Category: রাজনীতি

  • মন্ত্রী ছাড়া উন্নয়ন কি সম্ভব? গোলাম পরওয়ারের প্রশ্ন

    মন্ত্রী ছাড়া উন্নয়ন কি সম্ভব? গোলাম পরওয়ারের প্রশ্ন

    প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা ছাড়া দেশের অন্য অঞ্চলে কি সত্যিই কোন উন্নয়ন সম্ভব নয়? এই প্রশ্নই তুলে ধরেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ভবনে বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লয়িজ লীগের কেন্দ্রীয় দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আপত্তিকর ভাবনাগুলো তুলে ধরেন।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘যে এলাকার নেতারা প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা আইনমন্ত্রী নয়, সেই এলাকার উন্নয়ন কি কখনো হবে? উন্নয়ন বৈষম্যহীন করার জন্য সবাইকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন সঠিক জরিপ, যেখানে লাগছে রেল বা সড়ক যোগাযোগের প্রয়োজন। ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধে ভিত্তি করে একটি সুন্দর ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়তে সরকারের দায়িত্ব কি না সেটা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।’

    তিনি স্মরণ করিয়ে দেন ৭৫ এর আন্দোলনের দেশের ইতিহাস, বলছিলেন, ‘হাজারো মানুষের রক্ত আর ত্যাগের বিনিময়ে যারা সামরিক নির্মমতার বিরুদ্ধে লড়েছিলেন, আজো সেই সংগ্রামের ফলাফল মূল্যায়ন করতে হবে। বর্তমানে বৈষম্য ও অন্যায় অবিচার বাড়ছে, যা ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে। সেই আন্দোলনের স্বপ্ন, সমতা আর ন্যায়বিচার এখন আর চোখে পড়ে না। বরং, উন্নয়নের নামে নতুন ধরনের বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে, যা শহীদদের রক্তের সঙ্গে একাট্টা বিশ্বাসঘাতকতা।’

    দেশের রেল যোগাযোগের অবস্থা খারাপের দিকে এগিয়ে চলার জন্য তিনি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, বলেন, ‘বিশ্বে যখন রেল যোগাযোগ সফলতার শিখরে পৌঁছাচ্ছে, তখন আমাদের দেশে এই খাতটি পিছিয়ে পড়েছে। আধুনিকায়নের জন্য এখনো চলমান পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের প্রয়োজন। আগামী বাজেটে প্লেস্কেল, রেল শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবিসহ আধুনিক রেলব্যবস্থার নির্মাণে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।’

    গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, বাংলাদেশ এখন নিজের সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবে, যেহেতু দেশকে কোনো বাহ্যিক প্রভাব বা রিমোট কন্ট্রোলের অধীন রাখা যাবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হলে সব ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।

    শ্রমিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘সরকার শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন সংকুচিত করে তাদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে। শ্রমিক সংগঠনের সংখ্যাও সীমিত করে দেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে, বড় কারখানাগুলোতে বেশি সংগঠন থাকলে শ্রমিকরা শ্রম ও মালিকদের মধ্যে ন্যায্য আলোচনা বাড়াতে সক্ষম হবে। এতে দাবি ও অধিকার আদায় আরো সহজ হবে।’

  • মির্জা ফখরুলের ভাষ্য: হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী সমাজকে অস্থির করতে চায়

    মির্জা ফখরুলের ভাষ্য: হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী সমাজকে অস্থির করতে চায়

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে একটি হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী রয়েছে, যারা সারাক্ষণ নিজেকে অসন্তুষ্ট মনে করে আর সমাজকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালায়। তিনি স্পষ্ট করে বললেন, এই অপচেষ্টাকারীরা কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, বরং তারা সমাজের শান্তি ভেঙে দেয়ার জন্য কাজ করে। তিনি মন্তব্য করেন, আমাদের রাজনীতি এখন সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন নয়। বারবার মানুষ পরিবর্তনের জন্য লড়াই করেছে, জীবন দিয়েছেন, পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই চেষ্টাগুলি সফল হয়নি। শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে নওগাঁর আত্রাইয়ের পতিসরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল আরো বলেন, আমাদের মূল পরিচয় হলো এ দেশের সন্তান হিসেবে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত থাকা—আমরা বাংলাদেশেরই সন্তান। এই স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য আমরা দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করেছি, শহীদদের রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। আবার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনেয়ার জন্যও আমাদের সংগ্রাম চালাতে হয়েছে। তিনি বলেন, গত জুলাই মাসে আমাদের তরুণ-তরুণীরা যে লড়াই করে দেশকে পরিবর্তনের পথে নিয়ে আসে, তাকে আমরা ‘জুলাই যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করি। সত্যিকারভাবে এই আন্দোলনের কারণে নতুন নির্বাচন হয়েছে ও নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। তারা আশা করে, এখন জনগণ নতুন সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে। তবে কিছু অপশক্তি দেশের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়, তারা দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে—অর্থনীতি লুটপাট, ব্যাংক এসবের অপব্যবহার, প্রশাসনকে ধ্বংস করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে লড়াই করে আজকের অবস্থানে আমরা এসেছি বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, অনেকেই এই পরিবর্তনটাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টায় ছোটোখাটো ইস্যু নিয়ে গোলযোগ সৃষ্টি করছে। তবে আমরা চাই না দেশে আবার কোনও অস্থিতিশীলতা আসুক। বিএনপি মহাসচিবও মন্তব্য করেন, রবীন্দ্রনাথ যখন আর্মীন আসতেন, তখন তিনি কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশা ও সংকটে দেখে ব্যাংক স্থাপন করেছিলেন, কৃষিকে আধুনিক করার নানা উদ্যোগ নেন। রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গান ও অন্যান্য কবিতাগুলো বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বিশ্বমানবতার কবি, যার ব্রত সত্য, সৌন্দর্য ও মানবতার উন্নয়ন। রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, বিভিন্ন সংসদ সদস্যসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। আলোচনা শেষে শিল্পীরা আবৃত্তি, রবীন্দ্রসংগীত, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। দিনভর এই উৎসবমুখর পরিবেশে হাজারো দর্শক ও রবীন্দ্রপ্রেমী ভিড় করেন পতিসরে, কবির স্মৃতিবিজড়িত এ অঞ্চলে মনে প্রাণে আবেগে এক নতুন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

  • সরকার উন্নয়নের নামে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে: গোলাম পরওয়ার

    সরকার উন্নয়নের নামে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে: গোলাম পরওয়ার

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সাংসদ মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দেশের উন্নয়নের নামেও সরকার বৈষম্যমূলক আচরণ চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করে তোলার দাবি জানান, যা দীর্ঘদিন ধরে রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের মানুষের একটাই প্রত্যাশা। যদি এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কেবল নির্বাচিত এলাকার স্বার্থে নেওয়া হয় বা অন্যত্র স্থাপন করার সিদ্ধান্ত হয়, তাহলে এটি হবে অমানবিক ও অত্যন্ত অন্যায়। শনিবার সকাল সাড়ে আটটায় পঞ্চগড় যাওয়ার সময় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নামার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এই সফরে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী মহাসচিব মাওলানা আব্দুল হালিম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এড. আতিকুর রহমান ও সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী।

    তাঁর বক্তব্যে গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি’র নির্বাচিত এমপিদের এলাকার ভিত্তিতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হচ্ছিলো, যেমন নতুন উপজেলা, বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন। কিন্তু দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে এই সমস্ত কাজগুলো বিভিন্ন অঞ্চলে ভাগ করে নেওয়া উচিত ছিল। তিনি বলেন, ‘প্রবাদ আছে, যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ। এখন তা-ই সত্য হয়ে উঠছে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে তারা ৭০ ভাগ জনগণের মতামত উপেক্ষা করে প্রতারণার রাজনীতি চালাচ্ছে। নির্বাচনের সময় যাঁরা “হ্যাঁ” ভোট দিয়েছিলেন, এখন তারা গণভোটের রায় অমান্য করছে। সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বললেও বাস্তবে গণভোটের রায় মানছে না, যা জনগণের সঙ্গে মহাপ্রতারণা। বিএনপি জনস্বার্থের ক্ষে’ত্রে ব্যাকফুটে পড়ছে, যে কারণে দেশের জন্য ভয়াবহ ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।’

    গণমাধ্যমের পরিস্থিতি নিয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন, বলে, ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় যারা স্বাধীন সাংবাদিকতার পক্ষে ছিলেন, এখন তারা সরকারের বিভিন্ন মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ, সাংবাদিকদের চাকরি হারানো ও হয়রানির সঙ্গে জড়িত। বিশেষ করে সমালোচক সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

    এসময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারীর সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মনিরুজ্জামান জুয়েল, সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের আমির শফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম, শহর জামায়াতের আমির শরফুদ্দিন খান, সেক্রেটারি মাওলানা ওয়াজেদ আলী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের শহর সভাপতি আব্দুল মোমিনসহ আরও শতাধিক নেতা-কর্মী। পরে সব সফরসঙ্গীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি সড়ক পথে পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

  • এনসিপি ঘোষণা করল ১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় প্রার্থীদের নাম

    এনসিপি ঘোষণা করল ১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় প্রার্থীদের নাম

    আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রাথমিকভাবে ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আজ রোববার (১০ মে) বিকেলে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে, এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করেন। তিনি জানান, আমরা আজ ১০০ জন এনসিপি সমর্থিত উপজেলা চেয়্যারম্যান ও পৌরসভার মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করছি।

    সারজিস আলম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য হাজারের বেশি আবেদনপত্র জমা পড়েছিল। এর ভিত্তিতে আমরা প্রথম পর্যায়ে ১০০ জনের নাম ঘোষণা করছি। তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ মাসের ২০ তারিখের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপে আবারো আরও ১০০ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। এই প্রার্থী তালিকা ভবিষ্যতেও বিস্তার লাভ করবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

    সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বে থাকা, নেতৃত্বদানকারী এবং যারা গ্রহণযোগ্য এবং সাম্প্রদায়িক বা জুলুমের সঙ্গে কোনোভাবে সংশ্লিষ্ট নয়, এমন ব্যক্তিরা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের হলেও শুধু এনসিপি প্রার্থীর জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই আবেদনগুলো ব্যাপকভাবে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যাতে অন্য দলের ভুলে এলে তাদেরও সুযোগ দেওয়া হয়।

    প্রার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে, ৫০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৫০ জন পৌরসভার মেয়র প্রার্থী রয়েছেন, যাদের বিভাগ অনুযায়ী বিস্তারিত তালিকা নিচে দেওয়া হলো।

    প্রতিটি বিভাগে নির্বাচিত প্রার্থীদের নামসহ অফিসিয়াল তালিকা ও বর্ণনা সংযুক্ত করা হয়েছে, যেখানে খুলনা, রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া, সিলেট, ময়মনসিংহ, ঢাকা (উত্তর ও দক্ষিণ) ও ফরিদপুর বিভাগের প্রার্থীদের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এ থেকেই বোঝা যায়, প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় এনসিপির ব্যাপক প্রস্তুতি ও মনোযোগ রয়েছে এবং তারা বিভিন্ন বিভাগের স্থানীয় নেতৃত্বের উপর ভিত্তি করে তালিকা ঘোষণা করছে।

  • জুলাই সনদ সংক্রান্ত ইস্যুতে সরকার টালবাহানা করছে, নাহিদ ইসলাম বলেন

    জুলাই সনদ সংক্রান্ত ইস্যুতে সরকার টালবাহানা করছে, নাহিদ ইসলাম বলেন

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, জুলাই সনদ ও সাংবিধানিক সংস্কার ইস্যুতে সরকার আসল উদ্দেশ্য নিয়ে টালবাহানা করছে। তিনি বলেন, সরকার এ বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চায়, যা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। নাহিদ ইসলাম এই অভিযোগ করেন শনিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘সংস্কারে অচলাবস্থা সমাধানে করণীয় কী’ শীর্ষক আলোচনা সভায়। তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা ও সার্বভৌম ক্ষমতার ভিত্তিতে সাংবিধানিক সংস্কার হওয়া উচিত। বিরোধীদলীয় এই নেতা দাবি করেন, জরুরি গণভোটের মাধ্যমে এ সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়ন করতে সরকার ‘সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল’ গঠনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। পাশাপাশি, বিএনপি নিয়ে মন্তব্য করে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগেই প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির শীর্ষ নেতারা গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন, কিন্তু ক্ষমতায় এসে তারা এর বিরোধিতা করছে। এভাবে বিএনপি জনগণের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করছে বলে তার অভিযোগ। নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দেন, গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংসদে ও বাইরে বিভিন্ন আলোচনা ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালানো হবে। তবে, সরকার যদি ইতিবাচক সাড়া না দেয়, তবে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করতে বাধ্য হবে বিরোধীদল।

  • গোলাম পরওয়ার: উন্নয়নে সরকার করছে চরম বৈষম্য

    গোলাম পরওয়ার: উন্নয়নে সরকার করছে চরম বৈষম্য

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, সরকার উন্নয়নের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের স্বার্থে সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করার বিষয়টি সবচেয়ে যৌক্তিক ও জরুরি।

    শনিবার সকাল সাড়ে আটটায় পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার পথে ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নামার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান ও সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, সৈয়দপুর বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক করলে বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে। কিন্তু যদি শুধু নির্দিষ্ট নির্বাচিত এলাকার সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তা হলে সেটি একটি বড় অন্যায় হবে।

    তিনি আরও বলেন, বিএনপি নির্বাচিত এমপিদের এলাকাকে প্রাধান্য দিয়ে নানা উন্নয়ন প্রকল্প বন্টন করছে; ফলে কিছু ক্ষেত্রে নতুন উপজেলা বা বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে, যা সার্বিক জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনায় হওয়া উচিৎ নয়। ‘‘প্রবাদ আছে, যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ,’’ বলে মন্তব্য করে তিনি বাস্তবিক পরিস্থিতি তেমনই দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।

    গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, বিএনপি ৭০ শতাংশ জনমতকে উপেক্ষা করে প্রতারণার রাজনীতি করছে। নির্বাচনের আগে যারা “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে ছিলেন, তারা এখন গণভোটের রায় অস্বীকার করছেন। সরকার যদিও বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, বাস্তবে গণভোটের রায় মানা হচ্ছে না—এটিকে তিনি ‘‘জনগণের সঙ্গে মহাপ্রতারণা’’ হিসেবে অভিহিত করেন। তাঁর মতে, বিএনপি যদি জনস্বার্থে এমন ব্যাকপাস খেলতে থাকে, তা হলে তা শুধু দলের জন্যই নয়, দেশের জন্যও ক্ষতিকর প্রমাণিত হতে পারে।

    গণমাধ্যম সম্পর্কিত প্রশ্নে গোলাম পরওয়ার বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় যারা স্বাধীন সাংবাদিকতার কথা বলতেন,現在 তাদের মধ্যে অনেকে বিভিন্ন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে নেওয়া, সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত করা ও হয়রানির সঙ্গে জড়িত আছেন। বিশেষত সরকারসমালোচক সাংবাদিকদের টার্গেট করা হচ্ছে—এটি তিনি কঠোরভাবে নিন্দা করেছেন।

    বিমানবন্দরে গোলাম পরওয়ার ও তাঁর সফরসঙ্গীদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম ও জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মনিরুজ্জামান জুয়েল। এছাড়া সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের আমির শফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম, শহর আমির শরফুদ্দিন খান, সেক্রেটারি মাওলানা ওয়াজেদ আলী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের শহর সভাপতি আব্দুল মোমিনসহ শতাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

    পরবর্তীতে গোলাম পরওয়ার ও তার সফরসঙ্গীরা সড়কপথে পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

  • এনসিপি ঘোষণা করলো ১০০ প্রাথমিক প্রার্থী

    এনসিপি ঘোষণা করলো ১০০ প্রাথমিক প্রার্থী

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রাথমিকভাবে ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভার জন্য সমর্থিত প্রার্থী ঘোষণা করেছে। রোববার (১০ মে) বিকেলে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।

    সারজিস আলম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য দলের কাছে হাজারের বেশি আবেদন পৌঁছেছিল। প্রথম ধাপে আজ ১০০ জন — ৫০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৫০ জন পৌরসভার মেয়র প্রার্থী — ঘোষণা করা হল। তিনি জানান, ঈদের আগেই, অর্থাৎ এই মাসের ২০ তারিখে দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০০ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং নাম ঘোষণা করার এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।

    তিনি আরও বলেন, এনসিপি দেশের নানা এলাকার যোগ্য, গ্রহণযোগ্য ও নির্দোষ নেতাদের সুযোগ দেবে, এমনকি অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাও যাচাই-বাছাইয়ের পর এনসিপির সমর্থন পেতে পারেন। দলের নীতিমালা ও সার্বিক যাচাই-বাছাই শেষে অন্য দল থেকে যোগ দিতে চাইলে তাদেরকেও সুযোগ দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

    ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে জেলা ও বিভাগভিত্তিক তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

    খুলনা বিভাগ:

    কুষ্টিয়ার কুমারখালী — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম বাদশা। ভেড়ামারা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: জান্নাতুল ফেরদৌস টনি। বাগেরহাট, চিতলমারি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইশতিয়াক হোসেন। ফকিরমারি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: লাবিব আহমেদ। মোংলা — পৌরসভার মেয়র প্রার্থী: মো. রহমত উল্লাহ। বাগেরহাট পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার। যশোর, বাঘারপাড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইয়াহিয়া জিসান। নোয়াপাড়া — পৌরসভা মেয়র প্রার্থী: শাহজাহান কবির। খুলনা, চালনায় — মেয়র প্রার্থী: এস এম এ রশিদ। চুয়াডাঙ্গা সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খায়রুল বাশার বিপ্লব। জীবননগর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: সোহেল পারভেজ। মেহেরপুর, গাংনী পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: শাকিল আহমেদ। ঝিনাইদহ পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: তারেকুল ইসলাম।

    রংপুর বিভাগ:

    পঞ্চগড়, তেঁতুলিয়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. হাবিবুর রহমান (হাবিব)। বদায়/বোদা? (বোধ হয় বোদা) — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শিশির আসাদ। দেবীগঞ্জ — পৌর মেয়র প্রার্থী: মাসুদ পারভেজ। ঠাকুরগাঁও, রাণীশংকৈল — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: গোলাম মর্তুজা সেলিম। দিনাজপুর, ফুলবাড়ি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইমরান চৌধুরী নিশাত। বোচাগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মাওলানা এম এ তাফসির হাসান। ফুলবাড়ি পৌরসভা — পৌর মেয়র প্রার্থী: শিহাব হোসেন। ঘোড়াঘাট — পৌর মেয়র প্রার্থী: মো. আব্দুল মান্নান। হাকিমপুর — পৌর মেয়র প্রার্থী: রায়হান কবির।

    নীলফামারী ও কুড়িগ্রাম এলাকায়:

    নীলফামারী, জলঢাকা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু সাইদ লিয়ন। নীলফামারী সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ড. কামরুল ইসলাম। কুড়িগ্রাম সদর — পৌর মেয়র প্রার্থী: মো. মাসুম মিয়া। লালমনিরহাট, কালিগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শাহ সুলতান নাসির উদ্দিন আহমেদ। রংপুর সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মণ। গাইবান্ধা, সাদুল্লাপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খাদিমুল ইসলাম।

    রাজশাহী বিভাগ:

    রাজশাহী, গোদাগাড়ি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. আতিকুল রহমান। চাঁপাইনবাগঞ্জ, গোমস্তাপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু মাসুদ। নওগাঁ, নেয়ামতপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: বিশাল আহমেদ। বাদলগাছি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আসাদ মোর্শেদ আজম। ধামুরহাট — পৌর মেয়র প্রার্থী: মাহফুজার রহমান চৌধুরী (রুবেল)। বগুড়া, শিবগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. জাহাঙ্গীর আলম। দুপচাঁচিয়া — পৌরসভা মেয়র প্রার্থী: আবু বক্কর সিদ্দিক। বগুড়া সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: এ এম জেড শাহরিয়ার। নাটোর সদর — পৌরসভা মেয়র প্রার্থী: আব্দুল মান্নান। পাবনা, চাটমোহর — পৌরসভা মেয়র প্রার্থী: খন্দকার আক্তার হোসেন। সিরাজগঞ্জ, উল্লাপাড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ আদনান। উল্লাপাড়া পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার আল-মামুন লিয়ন।

    সিলেট বিভাগ:

    হবিগঞ্জ, আজমিরীগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. কামাল আহমেদ। হবিগঞ্জ সদর — পৌরসভা মেয়র প্রার্থী: মাহবুবুল বারী চৌধুরী। মৌলভীবাজার, রাজনগর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খালেদ হাসান। কুলাউড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু রুকিয়ান। সিলেট, কোম্পানিগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ওবায়েদ আহমেদ। কানাইঘাট — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: বোরহান উদ্দিন ইউনূস। ওসমানীনগর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: হাজি মো. মোশাহিদ আলী। জৈন্তাপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: জাকারিয়া। গোয়াইনঘাট — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মনসুরুল হাসান।

    ময়মনসিংহ বিভাগ:

    শেরপুর সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া। শেরপুর সদর পৌর — মেয়র প্রার্থী: নূর ইসলাম। জামালপুর সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: অ্যাডভোকেট আবু সাইদ মো. শামিম। নেত্রকোণা, খালিয়াজুড়ি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. মুশফিকুর রহমান মিন্টু। বারহাটা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শফিকুল হক চৌধুরী (বাবলু)। নেত্রকোণা সদর — পৌরসভা মেয়র প্রার্থী: সোহাগ মিয়া প্রিতম। ময়মনসিংহ, তারাকান্দা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম। ভালুকা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: নূরুল ইসলাম। হালুয়াঘাট — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু হেলাল। ধোবাউড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. সাইফুল্লাহ।

    ঢাকা বিভাগ (উত্তর):

    কিশোরগঞ্জ সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আহনাফ সাইদ খান। তাড়াইল — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইকরাম হোসেন। করিমগঞ্জ পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: খায়রুল কবির। সাভার — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শাহাবদুল্লাহ রনি। মানিকগঞ্জ সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আরিফুল ইসলাম। দৌলতপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু আব্দুল্লাহ। টাঙ্গাইল, কালিহাতি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মেহদী হাসান। টাঙ্গাইল পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: মাসুদুর রহমান রাসেল। ভূঞাপুর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: হাসান ইমাম তালুকদার। শফিপুর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: মাওলানা আনসার আলী। নরসিংদী সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: সাইফ ইবনে সারওয়ার। গাজীপুর, কালিগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শোয়েব মিয়া।

    ঢাকা বিভাগ (দক্ষিণ):

    নারায়ণগঞ্জ, সেনারগাঁও — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: তুহিন মাহবুব। মুন্সিগঞ্জ, সিরাজদিখান — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আলী নেওয়াজ।

    ফরিদপুর বিভাগ:

    নগরকান্দা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: রেজাউল করিম সবুজ। নগরকান্দা পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: নাজমুল হুদা। ফরিদপুর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: সাইদ খান। মাদারীপুর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: মো. হাসিবুল্লাহ। গোপালগঞ্জ পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: ফেরদৌম আমেনা।

    এনসিপি জানিয়েছে যে তারা প্রার্থীদের আরও যাচাই-বাছাই করে ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত তালিকা প্রকাশ করবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিত্বে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের খোঁজে কাজ চালিয়ে যাবে। সংবাদ সম্মেলনে দলের নেতারা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ ও স্থানীয় উন্নয়নের অঙ্গীকার পুনরায় জোর দিয়েছেন।

  • এনসিপি প্রথম ধাপে ১০০ প্রার্থী ঘোষণা: ৫০ উপজেলা চেয়ারম্যান, ৫০ পৌরসভা মেয়র

    এনসিপি প্রথম ধাপে ১০০ প্রার্থী ঘোষণা: ৫০ উপজেলা চেয়ারম্যান, ৫০ পৌরসভা মেয়র

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আংশিক প্রার্থীতার ঘোষণা দিয়েছে — আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রাথমিকভাবে ১০০ জনকে সমর্থন ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার (১০ মে) বিকেলে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এসব প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন।

    সারজিস আলম জানান, বর্তমান ধাপটি প্রাথমিক। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংশ্লিষ্ট হাজারেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছিল; সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করে আজ ১০০ জনকে এনসিপি সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভা মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঈদের আগেই—এই মাসের ২০ তারিখে—দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০০ জনের নাম ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং এভাবে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে যাওয়ার কাজ চলবে।

    প্রার্থীতার দিকনির্দেশনা সম্পর্কে সারজিস আলম আরও বলেন, এনসিপিতে যারা বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন বা যারা অন্য কোনো রাজনৈতিক দল থেকে আসতে চান—তাদেরও আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে আবেদনকারীদের ব্যাপকভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে; যাদের বিরুদ্ধে মানুষের ওপর অত্যাচার বা সাজানো অপরাধ, ফ্যাসিস্ট বা অপরাধীদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য নেই, এমন প্রার্থীদের সুযোগ প্রদানের চেষ্টা করবে দল।

    ঘোষিত ১০০ প্রার্থীর মধ্যে ৫০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৫০ জন পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী রয়েছেন। নিচে বিভাগভিত্তিক ঘোষিত প্রার্থীদের নাম দেয়া হলো:

    খুলনা বিভাগ: কুষ্টিয়ার কুমারখালি — অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম বাদশা (উপজেলা চেয়ারম্যান), ভেড়ামারা — জান্নাতুল ফেরদৌস টনি (উপজেলা চেয়ারম্যান), বাগেরহাট চিতলমারি — ইশতিয়াক হোসেন (উপজেলা চেয়ারম্যান), ফকিরমারি — লাবিব আহমেদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), মোংলা — মেয়র প্রার্থী মো. রহমত উল্লাহ, বাগেরহাট — মেয়র প্রার্থী সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার, যশোর বাঘারপাড়া — ইয়াহিয়া জিসান (উপজেলা চেয়ারম্যান), নোয়াপাড়া — মেয়র প্রার্থী শাহজাহান কবির, খুলনা চালনা — মেয়র প্রার্থী এস এম এ রশিদ, চুয়াডাঙ্গা সদর — খায়রুল বাশার বিপ্লব (উপজেলা চেয়ারম্যান), জীবননগর — মেয়র প্রার্থী সোহেল পারভেজ, মেহেরপুর গাংনী — মেয়র প্রার্থী শাকিল আহমেদ, ঝিনাইদহ — মেয়র প্রার্থী তারেকুল ইসলাম।

    রংপুর বিভাগ: পঞ্চগড় তেঁতুলিয়া — মো. হাবিবুর রহমান হাবিব (উপজেলা চেয়ারম্যান), বোদা — শিশির আসাদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), দেবীগঞ্জ — পৌর মেয়র প্রার্থী মাসুদ পারভেজ, ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল — গোলাম মর্তুজা সেলিম (উপজেলা চেয়ারম্যান), দিনাজপুর ফুলবাড়ি — ইমরান চৌধুরী নিশাত (উপজেলা চেয়ারম্যান), বোচাগঞ্জ — মাওলানা এম এ তাফসির হাসান (উপজেলা চেয়ারম্যান), ফুলবাড়ি পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী শিহাব হোসেন, ঘোড়াঘাট — মেয়র প্রার্থী মো. আব্দুল মান্নান, হাকিমপুর — মেয়র প্রার্থী রায়হান কবির; নীলফামারীর জলঢাকা — আবু সাইদ লিয়ন (উপজেলা চেয়ারম্যান), নীলফামারী সদর — ড. কামরুল ইসলাম (উপজেলা চেয়ারম্যান), কুড়িগ্রাম সদর — মেয়র প্রার্থী মো. মাসুম মিয়া, লালমনিরহাট কালিগঞ্জ — শাহ সুলতান নাসির উদ্দিন আহমেদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), রংপুর সদর — কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মণ (উপজেলা চেয়ারম্যান), গাইবান্ধা সাদুল্লাপুর — খাদিমুল ইসলাম (উপজেলা চেয়ারম্যান)।

    রাজশাহী বিভাগ: গোদাগাড়ি — মো. আতিকুল রহমান (উপজেলা চেয়ারম্যান), চাঁপাইনবাগঞ্জ গোমস্তাপুর — আবু মাসুদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), নওগাঁ নেয়ামতপুর — বিশাল আহমেদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), বাদলগাছী — আসাদ মোর্শেদ আজম (উপজেলা চেয়ারম্যান), ধামুরহাট — পৌর মেয়র প্রার্থী মাহফুজার রহমান চৌধুরী রুবেল; বগুড়ার শিবগঞ্জ — মো. জাহাঙ্গীর আলম (উপজেলা চেয়ারম্যান), দুপচাঁচিয়া — পৌর মেয়র প্রার্থী আবু বক্কর সিদ্দিক, বগুড়া সদর — এ এম জেড শাহরিয়ার (উপজেলা চেয়ারম্যান), নাটোর সদর — পৌর মেয়র প্রার্থী আব্দুল মান্নান, পাবনা চাটমোহর — মেয়র প্রার্থী খন্দকার আক্তার হোসেন, সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ আদনান ও উল্লাপাড়া পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আল-মামুন লিয়ন।

    সিলেট বিভাগ: হবিগঞ্জ আজমিরীগঞ্জ — মো. কামাল আহমেদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), হবিগঞ্জ সদর — পৌর মেয়র প্রার্থী মাহবুবুল বারী চৌধুরী, মৌলভীবাজার রাজনগর — খালেদ হাসান (উপজেলা চেয়ারম্যান), কুলাউড়া — আবু রুকিয়ান (উপজেলা চেয়ারম্যান), সিলেট কোম্পানিগঞ্জ — ওবায়েদ আহমেদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), কানাইঘাট — বোরহান উদ্দিন ইউনূস (উপজেলা চেয়ারম্যান), ওসমানীনগর — হাজি মো. মোশাহিদ আলী (উপজেলা চেয়ারম্যান), জৈন্তাপুর — জাকারিয়া (উপজেলা চেয়ারম্যান), গোয়াইনঘাট — মনসুরুল হাসান (উপজেলা চেয়ারম্যান)।

    ময়মনসিংহ বিভাগ: শেরপুর সদর — ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া (উপজেলা চেয়ারম্যান), সদর — পৌর মেয়র প্রার্থী নূর ইসলাম, জামালপুর সদর — অ্যাডভোকেট আবু সাইদ মো. শামিম (উপজেলা চেয়ারম্যান), নেত্রকোণা খালিয়াজুড়ি — মো. মুশফিকুর রহমান মিন্টু (উপজেলা চেয়ারম্যান), বারহাটা — শফিকুল হক চৌধুরী বাবলু (উপজেলা চেয়ারম্যান), নেত্রকোণা সদর — পৌর মেয়র প্রার্থী সোহাগ মিয়া প্রিতম, ময়মনসিংহ তারাকান্দা — ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম (উপজেলা চেয়ারম্যান), ভালুকা — নূরুল ইসলাম (উপজেলা চেয়ারম্যান), হালুয়াঘাট — আবু হেলাল (উপজেলা চেয়ারম্যান), ধোবাউড়া — মো. সাইফুল্লাহ (উপজেলা চেয়ারম্যান)।

    ঢাকা বিভাগ (উত্তর): কিশোরগঞ্জ সদর — আহনাফ সাইদ খান (উপজেলা চেয়ারম্যান), তাড়াইল — ইকরাম হোসেন (উপজেলা চেয়ারম্যান), করিমগঞ্জ — পৌর মেয়র প্রার্থী খায়রুল কবির, সাভার — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহাবদুল্লাহ রনি, মানিকগঞ্জ সদর — আরিফুল ইসলাম (উপজেলা চেয়ারম্যান), দৌলতপুর — আবু আব্দুল্লাহ (উপজেলা চেয়ারম্যান), টাঙ্গাইল কালিহাতি — মেহদী হাসান (উপজেলা চেয়ারম্যান), টাঙ্গাইল পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী মাসুদুর রহমান রাসেল, ভূঞাপুর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী হাসান ইমাম তালুকদার, শফিপুর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী মাওলানা আনসার আলী, নরসিংদী সদর — সাইফ ইবনে সারওয়ার (উপজেলা চেয়ারম্যান), গাজীপুর কালীগঞ্জ — শোয়েব মিয়া (উপজেলা চেয়ারম্যান)।

    ঢাকা বিভাগ (দক্ষিণ): নারায়ণগঞ্জ সেনারগাঁও — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী তুহিন মাহবুব, মুন্সিগঞ্জ সিরাজদিখান — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আলী নেওয়াজ।

    ফরিদপুর বিভাগ: নগরকান্দা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী রেজাউল করিম সবুজ, নগরকান্দা পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী নাজমুল হুদা, ফরিদপুর — পৌর মেয়র সাইদ খান, মাদারীপুর — পৌর মেয়র প্রার্থী মো. হাসিবুল্লাহ, গোপালগঞ্জ — পৌর মেয়র প্রার্থী ফেরদৌম আমেনা।

    এনসিপি জানিয়েছে, প্রাথমিক তালিকা প্রকাশের পর যাচাই-বাছাই এবং ফাইনাল সিদ্ধান্ত নেয়ার কাজ চলবে; পরে চাইলে আরও প্রার্থী যোগ করা হবে। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুগোপযোগী ও গ্রহণযোগ্য লোকদের মাঠে নামানোই তাদের উদ্দেশ্য।

  • মিয়া গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ: সরকার উন্নয়নে চরম বৈষম্য করছে

    মিয়া গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ: সরকার উন্নয়নে চরম বৈষম্য করছে

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, উন্নয়নের কাজে সরকার জেলায়ভিত্তিকভাবে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। তিনি বললেন, উত্তরাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করা সবচেয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত হবে। এটি বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দাবি; নির্বাচিত এলাকার স্বার্থের কথা ভেবে যদি বিমানবন্দর অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়, তা হলে তা অসাম্য-ন্যায়হীনতা হবে।

    শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে পঞ্চগড়গামী একটি ইউএস-বাংলা ফ্লাইটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নামার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তার সঙ্গে ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দुल হালিম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এড. আতিকুর রহমান ও সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী।

    গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকা এমপিদের নির্বাচনী এলাকার প্রাধান্য দিয়ে নতুন উপজেলা তৈরী বা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হচ্ছে। কিন্তু জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনায় এসব উন্নয়ন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সমানভাবে হওয়া উচিত ছিল।

    তিনি বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, ‘‘প্রবাদ আছে, যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ — এখন বাস্তবেও সেটাই দেখা যাচ্ছে। বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে সেই চরিত্রটা ধারণ করেছে। তারা ৭০ ভাগ জনমতকে উপেক্ষা করে প্রতারণার রাজনীতিতে লিপ্ত হচ্ছে। যারা নির্বাচনের আগে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ছিলেন, তারা এখন গণভোটের ফল অস্বীকার করছেন। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে গণভোটের রায় মানছে না সরকার; এটা জনগণের সঙ্গে বড় ধরনের প্রতারণা।’’ তিনি বলেন, বিএনপি জনস্বার্থে ব্যাকপাস খেলায় সরাসরি ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে, যা দেশেও ক্ষতিকর হতে পারে।

    সংবাদমাধ্যমকে ইঙ্গিত করে গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় যারা স্বাধীন সাংবাদিকতার কথা বলেছিলেন, এখন তাদের মধ্য থেকেই বিভিন্ন মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ, সাংবাদিক বরখাস্ত ও হয়রানির মতো কর্মকাণ্ড দেখা যাচ্ছে। বিশেষত সরকারের সমালোচক সাংবাদিকদের টার্গেট করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

    বিমানবন্দরে গোলাম পরওয়ার ও তার সফরসঙ্গীদের ফুলে শুভেচ্ছা জানান নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম এবং জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মনিরুজ্জামান জুয়েল। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের আমির শফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম, শহর আমির শরফুদ্দিন খান, সেক্রেটারি মাওলানা ওয়াজেদ আলী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের শহর সভাপতি আব্দুল মোমিনসহ শতাধিক নেতা-কর্মী।

    সবশেষে তিনি এবং তার সফরসঙ্গীরা সড়কপথে পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

  • এনসিপি ঘোষণা করলো ১০০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী

    এনসিপি ঘোষণা করলো ১০০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রাথমিকভাবে ১০০টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। রোববার (১০ মে) বিকেলে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ৫০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৫০ জন পৌরসভা মেয়রপ্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেন।

    সারজিস আলম জানান, নির্বাচনের জন্য হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করে প্রথম ধাপে ১০০ জনের নাম ঘোষণা করা হলো। তিনি বলেন, “ঈদের আগেই—অর্থাৎ এই মাসের ২০ তারিখে—দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০০ জন প্রার্থীর নাম প্রকাশ করার আশা রাখছি। আমাদের নাম ঘোষণা প্রক্রিয়া চলতেই থাকবে।”

    মন্ত্রী বলেন, এনসিপি শুধুমাত্র নিজেদের ক্যাডারই নয়; দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে যারা জনগণের মধ্যে গ্রহণযোগ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার বা অন্যায় কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না—এসব ক্ষেত্রে অন্য রাজনৈতিক দল থেকে কেউ আবেদন করলে তাদেরও সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। “আমরা সার্বিক যাচাই-বাছাই করে উপযুক্তপ্রার্থীদের গ্রহণ করবো,” তিনি যোগ করেন।

    এনসিপি ঘোষিত প্রার্থীদের বিভাগভিত্তিক তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

    খুলনা বিভাগ

    কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম বাদশা;

    ভেড়ামারা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: জান্নাতুল ফেরদৌস টনি;

    বাগেরহাট চিতলমারি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইশতিয়াক হোসেন;

    ফকিরমারী উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: লাবিব আহমেদ;

    মোংলা পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: মো. রহমত উললা;

    বাগেরহাট পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার;

    যশোর বাঘারপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইয়াহিয়া জিসান;

    নোয়াপাড়া পৌরসভায় মেয়রপ্রার্থী: শাহজাহান কবির;

    খুলনা চালনা পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: এস এম এ রশিদ;

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খায়রুল বাশার বিপ্লব;

    জীবননগর পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: সোহেল পারভেজ;

    মেহেরপুর গাংনী পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: শাকিল আহমেদ;

    ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: তারেকুল ইসলাম।

    রংপুর বিভাগ

    পঞ্চগড় তেঁতুলীয়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. হাবিবুর রহমান হাবিব;

    বোদা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শিশির আসাদ;

    দেবীগঞ্জ পৌরমেয়রপ্রার্থী: মাসুদ পারভেজ;

    ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: গোলাম মর্তুজা সেলিম;

    দিনাজপুর ফুলবাড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইমরান চৌধুরী নিশাত;

    বোচাগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মাওলানা এম এ তাফসির হাসান;

    ফুলবাড়ি পৌরসভায় মেয়রপ্রার্থী: শিহাব হোসেন;

    ঘোড়াঘাট পৌরমেয়রপ্রার্থী: মো. আব্দুল মান্নান;

    হাকিমপুর পৌরমেয়রপ্রার্থী: রায়হান কবির;

    নীলফামারী জলঢাকা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু সাইদ লিয়ন;

    নীলফামারী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ড. কামরুল ইসলাম;

    কুড়িগ্রাম সদর পৌরমেয়রপ্রার্থী: মো. মাসুম মিয়া;

    লালমনিরহাট কালিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শাহ সুলতান নাসির উদ্দিন আহমেদ;

    রংপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মণ;

    গাইবান্ধা সাদুল্লাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খাদিমুল ইসলাম।

    রাজশাহী বিভাগ

    গোদাগাড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. আতিকুল রহমান;

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ গোমস্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু মাসুদ;

    নওগাঁ নেইমতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: বিশাল আহমেদ;

    বাদলগাছী উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আসাদ মোর্শেদ আজম;

    ধামুরহাট পৌরমেয়রপ্রার্থী: মাহফুজার রহমান চৌধুরী রুবেল;

    বগুড়া শিবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. জাহাঙ্গীর আলম;

    দুপচাঁচিয়া পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: আবু বক্কর সিদ্দিক;

    বগুড়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: এ এম জেড শাহরিয়ার;

    নাটোর সদর পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: আব্দুল মান্নান;

    পাবনা চাটমোহর পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: খন্দকার আক্তার হোসেন;

    সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ আদনান;

    উল্লাপাড়া পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার আল-মামুন লিয়ন।

    সিলেট বিভাগ

    হবিগঞ্জ আজমিরিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. কামাল আহমেদ;

    হবিগঞ্জ সদর পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: মাহবুবুল বারী চৌধুরী;

    মৌলভীবাজার রাজনগর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খালেদ হাসান;

    কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু রুকียน;

    সিলেট কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ওবায়েদ আহমেদ;

    কানাইঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: বোরহান উদ্দিন ইউনূস;

    ওসমানীনগর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: হাজি মো. মোশাহিদ আলী;

    জৈন্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: জাকারিয়া;

    গোয়াইনঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মনসুরুল হাসান।

    ময়মনসিংহ বিভাগ

    শেরপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া;

    শেরপুর সদর পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: নূর ইসলাম;

    জামালপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: অ্যাডভোকেট আবু সাইদ মো. শামিম;

    নেত্রকোনা খালিয়াজুড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. মুশফিকুর রহমান মিন্টু;

    বারহাট্টা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শফিকুল হক চৌধুরী বাবলু;

    নেত্রকোণা সদর পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: সোহাগ মিয়া প্রিতম;

    ময়মনসিংহ তারাকান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম;

    ভালুকা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: নূরুল ইসলাম;

    হালুয়াঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু হেলাল;

    ধোবাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. সাইফুল্লাহ।

    ঢাকা বিভাগ (উত্তর)

    কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আহনাফ সাইদ খান;

    তাড়াইল উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইকরাম হোসেন;

    করিমগঞ্জ পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: খায়রুল কবির;

    সাভার উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শাহাবদুল্লাহ রনি;

    মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আরিফুল ইসলাম;

    দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু আবদুল্লাহ;

    টাঙ্গাইল কালিহাতি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মেহদী হাসান;

    টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: মাসুদুর রহমান রাসেল;

    ভূঞাপুর পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: হাসান ইমাম তালুকদার;

    শফিপুর পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: মাওলানা আনসার আলী;

    নরসিংদী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: সাইফ ইবনে সারওয়ার;

    গাজীপুর কালীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শোয়েব মিয়া।

    ঢাকা বিভাগ (দক্ষিণ)

    নারায়ণগঞ্জ সেনারগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: তুহিন মাহবুব;

    মুন্সিগঞ্জ সিরাজদিখান উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আলী নেওয়াজ।

    ফরিদপুর বিভাগ

    নগরকান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: রেজাউল করিম সবুজ;

    নগরকান্দা পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: নাজমুল হুদা;

    ফরিদপুর পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: সাইদ খান;

    মাদারীপুর পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: মো. হাসিবুল্লাহ;

    গোপালগঞ্জ পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী: ফেরদৌম আমেনা।

    এনসিপি বলেছে যে প্রাথমিক তালিকা ঘোষণার মধ্য দিয়ে তাদের প্রার্থিতা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং পরবর্তী ধাপে আরও প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। দলটি যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় রেখে প্রার্থীদের বাছাই করে নেওয়ার ব্যাপারে জোর দিয়েছে, এবং অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্যরাও শর্তসাপেক্ষে আবেদন করতে পারবে, যদি তারা দলের নীতিমালা ও যাচাই-বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হন।