Category: সারাদেশ

  • চিতলমারীতে জুস নিয়ে তর্ক: জামায়াত নেতা মোজাহিদকে কুপিয়ে হত্যা

    চিতলমারীতে জুস নিয়ে তর্ক: জামায়াত নেতা মোজাহিদকে কুপিয়ে হত্যা

    বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় জুস কেনাকে কেন্দ্র করে সড়াসড়ি কাটা কথাকাটির পর মোঃ মোজাহিদ মোল্লা (৪২) নামে এক মুদি দোকানীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার হিজলা ইউনিয়নের হিজলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

    নিহত মোজাহিদ মোল্লা ওই গ্রামের সরোয়ার মোল্লার ছেলে এবং বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামের হিজলা ইউনিয়ন শাখার ৩নং ওয়ার্ডের সভাপতি ছিলেন। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে স্থানীয় ও দৃষ্টান্তশীল রাজনৈতিক নেতারা শোক জানিয়েছেন; এগুচ্ছে বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান ও উপজেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দের সমবেদনার কথা।

    পুলিশ, হাসপাতালে অনলাইন খবর ও এলাকাবাসী জানান, বৃহস্পতিবার সকালে মোজাহিদ দোকানের সামনে বসে ছিলেন। তখন বায়জিদ শেখ (৪০) নামে এক ব্যক্তি তার কাছ থেকে একটি জুস কিনে এক কস ঢালি নিয়ে বলেন জুসটি ভালো লাগছে না। দোকানদার মোজাহিদ জুসটি চেখে জানায় এটা খারাপ না—এমনই কথাকাটাকাটির সূত্র ধরে উভয়ের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়।

    এক পর্যায়ে বায়জিদ হাতে থাকা হাসুয়া (ঘাস কাটার ধরনের কাস্তে) দিয়ে মোজাহিদের গলার কাছে কোপ দেন। কোপ লেগে মোজাহিদ গুরুতর আহত হন। উত্তেজিত জনতা পরে বায়জিদের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে তাকে পিটিয়ে আহত করে। স্থানীয়রা আহত মোজাহিদকে দ্রুত চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে আহত বায়জিদকে পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

    ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চিতলমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম। তিনি জানান, ঘটনার পর পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রতিযোগিতা বিধিতে বায়জিদ শেখকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মামলা দায়ের ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    অপরদিকে, বায়জিদ খাপাড়া গ্রামের বাদশা শেখের ছেলে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সংঘটিত ঘটনায় এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করায় পুলিশ অতিরিক্ত সতর্ক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

    নিহত মোজাহিদ মোল্লার একজন স্ত্রী এবং তিনটি কন্যাসহ—হাফিজ, ফারিয়া ও ফারহানা—নামে তিনটি শিশু সন্তান রয়েছে। স্থানীয় সমাজ ও রাজনৈতিক নেতারা পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে এবং দ্রুত ন্যায়বিচার দাবি করেছে। কর্তৃপক্ষ ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধান করছে এবং তদন্ত চলমান আছে।

  • বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও রূপসার পিঠাভোগ: ঠাকুর বংশের ঐতিহ্য

    বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও রূপসার পিঠাভোগ: ঠাকুর বংশের ঐতিহ্য

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল বাংলা সাহিত্যের প্রতিস্ঠিত কবি ছিলেন না—তিনি বাঙালি জাতির সাংস্কৃতিক ও মানসিক পরিচয়ের এক অনিবার্য প্রতীক। তাঁর পরিবারগত শিকড় খুঁজলে রূপসার পিঠাভোগ গ্রামের সাথে জোড়া ইতিহাসটি চলে আসে। রূপসা উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়নের পিঠাভোগ পল্লী ঠাকুর বংশের পৈতৃক স্মৃতিবাহী স্থান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    পিঠাভোগ-ঘাটভোগ ভৈরব নদীর তীরভূমিতে গড়ে ওঠা প্রাচীন জনপদ। ভৈরব অববাহিকার স্রোতের ধারায় বহু প্রাচীন বসতি গড়ে উঠেছিল; ইতিহাসে জানা যায়, হযরত খানজাহান আলীর আগমনেরও আগে এখানেই জনপদ গড়ে উঠেছিল। পিঠাভোগের প্রাচীন গোত্রীয় ব্রাহ্মণ পরিবারগুলোর মধ্যে কুশারী গোত্র বিশেষভাবে পরিচিত।

    কুশারী বংশের উত্‍পত্তি কন্যাকুঞ্জ (কান্যকুব্জ) থেকে আগত শাণ্ডিল্য গোত্রীয় ব্রাহ্মণদের সঙ্গে যুক্ত। বংশগাথায় বলা হয়, খিতীশ নামক এক শাণ্ডিল্য বংশীয় পুরুষের বংশধর বঙ্গদেশে সারি জুড়ে বসতি গড়েন এবং বর্ধমানের ‘কুশ’ গ্রাম থেকে কুশারী গোত্রের উৎপত্তি ঘটে। মধ্যযুগে কুশারী বংশের বিভিন্ন শাখা ঢাকা, বাকুড়া ও খুলনার দিকে ছড়িয়ে পড়ে। খুলনার পিঠাভোগে উত্তর পার্শ্বে রামগোপাল কুশারী বসতি স্থাপন করেন; তাঁর পুত্র জগন্নাথ কুশারীই পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতৃকূলের মূল পুরুষ বলে পরিচিত।

    পিরালী জাতের সংক্ষিপ্ত কাহিনি ঐ অঞ্চলের সামাজিক ইতিহাসের একটি অদ্ভুত অধ্যায়। খুলনা জেলার দক্ষিণ ডিহি গ্রামের রায়-চৌধুরী পরিবার থেকে সৃষ্ট পিরালী ব্রাহ্মণের উত্পত্তি সম্পর্কিত কথারা এলাকায় প্রচলিত। ঐ সময়ের প্রশাসনিক পরিবেশ, স্থানীয় সম্পর্ক ও ধর্মান্তরের ঘটনাবলি মিশে গিয়ে পিরালী শাখার আবির্ভাব ঘটে। ইতিহাসে উল্লেখিত এক বিবরণের সূত্রে জানা যায়, প্রশাসনিক পরিস্থিতি ও ব্যক্তিগত সংঘর্ষের ফলে কিছু পরিবার ইসলাম গ্রহন করলে অন্য কিছুকে পিরালী নামে ডাকা হয়; এই বংশেই পরবর্তীতে পিঠাভোগের জগন্নাথ কুশারীর সঙ্গে বিবাহসূত্র ঘটে।

    কুশারী থেকে ‘ঠাকুর’ উপাধি উদ্ভবের কথাও লোকজ এসেছে। পঞ্চানন কুশারী নামে এক ব্যক্তি ভাগীরথীর তীরবর্তী গোবিন্দপুরে (কলকাতা-অঞ্চলের কাছে) বসতি স্থাপন করেন। তিনি নৌ-সংক্রান্ত ব্যবসা ও খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের কাজ করায় স্থানীয় নাবিক ও শ্রমিকরা তাঁকে আনৈতিক সম্মানসূচকভাবে ‘ঠাকুর’ বলে ডাকা শুরু করেন; সময়ের ধারায় সেই ডাকটি উপাধি হয়ে যায়। পঞ্চাননের সেই বংশধর নীলমণি ঠাকুর জোড়াসাঁকোতে বসতি স্থাপন করেন। ঐ বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে ১৮৬১ সালে জন্ম নেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

    রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিকর্ম বিস্তৃতি ও বৈচিত্র্য অনন্য—কবিতা, গান, উপন্যাস, ছোটগল্প, প্রবন্ধ ও নাটকসহ বহু শৈলীর মধ্যে তিনি কাজ করেছেন। তাঁর রচনাবলি ব্যাপক: প্রায় ৫২টি কব্যগ্রন্থ, আনুমানিক ২০০০ গান, কুড়ি-প্লাস উপন্যাস ও অচিন্ত্যনীয় সংখ্যক ছোটগল্প ও প্রবন্ধ—এক কথায় সমগ্র জীবন জুড়ে সাহিত্যচর্চা ছিল তাঁর মূল আকর্ষণ। তাঁর সমগ্র রচনা ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’ হিসেবে ৩২ খন্ডে সংকলিত হয়েছে; চিঠিপত্র পৃথকভাবে ১৯ খন্ডে প্রকাশিত আছে। রবীন্দ্রনাথ রবীন্দ্রনৃত্যের প্রবর্তক; আর শিল্পচর্চায় তিনি সত্তর পেরিয়ে চিত্রাঙ্কনে মন দেন—প্রায় ২৫০০-এরও বেশি স্কেচ ও ছবি আঁকা রেকর্ড করা আছে, যার একটি বড় অংশ শান্তিনিকেতনেই সংরক্ষিত। ১৯২৬ সালে তাঁর চিত্র প্রদর্শনী প্যারিসে অনুষ্ঠিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক দিক থেকেও তা প্রশংসিত হয়।

    কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্য ও সাহিত্যকর্ম — ‘কবি কাহিনী’, ‘বনফুল’, ‘মানসী’, ‘সোনার তরী’, ‘চিত্রা’, ‘গীতাঞ্জলি’— এবং উপন্যাসের মধ্যে ‘গোরা’, ‘ঘরে বাইরে’, ‘চতুরঙ্গ’, ‘নৌকাডুবি’ ইত্যাদি জাতীয় ও আঞ্চলিক পাঠকপ্রিয়। নাটক, প্রবন্ধ ও অনুবাদ-রচনাতে তাঁর অবদান সমসাময়িক বিষয় ও সাংস্কৃতিক প্রশ্নে গভীর প্রভাব ফেলে।

    শেষ কথা—পিঠাভোগ কেবল একটি গ্রাম নয়; এটি রবীন্দ্রনাথের পূর্বপুরুষদের স্মৃতি ও কুশারী-ঠাকুর বংশের ইতিহাস সংরক্ষিত একটি ঐতিহ্যভূমি। যদিও বংশের কিছু শাখা বাড়তি সম্পদ ও সামাজিক অবস্থান লাভ করলেও সময়ের সাথে বিচার-বিবাদ ও বিভাজন তাদের জীবিকা ও সম্পত্তি প্রভাবিত করেছে। তবু পিঠাভোগের কুশারী বাড়ি বাঙালি ইতিহাসে একটি স্মরণীয় স্থান হিসাবে থেকে যায়—রবীন্দ্রনাথকে ব্যক্তিগত ও ঐতিহাসিক প্রসঙ্গে বোঝার এক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র।

    সূত্র: যশোর–খুলনার ইতিহাস

  • চিতলমারীতে জামায়াত নেতা মোজাহিদ মোল্লা কুপিয়ে নিহত

    চিতলমারীতে জামায়াত নেতা মোজাহিদ মোল্লা কুপিয়ে নিহত

    বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় জুস কেনাকে কেন্দ্র করে জামায়াত নেতা ও মুদি দোকানী মোঃ মোজাহিদ মোল্লা (৪২)কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে হিজলা ইউনিয়নের হিজলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত মোজাহিদ মোল্লা একই গ্রামের সরোয়ার মোল্লার ছেলে এবং বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী হিজলা ইউনিয়ন শাখার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনের মতো বাড়ির সামনে দোকানে বসে থাকা অবস্থায় ওই সময় বায়জিদ শেখ (৪০) নামে এক ব্যক্তি জুস কিনেন। বায়জিদ জুসটি এনে বলেন এটি ভালো নয়—এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

    পরে বায়জিদ হাতে থাকা হাসুয়া দিয়ে মোজাহিদের গলায় কোপ দেন। গুরুতর রক্তক্ষরণে স্থানীয়রা তাকে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এই ঘটনার পর এলাকার লোকজন ক্ষোভে বায়জিদের বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর এবং বায়জিদকে পিটিয়ে আহত করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং আহত বায়জিদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। বায়জিদ হিজলা খাপাড়া গ্রামের বাদশা শেখের ছেলে বলে জানানো হয়েছে।

    চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং বায়জিদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।

    নিহতের মৃত্যু সংবাদ ছড়ালে স্থানীয় জামায়াত ও এলাকার নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান ও উপজেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

    নিহত মোজাহিদের পরিবারে স্ত্রী এবং তিন সন্তানের মধ্যে আছে—হাফিজ, ফারিয়া ও ফারহানা। পুলিশ ও স্থানীয়রা আরও জানিয়েছে, ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত চলছে।

  • শার্শায় জমিজমা বিবাদের জেরে ককটেল বিস্ফোরণ ও মোটরসাইকেল ছিনতাই, একজন আটক

    শার্শায় জমিজমা বিবাদের জেরে ককটেল বিস্ফোরণ ও মোটরসাইকেল ছিনতাই, একজন আটক

    যশোরের শার্শায় জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘ দিনের বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এক বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয় এবং দুটি মোটরসাইকেল ছিনতাই করে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

    ঘটনাটি উপজেলার উলাশী ইউনিয়নের মাটিপুকুরিয়া গ্রামে ঘটে। স্থানীয় ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে ওই গ্রামের রবি হোসেনসহ অজ্ঞাত আরো ২–৩ জন ওই এলাকার ইয়াকুব আলীর বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা বাড়ির সদস্যদের গালিগালাজ ও হুমকি দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

    একপর্যায়ে অভিযুক্তরা ইয়াকুব আলীর একতলা পাকা বাড়ির দেয়ালে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণের ভয়াবহ শব্দে আশপাশের মানুষ দৌড়ে এসে ছুটেন এবং পুরো এলাকায় ভয়ে কাপতে থাকে। পরে দুর্বৃত্তরা বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে একটি লাল-কালো পালসার এবং একটি হিরো স্প্লেন্ডার মোটরসাইকেল জোরপূর্বক নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তৎপর হয়ে বেনাপোল এলাকা থেকে রবি হোসেনকে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে লুট হওয়া দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, ইয়াকুব আলী ও প্রতিবেশী রবি হোসেনের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকেই বাড়ির পাশের জমিতে পুকুর খননকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিল। তারা বলেন, অতিরিক্ত গভীরতা দিয়ে পুকুর খননের ফলে ইয়াকুব আলীর বাড়ি ও আশপাশের স্থাপনার ভাঙার আশঙ্কা দেখা দেয় এবং এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বহুবার তর্কবিতর্ক হয়েছে।

    এছাড়া স্থানীয়রা আরো জানান, রবি হোসেন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা পাওনা দাবিও করছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

    শার্শা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, ঘটনাটি তদন্তাধীন এবং সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তদন্তের পরে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

  • কেসিসির তেল চোর চক্র ধরতে তিন দফায় তদন্ত কমিটি গঠন

    কেসিসির তেল চোর চক্র ধরতে তিন দফায় তদন্ত কমিটি গঠন

    খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) তেল চোর চক্রের ঘটনার তদন্ত করতে তিন দফায় কমিটি গঠন করেছে। কেসিসি প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা সাক্ষরিত অফিস আদেশে সর্বশেষ ৪ মে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আদেশে কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোঃ আনিসুজ্জামানকে। অন্য দুই সদস্য হলেন কনজারভেন্সি অফিসার মোঃ আনিসুর রহমান ও উপসহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোঃ সেলিমুল আজাদ।

    ঘটনাটি ঘটেছিল গত ১৯ মার্চ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে। খালিশপুর বি-অঞ্চলের এসটিএস সুপারভাইজার নুরুজ্জামান সুমন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে ফোন করে জানায় যে, খালিশপুর নিউমার্কেটের এসটিএস এর এলাকায় এক ব্যাকহুইল লোডারের জ্বালানি ট্যাংকের মুখ খুলে তেল চুরি হচ্ছে। প্রশাসকের নির্দেশনায় সেখানে গেলে একটি তেলের ক্যান এবং কয়েক লিটার তেল জব্দ করা হয় এবং ওই ব্যাকহুইল লোডারের চালক এনায়েত হোসেন বাবলুকে গাড়ি চালানো থেকে বিরত রাখা হয়। ঘটনার প্রাথমিক দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা অভিযোগ পেয়ে তদন্ত সাপেক্ষে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ দেন।

    তবে তদন্ত শুরু থেকেই সদস্য জাতীয় পরিবর্তন দেখা দেয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রথমে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হলেও কমিটির একজন সদস্যকে নিয়ে আপত্তি উঠায় প্রশাসকের নির্দেশে তিনি কমিটি থেকে সরিয়ে নতুন করে গঠন করা হয়। বাদ দেওয়া সদস্য ছিলেন কেসিসি এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিন; তাঁর স্থলে নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোঃ আনিসুজ্জামানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    পরে পুনরায় গঠিত দ্বিতীয় দফার কমিটিতে আহবায়ক করা হয় মোঃ আনিসুজ্জামানকে। ওই সময়ে কমিটির এক সদস্য, কনজারজেন্সি অফিসার মোঃ অহেদুজ্জামান ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করলে তদন্ত চলাকালীন আবারও তৃতীয় দফায় কমিটি গঠন করা হয়।

    এই ঘটনায় আগে থেকেই ইতিহাসও আছে। সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের সময়ে কেসিসি কর্তৃপক্ষ দুই ড্রাম চোরাই তেলসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করেছিল; সেই ঘটনার তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছিল কিন্তু এখনও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ পায়নি। স্থানীয় চালক ও কর্মচারীরা আশা করছেন, পুরনো তদন্ত রিপোর্ট খতিয়ে দেখলে কিংবা নতুন তদন্তে সর্তকভাবে যাচাই-বাছাই করলে তেল চুরির সম্ভাব্য চক্রের পরিচয় উঠে আসবে।

    নতুন গঠিত কমিটির সদস্য কনজারভেন্সি অফিসার মোঃ আনিসুর রহমান প্রথমে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “আমি এ ঘটনার বাদী। আমাকে কীভাবে ও কোন নিয়মে কমিটির সদস্য করা হলো—এটার ব্যাখ্যা চাই।” কেসিসি প্রশাসন কমিটির পুনর্গঠন এবং তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে প্রতিবেদন প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে।

  • চিকিৎসকের স্টিকারযুক্ত প্রাইভেট কারে ২৬টি সোনার বার উদ্ধার, ৩ জন আটক

    চিকিৎসকের স্টিকারযুক্ত প্রাইভেট কারে ২৬টি সোনার বার উদ্ধার, ৩ জন আটক

    যশোরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) একটি বিশেষ অভিযানে ২৬টি সোনার বার উদ্ধার করে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। উদ্ধার হওয়া সোনার বারের মোট ওজন ৩ কেজি ৪৮ গ্রাম এবং বিজিবি মূল্য হিসাব করে সেগুলোর মূল্য ধার্য করেছে প্রায় ৬ কোটি ৩৯ লাখ ৪৭ হাজার ৪০ টাকা।

    বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) এক বিশেষ টহল নিলগঞ্জ ব্রিজ (যশোর–নড়াইল মহাসড়ক) এলাকায় তল্লাশি পরিচালনা করে। সকালে সাড়ে চারটার দিকে ওই এলাকায় চিকিৎসকের স্টিকার লাগানো একটি প্রাইভেট কার থামিয়ে তল্লাশি করা হলে গাড়ির হেডরেস্টের ভেতর বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় ২৬টি সোনার বার পাওয়া যায়।

    ঘটনায় প্রাইভেট কারসহ আটক করা হয় শার্শার রাজনগর গ্রামের জহির উদ্দিনের ছেলে রনি (৩৬), চৌগাছার উত্তর কয়েরপাড়া গ্রামের ইসহাকের ছেলে আব্দুল গনি (৫৪) এবং যশোর সদর উপজেলার বাগডাঙ্গা গ্রামের ইব্রাহিম সরদারের ছেলে ইসরাইল (৪৬)।

    বিজিবি জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছেন যে ঢাকার আবদুল্লাহপুর ও উত্তরা এলাকায় থাকা চোরাকারবারিদের কাছ থেকে সোনাগুলো সংগ্রহ করে যশোরের চৌগাছা সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। অভিযানে সোনার বারের পাশাপাশি একটি প্রাইভেট কার, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৭ হাজার ৩২৭ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

    যশোর ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে সোনা পাচারের প্রবণতা বেড়েছে এবং এই ধরনের পাচার রোধে বিজিবির অভিযানগুলো অব্যাহত থাকবে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করে তাদের যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

  • চিতলমারীর পরিত্যক্ত হেলিপ্যাড হতে পারে ভবিষ্যতের মিনি স্টেডিয়াম

    চিতলমারীর পরিত্যক্ত হেলিপ্যাড হতে পারে ভবিষ্যতের মিনি স্টেডিয়াম

    বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের পরিত্যক্ত হেলিপ্যাড ভবিষ্যতে একটি আধুনিক মিনি স্টেডিয়ামে রূপান্তর হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর এই আবদার ছিল, এবং সম্প্রতি ক্রীড়া সচেতন নেতৃবৃন্দ এই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নের আশার বাতিসো করে তুলেছেন। জানানো হয়েছে, কাউন্সিল বা পরিকল্পনাকারীরা দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার জন্য একটি মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের চিন্তাভাবনা করছেন, কিন্তু উপযুক্ত স্থান না পাওয়ায় সেই পরিকল্পনা বারবার পিছিয়েছে। এখন সেই মনোভাবের প্রতিফলন ঘটতে পারে হেলিপ্যাডের পরিত্যক্ত জমিতেই, যেখানে খেলাধুলার জন্য সুবিধাজনক স্থান সৃষ্টি করে এলাকার যুবকদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে এক সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। মাঠের পাশাপাশি শিশুদের জন্য ছোটখাট রাইডার ও বিনোদনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করলেও এলাকার মানুষের প্রতিদিনের চাহিদা পূরণ হবে।

    চিতলমারী সদর ইউনিয়নের ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ সরকারের আমলে আড়–য়াবর্নী গ্রামে নির্মিত এই হেলিপ্যাডের নামানুসারে ৩ একর ৩৬ শতক জমি বিআরএস রেকর্ডে রয়েছে। বর্তমানে ওই স্থানটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে, যেখানে কিছু মৌজা মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন এবং বিভিন্ন সুস্থতা ও অপবিত্রতা দেখা দিয়েছে।

    অন্যদিকে বাজারের ব্যবসায়ী ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও পাশের বাসিন্দা শেখ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এখন আর হেলিকপ্টার ওঠানামা করে না। অনেক বছর ধরে এটি পরিত্যক্ত পড়ে আছে। কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সেখানে কলাগাছ ও পেঁপেঅগাছ লাগিয়ে জমি দখল করেছেন, আর পাশে ফেলা হয় ময়লা-আবর্জনা। এর ফলে দুর্গন্ধে সাধারণ মানুষ বসবাস করতে পারছেন না। রাতে মাদকসেবীদের আড্ডাও চলে এখানে। ফলে, এই জমিটিকে সচেতনতা ও পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবহার করলে এলাকার যুবসমাজ সুস্থ ধারায় ফিরবে।’

    বিশিষ্ট ক্রীড়া শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বিন্দু, ক্রীড়াবিদ সত্যজিৎ মন্ডল এবং যুব নেতারা জানান, এই অঞ্চলে খেলাধুলার জন্য উপযুক্ত মাঠের খুব অভাব। দীর্ঘদিনের এই প্রত্যাশা পূরণের জন্য হেলিপ্যাডের জায়গায় একটি আধুনিক মিনি স্টেডিয়াম বা খেলার মাঠ গড়ে তোলার প্রয়োজন। এতে করে যুব সমাজ আবারও খেলাধুলায় ফিরবে এবং সুস্থ জীবনধারায় অনুপ্রাণিত হবে।

    অঞ্চলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের নেতৃত্বে থাকা চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার বলেন, ‘প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য জেলা পর্যায় থেকে একটি খেলার মাঠের জন্য জায়গা নির্ধারণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে, জেলা প্রশাসক প্রত্যেক ইউনিয়নের জন্য নির্ধারিত জায়গাগুলোর তালিকা পাঠিয়েছেন। আমরা সেই অনুযায়ী কাজ করছি, এবং হেলিপ্যাডের পরিত্যক্ত জমি ক্ষেত্রবিশেষে বিকল্প পরিকল্পনা হিসেবে একটি বিখ্যাত খেলা মাঠের জন্য ব্যবহারের পরিকল্পনা করছি।’

  • বিশ্বকবির শ্বশুরবাড়ি দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্সের উন্নয়নে অর্ধযুগের বেশি সময়ের অপেক্ষা

    বিশ্বকবির শ্বশুরবাড়ি দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্সের উন্নয়নে অর্ধযুগের বেশি সময়ের অপেক্ষা

    বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিধন্য শ্বশুরবাড়ি খুলনার ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণডিহির ‘রবীন্দ্র কমপ্লেক্স’ দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত হয়নি। বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও এর উন্নয়ন এখনো অর্ধেকের বেশি অপ্রাপ্ত। ফলে, এই ঐতিহাসিক স্থানটি দর্শনার্থীদের জন্য বিরামহীন হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ ভবনগুলো দেখার সময় সেখানে যেতেও তেমন কোনও যোগাযোগ বা সংস্কার করা হয়নি। এর মধ্যেই আগামীকাল (৮ মে) থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী রবীন্দ্রনাথের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী ও লোকমেলা আয়োজন, যা দক্ষিণডিহি মহাশহরে উৎসবের রূপ নেবে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৯৫ সালে খুলনা জেলার তখনকার জেলা প্রশাসক কাজী রিয়াজুল হক এই স্থানে রবীন্দ্রনাথের শ্বশুরবাড়ির দখলমুক্তির উদ্যোগ নেন। অবৈধ দখল ও অবহেলা মুক্ত হয়ে স্থানটি সংরক্ষণ ও সংস্কারের জন্য ঠিক করা হয়। এরপর ২০০০ সালের ৮ আগস্ট প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এই বাড়ির দেখাশোনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। পরবর্তীতে, দক্ষিণডিহি এলাকায় পূর্ণাঙ্গ রবীন্দ্র কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ৪৯ লাখ টাকা চেয়ে চিঠি পাঠায়; এর মধ্যে ২২ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়।

    ২০১২ সালের মাঝামাঝি সময়ে এই তহবিলের অর্থ ব্যয়ে ভবন সংস্কার, বাউন্ডারি ওয়াল, বিদ্যুৎ সংযোগের পাশাপাশি কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন হয়। এর আগে, ভবনের সামনে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং তার পত্নী মৃণালিনী দেবীর বিশাল আক্ষরিক মূর্তি স্থাপন, পুরোনো ছবি দেওয়া ও মৃণালিনী মঞ্চের নির্মাণ হয়। তবে কবির কর্মময় জীবনের উপর সংগ্রহশালা, লাইব্রেরি, অডিটোরিয়াম, রবীন্দ্র চর্চা কেন্দ্র ও রেস্ট হাউসের মত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণের দাবি এখনও সম্পন্ন হয়নি। এ ছাড়াও পর্যটন কেন্দ্র, পিকনিক স্পট ও প্রবেশের রাস্তা প্রশস্ত করার কাজের অগ্রগতি খুব কম। একমাত্র সীমানা প্রাচীর, মূল ভবনের সংস্কার, লাইব্রেরি ও দর্শনার্থীদের জন্য নির্মিত ছাউনী ও টয়লেটের কাজ দৃশ্যমান।

    ফুলতলার সাবেক ইউএনও সাদিয়া আফরিনের সময় দৃষ্টিনন্দন পার্কের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। এর পাশাপাশি, ২০১৬ সালে এই স্থানটি ‘দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র স্মৃতি যাদুঘর’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এরপর থেকে দেশি-বিদেশি দর্শকদের জন্য টিকেটের মূল্যও নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে দেশের দর্শকদের জন্য ২০ টাকা এবং বিদেশীদের জন্য ৫০ টাকা নির্ধারিত।

    করোনা মহামারীর কারণে গত তিন বছর ভ্রুক্ষেপে অনুষ্ঠান হয়নি। তবে এখন, রবীন্দ্রনাথের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকীতে, ২৫ থেকে ২৭ বৈশাখ পর্যন্ত এই কমপ্লেক্সে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, লোকমেলা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় ও খুলনা জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই উদযাপন খুবই উৎসাহের সঙ্গে পালন করা হচ্ছে। বিশেষ করে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় কবি রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিধন্য এই কমপ্লেক্সকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে।

    আগামীকাল বিকেল ৩টায় এই তিন দিনের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন প্রধান অতিথি হিসেবে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান এমপি। এছাড়াও উপস্থিত থাকবেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিদ্য ইসলাম অমিত, জাতীয় সংসদ হুইপ রকিবুল ইসলাম এমপি, খুলনা-৫ ও ৪ আসনের সংসদ সদস্য মো: আলি আজগার ও এস কে আজিজুল বারী, খুলনা বিভাগের কমিশনার মোঃ আব্দুল্লাহ হারুন, ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক প্রমুখ। জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত এই বৃহৎ অনুষ্ঠানের সমন্বয় করবেন।

    ফুলতলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুচি রানা সাহা জানান, সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবাই সহযোগিতা করলে এই অনুষ্ঠান সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে। এ অনুষ্ঠানমেলায় সাধারণ মানুষের আগমন বেশি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • খুলনা মহিলার মানববন্ধনে মেলার প্রতিবাদ: খেলার মাঠের অবনতি রোধের আহ্বান

    খুলনা মহিলার মানববন্ধনে মেলার প্রতিবাদ: খেলার মাঠের অবনতি রোধের আহ্বান

    খুলনা বিভাগের মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে মেলার বিরুদ্ধে খুলনা ক্রীড়াঙ্গনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) এ কর্মসূচি পালিত হয়। অভিমত প্রকাশকারী বক্তারা বলেন, ‘খেলার মাঠে মেলা নয়’—এটাই এখন তাদের মূল প্রতিপাদ্য। তারা বলেন, যুব সমাজকে মোবাইলের বেশি আসক্তি ও মাদক থেকে রক্ষা করতে খেলার মাঠের গুরুত্ব অপরিসীম, যেখানে শিশু, কিশোর ও যুবকরা সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ পায়। কিন্তু সম্প্রতি এসব খেলার মাঠে মেলা বসানো শুরু হওয়ায় অবক্ষয় শুরু হয়েছে।
    বক্তারা আরও বলেন, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক একজন খেলোয়াড় ছিলেন। তিনি ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, জেলা পর্যায়ে খেলার মাঠে মেলা বসানো যাবে না। এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে খুলনায় ক্রীড়াঙ্গন এখন ব্যথিত এবং প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে।
    মানববন্ধনের নেতৃত্বে ছিলেন দক্ষ ক্রীড়া সংগঠক, সাবেক জেলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির সদস্য আরাফাত রহমান কোকো। তিনি বলেন, ‘খেলার মাঠকে অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।’ এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন খুলনা টাউন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও ক্রীড়াসংঘের সচিব মোঃ তরিকুল ইসলাম, অন্য দলের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন ক্লাবের কর্মকর্তারা ও খেলোয়াড়রা। বিভিন্ন স্কুল ও যুব সংগঠনের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নিয়েছেন। কর্মসূচি শেষে বক্তারা অবিলম্বে মাঠে মেলা বন্ধের দাবি তুলে পরিস্থিতির সচেতনতা বৃদ্ধিতে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান, যেন ভবিষ্যতে শিশুদের জন্য নিরাপদ ও সুস্থ খেলার পরিবেশ নিশ্চিত হয়।

  • চিতলমারীতে জামায়াত নেতা হত্যা: দোকানে ঝগড়া থেকে হত্যা

    চিতলমারীতে জামায়াত নেতা হত্যা: দোকানে ঝগড়া থেকে হত্যা

    বাগেরহাটের চিতলমারীতে জুস ক্রয়কে কেন্দ্র করে মোঃ মোজাহিদ মোল্লা (৪২) নামে এক মুদি দোকানীকে ক্রেতা কুপিয়ে হত্যা করেছে। বুধবার (৭ মে) ভোর ৭টার দিকে উপজেলার হিজলা ইউনিয়নের হিজলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত মোজাহিদ মোল্লা ওই এলাকার সরোয়ার মোল্লার ছেলে এবং বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর হিজলা ইউনিয়ন শাখার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান এবং স্থানীয় জামায়াত ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন, শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। অপ্রত্যাশিত এই হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি ঘটনার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিহতের স্বজনরা জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে মোজাহিদ বাড়ির সামনে একটি দোকানে বসে ছিলেন। সেই সময় বায়জিদ শেখ নামের একজন তার হাতে থাকা জুস ক্রয় করেন। জুস হাতে নিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা ভালো না।’ এই কথা শুনে মোজাহিদ জুসটি খেয়ে বলেন, ‘এটা খারাপ না।’ দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হলে উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে বায়জিদ তাঁর হাতে থাকা হাসুয়া (ঘাস কাটা কাস্তে) দিয়ে মোজাহিদ মোল্লার গলায় কোপ দেয়। এতে গুরুতর আহত হন মোজাহিদ, তাকে দ্রুত চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, ঘটনার সময় মোজাহিদ দোকানে বসে ছিলেন। বায়জিদ তার কাছে থেকে জুসটি নেওয়ার পর বলে, ‘এটা ভালো না।’ কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে, বায়জিদ হাসুয়া দিয়ে মোজাহিদকে কোপ দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বায়জিদ শেখকে গ্রেফতার করে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। নিহতের পরিবারে রয়েছে তার স্ত্রী ও তিন সন্তান—হাফিজ, ফারিয়া ও ফারহানা। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, হত্যাকাণ্ডের পরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় গণতান্ত্রিক শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।