Category: সারাদেশ

  • সেলুনে সিরিয়ালকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ৬ জন আহত

    সেলুনে সিরিয়ালকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ৬ জন আহত

    মাগুরার সদর উপজেলার আঠারোখাদা ইউনিয়নের গাংনালিয়া বাজারে শুক্রবার দুপুরে একটি সেলুনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ৬ জন আহত হয়েছেন।

    স্থানীয়রা জানান, সেলুনে চুল কাটার জন্য জুয়েল নামের একজন আগে থেকে সিরিয়াল নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। সেই সময় সোহাগ নামের আরেকজন জরুরি কাজে ব্যস্ত আছেন বলে দাবি করে সেলুনে এসে আগে চুল কাটার অনুরোধ করেন। সেলুন কর্মী পরামানিক জানিয়েছেন, জুয়েলের সিরিয়াল আগেই ছিল। জুয়েলকে সিরিয়াল ছাড়ার জন্য অনুরোধ করা হলেও তিনি রাজি না হওয়ায় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষে পরিণত হয়।

    ঘটনায় আহতরা হলেন লুৎফর শেখ (৫০), সোহাগ (২৬), উকিল মোল্লা (৫৫), কাদের মোল্লা (২৪), জুয়েল মোল্লা (২৮) এবং আরাফাত (২৪)। তাদের উদ্ধার করে মাগুরার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    জুয়েল মোল্লা ও কাদের মোল্লা শ্রীপুর উপজেলার শ্রীকোল ইউনিয়নের বরিশাট পূর্বপাড়ার বাসিন্দা। আর আরাফাত গাংনালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার পর স্থানীয় এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং তুলনামূলকভাবে শান্ত আছে।

    আঠারোখাদা ইউনিয়নের বিট অফিসার এসআই মনজুরুল ইসলাম বলেন, আমরা ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ফকিরহাটে সাড়ে তিন মাসে সড়কদুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত, ৩০ জন আহত

    ফকিরহাটে সাড়ে তিন মাসে সড়কদুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত, ৩০ জন আহত

    ফকিরহাটে গত সাড়ে তিন মাসে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের ২ জানুয়ারি থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত অন্তত ১১ জন নিহত এবং কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার প্রধানভাবে মোটরসাইকেল ও মহাসড়কে হওয়া সংঘর্ষের প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) খুলনা-মোংলা মহাসড়কের পিলজংগের শ্যামবাগাত এলাকায় একটি বাসের ধাক্কায় ভ্যানযাত্রী সুবীর দে (৬৫) নিহত হন। ওই ঘটনায় একজন গুরত্বপূর্ণভাবে আহত রয়েছেন।

    এর আগে ২ জানুয়ারি ফকিরহাটের পালেরহাট এলাকায় একটি ট্রাকের ধাক্কায় যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ঠুকে পড়ে; ঘটনায় বাসের সুপারভাইজার মো: সেলিম শেখ (৪৫) নিহত হন। ওই দুর্ঘটনায় বাসের চালক মো: মুরাদ হোসেন (৪১) ও যাত্রী সোহাগ হাওলাদার (৪৪) গুরুতর আহত ছিলেন।

    ১৬ জানুয়ারি দুপুরে টাউন-নওয়াপাড়া এলাকায় একটি ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে বাইসাইকেল চালক আবিদ মোড়ল (৬৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু ঘটে। ২২ জানুয়ারি বড় খাজুরা এলাকায় বাসের ধাক্কায় এক অজ্ঞাত পথচারী (২৫) নিহত হন।

    ২ ফেব্রুয়ারি রূপসা-বাগেরহাট পুরাতন সড়কের ফকিরহাট ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এলাকায় একটি প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালক কৌশিক দেবনাথ (২০) নিহত হন।

    ১৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টার দিকে বিশ্বরোড মোড়ে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীসহ প্রায় ১৫ জন কম-বেশি আহত হন। ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় মহাসড়কে বাসের ধাক্কায় ভ্যানযাত্রী পারভীন আক্তার (৪৫) মারা গেছেন; ওই ঘটনায় তার স্বামী আটিয়ার রহমান (৫৫) গুরুতর আহত হন।

    ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বিশ্বরোড মোড়ে কভারভ্যানের চাকায় পিষ্ট হয়ে মোটরসাইকেল চালক ইলেকট্রিক মিস্ত্রি হাসিব মোল্লা (২৫) নিহত হন। ৭ মার্চ কাকডাঙা এলাকায় কালভার্টের রেলিংয়ে ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালক কে এম ইশতিয়াক আহমেদ (৩৪) প্রাণ হারান।

    ১৫ মার্চ টাউন-নওয়াপাড়া মোড়ে একটি পিকআপ ভ্যানের চাপায় বাদল রায় চৌধুরী (৫৩) নামে এক পথচারী নিহত হন। ১ এপ্রিল বৈলতলী এলাকায় একটি বাসের ধাক্কায় ছাত্র মো: ছাহাদ (১১) মারা যান। আরও একটি নিহতের ঘটনা ঘটেছে ৬ এপ্রিল; পাগলা-শ্যামনগর এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় বাইক চালক মো: ইয়াছিন শেখ (৫৫) মারা যান।

    স্থানীয় সচেতন মহল দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালক ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনকে উল্লেখ করেছেন। বিশেষ করে ফকিরহাট বিশ্বরোড এলাকায় বিভিন্ন রুটের যানবাহনের চাপ বেশি হওয়ায় সেখানে ট্রাইব্রেকার বা ওভারব্রিজ না থাকায় ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে বলে তারা জানিয়েছেন। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর করে দ্রুত ব্যবস্থা চান।

    মোল্লাহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আসাদুজ্জামান হাওলাদার বলেন, বিধিনিষেধ ও আইন অমান্য করার কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে। বেপরোয়া গাড়ি চালানোকে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে হাইওয়ে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

    স্থায়ী সমাধানের জন্য স্থানীয়রা দ্রুত রাস্তাসঙ্গত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও দুর্যোগপ্রতিরোধক অবকাঠামো স্থাপনের দাবি করেছেন। এছাড়া চালক প্রশিক্ষণ, যানবাহন নিয়ে নিয়মিত মনিটরিং ও কঠোর আইন প্রয়োগ বৃদ্ধিরও দাবি উঠেছে যাতে ভবিষ্যতে হতাহতের সংখ্যা কমানো যায়।

  • ফকিরহাটে সাড়ে তিন মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ নিহত, অন্তত ৩০ আহত

    ফকিরহাটে সাড়ে তিন মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ নিহত, অন্তত ৩০ আহত

    ফকিরহাটে গত সাড়ে তিন মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা উদ্বেগজনক মাত্রায় বাড়ছে। পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্যমতে ২ জানুয়ারি থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে অন্তত ১১ জন নিহত ও কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি; মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে দুর্ঘটনার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত নিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) খুলনা–মোংলা মহাসড়কের পিলজঙ্গের শ্যামবাগাত এলাকায় একটি বাসের ধাক্কায় ভ্যানযাত্রী সুবীর দে (৬৫) নিহত হন। ঘটনাস্থলে আরও একজন আহত হন।

    এর আগে ২ জানুয়ারি ফকিরহাট উপজেলার পালেরহাট এলাকায় একটি ট্রাকের ধাক্কায় যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে; এ দুর্ঘটনায় বাসের সুপারভাইজার মোঃ সেলিম শেখ (৪৫) নিহত হন। এ ঘটনায় বাস চালক মোঃ মুরাদ হোসেন (৪১) ও যাত্রী সোহাগ হাওলাদার (৪৪) গুরুতর আহত হন।

    ১৬ জানুয়ারি দুপুরে টাউন–নওয়াপাড়া এলাকায় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে বাইসাইকেল চালক আবিদ মোড়ল (৬৫) নামে এক কৃষক মারা যান। ২২ জানুয়ারি বড় খাজুরা এলাকায় বাসের ধাক্কায় এক অজ্ঞাতনামা পথচারী (প্রায় ২৫) নিহত হন।

    ২ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টায় রূপসা–বাগেরহাট পুরাতন সড়কের ফকিরহাট ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এলাকায় একটি প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মোটরসাইকেলচালক কৌশিক দেবনাথ (২০) নিহত হন।

    ১৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় ফকিরহাট বিশ্বরোড মোড়ে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীসহ প্রায় ১৫ জন কম-বেশি আহত হন। ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ফকিরহাট মহাসড়ক এলাকায় বাসের ধাক্কায় ভ্যানযাত্রী পারভীন আক্তার (৪৫) মারা যান; এসময় তার স্বামী আতিয়ার রহমান (৫৫) গুরুতর আহত হন।

    ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩টায় বিশ্বরোড মোড়ে কভারভ্যানের চাকায় পিষ্ট হয়ে ইলেকট্রিক মিস্ত্রি হাসিব মolla (২৫) নিহত হন। ৭ মার্চ বেলা ১১টায় কাকডাংগা এলাকায় কালভার্টের রেলিংয়ের সঙ্গে ধাক্কা লাগায় মোটরসাইকেল চালক কে এম ইশতিয়াক আহমেদ (৩৪) নিহত হন।

    ১৫ মার্চ সকাল সাড়ে ৮টায় টাউন–নওয়াপাড়া মোড়ে একটি পিকআপ ভ্যানের চাপায় বাদল রায় চৌধুরী (৫৩) নামে এক পথচারী নিহত হন। ১ এপ্রিল সকালে বৈলতলী এলাকায় বাসের চাপায় মোঃ ছাহাদ (১১) নামের এক শিক্ষার্থী নিহত হন। ৬ এপ্রিল সকাল ১০টায় পাগলা–শ্যামনগর এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় বাইক চালক মোঃ ইয়াছিন শেখ (৫৫) মারা যান।

    স্থানীয় সচেতন মহল এবং নিহতদের পরিবারগুলো বলছেন, দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে বেপরোয়া গতি, অপর্যাপ্ত দক্ষতা সম্পন্ন চালক ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনকে দায়ী করা হচ্ছে। বিশেষ করে ফকিরহাট বিশ্বরোডে বিভিন্ন রুটের ভারী যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় এখানে ছোট-বড় দুর্ঘটনা নিয়মিত ঘটে; ট্রাফিক আইটেম যেমন ট্রাইব্রেকার বা ওভারব্রিজের অভাবও সমস্যাকে জোর দিচ্ছে। স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।

    মোল্লাহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আসাদুজ্জামান হাওলাদার জানিয়েছেন, বিধি-বিধান ও আইন অমান্য করা এবং বেপরোয়া গাড়ি চালানোই অনেক দুর্ঘটনার মূল কারণ। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে হাইওয়ে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে তিনি জানান। স্থানীয়রা চাইছেন — কড়া আইন প্রয়োগ, সচেতনতা বাড়ানো, সড়ক সংস্কার ও নিয়মিত টহল দিয়ে দুর্ঘটনা রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের দ্রুত উদ্যোগ প্রয়োজন।

  • খুলনা বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৭ শিশু ভর্তি

    খুলনা বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৭ শিশু ভর্তি

    খুলনা বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুনভাবে ৯৭ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মুজিবর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    দপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলার হাসপাতালে মোট ১,৩৩৩ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। এ সময় ৬৮ জনের হাম শনাক্ত করা হয়েছে এবং মারা গেছে ১০ শিশু।

    জেলায় জেলায় অবস্থার বিবরণে কুষ্টিয়া সবচেয়ে বেশি অনিকট: সেখানে মোট ৫২৪ জন শিশু ভর্তি। অন্যান্য জেলায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা হলো— মাগুরা ১৮৬, যশোর ১৫৮, খুলনা ১৩৩, মেহেরপুর ৮৫, সাতক্ষীরা ৭২, ঝিনাইদহ ৬৪, নড়াইল ৪৫, বাগেরহাট ৩৪ এবং চুয়াডাঙ্গা ৩২।

    একদিনে নতুন ভর্তি ৯৭ জনের ভেতরে জেলার ভিত্তিক বণ্টন হয়েছে— কুষ্টিয়া ৩৯, সাতক্ষীরা ২, খুলনা ৭, যশোর ১৩, বাগেরহাট ১৩, চুয়াডাঙ্গা ৩, ঝিনাইদহ ৪, মাগুরা ৮, নড়াইল ৭ এবং মেহেরপুরে ১ জন।

    খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালনার দপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও তত্ত্বাবধানে শিশুদের রাখা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের হামের কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে অনুরোধ করা হয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে স্কুলছাত্রসহ ২ জন নিহত

    চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে স্কুলছাত্রসহ ২ জন নিহত

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলায় বজ্রপাতে দুইজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন দামুড়হুদার পারকৃষ্ণপুর গ্রামের মেমনগর বিডি হাই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র আজিম উদ্দিন (১৪) ও জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের ঘোষনগর গ্রামের কৃষক রাসেল উদ্দিন (২৫)। ঘটনা দুটি বৃহস্পতিবার দুপুরে পৃথক স্থানে ঘটে।

    স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে আজিম উদ্দিন বাবার জন্য মাঠে খাবার নিয়ে যাওয়ার পর বাড়ি ফিরছিল। পারকৃষ্ণপুরের বালিগাদার মাঠে ফেরার পথে বজ্রপাত হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

    অন্যদিকে জীবননগরের বাঁকা ইউনিয়নের ঘোষনগর গ্রামে রাসেল উদ্দিন বাড়ির পাশে থাকা কৃষিজমিতে তামাকের জ্বালানি সংগ্রহ করছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

    দর্শনা থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান ও জীবননগর থানার ইনচার্জ (ওসি) সোলাইমান শেখ নিহত হওয়ার ঘটনা এবং সময়কালটি নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয়রা দুই পরিবারকে সহায়তা দিচ্ছেন এবং ঘটনা নিয়ে এলাকায় শোক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

  • দুই দিনেও উদ্ধার হয়নি সুন্দরবনে অপহৃত ১০ জেলে

    দুই দিনেও উদ্ধার হয়নি সুন্দরবনে অপহৃত ১০ জেলে

    গভীর রাতে সুন্দরবনের চাঁদপাই এলাকা থেকে অপহৃত হওয়া ১০ জেলের দুই দিন পার হতে চললেও এখনও তাদের খোঁজ মেলেনি। কোস্ট গার্ড ও বন বিভাগের সম্মিলিত অভিযান চললেও বনের জটিল ভূগোল ও দস্যুদের ঘন ঘন অবস্থান বদলানোয়ের কারণে এখন পর্যন্ত কোনো সাফল্য মিলেনি। অভিযুক্ত করিম শরীফ বাহিনী অপহৃতদের পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    ঘটনা গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) গভীর রাতে ঘটে। বন বিভাগের জিউধারা স্টেশন এলাকার বরইতলা টহল ফাঁড়ি সংলগ্ন শুয়ারমারা খালে নৌকায় মাছ ধরছিলেন কয়েকজন জেলে। তখন সশস্ত্র দস্যুদের একটি দল আচমকা হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে যে প্রায় ১৫-২০ জনের একটি বহর কায়দায় তারা আক্রমণ করে, জেলেদের মারধর করে মালামাল ছিনিয়ে নেয় এবং শেষ পর্যন্ত ১০ জনকে জিম্মি করে নিয়েছে। পরে দস্যুরা ট্রলারযোগে বনের গভীরে পালিয়ে যায়।

    অপহৃত ১০ জেলের মধ্যে পাঁচ জনের বাড়ি মোংলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। তারা হচ্ছেন নাসির শেখের ছেলে মানিক শেখ, আরোভ গাজীর ছেলে আবু বকর গাজী, আমজাদ ফরাজীর ছেলে জাকির ফরাজী, হানিফ সিকদারের নুরজামাল শিকদার ও ওহিদ মুন্সির ওয়াহিদ মুন্সি। বাকি পাঁচ জেলের বাড়ি পার্শ্ববর্তী মোড়েলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বলে জানায় স্থানীয়রা; তাদের নাম এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। প্রিয়জনদের নিখোঁজ হওয়ার সংবাদে অপহৃতদের পরিবারে গভীর উদ্বেগ ও হতাশা শুধু নয়, আতঙ্কও বিরাজ করছে।

    পরিবারের সদস্যরা জানান, দস্যুরা ফোন করে প্রত্যেক জেলের জন্য ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করেছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা না পেলে জেলেদের হত্যা করার হুমকি দিয়েছে। এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে অনেক জেলে প্রাণ বাঁচাতে বন ছেড়ে স্থানীয় এলাকায় ফিরে আসতে শুরু করেছেন, যা উপকূলীয় মৎস্য আহরণে গুরুত্বপুর্ণ ধাক্কার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

    কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন (মোংলা)’র গোয়েন্দা শাখা অপহারের খবর পেতেই উদ্ধার অভিযানে নামেন। পশুর নদীসহ সুন্দরবনের গুরুত্বপূর্ণ খালগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সম্ভাব্য সকল উদ্ধারপয়েন্টে অভিযান চালানো হচ্ছে। বন বিভাগের জিউধারা, চাঁদপাই ও ঢাংমারী স্টেশনের কর্মকর্তারা কোস্ট গার্ডের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। তবে দুর্লভ ভূগোল, পথের সীমাবদ্ধতা এবং দস্যুদের দ্রুত চলে যাওয়ার কৌশলের কারণে উদ্ধারকাজ এখনও বন্ধ порে পড়েছে।

    স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, একসময় র‌্যাব ও কোস্ট গার্ডের কড়া অভিযানেই সুন্দরবন অনেকটা দস্যুমুক্ত হয়ে উঠেছিল। কিন্তু গত ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের পর থেকে প্রশাসনের টহল কিছুটা শিথিল হওয়ায় সুযোগ নিয়ে নতুন নতুন দস্যু গোষ্ঠী গড়ে উঠছে। তারা বলছেন সুন্দরবনকে স্থায়ীভাবে নিরাপদ রাখতে আবারও বিশেষ ড্রাইভ বা ব্যাপক চিরুনি অভিযান চালানো প্রয়োজন।

    নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, এই ধরনের অপহরণ শুধু একক অপরাধ নয়, এটি উপকূলীয় অর্থনীতি ও স্থানীয়দের জীবনযাত্রার ওপর বড় আঘাত। দ্রুতাতিরিক্ত সময়ে অপহৃতদের উদ্ধার না হলে এবং দস্যু দমন না করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আস্থাহীনতা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কর্তৃপক্ষ পর্যবেক্ষণ ও উদ্ধারকাজ অব্যাহত রেখেছে; এ বিষয়ে পরিবারগুলোও তৎপরতা দাবি করছে।

  • যশোরে বজ্রপাতে ২ জনের মৃত্যু, ঝড়ে বহু গ্রামে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্নতা

    যশোরে বজ্রপাতে ২ জনের মৃত্যু, ঝড়ে বহু গ্রামে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্নতা

    যশোরে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর শুরু হওয়া লঘুচাপের তীব্র ঝড় ও বজ্রপাতে দুই জন নিহত হয়েছেন এবং জেলার অনেক গ্রামে বিদ্যুৎversorgung (বিচ্ছিন্ন) হয়েছে। টানা আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় স্থায়ী এই ঝড়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন এবং বসতঘর, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

    গত কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় জনজীবন কষ্টকর ছিল। দুপুরের পর কালো মেঘ গর্জন করে আকাশ ঢেকে যায় এবং মুহূর্তেই বেগবান বাতাস, শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। ঝড়ের সময় চৌগাছার আন্দুলিয়া গ্রামে আবু তাহের বজ্রপাতে নিহত হন। মনিরামপুরের শাহাপুরে মাঠে যাওয়ার পথে লুৎফর রহমান সরদার বজ্রপাতে মারা যান।

    ঝড়ের প্রভাব বেশ কয়েকটি উপজেলায় অনুভূত হয়েছে। মশ্বিমনগর ইউনিয়নের পারখাজুরা অঞ্চলে গাছ উপড়ে পড়েছে, অনেক বাড়ির চালের টিন উড়ে গেছে এবং একাধিক জায়গায় গাছ চাপা পড়ে বিদ্যুতের খুঁটি ও লাইনে আঘাত লেগেছে। ওই এলাকায়সহ ঝাঁপা, হরিহরনগর ও রাজগঞ্জে এখনো বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যত বন্ধ রয়েছে।

    কেশবপুরেও ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সেখানে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসল নড়বড়ে হয়েছে; অনেক স্থানে গাছ নাড়ে পড়েছে ও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পেছনে পড়েছে, ফলে অসংখ্য এলাকায় তার ছিঁড়ে গেছে। কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঝড়ে আহত ৯ জন চিকিৎসা নিয়েছেন; তাদের মধ্যে দুই জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

    উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, কেশবপুরে প্রায় ১৫০ বিঘা জমির বোরো ধান হেলে পড়েছে এবং আম ও কাঁঠালেরও ব্যাপক নষ্ট হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রাত ৮টা পর্যন্ত ওই উপজেলার অনেক ইউনিয়নে বিদ্যুৎ পুনঃস্থাপন সম্ভব হয়নি। দারুল উলুম আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন জানান, মাদ্রাসার ছাদে গাছ পড়ে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে এবং এলাকার কৃষক-চাষিরা ধান, আম ও কাঁঠালের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে; বিভিন্ন জায়গায় গাছপালার ভাঙনে কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, যশোরে সামগ্রিকভাবে ব্যাপক ফসলহানি হয়নি, কিছু কিছু জায়গায় বোরো ধান হেলে পড়েছে—তবে মোটামুটি ১৬ মিলিমিটার পরিমাণ বৃষ্টিপাত ধানের জন্য আশীর্বাদ হিসেবেই দেখতে পারেন। তারপরও স্থানীয় ক্ষতি থাকলে কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সাহায্য-পরামর্শ দেওয়া হবে।

    যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার হাদিউজ্জামান জানিয়েছেন, বৈশাখী ঝড়ে মনিরামপুর ও কেশবপুরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে; এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৬টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে এবং অনেক জায়গায় লাইনের ওপর গাছ পড়ে রয়েছে। তাদের কর্মীরা রাতেও লাইন মেরামতের কাজ করছেন, তবে সব স্থানে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করা সম্ভব নয়।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যার সময় পর্যন্ত হাসপাতালে আনা রোগীদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শেখ আব্দুল কাদের বলেন, বিভিন্ন স্থানে ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির ছক তৈরি করা হচ্ছে; স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক ও ত্রাণসামগ্রী প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও জনসাধারণকে নিরাপদে রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জরুরি অবস্থায় জনগণকে বিজ্ঞপ্তি মেনে চলতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে না থাকতে বলা হয়েছে।

  • মাজারে কুমিরে মেরে যাওয়া কুকুরটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল: ময়নাতদন্ত

    মাজারে কুমিরে মেরে যাওয়া কুকুরটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল: ময়নাতদন্ত

    বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন দিঘীতে কুমিরের আক্রমণে মারা যাওয়া কুকুরটি জলাতঙ্কে (র্যাবিজ) আক্রান্ত ছিল—এমন তথ্য জানিয়েছে জেলা প্রশাসনের তদন্ত ও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রবল র্য়াগ সৃষ্টি হয়েছিল।

    ফরওয়ার্ড করা ভিডিওতে দেখা যায়, ০৮ এপ্রিল বিকেলে মাজারের প্রধান ঘাট থেকে কুমির ধলা পাহাড় ওই একটি কুকুরকে শিকার করে দিঘীতে টেনে নিয়ে যায়। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযোগ ওঠে কুকুরটিকে ইচ্ছে করে কুমিরের মুখে ফেলে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য জেলা প্রশাসক তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন; কমিটিকে নেতৃত্ব দেন বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিয়া খাতুন।

    তদন্ত পক্রিয়ায় ১১ এপ্রিল বিকেলে জেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে মাজার এলাকায় কুকুরটির ময়নাতদন্ত করা হয়। কুকুরটির মাথার নমুনা পরবর্তীতে সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরি (সিডিআইএল)-এ পাঠানো হয় এবং বুধবার (১৫ এপ্রিল) ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে আসে। রিপোর্ট অনুযায়ী কুকুরটি জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত ছিল।

    বাগেরহাট জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী জানান, সিডিআইএলের পরীক্ষায় কুকুরের জলাতঙ্ক নিশ্চিত হয়েছে। যারা কুকুরটিকে কামড়েছিল, তারাও জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, তাই টিকা নেওয়া জরুরি। তিনি বলেন, কুকুরের সঙ্গে যারা সংস্পর্শে এসেছিলেন তারা টিকা নিয়েছেন এবং হাসপাতাল থেকে তাদের টিকা নেওয়ার প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে।

    কুমিরটির জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাব্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে মোহাম্মদ ছাহেব আলী বলেন, র্যাবিজ সাধারণত স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে ছড়ায় এবং সরীসৃপের মধ্যে এই রোগ সাধারণভাবে দেখা যায় না; তাই কুমিরের মাধ্যমে রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি খুবই কম বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবু কামড়ানো ব্যক্তিদের দ্রুত টিকা নিতে বলা হয়েছে।

    তদন্ত কমিটির প্রধান আতিয়া খাতুন বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং অন্যান্য তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। নানা প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে, আর তদন্তে কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের মুখে ফেলে দেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি—কমিটির ধারণা, কুকুরটি দুর্ঘটনাবশত পুকুরে পড়ে যায়।

    জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন বলেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এবং তদন্তকমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কুকুরটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল এবং কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের মুখে দিলে রাখার কোনো প্রমাণ তারা পাননি।

    স্থানীয়দের মধ্যে যারা আহত হয়েছেন তাদের দ্রুত টিকা গ্রহনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল ও আশপাশের পশু-মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

  • দুই দিন পেরিয়েও উদ্ধার হয়নি সুন্দরবনে দস্যুদের হাতে অপহৃত ১০ জেলে

    দুই দিন পেরিয়েও উদ্ধার হয়নি সুন্দরবনে দস্যুদের হাতে অপহৃত ১০ জেলে

    সুন্দরবনের গভীরে বন্দুকধারী দস্যুদের হামলায় অপহৃত হওয়া ১০ জেলের কোনো খোঁজ মেলেনি, দুই দিন পার করেও উদ্ধার অভিযানে এখনও সাফল্য আসেনি। স্থানীয়রা বলছেন, পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠা দুষ্কৃতীরা সুন্দরবনের নিরাপত্তারই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে।

    স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) গভীর রাতে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আওতাধীন জিউধারা স্টেশন অঞ্চলের বরইতলা টহল ফাঁড়ি সংলগ্ন শুয়ারমারা খালে নৌকায় মৎস্য আহরণ করছিলেন একদল জেলে। তখনই প্রায় ১৫-২০ সদস্যের সশস্ত্র ‘করিম শরীফ বাহিনী’ হঠাৎ করে হামলা চালায়। দস্যুরা জেলেদের মারধর করে তাদের সামগ্রী লুটে নেয় এবং ১০ জনকে জিম্মি করে ট্রলারযোগে বনের ঘন অন্ধকারে নিয়ে যায়।

    অপহৃত ১০ জন জেলের মধ্যে পাঁচজনের বাড়ি মোংলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। তাদের নাম: নাসির শেখ-এর ছেলে মানিক শেখ, আরোভ গাজীর ছেলে আবু বকর গাজী, আমজাদ ফরাজীর ছেলে জাকির ফরাজী, হানিফ সিকদারের নুরজামাল সিকদার এবং ওহিদ মুন্সির ওয়াহিদ মুন্সি। বাকি পাঁচজনের বাড়ি পার্শ্ববর্তী মোড়েলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় থাকলেও তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। প্রিয়জনদের নিখোঁজ সংবাদ পেয়ে পরিবারের সদস্যরা গভীর আতঙ্ক ও দুশ্চিন্তায় দিনরাত কাঁপছেন।

    অপহৃতদের পরিবারগুলোর দাবী, দস্যুরা মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে প্রত্যেক জেলের জন্য ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করেছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাবি না পূরণ করলে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দিয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় জেলেদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়েছে; অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে বন ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছেন, যার ফলে উপকূলীয় মাছ আহরণে বড় ধরণের ব্যাঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন (মোংলা) গোয়েন্দা বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, অপহারের খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ সুন্দরবনের সম্ভাব্য পথসমূহে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে। পশুর নদীসহ গুরুত্বপূর্ণ খালগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বন বিভাগের জিউধারা, চাঁদপাই ও ঢাংমারী স্টেশনের কর্মকর্তারা কোস্ট গার্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে তল্লাশি চালাচ্ছেন। তবে সুন্দরবনের প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিবেশ ও দস্যুদের ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তনের কারণে উদ্ধারকাজে জটিলতা দেখা দিচ্ছে।

    স্থানীয় সচেতন মহল ও বিশ্লেষকদের মতে, এক সময়ে র‌্যাব ও কোস্ট গার্ডের কঠোর অভিযানের ফলে সুন্দরবন দস্যুমুক্ত হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে টহল ও তৎপরতা কিছুটা শিথিল হলে সুযোগ নিয়ে নতুন দস্যু বাহিনী গড়ে উঠছে। তারা মনে করেন সুন্দরবনকে স্থায়ীভাবে নিরাপদ রাখতে আবারও সময়োপযোগী ও পরিপক্ক ‘স্পেশাল ড্রাইভ’ বা ব্যাপক অভিযানের দরকার রয়েছে।

    সিকিউরিটি বিশ্লেষকরা জানান, এই ধরনের অপহরণ কেবল একটি অপরাধই নয়, এটি উপকূলীয় অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের আত্মবিশ্বাসের ওপর প্রভাব ফেলে। দ্রুত এই ১০ জেলেকে উদ্ধার করে দস্যু দমন কার্যক্রম না শক্ত করলে উপকূলীয় জনজীবন ও মৎস্য আহরণ খাতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়বে এবং জনগণের মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি হবে।

    অপহৃতদের পরিবার ও স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর তদন্ত ও তৎপর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের তৎপরতা কামনা করছেন। প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযান ও বৈঠক জোরদারে ব্যস্ত রয়েছেন, এবং তারা আশ্বাস দিয়েছেন—সব দিক বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • সুন্দরবনে ঝড় ও নৌকাডুবি: উদ্ধার ৭ মৌয়াল, এখনও নিখোঁজ ২

    সুন্দরবনে ঝড় ও নৌকাডুবি: উদ্ধার ৭ মৌয়াল, এখনও নিখোঁজ ২

    সুন্দরবনে পৃথক দু‑ঘটনায় মোট সাতজন মৌয়ালকে উদ্ধার করেছে বন বিভাগ; এখনও দুইজন নিখোঁজ রয়েছেন। এক ঘটনার সময় ঝড়ে পথ হারিয়ে ভারতের অংশে ভেসে গিয়ে পাঁচ মৌয়ালের মধ্যে চারজনকে উদ্ধার করা হয়েছে, আর অন্য ঘটনায় নৌকাডুবির চারজনের মধ্যে তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করেছে কর্তৃপক্ষ।

    পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারি রেঞ্জ কনজারভেটর (এসি এফ) মোঃ মশিউর রহমান জানান, মধু সংগ্রহে গেলেও গত ৮ এপ্রিল কালবৈশাখী ঝড়ে তারা পথ হারিয়ে ভারতের অংশে পৌঁছে যান। উদ্ধারকৃত চারজন হলেন— শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম বিড়ালাক্ষীর ফেরদৌস মোল্লার ছেলে রাশিদুল ইসলাম (৩৬), একই গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে তৈবুর রহমান (২৩), বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের শুকুর আলী সরদার (৩৭) এবং কাশিমাড়ী ইউনিয়নের গোদাড়া গ্রামের আব্দুল লতিফ মোল্লা (৬৪)।

    উদ্ধারকৃতরা জানায়, তারা বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন থেকে পাস নিয়ে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহে যাওয়ার সময় দাড়গাং এলাকায় কাচিকাটা যাওয়ার পথে আচমকা কালবৈশাখীর কবলে পড়ে তাদের ট্রলারটি দিক হারিয়ে রায়মঙ্গল নদীর পশ্চিম তীরে গিয়ে ভেসে যায়, যা ভারতের অংশ। পরদিন সকালে নদী শান্ত হলে বাংলাদেশে ফিরতে চেষ্টায় নেমে তাদের নৌযানটি ভারতের বন বিভাগের হাতে আটক হয় এবং বাকি চারজন বনাঞ্চলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। দুই দিন পায়ে হেঁটেই তারা আবার একত্রিত হওয়ার পরও ভারতীয় বন বিভাগের টহলের কারণে দেশে ফিরতে ব্যর্থ হন। পরে রাতের আঁধারে একটি অস্থায়ী ভেলা বানিয়ে তারা গাড়াল নদী পাড়ি দিয়ে ছায়া নদীর তীরে পৌঁছাতে সক্ষম হন। প্রায় তিন দিন না খেয়ে দুরবস্থায় পড়ে তাদের হলদেবুনিয়া টহল ফাইবার বোট উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাদ্য দেয় এবং অফিসে নিয়ে এসে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    উদ্ধারকৃতরা বলেছেন, তাদের সঙ্গে থাকা শওকাত আলী গাজী ভারতের বন বিভাগের কাছে আটক আছে বলে দাবি করেন। শওকাত আলী গাজী শ্যামনগরের আটুলিয়া ইউনিয়নের ছোটকুপট গ্রামের অবের আলী গাজীর ছেলে।

    বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা ফজলুল হক জানান, পাঁচজন ১ এপ্রিল পাস নিয়ে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহে গিয়েছিল। বিষয়টি জানতে পেরে বন বিভাগ তৎপর হয়ে মঙ্গলবার ভোরে চারজনকে উদ্ধার করে। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা দেয়া হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে আত্মীয়-স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, ৮ এপ্রিল কাচিকাটা এলাকায় ঘটে যাওয়া নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ চার জনের মধ্যে তিন জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে বনবিভাগ জানিয়েছে। এই তিনজন হলেন— শ্যামনগর উপজেলার গোদাড়া এলাকার ওহিদ মোল্লার ছেলে ওলিউর রহমান, আব্দুর রহমান গাজীর ছেলে মিকাইল হোসেন এবং আইউব আলীর ছেলে ইকরামুল কবির। তবে একই গ্রামের আকবর হোসেন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

    বন বিভাগের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, উদ্ধারকৃতদের সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাদ্য সরবরাহ করা হয়েছে এবং তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চলেছে।