Category: সারাদেশ

  • দুই দিনেও উদ্ধার হয়নি সুন্দরবনে অপহৃত ১০ জেলে

    দুই দিনেও উদ্ধার হয়নি সুন্দরবনে অপহৃত ১০ জেলে

    গভীর রাতে সুন্দরবনের চাঁদপাই এলাকা থেকে অপহৃত হওয়া ১০ জেলের দুই দিন পার হতে চললেও এখনও তাদের খোঁজ মেলেনি। কোস্ট গার্ড ও বন বিভাগের সম্মিলিত অভিযান চললেও বনের জটিল ভূগোল ও দস্যুদের ঘন ঘন অবস্থান বদলানোয়ের কারণে এখন পর্যন্ত কোনো সাফল্য মিলেনি। অভিযুক্ত করিম শরীফ বাহিনী অপহৃতদের পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    ঘটনা গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) গভীর রাতে ঘটে। বন বিভাগের জিউধারা স্টেশন এলাকার বরইতলা টহল ফাঁড়ি সংলগ্ন শুয়ারমারা খালে নৌকায় মাছ ধরছিলেন কয়েকজন জেলে। তখন সশস্ত্র দস্যুদের একটি দল আচমকা হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে যে প্রায় ১৫-২০ জনের একটি বহর কায়দায় তারা আক্রমণ করে, জেলেদের মারধর করে মালামাল ছিনিয়ে নেয় এবং শেষ পর্যন্ত ১০ জনকে জিম্মি করে নিয়েছে। পরে দস্যুরা ট্রলারযোগে বনের গভীরে পালিয়ে যায়।

    অপহৃত ১০ জেলের মধ্যে পাঁচ জনের বাড়ি মোংলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। তারা হচ্ছেন নাসির শেখের ছেলে মানিক শেখ, আরোভ গাজীর ছেলে আবু বকর গাজী, আমজাদ ফরাজীর ছেলে জাকির ফরাজী, হানিফ সিকদারের নুরজামাল শিকদার ও ওহিদ মুন্সির ওয়াহিদ মুন্সি। বাকি পাঁচ জেলের বাড়ি পার্শ্ববর্তী মোড়েলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বলে জানায় স্থানীয়রা; তাদের নাম এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। প্রিয়জনদের নিখোঁজ হওয়ার সংবাদে অপহৃতদের পরিবারে গভীর উদ্বেগ ও হতাশা শুধু নয়, আতঙ্কও বিরাজ করছে।

    পরিবারের সদস্যরা জানান, দস্যুরা ফোন করে প্রত্যেক জেলের জন্য ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করেছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা না পেলে জেলেদের হত্যা করার হুমকি দিয়েছে। এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে অনেক জেলে প্রাণ বাঁচাতে বন ছেড়ে স্থানীয় এলাকায় ফিরে আসতে শুরু করেছেন, যা উপকূলীয় মৎস্য আহরণে গুরুত্বপুর্ণ ধাক্কার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

    কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন (মোংলা)’র গোয়েন্দা শাখা অপহারের খবর পেতেই উদ্ধার অভিযানে নামেন। পশুর নদীসহ সুন্দরবনের গুরুত্বপূর্ণ খালগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সম্ভাব্য সকল উদ্ধারপয়েন্টে অভিযান চালানো হচ্ছে। বন বিভাগের জিউধারা, চাঁদপাই ও ঢাংমারী স্টেশনের কর্মকর্তারা কোস্ট গার্ডের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। তবে দুর্লভ ভূগোল, পথের সীমাবদ্ধতা এবং দস্যুদের দ্রুত চলে যাওয়ার কৌশলের কারণে উদ্ধারকাজ এখনও বন্ধ порে পড়েছে।

    স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, একসময় র‌্যাব ও কোস্ট গার্ডের কড়া অভিযানেই সুন্দরবন অনেকটা দস্যুমুক্ত হয়ে উঠেছিল। কিন্তু গত ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের পর থেকে প্রশাসনের টহল কিছুটা শিথিল হওয়ায় সুযোগ নিয়ে নতুন নতুন দস্যু গোষ্ঠী গড়ে উঠছে। তারা বলছেন সুন্দরবনকে স্থায়ীভাবে নিরাপদ রাখতে আবারও বিশেষ ড্রাইভ বা ব্যাপক চিরুনি অভিযান চালানো প্রয়োজন।

    নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, এই ধরনের অপহরণ শুধু একক অপরাধ নয়, এটি উপকূলীয় অর্থনীতি ও স্থানীয়দের জীবনযাত্রার ওপর বড় আঘাত। দ্রুতাতিরিক্ত সময়ে অপহৃতদের উদ্ধার না হলে এবং দস্যু দমন না করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আস্থাহীনতা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কর্তৃপক্ষ পর্যবেক্ষণ ও উদ্ধারকাজ অব্যাহত রেখেছে; এ বিষয়ে পরিবারগুলোও তৎপরতা দাবি করছে।

  • যশোরে বজ্রপাতে ২ জনের মৃত্যু, ঝড়ে বহু গ্রামে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্নতা

    যশোরে বজ্রপাতে ২ জনের মৃত্যু, ঝড়ে বহু গ্রামে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্নতা

    যশোরে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর শুরু হওয়া লঘুচাপের তীব্র ঝড় ও বজ্রপাতে দুই জন নিহত হয়েছেন এবং জেলার অনেক গ্রামে বিদ্যুৎversorgung (বিচ্ছিন্ন) হয়েছে। টানা আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় স্থায়ী এই ঝড়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন এবং বসতঘর, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

    গত কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় জনজীবন কষ্টকর ছিল। দুপুরের পর কালো মেঘ গর্জন করে আকাশ ঢেকে যায় এবং মুহূর্তেই বেগবান বাতাস, শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। ঝড়ের সময় চৌগাছার আন্দুলিয়া গ্রামে আবু তাহের বজ্রপাতে নিহত হন। মনিরামপুরের শাহাপুরে মাঠে যাওয়ার পথে লুৎফর রহমান সরদার বজ্রপাতে মারা যান।

    ঝড়ের প্রভাব বেশ কয়েকটি উপজেলায় অনুভূত হয়েছে। মশ্বিমনগর ইউনিয়নের পারখাজুরা অঞ্চলে গাছ উপড়ে পড়েছে, অনেক বাড়ির চালের টিন উড়ে গেছে এবং একাধিক জায়গায় গাছ চাপা পড়ে বিদ্যুতের খুঁটি ও লাইনে আঘাত লেগেছে। ওই এলাকায়সহ ঝাঁপা, হরিহরনগর ও রাজগঞ্জে এখনো বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যত বন্ধ রয়েছে।

    কেশবপুরেও ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সেখানে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসল নড়বড়ে হয়েছে; অনেক স্থানে গাছ নাড়ে পড়েছে ও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পেছনে পড়েছে, ফলে অসংখ্য এলাকায় তার ছিঁড়ে গেছে। কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঝড়ে আহত ৯ জন চিকিৎসা নিয়েছেন; তাদের মধ্যে দুই জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

    উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, কেশবপুরে প্রায় ১৫০ বিঘা জমির বোরো ধান হেলে পড়েছে এবং আম ও কাঁঠালেরও ব্যাপক নষ্ট হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রাত ৮টা পর্যন্ত ওই উপজেলার অনেক ইউনিয়নে বিদ্যুৎ পুনঃস্থাপন সম্ভব হয়নি। দারুল উলুম আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন জানান, মাদ্রাসার ছাদে গাছ পড়ে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে এবং এলাকার কৃষক-চাষিরা ধান, আম ও কাঁঠালের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে; বিভিন্ন জায়গায় গাছপালার ভাঙনে কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, যশোরে সামগ্রিকভাবে ব্যাপক ফসলহানি হয়নি, কিছু কিছু জায়গায় বোরো ধান হেলে পড়েছে—তবে মোটামুটি ১৬ মিলিমিটার পরিমাণ বৃষ্টিপাত ধানের জন্য আশীর্বাদ হিসেবেই দেখতে পারেন। তারপরও স্থানীয় ক্ষতি থাকলে কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সাহায্য-পরামর্শ দেওয়া হবে।

    যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার হাদিউজ্জামান জানিয়েছেন, বৈশাখী ঝড়ে মনিরামপুর ও কেশবপুরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে; এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৬টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে এবং অনেক জায়গায় লাইনের ওপর গাছ পড়ে রয়েছে। তাদের কর্মীরা রাতেও লাইন মেরামতের কাজ করছেন, তবে সব স্থানে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করা সম্ভব নয়।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যার সময় পর্যন্ত হাসপাতালে আনা রোগীদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শেখ আব্দুল কাদের বলেন, বিভিন্ন স্থানে ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির ছক তৈরি করা হচ্ছে; স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক ও ত্রাণসামগ্রী প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও জনসাধারণকে নিরাপদে রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জরুরি অবস্থায় জনগণকে বিজ্ঞপ্তি মেনে চলতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে না থাকতে বলা হয়েছে।

  • মাজারে কুমিরে মেরে যাওয়া কুকুরটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল: ময়নাতদন্ত

    মাজারে কুমিরে মেরে যাওয়া কুকুরটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল: ময়নাতদন্ত

    বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন দিঘীতে কুমিরের আক্রমণে মারা যাওয়া কুকুরটি জলাতঙ্কে (র্যাবিজ) আক্রান্ত ছিল—এমন তথ্য জানিয়েছে জেলা প্রশাসনের তদন্ত ও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রবল র্য়াগ সৃষ্টি হয়েছিল।

    ফরওয়ার্ড করা ভিডিওতে দেখা যায়, ০৮ এপ্রিল বিকেলে মাজারের প্রধান ঘাট থেকে কুমির ধলা পাহাড় ওই একটি কুকুরকে শিকার করে দিঘীতে টেনে নিয়ে যায়। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযোগ ওঠে কুকুরটিকে ইচ্ছে করে কুমিরের মুখে ফেলে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য জেলা প্রশাসক তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন; কমিটিকে নেতৃত্ব দেন বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিয়া খাতুন।

    তদন্ত পক্রিয়ায় ১১ এপ্রিল বিকেলে জেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে মাজার এলাকায় কুকুরটির ময়নাতদন্ত করা হয়। কুকুরটির মাথার নমুনা পরবর্তীতে সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরি (সিডিআইএল)-এ পাঠানো হয় এবং বুধবার (১৫ এপ্রিল) ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে আসে। রিপোর্ট অনুযায়ী কুকুরটি জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত ছিল।

    বাগেরহাট জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী জানান, সিডিআইএলের পরীক্ষায় কুকুরের জলাতঙ্ক নিশ্চিত হয়েছে। যারা কুকুরটিকে কামড়েছিল, তারাও জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, তাই টিকা নেওয়া জরুরি। তিনি বলেন, কুকুরের সঙ্গে যারা সংস্পর্শে এসেছিলেন তারা টিকা নিয়েছেন এবং হাসপাতাল থেকে তাদের টিকা নেওয়ার প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে।

    কুমিরটির জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাব্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে মোহাম্মদ ছাহেব আলী বলেন, র্যাবিজ সাধারণত স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে ছড়ায় এবং সরীসৃপের মধ্যে এই রোগ সাধারণভাবে দেখা যায় না; তাই কুমিরের মাধ্যমে রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি খুবই কম বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবু কামড়ানো ব্যক্তিদের দ্রুত টিকা নিতে বলা হয়েছে।

    তদন্ত কমিটির প্রধান আতিয়া খাতুন বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং অন্যান্য তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। নানা প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে, আর তদন্তে কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের মুখে ফেলে দেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি—কমিটির ধারণা, কুকুরটি দুর্ঘটনাবশত পুকুরে পড়ে যায়।

    জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন বলেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এবং তদন্তকমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কুকুরটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল এবং কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের মুখে দিলে রাখার কোনো প্রমাণ তারা পাননি।

    স্থানীয়দের মধ্যে যারা আহত হয়েছেন তাদের দ্রুত টিকা গ্রহনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল ও আশপাশের পশু-মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

  • দুই দিন পেরিয়েও উদ্ধার হয়নি সুন্দরবনে দস্যুদের হাতে অপহৃত ১০ জেলে

    দুই দিন পেরিয়েও উদ্ধার হয়নি সুন্দরবনে দস্যুদের হাতে অপহৃত ১০ জেলে

    সুন্দরবনের গভীরে বন্দুকধারী দস্যুদের হামলায় অপহৃত হওয়া ১০ জেলের কোনো খোঁজ মেলেনি, দুই দিন পার করেও উদ্ধার অভিযানে এখনও সাফল্য আসেনি। স্থানীয়রা বলছেন, পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠা দুষ্কৃতীরা সুন্দরবনের নিরাপত্তারই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে।

    স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) গভীর রাতে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আওতাধীন জিউধারা স্টেশন অঞ্চলের বরইতলা টহল ফাঁড়ি সংলগ্ন শুয়ারমারা খালে নৌকায় মৎস্য আহরণ করছিলেন একদল জেলে। তখনই প্রায় ১৫-২০ সদস্যের সশস্ত্র ‘করিম শরীফ বাহিনী’ হঠাৎ করে হামলা চালায়। দস্যুরা জেলেদের মারধর করে তাদের সামগ্রী লুটে নেয় এবং ১০ জনকে জিম্মি করে ট্রলারযোগে বনের ঘন অন্ধকারে নিয়ে যায়।

    অপহৃত ১০ জন জেলের মধ্যে পাঁচজনের বাড়ি মোংলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। তাদের নাম: নাসির শেখ-এর ছেলে মানিক শেখ, আরোভ গাজীর ছেলে আবু বকর গাজী, আমজাদ ফরাজীর ছেলে জাকির ফরাজী, হানিফ সিকদারের নুরজামাল সিকদার এবং ওহিদ মুন্সির ওয়াহিদ মুন্সি। বাকি পাঁচজনের বাড়ি পার্শ্ববর্তী মোড়েলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় থাকলেও তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। প্রিয়জনদের নিখোঁজ সংবাদ পেয়ে পরিবারের সদস্যরা গভীর আতঙ্ক ও দুশ্চিন্তায় দিনরাত কাঁপছেন।

    অপহৃতদের পরিবারগুলোর দাবী, দস্যুরা মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে প্রত্যেক জেলের জন্য ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করেছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাবি না পূরণ করলে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দিয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় জেলেদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়েছে; অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে বন ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছেন, যার ফলে উপকূলীয় মাছ আহরণে বড় ধরণের ব্যাঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন (মোংলা) গোয়েন্দা বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, অপহারের খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ সুন্দরবনের সম্ভাব্য পথসমূহে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে। পশুর নদীসহ গুরুত্বপূর্ণ খালগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বন বিভাগের জিউধারা, চাঁদপাই ও ঢাংমারী স্টেশনের কর্মকর্তারা কোস্ট গার্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে তল্লাশি চালাচ্ছেন। তবে সুন্দরবনের প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিবেশ ও দস্যুদের ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তনের কারণে উদ্ধারকাজে জটিলতা দেখা দিচ্ছে।

    স্থানীয় সচেতন মহল ও বিশ্লেষকদের মতে, এক সময়ে র‌্যাব ও কোস্ট গার্ডের কঠোর অভিযানের ফলে সুন্দরবন দস্যুমুক্ত হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে টহল ও তৎপরতা কিছুটা শিথিল হলে সুযোগ নিয়ে নতুন দস্যু বাহিনী গড়ে উঠছে। তারা মনে করেন সুন্দরবনকে স্থায়ীভাবে নিরাপদ রাখতে আবারও সময়োপযোগী ও পরিপক্ক ‘স্পেশাল ড্রাইভ’ বা ব্যাপক অভিযানের দরকার রয়েছে।

    সিকিউরিটি বিশ্লেষকরা জানান, এই ধরনের অপহরণ কেবল একটি অপরাধই নয়, এটি উপকূলীয় অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের আত্মবিশ্বাসের ওপর প্রভাব ফেলে। দ্রুত এই ১০ জেলেকে উদ্ধার করে দস্যু দমন কার্যক্রম না শক্ত করলে উপকূলীয় জনজীবন ও মৎস্য আহরণ খাতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়বে এবং জনগণের মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি হবে।

    অপহৃতদের পরিবার ও স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর তদন্ত ও তৎপর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের তৎপরতা কামনা করছেন। প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযান ও বৈঠক জোরদারে ব্যস্ত রয়েছেন, এবং তারা আশ্বাস দিয়েছেন—সব দিক বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • সুন্দরবনে ঝড় ও নৌকাডুবি: উদ্ধার ৭ মৌয়াল, এখনও নিখোঁজ ২

    সুন্দরবনে ঝড় ও নৌকাডুবি: উদ্ধার ৭ মৌয়াল, এখনও নিখোঁজ ২

    সুন্দরবনে পৃথক দু‑ঘটনায় মোট সাতজন মৌয়ালকে উদ্ধার করেছে বন বিভাগ; এখনও দুইজন নিখোঁজ রয়েছেন। এক ঘটনার সময় ঝড়ে পথ হারিয়ে ভারতের অংশে ভেসে গিয়ে পাঁচ মৌয়ালের মধ্যে চারজনকে উদ্ধার করা হয়েছে, আর অন্য ঘটনায় নৌকাডুবির চারজনের মধ্যে তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করেছে কর্তৃপক্ষ।

    পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারি রেঞ্জ কনজারভেটর (এসি এফ) মোঃ মশিউর রহমান জানান, মধু সংগ্রহে গেলেও গত ৮ এপ্রিল কালবৈশাখী ঝড়ে তারা পথ হারিয়ে ভারতের অংশে পৌঁছে যান। উদ্ধারকৃত চারজন হলেন— শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম বিড়ালাক্ষীর ফেরদৌস মোল্লার ছেলে রাশিদুল ইসলাম (৩৬), একই গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে তৈবুর রহমান (২৩), বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের শুকুর আলী সরদার (৩৭) এবং কাশিমাড়ী ইউনিয়নের গোদাড়া গ্রামের আব্দুল লতিফ মোল্লা (৬৪)।

    উদ্ধারকৃতরা জানায়, তারা বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন থেকে পাস নিয়ে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহে যাওয়ার সময় দাড়গাং এলাকায় কাচিকাটা যাওয়ার পথে আচমকা কালবৈশাখীর কবলে পড়ে তাদের ট্রলারটি দিক হারিয়ে রায়মঙ্গল নদীর পশ্চিম তীরে গিয়ে ভেসে যায়, যা ভারতের অংশ। পরদিন সকালে নদী শান্ত হলে বাংলাদেশে ফিরতে চেষ্টায় নেমে তাদের নৌযানটি ভারতের বন বিভাগের হাতে আটক হয় এবং বাকি চারজন বনাঞ্চলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। দুই দিন পায়ে হেঁটেই তারা আবার একত্রিত হওয়ার পরও ভারতীয় বন বিভাগের টহলের কারণে দেশে ফিরতে ব্যর্থ হন। পরে রাতের আঁধারে একটি অস্থায়ী ভেলা বানিয়ে তারা গাড়াল নদী পাড়ি দিয়ে ছায়া নদীর তীরে পৌঁছাতে সক্ষম হন। প্রায় তিন দিন না খেয়ে দুরবস্থায় পড়ে তাদের হলদেবুনিয়া টহল ফাইবার বোট উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাদ্য দেয় এবং অফিসে নিয়ে এসে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    উদ্ধারকৃতরা বলেছেন, তাদের সঙ্গে থাকা শওকাত আলী গাজী ভারতের বন বিভাগের কাছে আটক আছে বলে দাবি করেন। শওকাত আলী গাজী শ্যামনগরের আটুলিয়া ইউনিয়নের ছোটকুপট গ্রামের অবের আলী গাজীর ছেলে।

    বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা ফজলুল হক জানান, পাঁচজন ১ এপ্রিল পাস নিয়ে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহে গিয়েছিল। বিষয়টি জানতে পেরে বন বিভাগ তৎপর হয়ে মঙ্গলবার ভোরে চারজনকে উদ্ধার করে। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা দেয়া হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে আত্মীয়-স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, ৮ এপ্রিল কাচিকাটা এলাকায় ঘটে যাওয়া নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ চার জনের মধ্যে তিন জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে বনবিভাগ জানিয়েছে। এই তিনজন হলেন— শ্যামনগর উপজেলার গোদাড়া এলাকার ওহিদ মোল্লার ছেলে ওলিউর রহমান, আব্দুর রহমান গাজীর ছেলে মিকাইল হোসেন এবং আইউব আলীর ছেলে ইকরামুল কবির। তবে একই গ্রামের আকবর হোসেন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

    বন বিভাগের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, উদ্ধারকৃতদের সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাদ্য সরবরাহ করা হয়েছে এবং তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চলেছে।

  • কেএমপিতে ১১ কর্মকর্তাকে বদলী, সাত থানায় নতুন ওসি

    কেএমপিতে ১১ কর্মকর্তাকে বদলী, সাত থানায় নতুন ওসি

    খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) বুধবার ১১ জন কর্মকর্তাকে বদলী করেছে। এর মধ্যে সাতটি থানায় নতুন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিয়োগ করা হয়েছে। বদলীর সিদ্ধান্তটি কেএমপি উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর) এম এম শাকিলুজ্জামানের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।

    এর আগে ১২ এপ্রিল কেএমপির চার থানার অফিসার ইনচার্জকে খুলনার বাইরে রাজশাহী ও বরিশাল রেঞ্জে বদলী করা হয়েছিল।

    প্রজ্ঞাপনে বদলী হওয়ার কর্মকর্তা ও তাদের নতুন দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে: পুলিশ পরিদর্শক এস এম জাবীদ হাসান — খালিশপুর থানা; পুলিশ পরিদর্শক মু. মোরাদুল ইসলাম — দৌলতপুর থানা; পুলিশ পরিদর্শক মোঃ হালিমুর রহমান — আড়ংঘাটা থানা; পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আবুল বাশার — খানজাহান আলী থানা; পুলিশ পরিদর্শক মোঃ শফিকুল ইসলামকে দৌলতপুর থানা থেকে খুলনা থানায় স্থানান্তর করা হয়েছে; পুলিশ পরিদর্শক (ডিবি) মোঃ হেলাল উদ্দিন — হরিণটানা থানা; এবং রেশন স্টোর ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক সৈয়দ মোশারেফ হোসেন — লবনচরা থানা।

    একই প্রজ্ঞাপনে পুলিশ পরিদর্শক লোকমান হোসেন, খালিশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ তৌহিদুজ্জামান এবং আড়ংঘাটা থানার ওসি শাহজাহান আহমেদকে গোয়েন্দা বিভাগে মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ পরিদর্শক মোশাররফ হোসেনকে রেশন স্টোরের ইনচার্জ হিসেবে বদলী করা হয়েছে।

    বদলীর এই রদবদল বিকল্প দায়িত্ব ও প্রশাসনিক প্রয়োজনে করা হয়েছে বলে কেএমপি সূত্র জানিয়েছে।

  • পুলিশ নিয়োগ হবে শতভাগ মেধাভিত্তিক, দালালের ফাঁদে না পড়ার আহ্বান

    পুলিশ নিয়োগ হবে শতভাগ মেধাভিত্তিক, দালালের ফাঁদে না পড়ার আহ্বান

    খুলনা রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) বলছেন — পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে ঘুষ, তদবির বা দালালচক্রকে একেবারেই গ্রহণ করা হবে না। বুধবার (১৫ এপ্রিল) কনফারেন্স রুমে আয়োজিত প্রেসব্রিফিংয়ে তিনি এই কঠোর বার্তা দেন।

    ডিআইজি বলেন, ‘‘পুলিশে চাকরি পেতে টাকা লাগে—এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। জমিজমা বিক্রি করে বা ধার করে কোনো দালালের হাতে টাকা দেবেন না।’’ তিনি আবেদনকারীদের সতর্ক করে জানান, নিয়োগ পুরোপুরি স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক রাখা হবে—পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতিই নির্দেশক।

    দালালদের দৌড়ঝাঁপ বন্ধে পুলিশের নিজস্ব গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানান ডিআইজি। তিনি আরও বলেন, যদি কেউ অর্থের বিনিময়ে চাকরি নেবে এবং সেটি পরবর্তীতে তিন বছরের মধ্যে প্রমাণিত হয়, তাহলে তার নিয়োগ বাতিল এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে প্রতারণার অভিযোগে কয়েকজন দালালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

    ডিআইজি সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও এতিম প্রার্থীদের স্বার্থে বিশেষ জোর দেন—যোগ্যতা থাকলে তারা অগ্রাধিকারে নিয়োজিত হবেন। ‘‘তাদের জন্য কোনো তদবিরের প্রয়োজন নেই; মেধাই একমাত্র যোগ্যতা হবে,’’ তিনি বলেন।

    এবারকার নিয়োগে প্রবল প্রতিযোগিতার চিত্র তুলে ধরে ডিআইজি জানান, খুলনা রেঞ্জে প্রতিটি পদের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৪ হাজার ৬৬৫ জন প্রার্থী আবেদন করেছেন। কোটাভিত্তিক পদে যদি উপযুক্ত প্রার্থী না পাওয়া যায়, তাহলে সাধারণ মেধাতালিকা থেকে শূন্যপদ পূরণ করা হবে।

    নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিনি গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন এবং জনসাধারণকে সচেতন করার অনুরোধ জানান—পুলিশে চাকরিতে কোনো টাকা লাগে না। কোথাও অনিয়মের তথ্য পান তৎক্ষণাৎ জানাতে বলেও তিনি অনুরোধ করেন; পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।

    সংবাদ সম্মেলনে খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

  • নাগরিকদের জীবনমান সহনীয় করতে সরকারের অর্জন সন্তোষজনক নয়

    নাগরিকদের জীবনমান সহনীয় করতে সরকারের অর্জন সন্তোষজনক নয়

    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর হাফেজ মাওলানা অধ্যক্ষ আব্দুল আউয়াল বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর গঠন হওয়া সরকারের দুই মাস কেটে গেলেও নাগরিকদের জীবনমান সহনীয় করতে তেমন কোনো তাৎপর্যপূর্ণ অর্জন দেখা যায়নি। জ্বালানি সংকটে সারা দেশে মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে, নিত্যপণ্যের দাম আগেই নাগালের বাইরে ছিল — এখন তা আরও বেড়েছে। প্রতিদিন শিশু মৃত্যুর মতো হৃদয়বিদারক খবর আসছে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও প্রত্যাশামত উন্নত হয়নি। সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় মানুষের জীবন অনেক ক্ষেত্রে আগের চেয়ে আরও খারাপ হয়েছে। তিনি সরকারের প্রতি দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

    আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘দায়িত্বশীল তারবিয়া’ বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব মন্তব্য করেন হাফেজ মাওলানা অধ্যক্ষ আব্দুল আউয়াল। অনুষ্ঠানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খুলনা নগর সভাপতি আলহাজ্ব মুফতী আমানুল্লাহ সভাপতিত্ব করেন এবং সেক্রেটারি আলহাজ্ব মুফতী ইমরান হুসাইন অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।

    বৈঠকে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক বলেন, সংস্কার নিয়ে বিএনপির পরিকল্পনা জনমনে গ্রহণযোগ্য হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকার গঠনের পর বিভিন্ন অধ্যাদেশ — গণভোট অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, মানবাধিকার অধ্যাদেশ ও বিচার বিভাগ সম্পর্কিত অধ্যাদেশসমূহ বাতিলের কারণে জনমনে সরকারের নীতি ও মনোভাব নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তারা বারবার এসব অধ্যাদেশ বাতিল না করার অনুরোধ করলেও তা বাতিল করা হয়েছে, যার ফলে জনগণের মধ্যে ‘আওয়ামী আমলের মতো দুঃশাসন’ ফিরে আসার আশংকা তৈরি হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি সরকার আবারও স্বৈরাচারী আচরণ করে তাহলে তাদের বাধ্য হয়ে রাজপথে নামতে হবে।

    বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি মোস্তফা কামাল, খুলনা জেলা সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল্লাহ ইমরান, এবং আবু গালিব, শেখ হাসান, ওবায়দুল করিম।

    আরও বক্তব্য রাখেন নগর সহ-সভাপতি শেখ মোঃ নাসির উদ্দিন, আলহাজ্ব আবু তাহের, হাফেজ আব্দুল লতিফ, জয়েন্ট সেক্রেটারি মাঃ দ্বীন ইসলাম, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোঃ ইমরান হোসেন মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মাঃ সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া, প্রচার ও দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ তরিকুল ইসলাম কাবির, দপ্তর সম্পাদক আরিফুর রহমান, অর্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ হুমায়ুন কবির, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুফতি ইসহাক ফরীদি, ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদক গাজী ফেরদাউস সুমন, শিক্ষা ও সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোঃ মঈন উদ্দিন ভূঁইয়া, এ্যাডভোকেট কামাল হোসেন, মোল্লা রবিউল ইসলাম তুষার, কাদেরি মোঃ জামাল উদ্দিন ও মাওঃ নাসিম উদ্দিন প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা জিএম কিবরিয়া, বন্দ সরোয়ার হোসেন, আলহাজ্ব মোঃ বাদশা খান, আলহাজ্ব মারুফ হোসেন, এইচ এম খালিদ সাইফুল্লাহ, মুফতি আমানুল্লাহ, এইচ এম আরিফুর রহমান, গাজী মিজানুর রহমান, মোঃ মঈন উদ্দিন, সদস্য আলহাজ্ব আব্দুস সালাম, আলহাজ্ব আমজাদ হোসেন, আলহাজ্ব জাহিদুল ইসলাম টুটুল মোড়ল, মোঃ শহিদুল ইসলাম সজিব, মোঃ কবির হোসেন হাওলাদার, আবুল কাশেম, মোঃ বাদশা খান, মোঃ মিরাজ মহাজন, শ্রমিক নেতা মৌলভী আল আমিন, যুব নেতা মোঃ আব্দুর রশিদ, জাতীয় শিক্ষক ফোরাম নেতা হাফেজ মাওলানা ইমদাদুল হক, ছাত্র নেতা মোঃ মাহদী হাসান মুন্না সহ আরও আঞ্চলিক ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    অবশেষে নেতৃত্বরা সরকারের প্রতি আবারও জোরালো আহ্বান জানান—দ্রুত সময়ের মধ্যে নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা পূরণ, মূল্য স্থিতিশীল করা, জ্বালানি সংকট নিরসন এবং আইন-শৃঙ্খলা পুনঃস্থাপনের জন্য পদক্ষেপ নিলে জনগণের আস্থা ফেরত আসতে পারে।

  • খুলনায় বাস-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দম্পতি নিহত

    খুলনায় বাস-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দম্পতি নিহত

    খুলনার দৌলতপুর থানার রেলিগেট এলাকায় বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দু’জন নিহত হয়েছেন। ঘটনা ঘটে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ফুুলতলা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে থাকা রয়েল পরিবহনের একটি বাস রেলিগেটে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে ছুটে আসা একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে।

    নিহতরা হলেন বাটিয়াঘাটা উপজেলার ভাদগাতি এলাকার বাসিন্দা মহিউদ্দিন শেখের ছেলে তানভীর হাসান শেখ (৩১) ও তার স্ত্রী লামিয়া বেগম (২৮)। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই বা তৎক্ষণাৎ তাদের মারাত্মক আঘাত লাগে; পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

    দৌলতপুর থানা পুলিশের কর্মকর্তা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর উপস্থিত লোকজন দ্রুত আহতদুটিকে হাসপাতালে পাঠায় এবং ঘাতক বাসটিকে আটক করা হয়। কিন্তু বাসের চালক গাড়ি ফেলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

    দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ঘাতক চালককে এখনও ধরে নেওয়া যায়নি, তবে বাস জব্দ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা সাপেক্ষে মরদেহ পরিবারকে হস্তান্তর করা হবে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নিহত দম্পতি তাদের এলাকায় পরিচিত ও পরিবারের একক আয়ের উৎস ছিলেন, ফলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

  • চিতলমারীতে স্থগিত ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু; ৬৯৬ পরীক্ষার্থীর ১৯৮ অনুপস্থিত

    চিতলমারীতে স্থগিত ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু; ৬৯৬ পরীক্ষার্থীর ১৯৮ অনুপস্থিত

    বাগেরহাটের চিতলমারীতে নিরাপত্তা বজায় রেখে সুন্দর পরিবেশে ২০২৫ সালে স্থগিত থাকা প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা বুধবার (১৫ এপ্রিল) থেকে শুরু হয়েছে। প্রথম দিন বাংলা বিষয়ের পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চলে। উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা পরীক্ষাকেন্দ্রে সতর্ক অবস্থায় ছিলেন।

    উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যানুসারে মোট পরীক্ষার্থী ৬৯৬ জন, যার মধ্যে ছাত্রী ৪৩৬ জন এবং ছাত্র ২৬০ জন। প্রথম পরীক্ষাদিন বাংলা বিষয়ে অনুপস্থিত ছিলেন ১৯৮ জন পরীক্ষার্থী—এদের মধ্যে ছাত্রী ১৩৭ জন এবং ছাত্র ৬১ জন। দুইটি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় মোট উপস্থিত ছিলেন ৪৯৮ জন। বাংলা প্রশ্নপত্রে কোনো বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেনি।

    কেন্দ্র কার্যক্রমে চিতলমারী সরকারি এস এম মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার খান। একে ফায়জুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রধান শিক্ষক মোঃ মোহিতুল ইসলাম।

    চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বলেন, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি জানান, পরীক্ষার নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রগুলোর চারপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং প্রত্যেক কেন্দ্রেই প্রয়োজনীয় চেয়ারম্যান ও চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

    পরীক্ষার সূচি অনুযায়ী আগামী ১৬ এপ্রিল ইংরেজি, ১৭ এপ্রিল প্রাথমিক গণিত এবং ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ও প্রাথমিক বিজ্ঞান পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি পরীক্ষা সকাল ১০টায় শুরু হয়ে আড়াই ঘণ্টা ধরে চলবে।