Blog

  • খালেদা জিয়ার মৃত্যু বাংলাদেশের স্থিতিশীলতায় বড় আঘাত: সজীব ওয়াজেদ জয়

    খালেদা জিয়ার মৃত্যু বাংলাদেশের স্থিতিশীলতায় বড় আঘাত: সজীব ওয়াজেদ জয়

    বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর শুনে গভীর শান্তি অনুভব করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র ও গণসংযোগ উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়ার এই মৃত্যু দেশের স্থিতিশীলতা স্থাপনে এক বিশাল ধাক্কা। মঙ্গলবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে তিনি শোকপ্রকাশ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

    সজীব ওয়াজেদ জয় লিখেন, “বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমি শোক প্রকাশ করছি এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। এই মুহূর্তে, যখন দেশ চলমান গভীর সংকটে ভুগছে – সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় জীবন কাটাচ্ছেন, এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়ে চলেছে – তাঁর চলে যাওয়া বাংলাদেশের জন্য এক গভীর ক্ষতি।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, “অতীতে নানা বিরাজনীতি ও অসংখ্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখেও, খালেদা জিয়া নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অসংখ্য সফলতা অর্জন করেছেন এবং দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা রেখেছেন। তার অবদান জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তবে তার মৃত্যু বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় এক বড় ধাক্কা বলেও তিনি মূল্যায়ন করেন।

    সবশেষে, তিনি বেগম খালেদা জিয়ার অসংখ্য সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

  • ঢাকার রাজপথে শোকের মাতম: খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়

    ঢাকার রাজপথে শোকের মাতম: খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়

    দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী সরকারপ্রধান খালেদা জিয়ানের মৃত্যুতে রাজধানীর প্রতিটি কোলাহল যেন শোকের মাতমে পরিণত হয়। তার জানাজায় অংশ নিতে লাখো মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজধানীর মানিকমিয়া এভিনিউসহ আশপাশের এলাকাগুলো জনসমুদ্রের মধ্যে রূপান্তরিত হয়, যেখানে এক দিকে চোখ যায়, অন্য দিকে মানুষের ঢল। দলমত-নির্বিশেষে শোকার্ত মানুষের দেখা মেলে, যারা তার বিদায় জানাতে এসেছেন। প্রখ্যাত রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সবাই এককথায় বলেছেন—আর কখনো দেশের ইতিহাসে এত বড় মুক্তির ঝড়ের মতো জানাজা অনুষ্ঠিত হয়নি। এই জানাজাকে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বড় জানাজা হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

    বুধবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খালেদা জিয়ানের জানাজা হওয়ার কথা থাকলেও বিকেল ৩টায় সেটা শুরু হয়। আগের দিন থেকেই মানিকমিয়া এভিনিউ ও এর আশপাশের রাস্তার মোড়ে মোড়ে মানুষের আনাগোনা শুরু হয়। জনতার বিশাল ঢল জাহাঙ্গীর গেট, মিরপুর রোড, ফার্মগেট ছাড়িয়ে কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর এবং মগবাজার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। মাইক থেকে উচ্চস্বরে প্রচার করা হয়, আর দর্শনার্থীরা রাস্তায় কাতারবন্দি হয়ে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। কেউ বাসায়, কেউ ফুটওভার ব্রিজে, যেখানে যেখানে জায়গা পান সেখানে দাঁড়ান। এই জানাজায় অংশ নেন শুধু বিএনপি’র নেতাকর্মীরাই নন, সাধারণ মানুষ, চাকরিজীবী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রিকশাচালক, প্রত্যেক শ্রেণী-পেশার মানুষ। এর পাশাপাশি সংসদ ভবন এলাকার গাছ, ফুটপাথ এমনকি কাছাকাছি ভবনের ছাদগুলোতেও ব্যাপক লোক সমাবেশ ছিল।

    প্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়ার বিদায়ে অংশ নিতে ভোর থেকে তীব্র শীতের মধ্যেও মানুষ ছড়িয়ে পড়েন। তারা মানিকমিয়া এভিনিউ, দলের কার্যালয়, এভারকেয়ারসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেন। সকাল থেকে দিনভর তারাও আসতে থাকেন আর বাড়তে থাকে জনস্রোত। জানাজায় অংশ নেওয়া মুসল্লিরা বলেন, এই জানাজা ইতিহাসের অন্যতম বিরল ঘটনা হয়ে থাকবে। শেষ বিদায় হিসেবে এত মানুষের উপস্থিতি খুব কমই দেখা যায়। অনেকের মুখে একটাই কথা—অতি সহজে জীবনধারায় পাওয়া যায় না এই ভাষা, এই অনুভূতি।

    বিশেষ করে ক্ষোভ-আকাশে বাতাসে, আবেগে ভরা এই আড্ডায় উপস্থিত ছিলেন বহির্বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিরা। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, পাকিস্তান, জাপান, সৌদি আরবসহ মোট ৩২ দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন। ভারত সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ভূটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, নেপালের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং পাকিস্তানের স্পিকারসহ অনেক বিদেশিপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। তারা এই অনন্য মুহূর্তে বাংলাদেশের মানুষের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার ভাষা বুঝতে পেরেছেন।

    খালেদা জিয়ার জানাজায় নারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়। জানাজার মূল আসরে নারীদের প্রবেশাধিকার সীমিত থাকলেও আশপাশে হাজারো নারী অশ্রুসজল চোখে বিদায় জানাচ্ছেন দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রীকে।

    বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। এ সময় সেনাবাহিনী তাদের গার্ড অব অনার প্রদান করে। দাফনের পর মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এই মোনাজাতে উপস্থিত ছিল হৃদয় বিদারক অনেক দৃশ্য; নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের গগণবিদারী কাঁদো কাঁদো দৃশ্য পুরো এলাকা স্তব্ধ হয়ে যায়। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতির এক অধ্যায় সমাপ্ত হয়, যা সবসময় স্মরণ থাকবে।

  • ১৭ জেলায় শীতল প্রবাহ, তাপমাত্রা আরও ২ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কা

    ১৭ জেলায় শীতল প্রবাহ, তাপমাত্রা আরও ২ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কা

    দেশের ১৭ জেলায় এখন মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে। এদিকে, সারাদেশে সামনের দিনগুলোতে তাপমাত্রা অনেকে ১ থেকে ২ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর, যার ফলে কিছুটা শীতের এই পরিস্থিতি আবার অপেক্ষাকৃত প্রশমিত হতে পারে বলে ধারণা করছে।

    বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসের ভিত্তিতে আবহাওয়া অধিদফতর এসব তথ্য জানায়।

    আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক জানান, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বিস্তৃতি পশ্চিমবঙ্গ এবং তার সংলগ্ন অঞ্চলসহ উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে রয়েছে, যা উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত।

    তিনি আরও বলেন, আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত অনেক স্থানে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা দুপুর পর্যন্ত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে উড়োজাহাজ, নৌকা ও সড়ক যোগাযোগে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে।

    এছাড়া, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, সিলেট, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, বরিশাল ও ভোলা জেলাসহ কিছু কিছু স্থানে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা কিছুটা প্রশমিত হতে পারে। সারাদিনে রাতের তাপমাত্রা খানিকটা বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে।

    আজ যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যেখানে টেকনাফে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৭ ডিগ্রি।

    আগামীকাল (২ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশে আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে, তবে মধ্যরাত ও সকাল থেকে অনেক স্থানে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা দুপুর পর্যন্ত থাকতে পারে। সেই সঙ্গে, এই পরিস্থিতির কারণে উড়োজাহাজ, নৌকা ও সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের বেশিরভাগ অংশে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকবে, তবে নদী অববাহিকাসহ কিছু কিছু জায়গায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে।

    রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টার পরও একই ধরনের আবহাওয়া থাকতে পারে, যেখানে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার প্রবণতা থাকবে। রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    সোমবার (৫ জানুয়ারি) একই পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে আংশিক মেঘলা আকাশসহ শীতল আবহাওয়া চলমান থাকবে। রাত ও সকালে নদী তলদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সাথে থাকতে থাকবে। সামগ্রিকভাবে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমে যেতে পারে।

    আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে, এবং শীতের এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

  • খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত

    খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত

    শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল সোমবার (১ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার পর থেকে সাধারণ জনগণের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। এই সুযোগে দেশপ্রেমিক নতুন প্রজন্মসহ নানা বয়সের মানুষ সমাধিস্থলে এসে তার জন্য শোক ও শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। তারা ফুলের তোড়া দিয়ে প্রিয় নেত্রীর প্রতি সম্মান জানানোর পাশাপাশি দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নিচ্ছেন।

    আজকের এই বিশেষ দিনে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরীর জিয়া উদ্যানে উপস্থিত হন অসংখ্য মানুষ। বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসা জনতারা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া পড়ছেন এবং কবরের পাশে এসে নীরবে মাথা নত করছেন। কেউ কেউ একসাথে কোরআন তেলাওয়াত করছেন। কিছু মানুষ কবরের পাশে বসে সূক্ষ্ম মনোভাবনায় দোয়া করছেন, আবার অনেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছেন।

    উপস্থিত ব্যক্তিরা জানান, তারা শুধু একজন রাজনৈতিক নেত্রীকে নয়, বরং দেশের একজন মমতাময়ী ও প্রিয় নেত্রীকে সম্মান জানাতে এই কবর জিয়ারতে এসেছেন। কবরের পাশে কিছু মানুষ শান্তভাবে হাত তুলছেন দোয়া করছেন, কেউ বা কোরআন পড়ছেন।

    বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে বেশ সুসজ্জিতভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা যায়। পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে ব্যক্তিদের প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করছে। জানানো হয়েছে, পর্যায়ক্রমে সীমিতসংখ্যক মানুষ কবর জিয়ারতের জন্য প্রবেশ করতে পারছেন।

    সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জিয়া উদ্যানের প্রবেশমুখে দীর্ঘ ভিড় দেখা গেছে। অনেক মানুষ পরিবারসহ এসেছেন, অনেকে একা দাঁড়িয়ে প্রিয় নেত্রীর জন্য দোয়া করছেন। পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রাখতে সব পক্ষই সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

    বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতেও সাধারণ জনগণের কবর জিয়ারত অব্যাহত থাকবে। ধাপে ধাপে প্রবেশের ব্যবস্থা থাকায় আরও বেশি মানুষ এই পুণ্যকাজে অংশ নিতে পারবেন।

    প্রথমদিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রবেশমুখ বন্ধ থাকায় বেশিরভাগ মানুষ বাইরে থেকেই দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। তবে সাড়ে ১২টার পর ধাপে ধাপে কিছু মানুষ কবরজিয়ারতের জন্য ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পান। পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা দীর্ঘ সময় ধরে ভিড় নিয়ন্ত্রণ চালিয়ে যাচ্ছেন।

    গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টার পরপরই রাজধানীর মানিকমিয়া অ্যাভিনিউয়ে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজার মাধ্যমে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফিত হন। জানাজায় ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল রাখমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক।

    দাফনের সময় বিকেল সাড়ে ৪টা নাগাদ স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তার দেহ শায়িত হয়। এরপর তারেক রহমান কবরের উপর মাটি ছিটিয়ে দেন। আরও উপস্থিত ছিলেন তার পুত্রবধূ জুবাইদা রহমান ও শামিলা রহমান, নাতনি জাইমা রহমান, পাশাপাশি আরেক নাতি জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমান।

    বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত জটিল ও সংকটাপন্ন। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন।

  • প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য শতভাগ বই বিতরণ সম্পন্ন

    প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য শতভাগ বই বিতরণ সম্পন্ন

    বছরের প্রথম দিনেই প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণভাবে নির্দিষ্ট বই পেয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আবুল বাসার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে তিনি এ তথ্য উল্লেখ করেন।

    উপদেষ্টা বলেন, এবারের বইয়ের মান আগের তুলনায় আরও উন্নত হয়েছে। এটি একটি উল্লেখযোগ্য সফলতা যা একটি স্বর্ণালী বার্তা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য। মোট ৩০ কোটি বিনামূল্যের পাঠ্যবই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের জন্য এই বছর ছাপানো হয়েছে।

    তিনি জানান, প্রাথমিক স্তরের বইয়ের ছাপা ও বিতরণ প্রক্রিয়া শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে, মাধ্যমিক স্তরের ৬০ শতাংশ বই এখনো বিতরণের জন্য প্রস্তুত।

    ব্রিফিং এ তিনি বলেন, মূলত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পরে রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে এই বছর বই উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা পালন না করে শিক্ষার্থীদের হাতে সরাসরি বই তুলে দেয়া হচ্ছে। তার ভাষায়, গত বছরও বছরের প্রথম দিন পাঠ্যবই উৎসব হয়নি।

    অন্যদিকে, জাতীয় পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষাক্রম বোর্ড (এনসিটিবি) জানিয়েছে, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট বইয়ের সংখ্যা বর্তমানে ৮ কোটি ৫৯ লাখ। সব বই ছাপা, বাঁধাই ও কাটাকাটির কাজ সম্পন্ন হয়ে বিতরণের জন্য সব জেলায় পাঠানো হয়েছে। অগ্রগতির অংশ হিসেবে মাধ্যমিক, দাখিল, দাখিল-ভোকেশনাল ও কারিগরি স্তরের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ এবং সরবরাহের কাজও চলমান রয়েছে। এখন পর্যন্ত ৫৮ শতাংশের বেশি বই সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। তবে, বছর শুরুর দিনে সমস্ত শিক্ষার্থী এখনো মাধ্যমিক স্তরের বই পেয়ে যাচ্ছে কি না সে বিষয়ে নিশ্চয়তা দেওয়া যাচ্ছে না।

  • রাজশাহীতে কলার হাটে ট্রাক উল্টে নিহত ৪, আহত আরো কয়েকজন

    রাজশাহীতে কলার হাটে ট্রাক উল্টে নিহত ৪, আহত আরো কয়েকজন

    রাজশাহী শহরের পুঠিয়া উপজেলার ঝলমলিয়া কলার হাটের পাশবর্তী রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কে একটি বালুবাহী ট্রাক উল্টে পড়ার ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনা বৃহস্পতিবার সকালে সকাল ৮টার দিকে ঘটে। পাশাপাশি আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ঝলমলিয়া কলার হাটের সামনে কুয়াশার কারণে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। নিহত ব্যক্তিরা সবাই কলা ব্যবসায়ী বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    নিহতরা হলেন, নাটোর সদর উপজেলার কাফুরিয়া গ্রামের শাহীন আলীর ছেলে সিয়াম, পাইকপাড়ার আক্কেল প্রামানিকের ছেলে মুনক প্রামানিক, নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার সালাইনগর গ্রামের সৈয়ম উদ্দিনের ছেলে সেন্টু এবং রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার আস্করপুর গ্রামের মৃত মাহাতাব আলীর ছেলে ইসলাম উদ্দিন।

    রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। তিনটির লাশ সুরতহাল শেষে প্রত্যেকের দেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

    অপরদিকে, আহত একজনকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে হাসপাতালে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। রামেক হাসপাতালের পুলিশ বক্স জানিয়েছে, আহত ব্যক্তির চিকিৎসা চলমান।

    এই দুর্ঘটনা দিয়ে কলা বাজারের গুরুত্ব ও সচেতনতার উপর মানুষের চোখ ফেরানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু: দেশের রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও শূন্যতা সৃষ্টি

    বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু: দেশের রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও শূন্যতা সৃষ্টি

    বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের ঘোষণা দেন দলীয় নেতা ও চিকিৎসকরা। এই অপূরণীয় ক্ষতি আর শোকের ভিড়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক গভীর শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিবৃতি দিয়ে জানান, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শুধু দল নয়, বরং পুরো জাতির জন্যই বড় এক হেরফের হয়ে গেল। এটা নেত্রীর আত্মার শান্তির জন্য আমাদের গভীর শোক ও দুঃখের ভাষা মেলা কঠিন। তিনি আরও বলেন, এই শূন্যতা শুধুই রাজনৈতিক নয়; এটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্যও অপূরণীয় ক্ষতি।

    মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে এই শোকের সংবাদ জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, আমরা কখনো ভাবিনি, আজ এই দিনটি দেখতে হবে। আমরা অমূল্য প্রত্যাশা করেছিলাম, সবার মতোই তিনি আবার সুস্থ হয়ে উঠবেন। কিন্তু এই দুঃসংবাদ আমাদের সবাইকে খুবই বিষন্ন করে তুলেছে। তারা ডাক্তার শাহাবুদ্দিনের ঘোষণা শুনিয়েছেন, সকাল ৬টায় আমাদের গণতন্ত্রের মা, আমাদের নেত্রী এই পৃথিবীর আলোর মুখ দেখলেন না। তার জন্য আমরা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি।

    মির্জা ফখরুল জানিয়েছেন, এই শোক অপ্রতুল, অপূরণীয়। দেশের ইতিহাসে এই নেত্রীর অবদান অপরিসীম, তার জীবন ও সংগ্রাম তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুসরণীয়। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া তাঁর সারাজীবন মানুষের অধিকার, কল্যাণ ও গণতন্ত্রের জন্য কাজ করে গেছেন। এখন তিনি আমাদের মাঝে নেই—এটা আমাদের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। রাজনৈতিক কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে আমাদের পক্ষে এই শূন্যতা পূরণ করা সম্ভব নয়। দেশের রাজনীতি এক বিশাল শূন্যতা অনুভব করছে, যা পূরণ হওয়া সহজ নয়।

    বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন করার জন্য একটি বিশেষ ক্যাবিনেট বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে তার মরদেহের ব্যবস্থা, জানাজার আনুষ্ঠানিকতা ও রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদান ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হবে। সরকার ও দলের নেতারা এই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সামনে আরও কাজ করবেন এবং সব কিছু জানিয়েছেন জনগণের সামনে transparently তুলে ধরা হবে।

  • খালেদা জিয়া কোনো নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করেননি

    খালেদা জিয়া কোনো নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করেননি

    বাংলাদেশের জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আজ আর আমাদের মধ্যে নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার ভোর ৬টায় তিনি পৃথিবীর আলোর আলো থেকে চিরবিদায় নেন। তাঁর অকাল মৃত্যু দেশের রাজনীতি ও জনগণের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে থেকে থাকবে।

    খালেদা জিয়া ছিলেন এক অসাম্প্রদায়িক, আপসহীন নেতা, যিনি জীবনে কখনো নির্বাচনে পরাজয় মেনে নেননি। প্রায় চার দশক ধরে বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে তিনি ছিলেন এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। ১৯৯১ সাল থেকে শুরু করে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি তিনটি সংসদ নির্বাচনে প্রতিবারই জয় লাভ করেন এবং তিনি নির্বাচনী এলাকাগুলোর ইতিহাসে নিজস্ব জায়গা করে নিয়েছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবগুলোতেই জয়ী হন।

    অবাক করা বিষয় হলো, ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচন বয়কট করে, এমনকি ২০১৮ সালে তার দুর্নীতির মামলার কারণে আদালতের বিধান অনুযায়ী তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারলেন না। ২০২৪ সালের নির্বাচনও বিএনপি বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে, তিনি অনেকটা ক্ষমতা থেকে দূরে থাকলেও, তার প্রতিপত্তি ও জনপ্রিয়তা আজও অবিচল। দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যে তিনি তার আসনকে নিয়ে ভাবতে পারেননি। তবুও, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আয়োজিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি তার তিনটি আসন থেকে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।

    প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর দায়িত্বকাল ছিল ছয় বছর, তবে দ্বিতীয় দফায় মাত্র এক মাসের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

    বিএনপির মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, ১৯৯১ সালে সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে খালেদা জিয়া ও তার দল বিজয়ী হয়। ওই সময় তিনি দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর নেতৃত্বে সংবিধানে দ্বাদশ সংশোধনী আনা হয়, যা রাষ্ট্রপতি শাসিত থেকে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে।

    ১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর একমাসের জন্য তিনি ষষ্ঠ সংসদের প্রধানমন্ত্রী থাকেন। পরবর্তীতে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হওয়ার পরে ২০০১ সালে পুনরায় নির্বাচনে জয়ী হন, তবে ওই নির্বাচনে তার দল বিএনপি হেরে যায় এবং তিনি হন প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা।

    ২০০১ সালে তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর তিনি বিরোধী দলের নেতৃত্বে থাকেন। কৈশোর থেকে শুরু করে রাজনীতিতে তাঁর পথচলা ছিল সংগ্রামী, আর তার সাহস ও নেতৃত্বের জন্য তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।

  • বিএনপি থেকে রুমিন ফারহানা ও আরও ৮ নেতার বহিষ্কার

    বিএনপি থেকে রুমিন ফারহানা ও আরও ৮ নেতার বহিষ্কার

    বিএনপি শুক্রবার তার সাংগঠনিকstructure অনুযায়ী দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য নয়জন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে। এর মধ্যে রয়েছেন দলের সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, দলের কেন্দ্রীয় সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহ আলম, হাসান মামুন, আব্দুল খালেক, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব তরুণ দে, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব, সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্চারামপুর উপজেলা বিএনপি সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ। মঙ্গলবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী tarafından প্রত্যেকের নাম ঘোষণা করে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

  • খালেদা জিয়া: একটি বর্ণাঢ্য ও প্রয়াত নেত্রীর জীবনকাহিনী

    খালেদা জিয়া: একটি বর্ণাঢ্য ও প্রয়াত নেত্রীর জীবনকাহিনী

    বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একজন অবিসংবাদিত নেত্রী হিসেবে বিবেচিত খালেদা জিয়া ছিলেন ‘আপসহীন নেত্রী’। তার দীর্ঘ জীবনের অর্জন, সংগ্রাম ও শোকের গল্প দেশের বহু হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলেছে। তিনি বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির একজন ক্ষণজন্মা নেতা, যিনি জীবনভর সংগ্রাম, সাফল্য ও বেদনার প্রতিচ্ছবি আঁকেছিলেন।

    খালেদা জিয়ার জন্ম ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে। তার বাবার নাম ইস্কান্দার মজুমদার, মা তৈয়বা বেগম। পরিবারের তিন কন্যার মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। তার শৈশব কেটেছে পরিশ্রমে, পরিচ্ছন্নতা ও ফুলের প্রতি গভীর ভালোবাসায়। পড়াশুনা আগেই শুরু করেন সেন্ট জোসেফ কনভেন্টে, পরে দিনাজপুর সরকারি স্কুল ও সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে উচ্চ শিক্ষা সম্পন্ন করেন। ছোটবেলায় তাকে ‘পুতুল’ ডাক নাম দেওয়া হয়েছিল কেননা তার অবয়ব হয়েছিল খুব সুন্দর।

    বিবাহ life: ১৯৬০ সালে ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে দিনাজপুরের বালুবাড়িতে বিয়ে হয় তার। এই দম্পতির দুই ছেলে— তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো। জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে দেশের রাষ্ট্রপতি হন এবং ১৯৮১ সালের ৩০ মার্চ তিনি শহীদ হন। তার মৃত্যুর পর খালেদা জিয়া রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশ করেন।

    মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে, তিনি বেশ কিছু সময় আত্মগোপনে ছিলেন, পরে ১৬ মে ঢাকায় এসে নৌপথে ঢাকায় প্রবেশ করেন। পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২ জুলাই সিদ্ধেশ্বরীর বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে সেনানিবাসে বন্দি করে। স্বাধীনতা লাভের পর তিনি মুক্তি পান এবং সংসার ও রাজনৈতিক জীবনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

    রাজনৈতিক জীবনের শুরু: তার রাজনৈতিক জীবন ১৯৮২ সালে বিএনপিতে যোগদানের মাধ্যমে শুরু হয়, তখন তার বয়স ছিল ৩৬। তিনি প্রথমে দলের ভাইস চেয়ারপারসন ও পরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তার পরিচিতি আরও বৃদ্ধি পায়। ১৯৯১ সালে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এরপর ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে আবার প্রধানমন্ত্রী হন। তার নেতৃত্বে বিএনপি বিভিন্ন নির্বাচনে জয়ী হয়, যা তার রাজনৈতিক জীবনের বড় সাফল্য।

    তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তিনি দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে তার জীবনেও রয়েছে বিতর্ক, বিশেষ করে দুর্নীতির অভিযোগে। তবে তার দৃঢ়তা ও সংগ্রামী চেতনা তাকে দেশের মানুষের হৃদয়ে অম্লান করে রেখেছে। তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রোগে ভুগে শেষ পর্যন্ত শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ২০২৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি।

    তার জীবনের শেষ সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন, তিনি বিভিন্ন অসুস্থতায় ভুগছিলেন। ২৩ নভেম্বর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর আর আরোগ্য লাভ সম্ভব হয়নি। অবশেষে, তিনি তাঁর প্রিয় মাতৃভূমির জন্য বিদায় নিলেন। তার জীবন ও কর্ম দেশবাসীর জন্য সত্যিই এক অনুপ্রেরণার ইতিহাস।