Category: রাজনীতি

  • বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোটার ঢাকায় স্থানান্তর করে ভোটারদের পরিবর্তন করা হচ্ছে দাবি বিএনপি’র

    বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোটার ঢাকায় স্থানান্তর করে ভোটারদের পরিবর্তন করা হচ্ছে দাবি বিএনপি’র

    দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভোটারদের ঢাকায় স্থানান্তর করে এনে তেলআবাদের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় আনুকূল্য লাভের জন্য একটি রাজনৈতিক দল কৌশলগত পরিকল্পনা করছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। বুধবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে উপস্থিত হয় এবং কমিশনের সদস্যদের সাথে আলোচনা করে।

    সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, ঢাকার বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার ভোটার তালিকা পরিবর্তন করে কিছু দল তাদের মনোনীত প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য বেআইনি কৌশল অবলম্বন করেছে। দেশের নানা স্থান থেকে ভোটারদের ঢাকায় স্থানান্তর করে তাদের নামে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যা ষড়যন্ত্রের অংশ বলে বিএনপি মনে করে।

    বিনীতভাবে তারা আমাদের কাছে জানতে চেয়েছে, কতজন ভোটার কোথা থেকে এসেছে, কোন এলাকাগুলি থেকে তাদের নাম বদলি করা হয়েছে এবং কেন এই পরিবর্তনগুলো করা হয়েছে। এই ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য দ্রুত সরবরাহ করার জন্য আমরা অনুরোধ জানিয়েছি।

    এছাড়াও বিএনপি আরও কিছু অসৌজন্য অভিযোগ তুলে ধরেছে। মহাসচিব জানিয়েছেন, জামায়াতের কিছু নির্বাচন কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিকাশ নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি সংগ্রহ করছে, যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও অপরাধমূলক কাজ। এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি।

    বিএনপি স্বচ্ছ ও ন্যায্য নির্বাচনের প্রতি অঙ্গীকার করে, এই কারণেই তাদের চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত সফর বাতিল করেছেন। তবে অন্য রাজনৈতিক দলের নেতারা বরং অভিযোগের তোয়াক্কা না করে প্রচার চালাচ্ছে বলে মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন।

    মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, পুলিশ সুপার এবং ওসিসহ কিছু কর্মকর্তারা একতরফা কাজ করছে বলে অভিযোগ করেছেন। এই কর্মকর্তাদের মধ্যে কিছুজনের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান।

    নির্বাচন কমিশনের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে hatua নেওয়ার জন্যও বিএনপি অনুরোধ জানিয়েছে।

    পোস্টাল ব্যালটের বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপির মার্কা ঠিকঠাকভাবে ছাপানো হয়নি এবং সেগুলোর বিতরণেও নৈর্ব্যক্তিকতা দেখা যাচ্ছে। নির্বাচনী বিভিন্ন পর্যায়ে এই ধরনের ব্যালট বিতরণে অসঙ্গতি থাকায়, প্রতীক অনুপযুক্ত বা ভুলভাবে মুদ্রিত ব্যালটের যথাযথ প্রতিকার দাবি জানান তিনি।

    সর্বশেষে, বিএনপি ভোটারদের নিকট পৌছানোর জন্য পাঠানো পোস্টাল ব্যালটগুলো ত্রুটিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তাদের উদ্দেশ্য হল নির্দিষ্ট কিছুলোকের জন্য সুবিধা সৃষ্টি করা, যা স্বচ্ছ ভোটের প্রক্রিয়াকে ক্ষুন্ন করে। এজন্য তিনি সঠিক ও স্বচ্ছ প্রতীক সংবলিত ব্যালট দ্রুত সরবরাহের দাবি জানান। পাশাপাশি, ভোটারদের এনআইডি, বিকাশ নম্বর ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহের পদ্ধতিক যুক্তিরও তীব্র সমালোচনা করেন, যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লঙ্ঘন এবং দুর্বৃত্তায়নের সম্ভাবনা সৃষ্টি করে।

  • এনসিপির ২৭ আসনে প্রার্থী ঘোষণা, কারা কোথায় লড়ছেন

    এনসিপির ২৭ আসনে প্রার্থী ঘোষণা, কারা কোথায় লড়ছেন

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে, তরুণ নেতৃত্বের গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি আসনের মধ্যে ২৭টিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তারা এই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলে থাকা অন্যান্য কোটার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। রোববার (১৮ জানুয়ারি) তাদের নিজস্ব ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রার্থীদের নাম ও ছবি সংবলিত পোস্টার আপলোড করে এনসিপি। এর পাশাপাশি তারা ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট চেয়েছে।

    প্রার্থীদের তালিকা থেকে জানা যায়, ঢাকা–১১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলের আহ্বায়ক ও সাবেক তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। রংপুর–৪ আসনে আছেন সদস্যসচিব আখতার হোসেন, কুমিল্লা–৪ আসনে দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, পঞ্চগড়–১ আসনে উত্তরের সংগঠক সারজিস আলম, ঢাকা–৮ আসনে মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও নোয়াখালী–৬ আসনে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ।

    আরও থাকছেন, ঢাকা–১৮ আসনে আরিফুল ইসলাম আদীব, লক্ষ্মীপুর–১ আসনে মাহবুব আলম, সিরাজগঞ্জ–৬ আসনে এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, নরসিংদী–২ আসনে সারোয়ার তুষার, নারায়ণগঞ্জ–৪ আসনে আবদুল্লাহ আল আমিন, পার্বত্য বান্দরবান আসনে এস এম সুজা উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে মাওলানা আশরাফ মাহদী, চট্টগ্রাম–৮ আসনে জোবাইরুল হাসান আরিফ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৩ আসনে মোহাম্মদ আতাউল্লাহ।

    অন্য আসনগুলো হলো, দিনাজপুর–৫, নোয়াখালী–২, ঢাকা–১৯, ঢাকা–২০, কুড়িগ্রাম–২, ময়মনসিংহ–১১, টাঙ্গাইল–৩, ঢাকা–৯, গাজীপুর–২, মুন্সিগঞ্জ–২, পিরোজপুর–৩ ও নাটোর–৩। এই সব আসনে বিভিন্ন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে এনসিপি।

    এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন জানান, এখনও বাকি তিন আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি, তবে খুব দ্রুত তা সম্পন্ন হবে।

    উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতসহ ১০ দলে লড়ার জন্য মোট ২৫৩টি আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে। বাকি ৪৭টি আসনের জন্য আলোচনা ও সমঝোতাধীন প্রক্রিয়া চলছে।

    এই জোটের মধ্যে জুনাইল বিপ্লবীরা গঠিত এনসিপি ৩০টি আসন পেয়েছে, যেখানে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে থাকা দলটি সবচেয়ে বেশি ১৭৯টি আসনে লড়বে। আর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি, খেলাফত মজলিস বিভিন্ন পর্যায় ১০টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৭টি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ৩টি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ও বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টি প্রতিটিতে ২টি করে আসনে নির্বাচন করবে।

    প্রাথমিকভাবে এই জোটে ছিল ১১ দল, তবে আসন ভাগাভাগি সমঝোতা না হওয়ায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সম্প্রতি দলটি থেকে বের হয়ে গেছে। এখন তারা এককভাবে ২৬৮ আসনে নির্বাচন করবে এবং বাকি ৩২ আসনে তারা সমর্থন দেবে।

  • জামায়াতের সিদ্ধান্ত: ফয়জুল করিমের সম্মানে বরিশাল-৫ আসনে প্রার্থী দেবে না জামায়াত

    জামায়াতের সিদ্ধান্ত: ফয়জুল করিমের সম্মানে বরিশাল-৫ আসনে প্রার্থী দেবে না জামায়াত

    নির্বাচনী রাজনীতিতে পারস্পরিক সৌজন্য এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচারের শক্তিশালী উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে এই সিদ্ধান্তকে। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করিমের সম্মান বজায় রাখতে এবং তার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের পক্ষ থেকে বরিশাল-৫ আসনে কোনো প্রার্থী দেওয়া হবেন না। এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হলো, শান্তিপূর্ণ এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখা, যা ইসলামী আন্দোলনের ঐক্য গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের।

    রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষ করে, রাত ৮টার দিকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই কথা জানান ডা. তাহের। তিনি বলেন, মূলত ১১টি রাজনৈতিক দল নিয়ে একটি ঐক্য গড়ে উঠলেও বর্তমানে একজন দল আলাদা হয়ে যাওয়ায় এখন বাকি ১০টি দল ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী মাঠে রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির (চরমোনাই পীর) এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। তবে তাদের নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করিম একটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই পরিস্থিতিতে, পারস্পরিক সম্মান ও ঐক্যের বিষয় বিবেচনা করে ওই আসনে দলের প্রার্থী প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    ডা. তাহের আরও জানান, আমরা নির্বাচন সফল করতে চাই। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ঐক্য কেবল আসন ভাগাভাগির বিষয় নয়, বরং এটি পারস্পরিক সম্মান, বিশ্বাস ও শুভেচ্ছার সম্পর্কেও।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অন্তত ১৫টি রাজনৈতিক দল এই জোটে যুক্ত হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে মনোনয়নপত্রের জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ায় তাদের জন্য কোনো আসন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে, এই দলগুলো অবদান রাখতে ও ঐক্যের সঙ্গে থাকতে আগ্রহী।

    অন্য দিকে, প্রশাসনিক বৈষম্যকে দেশপ্রেম ও স্বরাষ্টের বিষয় হিসেবে তুলে ধরে, ডা. তাহের বলেন, কোনো বিশেষ রাজনৈতিক নেতার জাতীয় পরিচয়পত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তৈরি হচ্ছে, তবে সাধারণ নাগরিকদের মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়, যা নাগরিক অধিকার ও প্রশাসনিক নীতি বিরোধী।

    নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, জামায়াত বা জোটের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে কোনও অতিরিক্ত নিরাপত্তা চাওয়া হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, আমরা আল্লাহর ওপর ভরসা করি। তবে, নির্বাচনের পরিস্থিতি ও জনসাধারণের ধারণার কারণে নিরাপত্তা বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

    ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে, ডা. তাহের বলছেন, যারা ক্ষমতায় গেলে, তারা নিশ্চিত করবেন যে, সব নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ, নিরাপত্তা এবং প্রশাসনের সমান আচরণ নিশ্চিত হবে।

    সূত্রের জানা যায়, বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ফয়জুল করিম। এর মধ্যে, বরিশাল-৬ আসনে জামায়াত প্রার্থী দেবে না।

  • নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দিল এনসিপি

    নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দিল এনসিপি

    নির্বাচন কমিশনের আপিলের রায়ে বিএনপি প্রার্থীদের অনৈতিক ও নিয়মবহির্ভূত সুবিধা দিচ্ছে বলে cáoит এনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আজ রোববার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

    সংবাদ সম্মেলনটি রাজধানীর বাংলামোটরের রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে (অস্থায়ী) নির্বাচন কমিশনের আপিলের রায় ও নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

    আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের সন্দেহ এখন আরও দৃঢ় হয়েছে। যদি এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে, তাহলে নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে আমাদের শঙ্কা শুরু হবে। আমাদের দল ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডাররা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হবে। তবে আমরা চাই নির্বাচন সময়মতো অনুষ্ঠিত হোক। আমরা ন্যায্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাই এবং বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক উত্তরণ যেন সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

    দলের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নিতে তারা রাজনৈতিক পর্ষদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবেন বলে জানান আসিফ। তিনি আরও বলেন, ‘আগামীকাল (সোমবার) আমরা আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য অন্তর্ভুক্ত সরকারের প্রধান ও অন্যান্য জোটসঙ্গীদের সঙ্গে বৈঠক করবো। ব্যবসায়িক নেতাকর্মী, নাগরিক সমাজের সদস্য এবং যারা গণআন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন, সবকিছুর উপস্থিতি ও আলোচনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’

    আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ও বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগের পাশাপাশি তারা নিজেদের প্রার্থীদের বৈধতা নিয়েও নানা প্রতিবাদ করছে। নির্বাচনের শেষ দিন বিএনপির পক্ষ থেকে বাইরে মিছিল ও ধোৱাধুড়ে পরিস্থিতি তৈরি করা হয়, যা নির্বাচন পরিবেশের জন্য হুমকি।’

    তিনি উল্লেখ করেন, রায় ঘোষণের মুহূর্তে নির্বাচন কমিশন ১৫ মিনিটের বিরতিতে বললেও তারা দেড় ঘণ্টা সময় নিয়ে বিএনপি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করে। যেসব প্রতিনিধির মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রাজনৈতিক স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ছিলেন, সেটিও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

    আসিফ মাহমুদ মন্তব্য করেন, নির্বাচন কমিশনের এই রায় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, এটি গণতন্ত্রের জন্য সন্দেহজনক সংকেত। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে কমপক্ষে ২০ জন দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রমাণ পরিপূর্ণভাবে মেনে না নিয়ে প্রার্থী হচ্ছেন, বিশেষ করে ঢাকা-১১ আসনের এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের ব্যাপারে ব্যাপক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে।

    তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন বিএনপির দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপি প্রার্থীদের বাধা না দিয়ে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করছে।’

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক्रেটারি মনিরা শারমিন, যুগ্ম সদস্যসচিব জহিরুল ইসলাম মুসা প্রমুখ।

  • নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রেখেছে বিএনপি, মির্জা ফখরুল বললেন

    নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রেখেছে বিএনপি, মির্জা ফখরুল বললেন

    নির্বাচন কমিশনের প্রতি ইতিবাচক আস্থা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন তাদের যোগ্যতা ও নৈতিকতার ভিত্তিতে সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এ কথা বলেন তিনি।

    মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা একদিকে উদার ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার_b গিয়েছি। ১২ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ আসন্ন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে মুক্তি ও স্বাধিকার আদায়ের পর আমাদের লক্ষ্য একটাই: ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা। শহীদ জিয়ার আদর্শকে সামনে রেখে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

    নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে কিছু সমস্যা থাকলেও তারা যথাযথভাবে কাজ করছে বলে মনে করে বিএনপি। তারা বিশ্বাস করে, এই নির্বাচন কমিশন যোগ্যতার সাথে দায়িত্ব পালন করবে। এর পাশাপাশি, বিএনপি মহাসচিব উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে জিয়াউর রহমানের অবদান সারাজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন, বিচার বিভাগ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন এবং তলাবিহীন ঝুড়ি বলে সমালোচিত অর্থনীতি সমৃদ্ধ আর উন্নত দেশে রূপান্তর করেছিলেন। এ জন্য তারা প্রতি বছর তাকে স্মরণ করেন এবং তার দেখানো পথে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন।

    ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, ছাত্রজনতার ঐ সংগ্রাম থেকেই ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ঘোষণা এসেছে। তিনি বলেন, এই আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালিয়ে গেছেন। এখন আমাদের মনোভাব, ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং গণতন্ত্রের ভিত্তি সুদৃঢ় করার জন্য নতুনভাবে কাজ শুরু করেছি। এই সংগ্রামই জিয়াউর রহমানের আদর্শকে বাস্তবায়িত করবে।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খাইরুল কবির খোকন, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ, মইর্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান সহ ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বিভিন্ন নেতা-কর্মী।

  • নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকদের ঠেকাতে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি এনসিপির

    নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকদের ঠেকাতে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি এনসিপির

    জাতীয় নাগরিক কমিটি (এনসিপি) কঠোরভাবে নিশ্চিত করেছে যে, ঋণখেলাপি এবং দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের কোনোভাবেই আগামী নির্বাচনেও অংশগ্রহণের ছাড় দেওয়া হবে না। দলটির একান্ত গুরুত্বপূর্ণ এ ঘোষণা এসেছে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর স্থায়ী কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে, যেখানে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এই কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনে বর্তমানে পেশিশক্তির প্রদর্শনী অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন শুনানিতে অংশগ্রহণ করতে অনেক মানুষ শত শত জনসাধারণ নিয়ে হাজির হচ্ছে, কেউ কেউ আইনজীবীদের মহড়াও দিচ্ছেন। এ অবস্থা সম্পূর্ণরূপে সুষ্ঠু ও নিখুঁত নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি না করে উল্টো বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে।”

    আসিফ মাহমুদ আরও যোগ করেন, “বিএনপির কাছ থেকে আমরা ইঙ্গিত পেয়েছি, তারা তাদের নিজস্ব অন্তর্দৃষ্টির দারে গণতন্ত্রের দাবিদার হলেও, তাদের সমর্থিত প্রার্থীরা সরাসরি গণতন্ত্রবিরোধী কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েছে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে ভোটের স্বচ্ছতা অসম্ভব হয়ে উঠছে।”

    দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রসঙ্গ উঠতেই তিনি বললেন, “যারা এক সময় দেশের সম্পদ চুরি করে বিদেশে পাড়ি দিয়েছে, কঠোরভাবে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান। বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ে ওঠা এই ব্যক্তিরা এখন বাংলাদেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার চেষ্টা করছে, যা বেআইনি। দ্বৈত নাগরিক হেফাজতে কেউ জনপ্রতিনিধি হতে পারে না, তা আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।”

    তিনি হুঁশিয়ার করেন, “যদি এই নির্বাচনেও এসব অযোগ্য ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে আমরা আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথে প্রতিবাদ করতেই প্রস্তুত থাকবো। এই নির্বাচন কমিশনকে কোনওভাবেই দায়সারা বা অস্পষ্ট নির্বাচন করার অনুমতি দেওয়া হবে না।”

    সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন এবং আইনি সহায়তা বিষয়ক উপকমিটির প্রধান জহিরুল ইসলাম মুসা। এই দলের দৃঢ় এ অবস্থান, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুসংগঠিত ও নিরপেক্ষ রাখতে নিরন্তর সচেতনতা ও প্রতিরোধের বার্তা দেয়।

  • ৭১ এর মুক্তিযোদ্ধাদের মতো সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জুলাই যোদ্ধারাও অবদান রেখেছেন: তারেক রহমান

    ৭১ এর মুক্তিযোদ্ধাদের মতো সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জুলাই যোদ্ধারাও অবদান রেখেছেন: তারেক রহমান

    বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যদি ক্ষমতায় আসে বিএনপি, তবে জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারের সমস্যাগুলোর সমাধান করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ৭১ এর মুক্তিযোদ্ধাদের মতো দেশটির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জুলাই যোদ্ধারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আজ রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর খামারবাড়িতে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এই দিন তিনি জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহত পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানেন। তারেক রহমান আরও বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের মতো দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ২০২৪ সালে জুলাই যোদ্ধারা সক্রিয় ছিলেন। যদি বিএনপি ক্ষমতায় যায়, তবে তারা জুলাই যোদ্ধাদের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আলাদা একটি বিভাগ স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই মতবিনিময় সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সভায় অংশগ্রহণ করেন তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান।

  • রুমিন ফারহানা থেকে হুমকি: বললেন, ‘আমি না বললে আপনি এখান থেকে বের হতে পারবেন না স্যার’

    রুমিন ফারহানা থেকে হুমকি: বললেন, ‘আমি না বললে আপনি এখান থেকে বের হতে পারবেন না স্যার’

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর একটি ইউনিয়নসহ) ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে নির্বাচন পরিচালনা করতে গেলে, সেখানে অভিযান চালাতে গিয়ে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান হেনস্তা ও হুমকির শিকার হন।

    ঘটনাটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। ভিডিওতে দেখা যায়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আচরণবিধি ভঙ্গের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছিলেন, তখন রুমিন ফারহানা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। তিনি তাকে বলেন, আমি শেষ বারের মত আপনাকে সতর্ক করে দিচ্ছি, আমাকে আর এ ধরনের কথা শুনতে চাই না। যদি পারো, থামিয়ে দাও। আজ আমি ভদ্রতার সঙ্গে কথা বলছি, পরবর্তীতে এরকম করবেন না। এছাড়াও তিনি যোগ করেন, অন্যরা আপনাদের বেআইনিভাবে কাজ করতে দেয়, খোঁজ নিয়ে দেখো।

    রুমিন ফারহানা আরও জোর দিয়ে বলেন, আমি রুমিন ফারহানা। আমি কোনো দলের পক্ষ নি। বললেন, যদি আমি না বলি, আপনি এখান থেকে বের হতে পারবেন না স্যার, মাথায় রাখবেন। বললেন, যারা এখন আপনাদের সাথে কাজ করছে, তারা শেখ হাসিনার সময়ে কানে ধরে খাটের নিচে থাকত।

    উল্লেখ্য, এই বিধি লঙ্ঘনের অভিযানে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান বলেন, তারা নির্বাচন আচরণবিধি ১৮ এর সরাসরি লঙ্ঘন করে সমাবেশের আয়োজন করে। বিষয়টি নিয়মের বাইরে থাকায় আমরা সেখানে গিয়ে নিষেধাজ্ঞা দিই। তাদের চলে যাওয়ার সময়, অনুষ্ঠানের আয়োজক মো. জুয়েলকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। প্রত্যাখ্যাত হয়ে সমাবেশের আয়োজন করতে না পেরে, ওই প্রার্থী আমার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। আমি এই বিষয়টি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে অবগত করেছি।

  • তারেক রহমানের ঘোষণা: জুলাই যোদ্ধারাও মুক্তিযোদ্ধা, পৃথক দপ্তর খোলার প্রতিশ্রুতি

    তারেক রহমানের ঘোষণা: জুলাই যোদ্ধারাও মুক্তিযোদ্ধা, পৃথক দপ্তর খোলার প্রতিশ্রুতি

    বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জুলাইয়ে যারা শহীদ হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন, তারা ৭১ সালের মতই মুক্তিযোদ্ধা। যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তবে জুলাইয়ের শহীদ ও আহত পরিবারের কষ্টের কথা মাথায় রেখে একটি বিশেষ মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় সংযুক্ত পৃথক বিভাগ তৈরি করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাইয়ে যা গণহত্যা হয়েছে, তা স্রেফ এক ধরনের নির্মম হত্যাকাণ্ড।

    আজ সোমবার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন শহীদ পরিবার ও আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে অংশ নেয়া সবাই মুক্তিযোদ্ধা। তিনি বলেন, ‘তাঁরা সবাই মুক্তিযোদ্ধা। একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধারা দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছেন, ত্যাগ স্বীকার করেছেন। একইভাবে, চব্বিশে যোদ্ধারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যুদ্ধ করেছেন।’

    তারেক রহমান বলেন, ‘একাত্তরে যুদ্ধ হয়েছিল স্বাধীনতা ও স্বাধিকার রক্ষার জন্য। আবার ২০২৪ সালে যুদ্ধ হয়েছে এই অধিকারকে রক্ষা করতে। তাঁর মতে, জুলাই যোদ্ধাদের সাহসী ভূমিকার কারণে ফ্যাসিবাদী শাসকরা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।’

    বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘চব্বিশের আন্দোলন কোনও এক ব্যক্তির বা দলের বা গোষ্ঠীর আন্দোলন নয়। এটি ছিল জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম। যারা স্বাধীনতা রক্ষার এই আন্দোলনকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়, তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।’

    তারেক রহমান ভবিষ্যতের নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা জানি, যদি গণতান্ত্রিক সরকার গঠনে ব্যর্থ হই, তাহলে পরবর্তী সময়েও এ ধরনের শোকসভাই করতে হবে। এখন আমাদের উচিত, আর কোনও শোকসভা নয়, বরং জনগণের বিজয়গাঁথা রচনা করা।’

    তিনি জানিয়ে দেন, জুলাই যোদ্ধাদের জন্য বিএনপি একটি বিশেষ প্রতিশ্রুতি রাখছে। ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, দেশের মানুষের সমর্থনে যদি আমরা সরকার গঠন করি, তাহলে জুলাই যুদ্ধের শহীদ ও আহত পরিবার, যারা স্বাধীনতা সংগ্রামে শহীদ হয়েছেন, তাঁদের কষ্টগুলো কিছুটা হলেও লাঘব করার জন্য আমরা একটি নতুন বিভাগ তৈরি করব এই মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে। এই বিভাগের দায়িত্ব হবে তাঁদের দেখাশোনা ও যত্ন নেওয়া।’

    মতবিনিময় সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান।

  • ছাত্রদলের মুখোমুখি নির্বাচন কমিশন, তিন অভিযোগে ঘেরাও

    ছাত্রদলের মুখোমুখি নির্বাচন কমিশন, তিন অভিযোগে ঘেরাও

    এয়োথ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পোস্টাল ব্যালটে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘেরাও করেছে। শনিবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হয়। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সংগঠনের ঘেরাও কর্মসূচি চলমান রয়েছে।

    ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘আমাদের মূল বিষয় হলো ব্যালট পেপার। ভোটের প্রক্রিয়ায় একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রভাব বিস্তার করার জন্য কিছু ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে আমাদের সন্দেহ। এই সব আচরণের পেছনে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের ইন্ধন রয়েছে বলে আমাদের প্রাথমিক ধারণা।’

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মতোই আমাদের হেয় করার জন্য তারা (নির্বাচন কমিশন) একের পর এক এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।’

    এর পাশাপাশি সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি স্বারকলিপি सौপর্দ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

    তাদের তিনটি মূল অভিযোগ হলো:

    1. পোস্টাল ব্যালটের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে।

    2. একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে, দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

    3. বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের জারি করা বিতর্কিত নির্দেশনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত।