি খুলনায় একটি গাড়ি ভাড়া নিয়ে ব্যবসার কাজে গিয়েছিলেন। ওই গাড়ির চালক সমানে পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে কিছু অংশ বাইরে বিক্রি করছিল। বলতে গেলে, এই ব্যবসায় জড়িত চালকরা পাম্প থেকে তেল নিয়ে বাইরে বিক্রি করছে বলে মনে হয়েছে।

    অন্যদিকে, জেলা পেট্রোলপাম্পের কিছু ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জেলার বিভিন্ন পাম্পে তেল সরবরাহ থাকলেও চোরাকারবারি ও সিন্ডিকেটের কারণে খোলাবাজারে তেল কঠোরভাবে বিক্রি হচ্ছে। এরা পাম্পের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে যোগসূত্র রেখে অকারণে তেল মজুদ করে রাখে বা অবৈধভাবে বাইরে বিক্রি করে দেয়। এতে দেখা যাচ্ছে, অনেক গ্রাহক তেল না পেয়ে অন্যথায় খোলা বাজার থেকে অধিক মূল্যে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

    জেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, প্রতিদিন একই সময়ে জেলাজুড়ে সব পাম্পে একযোগে তেল সরবরাহ করলে দীর্ঘ লাইনের সমস্যাও কমে আসবে। পাশাপাশি, প্রশাসনিক মনিটরিং জোরদার করে ওই অসাধু ব্যবসায়িদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।

    স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের নজরদারির অভাব ও পাম্প কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে এই সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে, এ পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে শঙ্কা। সাধারণ জনগণের দাবি, প্রয়োজনীয়তামাত্রা ও ভোক্তার স্বার্থে তেল বিক্রিতে কড়া নজরদারি, সীমিত উত্তোলন এবং দোষীদের ধরে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া আবশ্যক; অন্যথায় কৃত্রিম সংকটের চক্র দীর্ঘদিন টিকে থাকবে।

  • খুলনা জেলায় সব সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে প্রশাসন

    খুলনা জেলায় সব সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে প্রশাসন

    খুলনার নবাগত জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত গতকাল মঙ্গলবার তাঁর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, খুলনা জেলায় প্রকৃত সমস্যা যাই থাকুক না কেন, তার সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হবে। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা ও সমর্থন চেয়ে বলেন, সমস্যা সমাধানে সকলের মিলিত প্রচেষ্টা জরুরি। এছাড়া তিনি নিশ্চিত করেন, তার দপ্তরসহ সরকারি সব দপ্তর থেকে জনসাধারণের হয়রানিমূলক কোনও কাজ হওয়া চলবে না। জনকল্যাণে কাজ করার জন্য গঠিত এই দপ্তরগুলো সম্পূর্ণ নিজস্ব দায়বদ্ধতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার দপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আরিফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মন্ডল, খুলনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রফিউল ইসলাম টুটুল, নির্বাহী সদস্য শেখ দিদারুল আলম, মিজানুর রহমান মিল্টন, আশরাফুল ইসলাম নূর, পাশাপাশি মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার সভাপতি মোঃ রাশিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রানাসহ অনেক সাংবাদিক ও মিডিয়া কর্মী উপস্থিত ছিলেন। সকলের সহযোগিতায় খুলনার উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত প্রতিনিধিরা।

  • দিঘলিয়ায় যুবদল নেতা হত্যা মামলার মূল আসামি বাকা মাসুদ গ্রেফতার

    দিঘলিয়ায় যুবদল নেতা হত্যা মামলার মূল আসামি বাকা মাসুদ গ্রেফতার

    দিঘলিয়া উপজেলার যুবদল নেতা মুরাদ খাঁ হত্যা মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসামি বাকা মাসুদ (৪৪) র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) কর্তৃক গ্রেফতার হয়েছ। সোমবার রাতে তাকে মাগুরা থেকে আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃত বাকা মাসুদ উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়নের বাসিন্দা ও বাকা মিয়ার ছেলে।

    র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মুরাদ খাঁ রাজ্যের সেনহাটি ইউনিয়নের একজন ক্ষমতাবান যুবদল নেতা ছিলেন। ১৮ ফেব্রুয়ারি, উপজেলার কাঁথির চত্বরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ নেতা ও ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান ওরফে সাজ্জাদ হোসেন এবং তার সঙ্গে থাকা অন্য ব্যক্তিদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ঘটে।

    এরপর, ২৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে, মুরাদ খাঁ দোকানে জুতা কেনার জন্য বের হন। ঠিক তখনই, বকা মাসুদসহ চিহ্নিত ১১ জন ও অজানা আরও ১২-১৩ জন ছদ্মবেশে দেশীয় অস্ত্র, লোহার রডসহ তাকে গতিরোধ করে। পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করার জন্য শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা মারা যান বলে ঘোষণা করেন।

    এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী জান্নাতুল মাওয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। এই ঘটনার পর থেকে বকা মাসুদ পলাতক ছিলেন। প্রযুক্তির সহায়তায় র‌্যাব-৬ তার অবস্থান নিশ্চিত করে, ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করে। এখন তিনি পুলিশের হেফাজত রয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।

  • নগরীতে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় পবিত্র সরকার গ্রেফতার

    নগরীতে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় পবিত্র সরকার গ্রেফতার

    নগরীতে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের এক মামলায় পবিত্র কুমার সরকারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে গত রোববার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। পবিত্র সরকার বটিয়াঘাটা উপজেলার মৃত তারাপদ সরকার পরিবারের সন্তান। তার বিরুদ্ধে বহু গুরুত্বর অভিযোগ রয়েছে।তিনি বিএনপির সমাবেশে হামলা, দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর, জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, গণতান্ত্রিক সরকার উৎখাতের চক্রান্ত, মাদক চোরাচালান, সাম্প্রদায়িক উসকানি এবং খুলনায় নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করার জন্য অর্থ তহবিল সরবরাহের মতো অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে সততার সঙ্গে তদন্তে আছেন।