Category: রাজনীতি

  • অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করলে জনগণ তা প্রতিরোধ করবে

    অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করলে জনগণ তা প্রতিরোধ করবে

    নির্বাচন যদি ২০১৪, ২০১৮ বা ২০২৪ সালের মতো পুনরাবৃত্তিমূলকভাবে হয়, তা কখনই গ্রহণযোগ্য হবে না; এমন ধরণের নির্বাচন দেশের মানুষ মেনে নেবে না — মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডাঃ সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। মঙ্গলবার মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডাঃ তাহের সতর্ক করে বলেন, কেউ যদি অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তা করে, সেটা দুঃস্বপ্নের মতোই থেকে যাবে। জনগণ তা আবারও প্রতিরোধ করবে এবং আন্দোলনের মাধ্যমে সেই শক্তিকে পতিত করবে।

    তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সদস্যদের মধ্যে নারীর অংশগ্রহণ প্রায় ৪৩ শতাংশ এবং সদস্যসংখ্যা দেড় কোটির কম নয়। রাজনৈতিক দলসমূহে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখার আরপিওর বিধান পূরণ করতে সক্ষম একমাত্র দলই তারা। এরপরও অনেকে অপপ্রচারের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীকে নারী বিষয়ে অগ্রাহ্য প্রদর্শনের চেষ্টা করছেন; যা বাস্তবে সঠিক নয় — এমনটাই তার মন্তব্য।

    নির্বাচন যে অত্যন্ত নিকটে এসেছে বলেই উল্লেখ করে ডাঃ তাহের বলেন, এই নির্বাচনে জামায়াতের নারী সদস্যরা অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা গ্রহন করছেন। পুরুষ কর্মীদের পাশাপাশি নারীরাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং ভোট চাইছেন।

    দলের পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে সারাদেশে নারী ভোটাররাই জামায়াতকে বেশি সমর্থন দেবেন বলে তাদের মূল্যায়ন। কারণ, মহিলারা শান্তিপ্রিয় এবং বিশৃঙ্খলা ও উগ্রতাকে পছন্দ করেন না। নিজের নির্বাচনী এলাকা চৌদ্দগ্রামেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নারীদের ভোট পুরুষদের চেয়ে বেশি পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ।

    তাহের অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষরা জামায়াতের নারীরা যতটা সক্রিয় হয়েছে তা sehen অনিশ্চিত হয়ে তাদের কর্মক্ষমতাকে থামাতে নারীদের ওপর আক্রমণ ও হেনস্তা শুরু করেছে। ভয়-ভীতি দেখিয়ে একটি ভীতিকর পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে নারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে; বক্তৃতায় জিহ্বা কেটে ফেলার হুমকি এবং ‘‘জামায়াতকে ভোট দিলে হাত নিয়ে যাবে’’ জাতীয় ধরনের ভয়ভীতি ছড়ানো হচ্ছে।

    তিনি নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, নারীরা আমাদের মা, বোন ও কন্যা — তাদের সম্মান রক্ষা সব দাবি-দাওয়া ও রাজনৈতিক দলগুলোর হাস্যকল্প হওয়া উচিত নয়। যারা নারী অধিকার বলে চিৎকার করেন, তারাই এখন রাজনৈতিক কারণে নারীদের ওপর আক্রমণ করছেন — এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

    নির্বাচন কমিশন যে নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে, সেটাও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। ডাঃ তাহের বলেন, যদি নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হয়, তার ফলদেশ-বিদেশে গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তা জাতির ভবিষ্যৎকে অন্ধকার ও নেতিবাচক দিকে নিয়ে যাবে।

    তিনি সতর্ক করেন যে শুধু রাজনৈতিক দলগুলো নয়, সরকারেরও এখানে বড় ভূমিকা আছে; যদি জোর করে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করা হয়, তার পরিণতি আগের চেয়ে আরও ভয়াবহ হতে পারে। জামায়াতসহ সব রাজনৈতিক দলকেই দায়িত্বশীল আচরণ করে সুষ্ঠু ও নির্ভেজাল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে, নতুবা দেশের ক্ষতি হবে।

    ডাঃ তাহের আরও জানান, বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক সংঘর্ষে নারী কর্মীরা আহত ও প্রতিবন্ধিতার মুখে পড়েছেন; অনেকেই দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। কেন্দ্র দখল, হুমকি-ধামকি ও মারধরের মতো ঘটনা নির্বাচনকালীন বেশ কিছুস্থানে ঘটছে। তার মতে, জনপ্রিয়তাহীন প্রতিপক্ষরা কেন্দ্র দখল করে জেতার কৌশল বেছে নিচ্ছে এবং এধরণের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে বিজয়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে।

    শেষে তিনি পুনরায় সবাইকে আহ্বান জানান—নারী হোক বা পুরুষ, সবারই দায়িত্ব সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখা এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের উপস্থিত ছিলেন।

  • বিএনপি এত খারাপ হলে ২০০১–২০০৬ সালের ওই দুই মন্ত্রী কেন পদত্যাগ করেননি: তারেক রহমান

    বিএনপি এত খারাপ হলে ২০০১–২০০৬ সালের ওই দুই মন্ত্রী কেন পদত্যাগ করেননি: তারেক রহমান

    বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যারা এখন বিতর্কিত এক দল বদলা‑খোঁজা স্বৈরাচারের ভাষা ব্যবহার করে বিএনপির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলছে, তারা মিথ্যা বলছে। তাঁর প্রশ্ন ছিল—বিএনপি যদি সত্যিই এতই দুর্নীতিগ্রস্ত হত, তবে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সময়ে ওই সরকারের құрамে থাকা তাদের দুইজন মন্ত্রী কেন তখন পদত্যাগ করেননি?

    মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ জেলা সার্কিট হাউস মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। মঞ্চে ওঠেন বিকাল ৪টা ৩ মিনিটে পরিচালক স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানসহ। জনসভায় উপস্থিত লোকদের প্রতি সালাম জানিয়ে বক্তব্য শুরু করেন বিকাল ৪টা ২৬ মিনিটে এবং ধানের শীষের পক্ষে মত চাইতে তিনি বক্তব্য শেষ করেন বিকাল ৪টা ৫২ মিনিটে। এর পর তার গাড়িবহর গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।

    বক্তৃতার সময় তিনি ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি সংসদীয় আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের মঞ্চে দাঁড় করিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি বলেন, “তৎকালীন সরকারের সেই দুই মন্ত্রী জানতেন বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিতেন না, তাই তারা পদত্যাগ করেনি।” তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানও দেখায় যে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারের সময় দেশ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত ছিল, কিন্তু ২০০১ সালে যখন বেগম খালেদা জিয়া দায়িত্ব নেন, তখন থেকেই দুর্নীতি দমন শুরু হয়।

    তারেক রহমান এমন কোনো দলকে তীব্রভাবে নিন্দা করেন যারা এখন বিএনপিকে দোষারোপ করে—তার যুক্তি, সরকারের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত ওই দলের দুই মন্ত্রীর পদে থাকা নিজেই তাদের বক্তব্যের মিথ্যা প্রমাণ।

    নেতাকর্মীদের প্রতি তিনি ভোটের গুরুত্ব নিয়ে অনুরোধ করে বলেন, ভোটের দিন সবাই তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে কেন্দ্র গিয়েই ফজরের নামাজ আদায় করবেন। এরপর লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেবেন; কেবল ভোট দিয়ে চলে এসে নয়, ভোটের ফলাফল লক্ষ্য করে থাকতে হবে যাতে কেউ আমাদের ভোট লুট করতে না পারে।

    আগামী ১২ তারিখ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের পর আবার খাল খনন কর্মসূচিতে সবাইকে নিয়ে মিলিত হবেন—সেদিন সবাই কোদাল নিয়ে সামনে হাজির হবে এবং তিনি নিজেও থাকবেন।

    নেতৃত্ব আগমনের আগে-পরেই স্থানীয় নেতাকর্মীরা স্লোগান দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। উপস্থিতরা “তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম” ও “আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান” স্লোগান দেন এবং মঞ্চে তাঁর প্রতি লাল গোলাপ তুলে শ্রদ্ধা জানানো হয়। মঞ্চে ওঠার আগে স্থানীয় নেতারা ময়মনসিংহের তারাকান্দাকে পৌরসভা করার দাবি জানান।

    মঞ্চে ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসনের ধানের শীষ প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন; তাদের মধ্যে ছিলেন ইকবাল হোসেন, সুলতানা আহমেদ বাবু, মোতায়ের হোসেন বাবু, মাহমুদুল হক, ফরিদুল কবির তালুকদার, সিরাজুল হক, মাহবুব রহমান লিটন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু ও লুৎফুরজ্জামান বাবর। প্রার্থীরা নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করার দাবি জানান এবং সমর্থকদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

    লোকজন ‘নৌকা গেছে ভারতে, ধানের শীষ গদিতে’ শ্লোগান দেন। লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, “আমরা ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসন তারেক রহমানকে উপহার দিতে চাই এবং ভবিষ্যতে তাঁকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।”

  • বিএনপি এতই খারাপ হলে দুই মন্ত্রী কেন পদত্যাগ করেননি: তারেক রহমান

    বিএনপি এতই খারাপ হলে দুই মন্ত্রী কেন পদত্যাগ করেননি: তারেক রহমান

    বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, যদি বিএনপি সত্যিই এতটাই দুর্নীতিপর ছিল, তাহলে ২০০১-২০০৬ সময়ে সরকারের ক্যাবিনেটে থাকা ওই দলের দুই মন্ত্রী কেন তখনই পদত্যাগ করেননি। ময়মনসিংহে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) জেলা সার্কিট হাউস মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ প্রশ্ন তোলেন এবং পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারদের অভিযোগকে খাটো করে বলেন যে তারা মিথ্যা দাবি করে চলেছে।

    বিকাল ৪টা ৩ মিনিটে স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানসহ মঞ্চে উঠে তিনি ৪টা ২৬ মিনিটে উপস্থিত সমর্থকদের কাছে সালাম জানান এবং ৪টা ৫২ মিনিটে ধানের শীষ প্রতীরকের পক্ষে ভোট চাইবার মধ্য দিয়ে বক্তব্য শেষ করেন। সভার শেষকালে তার গাড়িবহর গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।

    তারেক রহমান বলেন, ওই দুই মন্ত্রী পদত্যাগ করেনি কারণ তারা জানতেন বঙ্গবন্ধুকন্যা বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোরভাবে কাজ করতেন। তিনি যোগ করেন, আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানও জানিয়েছে যে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী সরকারের সময় দেশের দুর্নীতি প্রকট ছিল, কিন্তু ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে দুর্নীতি দমনে কাজ শুরু হয়।

    বক্তব্যের মাঝপথে তিনি ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি সংসদীয় আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের মঞ্চে তুলে পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি নেতাকর্মীদের নির্বাচনী উদ্দেশ্য পরিষ্কারভাবে বলেন — ভোটের দিন তওবার নামাজ (তাহাজ্জুদ) পড়ে সবাইকে নিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করতে হবে, এরপর লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে হবে এবং যে কোনো অনিয়ম হলে তা লক্ষ্য করে ফলাফল রক্ষা করতে হবে যাতে কেউ আমাদের ভোট লুট করতে না পারে।

    তিনি আগামী ১২ তারিখ নির্ধারিত ভোটে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভোটের পর খাল খনন কর্মসূচিতে আবার সবাইকে নিয়ে দেখা করবেন; সেই দিনে সবাই কোদাল নিয়ে উপস্থিত হবে এবং তিনি নিজেও থাকবেন।

    সভায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা স্লোগানে তাকে স্বাগত জানান। অংশগ্রহণকারীরা ‘তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’ এবং ‘আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান’ শীর্ষক স্লোগান দেন। মঞ্চে ওঠার সময় তাকে লাল গোলাপও তুলে দেওয়া হয়। স্থানীয় নেতারা তারেক রহমানকে বসতি থেকে টারাকান্দাকে পৌরসভায় রূপান্তরের দাবি জানান।

    তারেক রহমান মঞ্চে ওঠার আগেই ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসনের ধানের শীষপ্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন। তাদের মধ্যে ছিলেন— ইকবাল হোসেন, সুলতানা আহমেদ বাবু, মোতায়ের হোসেন বাবু, মাহমুদুল হক, ফরিদুল কবির তালুকদার, সিরাজুল হক, মাহবুব রহমান লিটন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু ও লতফুরজ্জামান বাবর।

    প্রার্থীরা নিজেদের মধ্যে সব দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করার জন্য দলীয় কর্মীদের কাছে আহ্বান জানান এবং স্লোগান দেন— ‘নৌকা গেছে ভারতে, ধানের শীষ গদিতে’। লতফুরজ্জামান বাবর বলেন, “আমরা ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসন তারেক রহমানকে উপহার দিতে চাই এবং ভবিষ্যতে তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।”

  • দুর্নীতির লাগাম টানতে বিএনপির স্পষ্ট পরিকল্পনা আছে: তারেক রহমান

    দুর্নীতির লাগাম টানতে বিএনপির স্পষ্ট পরিকল্পনা আছে: তারেক রহমান

    বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের জন্য কাজ করতে হলে একটি স্থির রাজনৈতিক পরিকল্পনা প্রয়োজন এবং সেই পরিকল্পনা আছে বিএনপির। ‘বিএনপির পরিকল্পনা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে কীভাবে দেশ চলবে, কীভাবে শিক্ষার আলো ছড়ানো যাবে, আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা যাবে এবং দুর্নীতির লাগাম টানা যাবে,’ তিনি বলেন।

    মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ সার্কেট হাউস ময়দানে অনুষ্ঠিত দলের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান।

    তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৫ বছর সাধারণ মানুষ ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। সেই কারণে জনগণের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও রাস্তাঘাটের মতো মৌলিক সমস্যার পূর্ণতা হয়নি। যদি ভোটের অধিকার থাকতো, এসব সমস্যার সমাধান হত। মানুষ চায় অসুস্থ হলে সময়মতো চিকিৎসা পেতে এবং তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত থাকবে।’

    এ সময় তিনি জামায়াতে ইসলামিকে উদ্দিষ্ট করে বলেন, একটি রাজনৈতিক দল বিএনপির বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী ভাষায় কথা বলছে এবং অভিযোগ করছে বিএনপি দুর্নীতিতে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন ছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ২০০১-২০০৬ সালের বিএনপি সরকারের সময় তাদের দুজন মন্ত্রীও ছিলেন—তাহলে তারা কেন পদত্যাগ করেননি? কারণ তারা জানতেন খালেদা জিয়া দুর্নীতি দমন করেছে, এমনই বক্তব্য রাখেন তিনি।

    বিকেলের জনসভায় তার বক্তব্যের আগে জেলা ছাড়াও বিভিন্ন স্থান থেকে আসা নেতাকর্মীরা বাস ও মাইক্রোবাসে মিছিল করে মঞ্চে উপস্থিত হন। অনেকে বলেন, তারা চেয়ারম্যানকে চোখে দেখতে আগেভাগে জনসভায় জমায়েত হয়েছেন।

    এর আগে সকাল ১১ঃ০৫ মিনিটে রাজধানীর গুলশান থেকে ময়মনসিংহে নির্বাচনি জনসভায় অংশ নেয়ার উদ্দেশ্যে তারেক রহমানের গাড়িবহর রওনা হয়।

  • চরমোনাই পীর: ইনসাফ প্রতিষ্ঠার নামে দেশে ধোঁকাবাজি চলছে

    চরমোনাই পীর: ইনসাফ প্রতিষ্ঠার নামে দেশে ধোঁকাবাজি চলছে

    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) বলেছেন, বর্তমানে দেশে ‘ইনসাফ প্রতিষ্ঠার’ নাম ধরে ধোঁকাবাজি চলছে। তিনি বলেন, যে নিয়মনীতি চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে, তা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নীতির অনুকরণে গড়া।

    সোমবার দুপুরে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার নতুন বাসস্ট্যান্ড মাঠে আয়োজিত একটি নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    চরমোনাই পীর বলেন, “যে নীতিমালা এখন চালুর চেষ্টা হচ্ছে, তা Амерিকার নীতির অনুকরণে। এসব নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রকৃত ইনসাফ প্রতিষ্ঠা কখনোই সম্ভব নয়।” তিনি আরও জানান, ইসলামভিত্তিক ন্যায়বিচার ছাড়া দেশে স্থায়ী শান্তি ও সুষ্ঠু সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা যাবে না।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “সেই সময় দেশে যে ইসলামী পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল, আমি সেটাকে ইসলামের একটি ‘বাক্স’ হিসেবে দেখেছিলাম। কিন্তু এখন সেই বাক্সটি ছিনতাই হয়ে গেছে।” চরমোনাই পীর আরও দাবি করেন, “আমরা যে উদ্দেশ্যে একসঙ্গে হয়েছিলাম, সেই উদ্দেশ্য আর অবশিষ্ট নেই।”

    গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক পরিসর ও মানুষের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সেই সময় মানুষের মধ্যে ন্যায় ও ইসলামি আদর্শ প্রতিষ্ঠার ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রত্যাশা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে।”

    চরমোনাই পীর অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় যারা এসেছে তারা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ব্যবহার করে ভিন্ন পথে রাজনীতি পরিচালনা করছে। তাই তিনি জনগণকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সৎ ও ধর্মভিত্তিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে না।

  • শফিকুর রহমান: নারীদের প্রতি কুদৃষ্টি দেখলে চোখ উপড়ে ফেলা হবে

    শফিকুর রহমান: নারীদের প্রতি কুদৃষ্টি দেখলে চোখ উপড়ে ফেলা হবে

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাঃ শফিকুর রহমান বলেছেন, তারা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান যেখানে নারীদের মর্যাদা নিশ্চিত থাকবে। এজন্য তিনি সতর্ক করে বলেন — নারীদের প্রতি কুদৃষ্টি দেখলে সেই চোখ উপড়ে ফেলা হবে।

    সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের ওয়াজির আলী হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা ও উপজেলার হাজারো নেতা-কর্মী ও শুভাশ্রয়ী। সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদ হাদি ওসমানের ইনকিলাব মঞ্চসহ সেখানে উপস্থিত সবাইকে তিনি ধন্যবাদ জানালো।

    বক্তব্যে শফিকুর রহমান মায়েদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘‘মায়েদের ঋণ আমরা কখনো শোধ করতে পারব না। তাদের দিকে যারা খারাপ দৃষ্টিতে তাকাবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়া হবে।’’ তিনি বলেন, গত আন্দোলনে অনেকেই স্বামী, স্ত্রী, সন্তান, বোন ও পিতা হারিয়েছেন; তাদের কষ্ট তিনি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন এবং বলেন যারা কথাগুলো বলেছে তাদেরই পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে নির্মম আচরণ হয়েছে।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, অনেক মানুষকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে, কিছু পরিবারের এখনও তাদের প্রিয়জনের খোঁজ পাওয়া যায়নি। ‘‘অপরাধ ছিলো শুধু অন্যায়-অপশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলা—এই অভিযোগ তুলে কুসংস্কার ও অবিচারের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেন আমির।’’

    শফিকুর রহমান বলেন, বিভিন্ন স্থানে জোর করে পকেট কাটা, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ আছে; তিনি এসব ফিরে না পেলে কঠোর আচরণ করা হবে বলে জোর দেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে জামায়াত ক্ষমতায় এলে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো হবে, চাঁদাবাজি বন্ধ করা হবে এবং বেকারদের জন্য যোগ্যতা ভিত্তিক কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

    তিনি বলেন, প্রত্যেক জেলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে এবং শুধুমাত্র কলেজ না রেখে উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল গড়ে তোলা হবে। বেকারদের ভাতা দিয়ে অপমান করা হবে না, তাদের যোগ্যতা স্বীকার করে চাকুরি ও প্রশিক্ষণের সুযোগ দেয়া হবে—এই প্রতিশ্রুতি তিনি দেন।

    সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতারা ও স্থানীয় প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। বাবস্থাপনা করেন ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের আমির ও ঝিনাইদহ-২ আসনের জোট প্রার্থী মাওলানা আলী আজম মো. আবু বকর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াত কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যশোর–কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসাইন। পাশাপাশি ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) প্রার্থী এএসএম মতিউর রহমান, ঝিনাইদহ-৩ (কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর) প্রার্থী অধ্যাপক মতিয়ার রহমান এবং ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদর কিছু ইউনিয়ন) প্রার্থী মাওলানা আবু তালিবও বক্তব্য দেন।

    জনসভায় মানুষের ঢল এতটাই ছিল যে সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা আসে এবং বিকেলে মাঠ জনসঘন হয়ে ওঠে; বিভিন্ন বাহনে আনাগোনা করার ফলে শহরে এক ধরনের যানজটও তৈরি হয়েছিল। চুয়াডাঙ্গা থেকে আমিরের আগমন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় এবং তিনি ৬টা ৫৫ মিনিটে মঞ্চে এসে প্রস্তাবিত রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি ও নীতিগুলো তুলে ধরেন।

    বক্তৃতা শেষে তিনি জেলা পর্যায়ের চার প্রার্থীর পরিচয় করিয়ে দান করেন ও তাদের হাতে দাড়িপাল্লা তুলে দেন।

  • প্রতিপক্ষ নিয়ে কথা বললে জনগণের কোনো লাভ হবে না: তারেক রহমান

    প্রতিপক্ষ নিয়ে কথা বললে জনগণের কোনো লাভ হবে না: তারেক রহমান

    বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নিয়ে কথা বলে জনগণের কোনো লাভ হয় না। তিনি উল্লেখ করেন, আমি যদি আজ আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নিয়ে কথা বলতাম, তবে তা সম্ভব ছিল। কিন্তু জনগণের সুবিধার জন্য আমাদের উচিত পরিকল্পনা করে সেই সব সংকট মোকাবেলা করা—যেমন খাল খনন, স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধি, তরুণপ্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা। এসব উদ্যোগই আসলে জনগণের জন্য বাস্তব সুবিধা নিয়ে আসবে।

    রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে ফেনী শহরের সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে তিনি এ সব কথা বলেন। সেখানে তিনি দেশের মানুষের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, তিনি দেশে ফিরে দেশের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা সাজিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে, নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড প্রদান, যার মাধ্যমে প্রতিমাসে একজন গৃহিণী অল্প কিছু আর্থিক সহায়তা পাবে। তিনি বলেন, অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এই সামান্য সহায়তা দিয়ে কেমন করে পরিবার চলে? তবে আমরা নিশ্চিত, এক সপ্তাহের জন্য একটু সহযোগিতা থাকলে অনেকের জীবন সহজ হয়ে উঠবে। একইভাবে কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা দিয়ে সার, বীজ ও কীটনাশক সরাসরি farmers এর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

    ফেনীবাসীর স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা মেনে তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ আমরা একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করব। পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে একটি ব্যাপক শHealthcare system তৈরি করছি যাতে মানুষ হাসপাতালে না গিয়ে নিজের বাড়িতে রোগের চিকিৎসা পেতে পারে। এভাবে যাদের কাছে সুযোগ আছে, তারা সাধারণ মানুষদের কষ্ট কমাতে কাজ করবে।

    তারেক রহমান আরও বলেন, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য আমাদের দাবি আছে। এর পাশাপাশি আমাদের একটাই প্রত্যাশা, ধানের শীষের বিজয় হওয়া। কারণ, আমরা কি-না বলি, তা করা আমাদের কর্তব্য, এবং জনগণের সরাসরি সাহায্যেই আমাদের শক্তি।

    তিনি উল্লেখ করেন, সারা দেশে খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এক বছর আগে ফেনীসহ আশপাশের অঞ্চলগুলোতে ভয়াবহ বন্যায় থাকতে পড়েছিল, ঘরবাড়ি, ফসল ও গবাদি পশুর ব্যাপক ক্ষতি হয়। সেজন্য সারা দেশে খাল খননের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা আরও উন্নত করা হবে।

    তারেক রহমান আরও বলেন, দেশের তরুণ-তরুণীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে আমরা কProgram চালু করব। যেমন নাটোরে ইপিজেডের মতো ফেনী অঞ্চলেও উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে করে এখানকার যুবক-যুবতীরা আরও বেশি কাজের সুযোগ পাবেন।

    বক্তা বলেন, অনেক মানুষ বিদেশে অবস্থান করছে। তাদের জন্য প্রশিক্ষণ ও ভাষা শেখানোর ব্যবস্থা করে আমরা কর ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার আয়ের পথ সুগম করতে চাই। এর ফলে তারা ভালো বেতন পাবে, সেই অর্থ দেশে পাঠাতে পারবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

    সর্বশেষ তিনি বলেন, ১৫ বছর ধরে মানুষের ভোটে ভোটের অধিকার ও বাকস্বাধীনতা হরণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে সেই স্বৈরাচার পতনের পর পরিবর্তনের হাতেখড়ি হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ বিজয় হলে, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই পরিকল্পনাগুলি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। তিনি নিশ্চিত করেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণই সকল ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু।

    অবশেষে, সমাবেশে তিনি নোয়াখালীর বিভিন্ন সংসদীয় আসনের ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচিতি করিয়ে দেন। তদ্ব্যতীত, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ফেনীতে শহীদ পরিবার ও আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

  • জামায়াত আমিরের দৃঢ় দৃঢ়তা: দুর্নীতি করব না ও সহ্য করব না

    জামায়াত আমিরের দৃঢ় দৃঢ়তা: দুর্নীতি করব না ও সহ্য করব না

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্টভাবে বলেছেন, আমাদের কখনো দুর্নীতি করবেন না এবং দুর্নীতি সহ্য করব না। তিনি রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর ধূপখোলা মাঠে এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, আমরা দেশকে লুটেপুটে খাওয়ার জন্য ক্ষমতায় আসিনি। বরং আমাদের লক্ষ্য— দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয় নিশ্চিত করা। ডা. শফিকুর রহমান প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, এক দল সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে তারা দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করবে। কিন্তু সেই দলটির ৩৯ জন সংসদ সদস্য প্রার্থীই ঋণখেলাপি। কৌশলে তাদের প্রার্থী করা হয়েছে, এভাবে তারা কীভাবে দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করবে?

    নিজের পূর্ববর্তী একটি বক্তব্যের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার একটা বক্তব্য নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল, মহাসাগরে ঢেউ উঠেছিল। আমি বলেছিলাম, দেশের জনগণ একজন জালিমকে বিদায় করে আবার কারো হাতে দেশ তুলে দিতে চায় না। এই কথা কি আজ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে?”

    ভোটের দিন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, “পরবর্তী ১২ তারিখে যদি কেউ দুর্বৃত্তরা ভোটের বাক্সে হাত দেয়, তবে জনগণের সহায়তায় তাদের হাত গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।”

    দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় বা বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের বিষয়ে তিনি কড়া ভাষায় বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির জন্য যখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তখন কেউ প্রকাশ্যে হস্তক্ষেপ করছে। আমরা এই হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, অনুরোধ জানাচ্ছি— আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আর নাক গলাবেন না। এতদিন যা হয়েছে, তা টিস্যু দিয়ে মুছে ফেলেন। এখন থেকে এর পুনরাবৃত্তি হতে দেয়া হবে না। ইনশাআল্লাহ, বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে বিশ্বদরবারে দাঁড়াবে।”

    তিনি আরও বলেন, “সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকবে, তবে কারো চাপ বা আধিপত্য স্বীকার করব না। অনেকেই আমাদের দেশে নাক গলাচ্ছে; এ সব আমরা মানতে পারি না। আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়েই কোনো বিদেশি শক্তি নাক গলাতে পারবেন না।”

    অভিযুক্ত জুলাদা ১৮ কোটি দেশের নয়, বরং প্রত্যেক দেশের একেকজন মানুষের আগ্রহ। তিনি বলেন, “অবশ্যই দেশের ১৮ কোটি মানুষের স্বার্থ জড়িত এই যুদ্ধে। কাউকে বলে দেয়া যাবে না, এই যুদ্ধের মূল মাস্টাররা দেশের মানুষ— কেউ এককভাবে এই যুদ্ধের কৌশল নির্ধারণ করেনি।”

    জনগণকে তিনি আশ্বস্ত করে বলেছেন, “আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন থাকলে আমরা এগিয়ে যাব। আল্লাহর ওপর ভরসা রেখেই আমাদের বলেছি— চাঁদা নেব না, চাঁদা দেব না। দুর্নীতি করব না এবং তা সহ্য করব না।”

  • তারেক রহমানের নির্দেশ: ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র পাহারা দেবেন সমর্থকরা

    তারেক রহমানের নির্দেশ: ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র পাহারা দেবেন সমর্থকরা

    নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ভোট গণনা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা নজরদারি চালাতে নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রবিবার রাত সাড়ে ৮টায় চৌদ্দগ্রাম স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এ নির্দেশ প্রদান করেন।

    তারেক রহমান বলেন, ‘ভোটের দিন সকাল থেকেই ইবাদত পড়তে হবে। তাহাজ্জুদ নামাজ শেষে সবাই তাদের ভোট কেন্দ্রের সামনে যাবেন। সেখানে গিয়ে জামাতে ফজর নামাজ আদায় করবেন এবং এরপরই কেন্দ্রীয় পাহারায় থাকুন।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘তাহাজ্জুদের নামাজের মতো ফজর নামাজও জামাতে পড়ে ভোট কেন্দ্রের সামনে দৃঢ় উপস্থিত থাকুন। কেউ যেন কোনও ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করতে না পারে, এজন্য ভোটের পুরো কর্মকাণ্ডের আওতায় থাকুন।’ এরপর তিনি জোর দিয়ে প্রশ্ন করেন, ‘এটি কি সবাই মানতে রাজি? কেউ কি এর সাথে একমত?’ সমাবেশে উপস্থিত নেতা-কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ‘হ্যাঁ’ বললে তিনি আলহামদুলিল্লাহ বলে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

    চৌদ্দগ্রামের এই আন্দোলনমূলক সমাবেশের জন্য বিকাল থেকে নেতা-কর্মীরা গ্রাম থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সমবেত হন। পুরো মাঠ তাতে পরিপূর্ণ হয়ে যায় মাগরিবের নামাজের আগেই।

    অঞ্চলটি বর্তমানে কুমিল্লা-১১ আসন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন কামরুল হুদা, আর জামায়াতের জন্য মনোনীত সদস্য হচ্ছেন দলটির নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

    তারেক রহমান তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা যদি সরকার গঠন করতে পারি, আমাদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে কাজ শুরু করব। সম্প্রতি কিছু ব্যক্তি আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলছেন, আমরা মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছি। তবে আমি প্রশ্ন করি, আপনি কি আমাদের প্রত্যেকে চেনেন? আমি কি কি করছি, তা তো আপনি জানেন। তাহলে কেন মানুষকে ধোঁকা দেব? এর কোনও অর্থ হয় না।’

    তিনি বলেন, ‘বিএনপি আলহামদুলিল্লাহ সফলভাবে কয়েকবার সরকার পরিচালনা করেছে। আমাদের এই অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী আমাদের কাজ বাস্তবায়িত হবে। বর্তমানে একমাত্র বিএনপিই সেই দল, যারা দেশ পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা রাখে।’

    আরও তিনি চৌদ্দগ্রামকে ‘শস্য ভান্ডার এলাকা’ হিসেবে অভিহিত করে কৃষক কার্ড, মসজিদ- মাদ্রাসার ইমাম-মোয়াজ্জিনদের জন্য সরকারি সন্মাননা এবং তাদের জন্য অতিরিক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনার কথা বলেন। ভবিষ্যতে সরকার গঠন হলে চৌদ্দগ্রামে খাল খননেরও পরিকল্পনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।

    বক্তব্যের সময় তারেক রহমান স্বস্তিহীনভাবে কাশি দেন, লাল টুপি পড়ে তিনি বলেন, ‘মাথার মধ্যে ঠাণ্ডা লেগেছে, জ্বর আসছে। আমি এখন শক্তিতে ভাষণ দিতে পারছি না। একটু শান্ত হয়ে শুনুন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির নেতারা আমাদের বদনাম করছে, এটা করার কোনও সমস্যা নেই। আমরা জনস্বার্থে কাজ করছি। ভোট পেলে, আল্লাহর রহমতে, আমরা সরকার গঠন করে আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব এবং দেশের জন্য কাজ চালিয়ে যাব।’ তারেক রহমানের এই বক্তব্যের শেষে সোয়াগাজী মাঠে অন্যান্য বিএনপি প্রার্থীরাও বক্তব্য রাখেন।

    তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে কী কী কর্মকাণ্ড করবে এবং তা ক কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তার ওপর এক ধারণা প্রকাশ করেন। তিনি ভোটারদের প্রতি ক্ষমতা দখলের জন্য ধানের শীষের প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

    এরপর তারেক রহমানের দ্বিতীয় দিনের নির্বাচনী প্রচারণা চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড, ফেনীর পাইলট স্কুল মাঠ, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম খেলার মাঠ ও সোয়াাগাজী ডিগবাজি মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। ভবিষ্যতে দাউদকান্দির কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ও নারায়ণগঞ্জের বালুর মাঠেও বক্তব্য রাখবেন বিএনপি প্রধান।

  • আমরা ৫ বছর আমানতের চৌকিদার হতে চাই: ডা. শফিকুর রহমান

    আমরা ৫ বছর আমানতের চৌকিদার হতে চাই: ডা. শফিকুর রহমান

    বিগত দিনগুলির শাসকরা দেশের মালিক হওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত থাকলেও জামায়াতে ইসলামী জনগণের সেবক ও চৌকিদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, মানুষের টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করার কোনও ইচ্ছে আমাদের নেই। যদি আপনাদের বিশ্বাস করে আপনারা আমাদের কাছে আমানত দেন, তাহলে আগামী পাঁচ বছর ধরে আমরা এই আমানত রক্ষা করতে চায়। স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমরা দেশের মালিক হবো না, বরং দায়িত্বের ধারক হিসেবে কাজ করবো।

    রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ঢাকা-৭ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনীত ও ১০ দলীয় জোট সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী হাফেজ হাজী মো. এনায়েত উল্লাহর নির্বাচনী জনসভার প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। এ জনসভার বিষয় ছিল ‘চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ’। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম এবং ডাকসু ভিপি ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও আসনের আয়োজক আব্দুর রহমান।

    ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, যারা বলছেন, তারা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়বেন, তারা আগে নিজরা সঠিক হন। বেছে বেছে ঋণখেলাপিদের নিয়ে নির্বাচন করা ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখা সম্ভব নয়। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় যদি সত্যিই আগ্রহী হন, তাহলে ঋণখেলাপিদের বাদ দিন। তাদেরকে বাদ দিয়ে কাজ শুরু করলে জাতি আপনাদের কাছেও সম্মান দেখাবে।

    বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, যে দল চাঁদা না পেলে নিজের দলের লোকদেরই হত্যা করে, সে দলের সঙ্গে দাঁড়ানো উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, আমরা এখন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি যে, অস্তিত্বের প্রশ্নে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আলোর পথে হাঁটব না তো অন্ধকারের দিকে যেতে হবে। আপনাদের কি পথ বেছে নেবেন?

    যুবকদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা যুবকদের বেকার ভাতা দিচ্ছি না, বরং তাদের হাতে কাজ দেব, যাতে তারা সম্মানের সঙ্গে জীবন যাপন করতে পারে। যুবকরাই আমাদের প্রেরণা ও শক্তি।

    গণভোটের ব্যাপারে তিনি বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে স্বাধীনতার পক্ষে, আর ‘না’ মানে দাসত্বের পক্ষে। আমাদের প্রত্যাশা, আমরা স্বাধীনতা চাই, গোলামি আমরা চাই না। ‘হ্যাঁ’ মানে নিপীড়িত ও মজলুমের পক্ষে, আর ‘না’ মানে শাসকশ্রেণির অত্যাচার, চাঁদাবাজি ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। ঘরে ঘরে আমরা ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে প্রচারণা চালাবো। ইনশাআল্লাহ, ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হবে।

    ঢাকা-৭ আসনের প্রার্থী হাজী মো. এনায়েত উল্লাহকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতে ইসলামী নেতারা বলেন, ওল্ড ইজ গোল্ড। যত পুরনো হয়, ততই খাঁটি হয়। আমরা পুরানে ঢাকাকে আধুনিক করব না, বরং গোল্ড বানাবো। আপনারা ভোট দিয়ে এনায়েত উল্লাহকে বিজয়ী করুন যেন পুরান ঢাকাকে আসল গোল্ডে রূপান্তর করা যায়।

    বক্তব্য শেষে ডা. শফিকুর রহমান তার হাতে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক তুলে দেন এনায়েত উল্লাহর জন্য।

    নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রতীক বরাদ্দের পর বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে সব দলের নির্বাচনী প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে প্রচারণা শেষ হবে।