Category: সারাদেশ

  • লবণচরায় সাচিবুনিয়া বাসস্ট্যান্ডে দুর্বৃত্তদের গুলিতে যুবক আহত

    লবণচরায় সাচিবুনিয়া বাসস্ট্যান্ডে দুর্বৃত্তদের গুলিতে যুবক আহত

    খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানাধীন সাচিবুনিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিবিদ্ধ হয়ে এক যুবক আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১ মে) দুপুরে ঘটনার পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।

    আহত যুবকের নাম মোহাম্মদ তাইজুল (৩০)। তিনি বটিয়াঘাটার গাওঘরা চানদার ডাংগি এলাকার নজরুলের ছেলে। বর্তমানে তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সাচিবুনিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শুক্রবার দুপুরে দুইটি মোটরসাইকেলে করে চারজন অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত আসে। তারা লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং একটি গুলি তাইজুলের বাম পায়ের হাঁটুর ওপর লাগে। গুলির শব্দ শুনে আশপাশের মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটলে দুর্বৃত্তরা সেখানে থেকে পালিয়ে যায়।

    স্থানীয়রা পরে পুলিশকে খবর দিলে লবণচরা থানা পুলিশ এসে আহত তাইজুলকে উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

    পুলিশ ঘটনার কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে।

  • খুলনায় ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত’ স্লোগানে মহান মে দিবস পালিত

    খুলনায় ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত’ স্লোগানে মহান মে দিবস পালিত

    ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত—আসবে এবার নব প্রভাত’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ শুক্রবার (০১ মে) খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস পালিত হয়েছে। সকাল সাড়ে অনুষ্ঠানের মূল আলোচনা সভা জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য ও আলোচনা হয়।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা শ্রমিকদের অগ্রগণ্য অবদান তুলে ধরে বলেছেন, দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে শ্রমিকদের ভূমিকা অপরিসীম। তাদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা জরুরি। বক্তারা আরও বলেন, শ্রমিকরা কোনো যন্ত্র নয়—তারা মানুষ; তাদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করতে হবে এবং তাদের অধিকার রক্ষায় সমাজ ও মালিকপক্ষকে সহায়তা করতে হবে।

    প্রতিকূলতায় ধর্মীয় অনুশাসন ও নৈতিকতার আলোকে আন্দোলন-সংলাপের মাধ্যমে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায় করা প্রয়োজন বলেও বক্তারা জোর দেন। তারা সতর্ক করেন যে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা না করলে যে কোনো উন্নয়ন টেকসই হবে না। মালিক ও শ্রমিক যদি পরিবারসুলভ মনোভাবে সম্মিলিতভাবে কাজ করেন এবং একে অপরের স্বার্থ রক্ষা করেন, তবেই সমস্যা সমাধান সম্ভব হবে—এই মর্মে সবাইকে আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া অর্থনীতি, সামাজিক ক্ষেত্র, স্বাস্থ্য ও পরিবেশসহ সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত না হলে স্থায়ী সমাধান আসবে না বলে বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আবু সায়েদ মো. মনজুর আলম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি শেখ জয়নুদ্দীন, মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা ও সিভিল সার্জন ডা. মোছাঃ মাহফুজা খাতুন। জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার দপ্তরের উপপরিচালক মো. আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শ্রম দপ্তরের পরিচালক মো. হাফেজ আহাম্মদ মজুমদার। মালিকপক্ষের জনগোষ্ঠীর পক্ষে বক্তব্য রাখেন বিজেএ’র চেয়াৰম্যান খন্দকার আলমগীর কবির ও বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. তরিকুল ইসলাম জহির। শ্রমিক প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মহানগর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. মজিবর রহমান ও খালিশপুর আঞ্চলিক কমিটির আহ্বায়ক আবু দাউদ দ্বীন মোহাম্মদ। জেলা প্রশাসন, বিভাগীয় শ্রম দপ্তর ও কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন দপ্তর যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।

    আলোচনা সভার শেষে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে খুলনা জেলার খালিশপুর, দৌলতপুর, খানজাহান আলী ও আড়ংঘাটা থানার বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত শ্রমিক ও তাদের পরিবারের ১৪০ জন সদস্যকে মোট ৪১ লাখ ৩৫ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়।

    দিবসটি উপলক্ষে বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুনের নেতৃত্বে খুলনা রেলওয়ে স্টেশন চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে সমাপ্ত হয়। শোভাযাত্রায় সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা, শ্রমিক-মালিক-কর্মচারী, ট্রেড ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশ নেন।

  • রূপসা সরকারি কলেজকে ‘বেলফুলিয়া সরকারি কলেজ’ নামকরণের আবেদন

    রূপসা সরকারি কলেজকে ‘বেলফুলিয়া সরকারি কলেজ’ নামকরণের আবেদন

    খুলনা জেলার আইচগাতি ইউনিয়নে অবস্থিত রূপসা সরকারি কলেজকে ‘বেলফুলিয়া সরকারি কলেজ’ নামে পুনঃনামকরণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। আবেদনটি খুনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল স্বাক্ষরে গত ২৩ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

    আবেদনে বলা হয়েছে, খুলনা-৪ আসনটি রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ অঞ্চলে একই নামে দু’টি কলেজ থাকায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রশাসনিক দফতরগুলোর মধ্যে অনেক ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

    পটভূমি তুলে ধরে আবেদনে বলা হয়, স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে ঐতিহ্যবাহী বেলফুলিয়া এলাকায় একটি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়ে ‘বেলফুলিয়া কলেজ’ নামে পরিচিতি অর্জন করে। পরে কলেজটি সরকারিকরণের সময় তৎকালীন সংসদ সদস্য (আওয়ামী লীগ) কলেজটির নামের বেলফুলিয়া অংশটি বাদ দিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজ’ নামে নামকরণ করেন।

    অপর দিকে ১৯৮৬ সালে রূপসা উপজেলার বাগমারা এলাকায় ‘রূপসা কলেজ’ নামে একটি বেসরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ওই প্রতিষ্ঠান উচ্চমাধ্যমিক থেকে স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে এবং ছাত্রসংখ্যাও কয়েক হাজারের ওপরে।

    আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আগস্ট বিপ্লবের পর কিছু অজ্ঞতাবশত স্থানীয় বেলফুলিয়ায় অবস্থিত কলেজটির নামের ‘বঙ্গবন্ধু’ অংশটি সরিয়ে ‘রূপসা সরকারি কলেজ’ বলা শুরু করলে একই নামের দুটি কলেজের সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে ভর্তিকাল, তথ্য প্রেরণ, সরকারি-বেসরকারি নথিপত্র, বোর্ড ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা ও বরাদ্দ বণ্টনসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রশ্নপত্র প্রেরণ, রেজিস্ট্রেশন ও ফলাফল সংক্রান্ত কার্যক্রমেও প্রভাব পড়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ আছে।

    স্থানীয় শিক্ষাবিদ, জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্টজনদের মতামত বিবেচনায়, বর্তমানে রূপসা সরকারি কলেজ হিসেবে যত নাম ব্যবহৃত হচ্ছে তা সংশোধন করে কলেজটি যে ঐতিহ্যবাহী স্থানে রয়েছে সেই নাম অনুসারে ‘বেলফুলিয়া সরকারি কলেজ’ নামে পুনঃনামকরণের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল শিক্ষামন্ত্রণালয়ের নিকট এই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছে।

  • অগ্রণী ব্যাংকের ক্যাশ অফিসারকে অর্থ আত্মসাৎ মামলায় ১০ বছর কারাদণ্ড

    অগ্রণী ব্যাংকের ক্যাশ অফিসারকে অর্থ আত্মসাৎ মামলায় ১০ বছর কারাদণ্ড

    খুলনার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালত বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ অগ্রণী ব্যাংকের ক্যাশ অফিসার সৈয়দ শিওন সাইফকে অর্থ আত্মসাৎ মামলায় তিনটি ধারায় মোট ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। আদালত তাকে ৩৬ লাখ ৭৯ হাজার ৩৫০ টাকা জরিমানা করেছেন; জরিমানার অনাদায়ে আরও ৫ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড কার্যকর হবে। রায় ঘোষণা করেন বিভাগীয় স্পেশাল জজ মোঃ আশরাফুল ইসলাম।

    আদালত রায়ে উল্লেখ করেছেন, দণ্ডবিধির ৪৬৮ ধারায় সাইফকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩ হাজার টাকা জরিমানা (অনাদায়ে এক মাস বিনাশ্রম), ৪৭৯ ধারায় ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩ হাজার টাকা জরিমানা (অনাদায়ে এক মাস বিনাশ্রম) ও ৪০৯ ধারায় ৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩৬ লাখ ৭৯ হাজার ৩৫০ টাকা জরিমানা (অনাদায়ে তিন মাস বিনাশ্রম) দেয়া হয়েছে। এই তিন দণ্ড ধারাবাহিকভাবে চালু হবে, ফলে মোট সাজা দাঁড়ায় ১০ বছর এবং অনাদায়ে একযোগে পাঁচ মাসের অতিরিক্ত কারাদণ্ড।

    আদালতে রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্ত সৈয়দ শিওন সাইফ পলাতক ছিলেন। তিনি নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার এনএসখোলা নওয়াগ্রামের বাসিন্দা, নাজমুল হকের ছেলে এবং বয়স ৪১ বছর বলে বর্ণিত হয়েছে। মামলার অপর আসামি ও ওই শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মিসেস সাফিয়া বেগমকে আদালত খালাস দিয়েছেন; তিনি বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ থানার বারইখালি গ্রামের মুজিবুর রহমান ফকিরের স্ত্রী।

    আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোঃ ইয়াসিন আলী নথির উল্লেখে জানান, বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক শাখায় সৈয়দ শিওন সাইফ ক্যাশ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ২০১১ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে ২০১৫ সালের ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত; আর ব্যবস্থাপক সাফিয়া বেগম শাখায় ছিলেন ২০১৩ সালের ৩ মে থেকে ২০১৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ওই সময়ে তারা পরস্পর যোগসাজসে ব্যাংক শাখার বিভিন্ন ঋণ হিসেবে কাল্পনিক পোস্টিং (ভাউচার ছাড়া কম্পিউটারে এন্ট্রি) করে ২৩ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

    ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক দীপক কুমার কুন্ডু বাদী হয়ে মোরেলগঞ্জ থানায় মামলা নং-১১ দায়ের করেন। ২০১৭ সালের ২০ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক আবুল হাসেম কাজী অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেছেন অ্যাডভোকেট মোঃ আবুল হোসেন হাওলাদার। আদালতের রায়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় উপরের সাজা ও জরিমানা কার্যকর করা হয়।

  • মহান মে দিবস আজ: শ্রমিক অধিকার ও পেশাগত সুরক্ষার ডাক

    মহান মে দিবস আজ: শ্রমিক অধিকার ও পেশাগত সুরক্ষার ডাক

    শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের দীর্ঘ সংগ্রামের স্মরণে আজ বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে মহান মে দিবস। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পালনকৃত এবারের অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য— ‘‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’’। দিবসটি বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৮০টির বেশি দেশে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালন করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপিত হচ্ছে।

    দিবসটির ঐতিহাসিক সূচনা ঘটে ১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে। শিল্প বিপ্লবের পরে শ্রমিকরা দিনে ১০–১৬ ঘণ্টা কাজ করতে বাধ্য হওয়ায় তারা দৈনন্দিন কর্মদিবস আট ঘণ্টায় সীমাবদ্ধ করার দাবিতে সংগঠিত হয়। ঐ বছরের ১ মে ব্যাপক ধর্মঘট ও বিক্ষোভ শুরু হয়; আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ৪ মে হে মার্কেটে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে এবং পুলিশের গুলিতে বহু মানুষ আহত ও নিহত হন। পরে কয়েকজন শ্রমিকনেতাকে বিতর্কিতভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদকে জ্বালানি দেয়। ১৮৮৯ সালের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে গ্রহণের পর থেকে এই দিনটি বিশ্বজুড়ে শ্রমিক অধিকার ও ন্যায়তার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

    দিবসটি উপলক্ষে সকল গণমাধ্যম নানা রচনা ও অনুষ্ঠান প্রচার করবে। বাংলাদেশে সরকারি ছুটির পাশাপাশি কর্মসূচি, আলোচনা ও সমাবেশের মাধ্যমে দিনটি গুরুত্ব ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালিত হবে।

    রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ‘মহান মে দিবস এবং জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে বলেছেন, দেশের উন্নয়নে শ্রমজীবী মানুষের অবদান অপরিসীম; শ্রমিকরাই দেশের অগ্রযাত্রার মূল চালিকাশক্তি। তিনি শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি করা এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের ওপর জোর দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি জানান, মালিক-শ্রমিক মধ্যে সুসম্পর্ক ও পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষার মাধ্যমে একটি শ্রমিকবান্ধব, মানবিক ও ন্যায়নিষ্ঠ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বের অগ্রপংক্তিতে অবস্থান করবে—এটাই তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও মহান মে দিবস এবং পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস উপলক্ষে প্রদত্ত বাণীতে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি নিয়মিত মজুরি পর্যালোচনার মাধ্যমে ন্যায্য মজুরি ও নারী-পুরুষ সমান মজুরি নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। পাশাপাশি প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য আর্থিক সুরক্ষা ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও তিনি ব্যক্ত করেছেন।

    দিবসটি উপলক্ষে কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল ১০টায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এক আলোচনা সভা, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। সভার সভাপতি থাকবেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

    এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে নয়াপল্টনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান। বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ পর্যায়ের জাতীয় ও শ্রমিক নেতারা সেখানে বক্তব্য দেবেন এবং তারা লক্ষাধিক শ্রমজীবী মানুষের উপস্থিতির প্রত্যাশা করছে।

    মহান মে দিবস স্মরণ করিয়ে দেয় শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাস ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকারকে; একই সঙ্গে আজকের দিনে এই দাবিগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার আহ্বান আরও শক্তিশালী হবার উপযুক্ত মুহূর্ত।

  • চুয়াডাঙ্গায় ইউপি পরিষদে সংঘর্ষ: চেয়ারম্যান লোটাসকে ঘেরাও, দুই চেয়ারম্যানকে ধাওয়া

    চুয়াডাঙ্গায় ইউপি পরিষদে সংঘর্ষ: চেয়ারম্যান লোটাসকে ঘেরাও, দুই চেয়ারম্যানকে ধাওয়া

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান জোয়ার্দ্দার (লোটাস) কে ঘেরাও করে রাখা এবং ইট-পাটকেল ছোড়াসহ বিরোধী লোকেরা হামলা চালানোর ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বেলা প্রায় ১১টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এসব ঘটনা ঘটে।

    ঘটনার বর্ণনায় জানা যায়, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জেলা প্রশাসন খাদিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান জোয়ার্দ্দার লোটাসকে সাময়িকভাবে অপসারণ করে সেখানে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। পরে চেয়ারম্যান হাইকোর্টে রিট করেন এবং আদালত তাকে পরিষদে বসে দাপ্তরিক কার্যক্রম চালানোর অনুমতি দেন।

    হাইকোর্টের নির্দেশের পর বৃহস্পতিবার সকালে লোটাস পরিষদে গিয়ে অফিস শুরু করলে স্থানীয় কিছু মানুষ সেখানে গিয়ে তাকে সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে। ঘিরে ধরে তাঁকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া হয় এবং চেয়ারম্যানের কক্ষে ঢুকে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয়। কিছু সময় কক্ষে বন্ধ করে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন চেয়ারম্যান। পরে তার সমর্থকরাও ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলাকারীদের ধাওয়া করলে হামলাকারীরা পালানোর সময় পড়িয়ে রেখেযাওয়া চারটি মোটরসাইকেলে ভাঙচুর চালানো হয়।

    চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান জোয়ার্দ্দার বলেন, সকালে অফিস করছিলাম। কিছু লোক এসে আমাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে এবং কিছুক্ষণ কক্ষে আটকে রেখে হামলা চালায়। পুরো ঘটনা সিসিটিভি ক্যামেরায় রেকর্ড আছে, পরে আমার গ্রামের লোক এসে আমাকে উদ্ধার করে।

    একই সময়ে উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এজাজ ইমতিয়াজ বিপুল এবং কালিদাসপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শেখ আশাদুল হক মিকাও একই ধরনের বাধার সম্মুখীন হন। তারা respective পরিষদে বসে অফিস করতে গেলে স্থানীয়রা তাদের সরিয়ে দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় উভয়স্থলে থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনাগুলো সম্পর্কে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। খাদিমপুর ঘটনায় জসিম নামের এক ব্যক্তিকে থানায় নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

    আলমডাঙ্গার সঙ্গে সম্পর্কিত আরও এক খবর হলো, হাইকোর্টের রিটের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন একইভাবে চিৎলা ইউপি চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান সরোয়ার, খাসকররা ইউপি চেয়ারম্যান তাসফির আহমেদ লাল ও ডাউকি ইউপি চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলামকেও ইউনিয়ন পরিষদে বসে দাপ্তরিক কার্যক্রম করার অনুমতি দিয়েছে।

    পুলিশি তৎপরতা ও স্থানীয় নেতাদের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি আপাতত শান্ত থাকলেও ঘটনাটি এলাকায় উত্তেজনা ও রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • চুয়াডাঙায় ইউপি চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ করে হামলা, আরও দুই চেয়ারম্যানকে পরিষদ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে

    চুয়াডাঙায় ইউপি চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ করে হামলা, আরও দুই চেয়ারম্যানকে পরিষদ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল-দুপুরের দিকে স্থানীয়দের সঙ্গে অভিযান নিয়ে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। খাদিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান জোয়ার্দ্দার (লোটাস) পরিষদে বসার পর বাধা সৃষ্টি করে অভ্যন্তরীণ বিরোধ বাঁধে; এ সময় উপস্থিতদের ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও চেয়ার-টেবিল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে এবং তাকে কয়েকক্ষণ পরে অবরুদ্ধও রাখা হয়।

    স্থানীয়রা জানান, সকালে হাইকোর্টের আদেশে চেয়ারম্যান মোজাহিদুর পরিষদে আসেন ও দাপ্তরিক কাজ শুরু করেন। এরপর প্রতিক্রিয়াশীল কিছু ব্যক্তি পরিষদ চত্বরে এসে বিক্ষোভ শুরু করে এবং সভাপতির কক্ষে গিয়ে ছয়-সাতজন চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে তার সমর্থকরা এসে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে হামলাকারীরা চারটি মোটরসাইকেল ফেলে পালাতে গিয়ে সেগুলো ভাঙচুর করা হয়।

    চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান জোয়ার্দ্দার বলেন, সকালে তিনি অফিস করেনই; তখন কয়েকজন লোক এসে তাকে ঘেরাও করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে। কিছু সময়ের জন্য তিনি তার কক্ষে আটকে ছিলেন। পুরো ঘটনা সিসিটিভি ক্যামেরায় রেকর্ড আছে এবং শেষে নিজের গ্রামের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোজাহিদুরকে নিয়ে উত্তেজনার পেছনে এর আগে জেলা প্রশাসন কর্তৃক আরোপিত একটি প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত এবং হাইকোর্টে দায়ের করা রিট-অব্যাহতির প্রেক্ষাপট রয়েছে। সূত্রে বলা হয়, গত ৫ আগস্টের পরে জেলা প্রশাসন ভোট-পরবর্তী ওই জায়গায় প্রশাসক নিয়োগ দেয়, যা নিয়ে চেয়ারম্যান হাইকোর্টে আপিল করেন এবং হাইকোর্ট তাকে পরিষদে বসার অনুমতি দেন।

    একই সময়ে আলমডাঙ্গার অন্য দুই ইউপি চেয়ারম্যান—নাগদাহ ইউনিয়নের এজাজ ইমতিয়াজ বিপুল এবং কালিদাসপুর ইউনিয়নের শেখ আশাদুল হক মিকাও স্থানীয়রা পরিষদ থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা দুজনই নিজ নিজ ইউনিয়নে দাপ্তরিক কাজ করতে গিয়ে এই দুর্ব্যবহারের শিকার হন। পরে থানার পুলিশ এসে সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

    চুয়াডাঙ্গা সদর সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সকল ঘটনার কথা জানতে পেরে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। খাদিমপুরের ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে জসিম নামের এক ব্যক্তিকে থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে। এখন এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

    এদিকে, হাইকোর্টের নির্দেশনায় একইভাবে আলমডাঙ্গার চিৎলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান সরোয়ার, খাসকররা চেয়ারম্যান তাসফির আহমেদ লাল ও ডাউকি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলামকেও ইউনিয়ন পরিষদে বসে দাপ্তরিক কাজ করার অনুমতি দেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

  • বজ্রপাতে এক দশক গড়া সংসার ছাই; ঘরে না থাকায় দম্পতি ও ১১ বছর বয়সী মেয়ের প্রাণ বাঁচল

    বজ্রপাতে এক দশক গড়া সংসার ছাই; ঘরে না থাকায় দম্পতি ও ১১ বছর বয়সী মেয়ের প্রাণ বাঁচল

    বাগেরহাটের চিতলমারীর দড়িউমাজুড়ি গ্রামে বজ্রপাতে একযুগে তিলে তিলে গড়া আনন্দ মিস্ত্রি (৪০) ও লোপা হালদার (৩৩) দম্পতির সংসার এক মুহূর্তে ছাই হয়ে গেছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাত পোনে ১২ টার দিকে আগুন লাগার ঘটনায় পরনো কাপড় ছাড়া তাদের আর কিছুই রক্ষা পায়নি। সেই সময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ঘরে না থাকায় দম্পতি ও তাদের ১১ বছরের মেয়ে সংগীতা মতান্তরে মারা যাওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে।

    স্থানীয়রা জানায়, আনন্দ ও লোপা দিনমজুরি করে সংসার চালান। প্রায় দশ বছর ধরে কষ্টে-করাটে নিজেদের ঘর সাজিয়ে তুলেছিলেন তারা। কিন্তু ওই রাতে বজ্রপাতের ফলে ঘরে হঠাৎ আগুন লেগে তাদের সব সঞ্চয়, জিনিসপত্র এবং ঘর-আসবাব পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এখন তাঁরা সম্পূর্ণ নিঃস্ব; মেয়েটির বিদ্যালয়ে যাওয়া সৃষ্টি স্থগিত হয়েছে। আনন্দ ও লোপা বলেন, ‘বার বছর ধরে কষ্ট করে যা করেছি সব ফুলকপি হয়ে গেল। যদি রাতের ওই সময়ে আমরা বা বাকি আত্মীয়রা ঘরে থাকতাম, হয়তো প্রাণও হারাতাম।’

    ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০ টায় চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মশিউর রহমান খানের প্রতিনিধি ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা গাজী মুনিরুজ্জামানও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ইউএনও ক্ষতিগ্রস্থ দম্পতির মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করেন এবং জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পরবর্তী সহায়তার আশ্বাস দেন।

    চিতলমারী ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের লিডার এস এম আব্দুর রহিম বলেন, খবর পেয়ে রাতে তারা ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে তখন পর্যন্ত দম্পতির অধিকাংশ সম্পদই পুড়ে গেছে।

    স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজসেবকদের উদ্যোগে প্রাথমিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ভবিষ্যতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আর্থিক ও পুনর্বাসনমূলক সহায়তা দেয়া হবে বলে ইউএনও জানান। স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না গেলে এ পরিবার খুব দ্রুত দিনমজুরির ওপর নির্ভরশীল অবস্থায় আরও কষ্টে পড়বে।

  • যশোরের সেই শিশুর জন্য উপহার পাঠালেন বিএনপি নেতা তারেক রহমান

    যশোরের সেই শিশুর জন্য উপহার পাঠালেন বিএনপি নেতা তারেক রহমান

    যশোরে বাস থেকে ডেকে নেওয়া সেই মা ও তার শিশুর জন্য উপহার পাঠিয়েছেন বিএনপি নেতা তারেক রহমান।

    বুধবার নয়—বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে ‘‘আমরা বিএনপি পরিবার’’ নামের সংগঠনের সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল শিশুটির বাড়িতে গিয়ে তারেক রহমানের পাঠানো উপহার পৌঁছে দেয়।

    উপস্থিত ছিলেন ‘‘আমরা বিএনপি পরিবার’’-এর অন্য সদস্যরা, যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাজিদুর রহমান সাগর ও মাসুদ রানা লিটনসহ অন্যান্য নেতারা।

    ঘটনাটি তারেক রহমানের যশোর আগমনের সঙ্গে জড়িত। গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) তিনি যশোরে পৌঁছান। তাকে বহনকারী ‘‘সবার আগে বাংলাদেশ’’ শ্লোগানবাহী বাসসহ গাড়িবহর যখন শহরের ইনস্টিটিউটের সামনে যাচ্ছিল, তখন নিলিমা নামের এক মা নিজের কোলের শিশুকে নিয়েই ফুল হাতে দাঁড়িয়ে প্রধান অতিথিকে শুভেচ্ছা জানাতে চান।

    তাতে তারেক রহমানের নজরে পড়ে তিনি গাড়ি থামিয়ে নেমে শিশুটিকে দেখেন। তাদের মধ্যে যে আলাপ-আড্ডা হয় এবং নিলিমার ওই মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও দ্রুত নিলিমার ফেসবুক পেজ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

    পরে তারেক রহমান বিষয়টি লক্ষ্য করে অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে নির্দেশ দেন নিলিমা ও শিশুর জন্য উপহার পাঠানোর। বৃহস্পতিবার সেই উপহার পৌঁছে দেওয়া হয়।

  • একযুগের সঞ্চয় বজ্রপাতে ছাই, দম্পতির জীবন রক্ষা হলোও সবটাই পুড়ে গেছে

    একযুগের সঞ্চয় বজ্রপাতে ছাই, দম্পতির জীবন রক্ষা হলোও সবটাই পুড়ে গেছে

    বাগেরহাটের চিতলমারীর দড়িউমাজুড়ি গ্রামে একজোড়া দম্পতির এক যুগ ধরে গড়া ছোট সংসার বজ্রপাতে ছাই হয়ে গেছে। রাত পোনে ১২টার সময় ঘটে যাওয়া আগুনে আনন্দ মিস্ত্রি (৪০) ও লোপা হালদার (৩৩) দম্পতির ঘরপোড়া সব имущества পুড়ে যায়;幸ৎ তখন তারা ঘরেই ছিলেন না, তাই জীবন রক্ষা পেয়েছে।

    ঘটনাটি বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাত পোনে ১২টার দিকে ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।夫妻দের এগারো বছর বয়সী মেয়ে সংগীতা পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী; ঘটনায় তার স্কুল জীবনে বাধা পড়েছে।

    ক্ষতিগ্রস্ত দম্পতি আনন্দ মিস্ত্রি ও লোপা হালদার জানান, দিনমজুরি করে তারা সংসার চালাতেন। প্রায় এক যুগ ধরে তিলে তিলে সঞ্চিত সামান্য জিনিসপত্র আর ঘরবাড়ি গড়ে তোলেন—সবই এখন লুপ্ত। তাদের কথায়, “পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই বাকি নেই। আত্মীয়দের বাড়িতে না গেলে হয়তো আমরা পুড়ে মারা যেতাম।”

    চিতলমারী ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের লিডার এস এম আব্দুর রহিম জানান, আগুনের খবর পেয়ে রাতেই তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবু তাদের পৌঁছানোর আগেই দম্পতির অধিকাংশ মালপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

    ঘটনার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার ও বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মশিউর রহমান খানের প্রতিনিধি—উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা গাজী মুনিরুজ্জামান—পরিদর্শনে যান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেন এবং জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।

    অপরাধ-প্রশ্ন না উত্থাপন করে তারা বলেন, প্রাথমিকভাবে শুকনো খাবার দিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো হয়েছে; চাহিদা অনুযায়ী পরবর্তী সহায়তা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে দেয়া হবে।

    স্থানীয় পরিবারটি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিঃস্ব; তাদের ফের ঘরবাড়ি ও জীবিকা পুনরুদ্ধারের জন্য তাত্ক্ষণিক সহায়তা প্রয়োজন। সংগীতার পড়াশোনাও এখন স্থগিত রয়েছে, যেটি দ্রুত স্বাভাবিক করতে পারলে পরিবারটিকে মানসিক সান্ত্বনা মিলবে।