Category: সারাদেশ

  • খুলনায় ধর্মীয় মর্যাদা ও উৎসাহের সঙ্গে পালিত পবিত্র ঈদুল ফিতর

    খুলনায় ধর্মীয় মর্যাদা ও উৎসাহের সঙ্গে পালিত পবিত্র ঈদুল ফিতর

    যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে আজ শনিবার খুলনায় পবিত্র ঈদুল ফিতর সজিভভাবে উদযাপিত হলো। ভোর থেকেই শহরজোড়া উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল—বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং প্রধান সড়কগুলো বাংলা ও আরবি ভাষায় লেখা ‘ঈদ মোবারক’ ব্যানারে সাজানো ছিল।

    ঈদের প্রধান জামাত সকাল আটটায় খুলনা টাউন জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে ইমামতি করেন টাউন জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ সালেহ। সকাল নয়টায় দ্বিতীয় ও দশটায় তৃতীয় জামাত একই মসজিদে আয়োজন করা হয়। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনাসহ বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে উপস্থিত মুসল্লীরা একে অপরের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

    ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মখতার আহমেদ, কেসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকারসহ প্রশাসনিক উর্দ্ধতনরা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বও স্থান নেন এবং প্রচুর ধর্মভীরু মানুষ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

    শহরের অন্যান্য প্রধান মসজিদে নিয়ন্ত্রিত সময়সূচি অনুযায়ী জামাত অনুষ্ঠিত হয়—খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন মডেল মসজিদ ও বয়রা মডেল মসজিদে সকাল সাড়ে আটটায় জামাত হয়েছে। খালিশপুর জামে মসজিদ ও বসুপাড়া ইসলামাবাদ জামে মসজিদে সকাল আটটায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া খুলনা সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে পৃথকভাবে নির্ধারিত সময়ে আয়োজিত জামাতে হাজারীব্যাপী মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।

    নগরের বিভিন্ন পয়েন্টে বিশেষভাবে আয়োজিত জামাতের মধ্যে ছিল নিউমার্কেট সংলগ্ন বায়তুন-নুর জামে মসজিদ, ডাকবাংলা জামে মসজিদ, ময়লাপোতা বায়তুল আমান জামে মসজিদ, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় জামে মসজিদ, সোনাডাঙ্গা হাফিজনগর জামে মসজিদ, খুলনা ইসলামাবাদ জামে মসজিদ, পিটিআই জামে মসজিদ, পশ্চিম টুটপাড়া আশরাফিয়া জামে মসজিদ, রহমানিয়া জামে মসজিদ, জাতিসংঘ শিশু পার্ক সংলগ্ন মসজিদ, কেডিএ এলাকার মসজিদ, নিরালা জামে মসজিদ, সিদ্দিকীয়া মাদ্রাসা, দারুল উলুম মাদ্রাসা, সোনাডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল মসজিদ, রূপসা বায়তুশ শরফ জামে মসজিদ, ফেরিঘাটের আবু বকর সিদ্দিক (রা.) জামে মসজিদ, গোবরচাকা জামে মসজিদ, আড়ংঘাটা, নতুন রাস্তা জামে মসজিদ, দক্ষিণ কাশিপুর জামে মসজিদ, টুটপাড়া, মিয়াপাড়া, শেখপাড়া, বসুপাড়া, জোড়াগেট সিএন্ডবি কলোনী মসজিদ, বয়রা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন এলাকায় মসজিদ, খালিশপুর ক্রিসেন্ট জুট মিলস মসজিদ, বিএল কলেজ এলাকার মসজিদ, দেয়ানা ও সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার মসজিদ, খানজাহান নগর খালাসী মাদ্রাসা, দৌলতপুর, মহেশ্বরপাশা, খালিশপুর ও খানজাহান আলী থানা এলাকায় হওয়া মসজিদসমূহ উল্লেখযোগ্য।

    ঈদ উপলক্ষে সামাজিক সেবামূলক উদ্যোগও চলমান ছিল। শহরের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, শিশুসদন, ছোটমনি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, শিশু বিকাশ কেন্দ্র, আশ্রয়কেন্দ্র, সেফহোম, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্রে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়।

    বাংলাদেশ বেতারের খুলনা কেন্দ্র ঈদ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করে এবং স্থানীয় সংবাদপত্রগুলোও নিজেদের ব্যবস্থাপনায় বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে। উপকেন্দ্র ও উপজেলা পর্যায়েও অনুরূপভাবে স্থানীয় কর্মসূচি ও জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে স্থানীয়ভাবে মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।

    সারা শহরে ঈদের আনন্দ ও ভ্রাতৃত্ববোধ ছড়িয়ে পড়ে; মুসল্লিরা একে অপরকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে দিনটিকে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে পালিত করেন।

  • পবিত্র ঈদুল ফিতর আজ দেশজুড়ে উদযাপন

    পবিত্র ঈদুল ফিতর আজ দেশজুড়ে উদযাপন

    এক মাসের ত্যাগ ও ইবাদতের পর শনিবার (২১ মার্চ) দেশের মুসলিম সমাজ আনন্দ ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করবে। রাজধানীসহ সারাদেশে লাখ লাখ মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায়ের প্রস্তুতি নিয়েছেন। দুর্যোগজনিত কোনো বাধা শঙ্কা থাকা সত্ত্বেও জাতীয় ঈদগাহসহ বড় ময়দান ও মসজিদগুলোতে জামাতের সব ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়েছে।

    এবার প্রধান ঈদজামাত অনুষ্ঠিত হবে সকালে সাড়ে আটটায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। যদি আবহাওয়ার কারণে তা সম্ভব না হয়, তবে সকাল ৯টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। বায়তুল মোকার্রমের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক প্রধান ইমামত করবেন; তার অনুপস্থিতিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফাসসির ড. মাওলানা মো. আবু ছালেহ পাটোয়ারী বিকল্প ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় ঈদগাহে দেশের মানুষকে নিয়ে প্রধান জামাতে অংশ নেবেন। জাতীয় ঈদগাহে যাবতীয় আয়োজন ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম ঢাকাবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং পরিবারের সঙ্গে প্রধান জামাতে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

    এবার জাতীয় ঈদগাহে তিন হাজার পাঁচ যোজনার নারীসহ মোট ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নারীদের জন্য আলাদা গেট, ওজু ও নামাজের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সাধারণ মুসল্লিদের সুবিধার্থে পর্যাপ্ত ওজুখানা ও জরুরি চিকিৎসা টিমও ময়দানে মোতায়েন থাকবে।

    নিরাপত্তা বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেছেন, জামাতকে কেন্দ্র করে কোনো নির্দিষ্ট সন্ত্রাসী বা নিরাপত্তা ইস্যু পাওয়া যায়নি; তবুও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণ করা হয়েছে। পুরো ঈদগাহ ও আশপাশ সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হবে। মৎস্য ভবন, প্রেসক্লাব ও শিক্ষা ভবন মোড়ে ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন প্রবেশ রোধ করা হবে। প্রবেশমুখে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর স্থাপন করা হবে; ডগ স্কোয়াড ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের সুইপিং টিম মোতায়েন থাকবে। প্রধান জামাতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিচারপতিগণ, মন্ত্রিসভার সদস্য ও বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের অংশগ্রহণের আশা করা হচ্ছে।

    ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) আগারগাঁওয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে সকাল ৮টায় কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত আয়োজন করেছে। প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান নগরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে পরিবারের সঙ্গে অংশগ্রহণের অনুরোধ করেছেন। সেখানে তিনটি গেট, নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ ও নামাজের ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত ওজুসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে ডিএমপির পক্ষ থেকে দুই প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করা হবে।

    জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে গতানুগত্যে পাঁচটি জামাত আয়োজন করা হয়েছে — সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা ও বেলা পৌনে ১১টায়। বিভিন্ন জামাতে দায়িত্ব পালন করবেন- প্রথম জামাতে সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান, দ্বিতীয় জামাতে মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী, তৃতীয় জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মাওলানা মো. জাকির হোসেন, চতুর্থ জামাতে ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির মাওলানা যোবায়ের আহমেদ আল আযহারী এবং পঞ্চম জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ইমামত করবেন। বিকল্প ইমাম হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী লাইব্রেরিয়ান মাওলানা শহীদুল ইসলাম প্রস্তুত থাকবেন।

    জাতীয় সংসদ দক্ষিণ প্লাজায় ঈদের জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে; এ জামাতে সংসদের স্পিকার, হুইপ ও সাংসদরা, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সবাই অংশ নিতে পারবেন। জামাত সাধারণ জনগণের জন্যও উন্মুক্ত।

    খুলনায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে সকাল ৮টায়; দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯টায় ও তৃতীয় জামাত সকাল ১০টায় খুলনা টাউন জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে এসব জামাত শরীরের ভেতরে স্থানান্তর করা হবে বলে জানানো হয়েছে। শহরের বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে পৃথক সময়ে জামাত আয়োজন করা হয়েছে; কিছু কেন্দ্রীয় স্থানে মহিলাদের পৃথক নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

    খুলনা সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে প্রতিটি ওয়ার্ডে আলাদা করে জামাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে; উপজেলার কমিটিগুলোও নিজ উদ্যোগে সময় নির্ধারণ করেছে। ঈদ উপলক্ষে নগরীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় টহল জোরদার করা হবে। তাছাড়া আতশবাবি ও পটকা ফোাটা, রাস্তায় স্টল বসানো, উচ্চস্বরে মাইক বা ড্রাম বাজানো, রঙিন পানি ছিটানো ও বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    ঈদ উদযাপনের সুবিধার্থে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু সদন, বৃদ্ধ নিবাস, পুনর্বাসন কেন্দ্র, আশ্রয়কেন্দ্র, সেফ হোম ও অন্যান্য সামাজিক সেবাকেন্দ্রে উন্নত মানের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাধারণভাবে বলা যায়, এবারও ঈদ উদযাপন শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। মহান আল্লাহর কাছে প্রত্যেকের জন্য আনন্দ, শান্তি ও সুস্বাস্থ্যের প্রার্থনা করা হচ্ছে।

  • ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহে খুলনায় পালিত পবিত্র ঈদুল ফিতর

    ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহে খুলনায় পালিত পবিত্র ঈদুল ফিতর

    যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে আজ শনিবার খুলনায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। সকাল থেকে শহরজুড়ে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছিল—সরকারী ও আধাসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বেসরকারি অফিস ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পতাকা উত্তোলন ও বিশেষ কর্মসূচি ছিল চোখে পড়ার মতো। মহানগরের প্রধান সড়ক ও প্রবেশপথগুলো বাংলা ও আরবি লিপিতে লেখা ‘ঈদ মোবারক’ ব্যানারে সাজানো ছিল।

    ঈদের প্রধান জামাত সকাল আটটায় খুলনা টাউন জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়; সেখানে ইমামতি করেন মসজিদের খতিব মাওলানা মোহম্মদ সালেহ। একই মসজিদে পরবর্তীতে সকাল নয়টায় দ্বিতীয় এবং দশটায় তৃতীয় জামাতও অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান জামাতে অংশ নেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকারসহ প্রশাসনের উচ্চশ্রেণীর কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লী। নামাজের পর দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয় এবং সম্মিলিতভাবে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়।

    শহরের অন্যান্য বড় মসজিদেও একই ধরনের জমায়েত দেখা গেছে। সাড়ে আটটায় খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন মডেল মসজিদ এবং বয়রা মডেল মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হয়। খালিশপুর জামে মসজিদ ও বসুপাড়া ইসলামাবাদ জামে মসজিদে সকাল আটটায় আলাদা জামাতের আয়োজন করা হয়েছিল। এছাড়া খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডেই নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী ঈদের জামাত ও ধর্মীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।

    নগরের বিভিন্ন পয়েন্টে ঈদের জামাত হয়েছে—নিউমার্কেট সংলগ্ন বায়তুন-নুর জামে মসজিদ, ডাকবাংলা জামে মসজিদ, ময়লাপোতা বায়তুল আমান, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় জামে মসজিদ, সোনাডাঙ্গা হাফিজনগর জামে মসজিদ, খুলনা ইসলামাবাদ, পিটিআই জামে মসজিদ, পশ্চিম টুটপাড়া আশরাফিয়া, রহমানিয়া জামে মসজিদ, জাতিসংঘ শিশু পার্ক সংলগ্ন মসজিদ, কেডিএ এন্ড নিরালা জামে মসজিদ, সিদ্দিকীয়া মাদ্রাসা, দারুল উলুম মাদ্রাসা, সোনাডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল মসজিদ, রূপসা বায়তুশ শরফ, ফেরিঘাটের আবু বক্কার সিদ্দিক (রা.) জামে মসজিদ, গোবরচাকা জামে মসজিদ, আড়ংঘাটা, নতুন রাস্তা, দক্ষিণ কাশিপুর, টুটপাড়া, মিয়াপাড়া, শেখপাড়া, বসুপাড়া, জোড়াগেট সিএন্ডবি কলোনি মসজিদ, বয়রা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন, খালিশপুর ক্রিসেন্ট জুট মিলস, বিএল কলেজ, দেয়ানা, সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকা, খানজাহান নগর খালাসী মাদ্রাসা, দৌলতপুর, মহেশ্বরপাশা, খালিশপুর ও খানজাহান আলী থানাসহ নগরের অগণিত মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

    ঈদকে কেন্দ্র করে সমাজসেবামূলক কার্যক্রমেও জোর দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, শিশু সদন, ছোটমনি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, শিশু বিকাশ কেন্দ্র, আশ্রয় কেন্দ্র, সেফ হোম, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্রে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশ বেতারের খুলনা কেন্দ্র ঈদ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করে এবং স্থানীয় পত্রিকাগুলোও বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেন। উপজেলা পর্যায়েও স্থানীয়ভাবে অনুরূপ উৎসব ও অনুষ্ঠান পালিত হয়েছে।

    সার্বিকভাবে খুলনায় শান্তিপূর্ণ ও আনন্দময় পরিবেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে; মানুষ মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ও পরস্পরের সঙ্গে মিষ্টি-মিষ্টি কথা বলে দিনটি উপভোগ করেছে।

  • আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর: ভক্তি ও আনন্দে দেশজুড়ে উৎসব

    আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর: ভক্তি ও আনন্দে দেশজুড়ে উৎসব

    এক মাসের রোজার পর আজ শনিবার (২১ মার্চ) দেশের মুসলিম সম্প্রদায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দ ও উল্লাসের মিশেলে রাজধানীসহ সারা দেশে মিলাবত্মে লাখ লাখ মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আবহাওয়ার শঙ্কা থাকলেও জাতীয় ঈদগাহসহ বড় ময়দান ও মসজিদগুলোতেও নামাজের সব আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে।

    এবার প্রধান ঈদের জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। যদি আবহাওয়া বা অনিবার্য কোনো কারণে সেখানে জামাত না করা যায়, তাহলে সকাল ৯টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে। বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক প্রধান ইমামতির দায়িত্ব পালন করবেন। তার অনুপস্থিতিতে বিকল্প ইমাম হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফাসসির ড. মাওলানা মো. আবু ছালেহ পাটোয়ারী থাকবেন।

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে দেশের মানুষের সঙ্গে ঈদ জামাতে অংশগ্রহণ করবেন।

    জাতীয় ঈদগাহে নিরাপত্তা ও সেবাসম্পর্কিত পদক্ষেপ ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম ঢাকাবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে পরিবারসহ প্রধান জামাতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রশাসক জানান, এবারের জামাতে ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩ হাজার ৫০০ নারী মুসল্লিও স্থান পাবেন। নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ, ওজু সুবিধা ও নামাজের সংরক্ষিত স্থান রাখা হয়েছে। সাধারণ মুসল্লিদের জন্য পর্যাপ্ত ওজুখানা এবং জরুরি চিকিৎসার জন্য মেডিকেল টিমও মোতায়েন থাকবে।

    নিরাপত্তা নিয়ে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেছেন, ঈদ জামাতকে কেন্দ্রে করে কোনো সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা হুমকি পাওয়া যায়নি, কিন্তু গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে। পুরো ঈদগাহ ময়দান ও আশপাশের এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে круглকাল পর্যবেক্ষণ করা হবে। মৎস্য ভবন, প্রেসক্লাব ও শিক্ষা ভবন মোড়ে ব্যারিকেড রাখা হবে যাতে কোন যানবাহন ঈদগাহে প্রবেশ করতে না পারে। প্রবেশমুখে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর বসানো হবে, পাশাপাশি ডগ স্কোয়াড এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের সুইপিং টিম মোতায়েন থাকবে। জামাতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য ও বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের অংশগ্রহণ প্রত্যাশিত।

    ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) আগারগাঁওয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে সকাল ৮টায় কেন্দ্রীয় ঈদ জামাতের আয়োজন করেছে। ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান নগরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে পরিবারসহ অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনটি গেট, নারীদের আলাদা প্রবেশপথ ও নামাজের ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত ওজুখানাসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে ডিএমপির পক্ষ থেকে দুই প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করা হবে।

    বায়তুল মোকাররমে এবারের ঈদে পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে; সময়সূচি সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা ও বেলা পৌনে ১১টা। ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, বিভিন্ন জামাতে দেশের পরিচিত ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ ইমামতির দায়িত্ব পালন করবেন। প্রথম জামাতে সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান, দ্বিতীয় জামাতে পেশ ইমাম মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী, তৃতীয় জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মাওলানা মো. জাকির হোসেন, চতুর্থে ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির মাওলানা যোবায়ের আহমদ আল আযহারী এবং পঞ্চম ও শেষ জামাতে মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ইমামতির দায়িত্বে থাকবেন। বিকল্প ইমাম হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী লাইব্রেরিয়ান মাওলানা শহীদুল ইসলাম প্রস্তুত থাকবেন।

    জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়ও সকাল ৮টায় উন্মুক্ত ঈদ জামাত হবে, যেখানে স্পিকার, হুইপ, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য ও সচিবালয়ের কর্মীরা অংশ নেবেন। সাধারণ মুসল্লিদের জন্য ওই জামাতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

    খুলনা জেলায়ও বিভিন্ন কেন্দ্রে ঈদের নামাজের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে প্রধান জামাত সকাল ৮টায়, দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯টায় এবং তৃতীয় জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে; আবহাওয়া প্রতিকূল হলে একই সময়সূচি খুলনা টাউন জামে মসজিদে বজায় রাখা হবে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানে মহিলাদের জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে সময়সূচি ও ব্যবস্থাপনা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তদারকিতে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

    নগরীর আইন-শৃঙ্খলা, জনস্বাস্থ্য ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। টহল জোরদার করা হবে এবং আতশবাজি, পটকা, সড়ক বন্ধ করে স্টল বসানো, অতিরিক্ত উচ্চস্বরে মাইক-ড্রাম ব্যবহার, রঙিন পানি ছিটানো ও বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    ঈদ উপলক্ষে দেশের সকল হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু সদন, বৃদ্ধাবাস, সামাজিক স্থাপনা, আশ্রয় কেন্দ্র ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ পদক্ষেপগুলোতে আশা করা হচ্ছে ঈদ উদযাপন হবে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে। সবাইকে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎসব উদযাপনের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

  • যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে খুলনায় পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর পালিত

    যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে খুলনায় পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর পালিত

    যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে আজ (শনিবার) খুলনায় পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর পালিত হয়েছে। সকাল থেকেই শহরজুড়ে উদ্দীপনা দেখা গেছে; মসজিদে জমায়েত, রাস্তায় ব্যানার ও পরিবারের সহযোগে আনন্দের ছোয়ায় দিনটি সচেতন ও মার্জিতভাবে কাটানো হয়েছে।

    সূর্যের ঠিক উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি, আধাসরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ভবনগুলিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সড়কদ্বীপে বাংলা ও আরবিতে লেখা ঈদ মোবারকবならর ব্যানারে শহরটি সাজানো হয়।

    ঈদের প্রধান জামাত সকাল আটটায় খুলনা টাউন জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান ইমামতি করেন টাউন জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোহম্মদ সালেহ। এ ছাড়াও সকাল নয়টায় দ্বিতীয় এবং দশটায় তৃতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রধান জামাতে অংশ নেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মনজু, বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ, কেসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকারসহ প্রশাসনের اعلی কর্মকর্তারা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরাও উপস্থিত ছিলেন। নামাজের পর দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয় এবং পরস্পর ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়।

    সাড়ে আটটায় খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন মডেল মসজিদ ও বয়রা মডেল মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হয়। খালিশপুর জামে মসজিদ ও বসুপাড়া ইসলামাবাদ জামে মসজিদে সকাল আটটায় ঈদের জামাতের আয়োজন ছিল। এছাড়া খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পৃথকভাবে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

    শহরের বিভিন্ন এলাকায় আরও অনান্য মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হয়; যার মধ্যে নিউমার্কেট সংলগ্ন বায়তুন-নুর জামে মসজিদ, ডাকবাংলা জামে মসজিদ, ময়লাপোতা বায়তুল আমান জামে মসজিদ, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় জামে মসজিদ, সোনাডাঙ্গা হাফিজনগর জামে মসজিদ, খুলনা ইসলামাবাদ, পিটিআই জামে মসজিদ, পশ্চিম টুটপাড়া আশরাফিয়া জামে মসজিদ, রহমানিয়া জামে মসজিদ, জাতিসংঘ শিশু পার্ক সংলগ্ন মসজিদ, কেডিএ ও নিরালা জামে মসজিদ, সিদ্দিকীয়া মাদ্রাসা, দারুল উলুম মাদ্রাসা, সোনাডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাসটার্মিনাল মসজিদ, রূপসা বায়তুশ শরফ জামে মসজিদ, ফেরিঘাট আবু বকর সিদ্দিক (রা.) জামে মসজিদ, গোবরচাকা জামে মসজিদসহ নগরীর নানা পাড়া-মহল্লায় মসজিদ গুলোতে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

    ঈদ উদযাপনের পাশাপাশি সামাজিক সহায়তাও চোখে পড়ে। বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, শিশুসদন, ছোটমনি নিবাস, প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, শিশু বিকাশ কেন্দ্র, আশ্রয় কেন্দ্র, সেফ হোমস, ভিখারীবাস্থলী ও দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্রে বিশেষ খাবার ও সেবার আয়োজন করা হয়।

    বাংলাদেশ বেতারের খুলনা কেন্দ্র ঈদ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করে এবং স্থানীয় সংবাদপত্রসমূহও বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে। উপজেলার প্রতিটি স্তরেও স্থানীয়ভাবে নানা কর্মসূচি ও জামাতের মাধ্যমে ঈদ পালিত হয়।

    শহরবাসী শান্তিপূর্ণ ও আনন্দভরা পরিবেশে ঈদ উদযাপন করে; একে অপরকে শুভেচ্ছা জানিয়ে, প্রার্থনা ও সহমর্মিতার মুহূর্ত ভাগ করে নিয়েছে।

  • পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন আজ: দেশে প্রস্তুতি, প্রধান জামাত সকাল সাড়ে আটটায়

    পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন আজ: দেশে প্রস্তুতি, প্রধান জামাত সকাল সাড়ে আটটায়

    এক মাস রোজা-ইবাদতের পর শনিবার (২১ মার্চ) দেশে পালিত হবে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। রাজধানীসহ সারাদেশে বাসিন্দারা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নানা দুর্যোগ-শঙ্কা থাকলেও বড় মাঠ, ঈদগাহ ও মসজিদগুলোতে জামাতের যাবতীয় আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে।

    জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে এবারের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে আবহাওয়ার কারণে যদি ওই জামাত সম্ভব না হয়, তাহলে সকাল ৯টায় প্রধান জামাত বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক এবারের প্রধান ইমামতি করবেন; তার অনুপস্থিতিতে ইমামতির দায়িত্ব পালন করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফাসসির ড. মাওলানা মো. আবু ছালেহ পাটোয়ারী।

    স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে দেশের মানুষের সঙ্গে ঈদ জামাতে অংশগ্রহণ করবেন। ঢাকার প্রধান ঈদগাহের জন্য সব আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে বলে সূত্র জানায়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম রাজধানীবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রধান জামাতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

    প্রধান জামাতে ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজের জায়গা তৈরি করা হয়েছে; এর মধ্যে নারী অংশগ্রহণকারীর জন্য আলাদা ৩ হাজার ৫০০ লোকের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নারী-মুসল্লিদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ, ওজুর সুবিধা এবং সংরক্ষিত নামাজের স্থান নিশ্চিত করা হয়েছে। সাধারণ মুসল্লিদের সুবিধার জন্য পর্যাপ্ত ওজুখানা ও জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদানে মেডিকেল টিম দায়িত্ব পালন করবে।

    নিরাপত্তা ও পর্যবেক্ষণে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কোনো সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই; তবু গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পুরো ঈদগাহ এবং আশপাশের এলাকা সিসিটিভি Kamerা দিয়ে সার্বক্ষণিক নজরে রাখা হবে। মৎস্য ভবন, প্রেসক্লাব ও শিক্ষা ভবন মোড়ে ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন প্রবেশ সীমিত করা হবে। প্রবেশপথে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেকটর ব্যবহার, ডগ স্কোয়াড ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের সুইপিং টিম মোতায়েন থাকবে। জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং মুসলিম বিশ্বের কূটনীতিকদের মধ্যে অনেকে প্রধান জামাতে অংশ নেওয়ার কথা ভাবছেন।

    ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আগারগাঁওয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে (চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র সংলগ্ন) সকাল ৮টায় কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান নগরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং পরিবারের সঙ্গে এই জামাতে অংশগ্রহণের আহ্বান করেছেন। এই কেন্দ্রীয় ঈদগাহে তিনটি গেটসহ নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ ও নামাজের স্থান নিশ্চিত করা হয়েছে; ওজুর ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবা রাখা হবে। নিরাপত্তায় ডিএমপি থেকে দুই প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

    বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে প্রতি বছরের মতো এবারও পাঁচটি পর্যায়ক্রমিক জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন অনুযায়ী এই জামাতগুলো সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা ও বেলা পৌনে ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। প্রত্যেক জামাতে বিভিন্ন সিনিয়র ইমামরা পরিচালনা করবেন—উল্লেখযোগ্য ইমামদের মধ্যে আছেন মাওলানা মিজানুর রহমান, মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী, মাওলানা মো. জাকির হোসেন, মাওলানা যোবায়ের আহমেদ আল আযহারী ও মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। বিকল্প ইমাম হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী লাইব্রেরিয়ান মাওলানা শহীদুল ইসলাম প্রস্তুত থাকবেন।

    জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়ও সকাল ৮টায় ঈদের জামাতের আয়োজন করা হয়েছে। সংসদের স্পিকার, চিফ হুইপ, হুইপবৃন্দ, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সংসদ সদস্যসহ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেবেন; সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষও উন্মুক্তভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

    প্রদেশ ও জেলায়ও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। খুলনায় প্রধান জামাত সকাল ৮টায় খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে অনুষ্ঠিত হবে; দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯টায় এবং তৃতীয় জামাত সকাল ১০টায় খুলনা টাউন জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়ার অনিশ্চয়তার হাত থেকে রক্ষায় বিকল্প পরিকল্পনাও করা হয়েছে—প্রয়োজনে টাউন জামে মসজিদে একের পর এক জামাত পরিচালনা করা হবে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকালে বিশেষ জামাতের আয়োজন করা হয়েছে; অনেক স্থানে মহিলাদের জন্য পৃথক নামাজকক্ষ রাখা হয়েছে।

    খুলনাসহ নগরের বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহগুলোতেও সময়সূচি ও ইমামপদ নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও ওয়ার্ডভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্তরা প্রতিটি ওয়ার্ডে আলাদা করে জামাতের আয়োজন করেছেন। ঈদ উপলক্ষে নগরীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ নজরদারি ও টহল জোরদার করা হবে। পাশাপাশি আতশবাজি ও পটকা ফোটা, রাস্তা বন্ধ করে স্টল রাখা, উচ্চধ্বনি মাইক/ড্রাম ব্যবহার, রঙিন পানি ছিটানো এবং বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    ঈদ উদযাপনের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে সামাজিক সহায়তা ও সেবা নিশ্চিত করা। দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু সদন, বৃদ্ধ নিবাস, আশ্রয় কেন্দ্র, অনাথ আশ্রম, দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্র ও মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে মানসম্মত খাবার পরিবেশন নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এতে দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিতরা সুফল পাবেন।

    সংক্ষিপ্তভাবে বললে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনিক মনোভাব ও ধর্মীয় মর্যাদা বজায় রেখে এবারও শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে দেশব্যাপী সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। জনসাধারণের কাছে প্রশাসন ও নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের আহ্বান—নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলুন, জামাতে শান্তি বজায় রাখুন এবং সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই মেনে চলার চেষ্টা করুন। ঈদের শুভেচ্ছা ও মঙ্গল কামনা রইল।

  • খুলনায় ঈদের জামাত: কোথায়, কখন?

    খুলনায় ঈদের জামাত: কোথায়, কখন?

    পবিত্র মাহে রমজানের সমাপ্তি ঘটেছে। শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে, তাই শনিবার (২১ মার্চ) দেশজুড়ে উদযাপিত হবে ঈদুল ফিতর। কক্সবাজারে শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে শাওয়ালের চাঁদ দেখার খবর পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু সার্কিট হাউস ময়দানের প্রস্তুতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, সার্কিট হাউস ময়দান একটি ঐতিহ্যবাহী মাঠ যেখানে প্রতিবারই হাজারো মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেন। মুসল্লিদের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য মাঠের প্রস্তুতি ত্বরান্বিতভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে এবং প্রযোজ্য সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

    জেলা ও নগরীর বিভিন্ন কেন্দ্রে নির্ধারিত জামাতের সময়সূচি মেলে—

    – খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে প্রধান জামাতসকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে।

    – দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯টায় ও তৃতীয় জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে খুলনা টাউন জামে মসজিদে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে তিনটি জামাতই খুলনা টাউন জামে মসজিদে সকাল ৮টা, ৯টা ও ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে।

    – সকাল সাড়ে ৮টায় খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন মডেল মসজিদ ও বয়রা মডেল মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

    – খালিশপুর ঈদগাহ ময়দান ও বসুপাড়া ইসলামাবাদ ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

    – বায়তুন নূর জামে মসজিদে দুটি জামায়াত—প্রথম সকাল ৮টায়, ইমামত করবেন খতিব হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ ইমরান উল্লাহ; দ্বিতীয় সকাল ৯টায় ইমামত করবেন হাফেজ মাওলানা মো. জাকির হোসেন।

    বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে আলাদা ব্যবস্থাপনা রাখা হয়েছে—

    – খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে; এই জামাতে মহিলাদের জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

    – খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে।

    নগরের অন্যান্য নামাজের সময়—

    – শান্তিধাম মোড়ের আল-হেরা জামে মসজিদে সকাল ৮টায় জামাত।

    – জাতিসংঘ শিশু পার্কে সকাল সাড়ে ৮টায় নামাজ।

    – আব্দুর রাজ্জাক জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় জামাত।

    – ময়লাপোতা মোড়ের বায়তুল আমান জামে মসজিদে প্রথম জামাত সকাল ৮টায় ও দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯টায়।

    – মোল্লাপাড়া জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

    খুলনা সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় এবং ওয়ার্ডভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবকদের তত্ত্বাবধানে নগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে আলাদা আলাদা স্থানে জামাতের আয়োজন করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়েও সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো স্থানভিত্তিক সুবিধা অনুযায়ী জামাতের সময় নির্ধারণ করবে।

    ঈদ-উৎসবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মহানগর ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় intensified টহল দেবে। নিয়ম ভঙ্গ রোধে আতশবাজি ও পটকা ফোটানো, সড়ক বন্ধ করে স্টল বসানো, উচ্চস্বরে মাইক বা ড্রাম বাজানো, রঙিন পানি ছুটানো এবং বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে। সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপন এবং নির্ধারিত নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ করা হয়েছে।

    সবশেষে, সকলকে ঈদ মোবারক—স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তার নিয়ম মেনে শান্তিপূর্ণ ও সজাগভাবে উল্লাস করার আহ্বান রইল।

  • বাগেরহাটে আগুনে ৮ দোকান ভস্মিভূত, ব্যবসায়ীদের প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি

    বাগেরহাটে আগুনে ৮ দোকান ভস্মিভূত, ব্যবসায়ীদের প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি

    বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোররাতে ব্রিজের ওপারের মঘিয়া এলাকায় আগুন লেগে ৮টি দোকান ভস্মিভূত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ব্যবসায়ীরা অনূুমান করে বলেন ক্ষতির পরিমাণ প্রায় অর্ধকোটি টাকা।

    ঘটনাস্থল সূত্রে জানা যায়, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ও স্থানীয়রা মিলিয়ে প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে ৮টি দোকান সমেত দোকানজিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে।

    ঈদের আগ মুহূর্তে লেখাপড়া ও পরিবারপালনের একমাত্র উপার্জনের জায়গা হারিয়ে পড়ায় দোকানিরা অভাব-অনটনে পড়েছেন। চায়ের দোকান চালক সোহাগ মাঝি বলেন যে বহু কষ্টে তিনি দোকানটি চালিয়েছেন, এনজিও থেকে নেওয়া ঋণ ও আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার করে দোকানের জন্য দুটো ফ্রিজও কিনেছিলেন। ঈদ উপলক্ষে বেশ কিছু মালামাল সংগ্রহ করেছিলেন, যা আগুনে সব শেষ হয়ে গেছে। তিনি উদ্বেগ করে বলেন, কিভাবে ঋণ পরিশোধ করব এবং আবার কীভাবে ব্যবসা শুরু করব, তা তিনি বলতে পারছেন না।

    সারের ডিলার মীম এ্যান্ড মুন-এর স্বত্বাধিকারী মাসুদুর রহমান জানান, ঈদের ছুটি ও জ্বালানী সংকটের কারণে তার দোকানে আনুমানিক ২০ লাখ টাকার সার জমা ছিল, যা সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। এ ছাড়া একটি মুদি দোকান, বিকাশ-নগদ-ফ্লেক্সিলোডের আউটলেট, লন্ড্রি, সেলুন ও অন্যান্য একাধিক ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানও ধ্বংসরূপে পড়েছে। তিনি বলেন, আমরা এখন খুবই দুঃস্থ অবস্থায় আছি।

    স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন, বাজার কমিটির প্রতিনিধি ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি দেখেন। বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ এবং কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলী হাসানও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

    প্রাথমিকভাবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলী হাসান জানিয়েছেন, নিজেদের পর্যায়ে যতটুকু সম্ভব সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তীতে আরও প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পুনর্বাসনমূলক ব্যবস্থার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এছাড়া সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদের পক্ষ থেকে আহত বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থ ও টিনশীট সহায়তার প্রতিশ্রুতি জানানো হয়েছে।

    আগুনের সঠিক কারণ এখনও নির্ধারণ করা যায়নি; স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় রিপোর্ট প্রকাশ করবে বলে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও দোকানিরা এখন দ্রুত আর্থিক ও পুনর্বাসন সহায়তা প্রত্যাশা করছেন।

  • বাগেরহাট কচুয়ায় আগুনে ৮ দোকান ভস্মিভূত, ব্যবসায়ীদের আনুমানিক অর্ধ কোটি টাকার ক্ষতি

    বাগেরহাট কচুয়ায় আগুনে ৮ দোকান ভস্মিভূত, ব্যবসায়ীদের আনুমানিক অর্ধ কোটি টাকার ক্ষতি

    বাগেরহাটের কচুয়ায় শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোররাতে আগুনে ৮টি দোকান ভস্মিভূত হয়ে গেছে। কচুয়া উপজেলা সদরের বাজার ব্রিজের ওপারের মঘিয়া অংশে ঘটনাটি ঘটলে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে আটটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে।

    ঈদ আগের সময়ই একমাত্র আয়ের উৎস হিসেবে থাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো পুড়ে যাওয়ায় মালিকরা অস্থির ও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। বহু পরিবারই একমাত্র ভরণ-পोषণ ছিল দোকানেই; এখন তাদের সামনের দিনগুলোকে ঘিরে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

    চায়ের দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা সোহাগ মাঝি বলেন, অনেক কষ্ট করে দোকানটি গড়ে তুলেছি। এনজিও থেকে নেয়া ঋণ ও আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার করে দুটি ফ্রিজ কিনেছি, ঈদ উপলক্ষে ভালো মালের স্টক ছিল — সবই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কীভাবে ঋণ পরিশোধ করব আর কীভাবে আবার ব্যবসা শুরু করব, তা জানি না।

    ক্ষতিগ্রস্ত সার ডিলার ‘মীম এ্যান্ড মুন’-এর স্বত্বাধিকারী মাসুদুর রহমান জানান, ঈদের ছুটি ও জ্বালানি সংকটের প্রভাবে তার দোকানে প্রায় ২০ লাখ টাকার সার মজুদ ছিল, যা আগুনে সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। এছাড়া মুদি দোকান, বিকাশ-নগদ-ফ্লেক্সিলোডের বুথ, লন্ড্রি, সেলুন ও অন্যান্য চায়ের দোকানও ধ্বংস হয়েছে। তিনি ও অন্য ব্যবসায়ীরা বলেন, এই আগুন তাদের জন্য মারাত্মক অর্থনৈতিক ধাক্কা প্রয়োগ করেছে।

    ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলী হাসান, বাজার কমিটির নেতা ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা। প্রাথমিকভাবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে; পরবর্তীতে আর্থিক ও প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান।

    এছাড়া সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থ ও টিনশেড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি আছে বলে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত সহায়তা পেলে পুনরায় ব্যবসা শুরু করতে সক্ষম হবে বলে অনেকে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তদন্ত করে আগুন লাগার সঠিক কারণ নির্ণয় করা হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

  • খুলনায় ঈদের জামাত: কখন ও কোথায়?

    খুলনায় ঈদের জামাত: কখন ও কোথায়?

    পবিত্র মাহে রমজান শেষ হয়ে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় শনিবার (২১ মার্চ) দেশে উদযাপিত হবে ঈদুল ফিতর। প্রশাসন জানায়, শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে কক্সবাজারে শাওয়াল চাঁদ দেখা গেছে, ফলে দেশজুড়ে ঈদের দিন নির্ধারণ হয়েছে।

    গত বৃহস্পতিবার খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু সার্কিট হাউস মাঠের প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, সার্কিট হাউস ময়দান একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান যেখানে প্রতি বছর বহু মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেন। নামাজের জন্য মাঠে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা দ্রুতগতিতে শেষ করা হয়েছে যাতে কেউ স্বাচ্ছন্দ্যে অংশগ্রহণ করতে পারে।

    ঈদের জামাতের সময় ও স্থান সংক্ষেপে:

    – খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে প্রধান জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে।

    – দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯টায় ও তৃতীয় জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে খুলনা টাউন জামে মসজিদে।

    – আবহাওয়া প্রতিকূল হলে তিনটি জামাতই খুলনা টাউন জামে মসজিদে সকাল ৮টা, ৯টা ও ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে।

    অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জামাতের সময়:

    – খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন মডেল মসজিদ ও বয়রা মডেল মসজিদে সকাল ৮:৩০টায় জামাত।

    – খালিশপুর ঈদগাহ ও বসুপাড়া ইসলামাবাদ ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় জামাত।

    – বায়তুন নূর জামে মসজিদে দুইটি জামাত: সকাল ৮টায় প্রথম জামাতে ইমামতি করবেন খতিব হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ ইমরান উল্লাহ, এবং সকাল ৯টায় দ্বিতীয় জামাতে ইমামত করবেন ইমাম হাফেজ মাওলানা মোঃ জাকির হোসেন।

    – খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল ৭:৩০টায় জামাত; এ জামে মহিলাদের জন্য আলাদা নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

    – খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (KUET) কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জামাত সকাল ৭:৩০টায় অনুষ্ঠিত হবে।

    – নগরের শান্তিধাম মোড়ের আল-হেরা জামে মসজিদে সকাল ৮টায়, জাতিসংঘ শিশু পার্কে সকাল ৮:৩০টায়, আব্দুর রাজ্জাক জামে মসজিদে সকাল ৭:৩০টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

    – ময়লাপোতা মোড়ের বায়তুল আমান জামে মসজিদে প্রথম জামাত সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯টায়। মোল্লাপাড়া জামে মসজিদে সকাল ৭:৩০টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

    খুলনা সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি ওয়ার্ডেই আলাদা করে জামাতের আয়োজন করা হয়েছে এবং ওয়ার্ডভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তদারকি করবেন। উপজেলার পর্যায়েও সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো তাদের সুবিধা অনুযায়ী জামাতের সময় নির্ধারণ করবে।

    ঈদের আনন্দ নিরাপদ রাখতে নগরীতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মহানগর ও পার্শ্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টহল জোরদার করবে। একই সঙ্গে আতশবাজি ও পটকা ফোটানো, রাস্তা বন্ধ করে স্টল বসানো, উচ্চশব্দে মাইক বা ড্রাম ব্যবহার, রঙিন পানি ছিটানো এবং বেপরোয়া মোটরসাইকেল চालन কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে এসব নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সকল ধর্মভীরু জনসাধারণকে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও আনন্দময় ঈদ অনুষ্ঠান কামনা করছি।