Blog

  • আসামে আদিবাসী এলাকায় সহিংসতা, দুইজনের মৃত্যু

    আসামে আদিবাসী এলাকায় সহিংসতা, দুইজনের মৃত্যু

    ভারতের আসাম রাজ্যের পশ্চিম কার্বি আংলং জেলার খেরনি এলাকায় নতুন করে সহিংসতা দমন শুরু হয়েছে, যেখানে দুজন নিহত হয়েছে। গুয়াহাটি থেকে প্রায় ১৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এইখেরনি এলাকাটি এ সপ্তাহের শুরু থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন বিক্ষোভকারীরা দোকানপাট ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা, পাথর ও তীর ছোঁড়ার মতো উগ্র প্রদর্শনী চালাচ্ছে। পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় রাজ্য সরকার সেনা মোতায়েন করেছে যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। এই খবর নিশ্চিত করেছে দ্য হিন্দু সংবাদমাধ্যম।

    বিবরণে জানা গেছে, এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় এ সপ্তাহের শুরুর দিকে, বিশেষ করে উপজাতি এলাকায়। সপ্তাহের মাঝামাঝি তার রূপ মহামারীতে পরিণত হয়। কার্বি জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সরকারের দু’টি জমি-ভিলেজ গ্রেজিং রিজার্ভ (ভিজিআর) ও প্রফেশনাল গ্রেজিং রিজার্ভ (পিজিআর) থেকে ‘বহিরাগতদের’ উচ্ছেদ করার দাবির জের ধরে এই সহিংসতা ছড়ায়। এ পরিস্থিতিতে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)-এর ১৬৩ ধারা অনুযায়ী কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি হলেও, বিক্ষোভকারীরা তা অমান্য করে সহিংসতা চালিয়ে যায়।

    আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক এবং বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, শান্তি বজায় রাখতে বুধবার খেরনি এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

    নিহতদের মধ্যে একজন আদিবাসী বিক্ষোভকারী, যিনি সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে পরে মারা যান। অপরজন ছিলেন একজন অ-আদিবাসী প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, যিনি অগ্নিসংযোগের সময় একটি ভবনের ভেতরে আটকা পড়ে দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আসাম সরকার ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে, যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো যায়।

  • সাতক্ষীরা Policía ব্রহ্মরাজপুর ফাঁড়িতে হামলা, ট্রলি চালক ছিনতাই, দুই পুলিশ আহত

    সাতক্ষীরা Policía ব্রহ্মরাজপুর ফাঁড়িতে হামলা, ট্রলি চালক ছিনতাই, দুই পুলিশ আহত

    সাতক্ষীরায় পুলিশ ফাঁড়িতে এক গুরুতর হামলার ঘটনা ঘটেছে বুধবার সকালে। স্থানীয় গ্রামবাসীরা বেতনা নদীর খননকৃত মাটি লুটের জন্য অভিযুক্ত ট্রলি চালক কিসমত আলীকে ছিনিয়ে নেয়ার সময় পুলিশের ওপর হামলা চালান। এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হন, তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয় সদর হাসপাতালে। আহতরা হলেন, ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়ির সহকারি উপ-পরিদর্শক মাহাবুর রহমান ও কনস্টেবল মেহেদী হাসান।

    পুলিশের সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কেসমত আলীসহ একের পর এক চক্র বেতনা নদীর খননকৃত মাটি অবৈধভাবে লুট করে আসছিল। এই চক্রের প্রধান ছিলো ধুলিহর সানাপাড়ার মৃত ইমান আলীর ছেলে কেসমত আলী, যিনি ট্রলি চালাতেন।최근ের খবর অনুযায়ী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে সাতক্ষীরা শহরের একটি ঠিকাদার নেহালপুরের বেতনা নদীর খননকৃত মাটি কিনেছেন বলে উপজেলা প্রশাসন নিশ্চিত করেছে। এর আগে, দপ্তর থেকে সতর্কতা জারি করে যেন কেউ লুটপাটের অপচেষ্টা না করে, বলে নির্দেশ দেয়া হয়। তবে, बुधवार ভোরে কেসমত আলী নেতৃত্বে ৭ থেকে ৮ জনের একটি দল নদীর খননকৃত স্তূপের মাটি কাটতে শুরু করে ট্রলিতে ভরে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছিল। এই খবর পান পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা, তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে মাটি কাটাকারীদের বাধা দেয়। বাধা দিতে গিয়েও কেসমত ও তার সহযোগীরা ধস্তাধস্তির সূচনা করে। এরপর, সকাল ১০টার দিকে, কেসমতকে আটকের সময় তার ভাই রহমত, স্ত্রী শাহানারা ও ছোট ভাই বাবুরালীসহ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জনের গ্রুপ ফাঁড়ির গেট ভেঙে প্রবেশ করে তাকে ছাড়িয়ে নেয়।

    ফাঁড়িতে আটক অবস্থায় মারপিটের শিকার হয় কেসমত। এই পরিস্থিতি শুনে তার পরিবারের সদস্যরা এসে হামলার ঘটনা ঘটায়। সহকারী উপ-পরিদর্শক মাহাবুর রহমান ও কনস্টেবেল মেহেদী হাসান তাদের বাধা দিলে, হামলাকারীরা তাদের পিটিয়ে জখম করে। গ্রামবাসীরা অভিযোগ করে, এই লুটপাটের পেছনে কেসমতের ভূমিকা রয়েছে এবং পিছন দিক থেকে বেশ কিছু শক্তিশালী ব্যক্তি এইসব হামলার মদদ দিয়েছে।

    কেসমত হোসেন নিজে দাবি করেন, সত্যি তিনি মঙ্গলবার সকাল থেকে নদীর মাটি কাটছিলেন। তবে, তাকে ধরে আনার পর আরও বলেন, আর কখনো এই কাজ করবেন না। কিন্তু পুলিশ তার বিরুদ্ধে গড়িমসি না করে মারপিটের অভিযোগ তোলে।

    সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি মোঃ মাসুদুর রহমান জানান, এই ঘটনায় কেসমতসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে আরও ২০-৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত পরিচয় বহু ব্যক্তির নামও রয়েছে, এবং আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

  • বাংলাদেশে সকলেই বাংলাদেশি, সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই

    বাংলাদেশে সকলেই বাংলাদেশি, সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই

    বাংলাদেশের মাটিতে কেউ সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু বলে ভিন্নভাবে ভাবার কোনও স্থান নেই। এখানে সবাই সমানভাবে বাংলাদেশি, ধর্মের চেয়ে নাগরিক পরিচয়ই মূল ভিত্তি। দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করেই একটি সুন্দর এবং শক্তিশালী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে চায় বিএনপি। বুধবার দুপুরে বড়দিন উপলক্ষে নগরীর বিভিন্ন চার্চে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষজনের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করাকালে এসব কথা বলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা। এ সহযোগিতার অংশ হিসেবে, প্রতি বছরের মতো এবারো মহানগর বিএনপি বিভিন্ন চার্চে গিয়ে ফুল ও কেক উপহার দিয়ে বড়দিনের আনন্দ ভাগ করে নেয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত খ্রিস্টান নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়। শফিকুল আলম মনা বলেন, বিএনপি একটি অসাম্প্রদায়িক ও গণতন্ত্রে সমর্থক রাজনৈতিক দল। বাংলাদেশে কেউ সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু হিসেবে বিভক্ত হতে পারেন না। আমরা হাজার বছর ধরে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান – সবাই একসঙ্গে বসবাস করছি এবং এই ঐক্যের ভিত্তিতেই আমাদের শক্তি ও পরিচয়। তিনি আরও বলেন, বড়দিন শুধুই একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি ভালোবাসা, শান্তি ও মানবতার এক অনন্য বার্তা বহন করে। আমরা সবাই এই উৎসবের আনন্দে অংশগ্রহণ করে মানবিকতা প্রচার করতে চাই। শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বার্তাও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের কাছে পৌঁছে দেন শফিকুল আলম মনা। তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান সবসময় বলেন, ধর্মীয় পরিচয় নয়, নাগরিক পরিচয়ই গুরুত্বপূর্ণ। দেশের প্রতিটি মানুষ সমান অধিকার ও মর্যাদার দাবিদার। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। রাজনৈতিক প্রয়োজনের জন্য আমাদের ঢাকায় থাকতে হয়, তাই আজই আমরা মহানগরের বিভিন্ন চার্চে গিয়ে খ্রিস্টান ভাই-বোনদের জন্য বড়দিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। তিনি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের সুখ-শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন এবং আসন্ন ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছাও প্রকাশ করেন, যাতে এই বছর দেশের সমृद्धি, শান্তি ও গণতন্ত্র সুদৃঢ় হয়। এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজ, সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক বদরুল আলম খান, শের আলম সান্টু, খুলনা শালোম এজি চার্চের সভাপতি রেভারেন্ড সুভাষ রায় পাস্টর, সচিব রেভারেন্ড জেমস অসীত বিশ্বাস, মিডিয়া সেলের সদস্য সচিব রকিবুল ইসলাম মতি, বিএনপি নেতা নুরুল হাসান দিপু, মাহবুবুর রহমান লিটু, মোহাম্মদ আজাদ ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

  • শিক্ষিত মানুষের কোনও অভাব নেই, অভাব রয়েছে নৈতিক ও চারিত্রিক গুণসম্পন্ন মানুষের

    শিক্ষিত মানুষের কোনও অভাব নেই, অভাব রয়েছে নৈতিক ও চারিত্রিক গুণসম্পন্ন মানুষের

    জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, শুধুই শিক্ষার মাধ্যমে কোন মানবোত্তম গুণাবলী অর্জিত হয় না; অর্থাৎ, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা ও চারিত্রিক গুণাবলী খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, আমাদের দেশে শিক্ষিত মানুষের কোনো অভাব নেই, বরং অভাব রয়েছে নৈতিক ও চারিত্রিক গুণসম্পন্ন মানুষ। শুধু গুণগুণের অভাবের কারণেই অনেক উচ্চপদস্থ শিক্ষিত মানুষ হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। ইতিহাস বলছে, স্বাধীনতার পরে যে অনেক রাষ্ট্র শুধুমাত্র নৈতিক শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হয়েছে, তারা আজ উন্নত দেশ হিসেবে পরিচিত। আমাদের দেশ স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার করে গেলেও এখনো এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেনি, যা দিয়ে জাতি একসঙ্গে সৎ, যোগ্য ও দক্ষ মানব সম্পদ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

    গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় ফুলতলার আল হেরা আদর্শ মাদ্রাসা আয়োজিত বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মো. আব্দুল গফুর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, ফুলতলা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান ও সহকারী সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল গাওসুল আযম হাদী, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য এড. আবু ইউসুফ মোল্লা, ফুলতলা উপজেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুল আলীম মোল্লা, এম.এ. জামাল, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি শামসুল আলম খোকন, জামায়াতের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা। পরে পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

    অন্যদিকে, সকাল ৮টায় ঢাকার খানজাহান আলী থানা জামায়াত আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মিয়াগোলাম পরওয়ার। সেখানে জেলা ও থানা পর্যায়ে বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। একই দিন বিকেলে গুটুদিয়া ইউনিয়নের লাইন বিলপাবলায় সাধারণ মানুষের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি।

  • দৌলতপুরে বিএনপি অফিস ভাঙচুর মামলায় যুবলীগ নেতা বাচ্চু মোড়ল গ্রেফতার, কারাগারে

    দৌলতপুরে বিএনপি অফিস ভাঙচুর মামলায় যুবলীগ নেতা বাচ্চু মোড়ল গ্রেফতার, কারাগারে

    মহনগর যুবলীগ নেতা বাচ্চু মোড়ল (৫০) কে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গতকাল বুধবার দুপুর ১২টার দিকে দৌলতপুরের বিএল কলেজ গেটের পাশে অবস্থিত রেললাইনের সংলগ্ন একটি অফিস থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। নিশ্চিত করেছেন দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, বাচ্চু মোড়ল যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত হলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। তাকে বিএল কলেজ রোডের বিএনপি অফিস ভাঙচুরের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এলাকা বাসীরা জানিয়েছেন, বাচ্চু মোড়ল দৌলতপুরের শিক্ষা প্রকৌশল অফিসে বিগত দিনে স্বঘোষিত নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার সাথে কোনো সমন্বয় না করেই সাধারণ ঠিকাদাররা দরপত্র দাখিল করতে পারতেন না। ওই প্রতিষ্ঠানটির ঠিকাদার সিন্ডিকেটের অন্যতম নেতা তিনি। দৌলতপুরে বাড়ি ও বিএনপি নেতা মন্নুজান সুফিয়ান ও এসএম কামালের কাছে থাকায় অফিসে তার ওপর ভরসা ছিল। তার কারণে অনেক সাধারণ ঠিকাদার ও অফিসের স্টাফ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তারই হুমকি-ধমকি ও চাপের প্রভাবে অফিসের সব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। তিনি বলেন, তারই প্রচেষ্টায় ওই অফিসে সব সিদ্ধান্ত চলত। প্রকৌশল অফিসে তার দাপট ছিল বলে এলাকার মানুষ জানতেন। ছাত্র-জনতার আন্দোলন ঠেকাতে তার ভূমিকা দেখা গেছে। আন্দোলনরত ছাত্র ও জনতার বিজয়ের পরে কিছুদিন গা ঢাকা দিয়েছিলেন, তবে পরে আবার এলাকায় ফিরে এসে পুনরায় নিজের আধিপত্য দেখাতে শুরু করেন। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীরাও তার অকথ্য হুমকি-ধামকি থেকে মুক্তি পায়নি। দৌলতপুর এলাকায় বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্কের নাম ছিল এই বাচ্চু মোড়ল। তার ভয়ে বাসায় ঘুমাতে পারেন না কিছু এলাকাবাসী, এমনকি মিছিল-মিটিং অনুষ্ঠিতও হয়নি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই মামুন বলেন, গ্রেফতারকৃত বাচ্চু মোড়লকে দৌলতপুর বিএল কলেজ রোডের বিএনপি অফিস ভাঙচুরের মামলায় গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

  • আমরা কখনোই অন্য ধর্মের মানুষের উপর নিপীড়ন বিশ্বাস করি না

    আমরা কখনোই অন্য ধর্মের মানুষের উপর নিপীড়ন বিশ্বাস করি না

    বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৩১ দফা ঘোষণা করেছেন, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুখী, সমৃদ্ধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে নজরুল ইসলাম মঞ্জু এই ৩১ দফার ভিত্তিতে দেশের বিভক্তি দূর করে সম্প্রীতির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করবেন। বিএনপি একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দল, যারা সকল ধর্মের মানুষের প্রতি সমর্থন ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে একত্রিত। তারা কখনোই অন্য ধর্মের মানুষের উপর নিপীড়ন বা নির্যাতনে বিশ্বাস করে না।

    গতকাল বুধবার সকাল ১১টায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বড় উৎসব শুভ বড়দিনের শুভেচ্ছা জানাতে তারা বিভিন্ন কার্যক্রম চালায়। কেক ও ফুলের শুভেচ্ছা স্মারক হিসেবে সোনাডাঙ্গা ক্যাথলিক চার্চের ফাদার বিশ্বাস জেমস রমেনের হাতে তুলে দেন। একইভাবে, সকাল সাড়ে ১১টায় রূপসা স্ট্যান্ড রোডে কয়লাঘাট ব্যাপিস্ট চার্চে বড়দিনের শুভেচ্ছা হিসেবে কেক ও ফুল তুলে দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা ফাদার টিটু চৌধুরীর হাতে।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন আরিফুজ্জামান অপু, নজরুল ইসলাম বাবু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, আনোয়ার হোসেন, ইউসুফ হারুন মজনু, নিয়াজ আহমেদ তুহিন, গিয়াস উদ্দিন বুনি, শামীমুজ্জামান চঞ্চল, ইশহাক তালুকদার, মোস্তফা কামাল, রবিউল ইসলাম রবি, মেহেদী হাসান সোহাগ, মাহবুব হোসেন, ইকবাল হোসেন, মিজানুজ্জামান তাজ, ইমরান হোসেন, আবু তালেব মোল্লা, মাহমুদ হাসান মুন্না, সেলিম বড় মিয়া, তরিকুল ইসলাম লিটন, এড. নাহিদ, কবির বিশ্বাস, জীবন মীর, জুয়েল রহমান, ফয়জুল ইসলাম বাবু ও মামুনুর রহমান রাসেলসহ আর অনেকে।

  • ১৩ ব্যাংকের কাছ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিনেছে অতিরিক্ত ১৪ কোটি ডলার

    ১৩ ব্যাংকের কাছ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিনেছে অতিরিক্ত ১৪ কোটি ডলার

    চলতি ডিসেম্বর মাসে দেশের প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে চলেছে। এই আয়ের সুবিধার কারণে দেশের ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে, মুদ্রা বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার যোগান-চাহিদার ভারসাম্য রক্ষা করতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক আজ (গতকাল, সোমবার) ১৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে মোট ১৪ কোটি ডলার কিনেছে।

    এটি মাল্টিপল প্রাইস অকশনের (এমপিএ) মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ডলের এক্সচেঞ্জ রেট ছিল প্রতি ডলার ১২২ টাকা ২৯ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ৩০ পয়সা পর্যন্ত। উপাচার্য এই ক্রয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামগ্রিক ডলার ক্রয় এখন দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮০৪ মিলিয়ন বা ২.৮০ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, চলতি মাসের ১ থেকে ১০ ডিসেম্বর সময়কালে প্রবাসীরা দেশের জন্য মোট ১২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। গত বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় ছিল ১০৯ কোটি ১০ লাখ ডলার, ফলে এই সময়ে প্রবাসী আয়ের পরিমাণে ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে।

    অর্থবছরের জুলাই থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছে মোট ১ হাজার ৪৩৩ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১২২৩ কোটি ডলার। এ সময়ে দেশের প্রবাসী আয়ের পরিমাণ বেড়েছে ১৭ শতাংশ।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ, প্রণোদনা ও ব্যাংকিং প্রক্রিয়ার উন্নতিতে রেমিট্যান্স আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও স্বস্তি এসেছে।

    অতীতে, নভেম্বর মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রায় ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন, যা বাংলাদেশের মূল মুদ্রায় প্রায় ৩৫ হাজার ২৫২ কোটি টাকা।

  • দেশে-বিদেশে ৬৬,১৪৬ কোটি টাকার সম্পদ সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ

    দেশে-বিদেশে ৬৬,১৪৬ কোটি টাকার সম্পদ সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ

    বিদেশে পাচার করা অর্থ উদ্ধারে বাংলাদেশে মোট ৫৫ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, বিদেশে প্রায় ১০ হাজার ৫০৮ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তিসহ মোট ৬৬ হাজার ১৪৬ কোটি টাকার সম্পদ এই প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে। বুধবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সভা শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করে। এই সভার মূল লক্ষ্য ছিল মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নতুন নীতি প্রণয়ন। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। এ দিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বিদ্যমান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-র কিছু ধারা যুগোপযোগী করে সংশোধন করা হবে। এছাড়াও, আটটি অগ্রাধিকার কেসের জন্য গঠিত যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল বেশ অগ্রগতি অর্জন করেছে। ইতোমধ্যে এই কেসগুলোর মধ্যে ১০৪টি মামলা দাখিল করা হয়েছে, ১৪টি মামলার চার্জশিট জমা হয়েছে এবং চারটি মামলায় আদালত রায় দিয়েছেন। এছাড়াও, দেশের সম্পদ হিসেবে ৫৫,৬৩৮ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি এবং বিদেশের ১০,৫০৮ কোটি টাকার সম্পদ সংযুক্ত ও আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি, ১১টি গুরুত্বপূর্ণ কেসের জন্য ২১টি এমএলএআর (মউলচুয়াল ল সফট) অনুরোধ অন্যান্য দেশের কাছে পাঠানো হয়েছে। সভায় সংশ্লিষ্ট সকলকে দ্রুত চার্জশিট দাখিল, এমএলএআর পাঠানো এবং মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানিলন্ডারিং (এপিজি) কর্তৃক আগামী ২০২৭-২৮ মেয়াদে চতুর্থ মিউচুয়াল ইভ্যালুয়েশনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বাংলাদেশের অবস্থানের মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই সভাতে অংশ নেন ব্যাংক, সংসদ, দুর্নীতি দমন কমিশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, বিএফআইইউ, ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

  • সোনার দাম আরও আকাশছোঁয়া, দেশের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড

    সোনার দাম আরও আকাশছোঁয়া, দেশের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড

    দেশের বাজারে তৃতীয় দফায় আরও বৃদ্ধি পেলো সোনার দাম। ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা করে যোগ করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ ক্যারেটের সোনার। এখন একটি ভরি (প্রায় ১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ১৮ হাজার ১১৭ টাকা, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

    বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) রাতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আগামী সোমবার (২২ ডিসেম্বর) থেকে কার্যকর হবে এই নতুন দাম।

    বাজুস জানিয়েছে, দেশের বাজারে তেজাবি বা দেশি সোনা কিছুটা কমে যাওয়ায় পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম বৃদ্ধি ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে মূল্যবৃদ্ধির পরিমাণ সামারিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারিত হয়েছে।

    এর আগে, ১৫ ডিসেম্বর দফায় দফায় দেশের সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। ওই দিন ১ হাজার ৪৭০ টাকা বৃদ্ধি করে ২২ ক্যারেটের ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ১৭ হাজার ৬৭ টাকা।

    নতুন দাম অনুযায়ী, এখন দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ১৮ হাজার ১১৭ টাকা। এর পাশাপাশি অন্য ক্যারেটের দামের মধ্যে দেখা যাবে: ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৮ হাজার ২০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৭৮ হাজার ৪৫৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৯৯ টাকা।

    অপরদিকে, রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৫৭২ টাকায়। এছাড়া আরও অন্যান্য ক্যারেটের দাম এরকম: ২১ ক্যারেটে ৪ হাজার ৩৬২ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ৩ হাজার ৭৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে এক ভরি রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ২ হাজার ৭৯৯ টাকায়।

  • সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমার সম্ভাবনা জানুয়ারি থেকে

    সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমার সম্ভাবনা জানুয়ারি থেকে

    অর্থ মন্ত্রণালয় সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আবারও কমানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের জন্য মূল প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের অনুমোদন পেলে আগামী জানুয়ারি থেকে নতুন হার কার্যকর হবে। এরপর অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) আনুষ্ঠানিক পরিপত্র জারি করবে। সূত্র জানান, বর্তমানে সঞ্চয়পত্রের সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১১.৯৮ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৯.৭২ শতাংশ। নতুন প্রস্তাবে গড়ে একুশে শতকের কাছাকাছি শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা কমানোর কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রস্তাবটি এখনো তার কাছে পৌঁছায়নি। তবে বেসরকারি ব্যাংকিং খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়ানোর জন্য ব্যাংকাররা সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কিছুটা কমানোর দাবি জানিয়েছেন। সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, অল্প পরিমাণে বিনিয়োগে উচ্চতর মুনাফা এবং বৃহৎ বিনিয়োগে কম মুনাফা নির্ধারণ করা হবে। অর্থাৎ, ৭৫ লাখ টাকার নিচে বিনিয়োগে বেশি মুনাফা দেওয়া হবে, আর এর বেশি বিনিয়োগে হার কম থাকবে। গত ৩০ জুন সরকারের দেশের অর্থনীতির প্রয়োজনীয়তা ও ঋণ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছিল, যেখানে গড়ে একটু কম মুনাফা ঘোষণা করা হয়েছিল। ছয় মাস পরে আবার সেই হার পুনরায় নির্ধারণের কথা জানানো হয়। এই ছয় মাসের সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। আইআরডি সচিব মোঃ আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন, মুনাফার হার বাড়বে না বা কমবে—এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। অর্থ বিভাগের সুপারিশ পেলে পরিপত্র জারি করা হবে। জনপ্রিয় পরিবার সঞ্চয়পত্রে বর্তমানে সাড়ে ৭ লাখ টাকার নিচে বিনিয়োগে পাঁচ বছর শেষে মুনাফা ১১.৯৩ শতাংশ এবং এর বেশি বিনিয়োগে ১১.৮০ শতাংশ। এই হার গত ১ জুলাইয়ের আগে ১২ শতাংশের বেশি ছিল। অন্যদিকে পেনশনার সঞ্চয়পত্রে অনুরূপ বিনিয়োগে মুনাফা ১১.৯৮ শতাংশ এবং পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে যথাক্রমে ১১.৮৩ ও ১১.৮০ শতাংশ। তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে হার ১১.৮২ শতাংশ এবং বেশি বিনিয়োগে ১১.৭৭ শতাংশ। ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের নির্দিষ্ট হিসাবেও একই হার চালু রয়েছে। তবে ইউএস ডলার প্রিমিয়াম ও ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক সাধারণ হিসাবের মুনাফার হার পরিবর্তন আসছে না। অন্যদিকে, বেসরকারি ব্যাংকের প্রতিনিধিরা বলছেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা বেশি থাকায় বড় অঙ্কের অর্থ সরকারি খাতে চলে যায়। হার কিছুটা কমলেও সেই অর্থ ব্যাংকিং খাতে প্রবাহিত হবে, যা ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সহায়ক হবে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই থেকে অক্টোবর) সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার ২,৩৬৯ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করেছে, যা গত অর্থবছরে ঋণাত্মক ছিল। জানা গেছে, অক্টোবরের শেষে সরকারের মোট সঞ্চয়পত্র ঋণের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা।