Category: রাজনীতি

  • নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র রুখতে জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে: তারেক রহমান

    নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র রুখতে জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে: তারেক রহমান

    বনিবিধ যে দেশের ভবিষ্যৎ জনগণই নির্ধারণ করবেন ১২ ফেব্রুয়ারি — এমন মন্তব্য করেছে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি দাবি করেন, কিছু মহল নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে এবং সেটি রুখে দিতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় উপস্থিত লাখো মানুষের উদ্দীপনা এবং উত্তেজনা লক্ষ্যণীয় ছিল।

    তারেক রহমান রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষির উন্নয়ন ও সেচবিপ্লব টেকসই করার লক্ষ্যে ১০০০ কোটি টাকার আটকে থাকা পদ্মা সেচ প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি জানান, ধানের শীষের বিজয়ে এই প্রকল্পের সুফল রাজশাহী থেকে শুরু করে পঞ্চগড় পর্যন্ত প্রতিটি কৃষকের ঘরে পৌঁছে দেয়া হবে।

    চেয়ারম্যান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয় এবং পরে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলে নেওয়া বড় সেচ প্রকল্পগুলো উত্তরবঙ্গের কৃষিকে সমৃদ্ধ করেছিল। কিন্তু পদ্মা কেন্দ্রিক ওই বিশাল সেচ প্রকল্পটি গত ১৬ বছরে পরিকল্পিতভাবে থামিয়ে রাখা হয়েছে, যার ফলে এখন সেটি প্রায় বন্ধপ্রায় অবস্থায় পৌঁছেছে। তিনি আশ্বস্ত করেন, তাঁরা ক্ষমতায় এলে এই ঐতিহাসিক প্রকল্পকে পূর্ণ শক্তিতে পুনরায় চালু করবেন।

    তারেক রহমান বলেন, সেচ ব্যবস্থা শুধু রাজশাহীতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; রাজশাহী থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত প্রতিটি মাঠে সেচের পানি পৌঁছে দিতেই তারা কাজ করবেন। উৎপাদন বাড়লে কৃষকের আয় বাড়বে—কৃষক হাসলে পুরো দেশের মঙ্গল হবে, বলেও তিনি যোগ করেন।

    রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম চাষীদের কষ্টের কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে আম সংরক্ষণের কোনো আধুনিক ব্যবস্থাপনা নেই। ক্ষমতায় এলে তারা আম সংরক্ষণের জন্য বিশেষায়িত কোল্ড স্টোরেজ ও আধুনিক গুদাম নির্মাণ করবে, যাতে মৌসুমে আম নষ্ট হওয়ার ভয় থেকে চাষীরা মুক্তি পায় এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হয়।

    সেচ প্রকল্পের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের যাতায়াত বদলাতে পদ্মা নদীর ওপর নতুন ‘পদ্মা ব্রিজ’ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তিনি বলেন, এটি হবে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি।

    প্রান্তিক নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য প্রতিটি পরিবারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়ে তিনি জানান, এই কার্ডের মাধ্যমে মা-বোনেরা সরাসরি সরকারি সুবিধা পাবেন এবং তাদের স্বাবলম্বী হয়ে উঠার পথ তৈরি হবে।

    ২২ বছর পর রাজশাহীতে তারেক রহমানের সশরীর উপস্থিতি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা জাগিয়েছে। তিনি উপস্থিত দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দেন, উন্নয়নের এই বার্তাগুলো নিয়মিতভাবে প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘ধানের শীষ’ শুধু প্রতীক নয়—উত্তরবঙ্গের কৃষকের ভাগ্য বদলের চাবিকাঠি।

    সমাবেশে রাজশাহী বিভাগের আট জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে লক্ষাধিক মানুষ সমাগম করেন, যা পুরো রাজশাহী মহানগরীকে কার্যত অচল করে দেয়।

  • এক দল সারা দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

    এক দল সারা দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘‘একটি দল নির্বিচারের মতো সারা দেশে মামলা দিয়ে, মামলা-বাণিজ্য করে ও প্রতারণা চালাচ্ছে। তারা ৩১ দফার প্রতিশ্রুতিতেও মানুষকে প্রতারিত করছে; কেউ মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে বিভ্রান্ত হবেন না।’’

    আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরে আয়োজিত নির্বাচনী পথসভায় এসব অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। এই জনসভা মৌলভীবাজার-৪ আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত এনসিপি প্রার্থী প্রীতম দাশের পক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

    নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘‘৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ নতুনভাবে গড়ে উঠবে। ৫ আগস্টের আগে যে অন্ধকার সময়ের পরিণতি আমরা দেখেছি, আমরা আর তা চাই না। আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে; যারা অবিচার করেননি তাদের হয়রানি করা হবে না।’’

    তিনি দাবি করেন, ‘‘আমরা দেখেছি—এক দল সারা দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর একজন উপজেলা সেক্রেটারি হত্যা করা হয়েছে। ১১ দলীয় জোট এই সংরূপ সহিংসতা সহ্য করবে না; জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে এর জবাব দেবে।’’

    নাহিদ ইসলাম নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকায় নেই। তাদের নিরপেক্ষ হতে হবে, নয়তো ১১ দলীয় জোট এটি মেনে নিবে না।’’

    তিনি জোটের প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে উল্লেখ করেন, নির্বাচিত হলে ১১ দলীয় জোট শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও তরুণদের কর্মসংস্থান শক্তিশালী করার জন্য কাজ করবে।

    আহ্বায়ক বলেন, ‘‘আমরা এই আসনে প্রীতম দাশকে মনোনীত করেছি। আমরা মৌলভীবাজারের চার আসনকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। প্রীতম দাশ চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি আদায়ের সংগ্রামে জেলও কেটেছেন; তিনি ফ্যাসিস্ট শাসনামলে কারাবাসভোগ করেছেন।’’

    নাহিদ ইসলাম শেষ করে বলেন, ‘‘১১ দলীয় জোট ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়বে; সবাই একসাথে কাজ করবে। আমরা চাই না চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের হাতে আবার ক্ষমতা দিয়ে দেওয়া হোক বা নতুন কোনো স্বৈরাচারের উত্থান ঘটুক। আমরা মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকবো। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ফল আমাদের হবেই, ইনশা আল্লাহ। মৌলভীবাজার-৪ থেকে এনসিপির যাত্রা আমরা আজ শুরু করলাম।’’

    এ নির্বাচনী পথসভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র ও নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মৌলভীবাজার-৪ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী প্রীতম দাশসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।

  • নাহিদ ইসলাম: একটি দল সারা দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে

    নাহিদ ইসলাম: একটি দল সারা দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘একটি দল নির্বিচারে সারা দেশে মামলা দিচ্ছে, মামলা-বাণিজ্য করছে এবং জনকে প্রতারণার শিকার করছে।’ তিনি বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমগ্নলে নির্বাচনী পথসভায় এসব কথা বলেন। ওই সভা অনুষ্ঠিত হয় মৌলভীবাজার-৪ আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী প্রীতম দাশের পক্ষে।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আপনারা শুনেছেন ৩১ দফার কথা — তারা ৩১ দফার সঙ্গেও প্রতারণা করছে। মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে কেউ প্রতারিত হবেন না।’ তিনি অভিযোগ করেন যে কিছু গোষ্ঠী রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের অপপ্রচারের জন্য রাজনৈতিক মামলা ব্যবহার করছে।

    তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের পরকার বাংলাদেশ নতুন হবে। ৫ আগস্টের আগে কী পরিণতি হয়েছিল, তা আমরা দেখেছি; আর এমন পরিস্থিতি আর চাই না। আইন-শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে, যারা নির্দোষ তাদের হয়রানি করা হবে না।’

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা দেখেছি একটি দল সারা দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে; তারা জামায়াতে ইসলামীর এক উপজেলা সেক্রেটারি কোথাও হত্যা করেছে—এমন জঘন্য ঘটনায় ১১ দলীয় জোট সহ্য করবে না। জনগণ ভোটের মাধ্যমে জবাব দেবে।’

    তিনি নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান। ‘তারা যদি নিরপেক্ষ না থাকে, তাহলে ১১ দলীয় জোট তা মেনে নিবে না,’ নাহিদ বলেন। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে জোট শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও তরুণদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে কাজ করবে।

    আহ্বায়ক আরও বলেন, ‘এ আসনে আমরা প্রীতম দাশকে মনোনীত করেছি। আমরা মৌলভীবাজার-৪ আসনকে গুরুত্ব দিয়েছি। প্রীতম দাশ চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি আদায়ের জন্য ফ্যাসিস্ট আমলে জেলও কেটেছেন।’ তিনি প্রীতমকে সমর্থন করার আহ্বান জানান।

    নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, ‘১১ দলীয় জোট ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গঠন করবে। আমরা চাই না চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের হাতে আবার ক্ষমতা পাক, বা নতুন কোনো স্বৈরাচারের উত্থান হোক। ১১ দলীয় জোট মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকবে। ১২ ফেব্রুয়ারি আমরা ফল পাবই, ইনশা আল্লাহ।’ তিনি জানান, এনসিপির রাজনৈতিক যাত্রা মৌলভীবাজার-৪ থেকেই শুরু হয়েছে।

    নির্বাচনী পথসভায় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখপাত্র ও নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঞা, মৌলভীবাজার-৪ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী প্রীতম দাশ ও আরও অনেকে।

  • নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র রুখতে হবে: তারেক রহমান

    নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র রুখতে হবে: তারেক রহমান

    বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে জনগণ এবং তা হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, কিছু মহল নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে; সেই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে তিনি সর্বসাধারণকে সরাসরি উপস্থিত হয়ে মাঠে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী ও আশপাশের এলাকার হাজার হাজার সমর্থক।

    সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি বিপ্লব টিকিয়ে রাখতে এবং সেচের আওতা বাড়াতে তিনি প্রথম দিকে থমকে থাকা প্রায় এক হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেচ প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করবেন। তিনি আশ্বাস দেন, ধানের শীষ বিজয়ী হলে এই প্রকল্পের সুফল রাজশাহী থেকে শুরু করে পঞ্চগড় পর্যন্ত প্রত্যেক কৃষকের ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে।

    তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় খাল খননের কাজ শুরু হয়েছিল এবং পরবর্তীতে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলে নেওয়া বড় সেচ প্রকল্পগুলো উত্তরবঙ্গের কৃষিকে সমৃদ্ধ করেছিল। তিনি গলায় কষ্ট নিয়ে বলেন, পদ্মা নদী কেন্দ্রিক যে বিশাল সেচ প্রকল্পটির নিজস্ব বাজেট ছিল প্রায় এক হাজার কোটি টাকা, সেটি গত ১৬ বছরে পরিকল্পিতভাবে থামিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে প্রকল্পটি আজ প্রায় বন্ধপ্রায়। আমাদের লক্ষ্য ঐতিহাসিক ওই প্রকল্পকে পুনরায় পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যকর করা—এটাই তার প্রকল্পের প্রধান অঙ্গ।

    বিএনপি চেয়ারম্যান আশ্বস্ত করেন, সেচ ব্যবস্থা কেবল রাজশাহীতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; রাজশাহী থেকে শুরু করে উপরের পঞ্চগড় পর্যন্ত সেচের পানি পৌঁছানো হবে। উৎপাদন বাড়লে কৃষকের আয় বাড়বে, কৃষক হাসলেই দেশের উন্নয়ন হবে—এ কথাই তিনি বারবার উদ্ধৃত করেন।

    রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম চাষিদের দুর্দশার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, আম সংরক্ষণের কোনো আধুনিক ব্যবস্থা নেই। ক্ষমতায় এলে আম সংরক্ষণের জন্য বিশেষায়িত কোল্ড স্টোরেজ ও গুদাম নির্মাণ করা হবে, যাতে মৌসুমে আম পচে যাওয়ার ভয় কমে এবং চাষিরা ন্যায্য মূল্য পায়।

    সেচ প্রকল্পের পাশাপাশি তিনি পদ্মা নদীর ওপর নতুন একটি ‘পদ্মা ব্রিজ’ নির্মাণের আশ্বাস দেন, যা নির্মিত হলে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ আর অর্থনীতি ব্যাপকভাবে উন্নত হবে। পাশাপাশি প্রান্তিক নারী-শক্তি শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে প্রতিটি পরিবারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দেন; এই কার্ডের মাধ্যমে মা-বোনেরা সরাসরি সরকারি সুবিধা পাবেন এবং স্বনির্ভর হবেন।

    ২২ বছর পর সরাসরি রাজশাহীতে উপস্থিত হয়ে জনসভায় তারেক রহমানের আগমন দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন, উন্নয়ন ও নির্বাচনী বার্তাগুলো প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। তিনি পুনরায় বন্ধ্যা করে বলেন, ‘ধানের শীষ শুধু প্রতীক নয়, এটা উত্তরবঙ্গের কৃষকের ভাগ্য বদলের চাবিকাঠি।’

    সমাবেশে রাজশাহী বিভাগের আট জেলাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে লক্ষাধিক মানুষ সমবেত হন, যা শহরকে কার্যত অচল করে দেয়। জনতার এই প্রভাব ও মহত্ত্বের মাঝেই তারেক রহমান নির্বাচনী লড়াই জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে সভা শেষ করেন।

  • বিএনপি এতই খারাপ হলে ওই দুই মন্ত্রী কেন পদত্যাগ করেননি: তারেক রহমান

    বিএনপি এতই খারাপ হলে ওই দুই মন্ত্রী কেন পদত্যাগ করেননি: তারেক রহমান

    বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, যারা এখন বিএনপিকে দুর্নীতির অভিযোগে আক্রমণ করছে তারা নিজেরাই মিথ্যা বলছে—কারণ ২০০১-২০০৬ সালেও তাদেরই দুইজন মন্ত্রী তখন বিএনপি সরকারের অংশ ছিলেন। যদি বিএনপি এতই দুর্বল ও দুর্নীতিগ্রস্ত হতো, তবে ওই দুই মন্ত্রী কেন তখন পদত্যাগ করে চলে আসেননি? তিনি এ প্রশ্ন তুলেছেন।

    মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ জেলা সার্কিট হাউস মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান। বেলা ৪টা ০৩ মিনিটে স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানের সঙ্গে মঞ্চে ওঠেন তিনি। বক্তব্য শুরু করার আগে ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি সংসদীয় আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের মঞ্চে দাঁড় করিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন। ৪টা ২৬ মিনিটে উপস্থিত জনতাকে সালাম করে বক্তব্য শুরু করেন এবং ৪টা ৫২ মিনিটে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চেয়ে বক্তব্য শেষ করেন। সভার শেষে তার গাড়িবহর গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।

    তারেক রহমান বলেন, তারা (বহির্গামী বলছে) বিএনপি দুর্নীতির চ্যাম্পিয়ন ছিল—তবে ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়া সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার পর দেশ দুর্নীতির করাল শাসন থেকে মুক্ত হতে শুরু করে। ওই সময় যে দুই মন্ত্রী ছিলেন, তারা কেন পদত্যাগ করেননি—এই প্রশ্নের মধ্যে সার্বিকতা বোঝানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ওই দুই মন্ত্রী জানতেন যে বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হস্তে ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন, তাই তারা তখনই বিএনপির সাথে থাকতে চাননি না।

    অনুষ্ঠানে তিনি অভিযুক্ত দলের বৈরিতার উল্লেখ করে বলেন, আন্তর্জাতিক নানা পরিসংখ্যানও প্রমাণ করে যে আগের স্বৈরাচারি শাসনামলে দেশের দুর্নীতির মাত্রা ছিল খুব বেশি। সেই প্রেক্ষাপটে ২০০১ থেকে বদলে যাওয়া পরিস্থিতির কথা তিনি সামনে তুলেছেন।

    নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান ভোটের দিন কার্যকর পদক্ষেপের নির্দেশ দেন—তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ার পর সকলে কেন্দ্রে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করে, তারপর লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধু ভোট দিয়ে চলে আসলেই হবে না; ভোট পড়া ও ফল রক্ষা নিশ্চিত করতে হবে যেন কেউ ভোট লুট করতে না পারে।

    আগামী ১২ তারিখ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ভোটের পর খাল খনন কর্মসূচিতে আবার সবাইকে দেখতে চান—সেদিন সবাই কোদাল নিয়ে আসবেন এবং তিনি নিজেও সেখানে থাকবেন।

    সভায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা উল্লসিত স্লোগান দিতে থাকেন—‘তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’ ও ‘আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান’—এসময় তাকে লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। মঞ্চে উঠে স্থানীয় নেতারা ময়মনসিংহের তারাকান্দা পৌরসভায় রূপান্তরের দাবি তুলেন।

    তারেক রহমান মঞ্চে ওঠার আগে ধানের শীষ প্রতীকের ২৪ জন প্রার্থী বক্তব্য রাখেন। বক্তাদের মধ্যে ছিলেন ইকবাল হোসেন, সুলতানা আহমেদ বাবু, মোতায়ের হোসেন বাবু, মাহমুদুল হক, ফরিদুল কবির তালুকদার, সিরাজুল হক, মাহবুব রহমান লিটন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু ও লতফুরজ্জামান বাবর। প্রার্থীরা নিজেদের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব ছিল তা ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান এবং স্লোগান দেন—‘নৌকা গেছে ভারতে, ধানের শীষ গদিতে’।

    লতফুরজ্জামান বাবর সভায় বলেন, আমরা ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসন তারেক রহমানকে উপহার দিতে চাই এবং ভবিষ্যতে তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।

  • নারীদের সম্মান না করলে পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বললেন জামায়াত আমির

    নারীদের সম্মান না করলে পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বললেন জামায়াত আমির

    জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাঃ শফিকুর রহমান সারাদেশে কর্মরত নারীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত হামলাকারীদের কঠোর বার্তা দিয়েছেন। বুধবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুর মনিপুর স্কুল মাঠে ঢাকা-১৫ আসনের এক বিশাল মহিলা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বলেন, যারা মায়েদের গায়ে হাত বাড়িয়েছো, তারা তওবা করে ক্ষমা চাইতে পারে; তবে বলেন, ‘‘আমাদের চেয়ে আমাদের মায়েদের জীবনের মূল্য বেশি। মাকে সম্মান করো, অন্যথায় ভবিষ্যৎ পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকো। মায়েদের প্রতি অবমাননা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।’’

    সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিনি বলেন, মায়েদের সুবিধার্থে পর্যাপ্ত বাস সার্ভিস চালু করা হবে। এছাড়া ডে কেয়ার ও বেবিকেয়ার সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হবে, যাতে কর্মজীবী মা সন্তান লালন-পালনের পাশাপাশি সম্মানের সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করতে পারেন। তিনি জানান, এসব উদ্যোগ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

    জামায়াত আমির আরও বলেন, মায়েদের জন্য পাঁচ কর্মঘন্টার প্রস্তাবের কারণে কিছু মহল অযথা সমালোচনায় মেতেছে। তবে এই প্রস্তাবটি এমন মায়েদের কথা ভাবেই করা হয়েছে, যারা সন্তান লালন-পালনের জন্য চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন। এতে মায়েদের সম্মান ক্ষুন্ন করার কোনো বিষয় নেই—এটাই তার মন্তব্য।

    মায়ের মর্যাদা ও ত্যাগের বিবরণ তুলে তিনি বলেন, একজন মানুষ মায়ের গর্ভে প্রায় ২৮৫ দিন থেকে পৃথিবীতে আসে এবং সন্তানের জীবনের শুরু থেকে বড় হয়ে ওঠা পর্যন্ত মায়ের অবদান অপরিসীম। বর্তমান বাস্তবে শিশুপালনের মূল দায়িত্ব অনেক ক্ষেত্রেই মায়ের ওপরই পড়ে; তাই প্রত্যেক পুরুষের উচিত তার স্ত্রী ও মায়ের সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা।

    ইসলামের ইতিহাস থেকে উদাহরণ টেনে ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন, কঠোর সময়েও নারীরা দায়িত্ব পালন করেছে এবং সাহসী নারীরা—যেমন হযরত নুসাইবা (রাঃ) ও হিন্দা (রাঃ)—ইসলামের পক্ষে আত্মত্যাগ করেছেন; তাদের মতো নারীদের ভবিষ্যতে কোনো ভয় দেখিয়ে থামানো যাবে না। তিনি বলেন, নারীদের জন্য পর্যাপ্ত ওয়াশরুমসহ প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

    আগামী নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, ১২ তারিখের ভোটে দুটি বিষয় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ—দেশের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে সবাইকে সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যুবতীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের হাতে বেকার ভাতা না দিয়ে যথাযথ শিক্ষা ও ভাষাগত দক্ষতা দিয়ে আত্মমর্যাদার সঙ্গে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা হবে।

    সমাবেশে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে ১২ ফেব্রুয়ারির বিজয় হবে দেশের মানুষের বিজয়, আর দেশের মানুষের বিজয় মানেই ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার পথে অগ্রযাত্রা।

  • অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় ওঠার চেষ্টা হলে জনগণ তা প্রতিহত করবে: ডাঃ সৈয়দ তাহের

    অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় ওঠার চেষ্টা হলে জনগণ তা প্রতিহত করবে: ডাঃ সৈয়দ তাহের

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমীর ডাঃ সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ২০১৪, ২০১৮ বা ২০২৪ সালের মতো পুনরাবৃত্তিমূলক নির্বাচন যদি ঘটায়, সেসব নির্বাচন কখনই গ্রহণযোগ্য হবে না এবং দেশের মানুষ তা মেনে নেবে না। মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।

    ডাঃ তাহের বলেন, কেউ যদি অন্যায়ভাবে বা জোর করে ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তা করে, সেটি শুধু তাদের জন্য দুঃস্বপ্নই হবে। জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে তা পুনরায় প্রতিহত করবে এবং ঐ ধরনের শক্তিকে পতিত করবে।

    তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামীই একমাত্র রাজনৈতিক দল যাদের সদস্যদের মধ্যে ৪৩ শতাংশ নারী এবং তাদের সংখ্যা দেড় কোটির কম নয়। দলের আরপিওতে রাজনৈতিক দলগুলোতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখার বিধান থাকা সত্ত্বেও একমাত্র জামায়াতই তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে, বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    তবে, সমাজে কিছু মহল অপপ্রচারের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামের নারীদের গুরুত্ব কমে দেখাতে চায়। ডাঃ তাহের বলেন, ‘‘যাদের দলে নারী সদস্য বেশি সেখানে যদি গুরুত্ব কম বলে ধরা হয়, তাহলে যে দলে নারী কম তাদের গুরুত্ব কেমন হবে—এই প্রশ্নই তাদের অপপ্রচারের বাস্তবতাকে উন্মোচিত করে।’’

    নির্বাচন সামনে রেখে তিনি জানান, জামায়াতে ইসলামের নারী সদস্যরা অত্যন্ত সক্রিয়; তারা পুরুষ কর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারের সাথে যোগাযোগ করছেন এবং ভোট চাচ্ছেন। দলীয় পর্যালোচনায় তাদের ধারণা, সারাদেশে নারী ভোটাররাই জামায়াতকে বেশি সমর্থন দেবেন—কারণ মহিলারা শান্তিপ্রিয় এবং বিশৃঙ্খলা বা উগ্রতাকে তারা অপছন্দ করেন।

    নিজের নির্বাচনি এলাকা চৌদ্দগ্রামে ডাঃ তাহের বলেন, তাঁর মূল্যায়ন অনুযায়ী তিনি পুরুষের চেয়ে নারী ভোট বেশি পাবেন; পুরুষেরও সমর্থন পাবেন, তবে নারীরা কর্মে বেশি সক্রিয় এবং জয়ের দিক থেকে এগিয়ে থাকবেন। সারাদেশে নারীরা এভাবে কাজ করছেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    তাহের অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষরা জামায়াতের নারী কর্মীদের তৎপরতা থেকে ভয় পাচ্ছে; তাই তারা সারাদেশে নারীদের উপর আক্রমণ ও হেনস্তা করছে এবং ভয়-ভীতি দেখিয়ে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, ‘‘নারীরা আমাদের মা, বোন ও কন্যা—তাদের সম্মান ও নিরাপত্তা রক্ষাই আমাদের সকলের দায়িত্ব।’’

    তিনি আরও বলেন, যারা আগে নারী অধিকার ও স্বাধীনতার কথা বলেন, তারা এখন রাজনৈতিক কারণ দেখিয়েই নারীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ইতোমধ্যে হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে; কাঁধে অস্ত্রধারী হামলা থেকে শুরু করে ভয়ঙ্কর হুমকিও দেয়া হচ্ছে—কিছু লোক বলেন জামায়াতকে ভোট দিলে হাত নিয়ে যেতে পারবে না, এমন ধরের হুমকি-সক্রিয়তাও আছে।

    নির্বাচন কমিশনের প্রতিশ্রুতিকে গুরুত্ব দিয়ে ডাঃ তাহের বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধান প্রতিশ্রুতি হওয়া উচিত একটি নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা; কারণ অসুষ্ঠু ও পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচন দেশের ভিতকে নষ্ট করবে এবং দেশের ভবিষ্যতকে অন্ধকারময় করবে।

    তিনি সরকার এবং সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানান—জোর করে ক্ষমতায় গেলে তার ফল আগের চেয়েও ভয়াবহ হবে। জামায়াতসহ সব দলকে দায়িত্বশীল আচরণ করে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে; তা না হলে দেশের উন্নতি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হবে এবং সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

    ডাঃ তাহের আরও বলেন, বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক সংঘর্ষে নারী কর্মীরা আহত হয়েছেন এবং অনেকেই দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছেন না। কেন্দ্র দখল ও নিয়ন্ত্রণের জন্য হুমকি-ধামকি ও মারধরের ঘটনা বাড়ছে; এতে নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রভাবিত হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষদের একটি বড় কৌশলই হচ্ছে কেন্দ্র দখল করা, কারণ তারা জানে সাধারণ ভোটে তাদের জনপ্রিয়তা কম।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান আইনজীবী এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

  • বিএনপি এতই খারাপ হলে তাদের দুই মন্ত্রী কেন পদত্যাগ করেননি: তারেক রহমান

    বিএনপি এতই খারাপ হলে তাদের দুই মন্ত্রী কেন পদত্যাগ করেননি: তারেক রহমান

    বিএনপি সভাপতি তারেক রহমান বলেছেন, যারা এখন বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলছে—তারা এমন একটি দলের প্রতিনিধি, যারা পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচ্যের কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে বিএনপিকে আক্রমণ করছেন। তারা বলছে বিএনপি দুর্নীতির চ্যাম্পিয়ন ছিল; আমার প্রশ্ন, ২০০১-২০০৬ সালে যখন বিএনপি সরকারে ছিল, তখন ওই দলেরও দুজন মন্ত্রী ছিল—যদি বিএনপি সত্যিই এতই খারাপ হতো, তাঁরা তখন কেন পদত্যাগ করে বেরিয়ে আসেননি, বলেন তিনি।

    মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ জেলা সার্কিট হাউস মাঠে আয়োজিত বিশাল এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। বেলা ৪টা ০৩ মিনিটে স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানের সঙ্গে মঞ্চে ওঠেন তারেক রহমান। বক্তব্যের শুরুতে তিনি ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি সংসদীয় আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের মঞ্চে এনে জনগণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।

    তারেক রহমান ৪টা ২৬ মিনিটে জনতাকে সালাম জানিয়ে বক্তব্য শুরু করেন এবং ৪টা ৫২ মিনিটে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চেয়ে বক্তব্য শেষ করেন। সমাপ্তির পর তার গাড়িবহর গাজীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

    তিনি বলেন, ওই দুই মন্ত্রী পদত্যাগ করেনি কারণ তারা জানতেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি দমন বিষয়ে কঠোর ছিলেন এবং দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিতেন না। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পরিসংখ্যান দেখায় পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী শাসনের সময় দেশ দুর্নীতিতে ডুবেছিল, কিন্তু ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়া দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে দুর্নীতির অবাধ বিস্তার রোধে কাজ শুরু হয়।

    তারেক রহমান অভিযোগ করেন, আজ যারা বিএনপিকে দোষারোপ করছে, তাদেরই সেই দুই মন্ত্রীর উপস্থিতি প্রমাণ করে তারা মিথ্যা বলছে।

    নেতাকর্মীদের কাছে তিনি ভোটসংক্রান্ত গুরুতর নির্দেশনা দেন—ভোটের দিন তাহাজ্জুদের নামাজ পড়বেন, সবাই মিলে কেন্দ্রে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করবেন এবং তারপর লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেবেন। শুধু ভোট দিয়ে চলে আসলেই হবে না; ভোটের ফলাফল কড়া-গণ্ডায় বুঝে নিতে হবে যাতে কেউ আমাদের ভোট লুট করতে না পারে।

    আগামী ১২ তারিখ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভোটের পর খাল খনন কর্মসূচিতে আবার জনগণের সঙ্গে দেখা হবে; সবাইকে কোদাল নিয়ে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানান এবং নিজেও সেখানে থাকবেন।

    সভায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা স্লোগানে তাকে স্বাগত জানান; ‘তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’ ও ‘আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান’ স্লোগান করেন। ময়মনসিংহের পক্ষ থেকে তাকে লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানান হয়। স্থানীয় নেতারা মঞ্চে তাকে উপস্থিত দেখে টারাকান্দাকে পৌরসভায় রূপান্তরের দাবি জানান।

    তারেক রহমান মঞ্চে ওঠার আগে ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসনের ধানের শীষ প্রার্থীরা বক্তব্য দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ইকবাল হোসেন, সুলতানা আহমেদ বাবু, মোতায়ের হোসেন বাবু, মাহমুদুল হক, ফরিদুল কবির তালুকদার, সিরাজুল হক, মাহবুব রহমান লিটন, মোস্তাফিজур রহমান বাবলু ও লৎফুরজ্জামান বাবর।

    প্রার্থীরারা নিজেদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে দলের নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান এবং স্লোগান দেন—‘নৌকা গেছে ভারতে, ধানের শীষ গদিতে’। লৎফুরজ্জামান বাবর বলেন, আমরা ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসন তারেক রহমানকে উপহার দিতে চাই এবং ভবিষ্যতে তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।

  • নাহিদ ইসলামের হুঁশিয়ারি, আঘাত এলেই পাল্টা আঘাত

    নাহিদ ইসলামের হুঁশিয়ারি, আঘাত এলেই পাল্টা আঘাত

    ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ তুলে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘যদি আমাদের প্রার্থীসহ দলের কেউ আঘাতের শিকার হয়, তাহলে এখন থেকে পাল্টা আঘাত আসবে।’ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ঢাকার ফকিরাপুলে দলের স্থানীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

    নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আজ হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজে অতিথি হিসেবে গিয়েছিলেন, সেখানে তার ওপর বাধা দেওয়া হয় এবং ইট-পাটকেল ছোড়া হয়। তিনি আরও জানান, গতকাল ঢাকা-১৮ আসনের প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদিবের ওপরও বিএনপি নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে।

    নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যদি হামলা হয়, তাহলে পাল্টা আঘাত দেওয়া হবে। একটি দলের প্রার্থীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করলে অন্য দলের প্রার্থীরাও রেহাই পাবে না। আমরা এই ধরনের পরিবেশ চাই না। তবে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ যদি নীরব থাকে, তাহলে আমাদের করণীয় যা-ই হোক, করবই।’

    তিনি আরও জানান, দেশে কয়েক দিনেই ছয়-সাতটি জেলায় ১১ দলের শরিক জামায়াতে ইসলামীর নারীকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ও পুলিশের নীরবতার সুযোগে একটি বিশেষ দল ও জোট আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সুবিধা নিচ্ছে, যা নির্বাচন ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে।’

    বিএনপির দিকে ইঙ্গিত দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘তারা যদি আওয়ামী লীগের মতো সন্ত্রাসী কায়দায় প্রতিদ্বন্দ্বীদের মাঠ থেকে সরাতে চায়, তাহলে তাদের পার্থক্য কী? তারা ভোটের সময় জয় বাংলা স্লোগান দেয়, কিন্তু মনে রাখতে হবে, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে জনগণ কোনও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মেনে নেবে না।’

    বিএনপির ২০১৮ সালের নির্বাচন ও ২৮ অক্টোবরের আন্দোলনের ব্যর্থতার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তখন আপনি মাঠে উঠতে পারেননি, তিন মিনিটও দাঁড়াতে পারেননি। আমরা তখন আপনার প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছিলাম। কিন্তু এখন আপনি সমালোচনাও সহ্য করতে পারছেন না। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আপনি বেয়াদব বলছেন, তবে ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণই ব্যালটের মাধ্যমে ঠিক করে দেবে— কে বেয়াদব আর কে গ্যাংস্টার।’

    সংবাদ সম্মেলনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, তিনি ও তার দল শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে প্রচারণা চালাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজে গিয়ে দেখে তাকে বাধা দেওয়া হয় এবং ইট-পাটকেল ও ডিম ছোড়া হয়।

    তিনি বলেন, ‘পুলিশের সামনেই আমাদের ভাইদের ওপর উপর্যুপরি কিল, ঘুষি ও লাথি মারা হয়েছে। আমাদের নারী সদস্যদের ওপর বরফ নিক্ষেপ করা হয়েছে, যার ফলে একজনের মাথায় চারটি সেলাই দিতে হয়েছে।’

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এই হামলার জন্য মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে মির্জা আব্বাসের ভাগনে আদিত্যের নাম উল্লেখ করেন। এছাড়া, হামলায় হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজের ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান মাসুদ, সাবেক সদস্য শাহিন উদ্দিন মল্লিক এবং সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শরিফকে সরাসরি নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ করেন।

    তিনি আরও জানান, ‘মির্জা আব্বাস তার ভাগনে আদিত্যের মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে এনে আমাদের ওপর এই হামলা চালিয়েছেন। আমি দেশবাসীর কাছে এর বিচার চাই।’

    নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, ‘ইসি একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে কাজ করছে এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না দিয়ে প্রার্থীকে খালি মাঠে ছেড়ে দিয়েছে। ভোটের আগে ৫০ জন ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিককে প্রার্থী হিসেবে অনুমোদন দেওয়া, যা দেশের জন্য লজ্জাজনক।’

  • ময়মনসিংহে জনসভায় তারেক রহমানের উপস্থিতি, মানুষের ঢল রাজপথে

    ময়মনসিংহে জনসভায় তারেক রহমানের উপস্থিতি, মানুষের ঢল রাজপথে

    ময়মনসিংহের ঐতিহাসিক সার্কিট হাউস ময়দানে বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় তিনি তারেক রহমান মঞ্চে উপস্থিত হন। তার উপস্থিতির সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা স্লোগানে সরগরম হয়ে ওঠে।

    জনসভা শুরু হওয়ার আগে থেকেই নেতাকর্মীরা অনেক আগে থেকেই সভাস্থলে আসতে শুরু করেন। দুপুরের মধ্যে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ মূল অনুষ্ঠানের জন্য যোগদান করেন। তারা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সভায় উপস্থিত হন।

    এবারের জনসভাকে ঐতিহাসিক হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ দীর্ঘ ২২ বছর পর এই প্রথমবারের মতো ময়মনসিংহে তারেক রহমানের এ আগমন। ইতোমধ্যে ৬৪ ফুট দীর্ঘ এবং ৪৪ ফুট চওড়ার বিশাল একটি সভামঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। মঞ্চের মাঝে রয়েছে এলইডি স্ক্রিন এবং পাশে বিশাল ব্যানার। অবস্থা অনুযায়ী একটি ব্যানারে লেখা রয়েছে ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ এবং অপর পাশে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।

    সুরক্ষার জন্য পুরো সভাস্থল কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে সিএসএফ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন থাকছেন, এছাড়া ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা থেকে নজরদারি চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

    দলের সূত্র জানিয়েছে, ২০০৪ সালে ময়মনসিংহে তারেক রহমানের প্রথম নির্বাচনী সভায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। এরপর দীর্ঘ বিরতিতে এই প্রথম তিনি আবারো ময়মনসিংহের মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে থাকছেন। তার এই জনসভাকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনের দেখা মিলছে, যা তার আগমনকে স্বাগত জানাতে দেয়া হয়েছে।

    ফুলবাড়িয়া উপজেলার ছোট একজন ধানের শীষের চা দোকানি আব্দুল খালেক জানান, ‘আমি রাজনীতি করি না, তবে তারেক রহমানকে দেখতে এসেছি। আমি বিশ্বাস করি, তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করবেন।’

    একই সঙ্গে, বিএনপি ময়মনসিংহ বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, ‘আজকের জনসভায় মানুষের উপস্থিতি এতটাই বেশি যে অতীতের রেকর্ড ভেঙে গেছে। নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের আগমন দেখে বোঝা যাচ্ছে, তারা তারেক রহমানের পরিকল্পনা জানতে আগ্রহী।’