Category: সারাদেশ

  • ফকিরহাটে পাম্পে তেল নেয়ার সময় বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালক নিহত

    ফকিরহাটে পাম্পে তেল নেয়ার সময় বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালক নিহত

    ফকিরহাটে পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে গিয়ে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালক মো: ইয়াছিন শেখ (৫৫) নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে খুলনা-ঢাকা মহাসড়কের পাগলা-শ্যামনগর এলাকায়।

    নিহত ইয়াছিন শেখ স্থানীয় সাতশৈয়া গ্রামের শেখ আ. বারির ছেলে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল প্রায় ১০টায় ইয়াছিন শেখ তাঁর মোটরসাইকেলে পাগলা-শ্যামনগর এলাকার আরা ফিলিং স্টেশনে ঢুকছিলেন যোগাযোগে তেল অর্জনের জন্য। তখন খুলনাগামী এক যাত্রীবাহী বাস তাকে ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন।

    স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রফতানি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর দেড়টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলটি দুভাগে ভেঙে যায় এবং ঘটনাস্থলেই বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। এ সময় ধাক্কা দেয়া বাসটি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

    মোল্লাহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আসাদুজ্জামান হাওলাদার বলেন, তিনি সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়ে অবগত হয়েছেন এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, একই দিনে উল্লেখযোগ্য আরও দু’টি দুর্ঘটনা ঘটে। সকাল এগারটার দিকে পিলজং এলাকায় একটি ক্রেন উল্টে ইসরাফিল শেখ (২৭) আহত হন। এছাড়া শ্যামবাগাত এলাকায় বাসের ধাক্কায় একজন অজ্ঞাতপরিচয় বাইসাইকেল আরোহীও গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। আহত দুজনকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

  • মেধাস্বত্ব সুরক্ষিত হলে গবেষণা জাতীয় উন্নয়নে বড় অবদান রাখতে পারে: উপাচার্য

    মেধাস্বত্ব সুরক্ষিত হলে গবেষণা জাতীয় উন্নয়নে বড় অবদান রাখতে পারে: উপাচার্য

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেকনোলজি ট্রান্সফার অফিস (টিটিও) হিট সাব-প্রজেক্টের আওতায় ‘ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি রাইটস অ্যান্ড প্রটেকশন স্ট্র্যাটেজিস’ শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার (০৬ এপ্রিল) লিয়াকত আলী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম।

    উপাচার্য বলেন, গবেষণার প্রকৃত মূল্য তখনই নিশ্চিত হয় যখন সেটি সঠিকভাবে সংরক্ষিত ও ব্যবহারযোগ্য হয়। মেধাস্বত্ব রক্ষার মাধ্যমে গবেষণার ফল শুধুমাত্র একাডেমিক কাগজপত্রে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তা জাতীয় উন্নয়ন ও শিল্পখাতে বাস্তবে প্রযোজ্য হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। তিনি গবেষকদের উদ্ভাবন সুরক্ষা বিষয়ে আরও জাগরুক হওয়ার আহ্বান জানান এবং টিটিও গঠন ও এ ধরনের কর্মশালার আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের ফলে গবেষকরা তাদের কাজকে বাণিজ্যিক সুযোগে রূপান্তর করতে পারবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান। তিনি বলেন, গবেষণার প্রধান লক্ষ্য মানবকল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়ন। কিন্তু বহু কষ্টে অর্জিত গবেষণার মালিকানা হারিয়ে গেলে সেই লক্ষ্য পূরণ বাধাগ্রস্ত হয়—তাই মেধাস্বত্ব নিশ্চিত করা অপরিহার্য। তিনি গবেষণার ফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং তার আর্থিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

    ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী বলেন, গবেষণায় বিনিয়োগের ফল যাতে সুরক্ষিত থাকে তা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয়েরও একটি দায়িত্ব। পঠন-পাঠন ও গবেষণার পাশাপাশি মেধাস্বত্ব রক্ষণাবেক্ষণ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে জরুরি এবং টিটিও এই সুবিধার বাস্তব প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে।

    পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, উদ্ভাবনের মেধাস্বত্ব সুরক্ষা ছাড়া উদ্ভাবক হিসেবে প্রয়োজনীয় স্বীকৃতি পাওয়া সম্ভব নয়। মেধাস্বত্ব নিশ্চিত করলে সেই উদ্ভাবনগুলো বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা যায় এবং গবেষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারেন। তাই তিনি সকল গবেষণার আউটকামগুলোকে মেধাস্বত্ব অধিকারের আওতায় আনার আহবান জানান।

    অনুষ্ঠান সভাপতিত্ব করেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের এসপিএম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টারের পরিচালক প্রফেসর ড. কাজী মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন প্রকল্পের এসপিএম প্রফেসর ড. মোঃ ইয়ামিন কবীর। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রিসার্চ অফিসার সাজ্জাদ হোসেন তুহিন।

    উদ্বোধনী পরবর্তীতে দিনব্যাপী তিনটি টেকনিক্যাল এবং তিনটি ডিসকাশন সেশন অনুষ্ঠিত হয়। সেশনগুলো উপস্থাপন করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী, পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, পরিচালক ড. অশোক কুমার রায় ও উপ-পরিচালক (পেটেন্টস) মোঃ হাবিবুর রহমান।

    কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি স্কুল ও ডিসিপ্লিনের উদ্ভাবনকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে কিভাবে সুরক্ষিত করা যায় তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। এতে বিভিন্ন স্কুলের ডীন, ডিসিপ্লিন প্রধান, ছাত্র বিষয়ক পরিচালক, বিভাগীয় পরিচালক, হিট প্রকল্পগুলোর এসপিএমবৃন্দ, শিল্প প্রতিনিধি, আইনজীবী ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

    উদ্ভাবন সুরক্ষা ও বাণিজ্যিকীকরণকে কেন্দ্র করে আয়োজন করা এ কর্মশালাকে টিটিওর গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হিসেবে ব্যক্ত করে অনুষ্ঠানের শেষ প্রান্তে বলা হয়, ভবিষ্যতে এসব উদ্যোগ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে শিল্প ও সমাজের সঙ্গেও মেলাতে এবং জাতীয় ইনোভেশন ইকোসিস্টেম গঠনে সহায়ক হবে।

  • বাগেরহাটে তথ্য অধিকার ও জবাবদিহিতা নিয়ে আলোচনা সভা

    বাগেরহাটে তথ্য অধিকার ও জবাবদিহিতা নিয়ে আলোচনা সভা

    বাগেরহাটে ‘তথ্য অধিকার ও জবাবদিহিতা’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সম্মেলন কক্ষে সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ১০টায় আয়োজিত সভার সভাপতিত্ব করেন মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট মেহেরুন্নেছা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা তথ্য কর্মকর্তা মুঈনুল ইসলাম।

    সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উদয়ন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইশরাত জাহান এবং নির্মাণ সমাজ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রিজিয়া পারভীন। আমরাই পারি জোটের কনসালট্যান্ট নজমুস সাকিব রুবেল সভাটি সঞ্চালনা করেন।

    আয়োজকরা জানান, ‘‘নাগরিক’’ প্রকল্পের আওতায় আমরাই পারি জোট (উই ক্যান), নির্মাণ সমাজ উন্নয়ন সংস্থা ও উদয়ন বাংলাদেশ যৌথভাবে এই কর্মসূচি পরিচালনা করেছে। এ প্রকল্পে সুইজারল্যান্ড দূতাবাস, গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতা রয়েছে।

    অনুষ্ঠানে বাগেরহাট সদর ও রামপাল উপজেলার নাগরিক ফোরামের নেতৃবৃন্দ, নারী নেত্রী, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, তথ্য অধিকার আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করলে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য নাগরিকদের মধ্যে তথ্য অধিকার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো, তথ্য প্রাপ্তি প্রক্রিয়া সহজ করা এবং সরকারি দফতরগুলিতে তথ্যবহুল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।

    বক্তারা আরও বলেন, সুবিধাবঞ্চিত, দলিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করলে তথ্যপ্রাপ্তি আরও ন্যায়সংগত হবে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ, তথ্য সেবা কেন্দ্র এবং সচেতনতা অভিযানের মাধ্যমে নাগরিকদের তাদের অধিকার প্রয়োগে উৎসাহিত করা জরুরি বলে তারা উল্লেখ করেন।

    প্রকল্প পরিচালনার তথ্য অনুযায়ী, বাগেরহাট সদর ও রামপাল উপজেলার চারটি ইউনিয়নসহ দেশের ১২ জেলার ৪৮টি ইউনিয়নে ‘‘নাগরিক’’ প্রকল্প কাজ করছে, যেখানে লক্ষ্যবান্ধব সহায়তা করে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে।

  • নতুন তরুণ উদ্যোক্তারা গড়ে উঠলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে

    নতুন তরুণ উদ্যোক্তারা গড়ে উঠলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে

    বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে উদ্বুদ্ধকরণ ও সৃজনশীল ব্যবসা ধারণা ও স্টার্টআপ বিকাশে ব্যাংকসহ বিকল্প অর্থায়ন নিয়ে ‘ইউথ এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড স্টার্টআপ ফর স্টুডেন্টস’ শীর্ষক একটি কর্মশালা রোববার (৫ এপ্রিল) খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়াধীন এসএমই ফাউন্ডেশন এই প্রোগ্রাম আয়োজন করে এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা ইউনিভার্সিটি ক্যারিয়ার ক্লাব এতে সহযোগিতা করেছে।

    সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের লিয়াকত আলী মিলনায়তনে 열린 উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অতিথিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং বর্তমান সরকারের যুবদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার বিভিন্ন উদ্যোগের বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

    উপাচার্য আরও বলেন, দেশে চাকরির সুযোগ সীমিত থাকায় শুধু চাকরির ওপর নির্ভর না করে নিজ উদ্যোগে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর জাতির কচ্ছপী প্রত্যাশা আছে — তারা যদি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠে, তাহলে তা দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জন সম্ভব, তাই তরুণদের এ ক্ষেত্রে উৎসাহিত করা প্রয়োজন।

    খুবি প্রশাসন জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউনিভার্সিটি ইনোভেশন হাব’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই হাব-এর মাধ্যমে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং প্রশিক্ষণ শেষে সীড মানি দিয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার পথ সুগম করা হচ্ছে। উপাচার্য বলেন, বাস্তবসম্মত আইডিয়া থাকলে উদ্যোক্তা হিসেবে সফল হওয়া সহজ; অনেক প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগে আগ্রহী। তাই যুগোপযোগী ধারণা তৈরি ও সফট স্কিল অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

    অনুষ্ঠান সভাপতিত্ব করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী, বাংলাদেশ ব্যাংক, খুলনা কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক মোঃ রুকনুজ্জামান এবং স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল হাই। এসএমই ফাউন্ডেশনের জেনারেল ম্যানেজার আব্দুস সালাম সরদার সভাকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন ক্যারিয়ার ক্লাবের তাসমিয়া ইসলাম তিশা ও ফাহিম খান।

    উদ্বোধনী আলোচনায় বক্তারা মন্তব্য করেন যে, তরুণদের সামনে এখন অসীম সম্ভাবনা খোলা আছে। শুধু চাকরি নয়, উদ্যোক্তা হয়ে নিজে ও অন্যদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব, যা দেশকে গর্বিত করবে। উদ্যোক্তা তৈরিতে ইতোমধ্যে বহু প্রতিষ্ঠান কাজ করছে; তাই নতুন প্রজন্মকে ইনোভেটিভ আইডিয়া নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।

    বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বড় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের ছোট কোম্পানিগুলোরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মেন্টরশিপ, বিনিয়োগ এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের পথ সহজ করা সম্ভব।

    উদ্বোধনী পরবর্তী তিনটি প্লেনারি সেশনে উদ্যোক্তা উন্নয়ন, স্টার্টআপ গঠন, মেন্টরশিপ ও ব্যবসায়িক প্রশিক্ষণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (খুলনা) থেকে মোটকরে প্রায় তিনশত শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

  • খুলনায় অস্ত্র-গোলাবারুদসহ পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘গজাল’ ইমন গ্রেপ্তার

    খুলনায় অস্ত্র-গোলাবারুদসহ পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘গজাল’ ইমন গ্রেপ্তার

    খুলনা মহানগর পুলিশের দৌলতপুর থানা ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ অভিযানে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন হাওলাদার ওরফে গজাল ইমন (২৩) গ্রেপ্তার হয়েছেন।

    গ্রেপ্তার ইমন দৌলতপুর থানাধীন মহেশ্বরপাশা বুচিতলা এলাকার বাসিন্দা এবং আলমগীর হোসেনের ছেলে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    কেএমপির মিডিয়া সেলের সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরীর রায়েরমহল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে ইমনের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মহেশ্বরপাশা কার্তিককূল উত্তর ঘোষপাড়া এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

    উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে দুইটি ওয়ান-শ্যুটার গান, একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, পিস্তলের এক রাউন্ড গুলি এবং ওয়ান-শ্যুটার গানের চার রাউন্ড কার্তুজ। পুলিশ বলছে, এসব অস্ত্র-গুলোবারুদ ইমনসহ গ্রেপ্তারদের কাজে ব্যবহার করা হতো।

    প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ইমন হাওলাদারের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র সত্যসহ দস্যুতা ও চুরিসহ মোট সাতটি মামলা রয়েছে। পুলিশ তাকে তালিকাভুক্ত একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে জানায় এবং ঘটনার আর্থিক ও সহযোগী জট সংক্রান্ত আরও তদন্ত চালানো হচ্ছে।

  • খুলনায় অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন গ্রেপ্তার

    খুলনায় অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন গ্রেপ্তার

    খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) দৌলতপুর থানা পুলিশ ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ অভিযানে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন হাওলাদার ওরফে গজাল ইমন (২৩) গ্রেপ্তার হয়েছেন।

    আটক ইমন দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা বুচিতলা এলাকার বাসিন্দা এবং আলমগীর হোসেনের ছেলে।

    কেএমপির মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দিবাগত ভোররাতে গোপনসংবাদের ভিত্তিতে নগরীর রায়েরমহল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

    পরে ইমন যে তথ্য দিয়েছেন তা অনুযায়ী মহেশ্বরপাশার কার্তিককূল উত্তর ঘোষপাড়া এলাকায় আক্রমণাত্মক তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ কয়েক ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে। উদ্ধারে রয়েছে ২টি ওয়ান-শুটার গান, ১টি পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন, ১ রাউন্ড পিস্তলের গুলি এবং ৪ রাউন্ড ওয়ান-শুটার গানটির কার্তুজ।

    পুলিশ জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে ইমন হাওলাদারের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, দস্যুতা ও চুরিসহ মোট সাতটি মামলা রয়েছে। তিনি পুলিশের তালিকাভুক্ত একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী।

    ঘটনার পর থেকে কেএমপি তদন্ত চালাচ্ছে এবং গ্রেপ্তার ও উদ্ধারকৃত সামগ্রীর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

  • তরুণ উদ্যোক্তারা গড়ে উঠলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে

    তরুণ উদ্যোক্তারা গড়ে উঠলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে

    বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা ও সৃজনশীল স্টার্টআপ ধারণা প্রসারের লক্ষ্য নিয়ে ‘ইয়ুথ এন্টারপ্রেনিউরশিপ অ্যান্ড স্টার্টআপ ফর স্টুডেন্টস’ শীর্ষক একটি কর্মশালা আজ রোববার (৫ এপ্রিল) খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে এসএমই ফাউন্ডেশন এ কর্মশালার আয়োজক ছিল। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা ইউনিভার্সিটি ক্যারিয়ার ক্লাব সামগ্রিক সহযোগিতা প্রদান করেছে।

    সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের লিয়াকত আলী মিলনায়তনে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন নতুন সম্ভাবনার দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে কার্যকরভাবে কার্যকর হচ্ছে।

    উপাচার্য আরও বলেন, দেশে চাকরির বাজার সীমিত হওয়ায় প্রত্যেককে কেবল চাকরির জন্য অপেক্ষা না করে নিজেই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর জাতীয় প্রত্যাশা অনেক। তারা যদি উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে, তবে দেশের অর্থনীতি আরও সুদৃঢ় হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে গণভিত্তিক উন্নয়ন সম্ভব হবে। এজন্য এ ধরণের কার্যক্রম অত্যন্ত জরুরি।

    তিনি জানান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘ইউনিভার্সিটি ইনোভেশন হাব’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ হাবের মাধ্যমে নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদত্ত হচ্ছে এবং প্রশিক্ষণ শেষে সিডমানি (প্রারম্ভিক তহবিল) দিয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার পথকে আরও সুগম করা হচ্ছে। তিনি শিক্ষার্থীদের সফট স্কিল উন্নয়নেও গুরুত্বারোপ করেন এবং বলেন, বাস্তবসম্মত ও যুগোপযোগী আইডিয়া থাকলে বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হওয়া সহজ।

    অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আনোয়ার হোসেন চৌধুরি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী, বাংলাদেশ ব্যাংক খুলনা কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক মোঃ রুকনুজ্জামান এবং স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল হাই। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসএমই ফাউন্ডেশনের জেনারেল ম্যানেজার আব্দুস সালাম সরদার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ক্যারিয়ার ক্লাবের তাসমিয়া ইসলাম তিশা ও ফাহিম খান।

    বক্তারা সমাজে নতুন ধাঁচের কর্মসংস্থান গঠনে তরুণ উদ্যোক্তাদের ভূমিকার ওপর জোর দেন। তারা বলেন, আজকের তরুণদের সামনে অসীম সম্ভাবনা রয়েছে; শুধু চাকরি নয়, সফল উদ্যোক্তা হয়ে নিজে ও অন্যদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে সমাজকে এগোতে সাহায্য করা সম্ভব। উদ্যোক্তা তৈরিতে ইতোমধ্যেই নানা প্রতিষ্ঠান কাজ করছে; তাই শিক্ষার্থীদের ইনোভেটিভ আইডিয়া তৈরি করে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।

    অতিথিরা আরও বলেন, বাংলাদেশের মতো উদীয়মান দেশে শক্তিশালী স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা জরুরি। এতে বড় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ক্ষুদ্র বেসরকারি কোম্পানিগুলোরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিনিয়োগ ও মেন্টরশিপে সমন্বয় থাকলে তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবে পরিণত করা সম্ভব।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে তিনটি প্লেনারি সেশনে উদ্যোক্তা উন্নয়ন, স্টার্টআপ গঠন, মেন্টরশিপ ও ব্যবসায়িক প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়ের ওপর বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি খুলনার প্রায় তিনশত শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

  • ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা দিবস: খুলনায় বিশেষ অভিযান

    ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা দিবস: খুলনায় বিশেষ অভিযান

    ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া সংক্রমণ রোধে দেশব্যাপী ঘোষিত “প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা দিবস” কর্মসূচির অংশ হিসেবে খুলনা নগরে ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা অভিযানে লোকবল ও যন্ত্রপাতি মোতায়েন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় পরিচালিত এ কর্মসূচির আওতায় শনিবার খালিশপুর এলাকায় মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়।

    খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু সকাল সাড়ে ১০টায় ১২নং ওয়ার্ডস্থ প্রভাতী মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় উপস্থিত থেকে এই বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন। কেসিসি’র কনজারভেন্সি বিভাগ কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করছে।

    কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু স্থানীয় লোকজন ও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে বলেন, “নগরবাসীর সমস্যা দূর করাই কেসিসি’র মূল লক্ষ্য। আমরা একটি পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ শহর গড়তে কাজ করছি। খালগুলো পরিষ্কার করতে দুই মাসের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। আসন্ন বর্ষার আগেই ড্রেন-নালা পরিষ্কার করে যাতে কোথাও জলাবদ্ধতা না হয়, সে উদ্যোগ নেয়া হবে।”

    তিনি নগরবাসীর প্রতি বিশেষ করে অনুরোধ করেন ড্রেনে বা রাস্তা-ঘাটে আবর্জনা না ফেলতে এবং নির্দিষ্ট স্থানে আবর্জনা ফেলার মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সহযোগিতা করার জন্য। তিনি বলেন, নাগরিকদের সহযোগিতা পেলে পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ার লক্ষ্য সহজেই পূরণ করা সম্ভব।

    কেসিসি ইতোমধ্যে বিভিন্ন ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করেছে। ড্রেন, নালা, আবর্জনার স্তূপ এবং মশার প্রজননশীল ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে বিশেষভাবে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার রাখা, ফুলের গামলা, ড্রাম, অপ্রয়োজনীয় বাসন-পত্র বা পরিত্যক্ত টায়ারে পানি জমতে না দেওয়া সম্পর্কে নাগরিকদের সচেতনতা বাড়াতেও আহ্বান জানানো হয়েছে।

    কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মোঃ মাসুদ করিম, কনজারভেন্সি অফিসার প্রকৌশলী মোঃ আনিসুর রহমান, মোঃ অহিদুজ্জামান খান, এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিন, সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার মোঃ মনিরুজ্জামান রহিমসহ ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

    পরবর্তীতে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু পোর্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিপরীত গলি, এস লাইনের মসজিদ, গোয়ালখালী থেকে বাস্তুহারা পর্যন্ত ড্রেন, বয়রা হাউসিং এস্টেট-এর ১নং সড়ক ও ক্ষুদে খালের অবশিষ্ট অংশে চলমান উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেন।

  • বাগেরহাটে মাঠ দিবস: মাশরুম চাষে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

    বাগেরহাটে মাঠ দিবস: মাশরুম চাষে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

    বাগেরহাটে মাশরুম চাষে কৃষিতে বৈচিত্র্য আনা ও দরিদ্রতা কমানোকে লক্ষ্য করে মাঠ দিবস ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৫ এপ্রিল) সদর উপজেলা মিলনায়তনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের আয়োজনে এ কর্মসূচি চালানো হয়। মাশরুমকে কৃষি খাতে আয়ের একটি লাভজনক ও কম খরচের উপায় হিসেবে উজ্জীবিত করতে 이날 তথ্যবহুল প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনী করা হয়।

    অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রায় ১০০ জন মাশরুম চাষি অংশ নেন এবং নিজেরা অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন বলেন, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে মাশরুমের চাহিদা বাড়ছে; সঠিক প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে মাশরুম চাষকে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক করা যায়। তিনি আরও বলেন, স্বল্প জমি ও কম বিনিয়োগেই মাশরুম থেকে ভালো আয় সম্ভব হওয়ায় এটি বিশেষ করে যুবসমাজ ও নারী সংগ্রামীদের জন্য আত্মকর্মসংস্থানের বড় সুযোগ।

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক (কৃষিবিদ) মোঃ মোতাহার হোসেন, জেলা মৎস্য অফিসার রাজ কুমার বিশ্বাস, জেলা যুব উন্নয়ন অধিদফতরের উপপরিচালক এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিয়া খাতুন। তারা প্রযুক্তি, রোগনিয়ন্ত্রণ এবং বাজারজাতকরণ সম্পর্কে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেন।

    আলোচনায় আধুনিক মাশরুম উৎপাদন, সঠিকভাবে প্যাকেজিং ও স্থানীয় বাজারে বিক্রয় বৃদ্ধির কৌশল নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। সভার শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সার ও বীজ বিতরণ করা হয় এবং ভবিষ্যতে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং কৃষকদের মধ্যে মাশরুম চাষে আগ্রহ বাড়াবে।

  • প্রায় দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে জলদস্যুর হাতে অপহৃত ছয় জেলে ফিরেছে নিজের ঘরে

    প্রায় দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে জলদস্যুর হাতে অপহৃত ছয় জেলে ফিরেছে নিজের ঘরে

    সুন্দরবনে জলদস্যুদের হাতে অপহরণের পর মুক্তিপণের দাবিতে জিম্মিদের পরিবারের সংগ্রাম শেষে ছয় জেলে তাদের পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। শনিবার ভোরে বাড়ি ফিরেছে আনারুল, ইমরান ও সুশান্ত, এবং একদিন আগে শুক্রবার শ্মশানে আসে সাদ্দাম, ইউনুস আলী ও সাইফুল ইসলাম। অপহরণের সময়ে পরিবারের পক্ষ থেকে জলদস্যুদের কাছে মোট দেড় লাখ টাকার মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল, যা পরিশোধের মাধ্যমে জেলেরা মুক্তি পায়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সাদ্দামের মুক্তিপণের জন্য ৪০ হাজার, আনারুল, সুশান্ত ও ইমরানের জন্য প্রত্যেকের জন্য ৩৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। এছাড়া, ইউনুস আলী ও সাইফুলের জন্য প্রত্যেকের দৌঁড়ে গিয়ে ২৫ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। তবে, এনামুল ও হযরতসহ আরও চার জেলের কোনো খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি।

    এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জেলেরা জানিয়েছেন, ১ এপ্রিল বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার নির্দেশনা দেন। তার নির্দেশে র‌্যাব, কোস্টগার্ড, বিজিবি এবং পুলিশের তৎপরতার ফলে জলদস্যুরা অপহৃত জেলেদের নিশ্চিহ্নে নিচের দিকে সরে গেছে। সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন অফিসার মোঃ ফজলুল হক বলেন, অপহরণের বিষয়টি বা মুক্তি পাওয়ার আপডেট জেলেদের পরিবারের কাছ থেকে এখনো জানানো হয়নি।

    অতীতে, ৩০ মার্চ সুন্দরবনের চুনকুড়ি, মালঞ্চ ও মামুন্দো নদী থেকে ‘ডন’ ও ‘আলিফ ওরফে আলিম’ বাহিনী নামে পরিচিত চক্রের মাধ্যমে আরও চার জেলেকে অপহরণ করা হয়। শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ খালেদুর রহমান জানিয়েছেন, এই ধরনের ঘটনায় জেলেরা সাধারণত নিজেদের মধ্যে সমাধান করতে চান, কিন্তু জীবনের ঝুঁকির কারণে পুলিশকে তথ্য দিতে চান না। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।

    অপর দিকে, বনবিভাগের এক কর্মকর্তার দাবি, সুন্দরবনের নোটাবেঁকী টহল ফাঁড়ির সংলগ্ন এলাকায় প্রবেশ করে সাতজন মৌয়াল মধু সংগ্রহ করছিলেন। পরে অভিযানের সময় স্মার্ট টহল টিম তাদের আটক করে। তবে, নেটওয়ার্কের সমস্যা থাকায় আটক ব্যক্তিদের নাম বা পরিচয় জানা যায়নি।