Category: সারাদেশ

  • বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের নতুন সভাপতি রাসেল, সাধারণ সম্পাদক রাহুল

    বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের নতুন সভাপতি রাসেল, সাধারণ সম্পাদক রাহুল

    দীর্ঘ আট বছর পর বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘোষণা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, মো্ল্লা আকিতুর রহমান রাসেল হচ্ছেন কমিটির নতুন সভাপতি, আর নিয়ামুল কবির রাহুল মনোনীত হয়েছেন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। এ ছাড়া শেখ আল মামুনকে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১২ মে) মধ্যরাতে ছাত্রদলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির কর্তৃক অফিসিয়াল পত্রে এর অনুমোদন প্রদান করা হয়।

    নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, সভাপতি হিসেবে আতিকুর রহমান রাসেল এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিয়ামুল কবির রাহুল নির্বাচিত হয়েছেন। পাশাপাশি সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন শেখ আল মামুন। এছাড়া সাবেক সহ-সভাপতি শামিম শিকদার এবং সহ-সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন শেখ মাইদুল ইসলাম মিন্টু ও রানা দিদার। আরও রয়েছে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ফকির মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ওয়াহেদ হাবিব ও শেখ ফাহিম শাহরিয়ার রাব্বি।

    প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পুরোপুরি নতুন কমিটি গড়ে তোলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    উল্লেখ্য, বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের সর্বশেষ কমিটি গঠিত হয়েছিল প্রায় আট বছর আগে। দীর্ঘ এই সময়ের মধ্যে নতুন নেতৃত্ব না আসায় সংগঠনের কার্যক্রম ধীরে ধীরেধীরে স্থবির হয়ে পড়েছিল। তবে নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে সংগঠনে নতুন গতি আসবে এবং কার্যক্রম আরও বেশি এগিয়ে যাবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।

  • নগরীতে কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্য গ্রেফতার

    নগরীতে কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্য গ্রেফতার

    নগরীর সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ নগরীতে কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। এই সময় তাদের কাছ থেকে একটি চীনা কুড়াল, একটি ধাতব পাঞ্চ ও একটি স্কুলব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো মোঃ আকাশ আহম্মেদ জনি (১৯), শাহরিয়ার ইমন (১৯) এবং মোঃ নাফিজুল ইসলাম (১৯)। পশ্চিম বানিয়াখামার পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মোঃ ফারুক আলম জানান, সোমবার রাতে ডিউটি পালনকালে তিনি বসুপাড়া মেইন রোডের বসুপাড়া নার্সারির ভেতরে অভিযান চালান। সেখানে তারা সেগুন বাগানের একটি স্থান থেকে এসব অস্ত্র ও মালামালসহ তাদের আটক করেন। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় মঙ্গলবার সোনাডাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

  • দুই বছরেও উদঘাটন হয়নি এমপি আনার হত্যার রহস্য

    দুই বছরেও উদঘাটন হয়নি এমপি আনার হত্যার রহস্য

    ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনের তিনবারের সাবেক এমপি আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যাকাণ্ডের দু’বছর পূর্ণ হলো। ২০২৪ সালের ১২ মে ভারতে চিকিৎসার জন্য যান তিনি, এরপর কলকাতার নিউটাউনের একটি ফ্ল্যাটে তাকে হত্যাকাণ্ডের শিকার করা হয় বলে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলে। তবে এই আলোচিত হত্যাকাণ্ডের দুটি বছর পার হলেও এখনো চলমান তদন্তে কোনও চূড়ান্ত রহস্য উন্মোচিত হয়নি এবং পরিবার তার মরদেহ বা নিশ্চিত কোনও ফরেনসিক প্রতিবেদনও পেয়েছেন না।

    প্রাপ্ত তথ্য ও বিভিন্ন সূত্রের মতে, হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহ গুমের জন্য তা খণ্ড-বিখণ্ড করে ছিন্নভিন্ন করা হয়। পরে বাংলাদেশ পুলিশের ডিবি এই ঘটনার তদন্তে কলকাতায় গিয়ে কিছু খণ্ডাংশ উদ্ধার করে। একই সময়ে ভারতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাংলাদেশি নাগরিক কসাই জেহাদসহ তিনজনকে আটক করে। তাদের দেয়া তথ্য ভিত্তিতে কলকাতার একটি পুকুর থেকে অনেক টুকরো হাড় উদ্ধার হয়, যেগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা চলে যাচ্ছে। তবে দুই বছর পেরিয়ে গেলেও পরিবারের কাছে চূড়ান্ত রিপোর্ট বা মরদেহের কোনো অংশই পৌঁছায়নি। ফলে, ইসলামি শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী জানাজা ও দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারছেন না তারা।

    এমন পরিস্থিতিতে আনোয়ারুল আজিম আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন বলেন, ‘আমরা বাবার হত্যাকাণ্ডের খবর বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে জেনেছি, কিন্তু এখনো একটীও দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাইনি। হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিসহ অন্যান্যদের জামিন পাওয়ায় আমাদের সন্দেহ রয়েছে। আমি প্রশ্ন করি, আমি কি আমার বাবার হত্যার বিচার পেতে পারব?’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।’

    ডরিন জানান, ভারতের প্রশাসনের অনুরোধে তারা ডিএনএ নমুনা ও অন্যান্য পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক নমুনা জমা দেন। কিন্তু অনেক সময় পার হলেও এখনো কোনও চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাননি। মরদেহের খণ্ডাংশ না পাওয়ায় এখনো জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করতে পারেননি। উপরন্তু, মৃত্যুসনদ না পাওয়ায় আইনি ও পারিবারিক কাজে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল, কিন্তু দুই বছরের বেশি সময় পার হলো, তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া ধীরগতি হওয়ায় পরিবার হতাশা প্রকাশ করছে।

  • মুক্তিপণের সাত লাখ টাকায় জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্তি পেলেন ১৮ জলপরিজন

    মুক্তিপণের সাত লাখ টাকায় জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্তি পেলেন ১৮ জলপরিজন

    সুন্দরবনের নদীতে জলদস্যুদের হাত থেকে অপহরণের শিকার ২০ জন জেলে ও মৌয়াল থেকে ১৮ জনকে প্রায় ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়েছে। এ টাকা দিয়ে তারা ধাপে ধাপে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন, তবে এখনও দুজন জেলের মুক্তি মেলেনি। তাদের পরিবারের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বেড়েই চলেছে। সোমবার বিকেল পর্যন্ত মুক্তিপেপ্রাপ্ত জেলেরা প্রত্যেকে নিজ নিজ গ্রামে ফিরে আসতে সক্ষম হন।

    নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, ৪ ও ৫ মে দুর্বৃত্তরা ‘আলিফ’ বা ‘আলিম বাহিনী’ ও ‘নানাভাই/ডন বাহিনী’ পরিচয়ে অস্ত্রধারী জলদস্যুরা সাতক্ষীরা রেঞ্জের বিভিন্ন নদী এলাকা থেকে ২০ জন জেলে ও মৌয়ালকে অপহরণ করে। এর মধ্যে চুনকুড়ি নদীর গোয়াল বুনিয়া দুন, ধানোখালী খাল, মামুন্দো নদীর মাধভাঙা খাল ও মালঞ্চ নদীর চালতে বেড়ের খালে তাদের অপহরণ করা হয়। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মহাজন, পরিবারের সদস্য ও সহযোগীদের কাছে মুক্তিপণের জন্য যোগাযোগ করা হয়।

    অপহরণকারীরা দর-কষাকষির মাধ্যমে দাবিকৃত ঋণের অংক কিছুটা কমিয়ে আনেন। পরে নির্ধারিত মোবাইল নম্বরে টাকা পৌঁছে দেওয়ার পর দস্যুরা ধীরে ধীরে জেলেদের ছাড়তে আরম্ভ করেন।

    ফেরার সময়ে মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরলেন বিভিন্ন জেলে ও মৌয়ালরা। তাদের মধ্যে মুরশিদ আলম ৭০ হাজার, করিম শেখ ১ লাখ ২০ হাজার, আবু ইসা ৫৫ হাজার, মমিন ফকির ৪৫ হাজার, আল-আমিন ২৫ হাজার, আবুল বাসার বাবু ৩০ হাজার, আবুল কালাম ৩০ হাজার, শাহাজান গাজী ৪০ হাজার, সিরাজ গাজী ৪০ হাজার, রবিউল ইসলাম বাবু ২০ হাজার, সঞ্জয় ২০ হাজার, আল-মামুন ২০ হাজার, হুমায়ুন ২০ হাজার, মনিরুল মোল্লা ২০ হাজার, রবিউল ইসলাম ২০ হাজার, হৃদয় মন্ডল ২০ হাজার, আব্দুল সালাম ৪০ হাজার এবং ইব্রাহিম গাজী ৫৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

    অন্যদিকে, শুকুর আলী গাজী ও রেজাউল করিম নামে দুজন জেলের পরিবারের পক্ষ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে বিনিময় হলেও তারা এখনও বাড়ি ফিরেননি বলে জানা গেছে।

    পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. মশিউর রহমান জানান, জলদস্যু দমন অভিযানে কোস্টগার্ডের সাথে যৌথভাবে কাজ চলছে। তবে অপহৃতদের পরিবারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য ও সহযোগিতা না পাওয়ায় দস্যু দমনে খুব একটা কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণে অসুবিধা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে সুন্দরবনের জলদস্যু দমন সম্ভব হবে।

  • নিখোঁজ মিরাজের পরিবার সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণে ব্যাকুল

    নিখোঁজ মিরাজের পরিবার সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণে ব্যাকুল

    এক মাস তিন দিন হলো মোংলা চিলা উপজেলার জয়মনির ঘোল এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে রয়েছে মা তাছলিমা বেগমের বুকফাটা কান্নায়। ১০ এপ্রিল, সকাল থেকেই নিখোঁজ তার একমাত্র ছেলে, মিরাজ শেখ (৩০), কে তুলে নিয়ে যায় অজ্ঞাত অপরিচিত কিছু ব্যক্তি। এরপর থেকে তিনি তার সন্তানকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন, কিন্তু এখনও কোনো সন্ধান মেলেনি। বারবার থানায় জিডি, প্রতিমন্ত্রী ও সরকারের অন্যান্য দফতরে আবেদন করেও কিছু ফল হয়নি। এই সন্তানের জন্য একটি অসহনীয় অপেক্ষা চলেছে, মা বলতে চান, তার ছেলে যেন জীবিত বা মৃত—কোনোটাই অবিচলভাবে জানতে চান। পরিবারের জন্য এই নিখোঁজের কান্না শুধু হৃদয় বিদারক নয়, বরং মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণেও পরিণত হয়েছে। তারা এখন কেবল একটাই প্রত্যাশা করছেন— যেন তাদের সন্তানকে দ্রুত ফিরে পায় এবং সত্যতা নিশ্চিত হয়। পরিবারের সদস্যরা জানাচ্ছেন, তার স্বামী সুন্দরবনের জেলে ও মাছধরা জেলায় মোটরসাইকেল চালক হিসেবে কাজ করতেন। গত ৬ এপ্রিল বন্ধু বাচ্চু ও রফিকুলের সঙ্গে মিলিত হয়ে সুন্দরবনে মাছ ধরতে যান। চার দিনের পরিশ্রমের পরে ১০ এপ্রিল সন্ধ্যায় তারা ফিরে আসেন। তখনই স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সন্ধ্যা ৭টার দিকে জয়মনির ঘোলের একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সময় মিরাজকে অজ্ঞাত পরিচিত কিছু ব্যক্তি জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে একজনের সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয়রা আন্দাজে দেখেন, একটি নৌযানে করে দ্রুত তাকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি। মা তাছলিমা কেঁদে কেঁদে বলেন, ‘আমার পোলার জন্য আমার বুকের টুকরো যে এক মাস ধরে হারিয়ে গেছে, কেউ কেউ বলতে পারে না ও কই আছে। যদি ও কোনো অপরাধে জড়িত হয়, তবে দেশের আইন আছে, বিচার হবে। কিন্তু ওকে কেন লুকানো হচ্ছে? আমার মনে হচ্ছে, ওর ওগো কিছু করেছে, ও কি সাগরে ভাসিয়্যা ফেলছে?’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে আরও বলেন, ‘আমি চাই ও ফিরুক—আমি তার মুখটা একবার দেখবো। ও কি খাচ্ছে? ও কি মার খাচ্ছে? আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি, ও যেন আমার কোল ফিরে আসে।’ Although তার পরিবার নিঃসন্দেহে উদ্বিগ্ন, একটু অন্যরকম ঘটনা ঘটে গেলো ২২ এপ্রিল, মিরাজের বন্ধু বাচ্চুকে মোংলা কোস্ট গার্ডের একটি দল তুলে নিয়ে যায়। রাতে তাকে থানায় সোপর্দ করা হলেও মিরাজের খোঁজে কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। স্থানীয়রা সন্দেহ করছেন, হয়তো অভিযানের সময়ই তাকে তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে এই ব্যাপারে সরকারি পক্ষ কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি। নিখোঁজের পর থেকে তার স্ত্রীর দায়িত্ব ভর করে, তিনি মোংলা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এছাড়া, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদনও জানানো হয়েছে, কিন্তু তৎপরতা কম থাকায় পরিবারের আতঙ্ক আরও বাড়ছে। মিরাজ পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস ছিলেন, তাঁর হারিয়ে যাওয়ার পর সংসারে অস্থিরতা শুরু হয়। মা শোকে কাতর, স্ত্রী ভয় পাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই রহস্যজনক নিখোঁজের ঘটনার জন্য উদ্বিগ্ন। যখন সুন্দরবনে দস্যুমুক্ত অভিযানের খবর আসছে, তখনই এই অন্তর্ধান অন্য এক প্রশ্ন তুলে ধরছে— বিষয়টি কি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে? পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত তাকে উদ্ধার করে জনসম্মুখে আনা হোক। মোংলা সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ রেফাতুল ইসলাম বলেন, ‘মিরাজ শেখের নিখোঁজের ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়েছে। আমরা তদন্তে আন্তরিক, তার সন্ধানে গোয়েন্দা ও অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছি। তাকে কোথায় কোথায় রাখা হয়েছে বা আটক করেছেন কি-না, সে বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করছি। পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে আশ্বাস দেন।’ প্রত্যাশা, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেন দ্রুত সমাধান হয় এবং নিখোঁজের পরিবারের মনোবাসনা পূরণ হয়। মা তাছলিমার চোখের জল যেন অবহেলা না হয়, এবং তার সন্তানকে ফিরিয়ে ফিরিয়ে আনা হয়—এটাই এখন বড় প্রত্যাশা।

  • সুন্দরবনে অস্ত্র ও গুলিসহ কুখ্যাত বনদস্যু ‘মেজ জাহাঙ্গীর’ আটক

    সুন্দরবনে অস্ত্র ও গুলিসহ কুখ্যাত বনদস্যু ‘মেজ জাহাঙ্গীর’ আটক

    বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সুন্দরবনে বিশেষ অভিযানে অস্ত্র ও গুলিসহ কুখ্যাত বনদস্যু মোঃ জাহিদুল ইসলাম ওরফে ‘মেজ জাহাঙ্গীর’কে আটক করেছে। কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এই তথ্য নিশ্চিত করেন এবং জানান, অভিযানে তার কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও তাজা গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

    কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবনে দস্যু কর্মকাণ্ড দমন ও উপকূলীয় জেলে ও বনজীবীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমানে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুইটি বিশেষ অভিযান চলছে। এরই অংশ হিসেবে ১২ মে মঙ্গলবার মধ্যরাত সাড়ে একটার দিকে বিসিজিএস তৌহিদ-এর নির্বাহী কর্মকর্তা লে. ইকরা মোহাম্মদ নাসিফের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল শিবসা নদীর আদাচাই ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন কালীর খাল এলাকায় অভিযান চালায়।

    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে বনদস্যু বাহিনীর প্রধান মেজ জাহাঙ্গীরকে হাতেনাতে আটক করা হয়। কোস্ট গার্ড সদস্যরা তার দেহ তল্লাশিতে ২টি একনলা বন্দুক এবং ৫ রাউন্ড তাজা গোলাবারুদ উদ্ধার করেন। আটক ব্যক্তির পরিচয় নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানার মোঃ জাহিদুল ইসলাম (৫৬) হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

    কোস্ট গার্ড বলছে, দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের গভীরে নিজের বাহিনী গঠনের মাধ্যমে তিনি দস্যুতা, জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় এবং জেলেদের আহরিত মৎস্য সম্পদ লুণ্ঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। লে. ইকরা মোহাম্মদ নাসিফ জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বনজলদস্যুদের কার্যক্রম পুনরায় বাড়তে শুরু করে; সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে কোস্ট গার্ড “জিরো টলারেন্স” নীতি নিয়ে অভিযান চালাচ্ছে।

    নাসিফ আরও জানান, গত কয়েক মাসে করিম শরীফ, ছোট সুমন, ছোট জাহাঙ্গীর, বড় জাহাঙ্গীর, নানা ভাই, আসাবুর ও আলিফ বাহিনীর মতো একাধিক দস্যু দলকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এ অভিযানগুলো অব্যাহত থাকবে এবং সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খালে টহল বৃদ্ধি পাবে যতক্ষণ না সমস্ত দস্যু ও তাদের সহযোগীরা নির্মূল হয়ে যায়।

    জব্দকৃত অস্ত্র, গোলা এবং আটককৃতকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে। কোস্ট গার্ড পরিস্থিতি নজরদারি এবং অপপ্রবৃত্তি প্রতিহত করতে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছে।

  • স্ত্রীর অভিযোগ: খুলনায় ব্যবসায়ী কালী শংকর সাহা অরবিন্দুকে অপহরণ ও গুমের চেষ্টা

    স্ত্রীর অভিযোগ: খুলনায় ব্যবসায়ী কালী শংকর সাহা অরবিন্দুকে অপহরণ ও গুমের চেষ্টা

    খুলনায় ব্যবসায়ী কালী শংকর সাহা অরবিন্দুকে অপহরণ করে গুমের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী অনামিকা দাস (পপি)। তিনি সোমবার খুলনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।

    অনামিকা দাস লিখিত বক্তব্যে বলেন, তিনি দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে সন্তান নিয়ে পরিত্যক্তাবস্থায় খুলনায় বসবাস করেছেন। এ সময় কালী শংকর সাহা অরবিন্দু তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন এবং হিন্দু বিবাহ আইন অনুযায়ী তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয় ৮ এপ্রিল ২০২৬ সালে।

    তবে অনামিকা অভিযোগ করেন, কালী শংকর সাহার প্রথম পক্ষের ছেলে ডাঃ হিমেল সাহা ও পুত্রবধূ তন্নী দেবনাথ তাদের বিয়ে মেনে নেননি। বিয়ের পর থেকেই তিনি মানসিক নির্যাতন, হুমকি এবং অপমান ভোগ করেছেন। এমনকি বাড়িতে প্রবেশ করতেও তাকে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    সংবাদ সম্মেলনে অনামিকা বলেন, গত ১৬ এপ্রিল স্বামীকে কৌশলে আটকে রেখে তার মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়া হয়। পরে জানতে পারেন তাকে খুলনা থেকে জোরপূর্বক ঢাকা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি একটি মামলা করেছেন; মামলা নং (সিআর) ৯৪১/২৬। আদালত সার্চ ওয়ারেন্ট জারি করলেও এখন পর্যন্ত তার স্বামীকে উদ্ধারের কোনো সাফল্য হয়নি বলে তিনি জানান।

    অনামিকা আরও অভিযোগ করেন, স্বামীকে অসুস্থ দেখিয়ে ঢাকা আটকে রাখা হয়েছে এবং জোরপূর্বক তার কাছ থেকে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি তাকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও চলছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

    তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর ছেলে ও পুত্রবধূর ওপর থেকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসা হয়েছে; বিষয়টি আড়াল করতে এবং দায় এড়াতে তাঁদের বিরুদ্ধে এ ধরনের গুমের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে অনামিকা দাস প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আবেদন জানিয়ে দ্রুত কালী শংকর সাহা অরবিন্দুকে উদ্ধার, তার নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং তাকে বিদেশে নেওয়া ঠেকানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেন।

  • সুন্দরবনে অস্ত্র-গুলিসহ কুখ্যাত বনদস্যু মেজ জাহাঙ্গীর আটক

    সুন্দরবনে অস্ত্র-গুলিসহ কুখ্যাত বনদস্যু মেজ জাহাঙ্গীর আটক

    বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার লক্ষ্যে চলা বিশেষ অভিযানে বড় সাফল্য অর্জন করেছে। বনদস্যু বাহিনীর প্রধান মোঃ জাহিদুল ইসলাম (৫৬), পরিচিত নাম মেজ জাহাঙ্গীরকে অস্ত্র ও তাজা গোলাবারুদসহ আটক করা হয়েছে বলে কোস্ট গার্ড নিশ্চিত করেছে। কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এই তথ্য জানিয়েছেন।

    কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে সুন্দরবনে অভিযান جاری রয়েছে—বিশেষত “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” ও “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুইটি সাঁড়াশি কার্যক্রমে বনদস্যু তৎপরতা নির্মূল করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ১২ মে রাত ১টায় বিসিজিএস তৌহিদ-এর নির্বাহী কর্মকর্তা লেঃ ইকরা মোহাম্মদ নাসিফের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল শিবসা নদীর আদাচাই ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন কালীর খাল এলাকায় অভিযান চালায়।

    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত ওই অভিযানে মেজ জাহাঙ্গীরকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে তার আস্তানা উচ্ছেদ করে দুইটি একনলা বন্দুক ও পাঁচ রাউন্ড তাজা গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে—জাহিদুল ইসলামের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতেই এসব জব্দ করা হয়।

    অটক জনের পরিচয় অনুযায়ী তিনি নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানার বাসিন্দা। বহুদিন ধরে সুন্দরবনের গভীরে নিজের বাহিনী গঠন করে দস্যুতা, সাধারণ জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় এবং জেলেদের আহরিত মৎসসম্পদ লুটপাটসহ নানা অপরাধমূলক কাজ চালিয়ে আসছিলেন।

    বিসিজিএস তৌহিদ-এর নির্বাহী কর্মকর্তা লেঃ ইকরা মোহাম্মদ নাসিফ জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বন-জলদস্যুদের কার্যকলাপ আবার সক্রিয় হওয়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। পরবর্তীতে কোস্ট গার্ড ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান কিছুটা ফলপ্রসূ হলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যস্ততা কাজে লাগিয়ে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল পুনরায় দস্যুত্ব ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করেছিল। এদের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় কোস্ট গার্ড জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করেছে।

    নাসিফ আরো বলেন, গত কয়েক মাসে করিম শরীফ, ছোট সুমন, ছোট জাহাঙ্গীর, বড় জাহাঙ্গীর, নানা ভাই, আসাবুর ও আলিফসহ একাধিক দস্যু দলকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। বর্তমানে যে যেসব বাহিনী জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ নেওয়া বা অন্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে, তাদেরও বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আটককৃত সন্ত্রাসীকে আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। কোস্ট গার্ড মন্তব্য করেছে যে, বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খালে এই ধরনের বিশেষ অভিযান ও টহল অব্যাহত রাখা হবে।

  • খুলনায় ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও গুমের চেষ্টা: অভিযোগ করেছেন দ্বিতীয় স্ত্রী

    খুলনায় ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও গুমের চেষ্টা: অভিযোগ করেছেন দ্বিতীয় স্ত্রী

    খুলনায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী কালী শংকর সাহা অরবিন্দুকে অপহরণ ও গুম করার চেষ্টার অভিযোগ জানিয়েছেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী অনামিকা দাস (পপি)। সোমবার তিনি এ অভিযোগ করে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের অনুরোধ করেছেন।

    অনামিকা জানান, দীর্ঘ ১৪ বছর স্বামী পরিত্যক্তা হিসেবে সন্তানকে নিয়ে খুলনায় বসবাস করেছিলেন। সে সময়ে কালী শংকর সাহা অরবিন্দু তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং হিন্দু বিবাহ আইন অনুসারে ৮ এপ্রিল ২০২৬ তার বাবা-মায়ের উপস্থিতিতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

    তবে তিনি বলেন, কালী শংকরের প্রথম পক্ষের লোকজন—বিশেষত ছেলে ডাঃ হিমেল সাহা ও পুত্রবধূ তন্নী দেবনাথ—এ বিয়েকে মেনে নেননি। বিয়ের পর থেকেই অনামিকা অভিযোগ করেন, প্রথম পক্ষের লোকজন তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন, হুমকি ও অপমান করেছে এবং অনেক সময় বাড়িতে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে অনামিকা আরও জানান, গত ১৬ এপ্রিল কৌশলে her স্বামীকে আটকে রেখে তাঁর মোবাইল ফোন জব্দ করে নেওয়া হয়। পরে তিনি জানতে পারে যে তাকে খুলনা থেকে জোরপূর্বক ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনার পর তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেছেন (সিআর নং ৯৪১/২৬)। আদালত_search warrant_ জারি করলেও এখন পর্যন্ত স্বামীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

    অনামিকা অভিযোগ করেন, স্বামীকে অসুস্থ বলে ঢাকায় আটকে রাখা হচ্ছে এবং জোরপূর্বক সম্পত্তি হস্তান্তরের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে তাঁর স্বামীকে দেশের বাইরে নেওয়ারও পরিকল্পনা চলছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তার ওপর চলমান মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন আড়াল করতে এ দাবি জানানো হচ্ছে বলে মনে করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে অনামিকা দাস প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কালী শংকর সাহা অরবিন্দুকে দ্রুত উদ্ধার করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এবং তাকে বিদেশে নেওয়া রোধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

  • সুন্দরবনে অস্ত্র ও গুলিসহ কুখ্যাত বনদস্যু ‘মেজ জাহাঙ্গীর’ আটক

    সুন্দরবনে অস্ত্র ও গুলিসহ কুখ্যাত বনদস্যু ‘মেজ জাহাঙ্গীর’ আটক

    বন ও উপকূলীয় মাছ ধরাকে নিরাপদ করতে দক্ষিণ অঞ্চলের বিশেষ অভিযানে সফলতা দেখিয়েছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু সংগঠনের প্রধান মোঃ জাহিদুল ইসলাম ওরফে ‘মেজ জাহাঙ্গীর’ (৫৬) কে আটক করা হয়েছে; তার কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও লাইভ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়—এই তথ্য কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন নিশ্চিত করেছেন।

    কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের সূত্রে জানা যায়, সরকার গ্রহনকৃত নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বর্তমানে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” ও “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামের দুটি সাঁড়াশি অভিযান চলছে। সেই অভিযানেরই অংশ হিসেবে ১২ মে রাত পেয়ে ১টার দিকে বিসিজিএস তৌহিদ-এর নির্বাহী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ইকরা মোহাম্মদ নাসিফের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল সুন্দরবনের শিবসা নদীর আদাচাই ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন কালীর খাল এলাকায় তল্লাশি চালান।

    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত ওই অভিযানে মেজ জাহাঙ্গীরকে হাতেনাতে আটক করা হয়। কোস্টগার্ড সদস্যদের উদ্ধারকৃত জিনিসপত্রের মধ্যে রয়েছে ২টি একনলা বন্দুক এবং ৫ রাউন্ড তাজা গুলি। আটক ব্যক্তির স্বীকারোক্তি ও তালিকার ভিত্তিতেই এসব উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে।

    আটক মোঃ জাহিদুল ইসলাম নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানার বাসিন্দা। বহুদিন ধরেই তিনি সুন্দরবনের গভীরে নিজের একটি বাহিনী গঠন করে রেখেছিলেন এবং স্থানীয় জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়, জেলেদের আহরিত মৎস্য সম্পদ লুণ্ঠনসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

    বিসিজিএস তৌহিদ-এর নির্বাহী কর্মকর্তা লে. ইকরা মোহাম্মদ নাসিফ জানান, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বন ও জলদস্যু তৎপরতা পুনর্বার বাড়তে শুরু করে। এরপর বিভিন্ন বাহিনীর তৎপরতার কারণে কিছুটা সঙ্কুচিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যস্ততা সুযোগ নিয়ে কয়েকটি স্বার্থান্বেষী মহল সুন্দরবনে নতুন করে কার্যক্রম শুরু করার চেষ্টা করেছিল। এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় কোস্টগার্ড “জিরো টলারেন্স” নীতিতে অভিযান পরিচালনা করছে।

    নাসিফ আরও জানান, গত কয়েক মাসে করিম শরীফ, ছোট সুমন, ছোট জাহাঙ্গীর, বড় জাহাঙ্গীর, নানা ভাই, আসাবুর ও আলিফ বাহিনীর মতো একাধিক দস্যু দলকেও এসব অভিযানের মধ্য দিয়ে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত কিছু দলে এখনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলছে; তাদেরকেও ধাপে ধাপে নির্মূল করা হবে বলে তিনি জানান।

    জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং আটককৃত জাহিদুল ইসলামকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। কোস্টগার্ড পাল্টা জানিয়েছে, বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের সমূলে নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খালে এই ধরনের বিশেষ অভিযান ও টহল অব্যাহত থাকবে।