Category: সারাদেশ

  • কালীগঞ্জে কৃত্রিম জ্বালানি সংকট: বোতলজাত তেল খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রির অভিযোগ

    কালীগঞ্জে কৃত্রিম জ্বালানি সংকট: বোতলজাত তেল খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রির অভিযোগ

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় কৃত্রিমভাবে জ্বালানি তেলের সংকট সৃষ্টি করে অনিয়ম চলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, উপজেলার ১১টি পেট্রোল পাম্পে তেল সরবরাহ নেই বলে সাধারণ গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু একই তেল বাইরে ড্রামভর্তি করে বোতলজাত করে খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ মার্চ থেকে এলাকায় তেলের সংকট তীব্র আকার নিয়েছে। বিশেষ করে ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে থাকা মোটরসাইকেল আরোহীরা তেলের তীব্র ঘাটতির কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন। পাম্পে তেল না পেয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশে ও গ্রামাঞ্চলের অবৈধ দোকান থেকে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ দামে তেল কিনছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

    অভিযোগ আছে যে কিছু অসাধু চক্র পাম্প থেকে তেল নিয়ে বাইরে ড্রামে রেখে পরে সেটি বোতলজাত করে প্রতি লিটার পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি করছে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবহনে ব্যয়ও বাড়ছে।

    এক ঢাকাগামী মোটরসাইকেল আরোহী গোলাম আজম বলেন, ‘‘পাম্পে তেল নেই বলা হলেও রাতে অনেকেই ড্রামভর্তি তেল নিয়ে বাইরে বিক্রি করে। এটা দেখে স্পষ্ট যে কোনো না কোনো সংঘবদ্ধ চক্র বেশি মুনাফার আশায় এই পরিস্থিতি তৈরি করছে।’’

    পাম্প মালিকরা ডিপো থেকে সরবরাহ কম থাকায় সমস্যাটি শুরুর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গ্রামবাসীদের বক্তব্য, সুদৃঢ় কোনো জাতীয় বা স্থানীয় তেল সংকট নেই; বরং কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরি করে কালোবাজারি চলছে বলে তারা দাবি করছেন।

    প্রতিদিন সীমিত পরিমাণ তেল সরবরাহের কারণে পাম্পে দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অল্প পরিমাণ তেল পেলে তৎক্ষণাৎ মেশিন বিকল বা তেল শেষ হয়ে গেছে বলে সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে—এই ধরনের অভিযোগও উঠেছে। ফলে অনেক যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

    অতিরিক্ত দামে তেল কিনে পরিবহন চালকরা ভাড়া বাড়াচ্ছেন, যা যাত্রীদের ওপর আর্থিক বোঝা বাড়িয়ে জনভোগান্তি তীব্র করছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসন এ পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। তারা অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত চালিয়ে অবৈধ মজুত ও কালোবাজারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

    কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ সংবাদকারীদের বলেন, ‘‘কোনো পাম্প মালিক তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ তবুও স্থানীয়রা আশা করছেন যে কেবল কথায় নয়, বাস্তবে দ্রুত তল্লাশি ও অভিযান করে এই সংকট নিরসন করা হবে।

  • ঈদ ছুটির পর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি পুনরায় শুরু

    ঈদ ছুটির পর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি পুনরায় শুরু

    পবিত্র ঈদুল ফিতর ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে সাত দিন বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়েছে।

    বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্ট স্টাফ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ছিল। মঙ্গলবার থেকে পুনরায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হওয়ায় দুদেশের বন্দর এলাকায় যানজট দেখা দিয়েছে; পেট্রাপোল বন্দরেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

    কাস্টমস সূত্র জানায়, গত সাত দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় সরকারের প্রায় ১২০ কোটি টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চনা হয়েছে।

    বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিদর্শক সৈয়দ মোর্তজা বলেন, যদিও বন্দর দিয়ে ব্যবসায়িক রপ্তানি-আমদানি বন্ধ ছিল, তবুও ছুটির সময় পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার স্বাভাবিকভাবে চলছিল। এছাড়া ভারত-বাংলাদেশ ভিসা কার্যক্রম সীমিত থাকায় যাত্রী চাপ তুলনামূলকভাবে কম ছিল। তিনি যোগ করেন যে যাত্রীদের যেন দুর্ভোগ না হয় সেজন্য ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছিল।

    বেনাপোল বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামীম হোসেনও নিশ্চিত করেছেন যে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সাত দিন বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ছিল এবং মঙ্গলবার সকাল থেকেই কার্যক্রম আবারো শুরু হয়েছে।

    আদৌ বন্দর এলাকায় যানজট ও পণ্য জট পড়ে থাকা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, এবং ব্যবসায়ীরা ধীরে ধীরে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করলে তাতে অবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

  • বাগেরহাটে তেল পাম্পে হামলার মামলায় যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

    বাগেরহাটে তেল পাম্পে হামলার মামলায় যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

    বাগেরহাট শহরের খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার একজন যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার রাত প্রায় নয়টার সময় শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ৪০ বছরের সুমন পাইককে। তিনি বাগেরহাট পৌর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ও খারদ্বার এলাকার বাসিন্দা।

    ঘটনাটি ঘটেছিল গত ২০ মার্চ—ঈদের আগের দিন সন্ধ্যার আগে—খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলে তেল দেওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে ঈদের দিন থেকেই বাগেরহাট শহরের দুটি তেল পাম্প বন্ধ রাখা হয়। রোববার বিকেলে ওই পাম্পের সামনায় প্রতিবাদ स्वरূপ ‘‘অনির্দিষ্টকালের জন্য পাম্প বন্ধ’’ শিরোনামে বিশেষ একটি নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হয়।

    নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে যে শহরের খারদ্বার এলাকার খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনে চিহ্নিত কিছু সন্ত্রাসী বাহিনী লুটপাট, ভাঙচুর ও কর্মচারী ও মালিকদের প্রাণহানির উদ্দেশ্যে সংরক্ষিত স্থানে অনধিকারে ঢুকেছে। নোটিশে আরও বলা হয়, অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে স্টেশন বন্ধ থাকবে।

    পাম্পের অন্যতম মালিক মুর্শিদ কুলি খান রোববার বাগেরহাট সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি চারজনকে নামজাদা ও অজ্ঞাত আরো ১০-১২ জনকে আসামি করেছেন। গ্রেপ্তার সুমন পাইক সেই মামলায় নম্বর-১ এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে চিহ্নিত।

    এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, তেলের ঘাটতি ও নিয়ম-নিষেধ থাকায় মোটরসাইকেল প্রতি ২০০ টাকা মূল্যমানের তেল দেওয়া হচ্ছিল। ২০ মার্চ সন্ধ্যে পৌনে ৬টার দিকে তেল দেওয়ার সময় অভিযুক্তরা অনধিকারে ফিলিং স্টেশনে প্রবেশ করে নিয়ম ভঙ্গ করে অতিরিক্ত তেল দাবি এবং কর্মচারীদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। বাধা দিলে, সুমন পাইকের নির্দেশে অভিযুক্তরা চলতি কর্মচারীদের ওপর হামলা চালায়। কর্মচারী তানভীর মল্লিক, মোঃ সাইফুল ইসলাম ও মোঃ রেজোয়ান উদ্ধার করতে গেলে তাদেরকেও মারধর করা হয়। এ ঘটনায় মালিকসহ তিনজন গুরুতর আহত হন। এছাড়া অভিযুক্তরা কর্মচারীদের কাছে থাকা বিক্রয় নগদ অর্থ প্রায় ৫ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়—এই অভিযোগও এজাহারে উল্লেখ আছে।

    মুর্শিদ কুলি খান বলেন, পুলিশ প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করেছে, বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। ডিপো থেকে তেল সরবরাহ পাওয়ার পর পাম্প খোলার প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

    বাগেরহাট মডেল থানা থেকে উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম বলেন, খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনে সংঘটিত মারধরের মামলায় নমুনা এজাহারনামীয় এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে এবং দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

  • সুন্দরবনের ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর সদস্য ইয়াছিন শেখ আটক, অস্ত্র-কার্তুজ জব্দ

    সুন্দরবনের ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর সদস্য ইয়াছিন শেখ আটক, অস্ত্র-কার্তুজ জব্দ

    মোংলা কোস্ট গার্ডের পশ্চিম জোন সোমবার গভীর রাতে সুন্দরবন সংলগ্ন চিলা ইউনিয়নের ফেলুর খণ্ড এলাকার বৈধমারি বাজারসংলগ্ন এলাকা থেকে বনদস্যু দলের এক সদস্য ইয়াছিন শেখকে আটক করেছে। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, তিনি ঈদের সময় সুন্দরবন থেকে এসে বৈধমারি বাজার সংলগ্ন এলাকায় আত্মগোপন করে ছিলেন।

    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মোংলা ও হারবাড়িয়া কোস্ট গার্ডের পৃথক দুটি টিম ওই এলাকায় অভিযান চালায়। কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ইয়াছিন দৌড় দিয়ে পালাতে চেষ্টা করলে তাকে ধাওয়া করে আটক করা হয়।

    আটককৃত ইয়াছিনের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে সুন্দরবনের ধানসিঁদ্দির চর সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে ১টি একনলা বন্দুক, ৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ৪ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    আটক ইয়াছিন শেখ (৪০) বাগেরহাট জেলার মোংলা থানার বাসিন্দা। তিনি ২০১৭ সালে ব্যাপক পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে র‌্যাবের সামনে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। তবে কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ছোট সুমন তাঁর পুরনো সদস্যদের নিয়ে আবার সুন্দরবনে নেমে দস্যুতা শুরু করেছেন। বর্তমানে ছোট সুমনের সঙ্গে অস্ত্রধারী প্রায় ১৮–২০ জন সদস্য রয়েছে বলে জেলেরা জানিয়েছে।

    কোস্ট গার্ডের তদন্তে উঠে এসেছে, ইয়াছিন দীর্ঘদিন ধরে ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি অস্ত্র, গোলাবারুদ ও রসদ সরবরাহের মাধ্যমে দস্যুদলের কার্যক্রমে জৈথ্য্যতা দিয়ে আসছিলেন; জেলেদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং অন্যান্য ডাকাতি-আক্রমণে সহায়তা করতেন।

    জব্দকৃত অস্ত্র, গুলি এবং আটককৃত ব্যক্তিকে হাতে রেখে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে কোস্ট গার্ড জানায়। বিসিজিএস তৌফিকের নির্বাহী কর্মকর্তা লে. আশিকুল ইসলাম ইমন বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সুন্দরবনে কয়েকটি দস্যু বাহিনী জেলেদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ও বিভিন্ন অপরাধ করছে এবং কোস্ট গার্ড এ ধরনের সদস্যদের অস্ত্রসহ আটক করে আসছে। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

  • সুন্দরবনের ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর সদস্য ইয়াছিন শেখকে মোংলা কোস্ট গার্ড আটক, অস্ত্র-গুলি জব্দ

    সুন্দরবনের ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর সদস্য ইয়াছিন শেখকে মোংলা কোস্ট গার্ড আটক, অস্ত্র-গুলি জব্দ

    মোংলা কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সুন্দরবনের দস্যুবাহিনীর সদস্য ইয়াছিন শেখকে আটক করেছে। সোমবার গভীর রাতে চিলা ইউনিয়নের ফেলুর খণ্ডের বৈদ্যমারী বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে ধাওয়া করে গ্রেপ্তার করা হয়।

    কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, ইয়াছিন ঈদের সময় সুন্দরবন থেকে এসে বৈদ্যমারী বাজার এলাকায় আত্মগোপন করেছিল। বনদস্যু ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর ওই সদস্য সম্পর্কে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মোংলা ও হারবাড়িয়া কোস্ট গার্ডের পৃথক দুটি দল অভিযান পরিচালনা করে। কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে দৌড়ে পালাতে গেলে ধাওয়া করে তাকে আটক করা হয়।

    আটককৃত ইয়াছিন শেখ (৪০) বাগেরহাট জেলার মোংলা থানার নারী। আটক হওয়া ব্যক্তির দেয়া তথ্যে সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে সুন্দরবনের ধানসিঁদ্দির চর সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ১টি একনলা বন্দুক, ৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ৪ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ জব্দ করা হয়।

    কোস্ট গার্ডের বলছে, ইয়াছিন দীর্ঘদিন ধরে ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর সঙ্গে জড়িত থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও রসদ সরবরাহ করে আসছিল। তিনি জেলেদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং বিভিন্ন ডাকাতি কাজে সহায়তা করত।

    ইয়াছিন ২০১৭ সালে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর ১৩ সদস্যের সঙ্গে র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আবার সুমন এবং তার পুরনো সদস্যদের নিয়ে সুন্দরবনে ফের দস্যু কর্মকাণ্ড শুরু করে বলে কোস্ট গার্ড জানিয়েছে। বর্তমানে তার সঙ্গে অস্ত্রসহ প্রায় ১৮-২০ জন সদস্য থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে।

    কোস্ট গার্ড জানায়, জব্দকৃত অস্ত্র, গুলি ও আটককৃত ইয়াছিনকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হস্তান্তর করা হবে এবং তদন্ত চলছে।

    বিসিজিএস তৌফিকের নির্বাহী কর্মকর্তা লে. আশিকুল ইসলাম ইমন জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই কয়েকটি দস্যুবাহিনী সুন্দরবনে সক্রিয় হয়ে জেলেদের অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। ইতোমধ্যেই কোস্ট গার্ড কয়েকজন সদস্যকে অস্ত্রসহ আটক করতে সক্ষম হয়েছে। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

  • বাগেরহাটে তেল পাম্পে হামলা-ভাঙচুর: যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

    বাগেরহাটে তেল পাম্পে হামলা-ভাঙচুর: যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

    বাগেরহাট শহরের খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনে গত হামলা-ভাঙচুরের মামলায় একজন যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার রাত সাড়ে নয়টার দিকে শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন ৪০ বছর বয়সী সুমন পাইক, যিনি বাগেরহাট পৌর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক এবং খারদ্বার এলাকার বাসিন্দা।

    পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২০ মার্চ শনিবার সন্ধ্যার আগে। ওই দিনে তেলের তীব্র সংকট ও চাহিদার চাপের মধ্যে মোটরসাইকেলে তেল দেওয়ার সময় মোটরসাইকেল প্রতি ২০০ টাকা তেল দেওয়া হচ্ছিল বলে জানানো হয়েছে। এ সময় কয়েকজন অনধিকারভাবে পাম্পে প্রবেশ করে অধিক টাকা দাবি করে এবং নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ তুলে কর্মচারীদের সঙ্গে বিবাদে জড়ায়। বিবাদ বাড়লে, এজাহারে উল্লেখ করা অনুসারে সুমন পাইকের নেতৃত্বে তারা কর্মচারীদের উপর হামলা চালায়। তখন কর্মচারী তানবির মল্লিক, মোঃ সাইফুল ইসলাম ও মোঃ রেজোয়ান সহ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগ করা হয়েছে যে হামলাকারীরা পাম্পের কোষাগার থেকে প্রায় ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

    ঈদের দিন থেকে বাগেরহাট শহরের দুটি পাম্প বন্ধ রয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনের সামনে ‘‘অনির্দিষ্টকালের জন্য পাম্প বন্ধ’’ শিরোনামে একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চিহ্নিত সন্ত্রাসী চক্ররা লুটপাট, ভাঙচুর ও মালিক-কর্মচারীদের জীবননাশের উদ্দেশ্যে হামলা চালায়; তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত পাম্প বন্ধ থাকবে।

    পাম্পের অন্যতম মালিক মুর্শিদ কুলি খান রোববার বাগেরহাট সদর মডেল থানায় বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এজাহারে সুমন পাইককে প্রথম নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    বাগেরহাট মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম বলেন, খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনে মারধরের মামলায় এজাহারনামা অনুযায়ী এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যান্য যুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপরতা চালাচ্ছে। মুর্শিদ কুলি খান জানান, প্রধান আসামী গ্রেফতার হয়েছে; তারা ডিপো থেকে তেল প্রাপ্তির পর পাম্প নিয়মিতভাবে খুলে দেবেন।

  • সুন্দরবন থেকে ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর সদস্য ইয়াছিন শেখ আটক, অস্ত্র-গুলিসহ জব্দ

    সুন্দরবন থেকে ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর সদস্য ইয়াছিন শেখ আটক, অস্ত্র-গুলিসহ জব্দ

    মোংলা কোস্ট গার্ডের পশ্চিম জোন Sunday গভীর রাতে সুন্দরবন সংলগ্ন চিলা ইউনিয়নের ফেলুর খন্ডের বৈদ্যমারী বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর এক সদস্য ইয়াছিন শেখকে আটক করেছে। কোস্ট গার্ড জানায়, গোপন সংবাদ পেয়ে শনিবার রাত থেকে সন্ধান চালানো হয় এবং সোমবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে ধাওয়া করে আটক করা হয়।

    কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, ইয়াছিন ঈদে সুন্দরবন থেকে এসে বৈদ্যমারী বাজার সংলগ্ন এলাকায় আত্মগোপন করে ছিল। প্রতিষ্ঠানটি গোপন সংবাদের ওপর মোংলা ও হারবাড়িয়া সামুদ্রিক দলের দুটি পৃথক দল ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ইয়াছিন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    আটককৃত ইয়াছিন শেখ (৪০) বাগেরহাট জেলার মোংলা থানার বাসিন্দা। অফিসিয়াল বয়ানে বলা হয়, ২০১৭ সালে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর ১৩ সদস্যের সঙ্গে ইয়াছিন র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পন করেছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সুমন পুনরায় তার পুরনো সদস্যদের নিয়ে দস্যুতা শুরু করে সুন্দরবনে নেমে আসে এবং বর্তমানে ইয়াছিনের সঙ্গে প্রায় ১৮–২০ জন সদস্য থাকছে বলেও স্থানীয়রা জানায়।

    আটককৃত ইয়াছিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে সুন্দরবনের ধানসিঁদ্দির চর সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ১টি একনলা বন্দুক, ৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ৪ রাউন্ড খালি কার্তুজ জব্দ করা হয়। কোস্ট গার্ড জানায়, ইয়াছিন দীর্ঘদিন ধরে ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর সঙ্গে ডাকাতি, জেলেদের অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ে সরাসরি জড়িত ছিল এবং দস্যু দলে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও রসদ সরবরাহ করত।

    কোস্ট গার্ড জাহাজ বিসিজিএস তৌফিকের নির্বাহী কর্মকর্তা লে. আশিকুল ইসলাম ইমন বলেন, ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের পর থেকে সুন্দরবনে কয়েকটি দস্যু বাহিনী জেলেদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপকর্ম ঘটাচ্ছে। সরকারের সহযোগিতায় কোস্ট গার্ড ইতোমধ্যেই কয়েকজন সদস্যকে অস্ত্রসহ আটক করতে সক্ষম হয়েছে এবং দস্যুমুক্ত রাখতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    আটক ইয়াছিন ও জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে বলে কোস্ট গার্ড জানিয়েছে।

  • বাগেরহাটে ফিলিং স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুর: যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

    বাগেরহাটে ফিলিং স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুর: যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

    বাগেরহাট শহরের খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় এক যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার রাত প্রায় নয়টায় শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকা থেকে ৪০ বছর বয়সী সুমন পাইককে আটক করা হয়। সুমন বাগেরহাট পৌর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক এবং তিনি শহরের খারদ্বার অঞ্চলের বাসিন্দা।

    পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাত দিলে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ২০ মার্চ, ঈদের আগের দিন সন্ধ্যার দিকে। ওই সময়ে মোটরসাইকেলে তেল নেওয়া নিয়ে কিছু ব্যক্তির সঙ্গে ফিলিং স্টেশনের কর্মী বা ব্যবস্থাপকের কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই ঈদের দিন থেকে বাগেরহাট শহরের দুটি তেল পাম্প বন্ধ রয়েছে। রোববার বিকেলে খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনের সামনে প্রতিবাদী স্বরে ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য পাম্প বন্ধ’ লেখা একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি টানা হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে যে, বাগেরহাটের কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী গ্রুপ ওই পাম্পে লুটপাট, ভাঙচুর এবং মালিক ও কর্মচারীদের জীবন নাশের উদ্দেশ্যে হামলা করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সেই চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত পাম্প বন্ধ থাকবে।

    ঘটনায় পাম্পের অন্যতম মালিক মুর্শিদ কুলি খান রোববার বাগেরহাট সদর মডেল থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। মামলায় ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার সুমন পাইক ওই মামলার এক নম্বর আসামি হিসেবে নাম করা আছে।

    এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, তেলের অতিরিক্ত চাহিদা ও সংকটের কারণে মোটরসাইকেল প্রতি ২০০ টাকা করে তেল দেওয়া হচ্ছিল। ২০ মার্চ সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে তেল নেওয়ার সময় কয়েকজন অনধিকার প্রবেশ করে নিয়ম ভেঙে বেশি টাকার তেল দাবি করেন এবং অশোভন ভাষায় কথাবার্তা শুরু করেন। নিষেধ করলে, সুমন পাইকের নির্দেশে তারা একাধিকজনকে এলোপাতাড়ি পেটাতে শুরু করে। ওই সময় কর্মচারী তানবির মল্লিক, মো: সাইফুল ইসলাম ও মো: রেজোয়ান এগিয়ে গেলে তাদেরও মারধর করা হয়। এ ঘটনায় মালিক মুর্শিদ কুলি খান সহ আহতেরা গুরুতর জখম হন। পুলিশের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ওই হামলাকারীরা কর্মচারীদের কাছ থেকে তেল বিক্রির নগদ টাকা ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে।

    মালিক মুর্শিদ কুলি খান জানান, পুলিশ প্রধান নামে অভিযুক্ত ব্যক্তি গ্রেফতার করেছে এবং ডিপো থেকে তেল সরবরাহ ফিরে পেলে পাম্প স্বাভাবিকভাবে চালু করা হবে। বাগেরহাট মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম বলেন, খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনে মারধরের মামলায় একটিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদের ধরতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় ঈদের দিনে বিএনপির গ্রুপ সংঘর্ষে দুইজন নিহত

    চুয়াডাঙ্গায় ঈদের দিনে বিএনপির গ্রুপ সংঘর্ষে দুইজন নিহত

    চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের ছত্রপাড়া গ্রামে ঈদুল ফিতরের দিন বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে দুইজন নিহত ও অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২১ মার্চ) ঈদের নামাজ শেষে পুরনো বিদ্বেষ ও আধিপত্য বিস্তারের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায় যা পরে দুপুরে ব exchange ধাক্কা-সংঘর্ষে পরিণত হয়। দফায় দফায় চলা সংঘর্ষে নারীসহ কমপক্ষে পাঁচজন আহত হন; গুরুতর অবস্থার কয়েকজনকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    নিহতরা হলেন ছত্রপাড়া গ্রামের প্রয়াত ইংরেজ কাজির ছেলে নাজিম উদ্দীন কাজি (৭৫) ও নাবু কাজির ছেলে শিমুল কাজি (১৮)। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সংঘর্ষের সময় নাতি শিমুল আহত হওয়ার খবর পেয়ে দাদা নাজিম উদ্দীন অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তিনি মারা যান—পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, নাতিকে রক্ষা করতে গিয়ে ধাক্কা খেয়ে হার্টের সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অপরদিকে গুরুতরভাবে আহত শিমুলকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়।

    আহতদের মধ্যে আছিয়া বেগম ও শরিফুল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়ায় রেফার করা হয়েছে বলে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. প্রশান্ত কুমার ধর জানিয়েছেন। তিনি জানান, সংঘর্ষের পর অন্তত পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির দুটি পক্ষের উল্লেখযোগ্য নেতাদের নেতৃত্বের কথা বলে অভিযোগ উঠেছে; একাংশের দাবি, স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি লাল খাঁ ও উপজেলা যুবদল সদস্য জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে ‘জাহাঙ্গীর গ্রুপ’ প্রতিপক্ষ ‘কুবির কাজি গ্রুপ’-এর উপর হামলা চালায়, যার ফলে কুবির কাজিসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এসব অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।

    আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বনি ইসরাইল বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি জানান, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা যাবে।

    স্থানীয়রা বলছেন, গ্রামের মধ্যে এই সহিংসতায় বহু পরিবার আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা ও আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত আছে।

  • মোংলায় জামায়াত নেতার নেতৃত্বে বিএনপি নেতা ও স্ত্রী কুপিয়ে জখম

    মোংলায় জামায়াত নেতার নেতৃত্বে বিএনপি নেতা ও স্ত্রী কুপিয়ে জখম

    মোংলা পৌর শহরের শিকারীর মোড় এলাকায় ঈদের রাতে সশস্ত্র হামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মোঃ আনিছুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী গুরুতরভাবে জখম হয়েছেন। ঘটনায় দু’জনই বর্তমানে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। হামলা ঘটে ২০ মার্চ (শুক্রবার) রাত সাড়ে ১০টার দিকে।

    স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, ঘটনার সূত্রপাত গত ১২ মার্চ শহরের এক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৯ জন নিহত হওয়ার পর জন্ম নেওয়া বিষয় নিয়ে ঘটে যাওয়া কথাকাটাকাটির সঙ্গে যুক্ত। সেই বাকবিতন্ডাকে কেন্দ্র করে জামায়াত নেতা খোকনের নেতৃত্বে ও তাঁর সহযোগী আশিক, কাজী রাজু সহ আনুমানিক ৮-১০ জন সশস্ত্র ব্যক্তির দল শুক্রবার রাতেই বিএনপি নেতা আনিছুর রহমানের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র ও দা ব্যবহার করে দু’জনকে কুপে জখম করে।

    ঘটনাস্থলে উপস্থিতরা বলেন, স্বামীকে বাঁচানোর জন্য যখন আহত নেতার স্ত্রী এগিয়ে আসেন, তখন সন্ত্রাসীরা তাঁকেও কুপে রক্তাক্ত জখম করে। তাদের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহত দম্পতিকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।

    হামলার খবর পেয়ে মোংলা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আহত পরিবার আজ সকালে থানায় একটি অভিযোগ দিয়ে মামলা করেছেন এবং পুলিশের হাতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন।

    মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠানো হয়েছে, অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং দোষীদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।

    এই ঘটনার পর মোংলা পৌর শহরে রাজনৈতিক পরিবেশ থমথমে দেখা দিয়েছে; দুই দলের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। অনাককাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশি তৎপরতা ও গশত পালা জোরদার করা হয়েছে। আহত দম্পতির স্বাস্থ্যগত অবস্থা সম্পর্কে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া কার্যগত বিবরণ এখনও জানানো হয়নি।