Category: সারাদেশ

  • চুয়াডাঙ্গায় বিজিবি ধ্বংস করেছে ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য

    চুয়াডাঙ্গায় বিজিবি ধ্বংস করেছে ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য

    চুয়াডাঙ্গায় বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে উদ্ধৃত প্রায় ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ধ্বংস করেছে। ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠানটি বুধবার (৬ মে) সকাল ১১টায় চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন-৬ বিজিবির সদর দফতরে অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান। তিনি মাদককে একটি বহুমাত্রিক ও জটিল সামাজিক সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ সমস্যা মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সব স্তরের জনগণের শরিক হওয়া জরুরি। বিজিবি মাদকমুক্ত দেশ গঠনে অটল সংকল্পবদ্ধ ও ‘‘জিরো টলারেন্স’’ নীতির অধীনে সীমান্তে দিন-রাত দায়িত্ব পালন করে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবি সদর দফতরে ধ্বংস করা হয় ১০ হাজার ৬১৭ বোতল ফেনসিডিল, ১.৮৫৭ কেজি হেরোইন, ২৩৮.৭৯ কেজি গাঁজাসহ বিপুল পরিমাণ নেশাজাতীয় দ্রব্য। এছাড়া উদ্ধারকৃত অন্যান্য আইটémের মধ্যে রয়েছে ৩ হাজার ৯৮৩ বোতল বিদেশি মদ, ২৯ বোতল ভারতীয় বিয়ার, ১.৮৯ কেজি কোকেন, ২৫ হাজার ৪৮৫টি বিভিন্ন ভারতীয় নেশা জাতীয় ট্যাবলেট (যেমন ভায়াগ্রা, সেনেগ্রা, ট্যাপেন্টাডল) এবং ১৯টি ভারতীয় নেশাজাত ইনজেকশন। এসব মাদকের আনুমানিক মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি় ১৮ লাখ ৭৬ হাজার ৬৬৫ টাকা।

    চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, ধ্বংসকৃত এসব মাদক ২০২৪ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার সীমান্ত অঞ্চল নিয়ে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে উদ্ধারকৃত মালিকবিহীন দ্রব্য।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিবি কুষ্টিয়া সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন, চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান, চুয়াডাঙ্গা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তফা কামাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামাল আল নাসের, সিভিল সার্জন হাদি জিয়া উদ্দীন এবং জেলার অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রতিনিধি।

    বিজিবি বলেন, সীমান্তে তাদের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে এবং মাদক চক্রের সঙ্গে জিরো টলারেন্স রেখে আইনসিদ্ধভাবে অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য সংগৃহীত ও ধ্বংস করা হবে।

  • চিতলমারীতে ইয়াবা সেবনের অভিযোগে যুবককে ৫ দিনের কারাদন্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা

    চিতলমারীতে ইয়াবা সেবনের অভিযোগে যুবককে ৫ দিনের কারাদন্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা

    বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার হিজলা এলাকায় ইয়াবা সেবনের অভিযোগে মোঃ জুয়েল শিকদার (৪১) নামের এক যুবককে ভ্রাম্যমান আদালত পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদন্ড দিয়েছেন। বুধবার (৬ মে) বেলা ১১টায় ওই এলাকায় পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালত চিতলমারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিঠুন মৈত্র পরিচালনা করেন।

    আদালত চলাকালে অভিযুক্তের দেহ তল্লাশি করে তিন পিচ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট মিঠুন মৈত্র জানান, জুয়েল ইয়াবা সেবন করে জনসাধারণের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করায় তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪১(১) অনুযায়ী দণ্ডিত করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত মোঃ জুয়েল হিজলা গ্রামের মৃত এমদাদ শিকদারের ছেলে।

    ভ্রাম্যমান আদালত সাধারণত জনস্থানে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রত্যাহারের লক্ষ্যে পরিচালিত হয়, এবং এই মামলাটিও সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রকাশ্যে দ্রুত বিচার করে শেষ করা হয়েছে।

  • খুলনায় গুলিবিদ্ধ যুবককে ঢাকায় নেওয়ার পথে আবারও গুলির ঘটনা

    খুলনায় গুলিবিদ্ধ যুবককে ঢাকায় নেওয়ার পথে আবারও গুলির ঘটনা

    খুলনায় ডাকাতির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে, যেখানে গুলিবিদ্ধ হন যুবক রাজু হাওলাদার। তিনি বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি ঘটে রবিবার দুপুরে, যখন রাজুকে খুলনার লবণচরা থানার শিপইয়ার্ড এলাকার একটি বাসায় আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল। রাজু তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা ও ডাকাতির মামলা থাকলেও সম্প্রতি তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।

    জানা যায়, দুপুরে খুলনার লবণচরা থানার কুবা মসজিদ এলাকার কিছু লোকজন—ফারদিন, হেলাল, ব্লাক নয়ন, সোহেল, ধলুস ও অন্যরা—রাজুর সঙ্গে অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করে। এরই মধ্যে তারা এলোপাতাড়ি গুলি চালায়, যার ফলস্বরূপ রাজুর পেটের বাঁ পাশ ভেদ করে একটি গুলি তার পিঠ দিয়ে বের হয়। তিনি একজন নারীকের বাসায় আশ্রয় নেন, তবে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে বিভিন্ন হাসপাতাল ও পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    পরে, খবর পেয়ে পুলিশ তাকে আটক করে। অবস্থা আরও গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়। রাত সোয়া ১২টার দিকে এ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার পথে পথে কুরির বটতলা এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা আবারও হামলা চালায়। এ সময় এ্যাম্বুলেন্সে থাকা পুলিশ সদস্যরা বিষয়টি কাটাখালী হাইওয়ে থানাকে জানান এবং দুর্বত্তরা পালিয়ে যায়। রাতেই রাজুর শরীরের অবস্থা আরও গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অপারেশন সম্পন্ন হয়।

    দুর্বৃত্তদের কাউকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ্যাম্বুলেন্স চালক মোঃ ফারুক জানা জানান, তিনি ঘটনাস্থলে দ্রুত গাড়িটি কাটাখালী হাইওয়ে থানায় নিয়ে যান। পুলিশ বলছে, রাজু একজন চাঞ্চল্যকর মামলার আসামি, যার বিরুদ্ধে ঢাকা, খুলনাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায় মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্ত বিভাগ এই ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে।

  • খুলনাকে আধুনিক নগরীতে রূপান্তরের দৃঢ় প্রত্যয় ও সার্বিক সহযোগিতার আবেদন কেসিসি প্রশাসকের

    খুলনাকে আধুনিক নগরীতে রূপান্তরের দৃঢ় প্রত্যয় ও সার্বিক সহযোগিতার আবেদন কেসিসি প্রশাসকের

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) ১২তম সাধারণ সভা মঙ্গলবার সকালে নগর ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সভার সভাপতিত্ব করেন প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। সভায় নগরীর উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি প্রকল্প ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

    বিশেষ করে, প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের লক্ষ্যে গঠিত প্রকল্পের আওতায় গ্যারেজের সম্প্রসারণের জন্য সংলগ্ন জমি অধিগ্রহণ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কঠোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা-২০২১ অনুযায়ী ট্রেন্সিং গ্রাউন্ডের ২৫০ মিটারের মধ্যে আবাসিক প্রকল্প গ্রহণে বিধিনিষেধের বিষয় আলোচনা হয়। এছাড়া, রাজবাঁধ ট্রেন্সিং গ্রাউন্ডের ২০০ ফুট দক্ষিণে বাংলাদেশ নৌবাহিনী কল্যাণ ফাউন্ডেশন কর্তৃক জমি ক্রয়ে সম্মতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    নগরীর উন্নয়নে আরও বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যেমন—খুলনা ওয়াসার সড়ক খনন কাজের জন্য স্থানিয় সরকার বিভাগের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কোন কাজ বন্ধ রাখা, চলতি অর্থবছর জুন পর্যন্ত বিজ্ঞাপন করের বকেয়া আদায়ের জন্য সময় দেওয়া, বিদ্যমান বিলবোর্ডের ভাড়া সংক্রান্ত উদ্যোগ নেওয়া, ও অনাদায়ী বিজ্ঞাপন সংস্থার বরাদ্দ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

    এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলার জন্য খুলনা শহরের উন্নয়ন প্রকল্পের (ফেজ-২) ডিপিপির প্রাক্কলন মূল্য বেশি হওয়ায়, প্রথম পর্যায়ে সোনাডাঙ্গা বাইপাসের অর্ধেক অংশ ও ২৩টি পুকুরের উন্নয়ন কাজ শুরু হয়, পরবর্তীতে ডিপিপির সংশোধনের মাধ্যমে বাকি অংশের কাজও সম্পন্ন হবে। নগরীর ট্রাফিক পরিস্থিতি উন্নত করতে ইজিবাইক চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য রোডম্যাপ প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি, বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য সুপারিশ ও বর্ষা মৌসুমের আগে জলনির্গমন সুবিধার্থে গুরুত্বপূর্ণ ড্রেনসমূহের পেড়িমাটি উত্তোলনের জন্য অর্থ বরাদ্দের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    নগরীতে উন্নত পরিষেবা নিশ্চিত করতে, ডালান ও সেমিপাকা ভবনের পৌরকর পুনঃনির্ধারণ ও নামকরণের জন্য নয়া একটি কমিটি গঠন, এবং বিশেষ তারিখে বিভিন্ন রাস্তার নামকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেইসঙ্গে, খুলনা জাতীয়তাবাদী দল ও মহানগর শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, প্রখ্যাত ভাষা সৈনিক ও সাবেক সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম দাদু ভাইয়ের নামে নগরীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নামকরণ হবে।

    অপর পক্ষ, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের স্থানান্তর ও নগরীর ডাকবাংলো মোড় থেকে ফেরিঘাট পর্যন্ত অবৈধ স্থাপনা অবৈধভাবে উচ্ছেদের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়। ভাষণে, প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে সাধারণ মানুষের চাহিদা ও সমস্যাগুলোর গভীরতা বুঝতে পেরেছেন। তিনি বলেন, সীমিত জনবল, অর্থ ও সম্পদের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দুর্নীতিমুক্ত নগরী গড়তে প্রয়োজনীয় সকল পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে এবং খুলনাকে একটি আধুনিক শহরে রূপান্তর করতে কর্পোরেশনের সকল পর্যায়ের সহযোগিতা চেয়েছেন।

    সভায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের পরিচালনায়, বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিরা—একমাত্র পুলিশ, কেএমপি, কেডিএ, মোংলা বন্দরের, সড়ক ও জনপথ, ওজোপাডিকো, স্বাস্থ্য বিভাগ, গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, নাগরিক প্রশাসন, ট্রাফিক ও বিদ্যুৎ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট רבים উপস্থিত ছিলেন। এই সভার মাধ্যমে নগরীর সার্বিক উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি লক্ষ্যে নেওয়া নতুন পরিকল্পনা ও কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়নের দিকে দৃঢ় এগিয়ে চলার পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

  • ডুমুরিয়ায় পেট্রোল ঢেলে স্ত্রীকে আগুন দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, স্বামী পলাতক

    ডুমুরিয়ায় পেট্রোল ঢেলে স্ত্রীকে আগুন দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, স্বামী পলাতক

    খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় স্ত্রীকে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্বামী জনি গাজীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন গৃহবধূ বিথি গাজী (২৬), যাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার উপজেলার মিকশিমিল গ্রামে। অভিযুক্ত জনি গাজী (৩০), যিনি স্থানীয় একটি পেট্রোল পাম্পের কর্মচারী, ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে।

    পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার জানিয়েছেন, পারিবারিক পারিবারিক মনোমালিন্যের জের ধরে মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে স্বামী জনি গাজী ঘর থেকে পেট্রোল সংগ্রহ করে স্ত্রীর শরীরে ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। চিৎকার শুনতে পেয়ে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বিথিকে উদ্ধার করেন।

    পরে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে খোলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে ডাক্তাররা তাকে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, আগুনে বিথির শরীরের বিভিন্ন অংশ দগ্ধ হয়েছে।

    ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আছের আলী বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দম্পতির একটি শিশুসন্তান রয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত জনি গাজী পালিয়ে গেছে। তার জন্য খোঁজা হচ্ছে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  • খুলনায় গুলিবিদ্ধ যুবককে ঢাকায় নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সে গুলি

    খুলনায় গুলিবিদ্ধ যুবককে ঢাকায় নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সে গুলি

    খুলনায় রাজু হাওলাদার নামে এক যুবককে দুর্বৃত্তরা গুলি করে আহত করেছে। এ ঘটনার সময় তার পেটে বলিষ্ঠ গুলি বিদ্ধ হয়। ঘটনাটি ঘটে সোমবার (৪ এপ্রিল) মহানগরীর লবণচরা থানাধীন কোবা মসজিদ সংলগ্ন এলাকায়। যদিও কেউ সঠিক সময় নিশ্চিত করতে পারেননি।

    রাজু হাওলাদারের সঙ্গে থাকা এক নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, আহত যুবক তার ছেলের বন্ধু। আহত অবস্থায় তাকে তার পরিবারের কাছে আনা হয় এবং চিকিৎসার জন্য এখানেই নেয়া হয়। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাজু হাওলাদার লবণচরা থানাধীন শিপইয়ার্ড এলাকার আজাদ মাস্টার সংলগ্ন ইউনুস হাওলাদারের ছেলে।

    অন্ততঃ গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা मेडिकल কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে তার পরিচয় ও পরিস্থিতি জানাজানি হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার রাতেই তাকে ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে রূপসা উপজেলার কুদির বটতলা এলাকায় ঢাকায় যেতে যাওয়ার পথে রাত সাড়ে ১২টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সটি লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা আবারও গুলি চালায়।

    এসময় অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. ফারুক দ্রুত গাড়ি কাঁটাখালী হাইওয়ে থানায় নিয়ে গিয়ে নিরাপদে আশ্রয় নেন। পরে হাইওয়ে পুলিশের সহযোগিতায় তাঁরা ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা দেন। মো. ফারুক বলেন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকার পথে যাওয়ার সময় কুদির বটতলা এলাকায় পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। গুলির আওয়াজ শুনে তিনি দ্রুত থানায় আশ্রয় নেন।

    কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর আহম্মেদ জানান, গুলিবিদ্ধ এক রোগীকে ঢাকায় নেয়া যাত্রাপথে দুর্বৃত্তরা অ্যাম্বুলেন্সে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তাঁরা থানার সহায়তায় সেফলি গাড়িটি নিরাপদভাবে সীমানা পার করে দেয়।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গুলিবিদ্ধ ওই যুবককে খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আনা হয়। তার সঙ্গে থাকা একটি নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, আহত ব্যক্তি তার ছেলের বন্ধু। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে তাদের বাড়িতে আশ্রয় নিলেও পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

    খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার শিহাব করিম বলেন, লবণচরা এলাকায় এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তবে সে কোথায় ও কখন হামলাটি ঘটেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলার তথ্যও আমাদের কাছে রয়েছে।

  • খুলনায় হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন উপলক্ষে জেলা সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

    খুলনায় হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন উপলক্ষে জেলা সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

    খুলনায় হাম-রুবেলা প্রতিরোধে পরিচালিত জাতীয় ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে আজ ৬ মে খুলনা সিভিল সার্জন দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে একটি জেলা পর্যায়ের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই ক্যাম্পেইনটি চলবে ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে ২০২৬ পর্যন্ত, যেখানে পূর্ব নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী প্রতিটি শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা দেওয়ার জন্য কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

    সভায় খুলনা সিভিল সার্জন ডা. মোছাঃ মাহফুজা খাতুন বলেন, হাম-রুবেলা প্রতিরোধে সম্পূর্ণ হার্ড ইমিউনিটি স্থাপন করতে গৃহভিত্তিক টিকাদান ও রোগের স্বাভাবিক প্রজনন রোধে অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সব পক্ষকে সোচ্চারভাবে প্রচার-প্রচারণায় অংশগ্রহণ করতে হবে এবং টিকা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। বিশেষ করে, মসজিদে ইমাম-মুয়াজ্জিনরা যেন এই বার্তাগুলো জনগণের মধ্যে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, সে বিষয়েও তিনি আহ্বান জানান।

    এই সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মিজানুর রহমান এবং হাম-রুবেলা টিকাদান সংশ্লিষ্ট বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুর রহমান সজিব। উপস্থিত ছিলেন সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা।

    আলোচিত টিকাদান কর্মসূচির লক্ষ্য হলো খুলনা জেলার নয়টি উপজেলায় এক লাখ ৫৬ হাজার ৪২০ শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা প্রদান। এখন পর্যন্ত এই লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৮৯ শতাংশ এবং ক্যাম্পেইনটি ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। এই প্রচেষ্টা আরও সফল করতে সকলের সহযোগিতা এবং সচেতনতা অপরিহার্য।

  • খুলনায় গুলিবিদ্ধ রাজুকে ঢাকায় নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সে গুলি

    খুলনায় গুলিবিদ্ধ রাজুকে ঢাকায় নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সে গুলি

    খুলনায় গুলিবিদ্ধ হন রাজু হাওলাদার (৩৮)। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানোর পথে রূপসা উপজেলার কুদির বটতলা এলাকায় দুর্বৃত্তরা অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

    ঘটনাটি সোমবার (৪ এপ্রিল) ভোরে লবণচরা থানার কোবা মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় ঘটে বলে জানা গেছে। ওই সময় রাজুর পেটের সঙ্গে লাগানো এক গুলির অপারগতা দেখতে পাওয়া যায়। আক্রান্ত যুবক লবণচরা থানাাধীন শিপইয়ার্ড এলাকার ইউনুস হাওলাদারের ছেলে, স্থানীয়ভাবে তাকে রাজু হাওলাদার নামে চিনে।

    পরিবার ও হাসপাতালে থাকা একজন মহিলা জানান, গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি তার ছেলের বন্ধু। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনি প্রথমে তাদের বাড়িতে অবস্থান নেন এবং পরে খাজরহাট খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে বলা হয়েছে, চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় রাতেই তাকে ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    ঢাকায় নেয়ার পথে রাত সাড়ে ১২টার দিকে কুদির বটতলা এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে ফের গুলি চালায়। অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. ফারুক দ্রুত গাড়ি কাটাখালী হাইওয়ে থানায় নিয়ে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে হাইওয়ে পুলিশের সহায়তায় পুনরায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া হয়।

    কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর আহমেদ বলেন, গুলিবিদ্ধ এক রোগীকে ঢাকায় নেওয়ার পথে দুর্বৃত্তরা অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশি সহায়তায় অ্যাম্বুলেন্সটি নিরাপদে সীমানা পার করা হয়েছে।

    খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার শিহাব করীম জানান, লবণচরা এলাকায় একটি গুলির ঘটনা ঘটেছে, তবে ঠিক কোথায় ও কখন হামলা হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত চলছে।

    এ ঘটনায় আর কোনো হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশ ও হাসপাতাল পক্ষ থেকে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা চলছে।

  • খুলনার আড়ংঘাটায় তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী জুয়েল সরদার গ্রেফতার

    খুলনার আড়ংঘাটায় তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী জুয়েল সরদার গ্রেফতার

    খুলনা মহানগরীর আড়ংঘাটা থেকে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও একাধিক মামলার পলাতক আসামী জুয়েল সরদার (৩২)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি জুয়েল–বোরহান বাহিনীর প্রধান বলে পুলিশের তথ্য জানিয়েছে।

    মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে আড়ংঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হালিমুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সরদারডাঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

    পুলিশ জানায়, জুয়েল সরদারের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই, প্রতারণা, অপহরণ, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত দশটি মামলা রয়েছে। এছাড়া একটি মামলায় তাকে এক বছর ছয় মাসের সাজাও দেয়া হয়েছে।

    গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জুয়েল সরদার তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও সহযোগীদের সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ রংপুর শলুয়া বাজার, পাহাড়পুর ও লতার মোড় এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করেছে।

    বর্তমানে তাকে আড়ংঘাটা থানায় রাখা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

  • খুলনায় প্রতিবন্ধী যুবকের হত্যায় প্রধান আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    খুলনায় প্রতিবন্ধী যুবকের হত্যায় প্রধান আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    খুলনার তেরখাদা উপজেলার প্রতিবন্ধী যুবক ইতুদুল ইসলাম (ওরফে ইতু) হত্যা মামলায় প্রধান আসামি মো. জামিল আহম্মেদকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে আদালত। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

    আজ মঙ্গলবার (৫ মে) খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক জিএম নাজমুস শাহাদাৎ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জামিল আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, তেরখাদা উপজেলার গাজীপুর গ্রামের শাহজাহান শেখের ছেলে জামিলের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী যুবক ইতুদুল ইসলামকে হত্যা করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ দণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার সাক্ষ্য ও প্রমাণাদি পর্যালোচন করে বিচারক এই সিদ্ধান্ত নেন।

    অপর তিন আসামি—জাকির হোসেন, আফরিন বেগম ও মো. আজিজুল শেখ—অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের খালাস দিয়েছেন। রায়ের পর মামলার বাদী পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করলেও স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিনের বিচারপ্রক্রিয়ার এই রায়ে মামলার একটি শেষপর্যায়ের নিষ্পত্তি হয়েছে।