Category: রাজনীতি

  • খুলনা জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক ফিরোজকে অব্যাহতি; আবু জাফর ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক

    খুলনা জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক ফিরোজকে অব্যাহতি; আবু জাফর ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে খুলনা জেলা আহবায়ক ফিরোজ আহমেদকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু জাফরকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নিযুক্ত করা হয়েছে। কমিশন ঘোষণার মাত্র ১৫ ঘণ্টার মধ্যে এই পরিবর্তন করা হলো।

    আজ বুধবার (১৩ মে) কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সিদ্ধান্তটি অনুমোদন করেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ওই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সংগঠনের গতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থে সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    গতকাল রাতেই খুলনা মহানগর ও জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় সংসদের পৃথক দুইটি অনুমোদিত পত্রে দুটোরই অনুমোদন দেখানো হয়। ঘোষণা অনুযায়ী খুলনা মহানগর আহবায়ক কমিটিতে তাজিম বিশ্বাসকে আহবায়ক, আরিফুর রহমান আরিফকে সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এবং হাবিবুর রহমান খান বিপ্লবকে সদস্য সচিব করে মোট ৪৩ সদস্যের কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

    এর পাশাপাশি খুলনা জেলা আহবায়ক কমিটিতে ফিরোজ আহমেদকে আহবায়ক, আবু জাফরকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং খান ইসমাইল হোসেনকে সদস্য সচিব করে ৩০ সদস্যের কমিটি অনুমোদিত হয়েছিল। কিন্তু কমিটি ঘোষণার মাত্র কিছু ঘণ্টার মধ্যে ফিরোজ আহমেদকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে আবু জাফরকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক করা হয়েছে।

    কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে এই সিদ্ধান্ত সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই নেওয়া হয়েছে।

  • এনসিপি প্রাথমিকভাবে ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভার প্রার্থী ঘোষণা করল

    এনসিপি প্রাথমিকভাবে ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভার প্রার্থী ঘোষণা করল

    আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে প্রাথমিক ধাপে ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভার জন্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আজ রোববার (১০ মে) বিকেলে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এসব প্রার্থীর নাম প্রকাশ করেন।

    সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে আজ ১০০ জন এনসিপি-সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভা মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করছি।’ তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়ে। তাছাড়া, আগামী ঈদের আগেই—আশা করা যাচ্ছে এ মাসের ২০ তারিখে—দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০০ জনের নাম ঘোষণা করা হবে। নাম ঘোষণার এই প্রক্রিয়া চলতে থাকবে বলেও তিনি জানান।

    মুখ্য সংগঠক আরও বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য এনসিপিতে যোগ দিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যারা দায়িত্ব পালন করছেন বা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, এবং এমন ব্যক্তিরাও আবেদন করতে পারবেন যারা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হলেও গ্রহণযোগ্য, পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত নয়, মানুষের ওপর জুলুমের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় এবং ফ্যাসিস্ট বা অপরাধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নয়। আমরা যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেব এবং অন্য কোনো দল থেকে যারা যোগ দিতে চান তাদেরকেও সুযোগ দেয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।’

    চেয়ারম্যান ও মেয়র পদে এনসিপির ঘোষিত ১০০ প্রার্থীর মধ্যে ৫০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৫০ জন পৌরসভার মেয়র প্রার্থী। নিচে বিভাগভিত্তিক প্রার্থীদের নাম তুলে ধরা হলো:

    খুলনা বিভাগ

    কুষ্টিয়ার কুমারখালী — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম বাদশা

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: জান্নাতুল ফেরদৌস টনি

    বাগেরহাট, চিতলমাড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইশতিয়াক হোসেন

    বাগেরহাট, ফকিরমারা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: লাবিব আহমেদ

    মোংলা পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: মো. রহমত উল্লাহ

    বাগেরহাট পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার

    যশোর, বাঘারপাড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইয়াহিয়া জিসান

    নোয়াপাড়া পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: শাহজাহান কবির

    খুলনা, চালনা — মেয়র প্রার্থী: এস এম এ রশিদ

    চুয়াডাঙ্গা সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খায়রুল বাশার বিপ্লব

    জীবননগর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: সোহেল পারভেজ

    মেহেরপুর, গাংনী পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: শাকিল আহমেদ

    ঝিনাইদহ পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: তারেকুল ইসলাম

    রংপুর বিভাগ

    পঞ্চগড়, তেঁতুলিয়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. হাবিবুর রহমান হাবিব

    পঞ্চগড়, বোদা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শিশির আসাদ

    পঞ্চগড়, দেবীগঞ্জ — পৌর মেয়র প্রার্থী: মাসুদ পারভেজ

    ঠাকুরগাঁও, রাণীশংকৈল — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: গোলাম মর্তুজা সেলিম

    দিনাজপুর, ফুলবাড়ি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইমরান চৌধুরী নিশাত

    বোয়াগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মাওলানা এম এ তাফসির হাসান

    ফুলবাড়ি পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: শিহাব হোসেন

    ঘোড়াঘাট — পৌর মেয়র প্রার্থী: মো. আব্দুল মান্নান

    হাকিমপুর — পৌর মেয়র প্রার্থী: রায়হান কবির

    নীলফামারী, জলঢাকা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু সাইদ লিয়ন

    নীলফামারী সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ড. কামরুল ইসলাম

    কুড়িগ্রাম সদর — পৌর মেয়র প্রার্থী: মো. মাসুম মিয়া

    লালমনিরহাট, কালিগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শাহ সুলতান নাসির উদ্দিন আহমেদ

    রংপুর সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মণ

    গাইবান্ধা, সাদুল্লাপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খাদিমুল ইসলাম

    রাজশাহী বিভাগ

    রাজশাহী, গোদাগাড়ি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. আতিকুল রহমান

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গোমস্তাপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু মাসুদ

    নওগাঁ, নেয়ামতপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: বিশাল আহমেদ

    নওগাঁ, বাদলগাছী — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আসাদ মোর্শেদ আজম

    ধানমন্ডি ধামুরহাট — পৌর মেয়র প্রার্থী: মাহফুজার রহমান চৌধুরী রুবেল

    বগুড়া, শিবগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. জাহাঙ্গীর আলম

    দুপচাঁচিয়া — পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী: আবু বক্কর সিদ্দিক

    বগুড়া সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: এ এম জেড শাহরিয়ার

    নাটোর সদর — পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী: আব্দুল মান্নান

    পাবনা, চাটমোহর — পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী: খন্দকার আক্তার হোসেন

    সিরাজগঞ্জ, উল্লাপাড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ আদনান

    উল্লাপাড়া পৌরসভায় — মেয়র প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার আল-মামুন লিয়ন

    সিলেট বিভাগ

    হবিগঞ্জ, আজমিরিগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. কামাল আহমেদ

    হবিগঞ্জ সদর — পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী: মাহবুবুল বারী চৌধুরী

    মৌলভীবাজার, রাজনগর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খালেদ হাসান

    মৌলভীবাজার, কুলাউড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু রুকিয়ান

    সিলেট, কোম্পানিগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ওবায়েদ আহমেদ

    সিলেট, কানাইঘাট — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: বোরহান উদ্দিন ইউনূস

    ওসমানীনগর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: হাজি মো. মোশাহিদ আলী

    জৈন্তাপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: জাকারিয়া

    গোয়াইনঘাট — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মনসুরুল হাসান

    ময়মনসিংহ বিভাগ

    শেরপুর সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া

    শেরপুর সদর পৌর — মেয়র প্রার্থী: নূর ইসলাম

    জামালপুর সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: অ্যাডভোকেট আবু সাইদ মো. শামিম

    নেত্রকোণা, খালিয়াজুড়ি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. মুশফিকুর রহমান মিন্টু

    বারহাট্টা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শফিকুল হক চৌধুরী বাবলু

    নেত্রকোণা সদর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: সোহাগ মিয়া প্রিতম

    ময়মনসিংহ, তারাকান্দা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম

    ভালুকা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: নূরুল ইসলাম

    হালুয়াঘাট — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু হেলাল

    ধোবাউড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. সাইফুল্লাহ

    ঢাকা বিভাগ (উত্তর)

    কিশোরগঞ্জ সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আহনাফ সাইদ খান

    তাড়াইল — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইকরাম হোসেন

    করিমগঞ্জ পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: খায়রুল কবির

    সাভার — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শাহাবদুল্লাহ রনি

    মানিকগঞ্জ সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আরিফুল ইসলাম

    দৌলতপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু عبدالله

    টাঙ্গাইল, কালিহাতি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মেহদী হাসান

    টাঙ্গাইল পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: মাসুদুর রহমান রাসেল

    ভূঞাপুর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: হাসান ইমাম তালুকদার

    শফিপুর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: মাওলানা আনসার আলী

    নরসিংদী সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: সাইফ ইবনে সারওয়ার

    গাজীপুর, কালিগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শোয়েব মিয়া

    ঢাকা বিভাগ (দক্ষিণ)

    নারায়ণগঞ্জ, সেনারগাঁও — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: তুহিন মাহবুব

    মুন্সিগঞ্জ, সিরাজদিখান — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আলী নেওয়াজ

    ফরিদপুর বিভাগ

    নগরকান্দা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: রেজাউল করিম সবুজ

    নগরকান্দা পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: নাজমুল হুদা

    ফরিদপুর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: সাইদ খান

    মাদারীপুর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: মো. হাসিবুল্লাহ

    গোপালগঞ্জ পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: ফেরদৌম আমেনা

    এনসিপি কর্তারা জানিয়েছেন, প্রার্থী মনোনয়ন ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া ধারাবাহিকভাবে চলবে। আগামী ঘোষিত সময়সূচী অনুযায়ী দ্বিতীয় ধাপের নামও তৎপরতার সঙ্গে ঘোষণা করবে দল।

  • সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে খুলনা জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক ফিরোজকে অব্যাহতি; আবু জাফর ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক

    সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে খুলনা জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক ফিরোজকে অব্যাহতি; আবু জাফর ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক

    খুলনা জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা হওয়ার মাত্র ১৫ ঘণ্টার মধ্যে জেলা আহবায়ক ফিরোজ আহমেদকে সংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু জাফরকে জেলা দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বুধবার (১৩ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে ফিরোজ আহমেদকে পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে এবং আবু জাফরকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক করা হয়েছে। সিদ্ধান্তটি সাংগঠনিক গতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা রক্ষার লক্ষ্যে অবিলম্বে কার্যকর হবে।

    গতকাল মঙ্গলবার রাতে খুলনা মহানগর ও জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। দুইটি আলাদা পত্রে ওই কমিটি অনুমোদনে রাকিব ও নাছিরের স্বাক্ষর ছিল। বড় কমিটি হিসেবে খুলনা মহানগর আহ্বায়ক কমিটিতে তাজিম বিশ্বাসকে আহ্বায়ক, আরিফুর রহমান আরিফকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও হাবিবুর রহমান খান বিপ্লবকে সদস্য সচিব করে মোট ৪৩ সদস্যের কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে।

    এছাড়া খুলনা জেলা আহ্বায়ক কমিটিতে ফিরোজ আহমেদকে আহ্বায়ক, আবু জাফরকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও খান ইসমাইল হোসেনকে সদস্য সচিব করে ৩০ সদস্যের ওই কমিটি অনুমোদন করা হয়েছিল—যার পরিপ্রেক্ষিতে ফিরোজকে দ্রুত অব্যাহতি দেওয়া হল এবং আবু জাফরকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক করা হলো।

    ছাত্রদল সূত্রে জানা যায়, দ্রুত এই পরিবর্তন করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সংগঠনের কার্যক্রমে ব্যাঘাত এড়াতে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে চাইছে।

  • এনসিপি ঘোষণা করলো ১০০ জন উপজেলা ও পৌরসভা প্রার্থী

    এনসিপি ঘোষণা করলো ১০০ জন উপজেলা ও পৌরসভা প্রার্থী

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রাথমিকভাবে ১০০ জন প্রার্থী ঘোষণা করেছে। রোববার (১০ মে) বিকেলে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এই প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।

    সারজিস আলম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। সেই প্রার্থীদের মধ্য থেকে প্রাথমিকভাবে ১০০ জনের নাম ঘোষণা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ঈদের আগেই—এ মাসের ২০ তারিখে—দল দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০০ জনের নাম ঘোষণা করার পরিকল্পনা করছে এবং নাম ঘোষণা ও যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।

    প্রধান সংগঠক বলেন, এনসিপি যে কাউকে সুযোগ দিতে প্রস্তুত, এমনকি অন্যান্য রাজনৈতিক দলের যারা গ্রহণযোগ্য, জনগণের প্রতি অনুকম্পাশীল এবং কোনো ধরনের অত্যাচার, ফ্যাসিস্টী কার্যক্রম বা অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না—তারা চাইলে এনসিপিতে যোগ দিয়ে প্রার্থীতা দাবি করতে পারবেন। দল প্রয়োজনীয়ভাবে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেবে এবং অন্য কোনো দলের প্রার্থীও থাকলে তাদেরও সুযোগ দেয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

    চেয়ারম্যান ও মেয়র পদে ঘোষিত ১০০ প্রার্থীর মধ্যে ৫০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৫০ জন পৌরসভা মেয়র প্রার্থী রয়েছেন। নিচে বিভাগ অনুযায়ী ঘোষিত প্রার্থীদের নাম দেওয়া হলো—

    খুলনা বিভাগ:

    কুষ্টিয়ার কুমারখালী — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম বাদশা; ভেড়ামারা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: জান্নাতুল ফেরদৌস টনি; বাগেরহাট, চিতলমারি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইশতিয়াক হোসেন; ফকিরমারি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: লাবিব আহমেদ; মোংলা পৌরসভা — মেয়রপ্রার্থী: মো. রহমত উল্লাহ; বাগেরহাট পৌরসভা — মেয়রপ্রার্থী: সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার; যশোরের বাঘারপাড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইয়াহিয়া জিসান; নোয়াপাড়া পৌরসভা — মেয়রপ্রার্থী: শাহজাহান কবির; খুলনার চালনা — মেয়রপ্রার্থী: এস এম এ রশিদ; চুয়াডাঙ্গা সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খায়রুল বাশার বিপ্লব; জীবননগর পৌরসভা — মেয়রপ্রার্থী: সোহেল পারভেজ; মেহেরপুর, গাংনী পৌরসভা — মেয়রপ্রার্থী: শাকিল আহমেদ; ঝিনাইদহ পৌরসভা — মেয়রপ্রার্থী: তারেকুল ইসলাম।

    রংপুর বিভাগ:

    পঞ্চগড়, তেঁতুলিয়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. হাবিবুর রহমান হাবিব; বোদা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শিশির আসাদ; দেবীগঞ্জ — পৌর মেয়রপ্রার্থী: মাসুদ পারভেজ; ঠাকুরগাঁও, রাণীশংকৈল — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: গোলাম মর্তুজা সেলিম; দিনাজপুর, ফুলবাড়ি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইমরান চৌধুরী নিশাত; বোচাগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মাওলানা এম এ তাফসির হাসান; ফুলবাড়ি পৌরসভা — মেয়রপ্রার্থী: শিহাব হোসেন; ঘোড়াঘাট — পৌর মেয়রপ্রার্থী: মো. আব্দুল মান্নান; হাকিমপুর — পৌর মেয়রপ্রার্থী: রায়হান কবির; নীলফামারী, জলঢাকা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু সাইদ লিয়ন; নীলফামারী সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ড. কামরুল ইসলাম; কুড়িগ্রাম সদর — পৌর মেয়রপ্রার্থী: মো. মাসুম মিয়া; লালমনিরহাট, কালিগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শাহ সুলতান নাসির উদ্দিন আহমেদ; রংপুর সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মণ; গাইবান্ধা, সাদুল্লাপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খাদিমুল ইসলাম।

    রাজশাহী বিভাগ:

    রাজশাহীর গোদাগাড়ি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. আতিকুল রহমান; চাঁপাইনবাগঞ্জ, গোমস্তাপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু মাসুদ; নওগাঁ, নেয়ামতপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: বিশাল আহমেদ; বদলগাছী — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আসাদ মোর্শেদ আজম; ধামুরহাট — পৌর মেয়রপ্রার্থী: মাহফুজার রহমান চৌধুরী (রুবেল); বগুড়ার শিবগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. জাহাঙ্গীর আলম; দুপচাঁচিয়া — পৌর মেয়রপ্রার্থী: আবু বক্কর সিদ্দিক; বগুড়া সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: এ এম জেড শাহরিয়ার; নাটোর সদর পৌরসভা — মেয়রপ্রার্থী: আব্দুল মান্নান; পাবনার চাটমোহর পৌরসভা — মেয়রপ্রার্থী: খন্দকার আক্তার হোসেন; সিরাজগঞ্জ, উল্লাপাড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ আদনান; উল্লাপাড়া পৌরসভা — মেয়রপ্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার আল-মামুন লিয়ন।

    সিলেট বিভাগ:

    হবিগঞ্জ, আজমিরিগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. কামাল আহমেদ; হবিগঞ্জ সদর — পৌর মেয়রপ্রার্থী: মাহবুবুল বারী চৌধুরী; মৌলভীবাজার, রাজনগর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খালেদ হাসান; কুলাউড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু রুকিয়ান; সিলেট, কোম্পানিগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ওবায়েদ আহমেদ; কানাইঘাট — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: বোরহান উদ্দিন ইউনূস; ওসমানীনগর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: হাজি মো. মোশাহিদ আলী; জৈন্তাপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: জাকারিয়া; গোয়াইনঘাট — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মনসুরুল হাসান।

    ময়মনসিংহ বিভাগ:

    শেরপুর সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া; সদর পৌর মেয়রপ্রার্থী: নূর ইসলাম; জামালপুর সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: অ্যাডভোকেট আবু সাঈদ মো. শামিম; নেত্রকোনা, খালিয়াজুড়ি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. মুশফিকুর রহমান মিন্টু; বারহাট্টা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শফিকুল হক চৌধুরী বাবলু; নেত্রকোনা সদর পৌরসভা — মেয়রপ্রার্থী: সোহাগ মিয়া প্রিতম; ময়মনসিংহ, তারাকান্দা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম; ভালুকা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: নূরুল ইসলাম; হালুয়াঘাট — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু হেলাল; ধোবাউড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. সাইফুল্লাহ।

    ঢাকা বিভাগ (উত্তর):

    কিশোরগঞ্জ সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আহনাফ সাইদ খান; তাড়াইল — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইকরাম হোসেন; করিমগঞ্জ পৌরসভা — মেয়রপ্রার্থী: খায়রুল কবির; ঢাকা, সাভার — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শাহাবদুল্লাহ রনি; মানিকগঞ্জ সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আরিফুল ইসলাম; দৌলতপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু আব্দুল্লাহ; টাঙ্গাইল, কালিহাতি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মেহদী হাসান; টাঙ্গাইল পৌরসভা — মেয়রপ্রার্থী: মাসুদুর রহমান রাসেল; ভূঞাপুর পৌরসভা — মেয়রপ্রার্থী: হাসান ইমাম তালুকদার; শফিপুর পৌরসভা — মেয়রপ্রার্থী: মাওলানা আনসার আলী; নরসিংদী সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: সাইফ ইবনে সারওয়ার; গাজীপুর, কালীগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শোয়েব মিয়া।

    ঢাকা বিভাগ (দক্ষিণ):

    নারায়ণগঞ্জ, সেনারগাঁও — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: তুহিন মাহবুব; মুন্সিগঞ্জ, সিরাজদিখান — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আলী নির্ঝর নেওয়াজ।

    ফরিদপুর বিভাগ:

    ফরিদপুর, নগরকান্দা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: রেজাউল করিম সবুজ; নগরকান্দা পৌরসভা — মেয়রপ্রার্থী: নাজমুল হুদা; ফরিদপুর পৌরসভা — মেয়রপ্রার্থী: সাইদ খান; মাদারীপুর পৌরসভা — মেয়রপ্রার্থী: মো. হাসিবুল্লাহ; গোপালগঞ্জ পৌরসভা — মেয়রপ্রার্থী: ফেরদৌম আমেনা।

    দল জানায়, প্রাথমিক তালিকা ঘোষণার পর যাচাই-বাছাই ও স্থানীয় মতামতহীনতার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত তালিকা উন্নীত করা হবে। পরবর্তী ধাপের ঘোষণা ও আরও প্রার্থীদের নাম জানালে দেশব্যাপী তাদের কার্যক্রমটি তৎপরতার সঙ্গে চলবে।

  • খুলনা জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফিরোজকে অব্যাহতি; আবু জাফরকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক

    খুলনা জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফিরোজকে অব্যাহতি; আবু জাফরকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক

    খুলনা জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফিরোজ আহমেদকে घोषणा প্রকাশের পর মাত্র পনেরো ঘণ্টার মধ্যে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু জাফরকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

    কথিত সিদ্ধান্ত বুধবার (১৩ মে) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অনুমোদন করেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে খুলনা জেলা শাখার আহ্বায়ক ফিরোজ আহমেদকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। সংগঠনের গতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।

    গতকাল রাতেই (মঙ্গলবার) খুলনা মহানগর ও জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত পৃথক পত্রে এই দুইটি কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সেই ঘোষণায় খুলনা মহানগর আহ্বায়ক কমিটিতে তাজিম বিশ্বাসকে আহ্বায়ক, আরিফুর রহমান আরিফকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও হাবিবুর রহমান খান বিপ্লবকে সদস্য সচিব করে মোট ৪৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

    আর খুলনা জেলা আহ্বায়ক কমিটিতে ফিরোজ আহমেকে আহ্বায়ক, আবু জাফরকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও খান ইসমাইল হোসাইনকে সদস্য সচিব করে ৩০ সদস্যের কমিটি অনুমোদিত হয়েছিল। তবে অনুমোদনের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফিরোজকে অব্যাহতি দিয়ে আবু জাফরকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ঘোষণা করা হলো।

    কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই সিদ্ধান্ত কার্যকরের মাধ্যমে জেলা ইউনিটে শৃঙ্খলা ও কার্যক্রম অব্যাহত রাখাই তাদের উদ্দেশ্য বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • এনসিপি ঘোষণা: প্রাথমিকভাবে ১০০ প্রার্থী — ৫০ উপজেলা চেয়ারম্যান, ৫০ পৌর মেয়র

    এনসিপি ঘোষণা: প্রাথমিকভাবে ১০০ প্রার্থী — ৫০ উপজেলা চেয়ারম্যান, ৫০ পৌর মেয়র

    আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রাথমিকভাবে ১০০টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। আজ রোববার (১০ মে) বিকেলে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি’র মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এই প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।

    সারজিস আলম জানান, ঘোষণা করা ১০০ জনের মধ্যে ৫০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এবং ৫০ জন পৌরসভা মেয়র প্রার্থী রয়েছেন। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য দলকে হাজারের বেশি আবেদন পৌঁছেছিল। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করে প্রাথমিকভাবে আজ ১০০ জনের নাম ঘোষণা করা হল।

    তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা আশা করছি ঈদের আগেই, এ মাসের ২০ তারিখে দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০০ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে পারব। নাম ঘোষণা করার এই প্রক্রিয়া ধারাবাহিকভাবে চলবে।’’

    নতুন প্রার্থীদের বিষয়ে সারজিস আলম উল্লেখ করেন, এনসিপি যে ধরনের নেতাকর্মী এবং জনকে পুরস্কৃত করতে চায় তাদের সুযোগ দেওয়া হবে—এতে যারা বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন, নেতৃত্ব দিচ্ছেন কিংবা অন্য কোনো দলের সদস্য হলেও যাঁরা গ্রহণযোগ্য, দুর্নীতিতে জড়িত নয়, মানুষের ওপর নির্যাতন বা অন্য কোনো যোগসাজশে জড়িত ছিলেন না—তাদেরও এনসিপির প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেয়া হবে। তিনি বলেন দল সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেবে এবং অন্য কোনো রাজনৈতিক দল থেকে কেউ যোগ দিতে চাইলে তাদেরকেও সুযোগ দেয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

    নিচে বিভাগভিত্তিকভাবে এনসিপির ঘোষিত প্রার্থীদের নাম দেওয়া হলো—

    খুলনা বিভাগ

    কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম বাদশা; ভেড়ামারা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: জান্নাতুল ফেরদৌস টনি; বাগেরহাট চিতলমারি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইশতিয়াক হোসেন; ফকিরমারী উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: লাবিব আহমেদ; মোংলা পৌরসভার মেয়র প্রার্থী: মো. রহমত উল্লাহ; বাগেরহাট পৌরসভার মেয়র প্রার্থী: সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার; যশোর বাঘারপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইয়াহিয়া জিসান; নওয়াপাড়া পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী: শাহজাহান কবির; খুলনার চালনায় মেয়র প্রার্থী: এস এম এ রশিদ; চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খায়রুল বাশার বিপ্লব; জীবননগর পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী: সোহেল পারভেজ; মেহেরপুর গাংনী পৌরসভার মেয়র প্রার্থী: শাকিল আহমেদ; ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র প্রার্থী: তারেকুল ইসলাম।

    রংপুর বিভাগ

    পঞ্চগড় তেঁতুলিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. হাবিবুর রহমান হাবিব; বোদা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শিশির আসাদ; দেবীগঞ্জ দায়িত্বে পৌর মেয়র প্রার্থী: মাসুদ পারভেজ; ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: গোলাম মর্তুজা সেলিম; দিনাজপুর ফুলবাড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইমরান চৌধুরী নিশাত; বোচাগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মাওলানা এম এ তাফসির হাসান; ফুলবাড়ি পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী: শিহাব হোসেন; ঘোড়াঘাট পৌর মেয়র প্রার্থী: মো. আব্দুল মান্নান; হাকিমপুর পৌর মেয়র প্রার্থী: রায়হান কবির; নীলফামারী জলঢাকা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু সাইদ লিয়ন; নীলফামারী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ড. কামরুল ইসলাম; কুড়িগ্রাম সদর পৌর মেয়র প্রার্থী: মো. মাসুম মিয়া; লালমনিরহাট কালিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শাহ সুলতান নাসির উদ্দিন আহমেদ; রংপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মণ; গাইবান্ধা সাদুল্লাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খাদিমুল ইসলাম।

    রাজশাহী বিভাগ

    রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. আতিকুল রহমান; চাঁপাইনবাগঞ্জ গোমস্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু মাসুদ; নওগাঁ নেয়ামতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: বিশাল আহমেদ; বদলগাছী উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আসাদ মোরশেদের আজম; ধামুরহাট পৌর মেয়র প্রার্থী: মাহফুজার রহমান চৌধুরী রুবেল; বগুড়া শিবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. জাহাঙ্গীর আলম; দুপচাঁচিয়া পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী: আবু বক্কর সিদ্দিক; বগুড়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: এ এম জেড শাহরিয়ার; নাটোর সদর পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী: আব্দুল মান্নান; পাবনা চাটমোহর পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী: খন্দকার আক্তার হোসেন; সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ আদনান; উল্লাপাড়া পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার আল-মামুন লিয়ন।

    সিলেট বিভাগ

    হবিগঞ্জ আজমিরিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. কামাল আহমেদ; হবিগঞ্জ সদর পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী: মাহবুবুল বারী চৌধুরী; মৌলভীবাজার রাজনগর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খালেদ হাসান; কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু রুকিয়ান; সিলেট কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ওবায়েদ আহমেদ; কানাইঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: বোরহান উদ্দিন ইউনূস; ওসমানীনগর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: হাজি মো. মোশাহিদ আলী; জৈন্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: জাকারিয়া; গোয়াইনঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মনসুরুল হাসান।

    ময়মনসিংহ বিভাগ

    শেরপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া; সদর পৌর মেয়র প্রার্থী: নূর ইসলাম; জামালপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: অ্যাডভোকেট আবু সাইদ মো. শামিম; নেত্রকোণা খালিয়াজুড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. মুশফিকুর রহমান মিন্টু; বারহাট্তা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শফিকুল হক চৌধুরী বাবলু; নেত্রকোণা সদর পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী: সোহাগ মিয়া প্রিতম; ময়মনসিংহ তারাকান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম; ভালুকা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: নূরুল ইসলাম; হালুয়াঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু হেলাল; ধোবাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. সাইফুল্লাহ।

    ঢাকা বিভাগ (উত্তর)

    কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আহনাফ সাইদ খান; তাড়াইল উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইকরাম হোসেন; করিমগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী: খায়রুল কবির; সাভার উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শাহাবদুল্লাহ রনি; মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আরিফুল ইসলাম; দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু আবদুল্লাহ; টাঙ্গাইল কালিহাতি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মেহদী হাসান; টাঙ্গাইল পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী: মাসুদুর রহমান রাসেল; ভূঞাপুর পৌর মেয়র প্রার্থী: হাসান ইমাম তালুকদার; শফিপুর পৌর মেয়র প্রার্থী: মাওলানা আনসার আলী; নরসিংদী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: সাইফ ইবনে সারওয়ার; গাজীপুর কালিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শোয়েব মিয়া।

    ঢাকা বিভাগ (দক্ষিণ)

    নারায়ণগঞ্জ সেনারগাঁও উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: তুহিন মাহবুব; মুন্সিগঞ্জ সিরাজদিখান উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আলী নেওয়াজ।

    ফরিদপুর বিভাগ

    ফরিদপুর নগরকান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: রেজাউল করিম সবুজ; নগরকান্দা পৌরসভার মেয়র প্রার্থী: নাজমুল হুদা; ফরিদপুর পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী: সাইদ খান; মাদারীপুর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী: মো. হাসিবুল্লাহ; গোপালগঞ্জ পৌরসভার মেয়র প্রার্থী: ফেরদৌম আমেনা।

    এনসিপি জানায়, প্রার্থীর তালিকা বয়স, যোগ্যতা ও স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় করে করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও আবেদন ও যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে আরও প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। দলটি নির্বাচনী প্রচারণায় স্থানীয় নেতাদের অংশগ্রহণ ও ক্ষমতাবণ্টন শক্ত করে তোলার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

  • এনসিপি ঘোষণা করেছে ১০০ প্রার্থী উপজেলা ও পৌরসভায়

    এনসিপি ঘোষণা করেছে ১০০ প্রার্থী উপজেলা ও পৌরসভায়

    আসন্ন স্থানীয় গণতন্ত্রের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আজ এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেয়। প্রাথমিকভাবে, দলের পক্ষ থেকে ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার (১০ মে) বিকেলে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে, এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এই প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করেন। তিনি জানান, “আমরা বর্তমানে ১০০ জন এনসিপি সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র প্রার্থী হিসেবে তালিকা ঘোষণা করছি।” আলম আরও বলেন, “হাজারের বেশি আবেদনপত্র জমা পড়েছিল। তার মধ্যে থেকে আমরা প্রাথমিকভাবে এই ১০০ জনের নাম প্রকাশ করছি। আশা করছি, ঈদের আগে এ মাসের ২০ তারিখে দ্বিতীয় ধাপে আবারো ১০০ প্রার্থী ঘোষণা করব। এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।” সতমূলত, তিনি উল্লেখ করেন যে, বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বে থাকা, নেতৃত্বদানকারী ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে যারা কখনো অন্যায় ও জুলুমের সঙ্গে যুক্ত হয়নি, তাদের জন্য এই সুযোগ উন্মুক্ত। এমনই ব্যক্তিরা যেকোনো রাজনৈতিক দলের হলেও আবেদন করতে পারবেন। তিনি বলেন, “আমরা সার্বিক যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেব, এবং অন্য দলের কেউ যদি আবেদন করতে চান, তবে তাদের জন্যও ধর্মীয় ও নৈতিক মানদণ্ড অনুসারে সুযোগ থাকবে।” ভোটের জন্য মনোনীত ৫০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৫০ জন পৌরসভার মেয়র—সহ মোট ১০০ প্রার্থী—সম্পর্কে বিস্তারিত নির্বাচন বিভাগীয়ভাবে ভাগ করে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা, রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া, সিলেট, ময়মনসিংহ ও ঢাকার বিভিন্ন জেলা ও স্থান শামিল। প্রতিটি বিভাগে বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভার জন্য প্রার্থী হিসেবে অংশ নেবেন বিভিন্ন পেশাজীবী, আইনজীবী, ব্যবসায়ী এবং সমাজের সাংগঠনিক ব্যক্তিত্ব। এই প্রার্থী তালিকা শুধুমাত্র এক সূচনাপর্ব, ভবিষ্যতে আরও প্রার্থী ঘোষণা ও নির্বাচন প্রক্রিয়া চলবে বলে জানানো হয়েছে।

  • গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ: সরকার উন্নয়নের নামে বৈষম্য করছে

    গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ: সরকার উন্নয়নের নামে বৈষম্য করছে

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। তিনি জানান, উত্তরাঞ্চলের অর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য সৈয়দপুর বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হওয়া সবচেয়ে যৌক্তিক দাবি। এটি রংপুর ও দিনাজপুরসহ এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের স্বীকৃত দাবি, আর যদি এই প্রকল্প অন্যত্র স্থানান্তর বা বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেটি হবে অন্যায়ের পরিচায়ক।

    শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে যাত্রার পথে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এডভোকেট আতিকুর রহমান ও সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী।

    গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, বিএনপি’র নির্বাচিত এমপিদের এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম হচ্ছে—নতুন উপজেলা, বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হচ্ছে। কিন্তু জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনায় এইসব উন্নয়ন বিভিন্ন এলাকায় হওয়া উচিত ছিল। তিনি চরম দুর্ভাগ্যবশত উল্লেখ করেন, “যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ”—বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেইভাবেই ব্যর্থতা ও প্রতারণা করছে। তারা ৭০ শতাংশের ভোটের রায় উপেক্ষা করে প্রতারণার রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে, আসলে জনগণের সঙ্গে মহাপ্রতারণা চলছে। সরকার যেখানে বলছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে, সেখানে বাস্তবে গণভোটে দেয়া রায় উপেক্ষা করছে। এটা দেশের জন্য মহা দুর্ভাগ্যই নয়, জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসভঙ্গের নাম।

    গণমাধ্যমের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় যারা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য কথা বলেছিলেন, এখন সেই সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উপর হামলা, নিয়ন্ত্রণ এবং সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুতির অপপ্রয়াস চলছে। বিশেষ করে সরকারের সমালোচক সাংবাদিকদের প্রকাশ্যে হয়রানি ও হয়রানির শিকার করা হচ্ছে, যা খুবই উদ্বেগজনক।

    সফরসঙ্গীদের সঙ্গে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম, জেলা জামায়াতের Secretary মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মনিরুজ্জামান জুয়েল, সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের আমির শফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম, শহর জামায়াতের আমির শরফুদ্দিন খান, সেক্রেটারি মাওলানা ওয়াজেদ আলী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের শহর সভাপতি আব্দুল মোমিনসহ একাধিক নেতাকর্মী। এরপর তাঁরা নেতৃবৃন্দরা সড়কপথে পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

  • জুলাই সনদ ইস্যুতে সরকার টালবাহানা করছে: নাহিদ ইসলাম

    জুলাই সনদ ইস্যুতে সরকার টালবাহানা করছে: নাহিদ ইসলাম

    নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই সনদ ও সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে সরকার আস্পষ্ট ও টালবাহানার পরিচয় দিচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার এই বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইছে, যা জনগণের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা এবং সার্বভৌম ক্ষমতার ভিত্তিতে সাংবিধানিক সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করেন। শনিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘সংস্কারে অচলাবস্থা সমাধানে করণীয় কী’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম আরও দাবি করেন, অবিলম্বে গণভোটের নির্দেশনা অনুযায়ী ‘সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল’ গঠন করতে হবে। তিনি বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির শীর্ষ নেতারা গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালালেও ক্ষমতায় এসে তারা তার বিরোধিতা করছে। এভাবে তারা জনগণের মনোভাবের পরিবর্তে নিজেদের স্বার্থের কথা ভাবছেন। আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সংসদের ভেতর ও বাইরে আলোচনা ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলবে। তবে সরকার যদি ইতিবাচক সাড়া দেয় না, তবে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে।

  • মন্ত্রী ছাড়ার এলাকার উন্নয়ন কি হবে না? গোলাম পরওয়ারের প্রশ্ন

    মন্ত্রী ছাড়ার এলাকার উন্নয়ন কি হবে না? গোলাম পরওয়ারের প্রশ্ন

    প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা ছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলে কি প্রকৃত উন্নয়ন হবে না? এই প্রশ্ন গত শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ভবনে বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লয়িজ লীগের কেন্দ্রীয় দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার তুলে ধরেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘যে এলাকার নেতারা প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা আইনমন্ত্রী হবেন না, সেই এলাকার কি প্রকৃতভাবে উন্নয়ন হবে? উন্নয়নের বৈষম্য দূর করার জন্য জরুরি হলো জাতীয়ভাবে জরিপ চালানো, কোথায় রেল বা সড়ক যোগাযোগের প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা। মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে সরকারের দায়িত্ব পালন করা উচিত।’ তিনি যোগ করেন, ‘জুলাই আন্দোলনের সময়কার স্মৃতি আমাদের মনে রাখতে হবে। হাজারো মানুষের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে, কিন্তু এখন পুনরায় বৈষম্যমূলক সমাজ গড়ে তোলা হচ্ছে। একদিকে রক্তের বিনিময়ে ক্ষমতায় এসেও বিচারবোধে লুকোছেন না, বরং ইনজাস্টিসের পরিবর্তে ইনজাস্টিস চালাচ্ছেন। উন্নয়নের নামে সমতার বদলে আগের মত বৈষম্য চালু রাখা হচ্ছে, যা শহীদদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।’ দেশের রেল যোগাযোগের ক্ষতিগ্রস্ত পরিস্থিতি নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দুর্নীতিকে এর জন্য দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশ যেখানে রেল যোগাযোগে সাফল্য পাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশে এই খাতটা পিছিয়ে পড়ছে। এখনো আমরা এ খাতের আধুনিকায়নে সফল হইনি। ভবিষ্যতের বাজেটে প্লে-স্কেল, রেল শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবি পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ চাই।’ তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ এখন থেকে নিজস্ব সিদ্ধান্তে চলবে এবং বিদেশি শক্তির চাপ বা রিমোট কন্ট্রোলের অধীন হবে না, কারণ দেশকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও সার্বভৌম করতে হলে সব ধরনের বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। শ্রমিক সংগঠন ও ট্রেড ইউনিয়নের ওপর আঘাতের জন্য সরকারকে কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘শ্রমিকের ট্রেড ইউনিয়ন নিয়ে বলা হয় গণতন্ত্রের কথা, কিন্তু বাস্তবে ট্রেড ইউনিয়ন সংকোচিত করে দেয়া হয়েছে। একটা কারখানায় তিনটির বেশি সংগঠন রেজিস্ট্রেশন নিতে পারবে না, যা শ্রমিক ও মালিকের মধ্যকার ন্যায্য আলোচনা ও দাবি দাখিলের পথে বাধা সৃষ্টি করছে। আমি দাবি জানাই, বড় কারখানার জন্য আরও বেশি সংগঠনের অনুমোদন দিতে হবে, যাতে শ্রমিকরা তাদের দাবি সহজে তুলতে পারে, সংগঠনের নেতাদের সংখ্যা বেশি হলে সম্যকভাবে আলোচনা ও দাবি আদায় সম্ভব হবে।’ এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি দেশের উন্নয়ন, শ্রমিক অধিকার ও সরকার পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে জোরালো বার্তা দেন।