Month: January 2026

  • ‘প্রাণ দুধ’ খাঁটি খামারিদের সম্মানে নতুন উদ্যোগ

    ‘প্রাণ দুধ’ খাঁটি খামারিদের সম্মানে নতুন উদ্যোগ

    দেশের দুগ্ধশিল্পে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি জানাতে ‘প্রাণ দুধ’ শুরু করেছে ‘প্রাণ দুধ–খাঁটি খামারি সম্মাননা ২০২৬’ কর্মসূচি। আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানের এমসিসিআই সম্মেলন কেন্দ্রে এই ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়।

    ক্যাম্পেইনের উদ্দেশ্য দুই জোড়া — দুগ্ধশিল্পে নিবেদিত প্রান্তিক খামারিদের কৃতিত্ব সম্মানিত করা এবং তাদের অনুপ্রেরণামূলক গল্প তুলে ধরে সমাজের ব্যাপক স্তরে দুগ্ধশিল্পকে টেকসইভাবে এগিয়ে নিতে উৎসাহ দেওয়া। অনুষ্ঠানে প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা সম্মাননা স্মারক উন্মোচন করেন।

    ইভেন্টে জানানো হয়, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত প্রাণ ডেইরীর ১২৪টি গ্রামীণ দুধ সংগ্রহ কেন্দ্র (ভিএমসিসি) থেকে স্পট রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে। পাবনা, রংপুর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, সাতক্ষীরা, খুলনা, যশোর, মাগুরা, কুড়িগ্রাম, নাটোরসহ দেশের অন্যান্য কেন্দ্রগুলোতে তালিকাভুক্ত প্রায় ১৬,০০০ দুগ্ধ খামারি রেজিস্ট্রেশন ফর্মে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করবেন।

    রেজিস্ট্রেশনের পর দ্বিতীয় ধাপে জমা হওয়া আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ জুরি বোর্ড গঠন করা হবে। জুরির প্রাথমিক কাজ হবে ১০ জন ‘খাঁটি খামারি’ নির্ধারণ করা। চূড়ান্ত পর্যায়ে জুরির প্রদত্ত নম্বর ও ভোক্তাদের অনলাইন/সামাজিক গণভোটের সমন্বয়ে সেরা তিনজন খামারিকে নির্বাচিত করা হবে।

    ওই সেরা তিনজনের জন্য থাকবে সম্মাননা স্মারক এবং এক লাখ টাকার সমমূল্যের পুরস্কার; বাকি সাতজনকেও বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হবে।

    প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা বলেন, “এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে দুগ্ধশিল্পে বিশেষ অবদান রাখা খামারিদের সম্মানিত ও অনুপ্রাণিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। তাদের সংগ্রাম ও সফলতার গল্প তুলে অন্যদেরও গাভি লালন-পালনে আগ্রহী করার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি ভোক্তাদের কাছে নিরাপদ ও মানসম্মত দুধ পৌঁছে দেওয়ার প্রাণ দুধের অঙ্গীকারও আমরা তুলে ধরছি।”

    প্রাণ ডেইরীর চিফ অপারেটিং অফিসার মাকসুদুর রহমান বলেন, “দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রাণ দুধ দেশের অসংখ্য খামারিকে ন্যায্য মূল্য, প্রশিক্ষণ ও ভেটেরিনারি সেবা প্রদান করে সহায়তা করছে; ফলে অনেক খামারির জীবনমান লক্ষ্যণীয়ভাবে উন্নত হয়েছে।”

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাণের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (মার্কেটিং) মো. আলী হাসান, প্রাণ ডেইরীর হেড অব মার্কেটিং সৈয়দ মুস্তায়িন কাদের, ব্র্যান্ড ম্যানেজার ফজলে এলাহি নাঈম এবং প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

  • পদ্মশ্রী ঘোষণা ঘিরে বিতর্ক: ‘গোমূত্র গবেষক’ উপাধি নিয়েই হামেশাই টানাপোড়েন

    পদ্মশ্রী ঘোষণা ঘিরে বিতর্ক: ‘গোমূত্র গবেষক’ উপাধি নিয়েই হামেশাই টানাপোড়েন

    পদ্মশ্রী সম্মান ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে রাজনৈতিক তর্কে জড়িয়ে পড়লেন আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক ভি. কামাকোটি। শিক্ষাবিদ ও গবেষণা ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে পদ্মশ্রী দেওয়ার সিদ্ধান্তের পরে সামাজিকমাধ্যমে কেরালা কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া শুরু হয়, যা পরে তীব্র আলোচনার জন্ম দেয়।

    ২০২২ সাল থেকে আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন ভি. কামাকোটি। পদ্মশ্রী পাওয়ার পর তিনি বলেন, এই সম্মান তার কাছে ‘‘ব্যক্তিগত নয়, সমষ্টিগত অর্জন’’ এবং ‘‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’’ লক্ষ্যের উদ্দেশ্যে আরও যত্নসহকারে কাজ করার ঘোষণা দেন।

    তবে পদ্মশ্রী ঘোষণা হতেই কেরালা কংগ্রেসের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট করা হয়। ওই পোস্টে কামাকোটির গত বছরের একটি মন্তব্য টেনে ‘‘গোমূত্র গবেষণা’’-কে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার অভিনন্দন জানানো হয়। গত বছর কামাকোটি দাবি করেছিলেন গোমূত্রে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল গুণ রয়েছে এবং তা আইবিএস (আইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম)সহ কিছু অসুখে উপকারী হতে পারে—আর সেই মন্তব্য থেকেই তৎকালীন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল।

    কেরালা কংগ্রেসের কটাক্ষের জবাবে নেমে জোহো করপোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীধর ভেম্বু কামাকোটিকে সপোর্ট করেন। ভেম্বু লেখেন, কামাকোটি ‘‘ডিপ টেক’’ গবেষক, মাইক্রোপ্রসেসর ডিজাইনের মতো ক্ষেত্রে কাজ করেছেন এবং দেশের শীর্ষ технологий প্রতিষ্ঠানের একাংশের নেতৃত্ব দিয়েছেন—তাই তার এ সম্মান পুরোপুরি প্রাপ্য। তিনি আরও বলেন যে গোমূত্র ও গোবরের মাইক্রোবায়োম নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সম্ভাবনা আছে এবং এটিকে কেবল কিছু মনস্তাত্ত্বিক ধারণা বা ঔপনিবেশিক মনোভাব থেকে বাতিল করা চলে না।

    এরপরই বিতর্ক আরও তীব্র আকার নেয়। কেরালা কংগ্রেস প্রশ্ন তোলে, কেন কেবল গোমূত্র ও গোবর নিয়েই গবেষণা করা হচ্ছে—অন্য প্রাণীর প্রসঙ্গ কেন তোলা হচ্ছে না। তারা মধ্যপ্রদেশে পঞ্চগব্য সংক্রান্ত একটি সরকারি অর্থায়িত গবেষণার প্রসঙ্গ টেনে আর্থিক অনিয়মেরও অভিযোগ আনে।

    ঘটনাক্রমে কেরালা কংগ্রেস শ্রীধর ভেম্বুকে চ্যালেঞ্জও জানায়—যদি গোমূত্রের এত উপকারিতা সত্যিই থাকে, তাহলে একটি বিলিয়নিয়ার হিসেবে তিনি নিজে কেন তা গবেষণায় বিনিয়োগ করছেন না? যদি ক্যানসারের মতো বড় রোগে কোনো কার্যকর ফল পাওয়া যায়, তাহলে সেটাই হবে বিশ্বের কাছে ভারতের বড় অবদান, বলে যোগ করেন তাদের বক্তারা।

    এই বিতর্ক শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রের সীমারেখা নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। সামাজিকমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে এবং বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ—বিজ্ঞানী, রাজনীতিক ও সাধারণ—এ নিয়ে মত প্রকাশ করছেন।

    সূত্র: দ্য ওয়াল

  • চলতি সপ্তাহেই ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

    চলতি সপ্তাহেই ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

    মধ্যপ্রাচ্যের গালফ অঞ্চলের কর্মকর্তাদের বরাতে মিডেল ইস্ট আই জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাতে পারে। ওই হামলায় ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা টার্গেট হতে পারেন—এমনটাই রিপোর্টে বলা হয়েছে।

    ওই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলা এ সপ্তাহে ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে সঠিক সময় পরিবর্তিতও হতে পারে।

    ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে এই বিষয়ে তীব্র আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায় তাতে ইরানের পাল্টা পদক্ষেপ কেমন হতে পারে। কর্মকর্তারা বলেন, প্রবল উত্তাপের মধ্যে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

    পটভূমি হিসাবে উল্লেখ্য, ইরানে গত মাসের শেষ দিকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী আন্দোলন কঠোরভাবে দমন করা হয়েছে। সেই সময় বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগকে বিদ্ধ করে যুক্তরাষ্ট্র হামলার হুমকি উচ্চারণ করেছিল।

    ইরান বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গেলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সরকারি প্রতিষ্ঠান দখলের আহ্বান জানান। কিন্তু দুই দিন পর তিনি বলেন, ইরান সরকার আর বিক্ষোভকারীদের হত্যা করছে না—এর পর থেকে দেখা গেছে হামলার পরিকল্পনায় পরিবর্তন বা স্থগিততার সম্ভাব্যতা তৈরি হয়েছে।

    কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, হামলার আগে পরিকল্পনা আড়াল করতে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেছিলেন; অন্যরা বলছেন তিনি প্রকৃতপক্ষে হামলা থেকে সরে গেছেন।

    এই উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব, কাতার ও ওমান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং সরাসরি আক্রমণের বিরোধিতা করছে। মিডেল ইস্ট আইকে একটি মার্কিন সূত্র জানিয়েছে, তখন হামলা না চালানোর সিদ্ধান্ত ছিল ‘সাময়িক’। আর এক গোয়েন্দা সূত্র বলেছেন, ট্রাম্প এখনও ইরানের সরকার বদলানোর পরিকল্পনা পুরোপুরি ত্যাগ করেননি।

    সূত্র: মিডেল ইস্ট আই

  • চিতলমারীতে গণভোট ও ভোটার সচেতনতা বাড়াতে উঠান বৈঠক

    চিতলমারীতে গণভোট ও ভোটার সচেতনতা বাড়াতে উঠান বৈঠক

    বাগেরহাটের চিতলমারীতে জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে একটি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    রবিবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেল ৫টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সাজ্জাদ হোসেন।

    বাগেরহাট জেলা তথ্য অফিসের উপ-পরিচালক মুইনুল ইসলাম সভার সভাপতিত্ব করেন। অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে ছিলেন সহকারি তথ্য অফিসার বিশ্বজিৎ শিকদার এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবু তালেব শেখ।

    উঠান বৈঠকে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ৬৩টি ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি, গ্রামপুলিশ ও বিভিন্ন বয়স ও পেশার সাধারণ মানুষ অংশ নেন। সভায় বক্তারা ভোটারদের নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার গুরুত্ব বিবেচনায় আনতে বলেন। এছাড়া জনগণকে ভোটারের দায়িত্ব ও ভোটার তালিকা যাচাই করার ওপরও জরুরি অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

    আলোচনায় স্থানীয় মানুষদের প্রশ্ন-উত্তর ও মতামত বিনিময়ও করা হয় এবং সফল, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সকল স্তরের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া হয়।

  • মানুষ ভোট দিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে: মঞ্জু

    মানুষ ভোট দিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে: মঞ্জু

    খুলনা-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, এবারের নির্বাচন নানা কারণে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। গত তিনটি নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি, ফলে এখন দলমত নির্বিশেষে সবাই ভোটে অংশগ্রহণের অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় আছে। তিনি বলেন, “আমরাও মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি। যেখানে যাই, মানুষ জোরালো উপস্থিতি দেখাচ্ছে — এত জনসমাগম, এত আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখে আমরা অবাক। তারা প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলতে আসে, তাদের অভিযোগ জানায় এবং যে পরিবর্তন চায়, সেটাই আমাদের জানায়।”

    মঞ্জু জানান, এবারের নির্বাচন উৎসবমুখর ও সুন্দর হবে। নির্বাচনী পরিবেশ বেশ ভালো আছে এবং নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন খোন্দে কাজ করছে; তিনি এভাবে সকলের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান, যাতে নির্বাচন পর্যন্ত সুষ্ঠু কার্যক্রম বজায় থাকে। তিনি আরও বলেন, “জনগণ উন্নয়ন ও নিরাপত্তা চায় — আমরা এসব নিয়ে কাজ করছি। শুধু ভোট দেওয়াই নয়, সবাইকে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসাটাই এখন সবচেয়ে জরুরি। দেশের সমস্যার সমাধান করতে হলে নির্বাচনে ধানের শীষকে জেতাতে হবে। দেশ আমাদের সকলের, সকল ধর্মের মানুষ একসঙ্গে দাঁড়িয়ে দেশকে গড়বে। এই দেশই আমাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা।”

    মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর শেরে বাংলা রোডের গল্লামারী এলাকায় এবং বেলা সাড়ে ১১টায় ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের বানরগাতি বাজার এলাকায় গণসংযোগ এবং লিফলেট বিতরণকালে তিনি এসব কথা জানান। সেখানে মানুষের ব্যাপক ভীড় ও উত্সাহ লক্ষ্য করা যায়।

    গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, নজরুল ইসলাম বাবু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, হাসানুর রশিদ মিরাজ, মাহবুব হাসান পিয়ারু, আল জামাল ভ‚ঁইয়া, একরামুল হক হেলাল, শের আলম সান্টু, মুজিবর রহমান, নিয়াজ আহমেদ তুহিন, মুজিবর রহমান ফয়েজ, শামসুজ্জামান চঞ্চল, শমসের আলী মিন্টু, মনিরুজ্জামান মনির, মোস্তফা কামাল, কামরুজ্জামান রুনু, শরিফুল ইসলাম বাবু, জামাল উদ্দিন, আব্দুল মতিন, আনিসুর রহমান আরজু, বাচ্চু মীর, খায়রুল ইসলাম লাল, সিদ্দিকুর রহমান, রিয়াজুর রহমান, মাহবুব হোসেন, শেখ আদনান, শরিফুল ইসলাম সাগর, মাজেদা খাতুন, আল বেলাল, জিএম ইব্রাহিম হাওলাদার, মনিরুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, মহিদুল হক টুকু, আবুল বাসার, সরদার শহিদুল ইসলাম, আব্দুস সালাম, মাহমুদ হাসান মুন্না, হুমায়ুন কবির, আবু বক্কার, শাহাবুদ্দিন আহমেদ, হেদায়েত হোসেন হেদু, ইমরান হোসেন, সোহরাব হোসেন, আশিকুর রহমান, ওহেদুজ্জামান, আব্দুর রহিম, শেখ বায়জিদ, কামরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, শামীম হাওলাদার, খায়রুল বাসার, কামাল হোসেন, মুন্সি হাসিবুর রহমান, জলিলুর রহমান, আবিদ আল রহাত, মাসুম বিল্লাহ, সাজ্জাদ হোসেন, মনিরুল ইসলাম হিরা, আফজাল হোসেনসহ বিএনপি থানা, ওয়ার্ড ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

  • নিপাহের ছায়ায় অনিশ্চয়তায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬

    নিপাহের ছায়ায় অনিশ্চয়তায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ দরজায়, কিন্তু ভারতের সাম্প্রতিক নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আয়োজন সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মূল আয়োজক ভারত ও সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় টুর্নামেন্টটি ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ভারতের পাঁচটি ভেন্যু—আহমেদাবাদ, দিল্লি, কলকাতা, চেন্নাই ও মুম্বাই—এবং শ্রীলঙ্কার কলম্বো ও ক্যান্ডির তিনটি ভেন্যুতে মিলিয়ে মোট ৫৫টি ম্যাচ খেলা হবে।

    তবে সাম্প্রতিক নিপাহ সংক্রমণ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে যে, আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও ভক্তদের নিরাপত্তা কিভাবে নিশ্চিত করা যাবে। কয়েকটি স্বাস্থ্যসংস্থা ও সংবাদমাধ্যম উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে এবং কিছু কণ্ঠ টুর্নামেন্টটি পুরোপুরি শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছে। তেমন আলোচনা চললেও ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বলছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে এবং আউটব্রেকটি আপাতত ছোট আকারের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) এই নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা দেয়নি।

    আন্তর্জাতিক ভ্রমণে কঠোর লেগে যেতে পারে — বিশেষ করে যদি সংক্রমণ বাড়ে। অনেক দেশে ইতোমধ্যে বিমানবন্দরগুলোতে স্ক্রিনিং বাড়ানো হয়েছে। কোয়ারেন্টিন বিধি বা ট্রাভেল রেস্ট্রিকশন পুনরায় আরোপ করা হলে খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি ও ভক্তদের খেলার আনন্দে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ (সেমিফাইনালসহ) হওয়ার কথা থাকায় পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি বিশেষভাবে নজরদারি দাবি করছে।

    জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে পশ্চিমবঙ্গের বারাসাত এলাকায় নিপাহ ভাইরাসের ক্লাস্টার শনাক্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত সেখানে পাঁচ জনের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে, যাদের মধ্যে নার্স ও ডাক্তারসহ স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তবে এই ক্লাস্টারে এখনও কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ক্লাস্টার নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে; ১০০–২০০ জনের বেশি সম্ভাব্য সংস্পর্শ ব্যক্তিকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে এবং শতাধিক নমুনার পরীক্ষায় বেশিরভাগ নেগেটিভ এসেছে। সূত্রভিত্তিক খবরগুলোতে এই তথ্য উঠে এসেছে।

    এর আগে ২০২৫ সালেও কেরালায় নিপাহ দিয়ে চারটি কেস রিপোর্ট হয়েছিল, যার মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গে এটিই ২০০৭ সালের পর সবচেয়ে বড় আউটব্রেক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    নিপাহ একটি জুনোটিক ভাইরাস; মূল উৎস ফলের বাদুবড় (ফ্রুট ব্যাট)। সংক্রমণ সাধারণত কাঁচা খেজুরের রস বা দূষিত খাদ্য, সংক্রমিত প্রাণীর সংস্পর্শ, অথবা ক্লোজ কন্টাক্টে মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায়। উপসর্গ হিসেবে জ্বর, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট এবং গুরুতর ক্ষেত্রে এনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কের প্রদাহ) দেখা দিতে পারে। রোগের মৃত্যুর হার ইতিহাসভিত্তিক রিপোর্টে প্রায় ৪০–৭৫% পর্যন্ত ধরা হয়েছে। এ মুহূর্তে নিপাহের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক বা নিশ্চিত নিরাময়ের পথ নেই; কিছু ক্ষেত্রে সমর্থনমূলক চিকিৎসা ও পরীক্ষামূলক ওষুধ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটিকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ভাইরাস হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

    স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যদল, সহায়তাকারী চিকিৎসা টিম এবং জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ মিলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিষ্পন্দন কিংবা টুর্নামেন্ট সরানোর মতো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে পরিস্থিতি কড়া নজরদারি ও তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

    স্বল্প সময়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর কথা হওয়ায় আগামী দিনগুলোতে সংক্রমণের প্রবণতা, স্থানীয় স্বাস্থ্যবিধি এবং আইসিসি ও আয়োজকদের অনিয়ন্ত্রিত রণনীতি নির্ধারণি ভূমিকা রাখবে। ক্রিকেট প্রেমীরা এবং অংশগ্রহণকারীরা এখন স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কিত আপডেটগুলোর দিকে নজর রাখছেন।

  • আইসিসি র‍্যাংকিংয়ে সুখবর — বাছাইপর্ব জিতে এগোচ্ছে বাংলাদেশের ব্যাটাররা

    আইসিসি র‍্যাংকিংয়ে সুখবর — বাছাইপর্ব জিতে এগোচ্ছে বাংলাদেশের ব্যাটাররা

    নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে চার ম্যাচ খেলে সবকটিতেই জয়ের ধারা বজায় রেখেছে বাংলাদেশ। দলীয় সাফল্যের সঙ্গে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও চোখে পড়ার মতো; সেই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে আইসিসি র‍্যাংকিংয়ে।

    সর্বশেষ ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে ফিফটি করেছেন শারমিন আক্তার। সেই ইনিংসের সুবাদে তিনি টি-টোয়েন্টি ব্যাটারদের র‍্যাংকিংয়ে ২২ ধাপ উঠে এখন ৩৫তম স্থানে—এটাই তার ক্যারিয়ারের সেরা অবস্থান। অভিজ্ঞ এই ব্যাটার দলের জন্য যে গুরুত্ব রাখেন, তা র‍্যাংকিংয়ে উন্নতিতে স্পষ্ট হয়েছে।

    অপর ওপেনার দিলারা আক্তারও দারুণ ব্যাটিং করেছেন। নামিবিয়ার বিপক্ষে ২৫ ও আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩৫ রান করে তিনি প্রথমবারের মতো সেরা একশে জায়গা করে নিলেন। র‍্যাংকিংয়ে ৩৩ ধাপ উন্নতি করে এখন তিনি যৌথভাবে ৭০তম স্থানে অবস্থান করছেন।

    গত দুই ম্যাচে যথাক্রমে ২৭ ও ৩০ রান করে নজর কাড়েছেন সোবহানা মোস্তারি; তাতে করে তিনি র‍্যাংকিংয়ে ১১ ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে ৫২তম স্থান লাভ করেন। এছাড়া স্বর্ণা আক্তারও ভালো পারফরম্যান্সের ফলে ১৭ ধাপ এগিয়ে ৮৩ নম্বরে উঠেছেন।

    বোলিং বিভাগেও অগ্রগতি আছে। নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ৩ উইকেট নিয়ে ফাহিমা খাতুন র‍্যাংকিংয়ে ৬ ধাপ উঠে এখন ৩০তম স্থানে আছেন। একই ম্যাচে চার উইকেট নেন সানজিদা আক্তার মেঘলা; তিনি ৬ ধাপ এগিয়ে ৫৪তম স্থানে অবস্থান করছেন। লেগ স্পিনার রাবেয়া খান নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ৩টি ও আয়ারল্যান্ড ম্যাচে ১টি উইকেট পেয়ে ১ ধাপ এগিয়ে এখন ১৪তম স্থানে রয়েছেন।

    সংক্ষেপে, বাছাইপর্বে দলের সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সগুলোও র‍্যাংকিংয়ে প্রভাব ফেলেছে। টাইগ্রেসদের ধারাবাহিক এই খেলায় আত্মবিশ্বাস বাড়বে—এটাই আশা করা হচ্ছে।

  • ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদের মৃত্যু

    ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদের মৃত্যু

    ঢালিউডের সোনালি দিনের জনপ্রিয় নায়ক ও কালজয়ী নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘ সময় ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই শেষে ৮২ বছর বয়সে আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জাভেদ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এবং গোপনে চিকিৎসা চলছিল। গত বছরের এপ্রিলেও তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

    জাভেদের স্ত্রী ডলি চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে জানান, আজ সকালেই তাঁর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। কয়েকদিন ধরে বাড়িতেই ডাক্তার ও দুই নার্স এসে তার পরিচর্যা করছিলেন। সকালে নার্সরা এসে দেখতে পান তাঁর সমস্ত শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে। পরে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ডেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ইলিয়াস জাভেদের জন্ম ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়রে। প্রথমে সপরিবারে পাঞ্জাবে চলে গেলেও পরবর্তীতে তিনি ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে এসেছেন এবং সেখানে তার বদলানো পরিচয়-মুখে গড়ে ওঠে।

    নাটকীয় ক্যারিয়ারের শুরু হয় নৃত্যপরিচালনা দিয়ে। নায়ক হিসেবে রুপালি পর্দায় অভিষেক ঘটে ১৯৬৪ সালের উর্দু সিনেমা ‘নয়ী জিন্দেগি’ থেকে। তবে তার ভাগ্যের ঘূর্ণি বদলে যায় ১৯৬৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পায়েল’ ছবির মাধ্যমে; এই ছবিতে তার সঙ্গে ছিলেন কিংবদন্তি নায়িকা শাবানা। পরিচালক মুস্তাফিজ তাঁকে ‘জাভেদ’ নামে খ্যাতি দেন।

    পরবর্তীতে একের পর এক ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকের মনে ‘ড্যান্সিং হিরো’ নামে এক আলাদা স্থান করে নেন। ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৮৪ সালে তিনি বিয়ে করেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ডলি চৌধুরীকে। জাভেদের আসল নাম ছিল রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। জীবদ্দশায় তিনি শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

    সত্তর ও আশির দশকের দর্শকদের কাছে জাভেদ মানেই ছিল ঝড়গ্রস্থ নাচ আর কঠোর একশন—এক ধরনের আকর্ষণীয় মিশ্রণ। তাঁর প্রয়াণ বাংলা চলচ্চিত্রের এক যুগের সমাপ্তি বলেই মনে করছেন অনেকে। দীর্ঘ দিন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে নিভৃতে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন এই গুণী শিল্পী।

    জাভেদের অসংখ্য ছবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল: ‘মালেকা বানু’, ‘নিশান’, ‘পাপী শত্রু’, ‘রক্ত শপথ’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’, ‘কাজল রেখা’, ‘অনেক দিন আগে’, ‘আজও ভুলিনি’, ‘কঠোর’, ‘মা বাবা সন্তা্ন’, ‘রাখাল রাজা’, ‘রসের বাইদানী’, ‘জীবন সঙ্গী’ ও ‘আবদুল্লাহ’।

    ইলিয়াস জাভেদের মৃত্যুতে ঢালিউড শিল্পী সমাজ ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি পর্দায় যা দিয়েছেন—উৎসবমুখর নাচ, আবেগঘন অভিনয় ও অনবদ্য উপস্থিতি—সেগুলো দীর্ঘদিন স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেই।

  • ওশিওয়ারায় গুলি চালানোর অভিযোগে বলিউড অভিনেতা কামাল আর খান গ্রেফতার

    ওশিওয়ারায় গুলি চালানোর অভিযোগে বলিউড অভিনেতা কামাল আর খান গ্রেফতার

    মুম্বাইয়ের ওশিওয়ারা এলাকায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় বলিউড অভিনেতা ও চলচ্চিত্র সমালোচক কামাল আর খান, ওরফে কেআরকে-কে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) তাকে আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ওই এলাকার একটি আবাসিক ভবনে চার রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে মুম্বাই পুলিশ।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কেআরকে স্বীকার করেন যে গুলিগুলো তার লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক থেকেই ছোড়া হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন যে কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্য তার ছিল না। পুলিশের ধারণা মোতাবেক ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ ও আরও প্রমাণ সংগ্রহের জন্য তদন্ত চলছে।

    অভিনেতা পুলিশকে জানান, বন্দুক পরিষ্কার করার পর সেটি ঠিকমতো কাজ করছে কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য তিনি বাড়ির সামনের ম্যানগ্রোভ এলাকার দিকে গুলি ছোড়েন। তিনি বলেন, বাতাসের গতিবেগের কারণে গুলিগুলো লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পাশের একটি আবাসিক ভবনে গিয়ে লাগে।

    কামাল আর খান বলিউডে বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। ২০২২ সালে একটি যৌন হেনস্তার মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারবিষয়ক অভিযোগ উঠেছিল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কটাক্ষমূলক ও উসকানিমূলক মন্তব্যের কারণে তার বিরুদ্ধে একাধিক মানহানি ও আইনি মামলা রয়েছে। স্থানীয় পুলিশ এখন ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেবে বলে জানানো হয়েছে।

  • টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নতুন মোড় — পাকিস্তান না খেললে ডাক পেতে পারে বাংলাদেশ

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নতুন মোড় — পাকিস্তান না খেললে ডাক পেতে পারে বাংলাদেশ

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই ক্রিকেট মহলে নতুন এক নাটক চলছে — বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার পর এবার ফের বিশ্বকাপে সাময়িকভাবে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা উঠেছে। ভারতীয় পত্রিকা হিন্দুস্তান টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি পাকিস্তান বিশ্বকাপ বর্জন করে, তাহলে তাদের জায়গায় যোগাযোগ করে বাংলাদেশকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

    প্রতিবেদনে আইসিসির এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতিও আছে, যেখানে বলা হয়েছে পাকিস্তান না খেললে বাংলাদেশকে ‘এ’ গ্রুপে রাখা হতে পারে এবং অনুষঙ্গ হিসেবে সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হবে। সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় হলে আয়োজনে জটিলতা কমে যাবে—এটিই মূলত বিসিবার অনুরোধ ছিল।

    এর আগেই, ২৪ জানুয়ারি আইসিসি বাংলাদেশের বদলে স্কটল্যান্ডকে রেখে নতুন সূচি প্রকাশ করে। একই দিন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) প্রধান মোহসিন নাকভি দাবি করেন যে আইসিসি বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় করেছে। নাকভির কথায়, বাংলাদেশ চেয়েছিল তাদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় নেওয়া হোক, কিন্তু আইসিসি সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি—আর ঠিক এই সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বকাপের বাইরে পড়ে।

    বাংলাদেশ বাদ পড়ার দিনেই নাকভি বলেছেন, সরকার নির্দেশ দিলে পাকিস্তান বিশ্বকাপে অংশ নাও নিতে পারে। এরপরের দিনগুলোতে পাকিস্তানি মিডিয়ায় নানা খবর আসে: কেউ বলছে তারা শুধুমাত্র ভারতের বিরুদ্ধে খেলাটি বয়কট করতে পারে, আবার কেউ বলছে পুরো টুর্নামেন্টই বর্জনের কথা ভাবা হচ্ছে। নাকভি পরে সাংবাদিকদের দেখাতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে একটি বৈঠকের ছবি পোস্ট করে জানান যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সব সম্ভাব্য বিকল্প খোলা রাখা হচ্ছে। পিসিবি শীঘ্রই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে—সম্ভবত শুক্রবার বা আগামী সোমবার।

    আইসিসির নিয়ম অনুসারে, কোনো দল বিশ্বকাপ থেকে সরে গেলে তাদের কাছাকাছি অবস্থান করা দেশের প্রতি সুযোগের অফার যায়। বর্তমানে টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে পাকিস্তান আছে ৭ নম্বরে এবং বাংলাদেশ ৯ নম্বরে, তাই পাকিস্তান সরে গেলে বাংলাদেশের নাম উঠে আসার সম্ভাবনা বেশি। আগে বাংলাদেশ নিজে নাম প্রত্যাহার করলে ১৪ নম্বরে থাকা স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

    সব মিলিয়ে, যদি পাকিস্তান শেষ মুহূর্তে বিশ্বকাপ বর্জন করে, তাহলে আবারও বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে ফিরিয়ে আনার পথে আইসিসির সিদ্ধান্তে নির্ভর করতে হবে। এমন হলে ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের সম্ভাবনাও রয়েছে—যা আয়োজকদের জন্য সুবিধাজনক বলে মনে করা হচ্ছে। এখন অপেক্ষা আইসিসি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত পদক্ষেপের দিকে।