Category: রাজনীতি

  • নিজামী পুত্র, হাজী শরীয়তullah’র বংশধর ও ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’ এনসিপিতে যোগ দিলেন

    নিজামী পুত্র, হাজী শরীয়তullah’র বংশধর ও ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’ এনসিপিতে যোগ দিলেন

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তে নতুন করে একঝাঁক জনশক্তি যোগ দিয়েছে—জামায়াতে ইসলামের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামের ছেলে ড. মোহাম্মদ নাদিমুর রহমান, ফরায়েজী আন্দোলনের নেতা হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন, গাজীপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক এম এ এইচ আরিফ ও ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’র অন্যান‍্য সদস্যরা। তারা মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলামোটরের রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে দলজয় ঘোষণা করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ড. মোহাম্মদ নাদিমুর রহমান বর্তমানে তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত থাকায় সশরীরে উপস্থিত থাকতে না পারলেও অনলাইনে যুক্ত হয়ে এনসিপিতে যোগদানের কথা জানান।

    ওয়ারিয়র্স অব জুলাই সদস্যদের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, সংগঠনের প্রায় চার হাজার সদস্য এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। তবুও সকল সদস্য একসাথে উপস্থিত ছিলেন না — প্রেস কনফারেন্সে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থিত ছিলেন আনুমানিক ৫০ জন সদস্য।

    হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “হাজী শরীয়াতুল্লাহ কোনো রাজা ছিলেন না; তিনি এ দেশের সাধারণ কৃষক-জনগণের নেতা ছিলেন। নেতা আর রাজা হওয়ার মধ্যে পার্থক্য আছে। আমরা কোনো নেতার ইবাদত করি না। আমরা দল করি যাতে আমাদের নেতা যদি ভুল পথে চলেন, আমরা তাকে সুদৃঢ়ভাবে ফেরাতে পারি; যদি দলের কোনো ভুল সিদ্ধান্ত হয়, সেখানে ন্যায় সমর্থন করতে পারি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারি।”

    এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, “দেশের পথ হারানো রাজনীতির হাল ধরবে এনসিপি।” তিনি বিএনপি নিয়ে তীব্র সমালোচনায় বলেন, “সংসদে তারা প্রতারক ও বিশ্বাসঘাতকতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে, যার ফল ভালো হবে না।” এছাড়া তিনি গণভোটের রায় অবিলম্বে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

    দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই কেন্দ্রগুলোকে বর্তমান শাসকরা নিজেদের ভাগ-বাটোয়ারা আর লুটপাটের খাত হিসেবে ব্যবহার করছেন। তিনি দাবি করেন, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচন দ্রুত—এ বছরের মধ্যেই—নির্ধারণ ও অনুষ্ঠিত করা উচিত।

    দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন, “সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং তা তারা মুখে বলে সংসদে ঘোষণা করছে; এটা আমাদের জন্য লজ্জাজনক।” তিনি অতীতের রাজনৈতিক প্রতারণার উদাহরণ টেনে বলেন, যারা জনগণকে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে, তাদেরই পরে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। এছাড়াও তিনি মন্তব্য করেন যে হোসাইন মুহাম্মদ এরশাদের মতো প্রশাসক নিয়োগে পরিচালিত শাসন ব্যবস্থা আর ফিরে আসা উচিত নয় এবং এরশাদের মতোই তরিক রহমানরাও রাষ্ট্র পরিচালনায় এমনই পথ বেছে নিতে চাইছেন।

    সংবাদ সম্মেলনের শেষে নতুন যোগদানকারীদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয় এবং তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে দলের একজন হিসেবে পরিচয় করানো হয়।

  • এনসিপি ১০ মে ঘোষণা করবে উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীদের তালিকা

    এনসিপি ১০ মে ঘোষণা করবে উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীদের তালিকা

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, আগামী ১০ মে’র মধ্যে দলের প্রাথমিক সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করার আশা করছেন তারা।

    তিনি জানান, প্রথমে তারা ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভার প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু ব্যক্তিগত ও সংগঠনিক কিছু অনিবার্য কারণে সেই সময়সীমা পিছিয়েছে।

    সারজিস আলম কথাগুলো বলেন মঙ্গলবার (০৫ মে) রাজধানীর বাংলামোটর রূপায়ণ টাওয়ারে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে রাজনৈতিক ও বিভিন্ন পেশার নাগরিকদের যোগদানের অনুষ্ঠানে। সেখানে তিনি জানান, ‘‘আমরা আশা করছি ১০ মে’র মধ্যে প্রাথমিকভাবে যারা এনসিপি সমর্থন পেয়েছে তাদের তালিকা ঘোষণা করতে পারব।’’

    তিনি আরও বলেন, এ মাসেই সাতটি সিটি কর্পোরেশনের জন্য এনসিপি সমর্থিত মেয়রপ্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে। বর্তমানে এনসিপি একটি ১১দলীয় জোটে আছে এবং বিরোধীতার ভূমিকা পালন করছে; পাশাপাশি সংসদে অংশগ্রহণ করছে। কিন্তু সাংগঠনিকভাবে ও রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াও চলছে, তাই স্থানীয় স্তরে এককভাবে প্রার্থী ঘোষণার প্রস্তুতিও চলছে।

    সারজিস আলম অভিযোগ করেন, বিএনপি স্থানীয় সরকার নির্বাচন পেছিয়ে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে এবং তারা ইতোমধ্যে জেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশনগুলোর প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘‘উপজেলা পর্যায়ে বর্তমানে কার্যকর প্রতিষ্ঠান নেই; তারা আবার ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা শুরু করেছে। শুনেছি তারা উপজেলা পরিষদ বিলুপ্ত করার প্রচেষ্টা করছে—এ ধরনের পদক্ষেপ তাদেরই পক্ষে বিপরীত ফল দেবে।’’

    অর্থাৎ তার বক্তব্য অনুযায়ী, সিটি কর্পোরেশন ও উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনের সময়সীমা এ বছরের মধ্যেই নির্ধারণ করে সম্পন্ন করা উচিত। সারজিস আলম দলকে শক্তিশালী করতে এবং স্থানীয় হিসেব করে প্রার্থী ঘোষণা করতে তারা দ্রুততার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

  • ১০ মে থেকে ঘোষণা করবে এনসিপি উপজেলা ও পৌরসভার প্রার্থীরা

    ১০ মে থেকে ঘোষণা করবে এনসিপি উপজেলা ও পৌরসভার প্রার্থীরা

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, তারা ৩০ এপ্রিলের মধ্যে মোট ১০০টির বেশি উপজেলা ও পৌরসভার জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র পদপ্রার্থী ঘোষণা করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে ব্যক্তিগত ও সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যা বা জটিলতার কারণে সেই সময়সূচী পরিবর্তন করতে হয়েছে।

    তিনি আরও জানান, তারা আশাবাদী আগামী ১০ মে’র মধ্যে প্রথম ধাপে তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে পারবেন। আজ (৫ মে) মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলামোটর রূপায়ন টাওয়ারের দলীয় কার্যালয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিক, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে এই ঘোষণা দেন তিনি।

    সারজিস আলম বলেন, এ মাসের মধ্যেই তারা সিটি কর্পোরেশনসহ সাতটি মহানগরে তাদের সমর্থিত মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করবে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে তারা একটি ১১ দলীয় জোটের অংশ; বিরোধী এই জোটের একটির ওপর ভিত্তি করে তারা রাজনীতি করছে। পাশাপাশি, সংগঠনের শক্তি বৃদ্ধি ও স্বতন্ত্রভাবে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে অংশ নেওয়ার জন্য তারা প্রতিযোগিতামূলকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করছে।

    অতএব, তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, বিএনপি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নানা টালবাহানা করছে। তারা ২০২৭ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচন ফেরাতে পরিকল্পনা করছে—এমন খবরও তিনি শোনেছেন। এর পাশাপাশি, বিএনপি ইতোমধ্যেই বিভিন্ন জেলা ও মহানগরীর প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

    সারজিস আলম বলেন, বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে পদপ্রার্থী নেই। তারা ক্ষমতা গ্রাস করতে ক্ষমতাসীনদের মতোই প্রতিযোগিতা চালাতে চাইছে, এমনকি উপজেলা পরিষদ বিলুপ্ত করার পরিকল্পনাও শোনা যাচ্ছে। এই ধরনের ক্ষমতা কেন্দ্রীকরণ বা ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার প্রক্রিয়া বিপরীত ফলাফল ডেকে আনতে পারে। তাই তিনি urges করেন, এই বছরের মধ্যেই সিটি, উপজেলা ও পৌরসভার নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

  • খুলনায় অভিভাবকহীন ছাত্রদল, সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির: নেতৃত্বে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন পদপ্রত্যাশীরা

    খুলনায় অভিভাবকহীন ছাত্রদল, সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির: নেতৃত্বে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন পদপ্রত্যাশীরা

    খুলনায় বর্তমানে ছাত্রদল অব্যাহত অস্থিতিশীলতা দ্বারা কবলিত এবং কার্যত অভিভাবকহীন অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে মহানগর ও জেলা ছাত্রদলের কোন কার্যকরী কমিটি না থাকায় সংগঠনের মূল কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। তবে ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পরে কিছুটা চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও, নেতাকর্মীরা এখনো চূড়ান্ত নেতৃত্বের জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন। খুলনায় ছাত্রদলের নেতৃত্বের দৌড়ে অনেকজন নেতা আলোচনায় আসছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলের উপর এর সর্বাধিক নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে খুলনার ছাত্রদলের ভবিষ্যৎ, কারণ তিনি এই আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় সংসদে হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২১ সালের ২৪ মার্চ ইশতিয়াক আহমেদ ইস্তিকিকে আহবায়ক ও তাজিম বিশ্বাসকে সদস্য সচিব করে খুলনা মহানগর ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এই কমিটি ১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৫টি থানায়, ও মহানগরের ৩১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৫টিতে নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে সংগঠনের ভিতকে সুসংগঠিত করার চেষ্টা চালায়। তবে তিন বছরের মাথায়, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর, ওই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এদিকে, জেলা ছাত্রদলের চিত্র আরও দীর্ঘসূত্রিতাপূর্ণ। ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর মান্নান মিস্ত্রীকে সভাপতি ও গোলাম মোস্তফা তুহিনকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত কমিটি আট বছর দায়িত্ব পালন করেছে। এই সময়ে তারা জেলার ৩১টি স্কুল-কলেজসহ আশপাশের ৯টি থানায় ইউনিট কমিটি গঠন করেছিল। মহানগর ও জেলা কমিটিগুলোর একই দিনে, অর্থাৎ ২০২٤ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর, বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

    বর্তমানে, ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কেন্দ্রীয় ছাত্রদল মেয়াদোত্তীর্ণতার কারণে খুলনা মহানগর ও জেলা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হলেও, স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ইউনিট কমিটিগুলো। তবে শীর্ষ নেতৃত্ব বা অভিভাবকের অভাবে সংগঠনটি কার্যত নেতৃত্বহীন হয়ে পড়েছে। একান্তই নতুন নেতৃত্ব গঠন ও সংগঠনের পুনর্গঠনের জন্য ব্যাপক তদন্ত ও যাচাই-বাছাই চালানো হচ্ছে। এর তদারকি করছেন বিএনপি কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল।

    মহানগর ছাত্রদলের শীর্ষ পদে আলোচনা চলছে বিভিন্ন সাবেক নেতা কর্মীর মধ্যে। তাঁদের মধ্যে আছেন সাবেক সদস্য সচিব তাজিম বিশ্বাস, আরিফুল ইসলাম আরিফ, হেদায়েত উল্লাহ দিপু, মোঃ শাকিল আহমেদ, মাজহারুল ইসলাম রাসেল, আব্দুল হক শাহিন, হাসান ফকির, সৈয়দ ইমরান, নাজিম উল্লাহ ভূঁইয়া, রাজু আহমেদ, আব্দুস সালাম, রাশিউর রহমান রুবেল, রাজিবুল ইসলাম বাপ্পি, নাজমুল ইসলাম এবং মুশফিকুর রহমান অবি। অন্যদিকে, জেলা ছাত্রদলের নেতৃত্বে আসার জন্য আলোচনা চলছে গাজী শহিদুল, মাসুম বিল্লাহ, মশিউর রহমান শফিক, ফিরোজ আহমেদ আদল, অনিক আহমেদ, ইয়ামিন ইসলাম, ইসমাইল হোসেন খান, আবু জাফর ও ইমতিয়াজ সুজনের মধ্যে।

    জেলার এক সাবেক নেতা অনিক আহমেদ বলেন, মামলার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করলে প্রকৃত নেতা ও ত্যাগী কর্মীরা নেতৃত্বে আসবে। তাজিম বিশ্বাস উল্লেখ করেন, ছাত্রদল বিএনপির একটি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী সংগঠন হলেও এটি দলের প্রাণশক্তি। ছাত্রদলের মাধ্যমে নতুন কর্মীরা দলে প্রবেশ করে এবং বর্তমান সংসদে অধিকাংশ মন্ত্রী ও এমপিরাও ছাত্রনেতা। তাঁর মতে, দলের উন্নয়ন ও গতিশীলতা বজায় রাখতে দ্রুত নতুন কমিটি প্রয়োজন।

  • সংস্কার নিয়ে সরকারের প্রতারণা ও বাধ্যবাধকতা প্রয়োজন

    সংস্কার নিয়ে সরকারের প্রতারণা ও বাধ্যবাধকতা প্রয়োজন

    সংস্কার বিষয়ক প্রতিশ্রুতিতে বিএনপি সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। নির্বাচনের আগে তারা যা কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার অনেকটিই এখন মুখে বলে এড়িয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে যদি সরকারকে যথাযথভাবে বাধ্য না করা হয়, তাহলে তারা কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করবে। রোববার (৩ মে) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে অনুষ্ঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজিত ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনে এসব কথা উল্লেখ করেন বক্তারা। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী সেশনে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এ সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির সহ-প্রধান সারোয়ার তুষার। প্যানেলিস্ট হিসেবে আলোচনা করেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী ও সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান। হান্নান মাসউদ বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনের পর থেকেই আমি বলেছি, এটি এক ধরনের প্রতারণামূলক সংসদ। আমি কেন এসেছি এবং কী পেলাম? যেসব অধ্যাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আইন করা হয়েছে, সেগুলোর বিচারবিভাগীয় ও সংসদীয় জোরালো সংশোধনী কার্যকর করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ভোট চুরি করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অপসারণে একটি বিশেষ মুহূর্তে অন্তর্বর্তী সরকার একটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল, যা পরে সরকার আইন হিসেবে পরিণত করেছে। এর মাধ্যমে তারা স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের অপসারণ ও নির্বাচনপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে, যা বিরোধীদলের কাউকেই অপসরণ ও প্রতিযোগিতায় বাধা দেয়। এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, যদিও আমাদের মধ্যে কিছু মতভেদ রয়েছে, তবে বিএনপির প্রস্তাবনায় পুলিশ কমিশন তৈরি হয়েছে। তবে সরকারে গেলে তারা উদ্ভূত বিষয়ে সেটিকে প্রত্যাখ্যান করে গুম কমিশন বাতিল করেছে। সংবিধান সংশোধনের বিষয়েও বিএনপি সরে গেছে, ফলে আমাদেরও পুনরায় নতুন সংবিধানের দাবি করতে হচ্ছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী উল্লেখ করেন, ১৯৯১ সালে রাজনৈতিক দলগুলো সম্মিলিতভাবে যেসব সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছিল, তা বিএনপির সরকার ক্ষমতায় আসার পরবর্তী সময়ে কেউ বাস্তবায়ন করেনি। ২৪ এর অভ্যুত্থানের পর ফলাফল এটি, যারা প্রথম থেকেই ক্ষমতা নিতে চেয়েছিল, তারা বাংলাদেশের স্বপ্নকে ভঙ্গ করেছে। দেশের এলিট শ্রেণি, সিভিল বান্ডিল ও সামরিক-বুরোক্রেসি ক্ষমতা থেকে ছুঁড়ে ফেলতে চায় না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ যদি কানাডায় এই ধরনের মিথ্যা বক্তব্য বলতেন, তবেই তার পদত্যাগ বাধ্যতামূলক হতো। সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান বলেন, জুলাই সনদ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা মূলত রাষ্ট্রের তিন অঙ্গের ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা সংক্রান্ত। সাংবিধান সংস্কার কমিটির প্রথম দিকে অনেক র‍্যাডিকেল ভাবনা ছিল, যেখানে প্রধানমন্ত্রী ও দলের প্রধান এক ব্যক্তি হতে পারবেন না। তবে বিএনপির চাপের কারণে কিছু বিষয় এড়ানো হয়েছে। এরপরও কিছু বড় অর্জন রক্ষা পেয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতো। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, বিএনপি সরকার কোনো সংস্কার করতে চায় না। বহুদিন থেকে তারা মনে করে, তাদের সুবিধার জন্য অনেক কিছু করতে পারে, তবে এখন স্পষ্ট হয়েছে, তারা আর কখনো তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তারা তাদের নির্বাচনি ইশতেহার ও দলীয় ঘোষণা অনুযায়ী সংস্কার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, পার্লামেন্টের মাধ্যমে সংশোধনী ও সংস্কার কার্যক্রম থেকে সরে এসেছে। দলের নেতা ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি বিভিন্ন পদে দলীয় ব্যক্তি বসানোর জন্য তারা সংবিধানের মূল কাঠামোকে লঙ্ঘন করতে দ্বিধা করছে না। সভা শেষে আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি ক্ষমতা আরও নৈকট্য করতে চাইছে, তারা সংস্কারে অরুচি দেখাচ্ছে। তাদের নেতারা নেট অব ডিসেন্টের কথা বললেও, আসলে সবাই মূল দিকের ব্যাপারে একমত। গণভোট শেষে তাদের আপত্তিগুলোও প্রাধান্য পায়নি। তিনি আরও বলেন, চারটি প্রশ্নে তাদের আপত্তি থাকলেও, গণভোটের বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে, উচ্চকক্ষ হবে ভোটের পিআর অনুযায়ী, তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকবে নতুন ফর্মুলা অনুযায়ী, এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগগুলো হবে একটি নিরপেক্ষ বোর্ডের মাধ্যমে। এসব বিষয়ের ওপর আমাদের সব পক্ষ একমত ছিল। তবে কিছু বিষয় রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার অনুযায়ী সম্পন্ন করার ছিল। আলোচনা শেষে মনিরা শারমিন এই বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রন করেন।

  • তেলপাম্পে যানবাহনের লাইন উধাও নিয়ে আখতারের প্রশ্ন

    তেলপাম্পে যানবাহনের লাইন উধাও নিয়ে আখতারের প্রশ্ন

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর তেলের জন্য বিশাল যানবাহনের লাইনের উধাও হওয়ার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, সাধারণ নাগরিকরা দীর্ঘ সময় ধরে তেলপাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও দাম বাড়ার পরে সেই লাইন দেখা যায়নি। এ পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবে প্রশ্নের জন্ম দেয়। শনিবার রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ন ট্রেড সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনের সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা তিনি বলেন।

    আখতার হোসেন আরও বলেন, গণভোটে জনগণের স্পষ্ট মতামত থাকা সত্ত্বেও সরকার সে রায়ের অঙ্গীকার কখনোই মানেনি। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করার দায়িত্ব থাকলেও বা তারা তা করেনি। তিনি আরো বলেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে মত ব্যক্ত করায় সকল রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের প্রত্যাশা করছিল। কিন্তু সরকারের গঠন وبعد কাজের মধ্যে সেই প্রতিশ্রুতি থেকে বিচ্যুত হয়েছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বদলে সেটাকে কখনো ‘‘প্রতারণার দলিল’’, কখনো ‘‘অসাংবিধানিক’’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

    আখতার হোসেন সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের জন্য একটি উচ্চতর কাঠামোর প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে বলেন, এ জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদের ধারণা এসেছে, যা আগে কোনো দলই প্রত্যাখ্যান করেনি। ব্যাংক খাতের বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশের বিশাল অঙ্কের টাকা লুটপাটকারীদের জন্য খুব কম অর্থ ফিরিয়ে দিয়ে মালিকানা ফিরে পাবার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ লুটপাটের পথ সুগম করবে।

    সারোয়ার তুষার জানিয়েছেন, রোববার দিনব্যাপী জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার ও গণভোট বিষয়ক জাতীয় কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বিভিন্ন সেশনে এনসিপি নেতাদের সঙ্গে সঙ্গে গণমানুষের প্রতিনিধি, অর্থনীতিবিদ, সমাজবিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও আইনজীবীরাও অংশ নেবেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম-আহবায়ক মনিরা শারমিনসহ অন্যান্য নেতারা।

  • নিজামী পুত্রসহ ঐতিহ্যবাহী ব্যক্তিরা এনসিপিতে যোগ দিলেন

    নিজামী পুত্রসহ ঐতিহ্যবাহী ব্যক্তিরা এনসিপিতে যোগ দিলেন

    জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামীর ছোট ছেলে ড. মোহাম্মদ নাদিমুর রহমান, হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন, গাজীপুরের অধ্যাপক এম এ এইচ আরিফ এবং ওয়ারিয়র্স অব জুলাই দলের প্রায় চার হাজার সদস্য। মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মোহাম্মদ নাদিমুর রহমান বর্তমানে তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত থাকায় সশরীরে উপস্থিত হতে পারেননি, তবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন। ওয়ারিয়র্স অব জুলাইয়ের সদস্যরা এই কাজে অংশ নিয়েছেন বলে দাবি করা হয়। তবে সকল সদস্য এই সময় উপস্থিত ছিলেন না; জানা যায়, ওয়ারিয়র্স অব জুলাইয়ের প্রায় ৫০ সদস্য এই অনুষ্ঠানে ছিলেন।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন, তিনি বলেন, ‘হাজী শরীয়তুল্লাহর উত্তরসূরি হওয়ার পরেও আমি এনসিপিতে একজন কর্মী হয়ে কাজ করব।’ তিনি আরো বলেন, ‘হাজী শরীয়তুল্লাহ কোনো রাজা ছিলেন না, তিনি এ দেশের সাধারণ কৃষক জনগণের নেতা। নেতা আর রাজা হওয়ার মাঝে পার্থক্য রয়েছে। আমরা কোনো নেতার ইবাদত করি না। দল করি এই জন্য, যাতে আমাদের নেতা যদি বিপথে চলে যায়, আমরা তাদের ফিরিয়ে আনতে পারি। আমরা দল করি মাত্র, যেন ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে আমি সেঠে ন্যায়ের পক্ষ নিতে পারি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারি।’

    এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, দেশের হারানো পথ ফিরে পেতে এনসিপি কাজ করে যাবে। সংসদে প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতার জন্য বিএনপির সমালোচনা করে তিনি জানান, এর ফল ভালো হবে না। তিনি দ্রুত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

    দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সমালোচনা করে বলেন, স্থানীয় সরকার কেন্দ্রগুলোকে তারা নিজেরা ভাগ-বাটোয়ারায় নিয়ে লুটপাটের চেক্টর বানানোর চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, এ বছরের মধ্যেই সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনের ব্যবস্থা নিতে হবে।

    দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, ‘বর্তমান সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করছে এবং সেটা তারা গর্বের সাথে সংসদে জানিয়েছেন। এটাই আমাদের জন্য লজ্জাজনক। অতীতে যারা এভাবে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে, তারাই জনগণের দ্বারা ক্ষিপ্ত হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘হোসাইন মুহাম্মদ এরশাদ সারা দেশে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতেন, আর তারেক রহমান সেই পথেই এগোচ্ছেন। তারা বারবার গণতন্ত্রকে নিজেদের স্বার্থের জন্য ব্যবহার করেছেন।’

    নতুন যোগদানকারীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় অনুষ্ঠানে।

  • ১০ মে এনসিপি ঘোষণা করবে উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীদের

    ১০ মে এনসিপি ঘোষণা করবে উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীদের

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, তাদের উদ্দেশ্য ছিল ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভার জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করা। তবে কিছু ব্যক্তিগত ও সামগ্রিক কারণের মন্থরতার ফলে নির্ধারিত তারিখ পিছিয়ে গেছে।

    তিনি বলেন, আমরা আশা করছি আগামী ১০ মে’র মধ্যে এনসিপি থেকে প্রাথমিকভাবে সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করতে পারব।

    সারজিস আলম এই মন্তব্যগুলো করেন মঙ্গলবার (০৫ মে) রাজধানীর বাংলামোটর রূপায়ণ টাওয়ারের দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে, যেখানে রাজনৈতিক ও বিভিন্ন পেশার নাগরিকরা দলের সঙ্গে যোগদান করেন।

    তিনি আরও জানান, এ মাসের মধ্যে সাতটি সিটি কর্পোরেশনে এনসিপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করা হবে। বর্তমানে এনসিপি একটি ১১ দলীয় জোটের অংশ হিসেবে বিরোধী ভূমিকা পালন করলেও সংসদে কার্যকরভাবে কাজ করার পাশাপাশি দলটির সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক শক্তি এককভাবে গড়ে তোলার উদ্যোগও চলছে। এজন্য স্থানীয় স্তরে অনেক জায়গায় এনসিপি নিজস্ব প্রার্থী ঘোষণা করবে বলেও জানান তিনি।

    সারজিস আলম অভিযোগ করেন, বিএনপির পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা করে এগুলো ২০২৭ সালের ডিসেম্বরে নেওয়ার পরিকল্পনা আছে এবং তারা ইতোমধ্যে জেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্হা করছে—এই ধরনের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি অবস্থান ব্যক্ত করেন।

    তিনি আরো বলেন, উপজেলা পর্যায়ে কার্যকরভাবে কাজ করা কোনো উপজেলা চেয়ারম্যান নেই এবং শোনা যাচ্ছে যে কেউ কেউ উপজেলা পরিষদ বিলুপ্ত করার চেষ্টা শুরু করেছে। এমন পন্থা সর্বশেষে তাদের জন্য ক্ষতিকর হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। তাই সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচন এতির মধ্যে আয়োজন করার জন্য তিনি দাবি করেন।

  • খুলনায় নেতৃত্বহীন ছাত্রদল: সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির, পদপ্রত্যাশীরা লবিংয়ে ব্যস্ত

    খুলনায় নেতৃত্বহীন ছাত্রদল: সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির, পদপ্রত্যাশীরা লবিংয়ে ব্যস্ত

    খুলনায় বড় আরেকটি অস্থিরতার দিক হিসেবে দেখা যাচ্ছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কার্যক্রমের প্রধান শূন্যতা। মহানগর ও জেলা পর্যায়ে দীর্ঘদিন কোনো স্থায়ী কমিটি না থাকা এবং কেন্দ্রীয় স্তরের সিদ্ধান্তের কারণে সংগঠনের কার্যক্রম পড়ে আছে স্থবিরতায়।

    রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরে—বিশেষ করে ৫ আগস্ট ২০২৪—এক পর্যায়ে নতুন আগ্রহ ও আলোচনা সৃষ্টি হলেও চূড়ান্ত নেতৃত্ব না থাকার কারণে মাঠে কোনো সুস্পষ্ট দিশা নেই। সূত্র জানায়, খুলনার ছাত্রদলের শীর্ষ দলে দাঁড়াতে স্থানীয় পর্যায়ে কয়েক ডজন নেতা-কর্মী মুখিয়ে আছে এবং এখন তারা লবিং ও সমর্থন জোগাড়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

    দলীয় নথি অনুযায়ী, ২৪ মার্চ ২০২১ সালে খুলনা মহানগর ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয়। তখন ইশতিয়াক আহমেদ ইস্তিকে আহবায়ক ও তাজিম বিশ্বাসকে সদস্য সচিব করা হয়। সেই কমিটি ১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৫টি থানা ও মহানগরের ৩১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৫টিতে ইউনিট কমিটি গঠন করেছিল। কিন্তু আনুমানিক তিন বছর পরে, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ ওই মহানগর কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

    জেলার পরিস্থিতিও অনুরূপ। ১৩ অক্টোবর ২০১৬ সালে মান্নান মিস্ত্রিকে সভাপতি ও গোলাম মোস্তফা তুহিনকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত জেলা কমিটি আট বছর দায়িত্ব পালন করে। তাদের দায়িত্বকালে জেলা জুড়ে ৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৯টি থানায় ইউনিট কমিটি করা হয়েছিল। মহানগরের সঙ্গে একই দিন, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ ওই জেলা কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়।

    দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নিজস্ব মেয়াদোত্তীর্ণতার কয়েকটি কারণ দেখিয়ে মহানগর ও জেলা স্তরের কমিটিগুলো বিলুপ্ত করে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ কথা জানালেও জাতীয় নির্বাচনের আগের রাজনীতির অনিশ্চয়তার কারণে নতুন কমিটি ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। ফলে লোকাল ইউনিটগুলো মাঠে কার্যকর থাকলেও উপরের কোনো ‘অভিভাবক’ না থাকায় সংগঠনভাবে নেতৃত্বহীনতা দেখা দিয়েছে।

    একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে এখন ব্যাপক যাচাই-বাছাই ও অনুসন্ধান চলছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল নিজে এই প্রক্রিয়াটি তদারকিতে যুক্ত আছেন।

    মহানগর নেতৃত্বে যাদের নাম আলোচনা রয়েছে—তাদের মধ্যে রয়েছেন তাজিম বিশ্বাস, আরিফুল ইসলাম আরিফ, হেদায়েত উল্লাহ দিপু, মো. শাকিল আহমেদ, মাজহারুল ইসলাম রাসেল, আব্দুল হক শাহিন, হাসান ফকির, সৈয়দ ইমরান, নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া, রাজু আহমেদ, আব্দুস সালাম, রাশিউর রহমান রুবেল, রাজিবুল ইসলাম বাপ্পি, নাজমুল ইসলাম ও মুশফিকুর রহমান অভি। জেলার নেতাদের তালিকায় এগিয়ে আছেন গাজী শহিদুল, মাসুম বিল্লাহ, মশিউর রহমান শফিক, ফিরোজ আহমেদ আদল, অনিক আহমেদ, ইয়ামিন ইসলাম, ইসমাইল হোসেন খান, আবু জাফর ও ইমতিয়াজ সুজন।

    জেলা ছাত্রদলের পুরনো নেতা অনিক আহমেদ বলেন, “মামলার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন কমিটি করা হলে প্রকৃত ত্যাগীরাই নেতৃত্বে আসবে।” মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব তাজিম বিশ্বাস বলেন, “ছাত্রদল বিএনপি’র সহযোগী সংগঠন হলেও এটি দলের প্রাণ। ছাত্রদলের মাধ্যমেই নতুন কর্মীরা দলেকে প্রবেশ করে—বর্তমান সংসদের অনেক মন্ত্রী-মন্ত্রনির্হারই ছাত্রনেতা ছিলেন। দলকে গতিশীল করতে দ্রুত কমিটি দরকার।”

    সংক্ষেপে, খুলনায় ছাত্রদলের সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে সময়োপযোগী ও বিশ্বাসযোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। কেন্দ্রে চলমান যাচাই-বাছাই ও লোকজন নির্ধারণের প্রক্রিয়া শেষ হলে স্থানীয় গতিশীলতা ফিরবে—তবে ততক্ষণ পর্যন্ত মাঠে শীর্ষ নেতৃত্বের অভাবই থাকছে প্রধান প্রতিবন্ধকতা।

  • এনসিপি: সরকার সংস্কারে প্রতারণা করছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বাধ্য করতে হবে

    এনসিপি: সরকার সংস্কারে প্রতারণা করছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বাধ্য করতে হবে

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বলেছে, বিএনপি সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে — নির্বাচনের আগে যে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা তারা পালনে অনীহা দেখাচ্ছে। এমন অবস্থাই চলতে থাকলে দেশ কর্তৃত্ববাদী হয়ে যাবে; তাই সরকারকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বাধ্য করতে হবে।

    রোববার (৩ মে) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি আয়োজন করে ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশন। উদ্বোধনী সেশনে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির সহ-প্রধান সারোয়ার তুষার। সেশনের প্রধান প্যানেলিস্ট ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম প্রধান সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী ও সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান। সেশনটি মডারেট করেন জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন।

    হান্নান মাসউদ বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনের পরই স্পষ্ট হয়েছে যে এটি ‘‘প্রতারণা ও প্রবঞ্চনার সংসদ’’. তিনি বললেন, কিছু অধ্যাদেশ এমনভাবে আইন করতে পরিণত হয়েছে যা সরকারের ক্ষমতা বাড়ায়, অথচ যেগুলো সরকারকে জবাবদিহি বানাবে সেগুলোকে নাড়িয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি স্থানীয় সরকারের ওপর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণের অনৈতিক বিধানের বিরুদ্ধে সতর্ক করলেন। পাশাপাশি বলেন, যেসব কমিশন বা গঠনতন্ত্র জনগণের পক্ষ থেকে দাবি ছিল, সেগুলোই পরে বাতিল বা পরিবর্তিত করা হচ্ছে।

    রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী বলেন, ১৯৯১ সালে যে সংস্কারের প্রস্তাবগুলো আনা হয়েছিল, সেগুলো আজ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। ২৪-এর অভ্যুত্থানের পর যা হয়েছে, তা দায়িত্বজটিল এবং প্রতারণামূলক ছিল—দেশের এলিট ও সরকারি-বেসরকারি ক্ষমতা ছাড়তে চায় না, ফলে সংস্কারগুলো ভণ্ডভাবে থেমে যায়। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, কোনো দেশের কোনো মন্ত্রী যদি সংসদে মিথ্যা বক্তব্য দেন, অনেক развит দেশে তাৎক্ষণিক পদত্যাগের দাবি ওঠে; বাংলাদেশে এ ধরনের প্রশ্ন উঠা উচিত।

    সামাজবিদ মির্জা হাসান বলেন, ‘জুলাই সনদ’ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ; এর মূল লক্ষ্য তিনটি শাখার মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা—বিচার, শাসন ও নির্বাহী বিভাগ। তিনি জানান, সংস্কারকমিটির প্রথম দফার কিছু প্রস্তাব খুবই র‍্যাডিকাল ছিল, যেমন একই ব্যক্তি সরকারপ্রধান এবং দলের প্রধান না হওয়ার বিষয়টি; কিন্তু রাজনৈতিক চাপের মুখে অনেককিছু কম্প্রোমাইজ করা হয়েছে। যে অংশগুলো রক্ষা করা সম্ভব হয়েছিল, সেগুলোও বাস্তবায়ন করলে বড় অর্জন হতে পারত।

    এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, দলগত স্বার্থে সরকার সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ করছেন; এরই মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলসহ নানা পদক্ষেপ হয়েছে, যা পূর্বপ্রতিশ্রুতির পরিপন্থী। তিনি বলেন, ‘‘অনেকে বলে থাকে ‘আমাদের সরকার, আমরা আমাদের লোক রাখব’—কিন্তু সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় মানুষ বসানো न्यायসঙ্গত নয়।’’

    সভাপতি আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি সরকার স্পষ্টভাবে সংস্কার করতে চায় না; তারা ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রাখতে চায়। তিনি বলেছেন, সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে যেখানে সব দল একমত ছিল এমন প্রায় ৩০টি মৌলিক বিষয় রাখা হয়েছিল—উচ্চকক্ষের বিন্যাস, পিআর অনুযায়ী প্রতিনিধি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নতুন ফর্মুলা, এবং সাংবিধানিক নিয়োগের জন্য নিরপেক্ষ বোর্ডের মাধ্যমে নিয়োগের মতো ব্যবস্থা। এখন বিএনপি কিছু পয়েন্ট নিয়ে আপত্তি এলে তা পরিষ্কার করা প্রয়োজন: গণভোটের কোনো অংশে তাদের আপত্তি কী?

    কনভেনশনে অংশগ্রহণকারীরা পুনরায় দাবি করেন, সরকার যদি নির্বাচনের আগে করা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসে, তা প্রতিহত করতে রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে নির্বাচিত সংস্কার বাস্তবায়নে সকল উপায় অবলম্বন করতে হবে।