Category: সারাদেশ

  • খুলনায় চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে একজন নিহত

    খুলনায় চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে একজন নিহত

    খুলনার আড়ংঘাটা থানা এলাকায় চোর সন্দেহে গণপিটুনি দিয়ে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শনিবার ভোরে লতার মোড়ের গাছতলা মন্দির সংলগ্ন রেললাইনের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর চারটার দিকে স্থানীয়রা দিদার সরদার নামের ওই ব্যক্তিকে ঘেরের মাছ চুরির সন্দেহে আটক করে। পরে তাকে বেশ কিছুক্ষণ ধরে আটকে রেখে মারধর করা হলে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন।

    সকাল ছয় থেকে নয়টার মধ্যে স্থানীয়রা আহত দিদারকে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সকাল নয়টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহত ব্যক্তি দিদার সরদার গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার আরকান্দি গ্রামের বিনু সরদারের ছেলে। তিনি খুলনা নগরের দৌলতপুর মধ্যডাঙ্গা এলাকায় বসবাস করতেন।

    আড়ংঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ শাহ জাহান আহমেদ জানান, মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে। কথিত অভিযুক্ত ও ঘটনাস্থল সম্পর্কে পরিবারের সদস্যরা আসলে হত্যা মামলা করা হবে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

    হতাকারীকে কেন আটকে রাখা হয়েছিল এবং সেখানে কারা ছিলেন—এসব বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন অনিত্য বিচার ও লোকসত্ত্বের কারণে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

  • গুম-খুন ও নির্যাতিত পরিবারের কল্যাণে কাজ করবে বিএনপি: প্রতিজ্ঞা

    গুম-খুন ও নির্যাতিত পরিবারের কল্যাণে কাজ করবে বিএনপি: প্রতিজ্ঞা

    তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে খুলনায় গুম, খুন ও অমানুষিক নির্যাতনের শিকার পরিবারদের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার (০৪ এপ্রিল) খুলনা জেলা পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক আবেগঘন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব ভুক্তভোগীর হাতে চেক তুলে দেন খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল।

    চেক বিতরণ অনুষ্ঠানটি খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পীর সভাপতিত্বে এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মমিনুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা মহানগর ও জেলার মোট ৭৩টি পরিবারের হাতে সহায়তা প্রদান করা হয়; এদের মধ্যে ২৩টি শহীদ পরিবারের ও ৫০টি নির্যাতনপ্রাপ্ত, অসুস্থ বা দুস্থ পরিবারের সদস্য রয়েছেন। মোট বিতরণকৃত অর্থরাশি ছিল ৭ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, গত ১৭ বছর ধরে দেশে গঠিত গুম-খুন ও আতঙ্ক প্রকৃতই মানুষের কণ্ঠ রুদ্ধ করার উদ্দেশ্য থেকেই চালানো হয়েছিল। দীর্ঘ দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে যে মুক্তির নিশ্বাস চলছে, তা বহু সহোদর-বোনের রক্ত ও স্বজনদের অশ্রুর বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে।

    তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, জেলা পরিষয়ের পক্ষ থেকে প্রদত্ত এই সহায়তা দয়া বা করুণা নয়, বরং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ন্যায্য অধিকার। যারা সন্তানের গুম ঘটিয়েছে এবং মায়েদের কোল খালি রেখেছে— তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে এবং দেশের মাটিতে প্রতিটি খুন ও নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করা হবে।

    বক্তব্যে হুইপ বকুল অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী শাসকবৃন্দ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল ও ধ্বংসের মুখে ফেলে দিয়েছিল এবং জেলা পরিষদকে লুটপাটের স্থানে পরিণত করেছিল। আজ যখন জেলা পরিষদ জনগণের কল্যাণে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছে, তখন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের গৌরব পুনরুদ্ধারের পথ মসৃণ হচ্ছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষের মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ধন্যবাদ জানান এবং একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়তে শহীদ ও নির্যাতিত পরিবারের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

    আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু, মহানগর বিএনপির সভাপতি এডভোকেট শফিকুল আলম মনা, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, জেলা ড্যাব সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবলু সহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

  • কুষ্টিয়ায় ১৮ ঘণ্টার ব্যবধানে হাম উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু

    কুষ্টিয়ায় ১৮ ঘণ্টার ব্যবধানে হাম উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু

    কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হোম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ১৮ ঘণ্টার মধ্যে আরো দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই দুই শিশুর মৃত্যু ঘটে গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাতে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে আট মাস বয়সী ইব্রাহিম নামে এক শিশু মৃত্যুবরণ করে। এর কিছুক্ষণ পরে, রাত সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের রেনউইক এলাকার পাঁচ মাস ২০ দিন বয়সী 아이জা নামের এক শিশু also মৃত্যু হয়। এভাবেই জেলায় হাম উপসর্গ নিয়ে মোট চার শিশুর মৃত্যু হলো।

    ইব্রাহিম দৌলতপুর উপজেলার চঞ্চল হোসেনের ছেলে। সে শুক্রবার বিকেলে হাম ও নিউমোনিয়া উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। অন্যদিকে, আইজা গত চার দিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিল।

    কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার হোসেন ইমাম জানান, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় ইব্রাহিম নামের শিশুটি হাসপাতালে ভর্তি হয়। সে হাম ও নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত ছিল। অন্যদিকে, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. এ এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ৩০ মার্চ সোমবার আইজা নামের শিশুটি হাম ও নিউমোনিয়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল।

    এপ্রসঙ্গে, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টায় হাম সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আট মাস বয়সী আফরান নামে এক শিশু মারা গেছে।

    স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় আরো ২০ জন নতুন রোগী হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এখন পর্যন্ত, জেলায় মোট ৩২০ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ২৩০ জন রোগী চিকিৎ‌সাধীন আছেন। এর মধ্যে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে, এবং ৫-৬ শিশু বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে।

  • সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্রসহ দু’জন আটক, জিম্মি তিন জেলে উদ্ধার

    সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্রসহ দু’জন আটক, জিম্মি তিন জেলে উদ্ধার

    সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের পৃথক দুটি অভিযানে অস্ত্র, গোলাবারুদসহ ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর দু’জন সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে, সুন্দরবনের দুশ্চরিত্র ডাকাত জোনাব বাহিনী দ্বারা জিম্মি থাকা তিন জেলেকে উদ্ধার করা হয়। এই তথ্য জানিয়েছেন কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন।

    তিনি জানান, গোপন সূত্রের ভিত্তিতে সকালে খুলনার দাকোপ থানাধীন বাইনতলা খাল সংলগ্ন এলাকায় বেইস মোংলা ও আউটপোস্ট নলিয়ানে অভিযান চালানো হয়। অভিযান চলাকালে ডাকাতরা কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে বনভূমির মধ্যে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে কোস্ট গার্ডের দল তাদের ধাওয়া করে, প্রথমে দুইটি একনলা বন্দুক, ২৩ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৫ পিস ইয়াবা ও নগদ ১১শ’ টাকা সহ দুই সক্রিয় সদস্য মোঃ সোহাগ হাওলাদার (৩৫) ও বাবুল সানা (৪২) কে আটক করে।

    আটক দুজনের বাড়ি বাগেরহাটের শরণখোলা ও খুলনার পাইকগাছার। এই অভিযানের কিছুদিন আগে, ৩১ মার্চ, সুন্দরবনের শ্যামনগর থানার হোগলডরা খালসংলগ্ন এলাকায় দুর্বৃত্তরা সাতক্ষীরার তিন জেলেকে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করে।

    বুধবার, ১ এপ্রিল সন্ধ্যায় কোস্ট গার্ডের আরও একটি যৌথ অভিযান চালানো হয়। এতে উদ্ধার হয়, জিম্মি অবস্থায় থাকা তিন জেলে—ইন্তাজ (৫০), মোশাররফ (৪২), ও আনিস (৪৫)—সহ একটি নৌকা, ডাকাতদের ব্যবহার করা নৌকা, ২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, তিনটি ওয়াকিটকি চার্জার, তিনটি মোবাইল ব্যাটারি এবং একটি কুড়াল।

    উদ্ধারকৃত জেলেরা সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার বাসিন্দা। বর্তমানে, আসামি, অস্ত্র ও গোলাবারুদ, এবং উদ্ধারকৃত জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

  • রূপসায় বাসের ধাক্কায় নারী নিহত, স্বামী গুরুতর আহত

    রূপসায় বাসের ধাক্কায় নারী নিহত, স্বামী গুরুতর আহত

    খুলনার রূপসা উপজেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় বাসের ধাক্কায় এক নারী নিহত হয়েছেন এবং তার স্বামী মারাত্মক জখম হয়েছেন। এই দুর্ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রূপসা-মোংলা মহাসড়কের আমদাবাদ এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার গোরম্ভা গ্রামের অমর কুন্ডু মোটরসাইকেলে বাসে তার স্ত্রী লিলি কুন্ডুকে (৪৯) নিয়ে যাচ্ছিলেন। তারা তখন খুলনা আই হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে যখন তারা আমদাবাদ এলাকায় পৌঁছায়, তখন পেছন দিক থেকে আসা একটি লোকাল বাস নম্বর ঢাকা মেট্রো-জ ১১-২০৮৫ তাদের মোটরসাইকেলটিকে জোরে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলের পেছনে বসা লিলি সড়কে ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। আহত হন তার স্বামী অমর কুন্ডু, যাকে স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক মীর জানান, দুর্ঘটনার পর বাসের চালক সাগর (২৬) কে কুদিরবটতলা এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ঘটনাস্থলের তদন্ত চলছে।

  • জুলাই সনদ ও গণভোটের আদর্শে গণরায় বাস্তবায়নের গড়িমসিতে ফ্যাসিস্ট চরিত্র প্রকাশ্যে আসছে

    জুলাই সনদ ও গণভোটের আদর্শে গণরায় বাস্তবায়নের গড়িমসিতে ফ্যাসিস্ট চরিত্র প্রকাশ্যে আসছে

    গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের গড়িমসি করার কারণে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। গতকাল শুক্রবার সকালে নগরীর শহীদ মুন্সী আব্দুল হালিম মিলনায়তনে মহানগর ছাত্রশিবিরের সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পরিবর্তে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পতিত ফ্যাসিস্টে পরিণত হওয়ার চেষ্টা করছে। জনগণের আকাক্সক্ষাকে উপেক্ষা করার ফলে বিগত স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটেছিল, যা আমাদের জন্য একটি শিক্ষণীয় ঘটনা। তাই, সরকারকে এখনই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিটের আলোকে দেশ পরিচালনার জন্য সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং গণভোটের রায়কে অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে।

    তিনি আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কোনো দেনাপাওনা বা দীর্ঘমেয়াদি অনিয়মের কারণে দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নিমজ্জিত হতে পারে। সরকারের উচিত এখনই সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে সংস্কারযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়া, না হলে ইতিহাসের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

    অতঃপর, মহানগর ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও মহানগর সভাপতি রাকিব হাসানের সভাপতিত্বে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে এই স্মরণিক ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হয়।

    মহানগর সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দপ্তর সম্পাদক আহমেদ সালেহীন, বায়তুলমাল সম্পাদক কামরুল হাসান, প্রচার ও এইচআরডি সম্পাদক এস এম বেলাল হোসেন, সাহিত্য সম্পাদক আব্দুর রশিদ, প্রকাশনা ও মিডিয়া সম্পাদক ফারহান তূর্য, প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক ইমরানুল হক, পাবলিক রিলেশন ও ক্রীড়া সম্পাদক সেলিম হোসেন, ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক গোলাম মুয়িজ্জু, তথ্য প্রযুক্তি ও গবেষণা সম্পাদক জে আই সাবিত, স্কুল ও বিতর্ক সম্পাদক আদনান মল্লিক যুবরাজ, মাদরাসা ও তথ্য সম্পাদক হাফেজ নাঈম হোসাইন, গবেষণা সম্পাদক হামজা, পরিবেশ ও ফাউন্ডেশন সম্পাদক সুলাইমান আবিদ, কলেজ ও ছাত্র অধিকার সম্পাদক হযরত আলী, পাঠাগার ও সমাজসেবা সম্পাদক হাবিবুল্লাহ রাজু প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানে মহানগর ছাত্রশিবিরের সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘদিন পর এই ধরনের মতবিনিময় সভায় ছাত্রশিবিরের সদস্যদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও আবেগপ্রবণ পরিবেশ সৃষ্টি হয়, যা দেশের রাজনীতি ও ছাত্রশিবিরের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ও অনুপ্রেরণাদায়ক ঘটনা।

  • নৈহাটির জিয়া খালের পুনঃসংস্কারে গুরুত্ব দিচ্ছে রূপসা

    নৈহাটির জিয়া খালের পুনঃসংস্কারে গুরুত্ব দিচ্ছে রূপসা

    খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতির আলোকে রূপসা উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ জিয়া খাল পুনঃসংস্কারের জন্য সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই খাল কেবল পানি চলাচলের রাস্তা বা জলাধার নয়, এটি নৈহাটি ইউনিয়নের কৃষি, অর্থনীতি ও জনজীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত একটি প্রাণবন্ত জলর helping défisবিশেষ। খালটির সংস্কার হলে ইউনিয়নের বিভিন্ন জলাশয় ও বিলের পানির প্রবাহ স্বাভাবিক হবে, যা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে, সেচের সুবিধা বাড়াবে এবং বর্ষা মৌসুমে Excess water নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    তিনি গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় নৈহাটি ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের গোডাউন মোড়ে রূপসা উপজেলা বিএনপির আয়োজিত এক কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, একটি কৃষি-ভিত্তিক অর্থনীতি সুস্থভাবে চালানোর জন্য পানি ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা, ভরে গেছে ও অযত্নে পড়ে থাকা জিয়া খালটি এখন স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়ে ফেলেছে। এর ফলে শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা প্রয়োজনীয় পানি পান করতে না পারায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হন, আবার বর্ষা ও অতিবৃষ্টির সময় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, যা ফসলি জমি ও নিম্নাঞ্চলকে জলমগ্ন করে তোলে। এর ফলে প্রতি বছরই কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

    অতএব, কৃষকদের আর্থিক ও উৎপাদনক্ষমতা রক্ষা করতে হলে মৌলিক অবকাঠামো—বিশেষ করে খাল, বিল, ড্রেন ও সেচ ব্যবস্থাকে টেকসই ও আধুনিকায়ন করতে হবে। তিনি আশ্বাস দেন, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, কৃষকের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

    এছাড়াও আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, মোল্লা খায়রুল ইসলাম, কামরুজ্জামান টুকু ও এনামুল হক সজল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রূপসা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক। উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ আবু সাঈদ, জেলা বিএনপির সদস্য মোল্লা রিয়াজুল ইসলাম, রূপসা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক বিকাশ মিত্রসহ আরও অনেকে। المشاركين में ছিলেন বিএনপি নেতা এস এম আঃ মালেক, মহিউদ্দিন মিন্টু, শেখ মোঃ আবু সাঈদ, খান আনোয়ার হোসেন, আজিজুর রহমান, দিদারুল ইসলাম, মিকাইল বিশ্বাস, শাহালম ভূঁইয়া, খন্দকার শরিফুল ইসলাম, সরদার শিহাবুল ইসলাম, বিভিন্ন মহিলা নেত্রী, বরিষ্ঠ নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা।

  • আমি এমপি-মন্ত্রী নই, আপনাদের সেবক — বন প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম

    আমি এমপি-মন্ত্রী নই, আপনাদের সেবক — বন প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম

    গত ১৭ বছর ধরে একটানা চক্ষু চিকিৎসা শিবির পরিচালনা করে আসছেন লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম। স্থানীয় এই নেতার উদ্যোগে এ পর্যন্ত প্রায় ১১০০ জনেরও বেশি রোগীর ছানি অপারেশনসহ লেন্স সংযোজন, নেত্রনালী ও অন্যান্য জটিল চক্ষু শল্যচিকিৎসা করা হয়েছে। একই সময়ে প্রায় এক লাখ রোগীর প্রাথমিক চক্ষুপরীক্ষা, ঔষধ এবং চশমা বিতরণ করা হয়েছে, যা স্থানীয় মানুষের দৃষ্টিদান কর্মসূচিকে ব্যাপকভাবে এগিয়েছে।

    শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) বেলা ১১টায় পেড়িখালী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত শিবিরে বক্তৃতা করে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘‘এই মাটি ও মানুষের মাঝে আমি বড় হয়েছি। আমি এ এলাকার সন্তান। নিজের আরাম-আয়েশ বিসর্জন দিয়ে আমি আপনাদের পাশে থেকেছি। আপনাদের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নিয়েছি। আমি এমপি নই, মন্ত্রী নই — আমি আপনাদের সেবক। আপনাদের সেবায় থাকতে চাই। আপনি আমাকে সুযোগ করে দিয়েছেন, আপনারা আমাকে দোয়া ও সহযোগিতা করবেন—এটাই প্রার্থনা।’’

    চক্ষু চিকিৎসা শিবিরে পেড়িখালী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ সুলতান আহমেদ এর সভাপতিত্বে একটি আলোচনা সভাও হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ হাফিজুর রহমান তুহিন, সাবেক সদস্য সচিব কাজী জাহিদুল ইসলাম, মোংলা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি স. ম. ফরিদ, মোংলা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান মানিক, পেড়িখালী মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শংকর কুমার শেখদার ও পেড়িখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ মোতাহার আলী প্রমুখ।

    রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিকাল সাড়ে ৩টায় শিবিরে ২ জন বিশেষজ্ঞসহ মোট ৭ জন চিকিৎসক রোগীদের মধ্য থেকে ছানি অপারেশনের জন্য প্রায় ৬ শতাধিক রোগী বাছাই করেছেন, যা পরে প্রয়োজনমতো হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। একই সময়ে প্রায় ৫ হাজার রোগীকে ঔষধ, চশমাসহ প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। শিবিরে রামপাল ও মোংলা উপজেলার বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

  • খুলনার ২৫ লাখ নারী-পুরুষকে আধুনিক চিকিৎসার আওতায় আনছে ই-হেলথ কার্ড পাইলট

    খুলনার ২৫ লাখ নারী-পুরুষকে আধুনিক চিকিৎসার আওতায় আনছে ই-হেলথ কার্ড পাইলট

    ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের অনুকরণে খুলনা জেলার প্রায় ২৫ লাখ নারী-পুরুষকে আধুনিক চিকিৎসার আওতায় আনা হচ্ছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে রোগীদের সব স্বাস্থ্যসেবা রেকর্ড সংরক্ষণ করে আরেক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে খুলনাকে পাইলট জেলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, বছরের মধ্যে জেলার মানুষ আধুনিক চিকিৎসা সেবা পেতে পারবে।

    সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে ই-হেলথ কার্ড প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন আছে। ওই প্রকল্পের পাইলটিং কার্যক্রমে খুলনা জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—এ কথা সংসদে গত বুধবার সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়।

    খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডাঃ মোঃ মুজিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রশাসন জেলা সরকারি হাসপাতালগুলোর প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে। প্রকল্প অনুমোদন হলে জেলাবাসী আরও সুবিধায় এবং দ্রুতগতিতে চিকিৎসা সেবা পাবেন।

    ই-হেলথ কার্ড কী: এটি প্রতিটি রোগীর জন্য আলাদা একটি ইউনিক আইডি বহনকারী ইলেকট্রনিক কার্ড। কার্ডের মাধ্যমে রোগীর সকল মেডিকেল রেকর্ড—রোগের বিবরণ, পরীক্ষার রিপোর্ট, পূর্বের অসুখ-বিসুখ এবং ওষুধ সেবনের তথ্য—ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা হবে। কেউ যখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন, চিকিৎসক মাত্র কয়েক সেকেন্ডে রোগীর পুরো ইতিহাস দেখে উপযুক্ত চিকিৎসা দিতে পারবেন। ফলে অনাবশ্যক পরীক্ষা-নিরীক্ষা কমবে, সময় বেঁচে যাবে এবং রোগী-চিকিৎসক উভয়েরই হয়রানি কমে আসবে।

    জেলার স্বাস্থ্যচিত্র: জেলায় ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কপিলমুনি স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র, টুটপাড়া তালতলা হাসপাতাল, খালিশপুর লাল হাসপাতাল ও সদর শহরে নিয়মিত চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে—এ তথ্য দিয়েছে খুলনা সিভিল সার্জন কার্যালয়।

    কমিউনিটি ক্লিনিক বণ্টন ও ওষুধ সংকট: জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কমিউনিটি ক্লিনিকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। কয়রায় ৩১টি, পাইকগাছায় ৩৭টি, ডুমুরিয়ায় ৪০টি, ফুলতলায় ১০টি, দিঘলিয়ায় ১৬টি, তেরখাদায় ১৪টি, রূপসা ও বটিয়াঘাটায় প্রতিটি এলাকায় ২০টি করে এবং দাকোপে ২৪টি কমিউনিটি ক্লিনিকে শনিবার-বৃহস্পতিবার ছাড়া প্রতিদিন রোগী চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন। তবে এসব ক্লিনিকে ওষুধ সরবরাহে সমস্যা রয়েছে। প্যারাসিটামল, এন্টাসিড (৬৫০ মিগ্রা), প্যারাসিটামল সাসপেনশন, ক্লোরাম্হেক্সিকল ও ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ট্যাবলেটের বাইরে আনুমানিক ১৫ ধরনের ওষুধ প্রতি মাসে প্রায় ১৫ দিন ধরে সংকটে পড়ে থাকে এবং এই সংকট মেটানোর স্থায়ী উদ্যোগ এখনো দেখা যায়নি। বিশেষ করে শীতের সময়ে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও অন্যান্য রোগের ওষুধ কমিউনিটি ক্লিনিকে পাওয়া না গেলে রোগী ভোগান্তিতে পড়ে।

    চিকিৎসক ও জনবল সংকট: জেলার স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে মোট ৩৫৫টি বিশেষজ্ঞ, মেডিকেল অফিসার ও নার্সের পদ থাকলেও সেইগুলোর মধ্যে ১৫৬টি পদ শূন্য পড়ে আছে। শূন্যপদগুলোর মধ্যে রয়েছে জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী) ৩টি, জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন) ২টি, জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি) ৩টি, জুনিয়র শিশু বিশেষজ্ঞ ৩টি, জুনিয়র চক্ষু বিশেষজ্ঞ ৬টি, জুনিয়র চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ ৭টি, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ৭টি, মেডিকেল অফিসার ৬টি, সহকারী সার্জন ২১টি, জরুরি মেডিকেল অফিসার ২৬টি, ইউনিয়ন পর্যায়ের সহকারী সার্জন ৩৬টি, প্যাথলজিস্ট ১টি এবং অন্যান্য স্টাফ হিসেবে নার্স, স্বাস্থ্যপরিদর্শক, স্বাস্থ্য সহকারী, হেলথ এডুকেটর, ওয়ার্ড বয়, সুইপার ও ল্যাব এটেনডেন্টেরও ঘাটতি রয়েছে।

    রোগের প্রচরণ: উপকূলীয় এলাকার রূপসা, দিঘলিয়া, ফুলতলা ও কয়রায় ডায়রিয়া সারাবছর সাধারণ সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়। গত সালের ১ নভেম্বর থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৫২৫৮ জন রোগী; এ তালিকায় ফুলতলা উপজেলা শীর্ষে রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছাড়াও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালে সহস্রাধিক শিশু এই সময়কালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

    আশা ও প্রত্যাশা: অভিজ্ঞরা বলছেন, ই-হেলথ কার্ড প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রোগী তথ্য দ্রুত পাওয়ার সুবিধা এবং সেবার মান বাড়ার মাধ্যমে চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেক বেশি কার্যকর হবে। খুলনার সাধারণ মানুষও আশা করছেন—প্রকল্প অনুমোদন হলে তাদের জন্য চিকিৎসা আরও সহজতর ও আধুনিক হবে।

  • প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের উদ্যোগে উপকূলীয় ১০ সহস্রাধিক মানুষের চোখে ফিরে এলো আলো

    প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের উদ্যোগে উপকূলীয় ১০ সহস্রাধিক মানুষের চোখে ফিরে এলো আলো

    বেঁচে থাকলে অন্ধত্ব প্রতিরোধ—এই দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে মোংলা ও রামপালে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক বিশাল বিনামূল্যে চক্ষু শিবির। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সার্বিক সহযোগিতায় মোংলা পেড়িখালী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মোংলা, রামপালসহ পার্শ্ববর্তী উপকূলীয় অঞ্চল থেকে যোগ দেয় হাজার হাজার দরিদ্র রোগী। আয়োজকদের করা নিরীক্ষায় দিনশেষে প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে প্রাথমিক সেবা, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছে।

    শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) সকাল ১০ টায় শুরু করে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলে দিনেরএই আই ক্যাম্প। ঢাকা মেগা সিটি লায়ন্স ক্লাবের আয়োজনে পরিচালিত এ কার্যক্রমে সেবার মান নিশ্চিত করতে ১০ জন বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসকসহ মোট ৩০ সদস্যের একটি সুদক্ষ মেডিকেল টিম রোগীদের চিকিৎসা করেছে। কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে মাঠজুড়ে ছয়টি পৃথক বুথ রাখা হয়েছিল।

    ক্যাম্পে এসে রোগীদের চোখের প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ছানি (ছানি), নেট্রনালীর সমস্যা, চোখের বাড়তি মাংস বৃদ্ধি (পটেরিজিয়াম) ও ট্রাইকিয়াসিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগের রোগীদের আলাদা করে বাছাই করা হয়। শিশুরা থেকে শুরু করে শতবর্ষী বৃদ্ধ—সকলকে বিনামূল্যে লেন্স, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চশমা সরবরাহ করা হবে। জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয় তালিকা করা হয়েছে এবং তাদের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষাও সম্পন্ন করা হয়েছে।

    যাদের দক্ষতাসম্পন্ন হাসপাতালে অপারেশন দরকার, তাদের ঢাকার দৃষ্টি আই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উন্নতমানের লেন্স বসানোসহ অপারেশন করে দেয়া হবে। অপারেশন ও পরে সুস্থ হয়ে ওঠা পর্যন্ত চিকিৎসা, আবাসন ও যাতায়াতের সব ব্যয় প্রতিমন্ত্রী নিজ খরচে বহন করবেন—আয়োজকদের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    শরণখোলা থেকে এসেছে পরিমল বাবু; তিনি বলেন, গরিব হওয়ায় ভালো চিকিৎসা করাতে পারিনি, পার্শ্ববর্তী লোকদের পরামর্শে এখানে এসেছি, আল্লাহ চাইলে চোখ দুটো ভাল থাকুক—এমন আশা নিয়ে ডাক্তার দেখাতে এসেছি। দাকোপ থেকে আসা ৭২ বছর বয়সি ইব্রাহিম আলম বলেন, কয়েক বছর ধরে চোখে সমস্যা, সামনে কিছুই দেখা যায় না—ডাক্তার দেখালে হয়ত সুস্থ হই। মোংলার ললিতা হালদার (৬৫) বলেন, টাকার অভাবে ভালো ডাক্তার দেখাতে পারিনি, এখানে এসে আশা নিয়ে এসেছি।

    এই মানবিক কর্মকাণ্ডটি দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতার অংশ; ২০০৯ সাল থেকে প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম ব্যক্তিগতভাবে এসব সেবা চালিয়ে আসছেন। গত ১৫ বছরে তাঁর এই উদ্যোগের মাধ্যমে লক্ষাধিক রোগী বিনামূল্যে আধুনিক চক্ষু চিকিৎসা ও সেবা পেয়েছেন। উপকূলীয় দরিদ্র মানুষের কাছে এই চক্ষু শিবির এখন আশার এক আলো হিসেবে পরিচিত।

    প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, মানুষের সেবা করাই আমার পরম ধর্ম, আর্থিক কারণে বহু মানুষ চোখের চিকিৎসা করাতে পারে না—তারা অন্ধত্বের দিকে ধাবিত হচ্ছে। আমার লক্ষ্য এ অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের আবার পৃথিবীর আলো দেখানোর সুযোগ করে দেয়াই। যতদিন বেঁচে থাকব, ইনশাআল্লাহ এই সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

    এলাকার সুশীল সমাজ ও স্থানীয়রা এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তারা বলেন, নিয়মিতভাবে এমন উদ্যোগ উপকূলীয় জনপদের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে ও অন্ধত্ব নিরসনে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করছে।