বিপিএল ফাইনালের শুরু থেকে ঘণ্টা দেড়েক আগে হাসির রঙ ছিল মাঠেক। তখনই হেলিকপ্টার থেকে ট্রফি নিয়ে মাঠে এলেন রাজশাহীর জনপ্রিয় ক্রিকেটার এবং অধিনায়ক আকবর আলী, সঙ্গে ছিলেন সালমা খাতুন। আকবর, যিনি বাংলাদেশকে যুব বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার পরিচিতি তৈরি করেছেন, তিনি সেই ট্রফি হাতে মিরপুরের দর্শকদের দেখায় উচ্ছ্বাসে মূর্চ্ছিত করলেন। এই বিপিএলে তিনি ডানহাতি উইকেটকিপার ও ব্যাটার হিসেবে রাজশাহীর জন্য খেলেছেন। অন্যদিকে, শেখ মেহেদী ব্যতিক্রমী ফটোসেশন করলেও পুরো দলের অন্য সদস্যরা ট্রফির কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ পাননি। তবে নাইম শেখের জন্য সেই সুযোগটি কেড়ে নিয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম, যিনি দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে বিপিএলের ফাইনালে সেঞ্চুরি করে সবাইকে অভিভূত করেছেন। তার এই সেঞ্চুরির মাধ্যমে রাজশাহী দলের সংগ্রহ হয় ১৭৪ রানের বিশাল পুঁজি। লক্ষ্য তাড়ায় চট্টগ্রাম দল নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে। দ্রুতই চট্টগ্রামকে চেপে ধরেন রাজশাহীর স্পিনার বিনুরা ফার্নান্দো, এরপর উইকেটের পর উইকেট লাভ করেন হাসান মুরাদ। শেষ দিকে অসাধারণ বোলিং করে বিনুরা ম্যাচের পার্থক্য গড়ে তোলেন। ব্যাটিংয়ে ব্যর্থতার কারণেআরটু বেশি রান তোলা সম্ভব হয়নি চট্টগ্রামের। তারা শেষ করে ৬৩ রানে অল আউট, আর এই জয়ে বিপিএলের নতুন চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাজশাহী, যিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন নাজমুল হোসেন শন্ত ও মুশফিকুর রহিম। মিরপুরের শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুতেই দুষ্টু দিক দেখিয়েছে চট্টগ্রাম। তারা শুরু থেকেই ধীরেসুদে খেলেছে, তবে পাওয়ার প্লে শেষে হাত খুলে খেলতে থাকেন ওপেনার তানজিদ। সাতের ওভারে তিনি দু’টি ছক্কা হাঁকিয়ে আক্রমণাত্মক ভাব প্রকাশ করেন। ৯ম ওভারে তিনি আবার দুই ছক্কা মারেন, আর প্রথমে নিজের পারফরমেন্সে আস্থা বাড়ান। তবে সাহসের ঝলক দেখিয়ে ইনিংসের ১৬তম ওভারে উইলিয়ামসনকে দূরে সরিয়ে বড় শট খেলতে গেলে ব্যর্থ হন। এরপর অধিনায়ক জাহিদুজ্জামান সাগর এবং অন্য ব্যাটাররা দ্রুত ফিরে যান। শেষ দিকে, দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে তানজিদ ৬১ বলের ম্যাচে সেঞ্চুরি করে ইতিহাস রচনা করেন। বিপিএলের ইতিহাসে ত্রাণ্য বাংলাদেশি খেলোয়াড় হিসেবে দ্বিতীয়বার ফাইনালে সেঞ্চুরি করেন তিনি, এর আগে ২০১৭ সালে ক্রিস গেইল এবং ২০১৯ সালে তামিম ইকবাল করেছিলেন। তার এই রেকর্ডি পারফরমেন্সের কারণে তিনি এখন বিপিএলে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক। শেষ পর্যন্ত, রাজশাহীর হয়ে শান্ত ৭ বলে ১১ এবং নিশাম ৬ বলে ৭ রান করেন। এই সেঞ্চুরির যুগে রাজশাহী করে ১৭৪ রানের সংগ্রহ। অন্যদিকে, চট্টগ্রামের ব্যাটসম্যানরা শেষ কিছু ওভারে দ্রুত রান করলেও শেষ অবধি তারা ১১১ রানে সব উইকেট হারিয়ে যায়। আবহমের রাজশাহী দলের পুরো পারফরম্যান্সে সবচেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন বিনুরা চারটি, এবং মুরাদ নিয়েছেন তিনটি। এই জয়ে রাজশাহীর ট্রফি ঘরে ফেরে। এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নামা চট্টগ্রাম দলের শুরুটা ছিল ধীর, তবে উইকেট হারানোর পরে তারা ধীরে ধীরে খেলতে থাকেন। ওপেনার সাহিবজাদা শুরুতেই ৩০ বলে ৩০ রান করে উইকেট হারান। এরপর দ্রুতই ফিরে যান তিনে নামা মাহমুদুল হাসান জয়, যিনি ১০ বলে ৯ রান করে সাজঘরে। পরে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন মির্জা এবং হাসান নাওয়াজ, কিন্তু নাওয়াজ যতটুকু সম্ভাবনাময় ছিল, তা পূরণ হয়নি। মুরাদের বল থেকে আউট হন নাওয়াজ। এরপর, তাহির ও আসিফ আলীর ব্যর্থতা দলের মানসিকতাকে দুর্বল করে দেয়। তাহির ৩৬ বলে ৩৯ রান করে স্টাম্পিং হন, আর আসিফ দ্রুত ফিরে যান। শেষের দিকে, ব্যাটসম্যানরা রানের গড় চালিয়ে যান এবং তানজিদ নিজেকে বিপিএলের ফাইনালে সেঞ্চুরির স্বীকৃতি দেন। তিনিই ফাইনালসেরা নিজ দেশের ব্যাটার হিসেবে তৃতীয় বার সেঞ্চুরি করেন রিপোর্ট অনুযায়ী। এই দুর্দান্ত পারফরমেন্সের জন্য তিনি এখন বিপিএলে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক। দলের অন্যান্য সদস্যরা সম্মিলিতভাবে অবদানের মাধ্যমে রাজশাহীর শিরোপা নিশ্চিত করেন। এই ফাইনালে রাজশাহীর হয়ে শেষ দিকে অধিনায়ক শান্ত ৭ বলে ১১ এবং নিশাম ৬ বলে ৭ রান করেন। তানজিদের অসাধারণ শত্যাক্রান্তি আর দলের একজোট প্রচেষ্টা শেষে রাজশাহী জেতার সেই স্বপ্ন সুন্দরভাবে বাস্তবায়িত হয়। এই জয়ে, শরিফুল ব্যাপক পারফরম্যান্স দেখিয়েছেনও, সেক্ষেত্রে তিনি বিপিএলে এক আলাদা রেকর্ড গড়েছেন। তিনি এখন এক আসরে সর্বোচ্চ ২৬ উইকেট সংগ্রহকারী একজন ক্রিকেটার। তার এই পারফরম্যান্স প্রশংসার দাবিদার, আর রাজশাহীর ট্রফি জয় শুধু দলের জন্যই নয়, বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও অত্যন্ত গৌরবের ব্যাপার।
Month: January 2026
-

বিপিএলের সর্বোচ্চ পুরস্কারজয়ী খেলোয়াড় ও সেরা পারফরমাররা
বিপিএলে এই আসরে কিছু তারকা নিউজে নিজেদের দক্ষতা ও পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করেছেন। টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন সাহিবজাদা ফারহান, তানজিদ হাসান ও তামিম ইকবাল। তামিম ইকবাল ৬২ বলে ১০০ রান করে ফাইনালে অসাধারণ সেঞ্চুরি করে সেরা খেলোয়াড় হিসেবে পুরস্কৃত হন। তার এই ব্যাটিং জাদুর জন্য তিনি ৫ লাখ টাকার পুরস্কার পান।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স দলের নেতৃত্বে থাকাকালীন ম্যাচ জয়ের জন্য ব্যাটিং ও বলের দিক দিয়ে দলের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ফাইনালে তিনি পুরো টুর্নামেন্টে ৩৫৬ রান করেছেন, যা তাকে বিশিষ্ট রান সংগ্রাহক হিসেবে তুলে ধরেছে।
অন্যদিকে, ফাইনালের সেরা পারফরমার হিসেবে নির্বাচিত হন পারভেজ হোসেন ইমন। সিলেট টাইটান্সের এই বাঁহাতি ব্যাটার ৩৯৫ রান করে পুরো টুর্নামেন্টের সেরা ব্যাটার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন, আর তাঁর জন্য পুরস্কার হিসাবে পেয়েছেন ৫ লাখ টাকা।
অপরদিকে, বলের দিক দিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের শরিফুল ইসলাম রেকর্ড করেছেন এক আসরের সর্বোচ্চ উইকেট নেয়ার কীর্তি। ১২ ম্যাচে নিয়েছেন ২৬ উইকেট, যা বিপিএলের ইতিহাসে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড। এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য তিনি পেয়েছেন ৫ লাখ টাকা পুরস্কার।
শরিফুলের পারফরম্যান্সের মধ্যে রয়েছে দারুণ পাওয়ার প্লে ও ডেথ ওভারে বল ধারাবাহিকতাও। তিনি বলছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ খুব ভালো লাগছে, তবে চ্যাম্পিয়ন হওয়া হলে আরও বেশি আনন্দ হতো।’
পাশাপাশি, টুর্নামেন্টের সেরা ক্রিকেটার হিসেবে শরিফুলের নাম ঘোষণা করা হয়, যা তিনি আরও ১০ লাখ টাকার পুরস্কার পান। এই পুরস্কার তার পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি। বিপিএল এবার অনেক রোমাঞ্চকর ও בלתי প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল, যেখানে বিভিন্ন খেলোয়াড়ের অসামান্য পারফরম্যান্স দারুণ প্রশংসা কুড়িয়েছে।
-

বিসিবি পরিচালক মোখলেসুর রহমান শামীমের পদত্যাগ
সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক মোখলেসুর রহমান শামীমের বিরুদ্ধে গুরুতর ম্যাচ ফিক্সিং সংশ্লিষ্ট অভিযোগ উঠে এসেছে। এই খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর, তিনি বিপিএলের ১২তম আসরের ফাইনাল ম্যাচের মাঝেই নিজের সব দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে জানান, তাঁর বিসিবি পরিচালক এবং অডিট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিচ্ছেন। এর মূল কারণ, অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে যেন কোনও আপস না হয়, সে জন্য তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ফেসবুক পোস্টে শামীম লিখেছেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে, আমি বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের অডিট কমিটির চেয়ারম্যানসহ আমার সব দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়াচ্ছি, যেন একটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা যায়। এটা কোনোভাবেই দায় স্বীকার নয়, বরং দেশের ক্রিকেট ও প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার দায়বদ্ধতার অংশ।’
শামীম আরো জানান, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া কষ্টের হলেও তিনি দেশের ক্রিকেটের স্বার্থে আপোস করেননি। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে দেশের ক্রিকেটের সুনাম অনেক বড়। তদন্তে আমি পুরোপুরি সহযোগিতা করব এবং বিশ্বাস করি, সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা হবে। সবসময় বাংলাদেশের ক্রিকেটের পাশে ছিলাম, আছি, থাকব।’
-

আইসিসি কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার চিন্তা করছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশ যদি ভারতে অংশগ্রহণ না করে, তাহলে আইসিসি কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটির কর্তৃপক্ষ। দুবাইয়ে আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ বর্তমানে এই বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন, বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।
২০২৬ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি এখন নতুন সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং আইসিসির মধ্যে এই বিষয়ে মতান্তর চলছিল, যা এখন আরও জোরালো আকার ধারণ করেছে।
সূত্রের বরাত দিয়ে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, যদি বাংলাদেশ নির্ধারিত সময়ে ভারতের মাটিতে না অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নায়, তাহলে আইসিসি কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বর্তমানে জয় শাহ দোাবাইয়ে অবস্থান করছেন, যেখানে তিনি এই সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছেন। তবে কী ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, তা সম্পর্কে এখনও কিছু জানাননি আইসিসি কর্তৃপক্ষ।
অন্য এক প্রতিবেদনে সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর সূত্র অনুযায়ী, আইসিসি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ। কারণ, বিসিবির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এই বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘোষণা করার আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে অবহিত করেননি। তার উপরে, ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকেও আইসিসির কাছে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ অর্থাৎ অগ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশের বিকল্প দল হিসেবে স্কটল্যান্ডের নামও এখন আলোচনায় আসতে পারে। আইসিসি আগেই নির্দেশ দিয়েছিল যে, অন্য কোনও দলের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এখন দেখা যেতে পারে, এই সংকট সমাধানে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়।
-

অন্ধ্রপ্রদেশে বাংলাদেশি মুসলিমকে به হত্যা করে পিটানো
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণার একজন মুসলিম শ্রমিককে অন্ধ্রপ্রদেশে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত বুধবার রাতে তাকে মুসলিম বলে অপবাদ দিয়ে চুরির অভিযোগ এনে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ভারতের বিভিন্ন স্থানে বাংলাভাষী মুসলিমদের ওপর চলমান সহিংসতারই এটি একটি tristeতম ঘটনা।
নিহত ব্যক্তির নাম মঞ্জুর আলম লস্কর, তাঁর বয়স ৩২ বছর। তিনি অন্ধ্রপ্রদেশের কোমারোলু এলাকায় হিন্দুত্ববাদীদের হামলার শিকার হয়ে মারা যান। মঞ্জুরের বাড়ি রঙ্গিলাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিষ্ণপুর গ্রামে। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে অন্ধ্রপ্রদেশে জরির কাজ করতেন। দীর্ঘ সময় থাকায় স্থানীয়রা তাঁকে ভালোভাবেই চেনেন। তবে এর পরেও তাঁকে বাংলাদেশি হিসেবে আখ্যায়িত করে সেখানে থেকে চলে যেতে চাপ দেওয়া হয়েছিল।
মঞ্জুরের পরিবার জানিয়েছেন, তাকে প্রথমে অপহরণ করা হয়। পরে মুক্তিপণ হিসেবে ২৫ হাজার রুপি চাপানো হয়। তার স্ত্রী বলেন, বুধবার এক অচেনা নম্বর থেকে ফোনে তাদের মুক্তিপণের জন্য বলা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে তারা ৬ হাজার রুপি জোগাড় করেন। তবে পরের দিন তারা জানতে পারেন, মঞ্জুরকে হত্যা করা হয়েছে।
মঞ্জুরের পরিবারের দাবি, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুষ্কৃতকারীদের দ্রুত ধরা ও শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। তারা পশ্চিমবঙ্গের সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন এই মামলার বিচারের জন্য। তারা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট السلطات দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।
-

ইউরোপীয় ইউনিয়ন স্থগিত করল ভারতের অধিকাংশ পণ্যের জিএসপি সুবিধা
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ভারতের তৈরি পোশাক, বস্ত্র, প্লাস্টিকসহ বেশির ভাগ পণ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা বা জেনারেলাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্সেস (জিএসপি) স্থগিত করেছে। এই সিদ্ধান্ত ১ জানুয়ারি থেকেই কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে ইন্দোনেশিয়া ও কেনিয়ার কিছু পণ্যের জিএসপি সুবিধাও স্থগিত করা হয়েছে।
ইইউর অফিসিয়াল জার্নালে প্রকাশিত এক বিধিমালা অনুযায়ী, এই সুবিধা স্থগিতকরণ ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরে পর্যন্ত প্রভাবী থাকবে। এর আগে, ইউরোপীয় কমিশন (ইসি) এই নিয়ম ২৫ সেপ্টেম্বর জারি করে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ভারতের রপ্তানিকারকদের জন্য এই পরিবর্তন বড় ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসছে। গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (জিটিআরআই) জানায়, জিএসপি স্থগিত হওয়ায় ভারতের থেকে আমদানি করা প্রায় ৮৭ শতাংশ পণ্যে ইইউর শুল্ক আরও বাড়বে। কেবল ১৩ শতাংশ পণ্যে এই সুবিধা থাকবে, যার মধ্যে রয়েছে কৃষি ও চামড়াজাত পণ্য।
জিএসপি মূলত উন্নত দেশগুলোর দ্বারা উন্নয়নশীল আর স্বল্পোন্নত দেশের পণ্যগুলোর ওপর শুল্ক কমানোর বা মওকুফের একটি সুবিধা। এর মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশের পণ্যকে বাজারে প্রবেশের জন্য সুবিধা পাওয়া যায়, যার ফলে রপ্তানি বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতির উন্নয়ন হয়।
উদাহরণস্বরূপ, সাধারণত কোনো তৈরি পোশাকের শুল্ক হার ১২ শতাংশ হলে, জিএসপি থাকলে তা ৯.৬ শতাংশ হতো। কিন্তু এখন জিএসপি স্থগিত হওয়ায় সেই পণ্যটিতে পুরো ১২ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে।
ইইউ ভারত থেকে বিভিন্ন বড় শিল্প খাতের পণ্যে জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে খনিজ, রাসায়নিক, প্লাস্টিক, রাবার, বস্ত্র ও পোশাক, পাথর ও সিরামিক, মূল্যবান ধাতু, লোহা-এস্পাত, মৌলিক ধাতু, ইলেকট্রনিক্স, যন্ত্রপাতি ও পরিবহন সরঞ্জাম।
২০১৩ এবং ২০২৩ সালে ইইউ ভারতের জিএসপি সুবিধা আংশিকভাবে কমিয়েছিল। এবার, এই সুবিধা পুরোপুরি তিন বছরের জন্য বাতিল করা হলো।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলেও জিএসপি স্থগিত হওয়ার কারণে স্বল্প মেয়াদে রপ্তানিকারকদের জন্য বড় বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে। এর পাশাপাশি, ইইউর কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম (সিবিএএম) কার্যকর হচ্ছে, যা আরেকটি চাপ সৃষ্টি করবে।
গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) ভারতের সঙ্গে ইইউর বাণিজ্য ছিল ১৩৬.৫৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ভারতের রপ্তানি ৭৫.৮৫ বিলিয়ন এবং আমদানি ৬০.৬৮ বিলিয়ন ডলার। ভারতের মোট রপ্তানি ভাগের প্রায় ১৭ শতাংশ পণ্যই এই বাজারে যায়।
ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনসের (এফআইইও) মহাপরিচালক অজয় সাহাই বলেন, “ইইউ ভারতের ৮৭ শতাংশ রপ্তানিপণ্যে জিএসপি প্রত্যাহার করেছে। ফলে অধিকাংশ পণ্যে এখন পুরো এমএফএন শুল্ক দিতে হবে। এর ফলে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মতো দেশের সঙ্গে ভারতের প্রতিযোগিতার শক্তি কমবে।
-

ভারতে বাংলাদেশি ভিন্ন পরিচয় দিয়ে মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যা
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচই বাংলাদেশের খেলার কথা ছিল ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে নিরাপত্তা উদ্বেগে বাংলাদেশ এই সিদ্ধান্ত নেয়, এবং বারবার আইসিসিকে লিখে ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানায় বিসিবি। দফায় দফায় আলোচনা সত্ত্বেও আইসিসি থেকে যথাযথ প্রতিকার না পাওয়ায় অবশেষে বাংলাদেশী দল ভারতে না গিয়ে অন্য কোনো সালিসে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এটি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও ঘোষণা না হলেও, এখনকার পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের খেলার সম্ভাবনা বাতিলই বলাই যায়। তবে এই সিদ্ধান্তের জন্য বিসিবি ও দেশের क्रिकेटপ্রেমীরা আইসিসিকে দায়ী করছেন।
বাংলাদেশের সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘ভারত ও পাকিস্তানের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা শঙ্কার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হলেও বাংলাদেশের জন্য আইসিসির মনোভাব ভিন্ন।’ তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি ভারতে বাংলাদেশি সন্দেহে মানুষজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা বেড়েই চলেছে। এরই মধ্যে, গত বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গে জন্ম নেওয়া এক মুসলিম যুবক মঞ্জুর লস্করকে বাংলাদেশি সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করার খবর প্রকাশিত হয়েছে।’
ফারুকী জানান, মূলত এই উদ্বেগের সূচনা হয় মুস্তাফিজের আইপিএল থেকে বাদ পড়ার ঘটনা থেকে। ভারতের কিছু চরমপন্থী হিন্দু নেতা তাকে হুমকি দেওয়ার পর দেশটিতে তার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়। এরপরই বিসিবি বিশ্বকাপে ঢোকা নিয়েও নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা প্রকাশ করে। সংস্কৃতি বিশেষজ্ঞের মতে, ‘মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে সরানোর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণা যুক্ত থাকায় বোঝা যায় যে ভারতে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের জন্য নিরাপত্তা হুমকি অনেক বাস্তব ও গুরুতর।’
এদিকে, ভারতে বাংলাদেশি নামে মুসলিম যুবকদের ওপর সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণার এক মুসলিম শ্রমিক মঞ্জুর আলম লস্করকেও অন্ধ্রপ্রদেশে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত বুধবার রাতে আক্রমণের শিকার তিনি, ‘বাংলাদেশি’ বলে পরিচয় দিয়ে চুরি-লুণ্ঠনের অভিযোগে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া জানায়, ৩২ বছর বয়সী মঞ্জুরের পরিবার জানিয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অন্ধ্রপ্রদেশের কোমারোলু অঞ্চলে শ্রমিকের কাজ করতেন। সেখানে অনেক বছর কাটানোর পরও বারবার তাকে হুমকি দিয়ে বলা হচ্ছে, যেন বাংলাদেশের মানুষ হিসেবেই কাটা হয়। হত্যাকাণ্ডের আগে তার পরিবারের কাছে মুক্তিপণের জন্য ফোন আসে, এরপর পরিবারের চেষ্টায় কিছু টাকা পাঠানো হলে জানানো হয়, তার অবস্থা গুরুতর। কিছুদিন পরে জানা যায়, তাকে হত্যা করা হয়েছে।
মঞ্জুরের বড় ভাই গিয়াসউদ্দিন লস্কর পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের একজন নেতা এবং গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান। তিনি অভিযোগ করেন, এই হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং হিন্দুত্ববাদী ঘৃণামূলক উগ্রবাদী দুষ্কৃতকারীরাই এটি ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, ‘অজ্ঞাত ব্যক্তির ফোনকলের সঙ্গে তাদের যোগসূত্র রয়েছে এবং এই হত্যাকাণ্ডের জন্য তার সহযোগীরাই দায়ী।’
পরিবার জানায়, মনজুরের বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের কবিরাজপুরের বিষ্ণুপুর গ্রামে। তিনি দীর্ঘদিন অন্ধ্রপ্রদেশের কোমারোলু এলাকায় শ্রমিকের কাজ করে আসছিলেন। স্থানীয়দের সঙ্গে পরিচিত হলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, তাকে বারবার ‘বাংলাদেশি’ বলে আঙুল দিয়ে হুমকি দেওয়া হতো। জানা গেছে, প্রথমে তাকে ‘বাংলাদেশি’ বলে তকমা দেওয়া হয়, পরে একটি চুরির মামলায় ফস卷ে ফাঁসানো হয় এবং মরদেহ মেরে ফেলা হয়। এই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের তদন্ত ও দোষীদের গ্রেফতার দাবি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক দল ও স্থানীয় নেতারা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এই ঘটনা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা সৃষ্টি করেছে। তারা অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন দল ও সরকারের অবহেলার কারণে এই ধরনের অমানবিক কাণ্ড ঘটছে। সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, পরিবার এবং গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে এই ধরনের জঘন্য অপরাধ প্রতিরোধ হয়।
-

যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের পরিবারের মধ্যে কলহ, স্ত্রীসহ চারজনকে গুলি করে হত্যা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে পারিবারিক বিরোধের জেরে এক ভারতীয় স্বামী-স্ত্রীসহ চারজন আত্মীয়কে গুলি করে হত্যা করেছেন। এ ঘটনা হয়েছে আটলান্টার কাছাকাছি লরেন্সভিল শহরের এক বাড়িতে, যার খবর ভারতের মিশনের মাধ্যমে এনডিটিভির প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার ভোরে। রাতের অন্ধকারে ওই বাড়িতে অন্ধকারের মধ্যে গুলির ঘটনা ঘটে, যেখানে চারজন নিহত হন। এ সময় ওই বাড়িতে তিনটি শিশু উপস্থিত ছিল, যারা নিজেদের রক্ষায় এক আলমারির ভেতরে লুকিয়ে পড়েছিল।
স্থানীয় পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বলা হচ্ছে অভিযুক্তের নাম বিজয় কুমার (৫১), তিনি আস্থান্তার বাসিন্দা। গুলির ঘটনায় চারজন নিহত হন, তারা হলেন অভিযুক্তের স্ত্রী মীমু ডোগরা (৪৩), তাঁর ভাই গৌরব কুমার (৩৩), নিধি চন্দর (৩৭) ও হরিশ চন্দর (৩৮)।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে চারটি গুরুতর হামলার (অ্যাগ্রাভেটেড অ্যাসাল্ট), চারটি হত্যার (ফেলনি মার্ডার), চারটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যার (ম্যালিস মার্ডার) এবং শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতার অভিযোগ।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শুক্রবার ভোর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটের দিকে ব্রুক আইভি কোর্টের ১০০০ ব্লকে ফোনকল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বাড়ির ভিতরে গিয়ে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে, যারা সবাই গুলিবিদ্ধ। পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ওই সময় বাড়িতে তিনটি শিশু ছিল, যারা নিজেদের রক্ষা করতে আলমারির নিচে লুকিয়ে পড়ে।
শিশুরা একটির মাধ্যমে জরুরি সেবা ৯১১-এ কল করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়, যার ফলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। ভবন ও পরিস্থিতি দেখে মনে হয়, শিশুগুলোর কোনও আহত হওয়ার তথ্য নেই, পরে পরিবারের একজন সদস্য তাদের উদ্ধার করেন।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পরিচালিত তদন্ত আরম্ভ হয়েছে, এ ঘটনায় পরিবার ও বন্ধুবান্ধব শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সব ধরনের সহায়তা দেয়া হচ্ছে।
-

যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে বেরিয়ে গেল
জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির মানবিক ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বুধবার স্থানীয় সময় নিশ্চিত করেছে, সব ধরনের কার্যক্রম পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের এক পরিকল্পনা ছিল, তিনি চেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ডব্লিউএইচও থেকে বেরিয়ে যেতে। প্রথমবারের মতো তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরই এই সংস্থাসহ সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তখন তা সফল হয়নি। তবে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনে, তিনি নির্বাহী আদেশে এ সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেন। এতে করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়, যেখানে বের হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই এক বছর আগে নোটিশ দেওয়া এবং সব পাওনা পরিশোধের শর্ত ছিল। এখনও পর্যন্ত, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে মার্কিন সরকারের নামে ২৬০ মিলিয়ন ডলার অর্থের বকেয়া রয়েছে, যদিও আইনজ্ঞরা মনে করেন, হয়তো এই অর্থ তারা শিগগিরই পরিশোধ করবে না। সংস্থাটির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র এই অর্থ পরিশোধ করে, ততক্ষণ দেশের অবস্থান পরিবর্তন সম্ভব নয়। আইন অনুযায়ী, এটি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা কম। অন্যদিকে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের অর্থায়ন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের সংস্থায় কর্মরত বা দায়ীত্বরত সবাইকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। পাশাপাশি, সংস্থার বিভিন্ন কমিটি, পরিচালনা পর্ষদ, শাসন কাঠামো ও কারিগরি দলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অংশগ্রহণ আর থাকছে না। এই খবরের সূত্র: সিএনএন।
-

সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এগোতে হবে রাষ্ট্রের পুনর্গঠন ও মেরামতের জন্য
খুলনা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ব্যাপক নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা এবং একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনের জন্য সব ধর্মের মানুষকে একত্রে দাঁড়াতে হবে। মুসলমান, হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধর্মের মানুষরা হাজার বছর ধরে এ দেশে শান্তিপূর্ণভাবে বাস করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অব্যাহত রাখতে হবে। তবে গত ১৫ বছরে জনগণ ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আন্দোলন, সংগ্রাম ও শহীদদের ত্যাগের মাধ্যমে এ দেশের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়া গেছে, যা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে।
গতকাল শুক্রবার সকালে খুলনা নিউ মার্কেট কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেন প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এ সময় তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের জন্য তাদের লড়াই চালিয়েছেন, দেশের ইতিহাসে জনপ্রিয় তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এবং বর্তমান বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে চলমান আন্দোলন সংগ্রাম দীর্ঘ সময়ের। মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের ভোটের অধিকার আবারো প্রতিষ্ঠা করা এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করা। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রত্যাশা রচনা করেছেন। এই নির্বাচনের সাফল্য দেশের গণতন্ত্রের স্থায়িত্বের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে তিনি মনে করেন।
শোকার্ত শহরতলির শঙ্খ মার্কেট এলাকায় রিকশা-ভ্যান শ্রমিক দলের একটি নির্বাচনী সভায় সভাপতিত্ব করেন হোসেন ইমাম চৌধুরী পল্টু এবং পরিচালনা করেন খন্দকার আইয়ুব আলী। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। নগর বিএনপি সভাপতি এড. শফিকুল ইসলাম মনা উপস্থিত ছিলেন সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে। এছাড়াও অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা তাদের বক্তব্যে লড়াই এবং দেশের উন্নয়নে জনগণের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বেলাতে বাদ মাগরিব, খুলনা-২ এর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায় খাদেমুল ইসলাম মাদ্রাসার সামনে বালুর মাঠে নির্বাচনীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ড বিএনপি নেতা হাসান মেহেদী রিজভী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। সভায় বক্তব্য দেন খুলনা মহানগর বিএনপি সভাপতি এড. এস এম শফিকুল আলম মনা ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
দৈনিক দিনব্যাপী নির্বাচনী গণসংযোগে বিভিন্ন স্থান odw উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, শের আলম সান্টু, মাহবুব হাসান পিয়ারু, একরামুল হক হেলাল, কে এম হুমায়ুন কবির, নিয়াজ আহমেদ তুহিন, কামরান হাসান, মহিবুল্লাহ শামীম, এড. হালিমা আক্তার, আব্দুর জব্বার, মেশকাত আলী, রিয়াজুর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু, জাকারিয়া লিটন, মাজেদা খাতুন, মোফাজ্জেল হোসেন ও আরও অগণিত নেতাকর্মী। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের উন্নয়নে সকল ধর্মের মানুষের ঐক্য ও অংশগ্রহণ অপরিহার্য এবং সকলে একসঙ্গে এগিয়ে গেলে দেশের আরও সমৃদ্ধ ভবিষ্যত রচনা সম্ভব হতে পারে।
