Category: রাজনীতি

  • এনসিপি ঘোষণা করল ১০০ উপজেলা ও পৌরসভা প্রার্থী

    এনসিপি ঘোষণা করল ১০০ উপজেলা ও পৌরসভা প্রার্থী

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রথম ধাপে ১০০ জন প্রার্থী ঘোষণা করেছে। রোববার (১০ মে) বিকেলে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এসব প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন।

    সারজিস আলম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। সে জাতীয় অনুসন্ধান ও যাচাই-বাছাই শেষে প্রাথমিকভাবে আজ ১০০ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হলো। তিনি জানান, আগামী ঈদের আগেই—এই মাসের ২০ তারিখে—দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং এই তালিকা বাড়ানো হবে।

    তিনি আরও বলেন, এনসিপি প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় দেশব্যাপী যারা বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বে আছেন বা নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন, কিংবা অন্য কোনো প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের কর্মী—যারা গ্রহণযোগ্য, জনমনে বিশ্বাসযোগ্য এবং কোনোভাবেই জুলুম-অপরাধ বা ফ্যাসিস্ট কার্যকলাপে যুক্ত নয়—তারা এনসিপির প্রার্থী হিসেবে আবেদন করতে পারবেন। পার্টি সার্বিকভাবে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজন হলে অন্য দল থেকেও যোগ陽গ চাইলে সুযোগ করে দেবে।

    চেয়ারম্যান ও মেয়র পদে ঘোষিত ১০০ প্রার্থীর মধ্যে ৫০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৫০ জন পৌরসভার মেয়র প্রার্থী রয়েছেন। নিচে বিভাগভিত্তিক প্রার্থীদের নামগুলো (যথাক্রমে) দেওয়া হলো:

    খুলনা বিভাগ: কুষ্টিয়ার কুমারখালী — অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম বাদশা (উপজেলা চেয়ারম্যান), ভেড়ামারা — জান্নাতুল ফেরদৌস টনি (উপজেলা চেয়ারম্যান), বাগেরহাট চিতলমারি — ইশতিয়াক হোসেন (উপজেলা চেয়ারম্যান), ফকিরমারা — লাবিব আহমেদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), মোংলা পৌরসভা — মো. রহমত উল্লাহ (মেয়র), বাগেরহাট পৌরসভা — সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার (মেয়র), যশোর বাঘারপাড়া — ইয়াহিয়া জিসান (উপজেলা চেয়ারম্যান), নোয়াপাড়া পৌরসভা — শাহজাহান কবির (মেয়র), খুলনা চালনা — এস এম এ রশিদ (মেয়র), চুয়াডাঙ্গা সদর — খায়রুল বাশার বিপ্লব (উপজেলা চেয়ারম্যান), জীবননগর পৌরসভা — সোহেল পারভেজ (মেয়র), মেহেরপুর গাংনী পৌরসভা — শাকিল আহমেদ (মেয়র), ঝিনাইদহ পৌরসভা — তারেকুল ইসলাম (মেয়র).

    রংপুর বিভাগ: পঞ্চগড় তেঁতুলিয়া — মো. হাবিবুর রহমান হাবিব (উপজেলা চেয়ারম্যান), বোদা — শিশির আসাদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), দেবীগঞ্জ — মাসুদ পারভেজ (পৌর মেয়র), ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল — গোলাম মর্তুজা সেলিম (উপজেলা চেয়ারম্যান), দিনাজপুর ফুলবাড়ি — ইমরান চৌধুরী নিশাত (উপজেলা চেয়ারম্যান), বোচাগঞ্জ — মাওলানা এম এ তাফসির হাসান (উপজেলা চেয়ারম্যান), ফুলবাড়ি পৌরসভা — শিহাব হোসেন (মেয়র), ঘোড়াঘাট — মো. আব্দুল মান্নান (মেয়র), হাকিমপুর — রায়হান কবির (মেয়র), নীলফামারী জলঢাকা — আবু সাইদ লিয়ন (উপজেলা চেয়ারম্যান), নীলফামারী সদর — ড. কামরুল ইসলাম (উপজেলা চেয়ারম্যান), কুড়িগ্রাম সদর — মো. মাসুম মিয়া (পৌর মেয়র), লালমনিরহাট কালিগঞ্জ — শাহ Sultan নাসির উদ্দিন আহমেদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), রংপুর সদর — কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মণ (উপজেলা চেয়ারম্যান), গাইবান্ধা সাদুল্লাপুর — খাদিমুল ইসলাম (উপজেলা চেয়ারম্যান).

    রাজশাহী বিভাগ: গোদাগাড়ি — মো. আতিকুল রহমান (উপজেলা চেয়ারম্যান), চাঁপাইনবাগঞ্জ গোমস্তাপুর — আবু মাসুদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), নওগাঁ নেয়ামতপুর — বিশাল আহমেদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), বাদলগাছী — আসাদ মোর্শেদ আজম (উপজেলা চেয়ারম্যান), ধামুরহাট — মাহফুজার রহমান চৌধুরী রুবেল (পৌর মেয়র), বগুড়া শিবগঞ্জ — মো. জাহাঙ্গীর আলম (উপজেলা চেয়ারম্যান), দুপচাঁচিয়া পৌরসভা — আবু বক্কর সিদ্দিক (মেয়র), বগুড়া সদর — এ এম জেড শাহরিয়ার (উপজেলা চেয়ারম্যান), নাটোর সদর পৌরসভা — আব্দুল মান্নান (মেয়র), পাবনা চাটমোহর — খন্দকার আক্তার হোসেন (পৌর মেয়র), সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া — ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ আদনান (উপজেলা চেয়ারম্যান), উল্লাপাড়া পৌরসভা — ইঞ্জিনিয়ার আল-মামুন লিয়ন (মেয়র).

    সিলেট বিভাগ: হবিগঞ্জ আজমিরিগঞ্জ — মো. কামাল আহমেদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), হবিগঞ্জ সদর পৌরসভা — মাহবুবুল বারী চৌধুরী (মেয়র), মৌলভীবাজার রাজনগর — খালেদ হাসান (উপজেলা চেয়ারম্যান), কুলাউড়া — আবু রুকিয়ান (উপজেলা চেয়ারম্যান), সিলেট কোম্পানিগঞ্জ — ওবায়েদ আহমেদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), কানাইঘাট — বোরহান উদ্দিন ইউনূস (উপজেলা চেয়ারম্যান), ওসমানীনগর — হাজি মো. মোশাহিদ আলী (উপজেলা চেয়ারম্যান), জৈন্তাপুর — জাকারিয়া (উপজেলা চেয়ারম্যান), গোয়াইনঘাট — মনসুরুল হাসান (উপজেলা চেয়ারম্যান).

    ময়মনসিংহ বিভাগ: শেরপুর সদর — ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া (উপজেলা চেয়ারম্যান), সদর পৌর মেয়র প্রার্থী — নূর ইসলাম, জামালপুর সদর — অ্যাডভোকেট আবু সাইদ মো. শামিম (উপজেলা চেয়ারম্যান), নেত্রকোণা খালিয়াজুড়ি — মো. মুশফিকুর রহমান মিন্টু (উপজেলা চেয়ারম্যান), বারহাটা — শফিকুল হক চৌধুরী বাবলু (উপজেলা চেয়ারম্যান), নেত্রকোণা সদর পৌরসভা — সোহাগ মিয়া প্রিতম (মেয়র), ময়মনসিংহ তারাকান্দা — ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম (উপজেলা চেয়ারম্যান), ভালুকা — নূরুল ইসলাম (উপজেলা চেয়ারম্যান), হালুয়াঘাট — আবু হেলাল (উপজেলা চেয়ারম্যান), ধোবাউড়া — মো. সাইফুল্লাহ (উপজেলা চেয়ারম্যান).

    ঢাকা বিভাগ (উত্তর): কিশোরগঞ্জ সদর — আহনাফ সাইদ খান (উপজেলা চেয়ারম্যান), তাড়াইল — ইকরাম হোসেন (উপজেলা চেয়ারম্যান), করিমগঞ্জ পৌরসভা — খায়রুল কবির (মেয়র), সাভার — শাহাবদুল্লাহ রনি (উপজেলা চেয়ারম্যান), মানিকগঞ্জ সদর — আরিফুল ইসলাম (উপজেলা চেয়ারম্যান), দৌলতপুর — আবু আব্দুল্লাহ (উপজেলা চেয়ারম্যান), টাঙ্গাইল কালিহাতি — মেহদী হাসান (উপজেলা চেয়ারম্যান), টাঙ্গাইল পৌরসভা — মাসুদুর রহমান রাসেল (মেয়র), ভূঞাপুর পৌরসভা — হাসান ইমাম তালুকদার (মেয়র), শফিপুর পৌরসভা — মাওলানা আনসার আলী (মেয়র), নরসিংদী সদর — সাইফ ইবনে সারওয়ার (উপজেলা চেয়ারম্যান), গাজীপুর কালিগঞ্জ — শোয়েব মিয়া (উপজেলা চেয়ারম্যান).

    ঢাকা বিভাগ (দক্ষিণ): নারায়ণগঞ্জ সেনারগাঁও — তুহিন মাহবুব (উপজেলা চেয়ারম্যান), মুন্সিগঞ্জ সিরাজদিখান — আলী নেওয়াজ (উপজেলা চেয়ারম্যান).

    ফরিদপুর বিভাগ: ফরিদপুর নগরকান্দা — রেজাউল করিম সবুজ (উপজেলা চেয়ারম্যান), নগরকান্দা পৌরসভা — নাজমুল হুদা (মেয়র), ফরিদপুর পৌরসভা — সাইদ খান (মেয়র), মাদারীপুর পৌরসভা — মো. হাসিবুল্লাহ (মেয়র), গোপালগঞ্জ পৌরসভা — ফেরদৌম আমেনা (মেয়র).

    এনসিপি বলেছে, এই ঘোষণা প্রক্রিয়া চলমান থাকবে এবং বিচ্ছিন্নভাবে আরও প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। দল দাবি করেছে—যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়াতে চান তারা।

  • সরকার উন্নয়নে বৈষম্য করছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    সরকার উন্নয়নে বৈষম্য করছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সাংসদ মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকার উন্নয়নের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করা সবচেয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। এটি বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দাবি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    শনিবার সকাল সাড়ে আটটায় পঞ্চগড় যাচ্ছিলেন বলে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুরে নামার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। যদি নির্বাচিত এলাকায় সুবিধা দেওয়ার কারণে এই ধরনের প্রকল্প অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়, তাতে অত্যন্ত অনিয়ম ও অন্যায় হবে—মনে করেন তিনি।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘‘কয়েক জায়গায় দেখা যাচ্ছে বিএনপি-র নির্বাচিত এমপিদের এলাকায় নতুন উপজেলা কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে। কিন্তু জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় এসব উন্নয়ন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সুষমভাবে হওয়া উচিত ছিল।’’

    একই সঙ্গে তিনি বিএনপি’র আচরণকে কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ‘‘প্রবাদ আছে, যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ—এখন ওটাই বাস্তবে দেখা যাচ্ছে। বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেই ভূমিকাই নিচ্ছে। তারা সাতটি দশকের জনমতের বড় অংশকে উপেক্ষা করে প্রতারণার রাজনীতি করছে। নির্বাচনের আগে ‘হ্যাঁ’ বলেছিল যারা, এখন তারা গণভোটের রায় অস্বীকার করছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বললেও সরকার বাস্তবে গণভোটের রায় মানছে না—এটি জনগণের সঙ্গে বিশাল প্রতারণা।’’ তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি যখন জনস্বার্থে পেছন ফিরে দাঁড়ায়, তাতে উল্টো ক্ষতি সরকার ও দেশের জন্য উভয় ক্ষেত্রে ঘটতে পারে।

    গণমাধ্যম সম্পর্কেও তিনি উদ্বেগ ব্যক্ত করেন। গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় যারা স্বাধীন সাংবাদিকতার কথা বলেছিল, আজ তাদের মধ্যেই অনেকে বিভিন্ন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ, সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত করা ও হয়রানির ক্ষেত্রে জড়িত। বিশেষ করে সরকারের সমালোচক সাংবাদিকদের টার্গেট করা হচ্ছে।’’

    এর আগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে তাকে ও তার সফরসঙ্গী নেতৃবৃন্দকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম এবং জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মনিরুজ্জামান জুয়েল। সেখানে সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের আমির শফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম, শহর আমির শরফুদ্দিন খান, সেক্রেটারি মাওলানা ওয়াজেদ আলী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের শহর সভাপতি আব্দুল মোমিনসহ শতাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

    গোলাম পরওয়ারের সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এডভোকেট আতিকুর রহমান এবং সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী। এরপর তারা সড়কপথে পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

  • গণতান্ত্রিক উন্নয়নে বৈষম্য করছে সরকার: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    গণতান্ত্রিক উন্নয়নে বৈষম্য করছে সরকার: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকার উন্নয়নের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। তিনি আরও বলেন, উত্তরাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করার সিদ্ধান্তটি সবচেয়ে যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত। বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে এটি আন্তর্জাতিক হলে লোকাল ও অঞ্চলের উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে বলে তাঁর দাবি।

    শনিবার সকালে পঞ্চগড় যাওয়ার পথে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নেমে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাড. আতিকুর রহমান এবং সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘‘কোন শিল্প-প্রতিষ্ঠান, উপবিভাগ বা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু নির্দিষ্ট কোনো নেতার নির্বাচনী এলাকাকেই কেন্দ্র করে করা হলে তা অন্যায়। সার্বিক জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনায় উন্নয়ন ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃত হওয়া উচিত।’’

    তিনি বিএনপি ও সরকারের সম্পর্ক নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘‘প্রবাদ আছে, যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ—এখন বাস্তবেও তা-ই দেখা যাচ্ছে। বিএনপি ক্ষমতায় এসে এভাবেই কাজ করছে। তারা ৭০ শতাংশ জনমতকে উপেক্ষা করে প্রতারণার রাজনীতি চালাচ্ছে। নির্বাচনের আগে যারা ‘হ্যাঁ’ বলেছিলেন, তারা এখন গণভোটের রায় অস্বীকার করছেন। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা থাকলেও তারা বাস্তবেই গণভোটের রায় মানছে না; এটি জনগণের সঙ্গে মহাপ্রতারণা।’’

    তিনি আরও বলেন, ‘‘বিএনপি যদি জনস্বার্থের বিপরীতে ব্যাকপাস খেলে, তার ফলস্বরূপ উল্টো ক্ষতি হতে পারে—এটি শুধু বিএনপির জন্য নয়, দেশের জন্যও জটিলতা তৈরি করবে।’’

    গণমাধ্যম প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, ‘‘ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় যারা স্বাধীন সাংবাদিকতার কথা বলেছিল, তাদেরই এখন বিভিন্ন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার, সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত করার ও হয়রানির মতো কাজে জড়িত হওয়ার অভিযোগ আছে। বিশেষ করে সরকারের সমালোচনাকারী সাংবাদিকরা টার্গেট করা হচ্ছে।’’

    এর আগে বিমানবন্দরে গোলাম পরওয়ার ও তাঁর সফরসঙ্গীদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম এবং জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মনিরুজ্জামান জুয়েল। সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের আমির শফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম, শহর আমির শরফুদ্দিন খান, সেক্রেটারি মাওলানা ওয়াজেদ আলী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের শহর সভাপতি আব্দুল মোমিনসহ শতাধিক নেতা-কর্মীও উপস্থিত ছিলেন।

    মাধ্য্যমিক আচরণ ও উন্নয়নের ন্যায়বিচার নিয়ে তাঁর বক্তব্য শেষে তিনি সফরসঙ্গীদের নিয়ে সড়কপথে পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

  • এনসিপি ঘোষণা করেছে ১০০ উপজেলা ও পৌরসভা প্রার্থী

    এনসিপি ঘোষণা করেছে ১০০ উপজেলা ও পৌরসভা প্রার্থী

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের জন্য প্রাথমিকভাবে ১০০ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। রোববার (১০ মে) বিকেলে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    সারজিস আলম বলেন, হাজারের বেশি দরখাস্তের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে প্রথম ধাপে ৫০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৫০ জন পৌরসভা মেয়র প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করা হচ্ছে। তিনি জানান, আগামী ঈদের আগে—এই মাসের ২০ তারিখে—দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০০ জনের নাম ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে এবং নাম ঘোষণা পরবর্তীও প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।

    তিনি আরও বলেন, এনসিপি যে কোনো রাজনৈতিক দলের থেকে যোগ দিতে ইচ্ছুক, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নেতৃত্বকে সুযোগ দেবে, তবে সেগুলোকে সারা দেশব্যাপী যাচাই-বাছাই করা হবে। যারা মানুষের প্রতি জুলুমে জড়িত নয়, অপরাধ বা ফ্যাসিবাদী সম্পর্ক নেই—এমন প্রার্থীদের এ আবেদন উপযুক্ত বিবেচিত হবে।

    চেয়ারম্যান ও মেয়র পদে ঘোষিত ১০০ প্রার্থীর মধ্যে ৫০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ৫০ জন পৌরসভা মেয়র প্রার্থী রয়েছেন। নিচে বিভাগভিত্তিক প্রার্থীদের নাম দেওয়া হলো—

    খুলনা বিভাগ:

    কুষ্টিয়ার কুমারখালী — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম বাদশা

    ভেড়ামারা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: জান্নাতুল ফেরদৌস টনি

    বাগেরহাট, চিতলমারি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইশতিয়াক হোসেন

    ফকিরমারা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: লাবিব আহমেদ

    মোংলা পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: মো. রহমত উল্লাহ

    বাগেরহাট পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার

    যশোর, বাঘারপাড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইয়াহিয়া জিসান

    নোয়াপাড়া পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: শাহজাহান কবির

    খুলনা, চালনা — মেয়র প্রার্থী: এস এম এ রশিদ

    চুয়াডাঙ্গা সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খায়রুল বাশার বিপ্লব

    জীবননগর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: সোহেল পারভেজ

    মেহেরপুর, গাংনী — পৌরসভা মেয়র প্রার্থী: শাকিল আহমেদ

    ঝিনাইদহ পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: তারেকুল ইসলাম

    রংপুর বিভাগ:

    পঞ্চগড়, তেঁতুলিয়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. হাবিবুর রহমান হাবিব

    পঞ্চগড়, বোদা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শিশির আসাদ

    দিনাজপুর, দেবীগঞ্জ — পৌর মেয়র প্রার্থী: মাসুদ পারভেজ

    ঠাকুরগাঁও, রাণীশংকৈল — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: গোলাম মর্তুজা সেলিম

    দিনাজপুর, ফুলবাড়ি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইমরান চৌধুরী নিশাত

    বগুড়ার বোচাগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মাওলানা এম এ তাফসির হাসান

    ফুলবাড়ি পৌরসভা — পৌর মেয়র প্রার্থী: শিহাব হোসেন

    ঘোড়াঘাট — পৌর মেয়র পদপ্রার্থী: মো. আব্দুল মান্নান

    হাকিমপুর — পৌর মেয়র প্রার্থী: রায়হান কবির

    নীলফামারি, জলঢাকা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু সাইদ লিয়ন

    নীলফামারি সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ড. কামরুল ইসলাম

    কুড়িগ্রাম সদর — পৌর মেয়র প্রার্থী: মো. মাসুম মিয়া

    লালমনিরহাট, কালীগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শাহ সুলতান নাসির উদ্দিন আহমেদ

    রংপুর সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মণ

    গাইবান্ধা, সাদুল্লাপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খাদিমুল ইসলাম

    রাজশাহী বিভাগ:

    রাজশাহী, গোদাগাড়ি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. আতিকুল রহমান

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গোমস্তাপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু মাসুদ

    নওগাঁ, নেয়ামতপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: বিশাল আহমেদ

    নওগাঁ, বাদলগাছী — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আসাদ মোর্শেদ আজম

    পাবনার ধামুরহাট — পৌর মেয়র প্রার্থী: মাহফুজার রহমান চৌধুরী রুবেল

    বগুড়া, শিবগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. জাহাঙ্গীর আলম

    দুপচাঁচিয়া পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: আবু বক্কর সিদ্দিক

    বগুড়া সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: এ এম জেড শাহরিয়ার

    নাটোর সদর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: আব্দুল মান্নান

    পাবনা, চাটমোহর — পৌর মেয়র প্রার্থী: খন্দকার আক্তার হোসেন

    সিরাজগঞ্জ, উল্লাপাড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ আদনান

    উল্লাপাড়া পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার আল-মামুন লিয়ন

    সিলেট বিভাগ:

    হবিগঞ্জ, আজমিরিগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. কামাল আহমেদ

    হবিগঞ্জ সদর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: মাহবুবুল বারী চৌধুরী

    মৌলভীবাজার, রাজনগর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: খালেদ হাসান

    কুলাউড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু রুকিয়ান

    সিলেট, কোম্পানিগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ওবায়েদ আহমেদ

    কানাইঘাট — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: বোরহান উদ্দিন ইউনূস

    ওসমানীনগর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: হাজি মো. মোশাহিদ আলী

    জৈন্তাপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: জাকারিয়া

    গোয়াইনঘাট — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মনসুরুল হাসান

    ময়মনসিংহ বিভাগ:

    শেরপুর সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া

    শেরপুর সদর পৌর — মেয়র প্রার্থী: নূর ইসলাম

    জামালপুর সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: অ্যাডভোকেট আবু সাইদ মো. শামিম

    নেত্রকোণা, খালিয়াজুড়ি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. মুশফিকুর রহমান মিন্টু

    বারহাট্টা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শফিকুল হক চৌধুরী বাবলু

    নেত্রকোণা সদর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: সোহাগ মিয়া প্রিতম

    ময়মনসিংহ, তারাকান্দা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম

    ভালুকা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: নূরুল ইসলাম

    হালুয়াঘাট — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু হেলাল

    ধোবাউড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মো. সাইফুল্লাহ

    ঢাকা বিভাগ (উত্তর):

    কিশোরগঞ্জ সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আহনাফ সাইদ খান

    তাড়াইল — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: ইকরাম হোসেন

    করিমগঞ্জ পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: খায়রুল কবির

    সাভার — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শাহাবদুল্লাহ রনি

    মানিকগঞ্জ সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আরিফুল ইসলাম

    দৌলতপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আবু عبدالله

    টাঙ্গাইল, কালিহাতি — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: মেহদী হাসান

    টাঙ্গাইল পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: মাসুদুর রহমান রাসেল

    ভুঞাপুর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: হাসান ইমাম তালুকদার

    শফিপুর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: মাওলানা আনসার আলী

    নরসিংদী সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: সাইফ ইবনে সারওয়ার

    গাজীপুর, কালীগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: শোয়েব মিয়া

    ঢাকা বিভাগ (দক্ষিণ):

    নারায়ণগঞ্জ, সেনারগাঁও — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: তুহিন মাহবুব

    মুন্সিগঞ্জ, সিরাজদিখান — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: আলী নেওয়াজ

    ফরিদপুর বিভাগ:

    ফরিদপুর, নগরকান্দা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী: রেজাউল করিম সবুজ

    নগরকান্দা পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: নাজমুল হুদা

    ফরিদপুর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: সাইদ খান

    মাদারীপুর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: মো. হাসিবুল্লাহ

    গোপালগঞ্জ পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী: ফেরদৌম আমেনা

    এনসিপি আরও জানিয়েছে যে প্রার্থীর যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করে অন্য রাজনৈতিক দল থেকে আগ্রহী প্রার্থী থাকলে তাদেরও সুযোগ দেয়ার চেষ্টা করা হবে। দল পর্যায়ক্রমে আরও প্রার্থী ঘোষণা করবে বলে অফিস সূত্রে জানা গেছে।

  • মন্ত্রী ছাড়া উন্নয়ন কি সম্ভব? গোলাম পরওয়ারের প্রশ্ন

    মন্ত্রী ছাড়া উন্নয়ন কি সম্ভব? গোলাম পরওয়ারের প্রশ্ন

    প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা ছাড়া দেশের অন্য অঞ্চলে কি সত্যিই কোন উন্নয়ন সম্ভব নয়? এই প্রশ্নই তুলে ধরেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ভবনে বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লয়িজ লীগের কেন্দ্রীয় দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আপত্তিকর ভাবনাগুলো তুলে ধরেন।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘যে এলাকার নেতারা প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা আইনমন্ত্রী নয়, সেই এলাকার উন্নয়ন কি কখনো হবে? উন্নয়ন বৈষম্যহীন করার জন্য সবাইকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন সঠিক জরিপ, যেখানে লাগছে রেল বা সড়ক যোগাযোগের প্রয়োজন। ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধে ভিত্তি করে একটি সুন্দর ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়তে সরকারের দায়িত্ব কি না সেটা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।’

    তিনি স্মরণ করিয়ে দেন ৭৫ এর আন্দোলনের দেশের ইতিহাস, বলছিলেন, ‘হাজারো মানুষের রক্ত আর ত্যাগের বিনিময়ে যারা সামরিক নির্মমতার বিরুদ্ধে লড়েছিলেন, আজো সেই সংগ্রামের ফলাফল মূল্যায়ন করতে হবে। বর্তমানে বৈষম্য ও অন্যায় অবিচার বাড়ছে, যা ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে। সেই আন্দোলনের স্বপ্ন, সমতা আর ন্যায়বিচার এখন আর চোখে পড়ে না। বরং, উন্নয়নের নামে নতুন ধরনের বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে, যা শহীদদের রক্তের সঙ্গে একাট্টা বিশ্বাসঘাতকতা।’

    দেশের রেল যোগাযোগের অবস্থা খারাপের দিকে এগিয়ে চলার জন্য তিনি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, বলেন, ‘বিশ্বে যখন রেল যোগাযোগ সফলতার শিখরে পৌঁছাচ্ছে, তখন আমাদের দেশে এই খাতটি পিছিয়ে পড়েছে। আধুনিকায়নের জন্য এখনো চলমান পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের প্রয়োজন। আগামী বাজেটে প্লেস্কেল, রেল শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবিসহ আধুনিক রেলব্যবস্থার নির্মাণে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।’

    গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, বাংলাদেশ এখন নিজের সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবে, যেহেতু দেশকে কোনো বাহ্যিক প্রভাব বা রিমোট কন্ট্রোলের অধীন রাখা যাবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হলে সব ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।

    শ্রমিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘সরকার শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন সংকুচিত করে তাদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে। শ্রমিক সংগঠনের সংখ্যাও সীমিত করে দেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে, বড় কারখানাগুলোতে বেশি সংগঠন থাকলে শ্রমিকরা শ্রম ও মালিকদের মধ্যে ন্যায্য আলোচনা বাড়াতে সক্ষম হবে। এতে দাবি ও অধিকার আদায় আরো সহজ হবে।’

  • মির্জা ফখরুলের ভাষ্য: হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী সমাজকে অস্থির করতে চায়

    মির্জা ফখরুলের ভাষ্য: হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী সমাজকে অস্থির করতে চায়

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে একটি হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী রয়েছে, যারা সারাক্ষণ নিজেকে অসন্তুষ্ট মনে করে আর সমাজকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালায়। তিনি স্পষ্ট করে বললেন, এই অপচেষ্টাকারীরা কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, বরং তারা সমাজের শান্তি ভেঙে দেয়ার জন্য কাজ করে। তিনি মন্তব্য করেন, আমাদের রাজনীতি এখন সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন নয়। বারবার মানুষ পরিবর্তনের জন্য লড়াই করেছে, জীবন দিয়েছেন, পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই চেষ্টাগুলি সফল হয়নি। শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে নওগাঁর আত্রাইয়ের পতিসরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল আরো বলেন, আমাদের মূল পরিচয় হলো এ দেশের সন্তান হিসেবে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত থাকা—আমরা বাংলাদেশেরই সন্তান। এই স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য আমরা দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করেছি, শহীদদের রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। আবার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনেয়ার জন্যও আমাদের সংগ্রাম চালাতে হয়েছে। তিনি বলেন, গত জুলাই মাসে আমাদের তরুণ-তরুণীরা যে লড়াই করে দেশকে পরিবর্তনের পথে নিয়ে আসে, তাকে আমরা ‘জুলাই যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করি। সত্যিকারভাবে এই আন্দোলনের কারণে নতুন নির্বাচন হয়েছে ও নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। তারা আশা করে, এখন জনগণ নতুন সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে। তবে কিছু অপশক্তি দেশের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়, তারা দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে—অর্থনীতি লুটপাট, ব্যাংক এসবের অপব্যবহার, প্রশাসনকে ধ্বংস করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে লড়াই করে আজকের অবস্থানে আমরা এসেছি বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, অনেকেই এই পরিবর্তনটাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টায় ছোটোখাটো ইস্যু নিয়ে গোলযোগ সৃষ্টি করছে। তবে আমরা চাই না দেশে আবার কোনও অস্থিতিশীলতা আসুক। বিএনপি মহাসচিবও মন্তব্য করেন, রবীন্দ্রনাথ যখন আর্মীন আসতেন, তখন তিনি কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশা ও সংকটে দেখে ব্যাংক স্থাপন করেছিলেন, কৃষিকে আধুনিক করার নানা উদ্যোগ নেন। রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গান ও অন্যান্য কবিতাগুলো বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বিশ্বমানবতার কবি, যার ব্রত সত্য, সৌন্দর্য ও মানবতার উন্নয়ন। রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, বিভিন্ন সংসদ সদস্যসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। আলোচনা শেষে শিল্পীরা আবৃত্তি, রবীন্দ্রসংগীত, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। দিনভর এই উৎসবমুখর পরিবেশে হাজারো দর্শক ও রবীন্দ্রপ্রেমী ভিড় করেন পতিসরে, কবির স্মৃতিবিজড়িত এ অঞ্চলে মনে প্রাণে আবেগে এক নতুন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

  • সরকার উন্নয়নের নামে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে: গোলাম পরওয়ার

    সরকার উন্নয়নের নামে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে: গোলাম পরওয়ার

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সাংসদ মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দেশের উন্নয়নের নামেও সরকার বৈষম্যমূলক আচরণ চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করে তোলার দাবি জানান, যা দীর্ঘদিন ধরে রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের মানুষের একটাই প্রত্যাশা। যদি এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কেবল নির্বাচিত এলাকার স্বার্থে নেওয়া হয় বা অন্যত্র স্থাপন করার সিদ্ধান্ত হয়, তাহলে এটি হবে অমানবিক ও অত্যন্ত অন্যায়। শনিবার সকাল সাড়ে আটটায় পঞ্চগড় যাওয়ার সময় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নামার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এই সফরে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী মহাসচিব মাওলানা আব্দুল হালিম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এড. আতিকুর রহমান ও সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী।

    তাঁর বক্তব্যে গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি’র নির্বাচিত এমপিদের এলাকার ভিত্তিতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হচ্ছিলো, যেমন নতুন উপজেলা, বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন। কিন্তু দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে এই সমস্ত কাজগুলো বিভিন্ন অঞ্চলে ভাগ করে নেওয়া উচিত ছিল। তিনি বলেন, ‘প্রবাদ আছে, যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ। এখন তা-ই সত্য হয়ে উঠছে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে তারা ৭০ ভাগ জনগণের মতামত উপেক্ষা করে প্রতারণার রাজনীতি চালাচ্ছে। নির্বাচনের সময় যাঁরা “হ্যাঁ” ভোট দিয়েছিলেন, এখন তারা গণভোটের রায় অমান্য করছে। সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বললেও বাস্তবে গণভোটের রায় মানছে না, যা জনগণের সঙ্গে মহাপ্রতারণা। বিএনপি জনস্বার্থের ক্ষে’ত্রে ব্যাকফুটে পড়ছে, যে কারণে দেশের জন্য ভয়াবহ ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।’

    গণমাধ্যমের পরিস্থিতি নিয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন, বলে, ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় যারা স্বাধীন সাংবাদিকতার পক্ষে ছিলেন, এখন তারা সরকারের বিভিন্ন মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ, সাংবাদিকদের চাকরি হারানো ও হয়রানির সঙ্গে জড়িত। বিশেষ করে সমালোচক সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

    এসময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারীর সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মনিরুজ্জামান জুয়েল, সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের আমির শফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম, শহর জামায়াতের আমির শরফুদ্দিন খান, সেক্রেটারি মাওলানা ওয়াজেদ আলী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের শহর সভাপতি আব্দুল মোমিনসহ আরও শতাধিক নেতা-কর্মী। পরে সব সফরসঙ্গীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি সড়ক পথে পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

  • এনসিপি ঘোষণা করল ১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় প্রার্থীদের নাম

    এনসিপি ঘোষণা করল ১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় প্রার্থীদের নাম

    আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রাথমিকভাবে ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আজ রোববার (১০ মে) বিকেলে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে, এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করেন। তিনি জানান, আমরা আজ ১০০ জন এনসিপি সমর্থিত উপজেলা চেয়্যারম্যান ও পৌরসভার মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করছি।

    সারজিস আলম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য হাজারের বেশি আবেদনপত্র জমা পড়েছিল। এর ভিত্তিতে আমরা প্রথম পর্যায়ে ১০০ জনের নাম ঘোষণা করছি। তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ মাসের ২০ তারিখের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপে আবারো আরও ১০০ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। এই প্রার্থী তালিকা ভবিষ্যতেও বিস্তার লাভ করবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

    সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বে থাকা, নেতৃত্বদানকারী এবং যারা গ্রহণযোগ্য এবং সাম্প্রদায়িক বা জুলুমের সঙ্গে কোনোভাবে সংশ্লিষ্ট নয়, এমন ব্যক্তিরা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের হলেও শুধু এনসিপি প্রার্থীর জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই আবেদনগুলো ব্যাপকভাবে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যাতে অন্য দলের ভুলে এলে তাদেরও সুযোগ দেওয়া হয়।

    প্রার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে, ৫০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৫০ জন পৌরসভার মেয়র প্রার্থী রয়েছেন, যাদের বিভাগ অনুযায়ী বিস্তারিত তালিকা নিচে দেওয়া হলো।

    প্রতিটি বিভাগে নির্বাচিত প্রার্থীদের নামসহ অফিসিয়াল তালিকা ও বর্ণনা সংযুক্ত করা হয়েছে, যেখানে খুলনা, রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া, সিলেট, ময়মনসিংহ, ঢাকা (উত্তর ও দক্ষিণ) ও ফরিদপুর বিভাগের প্রার্থীদের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এ থেকেই বোঝা যায়, প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় এনসিপির ব্যাপক প্রস্তুতি ও মনোযোগ রয়েছে এবং তারা বিভিন্ন বিভাগের স্থানীয় নেতৃত্বের উপর ভিত্তি করে তালিকা ঘোষণা করছে।

  • জুলাই সনদ সংক্রান্ত ইস্যুতে সরকার টালবাহানা করছে, নাহিদ ইসলাম বলেন

    জুলাই সনদ সংক্রান্ত ইস্যুতে সরকার টালবাহানা করছে, নাহিদ ইসলাম বলেন

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, জুলাই সনদ ও সাংবিধানিক সংস্কার ইস্যুতে সরকার আসল উদ্দেশ্য নিয়ে টালবাহানা করছে। তিনি বলেন, সরকার এ বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চায়, যা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। নাহিদ ইসলাম এই অভিযোগ করেন শনিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘সংস্কারে অচলাবস্থা সমাধানে করণীয় কী’ শীর্ষক আলোচনা সভায়। তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা ও সার্বভৌম ক্ষমতার ভিত্তিতে সাংবিধানিক সংস্কার হওয়া উচিত। বিরোধীদলীয় এই নেতা দাবি করেন, জরুরি গণভোটের মাধ্যমে এ সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়ন করতে সরকার ‘সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল’ গঠনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। পাশাপাশি, বিএনপি নিয়ে মন্তব্য করে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগেই প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির শীর্ষ নেতারা গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন, কিন্তু ক্ষমতায় এসে তারা এর বিরোধিতা করছে। এভাবে বিএনপি জনগণের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করছে বলে তার অভিযোগ। নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দেন, গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংসদে ও বাইরে বিভিন্ন আলোচনা ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালানো হবে। তবে, সরকার যদি ইতিবাচক সাড়া না দেয়, তবে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করতে বাধ্য হবে বিরোধীদল।

  • গোলাম পরওয়ার: উন্নয়নে সরকার করছে চরম বৈষম্য

    গোলাম পরওয়ার: উন্নয়নে সরকার করছে চরম বৈষম্য

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, সরকার উন্নয়নের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের স্বার্থে সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করার বিষয়টি সবচেয়ে যৌক্তিক ও জরুরি।

    শনিবার সকাল সাড়ে আটটায় পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার পথে ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নামার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান ও সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, সৈয়দপুর বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক করলে বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে। কিন্তু যদি শুধু নির্দিষ্ট নির্বাচিত এলাকার সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তা হলে সেটি একটি বড় অন্যায় হবে।

    তিনি আরও বলেন, বিএনপি নির্বাচিত এমপিদের এলাকাকে প্রাধান্য দিয়ে নানা উন্নয়ন প্রকল্প বন্টন করছে; ফলে কিছু ক্ষেত্রে নতুন উপজেলা বা বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে, যা সার্বিক জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনায় হওয়া উচিৎ নয়। ‘‘প্রবাদ আছে, যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ,’’ বলে মন্তব্য করে তিনি বাস্তবিক পরিস্থিতি তেমনই দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।

    গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, বিএনপি ৭০ শতাংশ জনমতকে উপেক্ষা করে প্রতারণার রাজনীতি করছে। নির্বাচনের আগে যারা “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে ছিলেন, তারা এখন গণভোটের রায় অস্বীকার করছেন। সরকার যদিও বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, বাস্তবে গণভোটের রায় মানা হচ্ছে না—এটিকে তিনি ‘‘জনগণের সঙ্গে মহাপ্রতারণা’’ হিসেবে অভিহিত করেন। তাঁর মতে, বিএনপি যদি জনস্বার্থে এমন ব্যাকপাস খেলতে থাকে, তা হলে তা শুধু দলের জন্যই নয়, দেশের জন্যও ক্ষতিকর প্রমাণিত হতে পারে।

    গণমাধ্যম সম্পর্কিত প্রশ্নে গোলাম পরওয়ার বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় যারা স্বাধীন সাংবাদিকতার কথা বলতেন,現在 তাদের মধ্যে অনেকে বিভিন্ন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে নেওয়া, সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত করা ও হয়রানির সঙ্গে জড়িত আছেন। বিশেষত সরকারসমালোচক সাংবাদিকদের টার্গেট করা হচ্ছে—এটি তিনি কঠোরভাবে নিন্দা করেছেন।

    বিমানবন্দরে গোলাম পরওয়ার ও তাঁর সফরসঙ্গীদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম ও জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মনিরুজ্জামান জুয়েল। এছাড়া সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের আমির শফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম, শহর আমির শরফুদ্দিন খান, সেক্রেটারি মাওলানা ওয়াজেদ আলী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের শহর সভাপতি আব্দুল মোমিনসহ শতাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

    পরবর্তীতে গোলাম পরওয়ার ও তার সফরসঙ্গীরা সড়কপথে পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।