Category: রাজনীতি

  • যেখানে মন্ত্রী নেই, সেখানে উন্নয়ন হবে না? — গোলাম পরওয়ারের প্রশ্ন

    যেখানে মন্ত্রী নেই, সেখানে উন্নয়ন হবে না? — গোলাম পরওয়ারের প্রশ্ন

    জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রশ্ন করেছেন, প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকায় না হলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে কীভাবে উন্নয়ন হবে। তিনি ওই মন্তব্য করেন শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ভবনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লয়িজ লীগের কেন্দ্রীয় দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায়।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘যে এলাকায় নেতারা প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা আইনমন্ত্রী হবে না, সেই এলাকায় কি কোনো উন্নয়ন হবে না? উন্নয়নকে বৈষম্যমুক্ত করতে সরকারের উচিত জাতীয়ভাবে জরিপ করা—কোথায় রেল বা সড়ক যোগাযোগ প্রয়োজন। ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়তে সরকারের দায়িত্ব পালন করা জরুরি।’

    তিনি জুন/জুলাই আন্দোলনের ত্যাগ স্মরণ করে বলেন, ‘হাজারো মানুষের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে এই সরকার ক্ষমতায় এলেও আবারও বৈষম্যের সমাজ গড়ে তোলা হচ্ছে। হাজার রক্তের বিনিময়ে ক্ষমতায় এসে তারা ন্যায়ের বদলে অন্যায় করছেন। উন্নয়নে সমতা রক্ষা হচ্ছে না; আমরা যে বৈষম্যহীনতার জন্য লড়েছি, সেই আদর্শকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। এটা শহীদদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।’

    রেল যোগাযোগের বর্তমান বেহাল দশার দায় তিনি দুর্নীতিকেই দিয়েছেন। ‘বিশ্বে রেল যোগাযোগ যখন আধুনিকীকরণ ও সাফল্যের শিখরে উঠছে, তখন বাংলাদেশে রেলখাত পিছিয়ে পড়ছে। এত বড় যোগাযোগ নেটওয়ার্ককে আমরা এখনও আধুনিকায়ন করতে পারিনি’—গোলাম পরওয়ার জানান।

    আগামী বাজেটে প্লেস্কেল সংশোধন, রেলের শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবি মানা ও আধুনিক রেলপথ নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    বিদেশি শক্তির প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন নিজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলবে; কোনো বিদেশি শক্তির প্রেস্ক্রিপশন বা রিমোট কন্ট্রোল আধিপত্যকে আমরা মেনে নেব না। দেশকে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাখতে বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।’

    ট্রেড ইউনিয়ন প্রায় সংকুচিত করে শ্রমিকদের অধিকার বঞ্চিত করারও তীব্র সমালোচনা করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ‘সরকার শ্রমিক ও গণতন্ত্রের কথা বলে, মেহনতি মানুষের কষ্টের কথা বলে; কিন্তু বাস্তবে ট্রেড ইউনিয়নগুলোকে সীমিত করা হয়েছে। এক কারখানায় তিনটির বেশি সংগঠন রেজিস্ট্রেশন করা যাবে না—এটা ঠিক হয়নি।’

    তিনি দাবি করেন, বৃহত কারখানায় আরও বেশি ট্রেড ইউনিয়ন থাকা উচিত। সংগঠনের সংখ্যা বেশি থাকলে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিসহ মালিকদের সঙ্গে আলোচনাও সহজ হবে এবং দাবি আদায় করা সম্ভব হবে।

  • জুলাই সনদ নিয়ে সরকার টালবাহানা করছে: নাহিদ ইসলাম

    জুলাই সনদ নিয়ে সরকার টালবাহানা করছে: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘জুলাই সনদ ও সাংবিধানিক সংস্কার ইস্যুতে সরকার টালবাহানা করছে।’ শনিবার (৯ মে) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সংস্কারে অচলাবস্থা সমাধানে করণীয় কী’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এই অভিযোগ জানান।

    নাহিদ ইসলাম বলার সময় জোর দিয়ে বলেন, সাংবিধানিক সংস্কার হলে তা হবে জনগণের অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও সার্বভৌম ক্ষমতার ভিত্তিতে। তাই তিনি দ্রুত গণভোটের নির্দেশনা অনুযায়ী ‘সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল’ গঠনের দাবি জানান।

    বিএনপির নীতি-অভিনয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার তির ছুড়েই তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপির শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে গণভোটের পক্ষে প্রচার চালালেও ক্ষমতায় এসে তারা তা প্রত্যাখ্যান করছে—যাতে মূলত জনগণের আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষিত হচ্ছে।

    আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সংসদের ভিতরে ও বাইরে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিও চলবে। তবে সরকার যদি ইতিবাচক সাড়া না দেয়, তাহলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ে যেতে হবে।

  • মন্ত্রী নেই, উন্নয়ন নেই? — গোলাম পরওয়ারের প্রশ্ন

    মন্ত্রী নেই, উন্নয়ন নেই? — গোলাম পরওয়ারের প্রশ্ন

    জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রশ্ন করলেন, প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকায় উন্নয়ন হলে বাকী এলাকার উন্নয়ন হবে কি না। শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ভবনে আয়োজিত বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লয়িজ লীগের কেন্দ্রীয় দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই উদ্বেগটি প্রকাশ করেন।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘‘যে এলাকায় নেতারা প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা আইনমন্ত্রী নয়, সেখানে কি কোনো উন্নয়ন হবে না? উন্নয়নকে বৈষম্যহীন করতে হলে জাতীয়ভাবে জরিপ করে দেখতে হবে কোথায় রেল বা সড়ক যোগাযোগ সবচেয়ে প্রয়োজন। ন্যায়ভিত্তিক ও ইনসাফভিত্তিক একটি মানবিক সমাজ গড়ে তুলতেই সরকারের দায়িত্ব রয়েছে।’’

    তিনি জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘‘হাজার মানুষের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে যখন একটি সরকার ক্ষমতায় আসে, তখন আবার বৈষম্যের সমাজ গড়ে তোলা সেই ত্যাগের অমুল্য স্মৃতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। হাজারো রক্তের বিনিময়ে ক্ষমতায় এসে যদি আবারো ইনজাস্টিস পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করা হয়, তা মেনে নেওয়া যায় না।’’

    দেশের রেল যোগাযোগের বেহাল অবস্থা নিয়ে তিনি দুর্নীতি-ভিত্তিক ব্যর্থতাকেই দায়ী করেন। ‘‘বিশ্বে রেল যোগাযোগ সাফল্যের শিখরে উঠলেও বাংলাদেশে এই খাতটি পিছিয়ে পড়েছে। এত বড় নেটওয়ার্ককে আমরা এখনও আধুনিকায়ন করতে পারিনি,’’ তিনি বলেন। আগামী বাজেটে প্লেস্কেল সংশোধন, রেলের শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবিদাওয়া মেনে নেওয়া ও आधुनिक রেলপথ ও অবকাঠামো গড়ার জন্য সরকারকে পরিচ্ছন্ন ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে তিনি দাবি জানান।

    বহির্বিশ্বের চাপ বা ‘প্রেসক্রিপশন’ মেনে চলার বিরোধিতা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘‘বাংলাদেশ এখন থেকে নিজের সিদ্ধান্তে চলবে; কোনো বিদেশি শক্তির রিমোট কন্ট্রোলের নিচে মাথা নত করবে না। দেশকে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাখতে সব ধরনের বহির্শক্তির হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।’’

    তিনি শ্রমিক সংগঠনের ওপর বিধিনিষেধ আর ট্রেড ইউনিয়ন সংকোচনের তীব্র সমালোচনা করেন। সরকারকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, ‘‘আপনারা শ্রমিক-হিতগঠন, গণতন্ত্র ও মেহনতি মানুষের কথা বলেন; কিন্তু বাস্তবে ট্রেড ইউনিয়নকে সংকুচিত করে শ্রমিকদের অধিকার সীমিত করে চলেছেন। বর্তমান বিধি অনুযায়ী একটি কারখানায় তিনটির বেশি সংগঠন রেজিস্ট্রার করা যায় না—এমন সীমাবদ্ধতা শ্রমিকদের শক্তি প্রয়োগ ও ন্যায্য দাবি আদায়ে বাধা দেয়।’’

    গোলাম পরওয়ার যুক্তি দিয়েছেন, বড় কারখানায় বেশি ট্রেড ইউনিয়ন থাকলে মালিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায় সহজ হবে। তিনি সমতা, ন্যায়পরায়ণতা ও সকলের জন্য উন্নয়নের নিশ্চয়তা দাবিয়ে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

  • জুলাই সনদ ও সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে সরকার টালবাহানা করছে: নাহিদ ইসলাম

    জুলাই সনদ ও সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে সরকার টালবাহানা করছে: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, জুলাই সনদ ও সাংবিধানিক সংস্কারের ইস্যুতে সরকার টালবাহানা করছে। শনিবার (৯ মে) সকালে ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত ‘সংস্কারে অচলাবস্থা সমাধানে করণীয় কী’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার এই বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চায়। কিন্তু সাংবিধানিক সংস্কার হবে জনগণের অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও সার্বভৌম ক্ষমতার ভিত্তিতে—এটাই প্রয়োজন।

    তিনি জানান, গণভোটের নির্দেশনা অনুযায়ী অবিলম্বে একটি ‘সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল’ গঠন করা উচিত। সেই কাউন্সিল প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের রায়কে সম্মান জানাতে হবে, দাবি তার।

    বিএনপির ওপর তীব্র সমালোচনা করে নাহিদ বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে গণভোটের পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলেন; কিন্তু ক্ষমতায় এসে তারা এখন সেই প্রস্তাবের বিরোধিতা করছেন। এভাবে মূলত জনগণের আকাঙ্ক্ষাকেই প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে, অভিযোগ তার।

    তিনি আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেন। নাহিদ বলেন, ‘‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সংসদের ভেতরে এবং বাইরে আলোচনা চলবে, পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিও নেয়া হবে। যদি সরকার ইতিবাচক সাড়া না দেয়, তবে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের দাবি আদায় করা হবে।’’

  • জুলাই সনদ ইস্যুতে সরকার টালবাহানা করছে: নাহিদ ইসলাম

    জুলাই সনদ ইস্যুতে সরকার টালবাহানা করছে: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম সরকারকে Juli সনদ ও সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে টালবাহানা করছে বলে অভিযোগ করেছেন।

    শনিবার (৯ মে) রাজধানীর এক হোটেলে ‘সংস্কারে অচলাবস্থা সমাধানে করণীয় কী’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি বলেন, সরকার এ ইস্যুকে এড়িয়ে যেতে চায় এবং সময় টানছে। তাঁর দাবি, সাংবিধানিক সংস্কার সম্পন্ন হবে ধরাবাঁধা, জনগণের অংশগ্রহণ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে—এটাই গ্রহণযোগ্য।

    নাহিদ ইসলাম অবিলম্বে গণভোটের নির্দেশনা অনুযায়ী ‘সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল’ গঠনের দাবি জানান। তিনি বলেন, এই কাউন্সিল গঠনেই হবে জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের পথ।

    বিএনপির বিরুদ্ধে সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে গণভোটের পক্ষে বললেও ক্ষমতায় আসার পর তারা সেই অবস্থানকে ত্যাগ করেছে। এভাবে বিএনপি মূলত জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে প্রত্যাখ্যান করছে বলে তিনি আক্রমণ করেন।

    নাহিদ আরও বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সংসদের ভেতরে ও বাইরে আলোচনা ও কর্মসূচি চলবে, পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ কর্মসুচিও চালানো হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি সরকার ইতিবাচক সাড়া না দেয় তাহলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে।

    আলোচনায় তিনি জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে স্বচ্ছ ও সার্বভৌম ভিত্তিতে সাংবিধানিক পরিবর্তন আনা না হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নির্বাচনী বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরে পাওয়া সম্ভব হবে না—এ ধরনের বার্তাও দেন নাহিদ ইসলাম।

  • মন্ত্রী না থাকলে কি উন্নয়ন থেমে যাবে? প্রশ্ন গোলাম পরওয়ারের

    মন্ত্রী না থাকলে কি উন্নয়ন থেমে যাবে? প্রশ্ন গোলাম পরওয়ারের

    জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রশ্ন তুলেছেন: প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকেন না এমন এলাকায় কি উন্নয়ন হবে না?

    শুক্রবার কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ভবনে বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লয়িজ লীগের কেন্দ্রীয় দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘‘যে এলাকার নেতারা প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা আইনমন্ত্রী হবে না, সেই এলাকায় কি কোনো উন্নয়ন হবে না? উন্নয়নকে বৈষম্যহীন করতে হলে জাতীয়ভাবে জরিপ করে দেখা উচিত—কোথায় রেল বা সড়ক যোগাযোগ বেশি প্রয়োজন। ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে সরকারকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।’’

    তিনি জুলাই আন্দোলনের ত্যাগ ও শহীদদের কথা স্মরণ করিয়ে বলেন, ‘‘হাজারো মানুষের রক্ত আর ত্যাগের বিনিময়ে সরকার ক্ষমতায় এলেও এখন আবার বৈষম্যমূলক সমাজ গঠনের চেষ্টা চলছে। হাজার রক্তের বিনিময়ে ক্ষমতায় এসে ন্যায়বিচার না দিয়ে অন্যায় করা হচ্ছে; সেটা শহীদদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।’’

    রেল যোগাযোগের বেহাল দশার কারণ হিসেবে তিনি দুর্নীতিকেই দায়ী করেছেন। বলেন, ‘‘বিশ্বে রেল যোগাযোগ উন্নতির শিখরে উঠছে, অথচ বাংলাদেশে রেল খাত পিছিয়ে যাচ্ছে। এত বড় নেটওয়ার্ককে আমরা আধুনিকায়ন করতে পারিনি।’’ আগামী বাজেটে প্লেস্কেল আর রেলের শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবি মেটানো ও আধুনিক রেলপথ গড়ে তোলার জন্য সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আহ্বান জানান তিনি।

    দেশীয় সিদ্ধান্তমূখী নীতির প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘‘বাংলাদেশ এখন নিজস্ব সিদ্ধান্তে চলবে; কোনো বিদেশি শক্তির প্রেসক্রিপশন বা রিমোট কন্ট্রোল মানি না। পূর্ণ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাখতে সব ধরনের বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।’’

    তিনি ট্রেড ইউনিয়নের কর্মকান্ড সংকুচিত করার নীতির তীব্র সমালোচনা করেন এবং বলেন, সরকার শ্রমিক ও শ্রমসংগঠনের ওপর নানা সীমাবদ্ধতা আরোপ করে শ্রমিকদের অধিকার নিলে গণতন্ত্র ও শ্রমিকদের কল্যাণ ক্ষুণ্ন হয়।

    গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, ‘‘একটি কারখানায় বেশি সংখ্যক ট্রেড ইউনিয়ন থাকা উচিত—কারখানা যত বড় হবে, তত বেশি ট্রেড সংগঠন থাকা প্রয়োজন। সংগঠনের সংখ্যা বেশি হলে মালিকপক্ষের সঙ্গে বসে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে সুবিধা হবে।’’

    সম্মেলনে তিনি সরকারের প্রতি অনুরোধ রাখেন—উন্নয়ন ন্যায়ভিত্তিক ও স্বচ্ছভাবে করতে হবে, রেল ও যোগাযোগ খাতে দুর্নীতি রোধ করে অবকাঠামো উন্নয়নে ত্বরান্বিত উদ্যোগ নিতে হবে এবং শ্রমিক-সংগঠনের মেধা ও অধিকার রক্ষা করতে হবে।

  • নিজামী পুত্রসহ বিভিন্ন নেতাকর্মীর এনসিপিতে যোগদান

    নিজামী পুত্রসহ বিভিন্ন নেতাকর্মীর এনসিপিতে যোগদান

    জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী কন্যা, ড. মোহাম্মদ নাদিমুর রহমান, হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন, গাজীপুরের মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক এম এ এইচ আরিফ কান্তি এবং ওয়ারিয়র্স অব জুলাইয়ের প্রায় চার হাজার সদস্য। মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলামোটর রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে দলটির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন।এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, মোহাম্মদ নাদিমুর রহমান বর্তমানে তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত থাকায় সরাসরি উপস্থিত থাকতে পারেননি, তবে অনলাইনের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন।ওয়ারিয়র্স অব জুলাইয়ের প্রায় চার হাজার সদস্যের মধ্যে দাবি করা হয়, এ সময় তারা এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। তবে সবাই উপস্থিত ছিলেন না; সংবাদ সম্মেলনে এ टोलीের উপস্থিত ছিলেন প্রায় পঞ্চাশ সদস্য।সংবাদ সম্মেলনে হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর আবদুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন ব্রেক করে বলেন, “হাজী শরীয়তুল্লাহর উত্তরসূরি হওয়ার পরও আমি একনিষ্ঠভাবে এনসিপিতে কাজ করবো।” তিনি বলেন, “হাজী শরীয়তুল্লাহ কাউকে রাজা বা নেতা করতে আসেননি, তিনি সাধারণ কৃষক জনগণের নেতা ছিলেন। নেতার আর রাজা হওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আমরা কাউকে ইবাদত করি না। আমরা দল করি যাতে আমাদের নেতা যদি ভুল করে, তাকেও ফিরিয়ে আনতে পারি। এই দল হলো আমাদের সত্যের পথে থাকার অবলম্বন।”এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, “দেশের পথ হারানো রাজনীতির হাল ধরবে এনসিপি। সংসদে বিএনপি প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা করছে, এর ফল ভালো হবে না। আমরা অতি দ্রুত গণভোটের অভূতপূর্ব রায় বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।”উত্তরাঞ্চলের সংগঠক সারজিস আলম বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, “সরকার স্থানীয় কেন্দ্রগুলোকে নিজেদের ভাগ-বাটোয়ারা ও লুটপাটের জন্য ব্যবহার করছে। দ্রুত সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা ও পৌর নির্বাচন দিতে হবে, বছরের মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে।”তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করছে এবং সংসদে বুক ফুলিয়ে দাবি করছে। এই পরিস্থিতি আমাদের জন্য লজ্জাজনক। যারা এভাবে প্রতারণা করেছে, তারা জনগণের রুষ্টির মুখোমুখি হবে।”সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, “তাদের বলদয় হোসাইন মুহাম্মদ এরশাদ সারা দেশে প্রশাসক নিয়োগ করে রাষ্ট্র পরিচালনায় ছিলেন; তারেক রহমানও ঠিক সেইভাবে রাষ্ট্র চালাতে চান। তারা বারবার গণতন্ত্রের অপব্যবহার করছে।”নতুন যোগদানকারীদের ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয় এবং তাদের ক্লান্তিহীন সংগ্রামের জন্য শুভকামনা জানানো হয়।

  • সরকার Juliা সনদ ইস্যুতে টালবাহানা করছে: নাহিদ ইসলাম

    সরকার Juliা সনদ ইস্যুতে টালবাহানা করছে: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, জুলাই সনদ ও সাংবিধানিক সংস্কার ইস্যুতে সরকার নানা ধরনের টালবাহানা করছে। তিনি বলেন, এই বিষয়টি জনগণের স্বার্থে খুবই গুরুত্বপূর্ণ—এটি কোনো কৌশলের আওতা নয়। সরকার যদি নিজস্ব অলিখিত অজুহাতের পেছনে লুকায়, তখন জনগণের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা এবং সার্বভৌম ক্ষমতার ভিত্তিতে সাংবিধানিক সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে।

    শনিবার (৯ মে) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সংস্কারে অচলাবস্থা সমাধানে করণীয় কী’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ সব কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, দেশের স্বাধিকার ও সংবিধানয় গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়গুলো বাস্তবায়নের জন্য এখনই প্রয়োজন দ্রুত পদক্ষেপ। তিনি অবিলম্বে সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল গঠনের জন্য গণভোটের নির্দেশনা অনুযায়ী উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।

    বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বিএনপি-কে নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি শীর্ষ নেতারা গণভোটের পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি সেটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এর মধ্য দিয়েই তারা জনগণের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করছে বলে তিনি আঙুল তুলে বলেন।

    অন্তর্বর্তী আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে নাহিদ ইসলাম আরও জানান, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সংসদে ও বাইরে আলোচনা ও কর্মসূচি চালিয়ে যাবে। তবে সরকার যদি ইতিবাচক সাড়া না দেয়, তবে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে এই দাবি পূরণের জন্য প্রস্তুত থাকবেন বলেও জানান।

  • মির্জা ফখরুলের মতে, হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী সমাজকে অস্থির করে রাখতে চায়

    মির্জা ফখরুলের মতে, হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী সমাজকে অস্থির করে রাখতে চায়

    দেশের সমাজে একটি হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী অস্তিত্ব রয়েছে, যারা সারাক্ষণ হতাশায় ভোগে এবং বিভিন্ন সময় সমাজকে অস্থির করে তুলতে চায়। এই ব্যাপারে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী, বলেন যে তিনি নির্দিষ্ট কোনো দল বা ব্যক্তির নাম উল্লেখ করতে চান না, কারণ এর পেছনে সম্পূর্ণ রাজনীতি ক্রিয়াকলাপের বিষয় রয়েছে। আমাদের রাজনীতি এখনো সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন সংবাদ নয়। বারবার মানুষ নিজেদের স্বার্থে পরিবর্তনের জন্য সংগ্রাম করেছে, প্রাণ দিয়েছে, তবে দুর্ভাগ্যবশত পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

    বলেন, এই সবের পেছনে মূল ব্যর্থতা হলো আমাদের স্বাধীনতার মূল শহীদদের সংগ্রাম ও ত্যাগের মূল্যবোধের ক্ষতি। ৮ মে শুক্রবার দুপুরে নওগাঁর আত্রাইয়ের পতিসর রবীন্দ্র বন্ধুপ্রতিষ্ঠানের রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ফখরুল বলেন, আমাদের দেশের মূল পরিচিতি ও গর্বের বিষয় হলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। এই স্বাধীন্ত্র্য অর্জনে আমাদের প্রাধান্য ও বিশ্বাসের জায়গা হলো বাংলাদেশের মূল সৈনিকরা। নয় মাসের সংগ্রাম ও ত্যাগের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, আর এই সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা গণতন্ত্রও ফিরে পেয়েছি। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাইয়ের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ের লড়াইয়েও আমাদের নতুন সরকারের প্রতি আশা সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কিছু বিশেষ শক্তি দেশে ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক কাঠামো সৃষ্টি করে অর্থনীতি ও প্রশাসন ধ্বংস করে দিয়েছে। এই অস্থিরতাকে একত্রে কাটিয়ে উঠতে এবং দেশের উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। তিনি এও বলেন যে কিছু চরমপন্থি বা অশান্তির পেছনে যারা আছে, তারা দেশের শান্তি ও উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তবে কেউই এই ধরনের অপচেষ্টা মেনে নেবে না।

    বিএনপি মহাসচিবের ভাষণে উল্লেখ করেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন এই দেশে আসতেন, তখন তিনি কৃষকদের দুর্দশা লক্ষ্য করে ব্যাংক স্থাপন করেছিলেন এবং কৃষিকে আধুনিক করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এই সবকিছু ছিল তার জীবন ও কাজের অংশ। রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গান, নাটক এমনকি ‘গীতাঞ্জলি’ দিয়ে তিনি বিশ্বকে প্রভাবিত করেছেন। তিনি বিশ্বজনের কাছে একজন বিশ্বমনের কবি হিসেবে পরিচিত। এ কথা তিনি স্মরণ করে বলেন যে, রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও জীবন সব ক্ষেত্রেই অবাধ বিচরণ ছিল।

    রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশিদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রীগণ, সংসদ সদস্যগণ, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, দূতাবাসের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সরকারি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।

    আলোচনা শেষে স্থানীয় ও ঢাকা থেকে আগত শিল্পীদের পরিবেশনায় আবৃত্তি, রবীন্দ্রসংগীত, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পুরো দিনজুড়ে পতিসর রবীন্দ্রভূমিতে নানা জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় ভিড় জমে হয়েছিল। হাজারো দর্শনার্থী ও রবীন্দ্রপ্রেমীরা এ উৎসবের অংশ নিয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিকে স্মরণ ও সম্মান জানায়।

  • দেশবিরোধী গোষ্ঠীসমূহ সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে: নাহিদ

    দেশবিরোধী গোষ্ঠীসমূহ সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে: নাহিদ

    পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে বিএনপি’র চিপ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চেয়ারম্যান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, দেশের ক্ষতিকর ও দেশবিরোধী কিছু গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টি করে অস্থিরতা ছড়িয়ে দিতে পারে, তাই সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জুলিঅ স্মৃতি হলে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সেইসব বক্তব্য রাখেন তিনি।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, পশ্চিমবঙ্গ আমাদের পার্শ্ববর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। সেখানে অনুষ্ঠিত নির্বাচন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হলেও ভোটের আগে হাজার হাজার নাগরিকের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি জানান, এসব ভোটারদের মধ্যে বেশিরভাগ মুসলমান ও মতুয়া সম্প্রদায়ের ছিল। তিনি আরও বলেন, আমি সংসদে বলেছি, সেইসব মুসলমানদের উপর বিনা কারণে নিপীড়ন চালানো হচ্ছে, তাদের ভোটাধিকার হরণ করা হচ্ছে। এর প্রভাব আমাদের দেশের উপরও পড়তে পারে। নির্বাচনের পরে পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম, মতুয়া, দলিত ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর অমানবিক নির্যাতনের খবরও তিনি উল্লেখ করেন।

    নাহিদ ইসলাম সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশে যাতে কেউ ষড়যন্ত্র করে বা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা না করে, তার জন্য সবাইকে চোখ খোলা রাখতে হবে। এনসিপির এই নেতা বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের পরে বাংলাদেশের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে। দেশের সব ধর্মের নাগরিকের নিরাপত্তা, অধিকার রক্ষা ও সম্মান বজায় রাখতে আমাদের সকলে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসা জরুরি।

    তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশকে এমন একটা রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সবচেয়ে বেশি নিরাপদ সবুজ করে উঠবে। মুসলমান, দলিত, মতুয়া সহ সব সম্প্রদায়ের মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা ও উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

    অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামে এনসিপিতে নতুন যোগদানকারীদের স্বাগত জানিয়ে দলের মধ্যে ঐক্য ও শক্তির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত দ্ব›দ্ব ভুলে গিয়ে সবাই যেন এক হয়ে কাজ করি। দলের পতাকাতলে সবাই এক পথে চলবে—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। শেষে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি প্রশ্ন করেন, “আমরা কি সবাই একসাথে থাকব?” এ প্রশ্নের উত্তরে সবাই সামিল হয় ‘ইনশাআল্লাহ’ বললে, এতে তাদের একতার প্রত্যয় প্রকাশ পায়।