Blog

  • কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়ার প্রস্তাব ট্রাম্পের

    কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়ার প্রস্তাব ট্রাম্পের

    প্রতিবেশী দেশ কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স নিউজের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

    সম্প্রতি অবৈধ অভিবাসী ঠেকাতে এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ব্যর্থ হলে কানাডার ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প। ওই শুল্ক ইস্যুতে কথা বলতে শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) অঘোষিত সফরে যুক্তরাষ্ট্রে যান কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। সফরকালে ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা হয় কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রীর। এসময় ট্রুডো শুল্ক এত বেশি হলে কানাডার অর্থনীতিতে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

    বাণিজ্য ও অভিবাসন ইস্যুতে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে কানাডার অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন জাস্টিন ট্রুডো। এসময় ট্রাম্প জাস্টিন ট্রুডোকে বলেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত শুল্কও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অভিবাসন সমস্যা সমাধান না করে কানাডার অর্থনীতিকে ধ্বংস করে ফেলে, তাহলে কানাডার উচিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১ তম অঙ্গরাজ্য হয়ে যাওয়া।’

    ফক্স নিউজ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে।

    সপ্তাহ খানেক আগে ট্রাম্প কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপের হুমকি দেন। সেই ঘোষণার পর কোনো পূর্বাভাস না দিয়েই ট্রুডো ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে বৈঠক করেন দুই নেতা। এখন ওই বৈঠক সম্পর্কে নতুন কিছু তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ট্রাম্প এই আলোচনাকে ‘খুবই ফলপ্রসূ’ বলে উল্লেখ করেছেন। শুল্ক, সীমান্ত নিরাপত্তা ও বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়গুলোই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।

    ট্রাম্প-ট্রুডোর আলোচনার টেবিলে উপস্থিত দুই ব্যক্তির মতে, ট্রাম্প ট্রুডোকে স্বাগত জানালেও কানাডার প্রতি তিনি খুবই কঠোর ও স্পষ্টভাষী ছিলেন। আলোচনার সময় ট্রাম্প ট্রুডোকে বলেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছে। ৭০ টিরও বেশি দেশ থেকে অবৈধ অভিবাসী এবং বিপুল পরিমাণ মাদক যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করছে।

    সূত্রমতে, যখন ট্রাম্প কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতির প্রসঙ্গ তোলেন, তখন তিনি আরও বেশি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তিনি দাবি করেন, এই ঘাটতি ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। ট্রাম্প ট্রুডোকে বলেন, যদি কানাডা সীমান্ত সমস্যা ও বাণিজ্য ঘাটতি সমাধান করতে না পারে, তবে তিনি প্রথম দিনেই কানাডার সব পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করবেন।

    ট্রুডো ট্রাম্পকে জানান, এই শুল্ক আরোপ করলে কানাডার অর্থনীতি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ‘তাহলে কি আপনি বলতে চাইছেন যে, আপনার দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে ১০০ বিলিয়ন ডলার না ঠকালে বাঁচতে পারবে না?’ এরপরই ট্রাম্প ট্রুডোকে প্রস্তাব দেন, কানাডা যদি যুক্তরাষ্ট্রের ৫১ তম অঙ্গরাজ্য হয়ে যায়, তাহলে কেমন হবে? এই মন্তব্যে ট্রুডো ও অন্যরা হাসলেও তাদের মুখভঙ্গি ছিল খুবই আড়ষ্ট।

    এরপরও কিন্তু ট্রাম্প এই ইস্যুতে তার কথা চালিয়ে যান। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী পদটি বেশ ভালো, তবে ৫১ তম অঙ্গরাজ্যের গভর্নর হলেও সেটা মন্দ হবে না।’ এ সময় আলোচনায় উপস্থিত এক ব্যক্তি ট্রাম্পকে মনে করিয়ে দেন যে, কানাডা একটি উদারপন্থী অঙ্গরাজ্য হবে। বিষয়টি আরও হাস্যরসের সৃষ্টি করে। তখন ট্রাম্প প্রস্তাব দেন, কানাডা দুটি অঙ্গরাজ্যে বিভক্ত হতে পারে—একটি রক্ষণশীল এবং অন্যটি উদারপন্থী।

    ট্রাম্প ট্রুডোকে উদ্দেশ্য করে আরও বলেন, ‘যদি আপনি আমার শর্তগুলো পূরণ করতে না পারেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ঠকিয়ে যেতে থাকেন, তাহলে হয়তো কানাডার সত্যিই একটি বা দুটি অঙ্গরাজ্য হয়ে যাওয়া উচিত। আর ট্রুডো তখন গভর্নর হতে পারবেন।’ সূত্রের মতে, যদিও কথোপকথনে অনেক হাসি-ঠাট্টা হলেও ট্রাম্প স্পষ্ট করে দেন যে, তিনি জানুয়ারির ২০ তারিখের মধ্যে পরিবর্তন আশা করছেন।

    প্রায় তিন ঘণ্টার এই বৈঠকে আরও বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। কানাডীয় অতিথিরা বৈঠকটিকে ‘খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ এবং ইতিবাচক’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

  • চিন্ময় দাসের গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন, যা বললো যুক্তরাষ্ট্র

    চিন্ময় দাসের গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন, যা বললো যুক্তরাষ্ট্র

    বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তারের ইস্যুটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্রিফিংয়ে উঠে এসেছে। সেখানে এক প্রশ্নের জবাবে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, আটক ব্যক্তিদের উপযুক্ত আইনি সুযোগ দিতে হবে এবং মৌলিক স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের সাথে আচরণ করা প্রয়োজন।

    স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে দপ্তরের প্রিন্সিপাল ডেপুটি স্পোকসপার্সন বেদান্ত প্যাটেল এ কথা বলেন।

    ব্রিফিংয়ে একজন বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর সহিংসতার বিষয় উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই উদ্বেগের সমাধান করার কোন পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চান।

    জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান উপ-মুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেল বলেন, আমরা প্রতিটি সরকারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে কাজ করি, যাদের সাথে আমাদের সম্পর্ক রয়েছে – আমরা স্পষ্ট করেছি- মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি সম্মান থাকা দরকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মৌলিক মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া দরকার। যেকোনও ধরনের প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণ হওয়া উচিত এবং যে কোনও ধরনের ক্র্যাকডাউন – এমনকি ক্র্যাকডাউন না হলেও সকল দেশের সরকারকে আইনের শাসনকে সম্মান করতে হবে এবং এর অংশ হিসাবে মৌলিক মানবাধিকারকেও সম্মান করতে হবে। আর এই বিষয়ে আমরা গুরুত্বারোপ চালিয়ে যাবো।

    পরে ওই প্রশ্নকারী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তারের বিষয়ে প্রশ্ন করেন। তিনি বলেন, চিন্ময় দাস ব্রহ্মচারী বাংলাদেশে ইসকনের নেতা। এছাড়াও ইউএস ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের প্রস্তাবিত পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ডও ইসকনের সদস্য। চিন্ময় দাসকে বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কারাগারে রাখা হয়েছে এবং বাংলাদেশের কোনও আইনজীবী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে দাঁড়াতে রাজি নয়, কারণ তার আইনজীবীকে মারধর করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আপনারা কি কোনও ব্যবস্থা নেবেন?

    জবাবে বেদান্ত প্যাটেল বলেন, আমার কাছে এই মামলার কোনও বিবরণ নেই। কিন্তু আবারও বলবো, আমরা জোর দিয়ে যাচ্ছি এবং ইতোমধ্যেই জোর দিয়েছি, যারা আটক আছে তাদের পক্ষেও উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব করতে দিতে হবে এবং মৌলিক স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের সাথে আচরণ করা প্রয়োজন।

  • আগরতলায় দিনভর ভারতীয়দের বিক্ষোভ

    আগরতলায় দিনভর ভারতীয়দের বিক্ষোভ

    চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তি দাবি এবং বাংলাদেশে ‘সংখ্যালঘু নির্যাতনের’ প্রতিবাদে মঙ্গলবারও (৩ নভেম্বর) ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলায় বিক্ষোভ হয়েছে। ‘সনাতনী যুব’ ব্যানারে এই বিক্ষোভ হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশের আখাউড়া চেকপোস্টের দিকে এগোতে চাইলে তাদের বাধা দেয় ভারতের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

    বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা প্রতিমা ভৌমিক। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ‘দমনপীড়ন’ এবং চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ সময় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের দ্রুত মুক্তি চান তিনি।

    সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়াতে বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান প্রতিমা ভৌমিক। একই সঙ্গে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর ‘হামলা’ বন্ধ করতে এবং তাদের যথাযথ নিরাপত্তা দিতে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    এর আগে সোমবার ( ২ নভেম্বর) আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলা করে একদল বিক্ষোভকারী। তারা সেখানে ভাঙচুরের পাশাপাশি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নামিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনার কড়া প্রতিবাদ জানানোর পর মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

  • তাজমহলকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি

    তাজমহলকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি

    ভারতের উত্তর প্রদেশের আগ্রায় সম্রাট শাহজাহান নির্মিত অমূল্য নিদর্শন তাজমহলকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) আগ্রায় উত্তরপ্রদেশ রাজ্য পর্যটনের আঞ্চলিক অফিসের ই-মেইলে এই হুমকি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।

    ই-মেইলে এই হুমকি পাওয়ার পর উত্তরপ্রদেশ পুলিশ মঙ্গলবার তাজমহলের ভেতরে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের বোমা কিংবা বিস্ফোরকের সন্ধান পায়নি পুলিশ।

    দেশটির বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বোমা হামলা চালিয়ে তাজমহল উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই হুমকি দিয়ে উত্তর প্রদেশ পুলিশের কাছে একটি ই-মেইল পাঠিয়েছেন অজ্ঞাত ব্যক্তি।

    পরে পুলিশের সদস্যরা তাজমহলের ভেতরে ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে। তবে সেখান থেকে কোনো ধরনের বিস্ফোরক কিংবা বোমা উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এই ঘটনা তদন্তে উত্তরপ্রদেশ সাইবার ক্রাইম বিভাগকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সাইবার ক্রাইম বিভাগ ইতোমধ্যে হুমকিদাতার অবস্থান শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে।

    পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ই-মেইলে হুমকি পাওয়ার পরপরই তাজমহলের ভেতরে ও বাইরে তল্লাশি চালানো হয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় আধা-সামরিক বাহিনী সিআইএসএফের জওয়ানরা দীর্ঘক্ষণ ধরে এই তল্লাশি চালিয়েছেন। এছাড়া তাজমহলের আশপাশের এলাকায়ও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক কোনো বস্তু উদ্ধার হয়নি।

  • আবু সাঈদের পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করলো বিজিবি

    আবু সাঈদের পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করলো বিজিবি

    রংপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলনে শহীদ হওয়া বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের পরিবারকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার প্রতিশ্রুত ১০ লাখ টাকার আর্থিক অনুদানের চেক হস্তান্তর করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি।

    গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বিজিবির ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) এর সহকারী পরিচালক মু. মাহবুবুর রহমান খান রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বামনপুর গ্রামে শহীদ আবু সাঈদের বাবা-মায়ের হাতে আর্থিক অনুদানের এ চেক হস্তান্তর করেন।

    বুধবার (৪ ডিসেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিজিবির রংপুর রিজিয়ন সদর দপ্তরের রিজিয়ন সদর দপ্তর লে. কর্নেল ফারুক হোসেন খান।

    উল্লেখ্য, গত ২ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের নিহত রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বামনপুর গ্রামের সন্তান শহীদ আবু সাঈদের সমাধিস্থল পরিদর্শন ও কবর জিয়ারত করেন।

    এ সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা দেশের অসহায়, দুস্থ ও গরীব জনসাধারণদের সাহায্যার্থে গঠিত শহীদ আবু সাঈদ ফাউন্ডেশনের ১০ লাখ টাকা অনুদান প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন।

  • উত্তেজিত জনতার হামলায় পুলিশ, বনবিভাগের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকসহ আহত ৮

    উত্তেজিত জনতার হামলায় পুলিশ, বনবিভাগের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকসহ আহত ৮

    কক্সবাজারের টেকনাফে উত্তেজিত জনতার হামলায় পুলিশ কর্মকর্তা ও বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা এবং সংবাদকর্মী সহ ৮ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ২ টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। বুধবার (৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার দিকে টেকনাফের বাহারছড়া হাজমপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

    জানা গেছে, টেকনাফের বাহারছড়া হাজমপাড়া বন বিভাগের রিজার্ভের জায়গায় নির্মাণধীন একটি স্থাপনা ভাঙতে গেলে বন-বিভাগের ৪ সদস্যকে স্থানীয়রা তাদের বেঁধে রাখেন। পরে বন-বিভাগের সদস্যরা পুলিশের সহায়তা চাইলে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই দস্তগীর হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে উত্তেজিত জনতা পুলিশ ও বনবিভাগের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় দুইটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন তারা। আহত পুলিশ ও বনবিভাগের সদস্যরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

    টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘বাহারছড়া হাজম পাড়া এলাকায় উত্তেজিত জনতার হামলায় বনবিভাগ ও পুলিশের সদস্যর পাশাপাশি স্থানীয় সাংবাদিক আহত হওয়ার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। এখনো ঘটনাস্থলে অবস্থান করছি।’

    এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলার সহকারী কমিশনার ( ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত ইউএনও আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, বাহারছড়া হাসমপাড়াতে বনবিভাগের জায়গায় স্থাপনা নির্মানের ঘটনার বিষয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে বনবিভাগের সদস্যদের ঝামেলা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের সঙ্গেও ঝামেলা সৃষ্টি হয়। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ সহ বনবিভাগের কর্মকর্তাগণ উপস্থিতি রয়েছেন।

  • খুবি শিক্ষার্থীদের সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল অবরোধ

    খুবি শিক্ষার্থীদের সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল অবরোধ

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষার্থীদের মারধর ও শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল মোড় অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা থেকে তারা সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালের সামনে অবস্থান নেন। এক পর্যায়ে তারা বাস মালিক ও শ্রমিকদের ধাওয়া দেন। এ সময় খুবির ছাত্র আশিক, সিয়াম, জিসান আহমেদ, অরূপ বসু, হৃদয় ও শাহরিয়ার পারভেজ সাদ আহত হন। এছাড়া দুইজন শিক্ষককেও লাঞ্ছিত করা হয়।

    পরে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালের সামনে অবস্থান নেয়। রাত সোয়া ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালের সামনে অবস্থান করছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুল সংখ্যক সেনা, নৌ ও পুলিশ সদস্য কাজ করছিল।

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সময়ন্বয়ক মো. মুহিবুল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, বুধবার বিকালে গোপালগঞ্জ থেকে রাজীব পরিবহনের বাসে করে খুবির এক শিক্ষার্থী খুলনায় আসছিল। ভাড়া নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে ঐ শিক্ষার্থীকে লাঞ্ছিত করে বাস শ্রমিকরা। বিষয়টি ঐ শিক্ষার্থী অন্যদের জানালে তারা সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা থেকে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালের সামনে অবস্থান নেয়। সেখানে কথা কাটাকাটির জের ধরে পরিবহন শ্রমিকরা আবারো অন্য শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় খুবির ছাত্র আশিক, সিয়াম, জিসান আহমেদ, অরুপ বসু, হৃদয় ও শাহরিয়ার পারভেজ সাদ আহত হন। দুজন শিক্ষককেও লাঞ্ছিত করা হয়। এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল এলাকায় যান। এক পর্যায়ে তারা শ্রমিকদের ধাওয়া দেন। দুই পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাত ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল এলাকায় ছাত্ররা অবস্থান করছিল।

    সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম রাত ৮টায় বলেন, পরিস্থিতি এখন ঠান্ডা রয়েছে। তবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল এলাকায় ছাত্ররা অবস্থান করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, নৌ বাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ  সদস্যরা কাজ করছে।

  • সিলেট সীমান্ত–সংলগ্ন ভারত অংশ থেকে আনা হলো বাংলাদেশির মরদেহ

    সিলেট সীমান্ত–সংলগ্ন ভারত অংশ থেকে আনা হলো বাংলাদেশির মরদেহ

    সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সংলগ্ন ভারত সীমান্তের অভ্যন্তরে পড়ে থাকা এক বাংলাদেশির মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। বুধবার (৪ ডিসেম্বর) রাত ৭টার দিকে উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি উজায়ের আল মাহমুদ।

    তিনি জানান, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো  হবে। নিহত ব্যক্তির নাম আশরাফ উদ্দিন (৬৫)। তিনি কোম্পানীগঞ্জের ইসলামপুর পূর্ব ইউনিয়নের দয়ার বাজার ভাটরাই গ্রামের বাসিন্দা।

    বুধবার সীমান্তঘেঁষা ভারতের সীমানায় লাশটি পড়ে থাকতে দেখে বাংলাদেশের স্থানীয় বাসিন্দারা সকাল ৯টার দিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে বিজিবি ও পুলিশকে জানায়।

    নিহত ব্যক্তির পরিবারের বরাত দিয়ে কোম্পানীগঞ্জের ইসলামপুর পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আনিছুর রহমান বলেন, আশরাফ উদ্দিন কাঠ সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করতেন। মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে ভারত সীমান্ত এলাকায় তিনি কাঠ সংগ্রহ করতে যান। রাতে আর বাড়ি ফেরেননি।

    তিনি জানান, বুধবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা সীমান্তের ভারতীয় অংশে এক ব্যক্তির লাশ পড়ে থাকতে দেখে খবর দিলে তিনি গিয়ে লাশটি দেখতে পান। ধারণা করা হচ্ছে, গুলিতে আশরাফ উদ্দিন মারা গেছেন।

    এদিকে ভারত সীমান্তের অভ্যন্তরে বাংলাদেশির লাশ পড়ে থাকার বিষয়টি বিজিবিকে জানানো হলে বিজিবি, পুলিশ, বিএসএফ এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নিলে  লাশ সীমান্তের ওপার থেকে লাশ নিয়ে আশা হয়। ।

    কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি উজায়ের আল মাহমুদ জানান, ভারত সীমান্তের ১২০ গজ অভ্যন্তরে লাশটি পড়ে থাকার পর। লাশটি উদ্ধারের জন্য বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফকে জানায়। পরে বিএসএফ লাশটি বাংলাদেশের বিজিবিকে হস্তান্তর করে। এরপর বিজিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। তার বুকে রক্তের দাগ ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

  • নারায়ণগঞ্জে চলতি বছর নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৩৮৪টি

    নারায়ণগঞ্জে চলতি বছর নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৩৮৪টি

    নারায়ণগঞ্জে নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে জেলায়। চলতি বছর জেলায় নারীর প্রতি সহিংসতার ৩৮৪ ঘটনার মধ্যে ১০২টি ধর্ষণের ঘটনা উল্লেখ করে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটি।

    বুধবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে শহরের মিশনপাড়া এলাকায় অবস্থিত সংগঠনটির জেলা কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তারা।

    বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ জেলা সভাপতি রীনা আহমেদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রহিমা খাতুনের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন সাবেক সভাপতি আঞ্জুমান আরা আকসির, সহ-সভাপতি প্রীতি কণা দাস, কৃষ্ণা ঘোষ, লিগ্যাল এইড সম্পাদক জেসমিন আজিজ আলো, সহ-সাধারণ সম্পাদক শোভা সাহা, প্রোগ্রাম এক্সিকিউটিভ সুজাতা আফরোজ প্রমুখ।

    সংবাদ সম্মেলনে চলতি বছরে নারী ও শিশুদের উপর হওয়া অপরাধের চিত্র তুলে ধরা হয়। তাদের দেয়া তথ্যমতে, চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলায় নারী ও শিশু নির্যাতনের ৩৮৬টি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১০২টি ধর্ষণ, ১৬টি শিশু বলাৎকার, ৩১টি হত্যা, ২৭টি আত্মহত্যা, ২৬টি যৌতুকের জন্য নির্যাতন, ৪১টি যৌন হয়রানী, ১৫টি শ্লীলতাহানি, ২৭টি অপহরণ, ৪৯টি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, ১১টি সাইবার ক্রাইম এবং ৪৯টি উত্ত্যক্তকরণের ঘটনা রয়েছে।

    গত বছর জেলায় ৩৮৪টি এবং ২০২২ সালে ৩০৭টি নারী ও শিশু নির্যাতন ঘটনা ঘটেছে।

    রীনা আহমেদ বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা এখন আর তৃণমূলে আটকে নেই। শহরাঞ্চলেও অহরহ এসব ঘটছে। বিশেষ করে ধর্ষণ ও পর্নগ্রাফির ঘটনাগুলো লক্ষণীয়। তথ্যপ্রযুক্তি পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় এনেছে একই সঙ্গে অনেককে বিপথগামীও করেছে। যার ফলে এসব বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে আমরা মনে করছি।

  • সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেক থেকে ফিরছে আটকা পড়া পর্যটকরা

    সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেক থেকে ফিরছে আটকা পড়া পর্যটকরা

    রাঙমাটির বাঘাইছড়ির পর্যটন কেন্দ্র সাজেক ভ্যালিতে আটকা পড়া পর্যটকরা ফিরতে শুরু করেছে। বুধবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুর ২টার দিকে সাজেক থেকে সেনাবাহিনীর সহায়তায় খাগড়াছড়ির উদ্দ্যেশে তারা ফিরতে শুরু করে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) সারাদিন বাঘাইছড়ির সাজেকে আঞ্চলিক দলের মধ্যে গোলাগুলি হয়। এতে করে সাজেক খাগড়াছড়ি সড়কে যান চলাচল না করায় পর্যটকরা গতকাল বিকেল থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত সাজেকে অবস্থান করেন।

    সাজেক কটেজ মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা জানান, যারা গতকাল বিকেলে আটকা পড়েছিলো এবং আজ সকালে যাদের চলে যাবার কথা ছিলো তারা দুপুর ২টার পর সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেক ছেড়ে গেছে। তিনি আরও জানান, ২ দিনের জন্য যারা এসেছে তাদের মধ্যে কিছু পর্যটক এখনো সাজেকে আছেন।

    বাঘাইছড়ি উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা শিরিন আক্তার জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় দুপুর ২টার দিকে ৪৪০ জন পর্যটকরা সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির দিকে রওনা দিয়েছে।

    প্রসঙ্গত, এলাকা নিয়ন্ত্রণে গত কয়েকদিন ধরে সাজেক ও মাচালং এলাকায় সন্তু লারমা জেএসএস ও প্রসীত গ্রুপ ইপিডিএফ দুই অঞ্চলিক দল দফায় দফায় গোলাগুলির ঘটনার ঘটে। তবে এখনো হতাহতর কোন খবর পাওয়া যায়নি।