Category: সারাদেশ

  • স্ত্রীর অভিযোগ: খুলনায় ব্যবসায়ী কালী শংকর সাহা অরবিন্দুকে অপহরণ ও গুমের চেষ্টা

    স্ত্রীর অভিযোগ: খুলনায় ব্যবসায়ী কালী শংকর সাহা অরবিন্দুকে অপহরণ ও গুমের চেষ্টা

    খুলনায় ব্যবসায়ী কালী শংকর সাহা অরবিন্দুকে অপহরণ করে গুমের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী অনামিকা দাস (পপি)। তিনি সোমবার খুলনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।

    অনামিকা দাস লিখিত বক্তব্যে বলেন, তিনি দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে সন্তান নিয়ে পরিত্যক্তাবস্থায় খুলনায় বসবাস করেছেন। এ সময় কালী শংকর সাহা অরবিন্দু তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন এবং হিন্দু বিবাহ আইন অনুযায়ী তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয় ৮ এপ্রিল ২০২৬ সালে।

    তবে অনামিকা অভিযোগ করেন, কালী শংকর সাহার প্রথম পক্ষের ছেলে ডাঃ হিমেল সাহা ও পুত্রবধূ তন্নী দেবনাথ তাদের বিয়ে মেনে নেননি। বিয়ের পর থেকেই তিনি মানসিক নির্যাতন, হুমকি এবং অপমান ভোগ করেছেন। এমনকি বাড়িতে প্রবেশ করতেও তাকে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    সংবাদ সম্মেলনে অনামিকা বলেন, গত ১৬ এপ্রিল স্বামীকে কৌশলে আটকে রেখে তার মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়া হয়। পরে জানতে পারেন তাকে খুলনা থেকে জোরপূর্বক ঢাকা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি একটি মামলা করেছেন; মামলা নং (সিআর) ৯৪১/২৬। আদালত সার্চ ওয়ারেন্ট জারি করলেও এখন পর্যন্ত তার স্বামীকে উদ্ধারের কোনো সাফল্য হয়নি বলে তিনি জানান।

    অনামিকা আরও অভিযোগ করেন, স্বামীকে অসুস্থ দেখিয়ে ঢাকা আটকে রাখা হয়েছে এবং জোরপূর্বক তার কাছ থেকে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি তাকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও চলছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

    তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর ছেলে ও পুত্রবধূর ওপর থেকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসা হয়েছে; বিষয়টি আড়াল করতে এবং দায় এড়াতে তাঁদের বিরুদ্ধে এ ধরনের গুমের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে অনামিকা দাস প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আবেদন জানিয়ে দ্রুত কালী শংকর সাহা অরবিন্দুকে উদ্ধার, তার নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং তাকে বিদেশে নেওয়া ঠেকানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেন।

  • সুন্দরবনে অস্ত্র-গুলিসহ কুখ্যাত বনদস্যু মেজ জাহাঙ্গীর আটক

    সুন্দরবনে অস্ত্র-গুলিসহ কুখ্যাত বনদস্যু মেজ জাহাঙ্গীর আটক

    বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার লক্ষ্যে চলা বিশেষ অভিযানে বড় সাফল্য অর্জন করেছে। বনদস্যু বাহিনীর প্রধান মোঃ জাহিদুল ইসলাম (৫৬), পরিচিত নাম মেজ জাহাঙ্গীরকে অস্ত্র ও তাজা গোলাবারুদসহ আটক করা হয়েছে বলে কোস্ট গার্ড নিশ্চিত করেছে। কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এই তথ্য জানিয়েছেন।

    কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে সুন্দরবনে অভিযান جاری রয়েছে—বিশেষত “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” ও “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুইটি সাঁড়াশি কার্যক্রমে বনদস্যু তৎপরতা নির্মূল করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ১২ মে রাত ১টায় বিসিজিএস তৌহিদ-এর নির্বাহী কর্মকর্তা লেঃ ইকরা মোহাম্মদ নাসিফের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল শিবসা নদীর আদাচাই ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন কালীর খাল এলাকায় অভিযান চালায়।

    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত ওই অভিযানে মেজ জাহাঙ্গীরকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে তার আস্তানা উচ্ছেদ করে দুইটি একনলা বন্দুক ও পাঁচ রাউন্ড তাজা গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে—জাহিদুল ইসলামের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতেই এসব জব্দ করা হয়।

    অটক জনের পরিচয় অনুযায়ী তিনি নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানার বাসিন্দা। বহুদিন ধরে সুন্দরবনের গভীরে নিজের বাহিনী গঠন করে দস্যুতা, সাধারণ জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় এবং জেলেদের আহরিত মৎসসম্পদ লুটপাটসহ নানা অপরাধমূলক কাজ চালিয়ে আসছিলেন।

    বিসিজিএস তৌহিদ-এর নির্বাহী কর্মকর্তা লেঃ ইকরা মোহাম্মদ নাসিফ জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বন-জলদস্যুদের কার্যকলাপ আবার সক্রিয় হওয়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। পরবর্তীতে কোস্ট গার্ড ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান কিছুটা ফলপ্রসূ হলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যস্ততা কাজে লাগিয়ে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল পুনরায় দস্যুত্ব ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করেছিল। এদের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় কোস্ট গার্ড জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করেছে।

    নাসিফ আরো বলেন, গত কয়েক মাসে করিম শরীফ, ছোট সুমন, ছোট জাহাঙ্গীর, বড় জাহাঙ্গীর, নানা ভাই, আসাবুর ও আলিফসহ একাধিক দস্যু দলকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। বর্তমানে যে যেসব বাহিনী জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ নেওয়া বা অন্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে, তাদেরও বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আটককৃত সন্ত্রাসীকে আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। কোস্ট গার্ড মন্তব্য করেছে যে, বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খালে এই ধরনের বিশেষ অভিযান ও টহল অব্যাহত রাখা হবে।

  • খুলনায় ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও গুমের চেষ্টা: অভিযোগ করেছেন দ্বিতীয় স্ত্রী

    খুলনায় ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও গুমের চেষ্টা: অভিযোগ করেছেন দ্বিতীয় স্ত্রী

    খুলনায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী কালী শংকর সাহা অরবিন্দুকে অপহরণ ও গুম করার চেষ্টার অভিযোগ জানিয়েছেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী অনামিকা দাস (পপি)। সোমবার তিনি এ অভিযোগ করে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের অনুরোধ করেছেন।

    অনামিকা জানান, দীর্ঘ ১৪ বছর স্বামী পরিত্যক্তা হিসেবে সন্তানকে নিয়ে খুলনায় বসবাস করেছিলেন। সে সময়ে কালী শংকর সাহা অরবিন্দু তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং হিন্দু বিবাহ আইন অনুসারে ৮ এপ্রিল ২০২৬ তার বাবা-মায়ের উপস্থিতিতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

    তবে তিনি বলেন, কালী শংকরের প্রথম পক্ষের লোকজন—বিশেষত ছেলে ডাঃ হিমেল সাহা ও পুত্রবধূ তন্নী দেবনাথ—এ বিয়েকে মেনে নেননি। বিয়ের পর থেকেই অনামিকা অভিযোগ করেন, প্রথম পক্ষের লোকজন তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন, হুমকি ও অপমান করেছে এবং অনেক সময় বাড়িতে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে অনামিকা আরও জানান, গত ১৬ এপ্রিল কৌশলে her স্বামীকে আটকে রেখে তাঁর মোবাইল ফোন জব্দ করে নেওয়া হয়। পরে তিনি জানতে পারে যে তাকে খুলনা থেকে জোরপূর্বক ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনার পর তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেছেন (সিআর নং ৯৪১/২৬)। আদালত_search warrant_ জারি করলেও এখন পর্যন্ত স্বামীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

    অনামিকা অভিযোগ করেন, স্বামীকে অসুস্থ বলে ঢাকায় আটকে রাখা হচ্ছে এবং জোরপূর্বক সম্পত্তি হস্তান্তরের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে তাঁর স্বামীকে দেশের বাইরে নেওয়ারও পরিকল্পনা চলছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তার ওপর চলমান মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন আড়াল করতে এ দাবি জানানো হচ্ছে বলে মনে করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে অনামিকা দাস প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কালী শংকর সাহা অরবিন্দুকে দ্রুত উদ্ধার করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এবং তাকে বিদেশে নেওয়া রোধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

  • সুন্দরবনে অস্ত্র ও গুলিসহ কুখ্যাত বনদস্যু ‘মেজ জাহাঙ্গীর’ আটক

    সুন্দরবনে অস্ত্র ও গুলিসহ কুখ্যাত বনদস্যু ‘মেজ জাহাঙ্গীর’ আটক

    বন ও উপকূলীয় মাছ ধরাকে নিরাপদ করতে দক্ষিণ অঞ্চলের বিশেষ অভিযানে সফলতা দেখিয়েছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু সংগঠনের প্রধান মোঃ জাহিদুল ইসলাম ওরফে ‘মেজ জাহাঙ্গীর’ (৫৬) কে আটক করা হয়েছে; তার কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও লাইভ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়—এই তথ্য কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন নিশ্চিত করেছেন।

    কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের সূত্রে জানা যায়, সরকার গ্রহনকৃত নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বর্তমানে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” ও “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামের দুটি সাঁড়াশি অভিযান চলছে। সেই অভিযানেরই অংশ হিসেবে ১২ মে রাত পেয়ে ১টার দিকে বিসিজিএস তৌহিদ-এর নির্বাহী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ইকরা মোহাম্মদ নাসিফের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল সুন্দরবনের শিবসা নদীর আদাচাই ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন কালীর খাল এলাকায় তল্লাশি চালান।

    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত ওই অভিযানে মেজ জাহাঙ্গীরকে হাতেনাতে আটক করা হয়। কোস্টগার্ড সদস্যদের উদ্ধারকৃত জিনিসপত্রের মধ্যে রয়েছে ২টি একনলা বন্দুক এবং ৫ রাউন্ড তাজা গুলি। আটক ব্যক্তির স্বীকারোক্তি ও তালিকার ভিত্তিতেই এসব উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে।

    আটক মোঃ জাহিদুল ইসলাম নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানার বাসিন্দা। বহুদিন ধরেই তিনি সুন্দরবনের গভীরে নিজের একটি বাহিনী গঠন করে রেখেছিলেন এবং স্থানীয় জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়, জেলেদের আহরিত মৎস্য সম্পদ লুণ্ঠনসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

    বিসিজিএস তৌহিদ-এর নির্বাহী কর্মকর্তা লে. ইকরা মোহাম্মদ নাসিফ জানান, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বন ও জলদস্যু তৎপরতা পুনর্বার বাড়তে শুরু করে। এরপর বিভিন্ন বাহিনীর তৎপরতার কারণে কিছুটা সঙ্কুচিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যস্ততা সুযোগ নিয়ে কয়েকটি স্বার্থান্বেষী মহল সুন্দরবনে নতুন করে কার্যক্রম শুরু করার চেষ্টা করেছিল। এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় কোস্টগার্ড “জিরো টলারেন্স” নীতিতে অভিযান পরিচালনা করছে।

    নাসিফ আরও জানান, গত কয়েক মাসে করিম শরীফ, ছোট সুমন, ছোট জাহাঙ্গীর, বড় জাহাঙ্গীর, নানা ভাই, আসাবুর ও আলিফ বাহিনীর মতো একাধিক দস্যু দলকেও এসব অভিযানের মধ্য দিয়ে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত কিছু দলে এখনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলছে; তাদেরকেও ধাপে ধাপে নির্মূল করা হবে বলে তিনি জানান।

    জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং আটককৃত জাহিদুল ইসলামকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। কোস্টগার্ড পাল্টা জানিয়েছে, বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের সমূলে নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খালে এই ধরনের বিশেষ অভিযান ও টহল অব্যাহত থাকবে।

  • ব্যবসায়ী স্বামীকে অপহরণ ও গুমের চেষ্টার অভিযোগ স্ত্রীর

    ব্যবসায়ী স্বামীকে অপহরণ ও গুমের চেষ্টার অভিযোগ স্ত্রীর

    খুলনায় ব্যবসায়ী কালী শংকর সাহা অরবিন্দুকে অপহরণ ও গুমের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার দ্বিতীয় স্ত্রী অনামিকা দাস (পপি) এর বিরুদ্ধে। সোমবার খুলনায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ বিষয়ে বিশদভাবে কথা বলেন।

    সংবাদ সম্মেলনে অনামিকা দাস জানান, তিনি দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে স্বামী পরিত্যক্তা হিসেবে সন্তানসহ খুলনায় বসবাস করে আসছেন। এর মধ্যে স্বামী কালী শংকর সাহা অরবিন্দু তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন, এবং ২০২৬ সালের ৮ এপ্রিল হিন্দু বিবাহ আইন অনুযায়ী তাদের বিবাহ مراسم সম্পন্ন হয়।

    তবে তিনি অভিযোগ করেন, কালী শংকর সাহার প্রথম পক্ষের ছেলে ডাঃ হিমেল সাহা ও পুত্রবধূ তন্নী দেবনাথ এই বিয়েকে মানসিকভাবে গ্রহণ করেননি। বিয়ের পর থেকেই তাকে মানসিক নির্যাতন, হুমকি, বের করে দেওয়ার চেষ্টা এবং অপমান করা হচ্ছে। এমনকি, তাকে বাড়িতে প্রবেশ করতে দিতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ১৬ এপ্রিল কৌশলে স্বামীকে আটকে রেখে তার মোবাইল ফোনও নিয়ে নেওয়া হয়। পরে জানা যায়, তাকে জোরপূর্বক ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা করেন, সিআর নং ৯৪১/২৬। আদালত সার্চ ওয়ারেন্ট জারি করলেও এখনো তার স্বামীকে উদ্ধার করতে পারেননি বলে তিনি জানান।

    অভিযোগে অনামিকা দাস আরো বলেন, তার স্বামীকে অসুস্থ দেখিয়ে ঢাকায় আটকে রাখা হয়েছে, আর জোরপূর্বক তার সম্পত্তি লিখে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি, তার স্বামীকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

    তিনি আরও জানান, দীর্ঘ দিন ধরে তার স্বামী ও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন, আর বিষয়টি আড়াল করতেই তাকে গুমের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে অনামিকা দাস প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তার স্বামীর দ্রুত উদ্ধার, নিরাপত্তা নিশ্চিত ও বিদেশে নেওয়া বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

  • কক্সবাজার থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় নিহত, ছেলে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন ঝিনাইদহের দুই মা

    কক্সবাজার থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় নিহত, ছেলে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন ঝিনাইদহের দুই মা

    বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজারে ঘুরতে গিয়ে পরিবারের জন্য সমাপ্তি হলো এক দুঃখজনক সড়ক দুর্ঘটনায়। শনিবার সকালে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতির ফোর সিজন রেস্টুরেন্টের কাছে মারছা পরিবহনের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন, এর মধ্যে দুইজন ঝিনাইদহের বাসিন্দা।

    নিহতরা হলেন ঝিনাইদহের সদর উপজেলার বাজারগোপালপুর গ্রামের চাঁন আলীর ছেলে নাইমুর ইসলাম (২১) এবং পাথাহাটি গ্রামের আনোয়ার খন্দকারের ছেলে নাঈম মিয়া (২১)। রোববার দুপুরে তাদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অন্য দিকে লোহাগাড়া থানা পুলিশ নিহত নাঈম মিয়ার মরদেহ দাফনের জন্য পরিবারের কাছে পাঠায়।

    প্রথম মত অনুযায়ী, নাইমুর ইসলাম ও নাঈম মিয়া খুব কাছের বন্ধু ছিলেন। এক বছর আগে তারা বিজিবিতে চাকরি পান। ছুটিতে বাড়িতে ফিরে, তারা ৪ মে কক্সবাজারে বেড়াতে যান। তবে ফিরে আসার পথে, গত শনিবার, সকাল ১০টার দিকে দুর্ঘটনার শিকার হন। এ ঘটনায় একজন নারী ঘটনাস্থলেই মারা যান। হাসপাতালে নেয়ার পর ওই দিন দুপুরে নাইমুর ও নাঈমের মৃত্যু ঘটে।

    নিহত নাইমুরের মা, খ্যাত আমেনা খাতুন, তার ছেলে হারানোর শোকে শয্যাশায়ী, এখন পল্লী চিকিৎসকের সহায়তায় চিকিৎসাধীন। তার স্বামী, চান আলী, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তারা দুজনই একজন সফল জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখতেন, যেখানে বড় ছেলে বিদেশে স্থায়ীভাবে থাকছে। কিন্তু দিনটি তাদের জন্য অত্যন্ত বেদনায় ভরপুর।

    নাইমুর ২০২৪ সালে এইচএসসি পাস করে বিজিবিতে চাকরি পান। খুবই কম সময়ের মধ্যে ছুটিতে এসে আবার সেই বন্ধুদের সাথে কক্সবাজারে গিয়েছিলেন। কিন্তু ফিরার পথে এই অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা তাঁদের স্বপ্নগুলো চূর্ণ করে দেয়।

    এদিকে, নিহত নাঈম মিয়ার পরিবারেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মা, গোলাপী খাতুন, বারবার কেদে কেদে মূর্ছা যাচ্ছেন। তার চাচা, সাইফুল ইসলাম, জানিয়েছেন, ভাই আনোয়ার খন্দকার চায়ের দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। নাঈম ছিল তার একমাত্র ছেলে। দাফনের জন্য গত রাতে তার মরদেহ শহরের গোরস্তানে সমাহিত হয়েছে। তাদের পরিবার এখন বাকরুদ্ধ, তারা বিচার চাইছেন, এবং লোহাগাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে ঘটনার জন্য।

    এই ঘঠনার পর পুরো ঝিনাইদহে শোকের মাতম বইছে। পরিবারগুলোকে দুঃখ ও ক্ষোভের মধ্যে পড়তে হয়েছে, আর তারা মেনে নিতে পারেননি এই অপ্রত্যাশিত মৃত্যু। পরিবারের প্রত্যাশা, এই দুর্ঘটনাই যেন প্রকৃত বিচার পান এবং দায়ীদের শাস্তি হয়।

  • চিকিৎসা শেষে খুলনায় ফিরেছেন তুহিন, নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি

    চিকিৎসা শেষে খুলনায় ফিরেছেন তুহিন, নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি

    খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন ঢাকায় চিকিৎসা শেষে আজ পুনরায় খুলনায় लौटেছেন। তার সুস্থতার খবর পেয়ে মহানগর বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আনন্দ ও স্বস্তির অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। সোমবার মহানগর বিএনপি’র মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ঢাকা থেকে ফিরে আসার পর শফিকুল আলম তুহিন এখন বেশ ভালো আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে চলছে। সুস্থতার খবর পেয়ে তিনি খুলনায় পৌঁছানোর পর মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে শুকরিয়া আদায় করেছেন দলের নেতাকর্মীরা। বিএনপি নেতারা তার দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থতার জন্য দোয়া করেছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে, তার উপস্থিতি দলীয় কর্মকান্ডে উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে খুলনা মহানগর বিএনপিকে সংগঠিত করার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। এ সময় নেতাকর্মীরা তার জন্য শুভকামনা ও শুভেচ্ছা জানান। বিশেষ করে আন্দোলন ও সংগঠনের শক্তি বৃদ্ধি বিষয়ে তার অন্তর্মুখী উদ্যোগে তারা আশাবাদী। শফিকুল আলম মনা, মহানগর বিএনপি’র সভাপতি ও দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, মো: মাসুদ পারভেজ বাবু, চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

  • প্রতিমন্ত্রী সাকির সঙ্গে কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলামের সাক্ষাৎ

    প্রতিমন্ত্রী সাকির সঙ্গে কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলামের সাক্ষাৎ

    পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি সোমবার দুপুরে তাঁর কার্যালয়ে খুলনা סিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকালে খুলনার অভ্যন্তরীণ কারিগরি ও উন্নয়ন বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) অধীনে বাস্তবায়িত ‘খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের সংশোধিত ডিপিপি উপস্থাপনের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা হয়। প্রশাসক মঞ্জু জানান, এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি কমাতে তাদের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে যাতে আগামী একনেক সভায় বিষয়টি উত্থাপন ও অনুমোদিত হয়। উল্লেখ্য, এই গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কের অবশিষ্ট নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তৃতীয়বারের মতো নতুন ডিপিপি প্রস্তুত করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছে। ইতোমধ্যে, এই প্রকল্পটি একনেকের সামনে উপস্থাপনের জন্য কার্যক্রম চলছে। এর আগে, প্রশাসক অনুরূপ উদ্যোগে সড়কটির অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরবর্তী একনেক সভায় অন্তর্ভুক্তি ও অর্থায়নের জন্য পরিকল্পনা ও অর্থমন্ত্রী বরাবর প্রয়োজনীয় চিঠি পাঠান।

  • ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার বন্ধে সচেতনতার বিকল্প নেই

    ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার বন্ধে সচেতনতার বিকল্প নেই

    সোমবার খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলনকক্ষে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন বাস্তবায়নে করণীয় বিষয়ক বিভাগীয় পর্যায়ের তামাক বিরোধী একটি গুরুত্বপুর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এই সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আবদুল্লাহ হারুন। তিনি বক্তব্যে বলেন, ধূমপান এবং তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহৃত মারাত্মক ক্ষতি জনস্বাস্থ্যের জন্য। এই জন্য প্রয়োজন, ধূমপান ও তামাকের উৎপাদন, ব্যবহার, ক্রয়-বিক্রয় এবং বিজ্ঞাপনকে রুখে দেওয়া। পাবলিক প্লেস ও পরিবহনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একশ’ মিটারের মধ্যে কোন দোকানে তামাক বিক্রয় করা যাবে না। ১৮ বছরের নিচে কারো কাছে তামাক বিক্রি বন্ধ করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ধূমপান ও তামাকের ব্যবহারে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে হবে। যদি এই আইন কার্যকর করা সম্ভব হয়, তবে ধূমপান ও তামাকের ব্যবহার কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    অনলাইনে বক্তব্য রাখেন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের মহাপরিচালক মোঃ আখতারউজ-জামান। খুলনা অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আবু সায়েদ মোঃ মনজুর আলমের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার সিফাত মেহনাজ, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মোঃ কামরুল ইসলাম, স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক ডাঃ মোঃ মুজিবুর রহমান, প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তফা সরোয়ার সহ আরও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বিভাগীয় প্রশাসন এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

    সভায় আলোচনা হয়, ধূমপান ও তামাক প্রতিরোধে নতুন আইন, ২০২৫ এবং সংশোধনী আইন, ২০২৬ এর বিষয়ে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, কলেজের অধ্যক্ষ, স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরাও এই আলোচনায় অংশ নেন।

    আলোচনায় বলা হয়, পাবলিক প্লেস, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলা এবং শিশু পার্কের সীমার একশ’ মিটারব্যাপী তামাক ও তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রয় নিষেধ। কেউ যদি বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহলে তার জন্য জরিমানা নির্ধারিত হয়েছে, যা অবিলম্বে পাঁচ হাজার টাকা। পুনরায় একই অপরাধে ধরা পড়লে এ জরিমানার দ্বিগুণ অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

    সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, কলেজের অধ্যক্ষ, স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকগণ।

  • যশোরে সাবেক এমপি শাহীন চাকলাদারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

    যশোরে সাবেক এমপি শাহীন চাকলাদারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

    যশোর জেলা ও দায়রা জজ আদালত সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলার চার্জশিট গ্রহণ করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। আজ সোমবার (১১ মে) চার্জশিটের ওপর শুনানি শেষে জজ মাহমুদা খাতুন এ আদেশ জানান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পিপি নূর আলম পান্নু।

    পেছনের বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের রাজনৈতিক-৪ শাখা সব ধরনের অস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। ওই প্রজ্ঞাপনে নির্দেশ দেওয়া হয় লাইসেন্সধারীদের ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের অস্ত্র সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দিতে হবে। কিন্তু শাহীন চাকলাদার তার লাইসেন্সকৃত পিস্তল (নম্বর-৬৯৪৪৬) পুলিশে জমা দেননি। পরে তদন্তকালে এসআই তারেক মোহাম্মদ আল নাহিয়ান জানান, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পালিয়ে যাওয়ার দিনই শাহীন চাকলাদার অস্ত্রসহ আত্মগোপনে চলে যান। পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।

    মামলায় বলা হয়েছে, সরকারি নির্দেশ অমান্য করে অস্ত্র নিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় তিনি সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অস্ত্রটি অবৈধ কাজে ব্যবহার করতে পারেন—এ ধরনের আশঙ্কা পুলিশ করেছে। কোতোয়ালি থানার এসআই সাইফুল ইসলাম এ ঘটনার একটি অভিযোগ দায়ের করে ২০২৫ সালের ২৮ মে কোতোয়ালি থানায় অস্ত্র আইন অনুযায়ী মামলা করেন। তদন্ত শেষে দায়িত্বরত কর্মকর্তা শাহীন চাকলাদারকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন। পরে মামলাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বদলি করা হয় এবং আজ আদালত চার্জশিট গ্রহণ করে পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।

    প্রসঙ্গত, গত বছরের ২২ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় আদালত শাহীন চাকলাদারের চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের সময় যশোর শহরের চিত্রামোড়ের পাঁচ তারকা হোটেল এবং পরে কাজীপাড়ায় তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। স্থানীয়রা জানান, ওই ঘটনাগুলোর আগে তিনি সপরিবারে আত্মগোপনে যান। জনশ্রুতি রয়েছে, রাজনীতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি ভারতের কলকাতায় অবস্থান করছেন—তবে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য জানা যায়নি।