Category: রাজনীতি

  • নাহিদ: সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন, এনসিপি আপনাদের পাশে থাকবে

    নাহিদ: সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন, এনসিপি আপনাদের পাশে থাকবে

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সারাদেশের তরুণরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেবে — এনসিপি তাদের পাশে থাকবে ও সমর্থন দেবে। শুক্রবার বিকেলে কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠনে যোগদানকারীদের স্বাগত জানিয়ে নাহিদ বলেন, বর্তমান সরকার স্থানীয় প্রশাসন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করছে। নির্বাচনের পর জনগণের ভোট ও গণঅভ্যুত্থানের নীতিকে উপেক্ষা করে ক্ষমতা হস্তান্তরকে স্বাভাবিক পুরনো পথেই ফিরিয়ে আনা হচ্ছে—এবং সংবিধান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের অধ্যাদেশগুলো বাতিলের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ক্ষুন্ন করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ব্যাংক লুটেরাদের জন্য সুযোগ তৈরি হচ্ছে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্ষমতার্তক রাজনীতি বাড়ছে।

    নাহিদ আরও বলেন, ‘‘ফ্যাসিবাদী কোনো প্রবণতা বা নতুন কোনো স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলে জনগণ পুনরায় সংগঠিত হবে। এনসিপির ছায়াতলে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হবে—এটাই আমরা দেশব্যাপী দেখছি।’’ তিনি দেশের রাজনীতিসচেতন মানুষ ও তরুণদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘‘যারা রাজনীতি করতে চান, পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেন, তারা ঐক্যবদ্ধ হোন। এনসিপি আপনাদের ধারণ করে সামনে এগোতে চায়।’’

    নাহিদ বলেন, বর্তমান সরকার ক্রমান্বয়ে ব্যর্থতার দিকে যাচ্ছেন—অর্থনীতি অস্থিতিশীল, গণতন্ত্র নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের পাশে দাঁড়ানো ছাড়া উপায় নেই, তিনি জানান।

    অনুষ্ঠানটি মূলত ‘‘রাজনৈতিক নেতা ও নাগরিকদের এনসিপিতে যোগদান’’ শিরোনামে আয়োজন করা হয়েছিল। এতে বিএনপি’র বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন। এছাড়াও অবিভক্ত বাংলার নেতা শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল (ফ্লোরা), কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনি (যিনি রেলের অনিয়ম নিয়ে আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন) এনসিপিতে যোগদান করেন। ফেরসামিন বিদেশে থাকায় তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি; বাকি যোগদানকারীরা মঞ্চে ছিলেন।

    নাহিদ ও দলের নেতৃত্ব নতুনদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা সারাদেশে সংগঠন গড়ে তুলছি—প্রতি সপ্তাহেই যোগদান কর্মসূচি চলবে। সব রাজনীতিসচেতন মানুষ এবং তরুণদের দায়িত্ব নেওয়ার অনুরোধ করছি; এই দেশকে আর বিপথে যেতে দেবো না।’’

  • সংবিধান সংস্কারের দাবিতে ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশ কর্মসূচি

    সংবিধান সংস্কারের দাবিতে ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশ কর্মসূচি

    সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) মগবাজারের জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর এক ব্রিফিংয়ে সেই ঘোষণা আসে।

    ব্রিফিংয়ে ১১ দলের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নির্বাচনের আগে সরকার সংবিধান সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল; কিন্তু গণভোটে জনগণের কাছে যে সিদ্ধান্ত এসেছে — প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে — তা সরকার উপেক্ষা করছে। তিনি সরকারের চলমান কর্মপন্থাকে সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে ‘‘ছলচাতুরি’’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বসেছে।

    হামিদুর রহমান আযাদ সভার পর জানায়, নতুন কর্মসূচির সূচনা হবে ১৬ মে রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশ থেকে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ঘোষিত সমাবেশ সূচি যথাক্রমে:

    ১৬ মে — রাজশাহী

    ১৩ জুন — চট্টগ্রাম

    ২০ জুন — খুলনা

    ২৭ জুন — ময়মনসিংহ

    ১১ জুলাই — রংপুর

    ১৮ জুলাই — বরিশাল

    ২৫ জুলাই — সিলেট

    তিনি জানান, আসন্ন ঈদুল আজহার কারণে মে মাসে কেবল একটি বিভাগীয় সমাবেশ রাখা হয়েছে; ঈদের ছুটির পর জুন থেকে পুনরায় পূর্ণমাত্রায় আন্দোলন ও সমাবেশ শুরু হবে। বিভাগীয় স্তরের এই সমাবেশগুলোতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সব জেলা ও মহানগরের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    সমাবেশের পাশাপাশি ১১ দল ব্যক্তি ও পেশাভিত্তিক মতবিনিময় সভার মধ্যেও কার্যক্রম চালাবে। বিশেষত শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপচারিতার মাধ্যমে জনমত গঠন করা হবে। পাশাপাশি দেশের সাতটি বিভাগে বিষয়ভিত্তিক সেমিনারও চলমান থাকবে, দাবি করেন সমন্বয়ক।

    সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘‘জনগণের রায় নিয়ে ছিনিমিনি খেলা চলছে; এ’র বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন আরও বেগবান করতে হবে।’’ তিনি ছাত্রসমাজকেও এই আন্দোলনে জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

    হামিদুর আরও উল্লেখ করেন যে, ‘গণভোট অনুমোদিত জুলাই আদেশ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবি নিয়ে বর্তমানে জোটের দুই সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি চলছে। ইতোমধ্যে ১৮ এপ্রিল রাজধানীতে এবং ২৫ এপ্রিল অন্যান্য মহানগরে ১১ দল গণমিছিল করেছে। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আগামী ২ মে দেশের সব জেলা শহরে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

  • সংবিধান সংস্কারের দাবিতে জামায়েত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের নতুন কর্মসূচি; খুলনায় বিভাগীয় সমাবেশ ২০ জুন

    সংবিধান সংস্কারের দাবিতে জামায়েত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের নতুন কর্মসূচি; খুলনায় বিভাগীয় সমাবেশ ২০ জুন

    সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও গত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।

    জোটের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, আগামী ১৬ মে রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হবে এবং এরপর ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

    বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলের বৈঠকের পর অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ।

    হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘‘সংবিধান সংস্কারের পক্ষে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ রায় দিলেও সরকার সেই রায়কে উপেক্ষা করে যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তা অমান্য করা হচ্ছে; সরকার সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ছলচাতুরি করছে।’’

    তিনি কর্মসূচির বিস্তারিত সূচিও ঘোষণা করেন — ১৬ মে রাজশাহী; ১৩ জুন চট্টগ্রাম; ২০ জুন খুলনা; ২৭ জুন ময়মনসিংহ; ১১ জুলাই রংপুর; ১৮ জুলাই বরিশাল এবং ২৫ জুলাই সিলেটে বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

    সমন্বয়ক জানান, আসন্ন ঈদুল আজহার কারণে মে মাসে কেবল একটি সমাবেশ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঈদের ছুটির পর জুন থেকে পুনরায় অনুষ্ঠানের পরিমাণ বাড়িয়ে পূরোদমে আন্দোলন ও সমাবেশ চালানো হবে। প্রতিটি বিভাগীয় সমাবেশে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সব জেলা ও মহানগরের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষকে অংশগ্রহণে আহ্বান জানানো হবে।

    তথ্য অনুযায়ী, একই সঙ্গে ১১ দল বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভারও আয়োজন করবে। শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে এক নারী ও সামাজিক সংগঠনের অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করে জনমত গঠন করা হবে। দেশের সাতটি বিভাগে বিষয়ভিত্তিক সেমিনারও চলমান থাকবে।

    সরকারকে কঠোর ভাষায়批ুক্তি করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘‘জনগণের রায় নিয়ে ছিনিমিনি খেলা করা হলে চলবে না। আমাদের আন্দোলনকে আরও জোরালো করতে হবে এবং ছাত্র সমাজকেও এতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।’’

    তিনি জানান, ‘গণভোট অনুমোদিত জুলাই আদেশ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবিতে জোট ইতিমধ্যে দুই সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগে গত ১৮ এপ্রিল রাজধানীতে এবং ২৫ এপ্রিল অন্যান্য মহানগরে জোটের গণমিছিল হয়েছে। পূর্বঘোষণামতো আগামী ২ মে দেশের সব জেলা শহরে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

  • নাহিদের তরুণদের আহ্বান: সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন, এনসিপি দেবে সমর্থন

    নাহিদের তরুণদের আহ্বান: সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন, এনসিপি দেবে সমর্থন

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সারাদেশের তরুণরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিন — এনসিপি তাদের পাশে থাকবে। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    নাহিদ ইসলাম দাবি করেন ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করছে। তিনি বলেন, ‘‘আপনারা সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন। এনসিপি আপনাদের সমর্থন জানাবে।’’

    তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচনের পর গঠিত সরকার গণভোটের ফলাফলকে অস্বীকার করেছে এবং সেই নির্বাচনকে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী উত্তরের ধারাবাহিকতা থেকে বিচ্ছিন্ন করে সাধারণ ক্ষমতার পরিবর্তনের নির্বাচন হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। সংবিধান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারবিষয়ক অধ্যাদেশগুলোও একে একে বাতিল করা হচ্ছে, অভিযোগ করেন তিনি।

    নাহিদ বলেন, ‘‘ব্যাংক লুটেরাদের সুবিধা করে দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন উপায়ে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠাগুলো দলীয়করণ করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও পেশিশক্তি এবং ক্ষমতার রাজনীতির প্রভাব আবার নতুন করে বেড়ে উঠছে।’’

    তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি ফ্যাসিবাদ বা নতুন/পুরোনো কোনো স্বৈরতন্ত্র বজায় রাখতে চেষ্টা করা হয়, জনগণ পুনরায় সংগঠিত হয়ে ওঠবে এবং এনসিপির ছায়াতলে ঐক্যবদ্ধ হবে। ‘‘আমরা সারা দেশ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি,’’ যোগ করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়কের বক্তব্যে দলের সারাদেশে কর্মসূচি জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেন নাহিদ। তিনি বলেন, ‘‘প্রতি সপ্তাহেই আমাদের যোগদান কর্মসূচি চলবে। রাজনীতিসচেতন মানুষ ও তরুণদের আমরা আহ্বান জানাচ্ছি—এই দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এনসিপি আপনাদের ধারণ করে সামনে এগিয়ে যেতে চায়।’’

    বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অসন্তোষ প্রকাশ করে নাহিদ বলেন, ‘‘সরকার ক্রমশ ব্যর্থতার দিকে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল, দেশের গণতন্ত্র নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তাও প্রশ্নবিদ্ধ। এই পরিস্থিতিতে জনগণের পাশে একজোট হয়ে দাঁড়ানো ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প নেই।’’

    ইভেন্টে বিএনপি’র বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন। এছাড়া অবিভক্ত বাংলার প্রখ্যাত রাজনৈতিক নেতার স্ত্রী শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল (ফ্লোরা), কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারী মহিউদ্দিন রনি এনসিপিতে যোগদান করেন। ফেরসামিন বিদেশে থাকায় উপস্থিত থাকতে পারেননি; অন্যরা অনুষ্ঠানমঞ্চে ছিলেন। নাম ঘোষণা হওয়ার পর ইসহাক সরকার, নুরুজ্জামান কাফি ও মহিউদ্দিন রনিকে ফুল দিয়ে বরণ করেন নাহিদ ইসলাম।

    এর মধ্যে নাহিদ আরও বলেন, ‘‘আমাদের সারা দেশ থেকেই যোগদান এবং সমর্থনের ঢেউ দেখা যাচ্ছে। যারা রাজনীতি করতে চান এবং পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেন, তারা এনসিপিতে এসে ঐক্যবদ্ধ হন—আমরা তাদের গ্রহণ করে সামনে এগোতে চাই।’’

  • জামায়াত আমির শফিকুর রহমান: বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে

    জামায়াত আমির শফিকুর রহমান: বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের পথে হেঁটে চলছে। এসব মন্তব্য তিনি শনিবার (২৫ এপ্রিল) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত সমাবেশে করেন।

    ডা. শফিকুর বলেন, ‘‘একসময় আমরা একসঙ্গে মজলুম ছিলাম। আমি বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই—আপনারা হাজার চেষ্টা করলেও ওই আওয়ামী লীগ হতে পারবেন না; বড়জোর দুর্বল আওয়ামী লীগ হতে পারবেন। যে আওয়ামী লীগ একসময় পুরো জাতিকে নিয়ে কিংবা বিরোধী দলকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করত, আজ তাদের কী দশা? আপনারা ঠিক একই কাজ শুরু করেছেন।’’

    তিনি সতর্ক করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় এবং পরে আওয়ামী লীগ তাদের পোষ্য লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে, তবে কটূক্তি করে বলেন, আজ তাদের সেই ‘লাঠিয়াল’দের কেউ পাশে এসে দাঁড়ায়নি।

    জামায়াত আমির অভিযোগ করেন যে রাষ্ট্রসংস্থাগুলোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার না হলে সুশাসন নিশ্চিত করা যাবে না। তিনি বলেন, ‘‘রাষ্ট্রের মৌলিক যে সমস্ত জায়গায় পরিবর্তন দরকার—সুশাসন স্থাপন ও সত্যিকার স্বাধীনতার স্বাদ জনগণকে দেওয়ার লক্ষ্যে—প্রতিটি বিষয়ে বিএনপি বিরোধিতা করে চলেছে। এটি জাতির সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা।’’

    শফিকুর রহমান আরও বলেন, বিএনপি তাদের ইশতেহারে থাকা ৩১ দফা কর্মসূচিরই বিরোধিতা করছে এবং কখনো কখনো নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিও ভুলে যাচ্ছে। তিনি জেলহ্যাঁত সহকর্মীদের স্মরণ করে বলেন, যারা বিদেশে ছিলেন তারা জাতীয় পরিবর্তনের সুবাদে দেশে ফিরতে পেরেছেন; কিন্তু কিছু নেতা এখন মহিমা দাবি করে আন্দোলনের একনায়ক হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে—যা ভুল দাবি, বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    অতীতের ত্যাগ ও শহীদ পরিবারদের কথা স্মরণ করে জামায়াত আমির অনুরোধ করেন, তাদের সম্মান করতে শিখুন। তিনি বলেন, ‘‘জুলাই আন্দোলনের নায়করা জীবন বাজি রেখে তরণী নিয়ে ঘাটে ভিড়েছে, ছাত্র সমাজ, শ্রমিক, মায়েরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে—এই বিজয় ও ত্যাগ ভুলে যাবেন না।’’

    সংসদে প্রথম দিন থেকেই তারা সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি তোলেন এবং শপথ গ্রহণ করে থাকলেও অন্যরা তা করেনি—এমন অভিযোগও তোলেন তিনি। তিনি আরো বলেন, জরুরি আইন সংশোধন এবং অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন না হলে স্বৈরাচারী মনোভাব পরিবর্তন হবে না, আর বিএনপি সেই পুরোনো স্বৈরাচারী ব্যবস্থাকে বজায় রাখতে চাইছে বলে তিনি মনে করেন।

    সমাবেশে তিনি সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিভিন্ন স্থানে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে সংঘটিত সহিংসতার কথা উল্লেখ করে বলেন, গণভোটের রায় অস্বীকার করার পর থেকেই বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে।

    শেষে ডা. শফিকুর বলেন, ‘‘আমরা এমন এক বাংলাদেশ চাই যেখানে শিশুরা, কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতীরা, আমাদের মা-বোনেরা নিরাপদে সড়কে বের হতে পারবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বই-কলম দেখতে চাই; হাতে দা-কুড়াল দেখতে চাই না। যদি এই সংস্কৃতি বন্ধ না করা হয়, তখন প্রতি বছর ‘জুলাই’ ফিরে আসবে এবং ফাইনালি ফ্যাসিবাদের কবর লেখা হবে। জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখান; গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে আমাদের লড়াই সংসদের ভেতরেও এবং খোলা ময়দানেও চলবে, ইনশাআল্লাহ।’’

  • নাহিদ: ‘সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন, এনসিপি তরুণদের সমর্থন দেবে’

    নাহিদ: ‘সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন, এনসিপি তরুণদের সমর্থন দেবে’

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ক্ষমতাসীন সরকার স্থানীয় প্রশাসন ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তরুণদের শক্তির জয়ের মাধ্যমে এনসিপি সংহত ভূমিকা নিতে পারবে। তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন। এনসিপি আপনাদের সমর্থন জানাবে।”

    শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে নাহিদ এসব কথা বলেন। ওই অনুষ্ঠানে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল (ফ্লোরা), কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনি আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন।

    বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পর ক্ষমতাসীনরা গণভোটকে অপমান করেছে এবং নির্বাচনকে সাধারণ ক্ষমতার বদলের উৎসবে পরিণত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সংবিধান ও গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো একে একে বাতিলের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে আঘাত দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

    তিনি আরও বলেন, ‘‘ব্যাংক লুটেরাদের জন্য সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় আছেনে রূপান্তর করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পেশিশক্তি ও ক্ষমতার রাজনীতি পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।’’

    নাহিদ সতর্ক করে বলেন, যদি ফ্যাসিবাদ বা নতুন-পুরনো কোনো স্বৈরতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়, জনগণ পুনরায় সংগঠিত হয়ে উঠবে এবং এনসিপির ছায়াতলেই ঐক্যবদ্ধ হবে। তিনি দাবি করেন, দেশের নানা প্রান্ত থেকে দলের কর্মসূচিতে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

    দলীয় কার্যক্রম প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, ‘‘এনসিপি সারাদেশে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতি সপ্তাহেই যোগদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। আমরা রাজনীতিসচেতন মানুষ এবং তরুণদের আহ্বান জানাচ্ছি—সবার দায়িত্ব আছে; এই দেশকে আর বিপথে যেতে দেওয়া যাবে না। যারা রাজনীতি করতে চান, পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেন, তারা ঐক্যবদ্ধ হোন। এনসিপি আপনাদের ধারণ করে সামনের দিকে এগোতে চায়।’’

    বর্তমান সরকারের কর্মদক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ ব্যক্ত করে নাহিদ বলেন, ‘‘অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অনিশ্চিত, দেশের গণতন্ত্র সংকটাপন্ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা যাচ্ছে। সেই অবস্থায় ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের পাশে দাঁড়ানো ছাড়া আমাদের কোনো পথ নেই। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করছি, ইনশাআল্লাহ।’’

    যোগদানের অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম ও দলীয় শীর্ষ নেতারা নতুন সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। ফেরসামিন বিদেশে থাকায় তিনি অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন না। অনুষ্ঠানে যোগদানের মাধ্যমে বিএনপির নিষ্কাশিত নেতা ইসহাক সরকারসহ কয়েক জন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন।

  • জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান: বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হেঁটেছে

    জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান: বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হেঁটেছে

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, বিএনপি পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের পথ বেছে নিয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াত আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    ডা. শফিকুর বলেন, একসময় বিএনপি ও জামায়াত একযোগে নির্যাতিত ছিল; কিন্তু এখন বিএনপি সেই ভুল পথ ধরেছে এবং গতিপথ বদলে এক ধরনের কর্তৃত্ববাদী নীতিকে সমর্থন করছে। তিনি সতর্ক করে জানান, তারা একইভাবে জনগণের ওপর দমনকারীর ভূমিকা নিতে শুরু করেছে যেটা একসময়ের আওয়ামী লীগের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল।

    তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ যে কুক্ষিগত সময়গুলোতে লাঠিযুদ্ধ করে সমাজে ঘাসফুলের মতো কর্তৃত্ব গড়ে তুলেছিল, আজ সেই সময়গুলোতে তাদের পক্ষে দাঁড়ানো কেউ নেই — কিন্তু বিএনপি সেই একই কৌশল প্রয়োগ করছে।

    বক্তব্যে তিনি দেশের মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। সুশাসন, প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিএনপি অহরহ বিরোধিতা করছে — যা দেশের জন্য প্রতারণার শামিল, মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।

    ডা. শফিকুর বলেন, বিএনপি তাঁদের নির্বাচনী ইশতেহারে থাকা ৩১ দফা কর্মসূচির বিরোধিতা করছে; এমনকি কিছু বিষয়ে তাদের বোধ ও নীতিগত জ্ঞান পর্যন্ত লোপ পেয়েছে বলে আক্ষেপ করেন তিনি।

    তিনি স্বাধীনতার জন্য যে আত্মত্যাগগুলো হয়েছিল সেই আত্মত্যাগকেন্দ্রিক স্মৃতিকে ভুলে যাওয়ার নিন্দা জানান। ‘জুলাই’ আন্দোলনের নাম টেনে তিনি বলেন, যদি সেই জীবনবল-নৈকট্য না থাকত, আজকার ক্ষমতাভোগীরা টিকে থাকতে পারত না। শহীদ পরিবার, আহত ও প্রতিবাদী নাগরিকদের ত্যাগকে ছোট করে দেখার বিরুদ্ধে তিনি কড়া ভাষায় বলেন — তাদের সম্মান করতে শেখো, তাদের তুচ্ছ করা যাবে না।

    ডা. শফিকুর একটি ব্যক্তিগত স্মৃতিকথাও শেয়ার করেন; তিনি বলেন, যারা বিদেশে ছিলেন, দেশে ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছেন—এ জন্যও সেই বিপ্লব দায়ী। জেলখানায় তাঁর সহকর্মী আল্লামা মামুনুল হক বলেছিলেন, কিছু নেতারা তখন মনে করতেন ৪১-এর আগে বর্তমান শাসনকে সরানো সম্ভব নয়; কিন্তু পরবর্তীতে ঘটনাবলী পরিবর্তিত হয়, যা ঈশ্বরের দান বলে অভিহিত করা হয়েছিল। এখন সেই দানকে ভুলে একজন আলাদা ‘মাস্টারমাইন্ড’ দাবি করাকে তিনি ভুয়া বলে আখ্যা দেন।

    জামায়াত আমির সংসদে সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির সংঘাতের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সরকার শপথ নিয়েছিল কিন্তু প্রতিশ্রুতি রেখা ভঙ্গ করেছে; এরপর যেখানে আলোচনার দরকার ছিল আমরা নোটিশ দিয়েছি, কিন্তু তাদের বিরোধী মনোভাবই দেখেছি। কিছু আইন ও অধ্যাদেশ সংশোধন না হলে দেশ থেকে স্বৈরাচার দমন নীতি কেটে যাবে না বলে তিনি মনে করেন।

    তিনি সাম্প্রতিককালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও নানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঘটে যাওয়া সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কিছু গোষ্ঠী থানা পর্যন্ত ঢুকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলা করেছে; এগুলো হচ্ছে ফ্যাসিবাদের নমুনা। তিনি জানালেন, যে দিন কেউ গণভোটের রায় অস্বীকার করে, সেই দিন থেকেই বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটা শুরু করেছে।

    শেষে ডা. শফিকুর বলেন, তারা এমন একটি বাংলাদেশ চান না যেখানে মানুষ নিরাপদে বাইরে বের হতে না পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দা-কড়াল নয়, খাতা-কলম দেখতে চান তিনি। যদি এই ক্ষমতাবান সংস্কৃতি ঠেকানো না হয়, জুলাইয়ের আন্দোলন বারবার ফিরে আসবে এবং একদিন ফ্যাসিবাদের কবর রচনাই ঘটবে—এটাই তার দাবি। তিনি জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখাতে এবং চলমান গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে সবাইকে আহ্বান জানান, নচেৎ লড়াই সংসদে ও খোলা ময়দানে অব্যহত থাকবে।

  • নাহিদ: সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন; এনসিপি তরুণদের সমর্থন করবে

    নাহিদ: সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন; এনসিপি তরুণদের সমর্থন করবে

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সারাদেশের তরুণরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিক — এনসিপি তাদের সমর্থন জানাবে। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন দল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করছে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসের পথে।

    শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে নাহিদ এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিএনপি’র বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল (ফ্লোরা), কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র নেতা মহিউদ্দিন রনি সহ কয়েকজন নতুন সদস্য এনসিপিতে যোগ ঘোষণা করেন। ফেরসামিন বিদেশে থাকায় সশরীর উপস্থিত ছিলেন না।

    নাহিদ বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের পর গঠিত সরকার গণভোটকে অস্বীকার করেছে। এই নির্বাচনকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী লিগ্যাসি থেকে আলাদা করে সাধারণ ক্ষমতার পটপরিবর্তনের নির্বাচনে পরিণত করা হয়েছে। সংবিধান ও উদ্দীপক সংস্কারের অধ্যাদেশগুলো বাতিল করা হচ্ছে।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্নভাবে ব্যাংক লুটেরাদের পুনরায় সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশিশক্তি ও ক্ষমতার রাজনীতি ফিরে আনার চেষ্টা হচ্ছে।

    এনসিপি নেতা বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ বা নতুন কোনো স্বৈরতন্ত্র চালু করার চেষ্টা হলে জনগণ আবার সংগঠিত হবে। জনগণ এনসিপির শীর্ষ ছায়াতলে ঐক্যবদ্ধ হবে — আমরা সারা দেশ থেকেই একযোগে সাড়া পাচ্ছি।’ তিনি তরুণদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন। এনসিপি আপনাদের সমর্থন জানাবে।’

    নাহিদ আরও বলেন, ‘এনসিপি সারাদেশে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতি সপ্তাহে আমাদের যোগদান কর্মসূচি থাকবে। আমরা রাজনীতিসচেতন মানুষ ও তরুণদের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি — এদেশকে আর বিপথে যেতে দেব না। যারা রাজনীতি করতে চান এবং পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেন, তারা ঐক্যবদ্ধ হোন। এনসিপি আপনাদের ধারণ করে এগোতে চায়।’

    বর্তমান সরকারের প্রতি কঠোর সমালোচনা করে নাহিদ বলেন, ‘সরকার ক্রমে ব্যর্থতার দিকে যাচ্ছে। অর্থনীতি টালমাটালে, দেশের গণতন্ত্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে যথার্থ উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেই সংকট মোকাবেলায় জনগণের পাশে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ানো ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প নেই। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি, ইনশাআল্লাহ।’

    উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে নতুনদের নাম ঘোষণা হওয়ার পর নাহিদ ইসলাম তাদের মঞ্চে ফুল দিয়ে বরণ করেন। অনুষ্ঠানের শিরোনাম ছিল ‘রাজনৈতিক নেতা ও নাগরিকদের এনসিপিতে যোগদান’ এবং এ সময় দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • জামায়াত আমিরের অভিযোগ: বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে পা বাড়াচ্ছে

    জামায়াত আমিরের অভিযোগ: বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে পা বাড়াচ্ছে

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটা শুরু করেছে। তিনি শনিবার (২৫ এপ্রিল) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত সমাবেশে এসব মন্তব্য করেন।

    ডা. শফিকুর বলেন, এক সময় আমরা বিএনপির সঙ্গে একই শিকলে মজলুম ছিলাম, কিন্তু এখন তারা এমন পথে হাঁটছে যা কখনো আওয়ামী লীগের মত হওয়ার যোগ্য নয়—সর্বোচ্চে দুর্বল আওয়ামী লীগ মাত্র হবে। যে আওয়ামী লীগ একসময় জাতিকে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক কাজ করত, আজ বিএনপি ঠিক একই রীতির আচরণ শুরু করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, আওয়ামী লীগ বিরোধিতার সময় তাদের পোষা লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্থানে কর্তৃত্ব কায়েম করছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই লাঠিয়ালরা তাদের পাশে এসে দাঁড়ায়নি বলে তিনি জানিয়েছেন।

    জামায়াত আমির আরও বলেন, রাষ্ট্রের মূল কাঠামোতে যে পরিবর্তন দরকার—সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও সত্যিকারের স্বাধীনতার স্বাদ জনগণের দখলে দেওয়ার জন্য—প্রতি বিষয়ে বিএনপি বিরোধিতা করে যাচ্ছে। তিনি এটিকে জাতির সঙ্গে সুচিন্তিত প্রতারণা আখ্যা দেন এবং বলেন, বিএনপি তাদের ইশতেহারে থাকা ৩১ দফা কর্মসূচিরই বিরোধিতা করছে।

    শফিকুর রহমান স্মরণ করিয়ে বলেন, জুলাই আন্দোলনে যারা জীবন বাজি রেখে লড়েছে—মায়েরা, বাবারা, ভাই-বোনেরা, ছাত্র-ছাত্রীরা—তাদের ত্যাগ ছাড়া আজকের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হতো না। তিনি শহীদ পরিবারদের প্রতি রাজনैतिक দলের দুর্বলতার অভিযোগ তোলেন এবং বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই তাদের কষ্টের সময়ে রাজনীতিকরা তাদের কাছে ছুটে যাননি।

    এক অপার্থিব স্মৃতি বর্ণনা করে তিনি জানান, যারা বিদেশে ছিলেন, তারা বিপ্লব না হলে হয়তো দেশে ফিরতেও পারতেন না। তিনি জেলের সময়ের কিছু ঘটনা তুলে ধরেন এবং বলেন, অনেকেই এখন খোদার এই দান ভুলে গিয়ে সমগ্র আন্দোলনের কৃতিত্ব নিজেদের দাবি করছে, যা তিনি আত্মসাৎ বলে অভিহিত করেন। তবু তিনি স্পষ্ট করেন—কারো ন্যায্য অবদান অস্বীকার করা হবে না; আন্দোলনে সবাইই অংশ নিয়েছিল।

    ডা. শফিকুর জনগণকে স্মরণ করাতে বলেন, জুলাই আন্দোলনের নায়করা সেই নৌকে বিকশিত করে ঘাটে নিয়ে এসেছেন; তাদের মর্যাদা জানানো এবং সম্মান প্রদর্শন করা শেখা দরকার। ছাত্র-সমাজ, শ্রমিক ও মা-বোনেরা তখন বিপুল আত্মত্যাগ করেছে—এই দিনগুলো ভুলে যাওয়া চলবে না।

    সংসদীয় অভিযোজন নিয়ে তিনি বলেন, প্রথম দিন থেকেই জামায়াত সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি তুলেছিল। আমরা শপথ নিয়েছি, তারা শপথ নেননি—এতে জাতির প্রতি দেওয়া অঙ্গীকার ভঙ্গ হয়েছে। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় আইন ও অধ্যাদেশ না পাল্টালে পুরনো স্বৈরাচারী ধাঁচের শাসন রয়ে যাবে এবং বিএনপি সেই পুরোনো অবস্থানের পক্ষে রয়েছে।

    ভাইসাইকেলে আক্রমণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় সংগঠিত সহিংসতা ও ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলা হওয়ায় স্পষ্ট বার্তা গেছে—বিএনপি গণভোটের রায় অস্বীকার করে এবং ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে।

    জামায়াত আমির বলেন, তারা যেই বাংলাদেশ চান না, সেখানে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে রাস্তায় বের হতে পারবে না; শিশু-কিশোর নির্দ্বিধায় স্কুল-কলেজে যেতে পারবে না; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুরি-কুটিরের বদলে খাতা-কলম থাকবে। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তিগত চরমপন্থী বা গ্যাং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসে ছাত্রদের পথ আটকাতে পারবে না—এই সংস্কৃতি বন্ধ করা জরুরি।

    ডা. শফিকুর হুঁশিয়ারি দেন, যদি এই সংস্কৃতি বদলano না হয়, তাহলে জুলাই কেবল ২৪ সালের নির্দেশক নয়, বরং প্রতিবার ফিরে আসবে; একদিন তা ফ্যাসিবাদের শেষকাত্র রচনা করবে। তিনি সবাইকে শুভবুদ্ধি দেখিয়ে জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখাতে এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানান।

    শেষে তিনি সতর্কভাবে বলেন, যদি গণভোটের রায় মেনে নেওয়া না হয়, তাদের সংগ্রাম সংসদের ভেতরেই চালিয়ে নেয়া হবে এবং দরকার হলে খোলা মাঠেও লড়াই চালানো হবে, ইনশাআল্লাহ।

  • সারাদেশে নির্বাচন-প্রস্তুতি নিতে তরুণদের আহ্বান, এনসিপিই সমর্থন করবে: নাহিদ ইসলাম

    সারাদেশে নির্বাচন-প্রস্তুতি নিতে তরুণদের আহ্বান, এনসিপিই সমর্থন করবে: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করছে। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি তরুণদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “আপনারা সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন। এনসিপি আপনাদের সমর্থন জানাবে।”

    অনুষ্ঠানটিতে বিএনপি’র বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন। এছাড়া শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল (ফ্লোরা), কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও রেলের অনিয়ম নিয়ে আন্দোলনকারী মহিউদ্দিন রনিকে দলীয়ভাবে গ্রহণ করা হয়। ফেরসামিন বিদেশে থাকায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকতে পারেননি; বাকিরা মঞ্চে অনাবৃত্তভাবে অংশ নেন এবং নাম ঘোষণা শেষে তাদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়।

    বক্তৃতায় নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “জাতীয় নির্বাচন হয়ে সরকার গঠনের পর নির্বাচিত সরকার গণভোটকে অস্বীকার করেছে। তারা ওই নির্বাচনের সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের উত্তরাধিকারকে বিচ্ছিন্ন করে এটিকে একটি সাধারণ ক্ষমতার হস্তান্তরের নির্বাচন বানিয়ে দিয়েছে।” তিনি দাবি করেন যে সংবিধান সংশোধনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার সম্পর্কিত অধ্যাদেশগুলো একে একে বাতিল করা হচ্ছে এবং ব্যাংক লুটারদের জন্য সুযোগ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো নানাভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে বলে নাহিদ অভিযোগ করেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও পেশিশক্তি ও ক্ষমতার রাজনীতি পুনরায় প্রসারে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদ বা কোনো স্বৈরশাসন পুনরায় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলে জনগণ আবারও সংগঠিত হবে। এনসিপির ছায়াতলেই মানুষ ঐক্যবদ্ধ হবে—এটাই আমরা ধীরে ধীরে পাচ্ছি। সারাদেশ থেকে আমাদের অভূতপূর্ব সাড়া আসছে।”

    এনসিপি সারাদেশে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন জানিয়ে নাহিদ বলেন, “প্রতি সপ্তাহেই আমাদের যোগদান কর্মসূচি হবে। আমরা রাজনীতিসচেতন মানুষ ও তরুণদের আহ্বান জানাচ্ছি—এই দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের সবার দায়িত্ব আছে। যারা রাজনীতি করতে চান, পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেন, তারা ঐক্যবদ্ধ হোন। এনসিপি আপনাদের ধারণ করে সামনের দিকে এগোতে চায়।”

    বর্তমান সরকারের কর্মদক্ষতা নিয়ে গম্ভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নাহিদ বলেন, “সরকার ক্রমান্বয়ে ব্যর্থতার দিকে যাচ্ছে। অর্থনীতি টালমাটাল, দেশের গণতন্ত্র নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে জনগণের পাশে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ানো ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি, ইনশাআল্লাহ।”