Category: সারাদেশ

  • সুন্দরবনকে যেকোনো মূল্যে বিষমুক্ত করা হবে: বন প্রতিমন্ত্রী

    সুন্দরবনকে যেকোনো মূল্যে বিষমুক্ত করা হবে: বন প্রতিমন্ত্রী

    পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার করা যেন আত্মহত্যার সামিল — এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মৎস্যসম্পদ এবং জলজ-বনজ সম্পদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েই জানালেন, যেকোনো মূল্যে সুন্দরবনকে বিষমুক্ত করা হবে।

    বুধবার (১ এপ্রিল) সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন বুড়িগোয়ালিনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে মধু আহরণ মৌসুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

    তিনি জানান, সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ বন্ধে কড়াকড়ি আরোপ করা হবে। প্রতিটি মৎস্যআড়তে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মাছের মধ্যে বিষের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হবে। কোনো আড়তে বিষযুক্ত মাছ ধরা পড়লেই সেই আড়ৎদারকে গ্রেফতার করা হবে এবং যারা ওই মাছ সরবরাহ করেছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ অভিযান তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত করা হবে বলেও প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

    জেলার জনস্বার্থ ও বনবেষ্টিত এলাকায় অনিয়ম রোধে নতুন কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, জানিয়ে তিনি বলেন, সুন্দরবন ব্যবস্থাপনায় নতুন নীতিমালা প্রণয়ন চলছে। আগামী বছর থেকে অতিরিক্ত নৌকার সংখ্যা নিয়ন্ত্রিত হবে—নির্দিষ্ট সংখ্যার (৫০০টির বেশি নয়) অতিরিক্ত নৌকা সুন্দরবনে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। যারা নিয়মভঙ্গ করবেন তাদের নামের তালিকা করা হবে এবং ভবিষ্যতে বনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে।

    প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ আরো কার্যকর করতে বনবিজীবী ও বনের সঙ্গে জড়িতদের ফিঙ্গারপ্রিন্টসহ একটি সমন্বিত ডাটাবেস তৈরি করা হচ্ছে, যাতে কেউ ভিন্ন পরিচয়ে বারবার প্রবেশ করে অপরাধ করতে না পারে।

    মধু আহরণকারীদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভেজালমুক্ত মধু সংগ্রহ করলে তা দেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি আনবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও চাহিদা বাড়বে। তিনি সতর্ক করে বলেন, স্বল্প মেয়াদে লাভের জন্য মধুতে ভেজাল মিশিয়ে নিজেদের সম্পদ নষ্ট করা উচিত নয়; দীর্ঘমেয়াদি ভাবনা রাখতে হবে।

    সামাজিক মূল্যবোধের কথা তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, অসৎ পথে অর্জিত অর্থ কখনোই ভালো ভবিষ্যৎ এনে দেয় না। সুন্দরবনে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থেকে সৎভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে সকলকে আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

    জলদস্যু ও বনদস্যুর উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই রকম অপরাধীরা আমাদের আশপাশেই আছে; যদি সামাজিকভাবে সবাই সচেতন থাকি এবং দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে আসি, তারা টিকতে পারবে না। তিনি বিভিন্ন স্তরে ৫০০ জনের মতো সাহসী মানুষ রয়েছে বলেও উল্লেখ করে বলেন, যারা বনদস্যুর বিরুদ্ধে সঠিক পদক্ষেপ নেবেন, তাদের সনাক্ত করে প্রশাসনকে সহযোগিতা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

    অনুষ্ঠানটি সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ, সাতক্ষীরা রেঞ্জের আয়োজন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা অঞ্চলের বনসংরক্ষক ইমরান আহমেদ। প্রধান অতিথিসহ বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতার, পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল, জেলা বিএনপির আহবায়ক রাহমাতুল্লাহ পলাশ, যুগ্ম আহবায়ক ড. মনিরুজ্জামান, সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু প্রমুখ।

  • টিকে থাকতে প্রযুক্তিতে দক্ষ হতে হবে শিক্ষার্থীদের: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

    টিকে থাকতে প্রযুক্তিতে দক্ষ হতে হবে শিক্ষার্থীদের: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম বুধবার (০১ এপ্রিল) আনুমানিক দুপুর ১২টার দিকে আকস্মিকভাবে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের একটি ক্লাস পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে তিনি শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি আলাপচারিতা করেন এবং পাঠদানের পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও পাঠ্যসূচি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

    উপাচার্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন নিজেকে গড়ে তোলার শ্রেষ্ঠ সময়। এই সময়ে জীবনীয় লক্ষ্য ও পদক্ষেপ নির্ধারণ করা জরুরি। নিয়মিত পড়াশোনার সঙ্গে সঙ্গে সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ করা উচিত—এতে নেতৃত্ববান হওয়ার পাশাপাশি মানসিক চাপ ও হতাশা কাটিয়ে ওঠতেও সাহায্য করে।

    তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বর্তমান বিশ্বকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এ যুগে টিকে থাকতে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন ছাড়া বিকল্প নেই। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে হলে এআইসহ আধুনিক প্রযুক্তিতে পারদর্শী হতে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন বিভাগের জন্য পর্যায়ক্রমে আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে।

    পরিদর্শনের সময় শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট বিভাগের কয়েকটি সমস্যা তুলে ধরলে উপাচার্য মনোযোগ দিয়ে তা শোনেন এবং সমস্যা সমাধানের জন্য ধাপে ধাপে কার্যক্রম নেওয়ার আশ্বাস দেন।

  • সুন্দরবনকে বিষমুক্ত করতে কড়া নজরদারি ও নীতিমালা আসছে

    সুন্দরবনকে বিষমুক্ত করতে কড়া নজরদারি ও নীতিমালা আসছে

    সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ, সাতক্ষীরা রেঞ্জের আয়োজনে অনুষ্ঠানে খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার, পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রাহমাতুল্লাহ পলাশ, যুগ্ম আহ্বায়ক ড. মনিরুজ্জামান, সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

  • ফকিরহাটে বাস চাপায় চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রের মৃত্যু

    ফকিরহাটে বাস চাপায় চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রের মৃত্যু

    ফকিরহাটে মহাসড়ক পার হওয়ার সময় বাসের চাপায় মো: ছাহাদ (১১) নামের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্ঘটনা ঘটে খুলনা-ঢাকা মহাসড়কের বৈলতলী এলাকায়। নিহত মো: ছাহাদ বৈলতলী গ্রামের মো: জাহাঙ্গিরের ছেলে। তিনি স্থানীয় ফকিরহাট এল-পি উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। তার এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে, পরিবার ও স্কুলের সবাই শোকাহত।

    প্রতিবেশীরা জানায়, বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে মো: ছাহাদসহ তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বাসে করে ঢাকায় থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। বৈলতলী এলাকায় পৌঁছালে ছাহাদ বাস থেকে নেমে রাস্তা পার হচ্ছিল। হঠাৎ অজ্ঞাত একটি দ্রুতগামী বাস তাকে চাপা দিয়ে দ্রুত স্থান ছেড়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    মোল্লাহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আসাদুজ্জামান হাওলাদার জানিয়েছেন, এই দুর্ঘটনার বিষয়ে তিনি অবগত। দুর্ঘটনা কীভাবে ঘটেছে তা খতিয়ে দেখছেন এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

  • ঝিনাইদহে ভ্যানের ধাক্কায় বৃদ্ধের মৃত্যু

    ঝিনাইদহে ভ্যানের ধাক্কায় বৃদ্ধের মৃত্যু

    ঝিনাইদহ শহরে রাস্তা পার হওয়ার সময় ব্যাটারিচালিত ভ্যানের ধাক্কায় এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে শহরের আরাপপুর এলাকায় এই মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শমশের আলীর বাড়ি হরিণাকুণ্ডু উপজেলার সাবেকবিন্নি গ্রামে। তবে তিনি বর্তমানে ঝিনাইদহ শহরতলীর মুরারীদহ গ্রামে ছেলের সঙ্গে থাকতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে তিনি আরাপপুর এলাকার রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় একটি কলাবোঝাই ভ্যান তাকে জোরের সঙ্গে ধাক্কা দেয়, যার ফলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ আধিকারিক মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস জানান, দুর্ঘটনার পর ভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে এবং এ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে। ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা শোকস্তব্ধ এবং এলাকায় নির্বিঘ্নতা ও নিরাপত্তার জন্য কর্তৃপক্ষের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

  • এক বছরের সাজা শেষে দেশে ফিরলেন তিন বাংলাদেশি যুবক

    এক বছরের সাজা শেষে দেশে ফিরলেন তিন বাংলাদেশি যুবক

    আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভারতের কেরালা থেকে ফিরলেন তিনজন বাংলাদেশি যুবক, যারা এক বছর সাজাভোগ করেছিলেন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত ১১টার দিকে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনের সরকারি কর্মকর্তারা তাদেরকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনেন। বাংলাদেশি গণউপহাইকমিশন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পশ্চিমবঙ্গের নারী-শিশু পাচাররোধ বিষয়ক টাস্কফোর্সের যৌথ প্রচেষ্টায় এই স্বাভাবিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

    ফেরত আসা ব্যক্তিরা হলেন: সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার কলিনগর গ্রামের রমজান মল্লিক, একই থানার গোবিন্দপুর গ্রামের জাবের হোসেন এবং আসাদুজ্জামান গাজী। তারা বিভিন্ন সময় অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন বলে জানা গেছে।

    সাজাভোগের সময় তারা কেরালার একটি সেফ হোমে ছিলেন। পরে, তাদের নাগরিকত্বের যাচাই-বাছাই শেষে ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করে তাদের ফেরত আনা হয়।

    বিনিময়কালে যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার কেন্দ্রের কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, দালালের মাধ্যমে তাদের ভালো কাজের আশায় কেরালায় যেতেন এই তিন যুবক। সেখানে অবৈধভাবে বসবাসের কারণে সেখানকার পুলিশ তাদের আটক করে আদালতে পাঠায়। আদালত তাদের এক বছর কারাদণ্ড দেয়, যার পরে তারা দেশে ফেরেন।

    বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিদর্শক সৈয়দ মোর্তজা বলেন, ট্রাভেল পারমিটের ভিত্তিতে ফেরত আসা এই তিন ব্যক্তির সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র সম্পন্ন করে পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তাদের পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

  • শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আকাশ ছোঁয়ার সুযোগ অপরিহার্য

    শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আকাশ ছোঁয়ার সুযোগ অপরিহার্য

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম আজ বুধবার (১ এপ্রিল) আনুমানিক দুপুর ১২টায় কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) ডিসিপ্লিনের ক্লাস পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনের সময় তিনি শ্রেণীকক্ষে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের পাঠদানের পদ্ধতি, মনোযোগ ও পাঠ্যবিষয় সম্পর্কে খোঁজ গ্রহণ করেন।

    উপাচার্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন হলো নিজেকে গড়ে তোলার জন্য সবচেয়ে মূল্যবান সময়। এই সময় থেকেই আমাদের জীবন লক্ষ্য ও কক্ষপথ নির্ধারণ করতে হবে। এজন্য নিয়মিত পড়াশোনা ছাড়াও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ। এতে নেতৃত্বগুণ বিকাশের পাশাপাশি মানসিক চাপ ও হতাশা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিশ্বকে দ্রুত পরিবর্তন করছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করতে হবে। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের সামর্থ্য তুলে ধরতে এবং জায়গা করে নিতে হলে এআইসহ আধুনিক প্রযুক্তিগুলি সম্পর্কে পারদর্শী হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে পর্যায়ক্রমে আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    পরিদর্শনকালে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরলে উপাচার্য সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে শোনেন এবং এসব সমস্যার দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।

  • ঝিনাইদহে কলাবোঝাই ভ্যানের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত

    ঝিনাইদহে কলাবোঝাই ভ্যানের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত

    ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর এলাকায় বুধবার (০১ এপ্রিল) সকালে কলাবোঝাই একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানের ধাক্কায় এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তির নাম শমশের আলী; তিনি হরিণাকুণ্ডু উপজেলার সাবেকবিন্নি গ্রামের বাসিন্দা এবং স্ত্রীসন্তানসহ শহরতলীর মুরারীদহ গ্রামে ছেলের বাড়িতে থাকতেন।

    স্থানীয়রা জানান, সকালে আরাপপুর এলাকায় রাস্তা পার হচ্ছিলেন শমশের আলী। এ সময় দ্রুতগামী ওই ভ্যান তাকে সজোরে ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরিস্থিতি দেখেই এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    আরাপপুর হাইওয়ে পুলিশের ওসি মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস বলেছেন, দুর্ঘটনার পর ভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে এবং পুলিশ তদন্ত করছে যে নিয়ন্ত্রণহীনতার পাশাপাশি অন্য কোনো কারণ ছিল কি না।

  • বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা অপরিহার্য

    বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা অপরিহার্য

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম আজ বুধবার (০১ এপ্রিল) আনুমানিক দুপুর ১২টায় আকস্মিকভাবে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) ডিসিপ্লিনের একটি ক্লাস পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় তিনি শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং পাঠদানের পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও পাঠ্যবিষয় সম্পর্কিত বিভিন্ন দিক খোঁজখবর নেন।

    উপাচার্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন নিজেকে গড়ে তোলার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এই সময়ে নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ করে তার দিকে নিয়মিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। শুধু বইয়ের পড়াই নয়, সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে নেতৃত্বগুণ গড়া, দলগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানসিক চাপ ও হতাশা কাটিয়ে ওঠাও সমান জরুরি।

    প্রফেসর রেজাউল করিম বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্রুতগতিতে বিশ্ব পরিবর্তন করে নিচ্ছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন ছাড়া বিকল্প নেই। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে এআইসহ আধুনিক প্রযুক্তিতে পারদর্শী হতে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে পর্যায়ক্রমে আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

    পরিদর্শনকালে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের অনুশোচনার কিছু সমস্যা তুলে ধরলে উপাচার্য তা গুরুত্বসহকারে শুনে সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষকমণ্ডলীর সহযোগিতায় এসব সমস্যা শিগগির সমাধান করার চেষ্টা করা হবে।

    উপাচার্যের এই আকস্মিক ক্লাস পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথাবার্তা বিশ্ববিদ্যালয়জীবনকে আরও অর্থবহ ও গঠনত্মক করার গুরুত্বকে পুনরায় ব্যাখ্যা করে।

  • চরমোনাই মাহফিলের তিন দিনব্যাপী বার্ষিক অনুষ্ঠান শুরু, শনিবার আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে

    চরমোনাই মাহফিলের তিন দিনব্যাপী বার্ষিক অনুষ্ঠান শুরু, শনিবার আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে

    বিশিষ্ট ঐতিহ্যবাহী চরমোনাই মাহফিলের তিন দিনব্যাপী বার্ষিক অনুষ্ঠান আজ বুধবার থেকে বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর তীরে শুরু হয়েছে। এই সংগঠিত ও অর্গানাইজড তাসাউফ ও সমাজ শুদ্ধির মাহফিলটি চরমোনাই ময়দানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা দেশের বিভিন্ন আলেম ও উলামারা, মওলানা, ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের অংশগ্রহণে উৎসবের রূপ নিয়েছে। সাধারণত প্রতি বছর অগ্রহায়ণ ও ফাল্গুন মাসে এই শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হলেও, এই বছর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রমজান মাসের কারণে তা চৈত্র মাসে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

    বুধবার জোহরের নামাজের পর বাংলাদেশের মুজাহিদ কমিটির প্রধান আমীরুল মুজাহিদিন মুফতি ও চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের উদ্বোধনী ভাষণ দিয়ে মাহফিলের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির সূচনা হয়। তিন দিনব্যাপী এই মাহফিলে প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় মোট সাতটি প্রধান বক্তৃতা বা বয়ান অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী ও সমাপনী বয়ানসহ মোট পাঁচটি বক্তৃতা পেশ করেন পীর সাহেব চরমোনাই। এর পাশাপাশি তিনটি বয়ান দেন বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির নায়েবে আমীর মুফতি ও শায়খে চরমোনাই সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম।

    এছাড়াও, দেশের শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরাম বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান পরিবেশন করবেন। এই মাহফিলের আয়োজন ও পরিচালনা করে চরমোনাই জামেয়া রশিদিয়া আহসানাবাদ, যা বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত।

    ১৯৮৭ সালে, এই মাহফিলের সূচনা শতাব্দীর ৩০-এর দশকে হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি দেশের অন্যতম আধ্যাত্মিক ধারায় রূপান্তরিত হয়েছে। এই ধারার প্রধান নেতাদের মধ্যে অন্যতম শাইখে চরমোনাই মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মাদ ফজলুল করীম রাহিমাহুল্লাহ। তিনি ১৯৮৭ সালে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন নামে রাজনৈতিক আন্দোলন শুরু করেন, যা বর্তমানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নামে পরিচিত। এই মাহফিল ও ধারার শক্তিশালী অবস্থান বাংলাদেশের আধ্যাত্মিকতা ও রাজনীতিতে অবদান রাখছে।

    মাহফিলে আগত মুসল্লিদের জন্য চারটি সুবিশাল মাঠ প্রস্তুত করা হয়েছে। সেখানে আলো, শব্দ ও পরিবেশের ব্যাপক ব্যবস্থা রয়েছে। অজু, গোসল ও ইস্তেঞ্জার জন্য পর্যাপ্ত সুবিধা দেওয়া হয়েছে। সহস্রাধিক স্বেচ্ছাসেবক আলাদা করে সেবা ও শৃঙ্খলার দায়িত্ব সামলাবেন। জরুরি চিকিৎসার জন্য ১০০ শয্যার হাসপাতাল প্রস্তুত, যেখানে দেশের শীর্ষ চিকিৎসকগণ সেবা প্রদান করবেন। রোগীদের দ্রুত স্থানান্তরসহ, দুইটি ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স ও মোট পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য পুলিশ-আনসার বাহিনী ও স্বচেতন নিরাপত্তা কর্মীরা নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়াও, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সর্বদা সতর্ক থাকবেন।

    এই মাহফিলের সমাপ্তি অনুষ্ঠিত হবে শনিবার ভোরে, আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে।

    খুলনা থেকে মুসল্লিদের উপস্থিতির আহবান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা জেলা শাখার নেতারা, যেমন—মাওলানা আব্দুল্লাহ ইমরান, হাফেজ আসাদুল্লাহ গালিব, মাওলানা আবু সাঈদ, এস এম রেজাউল করিম সরদার ও অন্যান্য স্বনামধন্য নেতারা। তারা সবাই আশা প্রকাশ করেন যে, বৃহৎ এ ধর্মীয় সমাবেশে সকলে অংশগ্রহণ করে দেশের ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিকতার পাশে থাকবেন।