Month: January 2026

  • ভারতের আতঙ্কে মুসলিম বৃদ্ধের মৃত্যু

    ভারতের আতঙ্কে মুসলিম বৃদ্ধের মৃত্যু

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ‘এসআইআর আতঙ্কে’ আরও এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যা উদ্বেগ ও দুঃখের জন্ম দিয়েছে। এই নৃশংস ঘটনার বিবরণ জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরে এই ঘটনা ঘটে। ৬০ বছরের বৃদ্ধ সুলতান সর্দার এই ঘটনায় শোচনীয় মৃত্যুর শিকার হন। তিনি ভোটার তালিকায় নাম না থাকলেও, সম্প্রতি স্বরূপনগর নির্বাচন অফিসের নির্দেশে তাকে শুনানির জন্য ডাকা হয়। শুনানির জন্য যাওয়ার চার দিন পর, শান্তিপূর্ণ জীবনটি হঠাৎই বিপর্যস্ত হয়ে যায়। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়, সুলতান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরিবার জানিয়েছে, দীর্ঘ দিন ধরে তিনি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন, তবে তার পরিচয়পত্র ও অন্যান্য নথিতে কিছু সমস্যা থাকায় তিনি পরিচিত ছিলেন না। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তার নাম ছিল না, তবে পরিবারের অন্যান্য সদস্যের নাম ছিল। কয়েক দিন আগে, ২৭ ডিসেম্বর, সুলতান স্বরূপনগর নির্বাচন অফিসে শুনানির জন্য গিয়েছিলেন। সেখানে বলা হয়েছিল, তার নথিপত্রে গরমিল রয়েছে। এই খবর শুনে তিনি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং মানসিক চাপ বাড়তে থাকায় তার শরীর দুর্বল হয়ে যায়। দেলোয়ারা বিবি, তাঁর স্ত্রী, জানিয়েছেন, স্বামী ২০০২ সালে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে অন্য রাজ্যে গিয়েছিলেন। সেই সময় তার পিতামাতা ও তার নাম ছিল ভোটার তালিকায়, কিন্তু নিজের নামটি ছিল না। শুনানির একদিন পরে, মানসিক চাপ এবং আতঙ্কে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার ছেলে ওসমান বলেন, ‘এসআইআর আতঙ্কে আমার বাবার মৃত্যু হয়েছে। এই ব্যবস্থাটিকে অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। না হলে আমাদের বাঁচার উপায় থাকছে না।’ এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সব মহলের নজরড় হয়েছে, সাধারণ মানুষ ও পরিবারজনের মধ্যে গভীর চঞ্চলতা তৈরি হয়েছে। তারা এই আতঙ্ক কাটিয়ে ওঠার জন্য দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

  • ইসরায়েল থেকে পালিয়েছে ৭০ হাজার ইহুদি

    ইসরায়েল থেকে পালিয়েছে ৭০ হাজার ইহুদি

    ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সঙ্গে সম্প্রতি শুরু হওয়া সংঘর্ষের কারণে ইসরায়েলি জনগণের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো (সিবিএস) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত ৬৯ হাজারের বেশি ইসরায়েলি দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে টাইমস অব ইসরায়েল প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

    বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে চলছে চলমান যুদ্ধের ফলে স্থানীয় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে দেশের অভিবাসন প্রবণতা বাড়ছে এবং দ্বিতীয় বছরের মতোই এই বছরেও ইসরায়েল থেকে লোকজনের চলে যাওয়ার হার বেড়েছে।

    সিবিএসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যা ১.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড ১ কোটি ১ লাখ ৭৮ হাজারে পৌঁছেছে। যদিও এই প্রবৃদ্ধি গত বছরের মতোই স্থির ছিল, তবে দেশটির ইতিহাসে এটি বেশ ধীর গতির বর্ষের অন্যতম। তবে টাউব সেন্টার ফর সোশ্যাল পলিসি স্টাডিজের এক গবেষণায় পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, ২০২৫ সালে জনসংখ্যার হার ০.৯ শতাংশে নেমে আসতে পারে— যা হবে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১ শতাংশের নিচে।

    সিবিএসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালে প্রায় ২৪ হাজার ৬০০ অভিবাসী নতুন করে ইসরায়েলে এসেছেন, যা গত বছর থেকে ৮ হাজার কম। এই কমতির প্রধান কারণ ছিল রাশিয়া থেকে আসা অভিবাসীদের সংখ্যা হঠাৎ করে কমে যাওয়া। রাশিয়া থেকে ইসরায়েলে অভিবাসনের সংখ্যা ২০২২ সালে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধের পর বেশ বেড়ে গিয়েছিল।

    অনেকে মনে করছেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তন এই প্রবণতাকে প্রভাবিত করছে। এর মধ্যে রয়েছে ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালে হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের পর গাজায় শুরু হওয়া যুদ্ধ এবং সরকারের বিচারব্যবস্থা সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে হতাশা—যা সমালোচকদের মতে দেশের গণতন্ত্রকেও দুর্বল করে দিচ্ছে।

    অন্যদিকে, দীর্ঘসময় বিদেশে বসবাসের পরে প্রায় ১৯ হাজার ইসরায়েলি দেশে ফিরে এসেছেন এবং আরও ৫,৫০০ জন পারিবারিক পুনর্মিলনের জন্য দেশটিতে প্রবেশ করেছেন। ২০২৪ সালে দেশের বাইরে থেকে চলে গিয়ে ফিরে আসা ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ৮২,৭০০, যা আগত মানুষের সংখ্যার থেকে প্রায় ৫০ হাজার কম।

    জনসংখ্যাবিদরা বলেছেন, ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে বেশিরভাগ সময়েই নতুন আগত ইহুদিদের সংখ্যার চেয়ে দেশের বাইরে চলে যাওয়া মানুষের সংখ্যা বেশি ছিল। তবে ১৯৫০ এবং ৮০ এর দশকের কিছু সময় এই প্রবণতা ব্যতিক্রম ছিল।

    সিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার ৭৬.৩ শতাংশ বা ৭৭ লাখ ৭১ হাজার মানুষ ইহুদি ও অন্যান্য ধর্মের, আরব জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ২১ লাখ ৪৭ হাজার বা মোটের ২১.১ শতাংশ। এছাড়াও প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষ বা ২.৬ শতাংশ বিদেশি হিসেবে বসবাস করেন।

  • সুইজারল্যান্ডে নববর্ষের রাতে বারেক আগুনে ৪০ জনের মৃত্যু

    সুইজারল্যান্ডে নববর্ষের রাতে বারেক আগুনে ৪০ জনের মৃত্যু

    সুইজারল্যান্ডের ক্র্যানস মন্টানার একটি জনপ্রিয় স্কি রিসোর্ট শহর রাজধানীর আবহাওয়া পাল্টে দিতে থাকলো। নববর্ষ উদযাপন শেষে ওই শহরের এক বিলাসবহুল বার ‘লে কনস্টেলেশন’-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার ভোরে ঘটে, যখন স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১টা ৩০ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

    দক্ষিণ-পশ্চিম সুইজারল্যান্ডের ওয়ালিস ক্যান্টনের পুলিশ জানিয়েছে, আতঙ্কের মধ্যে শতাধিক মানুষ ওই বারটিতে ছিলেন। তারা জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় অনেকজন আহত ও নিহতের পোস্ট ছিল। যদিও এখনো হতাহতের সঠিক সংখ্যা জানানো হয়নি, তবে স্থানীয় চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৪০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং প্রায় ১০০ জন বিভিন্ন程度ে আহত হয়েছেন।

    পুলিশের মুখপাত্র গেটান ল্যাথিয়ন অগ্নিকা-ের কারণ এখনও নিশ্চিত হয়নি বললেও তিনি জানিয়েছেন, তারা তদন্তে নেমেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, হয়তো কোন কনসার্টে আতশবাজি ব্যবহারের সময় অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। তবে এটি এখনও নিশ্চিত নয়।

    ক্র্যানস মন্টানা হলো একটি প্রিয় বিলাসবহুল স্কি রিসোর্ট শহর, যা আল্পস পর্বতমালার ভ্যালাইস অঞ্চলে অবস্থিত। এটি ব্রিটিশ পর্যটকদের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। জানুয়ারির শেষে এখানে স্পিড স্কিইং বিশ্বকাপের আসর বসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    সুত্র: এনডিটিভি

  • দেশ ও মানুষের স্বার্থে কখনো মাথা নত করেননি দেশনেত্রী খালেদা জিয়া

    দেশ ও মানুষের স্বার্থে কখনো মাথা নত করেননি দেশনেত্রী খালেদা জিয়া

    খুলনা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, এত বড়ো জানাজা, এত সম্মান, এত মানুষের আবেগঘন উপস্থিতি বাংলাদেশের ইতিহাসে আর কখনো দেখা যায়নি। কোন রাজনীতিকের শেষ বিদায়ের এমন দৃশ্য আর দেখা যায়নি। তিনি ব্যাখ্যা করেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশের জন্য এক অনুভূতির নাম। দীর্ঘ নয় বছর তিনি স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে অবিরাম আন্দোলন চালিয়ে যান, যেনতেনভাবে সংগ্রাম করে ১৯৯১ সালে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপিকে পুনরায় রাষ্ট্র ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনেন। মহানগরবাসীর কাছে তিনি পেয়েছেন ‘আপসহীন দেশনেত্রীর’ মর্যাদা। তিনি দেশের স্বার্থ ও মানুষের জন্য চির আপসহীন। দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থে তিনি সকল অপশক্তির সামনে কখনো মাথা নত করেননি। প্রলোভন, ষড়যন্ত্র কিংবা হুমকি—সবকিছুকেই তিনি জীবনের শেষ পর্যন্ত এড়িয়ে চলেছেন। তিনি সবসময়ই দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বাদ আছর নগরীর কেডিএ এভিনিউস্থ তেঁতুলতলা মোড়ে অবস্থিত দলের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের যৌথ উদ্যোগে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে দলের প্রয়াত চেয়রম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মনি, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আরিফুজ্জামান অপু, মাহবুব কায়সার, নজরুল ইসলাম বাবু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, ইকবাল হোসেন খোকন, আনোয়ার হোসেন, ইউসুফ হারুন মজনু, সাদেকুর রহমান সবুজ, মজিবর রহমান ফয়েজ, ইশহাক তালুকদার, শেখ জামিরুল ইসলাম জামিল, রবিউল ইসলাম রবী, মাহিুদ্দিন টারজান, বাচ্চু মীর, শরিফুল ইসলাম বাবু, আব্দুল জব্বার, নাসির খান, আসলাম হোসেন, ওমর ফারুক, খায়রুল ইসলাম লাল, জিএম রফিকুল ইসলাম, মাসুদ খান বাদল, ইকবাল হোসেন, আলমগীর হোসেন আলম, নাহিদ মোড়ল, শামীম খান, জাকারিয়া লিটন, লিটু পাটোয়ারী, খান শহিদুল ইসলাম, গোলাম নবী ডালু, মনিরুল ইসলাম, রিয়াজুর রহমান, মোল্লা ফিরোজ আহমেদ, খান মোঈনুল ইসলাম মিঠু, আলম হাওলাদার, মাজেদা খাতুন, নূরুল ইসলাম লিটন, মাওলানা আব্দুল গফ্ফার, সুলতান মাহমুদ সুমন, এড. রফিকুল ইসলাম, ইফতেখার জামান নবীন, জামাল মোড়ল, আল বেলাল, জাহাঙ্গীর হোসেন, সাখাওয়াত হোসেন, মোল্লা আলী আহমেদ, মাসুদ রেজা, শরিফুল ইসলাম সাগর, আমিনুল ইসলাম বুলবুল, শাকিল আহমেদ, এ আর রহমান, মোঃ সুলতান মাহমুদ সুমন, সুলতান মাহমুদ সুমন, ইউনুচ মোল্লা, মীর মোহাম্মদ বাবু, আল আমিন তালুকদার প্রিন্স, মহিদুল হক টুকু, রাজিবুল আলম বাপ্পি, এম এ সালাম, তালেব মোল্লা, তরিকুল আলম, মাহমুদ হাসান মুন্না, শামসুল আলম বাদল, ইমরান হোসেন, পারভেজ মোড়ল, মেজবাউল আক্তার পিন্টু, হাবিবুর রহমান, সেলিম বড় মিয়া, মামুনুর রহমান, আসমত হোসেন, মারুফুর রহমান, রুহুল আমির রাসেল, সাজ্জাদ আলী, কামরুল আলম খোকন, আল আমিন শেখ, পারভেজ আহমেদ, তানভীর প্রিন্স, নাজমা বেগম ও লাকি অথকার সহ অনেক নেতাকর্মী।

  • রাশেদের মোট সম্পদ সাড়ে ৮১ লাখ, আবু তালিবের ৫৩ লাখ ও ফিরোজের প্রায় ৫৫ লাখ টাকা

    রাশেদের মোট সম্পদ সাড়ে ৮১ লাখ, আবু তালিবের ৫৩ লাখ ও ফিরোজের প্রায় ৫৫ লাখ টাকা

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহ-৪ আসনের (কালীগঞ্জ ও সদর উপজেলার অংশবিশেষ) মনোনয়নপত্র সংগ্রহের ক্ষেত্রে বেশ প্রচুর আগ্রহ দেখা গেছে। মোট ১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও অবশেষে ৯ জন তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এসব দাখিলকৃত হলফনামার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রার্থীদের আয়, সম্পদ ও অন্যান্য অর্থনৈতিক তথ্য বিস্তারিত প্রকাশ পেয়েছে।

    এ আসনে বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রাশেদ খাঁন, জামায়াতে ইসলামী থেকে দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আবু তালিব, এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজের সম্পদ ও আয়ের বিষয়গুলো বিভিন্ন আলোচনায় আসছে।

    বিএনপি প্রার্থী রাশেদ খাঁন তার নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখ করেছেন যে, ব্যবসার মাধ্যমে তার বাৎসরিক আয় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তিনি নিজের নামে ৩০ ভরি এবং স্ত্রীর নামে ১০ ভরি স্বর্ণ আছেন, যা উপহার হিসেবে পেয়েছেন বলে মনে করা হয়। এর পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত নগদ অর্থ রয়েছে ৩৫ লাখ ৪৫ হাজার ৮৭৫ টাকা, আর স্ত্রীর নগদ অর্থ ৩০ হাজার টাকা। বাড়ির আসবাবপত্র, অন্যান্য সামগ্রীসহ তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৮১ লাখ ৪৮ হাজার ৪১২ টাকা, আর স্ত্রীর সম্পদ প্রায় ১৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা। সেইসঙ্গে তার নামে মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে, এর মধ্যে তিনটি চলমান এবং দুইটি খারিজ হওয়া মামলার উল্লেখ রয়েছে।

    জামায়াতে ইসলামী থেকে মনোনিত প্রার্থী মাওলানা আবু তালিব তার হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, কৃষি, ব্যবসা এবং নিজস্ব চাকরি থেকে তার বাৎসরিক আয় ৭ লাখ ৩৫ হাজার ৩৮২ টাকা। তার হাতে নগদ রয়েছে ২৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৪০ টাকা এবং স্ত্রীর কাছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তিনি উপহার হিসেবে পেতেছেন ৫ ভরি স্বর্ণ। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৫৩ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকা, যার মধ্যে বাড়ির আসবাবপত্র, মোটরযান ও কৃষিজমিসহ অন্যান্য মূল্যবান সম্পদ রয়েছে, আর স্ত্রীর সম্পদ প্রায় ৫১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

    অন্যদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ তার হলফনামায় উল্লেখ করেছেন যে, ব্যবসা থেকে তার বাৎসরিক আয় ৪ লাখ ৬১ হাজার ৫১৪ টাকা। বর্তমানে তার নগদ অর্থের পরিমাণ ২৯ লাখ ১৫ হাজার ২০৫ টাকা, এছাড়াও তার কাছে ২২ ভরি স্বর্ণ ও গহনা রয়েছে। উত্তরেরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমির পরিমাণ ৪৭.১৯ শতক, এবং মোট আসবাবপত্র ও কৃষিজমিসহ তার মোট সম্পদ প্রায় ৫৫ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এই হলফনামার ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, যদিও আবু তালিব এবং ফিরোজের কৃষি জমি ও কৃষি আয় রয়েছে, রাশেদ খাঁনের ক্ষেত্রে কৃষি সম্পদ বা কৃষি আয়ের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।

  • খুলনা ওয়াসার অধিকাংশ কর্মকর্তা অনুপস্থিত, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঝুমুর বালার অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ

    খুলনা ওয়াসার অধিকাংশ কর্মকর্তা অনুপস্থিত, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঝুমুর বালার অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ

    খুলনা ওয়াসার বিভিন্ন কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কারণে পরিষ্কারভাবে দেখা যায় যে তারা উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঝুমুর বালার অপসারণের জন্য আন্দোলনে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। এই বিষয়ে জানা গেছে, শোক দিবস ও সাধারণ ছুটির ঘোষণা উপেক্ষা করে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে খুলনা ওয়াসার সব দপ্তর বন্ধ করে কর্মচারীরা প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিয়েছেন। ওয়াসা ভবনের বাইরেWorkers’ Union নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তাঁদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এ সময় বেশিরভাগ কর্মকর্তাকে অফিসে পাওয়া যায়নি।

    বৃহস্পতিবারের এই কর্মসূচির পেছনে রয়েছে শ্রমিক ও কর্মচারীদের অভিযোগ, গত বুধবার দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শোক দিবসের অজুহাতে সব কার্যক্রম বন্ধ থাকার পরও খুলনা ওয়াসার কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। তারা বলেন, ওই দিন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঝুমুর বালা সকল কর্মকর্তার ছুটি বাতিল করে অফিস চালু রেখেছিলেন, তবে তিনি নিজে কালো পতাকা উত্তোলন ও কালো ব্যাজ ধারণ করেননি। এমনকি তিনি জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত না করে গোপনে নিয়োগের বাণিজ্য চালিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

    বুধবারের ঘটনা নিয়ে শ্রমিক ও কর্মচারীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন, ওই দিন অফিসের প্রধান ফটকের সামনে তারা বিক্ষোভ ও র্যালি করেন। এরপরে, বৃহস্পতিবার সকালে খুলনা ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আবারো প্রতিবাদে জড়িত হন, এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ কবির হোসেন। বক্তারা জানান, দেশের শোকের দিন সরকারি ছুটি থাকা সত্ত্বেও অফিস খুলে রাখার বিষয়টি তদন্তের দাবি জানানো হয়।

    শ্রমিক-কর্মচারী নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, এই তারেক্কা শোভাযাত্রা ও কর্মকাণ্ডে দুর্নীতির যোগসাজশের পাশাপাশি রাজনৈতিক চাপ ও অর্থ লেনদেনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাঁরা বলেন, দুর্নীতিগ্রস্ত কর্তারা এখনকে পদোন্নতি পাচ্ছেন এবং একাধিক অপ্রকাশ্য নিয়োগ অবৈধভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি, সাংবাদিকদের হেনস্তা ও অফিসের অপ্রমাণিত অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নেতা কর্মীরা।

    প্রসঙ্গত, শ্রমিক-অভিযুক্ত বিক্ষোভের খবর পাওয়ার পরে অনেক কর্মকর্তাই বৃহস্পতিবার অফিসে আসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ব্যতিক্রম হিসেবে, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঝুমুর বালা অফিসে উপস্থিত হয়নি।

    উল্লেখ্য, এই পরিস্থিতিতে খুলনা ওয়াসার সচিব মাহেরা নাজনীন বলেন, তিনি ওইদিন ছুটিতে ছিলেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। তিনি জানান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঢাকায় রয়েছেন এবং রোববার অফিসে ফিরে আসার পর বিষয়টি দেখা হবে। এর পাশাপাশি, খালিশপুর থানার ওসি মোঃ তৌহিদুজ্জামান জানান, সকালে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন, তবে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ছিল এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

  • খুলনা নগরী ও পূর্ব রূপসায় আওয়ামী লীগের স্লোগান লেখা পোস্টার দেখা গেছে

    খুলনা নগরী ও পূর্ব রূপসায় আওয়ামী লীগের স্লোগান লেখা পোস্টার দেখা গেছে

    খুলনা মহানগরী ও পূর্ব রূপসা এলাকায় এখন বিভিন্ন স্থানে পোস্টার দেখা যাচ্ছে, যেখানে আঁকা হয়েছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গলা তোড়া ভাষা এবং আওয়ামী লীগের অশুভ স্লোগান। এসব পোস্টারে লেখা রয়েছে, ‘দেশদ্রোহীর মুখে লাথি মারুন, জয় বাংলার শপথ করুন, দেশকে রক্ষা করুন! জয় বাংলা’, পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি বিশদভাবে ফুটে উঠেছে।
    সূত্রমতে, এই পোস্টারগুলো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যেমন ট্রাফিক মোড়, সুন্দরবন কলেজের সামনে, পশ্চিম রূপসা ঘাট, মাছের আড়ত, কাঁচা বাজার, তেরগোলা, পূর্ব রূপসা ঘাট, মাহিন্দ্রা স্ট্যান্ডসহ অন্যান্য এলাকায় দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। এ সব পোস্টার দ্রুতই বিভিন্ন স্থানে লাগানো হয় এবং দেখা যায় রাতের অন্ধকারে এসব কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড জনমনে ভয় ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার জন্য পরিকল্পিতভাবে চালানো হচ্ছে। তারা আরও দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত এই বিষয়টি পর্যবেক্ষণ ও জোরালো ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

  • স্বতঃস্ফূর্ত স্বাক্ষর প্রমাণ করে খালেদা জিয়া ছিলেন গণমানুষের আস্থার ও ঐক্যের প্রতীক

    স্বতঃস্ফূর্ত স্বাক্ষর প্রমাণ করে খালেদা জিয়া ছিলেন গণমানুষের আস্থার ও ঐক্যের প্রতীক

    খুলনা মহানগর বিএনপি উদ্যোগে দেশবরেণ্য নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানাতে শোক বই খোলা হয়েছে। এই শোক বইটি খোলা হয়েছে দলীয় কার্যালয়ে, কে ডি ঘোষ রোডে, যেখানে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফুর্তভাবে স্বাক্ষর দিয়ে শ্রদ্ধা ও গভীর সমবেদনা প্রকাশ করতে পারছেন।

    খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, গণতন্ত্রের মা ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা ও গভীর শোক প্রকাশের অংশ হিসেবে এই শোক বই খোলা হয়েছে। এতে দলের নেতাকর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শুভানুধ্যায়ী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি সহ সাধারণ মানুষ স্বাক্ষর করছেন। তিনি আরও জানান, প্রতিদিনই নানা পেশার ও সমাজের মানুষ দলীয় কার্যালয়ে এসে এই শোক বইয়ে স্বাক্ষর করছেন, যা প্রমাণ করে খালেদা জিয়া শুধু একটি দলের নেত্রী নন, তিনি ছিলেন সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক।

    Thursday, এর শোক বইয়ে স্বাক্ষর শেষে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ পারভেজ বাবু, চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজ, সদর থানা বিএনপি’র সভাপতি কে এম হুমায়ুন কবীর, সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির ইকবাল বাপ্পীসহ বিভিন্ন নেতাকর্মী।

    নেতাকর্মীরা বলছেন, বেগম খালেদা জিয়া আজীবন দেশের গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার ও ন্যায়বিচারের জন্য সংগ্রাম করেছেন, এবং তার ত্যাগ ও অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।

    তিনি গত ৩০ ডিসেম্বর ভোর ৬টায় ইন্তেকাল করেন। তার এই অকাল মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। তার মরদেহের জন্য তিন দিনের শোকপ্রদর্শনী শেষে, ৩১ ডিসেম্বর থেকে খুলনা মহানগর বিএনপি কার্যালয়ে শুরু হয় এই শোক বই, যা এখনও সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।

  • কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৩.৫ বিলিয়ন ডলার কিনেছে

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৩.৫ বিলিয়ন ডলার কিনেছে

    চলতি বছর বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখতে পাওয়া গেছে, যার কারণে ব্যাংকগুলোতে অতিরিক্ত ডলার জমা হয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ নিশ্চিত করতে ডলার কিনে যাচ্ছে। রোববার তিনটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ১১ কোটি ডলার কেনা হয়েছে, যা মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এই ক্রয়ে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ছিল প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, চলতি ডিসেম্বর মাসে তারা মোট ৯২ কোটি ডলার কিনেছে। এভাবে মোট এখন পর্যন্ত এই অর্থবছরে জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডলার কেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩,৫৬০ মিলিয়ন বা ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।

    অপর দিকে, এই মাসের প্রথম ২০ দিনেই দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিরা পাঠিয়েছেন মোট ২১৭ কোটি ২১ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে সাড়ে ৯ শতাংশ বেশি। গত বছরের এই সময় দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৯৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

    চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট প্রবাসী আয় এসেছে ১,৫২১ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১,৩১২ কোটি ডলার। ফলে এই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ১৬ শতাংশ।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের উন্নতিতে রেমিট্যান্স বাড়ছে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও স্বস্তিতে রয়েছে।

    অন্তঃত গত নভেম্বর মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের জন্য ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন। এই পরিমাণ অর্থের বাংলাদেশি মুদ্রায় পরিমাণ প্রায় ৩৫ হাজার ২৫২ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে)।

  • টানা ৮ দফা বৃদ্ধির পর সোনার দাম কমল

    টানা ৮ দফা বৃদ্ধির পর সোনার দাম কমল

    বাংলাদেশের বাজারে গত কিছুদিনে টানা আট দফা সোনার দাম বাড়ার পর অবশেষে দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর আগে, দেশের অন্যতম জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, ভরিতে ২ হাজার ৫০৮ টাকা কমিয়ে নতুন দামে সোনার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দামে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম হবে ২ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ টাকা।

    আজ (২৯ ডিসেম্বর) সোমবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস এ তথ্য জানিয়েছে। নতুন দাম আগামী মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) থেকে কার্যকর হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, দেশের তেজাবি বা পিওর গোল্ড (নাজিরা) মূল্য কমেছে। সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় এই দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন দামে, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দামের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে ২ লাখ ১৬ হাজার ৬০০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯১ টাকা। এছাড়া, সনাতন পদ্ধতির (প্রাচীন নিয়ম) ভরিতে সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৩ টাকা।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশের সোনার বিক্রয়মূল্য সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং বাজুসের নিয়মানুযায়ী ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত করে বিক্রি করতে হবে, তবে গহনার ডিজাইন ও মান অনুযায়ী মজুরির পরিমাণে পার্থক্য থাকতে পারে।

    এর আগে, ২৮ ডিসেম্বর দেশের বাজারে সোনার দাম আরও ১ হাজার ৫৭৫ টাকা বৃদ্ধি করে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করে বাজুস, যা ছিল ইতিহাসের সর্বোচ্চ। সেই সময় দামের ঘোষণা হয় ২৯ ডিসেম্বর থেকে। আগের দামের মধ্যে ছিল ২১ ক্যারেটের ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৭৩২ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি ভরি ছিল ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৩১ টাকা।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ৯২ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ৬৪ বার বেড়েছে এবং ২৮ বার কমেছে। ২০২৪ সালে এই সমন্বয় হয়েছিল ৬২ বার; এর মধ্যে দাম বেড়েছিল ৩৫ বার এবং কমেছিল ২৭ বার।

    অপরদিকে, দেশের বাজারে রুপার দাম এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হয় ৬ হাজার ৬৫ টাকায়। ২১ ক্যারেটের জন্য রুপার দাম প্রতি ভরি ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতিতে প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৭৩২ টাকা।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত রুপার দামের সমন্বয় হয়েছে ১৩ দফায়, এর মধ্যে ১০ দফা বেড়েছে এবং ৩ দফা কমেছে। এর আগে, গত বছর রুপার দাম মাত্র ৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল।