Category: রাজনীতি

  • খুলনাসহ পাঁচ বিভাগের ৩৭৮ নারী প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নিলো বিএনপি

    খুলনাসহ পাঁচ বিভাগের ৩৭৮ নারী প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নিলো বিএনপি

    তাদের চূড়ান্ত সংসদ নির্বাচনের জন্য বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনীত প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। শুক্রবার প্রথম পর্যায়ে খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল ও ফরিদপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার মোট ৩৭৮ নারী প্রার্থীকে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এই কার্যক্রম দুপুরে দলের গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দলের প্রধান নেতা ও মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতিত্ব করে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান, অধ্যাপক ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সালাহউদ্দিন আহমদ এবং ইকবাল হাসান মাহমুদ টুক। সাক্ষাৎকারের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে যেসকল নারী মনোনয়নের জন্য আবেদন করেছেন, তাদের সাক্ষাৎকার শুরু হয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, এই প্রক্রিয়া বিএনপির নিজের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী হয়, যেখানে দলের উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে মনোনয়ন বোর্ড গঠন করা হয়। তিনি বলেন, এই সাক্ষাৎকারে প্রার্থীদের আন্দোলনে অবদান, ত্যাগ, যোগ্যতা ও সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখার সামর্থ্য বিবেচনা করা হয়। সকালে, প্রার্থীরা গুলশানে অফিসের বাইরে উপস্থিত হন, যেখানে তাদের ও তাদের সমর্থকদের উপস্থিতি দেখা যায়। তবে নিরাপত্তার জন্য শুধু প্রার্থীরাই প্রবেশ করেন অফিসে। প্রার্থীরা ভেতরে থেকে তাঁদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, তারা সাক্ষাৎকারের সময় দলের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি ও মনোভাব প্রকাশ করেন। প্রার্থীরা জানান, সাক্ষাৎকারে তাদের দলের জন্য অবদান, আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান মূলত দুইটি প্রশ্ন করেন: যদি মনোনয়ন পান, কি করবেন, আর না পেলে কি করবেন? তারা এই প্রশ্নের উত্তরে নিজেদের অবদান, দলপ্রেম ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। দলের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে তারা মনোনয়ন পাওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতি দেন। খুলনা-বাগেরহাটের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যপ্রার্থী ফারজানা রশিদ লাবনী বলেন, আমি গত ৩৮ বছর ধরে বিএনপির সাথে রয়েছি এবং দল যা সিদ্ধান্ত নেবে, মানা হবে। মনোনয়ন পেলে বা না পেলে, আমি সব পরিস্থিতিতেই দলের জন্য কাজ করে যাব। অন্যদিকে, পাবনা থেকে আসা আরিফা সুলতানা রুমা বলেন, দলের পক্ষ থেকে যেকেউ মনোনয়ন পাবেন, তার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। দীর্ঘদিন আন্দোলনে থাকাকালীন অভিজ্ঞতা থাকার কারণে, তারা ভবিষ্যতেও দলের জন্য কাজ করে যাবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন। দিনাজপুর থেকে আসা প্রার্থী আইনজীবী তৌহিদা ইয়াসমিন তানিন বলেন, প্রার্থীরা কী পদে আছেন বা তাদের ইতিমধ্যে কি অবদান আছে – এই বিষয়গুলোও আলোচনা করা হয়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রার্থীদের জন্য মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। গত ৮ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন (ইসি) সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য তফসিল ঘোষণা করে, যার মধ্যে মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল, বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। আপিলের জন্য আগামী ২৬ এপ্রিল মনোনয়ন বাতিল হলে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত ২৭ ও ২৮ এপ্রিল নেওয়া হবে। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা নিশ্চিত হওয়ার পরে ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে, এবং ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারিত হয় ১২ মে। এবারের আসন বণ্টনে বিএনপি ৩৬ টি, জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা একটি সংরক্ষিত আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

  • সংসদে বিরোধী দলের অভিযোগ, স্পিকারের নিরপেক্ষতা পাননি জামায়াত আমির

    সংসদে বিরোধী দলের অভিযোগ, স্পিকারের নিরপেক্ষতা পাননি জামায়াত আমির

    বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, স্পিকার সংসদে প্রথম দিন থেকেই নিজেকে নিরপেক্ষ থাকার কথা বললেও বাস্তবে বিরোধী দলটি সেই নিরপেক্ষতা পাননি। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও বিরোধী দলের মতামত শোনার সুযোগ না দেওয়ায় তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করতে বাধ্য হয়েছেন। আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতের জেলা ও মহানগর আমির সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান আরও জানান, ১২ মার্চ প্রথম অধিবেশনে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি হওয়ার কথা থাকলেও বেশির ভাগই আলোচনা ছাড়াই পাস হয়েছে। কার্য উপদেষ্টা কমিটির সম্মতিতে এসব অধ্যাদেশ সংসদে আনার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত করেনি সরকারের পক্ষ। মাত্র একটি অধ্যাদেশের বিষয়ে আলোচনায় রাখা হয়েছে। বিরোধীদলের পক্ষ থেকে নোট অব ডিসেন্ট দেয়ার পরও এগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। সংসদে বিতর্কের সময়সীমা নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর বলেন, দুই মিনিটে কোনো পার্লামেন্টারি আলোচনা সম্ভব না, অথচ সরকার দীর্ঘ সময় বক্তব্য দেয়ার সুযোগ পাচ্ছে। একজন বক্তার জন্য সময় বাড়ানো হলেও তা দাবি অনুযায়ী উপযুক্ত হয়নি। ব্যাংকিং খাত নিয়ে বলেন, অতীতে ব্যাংক থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুট হয়ে বিদেশে পাচার হলেও তার উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ এখনো দেখা যায়নি। অর্থ আদায়ের জন্য নেওয়া উদ্যোগগুলোও আটকে রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগে ও ঘটনাপ্রবাহে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। একজন ঋণখেলাপিকে পুনঃতফসিলের সুযোগ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য নিয়োগ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলেও মন্তব্য করেন। এর ফলে এখন তফসিলি ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের ক্ষেত্রেও ‘কালো হাত’ ঢুকে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ব্যাংক কোনো দলের সম্পত্তি নয়, এটা সাধারণ মানুষের বিষয়। সবাইকে সাবধান থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের আমানত নষ্ট না করে সবাইকে ‘পাহারাদার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সরকার বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, একদিকে সরকার বলছে জ্বালানি সংকট নেই, কিন্তু অন্যদিকে দীর্ঘ লোডশেডিং এবং জ্বালানির অভাবে মানুষের ভোগান্তি প্রকট। এর সঙ্গে শিল্পবিরোধী পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, ফার্নেস অয়েল সংকটে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং পরিবহন খরচ বেড়ে দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সাধারণ জনগণের ওপর চাপ পড়ছে। চাঁদাবাজির বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে, তবে দেশের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও ভুল নীতির কারণে পরিস্থিতি আরো খারাপ হচ্ছে। তিনি সরকারের কাছে জাতীয় স্বার্থে খোলামেলা আলোচনা ও সমাধানের আহ্বান জানান। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া, এবং যে সব অধ্যাদেশ আনা হয়েছে, তা জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ভুল মানুষ করতে পারে, তবে তার থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। অবশেষে তিনি সতর্ক করে বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করলে তা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী হবে এবং ভবিষ্যতে বৃহৎ সংকটের সৃষ্টি করতে পারে।

  • ১১ দলের নতুন কর্মসূচি: গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য ঢাকায় মহাসমাবেশের প্রস্তুতি

    ১১ দলের নতুন কর্মসূচি: গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য ঢাকায় মহাসমাবেশের প্রস্তুতি

    জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দল যৌথভাবে একটি দীর্ঘ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে, যা গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্র করে। এই কর্মসূচি আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ২ মে পর্যন্ত চলবে, যেখানে তারা দেশের বিভিন্ন শহরে বৃহৎ গণমিছিল ও সমাবেশ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই ঘোষণা দেন।

    স্মরণীয় এই ঘোষণা অনুযায়ী, ১৮ এপ্রিল ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ের গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর, ২৫ এপ্রিল দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে এবং ২ মে জেলা শহরগুলোতে বিভিন্ন গণমিছিলের আয়োজন করা হবে। এছাড়াও, ১৮ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জেলা ও বিভাগীয় শহরে লিফলেট বিতরণ ও বিক্ষোভ সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

    বৈঠকের সিদ্ধান্তে জানা গেছে, এই ধাপের কর্মসূচি সফলভাবে শেষ হলে, পরবর্তী পর্যায়ে দেশের সব বড় শহর ও বিভাগের কেন্দ্রীয় স্থাপনাগুলোর সামনে বিশাল সমাবেশের আয়োজন করা হবে। এই সমাবেশের দিনক্ষণ ও প্রস্তুতি সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরবর্তী বৈঠকে নেয়া হবে। এরপর, সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকায় বড় আকারের সমাবেশের মধ্য দিয়ে আন্দোলনের এক নতুন অধ্যায় শুরু হবে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন, ‘সরকার গণভোটের রায় মানছে না বলে মনে হচ্ছে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, যা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। এই জন্য প্রতিবাদ ও কর্মসূচি চালিয়ে যাব।’ তিনি আরও জানান, জুলাইয়ের মধ্যে একটি আইনানুগ সমাধান ছাড়া হয়তো আন্দোলন চলতে থাকবে।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বিভিন্ন ইসলামী দল ও উপদলগুলোর শীর্ষ নেতারা, যারা এই আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এর আগে সকাল ১১টায় আল ফালাহ মিলনায়তনে এই ঐক্য বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে চলমান আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান, বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মামুনুল হক, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

  • সংস্কার পরিষদ না কল্পনা করায় বিএনপি সরকারের জন্য সংকট স্বীকার

    সংস্কার পরিষদ না কল্পনা করায় বিএনপি সরকারের জন্য সংকট স্বীকার

    সংস্কার পরিষদ গঠন না করে সৃষ্টি হওয়া সংকটের জন্য বিএনপি সরকারকে দায়ভার নিতে হবে বলে উল্লেখ করেছেন বিরোধী নেতা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, দেশের গণঅভ্যুত্থানের পর সময়ে দুটি মূল প্রশ্ন উঠে আসে:一বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবি ছিল ফ্যাসিবাদ নির্মূল, অন্যদিকে বিএনপি দাবি করেছিল নির্বাচন। আমরা সংস্কারের জন্য গণপরিষদ ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছিলাম, যা পরে বিএনপি আলোচনায় অংশ নিয়েছে। এই কারণেই আমরা গণপরিষদের পরিবর্তে সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়টিকে সমর্থন করেছি।

    নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বিএনপি একটি কৃত্রিম বিরোধ তৈরি করছে। তারা জুলাই সনদ ও জুলাই আদেশকে আলাদা করার চেষ্টা চালাচ্ছে, কারণ জুলাই সনদ তাদের দলের বৈধতা বজায় রাখার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। সংবিধানের কাঠামোতে মৌলিক পরিবর্তন সম্ভব নয়, তাই গঠনের ক্ষমতা রাখবে সংস্কার পরিষদ। ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় বিএনপি এসব মান্যতা দিয়েছে, কিন্তু এখন তারা কথার বরখেলাপ করে গণভোটের গণরায়কে অগ্রাহ্য করতে চাইছে।

    গণভোটের ফলাফলের প্রত্যাখ্যানের পরিণতি হিসেবে সরকার এই সংকটের ওপর ভুগতে হবে বলে উল্লেখ করেন বিরোধী দলের চিফ হুইপ। তিনি বলেন, আমাদের এখন দুই বিষয়ে আলোচনা করা দরকার: জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং দুর্যোগ মোকাবেলা। দেশের অর্থনীতি ও শান্তি বিঘ্নিত হয়েছে, জ্বালানি সংকট, দুর্যোগ ও সংকট মোকাবেলায় ব্যর্থতা সবই বিএনপি কেন, সেটার দায়ভারও তাদেরকেই জেনুন করতে হবে।

    সংক্ষেপে, সংকট সমাধানে দ্রুত সংস্কার পরিষদ গঠন ও সংবিধানে পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন এনসিপি প্রধান। তিনি বলেন, সরকার দ্রুত এই নিয়ে কাজ করুন; না হলে এর পরিণতি আপনাদেরকেই ভোগ করতে হবে।

    সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের খলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ ১১ দলের নেতারা।

  • ক্ষমতায় এসে বিএনপি জনগণের কথা হারিয়ে ফেলেছে: নাহিদ ইসলাম

    ক্ষমতায় এসে বিএনপি জনগণের কথা হারিয়ে ফেলেছে: নাহিদ ইসলাম

    নাহিদ ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ, আজ শনিবার রাজধানী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে ভাষণ দেন। তিনি মন্তব্য করেন, ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের ছোঁয়া এবং শ্রমিকদের সংকট ভুলে গেছে।

    নাহিদ বলেন, দেশের ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে, শ্রমিকেরা নিজেদের রক্ত দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও স্বঅভ্যুত্থান রক্ষা করেছেন। ১৯৪৭-এর আজাদির লড়াই থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, এবং এরপরের বিভিন্ন প্রগতিশীল আন্দোলন—প্রত্যেকটি আন্দোলনে শ্রমজীবী মানুষই মূল শক্তি ছিলেন।

    তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন বিএনপি এক মাসের মধ্যেই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর তারা শ্রমিকদের রক্তের ওপর বসেও, দেশের জনগণের ভোটের রায় অমান্য করে বেইমানি করেছে। তিনি বলেন, এই সরকার গণবিরোধী। ক্ষমতার চাপে বিএনপি দেশের ঐতিহ্য ও গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি ভুলে গেছে, মানুষের রক্তের মূল্যকে উপেক্ষা করেছে।

    নাহিদ অভিযোগ করেন, বর্তমানে অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তর ও সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, দেশের রাজনীতিতে এই ধরণের পরিকল্পনা ও ওয়াদা ভঙ্গের খেসারত ভালো হবে না। তিনি শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও প্রয়োজন অনুযায়ী সংস্কার আনতেই গণ-আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

    তিনি আরও বললেন, আমরা নতুন একটি জাতীয় ঐক্যে আবির্ভূত হয়েছি যেখানে শ্রমিকদের জন্য একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজের সব স্তরে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। শ্রমিকের অধিকার রক্ষা, নতুন বন্দোবস্ত নিশ্চিত করা ও শ্রমিকের হিস্যা আদায়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

    নাহিদ উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি এই পথের সারথি। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সকল শ্রমিকের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় দেশের নেতৃত্ব দিতে হবে।

    তিনি রাজপথে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। বলেন, দেশের জনগণের জন্য, গণ-অভ্যুত্থান, জুলাইয়ের আন্দোলন এবং শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করতে এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে। শুধুমাত্র সংসদ নয়, রাজপথেও আন্দোলনের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়তে হবে। দেশের ভবিষ্যৎ স্বার্থে রাস্তায় নামতে ও গণআন্দোলন গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

  • নাহিদ ইসলাম: ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে

    নাহিদ ইসলাম: ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে

    জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে। তিনি এই মন্তব্য করেন আজ শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের ইতিহাসে শ্রমিকরাই বারবার বীরত্বের পরিচয় দিয়েছেন — ১৯৪৭-এর স্বাধীকারের লড়াই থেকে ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী সব গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত বহু প্রাণহানির পেছনে ছিলেন শ্রমজীবী মানুষজন। ‘‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে জীবন দেওয়া মানুষের অধিকাংশই শ্রমজীবী ছিলেন,’’ তিনি বলেন।

    তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় এসে বিএনপি এক মাসের মধ্যেই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ‘‘নতুন সরকার শ্রমিকদের রক্তের ওপর ক্ষমতায় বসেছে; কিন্তু এক মাসের মধ্যেই তারা নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে বেইমানি করেছে। গণভোটের গণরায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে—এ সরকার গণবিরোধী,’’ নাহিদ বলেন।

    অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি হওয়া অধ্যাদেশগুলোকে আইনে পরিণত করার এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি বিএনপি ভঙ্গ করেছে, অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘‘এ দেশের রাজনীতিতে ওয়াদা ভঙ্গের পরিণতি ভালো হবে না। আমরা গণ-আন্দোলন গড়ে শ্রমিকদের অধিকারসহ সংস্কার বাস্তবায়নে বাধ্য করব।’’

    নাহিদ আরও বলেন, ‘‘আমরা একটি নতুন জাতীয় ঐক্যে আবির্ভূত হয়েছি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শ্রমিকদের প্রতি আমাদের যে সংযুক্ত প্রতিশ্রুতি ছিল—একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন করা, রাজনীতি-অর্থনীতি-সমাজ সব জায়গায় ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা, নতুন বন্দোবস্তে শ্রমিকের অংশ নিশ্চিত করা—সেই লড়াইয়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’’

    তিনি জানান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি ঐক্যের পথে রয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে (উল্লেখ্য তিনি এখানে সরকারপ্রধান হিসেবে উল্লেখ করেছেন) জবাবদিহিতার আওতায় আনতে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। ‘‘আপনাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে হবে। নতুন বাংলাদেশের পথে, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে,’’ তিনি বলেন।

    রাজপথে নামার প্রস্তুতির কথাও আবার জোরদার করে নাহিদ বলেন, ‘‘শুধু জাতীয় সংসদ নয়, এবার আমাদের রাজপথেরও প্রস্তুতি নিতে হবে। গণ-আন্দোলনের প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে আমরা বর্তমান সরকারকে বাধ্য করব যাতে জুলাই সনদ, গণভোটসহ শ্রমিকের প্রতিটি অধিকার নিশ্চিত হয়।’’

  • স্পিকার নিরপেক্ষ ছিলেন না: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

    স্পিকার নিরপেক্ষ ছিলেন না: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

    বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার নিজেকে নিরপেক্ষ রাখার কথা বললেও বাস্তবে বিরোধী দল তা পেয়েছে না। অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলার সুযোগ না পাওয়ায় বিরোধীরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করতে বাধ্য হয়েছেন।

    আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতের জেলা ও মহানগর আমির সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত প্রথম অধিবেশনে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করার কথা থাকলেও অধিকাংশই আলোচনায় তোলা হয়নি। কার্য উপদেষ্টা কমিটির সম্মতিতেও এসব অধ্যাদেশ সংসদের টেবিলে না আনার সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি এবং আলোচ্যসূচিতে মাত্র একটি বিষয় রাখা হয়েছে।

    ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, এসব অধ্যাদেশের মধ্যে দুদক পুনর্গঠন, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ সংস্কার, গুম প্রতিরোধ ও বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। তিনি আরো বলেন, বিরোধী পক্ষ ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিলেও সেটি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

    সংসদে বিতর্কের সময়সীমা নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। দুই মিনিটের আলোচনায় কোনো পার্লামেন্টারি বিতর্ক সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরে সময় কিছুটা বাড়ানো হলেও তা পর্যাপ্ত ছিল না এবং সরকারের দিকে অনেক দীর্ঘ সময়ের বক্তৃতা রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে।

    ব্যাংকিং খাত প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর বলেন, অতীতে ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা লুট হয়ে বিদেশে পাচার হওয়ার পরও তা উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। অভিযোগ করেন, এসব অর্থ উদ্ধার ও দায়ীদের বিচারের উদ্যোগ আটকে দেওয়া হয়েছে। তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংরের গভর্নরের পরিবর্তন ও সংশ্লিষ্ট ঘটনার ধারাবাহিকতায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ঘটেছে বলে আশঙ্কা করেন এবং বলেন, একজন ঋণখেলাপিকে পুনঃতফসিল দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানোর মতো ঘটনার প্রভাবও বিরূপ।

    এর ফলে তফসিলি ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত চাপ বা ‘কালো হাত’ বাড়ছে—এমন আশঙ্কাও তিনি প্রকাশ করেন। ব্যাংক কোনো দলের সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের সম্পদ বলে মন্তব্য করে সাধারণ জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং আমানত রক্ষায় সকলে পাহারাদারের ভূমিকা রাখার অনুরোধ করেন।

    জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও তিনি সরকারের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির অসামঞ্জস্য指ঙ্গ করেন। সরকার বলছে জ্বালানির সংকট নেই, কিন্তু দীর্ঘ সময় লোডশেডিং, ফার্নেস অয়েলের অভাব ও পরিবহন ব্যয়ের বৃদ্ধির ফলে শিল্প বর্ষণ ও দ্রব্যমূল্যের চাপ ইত্যাদি বাস্তবে মানুষকে ভুগাচ্ছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত বোঝা সৃষ্টি হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বৈশ্বিক কারণের প্রভাব থাকলেও অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও নীতিগত ভুলই সংকটকে তীব্র করেছে। তিনি সরকারকে জাতীয় স্বার্থে খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে সমস্যার সমাধানের পথ গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন গণভোটের রায় বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে এবং যেসব সংস্কারমূলক অধ্যাদেশ আনা হয়েছিল সেগুলো জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ি বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন করা উচিত।

    বিরোধীদলীয় নেতার সতর্কীকরণ—জনগণের মতামত উপেক্ষা করলে তা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী হবে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সংকট সৃষ্টি করতে পারে। ভুল মানুষ করে, কিন্তু সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সঠিক পথে ফিরে আসাই কর্তব্য, আহ্বান জানিয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।

  • সংসদে স্পিকারের নিরপেক্ষতা পেল না বিরোধীদল: জামায়াত আমির

    সংসদে স্পিকারের নিরপেক্ষতা পেল না বিরোধীদল: জামায়াত আমির

    বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, সংসদের প্রথম দিনের স্পিকারের ভাষণ থেকে যে নিরপেক্ষতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল তা বাস্তবে বিরোধীদল বিলকুলই পায়নি। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলার সুযোগ না পেয়ে তাদের সংসদ থেকে ওয়াকআউট করতে বাধ্য হতে হয়েছে, তিনি জানান।

    আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা ও মহানগর আমির সম্মেলনের উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত প্রথম অধিবেশনে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করার কথা থাকলেও অধিকাংশই আলোচনা করে শেষ করা হয়নি। কার্য উপদেষ্টা কমিটি এসব অধ্যাদেশ সংসদের টেবিলে আনার বিষয়ে সম্মত ছিল, তথাপি তা বাস্তবায়িত হয়নি এবং আলোচ্যসূচিতে মাত্র একটি বিষয়ে আলোচনা রাখা হয়।

    বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘‘এসব অধ্যাদেশের মধ্যে ছিল দুদক পুনর্গঠন, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ সংস্কার, গুম প্রতিরোধ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’’ তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দল নোট অব ডিসেন্ট দিলেও তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়নি।

    সংসদে বিতর্কের সময়সীমা নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ‘দুই মিনিটে কোনো পার্লামেন্টারি বিতর্ক হয় না, দুই মিনিটে শুধু মন্তব্য পাস করা যায়,’ বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। পরে সময় কিছুটা বাড়ানো হলেও তা যথেষ্ট ছিল না এবং সরকারের পক্ষে দীর্ঘসময় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে, অভিযোগ জানান তিনি।

    ব্যাংকিং খাত নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে ব্যাংক থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুট হয়ে বিদেশে পাচার হওয়া সত্ত্বেও তা উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এসব অর্থ উদ্ধার ও দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার উদ্যোগ আটকে দেওয়া হয়েছে, তিনি অভিযোগ করেন।

    তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদে পরিবর্তন এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনাপ্রবাহে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হয়েছে, যা দেশের আর্থিক ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। একজন ঋণখেলাপিকে পুনঃতফসিলের সুযোগ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    এরপর তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে এখন তফসিলি ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর দিকেও ‘কালো হাত’ বাড়ানো হচ্ছে। ‘‘ব্যাংক কোনো দলের সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের। সাধারণ মানুষের আমানত রক্ষায় সবাইকে পাহারাদারের ভূমিকা পালন করতে হবে,’’ বলে তিনি দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

    জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার আলাদা চিত্র থাকায় অসংগতি তুলে ধরেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, সরকার যেখানে বলছে জ্বালানির সংকট নেই, সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং ও জ্বালানির অভাবে মানুষের ভোগান্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফার্নেস অয়েলের ঘাটতি অনেক শিল্পকারখানাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে, পরিবহন খরচ বেড়ে জনজীবনে ও দ্রব্যমূল্যে চাপ বাড়ছে এবং চাঁদাবাজির কারণে মানুষ অতিরিক্ত বোঝা অনুভব করছে বলে জানান তিনি।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে, কিন্তু অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও নীতিগত ভুল থেকেই সংকট আরও তীব্র হয়েছে। তাই জাতীয় স্বার্থে খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে এবং যে সংস্কারমূলক অধ্যাদেশগুলো আনা হয়েছিল সেগুলো জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন করতে হবে। ‘ভুল মানুষ করতে পারে, কিন্তু সেই ভুল থেকে সরে এসে সমাধান খুঁজতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।

    শেষে ডা. শফিকুর রহমান সতর্ক করে বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করা হলে তা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী হবে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সঙ্কটের সৃষ্টি করতে পারে।

  • নাহিদ ইসলাম: ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে

    নাহিদ ইসলাম: ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে। তিনি এই অভিযোগটি করেছেন আজ শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায়।

    নাহিদ বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য—এই দেশে গণআন্দোলনে ও যুদ্ধ কালে সবচেয়ে বেশি শোষিতদের রক্ত দিয়েছে শ্রমিক-কর্মচারীরা। ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী নানা গণ-অভ্যুত্থানে জীবন বিসর্জন দিয়েছে অধিকাংশই শ্রমজীবী মানুষ।

    তিনি আরো বলেন, ‘‘শ্রমজীবী মানুষের রক্তের ওপর ক্ষমতায় এসে এক মাসের মধ্যেই বিএনপি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। নতুন যে সরকার গঠন হয়েছে, তারা শ্রমিকদের রক্তে অধিষ্ঠিত হয়েও নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে বেইমানি করেছে; গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করেছে। এই সরকার গণবিরোধী প্রকৃতির—ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে।’’

    অন্যদিকে নাহিদ অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেওয়া অধ্যাদেশগুলো আইন করার এবং সংস্কার বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি ছিল, সেগুলোও বিএনপি ভঙ্গ করেছে। তিনি বললেন, ‘‘রাজনীতিতে ওয়াদা ভঙ্গের পরিণতি ভালো হবে না। আমরা গণ-আন্দোলন গড়ে শ্রমিকদের অধিকারসহ প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে বাধ্য করব।’’

    নাহিদ জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘‘আমরা একটি নতুন জাতীয় ঐক্যে আবির্ভূত হয়েছি। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে শ্রমিকদের প্রতি আমাদের যে অঙ্গীকার ছিল—বৈষম্যহীন একটি বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি—তা বাস্তবে রূপ দিতে হবে। রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজের প্রতিটি স্তরে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হবে; নতুন বন্দোবস্তে শ্রমিকদের অংশ নিশ্চিত করতে হবে; সেই লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’’

    তিনি উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি ঐক্যের পথে কাজ করছে।

    শ্রমিকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জবাবদিহিমূলক করার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ বলেন, ‘‘ঐক্যবদ্ধ হোন — আপনাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের নেতৃত্ব দিতে হবে। নতুন বাংলাদেশের পথে, জুলাইয়ের বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে।’’

    রাজপথে নামার প্রস্তুতির তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘এবার কেবল সংসদ নয়; রাজপথের প্রস্তুতিও নিতে হবে। গণ-আন্দোলনের মাধ্যমেই বর্তমান সরকারকে বাধ্য করে জুলাই সনদ, গণভোট এবং শ্রমিকদের অধিকারসহ প্রতিটি দাবিকে বাস্তবায়িত করানো হবে।’’

  • গণভোট বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলের ১৫ দিনের কর্মসূচি, ঢাকায় মহাসমাবেশ

    গণভোট বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলের ১৫ দিনের কর্মসূচি, ঢাকায় মহাসমাবেশ

    জুলাই সনদ অনুযায়ী গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত ১৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার কর্মসূচির বিস্তারিত প্রকাশ করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কর্মসূচির প্রথম দিন ১৮ এপ্রিল রাজধানী ঢাকায় বৃহৎ গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। ২৫ এপ্রিল ঢাকা ছাড়া অন্য বিভাগীয় শহরগুলোতে সমান রকমের গণমিছিল করা হবে এবং ২ মে জেলা শহরগুলোতে গণমিছিলের আয়োজন করা হবে। এছাড়া চলমান কর্মসূচির সময়কাল ধরে বিভাগীয় শহর এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরে লিফলেট বিতরণ, সেমিনার ও আলোচনা সভা করা হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার জনগণের রায় মেনে নিচ্ছে না; তাই জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি করে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করাই ১১ দলের আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘‘জুলাই সনদকে সাংবিধানিকভাবে প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প থাকবে না। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে দফায় দফায় কর্মসূচি চালানো হবে।’’

    তিনি আরও জানান, এই ধাপের কর্মসূচি শেষ হলে পরবর্তী পর্যায়ে দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় শহরে ১১ দলের উদ্যোগে বিশাল সমাবেশের আয়োজন করা হবে। সমাবেশসহ ভবিষ্যৎ কর্মসূচির সঠিক দিনক্ষণ পরে ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে নির্ধারণ করা হবে। এরপর রাজধানীতে একটি বিশাল সমাবেশ করে পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণা করা হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার প্রমুখ।

    এর আগে সকাল ১১টায় একই স্থানে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক শুরু হয়, যেখানে চলমান আন্দোলনের অগ্রগতির ওপর আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমীর শফিকুর রহমান। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মুস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলামসহ অন্যরা।