Category: সারাদেশ

  • বাগেরহাটে এক সপ্তাহ ধরে জ্বালানি তেল সংকট, চালকদের দুর্ভোগ

    বাগেরহাটে এক সপ্তাহ ধরে জ্বালানি তেল সংকট, চালকদের দুর্ভোগ

    বাগেরহাটে এক সপ্তাহ ধরে তীব্র জ্বালানি তেল সংকট চলে আসছে। ঈদের তিনদিন আগে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে শুরু হওয়া এই সমস্যায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঘন্টার পর ঘন্টা সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে থাকার পরও পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন না যানচলাচলের সঙ্গে যুক্ত মানুষেরা।

    সরকারি অফিস খুললে সমস্যার শেযশত কমবে বলে আশাও করেছিলেন স্থানীয়রা, কিন্তু বাস্তবে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অধিকাংশ পাম্পে তেল মেলেনি। শহরের খারদ্বার এলাকার খানজাহান আলী ও বরকত পাম্পে তেল না পেয়ে মোটরসাইকেল চালক ইউনুস শেখ ১১ কিলোমিটার দূরে সাইনবোর্ড বাজারের ওসমান আলী পাম্পে ছুটে যান। সেখানে ঘন্টাখানেক দাঁড়িয়ে ২০০ টাকার তেল নিয়ে ফিরে আসতে হয়েছে তাকে।

    জেলায় মোট ২৩টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে — বাগেরহাট সদর, কচুয়া, ফকিরহাট, মোল্লাহাট ও শরণখোলা উপজেলার প্রতিটি পাম্পেই তীব্র তেল সংকট দেখা দিয়েছে। অন্যান্য চারটি উপজেলার মানুষরাও এসব পাম্পের ওপর নির্ভরশীল। পাম্প মালিকরা বলছেন, ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় মাত্র ১০ থেকে ২০ শতাংশ তেল পাচ্ছে তারা, ফলে বিক্রি করার মতো পর্যাপ্ত জোগান হচ্ছে না। অনেক সময় পাম্প পুরো ভরাট রাখা পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

    ঔষধ কোম্পানিতে কর্মরত রোকনুজ্জামান জানান, পেশাগত কারণে প্রতিদিন একশ কিলোমিটারের বেশি গাড়ি চালাতে হয়, আর এক সপ্তাহ ধরে তেলের তীব্র সংকটে তিনি উদ্বিগ্ন। সিগারেট কোম্পানিতে চাকরি করা নুরুজ্জামান বলেন, গতকাল রাতেই তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ২০০ টাকার তেল নিয়ে এসেছেন এবং সুযোগ পেলেই পাম্পে ঢুকে তেল নেওয়ার চেষ্টা করছেন, কারণ কাজ চালাতে মোটরসাইকেল অপরিহার্য।

    পাম্প মালিকরা বলছেন, সাধারণত গণপরিবহনের চাহিদা মেটাতে ডিজেল অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে যাতে বাস-ট্রাক চলাচল বন্ধ না পড়ে এবং ধান ও অন্যান্য ফসলের রেকর্ডায়ন ব্যাহত না হয়। তবে গণপরিবহনের চালকরা অভিযোগ করেন, পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় তাদেরকে অতিরিক্ত চাপে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। রায়েন্দা-ঢাকা রুটের বাস চালক আনসার মুসল্লী বলেন, ডিজেলের অভাবের কারণে নির্ধারিত সময়মতো বাস চালানো যাচ্ছে না; মাঝপথে একাধিক পাম্পে দাঁড়াতে হয়, ফলে যাত্রীরা অভিমত প্রকাশ করে ক্ষুব্ধ হন।

    কিছু পাম্পের কর্মীরা সরবরাহের ঘাটতি নিয়ে বিস্তারিত জানান। খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনের নজেল ম্যান আছাদ জানান, প্রতিদিন তাদের পর্যাপ্ত আনুশীলন অনুযায়ী প্রায় ৩ হাজার লিটার পেট্রোল ও ২ হাজার ৫শ লিটার অকটেন দরকার, কিন্তু ডিপো থেকে দুই দিন পর মাত্র ১৫শ লিটার অকটেন এবং পেট্রোল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক সময় খালি হাতে ফিরতে হয় এবং চালকরা তাদের ওপর অসহিষ্ণুতা দেখান। কচুয়ার সাইনবোর্ড বাজারের ওসমান আলী ফিলিং স্টেশনের মালিক বদিউজ্জামান খোকন বলেন, ডিপো তেল পাঠানো মাত্রই সেখান থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে; তবে প্রয়োজনের তুলনায় কম জোগান আসায় সমস্যা হচ্ছে।

    বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, তেলের এই সংকটের একটি বড় কারণে সাধারণ মানুষজনের মধ্যে অবৈধ মজুদ ও ট্যাংকি ভর্তি রাখা। কেউ কেউ বাড়তি মুনাফার আশায় তেল সংগ্রহ করে মজুদ করছেন, আবার প্রয়োজন ছাড়াও ট্যাংকি পূর্ণ করে রাখায় কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন মাঠ পর্যায়ে তদারকি শুরু করেছে এবং মজুদকারীদের চিহ্নিত করে কারও বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    বিভাগীয় ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, ডিপো-অপারেটর ও পাম্প মালিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত যোগান স্বাভাবিক করাসহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, অন্যথায় যান চলাচল ও কৃষি কাজে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

  • খুলনায় ২৮ বছরের কুলসুমের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    খুলনায় ২৮ বছরের কুলসুমের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    খুলনা মহানগরীর ৪৮ জাহিদুর রহমান ক্রস রোড এলাকায় মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের পরিচয় কুলসুম আক্তার সাথী (২৮) বলে জানা গেছে। তিনি বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার গোয়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা এবং খুলনায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্র্যান্ড প্রোমোটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন তিনি।

    স্থানীয়রা জানান, সকালে দীর্ঘসময় দরজায় ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পায় এক ব্যক্তি দরজায় জোরে ধাক্কা দিয়ে ভাঙেন। সেই শব্দে বাড়ির মালিক ববি আক্তার ঘটনাস্থলে এসে ভিতরে ঢুকে কক্ষে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় কুলসুমকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেন। ঐ সময় দরজার সামনে দিয়ে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি দ্রুত স্থান ত্যাগ করতেও দেখেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা, যা ঘটনার রহস্য আরও বাড়িয়েছে।

    খবর পেয়ে খুলনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ঘটনাটিকে আত্মহত্যার সম্ভাব্য হিসেবেই দেখছে, তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে। নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং মামলার অন্যান্য আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • খুলনায় তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    খুলনায় তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    খুলনা মহানগরীর ৪৮ জাহিদুর রহমান ক্রস রোড এলাকায় মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে মনে করা হলেও ঘটনাটি ঘিরে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে।

    নিহতকের পরিচয় পাওয়া যায় কুলসুম আক্তার সাথী (২৮) হিসেবে। তিনি বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার গোয়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। খুলনায় তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্র্যান্ড প্রোমোটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং ঘটনাস্থলের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে কয়েকবার দরজায় ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে এক ব্যক্তি দরজায় জোরে ধাক্কা দেন। আসতে রবিকে (বাড়ির মালিক) খবর দিলে তিনি ঘটনাস্থলে এসে ভাঙা দরজা দেখেন এবং ভেতরে ঢুকে কুলসুমকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে থাকতে দেখেন। একই সময়ে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, দরজার সামনে থেকে একটি অজ্ঞাত ব্যক্তি দ্রুত সরে যায়—যা ঘটনাটিকে আরও অনিশ্চিত করেছে।

    খুলনা থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পুলিশ বলছে, প্রথম দৃষ্টিতে এটি আত্মহত্যার মতো মনে হলেও ঘটনার প্রকৃত কারণ выяс করার জন্য তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

    পুলিশ নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • কালীগঞ্জে কৃত্রিম তেল সংকট: খোলা বাজারে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ

    কালীগঞ্জে কৃত্রিম তেল সংকট: খোলা বাজারে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকটকে কেন্দ্র করে বিস্তৃত অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে। উপজেলার ১১টি পেট্রোল পাম্পে নিয়মিত সরবরাহ না থাকায় গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবুও স্থানীয়দের অভিযোগ, একই তেল বাইরে ড্রামভর্তি করে বোতলজাত করে খোলা বাজারে অতি লাভে বিক্রি করা হচ্ছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ মার্চ থেকে তেল সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে ঈদুল ফিতরের ছুটির পরে কর্মস্থলে ফিরতে যাওয়া মোটরসাইকেল আরোহীরা তীব্র ভোগান্তিতে পড়েছেন। পাম্পে তেল না পেয়ে তারা বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশের অবৈধ দোকান এবং গ্রামের পাইকারি বাজার থেকে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ দামে তেল কিনতে হচ্ছে।

    অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু চক্র পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে তা ড্রামভর্তি অবস্থায় বাহিরে নিয়ে আসে এবং পরে বোতলে ভরে প্রতি লিটারে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন ৩০০–৩৫০ টাকায় বিক্রি করছে। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে সমস্যা ছাড়াও পরিবহন খরচ বেড়েছে।

    ঢাকাগামী এক মোটরসাইকেল আরোহী গোলাম আজম বলেন, ‘‘পাম্পগুলোতে তেল নেই বলে লোকজনকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়, কিন্তু রাতে অনেকেই ড্রামভর্তি তেল নিয়ে বাইরে বিক্রি করছে। এটা স্পষ্ট যে এক কুচক্রী চক্রই কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অধিক মুনাফা নিচ্ছে।’’

    পাম্প মালিকেরা বলে থাকেন, ডিপো থেকে সরবরাহ কম আসছে—এটাই তাদের পক্ষ থেকে দায় এড়ানোর যুক্তি। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের দাবি, দেশের কোথাও বাস্তবিক তেলের তীব্র সঙ্কট নেই; বরং কৃত্রিমভাবেই সংকট সৃষ্টি করে ব্যবসায়ীরা লভ্যাংশ বাড়াচ্ছেন।

    প্রতিদিন সীমিত পরিমাণ তেল সরবরাহের ফলে পাম্পগুলোর সামনে দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। ঘণ্টা ঘন্টা অপেক্ষার পর অল্প পরিমানে তেল দেওয়া হলেও অনেকে বলছেন, কিছুক্ষণের মধ্যেই মেশিন বিকল বা তেল শেষ হওয়া–এই অজুহাতে আবার সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে অনেক যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ছে এবং পরিবহণ পরীক্ষাহীনভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

    অতিরিক্ত দামে তেল কেনায় পরিবহন চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকেও বেশি ভাড়া নিচ্ছেন, যা জনভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। স্থানীয়রা প্রশাসনের তৎপরতা না থাকায় নীরবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত চলিয়ে অবৈধ মজুত ও কালোবাজারি বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন।

    কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, ‘‘কোনো পাম্প মালিক যদি তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ স্থানীয়রা অপেক্ষা করছেন যে কেবল ঘোষণাই নয়—বাস্তবে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে এই সংকট নিরসন করা হবে।

  • কালীগঞ্জে কৃত্রিম জ্বালানি সংকট: বোতলজাত তেল খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রির অভিযোগ

    কালীগঞ্জে কৃত্রিম জ্বালানি সংকট: বোতলজাত তেল খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রির অভিযোগ

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় কৃত্রিমভাবে জ্বালানি তেলের সংকট সৃষ্টি করে অনিয়ম চলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, উপজেলার ১১টি পেট্রোল পাম্পে তেল সরবরাহ নেই বলে সাধারণ গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু একই তেল বাইরে ড্রামভর্তি করে বোতলজাত করে খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ মার্চ থেকে এলাকায় তেলের সংকট তীব্র আকার নিয়েছে। বিশেষ করে ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে থাকা মোটরসাইকেল আরোহীরা তেলের তীব্র ঘাটতির কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন। পাম্পে তেল না পেয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশে ও গ্রামাঞ্চলের অবৈধ দোকান থেকে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ দামে তেল কিনছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

    অভিযোগ আছে যে কিছু অসাধু চক্র পাম্প থেকে তেল নিয়ে বাইরে ড্রামে রেখে পরে সেটি বোতলজাত করে প্রতি লিটার পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি করছে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবহনে ব্যয়ও বাড়ছে।

    এক ঢাকাগামী মোটরসাইকেল আরোহী গোলাম আজম বলেন, ‘‘পাম্পে তেল নেই বলা হলেও রাতে অনেকেই ড্রামভর্তি তেল নিয়ে বাইরে বিক্রি করে। এটা দেখে স্পষ্ট যে কোনো না কোনো সংঘবদ্ধ চক্র বেশি মুনাফার আশায় এই পরিস্থিতি তৈরি করছে।’’

    পাম্প মালিকরা ডিপো থেকে সরবরাহ কম থাকায় সমস্যাটি শুরুর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গ্রামবাসীদের বক্তব্য, সুদৃঢ় কোনো জাতীয় বা স্থানীয় তেল সংকট নেই; বরং কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরি করে কালোবাজারি চলছে বলে তারা দাবি করছেন।

    প্রতিদিন সীমিত পরিমাণ তেল সরবরাহের কারণে পাম্পে দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অল্প পরিমাণ তেল পেলে তৎক্ষণাৎ মেশিন বিকল বা তেল শেষ হয়ে গেছে বলে সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে—এই ধরনের অভিযোগও উঠেছে। ফলে অনেক যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

    অতিরিক্ত দামে তেল কিনে পরিবহন চালকরা ভাড়া বাড়াচ্ছেন, যা যাত্রীদের ওপর আর্থিক বোঝা বাড়িয়ে জনভোগান্তি তীব্র করছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসন এ পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। তারা অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত চালিয়ে অবৈধ মজুত ও কালোবাজারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

    কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ সংবাদকারীদের বলেন, ‘‘কোনো পাম্প মালিক তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ তবুও স্থানীয়রা আশা করছেন যে কেবল কথায় নয়, বাস্তবে দ্রুত তল্লাশি ও অভিযান করে এই সংকট নিরসন করা হবে।

  • ঈদ ছুটির পর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি পুনরায় শুরু

    ঈদ ছুটির পর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি পুনরায় শুরু

    পবিত্র ঈদুল ফিতর ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে সাত দিন বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়েছে।

    বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্ট স্টাফ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ছিল। মঙ্গলবার থেকে পুনরায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হওয়ায় দুদেশের বন্দর এলাকায় যানজট দেখা দিয়েছে; পেট্রাপোল বন্দরেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

    কাস্টমস সূত্র জানায়, গত সাত দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় সরকারের প্রায় ১২০ কোটি টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চনা হয়েছে।

    বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিদর্শক সৈয়দ মোর্তজা বলেন, যদিও বন্দর দিয়ে ব্যবসায়িক রপ্তানি-আমদানি বন্ধ ছিল, তবুও ছুটির সময় পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার স্বাভাবিকভাবে চলছিল। এছাড়া ভারত-বাংলাদেশ ভিসা কার্যক্রম সীমিত থাকায় যাত্রী চাপ তুলনামূলকভাবে কম ছিল। তিনি যোগ করেন যে যাত্রীদের যেন দুর্ভোগ না হয় সেজন্য ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছিল।

    বেনাপোল বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামীম হোসেনও নিশ্চিত করেছেন যে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সাত দিন বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ছিল এবং মঙ্গলবার সকাল থেকেই কার্যক্রম আবারো শুরু হয়েছে।

    আদৌ বন্দর এলাকায় যানজট ও পণ্য জট পড়ে থাকা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, এবং ব্যবসায়ীরা ধীরে ধীরে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করলে তাতে অবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

  • বাগেরহাটে তেল পাম্পে হামলার মামলায় যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

    বাগেরহাটে তেল পাম্পে হামলার মামলায় যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

    বাগেরহাট শহরের খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার একজন যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার রাত প্রায় নয়টার সময় শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ৪০ বছরের সুমন পাইককে। তিনি বাগেরহাট পৌর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ও খারদ্বার এলাকার বাসিন্দা।

    ঘটনাটি ঘটেছিল গত ২০ মার্চ—ঈদের আগের দিন সন্ধ্যার আগে—খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলে তেল দেওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে ঈদের দিন থেকেই বাগেরহাট শহরের দুটি তেল পাম্প বন্ধ রাখা হয়। রোববার বিকেলে ওই পাম্পের সামনায় প্রতিবাদ स्वरূপ ‘‘অনির্দিষ্টকালের জন্য পাম্প বন্ধ’’ শিরোনামে বিশেষ একটি নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হয়।

    নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে যে শহরের খারদ্বার এলাকার খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনে চিহ্নিত কিছু সন্ত্রাসী বাহিনী লুটপাট, ভাঙচুর ও কর্মচারী ও মালিকদের প্রাণহানির উদ্দেশ্যে সংরক্ষিত স্থানে অনধিকারে ঢুকেছে। নোটিশে আরও বলা হয়, অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে স্টেশন বন্ধ থাকবে।

    পাম্পের অন্যতম মালিক মুর্শিদ কুলি খান রোববার বাগেরহাট সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি চারজনকে নামজাদা ও অজ্ঞাত আরো ১০-১২ জনকে আসামি করেছেন। গ্রেপ্তার সুমন পাইক সেই মামলায় নম্বর-১ এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে চিহ্নিত।

    এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, তেলের ঘাটতি ও নিয়ম-নিষেধ থাকায় মোটরসাইকেল প্রতি ২০০ টাকা মূল্যমানের তেল দেওয়া হচ্ছিল। ২০ মার্চ সন্ধ্যে পৌনে ৬টার দিকে তেল দেওয়ার সময় অভিযুক্তরা অনধিকারে ফিলিং স্টেশনে প্রবেশ করে নিয়ম ভঙ্গ করে অতিরিক্ত তেল দাবি এবং কর্মচারীদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। বাধা দিলে, সুমন পাইকের নির্দেশে অভিযুক্তরা চলতি কর্মচারীদের ওপর হামলা চালায়। কর্মচারী তানভীর মল্লিক, মোঃ সাইফুল ইসলাম ও মোঃ রেজোয়ান উদ্ধার করতে গেলে তাদেরকেও মারধর করা হয়। এ ঘটনায় মালিকসহ তিনজন গুরুতর আহত হন। এছাড়া অভিযুক্তরা কর্মচারীদের কাছে থাকা বিক্রয় নগদ অর্থ প্রায় ৫ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়—এই অভিযোগও এজাহারে উল্লেখ আছে।

    মুর্শিদ কুলি খান বলেন, পুলিশ প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করেছে, বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। ডিপো থেকে তেল সরবরাহ পাওয়ার পর পাম্প খোলার প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

    বাগেরহাট মডেল থানা থেকে উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম বলেন, খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনে সংঘটিত মারধরের মামলায় নমুনা এজাহারনামীয় এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে এবং দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

  • সুন্দরবনের ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর সদস্য ইয়াছিন শেখ আটক, অস্ত্র-কার্তুজ জব্দ

    সুন্দরবনের ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর সদস্য ইয়াছিন শেখ আটক, অস্ত্র-কার্তুজ জব্দ

    মোংলা কোস্ট গার্ডের পশ্চিম জোন সোমবার গভীর রাতে সুন্দরবন সংলগ্ন চিলা ইউনিয়নের ফেলুর খণ্ড এলাকার বৈধমারি বাজারসংলগ্ন এলাকা থেকে বনদস্যু দলের এক সদস্য ইয়াছিন শেখকে আটক করেছে। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, তিনি ঈদের সময় সুন্দরবন থেকে এসে বৈধমারি বাজার সংলগ্ন এলাকায় আত্মগোপন করে ছিলেন।

    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মোংলা ও হারবাড়িয়া কোস্ট গার্ডের পৃথক দুটি টিম ওই এলাকায় অভিযান চালায়। কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ইয়াছিন দৌড় দিয়ে পালাতে চেষ্টা করলে তাকে ধাওয়া করে আটক করা হয়।

    আটককৃত ইয়াছিনের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে সুন্দরবনের ধানসিঁদ্দির চর সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে ১টি একনলা বন্দুক, ৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ৪ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    আটক ইয়াছিন শেখ (৪০) বাগেরহাট জেলার মোংলা থানার বাসিন্দা। তিনি ২০১৭ সালে ব্যাপক পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে র‌্যাবের সামনে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। তবে কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ছোট সুমন তাঁর পুরনো সদস্যদের নিয়ে আবার সুন্দরবনে নেমে দস্যুতা শুরু করেছেন। বর্তমানে ছোট সুমনের সঙ্গে অস্ত্রধারী প্রায় ১৮–২০ জন সদস্য রয়েছে বলে জেলেরা জানিয়েছে।

    কোস্ট গার্ডের তদন্তে উঠে এসেছে, ইয়াছিন দীর্ঘদিন ধরে ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি অস্ত্র, গোলাবারুদ ও রসদ সরবরাহের মাধ্যমে দস্যুদলের কার্যক্রমে জৈথ্য্যতা দিয়ে আসছিলেন; জেলেদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং অন্যান্য ডাকাতি-আক্রমণে সহায়তা করতেন।

    জব্দকৃত অস্ত্র, গুলি এবং আটককৃত ব্যক্তিকে হাতে রেখে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে কোস্ট গার্ড জানায়। বিসিজিএস তৌফিকের নির্বাহী কর্মকর্তা লে. আশিকুল ইসলাম ইমন বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সুন্দরবনে কয়েকটি দস্যু বাহিনী জেলেদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ও বিভিন্ন অপরাধ করছে এবং কোস্ট গার্ড এ ধরনের সদস্যদের অস্ত্রসহ আটক করে আসছে। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

  • সুন্দরবনের ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর সদস্য ইয়াছিন শেখকে মোংলা কোস্ট গার্ড আটক, অস্ত্র-গুলি জব্দ

    সুন্দরবনের ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর সদস্য ইয়াছিন শেখকে মোংলা কোস্ট গার্ড আটক, অস্ত্র-গুলি জব্দ

    মোংলা কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সুন্দরবনের দস্যুবাহিনীর সদস্য ইয়াছিন শেখকে আটক করেছে। সোমবার গভীর রাতে চিলা ইউনিয়নের ফেলুর খণ্ডের বৈদ্যমারী বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে ধাওয়া করে গ্রেপ্তার করা হয়।

    কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, ইয়াছিন ঈদের সময় সুন্দরবন থেকে এসে বৈদ্যমারী বাজার এলাকায় আত্মগোপন করেছিল। বনদস্যু ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর ওই সদস্য সম্পর্কে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মোংলা ও হারবাড়িয়া কোস্ট গার্ডের পৃথক দুটি দল অভিযান পরিচালনা করে। কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে দৌড়ে পালাতে গেলে ধাওয়া করে তাকে আটক করা হয়।

    আটককৃত ইয়াছিন শেখ (৪০) বাগেরহাট জেলার মোংলা থানার নারী। আটক হওয়া ব্যক্তির দেয়া তথ্যে সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে সুন্দরবনের ধানসিঁদ্দির চর সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ১টি একনলা বন্দুক, ৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ৪ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ জব্দ করা হয়।

    কোস্ট গার্ডের বলছে, ইয়াছিন দীর্ঘদিন ধরে ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর সঙ্গে জড়িত থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও রসদ সরবরাহ করে আসছিল। তিনি জেলেদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং বিভিন্ন ডাকাতি কাজে সহায়তা করত।

    ইয়াছিন ২০১৭ সালে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর ১৩ সদস্যের সঙ্গে র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আবার সুমন এবং তার পুরনো সদস্যদের নিয়ে সুন্দরবনে ফের দস্যু কর্মকাণ্ড শুরু করে বলে কোস্ট গার্ড জানিয়েছে। বর্তমানে তার সঙ্গে অস্ত্রসহ প্রায় ১৮-২০ জন সদস্য থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে।

    কোস্ট গার্ড জানায়, জব্দকৃত অস্ত্র, গুলি ও আটককৃত ইয়াছিনকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হস্তান্তর করা হবে এবং তদন্ত চলছে।

    বিসিজিএস তৌফিকের নির্বাহী কর্মকর্তা লে. আশিকুল ইসলাম ইমন জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই কয়েকটি দস্যুবাহিনী সুন্দরবনে সক্রিয় হয়ে জেলেদের অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। ইতোমধ্যেই কোস্ট গার্ড কয়েকজন সদস্যকে অস্ত্রসহ আটক করতে সক্ষম হয়েছে। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

  • বাগেরহাটে তেল পাম্পে হামলা-ভাঙচুর: যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

    বাগেরহাটে তেল পাম্পে হামলা-ভাঙচুর: যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

    বাগেরহাট শহরের খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনে গত হামলা-ভাঙচুরের মামলায় একজন যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার রাত সাড়ে নয়টার দিকে শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন ৪০ বছর বয়সী সুমন পাইক, যিনি বাগেরহাট পৌর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক এবং খারদ্বার এলাকার বাসিন্দা।

    পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২০ মার্চ শনিবার সন্ধ্যার আগে। ওই দিনে তেলের তীব্র সংকট ও চাহিদার চাপের মধ্যে মোটরসাইকেলে তেল দেওয়ার সময় মোটরসাইকেল প্রতি ২০০ টাকা তেল দেওয়া হচ্ছিল বলে জানানো হয়েছে। এ সময় কয়েকজন অনধিকারভাবে পাম্পে প্রবেশ করে অধিক টাকা দাবি করে এবং নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ তুলে কর্মচারীদের সঙ্গে বিবাদে জড়ায়। বিবাদ বাড়লে, এজাহারে উল্লেখ করা অনুসারে সুমন পাইকের নেতৃত্বে তারা কর্মচারীদের উপর হামলা চালায়। তখন কর্মচারী তানবির মল্লিক, মোঃ সাইফুল ইসলাম ও মোঃ রেজোয়ান সহ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগ করা হয়েছে যে হামলাকারীরা পাম্পের কোষাগার থেকে প্রায় ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

    ঈদের দিন থেকে বাগেরহাট শহরের দুটি পাম্প বন্ধ রয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনের সামনে ‘‘অনির্দিষ্টকালের জন্য পাম্প বন্ধ’’ শিরোনামে একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চিহ্নিত সন্ত্রাসী চক্ররা লুটপাট, ভাঙচুর ও মালিক-কর্মচারীদের জীবননাশের উদ্দেশ্যে হামলা চালায়; তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত পাম্প বন্ধ থাকবে।

    পাম্পের অন্যতম মালিক মুর্শিদ কুলি খান রোববার বাগেরহাট সদর মডেল থানায় বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এজাহারে সুমন পাইককে প্রথম নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    বাগেরহাট মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম বলেন, খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনে মারধরের মামলায় এজাহারনামা অনুযায়ী এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যান্য যুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপরতা চালাচ্ছে। মুর্শিদ কুলি খান জানান, প্রধান আসামী গ্রেফতার হয়েছে; তারা ডিপো থেকে তেল প্রাপ্তির পর পাম্প নিয়মিতভাবে খুলে দেবেন।