Category: সারাদেশ

  • এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ: যশোর বোর্ডে কেন্দ্র সচিবসহ তিনজনকে অব্যাহতি

    এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ: যশোর বোর্ডে কেন্দ্র সচিবসহ তিনজনকে অব্যাহতি

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ড কেন্দ্র সচিবসহ তিনজনকে গতিবরে অব্যাহতি দিয়েছে। বোর্ড আশ্বস্ত করেছে, ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীর ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়বে না।

    জানা গেছে, ৩০ এপ্রিল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলার সলিমুন্নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষার সময় এ দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে। কেন্দ্রের ২০৪ নম্বর কক্ষে নলডাঙ্গা ইব্রাহিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থী সাদিয়া খাতুন অংশ নিই। অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য পৃথক প্রশ্নপত্র থাকা সত্ত্বেও কক্ষ পরিদর্শকরা ভুলবশত তাকে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র বিতরণ করেন।

    পরীক্ষা শেষে বাড়িতে পৌঁছে পরিস্থিতি টের পেয়ে সাদিয়া বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানায়। পরে তদন্ত করে বিষয়টি সত্য প্রমাণিত হওয়ায় কক্ষ পরিদর্শক—সুন্দুরপুর চাঁদবা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম এবং কে.পি.কে.বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাসির উদ্দীনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

    ঘটনায় কেন্দ্র সচিব ও সলিমুন্নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিদৌরা আক্তারকেও স্থানে থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর জায়গায় সহকারী প্রধান শিক্ষক গৌতম তরফদারকে নতুন কেন্দ্র সচিব হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।

    বিদৌরা আক্তার অব্যাহতির বিষয়ে জানান, অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নপত্র তিনি সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের চিহ্নিত করে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন এবং এই বিষয়ে ভিডিও প্রমাণও আছে। তবুও কেন তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, তা তিনি বোধগম্য করেন না।

    কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা রয়েছে এবং যশোর শিক্ষাবোর্ড প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল আলিম জানান, কেন্দ্র সচিব পরিবর্তনের কথা তিনি শুনেছেন, তবে এখনো লিখিত কোনও নির্দেশনা পাননি।

    যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. আব্দুল মতিন বলেন, ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের দায়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে ওই পরীক্ষার্থীর কোনো ক্ষতি হবে না এবং সে প্রশ্নপত্র অনুযায়ী তার উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে।

    ঘটনাটি পরীক্ষাকেন্দ্রে তদারকি ও দায়িত্ব পালনের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য পৃথক প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আরও কঠোর সতর্কতা ও নির্ধারিত প্রটোকল অনুসরণের দাবি তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • নড়াইলে ঘুমন্ত স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামী গ্রেফতার

    নড়াইলে ঘুমন্ত স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামী গ্রেফতার

    নড়াইলের বাহিরগ্রাম মধ্যপাড়া এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে ঘুমন্ত স্ত্রীর উপর তলোয়ারنما বটিতে আঘাত করে হত্যার অভিযোগে স্বামী সাকিব শেখ (২৫)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রাত দেড়টার দিকে ঘটেছে এই নৃশংস ঘটনা।

    নিহত গৃহবধূ খাদিজা আক্তার চাঁদনী (২০) খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলার আলকা গ্রামের কালাম শেখের মেয়ে। অভিযুক্ত সাকিব শেখ একই উপজেলার দামোদার গ্রামের জাহিদ শেখের ছেলে। তাদের সংসারে সাড়ে তিন বছর বয়সী একটি ছেলে, তুফান, রয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত সোমবার (৪ মে) দুপুরে খুলনা থেকে সাকিব ও চাঁদনী নড়াইলের বাহিরগ্রাম মধ্যপাড়া এলাকায় সাকিবের খালুর বাড়িতে যেতে। রাতের খাবার শেষে সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। রাত দেড়টার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় সাকিব চাঁদনীকে বটি দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন। চাঁদনীর চিৎকারে স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    স্থানীয়দেরও অভিযোগ, সাকিব মাদকাসক্ত এবং কর্মবিমুখ হওয়ায় দম্পতির মাঝে প্রায়ই পারিবারিক কলহ থাকত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাকিবও পারিবারিক কলহের বিষয়টি স্বীকার করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    নড়াইল সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ কামরুজ্জামান জানান, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং সন্দেহভাজন সাকিবকে আটক করেছি। ঘটনার সঙ্গে ব্যবহৃত খড় কাটা বটি, বিছানার চাদরসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তদন্ত চলছে।

  • মুক্তিপণের দাবিতে সুন্দরবন থেকে ২২ জেলে অপহরণ

    মুক্তিপণের দাবিতে সুন্দরবন থেকে ২২ জেলে অপহরণ

    সাতক্ষীরা জেলার সুন্দরবন থেকে জলদস্যু আলিম ও নানাভাই বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মুক্তিপণের দাবিতে ২২ জন জেলে অপহরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার সকাল থেকে সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের চুনকুড়ি, মালঞ্চ নদীর আগা, চালতেবেড়, মাইটভাঙা ও পশুরতলা খাল থেকে অস্ত্রের মুখে এসব জেলেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

    জলদস্যুরা অপহৃতদের মধ্যে পাঁচজনকে মারধর করে মুক্তিপণ পাঠানোর শর্তে ছেড়ে দিয়েছে; বাকী ১৭ জন এখনও জিম্মি রয়েছেন। আহত ও ফিরে আসা জেলেরা জানিয়েছে, তারা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ, রমজাননগর ও ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

    এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত জিম্মি থাকা ১৭ জন জেলের নাম ও তথ্য (বয়সসহ) নিম্নরূপ:

    সিংহড়তলী গ্রামের আবুল ফকিরের ছেলে মোমনি ফকির (৩০), হরিনগর গ্রামের মুর্শিদ আলম (৪০), হরিনগর গ্রামের মিজানুর শেখের ছেলে ইসমাইল শেখ (২৮), মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে আব্দুল করিম (৪৮), সেন্ট্রাল কালিনগর গ্রামের ছাত্তার সানার ছেলে আব্দুস সামাদ (৪০), কুলতলি গ্রামের মনোহর সরকার (৩৪), চুনকুড়ি গ্রামের গোলাম মোস্তফারের ছেলে আল মামুন (১৬), রুহুল আমিনের ছেলে হুমায়ুন (২৬), খালেক মোল্যার ছেলে মনিরুল (২৫), আব্দুল হাইয়ের ছেলে রবিউল (৩০), গণেশ মন্ডলের ছেলে সঞ্জয় (৫২), বড় ভেটখালী গ্রামের আলমগীরের ছেলে আলআমিন (৩৭), ফরেজ গাজীর ছেলে শাহাজান (৫০), জুলফিকারের ছেলে আবুল বাসার বাবু (৩৫), কদমতলার ছাকাত গাজীর ছেলে রেজাউল (৩৫), দক্ষিন কদমতলার সাদেক সর্দারের ছেলে আব্দুস সালাম (৫৫) এবং ধুমঘাট গ্রামের কওছার গাজীর ছেলে আবুল কালাম (৪০)।

    মুক্তিপণ দাবীতে মারধর করে ছেড়ে দেয়া পাঁচ জেলের নাম হল: কুলতলি গ্রামের মৃত নিরাপদ সরকারের ছেলে ধ্রুবো সরকার (৩৮), দক্ষিন কদমতলা গ্রামের সুবোল মন্ডলের ছেলে হৃদয় মন্ডল (৫৩), হরিনগর গ্রামের বাবুর আলী গাইনের ছেলে সবুর গাইন (৫০), সিংহড়তলীর গোলদার পাড়ের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩২) এবং আনছার গাজীর ছেলে ইউনুস আলী (২৬)।

    অপহৃতদের আত্মীয়-স্বজন, মহাজন এবং ফিরে আসা জেলেরা জানান, তারা সুন্দরবনে অভিযান চালাতে আগে সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা ও কৈখালী স্টেশন থেকে অনুমতিপত্র নিয়ে গিয়েছিলেন। মৎস্যশিকারের সময় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অবস্থায় জলদস্যুদের সদস্যরা তাদের ধরে নিয়ে গেছে। পরিবারের এক পরিচিত সূত্র (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) বলেন, এখনো পর্যন্ত জলদস্যুরা কোনো নির্দিষ্ট মুক্তিপণের অংক জানাননি; মোবাইল নেটওয়ার্ক ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিপণ দাবি জানাতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। তারা সরকারের কাছে দ্রুত জেলেদের উদ্ধার করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

    ফিরে আসা জেলাদের বক্তব্য, জলদস্যুরা লোকালয়ের কাছাকাছি এলাকা থেকেও জেলেদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে এবং ব্যাপক মারধর করছে, ফলে সুন্দরবনের তীরবর্তী জেলেরা এখন ভীত ও অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে।

    সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মশিউর রহমান জানিয়েছেন, জেলেদের অপহরণের বিষয়টি তারা ইতিমধ্যে কোস্টগার্ডকে অবহিত করেছে এবং দ্রুত বড় আকারে অভিযান চালানো হবে। শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. খালেদুর রহমান বলেছেন, অপহরণের বিষয়টি এখনও পর্যন্ত জেলের কোনো পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জানানো হয়নি; আপনারা আমাদের মাধ্যমে জানানো হলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

    স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, নিরাপত্তা বাড়ানো না হলে সুন্দরবনের জেলে সম্প্রদায় আরও আক্রান্ত হতে পারে; তারা দ্রুত সরকারের হস্তক্ষেপ ও নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছে।

  • এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ: যশোর বোর্ডে কেন্দ্র সচিবসহ ৩ জনকে অব্যাহতি

    এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ: যশোর বোর্ডে কেন্দ্র সচিবসহ ৩ জনকে অব্যাহতি

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যশোর শিক্ষা বোর্ড বৃহস্পতিবার কেন্দ্র সচিবসহ তিনজনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে এবং বলেছে—ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীর ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়বে না।

    ঘটনাটি ঘটে ৩০ এপ্রিল, যখন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছিল। কালীগঞ্জ উপজেলার সলিমুন্নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রের ২০৪ নম্বর কক্ষে নলডাঙ্গা ইব্রাহিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থী সাদিয়া খাতুন অংশ নেন। নিয়ম অনুযায়ী অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর জন্য পৃথক প্রশ্নপত্র থাকলেও কক্ষ পরিদর্শকরা ভুলবশত তাকে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রই প্রদান করেন।

    পরীক্ষা শেষে বাড়ি গিয়ে বিষয়টি বুঝতে পেরে সাদিয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালে তদন্ত করে বিষয়টি নিশ্চিত হয়। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কেন্দ্রের দুই কক্ষ পরিদর্শক—সূন্দরপুর চাঁদবা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম ও ক.পি.কে.বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাসির উদ্দীন—কে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিব ও সলিমুন্নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিদৌরা আক্তারকেও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তার বদলে সহকারী প্রধান শিক্ষক গৌতম তরফদারকে নতুন কেন্দ্র সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

    বিদৌরা আক্তার বলেন, অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর জন্য যে বিশেষ প্রশ্নপত্র ছিল, তিনি তা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বুঝিয়ে চিহ্নিত করে দিয়েছিলেন এবং এর ভিডিও প্রমাণও আছে। তবুও কেন তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে তা তিনি মেনে নিতে পারছেন না।

    কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেছেন, বিষয়টি তার কাছে পরিচিত এবং যশোর শিক্ষাবোর্ড প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল আলিম বলেন, তিনি কেন্দ্র সচিব পরিবর্তনের খবর শুনেছেন, তবে এখনও লিখিত নির্দেশনা পাননি।

    যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. আব্দুল মতিন নিশ্চিত করেছেন যে ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের দায়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং ওই পরীক্ষার্থীর কোনো ক্ষতি হবে না—যে প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছে, তার অনুযায়ীই উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে।

    ঘটনাটি পরীক্ষাকেন্দ্রে তদারকি ও দায়িত্ব পালনের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর জন্য পৃথক প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনায় আরও সতর্কতা এবং দৃঢ় তদারকির প্রয়োজনীয়তা বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

  • চুয়াডাঙ্গায় বিজিবি ধ্বংস করেছে ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য

    চুয়াডাঙ্গায় বিজিবি ধ্বংস করেছে ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য

    চুয়াডাঙ্গায় বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে উদ্ধৃত প্রায় ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ধ্বংস করেছে। ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠানটি বুধবার (৬ মে) সকাল ১১টায় চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন-৬ বিজিবির সদর দফতরে অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান। তিনি মাদককে একটি বহুমাত্রিক ও জটিল সামাজিক সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ সমস্যা মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সব স্তরের জনগণের শরিক হওয়া জরুরি। বিজিবি মাদকমুক্ত দেশ গঠনে অটল সংকল্পবদ্ধ ও ‘‘জিরো টলারেন্স’’ নীতির অধীনে সীমান্তে দিন-রাত দায়িত্ব পালন করে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবি সদর দফতরে ধ্বংস করা হয় ১০ হাজার ৬১৭ বোতল ফেনসিডিল, ১.৮৫৭ কেজি হেরোইন, ২৩৮.৭৯ কেজি গাঁজাসহ বিপুল পরিমাণ নেশাজাতীয় দ্রব্য। এছাড়া উদ্ধারকৃত অন্যান্য আইটémের মধ্যে রয়েছে ৩ হাজার ৯৮৩ বোতল বিদেশি মদ, ২৯ বোতল ভারতীয় বিয়ার, ১.৮৯ কেজি কোকেন, ২৫ হাজার ৪৮৫টি বিভিন্ন ভারতীয় নেশা জাতীয় ট্যাবলেট (যেমন ভায়াগ্রা, সেনেগ্রা, ট্যাপেন্টাডল) এবং ১৯টি ভারতীয় নেশাজাত ইনজেকশন। এসব মাদকের আনুমানিক মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি় ১৮ লাখ ৭৬ হাজার ৬৬৫ টাকা।

    চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, ধ্বংসকৃত এসব মাদক ২০২৪ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার সীমান্ত অঞ্চল নিয়ে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে উদ্ধারকৃত মালিকবিহীন দ্রব্য।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিবি কুষ্টিয়া সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন, চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান, চুয়াডাঙ্গা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তফা কামাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামাল আল নাসের, সিভিল সার্জন হাদি জিয়া উদ্দীন এবং জেলার অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রতিনিধি।

    বিজিবি বলেন, সীমান্তে তাদের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে এবং মাদক চক্রের সঙ্গে জিরো টলারেন্স রেখে আইনসিদ্ধভাবে অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য সংগৃহীত ও ধ্বংস করা হবে।

  • চিতলমারীতে ইয়াবা সেবনের অভিযোগে যুবককে ৫ দিনের কারাদন্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা

    চিতলমারীতে ইয়াবা সেবনের অভিযোগে যুবককে ৫ দিনের কারাদন্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা

    বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার হিজলা এলাকায় ইয়াবা সেবনের অভিযোগে মোঃ জুয়েল শিকদার (৪১) নামের এক যুবককে ভ্রাম্যমান আদালত পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদন্ড দিয়েছেন। বুধবার (৬ মে) বেলা ১১টায় ওই এলাকায় পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালত চিতলমারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিঠুন মৈত্র পরিচালনা করেন।

    আদালত চলাকালে অভিযুক্তের দেহ তল্লাশি করে তিন পিচ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট মিঠুন মৈত্র জানান, জুয়েল ইয়াবা সেবন করে জনসাধারণের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করায় তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪১(১) অনুযায়ী দণ্ডিত করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত মোঃ জুয়েল হিজলা গ্রামের মৃত এমদাদ শিকদারের ছেলে।

    ভ্রাম্যমান আদালত সাধারণত জনস্থানে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রত্যাহারের লক্ষ্যে পরিচালিত হয়, এবং এই মামলাটিও সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রকাশ্যে দ্রুত বিচার করে শেষ করা হয়েছে।

  • খুলনায় গুলিবিদ্ধ যুবককে ঢাকায় নেওয়ার পথে আবারও গুলির ঘটনা

    খুলনায় গুলিবিদ্ধ যুবককে ঢাকায় নেওয়ার পথে আবারও গুলির ঘটনা

    খুলনায় ডাকাতির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে, যেখানে গুলিবিদ্ধ হন যুবক রাজু হাওলাদার। তিনি বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি ঘটে রবিবার দুপুরে, যখন রাজুকে খুলনার লবণচরা থানার শিপইয়ার্ড এলাকার একটি বাসায় আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল। রাজু তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা ও ডাকাতির মামলা থাকলেও সম্প্রতি তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।

    জানা যায়, দুপুরে খুলনার লবণচরা থানার কুবা মসজিদ এলাকার কিছু লোকজন—ফারদিন, হেলাল, ব্লাক নয়ন, সোহেল, ধলুস ও অন্যরা—রাজুর সঙ্গে অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করে। এরই মধ্যে তারা এলোপাতাড়ি গুলি চালায়, যার ফলস্বরূপ রাজুর পেটের বাঁ পাশ ভেদ করে একটি গুলি তার পিঠ দিয়ে বের হয়। তিনি একজন নারীকের বাসায় আশ্রয় নেন, তবে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে বিভিন্ন হাসপাতাল ও পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    পরে, খবর পেয়ে পুলিশ তাকে আটক করে। অবস্থা আরও গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়। রাত সোয়া ১২টার দিকে এ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার পথে পথে কুরির বটতলা এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা আবারও হামলা চালায়। এ সময় এ্যাম্বুলেন্সে থাকা পুলিশ সদস্যরা বিষয়টি কাটাখালী হাইওয়ে থানাকে জানান এবং দুর্বত্তরা পালিয়ে যায়। রাতেই রাজুর শরীরের অবস্থা আরও গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অপারেশন সম্পন্ন হয়।

    দুর্বৃত্তদের কাউকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ্যাম্বুলেন্স চালক মোঃ ফারুক জানা জানান, তিনি ঘটনাস্থলে দ্রুত গাড়িটি কাটাখালী হাইওয়ে থানায় নিয়ে যান। পুলিশ বলছে, রাজু একজন চাঞ্চল্যকর মামলার আসামি, যার বিরুদ্ধে ঢাকা, খুলনাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায় মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্ত বিভাগ এই ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে।

  • খুলনাকে আধুনিক নগরীতে রূপান্তরের দৃঢ় প্রত্যয় ও সার্বিক সহযোগিতার আবেদন কেসিসি প্রশাসকের

    খুলনাকে আধুনিক নগরীতে রূপান্তরের দৃঢ় প্রত্যয় ও সার্বিক সহযোগিতার আবেদন কেসিসি প্রশাসকের

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) ১২তম সাধারণ সভা মঙ্গলবার সকালে নগর ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সভার সভাপতিত্ব করেন প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। সভায় নগরীর উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি প্রকল্প ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

    বিশেষ করে, প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের লক্ষ্যে গঠিত প্রকল্পের আওতায় গ্যারেজের সম্প্রসারণের জন্য সংলগ্ন জমি অধিগ্রহণ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কঠোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা-২০২১ অনুযায়ী ট্রেন্সিং গ্রাউন্ডের ২৫০ মিটারের মধ্যে আবাসিক প্রকল্প গ্রহণে বিধিনিষেধের বিষয় আলোচনা হয়। এছাড়া, রাজবাঁধ ট্রেন্সিং গ্রাউন্ডের ২০০ ফুট দক্ষিণে বাংলাদেশ নৌবাহিনী কল্যাণ ফাউন্ডেশন কর্তৃক জমি ক্রয়ে সম্মতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    নগরীর উন্নয়নে আরও বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যেমন—খুলনা ওয়াসার সড়ক খনন কাজের জন্য স্থানিয় সরকার বিভাগের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কোন কাজ বন্ধ রাখা, চলতি অর্থবছর জুন পর্যন্ত বিজ্ঞাপন করের বকেয়া আদায়ের জন্য সময় দেওয়া, বিদ্যমান বিলবোর্ডের ভাড়া সংক্রান্ত উদ্যোগ নেওয়া, ও অনাদায়ী বিজ্ঞাপন সংস্থার বরাদ্দ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

    এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলার জন্য খুলনা শহরের উন্নয়ন প্রকল্পের (ফেজ-২) ডিপিপির প্রাক্কলন মূল্য বেশি হওয়ায়, প্রথম পর্যায়ে সোনাডাঙ্গা বাইপাসের অর্ধেক অংশ ও ২৩টি পুকুরের উন্নয়ন কাজ শুরু হয়, পরবর্তীতে ডিপিপির সংশোধনের মাধ্যমে বাকি অংশের কাজও সম্পন্ন হবে। নগরীর ট্রাফিক পরিস্থিতি উন্নত করতে ইজিবাইক চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য রোডম্যাপ প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি, বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য সুপারিশ ও বর্ষা মৌসুমের আগে জলনির্গমন সুবিধার্থে গুরুত্বপূর্ণ ড্রেনসমূহের পেড়িমাটি উত্তোলনের জন্য অর্থ বরাদ্দের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    নগরীতে উন্নত পরিষেবা নিশ্চিত করতে, ডালান ও সেমিপাকা ভবনের পৌরকর পুনঃনির্ধারণ ও নামকরণের জন্য নয়া একটি কমিটি গঠন, এবং বিশেষ তারিখে বিভিন্ন রাস্তার নামকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেইসঙ্গে, খুলনা জাতীয়তাবাদী দল ও মহানগর শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, প্রখ্যাত ভাষা সৈনিক ও সাবেক সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম দাদু ভাইয়ের নামে নগরীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নামকরণ হবে।

    অপর পক্ষ, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের স্থানান্তর ও নগরীর ডাকবাংলো মোড় থেকে ফেরিঘাট পর্যন্ত অবৈধ স্থাপনা অবৈধভাবে উচ্ছেদের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়। ভাষণে, প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে সাধারণ মানুষের চাহিদা ও সমস্যাগুলোর গভীরতা বুঝতে পেরেছেন। তিনি বলেন, সীমিত জনবল, অর্থ ও সম্পদের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দুর্নীতিমুক্ত নগরী গড়তে প্রয়োজনীয় সকল পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে এবং খুলনাকে একটি আধুনিক শহরে রূপান্তর করতে কর্পোরেশনের সকল পর্যায়ের সহযোগিতা চেয়েছেন।

    সভায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের পরিচালনায়, বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিরা—একমাত্র পুলিশ, কেএমপি, কেডিএ, মোংলা বন্দরের, সড়ক ও জনপথ, ওজোপাডিকো, স্বাস্থ্য বিভাগ, গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, নাগরিক প্রশাসন, ট্রাফিক ও বিদ্যুৎ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট רבים উপস্থিত ছিলেন। এই সভার মাধ্যমে নগরীর সার্বিক উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি লক্ষ্যে নেওয়া নতুন পরিকল্পনা ও কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়নের দিকে দৃঢ় এগিয়ে চলার পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

  • ডুমুরিয়ায় পেট্রোল ঢেলে স্ত্রীকে আগুন দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, স্বামী পলাতক

    ডুমুরিয়ায় পেট্রোল ঢেলে স্ত্রীকে আগুন দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, স্বামী পলাতক

    খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় স্ত্রীকে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্বামী জনি গাজীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন গৃহবধূ বিথি গাজী (২৬), যাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার উপজেলার মিকশিমিল গ্রামে। অভিযুক্ত জনি গাজী (৩০), যিনি স্থানীয় একটি পেট্রোল পাম্পের কর্মচারী, ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে।

    পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার জানিয়েছেন, পারিবারিক পারিবারিক মনোমালিন্যের জের ধরে মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে স্বামী জনি গাজী ঘর থেকে পেট্রোল সংগ্রহ করে স্ত্রীর শরীরে ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। চিৎকার শুনতে পেয়ে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বিথিকে উদ্ধার করেন।

    পরে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে খোলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে ডাক্তাররা তাকে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, আগুনে বিথির শরীরের বিভিন্ন অংশ দগ্ধ হয়েছে।

    ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আছের আলী বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দম্পতির একটি শিশুসন্তান রয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত জনি গাজী পালিয়ে গেছে। তার জন্য খোঁজা হচ্ছে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  • খুলনায় গুলিবিদ্ধ যুবককে ঢাকায় নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সে গুলি

    খুলনায় গুলিবিদ্ধ যুবককে ঢাকায় নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সে গুলি

    খুলনায় রাজু হাওলাদার নামে এক যুবককে দুর্বৃত্তরা গুলি করে আহত করেছে। এ ঘটনার সময় তার পেটে বলিষ্ঠ গুলি বিদ্ধ হয়। ঘটনাটি ঘটে সোমবার (৪ এপ্রিল) মহানগরীর লবণচরা থানাধীন কোবা মসজিদ সংলগ্ন এলাকায়। যদিও কেউ সঠিক সময় নিশ্চিত করতে পারেননি।

    রাজু হাওলাদারের সঙ্গে থাকা এক নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, আহত যুবক তার ছেলের বন্ধু। আহত অবস্থায় তাকে তার পরিবারের কাছে আনা হয় এবং চিকিৎসার জন্য এখানেই নেয়া হয়। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাজু হাওলাদার লবণচরা থানাধীন শিপইয়ার্ড এলাকার আজাদ মাস্টার সংলগ্ন ইউনুস হাওলাদারের ছেলে।

    অন্ততঃ গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা मेडिकल কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে তার পরিচয় ও পরিস্থিতি জানাজানি হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার রাতেই তাকে ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে রূপসা উপজেলার কুদির বটতলা এলাকায় ঢাকায় যেতে যাওয়ার পথে রাত সাড়ে ১২টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সটি লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা আবারও গুলি চালায়।

    এসময় অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. ফারুক দ্রুত গাড়ি কাঁটাখালী হাইওয়ে থানায় নিয়ে গিয়ে নিরাপদে আশ্রয় নেন। পরে হাইওয়ে পুলিশের সহযোগিতায় তাঁরা ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা দেন। মো. ফারুক বলেন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকার পথে যাওয়ার সময় কুদির বটতলা এলাকায় পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। গুলির আওয়াজ শুনে তিনি দ্রুত থানায় আশ্রয় নেন।

    কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর আহম্মেদ জানান, গুলিবিদ্ধ এক রোগীকে ঢাকায় নেয়া যাত্রাপথে দুর্বৃত্তরা অ্যাম্বুলেন্সে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তাঁরা থানার সহায়তায় সেফলি গাড়িটি নিরাপদভাবে সীমানা পার করে দেয়।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গুলিবিদ্ধ ওই যুবককে খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আনা হয়। তার সঙ্গে থাকা একটি নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, আহত ব্যক্তি তার ছেলের বন্ধু। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে তাদের বাড়িতে আশ্রয় নিলেও পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

    খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার শিহাব করিম বলেন, লবণচরা এলাকায় এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তবে সে কোথায় ও কখন হামলাটি ঘটেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলার তথ্যও আমাদের কাছে রয়েছে।