বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যখন গণতন্ত্র দুর্বল থাকছে, তখন উগ্রবাদী শক্তিগুলোর উত্থান ঘটে। এই পরিস্থিতিতে তারা মাথা তুলে দাঁড়ায়। দেশের জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রেও এমন কিছু ঘটনা দেখা গেছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি কখনই জনপ্রিয়তা হারায়নি কারণ এটি সবসময় জনগণের জন্য কাজ করেছে। এইটাই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি। বিএনপি সরকারে থাকার সময় তাদের কাজে মনোযোগী ছিল এবং জনগণের গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছিল। তিনি শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল সকাল ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা সবসময় আমাদের অঙ্গীকারের প্রতি দৃঢ় থাকি। যারা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন, তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন এবং তাদেরকেই নিয়ে আমরা ভবিষ্যতে সরকার গঠন করব। তিনি উল্লেখ করেন, ইতোমধ্যে জনগণ তাদের রিজেক্ট করে দিয়েছে। বিএনপি তিন ভাগের দুটি মোটেও অন্যতম সংখ্যা পেয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, মানুষ আবারও সৎ ও কল্যাণমুখী রাজনীতির মাধ্যমে সকল অপপ্রবণতা রুখে দেবে। এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
Category: রাজনীতি
-

জাতীয় পার্টির বিপর্যয়: খাতাই খুলতে পারেনি দলটি
প্রতিষ্ঠার পর থেকে চার দশকের এক বিস্ময়কর মাইলফলক হিসেবে দেশের সংসদ নির্বাচনে বেশির ভাগ সময়ই শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছিল জাতীয় পার্টি (জাপা)। তবে এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন চেহারা দেখিয়েছে এই দল। ১৪তম সংসদ নির্বাচনে দলটি প্রার্থী দিয়েছিল ১৯৬টি আসনে; কিন্তু কোনওটিতেই জয় লাভ করতে পারেনি। বিশেষ করে রংপুরের দলটির ‘দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত আসনগুলোতেও দেখা গেছে হতাশাজনক ফলাফল। এই ভয়াবহ পরাজয়ে সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের এবং মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীর শোচনীয় নৈখিক হার। তারা নিজ নিজ আসনে তৃতীয় স্থানেইহ করেছেন।
রংপুরের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বাড়ি রয়েছে এই শহরে। আর এখানেই ছিল দলের মূল শক্তির কেন্দ্র। অতীতে এখান থেকে উচ্চমানের ভোট পেয়ে নিজেদের অবস্থান জোরদার করত দলটি। আলবানী ঢেলে দিয়ে ১৯৯১ সালে এক নজির সৃষ্টি করে ২২১টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩৫টি আসনে জয় পায় জাপা। এরপর ১৯৯৬ সালে ৩২টি, ২০০১ সালে ১৪টি আসনে তারা জয়লাভ করে। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের অংশ হিসেবে ২৭টি আসনে জয় অর্জন করে। ২০১৪ সালে একতরফা নির্বাচনে দলের ৩৪ জন প্রার্থী বিজয়ী হয়। ২০১৮ সালে মহাজোটের অংশ হিসেবে ২২টি আসনে জয় ছিনিয়ে নেয় দলটি। আর সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে পায় ১১টি আসন। কিন্তু এবার পুরো নির্বাচনে তাদের চোখে কিছুই পড়েনি — দলের কোনও আসন থেকেই জোরদার প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা জয় পাওয়া সম্ভব হয়নি।
রংপুর-৩ আসনটি একসময় দলটির অবিসংবাদিত ‘দুর্গ’ ছিল। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। পরে তার ছেলে সাদ এরশাদ ও একবার উপনির্বাচনে রওশন এরশাদও জয় লাভ করেছিলেন। এই আসন ছিল তৃণমূলের সংগঠনের মূল কেন্দ্র। কিন্তু এবার দেখা গেছে, জামায়াত জোট এই ঐতিহ্যবাহী আসনটি জয় করে নিয়েছে। রংপুর-৩ এর এই জয় রংপুরের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।
অন্যদিকে, রংপুর-৩ সদর আসনে দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। কিন্তু তিনি এই আসনে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। এখানে জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান বেলাল ১ লাখ ৭৫ হাজার ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু পেয়েছেন ৮৪,৫৭৮ ভোট। আর জিএম কাদের পেয়েছেন মাত্র ৪৩,০০০ ভোট, যা দলের দীর্ঘদিনের আধিপত্য এবং গৌরবময় শক্তির অবসান ঘটিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনের দিন জিএম কাদের ভোটদানেও যাননি। তিনি পুরো সময়টাই ছিলেন নিউসেনপাড়া মহল্লার বাসায় এবং কোনও কেন্দ্রও পরিদর্শন করেননি। এই অনুপস্থিতি এবং সামগ্রিক নৈরাজ্য ভোটের মাঠে দলের পরাজয়কে আরও নিশ্চিত করে তুলেছে, পাশাপাশি ভোটারদের মনোবল কমিয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে গাইবান্ধা-১ আসনে মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীও তৃতীয় হয়েছেন। এখানে জামায়াতের মো. মাজেদুর রহমান সংসদ সদস্য হিসেবে বিজয়ী হন। বিএনপির জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী দ্বিতীয় হয়েছেন। তবে শামীম হায়দার পাটোয়ারী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পিছিয়ে থেকেও তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।
এসব ফলাফলের পেছনে রয়েছে দলটির ভূমিকায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলা বহু কারণ। দীর্ঘদিন ধরে দলটির রাজনীতি ও কর্মকাণ্ড ভোটারদের মধ্যে আস্থা হারিয়েছে। বিশেষ করে, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের সাথে জোটে থাকা দলের ভাবমূর্তি লাইনচ্যুত হয়েছে। ভোটাররা এখন মনে করছেন, তারা এক স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি না; বরং জনশূন্য ও দুর্বল।
এছাড়া দলের অভ্যন্তরে কোন্দল, নেতৃত্বের সংকট ও বিভাজন দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রমে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নেতাদের মধ্যে মতানৈক্য, সিদ্ধান্ত গ্রহণে অসঙ্গতি এবং নেতৃত্বের অভাব দলীয় প্রচারাভিযান ও মাঠের রাজনীতিকে দুর্বল করে ফেলেছে। নির্বাচনকালীন সময়েও দলের শীর্ষ নেতারা সক্রিয় না থাকায় ও পরোভাগে অনুপস্থিত থাকায় ভোটারদের মনোবল কমে গেছে। দলের চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কার্যক্রমে উপস্থিত না থাকাও ভোটের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
-

বিএনপি ভারতের কাছে হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানাবে
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তার দল ভারতের কাছেও তিনি হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশে বিএনপি আইনানুযায়ী হাসিনার প্রত্যর্পণের জন্য তার ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করবে, যেখানে মূলত বিষয়টি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আলোচনা হবে। তারা চান, ভারতের মাধ্যমে হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করা হোক।
-

ইতিবাচক আচরণকে দুর্বলতা ভাববেন না: জামায়াত আমিরের হুঁশিয়ারি
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সম্প্রতি কয়েকটি নির্বাচনি ঘটনা তুলে ধরে অভিযোগ করেছেন যে, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়নি। তিনি শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ১১ দলের জরুরি বৈঠকের শেষে এই মন্তব্য করেন।
বৈঠকে জামায়াতের নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার, এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মামনুল হক। তারা নির্বাচনের ফলাফলের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কিছু ফলাফল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বদলানো হচ্ছে, যেমন তারকাছাড়া হয়, ফলাফল বন্ধ করা হয় বা পরিবর্তন আনা হয়। তিনি বলেন, যেসব প্রার্থী প্রতিকার চাইছেন, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একে বিচার চান। যদি বিচার না হয়, তাহলে তারা কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবেন।
তাঁর ভাষায়, কিছু স্থানে হঠাৎ করে ফলাফল বন্ধ করা হয়েছে, যেখানে এগিয়ে থাকলেও হারানো হয়েছে। অনেক কষ্ট করে ফল ধরে রাখতে হয়েছে, আবার কোথাও ফলাফল ঘোড়ামাচা অথবা দখল করে নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। বিদেশি পর্যবেক্ষকরাও যা দেখেছেন, তারা তা প্রকাশ করবেন বলে জানান তিনি। তিনি জানান, তারা তাঁদের আপত্তির বিষয়ে তুলে ধরবেন এবং ছাত্র-রাজনীতি বা বিদেশি অন্ধকারে ফিরে যেতে চান না।
অন্য দিকে, তিনি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের গুরুত্ব আবারো তুলে ধরে বলেন, আমাদের ভদ্রতা ও ইতিবাচক আচরণকে দুর্বলতা ভাবলে ভুল হবে। এখনো বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলা হচ্ছে, যা ফ্যাসিবাদী লক্ষণ। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি ফের ফ্যাসিবাদ ফিরে আসে, তবে এর জন্য তারা কাউকে ছাড় দেবেন না।
জনসমাগমে উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজ থেকে তারা জনগণের পাশে আরও দৃঢ়ভাবে থাকবেন। তরুণ সমাজের ত্যাগের মূল্যবোধকে সম্মান জানিয়ে বলেন, তারা দেশপ্রেমের জন্য রক্ত দিয়েছেন। তিনি জানান, আন্দোলনের পথে নামতে তারা প্রস্তুত।
আরো তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, ১১ দলের ঐক্যবদ্ধতা অব্যাহত রাখতে ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করবো, যারা আইনি কাঠামোর মধ্যে নেই, তাদের ফলাফল স্থগিত করুন।
তিনি বলেন, গণভোটে হ্যাঁ ভোটের ব্যাপারে নিশ্চিত, এবং জুলাইয়ের সার্টিফিকেটের পর্যায়ে সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। যদি তা না হয়, তাহলে তারা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবে। তারা অনেক নিয়মবিরোধী কাজের পরও কেন সরকার বা অন্যান্য দল সন্তুষ্ট নহে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং বলেন, তারা আর কি চায়।
-

১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকার গঠনের পরিকল্পনা মির্জা ফখরুলের
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে বাইরে নয়, সেদিনের মধ্যে নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্য নিয়ে তিনি কাজ করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় দেখে জনগণের প্রত্যক্ষ ভালোবাসা ও আস্থার প্রতিফলন হয়েছে। মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি কোনো ক্যাডারভিত্তিক সংগঠন নয়, এটি মূলত জনগণের দল। শুক্রবার সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে নিজের বাসভবনে সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুলতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতে ইসলামীর উত্থান নিয়ে একটি প্রশ্নে মির্জা ফখরুল এটিকে তিনি ‘রাজনৈতিক বিজ্ঞান’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। বলেন, নানা ফ্যাসিস্ট শাসনের কারণে গত ১৫ বছরে উগ্রবাদের এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। যখনই গণতন্ত্রকে চেপে ধরা হয়, মানুষের কণ্ঠ রোধ করা হয়, তখনই নানা উগ্রপন্থির উত্থান ঘটে। আওয়ামী লীগের দমন-পীড়ন ও বিরোধী দলদের রাজনৈতিক অর্গানাইজেশন করতে দেয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ফখরুল বলেন, আমি অত্যন্ত বিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি যে, বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ ইতোমধ্যে তাঁদের রক্ষা করেছেন। সাধারণ ভোটাররা দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে, যা তাদের সুস্থ ও জনকল্যাণমুখী রাজনীতির প্রতি আস্থার প্রতিফলন। জনগণ এই ভোটের মাধ্যমে সব ধরণের অপপ্রবণতা রুখে দিচ্ছে।
নির্বাচনী জয়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, বিএনপির ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কার, ৩১ দফার প্রতিশ্রুতি ও কর্মসূচির প্রতি জনগণের অটুট সমর্থন ছিল বলেই এই বিশাল বিজয় সম্ভব হয়েছে।
জাতীয় সরকার গঠনের বিষয়ে তিনি assert করেন, তারা নিজেদের প্রতিশ্রুতি অটুট রাখবেন। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন, তাদের সঙ্গে নিয়ে ইনশাআল্লাহ, নতুন সরকার গঠন করতে চান।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে ফখরুল যুক্ত করেন, বিএনপি যেসব অংশে সই করেছে, সেগুলোর প্রাধান্য দিয়ে তা বাস্তবায়ন করবেন। পাশাপাশি ৩১ দফা কর্মসূচিও পর্যায়ক্রমে কার্যকর করা হবে।
রংপুর বিভাগে জামায়াতের ভালো ফলাফলের কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তবে উল্লেখ্য, বৃহত্তর দিনাজপুর জেলার ১১টি আসনে বিএনপি জয় লাভ করেছে, যেখানে জামায়াত কোনো আসন পায়নি। তিনি জানান, যদি জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে কর্মকাণ্ড চালানো যায়, তবে উগ্রবাদী প্রবণতাও দূর করা সম্ভব।
এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি সভাপতি পয়গাম আলীসহ দল ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকালে, নিজ বাসভবনে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মির্জা ফখরুল।
উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও-১ আসনসহ জেলার তিনটি আসনে বিএনপি প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন।
-

২০ বছর পর সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি; প্রথমবার প্রধান বিরোধী দলে জামায়াত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারি ফলাফলের আলোকেই দীর্ঘ দুই দশক পর চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। মোট ২৯৯টি আসনের মধ্যে এখন পর্যন্ত পাওয়া অপ্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থীরা ১৭৫টি আসনে জয়ী হয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা এইবার ৫৬টি আসনে জয় লাভ করেছেন। আর জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬টি ও স্বতন্ত্র এবং অন্যান্য দল মিলিয়ে ১১টি আসনে সফল হয়েছে। বাকি ৪২টি আসনের ফলাফল এখনও যাচাই প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বড় জয়লাভে নজর কাড়ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তিনি ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে, ঢাকা-১৫ আসনে জয় পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
আইনীভাবে সরকার গঠনের জন্য ৩০০ সদস্যবিশিষ্ট সংসদের অর্ধেক চেয়ে এক সদস্য বেশি, অর্থাৎ অন্তত ১৫১টি আসনে জয় প্রয়োজন। বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী বিএনপি এককভাবে সেই সংখ্যাকে অতিক্রম করেছে বলে দলীয় পক্ষ থেকে অভিমত প্রকাশিত হয়েছে।
ইতিমধ্যে এই নির্বাচনে বিশেষ একটি দিককে ইতিহাস বলতেই হচ্ছে—জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট এবার প্রথমবারের মতো প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পেতে যাচ্ছে। পূর্বের কয়েক দফায় জামায়াত বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ হলেও কখনো তারা প্রধান বিরোধী দল হিসেবে স্থান পায়নি।
বিএনপির ক্ষমতার সাম্প্রতিক ইতিহাসে সর্বশেষ তাদের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল ২০০১ সালের নির্বাচনে। পরবর্তীতে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিলে ওই মেয়াদ শেষ হয়। বেগম খালেদা জিয়াই দলকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে গেছেন এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গড়া এই দলটিকে শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দীর্ঘ সময়ের রাজনীতি-সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন তিনি; ১৯৯৬ সালেও স্বল্প সময়ের জন্য বিএনপি সরকার গঠন করেছিল।
এই নির্বাচনে দলের নতুন নেতৃত্ব হিসেবে নজর কাড়া ব্যক্তিত্ব তারেক রহমান—দলের পক্ষ থেকে আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল, ক্ষমতায় গেলে প্রধানমন্ত্রী হবেন তিনি। এবারে তিনি প্রথমবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬—উভয় আসনেই জয়ী হয়েছেন। গত বছরের ২৫ নভেম্বর দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে তিনি দেশে ফিরেন এবং ২৭ নভেম্বর ভোটার তালিকায় নাম যুক্ত করা হয়।
তারেক রহমানের রাজনৈতিক যাত্রা আশির দশকেই শুরু; এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৮৮ সালে গাবতলী (বগুড়া) উপজেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ এবং পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে স্থানীয় নেতা নির্বাচনের সংস্কৃতি চালু করেও তিনি তৃণমূল রাজনীতিতে সাড়া ফেলেন। ২০০২ সালে তিনি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং ২০০৯ সালে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাসের সময় তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন এবং পরবর্তীতে সরকারের বিরুদ্ধে বহু আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।
আবার উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। এরপর ৯ জানুয়ারি দলের স্থায়ী কমিটি তারেক রহমানকে চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়।
দেশীয় পার্লামেন্টারি শৃঙ্খলা ও ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই ফলাবলি রাজনৈতিক দলে—দলে বিবর্তন ও নতুন সমীকরণ তৈরি করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ ও ভোট গণনার চূড়ান্ত জবাবদিহি পর্বের পরই সরকার গঠন-কায়দা ও বিরোধী দলের ক্ষমতা বিস্তারের চূড়ান্ত রূপ সামনে আসবে।
-

জনগণ আগামী পাঁচ বছরের দায়িত্ব বিএনপিকে দিয়েছে: নজরুল ইসলাম খান
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ভোটের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরের দায়িত্ব জনগণ বিএনপিকে অর্পণ করেছেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় আগারগাঁওয়ে নির্বাচনcommissionের প্রধান কার্যালয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণা সম্পন্ন হওয়ার পর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম জানান, গত রাত থেকেই ভোটের ফল ঘোষণা শুনছেন এবং তাদের অনেকে সারারাত কর্মস্থলে অবস্থান করেছেন। ধারা থেকে দেখা গেছে বিএনপি দুই তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে বিজয়ী হয়েছে এবং জোটসঙ্গী প্রার্থীগুলোরও অনেকেই জিতেছেন। এসব ফলাফলের ভিত্তিতে জনগণ দেশের আগামী পাঁচ বছরের কল্যাণের দায়িত্ব বিএনপি ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আগের কয়েকটি নির্বাচনে অনেক প্রাণহানি ও বৃহৎ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদেরও ক্ষতি ঘটেছে। আর এইবার আল্লাহর অশেষ রহমতে তেমন কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা ক্ষতি ঘটেনি, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবু দীর্ঘদিন ভোটবর্জনের কারণে মানুষের মাঝে ভোটে অনাগ্রহের একটি সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, সেটি পুরোপুরি আমরা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হইনি। আগামী দিনে জনগণকে ভোটের প্রতি আরও উৎসাহী করে তুলতে তারা কাজ করবে, যাতে সবাই ভোটকেন্দ্রে এসে রাষ্ট্র পরিচালনায় নিজেদের অধিকার প্রয়োগ করে।
চট্টগ্রামের দুই আসনের ফলাফল আপিল বিভাগের আদেশের কারণে ঘোষণা না করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আদালত যখন সিদ্ধান্ত দেবেন, তখন নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করবে। এই দু’টিকে ছাড়া বিএনপির পক্ষে সরকার গঠন করতে কোনো সমস্যা নেই বলে তিনি আশ্বাস দেন।
বিএনপির প্রত্যাশা সম্পর্কে জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা ২৯২টি আসনে প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছিলাম এবং প্রত্যাশা ছিল সকলেই জয় লাভ করবেন। এমনকি যারা তুলনামূলকভাবে কম ভোট পেয়েছেন,তারাও বিজয়ের আশায় নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ইনশাল্লাহ ভবিষ্যতে আমাদের ফলাফল আরও ভালো হবে।
-

ফল ঘোষণায় বিলম্ব নিয়ে জামায়াত আমিরের প্রশ্ন, ইতিবাচক রাজনীতির আশ্বাস
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর শরিক দলগুলো ইতিবাচক রাজনীতি ও কল্যাণমুখী পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। তবে কিছু আসনে ফল ঘোষণা নিয়ে বিলম্বে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, নির্বাচনের ফলাফল যত দ্রুত সম্ভব ঘোষণা করলে তারা তার বিশ্লেষণ করে জাতির সামনে ঘোষণা করবেন। তিনি আশ্বাস দেন, তাঁদের রাজনীতি হবে ইতিবাচক ও মানুষের কল্যাণে নিবেদিত। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া ১১টায় রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ভালো কাজে সহযোগিতা এবং অকল্যাণকর কাজে বিরত থাকার নীতিতে তাঁরা রাজনীতি চালিয়ে যাবেন। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে একটি আয়াত পাঠ করে এর বাংলা অর্থ তুলে ধরেন শফিকুর রহমান। যাতে বলা হয়, উন্নত ও কল্যাণকর কাজে সহায়তা ও অকল্যাণের বিরুদ্ধে বিরত থাকা, এই দুই নীতিতে তিনি তার দলকে পরিচালিত করবেন। কিছু আসনে ফল ঘোষণায় দেরি হওয়া নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, এটি একটি অসুস্থ ধারার রাজনীতির পরিচয় দেয়। বিশেষ করে ঢাকা-৮ আসনে ফলাফল দেরিতে ঘোষণা হওয়ার বিষয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, কিছু কিছু আসনের ফলাফলের সিটে দেখা যাচ্ছে যে তারা এগিয়ে থাকলেও পরে অজুহাতে ফলের ঘোষণা থামানো হচ্ছে। কারচুপির আশঙ্কা আছে কিনা, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, অনেক কিছু ঘটেছে কিন্তু এখনই বিস্তারিত বলতে চান না। সব তথ্য হাতে এলে তারা ১১ দল মিলেবেশি বিশ্লেষণ করে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেবে। ফল মেনে নেওয়া হবে কি না, এ বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁদের রাজনীতি হবে ইতিবাচক। তবে ফল গণনা নিয়ে বিলম্বের জন্য কাদের দায়ী, তা খতিয়ে দেখা আবশ্যক। জামায়াতের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত প্রার্থীদের তালিকা প্রাথমিক তথ্যের উপর ভিত্তি করে, এর চূড়ান্ততা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আমির আরও জানান, ফলাফলের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মামুনুল হক, নাহিদ ইসলামসহ জোটের কয়েকজন শরিক নেতা।
-

জামায়াতের শীর্ষ তিন নেতা পরাজিত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর গণনার কার্যক্রম চলছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি আসনের ফলাফল পাওয়া গেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ তিন নেতা পরাজিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের ভোটের ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যা দলটির জন্য হতাশাজনক। যদিও জামায়াতের উল্লিখিত নেতারা জয়ের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী ছিলেন। তাদের পরাজয় হওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ, আরও একজন হচ্ছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল ও বিশিষ্ট আইনজীবী শিশির মনির। ভোটের ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরাজিত হয়েছেন এই তিন নেতা। মিয়া গোলাম পরওয়ারের ভোটের ব্যবধান ছিল তিন হাজার, হামিদুর রহমান আযাদের ব্যবধান ২৮ হাজার, এবং শিশির মনিরের ব্যবধান ছিল ৩৯ হাজার ভোট। এই ফলাফল থেকে বোঝা যায় যে, জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ভবিষ্যত রাজনৈতিক ক্যারিয়ার কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে পারে।
-

আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেছেন, ফলাফল ট্যাম্পারিং চলছে
বিভিন্ন কেন্দ্রের ভোটের ফলাফলে ব্যাপক কারচুপি ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির পক্ষ থেকে সেই সব আসনে পুনরায় ভোট গণনার দাবি জানানো হয়েছে, যেখানে তারা মনে করেন ফলাফল বিকৃত হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে বাংলামোটরস্থ এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, বিভিন্ন নির্বাচনী কেন্দ্রে ভিন্ন ফলাফলের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যাতে স্পষ্টভাবে ফলাফল ট্যাম্পারিং হচ্ছে বলে তাদের সন্দেহ। তিনি জানান, যেসব আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন, সেখানে ফলাফলের প্রক্রিয়ায় অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, কেন্দ্র থেকে আসা ফলাফলের সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া ফলাফলের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে প্রমাণ রয়েছে যে ফলাফল বিভ্রান্তিকরভাবে পরিবরতন করা হয়েছে।’
অভিযুক্ত বেশ কয়েকটি ঘটনায় তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকার কিছু আসনে ফলাফল ঘোষণা করার আগে বিএনপি প্রার্থীর স্বয়ং তাকে জয়ী ঘোষণা করানো হয়, যা মানসিক চাপ সৃষ্টির জন্য পরিকল্পিত চেষ্টা। পাশাপাশি, কিছু স্থানে এনসিপি প্রার্থীর বেশি ভোট থাকা সত্ত্বেও ফলাফল বিতরণের সময় ফলাফল বদলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিশেষ করে ঢাকা-৮ আসনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিছু ব্যালটের সিল না থাকলেও সেগুলোর ফলাফল ধানের শীষের পক্ষে গণনা করা হয়েছে। সেইসঙ্গে, মন্তব্য করেন, ব্যালট পেপারে যথাযথ সিল থাকা না থাকতো সত্ত্বেও ধানের শীষের পক্ষে ফলাফল দেখানো হচ্ছে। এমনকি, মির্জা আব্বাসকে জয়ী করার জন্য বিভিন্ন নাটকীয় প্রক্রিয়া চালানোরও অভিযোগ করেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছুঁড়ছেন। তিনি আরও বলেন, ফলাফল ঘোষণায় বেশ কিছু কেন্দ্রে দেরি হচ্ছে এবং তা নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাক্ষরকর্তা বলেন, এই সব অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা জরুরি। তিনি দাবি করেন, যে সমস্ত ফলাফলকে চূড়ান্ত বলে গণ্য করা যাবে না, যতক্ষণ না ভোট পুনঃগণনা সম্পন্ন হয় এবং সঠিক তথ্য প্রকাশিত হয়। একইসঙ্গে, অবিলম্বে ভোটের ফলাফল পুনরায় গণনা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য আহ্বান জানান।
