Category: সারাদেশ

  • সাতক্ষীরায় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে যুবক মোস্তফা ফরহাদ নিহত

    সাতক্ষীরায় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে যুবক মোস্তফা ফরহাদ নিহত

    শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথে ভ্যান থেকে ছিটকে পড়ে দ্রুতগতির ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে সাতক্ষীরার এক যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত প্রায় ৯টায় পাটকেলঘাটা থানাধীন সাতক্ষীরা–খুলনা মহাসড়কের কুমিরা অভয়তলা এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

    নিহত যুবকের নাম মোস্তফা ফরহাদ হোসেন (৩২)। তিনি সাতক্ষীরা শহরের উত্তর কাটিয়া এলাকার ঠিকাদার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। স্থানীয়রা জানায়, ফরহাদ তার স্ত্রীর সঙ্গে সাতক্ষীরা থেকে পাটকেলঘাটা এসে সেখানে ভ্যানে চড়েন এবং যশোর কেশবপুর উপজেলার মহাদেবপুরে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিরতিহীনভাবে ভ্যান থেকে ছিটকে পড়েন।

    পথচারীদের বর্ণনা অনুযায়ী বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ট্রাক তাকে চাপ দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। খবর পেয়ে পাটকেলঘাটা থানা পুলিশ রাতেই মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়রা ওই ট্রাকটিকে আটক করে; তবে চালক পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

    পাটকেলঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. লুৎফুল কবীর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • খুলনায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে ‘ক্রাশ’ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু

    খুলনায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে ‘ক্রাশ’ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু

    ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে খুলনা মহানগরীতে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম হিসেবে ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ উদ্বোধন করা হয়েছে।

    শনিবার (১৪ মার্চ) খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের এরশাদ আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নগরবাসীকে সচেতন করে তুলতে এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

    কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে এই প্রস্তুতিমূলক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পরপর প্রতিটি ওয়ার্ডে এভাবে অভিযান চালিয়ে জনগণকে স্বপ্রণোদিত করে অংশগ্রহণে নিয়ে আসা হবে। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশন নর্দমা পরিষ্কার এবং মশক নিধনে কাজ করবে, কিন্তু জনগণেরও দায়িত্ব আছে — নর্দমা ও কোনো জলাশয়ে বর্জ্য না ফেলতে হবে।

    প্রশাসক কার্যক্রমে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন এবং সাধারণ মানুষকে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, সকলের সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এই মারাত্মক রোগের সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খুলনা জেলা প্রশাসক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আ. স. ম. জামসেদ খোন্দকার, খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনাসহ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু

    সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু

    সাতক্ষীরায় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে এক যুবক নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম মোস্তফা ফরহাদ হোসেন (৩২)। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পাটকেলঘাটা থানাধীন সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের কুমিরা অভয়তলা নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    ঘটনাস্থল ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ফরহাদ তার স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে সাতক্ষীরা থেকে পাটকেলঘাটা আসেন। সেখান থেকে ভ্যানযোগে জশোরের কেশবপুর উপজেলার মহাদেবপুর গ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে রাত সাড়ে ৯টার দিকে কুমিরা অভয়তলা এলাকায় ভ্যান থেকে আচমকাই ছিটকে পথে পড়ে যান তিনি। ঠিক ওই মুহূর্তে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি ট্রাক তাকে চাপ দিলে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু ঘটে।

    স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার পর অঞ্চলের মানুষ ওই ট্রাকটিকে আটক করার চেষ্টা করলে ট্রাকটি থামানো যায়; কিন্তু চালক পালিয়ে যান। পাটকেলঘাটা থানা পুলিশ খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

    নিহত মোস্তফা ফরহাদ সাতক্ষীরা শহরের উত্তর কাটিয়া এলাকার ঠিকাদার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদুল ইসলাম ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘‘ওরা দুইজনই ভ্রমণে ছিলেন; হঠাৎ কেন রাস্তায় পড়েছিলেন তা স্পষ্ট নয়।’’

    পাটকেলঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. লুৎফুল কবীর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কোনো অভিযোগ না থাকায় নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশকে জানানো হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও যেই ট্রাক involved ছিলেন তার চালককে শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।

  • ডেঙ্গু প্রতিরোধে খুলনায় ‘ক্রাশ’ কর্মসূচির উদ্বোধন

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে খুলনায় ‘ক্রাশ’ কর্মসূচির উদ্বোধন

    ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধের লক্ষ্যে খুলনা মহানগরীতে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে ক্রাশ প্রোগ্রাম উদ্বোধন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বলা হয়েছে, এ কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ওয়ার্ডে সম্প্রসারিত করা হবে যাতে জনগণ স্বপ্রণোদিত হয়ে এতে অংশ নেয়।

    শনিবার (১৪ মার্চ) খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগরীর ২১ নং ওয়ার্ডের এরশাদ আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রাশ প্রোগ্রামের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি কার্যক্রমের লক্ষ্য ও দায়িত্ব সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন।

    নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে এটি একটি প্রস্তুতিমূলক ও বিশেষ কর্মসূচি। আমরা এমনভাবে কাজ চালাবো যাতে সাধারণ মানুষও সচেতন হয় এবং নিজ উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতায় অংশগ্রহণ করে। শহরের নর্দমা ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণসহ সরাসরি মশক নিধন কার্যক্রম সিটি কর্পোরেশন নিশ্চিত করবে।

    প্রশাসক আরও বলেন, সিটি কর্পোরেশন নর্দমাসমূহ পরিষ্কার করবে — তবে জনগণেরও দায়িত্ব আছে; নর্দমায়, পুকুরে বা যেকোনো জলাশয়ে বর্জ্য ফেলা যাবে না। তিনি পরিচ্ছন্নতা কাজে জড়িত সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন এবং জনসাধারণকে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, সকলের সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টাই এই মরণঘাতী রোগের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায়।

    অনুষ্ঠানে খুলনা জেলা প্রশাসক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আ. স. ম. জামসেদ খোন্দকার, খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনাসহ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

  • মোংলা: মহিলা দলের নেত্রীর বাড়ি থেকে ১৯৭ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার, স্বামী গ্রেফতার

    মোংলা: মহিলা দলের নেত্রীর বাড়ি থেকে ১৯৭ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার, স্বামী গ্রেফতার

    মোংলার চিলা এলাকায় নারী রাজনীতিবিদ তানিয়া বিশ্বাস (লিথি) এর বসতঘর থেকে ১৯৭ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড। অভিযানে তার স্বামী শান্ত পাড়ইকে আটক করা হয়। ঘটনা শুক্রবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যা–রাতে ঘটেছে বলে এলাকাবাসী ও কোস্ট গার্ড সূত্র জানিয়েছে।

    কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন শুক্রবার রাতে মোংলা থানাধীন চিলা বাজার সংলগ্ন ওই বাড়িতে বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানে জব্দ করা মদের মূল্য প্রায় ১০ লক্ষ টাকা ধার্য করা হয়েছে। অভিযানের সময় বাড়িতে উপস্থিত লিথির স্ত্রী বা পরিবারের অন্য সদস্যরা তাদের তৎপরতায় কোস্ট গার্ডকে তথ্য জানায় এবং অভিযানের সময় শান্ত পাড়ই পালানোর চেষ্টা করলেও পরে ধাওয়া করে তাকে আটক করা হয়।

    আটক ব্যক্তির নাম পরিচয় থেকে জানা যায়, তিনি শান্ত পাড়ই (অভিজিৎ পাড়ই) — মোংলা থানার চাঁদপাই ইউনিয়নের দক্ষিণ কাইনমারী গ্রামের পুত্র। এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, আটককৃত ব্যক্তিকে মাদক ও অবৈধ মারচেন্ডাইজ ব্যবসায় জড়িত সন্দেহ করা হচ্ছে।

    তানিয়া বিশ্বাস (লিথি) সম্পর্কে জানা যায়, তিনি মোংলা থানার জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সহ-সভাপতি। মদ উদ্ধার সংক্রান্ত বিষয়টি জানালে লিথি স্বীকার করেন যে বাড়িতে মদ পাওয়া গেছে, কিন্তু দাবি করেন যে মদগুলো তাদের নয় — এগুলো তার স্বামীর পরিচিত একজন ব্যক্তির ছিল। তিনি সেই ব্যক্তির নাম জানাতে অস্বীকার করেন এবং জানান তারা কেবল সেই মদগুলো বাড়িতে রাখার অনুমতি দিয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি জানান, তার স্বামী ওয়ার্ড স্তরের বিএনপি সদস্য।

    মোংলা থানা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক লিপি বেগম বলেন, কোনো অপরাধীই দলের উপরে নয়; মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলে আইন সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর হবে, দলের মর্যাদা যাই থাকুক না কেন। তিনি জানান, দলের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লিপি বেগম আরও উল্লেখ করেন, দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব—বিশেষত দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও স্থানীয় শীর্ষ নেতারা—মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন।

    কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন ঘটনার সত্যতা একটি প্রেস নোটে নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, জব্দকৃত মদ ও আটককৃত শান্ত পাড়ইকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য মোংলা থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম চলছে। তদন্ত শেষে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও তিনি জানান।

    এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা ফুটে তোলে বিক্রয় ও অবৈধ মাদক চক্রের কার্যক্রমের গভীরতা, এবং তারা আশা করেন আইনশৃңখলা বাহিনী দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করবে।

  • সাতক্ষীরায় ট্রাকে পিষ্ট হয়ে যুবক মোস্তফা ফরহাদ নিহত

    সাতক্ষীরায় ট্রাকে পিষ্ট হয়ে যুবক মোস্তফা ফরহাদ নিহত

    সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা-পাশ্ববর্তী কুমিরা অভয়তলা এলাকায় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মোস্তফা ফরহাদ হোসেন (৩২) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। জানা যায়, শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মোস্তফা ফরহাদ সাতক্ষীরা শহরের উত্তর কাটিয়া এলাকার ঠিকাদার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। স্থানীয়রা জানায়, তিনি স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বাসে পাটকেলঘাটায় আসেন এবং সেখানে ভ্যানে চড়ে যশোরের কেশবপুর উপজেলার মহাদেবপুর গ্রামের শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে একই রাতে পাটকেলঘাটা থানাধীন সাতক্ষীরা–খুলনা মহাসড়কের কুমিরা অভয়তলা মোড়ে ভ্যান থেকে হঠাৎ ছিটকে পড়েন।

    পাঠানদের বর্ণনা অনুযায়ী বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি ট্রাক তাকে চাপ দেয়। ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মোস্তফা ঘটনাস্থলেই নিহত হন। খবর পেয়ে পাটকেলঘাটা থানা পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার পর স্থানীয়রা ঘাতক ট্রাকটি আটক করে; তবে চালক পালিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

    পাটকেলঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. লুৎফুল কবীর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না থাকায় নিহতের মরদেহ পরিবারের দিকে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন ও নিহতের পরিবার শোকাহত।

  • খুলনায় প্রতি ৫০০ টন বর্জ্যের মধ্যে ১৫% প্লাস্টিক ও ১০% ই-বর্জ্য

    খুলনায় প্রতি ৫০০ টন বর্জ্যের মধ্যে ১৫% প্লাস্টিক ও ১০% ই-বর্জ্য

    নগর ভবনের জিআইজেড মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক বর্জ্য (ই-বর্জ্য) ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক প্রেরিত “ডিমান্ড ফর জাস্টিস” শীর্ষক নোটিশের প্রেক্ষিতে কেসিসি এই সভার আয়োজন করে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, বেলা ও বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় গবেষণার তথ্য উদ্ধৃত করে জানানো হয়, প্রতি ৫০০ টন বর্জ্যের মধ্যে প্রায় ১৫ শতাংশ প্লাস্টিক (প্রায় ৭৫ টন) এবং ১০ শতাংশ ই-বর্জ্য (প্রায় ৫০ টন) রয়েছে। এছাড়া বলা হয় এই হার বছরে ২০–৩০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ই-বর্জ্য মাটি, পানি ও বায়ু দূষণের কারণ হয়ে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত, শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা ও দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের মতো গুরুতর রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

    সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়: ই-বর্জ্য পৃথক করে সংগ্রহের ব্যাপারে জনগণকে জানানো হবে, ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে প্রচারপত্র বিতরণ ও বিলবোর্ডে প্রদর্শনের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানো হবে, কেসিসি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সক্রিয়ভাবে প্রচারে যুক্ত করার অনুরোধ জানানো হবে এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হবে। এছাড়া বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    সভায় ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবহার হ্রাস, প্রতিটি পণ্যের সম্ভাব্য আয়ু বাড়ানো ও মেরামত-রিপেয়ার উৎসাহিত করার পাশাপাশি নির্মাণাধীন বর্জ্য রিসাইক্লিং প্ল্যান্টে ই-বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও রিসাইক্লিং-এর সুযোগ রাখা হলে সমস্যার সমাধানে সহায়ক হবে বলে সুপারিশ করা হয়।

    সভায় বক্তৃতায় কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, মহানগরকে ঝুঁকিমুক্ত, সবুজ ও সুস্থ শহর হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। এর প্রথম ধাপ সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ; বর্জ্য সংগ্রহকারী থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সকল অংশধারীকে পরিকল্পনার আওতায় এনে কাজ শুরু করতে হবে, তিনি বলেন।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. মোঃ মুজিবুর রহমান, চীফ প্ল্যানিং অফিসার আবির উল জব্বার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শরীফ শাম্মিউল ইসলাম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কোহিনুর জাহান, নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনিচুজ্জামান, শেখ মোঃ মাসুদ করিম, কনজারভেন্সি অফিসার প্রকৌশলী মোঃ আনিসুর রহমান, মোঃ অহিদুজ্জামান খান, আর্কিটেক্ট রেজবিনা খানম, ভেটেরিনারি সার্জন ড. পেরু গোপাল বিশ্বাস, আইটি ম্যানেজার শেখ হাসান হাসিবুল হক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশীদ, এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিনসহ অন্যান্য ওয়ার্ড পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ।

    বিকেলে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে কেসিসি’র পূর্ত বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক সভায় মিলিত হন। সেখানে তিনি চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। জলাবদ্ধতা নিরসনকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদ্যমান ড্রেন ব্যবহারের মাধ্যমে তা মোকাবিলা করতে হবে। পাশাপাশি নগর সম্প্রসারণ, ময়ূর নদ সংস্কার, রিভারসাইড সড়ক নির্মাণ ও ক্ষতিগ্রস্ত শহর রক্ষা বাঁধ মেরামতের পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

    পূর্ত বিভাগের সভায় উপস্থিত ছিলেন কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, চীফ প্ল্যানিং অফিসার আবির উল জব্বার, নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনিচুজ্জামান, শেখ মোঃ মাসুদ করিম, সিসিএইউডি প্রকল্পের টিম লিডার ক্যামেরুন ল।, মেহেদী হাসানসহ সহযোগী প্রকৌশলী ও সহকারীরা।

  • ঝিনাইদহে সংঘর্ষে আহত বিএনপি কর্মী তরু মিয়া ঢাকায় মারা গেছেন

    ঝিনাইদহে সংঘর্ষে আহত বিএনপি কর্মী তরু মিয়া ঢাকায় মারা গেছেন

    ঝিনাইদহের মাধবপুরে জামায়াত ও বিএনপির কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত বিএনপির কর্মী তরু মিয়া (৪৮) শুক্রবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। হাসপাতাল সূত্রে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে জামায়াতের নারী কর্মীদের একটি আলোচনা সভায় বাধা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ ঘটনায় উভয়পক্ষ মিলিয়ে অন্তত আটজন আহত হন।

    আহতদের প্রথমে ঝিনাইদহ জেনারেল হাসপাতালে আনা হয় বলে জানিয়েছেন ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি আবু কালাম। তিনি বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হলে তরু মিয়া বমি করছিলেন এবং তার শারীরিক অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় চিকিৎসক তাকে ঢাকায় স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। ঢাকায় এসে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তার মরদেহ বর্তমানে বাড়িতে নেওয়া হচ্ছে।

    নিহত তরু মিয়ার বাড়ি মাধবপুর গ্রামে। পরিবার বলছে, তিনি প্রায় দুই যুগ বিদেশে ছিলেন এবং পাঁচ মাস আগে দেশে ফিরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যেতেন। তার ছেলে শিপন রহমান ইউনিয়ন ছাত্রদলের কর্মী বলেও জানা গেছে।

    ঘটনাস্থলের একপক্ষ জানতে চাইলে সদর উপজেলা জামায়াতের আমির ড. হাবিবুর রহমান দাবি করেন, জামায়াতের নারী কর্মীদের তালিম কর্মসূচিতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা অনায়াসে হামলা চালায়, তা সত্ত্বেও হামলার ঘটনা সংঘটিত হয়।

    অন্যদিকে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু অভিযোগ করেন, জামায়াতের নারী কর্মীরা বিএনপি পরিবারের নারীদের জোর করে তালিমে নিতে চেয়েছিল; বিষয়টি জানতে গেলে আগে থেকেই ওত-পেতে থাকা জামায়াত কর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।

    ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) শেখ বিলাল হোসেন ঘটনায় তরু মিয়ার ঢাকায় মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি যাতে শিগগিরই নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, সেজন্য এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাসদস্যরা টহল দিচ্ছেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি মনিটর করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    উপজেলা ও পুলিশ সূত্র মতে, ঘটনার সঠিক কারণ ও হামলার পর্যায়ক্রমিক দায়-দায়িত্ব নির্ণয়ের জন্য তদন্ত চলছে। পুলিশ এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

  • রামপালের সড়ক দুর্ঘটনায় বর সাব্বিরসহ একই পরিবারের ৯ জনের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন

    রামপালের সড়ক দুর্ঘটনায় বর সাব্বিরসহ একই পরিবারের ৯ জনের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন

    খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত বর সাব্বিরসহ একই পরিবারের ৯ জনের জানাজা ও দাফন শুক্রবার (১৩ মার্চ) সম্পন্ন হয়েছে। ওই দুর্ঘটনায় মোট ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছে।

    জুম্মার নামাজের পর মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে শুক্রবার অনুষ্ঠিত জানাজায় মরদেহগুলো রাখা ও জানাজা শেষে তাদের মোংলা পৌরসভার কবরস্থানে দাফন করা হয়। মরদেহ সকাল থেকেই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রামপাল হাসপাতাল থেকে এনে গোসল সম্পন্ন করে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন মাঠে রাখা হয়েছিল। পরে বর-কনেপক্ষের কয়েকজনকে তাদের নিজ নিজ বাড়ি কয়রা ও রামপালে দাফন করা হয়।

    নিহতদের মধ্যে ৯ জনই মোংলা পোর্ট পৌরসভা ৮ নং ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারের সদস্য। নিহতদের নামসমূহ — আব্দুর রাজ্জাক, তার দুই ছেলে সাব্বির ও আব্দুল্লাহ, এক কন্যা ঐশী, চার নাতি-নাতনি আরফা, ইরান, ফাহিম ও আলিফ এবং পুতুল বেগম। এছাড়া কয়রার কনের দাদি, নানী, বোন ও কনে এবং রামপালের মাইক্রোবাস চালকও দুর্ঘটনায় মারা যান।

    মোংলায় মরদেহ পৌঁছালে শহরজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। জানাজার নামাজে মোংলা-রামপাল (বাগেরহাট-৩) আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাত, বাগেরহাট জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপারসহ জেলা ও স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রায় অর্ধ লাখের মতো মানুষ জানাজায় অংশ নেয়।

    প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, মোংলা-খুলনা সড়কে এ ধরনের দুর্ঘটনা দুঃখজনক; জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং ভবিষ্যতে সড়ক নিরাপত্তা বাড়াতে কঠোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। আহত ও নিহতদের পরিবারের জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) প্রত্যেককে ৫ লাখ টাকা করে অনুদান দিয়েছে; এছাড়া জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ও নৌবাহিনীর পক্ষ থেকেও সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে আবেদনপত্র জমা দিলে অনুদানগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।

    দুর্ঘটনায় নিহত মোট ১৪ জনের মধ্যে কনেপক্ষের মরদেহগুলো খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রামে নিয়ে গিয়ে সেখানে কনের দাদি, নানী, বোন ও কনের দাফন সম্পন্ন করা হয়। মাইক্রোবাস চালককে রামপালের নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়েছে।

    স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে মোংলা থেকে খুলনার উদ্দেশে যাচ্ছিল একটি স্টাফবাহী বাসের সঙ্গে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাস মুখোমুখি সংঘর্ষে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে; শুরুতে ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন নিহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে বাকিরা মারা যান। তদনেৎ তদন্ত করে নির্দিষ্ট কারণ 밝혀 হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

  • খুলনায় প্রতি ৫০০ টন বর্জ্যে ১৫% প্লাস্টিক ও ১০% ই-বর্জ্য: ই-বর্জ্য ঝুঁকি নিয়ে কেসিসির জরুরি আলোচনা

    খুলনায় প্রতি ৫০০ টন বর্জ্যে ১৫% প্লাস্টিক ও ১০% ই-বর্জ্য: ই-বর্জ্য ঝুঁকি নিয়ে কেসিসির জরুরি আলোচনা

    খুলনা নগরীর ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক বর্জ্য (ই-বর্জ্য) ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তুলে ধরে কেসিসি আয়োজিত এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় নগর ভবনের জিআইজেড মিলনায়তনে সভার সভাপতিত্ব করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। কাজে মিলিয়ে নেওয়া ‘ডিমান্ড ফর জাস্টিস’ শীর্ষক নোটিশের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক প্রস্তাবিত বিষয়ে কেসিসি এ কর্মশালার আয়োজন করে।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. মোঃ মুজিবুর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিগণ, পরিবেশবাদী সংগঠন বেলা ও অন্যান্য বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা। গবেষণায় দেখা গেছে, খুলনায় প্রতি ৫০০ টন নগর বর্জ্যের মধ্যে প্রায় ১৫ শতাংশ প্লাস্টিক (প্রায় ৭৫ টন) এবং ১০ শতাংশ ই-বর্জ্য (প্রায় ৫০ টন) রয়েছে। এ অনুপাতে ই-বর্জ্যের পরিমাণ বছরে প্রায় ২০–৩০ শতাংশ করে বাড়ছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    সভায় বলা হয়, নির্দিষ্টভাবে আলাদা করে ই-বর্জ্য সংগ্রহ করা না হলে মাটি, পানি ও বাতাস দূষণের পাশাপাশি কৃষি জমির উৎপাদন হ্রাস, শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারসহ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হবে। এই কারণেই স্থানীয়ভাবে সুসংগঠিত ব্যবস্থাপনা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তৎপরতা জরুরি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। নগরবাসীর মাঝে ই-বর্জ্যের ক্ষতিকর দিকগুলো বোঝাতে প্রচারপত্র বিতরণ, বিলবোর্ড ও পোস্টারের মাধ্যমে প্রচার, কেসিসি ছাড়াও সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে সচেতনতা কাজে যুক্ত করার অনুরোধ এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে।

    সভায় আরও সুপারিশ করা হয়—ইলেকট্রনিক পণ্যের অতিরিক্ত ব্যবহার কমানো, প্রতিটি পণ্য দীর্ঘ সময় ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং সম্ভব হলে নির্মাণাধীন বর্জ্য রিসাইক্লিং প্ল্যান্টে ই-বর্জ্য রিসাইক্লিংয়ের সুব্যবস্থা রাখার জন্য পরিকল্পনা নেওয়া।

    সভায় বক্তৃতায় কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, মহানগরকে ঝুঁকিমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত করে তোলা আমাদের মৌলিক দায়িত্ব। গ্রীন, ক্লীন ও হেলদি সিটি গড়ার প্রথম ধাপ হচ্ছে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ। বর্জ্য সংগ্রহকারী থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সব অংশীদারকে পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে এনে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে হবে।

    সভায় কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, চীফ প্লানিং অফিসার আবির উল জব্বার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শরীফ শাম্মিউল ইসলাম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কোহিনুর জাহান, নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনিচুজ্জামান, শেখ মোঃ মাসুদ করিম, কঞ্জারভেন্সী অফিসার প্রকৌশলী মোঃ আনিসুর রহমান, প্রকৌশলী মোঃ অহিদুজ্জামান খান, আর্কিটেক্ট রেজবিনা খানম, ভেটেরিনারি সার্জন ড. পেরু গোপাল বিশ্বাস, আইটি ম্যানেজার শেখ হাসান হাসিবুল হক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশীদ, এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিনসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

    বিকেলে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে কেসিসি’র পুঙ্খানুপুঙ্খ পূর্ত বিভাগীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক সভায় মিলিত হন। সেখানে তিনি নগরীতে চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি দেখে নির্দেশনা দেন। জলাবদ্ধতা নিরসনকে সর্বোচ্চ চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে বিদ্যমান ড্রেন, নদী পাঠরোধ ও অবকাঠামো ব্যবহার করে সমস্যার সমাধান করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি নগর সম্প্রসারণ, ময়ূর নদী সংস্কার, রিভারসাইড সড়ক নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত শহর রক্ষা বাঁধগুলো মেরামতের জন্য পরিপূর্ণ পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

    অবশেষে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে: ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, সচেতনতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, একটি কর্মদল গঠন করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ এবং সম্ভাব্য রিসাইক্লিং সুবিধা দ্রুত চালু করা। এ উদ্যোগই হবে খুলনাকে একটি স্বাস্থ্যকর ও টেকসই নগর ঘোষণা করার পথে প্রথম ধাপ।