Category: রাজনীতি

  • চরমোনাই পীর: ইনসাফ প্রতিষ্ঠার নামে দেশে ধোঁকাবাজি চলছে

    চরমোনাই পীর: ইনসাফ প্রতিষ্ঠার নামে দেশে ধোঁকাবাজি চলছে

    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) বলেছেন, বর্তমানে দেশে ‘ইনসাফ প্রতিষ্ঠার’ নাম ধরে ধোঁকাবাজি চলছে। তিনি বলেন, যে নিয়মনীতি চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে, তা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নীতির অনুকরণে গড়া।

    সোমবার দুপুরে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার নতুন বাসস্ট্যান্ড মাঠে আয়োজিত একটি নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    চরমোনাই পীর বলেন, “যে নীতিমালা এখন চালুর চেষ্টা হচ্ছে, তা Амерিকার নীতির অনুকরণে। এসব নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রকৃত ইনসাফ প্রতিষ্ঠা কখনোই সম্ভব নয়।” তিনি আরও জানান, ইসলামভিত্তিক ন্যায়বিচার ছাড়া দেশে স্থায়ী শান্তি ও সুষ্ঠু সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা যাবে না।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “সেই সময় দেশে যে ইসলামী পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল, আমি সেটাকে ইসলামের একটি ‘বাক্স’ হিসেবে দেখেছিলাম। কিন্তু এখন সেই বাক্সটি ছিনতাই হয়ে গেছে।” চরমোনাই পীর আরও দাবি করেন, “আমরা যে উদ্দেশ্যে একসঙ্গে হয়েছিলাম, সেই উদ্দেশ্য আর অবশিষ্ট নেই।”

    গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক পরিসর ও মানুষের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সেই সময় মানুষের মধ্যে ন্যায় ও ইসলামি আদর্শ প্রতিষ্ঠার ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রত্যাশা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে।”

    চরমোনাই পীর অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় যারা এসেছে তারা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ব্যবহার করে ভিন্ন পথে রাজনীতি পরিচালনা করছে। তাই তিনি জনগণকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সৎ ও ধর্মভিত্তিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে না।

  • শফিকুর রহমান: নারীদের প্রতি কুদৃষ্টি দেখলে চোখ উপড়ে ফেলা হবে

    শফিকুর রহমান: নারীদের প্রতি কুদৃষ্টি দেখলে চোখ উপড়ে ফেলা হবে

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাঃ শফিকুর রহমান বলেছেন, তারা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান যেখানে নারীদের মর্যাদা নিশ্চিত থাকবে। এজন্য তিনি সতর্ক করে বলেন — নারীদের প্রতি কুদৃষ্টি দেখলে সেই চোখ উপড়ে ফেলা হবে।

    সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের ওয়াজির আলী হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা ও উপজেলার হাজারো নেতা-কর্মী ও শুভাশ্রয়ী। সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদ হাদি ওসমানের ইনকিলাব মঞ্চসহ সেখানে উপস্থিত সবাইকে তিনি ধন্যবাদ জানালো।

    বক্তব্যে শফিকুর রহমান মায়েদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘‘মায়েদের ঋণ আমরা কখনো শোধ করতে পারব না। তাদের দিকে যারা খারাপ দৃষ্টিতে তাকাবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়া হবে।’’ তিনি বলেন, গত আন্দোলনে অনেকেই স্বামী, স্ত্রী, সন্তান, বোন ও পিতা হারিয়েছেন; তাদের কষ্ট তিনি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন এবং বলেন যারা কথাগুলো বলেছে তাদেরই পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে নির্মম আচরণ হয়েছে।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, অনেক মানুষকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে, কিছু পরিবারের এখনও তাদের প্রিয়জনের খোঁজ পাওয়া যায়নি। ‘‘অপরাধ ছিলো শুধু অন্যায়-অপশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলা—এই অভিযোগ তুলে কুসংস্কার ও অবিচারের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেন আমির।’’

    শফিকুর রহমান বলেন, বিভিন্ন স্থানে জোর করে পকেট কাটা, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ আছে; তিনি এসব ফিরে না পেলে কঠোর আচরণ করা হবে বলে জোর দেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে জামায়াত ক্ষমতায় এলে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো হবে, চাঁদাবাজি বন্ধ করা হবে এবং বেকারদের জন্য যোগ্যতা ভিত্তিক কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

    তিনি বলেন, প্রত্যেক জেলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে এবং শুধুমাত্র কলেজ না রেখে উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল গড়ে তোলা হবে। বেকারদের ভাতা দিয়ে অপমান করা হবে না, তাদের যোগ্যতা স্বীকার করে চাকুরি ও প্রশিক্ষণের সুযোগ দেয়া হবে—এই প্রতিশ্রুতি তিনি দেন।

    সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতারা ও স্থানীয় প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। বাবস্থাপনা করেন ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের আমির ও ঝিনাইদহ-২ আসনের জোট প্রার্থী মাওলানা আলী আজম মো. আবু বকর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াত কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যশোর–কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসাইন। পাশাপাশি ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) প্রার্থী এএসএম মতিউর রহমান, ঝিনাইদহ-৩ (কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর) প্রার্থী অধ্যাপক মতিয়ার রহমান এবং ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদর কিছু ইউনিয়ন) প্রার্থী মাওলানা আবু তালিবও বক্তব্য দেন।

    জনসভায় মানুষের ঢল এতটাই ছিল যে সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা আসে এবং বিকেলে মাঠ জনসঘন হয়ে ওঠে; বিভিন্ন বাহনে আনাগোনা করার ফলে শহরে এক ধরনের যানজটও তৈরি হয়েছিল। চুয়াডাঙ্গা থেকে আমিরের আগমন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় এবং তিনি ৬টা ৫৫ মিনিটে মঞ্চে এসে প্রস্তাবিত রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি ও নীতিগুলো তুলে ধরেন।

    বক্তৃতা শেষে তিনি জেলা পর্যায়ের চার প্রার্থীর পরিচয় করিয়ে দান করেন ও তাদের হাতে দাড়িপাল্লা তুলে দেন।

  • প্রতিপক্ষ নিয়ে কথা বললে জনগণের কোনো লাভ হবে না: তারেক রহমান

    প্রতিপক্ষ নিয়ে কথা বললে জনগণের কোনো লাভ হবে না: তারেক রহমান

    বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নিয়ে কথা বলে জনগণের কোনো লাভ হয় না। তিনি উল্লেখ করেন, আমি যদি আজ আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নিয়ে কথা বলতাম, তবে তা সম্ভব ছিল। কিন্তু জনগণের সুবিধার জন্য আমাদের উচিত পরিকল্পনা করে সেই সব সংকট মোকাবেলা করা—যেমন খাল খনন, স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধি, তরুণপ্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা। এসব উদ্যোগই আসলে জনগণের জন্য বাস্তব সুবিধা নিয়ে আসবে।

    রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে ফেনী শহরের সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে তিনি এ সব কথা বলেন। সেখানে তিনি দেশের মানুষের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, তিনি দেশে ফিরে দেশের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা সাজিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে, নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড প্রদান, যার মাধ্যমে প্রতিমাসে একজন গৃহিণী অল্প কিছু আর্থিক সহায়তা পাবে। তিনি বলেন, অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এই সামান্য সহায়তা দিয়ে কেমন করে পরিবার চলে? তবে আমরা নিশ্চিত, এক সপ্তাহের জন্য একটু সহযোগিতা থাকলে অনেকের জীবন সহজ হয়ে উঠবে। একইভাবে কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা দিয়ে সার, বীজ ও কীটনাশক সরাসরি farmers এর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

    ফেনীবাসীর স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা মেনে তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ আমরা একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করব। পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে একটি ব্যাপক শHealthcare system তৈরি করছি যাতে মানুষ হাসপাতালে না গিয়ে নিজের বাড়িতে রোগের চিকিৎসা পেতে পারে। এভাবে যাদের কাছে সুযোগ আছে, তারা সাধারণ মানুষদের কষ্ট কমাতে কাজ করবে।

    তারেক রহমান আরও বলেন, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য আমাদের দাবি আছে। এর পাশাপাশি আমাদের একটাই প্রত্যাশা, ধানের শীষের বিজয় হওয়া। কারণ, আমরা কি-না বলি, তা করা আমাদের কর্তব্য, এবং জনগণের সরাসরি সাহায্যেই আমাদের শক্তি।

    তিনি উল্লেখ করেন, সারা দেশে খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এক বছর আগে ফেনীসহ আশপাশের অঞ্চলগুলোতে ভয়াবহ বন্যায় থাকতে পড়েছিল, ঘরবাড়ি, ফসল ও গবাদি পশুর ব্যাপক ক্ষতি হয়। সেজন্য সারা দেশে খাল খননের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা আরও উন্নত করা হবে।

    তারেক রহমান আরও বলেন, দেশের তরুণ-তরুণীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে আমরা কProgram চালু করব। যেমন নাটোরে ইপিজেডের মতো ফেনী অঞ্চলেও উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে করে এখানকার যুবক-যুবতীরা আরও বেশি কাজের সুযোগ পাবেন।

    বক্তা বলেন, অনেক মানুষ বিদেশে অবস্থান করছে। তাদের জন্য প্রশিক্ষণ ও ভাষা শেখানোর ব্যবস্থা করে আমরা কর ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার আয়ের পথ সুগম করতে চাই। এর ফলে তারা ভালো বেতন পাবে, সেই অর্থ দেশে পাঠাতে পারবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

    সর্বশেষ তিনি বলেন, ১৫ বছর ধরে মানুষের ভোটে ভোটের অধিকার ও বাকস্বাধীনতা হরণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে সেই স্বৈরাচার পতনের পর পরিবর্তনের হাতেখড়ি হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ বিজয় হলে, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই পরিকল্পনাগুলি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। তিনি নিশ্চিত করেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণই সকল ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু।

    অবশেষে, সমাবেশে তিনি নোয়াখালীর বিভিন্ন সংসদীয় আসনের ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচিতি করিয়ে দেন। তদ্ব্যতীত, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ফেনীতে শহীদ পরিবার ও আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

  • জামায়াত আমিরের দৃঢ় দৃঢ়তা: দুর্নীতি করব না ও সহ্য করব না

    জামায়াত আমিরের দৃঢ় দৃঢ়তা: দুর্নীতি করব না ও সহ্য করব না

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্টভাবে বলেছেন, আমাদের কখনো দুর্নীতি করবেন না এবং দুর্নীতি সহ্য করব না। তিনি রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর ধূপখোলা মাঠে এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, আমরা দেশকে লুটেপুটে খাওয়ার জন্য ক্ষমতায় আসিনি। বরং আমাদের লক্ষ্য— দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয় নিশ্চিত করা। ডা. শফিকুর রহমান প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, এক দল সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে তারা দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করবে। কিন্তু সেই দলটির ৩৯ জন সংসদ সদস্য প্রার্থীই ঋণখেলাপি। কৌশলে তাদের প্রার্থী করা হয়েছে, এভাবে তারা কীভাবে দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করবে?

    নিজের পূর্ববর্তী একটি বক্তব্যের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার একটা বক্তব্য নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল, মহাসাগরে ঢেউ উঠেছিল। আমি বলেছিলাম, দেশের জনগণ একজন জালিমকে বিদায় করে আবার কারো হাতে দেশ তুলে দিতে চায় না। এই কথা কি আজ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে?”

    ভোটের দিন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, “পরবর্তী ১২ তারিখে যদি কেউ দুর্বৃত্তরা ভোটের বাক্সে হাত দেয়, তবে জনগণের সহায়তায় তাদের হাত গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।”

    দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় বা বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের বিষয়ে তিনি কড়া ভাষায় বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির জন্য যখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তখন কেউ প্রকাশ্যে হস্তক্ষেপ করছে। আমরা এই হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, অনুরোধ জানাচ্ছি— আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আর নাক গলাবেন না। এতদিন যা হয়েছে, তা টিস্যু দিয়ে মুছে ফেলেন। এখন থেকে এর পুনরাবৃত্তি হতে দেয়া হবে না। ইনশাআল্লাহ, বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে বিশ্বদরবারে দাঁড়াবে।”

    তিনি আরও বলেন, “সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকবে, তবে কারো চাপ বা আধিপত্য স্বীকার করব না। অনেকেই আমাদের দেশে নাক গলাচ্ছে; এ সব আমরা মানতে পারি না। আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়েই কোনো বিদেশি শক্তি নাক গলাতে পারবেন না।”

    অভিযুক্ত জুলাদা ১৮ কোটি দেশের নয়, বরং প্রত্যেক দেশের একেকজন মানুষের আগ্রহ। তিনি বলেন, “অবশ্যই দেশের ১৮ কোটি মানুষের স্বার্থ জড়িত এই যুদ্ধে। কাউকে বলে দেয়া যাবে না, এই যুদ্ধের মূল মাস্টাররা দেশের মানুষ— কেউ এককভাবে এই যুদ্ধের কৌশল নির্ধারণ করেনি।”

    জনগণকে তিনি আশ্বস্ত করে বলেছেন, “আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন থাকলে আমরা এগিয়ে যাব। আল্লাহর ওপর ভরসা রেখেই আমাদের বলেছি— চাঁদা নেব না, চাঁদা দেব না। দুর্নীতি করব না এবং তা সহ্য করব না।”

  • তারেক রহমানের নির্দেশ: ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র পাহারা দেবেন সমর্থকরা

    তারেক রহমানের নির্দেশ: ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র পাহারা দেবেন সমর্থকরা

    নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ভোট গণনা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা নজরদারি চালাতে নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রবিবার রাত সাড়ে ৮টায় চৌদ্দগ্রাম স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এ নির্দেশ প্রদান করেন।

    তারেক রহমান বলেন, ‘ভোটের দিন সকাল থেকেই ইবাদত পড়তে হবে। তাহাজ্জুদ নামাজ শেষে সবাই তাদের ভোট কেন্দ্রের সামনে যাবেন। সেখানে গিয়ে জামাতে ফজর নামাজ আদায় করবেন এবং এরপরই কেন্দ্রীয় পাহারায় থাকুন।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘তাহাজ্জুদের নামাজের মতো ফজর নামাজও জামাতে পড়ে ভোট কেন্দ্রের সামনে দৃঢ় উপস্থিত থাকুন। কেউ যেন কোনও ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করতে না পারে, এজন্য ভোটের পুরো কর্মকাণ্ডের আওতায় থাকুন।’ এরপর তিনি জোর দিয়ে প্রশ্ন করেন, ‘এটি কি সবাই মানতে রাজি? কেউ কি এর সাথে একমত?’ সমাবেশে উপস্থিত নেতা-কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ‘হ্যাঁ’ বললে তিনি আলহামদুলিল্লাহ বলে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

    চৌদ্দগ্রামের এই আন্দোলনমূলক সমাবেশের জন্য বিকাল থেকে নেতা-কর্মীরা গ্রাম থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সমবেত হন। পুরো মাঠ তাতে পরিপূর্ণ হয়ে যায় মাগরিবের নামাজের আগেই।

    অঞ্চলটি বর্তমানে কুমিল্লা-১১ আসন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন কামরুল হুদা, আর জামায়াতের জন্য মনোনীত সদস্য হচ্ছেন দলটির নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

    তারেক রহমান তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা যদি সরকার গঠন করতে পারি, আমাদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে কাজ শুরু করব। সম্প্রতি কিছু ব্যক্তি আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলছেন, আমরা মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছি। তবে আমি প্রশ্ন করি, আপনি কি আমাদের প্রত্যেকে চেনেন? আমি কি কি করছি, তা তো আপনি জানেন। তাহলে কেন মানুষকে ধোঁকা দেব? এর কোনও অর্থ হয় না।’

    তিনি বলেন, ‘বিএনপি আলহামদুলিল্লাহ সফলভাবে কয়েকবার সরকার পরিচালনা করেছে। আমাদের এই অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী আমাদের কাজ বাস্তবায়িত হবে। বর্তমানে একমাত্র বিএনপিই সেই দল, যারা দেশ পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা রাখে।’

    আরও তিনি চৌদ্দগ্রামকে ‘শস্য ভান্ডার এলাকা’ হিসেবে অভিহিত করে কৃষক কার্ড, মসজিদ- মাদ্রাসার ইমাম-মোয়াজ্জিনদের জন্য সরকারি সন্মাননা এবং তাদের জন্য অতিরিক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনার কথা বলেন। ভবিষ্যতে সরকার গঠন হলে চৌদ্দগ্রামে খাল খননেরও পরিকল্পনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।

    বক্তব্যের সময় তারেক রহমান স্বস্তিহীনভাবে কাশি দেন, লাল টুপি পড়ে তিনি বলেন, ‘মাথার মধ্যে ঠাণ্ডা লেগেছে, জ্বর আসছে। আমি এখন শক্তিতে ভাষণ দিতে পারছি না। একটু শান্ত হয়ে শুনুন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির নেতারা আমাদের বদনাম করছে, এটা করার কোনও সমস্যা নেই। আমরা জনস্বার্থে কাজ করছি। ভোট পেলে, আল্লাহর রহমতে, আমরা সরকার গঠন করে আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব এবং দেশের জন্য কাজ চালিয়ে যাব।’ তারেক রহমানের এই বক্তব্যের শেষে সোয়াগাজী মাঠে অন্যান্য বিএনপি প্রার্থীরাও বক্তব্য রাখেন।

    তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে কী কী কর্মকাণ্ড করবে এবং তা ক কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তার ওপর এক ধারণা প্রকাশ করেন। তিনি ভোটারদের প্রতি ক্ষমতা দখলের জন্য ধানের শীষের প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

    এরপর তারেক রহমানের দ্বিতীয় দিনের নির্বাচনী প্রচারণা চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড, ফেনীর পাইলট স্কুল মাঠ, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম খেলার মাঠ ও সোয়াাগাজী ডিগবাজি মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। ভবিষ্যতে দাউদকান্দির কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ও নারায়ণগঞ্জের বালুর মাঠেও বক্তব্য রাখবেন বিএনপি প্রধান।

  • আমরা ৫ বছর আমানতের চৌকিদার হতে চাই: ডা. শফিকুর রহমান

    আমরা ৫ বছর আমানতের চৌকিদার হতে চাই: ডা. শফিকুর রহমান

    বিগত দিনগুলির শাসকরা দেশের মালিক হওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত থাকলেও জামায়াতে ইসলামী জনগণের সেবক ও চৌকিদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, মানুষের টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করার কোনও ইচ্ছে আমাদের নেই। যদি আপনাদের বিশ্বাস করে আপনারা আমাদের কাছে আমানত দেন, তাহলে আগামী পাঁচ বছর ধরে আমরা এই আমানত রক্ষা করতে চায়। স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমরা দেশের মালিক হবো না, বরং দায়িত্বের ধারক হিসেবে কাজ করবো।

    রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ঢাকা-৭ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনীত ও ১০ দলীয় জোট সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী হাফেজ হাজী মো. এনায়েত উল্লাহর নির্বাচনী জনসভার প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। এ জনসভার বিষয় ছিল ‘চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ’। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম এবং ডাকসু ভিপি ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও আসনের আয়োজক আব্দুর রহমান।

    ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, যারা বলছেন, তারা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়বেন, তারা আগে নিজরা সঠিক হন। বেছে বেছে ঋণখেলাপিদের নিয়ে নির্বাচন করা ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখা সম্ভব নয়। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় যদি সত্যিই আগ্রহী হন, তাহলে ঋণখেলাপিদের বাদ দিন। তাদেরকে বাদ দিয়ে কাজ শুরু করলে জাতি আপনাদের কাছেও সম্মান দেখাবে।

    বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, যে দল চাঁদা না পেলে নিজের দলের লোকদেরই হত্যা করে, সে দলের সঙ্গে দাঁড়ানো উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, আমরা এখন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি যে, অস্তিত্বের প্রশ্নে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আলোর পথে হাঁটব না তো অন্ধকারের দিকে যেতে হবে। আপনাদের কি পথ বেছে নেবেন?

    যুবকদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা যুবকদের বেকার ভাতা দিচ্ছি না, বরং তাদের হাতে কাজ দেব, যাতে তারা সম্মানের সঙ্গে জীবন যাপন করতে পারে। যুবকরাই আমাদের প্রেরণা ও শক্তি।

    গণভোটের ব্যাপারে তিনি বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে স্বাধীনতার পক্ষে, আর ‘না’ মানে দাসত্বের পক্ষে। আমাদের প্রত্যাশা, আমরা স্বাধীনতা চাই, গোলামি আমরা চাই না। ‘হ্যাঁ’ মানে নিপীড়িত ও মজলুমের পক্ষে, আর ‘না’ মানে শাসকশ্রেণির অত্যাচার, চাঁদাবাজি ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। ঘরে ঘরে আমরা ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে প্রচারণা চালাবো। ইনশাআল্লাহ, ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হবে।

    ঢাকা-৭ আসনের প্রার্থী হাজী মো. এনায়েত উল্লাহকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতে ইসলামী নেতারা বলেন, ওল্ড ইজ গোল্ড। যত পুরনো হয়, ততই খাঁটি হয়। আমরা পুরানে ঢাকাকে আধুনিক করব না, বরং গোল্ড বানাবো। আপনারা ভোট দিয়ে এনায়েত উল্লাহকে বিজয়ী করুন যেন পুরান ঢাকাকে আসল গোল্ডে রূপান্তর করা যায়।

    বক্তব্য শেষে ডা. শফিকুর রহমান তার হাতে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক তুলে দেন এনায়েত উল্লাহর জন্য।

    নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রতীক বরাদ্দের পর বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে সব দলের নির্বাচনী প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে প্রচারণা শেষ হবে।

  • তারেক রহমান: বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির ঠুঁটি চেপে ধরবে

    তারেক রহমান: বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির ঠুঁটি চেপে ধরবে

    বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন যে, দেশের জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এলে দলটি সৎভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর সংগ্রাম চালাবে। তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে বিএনপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, কোনোভাবেই দুর্নীতি চলতে দেবে না এবং তা টেকসইভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে। তারেক রহমান এই কথাগুলো চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসভার সময় বলেন।

    তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল দুর্নীতিকে নিয়ন্ত্রণে আনা। অতীতে বিএনপি এর ক্ষমতায় থাকাকালীনই এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সফলতা দেখিয়েছে, যা দেশের মানুষের স্বার্থে। তারা প্রতিজ্ঞা করেছেন, আবার ক্ষমতায় গেলে যতটুকুই চ্যালেঞ্জ থাকুক না কেন, দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে, এটাই বিএনপির অঙ্গীকার।

    তারেক রহমান অতীতের সরকার পরিচালনার সময়ের উদাহরণ দেন, যেখানে জানানো হয়, ৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকার দুর্নীতির মাধ্যমে দেশকে নিম্নগতিতে নিয়ে গিয়েছিল। তবে ২০০১ সালে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি উন্নতি করতে শুরু করেন।

    তিনি বলেন, যেকোনো পরিকল্পনা সফল করতে হলে দুটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে—সবার প্রথমে নাগরিক নিরাপত্তা, যাতে তারা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে, ব্যবসা ও কর্মসংস্থান নির্বিঘ্নে চালাতে পারে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে আইনশৃঙ্খলার কঠোর ব্যবস্থাপনা থাকবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে বিএনপি তাদের শাসনামলে দেশের আইনশৃঙ্খলাকে কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করে নিজেদের শক্ত অবস্থান দেখিয়েছে।

    তিনি জানান, যদি আবারও ক্ষমতায় আসতে সক্ষম হন, তাহলে দেশের সাধারণ মানুষ নিরাপদে জীবন যাপন করতে পারবে। এছাড়াও, তিনি সতর্ক করে বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যেন কারো মাঝ থেকে ভোটের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা না হয়, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

    বিএনপির এই নেতা বলেন, চট্টগ্রামসহ দেশের সমস্ত অঞ্চলের মানুষ চায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করতে। এই শহর নিরাপদ থাকলে ব্যবসা-সাধারণ জীবন আরও এগিয়ে যাবে। তিনি উল্লেখ করেন, চট্টগ্রামের যেসব সন্তান শিক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নের জন্য লড়াই করছে, তাদের জন্যও এইদিন বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

    তিনি জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের রায়ে ভবিষ্যতে সরকার গঠন হলে শিক্ষাব্যবস্থা ব্যাপক পরিবর্তন করা হবে। যেখানে শিক্ষার্থী শুধু সার্টিফিকেট নয়, বরং স্বনির্ভর হয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে দক্ষতা ও বাস্তবতার উপর ভিত্তি করে শিক্ষাদান নিশ্চিত করা হবে।

    স্বাস্থ্য খাতে তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নত করতে আমরা বড় ধরনের হাসপাতালে নির্মাণের পরিকল্পনা না করে, বেশি জোড় দেব নিজেদের ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানোর দিকে। এজন্য এক লাখ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে, যাতে মা-অভিভাবা ও শিশুরা জরুরি ভিত্তিতে প্রাথমিক চিকিৎসা পেতে পারে।

    তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জন দেশের জন্য অনেক বড় অর্জন, যা এখন আবার ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে রক্ষা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরিবর্তনের এই ধারা অব্যাহত থাকলে সকল নাগরিক উন্নত শিক্ষা ও সুচিকিৎসার সুফল পাবে। তিনি বলেন, জনগণের জন্য কাজ করা বিএনপির মূল লক্ষ্য, কেবল সমালোচনায় নয়, কর্মকাণ্ডেও তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

    দ্রব্যমূল্য ও কৃষক সুরক্ষার বিষয়ে তিনি জানান, উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের হস্তান্তর করা হবে কৃষক কার্ড, যাতে তারা সরকারি সুবিধা পায়। ঘটনার বিবরণে বলেন, জলাবদ্ধতা সমস্যা মোকাবেলার জন্য খাল-নালা খোড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    চট্টগ্রামের শিল্প ও কর্মসংস্থানের জন্য তিনি আশ্বাস দেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে নতুন ইপিজেড নির্মাণ করা হবে, যা এখানকার অনেক মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করবে। বিএনপির সভাপতি হিসেবে তারেক রহমানের এই সফর ২০০৫ সালের পর প্রথম চট্টগ্রামে দীর্ঘ দিন পরে। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি হোটেলে যান এবং সেখানে বিশ্রাম নেন।

    পরদিন সকালে তিনি তরুণদের সঙ্গে এক পলিসি ডায়ালগে অংশ নেন এবং পরে গোলযোগের বিষয়ে বিভিন্ন পথসভায় ভাষণ দেন। চট্টগ্রামসহ অন্যান্য জেলা সফর শেষে তিনি ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে আরও গণসংযোগের পরিকল্পনা করেছেন।

    সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যেখানে তিন স্তর বিভক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা—রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রিন জোন—নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়োজিত। উল্লেখ্য, তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৫ সালে নগরীর একটি জনসভায় যোগ দিয়েছিলেন।

  • ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিলেন তারেক

    ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিলেন তারেক

    বিএনপি নেতা তারেক রহমান নেতাকর্মী, সমর্থক ও ভোটারদের ভোট গণনা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র ও ভোট বাক্স পাহারা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। রবিবার বিকেল সাড়ে আটটায় চৌদ্দগ্রামের স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান।

    সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের দিন আগে রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়বেন, এরপর ভোটকেন্দ্রের সামনে গিয়ে সবাই মিলে ফজরের জামাতে নামাজ আদায় করবেন এবং ফজরের নামাজের পর সরাসরি ভোটকেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত পাহারা দিবেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, যাতে কেউ কোনো ষড়যন্ত্র করতে না পারে, কোনো প্রকার অনিয়ম বা জোরজবরদস্তি না ঘটে তাতে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

    তারেকের বক্তব্যে নেতাকর্মীরা সমর্থন জানালে তিনি ‘আলহামদুলিল্লাহ’ মন্তব্য করেন। সমাবেশে বিকাল থেকেই গ্রাম থেকে ছোট ছোট মিছিল হয়ে নেতা-কর্মীরা মাঠে জমায়েত হতে থাকেন এবং মাগরিবের নামাজের আগেই পুরো মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

    কুমিল্লা-১১ আসন (চৌদ্দগ্রাম) এ বছর রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ আখ্যায়িত করেছেন তিনি। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী কামরুল হুদা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, আর জামায়াতের প্রার্থী হচ্ছেন দলের নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

    তারেক রহমান জানিয়েছেন, সরকার গঠনে পারলে বিএনপি তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। কিছু লোক গত কয়েক দিন ধরে সামাজিকভাবে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বলছে বিএনপি মানুষের সাথে ঠকাচ্ছে—এমন অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘আপনারা আমাকে চেনেন, আমাদের প্রার্থীকে চেনেন। মানুষকে ধোঁকা দিয়ে আমাদের কী লাভ? আমাদের আপনাদের কাছে আসতেই হবে, আমরা রাজনীতি করি—ভোট চাই।’’

    তিনি আরো বলেন, বিএনপি পূর্বে কয়েকবার দেশ পরিচালনা করেছে, তাই অভিজ্ঞতা আছে; পরিকল্পনা গ্রহণ করলে তা কিভাবে ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত করতে হবে সেটাও জানে। চৌদ্দগ্রামকে ‘শস্য ভাণ্ডার’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষীদের জন্য কৃষক কার্ড দেওয়া, মসজিদ-মাদরাসার ইমাম-মোয়াজ্জিনদের সরকারি সম্মানী এবং তাঁদের জন্য অতিরিক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির কথা বলেছেন। এছাড়াও চৌদ্দগ্রামে খাল খননের কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন ভবিষ্যতে সরকার গঠিত হলে।

    সমাবেশে কথা বলার সময় তারেককে কাশির সমস্যা দেখা দিলে তিনি বলেছিলেন, ‘‘মাথায় ঠান্ডা লেগেছে, জ্বর আসছে—এজন্য জোরে কথা বলতে পারছি না। একটু ধীরে শুনেন।’’ তবে তা সত্ত্বেও তার বক্তব্যে জোরালো ন্যারেটিভ বজায় রেখেছেন।

    তিনি আরও মন্তব্য করেন, বিরোধীরা বিএনপির বিষয়ে বদনাম করছে — করুক, এতে আমাদের আপত্তি নেই; আমাদের কাজ দেশের জন্য, মানুষের জন্য কি করতে পারি সেই পরিকল্পনাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। দল সরকার গঠনে সক্ষম হলে ‘‘ওয়ান-টু-থ্রি’’ পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শুরু করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন।

    সমাবেশ শেষে তারেক আরও কুমিল্লা ও চাঁদপুরের বিভিন্ন আসনে প্রার্থীদের নিয়ে মৌখিক সমর্থন ও প্রচার করেন। তিনি আগের ও পরের দিন চট্টগ্রাম পলোগ্রাউন্ড ময়দান, ফেনী পাইলট স্কুল মাঠ, চৌদ্দগ্রাম খেলার মাঠ ও সোয়াগাজী ডিগবাজি মাঠে বক্তব্য রাখেন। ভবিষ্যতে দাউদকান্দির কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ এবং নারায়ণগঞ্জের বালু মাঠেও সমাবেশ ও ভাষণ রাখার কথা রয়েছে।

    সমাবেশে তিনি আবারও ধানের শীষ প্রতীককে জোর দিয়ে দাবি করেন এবং ভোটারদের ওই প্রার্থীকে বিজয়ী করে তোলার আহ্বান জানান।

  • তারেক রহমান: বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে

    তারেক রহমান: বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে

    বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এলে দলটি যে কোনও মূল্যে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে। তিনি এ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শনিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে।

    সভায় তারেক রহমান বলেন, আমরা যত মত পরিকল্পনা গ্রহণ করই না কেন, দুটি বিষয় ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না হলে সেই পরিকল্পনা সফল হবে না। তিনি বলেন, অতীতে বিএনপি প্রমাণ করেছে—এই বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণে শুধু বিএনপিই সক্ষম। তিনি এই দুইটি বিষয়কে আখ্যায়িত করেন জনগণের প্রাপ্য অধিকার; বিশেষ করে মানুষের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যাতে তারা নিরাপদে চলাফেরা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরি নির্বাহ করতে পারে।

    দলের চেয়ারম্যান আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে আইনশৃঙ্খলা কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করবে। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, অতীতে যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল তখন অনৈতিক কাজে জড়িত দলের লোকদেরও ছাড় দেওয়া হয়নি। একই নীতি প্রয়োগ করে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, যাতে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।

    তারেক রহমান সমাবেশে উপস্থিত জনতাকে সতর্ক করে বলেন, ‘‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যেন কেউ আমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে—সেজন্য সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।’’ তিনি যোগ করেন, চট্টগ্রামসহ দেশের মানুষ নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে চায়; একটি নিরাপদ চট্টগ্রাম হলে ব্যবসা-বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে এবং জনজীবন স্বাভাবিক হবে।

    শিক্ষা খাতে পরিবর্তনের অঙ্গিকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জনগণের সরকার গঠন করলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যকরি ও দক্ষতাভিত্তিক করা হবে। সেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু সার্টিফিকেটই পাবেন না, বরং নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হবেন এবং সহজে চাকরি পাবেন—এটাই সরকারের লক্ষ্য হবে।

    স্বাস্থ্য খাত নিয়ে তিনি জানান, গ্রামে-গ্রামে নারীর এবং শিশুর স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এক লাখ স্বাস্থ্যসেবী নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হবে। এর ফলে মা-বোন ও শিশুরা ঘরে বসেই প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সেবা পাবে। সম্পূর্ণ শারীরিক অবকাঠামো নির্মাণের পরিবর্তে সেবা পৌঁছে দেওয়া তাদের অগ্রাধিকার হবে।

    দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও কৃষক সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। কৃষি উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে তারা প্রয়োজনীয় সার, বীজ ও যন্ত্রপাতি পায়। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা দূর করতে খাল-নালা খনন এবং পুনরুদ্ধারের কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

    চট্টগ্রামের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান সম্পর্কিত পরিকল্পনায় তিনি বলেন, বিএনপির আমলে ইপিজেড তৈরি হয়ে লাখো মানুষকে কাজ করেছে—পুনরায় ক্ষমতায় এলে আরও ইপিজেড স্থাপন করা হবে এবং চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তর করা হবে।

    তারেক রহমান শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে পৌঁছান। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি-১৪৭ তিনি সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে সরাসরি রেডিসন ব্লু হোটেলে যান এবং সেখানে রাত্রিযাপন করেন। দলের সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে তিনি তরুণদের সঙ্গে পলিসি ডায়ালগে অংশ নেন এবং পরে পলোগ্রাউন্ডের মহান সমাবেশে যোগ দেন। চট্টগ্রাম সফর শেষে ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে পথসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

    সমাবেশকে কেন্দ্র করে নগরী কঠোর নিরাপত্তার আওতায় রাখা হয়েছিল; প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন হয়েছিল এবং মঞ্চসহ এলাকা তিন স্তরে ভাগ করে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

    সমাবেশে তারেক রহমান ব্রিটিশ বাংলায় মতপ্রকাশ ও পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরেন এবং জনসমক্ষে আরও একবার বিএনপির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন যে—দুর্নীতি প্রতিরোধ ও মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা তাদের সরকারের শীর্ষ অগ্রাধিকার থাকবে।

  • দুর্নীতি করব না, সহ্যও করব না: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

    দুর্নীতি করব না, সহ্যও করব না: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

    রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর ধূপখোলা মাঠে অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেছেন, ক্ষমতায় এলে তারা কোনো প্রকার দুর্নীতি করবে না এবং দুর্নীতিকে সহ্যও করবে না। প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি বলেন, ‘‘আমরা এই দেশ লুটেপুটে খাওয়ার জন্য মসনদে বসতে চাই না; আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় নিশ্চিত করতে চাই।’’

    প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর বলেন, ‘‘একটি দল বলছে তারা দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করবে, অথচ তাদের ৩৯ জন সংসদ সদস্য প্রার্থীরই ঋণখেলাপি হওয়া সন্দেহ আছে; কিভাবে তারা দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করবে?’’ তিনি সমালোচনার তীব্রতা বাড়িয়ে বলেন, তাদের কায়দা করে প্রার্থী করা হয়েছে বলে দাবি করেন।

    নিজের এক পূর্বোক্ত বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘আমার একটি মন্তব্য নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল। আমি বলেছিলাম—এক জালিমকে বিদায় করে আর এক জালিমকে হাতে দেশ তুলে দেয়া মানুষ চায় না। আজ কি আমার সেই কথাই মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে?’’

    ভোটের দিন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘‘আগামী ১২ তারিখে যদি কোনো দুর্বৃত্ত ভোট বাক্সে হাত দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে জনগণের সহায়তায় তাদের হাত গুঁড়িয়ে দেয়া হবে।’’

    দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ডা. শফিকুর বলেন, ‘‘সম্প্রতি বিভিন্ন দিক থেকে কিছু উৎপাত দেখা যাচ্ছে। যখন বাংলাদেশি জনগণ স্বাধীনতায় তার পথ নির্ধারণ করতে যাচ্ছে, তখন বহিরাগতরা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রকাশ্যে হস্তক্ষেপ করছে। আমরা বিনয়ের সঙ্গে কিন্তু শক্ত কণ্ঠে অনুরোধ করব—মেহেরবানী করে আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আর নাক গলাবেন না। এতদিন নাক গলিয়ে যে তরল পদার্থ বের হয়েছে, তা টিস্যু দিয়ে সামলে নিন; আর নাক গলানো বন্ধ করুন। বাংলাদেশ ইনশাআল্লাহ মাথা উঁচু করে বিশ্বদরবারে দাঁড়াবে।’’

    তিনি জানান, সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চান, তবে কারো আধিপত্য মেনে নেয়া হবে না। ‘‘আমরা দেশের বিষয়ে কোনো বিদেশি শক্তির নাক গলানো মেনে নেব না,’’ যোগ করেন জামায়াত আমির।

    জুলাই ধর্মযুদ্ধ/সঙ্ঘর্ষ—যে আন্দোলন বোঝানো হয়েছে—কে কোনো ব্যক্তির সম্পদ বলে দেখতে নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ‘‘জুলাই ১৮ কোটি মানুষের। কাউকে এককভাবে এই যুদ্ধের ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলা হলে শহীদদের অবমাননা হয়। এই সংগ্রামের মাস্টারমাইন্ড ছিল দেশের ১৮ কোটি মানুষ।’’

    সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি আবেদন করেন—দোয়া ও ভালোবাসা দিয়ে, ভোট দিয়ে তাদের একটা সুযোগ দেন। তিনি আশ্বাস দেন, ‘‘আল্লাহতে ভরসা রাখুন। আমরা চাঁদা নেব না, চাঁদা নিতে দেবও না। আমরা বলেছি—দুর্নীতি আমরা করব না, দুর্নীতি আমরা সহ্যও করব না।’’