Category: রাজনীতি

  • নারি আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন ছাত্রদল নেত্রী মানছুরা আক্তার

    নারি আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন ছাত্রদল নেত্রী মানছুরা আক্তার

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। এই তালিকায় অন্যতম হলো ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেত্রী মানছুরা আক্তার, যিনি দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

    এ দিন (২০ এপ্রিল), নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী তার নাম ঘোষণা করেন।

    মানছুরা আক্তার বর্তমানে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি। তিনি ঢাকার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

    ছাত্রদলের একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে তিনি বিভিন্ন সময় রাজপথে দলের হয়ে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। সরকারের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা তাঁর উপর হামলা চালানোর ঘটনাও ঘটে গেছে।

    বলা যায়, তাঁর সংগ্রামের গল্পটি অনেকের জন্য অনুপ্রেরণার। ২০২২ সালের মে মাসে ঢাকায় এক ছাত্রদল কর্মিসভার মধ্যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। তখন তার হাত ভেঙে যায়, এবং সহকর্মীরা তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এই ঘটনার পর তিনি ছাত্রলীগের ৩৩ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন।

    অতঃপর, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসেও মানছুরা আক্তার আবারো ছাত্রলীগের হামলার শিকার হন। ঢাকা মেডিকেল কলেজের বহির্বিভাগের সামনে অবস্থানকালে ছাত্রলীগের কর্মীরা তার উপর হামলা চালায়। এতে তিনি ছাড়াও আরও কিছু ছাত্রদল নেতা আহত হন। এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে তিনি দলের জন্য প্রতিপক্ষের অপ্রতিরোধ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে চলেছেন।

  • বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের তালিকায় প্রভাবশালী হেভিওয়েটরা থাকছেন না

    বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের তালিকায় প্রভাবশালী হেভিওয়েটরা থাকছেন না

    বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সংরক্ষিত নারী আসনের ৩৬ প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে বিএনপি। দীর্ঘ দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরে দেশের গণতন্ত্র পরিচালনায় দিন দিন নতুন করে মুখ দেখছে দলটি, কিন্তু এবার সংরক্ষিত আসনের তালিকায় তার প্রতিফলন দেখা গেল না। এই তালিকায় বিএনপির প্রভাবশালী নেত্রীরা যেমন ছিলেন না, তেমনই কোনও জনপ্রিয় মুখও থাকছে না। তাৎক্ষণিকভাবে, দলের কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক কাঠামো ও নেতৃত্বের পক্ষে নতুন প্রার্থী দানার দিকে মনোযোগ দেয়ার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • সংখ্যালঘুকণ্যা চার নারী বিএনপির মনোনয়ন পেলেন

    সংখ্যালঘুকণ্যা চার নারী বিএনপির মনোনয়ন পেলেন

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে একাধিক প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। সোমবার নয়াপল্টনে দলের কার্যালয়ে এই মনোনয়ন ঘোষণা করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। মনোনীত চারজন সংখ্যালঘু প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন নিপুণ রায় চৌধুরী, আন্না মিনজ, সুবর্ণা শিকদার এবং মাধবী মারমা।

    বিএনপির এই মনোনয়নে সামাজিকভাবে বিভিন্ন সেক্টরের প্রতিনিধিত্ব বিবেচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে, উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত এবং আদিবাসী ও অন্য সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের প্রতিনিধিত্ব মুখ্য ভূমিকা নিয়েছে। এর মধ্যে আন্না মিনজ, যিনি ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম), উল্লেখযোগ্য। তিনি নাটোরের বাসিন্দা এবং সংখ্যালঘু খ্রিস্টান সম্প্রদায় ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ওঁরাওয়ের প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে জানিয়েছেন। তার স্বামী, জন গোমেজ, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ধর্মবিষয়ক সহ-সম্পাদক।

    সংরক্ষিত আসনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্য দুজন মনোনীত হয়েছেন সুবর্ণা সিকদার এবং মাধবী মারমা। সুবর্ণা গোপালগঞ্জ ও মাধবী বান্দরবান থেকে নির্বাচিত হবেন। সুবর্ণা মথুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের প্রধান উপদেষ্টা ও একজন শিক্ষিকা। তার এই মনোনয়নের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু আলোচনা শুরু হয়েছে, যেখানে কেউ কেউ দাবি করছেন যে তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের কমিটিতে রয়েছেন। তবে তিনি গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমি বিএনপি’র সমর্থক, কোনও কমিটিতে আছি না।’ তার স্বামী, পদ্মনাভ ঠাকুর, এক ժամանակ যুবদলের নেতা ছিলেন।

    অপর দিকে, মাধবী মারমা বান্দরবান জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য এবং মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক।

    দলটির শীর্ষ নেতারা জানান, সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে এই মনোনয়ন কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে এক harmonous ও সমন্বিত রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলাই লক্ষ্য।

  • সোচ্চার হবেন নারী সংসদ সদস্যরা, ভুল পথে গেলে সরব থাকবেন হামিদুর রহমান আযাদ

    সোচ্চার হবেন নারী সংসদ সদস্যরা, ভুল পথে গেলে সরব থাকবেন হামিদুর রহমান আযাদ

    সরকার যদি কোনো ভুল পথে হেঁটে জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নেয় বা অসঙ্গতিপূর্ণ ব্যবস্থা নেয়, তখন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরাও সমানভাবে মুখ তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি এ কথা বলেছেন মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনে জামায়াত জোটের মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরে এক সংবাদ সম্মেলনে। তিনি জানান, ‘আমরা আশাবাদী যে, নারী আসনে আমরা যে কম্বাইন তালিকা দাখিল করেছিলাম, সেখানে আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকছে না। এই ১৩টি আসনের জন্য সব প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার কথা, আর আশা করছি এর ফলাফলও তাই হবে।’ তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সাথে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং সরকারের প্রতি আস্থা রয়েছে যে, ভোটের নিয়ম অনুসারে প্রার্থীরা সময়মতো পার্লামেন্টে যোগ দেবেন। এর ফলে, নারী প্রতিনিধিত্বের ওই প্রত্যাশা পূরণ হবে এবং নারীরা তাদের অধিকার উপভোগ করবেন। হামিদুর রহমান আযাদ আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচিত ১৩ জন নারী সংসদ সদস্য ১১ দলের জাতীয় ঐক্য থেকে সংসদে অংশ নেবেন। তিনি বলেছেন, দেশের জনগণের জন্য, জাতির স্বার্থে আইন তৈরি, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নারীরা সমান অংশগ্রহণ করবেন, যা সংবিধান তাদের সেই অধিকার দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত এই ১৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলেও তারা বিরোধী দলের দলের কাতারে বসে দেশ ও জাতির উন্নয়নে দায়িত্ব পালন করবেন। হামিদুর রহমান আযাদ উল্লেখ করেন, পার্লামেন্টে আমাদের নীতি ও উদ্দেশ্য হল ন্যায় প্রতিষ্ঠা, জনকল্যাণে কাজ করা এবং দেশের স্বার্থে সচেতন ও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করা। তিনি জানান, এটি শুরু থেকেই বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ও জামায়াতের নেতাদের ঘোষণা। তিনি বলেন, ‘যদি সরকার ভুল পথে যায় বা জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নেয়, তখন আমাদের বিরোধীদলীয় সদস্যরা সোচ্চার থাকবেন। পাশাপাশি, নারীদেরও ঐক্যবদ্ধভাবে অংশগ্রহণ করে বিরোধিতা করবেন। বলা চলে, ৭৭ জন বিরোধী সদস্যের সাথে আরও ১৩ জন যুক্ত হয়ে মোট ৯০ জন ঐক্যবদ্ধ বিরোধীদলীয় সদস্য লড়াই চালিয়ে যাবেন।’ গণভোটসংক্রান্ত প্রশ্নে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে সাংবিধানিক সংস্কার কমিটি গঠনের কথা ছিল, কিন্তু তা হয়নি। এই অপূর্ণতা এবং অন্যায়ের প্রতিবাদে আমরা পার্লামেন্টে ও রাস্তায় অবস্থান করছি এবং ভবিষ্যতেও বিভিন্ন কর্মসূচি পালনে প্রত্যয়ী।’ তিনি যোগ করেন, ‘জামায়াতের নীতির সঙ্গে পরিবারে দুই সংসদ সদস্য থাকার বিষয়টি জড়িয়ে থাকায়, আমিরের স্ত্রীর পরিবর্তে শহীদ পরিবারের একজন মায়ের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারসহ সমাজের বিভিন্ন খাতে অবদান রাখাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।’ তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য বিভিন্ন বিধান রয়েছে, বিশেষ করে নবীন প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিলের ক্ষেত্রে অনেক শর্তের মধ্যে থাকবেন। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, মনোনয়নপত্র বাতিলের কোনো আশা নেই। তফসিলে উল্লেখ আছে, মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল; আপিল শুনানি ২৬ এপ্রিল; আপিলের সিদ্ধান্ত ২৭ ও ২৮ এপ্রিল; প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল; প্রতীকের বরাদ্দ হবে ৩০ এপ্রিল; আর ভোট গ্রহণ হবে ১২ মে।

  • বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে নতুন ২৮ নারীসহ মোট ৩৬ জন মনোনীত

    বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে নতুন ২৮ নারীসহ মোট ৩৬ জন মনোনীত

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বিএনপি সোমবার (২০ এপ্রিল) এক প্রস্ততি ঘোষণা করে ৩৬ জনের চূড়ান্ত মনোনয়ন। রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই নামগুলো ঘোষণা করেন।

    বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই তালিকায় বেশ কিছু নতুন মুখের স্থান রয়েছে। এ বছর বিএনপি প্রথমবারের মতো ২৮ জন নারী মনোনয়ন পেয়েছেন, যার ফলে তারা সংসদে প্রথমবারের মতো প্রতিনিধিত্ব করবেন। অন্যদিকে, ৮ জন আগে সংরক্ষিত কোটায় সংসদ সদস্য ছিলেন, তারা পুনরায় মনোনয়ন পেয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান, রেহানা আক্তার রানু, রাশেদা বেগম হীরা, বিলকিস ইসলাম, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, সুলতানা আহমেদ ও নেওয়াজ হালিমা আর্নি।

    তালিকায় এমনও দুই নারী রয়েছেন, যাদের স্বামী বা পিতার সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব রয়েছে। যেমন, বিএনপি নির্বাহী সদস্য ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুন রায় চৌধুরী—যাঁর বাবা সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও শ্বশুর বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। অন্য একজন হলেন শিরিন সুলতানা, যার স্বামী খায়রুল কবির খোকন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব।

    অতিরিক্ত, প্রয়াত শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বিথিকা বিনতে হোসাইনও মনোনয়ন পেয়েছেন ওই তালিকায়।

    সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনে পরাজিত কিছু প্রার্থীও এবার মনোনীত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকা-১৪ আসনের সানজিদা ইসলাম তুলি, যশোর-২ আসনের সাবিরা সুলতানা এবং শেরপুর-১ আসনের সানসিলা জেবরিন রয়েছেন।

    তবে মহিলা দল থেকেও কিছু সদস্য মনোনয়ন পেয়েছেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদিকা সুলতানা আহমেদ এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

    এছাড়া, বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন মাহমুদা হাবিবা ও শাম্মী আক্তার।

    ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির কমিটি থেকে তিনজন মনোনীত হয়েছেন: ফেরদৌস আহমেদ, আরিফা সুলতানা ও নাদিয়া পাঠান—যাঁরা সক্রিয় রাজনীতি করেছেন।

    অপর দিকে, বর্তমানে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানসুরা আক্তারও মনোনয়ন পেয়েছেন, যিনি এই সংরক্ষিত আসনের সবচেয়ে তরুণ। তাঁর বাবা প্রয়াত অ্যাডভোকেট এবাদুর রহমান চৌধুরী।

    বিএনপির তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কিছু মনোনীত নারী সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও পেয়েছেন সুযোগ। এদের মধ্যে একজন হলেন, মোবাইল অপারেটর বাংলা লিংকের সিইও জহরত আবিদ চৌধুরী।

    বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে শায়রুল কবির খান জানান, এই মনোনয়নে অভিজ্ঞ রাজপথে আন্দোলিত ও নিপীড়িত নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়েছে, যা দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি এবং দলের নেতারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

  • সংরক্ষিত নারী আসনে সংখ্যালঘু চারটি মনোনয়ন দিলো বিএনপি

    সংরক্ষিত নারী আসনে সংখ্যালঘু চারটি মনোনয়ন দিলো বিএনপি

    বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে মোট চার নারীকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে। সোমবার নয়াপল্টনের বিএনপি কার্যালয়ে এ প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

    মনোনয়ন পাওয়া চারজন হলেন নিপুণ রায় চৌধুরী, আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার ও মাধবী মারমা। দলের বিবৃতি অনুযায়ী মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিনিধিত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর আওয়াস পার্লামেন্টে পৌঁছাতে পারে।

    নাটোরের বাসিন্দা আন্না মিনজ ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম)। তিনি দীর্ঘদিন উন্নয়ন খাতে কাজ করছেন এবং আদিবাসী ও ওরাও সম্প্রদায়সহ সুবিধাবঞ্চিত খ্রিস্টান ও অন্যান্য ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে জানিয়েছেন। আন্নার স্বামী জন গোমেজ বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ধর্মবিষয়ক সহ-সম্পাদক।

    সুবর্ণা সিকদার গোপালগঞ্জ থেকে মনোনীত হয়েছেন। তিনি শিক্ষক ও মথুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত। তার মনোনয়ন প্রকাশ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় রাজনৈতিক কমিটি নিয়ে নানা জল্পনা ছড়ায়। এসব সংবাদের প্রতিক্রিয়ায় সুবর্ণা গণমাধ্যমকে বলেছেন, “আমি বিএনপির একজন সমর্থক; কোনো স্থানীয় কমিটিতে নেই।” তার স্বামী পদ্মনাভ ঠাকুর এক সময় যুবদলের নেতা ছিলেন।

    মাধবী মারমা বান্দরবান থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি বান্দরবান জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য এবং দলীয় মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    দলীয় শীর্ষ নেতারা বলছেন, সব ধর্ম ও সম্প্রদায়কে অন্তর্ভুক্ত করে একটি বহুজাতিক ও বহুজাতিক অংশগ্রহণের রাজনৈতিক পরিবেশ গড়াই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য। তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে এই মনোনয়নগুলি পার্লামেন্টে সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর শক্তিশালী করবে।

  • সরকার ভুল পথে গেলে নারী এমপিরাও সোচ্চার হবেন: হামিদুর রহমান আযাদ

    সরকার ভুল পথে গেলে নারী এমপিরাও সোচ্চার হবেন: হামিদুর রহমান আযাদ

    জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, সরকার যদি ভুল পথে চলে বা জনবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে বিরোধীদলের অন্যান্য সদস্যদের মতো সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরাও সমানভাবে সোচ্চার হবেন। তিনি মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনে জামায়াত জোটের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

    আযাদ বলেন যে জোটভিত্তিক ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য যে সম্মিলিত তালিকা তারা জমা দিয়েছেন, সেখানে আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকার কথা নেই। এই ১৩টি আসনই প্রত্যেকটিতে তালিকা ভিত্তিতে নির্ধারিত হওয়ায় নিরবিচ্ছিন্নভাবে তাঁরা নির্বাচিত হওয়ার আশা রাখেন। তিনি কমিশনের সঙ্গেও এ ব্যাপারে কথা হয়েছে এবং নির্বাচন-সংক্রান্ত এই প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও সময়মতো সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন যে সংসদ এখন কার্যক্রমে রয়েছে; মনোনীতরা যদি সময়মতো পার্লামেন্টে যোগ দিতে পারেন, তাহলে নারীর অংশগ্রহণসংক্রান্ত জাতীয় প্রত্যাশা পূরণ হবে। এজন্য কমিশন যেন ভিন্ন কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি না করে সে বিষয়ে তারা আশাবাদী এবং কমিশনও আশ্বস্ত করেছে।

    আযাদ আশা প্রকাশ করেন যে মনোনীত ১৩ জন নারী সংসদ সদস্য ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষে পার্লামেন্টে নারী প্রতিনিধিত্ব করবেন। দেশের ও জাতির স্বার্থে আইন প্রণয়নসহ সব বিষয়ে তারা স্বয়ংসম্পূর্ণ সংসদ সদস্য হিসেবে তাদের সকল প্রিভিলেজ ও কর্তৃপক্ষ ব্যবহার করবেন, এবং সংবিধান তাঁদের সেই সুযোগ দিয়েছে।

    তিনি বলেন, নিয়মানুগ অবস্থান থেকে বিরোধীদলের কাতারে বসে এই নারী সদস্যরাও দেশ গঠনে ও জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। পার্লামেন্টে বিরোধীর ভূমিকা ও নীতিবাদী অবস্থান প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির যে নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁরা সেটাই অনুসরণ করবেন ও জনগণের কল্যাণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন।

    আযাদ আরও বলেন, ‘‘যদি সরকার ভুল পথে পরিচালিত হয় বা জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে আমাদের অন্যান্য বিরোধীদলীয় সদস্যরা যেমন সোচ্চার থাকবেন, আমাদের নারী সদস্যরাও একইভাবে বিরোধীদলের সাথে যুক্ত হয়ে আন্দোলনে অংশ নেবেন। ৭৭ জনের সাথে ১৩ জন যুক্ত হয়ে মোট ৯০ জন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য একসঙ্গে কাজ করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’’

    গণভোট সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘গণভোটের রায়ে সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা থাকা সত্ত্বেও তা গঠিত হয়নি। এই অনুশাসন না থাকায় আমরা ১১ দলীয় ঐক্য হিসেবে সংসদে এবং সংসদের বাইরে রায় উপেক্ষা ও অন্যায় কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে যাচ্ছি এবং সামনে ও করব।’’

    মনোনয়ন নিয়ে সাধারণ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘‘জামায়াতে পরিবারের মধ্যে একে অধিক দুজন সংসদ সদস্য রাখার নীতি না থাকার কারণে দলের আমিরের সহধর্মিণীকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এর বদলে শহীদ পরিবারের এক মাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারসহ সমাজের নানা ক্ষেত্রে অবদান রাখা ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।’’

    এনসিপির প্রার্থী মুনিরা শারমিনের সরকারি চাকরি থেকে অবসরের তিন বছর পূরণের বিষয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ নিয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন।

    নির্বাচন তফসিল সম্পর্কে তিনি জানান—মনোনয়নপত্র বাছাই ২২ ও ২৩ এপ্রিল, আপিল ২৬ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭ ও ২৮ এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ ৩০ এপ্রিল এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।

  • সঠিক পথে না গেলে নারী এমপিরাও প্রতিবাদে সামিল হবেন: হামিদুর রহমান আযাদ

    সঠিক পথে না গেলে নারী এমপিরাও প্রতিবাদে সামিল হবেন: হামিদুর রহমান আযাদ

    জামায়াতের সহকারী সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, সরকার যদি ভুল পথে চলে বা জনবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তাতে বিরোধীদলের অন্যান্য সদস্যদের মতো সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরাও মুখ খুলে প্রতিবাদ করবেন। তিনি এই মন্তব্যগুলো নির্বাচন ভবনে জামায়াত জোটের মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সংবাদ সম্মেলনে করেন।

    আযাদ জানান, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য তারা ১৩টি কম্বাইন তালিকা জমা দিয়েছে এবং আশা করেন এইসব আসনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকবে না। ফলে এই ১৩ আসনই তালিকা অনুযায়ী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সম্পন্ন হবে বলে তাদের প্রত্যাশা। তিনি আরও বলেন, কমিশনের সঙ্গে কথাবার্তা হয়েছে এবং তারা চান যে সংসদে সময় মতো নারী প্রতিনিধির উপস্থিতি নিশ্চিত করা হোক—এতে জাতি ও নারী সমাজের প্রত্যাশা পূরণ হবে। কমিশন যেন এই ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিঘ্ন তৈরি না করে, সেটাই তাদের বিশ্বাস ও অনুরোধ।

    আযাদ বলেন, মনোনীত ১৩ নারী সংসদ সদস্য ১১ দলের ঐক্যের পক্ষে পার্লামেন্টে নারীর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করবেন। দেশের উন্নয়ন, জনগণের স্বার্থ এবং আইন প্রণয়নসহ সংসদের সব কার্যক্রমে তারা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে অংশ নিয়ে তাদের সাংবিধানিক অধিকারের পূর্ণ ব্যবহার করবেন। তিনি বলেন, সংবিধান নারীদের সেই সুযোগ দিয়েছে।

    তিনি আশা প্রকাশ করেন যে বিরোধীদল হিসেবে ৭৭ জনের সঙ্গে এই ১৩ জন যুক্ত হয়ে মোট প্রায় ৯০ জন বিরোধীদলীয় সদস্য একসঙ্গে সুসংহত ভূমিকা রাখবেন। সরকারের বিরুদ্ধে যদি কোনো অন্যায় বা জনবিরোধী সিদ্ধান্ত আসে, সেখানে এই নারী এমপিরাও বিরোধীদলের পাশে থেকে সোচ্চার ভূমিকা পালন করবেন—এটাই তাদের প্রত্যাশা।

    গণভোট ও সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে আযাদ বলেন, গণভোটের রায় অনুযায়ী সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠন হওয়ার কথা ছিল; সেটি না হওয়ায় ১১ দল সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকারের জনবিরোধী কাজের প্রতিবাদে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও রাজপথে কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

    মনোনয়ন সংক্রান্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াতে পরিবারগত দু’জন সদস্য সংসদে থাকা নীতি না মানায় দলের আমিরের সহধর্মিণীকে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। বরং শহীদ পরিবারের মা, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির অবদান রাখেন এমনদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

    এনসিপির প্রার্থী মুনিরা শারমিনের বিষয়ে আভাস দিয়ে তিনি বলেন, সরকারি চাকরি থেকে অবসরের তিন বছর পূর্ণ না হলে প্রার্থী হওয়া যাবে না—এই নিয়মের কারণে মনোনয়ন বাতিল হবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

    জানানো হয়, তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বাছাই ২২ ও ২৩ এপ্রিল, আপিল ২৬ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭ ও ২৮ এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ ৩০ এপ্রিল এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।

  • সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন পেলেন চার সংখ্যালঘু নারী

    সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন পেলেন চার সংখ্যালঘু নারী

    বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চার নারী প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে। সোমবার নয়াপল্টনের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই মনোনয়ন তালিকা ঘোষণা করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। মনোনীত চারজনের নাম হলো নিপুণ রায় চৌধুরী, আন্না মিঞ্জ, সুবর্ণা শিকদার এবং মাধবী মারমা।

    মোনোনয়নের মধ্যে সামাজিক ও সম্প্রদায়ভিত্তিক প্রতিনিধিত্বকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য প্রতিনিধি আন্না মিঞ্জ উন্নয়নকর্মী ও আদিবাসী ওঁরাও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম) এবং নাটোরের বাসিন্দা। আন্না মিঞ্জ জানিয়েছেন, তিনি সুবিধাবঞ্চিত সংখ্যালঘু, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভেতর থেকে তাদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরবেন। তার স্বামী জন গোমেজ বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ধর্মবিষয়ক সহ-সম্পাদক।

    সুবর্ণা শিকদার গোপালগঞ্জ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি শিক্ষক ও ‘‘মথুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোট’’ের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত। মনোনয়ন ঘোষণা হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু প্রশ্ন উঠেছে যে তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগে রয়েছেন—তথ্যটি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। এসব জল্পনায় সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে সুবর্ণা শিকদার গণমাধ্যমকে বলেছেন, “আমি বিএনপির একজন সমর্থক। কোনো কমিটিতে নেই।” তার স্বামী পদ্মনাভ ঠাকুর আগে যুবদলের নেতা ছিলেন।

    আরেক জন মনোনীত প্রার্থী মাধবী মারমা বান্দরবান থেকে প্রতিষ্ঠান ও আইনজীবী মহলে পরিচিত। তিনি বান্দরবান জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ও দলের মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক।

    দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বলেছেন, সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরিই এ উদ্যোগ গ্রহণের মূল লক্ষ্য। তারা বলেন, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব বাড়ালে জোরালো ও বহুমাত্রিক নেতৃত্ব গঠন সহজ হবে।

  • বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দিলো সংখ্যালঘু চার নারী

    বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দিলো সংখ্যালঘু চার নারী

    বিএনপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চারজন নারীকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে। সোমবার নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে এই মনোনয়নের ঘোষণা দেন দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। মনোনীত চারজনের নাম হলো নিপুণ রায় চৌধুরী, আন্না মিনজ, সুবর্ণা শিকদার ও মাধবী মারমা।

    দলীয় নেতৃত্ব বলছেন,今回 মনোনয়নে সামাজিক ও সম্প্রদায়িক প্রতিনিধিত্বের দিকটিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে নজরকারা হলেন আন্না মিনজ—তিনি উন্নয়নকর্মী ও আদিবাসী ওঁরাও (ওড়াও/ওরাও) সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। আন্না বর্তমানে ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম) হিসেবে কর্মরত এবং নাটোরে সাংসারিকভাবে থাকেন। তিনি বলেন, সুবিধাবঞ্চিত খ্রিস্টান সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। তাঁর স্বামী জন গোমেজ বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ধর্মবিষয়ক সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

    সুবর্ণা শিকদার গোপালগঞ্জ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি একজন শিক্ষক এবং মঠুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করেন। মনোনয়ন ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি দাবি ছড়ানো হয়—তারা বলছিলেন সুবর্ণা স্থানীয় আওয়ামী লীগ কমিটির সঙ্গে জড়িত। এসব বিষয়ে সুবর্ণা গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমি বিএনপি’র একজন সমর্থক; আমি কোনো আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো স্থানীয় কমিটির সদস্য নই।’ তাঁর স্বামী পদ্মনাভ ঠাকুর একসময় যুবদলের নেতা ছিলেন।

    মাধবী মারমা বান্দরবান থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি বান্দরবান জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য এবং দলের মহিলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত।

    দলের শীর্ষ নেতারা জানান যে এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়া—তাহলেই সংরক্ষিত আসনে সবাইকে সমানভাবে প্রতিনিধিত্ব দেয়া সম্ভব হবে।