হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে ২০২৬ পর্যন্ত চলার মধ্যে খুলনা সিভিল সার্জন দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জেলা পর্যায়ের একটি অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ মাস থেকে পাঁচ বছরের নিচে থাকা প্রতিটি শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করা হচ্ছে।
সভায় বক্তারা হাম-রুবেলার কারণে সৃষ্ট সংক্রমণকে মারাত্মক উদ্বেগ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, প্রতিটি শিশুর জীবন অমূল্য এবং আর কোনো শিশুকে এ রোগে ভুগতে বা প্রাণ হারাতে দেখার উপায় নেই। তারা জানান, প্রতি বছর প্রায় ১০ শতাংশ শিশু টিকাদান থেকে বঞ্চিত থাকে; তাই প্রতিরোধ নিশ্চিত করতে সকলকে সচেতন ও দায়িত্ববান হওয়ার আহবান জানানো হয়। বক্তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে বলেছে যে এই ক্যাম্পেইনে কোনো শিশু যেন বাদ না পড়ে।
শিক্ষা ও ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা আহ্বান জানিয়ে সভায় ইমামদের প্রতি আবেদন করা হয়েছে—জুমার খুতবা ও অন্যান্য নামাজের আগে হাম-রুবেলা টিকা সম্পর্কে প্রচারণা চালাতে। একই সঙ্গে জনসাধারণকে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও সক্রিয়ভাবে মাঠে নামার অনুরোধ করা হয়।
খুলনা সিভিল সার্জন মোছাঃ মাহফুজা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মন্ডল, বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোঃ মিজানুর রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মুহাম্মদ মহীউদ্দিন মজুমদার, খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার এ এস এম কবীর ও বাংলাদেশ বেতার খুলনা কেন্দ্রের উপআঞ্চলিক পরিচালক মোঃ মামুন আক্তার।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুর রহমান সজিব হাম-রুবেলা টিকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন এবং টিকার কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর গুরুত্বে গুরুত্বারোপ করেন।
অ্যাডভোকেসি সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন এবং মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম সমন্বয় ও প্রচারণা কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন।
উল্লেখ্য, খুলনা জেলার নয়টি উপজেলায় মোট ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪২০ শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্যাম্পেইনটি ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলছে। সকল অভিভাবককে অনুরোধ করা হয়েছে নির্ধারিত সময়ে তাদের যোগ্য শিশুকে নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে যেতে, যাতে এ মহামূল্যবান প্রতিরোধী টিকা সব শিশুর কাছে পৌঁছে যায়।









