Category: সারাদেশ

  • খুলনায় মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন

    খুলনায় মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন

    মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বজন হারানো শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে খুলনায় বৃহস্পতিবার যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে।

    দিবসটি উপলক্ষ্যে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে গল্লামারী শহিদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয় এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিনটি শুরু করা হয়। শহরের সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং রাস্তাঘাট ও সড়ক দ্বীপগুলো জাতীয় পতাকা ও সাজসজ্জায় ভরে ওঠে।

    গল্লামারী শহিদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মহানগর ও জেলা ইউনিটের নেতৃবৃন্দ, বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ, কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক, কেএমপি কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকার, পুলিশ সুপারসহ জেলা-উপজেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

    সকাল সাড়ে আটটায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ। সেখানে পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, বিইনসিসি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, কারারক্ষী ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কুচকাওয়াজ, সমাবেশ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগীয় কমিশনার প্রধান অতিথি হিসেবে কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন। এ অনুষ্ঠানে পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক, কেএমপি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান, জেলা প্রশাসক আ. স. ম জামশেদ খোন্দকার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    নগর ভবনে খুলনা সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু প্রধান অতিথি ছিলেন। কেসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান ও প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা উপস্থিত ছিলেন।

    খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিস ও পিআইডি শহিদ হাদিস পার্কে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করেছে। জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজন করা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘‘বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির সূর্যকণিকা; তাদের ত্যাগবদলেই অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা। তাদের সম্মান ও সেবা আমাদের অঙ্গীকার।’’

    জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেএমপি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান, পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি তোফায়েল আহমেদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃবৃন্দ এবং শহিদদের পরিবারের প্রতিনিধিরা।

    দিবসটি উপলক্ষে সারা দিন চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, হাসপাতাল, জেলখানা, বয়স্কাশ্রম, এতিমখানা, পথশিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র ও প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্রে খাবার পরিবেশনসহ মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হয়। দেশের শান্তি ও উন্নতির জন্য বাদ যোহর বা সুবিধাজনক সময়ে মসজিদে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয় এবং মন্দির, গীর্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা ও শান্তি কামনা করা হয়।

    বিআইডব্লিউটিএ রকেট ঘাটে সকাল থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নৌবাহিনীর জাহাজ জনসাধারণের দর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, আধাসরকারি ও বেসরকারি ভবনে বিশেষ আলোজসজ্জা করা হয়। জেলা ও উপজেলার স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে—টিভেনটি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, ফুটবল ও কাবাডি অনুষ্ঠিত হয়। খুলনার সকল পার্ক ও বিভাগীয় জাদুঘর শিশুদের জন্য বিনামূল্যে উন্মুক্ত রাখা হয়।

    প্রতিদিনের মতো খুলনা বেতার বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করে এবং স্থানীয় সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে। রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও নানা কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাধীনতার মাহাত্ম্য স্মরণ করেছে।

    দিবসজুড়ে শহিদদের স্মরণে শ্রদ্ধা ও দেশপ্রেমের আবেগ غالب থাকায় খুলনায় সম্পর্কিত সব আয়োজন শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

  • বাবার সামনেই বাড়িতে ঢুকে যুবককে গুলি করে হত্যা

    বাবার সামনেই বাড়িতে ঢুকে যুবককে গুলি করে হত্যা

    বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার শিবপুর গ্রামে বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার পর সন্ত্রাসীরা বাড়ির ভেতরে ঢুকে আমির হামজা (২৩) নামের এক যুবকে গুলি করে হত্যা করেছে। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তৎপরতা চালাচ্ছে।

    নিহত আমির হামজা শিবপুর গ্রামের রুহুল আমিন মুন্সির ছেলে। তিনি খুলনা সরকারি সুন্দরবন কলেজে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন এবং খুলনার পপুলার ডায়গনস্টিক সেন্টারে কর্মরত ছিলেন। দুই মাস আগে তিনি তন্বী আক্তার নামের এক কলেজ ছাত্রীকে বিয়ে করে খুলনায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। ঈদের জন্য তিনি গ্রামের বাড়ি ফিরে এসেছিলেন।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল চারটার দিকে হামজা বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে বাবা ও চাচার সঙ্গে কথা বলছিলেন। সেই সময় তিনটি মোটরসাইকেলে করে ছয়জন হেলমেটধারী যুবক বাড়ির অভ্যಂತರে ঢুকে প্রশাসনের লোক পরিচয় দেয়ার পর হামজাকে ধাওয়া করে। হামজা পালানোর চেষ্টা করলে বাড়ির পাশের খালের পাড়ে পড়ে গিয়ে সন্ত্রাসীরা তার মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়।

    বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শামীম হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জেলা পুলিশ, সিআইডি, পিবিআই ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা মিলে সন্ত্রাসীদের সনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত শুরু করেছে।’ তিনি জানিয়েছেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে।

    স্থানীয়রা বলছে, এলাকায় আতঙ্ক ফেলে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। হামজার পরিবারের সদস্যরা শোকাহত ও হতবাক অবস্থায় পুলিশের কাছে ন্যায় বিচার দাবী করেছেন। পুলিশ ঘটনার উদ্দেশ্য ও সংশ্লিষ্টতার দিকগুলো খতিয়ে দেখছেন এবং এলাকাবাসীর সুরক্ষায় পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছে।

    তদন্তকারীরা এখন ঘটনার সময়সীমা, সন্ত্রাসীদের পরিচয় ও তাদের বহন করা মোটরসাইকেল ও হেলমেটের তথ্য যাচাই করছে। পুলিশ ঘটনার আরও তথ্য প্রকাশের আগেই জনসাধারণকে অনিরাপদ স্থানে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে।

  • মোংলা বন্দরে ৫৬তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

    মোংলা বন্দরে ৫৬তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

    মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে যথাযথ মর্যাদায় ৫৬তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করেছে।

    স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠান সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে জাতীয় ও বন্দরের পতাকা উত্তোলন, বন্দরের জাহাজ ও নৌযানসমূহকে জাতীয় পতাকা দিয়ে সজ্জিত করা হয়। এছাড়া কিছু জাহাজ সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয় যাতে তারা বন্দরের কার্যক্রম ও পরিবেশ সরাসরি উপভোগ করতে পারেন। একই সঙ্গে মোংলা বন্দর হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের জন্য উন্নতমানের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।

    এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় কর্তৃপক্ষের সভাকক্ষে অবসরপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন গ্রহণ করেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) কমডোর মো. শফিকুল ইসলাম সরকার। সভায় উপস্থিত ছিলেন কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) (যুগ্মসচিব) ড. এ. কে. এম. আনিসুর রহমান, সকল বিভাগীয় ও উপ-বিভাগীয় প্রধান, বন্দরের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী, মবক’র অবসরপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধারা, অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন ও সিবিএর নেতারা।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আলোচনা বক্তব্যে কমডোর মো. শফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, স্বাধীনতার ৫৬ বছরে দেশ ব্যাপক উন্নয়ন অর্জন করেছে এবং সেই উন্নয়নের ছোঁয়া মোংলা বন্দরেও পড়েছে। তিনি আরও বলেন, বন্দরের এ উন্নয়নে দ্রুততা আনতে এবং জাতীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে বন্দরের প্রতিটি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

    উদযাপন শেষে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের লক্ষ্য বাস্তবায়ন, মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য এবং জাতির শান্তি ও মোংলা বন্দরের উন্নতির প্রত্যাশায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল এবং অংশগ্রহণকারীরা এ উপলক্ষে আত্মবিশ্বাস আর একাত্মতার বার্তা দেন।

  • আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস

    আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস

    আজ ২৬ মার্চ — বাঙালি জাতির গৌরব ও শ্রদ্ধার দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে বাঙালি একটি নতুন ইতিহাসের পথচলা শুরু করে। আজ আমাদের স্বাধীনতার ৫৫তম বার্ষিকী। ২৫ মার্চের মধ্যরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন সার্চলাইট’ শুরু হওয়ার পর থেকে বাঙালির সংগ্রাম ও ত্যাগের মধ্য দিয়েই মুক্তিযুদ্ধ ছিন্নভিন্ন ভূমি থেকে উঠে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা অর্জন করে। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে বিশ্বের মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে স্বাধীন বাংলাদেশ।

    মতবিরোধের রাজনীতি ও শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালির সেই সাহসিকতার ফলেই অর্জিত হয়েছে মহান স্বাধীনতা — তাতে শতভাগ শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয় প্রত্যেক বীর শহিদ, মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবারের প্রতি।

    দিবসটি উপলক্ষে সারাদেশে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। জাতীয়ভাবে সূর্যোদয়ের সাথে প্রার্থনা ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, ঢাকাসহ সব জেলায় তোপধ্বনি (একত্রিশ বার), জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবাররা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সকাল ৯টায় কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই পাস্ট অনুষ্ঠিত হবে। সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি সব ভবন আলোকসজ্জিত ও জাতীয় পতাকা-আলংকারে সজ্জিত থাকবে। ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া দিবসটিকে ঘিরে বিশেষ অনুষ্ঠান ও প্রকাশনার আয়োজন করেছে।

    সংস্কৃতি ও শিক্ষাক্ষেত্রে সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলার স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমাবেশ, কুচকাওয়াজ ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা এবং ক্রীড়া আয়োজন করবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির জন্য বিশেষ প্রার্থনা ও দোয়া হবে। হাসপাতাল, জেলখানা, শিশু পরিষেবা কেন্দ্র, বৃদ্ধাশ্রম ও পথভ্রষ্টদের জন্য বিশেষ খাবার পরিবেশন ও সেবামূলক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

    বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও রাউন্ডঅ্যাবাউটে জাতীয় পতাকা ও ব্যানার লাগানো হবে, সরকারি ছুটি থাকবে এবং সংবাদপত্র ও পাবলিক মিডিয়ায় দিবসবিষয়ক বড় লেখালিখি প্রকাশিত হবে। একইভাবে দেশের বন্দর ও বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের জাহাজ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখার কর্মসূচি পরিকল্পিত রয়েছে। বিদেশে মূলত বাংলাদেশের দূতাবাস এবং মিশনে সমমানের স্মরণ ও অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

    খুলনায় জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জেলার ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। গল্লামারী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, পুলিশ লাইনে একত্রিশবার তোপধ্বনি, খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শিক্ষার্থীদের সমাবেশ, কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হবে। পৌর ও সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক শিশু পার্ক ও কিছু সংরক্ষণকেন্দ্র বিনামূল্যে খুলে দেওয়া হচ্ছে; সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সংবর্ধনা, এবং ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের বাইরে জেলা জাদুঘর ও গণহত্যা স্মৃতিসৌধ শিশুদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

    দেশব্যাপী অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রশাসনিক ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ এবং স্থানীয় স্তরে নাগরিক অংশগ্রহণে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মসূচি। বেশ কিছু বন্দর ও ঘাটে নৌবাহিনীর জাহাজ সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে এবং হাসপাতাল, জেলখানা, এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম ও অন্যান্য সুবিধা কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ খাবার ও সেবা নিশ্চিত করা হবে।

    আজকের এই দিনে জাতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করবে দেশের মুক্তির জন্য আত্মদানকারী সকল শহিদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের; তাদের ত্যাগ ও আত্মত্যাগের গল্প নতুন প্রজন্মের কাছে জীবন্ত রাখতে হবে। স্বাধীনতা ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা দিয়ে আমরা স্মরণ করবো অতীতের ক্যানভাসে রাঙানো সেই সংগ্রামকে এবং অশেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করবো স্বাধীনতার জন্য প্রাণ উৎসর্গ করা প্রতিটি মানুষকে।

  • চিতলমারীতে বাস চাপায় ঢাকার বাসিন্দা নিহত

    চিতলমারীতে বাস চাপায় ঢাকার বাসিন্দা নিহত

    বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ঢাকার এক বাসিন্দা নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম মোঃ বাবু মোল্লা (৪৩)।

    দুর্ঘটনা বৃহস্পতিবার নয়—প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে কলাতলা ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহত বাবু মোল্লা মোটরসাইকেল (ঢাকা মেট্রো-ল-৬৫-০৬০৬) চালিয়ে চিতলমারী সদর দিকে আসছিলেন। বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতি ও নিয়ন্ত্রণহীন একটি লোকাল বাস তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

    নিহত বাবু মোল্লা ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাতুয়াইল এলাকার মৃত নাছির মোল্লার ছেলে বলে তাঁর কাছ থেকে পাওয়া জাতীয় পরিচয়পত্রে উল্লেখ রয়েছে। চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    ওসি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দ্রুতগতিতে ওই ঘাতক বাসটিকে আটক করে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য উদ্ধার করা হয়েছে এবং বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা অতিরিক্তভাবে বলেন যে, চালকদের সতর্কতা ও সড়কচলাচলের নিয়ম মেনে চলার উপর জোর দেওয়া জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা রোধ করা যায়।

  • চিতলমারীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ঢাকার বাসিন্দা মোঃ বাবু মোল্লা নিহত

    চিতলমারীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ঢাকার বাসিন্দা মোঃ বাবু মোল্লা নিহত

    বাগেরহাটের চিতলমারীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ঢাকার বাসিন্দা মোঃ বাবু মোল্লা (৪৩) নিহত হয়েছেন।

    ঘটনা বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে চিতলমারীর কলাতলা ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকায় ঘটে। নিহত বাবু মোল্লা মোটরসাইকেল (ঢাকা মেট্রো-ল-৬৫-০৬০৬) চালিয়ে চিতলমারী সদরে আসছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশের কাছে জানা গেছে, বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বেপরোয়া গতির লোকাল বাস তাঁকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

    নিহত বাবু মোল্লা ঢাকার দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাতুয়াইল এলাকার মৃত নাছির মোল্লার ছেলে। তাঁর কাছ থেকে পাওয়া জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য উদ্ধৃত করে চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

    ওসি মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘাতক বাসটি আটক করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য উদ্ধার করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

  • সাতক্ষীরায় হেলমেট, লাইসেন্স ও কাগজপত্র ছাড়া মোটরসাইকেলে তেল বিক্রি বন্ধ

    সাতক্ষীরায় হেলমেট, লাইসেন্স ও কাগজপত্র ছাড়া মোটরসাইকেলে তেল বিক্রি বন্ধ

    সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক হেলমেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল বিক্রি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। আদেশটি বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল থেকে জেলার প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে কার্যকর করা হয়।

    জানা গেছে, ঈদের পর থেকেই জেলায় পাম্পগুলোতে তেলের সরবরাহ আছে; তবু তেলের সমস্যা টালমাটাল হচ্ছে না। প্রতিদিন সকালের মুহূর্ত থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনের সামনে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যায়। অনেক চালক সিরিয়াল নেবার জন্য রাতভর পাম্পের আশপাশে ঘুমিয়ে থাকেন।

    বুধবার সকালে মহেশ্বর কাটি, বুধহাটা, ধুলিহর ভাই ভাই, এবি খান, মোজাহার, মজুমদার, সোনালী, আলিপুর ও কপোতাক্ষসহ জেলার বহু পাম্পে খুলনা থেকে তেল আসার অপেক্ষায় শত শত মোটরসাইকেল লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও প্রতি মোটরসাইকেলে সীমিতভাবে ৩০০–৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। শহরের এবি খান পাম্পে দীর্ঘ লাইনের কারণে ব্যাপক যানজট তৈরি হওয়ায় পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের চলাচলে বিঘ্ন পড়ছে।

    একই সঙ্গে শহর ও আশপাশের খোলা বাজারে অতিরিক্ত মূল্যে তেল বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। কিছু খুচরা দোকানে পেট্রোল লিটারপ্রতি ২৫০–৩০০ টাকা এবং অকটেন ৩০০–৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। পাম্প থেকে তেল না পেয়ে অনেকে অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে কেনাকাটা করতে বাধ্য হচ্ছেন।

    এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা প্রশাসন পাম্পগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে—হেলমেট ছাড়া, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা বৈধ কাগজপত্র না থাকলে মোটরসাইকেলে তেল দেয়া হবে না। জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতা এ নির্দেশনাগুলো নিশ্চিত করে বলেন, জেলার পাম্পগুলোতে তেলের সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে; কিন্তু একসঙ্গে কয়েকশো মোটরসাইকেলের ভিড় পরিস্থিতি অব্যবস্থাপনার কারণ হচ্ছে। তাই ভিড় ও যানজট রোধে কাগজপত্র যাচাই করে তেল বিক্রি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    জেলার motorists-দের অনুরোধ করা হয়েছে—হেলমেট পরিধান এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সঙ্গে রাখতে, যাতে ত্বরিতভাবে তেল সরবরাহ পাওয়া যায় এবং যানজট কমে। জেলা প্রশাসন ভবিষ্যতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

  • চিতলমারীতে বেপরোয়া বাসের চাপায় ঢাকার মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

    চিতলমারীতে বেপরোয়া বাসের চাপায় ঢাকার মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

    বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় সড়ক দূর্ঘটনায় ঢাকার একজন বাসিন্দা নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে কলাতলা ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত ব্যক্তি মোঃ বাবু মোল্লা (৪৩) ছিলেন মোটরসাইকেল আরোহী। তিনি ঢাকার দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাতুয়াইল এলাকার মৃত নাছির মোল্লার ছেলে। তাঁর কাছ থেকে পাওয়া জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য উদ্ধৃত করে চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাবু মোল্লা (মোটরসাইকেল নং ঢাকা মেট্রো-ল-৬৫-০৬০৬) চিতলমারী সদরের দিকে আসছিলেন। তখন বিপরীত দিক থেকে একটি বেপরোয়া গতির লোকাল বাস এসে তাঁকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

    ওসি মোঃ নজরুল ইসলাম বলেছেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সন্দেহভাজন ওই বাসটিকে আটক করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনার বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

  • খুলনায় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস স্মরণসভা ও আলোচনা

    খুলনায় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস স্মরণসভা ও আলোচনা

    খুলনায় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা বুধবার (২৫ মার্চ) সকালেই জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকার।

    সভা শুরুতেই ১৯৭১ সালের ওই কালো রাতের স্মরণে শহিদদের প্রতি এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

    জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকার বক্তৃতায় বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালি জনগোষ্ঠীর উপর নির্মম গণহত্যা চালায়—যাকে আমরা স্মরণ করি ‘কালো রাত’ হিসেবে। তিনি emphasized করেন যে গণহত্যার কোনো ঠিকুন নেই, যারা এধরনের অপরাধ চালায় তারা শেষ পর্যন্ত পরাজিত হয়। জন্মভূমির জন্য আত্মদানকে তিনি মহান মর্যাদা হিসেবে আখ্যায়িত করে সবাইকে দেশপ্রেম, মানবপ্রেম ও সেবাবোধ নিয়ে নিজেদের দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান।

    আলোচনা সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মন্ডল, কেএমপির উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শেখ ইমরান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নজরুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    দিবসটি উপলক্ষে খুলনার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণে গণহত্যা ও মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা হয়েছে। বাদজোহর পরে সকল মসজিদে মিলাদ-মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয় এবং মন্দির, গীর্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়েahid সমাপ্তি ঘটে।

  • বাগেরহাটে এক সপ্তাহ ধরে জ্বালানি তেল সংকট, চালকদের দুর্ভোগ

    বাগেরহাটে এক সপ্তাহ ধরে জ্বালানি তেল সংকট, চালকদের দুর্ভোগ

    বাগেরহাটে এক সপ্তাহ ধরে তীব্র জ্বালানি তেল সংকট চলে আসছে। ঈদের তিনদিন আগে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে শুরু হওয়া এই সমস্যায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঘন্টার পর ঘন্টা সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে থাকার পরও পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন না যানচলাচলের সঙ্গে যুক্ত মানুষেরা।

    সরকারি অফিস খুললে সমস্যার শেযশত কমবে বলে আশাও করেছিলেন স্থানীয়রা, কিন্তু বাস্তবে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অধিকাংশ পাম্পে তেল মেলেনি। শহরের খারদ্বার এলাকার খানজাহান আলী ও বরকত পাম্পে তেল না পেয়ে মোটরসাইকেল চালক ইউনুস শেখ ১১ কিলোমিটার দূরে সাইনবোর্ড বাজারের ওসমান আলী পাম্পে ছুটে যান। সেখানে ঘন্টাখানেক দাঁড়িয়ে ২০০ টাকার তেল নিয়ে ফিরে আসতে হয়েছে তাকে।

    জেলায় মোট ২৩টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে — বাগেরহাট সদর, কচুয়া, ফকিরহাট, মোল্লাহাট ও শরণখোলা উপজেলার প্রতিটি পাম্পেই তীব্র তেল সংকট দেখা দিয়েছে। অন্যান্য চারটি উপজেলার মানুষরাও এসব পাম্পের ওপর নির্ভরশীল। পাম্প মালিকরা বলছেন, ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় মাত্র ১০ থেকে ২০ শতাংশ তেল পাচ্ছে তারা, ফলে বিক্রি করার মতো পর্যাপ্ত জোগান হচ্ছে না। অনেক সময় পাম্প পুরো ভরাট রাখা পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

    ঔষধ কোম্পানিতে কর্মরত রোকনুজ্জামান জানান, পেশাগত কারণে প্রতিদিন একশ কিলোমিটারের বেশি গাড়ি চালাতে হয়, আর এক সপ্তাহ ধরে তেলের তীব্র সংকটে তিনি উদ্বিগ্ন। সিগারেট কোম্পানিতে চাকরি করা নুরুজ্জামান বলেন, গতকাল রাতেই তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ২০০ টাকার তেল নিয়ে এসেছেন এবং সুযোগ পেলেই পাম্পে ঢুকে তেল নেওয়ার চেষ্টা করছেন, কারণ কাজ চালাতে মোটরসাইকেল অপরিহার্য।

    পাম্প মালিকরা বলছেন, সাধারণত গণপরিবহনের চাহিদা মেটাতে ডিজেল অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে যাতে বাস-ট্রাক চলাচল বন্ধ না পড়ে এবং ধান ও অন্যান্য ফসলের রেকর্ডায়ন ব্যাহত না হয়। তবে গণপরিবহনের চালকরা অভিযোগ করেন, পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় তাদেরকে অতিরিক্ত চাপে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। রায়েন্দা-ঢাকা রুটের বাস চালক আনসার মুসল্লী বলেন, ডিজেলের অভাবের কারণে নির্ধারিত সময়মতো বাস চালানো যাচ্ছে না; মাঝপথে একাধিক পাম্পে দাঁড়াতে হয়, ফলে যাত্রীরা অভিমত প্রকাশ করে ক্ষুব্ধ হন।

    কিছু পাম্পের কর্মীরা সরবরাহের ঘাটতি নিয়ে বিস্তারিত জানান। খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনের নজেল ম্যান আছাদ জানান, প্রতিদিন তাদের পর্যাপ্ত আনুশীলন অনুযায়ী প্রায় ৩ হাজার লিটার পেট্রোল ও ২ হাজার ৫শ লিটার অকটেন দরকার, কিন্তু ডিপো থেকে দুই দিন পর মাত্র ১৫শ লিটার অকটেন এবং পেট্রোল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক সময় খালি হাতে ফিরতে হয় এবং চালকরা তাদের ওপর অসহিষ্ণুতা দেখান। কচুয়ার সাইনবোর্ড বাজারের ওসমান আলী ফিলিং স্টেশনের মালিক বদিউজ্জামান খোকন বলেন, ডিপো তেল পাঠানো মাত্রই সেখান থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে; তবে প্রয়োজনের তুলনায় কম জোগান আসায় সমস্যা হচ্ছে।

    বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, তেলের এই সংকটের একটি বড় কারণে সাধারণ মানুষজনের মধ্যে অবৈধ মজুদ ও ট্যাংকি ভর্তি রাখা। কেউ কেউ বাড়তি মুনাফার আশায় তেল সংগ্রহ করে মজুদ করছেন, আবার প্রয়োজন ছাড়াও ট্যাংকি পূর্ণ করে রাখায় কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন মাঠ পর্যায়ে তদারকি শুরু করেছে এবং মজুদকারীদের চিহ্নিত করে কারও বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    বিভাগীয় ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, ডিপো-অপারেটর ও পাম্প মালিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত যোগান স্বাভাবিক করাসহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, অন্যথায় যান চলাচল ও কৃষি কাজে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।