Category: সারাদেশ

  • আমি এমপি-মন্ত্রী নই, আপনাদের সেবক — বন প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম

    আমি এমপি-মন্ত্রী নই, আপনাদের সেবক — বন প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম

    গত ১৭ বছর ধরে একটানা চক্ষু চিকিৎসা শিবির পরিচালনা করে আসছেন লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম। স্থানীয় এই নেতার উদ্যোগে এ পর্যন্ত প্রায় ১১০০ জনেরও বেশি রোগীর ছানি অপারেশনসহ লেন্স সংযোজন, নেত্রনালী ও অন্যান্য জটিল চক্ষু শল্যচিকিৎসা করা হয়েছে। একই সময়ে প্রায় এক লাখ রোগীর প্রাথমিক চক্ষুপরীক্ষা, ঔষধ এবং চশমা বিতরণ করা হয়েছে, যা স্থানীয় মানুষের দৃষ্টিদান কর্মসূচিকে ব্যাপকভাবে এগিয়েছে।

    শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) বেলা ১১টায় পেড়িখালী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত শিবিরে বক্তৃতা করে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘‘এই মাটি ও মানুষের মাঝে আমি বড় হয়েছি। আমি এ এলাকার সন্তান। নিজের আরাম-আয়েশ বিসর্জন দিয়ে আমি আপনাদের পাশে থেকেছি। আপনাদের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নিয়েছি। আমি এমপি নই, মন্ত্রী নই — আমি আপনাদের সেবক। আপনাদের সেবায় থাকতে চাই। আপনি আমাকে সুযোগ করে দিয়েছেন, আপনারা আমাকে দোয়া ও সহযোগিতা করবেন—এটাই প্রার্থনা।’’

    চক্ষু চিকিৎসা শিবিরে পেড়িখালী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ সুলতান আহমেদ এর সভাপতিত্বে একটি আলোচনা সভাও হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ হাফিজুর রহমান তুহিন, সাবেক সদস্য সচিব কাজী জাহিদুল ইসলাম, মোংলা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি স. ম. ফরিদ, মোংলা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান মানিক, পেড়িখালী মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শংকর কুমার শেখদার ও পেড়িখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ মোতাহার আলী প্রমুখ।

    রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিকাল সাড়ে ৩টায় শিবিরে ২ জন বিশেষজ্ঞসহ মোট ৭ জন চিকিৎসক রোগীদের মধ্য থেকে ছানি অপারেশনের জন্য প্রায় ৬ শতাধিক রোগী বাছাই করেছেন, যা পরে প্রয়োজনমতো হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। একই সময়ে প্রায় ৫ হাজার রোগীকে ঔষধ, চশমাসহ প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। শিবিরে রামপাল ও মোংলা উপজেলার বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

  • খুলনার ২৫ লাখ নারী-পুরুষকে আধুনিক চিকিৎসার আওতায় আনছে ই-হেলথ কার্ড পাইলট

    খুলনার ২৫ লাখ নারী-পুরুষকে আধুনিক চিকিৎসার আওতায় আনছে ই-হেলথ কার্ড পাইলট

    ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের অনুকরণে খুলনা জেলার প্রায় ২৫ লাখ নারী-পুরুষকে আধুনিক চিকিৎসার আওতায় আনা হচ্ছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে রোগীদের সব স্বাস্থ্যসেবা রেকর্ড সংরক্ষণ করে আরেক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে খুলনাকে পাইলট জেলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, বছরের মধ্যে জেলার মানুষ আধুনিক চিকিৎসা সেবা পেতে পারবে।

    সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে ই-হেলথ কার্ড প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন আছে। ওই প্রকল্পের পাইলটিং কার্যক্রমে খুলনা জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—এ কথা সংসদে গত বুধবার সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়।

    খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডাঃ মোঃ মুজিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রশাসন জেলা সরকারি হাসপাতালগুলোর প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে। প্রকল্প অনুমোদন হলে জেলাবাসী আরও সুবিধায় এবং দ্রুতগতিতে চিকিৎসা সেবা পাবেন।

    ই-হেলথ কার্ড কী: এটি প্রতিটি রোগীর জন্য আলাদা একটি ইউনিক আইডি বহনকারী ইলেকট্রনিক কার্ড। কার্ডের মাধ্যমে রোগীর সকল মেডিকেল রেকর্ড—রোগের বিবরণ, পরীক্ষার রিপোর্ট, পূর্বের অসুখ-বিসুখ এবং ওষুধ সেবনের তথ্য—ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা হবে। কেউ যখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন, চিকিৎসক মাত্র কয়েক সেকেন্ডে রোগীর পুরো ইতিহাস দেখে উপযুক্ত চিকিৎসা দিতে পারবেন। ফলে অনাবশ্যক পরীক্ষা-নিরীক্ষা কমবে, সময় বেঁচে যাবে এবং রোগী-চিকিৎসক উভয়েরই হয়রানি কমে আসবে।

    জেলার স্বাস্থ্যচিত্র: জেলায় ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কপিলমুনি স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র, টুটপাড়া তালতলা হাসপাতাল, খালিশপুর লাল হাসপাতাল ও সদর শহরে নিয়মিত চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে—এ তথ্য দিয়েছে খুলনা সিভিল সার্জন কার্যালয়।

    কমিউনিটি ক্লিনিক বণ্টন ও ওষুধ সংকট: জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কমিউনিটি ক্লিনিকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। কয়রায় ৩১টি, পাইকগাছায় ৩৭টি, ডুমুরিয়ায় ৪০টি, ফুলতলায় ১০টি, দিঘলিয়ায় ১৬টি, তেরখাদায় ১৪টি, রূপসা ও বটিয়াঘাটায় প্রতিটি এলাকায় ২০টি করে এবং দাকোপে ২৪টি কমিউনিটি ক্লিনিকে শনিবার-বৃহস্পতিবার ছাড়া প্রতিদিন রোগী চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন। তবে এসব ক্লিনিকে ওষুধ সরবরাহে সমস্যা রয়েছে। প্যারাসিটামল, এন্টাসিড (৬৫০ মিগ্রা), প্যারাসিটামল সাসপেনশন, ক্লোরাম্হেক্সিকল ও ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ট্যাবলেটের বাইরে আনুমানিক ১৫ ধরনের ওষুধ প্রতি মাসে প্রায় ১৫ দিন ধরে সংকটে পড়ে থাকে এবং এই সংকট মেটানোর স্থায়ী উদ্যোগ এখনো দেখা যায়নি। বিশেষ করে শীতের সময়ে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও অন্যান্য রোগের ওষুধ কমিউনিটি ক্লিনিকে পাওয়া না গেলে রোগী ভোগান্তিতে পড়ে।

    চিকিৎসক ও জনবল সংকট: জেলার স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে মোট ৩৫৫টি বিশেষজ্ঞ, মেডিকেল অফিসার ও নার্সের পদ থাকলেও সেইগুলোর মধ্যে ১৫৬টি পদ শূন্য পড়ে আছে। শূন্যপদগুলোর মধ্যে রয়েছে জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী) ৩টি, জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন) ২টি, জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি) ৩টি, জুনিয়র শিশু বিশেষজ্ঞ ৩টি, জুনিয়র চক্ষু বিশেষজ্ঞ ৬টি, জুনিয়র চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ ৭টি, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ৭টি, মেডিকেল অফিসার ৬টি, সহকারী সার্জন ২১টি, জরুরি মেডিকেল অফিসার ২৬টি, ইউনিয়ন পর্যায়ের সহকারী সার্জন ৩৬টি, প্যাথলজিস্ট ১টি এবং অন্যান্য স্টাফ হিসেবে নার্স, স্বাস্থ্যপরিদর্শক, স্বাস্থ্য সহকারী, হেলথ এডুকেটর, ওয়ার্ড বয়, সুইপার ও ল্যাব এটেনডেন্টেরও ঘাটতি রয়েছে।

    রোগের প্রচরণ: উপকূলীয় এলাকার রূপসা, দিঘলিয়া, ফুলতলা ও কয়রায় ডায়রিয়া সারাবছর সাধারণ সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়। গত সালের ১ নভেম্বর থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৫২৫৮ জন রোগী; এ তালিকায় ফুলতলা উপজেলা শীর্ষে রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছাড়াও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালে সহস্রাধিক শিশু এই সময়কালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

    আশা ও প্রত্যাশা: অভিজ্ঞরা বলছেন, ই-হেলথ কার্ড প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রোগী তথ্য দ্রুত পাওয়ার সুবিধা এবং সেবার মান বাড়ার মাধ্যমে চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেক বেশি কার্যকর হবে। খুলনার সাধারণ মানুষও আশা করছেন—প্রকল্প অনুমোদন হলে তাদের জন্য চিকিৎসা আরও সহজতর ও আধুনিক হবে।

  • প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের উদ্যোগে উপকূলীয় ১০ সহস্রাধিক মানুষের চোখে ফিরে এলো আলো

    প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের উদ্যোগে উপকূলীয় ১০ সহস্রাধিক মানুষের চোখে ফিরে এলো আলো

    বেঁচে থাকলে অন্ধত্ব প্রতিরোধ—এই দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে মোংলা ও রামপালে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক বিশাল বিনামূল্যে চক্ষু শিবির। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সার্বিক সহযোগিতায় মোংলা পেড়িখালী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মোংলা, রামপালসহ পার্শ্ববর্তী উপকূলীয় অঞ্চল থেকে যোগ দেয় হাজার হাজার দরিদ্র রোগী। আয়োজকদের করা নিরীক্ষায় দিনশেষে প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে প্রাথমিক সেবা, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছে।

    শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) সকাল ১০ টায় শুরু করে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলে দিনেরএই আই ক্যাম্প। ঢাকা মেগা সিটি লায়ন্স ক্লাবের আয়োজনে পরিচালিত এ কার্যক্রমে সেবার মান নিশ্চিত করতে ১০ জন বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসকসহ মোট ৩০ সদস্যের একটি সুদক্ষ মেডিকেল টিম রোগীদের চিকিৎসা করেছে। কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে মাঠজুড়ে ছয়টি পৃথক বুথ রাখা হয়েছিল।

    ক্যাম্পে এসে রোগীদের চোখের প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ছানি (ছানি), নেট্রনালীর সমস্যা, চোখের বাড়তি মাংস বৃদ্ধি (পটেরিজিয়াম) ও ট্রাইকিয়াসিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগের রোগীদের আলাদা করে বাছাই করা হয়। শিশুরা থেকে শুরু করে শতবর্ষী বৃদ্ধ—সকলকে বিনামূল্যে লেন্স, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চশমা সরবরাহ করা হবে। জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয় তালিকা করা হয়েছে এবং তাদের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষাও সম্পন্ন করা হয়েছে।

    যাদের দক্ষতাসম্পন্ন হাসপাতালে অপারেশন দরকার, তাদের ঢাকার দৃষ্টি আই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উন্নতমানের লেন্স বসানোসহ অপারেশন করে দেয়া হবে। অপারেশন ও পরে সুস্থ হয়ে ওঠা পর্যন্ত চিকিৎসা, আবাসন ও যাতায়াতের সব ব্যয় প্রতিমন্ত্রী নিজ খরচে বহন করবেন—আয়োজকদের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    শরণখোলা থেকে এসেছে পরিমল বাবু; তিনি বলেন, গরিব হওয়ায় ভালো চিকিৎসা করাতে পারিনি, পার্শ্ববর্তী লোকদের পরামর্শে এখানে এসেছি, আল্লাহ চাইলে চোখ দুটো ভাল থাকুক—এমন আশা নিয়ে ডাক্তার দেখাতে এসেছি। দাকোপ থেকে আসা ৭২ বছর বয়সি ইব্রাহিম আলম বলেন, কয়েক বছর ধরে চোখে সমস্যা, সামনে কিছুই দেখা যায় না—ডাক্তার দেখালে হয়ত সুস্থ হই। মোংলার ললিতা হালদার (৬৫) বলেন, টাকার অভাবে ভালো ডাক্তার দেখাতে পারিনি, এখানে এসে আশা নিয়ে এসেছি।

    এই মানবিক কর্মকাণ্ডটি দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতার অংশ; ২০০৯ সাল থেকে প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম ব্যক্তিগতভাবে এসব সেবা চালিয়ে আসছেন। গত ১৫ বছরে তাঁর এই উদ্যোগের মাধ্যমে লক্ষাধিক রোগী বিনামূল্যে আধুনিক চক্ষু চিকিৎসা ও সেবা পেয়েছেন। উপকূলীয় দরিদ্র মানুষের কাছে এই চক্ষু শিবির এখন আশার এক আলো হিসেবে পরিচিত।

    প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, মানুষের সেবা করাই আমার পরম ধর্ম, আর্থিক কারণে বহু মানুষ চোখের চিকিৎসা করাতে পারে না—তারা অন্ধত্বের দিকে ধাবিত হচ্ছে। আমার লক্ষ্য এ অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের আবার পৃথিবীর আলো দেখানোর সুযোগ করে দেয়াই। যতদিন বেঁচে থাকব, ইনশাআল্লাহ এই সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

    এলাকার সুশীল সমাজ ও স্থানীয়রা এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তারা বলেন, নিয়মিতভাবে এমন উদ্যোগ উপকূলীয় জনপদের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে ও অন্ধত্ব নিরসনে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করছে।

  • আমি এমপি-মন্ত্রী নই, আমি আপনাদের সেবক — বন প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম

    আমি এমপি-মন্ত্রী নই, আমি আপনাদের সেবক — বন প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম

    লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম গত ১৭ বছর ধরে নিয়মিতভাবে চক্ষু চিকিৎসা শিবির পরিচালনা করে আসছেন। এই সময়ে তিনি প্রায় ১১ শতাধিক রোগীর ছানি অপারেশন, লেন্স সংযোজন ও নেত্রনালী সহ চোখের জটিল অপারেশন করে অনেক মানুষের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া লক্ষাধিক রোগিকে প্রাথমিক চিকিৎসা, ঔষধ ও চশমা প্রদানও করেছেন।

    শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) বেলা ১১টায় পেড়িখালী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এক অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, এ এলাকার মাটি ও মানুষ আমার বেড়ে ওঠার জায়গা। আমি এ এলাকার সন্তান; মানুষের কল্যাণে নিজের আরাম-আয়েশ বিসর্জন দিয়ে আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে সেবা করে যাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, আমি আপনাদের কাছে এমপি বা মন্ত্রী নই, আমি আপনাদের সেবক। আপনারা আমাকে সুযোগ দিয়েছেন; আপনাদের কাছে আমি ঋণী। এ এলাকার মানুষের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছি, তাই দোয়া ও সহযোগিতা চাই।

    চক্ষু চিকিৎসা শিবিরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভার সভাপতি ছিলেন পেড়িখালী মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ সুলতান আহমেদ। সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ হাফিজুর রহমান তুহিন, সাবেক সদস্য সচিব কাজী জাহিদুল ইসলাম, মোংলা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি স. ম. ফরিদ, মোংলা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান মানিক, পেড়িখালী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শংকর কুমার শিকদার, পেড়িখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ মোতাহার আলী প্রমুখ।

    রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিকাল সাড়ে ৩টায় অনুষ্ঠিত শিবিরে ২ জন বিশেষজ্ঞসহ মোট ৭ জন চিকিৎসক রোগীদের পরীক্ষা করেছেন এবং ছানি অপারেশনের জন্য প্রায় ৬ শতাধিক রোগীকে বাছাই করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে হাজার ছাড়াতে পারে। একই সময়ে প্রায় ৫ হাজার রোগিকে ঔষধ, চশমা ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে রামপাল ও মোংলা উপজেলার অসংখ্য নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

  • তারেক রহমানের সরকারের ট্যাক্স কর্মকর্তা হবে জনগণের বন্ধু, আতঙ্ক নয়

    তারেক রহমানের সরকারের ট্যাক্স কর্মকর্তা হবে জনগণের বন্ধু, আতঙ্ক নয়

    খুলনায় নতুন নির্মিত আধুনিক কর ভবনের উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এক জমকালো অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল ভবনের ফলক উন্মোচন করে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।

    অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কর নীতি) ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী এবং সদস্য (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) আহসান হাবিব। খুলনার কর কমিশনার শ্রাবণী চাকমা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন।

    উদ্বোধনী বক্তব্যে হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, আয়কর ব্যবস্থা দেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি। রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে জনগণের করই বড় ভূমিকা রাখে। সেই কারণে কর ব্যবস্থাকে কার্যকর, স্বচ্ছ ও ব্যবহারবান্ধব করা জরুরি; পাশাপাশি কর ফাঁকি রোধ করাও প্রয়োজন।

    তিনি জানালেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও টিআইএন (TIN) সার্টিফিকেট করানো নিয়ে ভয় কাজ করে—অনেকে মনে করেন করদাতার পরিচয় দিলে কর্মকর্তাদের মাধ্যমে হয়রানির শিকার হবেন। অতিউৎসাহী বা অসৎ কর্মকর্তাদের আচরণ নতুন করদাতাকে লজ্জিত ও বিচলিত করে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য শুভ সংকেত নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    বকুল আরও বলেন, বিএনপি সরকারের প্রধান এজেন্ডা করের হার বাড়ানো নয়, বরং করদাতার সংখ্যা বাড়ানো। তিনি জানান, বর্তমান সরকার মাত্র ২২ দিনের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড চালু, কৃষি ঋণ মওকুফ, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের ভাতা এবং খেলোয়াড়দের ক্রীড়া ভাতা কার্যক্রম শুরু করে তার সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। পহেলা বৈশাখ থেকে কৃষক কার্ড বিতরণও শুরু হবে বলে তিনি জানান।

    তিনি স্পষ্ট করেন যে এসব সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির তহবিল রাজস্ব খাত থেকে আসবে; অতিরিক্ত মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি করার জন্য নতুন টাকা ছাপানোর প্রয়োজন হবে না, তাই মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি নেই।

    কর প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে কথা বলার সময় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে বড় ব্যবসায়ীরা কর ফাঁকি দিয়ে বাঁচছে, অথচ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ওপর অনিয়ম ও অবিচার হচ্ছে—এই বৈষম্য জটিলতা দূর করতে হবে।

    কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, তারেক রহমানের সরকারের সময় ট্যাক্স কর্মকর্তারা জনগণের বন্ধু হবে; জনগণের ভয়ে বা আতঙ্কের জায়গা হবে না। করদাতাদের বোঝাতে হবে ট্যাক্স থেকে কীভাবে বাজেট ব্যয় করা হচ্ছে, সহজ ভাষায় সচেতনতা বাড়াতে ক্যাম্পেইন করতে হবে এবং কর দানে উৎসাহ দিতে করদাতাদের পুরস্কৃত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

    খুলনার আঞ্চলিক অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বকুল বলেন, শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত এই শহরের শিল্প এখন ধ্বংসের পথে, বিশেষ করে মৎস্য শিল্প হুমকির মুখে। তিনি কুটির শিল্প থেকে শুরু করে বৃহৎ শিল্পকারখানা পুনরায় গড়ে তোলার মাধ্যমে অঞ্চলটির অর্থনীতি সচল করার এবং একটি আধুনিক, বৈষম্যহীন ও জনবান্ধব কর ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    সমাপ্তিতে তিনি সবাইকে আহ্বান জানান—কর সম্পর্কে প্রচলিত ভয়ভীতি ভুলে দেশের উন্নয়নে সরকারের সাথে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করার জন্য।

  • যশোরে ৬ কোটি ৬২ লাখ টাকার হীরক খণ্ড জব্দ, ভারতীয় নাগরিক গ্রেফতার

    যশোরে ৬ কোটি ৬২ লাখ টাকার হীরক খণ্ড জব্দ, ভারতীয় নাগরিক গ্রেফতার

    যশোরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অভিযানে সাড়ে ছয় কোটি টাকার বেশি মূল্যমানের হীরক খন্ড ও বড় পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাসহ এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে। বৃহস্পতিবার (তারিখ অনুযায়ী) যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের নতুনহাট বাজার এলাকায় চালানো অভিযানে এই সফলতা আসে—বিজিবি বলছে, এটি যশোরে প্রথমবারের মতো বড় ধরনের হীরক চালান জব্দের রেকর্ড।

    বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হীরার একটি বড় চালান বেনাপোল সীমান্ত হয়ে ভারতে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছে—এই খবরের পর সকালে সকাল ৮টার দিকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খানের নেতৃত্বে বিজিবির একটি বিশেষ দল মহাসড়কের কৌশলগত স্থানে অবস্থান নেয়। সেখানে সন্দেহভাজন হিসেবে সুজাউদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক তল্লাশিতে কিছু না পাওয়া গেলেও জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ভেঙে পড়েন এবং নিজের বিরুদ্ধে সত্য কথা বলেন।

    সুজাউদ্দিনের কাছ থেকে ১৫৫.৬৭ গ্রাম ওজনের হীরক খণ্ডসহ বাংলাদেশি ৫ হাজার ৫৩০ টাকা, ৫ হাজার ৮৮০ ভারতীয় রুপি, ৫৫০ মার্কিন ডলার, ২০০ থাই বাথ, একটি মোবাইল ফোন ও একটি ঘড়ি জব্দ করা হয়। বিজিবি জানিয়েছে জব্দকৃত সামগ্রীর মোট বাজার মূল্য ৬ কোটি ৬২ লাখ ৬৫ হাজার ১৬১ টাকা।

    পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে যে সুজাউদ্দিন এই হীরাগুলো ঢাকা থেকে সংগ্রহ করে যশোর হয়ে বেনাপোল সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পাচারের চেষ্টা করছিলেন। তার পাসপোর্ট ও ভ্রমণ ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তিনি পেশাদার চোরাচালান চক্রের সঙ্গে যুক্ত এবং এর আগেও বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় সন্দেহজনক সফর করেছেন। তার বাসভূমি ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্য, এবং তিনি আবু বক্করের ছেলে বলে জানানো হয়েছে।

    গ্রেফতারকৃত সুজাউদ্দিনকে চোরাচালানদমন আইনের কঠোর ধারায় দায়ের করে যশোর কোতোয়ালি থানা에 হস্তান্তর করা হয়েছে। জব্দ হওয়া হীরক খণ্ড ও বৈদেশিক মুদ্রা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন চালানের পেছনে থাকা সম্ভাব্য সহযোগী ও গ্যাং খোঁজে তদন্ত শুরু করেছে।

  • খুলনায় প্রথম নারী জেলা প্রশাসক—মিজ হুরে জান্নাত দায়িত্বগ্রহণ করলেন

    খুলনায় প্রথম নারী জেলা প্রশাসক—মিজ হুরে জান্নাত দায়িত্বগ্রহণ করলেন

    খুলনায় প্রথমবারের মতো নারী জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেছেন মিজ হুরে জান্নাত। বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) সকালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে খুলনা জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং বিদায়ী জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামসেদ খোন্দকারকে স্থলাভিষিক্ত করে দায়িত্ব নেওয়ার খবর নিশ্চিত হয়।

    মিজ হুরে জান্নাত বিসিএস (প্রশাসন) ২৭তম ব্যাচের একজন কর্মকর্তা। তার আগের কর্মস্থল ছিল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, যেখানে তিনি উপসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার নিজ জেলা দিনাজপুর।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গত রোববার তার এই নিয়োগ আদেশ জারি করা হয়। সরকারি আদেশে একই সাথে দেশের আরও ১০টি জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগের খবরে জানানো হয়।

    ঐতিহাসিকভাবে খুলনা এলাকার প্রশাসনিক গঠন শুরু হয় ১৮৪২ সালে, যখন এটি যশোর জেলার একটি মহকুমা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। রূপসা নদীর তীরে দ্রুত বর্ধিত ভূগোল ও ব্যবসায়িক গুরুত্ব বিবেচনায় এনে ১৮৮১ সালে খুলনাকে স্বতন্ত্র জেলার মর্যাদা দেওয়া হয়। পরে অবকাঠামো整ানের পর ১৮৮২ সালে সাতক্ষীরা মহকুমাকে নতুন গঠিত খুলনা জেলায় সংযোজিত করে খুলনা জেলা আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে।

    খুলনায় প্রথম নারী জেলা প্রশাসকের পদে মিজ হুরে জান্নাতের এই নিয়োগকে অনেকেই মহিলা ক্ষমতায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।

  • ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে তেলের তীব্র সংকটে বিক্রয়প্রতিনিধিরা ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে তেলের তীব্র সংকটে বিক্রয়প্রতিনিধিরা ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে তীব্র জ্বালানি সংকটের প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে কয়েকশো বিক্রয়প্রতিনিধি ও মোটরসাইকেল চালক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ঘেরাও করেন। এস আর সমিতির নেতাকর্মীরা প্রায় দুই শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

    স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বেশিরভাগ পেট্রোল পাম্পে পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ কমে গেছে বা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। অনেক পাম্পে জ্বালানি না থাকায় যানবাহন চালকরা কার্যত স্তব্ধ অবস্থায় পড়েছেন। খোলা পাম্পগুলোতেও ভোর থেকেই দীর্ঘ সারি—ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকেই জীবনের অতিরিক্ত প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাননি।

    এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালক ও বিক্রয়প্রতিনিধিরা। তাদের কাজের স্বভাবেই দ্রুত চলাচল করতে হয়; জ্বালানি না পেয়ে সময় এবং অর্থ—উভয়ই নষ্ট হচ্ছে। অনেককে দীর্ঘসময় লাইনে দাঁড়িয়ে ফাঁকা হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে, যার ফলে পরিবার-জীবন ও জীবিকা দুই ক্ষেত্রেই ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।

    বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ জনজীবনে স্থবিরতা এনেছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে এলাকার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা আরও বড় অসুবিধার সম্মুখীন হবে—এমন উদ্বেগ থেকেই তারা যথাযথ কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

    বিক্ষোভের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ এবং উপজেলা পরিবেশক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শিপলু জামান বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তারা দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করে উপজেলা কার্যালয় ছেড়ে দেন।

  • ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে জ্বালানি সংকটে বিক্রয় প্রতিনিধিদের ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে জ্বালানি সংকটে বিক্রয় প্রতিনিধিদের ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে তীব্র জ্বালানি সংকটে প্রতিবাদ জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ঘেরাও করেছে এস আর সমিতির নেতাকর্মীরা। আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে প্রায় দুই শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি পালন করেন।

    স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার বেশিরভাগ পেট্রোল পাম্পে পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ কার্যত বন্ধ রয়েছে। অনেক পাম্প সেবাহীন থাকায় চালকরা এবং পরিবহন সংশ্লিষ্টরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। যেখানে পাম্প খোলা পাচ্ছে, সেখানে ভোর থেকেই মানুষের দীর্ঘ সারি—ঘন্টা কাটিয়ে অনেকেই প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।

    বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালক ও বিক্রয় প্রতিনিধিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। কাজে দ্রুত চলাফেরা না করতে পারায় তাদের সময় ও আয়—উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আম জনতার পাশাপাশি পণ্যবিতরণে জটিলতা তৈরি হওয়ায় এলাকায় জনজীবন স্তব্ধতার শঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

    বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় ব্যবসা ও দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে—এমন আশঙ্কা লোকজনের। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানান।

    এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ এবং উপজেলা পরিবেশক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শিপলু জামানের সঙ্গে বিক্ষোভকারীরা আলোচনায় বসেন। ইউএনও জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হবে বলে আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা তাদের মূল দাবি উল্লেখ করে—তাৎক্ষণিক ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতিতে—কর্মসূচি প্রত্যাহার করে উপজেলা কার্যালয় ত্যাগ করেন।

    স্থানীয়রা বলছেন, কর্তৃপক্ষ ঘোষিত প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেখা যেতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

  • খুলনায় প্রথম নারী জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাতের যোগদান

    খুলনায় প্রথম নারী জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাতের যোগদান

    খুলনা জেলার প্রথম নারী জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নেন মিজ হুরে জান্নাত। এই ঘরানার ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ন মুহূর্ত হিসেবে ধরা হচ্ছে।

    বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) সকালে এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন মিজ হুরে জান্নাত। তিনি বিদায়ী জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামসেদ খোন্দকারের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

    মিজ হুরে জান্নাত বিসিএস (প্রশাসন) ২৭তম ব্যাচের একজন কর্মকর্তা। এর আগে তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে উপসচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার নিজ জেলা দিনাজপুর।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে গত রোববার এই নিয়োগ আদেশ জারি করা হয়। একই আদেশে দেশের আরও ১০টি জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগের ঘোষণা আসে।

    খুলনার প্রশাসনিক ইতিহাসো মতে, ১৮৪২ সালে এই এলাকা যশোর জেলার মহকুমা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরে রূপসা নদীর তীরভূমির ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব মাথায় রেখে ১৮৮১ সালে খুলনাকে আলাদা জেলার মর্যাদা দেওয়া হয়। অবকাঠামো整র কাজ শেষ হওয়ার পর ১৮৮২ সালে সাতক্ষীরা মহকুমা নতুন গঠিত খুলনা জেলায় যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে খুলনা জেলা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে।

    이번 নিয়োগের মাধ্যমে খুলনায় প্রথমবারের মতো মহিলা জেলা প্রশাসক দায়িত্ব নিলেন, যা স্থানীয় প্রশাসনে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।