Category: সারাদেশ

  • কৃষকের ঘাম-পরিশ্রমেই দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত: আজিজুল বারী হেলাল

    কৃষকের ঘাম-পরিশ্রমেই দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত: আজিজুল বারী হেলাল

    খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, বিএনপি সবসময় মানুষের ভোটাধিকার, গণতন্ত্র ও মানবিক মূল্যবোধ রক্ষার রাজনীতি করে। দেশের প্রকৃত উন্নয়ন কেবল বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; প্রকৃত উন্নয়ন তখনই মেলে যখন গ্রামের কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ সক্ষমভাবে উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তিই হচ্ছে কৃষি। কৃষকদের ঘাম ও পরিশ্রমের ওপর নির্ভর করেই দেশের খাদ্য安全তা নিশ্চিত হয়। তাই কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থার বিস্তার, উন্নত বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করা অত্যন্ত জরুরি।

    এমপি আজ রোববার তেরখাদা উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিএনপি কৃষকবান্ধব নীতিতে বিশ্বাস করে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া শিক্ষাব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যখাতের উন্নতি ছাড়া কোনো জাতিই স্থায়ীভাবে এগোতে পারে না—শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা আধুনিক ও সহজলভ্য করা উচিত। তরুণ সমাজকে মাদক ও সন্ত্রাস থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানো প্রয়োজন, যোগ করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে তিনি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ‘অভ্যন্তরীণ বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ-২০২৬’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ (২০২৫-২০২৬ অর্থবছর) অনুসারে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে টিন ও নগদ অর্থ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

    উপজেলা পরিষদের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপি প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য স্যানিটারি মেশিন, বেঞ্চ, ক্রীড়া সামগ্রী, পিপি মেশিন, ডায়াবেটিক মেশিন, ওয়েট মেশিনসহ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনও তিনি করেন। এরপর তিনি ছাগলাদাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন এবং লস্করপুর সড়কের উদ্বোধন করেন।

    অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন তেরখাদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিস তাহমিনা সুলতানা নীলা। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম নুরুন্নবী, তেরখাদা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহিদুল্লাহ, কৃষি কর্মকর্তা শিউলি মজুমদার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হানিফ শিকদার, জেলা বিএনপি নেতা জুলফিকার আলী জুলু, এনামুল হক সজল, উপজেলা বিএনপি সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহবায়ক চৌধুরী কাওসার আলী, সাবেক আহবায়ক চৌধুরী ফখরুল ইসলাম বুলু, সাবেক সদস্য সচিব এফ এম হাবিবুর রহমান, জেলা কৃষক দল নেতা শেখ আবু সাঈদ, বিএনপি নেতা রবিউল হোসেন, সরদার আব্দুল মান্নান, ইকরাম হোসেন জমাদ্দার, মোল্লা মাহবুবুর রহমান, সাজ্জাদ হোসেন নান্টা, শরিফ নাইমুল হক, মোল্লা হুমায়ূন কবির, মিল্টন হোসেন মুন্সী, বিল্লাল হোসেন, শেখ আজিজুর রহমান আজিবার, আবুল হোসেন বাবু মোল্লা, যুবদল নেতা চৌধুরী আমিনুল ইসলাম মিলু, গোলাম মোস্তফা ভুট্টো, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সোহাগ মুন্সী, উপজেলা কৃষক দলের আহবায়ক রাজু চৌধুরী, সদস্য সচিব সাবু মোল্লা, ছাত্রদল নেতা সাব্বির আহমেদ টগর, সাবেক ছাত্রদল নেতা আমিনুল ইসলাম আমিন, চৌধুরী আশাবুর রহমান প্রমুখ।

    আজিজুল বারী হেলাল শেষবারে বলেন, ‘‘কৃষি খাতকে শক্তিশালী করা, গ্রামীণ অর্থনীতি গতিশীল করা, শিক্ষা-স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আনা এবং তরুণদের জন্য সৃজনশীল সুযোগ সৃষ্টি করাই দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।’’

  • শার্শায় কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় দুই বন্ধুর মৃত্যু

    শার্শায় কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় দুই বন্ধুর মৃত্যু

    যশোরের শার্শা উপজেলায় বুধবার ভোরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। সোমবার (১১ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নাভারন-সাতক্ষীরা মহাসড়কের উলাশী খাজুরা এলাকায় কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে তোজাম্মেল হোসেন (৪০) ও শাহিন আলম (৪২) নিহত হন।

    নিহত তোজাম্মেল হোসেন উলাশী গ্রামের মৃত আতিয়ার গাইনের ছেলে এবং শাহিন আলম একই গ্রামের সিদ্দিক হোসেনের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, তারা ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন এবং দিনের শুরুতে মোটরসাইকেল যোগে নিয়মিত মতো উলাশী থেকে নাভারনের দিকে যাচ্ছিলেন।

    পথিমধ্যে খাজুরা এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি মালবাহী কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই ওই দুই আরোহীর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং স্থানীয়রা দ্রুত ছুটে এসে উদ্বিগ্ন হয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালান।

    খবর পেয়ে সেখানকার লোকজন ঘটনাস্থলে ঢুকে দ্রুত পুলিশের কাছে খবর দিলে নাভারন হাইওয়ে থানা পুলিশ পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। নিহতদের সঙ্গে থাকা লোকজন ও স্থানীয়রা ঘটনার পর উত্তেজিত হলে ঘাতক কাভার্ডভ্যানটিকে আটক করে।

    নাভারন হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোপাল কর্মকার জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং ঘাতক কাভার্ডভ্যান জব্দ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন আছে এবং ঘটনার সঠিক কারণ তদন্ত করে নেয়া হবে।

    বাস্তবিক ক্ষতি ও পরিবার-পরিজনের শোকের মধ্যে স্থানীয় সূত্রে নিহতদের সমবয়সী বন্ধুদের আকস্মিক মৃত্যু এলাকায় দুঃখের ছাপ ফেলেছে। তদন্তকারীরা দূরবর্তী বিষয়ে স্পষ্টতা পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে পুলিশ জানায়।

  • বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কৃষিজ্ঞান ও গ্রামীণ উন্নয়নের গুরুত্ব

    বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কৃষিজ্ঞান ও গ্রামীণ উন্নয়নের গুরুত্ব

    খুলনা জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত বলেছেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কৃষি দর্শন ছিল অত্যন্ত বিস্তৃত ও গভীর। তিনি জমিতে আধুনিক কৃষি পদ্ধতি প্রয়োগ করে উৎপাদন বাড়ানোর উপায় খুঁজে বের করতে মানবিক ও বাস্তবমুখী চিন্তা করতেন। রবীন্দ্রনাথের কৃষিবেগের মূল ভিত্তি ছিল প্রকৃতি, মানুষ এবং অর্থনীতির সংযোগ, যা সমন্বিত উন্নয়নের দৃষ্টিভঙ্গি প্রচার করতো। তিনি বললেন, রবীন্দ্রনাথ কেবল একজন সাহিত্যিকই নন, তিনি কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নের একজন পথপ্রদর্শক। তাঁর মতে, কৃষিকে কেবল জীবিকার মাধ্যম হিসেবে দেখতে না হয়ে, এটি সামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন ও মানবকল্যाणের মূল ভিত্তি। তিনি মনে করতেন, একজন দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য কৃষকরা যত উন্নত ও স্বাবলম্বী হবে, ততই দেশের উন্নতি স্থারী হবে। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক চাষাবাদ ও কৃষি শিক্ষার প্রসারে তিনি গুরুত্ব দিতেন। তাঁর ভাবনা আজও আমাদের কৃষিনির্ভর অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার পথে দিগন্ত খুলে দিচ্ছে।

    তিনি রোববার বিকেলে রূপসা উপজেলার পিঠাভোগ রবীন্দ্র স্মৃতি সংগ্রহশালায় তিন দিনব্যাপী রবীন্দ্র জয়ন্তী উৎসবের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা প্রদানকালে এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসক আরও বলেন, বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা ও জনসংখ্যার বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রবীন্দ্রনাথের কৃষি দর্শন বিশেষ করে প্রাসঙ্গিক। টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে কৃষকের জ্ঞান, প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের সমন্বয় করতে হবে। একইসঙ্গে কৃষিকে কেবল উৎপাদনশীল খাত হিসেবে নয়, বরং একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কৃষকের মর্যাদা, জীবনমান উন্নয়ন এবং কৃষিকে লাভজনক খাতে রূপান্তর করাই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য। রবীন্দ্রনাথের চিন্তা ও দর্শন আমাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে অনুপ্রেরণা জোগায়।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে থাকেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মিজ কানিজ ফাতেমা লিজা। সরেজমিনে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের খুলনা অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ আনিস আর রেজা। তিনি জানান, রবীন্দ্রনাথ মাত্র ১৯ বছর বয়সে পারিবারিক জমিদারি দেখাশোনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তখন থেকেই তিনি প্রচলিত জমিদারির মনোভাব থেকে সরে এসে সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিজেদের তুলে ধরে নতুন চিন্তার আনাগোনা শুরু করেন। কৃষক, কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীন উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাঁর গভীর মনোভাব স্পষ্ট। তিনি জমিদারিকে কেবল ভোগের মাধ্যম নয়, বরং কৃষি শিক্ষার ও গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করতেন। তাঁর লেখা ও কার্যক্রমে স্পষ্ট যে, কৃষিখাতে তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল।

    রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিকতার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ইফতেখারুল ইসলাম শামীম। অতিথিবৃন্দের মধ্যে রয়েছেন রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুর রাজ্জাক মীর, খুলনা জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক জিএম কামরুজ্জামান টুক্র, রবীন্দ্রনাথের ১৬তম বংশধর মনির লাল ক্রশারীর সহধর্মিণী ছায়া রানী ক্রশারী, ঘাটভোগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম নন্দু ও পিঠাভোগ ডিজিসি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণপদ রায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা। এ অনুষ্ঠানের পরিচালনায় থাকেন রূপসা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন, একাডেমিক সুপারভাইজার নিত্যানন্দ মন্ডল এবং রূপসা প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাংবাদিক কৃষ্ণ গোপাল সেন।

  • মহেশপুরে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতাকে আটক, জিম্মি করে চাঁদাবাজি: তিনজন গ্রেপ্তার

    মহেশপুরে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতাকে আটক, জিম্মি করে চাঁদাবাজি: তিনজন গ্রেপ্তার

    ঝিনাইদহের মহেশপুরে আওয়ামী লীগ নেতা সাজ্জাদুল ইসলাম চালাচ্ছেন এক দলদস্যুতার অসাধু খেলাপ। অভিযোগে জানা গেছে, ৫ মে সন্ধ্যায় তিনি খালিশপুর বাজারের কাছে একটি বাড়িতে গিয়ে গৃহবধূর উপর ধর্ষণের চেষ্টা করেন। স্থানীয় লোকজন চিৎকার করলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন দুইজন যুবক এবং ভিকটিমের স্বামী। তারা ধরা পড়ার পর, ভিকটিমের স্বামী ও তার দুই সহযোগী অভিযুক্তের কাছ থেকে এক লাখ টাকা চাঁদা নেওয়ার পাশাপাশি দুই লাখ টাকার একটি চেকও হাতিয়ে নেয়। এরপর তাহমিনা শম্পা নামে এক নারী, যিনি অভিযুক্তের पत्नी, তার স্বামীকে ব্যাপক মারপিট ও হুমকি দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ গত রোববার তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মহেশপুরের খালিশপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে মাহবুবুর রহমান, একই গ্রামের মৃত মঈনুদ্দিনের ছেলে মিজানুর রহমান ছোট, এবং মহেশপুরের কুরিপোল গ্রামের মৃত আব্দুল হাকিম আলীর ছেলে মোঃ ফিরোজ।
    প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঘটনার দিন সাজ্জাদুল ইসলাম ওই বাড়িতে গিয়ে গৃহবধূর সাথে অসদাচরণের চেষ্টা করেন। স্থানীয়রা তার চিৎকারে বাধা দেন এবং পরিস্থিতি জানার পর তিনি আটক হন। পরে ভিকটিমের স্বামী ও দুই যুবক তাকে অর্থের বিনিময়ে ঘটনা গোপন রাখার জন্য সম্মতি দেন, যা তদন্তের আওতায় এসেছে।
    অভিযোগের ভাষ্য, ঘটনার চার দিন পর ভিকটিম নারী মহেশপুর থানায় অভিযোগ করেন। মহেশপুর থানার ওসি মেহেদি হাসান জানান, তদন্ত শেষে অভিযুক্ত সাজ্জাদুল ইসলামকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ধর্ষণ চেষ্টার সঙ্গে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনাও সত্য, এবং পুলিশ এখন এই বিষয়গুলো তদন্ত করছে।
    তবে, অভিযুক্তের স্ত্রী তাহমিনা শম্পা বলছেন, তার স্বামীকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য এ সব তথ্য সাজানো হয়েছে, এ সময় তিনি চেক ও টাকা উদ্ধারে পুলিশকে সহায়তা করেন। অন্যদিকে, ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগকারী নারী জানান, ঘটনার সময় অভিযুক্ত তাকে হেনস্থা করেন। তিনি চিৎকার করলে আশেপাশে থাকা দুই যুবক তাকে উদ্ধার করে। অভিযোগের শর্তে ভিকটিমের স্বামী ও সহযোগীরা অর্থ নেওয়ার জন্য হাজির হয়েছিলেন।
    সুত্রাবলি বলছে, এই ঘটনার পর নানা মীমাংসার চেষ্টা ও শালিস করেন অভিযুক্তসহ অন্যরা। পুলিশ এখনও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। মহেশপুর থানার ওসি মেহেদি হাসান নিশ্চিত করেছেন, সকল দোষী ব্যক্তির শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য তাঁদের চেষ্টা চলছে।

  • কৃষকদের কঠোর পরিশ্রমের উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত

    কৃষকদের কঠোর পরিশ্রমের উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত

    খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি’র তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, বিএনপি সবসময় দেশের মানুষের ভোটাধিকার, গণতন্ত্র এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতিষ্ঠায় রাজনীতি করে আসছে। দেশের উন্নয়ন শুধুমাত্র বড় বড় প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; আসল উন্নয়ন তখনই সম্ভব যখন গ্রামের কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষ উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারে। বাংলাদেশে অর্থনৈতিক ভিত্তির মূল শক্তি হলো কৃষি, যা তার প্রমাণ হিসেবে তিনি বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা শুধুমাত্র কৃষকদের ঘাম ও শ্রমের ওপর নির্ভর করে। তাই কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং উন্নত বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উল্লেখ করেন।

    গতকাল রোববার তিনি তেরখাদা উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিএনপি সবসময় কৃষকবান্ধব রাজনীতিতে বিশ্বাস করে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে কাজ করে চলেছে। পাশাপাশি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন ছাড়া কোনো জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, সেই সঙ্গে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবাকে আধুনিক ও সহজলভ্য করে তুলতে হবে। একই সঙ্গে, তরুণ সমাজকে মাদক ও সন্ত্রাস থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার প্রয়োজন।

    এছাড়া, তিনি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান ও চাল সংগ্রহের কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এর পরে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত অর্থে প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত দুস্থ ও অস্বচ্ছল পরিবারের মাঝে টিন ও নগদ অর্থ বিতরণ করেন। পাশাপাশি, উপজেলা পরিষদের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য স্যানিটারি মেশিন, বেঞ্চ, ক্রীড়া সামগ্রী, পিপি মেশিন, ডায়াবেটিক মেশিন, ওজনের যন্ত্রসহ বিভিন্ন কৃষি ও স্বাস্থ্যসামগ্রী বিতরণের উদ্বোধন করেন। এর পাশাপাশি, নবনির্মিত ছাগলাদাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের উদ্বোধন ও লস্করপুর সড়কের শুভ উদ্বোধন করেন।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তেরোখাদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিস তাহমিনা সুলতানা নীলা। উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম নুরুন্নবী, তেরোখাদা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহিদুল্লাহ, কৃষি কর্মকর্তা শিউলি মজুমদার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হানিফ শিকদার, জেলা বিএনপি নেতা জুলফিকার আলী জুলু, এনামুল হক সজল, উপজেলাবাহিনীর নেতা চৌধুরী কাওসার আলী, সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী ফখরুল ইসলাম বুলু, সাবেক সদস্য সচিব এফ এম হাবিবুর রহমান, জেলা কৃষক দলের নেতারা, বিএনপি নেতা রবিউল হোসেন, সরদার আব্দুল মান্নান, ইকরাম হোসেন জমাদ্দার, মোল্লা মাহবুবুর রহমান, সাজ্জাদ হোসেন নান্টা, শরিফ নাইমুল হক, মোল্লা হুমায়ূন কবির, মিল্টন হোসেন মুন্সী, বিল্লাল হোসেন, শেখ আজিজুর রহমান আজিবার, আবুল হোসেন বাবু মোল্লা, যুবদল নেতা চৌধুরী আমিনুল ইসলাম মিলু, গোলাম মোস্তফা ভুট্টো, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সোহাগ মুন্সী, উপজেলা কৃষক দলের নেতা রাজু চৌধুরী, সদস্য সচিব সাবু মোল্লা, ছাত্রদল নেতা সাব্বির আহমেদ টগর, সাবেক ছাত্রদল নেতা আমিনুল ইসলাম আমিন এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

  • নগরে ট্রিপল মার্ডার মামলায় ৬ জন গ্রেফতার, লুটের মালামাল এখনও উদ্ধার হয়নি

    নগরে ট্রিপল মার্ডার মামলায় ৬ জন গ্রেফতার, লুটের মালামাল এখনও উদ্ধার হয়নি

    নগরীর লবণচরা থানাধীন এলাকায় একই পরিবারের তিনজনের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত থাকলেও লুটের মালামাল এখনও উদ্ধার হয়নি। সাতজন আসামির মধ্যে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে; তবে হত্যাকাণ্ডের সময় লুণ্ঠিত কাগজপত্র, স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা সহ অন্যান্য মালামাল এখনো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এ পরিস্থিতির মধ্যেই, অপর একজন আসামি ধরা পড়লে মামলার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের কথা জানিয়েছেন পুলিশের একটি সূত্র।

    প্রায় পাঁচ মাস আগে, ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর, নগরীর লবণচরা এলাকায় নিজ বাড়িতে একই পরিবারের তিনজন খুন হয়েছিলেন। তারা নানী মহিতুন্নেছা (৫৩), নাতি মুস্তাকিম (৮) এবং নাতনি ফাতিহা (৬)। ওই দিন, বাড়ির মুরগির খামার থেকে নিহতদের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত দুই শিশুর বাবা, খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজে কর্মরত সেফার আহমেদ, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে শামীম শেখকে গ্রেফতার করে। স্বীকারোক্তি জ্ঞাপনের জন্য আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন শামীম, যা মামাটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। খবরের পাশাপাশি জানা যায়, শামীম শেখ বিষয়টি পুরো পরিকল্পনার নেতৃত্বে ছিলেন।

    পুলিশের সূত্র বলে, শামীম শেখের সাথে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে জমি-জমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরে, শামীম শেখ তাদের বাড়িতে সন্ত্রাসী পাঠিয়ে জমি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ লুট করে। এ ঘটনায়, শামীমের বিরুদ্ধে বেশ কিছু আগে অস্ত্র ও সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা রয়েছে। তিনি বিদেশে পলাতক থাকাকালে, চলতি বছরের প্রথম দিকে দেশে ফিরে হত্যাকাণ্ডের পরে আবারও বিদেশে পালানোর চেষ্টা করেন, কিন্ত চৌকস পুলিশ তাকে ধরতে সক্ষম হয়।

    অভিযোগে জানা যায়, শামীমের মূল গৃহীত কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে, জমির দলিল জালিয়াতি করে সম্পত্তি নিজের নামে নেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা। তিনি অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত। নিহত সেফার আহমেদ জানান, জমির দলিল জাল করে নিজের নামে নেয়ার আলাপের জেরেই তার পরিবারের ওপর অমানুষিক আঘাত আসে। তিনি আরও বলেন, নিহতদের কাগজপত্র, নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুটের ঘটনায় শামীমের হাত ছিল। তবে, পুলিশের মাধ্যমে এখনো লুটের মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

    খুলনা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি রুহুল আমিন বলেন, এই মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। এই মামলায় ছয়জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুজন আসামি—শামীম ও সালমান—অপরাধ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অপর একজন আসামিকে সনাক্ত করে খুব শিগগিরই গ্রেফতার করা হবে। তবে, হত্যাকাণ্ডের সময় লুট হওয়া মালামাল ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এখনো উদ্ধার সম্ভব হয়নি, তবে উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

  • চিকিৎসা নিতে গিয়ে গৃহবধূ সুমি মৃত্যুর কোলে ফিরে এলেন

    চিকিৎসা নিতে গিয়ে গৃহবধূ সুমি মৃত্যুর কোলে ফিরে এলেন

    নগরীর আদ্-দ্বীন আকিজ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ঘাটাঘাটি ও অসচেতনতার কারণে একজন গৃহবধূ সুমির জীবন বিপন্ন হয়ে গেছে। রোববার সন্ধ্যা সাতটার দিকে এই ঘটনাটি ঘটে, যা এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।

    প্রতিবেশীরা বলছেন, ভুক্তভোগী সুমি বেগম (৩৪), রূপসা উপজেলার নৈহাটী ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ৭ মে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন, উপসর্গের জন্য। প্রথম দিনই তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়, যেখানে নবজাতক শিশুটি জন্ম নিলেও কিছু সময় পরে মারা যায়। এরপর তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন।

    তবে শহর থেকে ফিরে অসুস্থতা আরও বেড়ে গেলে গত রোববার ভোরে তাকে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে তার শরীরে আবারও অস্ত্রোপচার পরিচালিত হয়। তবে পারিবারের লোকজনের অভিযোগ, সফল অস্ত্রোপচার হয়নি। ওই সময় তার শরীরে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় এবং চিকিৎসকদের উপযুক্ত মনোযোগ ও সেবা না পাওয়ায় তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়।

    সুমি বেগমের শারীরিক অবনতি হলে তাকে আইসিইউয়ে স্থানান্তর করা হয়। সন্ধ্যার দিকে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে যান এবং জানতে পারেন, সুমি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো না হওয়ার কারণে পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয় লোকে খুবই ক্ষুব্ধ ও হতবাক। রাত সাড়ে নয়টার দিকে তার মরদেহ শ্বশুরবাড়িতে আনা হয়।

    সুমি বেগমের স্বামী মোঃ ইসমাইল হোসেন বলেন, তার স্ত্রীকে ৮ মে অস্ত্রোপচার করানো হয়। প্রথমে সুস্থ থাকায় পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে নিয়ে আসেন। কিন্তু দুই দিন পরে তার পেটে অস্বস্তি ও যন্ত্রণা বেড়ে গেলে, সর্বশেষ রোববার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী আবারও অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। অভিযোগ রয়েছে, অপারেশনের সময় পেটের ভেতরের নাড়ি কেটে ফেলার কারণে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় এবং এ কারণেই তার মৃত্যু ঘটে।

    পরিবারের সূত্রে জানা যায়, অপারেশনের ধকল ও চিকিৎসার বেশ কিছু দুর্বলতার কারণে সুমি বেগমের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে। এ ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনও স্পষ্ট উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এলাকাবাসী ও পরিবার এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ থাকলেও, নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

  • যশোরের ভাঙ্গাগেটে ট্রেনের ধাক্কায় কয়লাবাহী ট্রাক দুমড়ে; চালক নিহত

    যশোরের ভাঙ্গাগেটে ট্রেনের ধাক্কায় কয়লাবাহী ট্রাক দুমড়ে; চালক নিহত

    যশোরের অভয়নগর উপজেলার ভাঙ্গাগেট এলাকায় খুলনাগামী মহানন্দা মেইল ট্রেনের ধাক্কায় একটি কয়লাবাহী ট্রাক দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে চালক নিহত হয়েছেন এবং সহকারী গুরুতর আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাটি রোববার (১০ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঘটেছে।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আকিজ এ্যাসেনশিয়ালের কয়লা ডিপোর দিকে যাচ্ছিল দূরবাহি ট্রাকটি (রেজিস্ট্রেশন ঢাকা মেট্রো ট ১৮-৭৮৩৬)। ভাঙ্গাগেট এলাকার একটি অরক্ষিত রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় খুলনাগামী মহানন্দা মেইল ট্রেনটি ট্রাকটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকটি দুমড়ে-মুচড়ে রেললাইনের পাশে ছিটকে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই ট্রাকচালক প্রাণ হারান।

    নিহত চালকের নাম মনোয়ার হোসেন। তিনি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মোহাম্মদ আলীর ছেলে। আহত হেলপার রায়হানকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়; তাঁর অবস্থাকে গুরুতর বলা হচ্ছে।

    এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীর অভিযোগ, ভাঙ্গাগেটের ওই রেলক্রসিং দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত এবং সেখানে কোনো গেটম্যান কিংবা সংকেত ব্যবস্থা নেই। ফলে সড়কচালক ও স্থানীয়রা বলছেন, ট্রেনের উপস্থিতি বুঝতে না পেয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

    অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণে ওই রুটে কিছুক্ষণ ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।

    পুলিশ ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে। এলাকাবাসীও জরুরি ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন যাতে ভবিষ্যতে আর এ ধরনের অকাল মৃত্যুর ঘটনা না ঘটে।

  • যোগ্য মুআল্লিম গঠনে খুলনায় দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন

    যোগ্য মুআল্লিম গঠনে খুলনায় দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন

    দ্বীনি শিক্ষার মানউন্নয়ন ও যুগোপযোগী পাঠদানে দক্ষ, দায়বদ্ধ ও আদর্শবান মুআল্লিম তৈরীর লক্ষ্য নিয়ে খুলনায় এক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সুশৃঙ্খল ও প্রাণবন্ত পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল রাবেতাতুল মাদারিসিদ দ্বীনিয়্যাহ আল-মারকাযিয়্যাহ বাংলাদেশ।

    আজ রোববার (১০ মে) দক্ষিণ বঙ্গের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাকেন্দ্র, শাইখুল হাদিস আল্লামা মুফতি জিহাদুল ইসলামের প্রতিষ্ঠিত বয়রার রায়ের মহল জামিআ ইসলামিয়া উসওয়ে হাসানার প্রাঙ্গণেই এ ইলমী ও প্রশিক্ষণমূলক মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই মাদ্রাসার প্রাঙ্গণ শিক্ষক, আলেম-উলামা, ছাত্র ও দ্বীনপ্রেমী মানুষের উপস্থিতিতে জড়ো হয়ে এক পেশাদার ও মনোগ্রাহী শিক্ষামূলক পরিবেশের সৃষ্টি করে।

    খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে তিন শতাধিক উলামায়ে কেরাম, মাদ্রাসা শিক্ষক ও তালিবুল ইলম অংশগ্রহণ করেন। স্থানীয় দ্বীনপ্রেমী সাধারণ মানুষের আগমনও ছিল লক্ষণীয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ইলম চর্চা ও শিক্ষার মানোন্নয়নের প্রতি গভীর আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার প্রত্যয় দেখা গেছে।

    ট্রেনিংয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—দারুল উলূম হাটহাজারীর সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ ছাড়াও খুলনা, বাগেরহাট ও গোপালগঞ্জের বিভিন্ন মাদ্রাসার অভিজ্ঞ আলেম ও শিক্ষাবিদরা অংশ নিয়ে সময়োপযোগী ও গঠনমূলক আলোচনা করেন। আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে ছিল মুআল্লিমের চারিত্রিক গঠন, আধুনিক পাঠদানের পদ্ধতি, ছাত্রদের মানসিক-আত্মিক বিকাশ, আদব-আখলাক ও দ্বীনি খেদমতের প্রতি আনুগত্য ও দায়বোধ।

    প্রধান অতিথি দারুল উলূম হাটহাজারীর প্রধান মুফতি আল্লামা মুফতি জসীম উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, “একজন মুআল্লিম কেবল পাঠদানকারী নন; বরং তিনি একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাতা। একজন আদর্শ শিক্ষক তাঁর ইলম, আমল, আখlaq ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে ছাত্রদের হৃদয়ে দ্বীনের ভালোবাসা সৃষ্টি করেন।” তিনি আরও যোগ করেন যে, দ্বীনি শিক্ষাকে কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে হলে শিক্ষকরা যুগের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জ্ঞানসমৃদ্ধ ও সচেতন হতে হবে এবং ছাত্রদের আত্মিক ও নৈতিক উন্নয়নের ওপর সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

    বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন আল্লামা ওসমান ফয়জী ইখলাস, আত্মশুদ্ধি ও দায়িত্ববোধ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মুফতি মাহমুদুল হাসান ছাত্রদের সঙ্গে সদাচরণ, পাঠদানের মনস্তাত্ত্বিক কৌশল এবং শিক্ষকের ধৈর্য ও আন্তরিকতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। মুফতি ফুরকান আহমাদ মাদ্রাসার পরিবেশ রক্ষা, শিক্ষক間 সুসম্পর্ক ও শিক্ষাব্যবস্থার ঐতিহ্য ও আধুনিকীকরণ সম্পর্কে আলোচনা করেন। ডক্টর নুরুল আবসার দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে বলেন, “শিক্ষক যদি আদর্শবান হন, তাহলে ছাত্ররাও আদর্শবান হবে।”

    মাওলানা আনোয়ার শাহ আজহারী মুআল্লিমদের নববী আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান। মুফতি রাশেদুল ইসলাম, মুফতি আব্দুল হামিদ, হাফেজ মোহাম্মদ মোস্তফা, হাফেজ ক্বারী রেজওয়ান আহমেদ ও মাওলানা নিজাম সাঈদসহ আরও অনেকে মর্মস্পর্শী ও বাস্তবমুখী প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা দারুল উলূম মাদ্রাসার মুহতামিম মোশতাক আহমেদ এবং জামিআ ইসলামিয়া উসওয়ায়ে হাসানার সম্মানিত সভাপতি ও সমাজসেবক মোঃ খান সাইফুল ইসলাম। শাইখুল হাদিস মুফতি জিহাদুল ইসলামও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন।

    সমাপ্তিতে সারাজীবনের দ্বীনি খেদমত, দেশ ও উম্মাহর উন্নতি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়, যা দেশের বরেণ্য আলেমগণ পরিচালনা করেন। অংশগ্রহণকারীরা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে ভবিষ্যতেও এ ধরনের বৃহৎ মাপের মুআল্লিম ট্রেনিং ও ইলমী সম্মেলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানায়।

  • যশোরে অরক্ষিত ক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় কয়লাবাহী ট্রাক দুমড়ে-মুচড়ে, চালক নিহত

    যশোরে অরক্ষিত ক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় কয়লাবাহী ট্রাক দুমড়ে-মুচড়ে, চালক নিহত

    যশোরের অভয়নগর উপজেলায় রোববার (১০ মে) দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে খুলনাগামী মহানন্দা মেইল ট্রেনের ধাক্কায় একটি কয়লাবাহী ট্রাক দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে যায়; ঘটনায় ট্রাকের চালক মনোয়ার হোসেন নিহত হন এবং হেলপার রায়হান গুরুতর আহত হন।

    ঘটনা জানাযায়, ভাঙ্গাগেট এলাকায় অবস্থিত অরক্ষিত রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় ঢাকা মেট্রো ট ১৮-৭৮৩৬ নম্বরের ওই ট্রাকটি (আকিজ এসেনশিয়ালের কয়লা ডিপোর দিকে যাচ্ছিল) ট্রেনের মুখোমুখি ধাক্কা খায়। ধাক্কায় ট্রাকটি রেললাইনের পাশে ছিটকে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই চালক মনোয়ার মারা যান। আহত রায়হানকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।

    এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই রেলক্রসিং দীর্ঘদিন ধরেই অরক্ষিত থাকায় সেখানে কোনো গেটম্যান বা সংকেত ব্যবস্থা নেই, ফলে চালক ট্রেনের উপস্থিতি বুঝতে পারেননি। স্থানীয়রা সাবধানতা ও নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন।

    অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনায় কিছুক্ষণ ওই রুটে ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হলেও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রিত হয়েছে।

    স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও ট্রাফিক বিভাগ দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে আরও অনুরূপ দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকা উল্লেখ করে এলাকার মানুষ কর্তৃপক্ষের কাছে স্থায়ী সমাধান চান।