Category: রাজনীতি

  • গোলাম পরওয়ার: উন্নয়নে সরকার করছে চরম বৈষম্য

    গোলাম পরওয়ার: উন্নয়নে সরকার করছে চরম বৈষম্য

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, সরকার উন্নয়নের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের স্বার্থে সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করার বিষয়টি সবচেয়ে যৌক্তিক ও জরুরি।

    শনিবার সকাল সাড়ে আটটায় পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার পথে ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নামার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান ও সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, সৈয়দপুর বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক করলে বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে। কিন্তু যদি শুধু নির্দিষ্ট নির্বাচিত এলাকার সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তা হলে সেটি একটি বড় অন্যায় হবে।

    তিনি আরও বলেন, বিএনপি নির্বাচিত এমপিদের এলাকাকে প্রাধান্য দিয়ে নানা উন্নয়ন প্রকল্প বন্টন করছে; ফলে কিছু ক্ষেত্রে নতুন উপজেলা বা বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে, যা সার্বিক জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনায় হওয়া উচিৎ নয়। ‘‘প্রবাদ আছে, যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ,’’ বলে মন্তব্য করে তিনি বাস্তবিক পরিস্থিতি তেমনই দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।

    গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, বিএনপি ৭০ শতাংশ জনমতকে উপেক্ষা করে প্রতারণার রাজনীতি করছে। নির্বাচনের আগে যারা “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে ছিলেন, তারা এখন গণভোটের রায় অস্বীকার করছেন। সরকার যদিও বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, বাস্তবে গণভোটের রায় মানা হচ্ছে না—এটিকে তিনি ‘‘জনগণের সঙ্গে মহাপ্রতারণা’’ হিসেবে অভিহিত করেন। তাঁর মতে, বিএনপি যদি জনস্বার্থে এমন ব্যাকপাস খেলতে থাকে, তা হলে তা শুধু দলের জন্যই নয়, দেশের জন্যও ক্ষতিকর প্রমাণিত হতে পারে।

    গণমাধ্যম সম্পর্কিত প্রশ্নে গোলাম পরওয়ার বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় যারা স্বাধীন সাংবাদিকতার কথা বলতেন,現在 তাদের মধ্যে অনেকে বিভিন্ন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে নেওয়া, সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত করা ও হয়রানির সঙ্গে জড়িত আছেন। বিশেষত সরকারসমালোচক সাংবাদিকদের টার্গেট করা হচ্ছে—এটি তিনি কঠোরভাবে নিন্দা করেছেন।

    বিমানবন্দরে গোলাম পরওয়ার ও তাঁর সফরসঙ্গীদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম ও জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মনিরুজ্জামান জুয়েল। এছাড়া সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের আমির শফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম, শহর আমির শরফুদ্দিন খান, সেক্রেটারি মাওলানা ওয়াজেদ আলী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের শহর সভাপতি আব্দুল মোমিনসহ শতাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

    পরবর্তীতে গোলাম পরওয়ার ও তার সফরসঙ্গীরা সড়কপথে পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

  • এনসিপি ঘোষণা করলো ১০০ প্রাথমিক প্রার্থী

    এনসিপি ঘোষণা করলো ১০০ প্রাথমিক প্রার্থী

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রাথমিকভাবে ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভার জন্য সমর্থিত প্রার্থী ঘোষণা করেছে। রোববার (১০ মে) বিকেলে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।

    সারজিস আলম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য দলের কাছে হাজারের বেশি আবেদন পৌঁছেছিল। প্রথম ধাপে আজ ১০০ জন — ৫০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৫০ জন পৌরসভার মেয়র প্রার্থী — ঘোষণা করা হল। তিনি জানান, ঈদের আগেই, অর্থাৎ এই মাসের ২০ তারিখে দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০০ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং নাম ঘোষণা করার এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।

    তিনি আরও বলেন, এনসিপি দেশের নানা এলাকার যোগ্য, গ্রহণযোগ্য ও নির্দোষ নেতাদের সুযোগ দেবে, এমনকি অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাও যাচাই-বাছাইয়ের পর এনসিপির সমর্থন পেতে পারেন। দলের নীতিমালা ও সার্বিক যাচাই-বাছাই শেষে অন্য দল থেকে যোগ দিতে চাইলে তাদেরকেও সুযোগ দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

    ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে জেলা ও বিভাগভিত্তিক তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

    খুলনা বিভাগ:

    কুষ্টিয়ার কুমারখালী — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম বাদশা। ভেড়ামারা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: জান্নাতুল ফেরদৌস টনি। বাগেরহাট, চিতলমারি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইশতিয়াক হোসেন। ফকিরমারি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: লাবিব আহমেদ। মোংলা — পৌরসভার মেয়র প্রার্থী: মো. রহমত উল্লাহ। বাগেরহাট পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার। যশোর, বাঘারপাড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইয়াহিয়া জিসান। নোয়াপাড়া — পৌরসভা মেয়র প্রার্থী: শাহজাহান কবির। খুলনা, চালনায় — মেয়র প্রার্থী: এস এম এ রশিদ। চুয়াডাঙ্গা সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খায়রুল বাশার বিপ্লব। জীবননগর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: সোহেল পারভেজ। মেহেরপুর, গাংনী পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: শাকিল আহমেদ। ঝিনাইদহ পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: তারেকুল ইসলাম।

    রংপুর বিভাগ:

    পঞ্চগড়, তেঁতুলিয়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. হাবিবুর রহমান (হাবিব)। বদায়/বোদা? (বোধ হয় বোদা) — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শিশির আসাদ। দেবীগঞ্জ — পৌর মেয়র প্রার্থী: মাসুদ পারভেজ। ঠাকুরগাঁও, রাণীশংকৈল — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: গোলাম মর্তুজা সেলিম। দিনাজপুর, ফুলবাড়ি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইমরান চৌধুরী নিশাত। বোচাগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মাওলানা এম এ তাফসির হাসান। ফুলবাড়ি পৌরসভা — পৌর মেয়র প্রার্থী: শিহাব হোসেন। ঘোড়াঘাট — পৌর মেয়র প্রার্থী: মো. আব্দুল মান্নান। হাকিমপুর — পৌর মেয়র প্রার্থী: রায়হান কবির।

    নীলফামারী ও কুড়িগ্রাম এলাকায়:

    নীলফামারী, জলঢাকা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু সাইদ লিয়ন। নীলফামারী সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ড. কামরুল ইসলাম। কুড়িগ্রাম সদর — পৌর মেয়র প্রার্থী: মো. মাসুম মিয়া। লালমনিরহাট, কালিগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শাহ সুলতান নাসির উদ্দিন আহমেদ। রংপুর সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মণ। গাইবান্ধা, সাদুল্লাপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খাদিমুল ইসলাম।

    রাজশাহী বিভাগ:

    রাজশাহী, গোদাগাড়ি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. আতিকুল রহমান। চাঁপাইনবাগঞ্জ, গোমস্তাপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু মাসুদ। নওগাঁ, নেয়ামতপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: বিশাল আহমেদ। বাদলগাছি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আসাদ মোর্শেদ আজম। ধামুরহাট — পৌর মেয়র প্রার্থী: মাহফুজার রহমান চৌধুরী (রুবেল)। বগুড়া, শিবগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. জাহাঙ্গীর আলম। দুপচাঁচিয়া — পৌরসভা মেয়র প্রার্থী: আবু বক্কর সিদ্দিক। বগুড়া সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: এ এম জেড শাহরিয়ার। নাটোর সদর — পৌরসভা মেয়র প্রার্থী: আব্দুল মান্নান। পাবনা, চাটমোহর — পৌরসভা মেয়র প্রার্থী: খন্দকার আক্তার হোসেন। সিরাজগঞ্জ, উল্লাপাড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ আদনান। উল্লাপাড়া পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার আল-মামুন লিয়ন।

    সিলেট বিভাগ:

    হবিগঞ্জ, আজমিরীগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. কামাল আহমেদ। হবিগঞ্জ সদর — পৌরসভা মেয়র প্রার্থী: মাহবুবুল বারী চৌধুরী। মৌলভীবাজার, রাজনগর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খালেদ হাসান। কুলাউড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু রুকিয়ান। সিলেট, কোম্পানিগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ওবায়েদ আহমেদ। কানাইঘাট — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: বোরহান উদ্দিন ইউনূস। ওসমানীনগর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: হাজি মো. মোশাহিদ আলী। জৈন্তাপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: জাকারিয়া। গোয়াইনঘাট — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মনসুরুল হাসান।

    ময়মনসিংহ বিভাগ:

    শেরপুর সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া। শেরপুর সদর পৌর — মেয়র প্রার্থী: নূর ইসলাম। জামালপুর সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: অ্যাডভোকেট আবু সাইদ মো. শামিম। নেত্রকোণা, খালিয়াজুড়ি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. মুশফিকুর রহমান মিন্টু। বারহাটা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শফিকুল হক চৌধুরী (বাবলু)। নেত্রকোণা সদর — পৌরসভা মেয়র প্রার্থী: সোহাগ মিয়া প্রিতম। ময়মনসিংহ, তারাকান্দা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম। ভালুকা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: নূরুল ইসলাম। হালুয়াঘাট — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু হেলাল। ধোবাউড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. সাইফুল্লাহ।

    ঢাকা বিভাগ (উত্তর):

    কিশোরগঞ্জ সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আহনাফ সাইদ খান। তাড়াইল — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইকরাম হোসেন। করিমগঞ্জ পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: খায়রুল কবির। সাভার — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শাহাবদুল্লাহ রনি। মানিকগঞ্জ সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আরিফুল ইসলাম। দৌলতপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু আব্দুল্লাহ। টাঙ্গাইল, কালিহাতি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মেহদী হাসান। টাঙ্গাইল পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: মাসুদুর রহমান রাসেল। ভূঞাপুর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: হাসান ইমাম তালুকদার। শফিপুর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: মাওলানা আনসার আলী। নরসিংদী সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: সাইফ ইবনে সারওয়ার। গাজীপুর, কালিগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শোয়েব মিয়া।

    ঢাকা বিভাগ (দক্ষিণ):

    নারায়ণগঞ্জ, সেনারগাঁও — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: তুহিন মাহবুব। মুন্সিগঞ্জ, সিরাজদিখান — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আলী নেওয়াজ।

    ফরিদপুর বিভাগ:

    নগরকান্দা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: রেজাউল করিম সবুজ। নগরকান্দা পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: নাজমুল হুদা। ফরিদপুর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: সাইদ খান। মাদারীপুর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: মো. হাসিবুল্লাহ। গোপালগঞ্জ পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: ফেরদৌম আমেনা।

    এনসিপি জানিয়েছে যে তারা প্রার্থীদের আরও যাচাই-বাছাই করে ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত তালিকা প্রকাশ করবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিত্বে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের খোঁজে কাজ চালিয়ে যাবে। সংবাদ সম্মেলনে দলের নেতারা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ ও স্থানীয় উন্নয়নের অঙ্গীকার পুনরায় জোর দিয়েছেন।

  • এনসিপি প্রথম ধাপে ১০০ প্রার্থী ঘোষণা: ৫০ উপজেলা চেয়ারম্যান, ৫০ পৌরসভা মেয়র

    এনসিপি প্রথম ধাপে ১০০ প্রার্থী ঘোষণা: ৫০ উপজেলা চেয়ারম্যান, ৫০ পৌরসভা মেয়র

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আংশিক প্রার্থীতার ঘোষণা দিয়েছে — আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রাথমিকভাবে ১০০ জনকে সমর্থন ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার (১০ মে) বিকেলে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এসব প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন।

    সারজিস আলম জানান, বর্তমান ধাপটি প্রাথমিক। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংশ্লিষ্ট হাজারেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছিল; সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করে আজ ১০০ জনকে এনসিপি সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভা মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঈদের আগেই—এই মাসের ২০ তারিখে—দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০০ জনের নাম ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং এভাবে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে যাওয়ার কাজ চলবে।

    প্রার্থীতার দিকনির্দেশনা সম্পর্কে সারজিস আলম আরও বলেন, এনসিপিতে যারা বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন বা যারা অন্য কোনো রাজনৈতিক দল থেকে আসতে চান—তাদেরও আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে আবেদনকারীদের ব্যাপকভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে; যাদের বিরুদ্ধে মানুষের ওপর অত্যাচার বা সাজানো অপরাধ, ফ্যাসিস্ট বা অপরাধীদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য নেই, এমন প্রার্থীদের সুযোগ প্রদানের চেষ্টা করবে দল।

    ঘোষিত ১০০ প্রার্থীর মধ্যে ৫০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৫০ জন পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী রয়েছেন। নিচে বিভাগভিত্তিক ঘোষিত প্রার্থীদের নাম দেয়া হলো:

    খুলনা বিভাগ: কুষ্টিয়ার কুমারখালি — অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম বাদশা (উপজেলা চেয়ারম্যান), ভেড়ামারা — জান্নাতুল ফেরদৌস টনি (উপজেলা চেয়ারম্যান), বাগেরহাট চিতলমারি — ইশতিয়াক হোসেন (উপজেলা চেয়ারম্যান), ফকিরমারি — লাবিব আহমেদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), মোংলা — মেয়র প্রার্থী মো. রহমত উল্লাহ, বাগেরহাট — মেয়র প্রার্থী সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার, যশোর বাঘারপাড়া — ইয়াহিয়া জিসান (উপজেলা চেয়ারম্যান), নোয়াপাড়া — মেয়র প্রার্থী শাহজাহান কবির, খুলনা চালনা — মেয়র প্রার্থী এস এম এ রশিদ, চুয়াডাঙ্গা সদর — খায়রুল বাশার বিপ্লব (উপজেলা চেয়ারম্যান), জীবননগর — মেয়র প্রার্থী সোহেল পারভেজ, মেহেরপুর গাংনী — মেয়র প্রার্থী শাকিল আহমেদ, ঝিনাইদহ — মেয়র প্রার্থী তারেকুল ইসলাম।

    রংপুর বিভাগ: পঞ্চগড় তেঁতুলিয়া — মো. হাবিবুর রহমান হাবিব (উপজেলা চেয়ারম্যান), বোদা — শিশির আসাদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), দেবীগঞ্জ — পৌর মেয়র প্রার্থী মাসুদ পারভেজ, ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল — গোলাম মর্তুজা সেলিম (উপজেলা চেয়ারম্যান), দিনাজপুর ফুলবাড়ি — ইমরান চৌধুরী নিশাত (উপজেলা চেয়ারম্যান), বোচাগঞ্জ — মাওলানা এম এ তাফসির হাসান (উপজেলা চেয়ারম্যান), ফুলবাড়ি পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী শিহাব হোসেন, ঘোড়াঘাট — মেয়র প্রার্থী মো. আব্দুল মান্নান, হাকিমপুর — মেয়র প্রার্থী রায়হান কবির; নীলফামারীর জলঢাকা — আবু সাইদ লিয়ন (উপজেলা চেয়ারম্যান), নীলফামারী সদর — ড. কামরুল ইসলাম (উপজেলা চেয়ারম্যান), কুড়িগ্রাম সদর — মেয়র প্রার্থী মো. মাসুম মিয়া, লালমনিরহাট কালিগঞ্জ — শাহ সুলতান নাসির উদ্দিন আহমেদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), রংপুর সদর — কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মণ (উপজেলা চেয়ারম্যান), গাইবান্ধা সাদুল্লাপুর — খাদিমুল ইসলাম (উপজেলা চেয়ারম্যান)।

    রাজশাহী বিভাগ: গোদাগাড়ি — মো. আতিকুল রহমান (উপজেলা চেয়ারম্যান), চাঁপাইনবাগঞ্জ গোমস্তাপুর — আবু মাসুদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), নওগাঁ নেয়ামতপুর — বিশাল আহমেদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), বাদলগাছী — আসাদ মোর্শেদ আজম (উপজেলা চেয়ারম্যান), ধামুরহাট — পৌর মেয়র প্রার্থী মাহফুজার রহমান চৌধুরী রুবেল; বগুড়ার শিবগঞ্জ — মো. জাহাঙ্গীর আলম (উপজেলা চেয়ারম্যান), দুপচাঁচিয়া — পৌর মেয়র প্রার্থী আবু বক্কর সিদ্দিক, বগুড়া সদর — এ এম জেড শাহরিয়ার (উপজেলা চেয়ারম্যান), নাটোর সদর — পৌর মেয়র প্রার্থী আব্দুল মান্নান, পাবনা চাটমোহর — মেয়র প্রার্থী খন্দকার আক্তার হোসেন, সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ আদনান ও উল্লাপাড়া পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আল-মামুন লিয়ন।

    সিলেট বিভাগ: হবিগঞ্জ আজমিরীগঞ্জ — মো. কামাল আহমেদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), হবিগঞ্জ সদর — পৌর মেয়র প্রার্থী মাহবুবুল বারী চৌধুরী, মৌলভীবাজার রাজনগর — খালেদ হাসান (উপজেলা চেয়ারম্যান), কুলাউড়া — আবু রুকিয়ান (উপজেলা চেয়ারম্যান), সিলেট কোম্পানিগঞ্জ — ওবায়েদ আহমেদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), কানাইঘাট — বোরহান উদ্দিন ইউনূস (উপজেলা চেয়ারম্যান), ওসমানীনগর — হাজি মো. মোশাহিদ আলী (উপজেলা চেয়ারম্যান), জৈন্তাপুর — জাকারিয়া (উপজেলা চেয়ারম্যান), গোয়াইনঘাট — মনসুরুল হাসান (উপজেলা চেয়ারম্যান)।

    ময়মনসিংহ বিভাগ: শেরপুর সদর — ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া (উপজেলা চেয়ারম্যান), সদর — পৌর মেয়র প্রার্থী নূর ইসলাম, জামালপুর সদর — অ্যাডভোকেট আবু সাইদ মো. শামিম (উপজেলা চেয়ারম্যান), নেত্রকোণা খালিয়াজুড়ি — মো. মুশফিকুর রহমান মিন্টু (উপজেলা চেয়ারম্যান), বারহাটা — শফিকুল হক চৌধুরী বাবলু (উপজেলা চেয়ারম্যান), নেত্রকোণা সদর — পৌর মেয়র প্রার্থী সোহাগ মিয়া প্রিতম, ময়মনসিংহ তারাকান্দা — ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম (উপজেলা চেয়ারম্যান), ভালুকা — নূরুল ইসলাম (উপজেলা চেয়ারম্যান), হালুয়াঘাট — আবু হেলাল (উপজেলা চেয়ারম্যান), ধোবাউড়া — মো. সাইফুল্লাহ (উপজেলা চেয়ারম্যান)।

    ঢাকা বিভাগ (উত্তর): কিশোরগঞ্জ সদর — আহনাফ সাইদ খান (উপজেলা চেয়ারম্যান), তাড়াইল — ইকরাম হোসেন (উপজেলা চেয়ারম্যান), করিমগঞ্জ — পৌর মেয়র প্রার্থী খায়রুল কবির, সাভার — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহাবদুল্লাহ রনি, মানিকগঞ্জ সদর — আরিফুল ইসলাম (উপজেলা চেয়ারম্যান), দৌলতপুর — আবু আব্দুল্লাহ (উপজেলা চেয়ারম্যান), টাঙ্গাইল কালিহাতি — মেহদী হাসান (উপজেলা চেয়ারম্যান), টাঙ্গাইল পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী মাসুদুর রহমান রাসেল, ভূঞাপুর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী হাসান ইমাম তালুকদার, শফিপুর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী মাওলানা আনসার আলী, নরসিংদী সদর — সাইফ ইবনে সারওয়ার (উপজেলা চেয়ারম্যান), গাজীপুর কালীগঞ্জ — শোয়েব মিয়া (উপজেলা চেয়ারম্যান)।

    ঢাকা বিভাগ (দক্ষিণ): নারায়ণগঞ্জ সেনারগাঁও — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী তুহিন মাহবুব, মুন্সিগঞ্জ সিরাজদিখান — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আলী নেওয়াজ।

    ফরিদপুর বিভাগ: নগরকান্দা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী রেজাউল করিম সবুজ, নগরকান্দা পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী নাজমুল হুদা, ফরিদপুর — পৌর মেয়র সাইদ খান, মাদারীপুর — পৌর মেয়র প্রার্থী মো. হাসিবুল্লাহ, গোপালগঞ্জ — পৌর মেয়র প্রার্থী ফেরদৌম আমেনা।

    এনসিপি জানিয়েছে, প্রাথমিক তালিকা প্রকাশের পর যাচাই-বাছাই এবং ফাইনাল সিদ্ধান্ত নেয়ার কাজ চলবে; পরে চাইলে আরও প্রার্থী যোগ করা হবে। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুগোপযোগী ও গ্রহণযোগ্য লোকদের মাঠে নামানোই তাদের উদ্দেশ্য।

  • মিয়া গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ: সরকার উন্নয়নে চরম বৈষম্য করছে

    মিয়া গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ: সরকার উন্নয়নে চরম বৈষম্য করছে

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, উন্নয়নের কাজে সরকার জেলায়ভিত্তিকভাবে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। তিনি বললেন, উত্তরাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করা সবচেয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত হবে। এটি বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দাবি; নির্বাচিত এলাকার স্বার্থের কথা ভেবে যদি বিমানবন্দর অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়, তা হলে তা অসাম্য-ন্যায়হীনতা হবে।

    শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে পঞ্চগড়গামী একটি ইউএস-বাংলা ফ্লাইটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নামার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তার সঙ্গে ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দुल হালিম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এড. আতিকুর রহমান ও সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী।

    গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকা এমপিদের নির্বাচনী এলাকার প্রাধান্য দিয়ে নতুন উপজেলা তৈরী বা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হচ্ছে। কিন্তু জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনায় এসব উন্নয়ন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সমানভাবে হওয়া উচিত ছিল।

    তিনি বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, ‘‘প্রবাদ আছে, যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ — এখন বাস্তবেও সেটাই দেখা যাচ্ছে। বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে সেই চরিত্রটা ধারণ করেছে। তারা ৭০ ভাগ জনমতকে উপেক্ষা করে প্রতারণার রাজনীতিতে লিপ্ত হচ্ছে। যারা নির্বাচনের আগে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ছিলেন, তারা এখন গণভোটের ফল অস্বীকার করছেন। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে গণভোটের রায় মানছে না সরকার; এটা জনগণের সঙ্গে বড় ধরনের প্রতারণা।’’ তিনি বলেন, বিএনপি জনস্বার্থে ব্যাকপাস খেলায় সরাসরি ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে, যা দেশেও ক্ষতিকর হতে পারে।

    সংবাদমাধ্যমকে ইঙ্গিত করে গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় যারা স্বাধীন সাংবাদিকতার কথা বলেছিলেন, এখন তাদের মধ্য থেকেই বিভিন্ন মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ, সাংবাদিক বরখাস্ত ও হয়রানির মতো কর্মকাণ্ড দেখা যাচ্ছে। বিশেষত সরকারের সমালোচক সাংবাদিকদের টার্গেট করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

    বিমানবন্দরে গোলাম পরওয়ার ও তার সফরসঙ্গীদের ফুলে শুভেচ্ছা জানান নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম এবং জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মনিরুজ্জামান জুয়েল। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের আমির শফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম, শহর আমির শরফুদ্দিন খান, সেক্রেটারি মাওলানা ওয়াজেদ আলী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের শহর সভাপতি আব্দুল মোমিনসহ শতাধিক নেতা-কর্মী।

    সবশেষে তিনি এবং তার সফরসঙ্গীরা সড়কপথে পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

  • এনসিপি ঘোষণা করলো ১০০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী

    এনসিপি ঘোষণা করলো ১০০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রাথমিকভাবে ১০০টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। রোববার (১০ মে) বিকেলে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ৫০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৫০ জন পৌরসভা মেয়রপ্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেন।

    সারজিস আলম জানান, নির্বাচনের জন্য হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করে প্রথম ধাপে ১০০ জনের নাম ঘোষণা করা হলো। তিনি বলেন, “ঈদের আগেই—অর্থাৎ এই মাসের ২০ তারিখে—দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০০ জন প্রার্থীর নাম প্রকাশ করার আশা রাখছি। আমাদের নাম ঘোষণা প্রক্রিয়া চলতেই থাকবে।”

    মন্ত্রী বলেন, এনসিপি শুধুমাত্র নিজেদের ক্যাডারই নয়; দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে যারা জনগণের মধ্যে গ্রহণযোগ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার বা অন্যায় কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না—এসব ক্ষেত্রে অন্য রাজনৈতিক দল থেকে কেউ আবেদন করলে তাদেরও সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। “আমরা সার্বিক যাচাই-বাছাই করে উপযুক্তপ্রার্থীদের গ্রহণ করবো,” তিনি যোগ করেন।

    এনসিপি ঘোষিত প্রার্থীদের বিভাগভিত্তিক তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

    খুলনা বিভাগ

    কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম বাদশা;

    ভেড়ামারা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: জান্নাতুল ফেরদৌস টনি;

    বাগেরহাট চিতলমারি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইশতিয়াক হোসেন;

    ফকিরমারী উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: লাবিব আহমেদ;

    মোংলা পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: মো. রহমত উললা;

    বাগেরহাট পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার;

    যশোর বাঘারপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইয়াহিয়া জিসান;

    নোয়াপাড়া পৌরসভায় মেয়রপ্রার্থী: শাহজাহান কবির;

    খুলনা চালনা পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: এস এম এ রশিদ;

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খায়রুল বাশার বিপ্লব;

    জীবননগর পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: সোহেল পারভেজ;

    মেহেরপুর গাংনী পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: শাকিল আহমেদ;

    ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: তারেকুল ইসলাম।

    রংপুর বিভাগ

    পঞ্চগড় তেঁতুলীয়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. হাবিবুর রহমান হাবিব;

    বোদা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শিশির আসাদ;

    দেবীগঞ্জ পৌরমেয়রপ্রার্থী: মাসুদ পারভেজ;

    ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: গোলাম মর্তুজা সেলিম;

    দিনাজপুর ফুলবাড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইমরান চৌধুরী নিশাত;

    বোচাগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মাওলানা এম এ তাফসির হাসান;

    ফুলবাড়ি পৌরসভায় মেয়রপ্রার্থী: শিহাব হোসেন;

    ঘোড়াঘাট পৌরমেয়রপ্রার্থী: মো. আব্দুল মান্নান;

    হাকিমপুর পৌরমেয়রপ্রার্থী: রায়হান কবির;

    নীলফামারী জলঢাকা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু সাইদ লিয়ন;

    নীলফামারী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ড. কামরুল ইসলাম;

    কুড়িগ্রাম সদর পৌরমেয়রপ্রার্থী: মো. মাসুম মিয়া;

    লালমনিরহাট কালিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শাহ সুলতান নাসির উদ্দিন আহমেদ;

    রংপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মণ;

    গাইবান্ধা সাদুল্লাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খাদিমুল ইসলাম।

    রাজশাহী বিভাগ

    গোদাগাড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. আতিকুল রহমান;

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ গোমস্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু মাসুদ;

    নওগাঁ নেইমতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: বিশাল আহমেদ;

    বাদলগাছী উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আসাদ মোর্শেদ আজম;

    ধামুরহাট পৌরমেয়রপ্রার্থী: মাহফুজার রহমান চৌধুরী রুবেল;

    বগুড়া শিবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. জাহাঙ্গীর আলম;

    দুপচাঁচিয়া পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: আবু বক্কর সিদ্দিক;

    বগুড়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: এ এম জেড শাহরিয়ার;

    নাটোর সদর পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: আব্দুল মান্নান;

    পাবনা চাটমোহর পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: খন্দকার আক্তার হোসেন;

    সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ আদনান;

    উল্লাপাড়া পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার আল-মামুন লিয়ন।

    সিলেট বিভাগ

    হবিগঞ্জ আজমিরিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. কামাল আহমেদ;

    হবিগঞ্জ সদর পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: মাহবুবুল বারী চৌধুরী;

    মৌলভীবাজার রাজনগর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খালেদ হাসান;

    কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু রুকียน;

    সিলেট কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ওবায়েদ আহমেদ;

    কানাইঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: বোরহান উদ্দিন ইউনূস;

    ওসমানীনগর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: হাজি মো. মোশাহিদ আলী;

    জৈন্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: জাকারিয়া;

    গোয়াইনঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মনসুরুল হাসান।

    ময়মনসিংহ বিভাগ

    শেরপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া;

    শেরপুর সদর পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: নূর ইসলাম;

    জামালপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: অ্যাডভোকেট আবু সাইদ মো. শামিম;

    নেত্রকোনা খালিয়াজুড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. মুশফিকুর রহমান মিন্টু;

    বারহাট্টা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শফিকুল হক চৌধুরী বাবলু;

    নেত্রকোণা সদর পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: সোহাগ মিয়া প্রিতম;

    ময়মনসিংহ তারাকান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম;

    ভালুকা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: নূরুল ইসলাম;

    হালুয়াঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু হেলাল;

    ধোবাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. সাইফুল্লাহ।

    ঢাকা বিভাগ (উত্তর)

    কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আহনাফ সাইদ খান;

    তাড়াইল উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইকরাম হোসেন;

    করিমগঞ্জ পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: খায়রুল কবির;

    সাভার উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শাহাবদুল্লাহ রনি;

    মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আরিফুল ইসলাম;

    দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু আবদুল্লাহ;

    টাঙ্গাইল কালিহাতি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মেহদী হাসান;

    টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: মাসুদুর রহমান রাসেল;

    ভূঞাপুর পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: হাসান ইমাম তালুকদার;

    শফিপুর পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: মাওলানা আনসার আলী;

    নরসিংদী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: সাইফ ইবনে সারওয়ার;

    গাজীপুর কালীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শোয়েব মিয়া।

    ঢাকা বিভাগ (দক্ষিণ)

    নারায়ণগঞ্জ সেনারগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: তুহিন মাহবুব;

    মুন্সিগঞ্জ সিরাজদিখান উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আলী নেওয়াজ।

    ফরিদপুর বিভাগ

    নগরকান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: রেজাউল করিম সবুজ;

    নগরকান্দা পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: নাজমুল হুদা;

    ফরিদপুর পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: সাইদ খান;

    মাদারীপুর পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: মো. হাসিবুল্লাহ;

    গোপালগঞ্জ পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: ফেরদৌম আমেনা।

    এনসিপি বলেছে যে প্রাথমিক তালিকা ঘোষণার মধ্য দিয়ে তাদের প্রার্থিতা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং পরবর্তী ধাপে আরও প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। দলটি যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় রেখে প্রার্থীদের বাছাই করে নেওয়ার ব্যাপারে জোর দিয়েছে, এবং অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্যরাও শর্তসাপেক্ষে আবেদন করতে পারবে, যদি তারা দলের নীতিমালা ও যাচাই-বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হন।

  • সরকারের দমননীতির বিরুদ্ধে নাহিদ ইসলামের কড়া অভিযোগ

    সরকারের দমননীতির বিরুদ্ধে নাহিদ ইসলামের কড়া অভিযোগ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, জুলাই সনদ এবং সাংবিধানিক সংস্কার ইস্যুতে সরকার টালবাহানা করছে। তিনি শনিবার (৯ মে) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘সংস্কারে অচলাবস্থা সমাধানে করণীয় কী’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই সনদ নিয়ে সরকার দেরি করে যাচ্ছে এবং এ বিষয়টি এড়ানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু দেশের জনগণের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা এবং সার্বভৌম ক্ষমতার ভিত্তিতে সাংবিধানিক সংস্কার হওয়া জরুরি।’ তিনি দ্রুত গণভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ‘সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল’ গঠনের দাবি জানান।

    বিরোধীদলীয় এই নেতা আরো বলেন, ‘নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির শীর্ষ নেতারা গণভোটের পক্ষে প্রচার চালিয়েও, এখন ক্ষমতায় আসার পর সেটি প্রত্যাখ্যান করছে। এতে বোঝা যায়, তারা দেশের জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করছে।’

    নাহিদ ইসলাম আরো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সংসদে ও বাইরে আলোচনা চালিয়ে যাব, পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সংগঠিত হবে। যদি সরকার ইতিবাচক কোনো সাড়া দেয় না, তবে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে এই দাবি আদায় করা হবে।’

  • তথ্যহীন এলাকায় উন্নয়ন কেমন হবে, প্রশ্ন গোলাম পরওয়ারের

    তথ্যহীন এলাকায় উন্নয়ন কেমন হবে, প্রশ্ন গোলাম পরওয়ারের

    প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা ছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলে কি প্রকৃত উন্নয়ন হবে না—এই প্রশ্নটি তুলে ধরেছেন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ভবনে বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লয়িজ লীগের কেন্দ্রীয় দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ ধরণের প্রশ্ন করেন।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘যে এলাকার নেতারা প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা আইনমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকবেন না, সেই এলাকার উন্নয়ন কি অনিবার্যভাবে বাতিল হবে? উন্নয়নে বৈষম্য রোধ করতে হলে দেশব্যাপী জরিপ চালাতে হবে। কোথায় রেল or সড়ক যোগাযোগ দরকার, সেটি নির্ধারণ করে ন্যায্য ও মানবিক সমাজ গড়ার জন্য সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করা জরুরি।’

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘জুলাই আন্দোলনের সময় যে শহীদরা রক্ত দিয়েছে, তাদের ত্যাগের কারণে আজকের সরকার ক্ষমতায় আসছে। কিন্তু আবারো দেখা যাচ্ছে, একই বৈষম্যমূলক সমাজ গড়ে উঠছে। রক্তক্ষরণে অর্জিত এই ক্ষমতা যেন সত্যিকার অর্থে মানুষের জন্য কর্মক্ষেত্র তৈরি করে না।’

    দেশের রেল যোগাযোগের দুরবস্থার জন্য দুর্নীতিকেই দায়ী করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে রেল যোগাযোগ দ্রুত উন্নত হচ্ছে—এমন সময় আমাদের এই খাতটি পিছিয়ে পড়েছে। এখনও পর্যন্ত আমরা এই সেতু, রেললাইন বা আধুনিকায়ন করতে পারিনি। ভবিষ্যতের বাজেটে রেলসেবা উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ও শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবিদাওয়া মানা জরুরি।’

    তিনি আরো বলছেন, ‘বাংলাদেশ এখন নিজের সিদ্ধান্তে চলবে এবং কোনো বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ বা ‘প্রেসক্রিপশন’ মেনে নেবে না। দেশকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাখতে হলে বহির্বিশ্বের চাপ ও আধিপত্য বন্ধ করতে হবে।’

    শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকারের কথা উল্লেখ করে তিনি সরকারকে কঠোর সমালোচনা করেন। বলেন, ‘শ্রমিকের ট্রেড ইউনিয়নের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে। একটি কারখানায় তিনটির বেশি সংগঠন নিবন্ধিত হতে পারবে না; এ নিয়ম শ্রমিক অধিকারকে সংকুচিত করছে। নতুন নিয়মে যেহেতু সংগঠনের সংখ্যা কমে আসছে, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি ও আলোচনার সুযোগ কমে যাচ্ছে। এই নীতির পরিবর্তন প্রয়োজন যেখানে কারখানার আকার অনুযায়ী সংগঠনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, যাতে শ্রমিকরা অধিক সহজে তাদের দাবি উঠাতে পারে।’

  • মির্জা ফখরুলের মতে, সমাজ অস্থির রাখতে চায় হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী

    মির্জা ফখরুলের মতে, সমাজ অস্থির রাখতে চায় হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে একটি হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী রয়েছে যারা বারবার সমাজকে অস্থিতিশীল করতে চায়। তারা সারাক্ষণ হতাশ হয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন সময় সমাজের শান্তি ও স্থিতিশীলতা ভেঙে দিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চাই। মির্জা ফখরুল স্পষ্ট করেছেন, তিনি কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির কথা বলছেন না, বরং এই পরিস্থিতির পেছনে লুকানো চক্রান্তের কথা উল্লেখ করছেন। আমাদের রাজনীতি এখন অনেকটাই অস্পষ্ট ও দুর্নীতিপূর্ণ হয়ে গেছে। বারবার মানুষের পরিবর্তনের জন্য সংগ্রাম করতে হয়, জীবন উৎসর্গ করতে হয়, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেই পরিবর্তন আসছে না।

    শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে নওগাঁর আত্রাইয়ের পতিসর রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে, যার সৌন্দর্য্য ও ঐতিহ্য রবীন্দ্রনাথের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকীর স্মৃতিবিজড়িত, জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের মূল পরিচয় আমরা বাংলাদেশি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি, এই ইতিহাস আমরা মাথায় রাখতে হবে। নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি এবং দীর্ঘ সংগ্রামের ফলেই আমরা গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছি। এই ইতিহাস আমাদের অহংকারের বিষয়।

    তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি জুলাই মাসে যে স্বাধীনতা যুদ্ধের ঝাঁকুনি দিয়ে গিয়েছে, সেই দুর্যোগের বিরুদ্ধে সবাই একসাথে লড়াই করেছে। এ সময় নতুন নির্বাচন হয়েছে, তাতে মানুষ নতুন সরকারের প্রত্যাশা পোষণ করছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, যারা দেশের অসারতা ও দুর্বলতা সৃষ্টি করছে, তারা দেশকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে। বিদেশি লুটপাট, অর্থনীতি ধ্বংস, ব্যাংক ও প্রশাসনকে দুর্বৃত্তায়ন—এসবের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কিছু চক্রান্তকারীরা এ পরিবর্তনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে চায়। আমরা চাই না দেশে কোনো ধরণের গোলযোগ বা অশান্তি হোক।

    বিএনপি মহাসচিবও বক্তৃতায় রবীন্দ্রনাথের জীবন ও কর্মের ভূমিকার কথা উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশা দেখে ব্যাংক স্থাপন করেছিলেন এবং আধুনিক কৃষি পদ্ধতি চালু করে কৃষিকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছিলেন। কবি যতই সাধারণ জীবনের মানুষ থাকুন না কেন, তাঁর সাহিত্য ও কর্মের গুরুত্ব অপ্রতিরোধ্য। রবীন্দ্রনাথের লেখা ‘গীতাঞ্জলি’ বিশ্বে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল, তিনি বিশ্বমানবতার কবি। আমি মনে করি, রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিকে সারাজীবন গ্রহণ করেও আমরা নতুন নতুন অর্থ ও শিক্ষা লাভ করতে পারি।

    রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে, উপস্থিত ছিলেন ভৌমমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, সংসদ সদস্যরা শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু, মোস্তাফিজুর রহমান, এনামুল হক, ফজলে হুদা, ইকরামুল বারী টিপু, জাহিদুল ইসলাম ধলু, এম মুশফিকুল ফজল, ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

    আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত পতিসরে উৎসবের আবহে দিনভর রবীন্দ্রপ্রিয় দর্শনার্থীরা ভিড় জমিয়েছেন। স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় আবৃত্তি, রবীন্দ্রসংগীত, নৃত্য ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন বহু মানুষ।

  • গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ: সরকারের উন্নয়নে বৈষম্য প্রকট

    গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ: সরকারের উন্নয়নে বৈষম্য প্রকট

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে চরম বৈষম্যমূলক আচরণ দেখা যাচ্ছে। তিনি বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের করে তোলা সবচেয়ে যৌক্তিক দাবি বলে মনে করেন। এই দাবি দীর্ঘদিন ধরে রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের মানুষগুলো করে আসছেন। যদি শুধুমাত্র নির্বাচিত এলাকা বিবেচনা করে কোনও নতুন অবস্থান নির্ধারণ করা হয়, তাহলে সেটি অবশ্যই গ্রহণযোগ্য হবে না, বরং তা একতরফা অন্যায় হবে।

  • এনসিপির প্রাথমিক দাবি: ১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা

    এনসিপির প্রাথমিক দাবি: ১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা

    আজ রোববার (১০ মে) বিকেলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তার অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনের জন্য প্রাথমিকভাবে ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। দলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম প্রার্থীদের নাম পরিচিত করেছেন এবং জানান, এই প্রথম দফায় তারা ১০০ জন প্রার্থী ঘোষণা করেছেন।

    সারজিস আলম বলেছেন, ‘খুব বেশি সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছিল—হাজারের বেশি। আমরা সেগুলো থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রাথমিকভাবে ১০০ জনের নাম ঘোষণা করছি। আশা করছি, ঈদের আগেই ২০ মে তারিখের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০০ প্রার্থী ঘোষণা থাকবে। এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সারা দেশ থেকে যারা বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বে আছেন, নেতৃত্ব দিচ্ছেন কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নেই, যাদের বিরুদ্ধে জুলুম বা ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে কারো সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ নেই; তারা যেকোনো রাজনৈতিক দলের হোক বা অন্য কেউ, তারা এনসিপির প্রার্থী হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। যাচাই-বাছাই শেষে অন্য কোন দল থেকে কেউ যোগ চাইলে তা স্বাভাবিকভাবে বিবেচনা করা হবে।’

    প্রতিনিধিত্বশীল এই তালিকায় মোট ১০০ প্রার্থী রয়েছেন—যার মধ্যে ৫0 জন উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ৫০ জন পৌর মেয়র প্রার্থী। বিভাগ অনুযায়ী প্রার্থীদের নাম এখানে তুলে ধরা হলো:

    খুলনা বিভাগে কুমারখালী উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম বাদশা, ভেড়ামারা জান্নাতুল ফেরদৌস টনি, চিতলমারী ইশতিয়াক হোসেন, ফকিরমারী লাবিব আহমেদ, মঙ্গলপুর মো. রহমত উল্লাহ, বাগেরহাট পৌরসভার মেয়র সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার, যশোরের বাঘারপাড়ার ইয়াহিয়া জিসান, নোয়াপাড়ার শাহজাহান কবির, খুলনার চালনা থেকে এস এম এ রশিদ, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থেকে খায়রুল বাশার বিপ্লব, মেহেরপুরের গাংনী শহরে সোহেল পারভেজ, ঝিনাইদহের শহরে তারেকুল ইসলাম।

    রংপুর বিভাগের উজ্জ্বল প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া মো. হাবিবুর রহমান হাবিব, বোদা শিশির আসাদ, দেবীগঞ্জ মাসুদ পারভেজ, ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল গোলাম মর্তুজা সেলিম, দিনাজপুরে ইমরান চৌধুরী নিশাত, বোচাগঞ্জের মাওলানা এম এ তাফসির হাসান, ফুলবাড়ির শিহাব হোসেন, ঘোড়াঘাট মো. আব্দুল মান্নান ও হাকিমপুরের রায়হান কবির।

    নীলফামারীর জলঢাকায় আবু সাইদ লিয়ন, নীলফামারী সদরে ড. কামরুল ইসলাম, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়িতে ইমরান চৌধুরী নিশাত, লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে শাহ সুলতান নাসির উদ্দিন আহমেদ, রংপুরে কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মণ ও গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে খাদিমুল ইসলাম।

    রাজশাহীর বিভাগে রাজশাহীর গদাগাড়া মো. আতিকুল রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর, নওগাঁর নেআমতপুর, বাদলগাছীর আসাদ মোর্শেদ আজম, ধামুরহাটের মাহফুজার রহমান চৌধুরী রুবেল।

    বগুড়ার শিবগঞ্জে মো. জাহাঙ্গীর আলম, দুপচাঁচিয়ার মুন্সিগঞ্জে আবু বক্কর সিদ্দিক, বগুড়া সদরে এ. এম জেড শাহরিয়ার, নাটোরের সদর পৌরসভায় আব্দুল মান্নান, পাবনার চাটমোহরে খন্দকার আক্তার হোসেন, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ আদনান ও উল্লাপাড়া পৌরসভার মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আল-মামুন লিয়ন।

    সিলেট বিভাগে হবিগঞ্জের আজমিরিগঞ্জ মো. কামাল আহমেদ, হবিগঞ্জ সদর পৌরসভার মাহবুবুল বারী চৌধুরী, মৌলভীবাজারের রাজনগর খালেদ হাসান, কুলাউড়ার আবু রুকিয়ান, সিলেটের কোম্পানিগঞ্জ ও ওবায়েদ আহমেদ, কুনালগঞ্জের ভবানীপুরে বোরহান উদ্দিন ইউনূস, ওসমানী নগরে হাজি মো. মোশাহিদ আলী, জৈন্তাপুরে জাকারিয়া ও গোয়াইনঘাটে মনসুরুল হাসান।

    ময়মনসিংহ বিভাগের প্রার্থীদের মধ্যে শেরপুরের ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া, নূর ইসলাম, জামালপুরের অ্যাডভোকেট আবু সাইদ শামিম, নেত্রকোণার খালিয়াজুড়ি মো. মুশফিকুর রহমান মিন্টু, বারহাট্টার শফিকুল হক চৌধুরী বাবলু, নেত্রকোণা সদরে সোহাগ মিয়া প্রিতম, ময়মনসিংহের তারাকান্দার ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম, ভালুকার নূরুল ইসলাম, হালুয়াঘাটের আবু হেলাল ও ধোবাউড়ার মো. সাইফুল্লাহ।

    উত্তর ঢাকা বিভাগের প্রার্থীদের মধ্যে কিশোরগঞ্জের আহনাফ সাইদ খান, তাড়াইলের ইকরাম হোসেন, করিমগঞ্জের খাইরুল কবির, ঢাকার সাভার শাহাবদুল্লাহ রনি, মানিকগঞ্জের আরিফুল ইসলাম, দৌলতপুরের আবু আব্দুল্লাহ, টাঙ্গাইলের কালিহাতির মেহদী হাসান, টাঙ্গাইল পৌরসভার মাসুদুর রহমান রাসেল, ভূঞাপুরের হাসান ইমাম তালুকদার, শফিপুরের মাওলানা আনসার আলী, নরসিংদীর সাইফ ইবনে সারওয়ার এবং গাজীপুরের কালীগঞ্জের শোবেদ মিয়া।

    অপরদিকে দক্ষিণ ঢাকা বিভাগে নারায়ণগঞ্জের সেনারগাঁওয়ে তুহিন মাহবুব এবং মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে আলী নেওয়াজ প্রার্থীরা রয়েছেন।

    ফরিদপুর বিভাগের মধ্যে নগরকান্দার রেজাউল করিম সবুজ, নগরকান্দা পৌরসভার নাজমুল হুদা, ফরিদপুরের সাইদ খান, মাদারীপুরের মো. হাসিবুল্লাহ ও গোপালগঞ্জের ফেরদৌম আমেনা উল্লেখযোগ্য প্রার্থী।