Month: December 2025

  • ঢাকার ব্যাটিং উল্লেখযোগ্য জয়ে রাজশাহীকে হারালো

    ঢাকার ব্যাটিং উল্লেখযোগ্য জয়ে রাজশাহীকে হারালো

    বিপিএলের ম্যাচে রাজশাহীকে হারিয়ে ঢাকার শুরু হলো অসাধারণ জয়ে। ইমাদ ওয়াসিমের মিতব্যয়ী ও ধারাবাহিক বোলিংয়ের সঙ্গে অভিজ্ঞ নাসির হোসেন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও সালমান মির্জারা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট শিকার করে নিজেদের দাপট দেখিয়ে যান। পূর্বের ম্যাচের নায়করা, নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম, ভালো শুরু করলেও বড় ঝোড়ো ইনিংস খেলতে পারেননি। অন্যদিকে, রাজশাহীর ব্যাটসম্যানরা শুরুতে কিছুটা বিপদে পড়লেও শেষ দিকে মোহাম্মদ নাওয়াজের ব্যাটে ১৩২ রানের পুঁজি তৈরি করেন তারা। তবে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ঢাকাও সহজে জয় করতে পারেনি। আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে নাসির, শামীম হোসেন পাটোয়ারি ও সাব্বির রহমানের ব্যাটে দলটি জয় নিশ্চিত করে। ফলাফল: রাজশাহীর বিরুদ্ধে ৫ উইকেটে জিতে বিপিএল শুরু করল ঢাকার দল।

    প্রথম দিকে টস হারিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহীর আলশুরুটা ভালো হয়নি। প্রথম বলেই সাহিবজাদা ফারহানকে হারায় তারা, এরপর তানজিদ হাসান তামিম ও শান্ত জুটি গড়ার চেষ্টা করে। তানজিদ আক্রমণে যান নাসিরের বলে ১৫ বলে ২০ রান করে আউট হন। এরপর ইয়াসির আলী রাব্বি বেশিক্ষণ টেকেননি, ১৩ রান করে শামীমের হাতে ক্যাচ দেন। রাজশাহীর অধিনায়ক মেহেরব শুরুতেই শক্তিশালী শুরু করতে পারেননি, ২৩ বলে ২৪ রান করে উইকেট হারান। বিরতি শেষে শামিমের ইনিংসে ভিন্ন রূপ দেখা যায়; তিনি ২৮ বলে ৩৭ রান করেন। অন্যদিকে, মুশফিকুর রহিম ২৩ বলে ২৪ রান করে ব্যাটিংয়ে সুবিধা করতে পারেননি। শেষদিকে নাওয়াজের ২৬ বলে ২৬ রানের ইনিংসে রাজশাহীর সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৩২ রান। ঢাকার জন্য এই লক্ষ্য কঠিন ছিল না। স্পিনার ইমাদের ৩ উইকেট ও নাসিরের ২ উইকেট এই জয়ের জন্য সফলতা এনে দেয়। তার আগে, রাজশাহীর ব্যাটসম্যানরা শুরুতেই ধাক্কা খেয়ে কিছুটা পিছিয়ে পড়লে, শেষ পর্যন্ত নাওয়াজের প্রত্যাঘাত ও দলের অন্যান্য স্পিনারদের শক্ততর দুর্ব্যবহার জয় নিশ্চিত করে।

  • ২১ শতকের শীর্ষ ক্রীড়াবিদ মেসি, শীর্ষ দশে অন্যরা

    ২১ শতকের শীর্ষ ক্রীড়াবিদ মেসি, শীর্ষ দশে অন্যরা

    নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে লিওনেল মেসি অসংখ্য শিরোপা ও পুরস্কার জিতেছেন। ২০২৫ সালের শেষপ্রান্তে এসে তাঁর মুকুটে যোগ হলো আরও একটি গৌরবময় পালক। জনপ্রিয় ফরাসি ভাষার কানাডীয় গণমাধ্যম লে জার্নাল কুইবেক ঘোষণা করেছে, ২১ শতকের প্রথম ২৫ বছরের মধ্যে সেরা ক্রীড়াবিদ হিসেবে শীর্ষে আছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি।

    বিশ্বক্রীড়ার নানা শাখায়—ফুটবল, অলিম্পিক, টেনিস, বাস্কেটবল ও অ্যাথলেটিক্স—বৈচিত্র্যময় খেলাগুলোকে এক ছাতার নিচে এনে তৈরি এই তালিকায় বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী খেলোয়াড়রা ঠাঁই পেয়েছেন। আর এশা তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন মেসি, যিনি তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্স ও অবদান দিয়ে ক্রীড়াজগতে এক অনন্য অবয়ব তৈরি করেছেন।

    ক্লাব ফুটবল হোক বা জাতীয় দল—সব ক্ষেত্রেই তাঁর সফলতা অনন্য। বার্সেলোনায় শুরু করে প্যারিস সেন্ট জার্মেই, ইন্টারন্যামিক, আবুধাবি ও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি ট্রফি জিতেছেন। দীর্ঘ কষ্টার্জিত পরিশ্রমের ফলস্বরূপ বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রফিও জিতেছেন। ব্যক্তিগত অর্জনের ক্ষেত্রেও তিনি অসাধারণ—৮ বার ব্যালন ডি’অর পুরস্কার পেয়ে থাকেন, যা ফুটবল বিশ্বের রেকর্ড। বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনা দলের হয়ে তিনি সর্বোচ্চ গোলদাতা, আর ক্লাব ও আন্তর্জাতিক লিগে জিতেছেন অসংখ্য শিরোপা।

    এছাড়াও, লে জার্নাল কুইবেকের তালিকায় শীর্ষ দশে থাকা অন্যান্য কিংবদন্তিদের মধ্যে আছেন টম ব্র্যাডি, যিনি নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টস ও টাম্পা বে বুকানিয়াসের হয়ে সাতটি সুপার বোল ট্রফি জিতেছেন—একেবারেই অপরাজেয় রেকর্ড। তৃতীয় অবস্থানে আছেন অলিম্পিক ইতিহাসের অন্যতম সেরা সাঁতারু মাইকেল ফেলপস, যিনি ২০০৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে অলিম্পিকে ২৮টি পদক জিতেছেন, যার মধ্যে সোনা ২৩টি। ২০০৮ সালে বেইজিং অলিম্পিকে এক অনুষ্ঠানে ৮টি স্বর্ণপদক জিতে গড়েছিলেন একেবারে নতুন ইতিহাস।

    আরও কিছু খেলা ব্যক্তিত্বের মধ্যে রয়েছেন টেনিসের সেরেনা উইলিয়ামস, দৌড়বিদ উসাইন বোল্ট, বাস্কেটবল তারকা লেব্রন জেমস, টেনিস তারকা নোভাক জোকোভিচ, জিমন্যাস্টিকসের সিমোন বাইলস, বাস্কেটবল কিংবদন্তি কোবি ব্রায়ান্ট এবং ফুটবলের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এই তালিকা শুধু ট্রফি বা পরিসংখ্যানের গল্প নয়—এটি প্রকাশ করে, কোন ক্রীড়াবিদ নিজের খেলাকে শুধু সফল নয়, বরং প্রভাবশালী করে তুলেছেন এক শতাব্দীতে। সুতরাং, আলাদা করে বলা যায়, লিওনেল মেসি কেবল ফুটবলেরই নয়, বরং পুরোটাই ক্রীড়াজগতের এক অনন্য আইকন, যিনি নিজের খেলাকে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী করে তুলেছেন।

  • স্পেনে ফুটবল কোচসহ তিন সন্তান Nautica দুর্ঘটনায় নিহত

    স্পেনে ফুটবল কোচসহ তিন সন্তান Nautica দুর্ঘটনায় নিহত

    স্পেনে ফুটবল অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে এক হৃদয়বিদারক ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ইন্দোনেশিয়ায় ছুটি কাটানোর সময় নৌ-দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ফুটবল কোচ ফার্নান্দো মার্তিন ও তার তিন সন্তান।

    ফার্নান্দো মার্তিন ভ্যালেন্সিয়া সিটি ফুটবল ক্লাবের নারী দলের কোচ ছিলেন। তিনি ইন্দোনেশিয়ায় অবকাশের জন্য গিয়েছিলেন, যেখানে দুর্ঘটনা ঘটে লাবুয়ান বাজো দ্বীপের কাছাকাছি পাদার আইসল্যান্ড প্রণালীতে।

    ভ্যালেন্সিয়া ক্লাব এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে, ‘ইন্দোনেশিয়ায় ঘটেছেন মর্মান্তিক নৌ-দুর্ঘটনায় আমাদের কোচ ফার্নান্দো মার্তিন ও তার তিন সন্তানের মৃত্যু। স্থানীয় কর্তৃপক্ষই এই দুঃখজনক খবর নিশ্চিত করেছে।’

    সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়া ও স্পেনের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার কঠোর আবহাওয়ার মধ্যে এই ঘটনা ঘটেছে। ওই সময় একটি ছোট নৌকা ১১ আরোহী নিয়ে পাদার আইসল্যান্ড প্রণালীতে ডুবে যায়। শনিবার ঘটনাস্থল থেকে কিছু মানুষকে উদ্ধার করা হলেও, মার্তিন এবং তার তিন সন্তান এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

    চলতি বছর ভ্যালেন্সিয়ার নারী দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মার্তিনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। তার স্ত্রী ও এক কন্যাকে উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে আসা হয়। এ ঘটনায় আরও চার ক্রু সদস্য ও একজন ট্যুর গাইড প্রাণে বেঁচে গেলেন।

  • বিপিএলের মাঝেই বাংলাদেশ ছাড়বেন পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা

    বিপিএলের মাঝেই বাংলাদেশ ছাড়বেন পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা

    বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) চলমান আসর এখন সিলেট পর্বে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই পর্ব শেষে কয়েকজন পাকিস্তানি ক্রিকেটার বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। মূলত, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে তারা জানুয়ারির প্রথম দিকের দুটি সিরিজের জন্য নিজ দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হবে।

    অভিষিক্ত উইকেটরক্ষক ব্যাটার খাজা নাফে এই সিরিজের জন্য পাকিস্তানের স্কোয়াডে স্থান পেয়েছেন। যদিও তিনি আপাতত বিপিএলে মাঠে নামেননি, তবে ২৯ ডিসেম্বর রংপুরের জার্সিতে প্রথমবারের মতো খেলতে দেখা যেতে পারে। গত বিপিএলে তিনি চট্টগ্রাম রয়্যালসের হয়ে ২৩ বছর বয়সী ব্যাটার হিসেবে পারফর্ম করেছিলেন। এছাড়া, দীর্ঘদিন পর পাকিস্তানের সবশেষ স্কোয়াডে ফিরেছেন শাদাব খান, যিনি জুনে কাঁধের অস্ত্রোপচার করায় মাঠের বাইরে ছিলেন। এখন তিনি বিগ ব্যাশে বেশ ভালো ফর্মে আছেন।

    একই সঙ্গে, বিপিএলে বিভিন্ন দলের হয়ে খেললেও পাকিস্তানের স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটাররা হলেন– ফাহিম আশরাফ (রংপুর রাইডার্স), খাজা নাফে (রংপুর রাইডার্স), মোহাম্মদ নেওয়াজ (রাজশাহী ওয়ারিয়র্স), মোহাম্মদ সালমান মির্জা (ঢাকা ক্যাপিটালস), শাহিবজাদা ফারহান (রাজশাহী ওয়ারিয়র্স), সাইম আইয়ুব ও উসমান খান (ঢাকা ক্যাপিটালস)। তবে এ ছাড়া আরও ৮ থেকে ১০ জন পাকিস্তানি ক্রিকেটার বিভিন্ন দলের স্কোয়াডে রয়েছেন।

    শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আসন্ন তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে পাকিস্তানের স্কোয়াডে ডাক পেয়েছেন খাজা নাফে, যিনি এবারের বিপিএলে মাঠে নামেননি। সিরিজের আগে তিনি রংপুর রাইডার্সের জার্সিতে খেলার সুযোগ পাবেন। এছাড়া, এই সিরিজের জন্য পাকিস্তানের স্কোয়াডে থাকছেন– সালমান আলি আগা (অধিনায়ক), আবদুল সামাদ, আবরার আহমেদ, ফাহিম আশরাফ, ফখর জামান, মোহাম্মদ নেওয়াজ, মোহাম্মদ সালমান মির্জা, মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র, নাসিম শাহ, শাহিবজাদা ফারহান, সাইম আইয়ুব, শাদাব খান, উসমান খান ও উসমান তারেক। তবে সাবেক টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি ও পেসার হারিস রউফ এই সিরিজে থাকছেন না। তারা মূলত পেস আক্রমণের শক্তি হিসেবে নাসিম শাহ, মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র ও সালমান মির্জাকে দলে রেখেছেন।

    এই সিরিজের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ফেব্রুয়ারি-মার্চে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পাকিস্তানের স্কোয়াড নির্ধারিত হবে।

  • উজ্জয়িনীর ধর্মীয় নেতাদের হুমকির মুখে মোস্তাফিজের আইপিএল খেলার অনিশ্চয়তা

    উজ্জয়িনীর ধর্মীয় নেতাদের হুমকির মুখে মোস্তাফিজের আইপিএল খেলার অনিশ্চয়তা

    আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের নাম এখন আলোচনার কেন্দ্রে। আসন্ন ২০২৬ আইপিএল আসরের শুরু এখনও তিন মাসের বেশি সময় বাকি থাকলেও, ইতিমধ্যেই оның খেলার বিষয়ে বিতর্ক শুরু হয়ে গেছে। নভেম্বরের শেষ দিকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) দলে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে নির্বাচিত হওয়ার পর ভারতীয় মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীর কিছু ধর্মীয় নেতা এর বিরোধিতা শুরু করেন। তারা মোস্তাফিজকে মাঠে নামানোর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং হুমকি দেন।

    প্রেক্ষাপটে রয়েছে বাংলাদেশে কয়েক সপ্তাহে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু ঘটনা। ১৮ ডিসেম্বরে ময়মনসিংহে দীপ চন্দ্র দাস নামে একজন হিন্দু শ্রমিকের নিহতের ঘটনায় ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ উঠলেও সত্যতা নিশ্চিত হয়নি। এরপর ২৪ ডিসেম্বর রাজবাড়ী জেলায় অমৃত মন্ডল নামে আরেকজন হিন্দু ধর্মাবলম্বীর মৃত্যুর খবর আসে। এই ঘটনাগুলিকে উল্লেখ করে ভারতীয় সংস্থা আইএএনএস জানিয়েছে, উজ্জয়িনীর কয়েকজন ধর্মীয় নেতা মোস্তাফিজের কলকাতা নাইট রাইডার্সে খেলার বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি দিয়ে বলছেন, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাগুলি ভারতের বড় ধর্মীয় সংগঠনগুলোর নীরবতাকে জোরদার করছে।

    মহাবীর নাথ প্রকাশ্যে বলেছেন, তারা এই বিষয়ে বিসিসিআই ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অবহেলা ও নীরবতাকে তাদের জন্য অপেশাদারী বলে মনে করেন। তিনি আরও বলেন, যে সব ধর্মীয় সংগঠন এই বিরোধিতা বাড়াতে সক্রিয় হতে পারে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেকেআরকে বয়কটের ডাকও দেওয়া হয়েছে।

    বিষয়টি এখন ক্রিকেটাঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানিয়েছেন, মোস্তাফিজের আইপিএলে খেলতে যাওয়া ও না যাওয়া বিষয়টি ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগ দেখবে। তারা আইপিএলের সূচি ও দেশের বর্তমান ব্যস্ততা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।

    উল্লেখ্য, আইপিএল চলাকালীন সময়ে বাংলাদেশ দলের আন্তর্জাতিক সিরিজও চলমান রয়েছে। আগামী এপ্রিল, মে মাসে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশ তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলবো। বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিমের মতে, মোস্তাফিজকে আট দিন জন্য দেশে ফিরতে হবে তার পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য। সম্প্রতি মোস্তাফিজ দুবাইয়ে আইএলটি-টোয়েন্টি খেলে দেশে ফিরেছেন, এবং রংপুর রাইডার্সের হয়ে বিপিএল ম্যাচ খেলার সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মোস্তাফিজের আইপিএলে খেলা কতদিন নিশ্চিত, তা এখন এখনো অনিশ্চিত।

  • ভারতে অসহিষ্ণুতার বাড়বাড়ন্ত নিয়ে মুফতি পরিবারের উদ্বেগ

    ভারতে অসহিষ্ণুতার বাড়বাড়ন্ত নিয়ে মুফতি পরিবারের উদ্বেগ

    জম্মু কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির মেয়ে ইলতিজা মুফতি শুক্রবার প্রকাশ করেন, ভারত এখন যেন “লিঞ্চিস্তান” এ পরিণত হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, দেশের অসহিষ্ণুতা দিন দিন বাড়ছে এবং বাংলাদেশে লিঞ্চিং নিয়ে যাঁরা সমালোচনা করছেন, তারা ভারতের ঘটনাগুলির বিষয়ে নীরব থাকছেন। অনলাইন টেলিগ্রাফ এ খবর প্রকাশ করে। উল্লেখ্য, ‘লিঞ্চিং’ শব্দের অর্থ হচ্ছে জনসমক্ষে পিটিয়ে হত্যা করা। ইলতিজা ‘এক্স’-এ একটি পোস্টে মন্তব্য করেন, “না ইন্ডিয়া, না ভারত, না হিন্দুস্তান—তোমার নাম লিঞ্চিস্তান।” এই পোস্টে তিনি অন্ধ্রপ্রদেশের ওড়িশায় ১৯ বছর বয়সি এক বাংলাদেশি মুসলিম শ্রমিক জুয়েল শেখের লিঞ্চিং সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনও শেয়ার করেন, যেখানে বলা হয় তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে ‘বাংলাদেশি’ বলে পরিচিত করা হয়।

    এছাড়াও, তার মা এবং পিডিপির প্রধান, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি দেশের বিচারব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ভারতের বিচার ব্যবস্থা গভীরভাবে রাজনীতিকরণ হয়ে পড়েছে। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায় নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

    মেহবুবা মন্তব্য করেন, দেশের অসহিষ্ণুতা এখন ভয়াবহ পর্যায়ে চলে গেছে, লিঞ্চিং ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে যা ঘটছে তা আমাদের জন্য দুঃখের। তবে যারা এ বিষয়ে সমালোচনা করছেন, নিজেদের সামনেই যদি ঘটনাগুলি ঘটত, তবুও তারা মুখ খোলতেন না।

    তিনি জানিয়ে থাকেন, হিমাচল, উত্তরাখণ্ড ও হরিয়ানায় কাশ্মিরি শাল ব্যবসায়ীদের ওপর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তিনটি হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, দক্ষিণপন্থি কিছু দল তাদের জোরপূর্বক নির্দিষ্ট স্লোগান দিতে বাধ্য করছে এবং অস্বীকার করলে মারধর করছে।

    হাইকোর্টে তার দাখিল করা জনস্বার্থ মামলা (PIL) খারিজ হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের বিচার ব্যবস্থা রাজনৈতিক প্রভাবের শিকার। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন কারাগারে আটক কাশ্মিরি হাজতিদের জম্মু-কাশ্মীরে ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি যে আবেদন জানিয়েছিলেন, তাকে আদালত নাকচ করে দিয়ে বলে, এটি নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

    মেহবুবা বলেন, আমার চরিত্র নিয়ে মন্তব্য করা আদালতের কাজ নয়। একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে এই অধিকার আমার রয়েছে।

    প্রধান বিচারপতি অরুণ পালি ও বিচারপতি রাজনেশ ওসওয়ালের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রায় দেন যে, তার আবেদন অপ্রমাণিত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। রায়ে বলা হয়, মেহবুবা মুফতি এই মামলা দায়ের করেছেন ‘রাজনৈতিক সুবিধা গ্রহণ এবং একটি নির্দিষ্ট সমাজের পক্ষে ন্যায়যোদ্ধা হিসেবে নিজেকে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে’।

    রায়ের পর হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ যখন পিআইএল করতে পারে, তখন একজন রাজনীতিবিদ কেন পারবেন না? তিনি আরও বললেন, রাজনীতিবিদরা তাদের দলের কর্মীদের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। তিনি যোগ করেছেন, গরিব পরিবারের সদস্যরা কত কষ্টে থাকেন, তাদের নিজস্ব আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করা তো দূরের কথা, বাইরে গুলি জেলে বন্দি থাকাকালীন নিজেদের মামলার কি অবস্থা!

  • ভারতীয়দের বহিষ্কারে সৌদি আরবের চেয়ে এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র!

    ভারতীয়দের বহিষ্কারে সৌদি আরবের চেয়ে এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র!

    গত পাঁচ বছর ধরে সৌদি আরব বিদেশি কর্মীদের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভারতীয়কে দেশের বাইরে পাঠিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

    রোববার, ২৮ ডিসেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন ব্যবস্থা সত্ত্বেও, সৌদি আরব গত পাঁচ বছর ধরেই আমেরিকার চেয়ে বেশি ভারতীয়কে বহিষ্কার করেছে। এই বহিষ্কারের পেছনে মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ভিসার মেয়াদ অতিক্রম করে অবস্থান করা (ভিসা ওভারস্টে), শ্রম আইন লঙ্ঘন, ওয়ার্ক পারমিট না থাকা বা কাজের নিয়ম ভঙ্গ, নিয়োগকর্তাকে এড়িয়ে পালানো এবং বিভিন্ন দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলায় জড়ানো।

    ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিং স্থানীয় সংসদে এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই গণবহিষ্কারের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ভিসা বা রেসিডেন্সি কার্ডের মেয়াদ শেষে অবস্থান করা, অনুমতিহীন কাজ, শ্রম আইন ভঙ্গ, নিয়োগদাতাদের দেখানো না থাকায় পালানো এবং বিচারের মোকাবিলা।

    রিয়াদে অবস্থিত ভারতের মিশনের তথ্যমতে, ২০২১ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সৌদি আরব থেকে রেকর্ড সংখ্যক ভারতীয়কে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। উল্লিখিত সময়ে, ২০২১ সালে ৮,৮৮৭ জন, ২০২২ সালে ১০,২৭৭ জন, ২০২৩ সালে ১১,৪৮৬ জন, ২০২৪ সালে ৯,২০৬ জন এবং ২০২৫ সালের এখন পর্যন্ত ৭,০১৯ জন ভারতীয়কে ফেরত আনা হয়েছে।

    অপর দিকে, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ কঠোর থাকলেও, সৌদি আরবের তুলনায় সেখানে ভারতীয়দের ফেরত পাঠানোর হার অনেক কম।

    যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির ভারতীয় মিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সেখানে মোট ৩,১৪১৪ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ, তবে এ সংখ্যা সৌদি আরবের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। অন্যান্য মার্কিন শহর যেমন হিউস্টন (২৩৪ জন), সান ফ্রান্সিসকো, নিউইয়র্ক ও শিকাগোতে এই সংখ্যাগুলো দুই বা তিন অঙ্কের ঘরে সীমাবদ্ধ রয়েছে।

  • ভারতে বান্ধবীর জন্মদিনের পার্টিতে গিয়ে মুসলিম তরুণদের উপর হামলা

    ভারতে বান্ধবীর জন্মদিনের পার্টিতে গিয়ে মুসলিম তরুণদের উপর হামলা

    উত্তরপ্রদেশের বেরিলিতে এক ব্যতিক্রমী ও দৃষ্টান্তমূলক ঘটনা ঘটেছে যেখানে একটি ক্যাফেতে বন্ধুর জন্মদিনের পার্টিতে গিয়ে দুই মুসলিম তরুণের অপরাধে একদল উগ্রপন্থী ধর্মীয় সংগঠনের সদস্য তাদের উপর হামলা চালিয়েছেন। এই ঘটনার মূল অভিযোগ ছিল ‘লাভ জিহাদ’। রবিবার ভারতের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শনিবার সন্ধ্যার সময় নার্সিং পেশার এক ছাত্রীর জন্মদিনের পার্টি চলাকালে এই হামলার ঘটনা ঘটে। পার্টিতে উপস্থিত ছিলেন তিনি এবং তার মোট নয়জন বন্ধু, এর মধ্যে দুজন মুসলিম। আকস্মিকভাবে বজরং দলে জড়ানো কিছু সদস্য স্লোঙ্গ দিয়ে ক্যাফেতে প্রবেশ করে এবং ‘লাভ জিহাদ’ এর অভিযোগ তুলে দুই মুসলিম শিক্ষার্থীকে নৃশংসভাবে মারধর শুরু করে। এই সময় জন্মদিনের উদ্যোক্তা তরুণী বারবার পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন, তাদের বলে দেন যে সবাই একই স্কুলের সহপাঠী। কিন্তু উগ্রপন্থীরা কোনও কথা শুনতে চাননি এবং হামলা চালাতে থাকেন। পরিস্থিতি আরও তীব্র হলে স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ কর্মকর্তা আশুতোষ শিবম জানিয়েছেন, পরে হামলাকারীদের বাসা থেকে দুই মুসলিম তরুণ ও ক্যাফের দুই কর্মচারীকেও আটক করা হয়। এছাড়াও, নারী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ডেকে তাদের বাড়িতে পাঠানো হয়। বরিলির এই ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং সম্প্রতি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে নিশ্চিত করেছে। পুলিশ বলছে, পার্টির সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন মোট দশজন, যার মধ্যে ছয়জন নারী ও চারজন পুরুষ। তাদের মধ্যে দুজন ছিল মুসলিম। এই ঘটনায় হিন্দু ধর্মীয় সংগঠনের কিছু সদস্য এই দুজনের বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদ’ এর অভিযোগ তোলে এবং এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে।

  • বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দেয়ার ঘটনায় হুমায়ুনের ছেলে আটক, পুলিশকে মারধরের অভিযোগ

    বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দেয়ার ঘটনায় হুমায়ুনের ছেলে আটক, পুলিশকে মারধরের অভিযোগ

    পশ্চিমবঙ্গের নবগঠিত রাজনৈতিক দল জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের ছেলে গুলাম নবী আজাদকে পুলিশ আটক করেছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি হুমায়ুনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এক পুলিশ সদস্যকে মারধর ও গালিগালাজ করেছেন। ঘটনাটি রোববার বিকেলে ঘটে, যখন পুলিশ সকালে ঘটনার শুনানি শেষে তাকে আটক করে। পরে তাকে শক্তিপুর থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার সময় পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের সাসপেন্ড হওয়া ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবির নিজ বাড়িতে ছিলেন না। সম্প্রতি, মুর্শিদাবাদে নতুন বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দেয়ার মাধ্যমে তিনি আলোচনায় আসেন। এই বিষয়টি তার বিরুদ্ধে বিতর্ক রাস্তা তৈরি করে, ফলে তৃণমূল তাকে সাসপেন্ড করে দেয়। তারপর, তিনি একটি নতুন রাজনৈতিক দল ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ গঠন করেন। এরপর ছেলের আটক হওয়ার পর হুমায়ুন কবির অভিযোগ করেন, ওই পুলিশ কনস্টেবল তাকে আক্রমণের চেষ্টা করছিল, কিন্তু তার ছেলে তাকে রক্ষা করেছে। তার কাছে সিসিটিভি ফুটেজও রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তিনি এও জানান, তিনি পুলিশ সুপারের দপ্তর ঘেরাও করার পরিকল্পনা করছেন। তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এই ব্যক্তি আমার বাড়িতে ঢুকে মারধরের চেষ্টা করে। আমার ছেলে তাকে ঘর থেকে বের করে দেয়। আমি সতর্ক করে দিচ্ছি, আগামী বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় আমরা এসপি অফিসে ঘেরাও করব। কেন তারা নাটকীয়ভাবে আমার বাড়িতে এসেছিল, তা আমরা জানাতে চাই। এর আগেও আমি এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছিলাম। এবার সে আমার ওপর আক্রমণের চেষ্টা করল। আমার ছেলে তাকে রক্ষা করেছে। প্রয়োজনে আমি সিসিটিভি ফুটেজ দেখাব।’ সূত্র জানায়, এই ঘটনা হুমায়ুন কবিরের উপস্থিতিতেই ঘটে। জানা গেছে, সকালে তিনি নিজের বিধায়ক কার্যালয়ে ছেলে ও দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। সেই সময় ওই কনস্টেবল তার কাছে এসে ছুটির আবেদন জানায়। কবির সেই আবেদন নাকচ করলে তাদের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। তারপর, অভিযোগ, তার ছেলে ওই কনস্টেবলকে চড় মারেন। পুলিশ এতে উদ্বিগ্ন হয়ে শক্তিপুরে কবিরের বাড়িতে চলে আসে এবং তার ছেলেকে আটক করে। ঘটনাটা জানার পর দ্রুত হুমায়ুন কবির নিজেও থানায় হাজির হন।

  • মেক্সিকোতে ট্রেন লাইনচ্যুত, নিহত ১৩

    মেক্সিকোতে ট্রেন লাইনচ্যুত, নিহত ১৩

    মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য ওয়াক্সাকায় একটি যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় কমপক্ষে ১৩ জন নিহত এবং আরও ৯৮ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাজ্যের নিজান্দা শহরের কাছে ঘটে।

    মেক্সিকো নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ট্রেনে মোট ২৫০ জন যাত্রী ছিলেন, যার মধ্যে ৯ জন ক্রু সদস্য। দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়, আহত হয়েছেন ৯৮ জন, এবং আহতদের মধ্যে ৩৬ জন হাসপাতাল ভর্তি। বাকিরা সবাই নিরাপদে আছেন। খবর রয়টার্সের।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক এক্স পোস্টে দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবাউম নিহত ও আহতদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে বলেছেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩৬ জনের মধ্যে অন্তত পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর।

    প্রেসিডেন্ট আরও জানান, ঘটনাস্থলে রেল ও রেলওয়ে পুলিশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা পৌঁছেছেন এবং নিহত ও আহতদের পরিবারকে বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

    অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, এই দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

    মেক্সিকো দুটি মহাসাগরের তীরবর্তী দেশ, যেখানে প্রশান্ত এবং আটলান্টিক মহাসাগরের অববাহিকায় অবস্থিত বিভিন্ন শহর ও বন্দর সংযোগের জন্য ১৯৯৯ সালে চালু হয় বিশেষ রেল পরিষেবা ‘আন্তঃমহাসাগরীয় রেল’। এই রেল পরিষেবার দেখাশোনা করে মেক্সিকোর নৌবাহিনী।

    যে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়েছে, সেটি এই ‘আন্তঃমহাসাগরীয় রেল’-এর এক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন। এই দুর্ঘটনা দেশের অন্যতম বড় রেল দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, এবং ঘটনার যথাযথ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ চলমান।