Category: সারাদেশ

  • যশোরে পুত্রবধূ মরিয়ম শাশুড়িকে হত্যা করে মরদেহ বস্তায় ফেলে

    যশোরে পুত্রবধূ মরিয়ম শাশুড়িকে হত্যা করে মরদেহ বস্তায় ফেলে

    যশোরের বেজপাড়া এলাকায় শাশুড়িকে হত্যা করে মরদেহ বস্তায় ফেলে রাখার অভিযোগে ২০ বছর বয়সী পুত্রবধূ মরিয়ম বেগমকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তি হলেন সকিনা বেগম (৬০)।

    পুলিশের মতে, মঙ্গলবার গভীর রাতে বাড়ির সামনে থেকে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। পরদিন বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসার এই তথ্য জানান। হত্যায় ব্যবহৃত দেশীয় চাপাতিও উদ্ধার করা হয়েছে।

    পরিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সকিনা বেগমের ছেলে শহিদুল মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে দোকানে যান। যাওয়ার আগে তার স্ত্রী মরিয়ম তাকে জানায় যে সকিনা বাসায় রান্না না থাকায় বাইরে খেয়ে নেবেন। শহিদুল তার মাকে খোঁজ করলে পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি বাইরে তালিমে গেছেন।

    রাত সাড়ে দশটার দিকে শহিদুল বাড়ি ফিরে মাকেকে না পেয়ে বাড়ি ও আশপাশ খোঁজাখুঁজি করেন। সন্দেহ হওয়ায় পরে থানায় গিয়ে পুলিশকে খবর দেন। রাত সাড়ে বারটার দিকে বাড়ির সামনের অংশে একটি বস্তার মধ্যে লাশ দেখতে পান শহিদুল এবং তার বোন শাহিদা বেগম। তারা মৃতদেহটি সকিনা বেগম হিসেবে শনাক্ত করেন।

    ঘটনার পর ডিবি পুলিশ ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের যৌথ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে আলামত সংগ্রহ করে। তদন্তে মরিয়মের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাকে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়।

    জিজ্ঞাসাবাদে মরিয়ম হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানায়, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে শাশুড়ির সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন কথাকাটাকাটি বাড়ার পর তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়িতে থাকা একটি চাপাতি দিয়ে শাশুড়িকে আঘাত করে হত্যা করেন। পরে মরদেহ বস্তায় ভরে বাড়ির সামনে ফেলে রাখেন এবং হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি ঘরের ওয়্যারড্রবে লুকিয়ে রাখেন।

    অভিযুক্তের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ তাদের বাড়ি থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করেছে। পুলিশ বলেছে, ঘটনার ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন আছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপরাহ আহসান হাবীবসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    পুলিশ বর্তমানে ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও সম্ভাব্য সহায়তাকারীদের খুঁজে বের করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

  • খুলনায় সুখেন চন্দ্র হত্যা মামলায় এক আসামিকে যাবজ্জীবন

    খুলনায় সুখেন চন্দ্র হত্যা মামলায় এক আসামিকে যাবজ্জীবন

    খুলনার পাইকগাছা উপজেলার খড়িয়া ভড়েঙ্গারচক এলাকায় ভয়াবহভাবে আলোচিত সুখেন চন্দ্র সরদার হত্যা মামলায় আদালত এক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।

    আদালত একই সঙ্গে অভিযুক্ত প্রকাশ সরদারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করেছেন। ওই জরিমানা না দিলে তাকে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হবে।

    বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এই রায় ঘোষণা করেন খুলনা সিনিয়র দায়রা জজ কোর্টের বিচারক চাঁদ মোহাম্মদ আব্দুল আলিম আল রাজী। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পিপি চৌধুরী তৌহিদুর রহমান তুষার।

    একই মামলায় প্রকাশ সরদারের স্ত্রী রূপা সরদারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে আদালত খালাস দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্তরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

  • আরজি উজ্জলের প্রার্থীতা প্রত্যাহার

    আরজি উজ্জলের প্রার্থীতা প্রত্যাহার

    খুলনা প্রেসক্লাবের বার্ষিক নির্বাচন থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন রবিউল গাজী উজ্জ্বল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার ঘোষণা দেন। পরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তিনি জানান, আগামী ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য প্রেসক্লাবের নির্বাচনে তিনি পাঠাগার, প্রকাশনা ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক পদে মনোনীত ছিলেন। কিন্তু ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণের কারণে, তিনি নিজেকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, এটি ছিল তার একান্ত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, যা তিনি স্বেচ্ছায় ও জোরপূর্বক নয়, বরং নিজের ইচ্ছায় গ্রহণ করেছেন। তিনি আরও জানান, এই পদে এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মোঃ বশির হোসেন ও শেখ জাহিদুল ইসলাম, যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। রবিউল গাজী উজ্জ্বল বলেন, সাংবাদিক ভাইদের কাছে আবেদন, যাকে আপনাদের মনে করেন, তাকে ভোট দিন এবং বিজয়ী করুন। তিনি সবশেষে সাংবাদিকসহ সকলের কাছে দোয়া ও শুভকামনা চেয়েছেন, যেন ভালবাসা ও দোয়ার মধ্যে জীবন কাটাতে পারেন। তিনি তার নির্বাচনী প্রত্যাহার জন্য সকলের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং সকলের সমর্থন ও প্রীতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

  • শাশুড়িকে হত্যার পরে মরদেহ বস্তায় ভরে লুকিয়েছিলেন পুত্রবধূ

    শাশুড়িকে হত্যার পরে মরদেহ বস্তায় ভরে লুকিয়েছিলেন পুত্রবধূ

    যশোরের বেজপাড়া এলাকায় পারিবারিক সমস্যা ও শাসনের জের ধরে পুত্রবধূ মরিয়ম বেগম (২০) শাশুড়িকে হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ঘটনায় ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসার এই তথ্য জানান। এর আগে, মঙ্গলবার গভীররাতে নিজ বাড়ির সামনে থেকে ওই বৃদ্ধার বস্তাবন্দি মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করে। নিহত সকিনা বেগম (৬০) লাল চাঁদ খলিফার স্ত্রী এবং বেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকিনা বেগমের ছেলে শহিদুল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল প্রায় ৯টার দিকে দোকানে যান। যাওয়ার আগে তার স্ত্রী মরিয়ম জানায়, আজ কিছুই রান্না হয়নি, বাইরে খেয়ে ফিরে আসার জন্য বলে। এরপর শহিদুল বাড়ি ফেরার পর মাকে খুঁজতে গিয়ে জানতে পারেন, তিনি বাড়ির মধ্যে থাকছেন না। বিকেলে ফিরে এসে আবার মাকে খুঁজতে থাকেন, তখন তার স্ত্রী জানায়, সকিনা বেগম বাসায় ফিরেননি। এই কথা সন্দেহজনক মনে হলে তিনি থানায় অভিযোগ করেন। এরপর সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ির সামনে একটি বস্তার মধ্যে মরদেহ দেখতে পান। পরে তার ভাই-বোনও মরদেহ শনাক্ত করেন।

    খবর পেয়ে ডিবি ও কতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মরদেহ উদ্ধার করে। তদন্তে দেখা যায়, মরিয়ম বেগমের আচরণে সন্দেহের অবকাশ থাকায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবির কার্যালয়ে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে, সে স্বীকার করে নেয়, পারিবারিক বিবাদের কারণে প্রচণ্ড ক্ষোভে পড়ার দিনই শাশুড়িকে চাপাতি দিয়ে জবাই করে হত্যা করে। পরে মরদেহ বস্তাবন্দি করে বাড়ির সামনে ফেলে রাখে এবং হত্যা করা অস্ত্রটি ঘরের ওয়্যারড্রপের ভেতরে লুকিয়ে রাখে।

    অভিযোগকারী মরিয়মের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার ঘর থেকে হত্যার জন্য ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে। এই মামলায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসান হাবীবসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

  • দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে নারীদের স্বাবলম্বী করাই জরুরি

    দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে নারীদের স্বাবলম্বী করাই জরুরি

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে নারী স্বাবলম্বী হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প চালু করেছেন, যা পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু করা হয়েছে। তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে নগরীর সব ওয়ার্ডের নারীদের এই কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে।

    গতকাল বুধবার নগরীর নিরালা আবাসিক এলাকার একটি বেসরকারি সংস্থা আশ্রয় ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে সুবিধাবঞ্চিত নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখছিলেন তিনি। এই অনুষ্ঠানে দর্জিবিজ্ঞান কর্মসূচির আওতায় ১৪ জন নারীর মাঝে ১৪টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।

    নজরুল ইসলাম মঞ্জু উল্লেখ করেন, সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এ ধরনের জনমুখী উদ্যোগ গ্রহণের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বিশ্বাস করেন, সেলাই মেশিনের মাধ্যমে এসব নারীরা পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবেন। তিনি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নারীদের স্বাবলম্বী করতে করাটাই একমাত্র পথ। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, কেসিসি কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী আরও নানা উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

    সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মমতাজ খাতুন এ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুরাইয়া সিদ্দিকা, জেলা উপ-আঞ্চলিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালক মো. সাজ্জাদ হোসেন এবং কেসিসির সাবেক কাউন্সিলর শমসের আলী মিন্টু। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংস্থার সহকারী পরিচালক বনশ্রী ভান্ডারী।

    এর আগে, নগরীর প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার বায়তুল ঈমান জামে মসজিদের সংলগ্ন ঈদগাহ ময়দানটি কেসিসি ও স্থানীয় দানশীল ব্যক্তিদের উদ্যোগে উন্নত করা হয়, যেখানে নগরবাসীর ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের উন্নয়ন ঘটে। নগরীর উন্নয়নের এই দিকটি তিনি গুরুত্ব দিয়ে দেখেন।

    পরবর্তীতে, নাগরিক অধিবেশনের অংশ হিসেবে, তিনি নিরালা পার্কের উন্নয়ন প্রক্রিয়া পরিদর্শন করেন। উপস্থিত ছিলেন নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে আরও আধুনিক বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

  • যশোরে ৯০০ গ্রাম স্বর্ণের পেষ্টসহ ভারতীয় পাচারকারী আটক

    যশোরে ৯০০ গ্রাম স্বর্ণের পেষ্টসহ ভারতীয় পাচারকারী আটক

    যশোর সদরের তারাগঞ্জ বাজারে তদন্তে মৌখিক অভিযানে বিজিবি সদস্যরা ৯০০ গ্রাম স্বর্ণের পেষ্টসহ এক ভারতীয় পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। আটক ব্যক্তির নাম ও পরিচয় হলো ওয়াজিদ আলী আমিন আহমেদ, বয়স ৩১ বছর। তিনি ভারতের মুম্বাই শহরের থানে এলাকার ভিওয়ান্দি এলাকার আমিন আহম্মেদ আনসারীর ছেলে।

    বুধবার বিকেলে যশোর ব্যাটালিয়ন ৪৯ বিজিবি’র একটি বিশেষ আভিযানিক টিম গোপন সূত্রের ভিত্তিতে যশোরের নড়াইল মহাসড়কের তারাগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় তারা একটি যাত্রীবাহী বাসের তল্লাশি করে ৯০০ গ্রাম স্বর্ণের পেষ্টসহ একজন ভারতীয় স্বর্ণ পাচারকারীকে আটক করে। পাশাপাশি তার কাছ থেকে বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও উদ্ধার করা হয়। আটক স্বর্ণের বাজার মূল্য আনুমানিক প্রায় দুই কোটি টাকা।

    আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, তিনি বেশ কয়েকবার ভারত, মধ্যপ্রাচ্য ও মিশর হয়ে পুনরায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, চলতি মাসের ২০ এপ্রিল তিনি মুম্বাই থেকে বিমানযোগে দুবাই যান, এরপর দুবাই থেকে ঢাকা আসেন। এরপর সড়কপথে তিনি ঢাকা থেকে সাতক্ষীরা হয়ে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে প্রবেশের পরিকল্পনা করেন।

    যশোর ৪৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিকে যশোর কোতোয়ালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে, এবং স্বর্ণ ও বৈদেশিক মুদ্রা জমা দেওয়া হয়েছে যশোর কোতোয়ালী থানার মাধ্যমে।

  • কুষ্টিয়ায় নিজ হাসপাতাল থেকে মালিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    কুষ্টিয়ায় নিজ হাসপাতাল থেকে মালিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় অবস্থিত ‘ভেড়ামারা মডেল হাসপাতাল’ নামক একটি প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির মালিক আনোয়ার পারভেজের (২৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছেন পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে বুধবার দুপুরে, যখন আনোয়ার পারভেজ তার নিজ হাসপাতালে ছিলেন। তিনি উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের নতুনহাট এলাকার ইমদাদুল ইসলামের ছেলে।

    পারিবারিক সূত্রের খবর, আনোয়ার পারভেজ সাধারণ দিনের মতোই হাসপাতালটি পরিচালনা করছিলেন। এ প্রতিষ্ঠানে তার পাশাপাশি তার স্ত্রীসহ চারজন মালিকানা ভাগ করে নেওয়া রয়েছে। দুপুর ১০টার দিকে তিনি নিচতলার একটি রুমে যান। বেশ কিছুক্ষণ সাড়া না পেয়ে রুমের কর্মচারীরা দরজা বন্ধ দেখতে পায়। এরপর পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে উপস্থিতিতে দরজা ভেঙে দেখে, আনোয়ার পারভেজ ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিলেন। তার কাছ থেকে অনেকগুলো ঘুমের ওষুধের প্যাকেটও উদ্ধার হয়।

    হাসপাতালটির একজন অংশীদার ফয়সাল বলেন, তারা সব কাজ নিজেই করেন। তবে আনোয়ার পারভেজের আত্মহত্যার কোনো কারণ বোঝা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, এটি মেনে নেওয়া খুব কষ্টের, কারণ কিছু মাস ধরে হাসপাতালের অবস্থা খুব ভালো ছিল না। এই পরিস্থিতি হয়তো মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছে।

    ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল সম্পন্ন করেছে। তারপর মরদেহ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। পরিবারের স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ হবে।

  • যশোরে পুত্রবধূ মরিয়ম শাশুড়িকে গলাকেটে হত্যা করে বস্তায় ফেলে

    যশোরে পুত্রবধূ মরিয়ম শাশুড়িকে গলাকেটে হত্যা করে বস্তায় ফেলে

    যশোরের বেজপাড়া এলাকায় সালদি সম্পর্কের বিবাদের জের ধরে পুত্রবধূ মরিয়ম বেগম (২০) তার শাশুড়ি সকিনা বেগম (৬০)কে গলাকেটে হত্যা করে মরদেহ বস্তায় ভরে বাড়ির সামনে ফেলে রাখেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় চাপাতিও উদ্ধার করা হয়েছে।

    বুধবার (২২ এপ্রিল) পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসার এই তথ্য জানান। ঘটনার পর ডিবি ও কোতোয়ালি থানার যৌথ টিম ইনসপেকশন করে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং তদন্ত চলছে। সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসান হাবীব ও অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

    নিহত সকিনা বেগম বেজপাড়া মেইন রোড এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং লাল চাঁদ খলিফার স্ত্রী। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে সকিনা বেগমের ছেলে শহিদুল দোকানে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। যাওয়ার আগে তার স্ত্রী মরিয়ম জানিয়ে দেন যে বাড়িতে রান্না নেই, তাই তারা বাইরে খাবেন। শহিদুল মাকে খোঁজ করলে তাকে বলা হয় তিনি তালিমে গেছেন।

    রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ি ফিরে মাকে না পেয়ে শহিদুল পুনরায় খোঁজখবর নেন। তখন তার স্ত্রী জানায় তার মা বাড়িতে ফেরেননি। বিষয়টি সন্দেহজনক লাগায় শহিদুল থানায় জানাই করেন। পরে রাত সাড়ে বারটার দিকে বাড়ির সামনের একটি বস্তার মধ্যে লাশ দেখে শহিদুল ও তার বোন শাহিদা বেগম সেটিকে সকিনা বেগম হিসেবে শনাক্ত করেন।

    ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। সন্দেহজনক আচরণ ও প্রাপ্ত আলামতের ভিত্তিতে মরিয়মকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মরিয়ম হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং জানান, দীর্ঘদিন ধরে শাশুড়ির সঙ্গে পারিবারিক বিবাদ চলছিল। ওইদিন শাশুড়ি তাকে উতকে বলায় ক্ষুব্ধ হয়ে ঘরে থাকা একটি চাপাতি দিয়ে গলাকেটে শাশুড়িকে হত্যা করেন। পরে মরদেহ বস্তাবন্দি করে বাড়ির সামনে রেখে দেন এবং হত্যা কাজে ব্যবহৃত চাপাতিটি ওয়ারড্রবের ভেতর লুকিয়ে রাখেন।

    অভিযুক্তের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ তার ঘর থেকে চাপাতি উদ্ধার করেছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং ঘটনার আরও কারণ-প্রসঙ্গ выясনা ও সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে।

  • রামপালে সরকারি খাল থেকে অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদ, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক

    রামপালে সরকারি খাল থেকে অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদ, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক

    বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় বুধবার সকাল ১০টার দিকে সরকারি খালের উপর নির্মিত অবৈধ বাঁধ কেটে অপসারণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানটি উপজেলার ঝনঝনিয়া-নালিয়া খালের ওই অংশে পরিচালিত হয়।

    অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অভিজিৎ চক্রবর্তী। তিনি জানালেন, দীর্ঘদিন ধরে খালে অবৈধ বাঁধ তৈরীর ফলে পানি চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছিল, যার প্রভাব পড়ছিল স্থানীয় কৃষিক্ষেত্র ও পরিবেশে। তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    অভিযানে বাঁধ কেটে অপসারণ করার পর খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। প্রশাসন বলেন, খাল ও জলপথ রক্ষা করা সীমান্ত রক্ষা-সমতার মতো জরুরি—এভাবেই সুসংহত জল সরবরাহ বজায় থাকে এবং মাঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি রোধ পাওয়া যায়।

    অভিযান চলাকালে স্থানীয় জনতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন এবং প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড পুনরাবৃত্তি হলে আইনানুগ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার চলমান সতর্কতাটি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

    আঞ্চলিক পরিবেশ ও কৃষি উৎপাদন সুরক্ষায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে খাল-নালা রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

  • যশোরে পুত্রবধূ মরিয়ম শাশুড়িকে গলাকেটে হত্যা করে বস্তায় ফেলে রাখলেন

    যশোরে পুত্রবধূ মরিয়ম শাশুড়িকে গলাকেটে হত্যা করে বস্তায় ফেলে রাখলেন

    যশোরের বেজপাড়া এলাকায় শাশুড়িকে গলাকেটে হত্যা করে বস্তাবন্দি মরদেহ বাড়ির সামনে ফেলে রাখার অভিযোগে পুত্রবধূ মরিয়ম বেগম (২০) গ্রেপ্তার হয়েছেন। ঘটনায় ব্যবহৃত দেশীয় চাপাতিও উদ্ধার করা হয়েছে।

    বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসার এই তথ্য জানান। নিহত হলেন সকিনা বেগম (৬০), তিনি লাল চাঁদ খলিফার স্ত্রী এবং বেজপাড়া মেইন রোড এলাকার বাসিন্দা।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে সকিনা বেগমের ছেলে শহিদুল দোকানে যান। বেরোনোয়ার আগে তার স্ত্রী মরিয়ম তাকে বলেছিলেন বাড়িতে রান্না হয়নি, বাইরে খেয়ে নিতে। শহিদুল মাকে খোঁজ করলে বাড়ির লোক জানান, তিনি বাইরে তালিমে গেছেন।

    রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ি ফিরলে মাকে না পেয়ে শহিদুল পুনরায় খোঁজখবর নেন। পরে সন্দেহজনক পরিস্থিতি হওয়ায় তিনি থানায় ফোন করে পুলিশকে জানান। গভীর রাতে—রাত সাড়ে ১২টার দিকে—বাসার সামনে একটি বস্তার মধ্যে লাশ দেখতে পান শহিদুল। তিনি ও তার বোন শাহিদা বেগম মিলিয়ে মরদেহটি সকিনা বেগমের বলে শনাক্ত করেন।

    ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে ডিবি ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের যৌথ দল লাশ উদ্ধার করে আলামত সংগ্রহ করে। তদন্তে মরিয়মের আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়।

    জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে মরিয়ম হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে শাশুড়ির সঙ্গে পারিবারিক নানা বিষয়কে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন শাশুড়ির সঙ্গে বকবক হওয়ার পর ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরে থাকা একটি চাপাতি দিয়ে গলায় আঘাত করে তিনি তাকে হত্যা করেন। পরে মরদেহ বস্তায় ভরে বাড়ির সামনের স্থানে ফেলে দেন এবং হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতিটি ওয়্যারড্রবের মধ্যে লুকিয়ে রাখেন।

    মরিয়মের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তাদের ঘর থেকে চাপাতিটি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ বলেছে, ঘটনার পর বিস্তারিত তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসান হাবীবসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।