Category: সারাদেশ

  • চিতলমারীতে উৎসবমুখরভাবে শেষ হলো বৈশাখী শোভাযাত্রা

    চিতলমারীতে উৎসবমুখরভাবে শেষ হলো বৈশাখী শোভাযাত্রা

    বাগেরহাটের চিতলমারীতে আনন্দ-উল্লাসের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বর্ষবরণের ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী শোভাযাত্রা শেষ হয়েছে। সকাল ৯টায় বকুলতলা থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি শহীদ মিনার ও সরকারি মহিলা কলেজ রোড অতিক্রম করে পুনরায় বকুলতলায় এসে সমাপ্তি ঘটে। রঙিন সাজ, দলবাঁধা পদযাত্রা এবং উৎসবমুখর ওয়াসুদার মধ্যে দেখা যায় বিভিন্ন বয়সের মানুষের ভিড় ও উচ্ছ্বাস।

    র‍্যালী শেষে অফিসার্স ক্লাবের সামনে দেশীয় ঐতিহ্য ও লোকজ মেলার উদ্বোধন করা হয়। সকাল ১০টায় বকুলতলায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে লোকজ সাংস্কৃতিক কণ্ঠ ও নাচ-গান পরিবেশনার মাধ্যমে গ্রামের ঐতিহ্য আর বাংলার সরেজমিনের রূপ ফুটে উঠেছে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান খান।

    অনুষ্ঠানটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তারের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ সাদ্দাম হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিঠুন মৈত্র, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম, কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সিফাত আল মারুফ, চিকিৎসক এম আর ফরাজী, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ হাফিজুর রহমান, পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম আব্দুল অদুদ, বাগেরহাট জেলা বিএনপির সদস্য রুনা গাজী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব ঠান্ডু, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা গাজী মুনিরুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. ফজলুল হক, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শেখ আসাদুজ্জামান আসাদ এবং উপজেলা ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি শেখ কামরুল ইসলাম প্রমুখ।

    বর্ষবরণ উপলক্ষে আয়োজন করা অন্যান্য কার্যক্রমের মধ্যে ছিল শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, স্থানীয় হাসপাতাল ও এতিমখানায় ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন এবং গ্রাম বাংলার লাঠি খেলার প্রদর্শনী। এসব আয়োজনে লোকজনের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ বড় করে তুলেছে অনুষ্ঠানের উৎসবমুখর পরিবেশ।

  • একুশে টেলিভিশন ২৭ বছরে পদার্পণ: খুলনায় বর্ণাঢ্য আয়োজন

    একুশে টেলিভিশন ২৭ বছরে পদার্পণ: খুলনায় বর্ণাঢ্য আয়োজন

    জনপ্রিয় বেসরকারি চ্যানেল একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) ‘‘পরিবর্তনে অঙ্গিকারবদ্ধ’’ স্লোগানকে সামনে রেখে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও সৃজনশীল অনুষ্ঠান প্রচারের মধ্য দিয়ে ২৭ বছরে পদার্পণ করেছে। চ্যানেলটির জন্মদিনটি পহেলা বৈশাখে খুলনায় বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপিত হয়।

    পহেলা বৈশাখের সকালে আট ঘণ্টার পরিবর্তে সকাল ৯টায় খুলনা প্রেসক্লাব চত্বরে আলোচনা সভা, কেক কাটা, র‌্যালি এবং বৈশাখী আপ্যায়ন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষ স্বতস্ফূর্তভাবে উপস্থিত ছিলেন এবং উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল।

    একুশে টেলিভিশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও সিইও আব্দুস সালামের পক্ষ থেকে নববর্ষের শুভেচ্ছা খুলনা প্রতিনিধিসহ আশরাফুল ইসলাম নূর পাঠ করেন। সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও খুলনা মহানগর বিএনপি সভাপতি এডভোকেট শফিকুল আলম মনা, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মো. রেজাউল হক, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদ হাসান এবং খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক এস.এম. মনিরুল হাসান বাপ্পী।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এর সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন ও যুগ্ম মহাসচিব হেদায়েৎ হোসেন মোল্লা, খুলনা সংবাদপত্র পরিষদের কোষাধ্যক্ষ মো. তরিকুল ইসলাম, খুলনা প্রেসক্লাব সদস্য-সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল এবং প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্যরা। মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (এমইউজে) খুলনার সভাপতি মো. রাশিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রানা ও কোষাধ্যক্ষসহ খুলনা টিভি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. রকিবুল ইসলাম মতি ও অন্যান্যেরাও বিচার্য উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক জন্মভূমি’র যুগ্ম-সম্পাদক মো. সোহরাব হোসেন, বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ্জামান, খুলনা শিশু হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. প্রদীপ দেবনাথ, খুলনা মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রশান্ত কুমার কুন্ডু, সিপিবি নেতা কমরেড মিজানুর রহমান বাবু, জনতা ব্যাংক অফিসার এসোসিয়েশনের মো. জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়া খুলনা মহানগর ও বিভিন্ন থানা বিএনপির পদাধিকারিরা—যেমন শেখ সাদী, মাসুদ পারভেজ বাবু, চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজ, কেএম হুমায়ুন কবির, হাফিজুর রহমান মনি, মো. নাসির উদ্দিন, জাকির ইকবাল বাপ্পি প্রমুখ—ও উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি নেতা জাফরী নেওয়াজ চন্দন, ইকরামুল কবীর মিল্টন, জিএম হারুন অর রশীদ, মো. আমিন আহমেদ, মেশকাত আলী, নারীনেত্রী হোসনেয়ারা চাঁদনী ও সুজানা জলি, উন্নয়ন কর্মী মো. আব্দুল হালিমসহ অনেকে অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

    অনুষ্ঠানটি ছিল কেবল জন্মদিন উদযাপনই নয়—বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও সৃজনশীলতা নিয়ে একুশে টিভির গতানুগতিক অবস্থান ও ভবিষ্যত অঙ্গীকারকে সামনে এনে সমাজের নানা স্তরের মানুষের অংশগ্রহণে খোলামেলা আলোচনা ও ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী আমেজের মিলন ঘটল।

  • চিতলমারীতে উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হলো বৈশাখী শোভাযাত্রা

    চিতলমারীতে উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হলো বৈশাখী শোভাযাত্রা

    বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা মােৎসবে ভরে উঠেছিল মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল)। সকালে সকাল ৯টায় বকুলতলা থেকে আমডােলা শুরু হওয়া বৈশাখী শোভাযাত্রাটি শহীদ মেনার ও সরকারি মহিলা কলেজ রোড প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বকুলতলায় এসে সমাপ্ত হয়। রঙিন পোশাক, লোকসঙ্গীত ও উল্লাসে ভিড় জমে; স্থানীয় মানুষ ও পরিবার-পরিজন উৎসবটির আনন্দ ভাগাভাগি করেন।

    র‌্যালীর শেষে অফিসার্স ক্লাবের সামনে দেশীয় ঐতিহ্য ও লোকজ মেলার উদ্বোধন করা হয়। সকাল ১০টায় বকুলতলায় শুরু হওয়া লোকজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নৃত্য, গান ও স্থানীয় কুশল প্রদর্শন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান খান।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তারের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ সাদ্দাম হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিঠুন মৈত্র, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম, কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সিফাত আল মারুফ, চিকিৎসক এম আর ফরাজী, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ হাফিজুর রহমান, পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম আব্দুল অদুদ, বাগেরহাট জেলা বিএনপির সদস্য রুনা গাজী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব ঠান্ডু, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা গাজী মুনিরুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফজলুল হক, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শেখ আসাদুজ্জামান আসাদ ও উপজেলা ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি শেখ কামরুল ইসলামসহ অন্যরা।

    বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয়দের মাঝে ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন করা হয়; হাসপাতালে ও এতিমখানায়ও আনন্দ ভাগাভাগি করে খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়। গ্রাম বাংলার সক্রিয় ঐতিহ্য লাঠি খেলাও উৎসবের আরও একটি আকর্ষণীয় অংশ ছিল। সার্বিকভাবে অনুষ্ঠানটি স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সামনে রেখে আনন্দময় পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।

  • খুলনায় উৎসবমুখর আয়োজনে বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উদযাপন

    খুলনায় উৎসবমুখর আয়োজনে বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উদযাপন

    যথাযোগ্য মর্যাদা ও আনন্দঘন পরিবেশে আজ (মঙ্গলবার) খুলনায় বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উদযাপন করা হয়েছে। খুলনা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে উদযাপনের মধ্যে ছিলো বর্ষবরণ, বৈশাখি শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ, লোকজ মেলা ও নানান সাংস্কৃতিক কর্মসূচি।

    এবারের নববর্ষের প্রতিপাদ্য ছিলো ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। সকালে রেলওয়ে স্টেশন প্রাঙ্গণ থেকে বৈশাখি শোভাযাত্রা বের হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেষ হয় শহিদ হাদিস পার্কে। শোভাযাত্রায় সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

    শহিদ হাদিস পার্কে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির এক অম্লান ঐতিহ্য ও সর্বজনীন উৎসব; বাংলা নববর্ষ বাঙালি লোকসংস্কৃতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। তিনি আরও বলেন, অতীতের ভুল-ত্রুটি ও কষ্ট ভুলে নতুন বছরে আমরা নতুন উদ্দীপনায় শুরু করতে চাই; সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার প্রত্যয় রয়েছে। সংহত এবং প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমেই আমরা একটি উন্নত ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এগোবো—এটাই আমাদের সকলের আকাঙ্খা।

    অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) আবু সায়েদ মোঃ মনজুর আলম, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের বিভিন্ন কর্মকর্তা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

    নববর্ষ পালনে জেলা কারাগার, হাসপাতাল ও সরকারি শিশু পরিবার ও এতিমখানাসমূহে ঐতিহ্যবাহী বাংলা খাবার পরিবেশন করা হয় এবং শিশুদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কারাগারে বন্দীদের তৈরী পণ্যের প্রদর্শনী, বন্দিদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক আয়োজন ও নাট্যপ্রদর্শনও অনুষ্ঠিত হয়। সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের নিজ নিজ ব্যবস্থাপনায় উৎসব মুখর পরিবেশে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করে। দিনব্যাপী শহিদ হাদিস পার্কে লোকজ মেলা চলেছে।

    উপজেলাগুলোতেও একইভাবে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয়েছে।

  • নগরীতে বিএনপি’র উদ্যোগে নববর্ষের বর্ণাঢ্য উৎসব

    নগরীতে বিএনপি’র উদ্যোগে নববর্ষের বর্ণাঢ্য উৎসব

    নগরীতে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনে বর্ণাঢ্য আয়োজন করেছেন বিএনপি। এই বিশেষ দিনটি উদযাপন করতে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১ বৈশাখ, অর্থাৎ ১৪ এপ্রিল, সকাল সাড়ে ৬টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বর্ষবরণ শুরু হবে। এর পরে সকাল সাড়ে ৭টায় পালন করা হবে পান্তা উৎসব, এবং সকাল সাড়ে ৮টায় শুরু হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের מגוון আয়োজন। এই সকল অনুষ্ঠান কেডি ঘোষ রোডের বিএনপি কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হবে। এই অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় রয়েছে বিএনপি খুলনা মহানগর এবং সহযোগীতায় রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাস খুলনা মহানগর। আয়োজকদের মতে, এই উৎসবের মূল লক্ষ্য হলো ঐতিহ্য ও নান্দনিকতায় সমৃদ্ধ এক স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়কে উচ্ছ্বসিত করে তোলা। নতুন উদ্যম, আশা ও স্বপ্ন নিয়ে পহেলা বৈশাখকে স্বাগত জানাতে সকলকে এই সার্বজনীন উৎসবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। জাসাস খুলনা মহানগর এর আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নূর ইসলাম বাচ্চু ও সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) কাজী জলিল সকলকে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য শুভ কামনা জানিয়েছেন।

  • দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় উপশিল্পে চিংড়ি ও মাছের রোগ মোকাবেলায় বড় চ্যালেঞ্জ

    দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় উপশিল্পে চিংড়ি ও মাছের রোগ মোকাবেলায় বড় চ্যালেঞ্জ

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি (এফএমআরটি) বিভাগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘Harnessing the Potential of Phytobiotics by Metagenomics and Immunogenomics approaches for Green Solutions of Aquaculture Pathogens in the Southwest Coastal Bangladesh’ শীর্ষক হিট সাব প্রকল্পের ইনসেপশন কর্মশালা। সোমবার সকালে নগরীর কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের সম্মেলনকক্ষে এই কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর ড. রেজাউল করিম, যাঁর বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে চিংড়ি ও মাছের বিভিন্ন রোগ সম্প্রতি বড় এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এ খাতের জন্য। এ পরিস্থিতির মোকাবেলায় ফাইটোবায়োটিকস, মেটাজেনোমিকস এবং ইমিউনোজেনোমিকসের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে টেকসই ও পরিবেশবন্ধু সমাধান বের করার ব্যাপারে দৃষ্টি দিতে হবে বলে তিনি জোর দেন। এতে করে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা সম্ভব হবে। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান, যিনি বলেন, দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম। এখানকার শিক্ষকরা নিয়মিত গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছেন। এই প্রকল্পের গবেষণাগুলো ফলপ্রসূ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলের একোয়াকালচারের ব্যাপক চাহিদাকে সামনে রেখে গবেষণার ফলাফল আমাদের গর্বের বিষয় হবে। প্রকল্পের ফান্ড ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা নিয়ম কানুন মেনে কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুনর রশীদ খান, जिन्होंने বলেন, দেশের গবেষণা ক্ষেত্রে কৃষি ও মৎস্য খাতে অনেক সফলতা এসেছে। তবে এক্ষেত্রে অনেক ক্ষেত্রেই অনিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক ব্যবহারে মানবস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এই গবেষণার মাধ্যমে প্রকৃতি-সন্মত সমাধান গড়ে উঠলে দেশে ও আন্তর্জাতিকভাবে এটি গুরুত্ব রাখবে। ডঃ শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এই কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তর খুলনা বিভাগের উপ পরিচালক বিপুল কুমার বসাক। প্রজেক্টের ফ্রেমওয়ার্ক ও কাজের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন এএসপিএম প্রফেসর ড. গোলাম সরোয়ার, এবং স্বাগত বক্তব্য দেন প্রজেক্টের আরআরপি প্রফেসর ড. শিকদার সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন শিক্ষার্থী মোঃ আব্দুর রহমান ও নবনিতা রায়। উদ্বোধনী পরবর্তী ধাপে মুক্ত আলোচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হয় যেখানে সভাপতিত্ব করেন প্রজেক্টের সদস্য প্রফেসর ড. সমীর কুমার সাধু এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন প্রজেক্টের এএসপিএম প্রফেসর ড. অলোকেশ কুমার ঘোষ। এতে অংশগ্রহণ করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা।

  • আলিগের ছত্রছায়ায় বিপুল সম্পদ দখলকারী পবিত্র কারাগারে

    আলিগের ছত্রছায়ায় বিপুল সম্পদ দখলকারী পবিত্র কারাগারে

    স্বৈরাচারাজ্ঞ ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে একসময় শূন্য হাতে সাতক্ষীরা থেকে খুলনায় এসে পবিত্র কুমার সরকার নামে একজন ব্যবসায়ী সাফল্য অর্জন করেন। তার পিতা মৃত তারাপদ সরকার। শুরুতে নানা অভিযোগের কারণে বন্ধ হয়ে যায় তার দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম, যেখানে তিনি জাল সার্টিফিকেট বিক্রি করতেন। এরপর তিনি একটি ট্রাস্টির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং কিন্ডারগার্টেনের মালিক হন। তদন্তে দেখা গেছে, বটিয়াঘাটা উপজেলার রাজবাধ গ্রামে তার একটি বিশাল বাড়ি রয়েছে। এছাড়া হোগলাডাঙ্গা মোড়ে অবস্থিত তার মালিকানাধীন উদয়ন বুটিক স্কুল ও কলেজের ক্যাম্পাসও পরিচিত হয়ে উঠেছে।বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পবিত্র এক সময় একটি মুসলিম মেয়েকে বিয়ে করে সংসার জীবন শুরু করেছিলেন। তবে সন্তানের দাবি ওঠার পর, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন দলের দ্বারা হুমকি পান তিনি। এর ফলে সে মহিলাকে খুলনা ছাড়তে বাধ্য করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিএনপি অফিস ভাঙচুর এবং জনসভায় হামলার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কাজ করেন। ৫ আগস্টের পর ফেসবুকে সাম্প্রদায়িক উসকানি ছড়িয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর বিক্ষোভ পরিচালনার চেষ্টা করলেও, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি পোস্ট মুছে ফেলেন, তবে স্ক্রিনশটগুলো ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া, বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানিয়েছে। দলীয় কোনও পদে থাকেন না বলে তিনি গোপনে খুলনা আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করতে কাজ করেন। সর্বশেষ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী প্যানেলের পক্ষে কাজের অভিযোগ রয়েছে। খুলনা আদালতপাড়ায় তার অবাধ আসা-যাওয়া ছিল, জমি দখলে সহায়তা ও মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও উঠেছে। তার বাড়ি সাতক্ষীরা থাকায় সীমান্ত দিয়ে অবাধে ভারতে যাতায়াত করতেন। ৫ আগস্টের পর, এক ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মের নাম ভুয়া পরিচয়ে তার চালানো বেনামে ঠিকাদারি কাজের খবর প্রকাশিত হয়। তিনি এই প্রতিষ্ঠানের কাজ দেখাশোনা করতেন বলে জানা গেছে। সর্বশেষ গত শনিবার রাতে গোয়েন্দারা তাকে গ্রেপ্তার করেন। পরের দিন আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

  • নগরবাসীর জন্য কেসিসি প্রশাসকের বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা

    নগরবাসীর জন্য কেসিসি প্রশাসকের বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে নগরবাসীর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের প্রাচীন বাংলার চিরন্তন কৃষ্টি ও সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ। এই বর্ষবরণের উৎসব আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে জীবন্ত ও সমুজ্জ্বল করে তোলে। নিজস্ব সংস্কৃতির ধারাকে ধরে রেখে বিকশিত করাই আমাদের ফরজ, যাতে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আরও গভীররূপে রূপান্তরিত হয়। কেসিসি প্রশাসক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দে সবাইকে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির কামনা করেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, আগের বছর যেখানে নানা দুঃখ-বেদনা আর ব্যর্থতা এলো, সেখানে নতুন বছরে আমাদের প্রত্যাশা হোক নতুন স্বপ্ন, উৎসাহ ও প্রাণবন্ত আবেগে জীবন শুরু করা। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, নতুন বছরের প্রতিটি দিন হবে সাফল্য ও সচ্ছলতার প্রতীক, যা সকলের জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধির বার্তা নিয়ে আসবে।

  • চিকিৎসা সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ

    চিকিৎসা সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ

    খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলি আসগার লবি বলেছেন, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত ও সহজলভ্য চিকিৎসা সেবার লক্ষ্য নিয়ে বর্তমান সরকার দৃঢ় প্রত্যয়বদ্ধ। তিনি বলেন, এটি শুধুমাত্র মোটিভেশন বা আশ্বাস নয়, বরং কার্যকর পরিকল্পনা ও পরিশ্রম দরকার যাতে সাধারণ মানুষ সত্যিই উপকৃত হন। অসহায় দুঃস্থ মানুষদের চোখের দৃষ্টি ফেরানো এবং তাদের জীবনমান উন্নত করতে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম চালিয়ে যেতে হবে। সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন এবং সততার সঙ্গে কাজ করলে এই চক্ষু হাসপাতালই একদিন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম আধুনিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হবে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান এই হাসপাতালকে আরও সুন্দর, সুশোভিত ও আধুনিক করে তুলতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। গতকাল সোমবার সকাল ১১টায় শিরোমনিস্থ বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় ডাঃ রফিকুল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে অন্যান্য বক্তা, উপস্থিত ছিলেন মীরকায়শেদ আলী, ইকবাল হোসেন, কাজী মিজানুর রহমান, এস এ রহমান বাবুল, আবু সাঈদ হাওলাদার আব্বাস, হাসিবুল হাসান, মোলা সোহাগ, শেখ আব্দুস সালাম, জাহাঙ্গীর খোকা, এম নুরুল ইসলাম ও ঝর্ণা আকতারসহ অনেকে। সভার শেষে সংসদ সদস্য আলি আসগার লবি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আকরাম হোসেনের কবর জিয়ারত করেন এবং রুহের মাগফেরাত কামনা করে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেন। এর পাশাপাশি বিকেল ৪টায় ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দুস্থ ও অসহায় মানুষদের মধ্যে নগদ অর্থ বিতরণও করেন।

  • পহেলা বৈশাখ আজ: নবপ্রাণের উৎসব

    পহেলা বৈশাখ আজ: নবপ্রাণের উৎসব

    নববর্ষের আগাম সুর আজ বাতাসে ভেসে বেড়ায়। পুরনো বছরের ক্লান্তি, দুঃখ ও বিদায়জ্ঞাপনী সব কিছু পিছনে রেখে আজ মঙ্গলবার পালিত হচ্ছে পহেলা বৈশাখ—১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। ঋতুচক্রের নবায়নের মতোই এই দিনটি আশা, পুনর্জাগরণ ও ঐক্যের বার্তা বহন করে; বাঙালি সভ্যতার আহ্বান—নতুনের জয়, মানবতার জয়—আবারও উচ্চারিত হচ্ছে।

    হাজার বছরের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের সেতুবন্ধনে গড়ে ওঠা পহেলা বৈশাখ জাতি, ধর্ম ও বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে আজ সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি মানুষ একযোগে মেতে উঠবেন বাংলা বর্ষবরণের আনন্দে। দিনটিতে প্রকাশ পায় দেশভক্তি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের অদ্বিতীয় প্রতিফলন। প্রত্যাশা করা হয়—অশুভ দূর হোক, সত্য ও সুন্দর বিজয়ী হোক; বিদায়ী বছরের দুঃখ-বেদনাও যেন মুছে যায়।

    পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথকবার্তায় দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর বার্তায় একতার ও সপ্রীতির আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বাংলা নববর্ষ আমাদের ঐক্য, সপ্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত; পহেলা বৈশাখ জাতিকে মিলনের দিনে পরিণত করে। তিনি নববর্ষের আগমনে নতুন প্রত্যাশা, নব প্রতিশ্রুতি ও সম্ভাবনার স্বপ্ন জাগার ওপর জোর দিয়েছেন।

    শহর-গ্রাম-উভয়খানে উৎসবের প্রস্তুতি চোখে পড়ছে। নারীরা, পুরুষরা ও শিশুরা বর্ণিল পোশাকে মিলিত হয়ে দিনটি পালন করবেন। বসবে বৈশাখী মেলা; অনুষ্ঠিত হবে বলিখেলা, লাঠিখেলা ও হা-ডু-ডুর মতো ঐতিহ্যবাহী খেলা। চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে শতবর্ষী ঐতিহ্য বহন করে আসা জব্বারের বলিখেলা অনুষ্ঠিত হবে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচলিত মতো এবারও হবে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা—লোকঐতিহ্য ও স্বকীয়তাকে সামনে রেখে বৃহৎ পরিসরে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শোভাযাত্রার থিমে ফুটে উঠবে আবহমান বাংলার লোকজ সংস্কৃতি; বাঁশ, কাঠ ও রঙিন কাগজে নির্মিত বিশাল বাঘ, হাতি, ময়ূর ও মা-শিশুর প্রতিকৃতি শোভাযাত্রায় এক অনন্য মাত্রা যোগ করবে। এ বছরের শোভাযাত্রায় বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে ‘মোরগ, বেহালা, পায়রা, হাতি ও ঘোড়া’—যেগুলো শক্তি, সৃজন, শান্তি, গৌরব ও গতিশীলতার প্রতীক হিসেবে ধারণাগত তাৎপর্য বহন করবে।

    শোভাযাত্রাকে প্রাণবন্ত করতে ৩৫ জন বাদ্যযন্ত্রশিল্পী পরিবেশন করবেন জাতীয় সংগীত, ‘এসো হে বৈশাখ’ ও দেশাত্মবোধক গান। শোভাযাত্রায় অংশ নেবেন প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী, যারা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা বহন করবেন। শোভাযাত্রার মূল বার্তা—অশুভ শক্তির বিনাশ করে কল্যাণময় আগামীর পথে এগিয়ে চলা।

    রমনার বটমূলে ছায়ানটের শিল্পীরা ‘শান্তি, মানবতা ও সপ্রীতি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সম্মিলিত কণ্ঠে বর্ষবরণের গান পরিবেশন করবেন; এটি বহুদিন ধরে এ দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। অন্যদিকে উদীচী সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তোপখানা রোডে গান, কবিতা ও নৃত্যের মধ্য দিয়ে বর্ষবরণ করবে; তাদের প্রধান অনুষ্ঠান বিকেল চারটায় অনুষ্ঠিত হবে। এবারের প্রতিপাদ্য—’বৈশাখের রুদ্ররোষে ধ্বংস হোক সামাজিক ফ্যাসিবাদ’।

    নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খুলনা মেট্রোপলিটান পুলিশ (কেএমপি), জেলা পুলিশ, র‌্যাব ও কোস্ট গার্ড বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সংগঠন সারাদেশে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করছে। জাতীয় প্রেসক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে অনুষ্ঠান করেছে।

    খুলনায় জেলা প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পকলা একাডেমী, শিশু একাডেমী ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সকাল ৯টায় বৈশাখী মেলা উদ্বোধন এবং সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় মাঠ থেকে বের হবে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা; বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে।

    খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ও উৎসবমুখর। ক্যাম্পাস জুড়ে বর্ণিল আলপনা, প্যান্ডেল, শোভাযাত্রার প্রতীকী উপকরণ, সাংস্কৃতিক মঞ্চ ও স্টল সাজানো হয়েছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা সম্মিলিতভাবে এই আয়োজন সফল করতে কাজ করেছেন। স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেন্টারের সামনে শিক্ষার্থীরা বিশেষ ফ্ল্যাশ মব করেছে; বিকেল থেকে নানান হলে আলপনা অঙ্কন চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ সার্বিক তদারকি করেছেন এবং সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

    সকালে খেলার মাঠে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা উদ্বোধন শেষে দিনটি চিরচেনা গ্রামবাংলার আনন্দে কাবাডি, বাউল সঙ্গীত, মোরগ লড়াই, সাপ-বানর খেলা, ম্যাজিক শো, ট্রেজার হান্ট, ঘুড়ি উৎসবসহ নানা অনুষ্ঠানে রঙিন হবে। নিরাপত্তাসহ সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

    পহেলা বৈশাখে মানুষ একসাথে হয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করেন—এটাই এই উৎসবের প্রকৃত মর্ম। আজকের এই দিন নতুন বার্তা দেয়: পুরনো ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগোবার, সহনশীলতা ও সৃজনশীলতাকে জীবনের প্রধান আলো হিসেবে গ্রহণ করার। নববর্ষ সবার জন্য আলোর, আনন্দের ও ঐক্যের বার্তা নিয়ে আসুক—এটাই প্রত্যাশা।