Category: রাজনীতি

  • জুলাই সনদ ইস্যুতে সরকার টালবাহানা করছে: নাহিদ ইসলাম

    জুলাই সনদ ইস্যুতে সরকার টালবাহানা করছে: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম সরকারকে Juli সনদ ও সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে টালবাহানা করছে বলে অভিযোগ করেছেন।

    শনিবার (৯ মে) রাজধানীর এক হোটেলে ‘সংস্কারে অচলাবস্থা সমাধানে করণীয় কী’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি বলেন, সরকার এ ইস্যুকে এড়িয়ে যেতে চায় এবং সময় টানছে। তাঁর দাবি, সাংবিধানিক সংস্কার সম্পন্ন হবে ধরাবাঁধা, জনগণের অংশগ্রহণ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে—এটাই গ্রহণযোগ্য।

    নাহিদ ইসলাম অবিলম্বে গণভোটের নির্দেশনা অনুযায়ী ‘সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল’ গঠনের দাবি জানান। তিনি বলেন, এই কাউন্সিল গঠনেই হবে জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের পথ।

    বিএনপির বিরুদ্ধে সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে গণভোটের পক্ষে বললেও ক্ষমতায় আসার পর তারা সেই অবস্থানকে ত্যাগ করেছে। এভাবে বিএনপি মূলত জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে প্রত্যাখ্যান করছে বলে তিনি আক্রমণ করেন।

    নাহিদ আরও বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সংসদের ভেতরে ও বাইরে আলোচনা ও কর্মসূচি চলবে, পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ কর্মসুচিও চালানো হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি সরকার ইতিবাচক সাড়া না দেয় তাহলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে।

    আলোচনায় তিনি জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে স্বচ্ছ ও সার্বভৌম ভিত্তিতে সাংবিধানিক পরিবর্তন আনা না হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নির্বাচনী বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরে পাওয়া সম্ভব হবে না—এ ধরনের বার্তাও দেন নাহিদ ইসলাম।

  • মন্ত্রী না থাকলে কি উন্নয়ন থেমে যাবে? প্রশ্ন গোলাম পরওয়ারের

    মন্ত্রী না থাকলে কি উন্নয়ন থেমে যাবে? প্রশ্ন গোলাম পরওয়ারের

    জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রশ্ন তুলেছেন: প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকেন না এমন এলাকায় কি উন্নয়ন হবে না?

    শুক্রবার কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ভবনে বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লয়িজ লীগের কেন্দ্রীয় দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘‘যে এলাকার নেতারা প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা আইনমন্ত্রী হবে না, সেই এলাকায় কি কোনো উন্নয়ন হবে না? উন্নয়নকে বৈষম্যহীন করতে হলে জাতীয়ভাবে জরিপ করে দেখা উচিত—কোথায় রেল বা সড়ক যোগাযোগ বেশি প্রয়োজন। ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে সরকারকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।’’

    তিনি জুলাই আন্দোলনের ত্যাগ ও শহীদদের কথা স্মরণ করিয়ে বলেন, ‘‘হাজারো মানুষের রক্ত আর ত্যাগের বিনিময়ে সরকার ক্ষমতায় এলেও এখন আবার বৈষম্যমূলক সমাজ গঠনের চেষ্টা চলছে। হাজার রক্তের বিনিময়ে ক্ষমতায় এসে ন্যায়বিচার না দিয়ে অন্যায় করা হচ্ছে; সেটা শহীদদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।’’

    রেল যোগাযোগের বেহাল দশার কারণ হিসেবে তিনি দুর্নীতিকেই দায়ী করেছেন। বলেন, ‘‘বিশ্বে রেল যোগাযোগ উন্নতির শিখরে উঠছে, অথচ বাংলাদেশে রেল খাত পিছিয়ে যাচ্ছে। এত বড় নেটওয়ার্ককে আমরা আধুনিকায়ন করতে পারিনি।’’ আগামী বাজেটে প্লেস্কেল আর রেলের শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবি মেটানো ও আধুনিক রেলপথ গড়ে তোলার জন্য সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আহ্বান জানান তিনি।

    দেশীয় সিদ্ধান্তমূখী নীতির প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘‘বাংলাদেশ এখন নিজস্ব সিদ্ধান্তে চলবে; কোনো বিদেশি শক্তির প্রেসক্রিপশন বা রিমোট কন্ট্রোল মানি না। পূর্ণ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাখতে সব ধরনের বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।’’

    তিনি ট্রেড ইউনিয়নের কর্মকান্ড সংকুচিত করার নীতির তীব্র সমালোচনা করেন এবং বলেন, সরকার শ্রমিক ও শ্রমসংগঠনের ওপর নানা সীমাবদ্ধতা আরোপ করে শ্রমিকদের অধিকার নিলে গণতন্ত্র ও শ্রমিকদের কল্যাণ ক্ষুণ্ন হয়।

    গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, ‘‘একটি কারখানায় বেশি সংখ্যক ট্রেড ইউনিয়ন থাকা উচিত—কারখানা যত বড় হবে, তত বেশি ট্রেড সংগঠন থাকা প্রয়োজন। সংগঠনের সংখ্যা বেশি হলে মালিকপক্ষের সঙ্গে বসে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে সুবিধা হবে।’’

    সম্মেলনে তিনি সরকারের প্রতি অনুরোধ রাখেন—উন্নয়ন ন্যায়ভিত্তিক ও স্বচ্ছভাবে করতে হবে, রেল ও যোগাযোগ খাতে দুর্নীতি রোধ করে অবকাঠামো উন্নয়নে ত্বরান্বিত উদ্যোগ নিতে হবে এবং শ্রমিক-সংগঠনের মেধা ও অধিকার রক্ষা করতে হবে।

  • নিজামী পুত্রসহ বিভিন্ন নেতাকর্মীর এনসিপিতে যোগদান

    নিজামী পুত্রসহ বিভিন্ন নেতাকর্মীর এনসিপিতে যোগদান

    জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী কন্যা, ড. মোহাম্মদ নাদিমুর রহমান, হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন, গাজীপুরের মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক এম এ এইচ আরিফ কান্তি এবং ওয়ারিয়র্স অব জুলাইয়ের প্রায় চার হাজার সদস্য। মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলামোটর রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে দলটির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন।এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, মোহাম্মদ নাদিমুর রহমান বর্তমানে তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত থাকায় সরাসরি উপস্থিত থাকতে পারেননি, তবে অনলাইনের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন।ওয়ারিয়র্স অব জুলাইয়ের প্রায় চার হাজার সদস্যের মধ্যে দাবি করা হয়, এ সময় তারা এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। তবে সবাই উপস্থিত ছিলেন না; সংবাদ সম্মেলনে এ टोलीের উপস্থিত ছিলেন প্রায় পঞ্চাশ সদস্য।সংবাদ সম্মেলনে হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর আবদুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন ব্রেক করে বলেন, “হাজী শরীয়তুল্লাহর উত্তরসূরি হওয়ার পরও আমি একনিষ্ঠভাবে এনসিপিতে কাজ করবো।” তিনি বলেন, “হাজী শরীয়তুল্লাহ কাউকে রাজা বা নেতা করতে আসেননি, তিনি সাধারণ কৃষক জনগণের নেতা ছিলেন। নেতার আর রাজা হওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আমরা কাউকে ইবাদত করি না। আমরা দল করি যাতে আমাদের নেতা যদি ভুল করে, তাকেও ফিরিয়ে আনতে পারি। এই দল হলো আমাদের সত্যের পথে থাকার অবলম্বন।”এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, “দেশের পথ হারানো রাজনীতির হাল ধরবে এনসিপি। সংসদে বিএনপি প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা করছে, এর ফল ভালো হবে না। আমরা অতি দ্রুত গণভোটের অভূতপূর্ব রায় বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।”উত্তরাঞ্চলের সংগঠক সারজিস আলম বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, “সরকার স্থানীয় কেন্দ্রগুলোকে নিজেদের ভাগ-বাটোয়ারা ও লুটপাটের জন্য ব্যবহার করছে। দ্রুত সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা ও পৌর নির্বাচন দিতে হবে, বছরের মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে।”তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করছে এবং সংসদে বুক ফুলিয়ে দাবি করছে। এই পরিস্থিতি আমাদের জন্য লজ্জাজনক। যারা এভাবে প্রতারণা করেছে, তারা জনগণের রুষ্টির মুখোমুখি হবে।”সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, “তাদের বলদয় হোসাইন মুহাম্মদ এরশাদ সারা দেশে প্রশাসক নিয়োগ করে রাষ্ট্র পরিচালনায় ছিলেন; তারেক রহমানও ঠিক সেইভাবে রাষ্ট্র চালাতে চান। তারা বারবার গণতন্ত্রের অপব্যবহার করছে।”নতুন যোগদানকারীদের ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয় এবং তাদের ক্লান্তিহীন সংগ্রামের জন্য শুভকামনা জানানো হয়।

  • সরকার Juliা সনদ ইস্যুতে টালবাহানা করছে: নাহিদ ইসলাম

    সরকার Juliা সনদ ইস্যুতে টালবাহানা করছে: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, জুলাই সনদ ও সাংবিধানিক সংস্কার ইস্যুতে সরকার নানা ধরনের টালবাহানা করছে। তিনি বলেন, এই বিষয়টি জনগণের স্বার্থে খুবই গুরুত্বপূর্ণ—এটি কোনো কৌশলের আওতা নয়। সরকার যদি নিজস্ব অলিখিত অজুহাতের পেছনে লুকায়, তখন জনগণের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা এবং সার্বভৌম ক্ষমতার ভিত্তিতে সাংবিধানিক সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে।

    শনিবার (৯ মে) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সংস্কারে অচলাবস্থা সমাধানে করণীয় কী’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ সব কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, দেশের স্বাধিকার ও সংবিধানয় গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়গুলো বাস্তবায়নের জন্য এখনই প্রয়োজন দ্রুত পদক্ষেপ। তিনি অবিলম্বে সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল গঠনের জন্য গণভোটের নির্দেশনা অনুযায়ী উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।

    বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বিএনপি-কে নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি শীর্ষ নেতারা গণভোটের পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি সেটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এর মধ্য দিয়েই তারা জনগণের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করছে বলে তিনি আঙুল তুলে বলেন।

    অন্তর্বর্তী আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে নাহিদ ইসলাম আরও জানান, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সংসদে ও বাইরে আলোচনা ও কর্মসূচি চালিয়ে যাবে। তবে সরকার যদি ইতিবাচক সাড়া না দেয়, তবে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে এই দাবি পূরণের জন্য প্রস্তুত থাকবেন বলেও জানান।

  • মির্জা ফখরুলের মতে, হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী সমাজকে অস্থির করে রাখতে চায়

    মির্জা ফখরুলের মতে, হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী সমাজকে অস্থির করে রাখতে চায়

    দেশের সমাজে একটি হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী অস্তিত্ব রয়েছে, যারা সারাক্ষণ হতাশায় ভোগে এবং বিভিন্ন সময় সমাজকে অস্থির করে তুলতে চায়। এই ব্যাপারে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী, বলেন যে তিনি নির্দিষ্ট কোনো দল বা ব্যক্তির নাম উল্লেখ করতে চান না, কারণ এর পেছনে সম্পূর্ণ রাজনীতি ক্রিয়াকলাপের বিষয় রয়েছে। আমাদের রাজনীতি এখনো সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন সংবাদ নয়। বারবার মানুষ নিজেদের স্বার্থে পরিবর্তনের জন্য সংগ্রাম করেছে, প্রাণ দিয়েছে, তবে দুর্ভাগ্যবশত পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

    বলেন, এই সবের পেছনে মূল ব্যর্থতা হলো আমাদের স্বাধীনতার মূল শহীদদের সংগ্রাম ও ত্যাগের মূল্যবোধের ক্ষতি। ৮ মে শুক্রবার দুপুরে নওগাঁর আত্রাইয়ের পতিসর রবীন্দ্র বন্ধুপ্রতিষ্ঠানের রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ফখরুল বলেন, আমাদের দেশের মূল পরিচিতি ও গর্বের বিষয় হলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। এই স্বাধীন্ত্র্য অর্জনে আমাদের প্রাধান্য ও বিশ্বাসের জায়গা হলো বাংলাদেশের মূল সৈনিকরা। নয় মাসের সংগ্রাম ও ত্যাগের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, আর এই সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা গণতন্ত্রও ফিরে পেয়েছি। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাইয়ের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ের লড়াইয়েও আমাদের নতুন সরকারের প্রতি আশা সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কিছু বিশেষ শক্তি দেশে ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক কাঠামো সৃষ্টি করে অর্থনীতি ও প্রশাসন ধ্বংস করে দিয়েছে। এই অস্থিরতাকে একত্রে কাটিয়ে উঠতে এবং দেশের উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। তিনি এও বলেন যে কিছু চরমপন্থি বা অশান্তির পেছনে যারা আছে, তারা দেশের শান্তি ও উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তবে কেউই এই ধরনের অপচেষ্টা মেনে নেবে না।

    বিএনপি মহাসচিবের ভাষণে উল্লেখ করেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন এই দেশে আসতেন, তখন তিনি কৃষকদের দুর্দশা লক্ষ্য করে ব্যাংক স্থাপন করেছিলেন এবং কৃষিকে আধুনিক করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এই সবকিছু ছিল তার জীবন ও কাজের অংশ। রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গান, নাটক এমনকি ‘গীতাঞ্জলি’ দিয়ে তিনি বিশ্বকে প্রভাবিত করেছেন। তিনি বিশ্বজনের কাছে একজন বিশ্বমনের কবি হিসেবে পরিচিত। এ কথা তিনি স্মরণ করে বলেন যে, রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও জীবন সব ক্ষেত্রেই অবাধ বিচরণ ছিল।

    রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশিদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রীগণ, সংসদ সদস্যগণ, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, দূতাবাসের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সরকারি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।

    আলোচনা শেষে স্থানীয় ও ঢাকা থেকে আগত শিল্পীদের পরিবেশনায় আবৃত্তি, রবীন্দ্রসংগীত, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পুরো দিনজুড়ে পতিসর রবীন্দ্রভূমিতে নানা জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় ভিড় জমে হয়েছিল। হাজারো দর্শনার্থী ও রবীন্দ্রপ্রেমীরা এ উৎসবের অংশ নিয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিকে স্মরণ ও সম্মান জানায়।

  • দেশবিরোধী গোষ্ঠীসমূহ সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে: নাহিদ

    দেশবিরোধী গোষ্ঠীসমূহ সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে: নাহিদ

    পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে বিএনপি’র চিপ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চেয়ারম্যান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, দেশের ক্ষতিকর ও দেশবিরোধী কিছু গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টি করে অস্থিরতা ছড়িয়ে দিতে পারে, তাই সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জুলিঅ স্মৃতি হলে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সেইসব বক্তব্য রাখেন তিনি।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, পশ্চিমবঙ্গ আমাদের পার্শ্ববর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। সেখানে অনুষ্ঠিত নির্বাচন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হলেও ভোটের আগে হাজার হাজার নাগরিকের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি জানান, এসব ভোটারদের মধ্যে বেশিরভাগ মুসলমান ও মতুয়া সম্প্রদায়ের ছিল। তিনি আরও বলেন, আমি সংসদে বলেছি, সেইসব মুসলমানদের উপর বিনা কারণে নিপীড়ন চালানো হচ্ছে, তাদের ভোটাধিকার হরণ করা হচ্ছে। এর প্রভাব আমাদের দেশের উপরও পড়তে পারে। নির্বাচনের পরে পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম, মতুয়া, দলিত ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর অমানবিক নির্যাতনের খবরও তিনি উল্লেখ করেন।

    নাহিদ ইসলাম সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশে যাতে কেউ ষড়যন্ত্র করে বা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা না করে, তার জন্য সবাইকে চোখ খোলা রাখতে হবে। এনসিপির এই নেতা বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের পরে বাংলাদেশের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে। দেশের সব ধর্মের নাগরিকের নিরাপত্তা, অধিকার রক্ষা ও সম্মান বজায় রাখতে আমাদের সকলে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসা জরুরি।

    তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশকে এমন একটা রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সবচেয়ে বেশি নিরাপদ সবুজ করে উঠবে। মুসলমান, দলিত, মতুয়া সহ সব সম্প্রদায়ের মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা ও উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

    অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামে এনসিপিতে নতুন যোগদানকারীদের স্বাগত জানিয়ে দলের মধ্যে ঐক্য ও শক্তির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত দ্ব›দ্ব ভুলে গিয়ে সবাই যেন এক হয়ে কাজ করি। দলের পতাকাতলে সবাই এক পথে চলবে—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। শেষে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি প্রশ্ন করেন, “আমরা কি সবাই একসাথে থাকব?” এ প্রশ্নের উত্তরে সবাই সামিল হয় ‘ইনশাআল্লাহ’ বললে, এতে তাদের একতার প্রত্যয় প্রকাশ পায়।

  • মন্ত্রী ছাড়াের এলাকা কি উন্নয়ন হবে না? গোলাম পরওয়ারের প্রশ্ন

    মন্ত্রী ছাড়াের এলাকা কি উন্নয়ন হবে না? গোলাম পরওয়ারের প্রশ্ন

    প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা ছাড়া দেশের অন্যান্য অংশে কি সত্যিই কোনো উন্নয়ন হবে না—এমন প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ভবনে বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লয়িজ লীগের কেন্দ্রীয় দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘যে এলাকার নেতারা প্রধানমন্ত্রী, স্বरাষ্ট্রমন্ত্রী বা আইনমন্ত্রীর মত ভূমিকায় থাকছে না, সেই এলাকার কি উন্নয়ন হবে? উন্নয়নে বৈষম্য দূর করতে হলে সব অঞ্চলে সমান নজর দিতে হবে। এর জন্য দেশের বিভিন্ন এলাকার রেল ও সড়ক যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা জরিপ করে দেশজুড়ে উন্নয়নের পরিকল্পনা করতে হবে। মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য সরকারের দায়িত্বভাগ গ্রহণ করতে হবে।’

    তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, ‘জুলাই মাসের আন্দোলনের সময় হাজারো মানুষের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু এখন আবার এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে যেখানে বৈষম্য দর্শনীয়। আন্দোলনের সময় যে ত্যাগ ও রক্তের বিনিময় হয়েছিল, তার মূল্যায়ন করে দেশের সমতা রক্ষা করতে হবে। কিন্তু বর্তমান সরকার উন্নয়নের নামে বৈষম্য বাড়াচ্ছে এবং শহীদদের স্বপ্নের উদ্দেশ্যকে ভুলিয়ে দিচ্ছে, যা বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।’

    দেশের রেল যোগাযোগের দুর্বিষহ পরিস্থিতির জন্য তিনি দুর্নীতিকে দায়ী করে বলেন, ‘বিশ্বের উন্নত সব দেশে রেল যোগাযোগের উন্নতি হচ্ছে, কিন্তু আমাদের দেশের এই খাতটি এখনো আধুনিকায়ন হয়নি। এটা দেশের অর্থনীতি ও জনগণের জন্য বড় ক্ষতির কারণ। সরকারকে কঠোরভাবে এগিয়ে আসতে হবে এবং আগামী বাজেটে রেল ও অন্যান্য যোগাযোগ খাতের আধুনিকায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখন স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপোষ করব না। দেশের সিদ্ধান্ত নিজস্ব স্বাধীনতার ভিত্তিতেই নেওয়া হবে। বিদেশি চাপ বা রিমোট কন্ট্রোলের সামনে মাথা নত করব না। দেশের স্বার্থ রক্ষায় সব বাহ্যিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা জরুরি।’

    উদ্ধারণা শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন সংকুচিত করার নিন্দা জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সরকার শ্রমিকদের অধিকার অস্বীকার, ট্রেড ইউনিয়ন দমন করছে। একটি কারখানায় তিনটির বেশি সংগঠন রেজিস্ট্রার করতে পারবে না—এটি শ্রমিকের ন্যায্য দাবি দমনের চূড়ান্ত ব্যবস্থা। এর পরিবর্তে, শ্রমিকেরা যেন বেশি সংগঠিত হতে পারে, কারখানাগুলোতে যেমন বড় আয়তনের ট্রেড ইউনিয়ন গঠন সম্ভব, তেমনি শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে ন্যায্য আলোচনা ও দাবি আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।’

  • হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী সমাজ অস্থির করতে চায়: মির্জা ফখরুল

    হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী সমাজ অস্থির করতে চায়: মির্জা ফখরুল

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে একটি হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী আছে যে সারাক্ষণ হতাশা ছড়ায় এবং বিভিন্ন সময়ে সমাজকে অস্থির করার চেষ্টা চালায়। কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির উদ্দেশ্য করে তিনি কথা বলতে চান না বলে জানিয়ে বলেন, আমাদের রাজনীতি পরিষ্কার-স্বচ্ছ নয়; মানুষ বারবার পরিবর্তন চাইতে লড়াই করেছে, প্রাণ দিয়েছে, তবুও কাঙ্খিত পরিবর্তন আসেনি।

    শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নওগাঁর আত্রাইয়ের পতিসর রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, আমাদের প্রধান পরিচয় ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা। আমরা সহজে স্বাধীনতা পাইনি—নয় মাস যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। গণতন্ত্রও লড়াই করে ফিরে পেয়েছি; সেটাও এমনি এমনি হয়নি। তিনি যোগ করেন, ‘‘জুলাইয়ে আমাদের সন্তানরা মিলেই যে লড়াই করেছে, আমরা তাকে জুলাইযুদ্ধ বলি—তার ফলেই পরিবর্তন এসেছে, নতুন নির্বাচন হয়েছে এবং মানুষ নতুন সরকারের প্রতি আশা নিয়েছে।’’

    তিনি অভিযোগ করেন যে যারা স্বৈরাচারী ছিলেন, তারা দেশকে ধ্বংসের দিকে ধাবিত করেছে—অর্থনীতি, ব্যাংক ও প্রশাসন লুটপাট ও ধ্বংসের শিকার হয়েছে। এসবের বিরুদ্ধে লড়াই করেই বর্তমান পরিস্থিতি এসেছে, আবার অনেকে চেষ্টা করছে সেই পরিবর্তনকে ভিন্ন পথে ঠেলে দিতে ও ছোটখাটো ইস্যু তুলে গোলযোগ সৃষ্টি করতে। তিনি বলেন, ‘‘আমরা কারওই কামনা করি না যে দেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি হোক।’’

    রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে মন্ত্রীর ন্যাসও ভাবনা ভাগ করে তিনি বলেন, কবিগুরু এখানে আসতেও কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশা দেখে ব্যাংক স্থাপন করেছিলেন এবং কৃষিকে আধুনিক পদ্ধতিতে উন্নীত করার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্ম সার্বজনীন—কবিতা, গদ্য, নাটক, গান সবই বিস্তৃত পরিধির। গীতাঞ্জলি দিয়ে তিনি বিশ্বকে নাড়িয়েছেন; রবীন্দ্রনাথকে সারাজীবন পড়তেও কম মনে হয়—এমনটি তার অভিভাবক Remarks।

    আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশিদ। বক্তব্য রাখেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু, নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক, নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা, নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপু, নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু, বাংলাদেশ দূতাবাস মেক্সিকোর সাবেক রাষ্ট্রদূত এম মুশফিকুল ফজল আনসারী, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

    আলোচনা সভার শেষে ঢাকা ও স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে আবৃত্তি, রবীন্দ্রসংগীত, নৃত্য ও নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। কবিগুরুর স্মৃতিবিহীন পতিসরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায় এবং দিনভর হাজারো দর্শনার্থী ও রবীন্দ্রপ্রেমী সেখানে ভিড় জমান।

  • পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন: দেশবিরোধী গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িক উসকানি ছড়াতে পারে — নাহিদ

    পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন: দেশবিরোধী গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িক উসকানি ছড়াতে পারে — নাহিদ

    বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, দেশবিরোধী গোষ্ঠীগুলো সাম্প্রদায়িক অনুভূতি জাগিয়ে প্ররোচনা দেবে; তাই সবাইকে সতর্ক ও সংহত থাকতে হবে।

    বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ‘জুলাই স্মৃতি’ হলে এনসিপি আয়োজিত যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। যদিও এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, নির্বাচনের আগেই কয়েক লক্ষ ভোটারের নাগরিকত্ব বাতিল এবং ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। এদের বড় একটি ভুক্তভোগী অংশ মুসলিম ও মতুয়া সম্প্রদায়ের বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    নাহিদ বলেন, ‘‘আমি সংসদেও বলেছি, সেখানে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে এবং তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়বে।’’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম, মতুয়া, দলিত ও অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতনের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

    বাংলাদেশে সম্ভাব্য সাম্প্রদায়িক উসকানির বিষয়ে সতর্ক করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘‘দেশবিরোধী গোষ্ঠী নানা রকম উসকানি দিবে, সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ছড়াতে চেষ্টা করবে এবং প্রবল প্রোপাগান্ডা চালাবে। আমাদের সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।’’

    তিনি আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের পর বাংলাদেশের দায়িত্ব ও দায়িত্ববোধ আরও বেড়ে গেছে। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব নাগরিকের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশকে এমন একটি রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সংখ্যালঘুরা সবচেয়ে বেশি নিরাপদ বোধ করবে।

    অনুষ্ঠানে নতুন সদস্যদের স্বাগত জানিয়ে নাহিদ দলের নেতা-কর্মীদের একতা ও ঐক্যের কথা বলেন। তিনি বলছিলেন, ‘‘আমাদের নিজেদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব থাকবে না। যে-ই যেখান থেকে আসুক, সকলকে এনসিপির পতাকায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।’’ বক্তব্যের শেষে তিনি حاضرজনদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রাখেন—‘‘আমরা কি সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব?’’ জবাবে সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীরা এককথায় ‘ইনশাআল্লাহ’ বলে সমর্থন জানান।

  • কিছু হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী সমাজ অস্থির করতে চায়: মির্জা ফখরুল

    কিছু হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী সমাজ অস্থির করতে চায়: মির্জা ফখরুল

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে একটি হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী রয়েছে যারা বারবার হতাশা থেকে বের হয়ে এসে সমাজকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে। তিনি বলেন, ‘‘আমি কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তিকে নিশানা করতে চাই না। আমাদের রাজনীতি এখন সুন্দর বা পরিশীলিত নয়। মানুষ বারবার পরিবর্তনের জন্য লড়েছে, প্রাণ দিয়েছে, পরিবর্তনের চেষ্টাও করেছে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সত্যিকারের পরিবর্তন আসেনি।’’

    শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নওগাঁর আত্রাইয়ের পতিসর রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি আরও বলেন, ‘‘আমাদের মূল পরিচয় হচ্ছে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম। আমরা ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে যে সক্রিয়তা ও পরিচয় অর্জন করেছি, সেটা সবসময় মনে রাখতে হবে। স্বাধীনতা এমনি এমনি পাওয়া হয়নি—নয় মাস ধরে যুদ্ধ করে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। গণতন্ত্রও সংগ্রাম করে ফেরত আনা হয়েছে; সেটিও হঠাৎ ফিরে আসেনি।’’

    মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, ‘‘জুলাইয়ে আমাদের সন্তানেরা যে সার্বিক সংগ্রাম করেছে, আমরা সেটাকে ‘জুলাই যুদ্ধ’ বলি। তাতে পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে, নতুন নির্বাচন হয়েছে, মানুষ নতুন সরকারের কাছে আশা নিয়েছে। যে ঘুণ ধরে থাকা শাসন ব্যবস্থা ছিল, তারা দেশকে ধ্বংসের দিকে ধাবিত করেছে—অর্থনৈতিক লুটপাট হয়েছে, ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান লুট করা হয়েছে, প্রশাসন দুর্বল করা হয়েছে। এসবের বিরুদ্ধে লড়াই করেই আজকের অবস্থায় পৌঁছেছি। কেউ কেউ চেষ্টা করছে এই পরিবর্তনকে বিকৃত করে ভিন্ন খাতে নেওয়ার, ছোট ইস্যু নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার। আমরা চাই না দেশ যেন অস্থির হয়।’’

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘‘রবীন্দ্রনাথ যখন এখানে অবস্থান করতেন, তিনি কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশা দেখে একটি ব্যাংক স্থাপন করেছিলেন এবং কৃষিকে আধুনিকভাবে উন্নয়নের উদ্যোগে কাজ শুরু করেছিলেন। এটা তাঁর জীবন, কাজ ও কবিতার চর্চার বাইরের একটি কার্য্যগত প্রমাণ। কবিতা, পদ্য, গদ্য, নাটক ও গানে তাঁর বিচরণ ছিল প্রকৃত আদর্শমানবকল্যাণে প্রবাহিত—গীতাঞ্জলি লিখে তিনি বিশ্বের মন কাড়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথকে সারাজীবন পড়লেও শেষ করা যায় না—এই অনুভূতিই আমার প্রায়ই হয়।’’

    আলোচনা সভায় রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. আ এন এম বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু, নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-২ এর সংসদ সদস্য এনামুল হক, নওগাঁ-৩ এর সংসদ সদস্য ফজলে হুদা, নওগাঁ-৪ এর সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপু, নওগাঁ-৫ এর সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু, বাংলাদেশ দূতাবাস মেক্সিকোর সাবেক রাষ্ট্রদূত এম মুশফিকুল ফজল আনসারী, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নুসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।

    আলোচনা সভার পরে ঢাকার এবং স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে আবৃত্তি, রবীন্দ্রসংগীত, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশন হয়। কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত পতিসরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়—দিনভর হাজারো দর্শক ও রবীন্দ্রপ্রেমী সেখানে ভিড় করেন।