Category: সারাদেশ

  • যশোরে ভয়াবহ লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ অফিসের ঘেরাও

    যশোরে ভয়াবহ লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ অফিসের ঘেরাও

    যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসভার কাটাখাল এলাকার বিদ্যুৎ সংকট চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিদিনের আলো থেকে মাত্র দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, যা মানুষের জীবনযাত্রা খুবই ব্যাহত করে তুলেছে। এসব সমস্যার বিরুদ্ধে মঙ্গলবারের মধ্যে অবিলম্বে শান্তিপূর্ণ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং পৌরসভার লাইনের সঙ্গে সংযোগের দাবি জানিয়ে ঝিকরগাছা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে বিক্ষোভ করে এলাকাবাসী। শতাধিক নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে এই প্রতিবাদ হয়, যেখানে তারা নানা স্লোগান দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ, যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকাবাসীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ফিডার পরিবর্তনের পর থেকেই ভুগতে হচ্ছে। ফেজের সমস্যা থাকায় হালকা বাতাস বা ঝড়-ঝাপে বিদ্যুৎ চলে যায়, এবং নতুন করে আর ফিরে আসে না। দ্রুত ফিডার বা ফেজ পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে তারা অভিযোগ করেন, তিন-চার বছর ধরে এই সমস্যা চলছে। কাটাখাল কলোনির বাসিন্দা মোঃ জালাল হোসেন বলেন, ‘২৪ ঘণ্টায় মাত্র দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাই, কখন আসে, কখন যায় ঠিক নেই। এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েছে প্রতিবাদে নামতে।’ তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে বিদ্যুৎ গেলে সকাল ১১টার মধ্যে বিদ্যুৎ এসেছিল মাত্র দুই মিনিট, এরপর আবার দুপুর ২টার দিকে আসে, তারপর আবার চলে যায়। রাতের সময়ও এই অবস্থা চলমান। এসএসসি পরীক্ষার্থিনী সোহানা খাতুন বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনায় খুব বিপর্যয় হচ্ছে, এর ফলে ফলাফলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।’ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গাছের পাতা নড়লেই বিদ্যুৎ চলে যায়, যা তারা অবহেলা হিসাবে দেখছেন। ঝিকরগাছা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম বলেন, এই এলাকার বিদ্যুৎ সমস্যা দীর্ঘদিনের। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বহুবার যোগাযোগ করেও সমাধানসূত্র বের হয়নি। ঝিকরগাছা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু সাঈদ বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। এলাকাবাসী বিদ্যুৎ সমস্যায় ক্ষুব্ধ থাকায় পরিস্থিতি বুঝে আলোচনা করি ও পরিস্থিতি শান্ত করি। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ তুলে নেন।’ যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ঝিকরগাছা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার গোলাম কাদির জানান, ‘সমস্যাটি মূলত টেকনিক্যাল। দ্রুত একটি টেকনিশিয়ান টিম পাঠানো হবে ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে সার্বিক বিদ্যুৎ সংকট কিছুটা বেড়ে গেছে, সবাইকে ধৈর্য্য ধরে থাকতে হবে।’

  • প্রতিদিন শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে

    প্রতিদিন শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে

    জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধন অনুষ্ঠান বৃহস্পতিবার নগরীর শহীদ হাদিস পার্কে অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এবারের পুষ্টি সপ্তাহের প্রতিপাদ্য ছিল ‘পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ, গড়বো স্বনির্ভর বাংলাদেশ’।

    প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি বলেন, আমাদের সকলের উচিত প্রতিদিন খাদ্যতালিকায় শাকসবজি ও ফলমূল অন্তর্ভুক্ত করা। পাশাপাশি প্যাকেটজাত ও অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিহার করতে হবে। খাদ্য উৎপাদন, পরিবহন, সংরক্ষণ ও রান্নার全过程েই পুষ্টিগুণ বজায় রাখতে হবে। পুষ্টিকর খাবার মানুষকে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক, তাই সবাইকে পুষ্টি সমৃদ্ধ ও নিরাপদ খাবার খাওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

    খুলনা সিভিল সার্জন ডা. মোছাঃ মাহফুজা খাতুনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার দপ্তরের উপপরিচালক মোঃ আরিফুল ইসলাম, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোঃ মিজানুর রহমানসহ অন্যান্যরা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সিভিল সার্জন দপ্তরের সিনিয়র স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম আজাদ। অনুষ্ঠান শেষে, কেসিসি প্রশাসকের নেতৃত্বে শহীদ হাদিস পার্ক থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। এই শোভাযাত্রা বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে খুলনা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। বিভিন্ন পেশার মানুষ এই শোভাযাত্রায় অংশ নেন, যা জনসচেতনা সৃষ্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

  • প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করছে সরকার: এমপি লবি

    প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করছে সরকার: এমপি লবি

    খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আসগার লবি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো সরকার একে একে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি কার্যকর হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বাকি সব প্রতিশ্রুতি ধাপে ধাপে পূরণ হবে। বর্তমান সরকার গ্রাম ও উপজেলা পর্যায়ে উন্নয়নের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। এই বক্তব্য তিনি বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় ফুলতলা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া আর্থিক অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানেই বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুচি রানী সাহা। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক শেখ আবুল বাশার, যুগ্ম-আহবায়ক মোঃ সেলিম সরদার, আহসানুল হক লড্ডন, উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ ইয়াছিন আরাফাত, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ ওবায়েদুর রহমান হাওলাদার, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রীনা মজুমদার, বীজ কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ জাকির হোসেন, আইসিটি কর্মকর্তা অজয় কুমার পাল, বিএনপি নেতা আলমগীর মোল্যা, জুবায়দা রহমান শুরভী ও সাংবাদিক শেখ মনিরুজ্জামান প্রমুখ। এ সময় প্রধান অতিথি ২৮০ জন অসহায় এবং দুস্থ ব্যক্তির মাঝে নগদ এক হাজার টাকা করে বিতরণ করেন।

  • আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতা, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করার আহ্বান

    আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতা, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করার আহ্বান

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত হলো ‘স্বেচ্ছামৃত্যুর পাঠবৃত্ত’ শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন নম্বর একাডেমিক ভবনের মাল্টিপারাপাস রুমে এই আলোচনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল জীবনকে উপভোগ্য করার গুরুত্ব তুলে ধরা এবং আত্মহত্যার মতো গভীর ও স্পর্শকাতর বিষয়গুলো সম্পর্কে halka সচেতনতা বাড়ানো। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলা বিভাগের প্রধান ও কলা ও মানবিক বিজ্ঞান কেন্দ্রের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ দুলাল হোসেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম, যিনি প্রধান অতিথি হিসেবে তাঁর ভাষণে বলেন জীবন অনেক সূক্ষ্ম ও মূল্যবান উপহার, তাই এটির সঠিক মূল্যায়ন ও যত্ন নেওয়া খুবই জরুরি। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান ড. মামুন হুসাইন। তিনি বলেন, বিশ্ববরেণ্য লেখক, কবি ও দার্শনিকরা নিজেরা বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন আত্মহত্যা ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে। মানুষের মানসিক সমস্যা গত কয়েক দশকে ব্যাপক হারে বেড়েছে, যা আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ—সবাইকে একসঙ্গে সচেতন ও সহানুভূতিশীল হতে হবে। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন প্রথম বর্ষের ছাত্রীরা অনুসূয়া মন্ডল ও ঋত্তিকা কর্মকার। সভার শেষাতে বিশেষ অতিথিদেরকে সম্মাননা স্মারক ও উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হয় এবং ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্কুলের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষকবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এই সেমিনারটি একান্তই মানবিক ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ, যা ভবিষ্যতে আরও বেশি মানুষের মনোভাব পরিবর্তনে সহায়তা করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

  • শৈলকুপায় বিএনপি“两পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩০

    শৈলকুপায় বিএনপি“两পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩০

    ঝিনাইদহের শৈলকুপায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’দলের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে একজন নিহত এবং কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার সকালে সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে। সংঘর্ষের সময় দেশীয় ভেরোয় আঘাতে গুরুতর আহত হন মহন শেখ নামে এক ব্যক্তি, যিনি পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। আহতদের মধ্যে আরও অনেকেই রয়েছে, যারা শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। দ্রুত স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও এর প্রভাব পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে।

    জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মনোহরপুর ইউনিয়নের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব তরিকুল ইসলাম সাদাত ও জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক আবু জাহিদ চৌধুরীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধের জের ধরে, ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি ইউপি সদস্য সের আলী এবং সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান দুলাল একে অন্যের বিরোধী শক্তি গড়ে তুলতে দেশীয় অস্ত্রের মহড়া চালিয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে বুধবার রাতে সাদাতের সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে, যখন তারা লক্ষিপুর গ্রামে এক সামাজিক সভা শেষে বাড়ি ফিরছিল। হামলার পর, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে, সের আলী ও তার অনুসারীরা মহন শেখের বাড়িতে হামলা চালায়। ঘটনাটি দ্রুত জানাজানি হলে, পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়, এবং দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। আহত হন মহন শেখসহ আরও ৩০ জন, যাদের মধ্যে মহন শেখ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু ঘটে।

    অন্য আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তাদের মধ্যে বরিশাল, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা আহতরা রয়েছেন। এ ঘটনায় জেলা যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক আবু জাহিদ চৌধুরী অভিযোগ করেন, এটি পলাতক পরিকল্পিত হামলা এবং গত রাতে সাদাতের সমর্থকরা লিটন নামের একজনকে হামলার লক্ষ্য করে। তিনি বলেন, প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, যে কারণে বৃহস্পতিবার সকালে পুনরায় এই সংঘর্ষ ঘটে।

    উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করে বলেন, এই সংঘর্ষের সঙ্গে যুবদলের সরাসরি কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। অন্যদিকে, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক রবিউল ইসলাম বললেন, এটি একটি সমাজিক সহিংসতা, যার সঙ্গে যুবদলের কেউ জড়িত নয়।

    নিহত মহন শেখের ছোট ভাই আফসার উদ্দিন শেখ বলেন, তাঁর ভাই সকালে দোকানে চা পান করতে যাচ্ছিল, তখনই সের আলীর সমর্থকদের হামলার শিকার হন। গতিপ্রকৃত এই ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

    শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ন কবির মোল্লা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সামাজিক আধিপত্যের জের ধরে এই সংঘর্ষে একজন মারা গেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখছে এবং হামলাকারীদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে।

  • শৈলকুপায় বিএনপি’র দু’পক্ষের সংঘর্ষে ১ নিহত, আহত ৩০

    শৈলকুপায় বিএনপি’র দু’পক্ষের সংঘর্ষে ১ নিহত, আহত ৩০

    ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মাধবপুর গ্রামে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে মহন শেখ (৬৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত ও অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষটি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে ঘটে। ঘটনাস্থলে দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের খবর পাওয়া যায়।

    আহতদের মধ্যে অনেককে প্রথমে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে গুরুতর অবস্থায় কয়েকজনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনোহরপুর ইউনিয়নের আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে اختلاف চলে আসছিল উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব তরিকুল ইসলাম (সাদাত) ও জেলা যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক আবু জাহিদ চৌধুরীর মধ্যে। স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপি’র দুই নেতাও এই বিরোধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

    উপজেলা বিএনপি’র ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ইউপি সদস্য সের আলী তরিকুল ইসলাম সাদাতের সমর্থক হিসেবে এবং সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান দুলাল আবু জাহিদের সমর্থক হিসেবে এলাকায় প্রভাব বাড়াতে তাদের সমর্থকরা কয়েকদিন ধরে দেশীয় অস্ত্রসহ অবস্থান নেয়।

    মশিউর রহমানের অভিযোগ, বুধবার রাতে সাদাতপন্থী সমর্থকরা পাশের লক্ষিপুর গ্রামে একটি সামাজিক সভা শেষ করে ফেরার পথে মাধবপুর গ্রামের মশিউরের সমর্থক আজিজ খার ছেলে লিটন খায়েরকে হামলা করে। এ ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার সকালে সের আলীর সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহন শেখের বাড়িতে হামলা চালায়। খবর ছড়ালে দুইপক্ষের সমর্থকরা মুহূর্তে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং তা ক্ষণিকের মধ্যে ব্যাপক রূপ নেয়।

    ঘটনায় গুরুতর আহত মহন শেখকে দ্রুত শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে থাকা কয়েক জনের নাম — আব্বাস মোল্লা, ছালামত আলী, সাকিল হোসেন, মিল্টন খন্দকার, আসাদ বিশ্বাস, বসরত হোসেন, জমির বিশ্বাস, ফরিদুল শেখ, ওয়াসিম বিশ্বাস, মিন্টু হোসেন, আসাদুল বিশ্বাস, পিকুল হোসেন, আসিক শেখ, বিপ্লব বিশ্বাস, হৃদয় হোসেন, আমিরুল ইসলাম — সহ মোট প্রায় ৩০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    জিলা যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক আবু জাহিদ চৌধুরী বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। বুধবার রাতে তাদের এক সমর্থকের ওপর হামলার পর থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরের দিন পুনরায় হামলা হয় এবং মহন শেখকে হত্যা করা হয়।

    অভিযোগ সম্পর্কে যোগাযোগ করলে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব তরিকুল ইসলাম (সাদাত) পাওয়া যাননি। তবে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম দাবি করেছেন, মাধবপুরে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি সামাজিক সহিংসতা থেকে উদ্ভূত; এতে যুবদলের সরাসরি কোনো যোগ নেই।

    নিহত মহন শেখের ছোট ভাই আফসার উদ্দিন শেখ বলেন, তার ভাই ওই সকালে দোকানে চা খেতে যাওয়ার সময় ওয়ার্ড বিএনপির সের আলীর সমর্থকরা আচমকা হামলা করে।

    শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, সামাজিক আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং হামলাকারীদের ধরতে অভিযান চলছে। ঘটনার সত্যতা জানাতে এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

  • শার্শায় ভুল প্রশ্নপত্রে এসএসসি পরীক্ষা: বিপাকে ১২ শিক্ষার্থী

    শার্শায় ভুল প্রশ্নপত্রে এসএসসি পরীক্ষা: বিপাকে ১২ শিক্ষার্থী

    যশোরের শার্শার বাগআঁচড়ায় এসএসসি এবং সমমান পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র ব্যবহারের ঘটনায় অন্তত ১২ জন শিক্ষার্থী আতঙ্কে এবং নিজের ফলাফল ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

    ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষায়। বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র (কেন্দ্র নং-৫৩১)-এর ২০৬ নম্বর কক্ষে ওই দিনে ২৩ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। পরীক্ষার পরে একজন পরীক্ষার্থী বুঝতে পারেন যে তিনি ২০২৫ সালের পুরনো সিলেবাস অনুযায়ী থাকা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছেন, যদিও তিনি নতুন সিলেবাস অনুসারে পরীক্ষার্থী ছিলেন। এ তথ্য শিক্ষকদের জানালে তদন্তে আরও ১১ জন শিক্ষার্থী একই ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছে বলে নিশ্চিত করা যায়।

    ঘটনাটি সামনে আসতেই কেন্দ্রের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ আছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে পরীক্ষার্থীদের দ্রুত কেন্দ্র ত্যাগ করার অনুরোধ করা হয়, ফলে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা মর্মাহত ও বিব্রত বোধ করে এবং অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

    স্থানীয়রা প্রশ্ন করছেন—একই কক্ষে একই বিষয়ে একাধিক ভিন্ন প্রশ্নপত্র কীভাবে পৌঁছালো? কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা আগে প্রশ্নপত্র যাচাই করেননি কেন? ভুলের দায় কার? এই ব্যর্থতা শিক্ষার্থীদের অধিকার ও ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে বলে অভিভাবক ও স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

    অভিভাবকরা সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্তের পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে ভবিষ্যতে এমন ভুল আর না ঘটে।

    হল সুপার ও সহকারী শিক্ষক ফারুক হোসেন জানান, একই কক্ষে কীভাবে ভিন্ন প্রশ্নপত্র এলো তারা নিজেরাও বুঝতে পারছেন না এবং বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডে জানানো হবে। শার্শা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার নুরুজ্জামান বলেছেন, ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন আছে; তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত জানানো হবে।

    অপর দিকে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

    শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা মেটাতে দ্রুত, স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীলভাবে তদন্ত চালিয়ে উপযুক্ত সমাধান প্রদানে তৎপরতা নেওয়ার চাপ now স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা কর্তৃপক্ষের উপর বলার মত।

  • খুলনায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধন

    খুলনায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধন

    জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধন আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) খুলনার শহিদ হাদিস পার্কে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এবারের সপ্তাহের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ, গড়বো স্বনির্ভর বাংলাদেশ’।

    প্রধান অতিথি বক্তব্যে নজরুল ইসলাম মঞ্জু সবাইকে প্রতিদিন শাক-সবজি ও ফলমূল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্যাকেটজাত ও অস্বাস্থ্যকর খাবার থেকে বিরত থাকতে হবে এবং খাদ্য উৎপাদন, পরিবহন, সংরক্ষণ ও রান্নায় পুষ্টিগুণ বজায় রাখার চেষ্টা করতে হবে। এমন খাবার মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়—এ কারণে পুষ্টি ও নিরাপদ খাদ্য গ্রহণে সকলকে গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

    অনুষ্ঠানটি খুলনা সিভিল সার্জন ডা. মোছাঃ মাহফুজা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার দপ্তরের উপপরিচালক মোঃ আরিফুল ইসলাম ও ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোঃ মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সিভিল সার্জন দপ্তরের সিনিয়র স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম আজাদ।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরে কেসিসি প্রশাসকের নেতৃত্বে শহিদ হাদিস পার্ক থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হয়। শোভাযাত্রাটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে খুলনা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। আয়োজনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন এবং পুষ্টিকর খাদ্যের গুরুত্বকে সামনে রেখে সচেতনতামূলক বার্তা তুলে ধরা হয়।

    আয়োজকরা জানিয়েছেন, পুষ্টি সপ্তাহে বিভিন্ন সচেতনতা কার্যক্রম, পরামর্শ সেবা ও খাদ্য সম্পর্কিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনগণকে পুষ্টির বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা হবে। সকলেই মেলে পুষ্টি ও নিরাপদ খাদ্যের অভ্যাস গড়ে তুললে সুস্থ ও স্বনির্ভর সম্প্রদায় গঠনে সহায়ক হবে—এই প্রত্যাশা করা হয়।

  • শার্শায় ভুল প্রশ্নপত্রে এসএসসি পরীক্ষা, ১২ শিক্ষার্থী অনিশ্চয়তায়

    শার্শায় ভুল প্রশ্নপত্রে এসএসসি পরীক্ষা, ১২ শিক্ষার্থী অনিশ্চয়তায়

    যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া কেন্দ্রে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষার অভিযোগে অন্তত ১২ জন শিক্ষার্থী ফেলনির্ভর অনিশ্চয়তায় পড়েছে। এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষার সময়। বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র (কেন্দ্র নং-৫৩১)-এর ২০৬ নম্বর কক্ষে ওই দিন ২৩ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থী অংশ নেন। পরীক্ষা শেষে এক পরীক্ষার্থী বুঝতে পারেন যে তিনি ২০২৫ সালের পুরনো সিলেবাস অনুযায়ী ছাপানো প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা দিয়েছেন, যদিও তিনি নতুন সিলেবাসের পরীক্ষার্থী। ওই শিক্ষার্থীর সতর্কতার পর আরও ১১ জন শিক্ষার্থীর একই ভুল হয়ে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

    এই তথ্য জানা গেলে কেন্দ্র ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৎক্ষণাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ দ্রুত পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্র ত্যাগ করতে বললে অনেকে দিশেহারা হয়ে পড়ে এবং কয়েকজন কান্নায় ভেঙে পড়েন।

    শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করছেন—একই কক্ষের একই সময়ে একই পরীক্ষার দুটি ভিন্ন প্রশ্নপত্র কীভাবে পৌঁছালো? দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা প্রশ্নপত্র আগে যাচাই করেননি কেন? এই ভুলের দায় কে নেবে? এসব প্রশ্ন নিয়েই তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ।

    অভিভাবকরাও ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এমন গাফিলতির কারণে তাদের সন্তানদের ফলাফল ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে পড়েছে। তারা অভিযোগের গঠনমূলক তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।

    এই বিষয়ে হল সুপার ও সহকারী শিক্ষক ফারুক হোসেন বলেন, ‘‘একই কক্ষে ভিন্ন প্রশ্নপত্র কীভাবে এলো, তা আমরা নিজেও বুঝতে পারছি না। বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডকে জানানো হবে।’’ শার্শা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার নুরুজ্জামান বলেন, ‘‘ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে, তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।’’

    শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

    বর্তমানে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি উঠেছে এবংffected শিক্ষার্থীদের সম্ভাব্য ক্ষতি কীভাবে নিরসন করা হবে সে বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করা হচ্ছে। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ন্যায্য সমাধান যেন নিশ্চিত করা হয়, এই দাবিতেই সমতল করছে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

  • যশোরে পুত্রবধূ মরিয়ম শাশুড়িকে হত্যা করে মরদেহ বস্তায় ফেলে

    যশোরে পুত্রবধূ মরিয়ম শাশুড়িকে হত্যা করে মরদেহ বস্তায় ফেলে

    যশোরের বেজপাড়া এলাকায় শাশুড়িকে হত্যা করে মরদেহ বস্তায় ফেলে রাখার অভিযোগে ২০ বছর বয়সী পুত্রবধূ মরিয়ম বেগমকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তি হলেন সকিনা বেগম (৬০)।

    পুলিশের মতে, মঙ্গলবার গভীর রাতে বাড়ির সামনে থেকে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। পরদিন বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসার এই তথ্য জানান। হত্যায় ব্যবহৃত দেশীয় চাপাতিও উদ্ধার করা হয়েছে।

    পরিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সকিনা বেগমের ছেলে শহিদুল মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে দোকানে যান। যাওয়ার আগে তার স্ত্রী মরিয়ম তাকে জানায় যে সকিনা বাসায় রান্না না থাকায় বাইরে খেয়ে নেবেন। শহিদুল তার মাকে খোঁজ করলে পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি বাইরে তালিমে গেছেন।

    রাত সাড়ে দশটার দিকে শহিদুল বাড়ি ফিরে মাকেকে না পেয়ে বাড়ি ও আশপাশ খোঁজাখুঁজি করেন। সন্দেহ হওয়ায় পরে থানায় গিয়ে পুলিশকে খবর দেন। রাত সাড়ে বারটার দিকে বাড়ির সামনের অংশে একটি বস্তার মধ্যে লাশ দেখতে পান শহিদুল এবং তার বোন শাহিদা বেগম। তারা মৃতদেহটি সকিনা বেগম হিসেবে শনাক্ত করেন।

    ঘটনার পর ডিবি পুলিশ ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের যৌথ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে আলামত সংগ্রহ করে। তদন্তে মরিয়মের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাকে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়।

    জিজ্ঞাসাবাদে মরিয়ম হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানায়, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে শাশুড়ির সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন কথাকাটাকাটি বাড়ার পর তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়িতে থাকা একটি চাপাতি দিয়ে শাশুড়িকে আঘাত করে হত্যা করেন। পরে মরদেহ বস্তায় ভরে বাড়ির সামনে ফেলে রাখেন এবং হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি ঘরের ওয়্যারড্রবে লুকিয়ে রাখেন।

    অভিযুক্তের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ তাদের বাড়ি থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করেছে। পুলিশ বলেছে, ঘটনার ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন আছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপরাহ আহসান হাবীবসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    পুলিশ বর্তমানে ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও সম্ভাব্য সহায়তাকারীদের খুঁজে বের করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।